দিন দিন জমেও উঠছে মেলা। দিন যত গড়াচ্ছে ততই বেড়ে চলছে দর্শনার্থী সংখ্যা আর এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বই বিক্রিও। বই বিক্রি আর প্রচারণা নিয়ে স্টল কিংবা স্টলের বাহিরেও প্রকাশকরাও পার করছেন ব্যস্ত সময়।
মেলায় প্রতিবারের মতো এবারও পাঠকদের আগ্রহের শীর্ষে রয়েছে উপন্যাস। এছাড়াও মেলায় প্রতিদিন শতাধিক নতুন বই আসার পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বই নিয়ে পাঠকদের বেশ আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়াও ঘুরেফিরে জনপ্রিয় লেখকদের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রকাশকরা।
সোমবার বইমেলা ঘুরে দেখা গেছে, পাঠকরা স্টলে স্টলে গিয়ে উপন্যাসের বই খুঁজে বেড়াচ্ছেন। প্রিয় লেখকের প্রকাশিত বই পেলেই তা সংগ্রহ করে নিজেদের ব্যাগে গুজে নিচ্ছেন। এদিকে পূর্ববর্তী বছরগুলোর মতো এবারও সাদাত হোসেন, হুমায়ন আহমেদ, আসিফ নজরুলসহ বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় লেখকদের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে মেলায় হুমায়ূন আহমেদের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে।
এবারের বইমেলায় পাঠকদের চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে প্রকাশকরা উপন্যাসের বইগুলো স্টলগুলোতে সাজিয়ে রেখেছেন। মেলার এক তৃতীয়াংশ দিনে উপন্যাসের বইগুলোই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকাশকরা। এছাড়াও বইমেলার বিভিন্ন স্টলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত বই হাতে নিয়ে পাঠকরা উল্টে-পাল্টে দেখছেন। কেউ উদ্বিগ্ন চোখে বইয়ের মধ্যে ডুবে যাচ্ছেন আবার কেউবা গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত বইয়ের বিষয়বস্তু সম্পর্কে বন্ধুদের নিয়ে আলোচনা করছেন।
বইমেলাজুড়ে বাংলা একাডেমির প্যাভিলিয়ন রয়েছে চারটি। এসব স্টলে বাংলা অভিধান বেশি বিক্রি হয়ে বলে জানিয়েছেন বিক্রয়কর্মীরা। প্রতিষ্ঠানটির ডিস্ট্রিবিউটর সৈয়দ মাসুমুল কবির দৈনিক বাংলাকে জানান, অভিধান বিক্রির পাশাপাশি উপন্যাস ও কবিতার বই বেশি বিক্রি হয়। এছাড়াও মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের মহাচীনের গল্প ও তার কুরানসূত্র বেশি বিক্রি হচ্ছে। আমাদের এখানে ২৫ শতাংশ কমিশন দেয়ায় অভিধানসহ অন্যান্য বই বেশি বিক্রি হচ্ছে।
প্রথমা প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী শিহাব শাহরিয়ার জানান, পলিটিকাল, উপন্যাস আর কিশোর উপন্যাস বইগুলো বিক্রির চাপ বেশি। আলী রীয়াজের আমিই রাষ্ট্র বইটি ক্রেতার চাহিদার শীর্ষে। মহিউদ্দিন আহমনের তাজউদ্দীন নামে একজন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বইটি বেশ বিক্রি হচ্ছে।
জ্ঞ্যানকোষ প্রকাশনীর সেলস এক্সিকিউটিভ রাইয়ান আদন জানান, মেলায় এ বছর এখন পর্যন্ত ৬১টি নতুন বই বের করেছে প্রকাশনীটি। এর মধ্যে সাসপেন্সধর্মী বই জহির খানের দ্যা সাইলেন্স কিলার-২, গণ অভ্যুত্থান নিয়ে আশীফ এন্তাজরবির ফিকশন গল্প ট্রেন টু ঢাকা, ফাতেমা তুজ নৌশির রোমান্টিক উপন্যাস মায়াঞ্জন বেশ চলছে।
অন্যপ্রকাশ প্রকাশনী থেকে এ পর্যন্ত ৫৪টি নতুন বই বের হয়েছে। তন্মধ্যে জনপ্রিয় লেখক সাদাত হোসেনের নতুন দুটি বই শঙ্খচূড় ও যেতে যেতে তোমাকে কুড়াই বেশি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও হুমায়ন আহমেদের উপন্যাস বাদশাহ নামদার, লীলাবতী, তেতুল বনে জোছনা, মেঘের উপর বাড়ি এবার বেশি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও হিমুর পারাবার ও চলে যায় বসন্তের দিন বইদুটির প্রতি পাঠকদের আগ্রহ বেশি বলে জানিয়েছেন প্রকাশনীটির বিক্রয়কর্মী লুবনা জামান।
কথাপ্রকাশ প্রকাশনীর ইনচার্জ মোহাম্মদ ইউনুস আলী দৈনিক বাংলাকে জানান, কথাপ্রকাশের নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে ৮০টারও বেশি। এর মধ্যে বেশি বিক্রি হচ্ছে উপন্যাস। মাহরীন ফেরদৌসের জলজ লকার আর হরিশংকর জলদাসের শূর্পণখার চাহিদা বেশি। এছাড়াও সিরাজউল ইসলাম চৌধুরীর দুইটা প্রবন্ধ উন্নতি উথান অভ্যুত্থান, রাষ্ট্র বিল্পবে সুভাষ চন্দ্র বষু ভালো বিক্রি হচ্ছে।
বইমেলায় ঘুরতে আসা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাহি আক্তার বুশরা বইগুলো ঘাটতে ঘাটতে বলছিলেন, হুমায়ূন আহমেদ দেশের সাহিত্য অঙ্গনে যে জায়গা সৃষ্টি করে গেছেন, তা এখনও কেউ পূরণ করতে পারেননি। পুরোনোরা তো বটেই, নতুন প্রজন্মের পাঠকও এসে এখনও হুমায়ূনের বই খোঁজ করেন।
মেলার স্টলের সামনে দাঁড়িয়ে বইয়ের পাতা উল্টানোর ফাঁকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিয়া ইসলাম বলেন, উপন্যাস বেশি পড়া হয়। উপন্যাসে বিভিন্ন ধরনের জীবনগাথা থাকে; সেগুলো আমাকে নাড়া দেয়। এজন্য উপন্যাস বেশি পড়া হয়।
সোমবার ছিল মেলার ১৭তম দিন। মেলা শুরু হয় বিকেল ৩টায় এবং চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। নতুন বই এসেছে ১১৩টি।
এদিন বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘আল মাহমুদ: জীবন ও কবিতা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মজিদ মাহমুদ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মুসা আল হাফিজ এবং কাজী নাসির মামুন। সভাপতিত্ব করেন মাহবুব সাদিক।
লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন- কবি মতিন বৈরাগী এবং কবি ফজলুল হক তুহিন।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আজ ছিল ঝর্ণা আলমগীরের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠী’ এবং রূপশ্রী চক্রবর্তী’র পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘শিল্প বাংলা’—এর পরিবেশনা।
মঙ্গলবারের অনুষ্ঠান
মঙ্গলবার মেলার ১৮তম দিন মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টায় এবং চলবে রাত ৯টায় পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘জীবন ও কর্ম : শহীদ কাদরী’শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন তারানা নূপুর। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন শামস আল মমীন এবং আহমাদ মাযহার। সভাপতিত্ব করবেন হাসান হাফিজ।
আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের জাতীয় সংসদের নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে নির্বাচন কমিশন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দুই আসনের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে স্থাপিত সিসি ক্যামেরাগুলো নির্বাচনের তিনদিন আগে থেকেই সচল রাখার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন এই বিশেষ নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভোটগ্রহণের অন্তত তিনদিন আগে থেকে প্রতিটি কেন্দ্রের সিসি ক্যামেরা সচল রাখতে হবে। বিশেষ করে যে কক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, ভোট গণনা কার্যক্রমও সেই কক্ষেই সম্পন্ন করার জন্য বলা হয়েছে। এ ছাড়াও নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নজরদারি ক্যামেরার সমস্ত তথ্য বা ভিডিও ফুটেজ পরবর্তী ব্যবহারের জন্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনী পরিস্থিতি সম্পর্কে জানা গেছে, সেখানে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আবুল তালেব মো. সাইফুদ্দিন নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। বর্তমানে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. মাসুদুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আমিনুল ইসলাম, বিএনপির মো. মাহমুদুল হক রুবেল এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) মো. মিজানুর রহমান। উল্লেখ্য যে, গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় এই আসনের একজন বৈধ প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে নতুন তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে বর্তমানে এই নির্বাচনের আয়োজন করা হচ্ছে।
অন্যদিকে বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আবিদুর রহমান, বিএনপির মো. রেজাউল করিম বাদশা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মো. আল আলিম তালুকদার। গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে এই আসন থেকে জয়লাভ করেছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে দেশের আইন অনুযায়ী একই সঙ্গে সংসদ সদস্য হিসেবে দুটি আসন ধরে রাখার সুযোগ না থাকায় তিনি ঢাকা-১৭ আসনটি নিজের অনুকূলে রেখে বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেন। ফলে আসনটি শূন্য হয়ে পড়ায় নতুন করে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আগামী ৯ এপ্রিল নির্ধারিত দিনে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে এই দুই আসনের ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচন কমিশন এই দুই আসনের ভোটগ্রহণ অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নজরদারি ক্যামেরা ব্যবহারের মাধ্যমে পুরো নির্বাচনী পরিবেশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন আগামী ২৯ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেছেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।
বরিবার (১৫ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শেষে এ মুলতবি ঘোষণা করেন স্পিকার।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদের বৈঠক আগামী ২৯ মার্চ বিকাল ৩টা পর্যন্ত মুলতবি করা হলো। সহযোগিতা করার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।
এর আগে এদিন বেলা ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। অধিবেশন শুরু হয় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্যদিয়ে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।
অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছিল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ)।
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনামলে জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।
রোববার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরুর পর আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদে উত্থাপিত অধ্যাদেশগুলো বিশেষ কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করেন। পরে তা কণ্ঠ ভোটে পাস হয়।
সংসদ কার্যকর না থাকায় সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদের অধীনে এই অধ্যাদেশগুলো জারি করা হয়েছিল।
সংবিধান অনুযায়ী, যে কোনো অধ্যাদেশ নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে উত্থাপন করতে হয় এবং অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে সেগুলো পাস হতে হয়। আর তা না হলে সেগুলোর আইনি বৈধতা থাকে না।
সে কারণে গত ১৩ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের অধিবেশন শুরুর দিনই অধ্যাদেশগুলো অনুমোদনের জন্য জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
সংসদে অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে উত্থাপনের পর চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সেদিন বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদিনের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন। কমিটি এই বিলগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করবে।
বিশ্বব্যাপী প্রতারণা মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে আলোচনা করতে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অনুষ্ঠিতব্য গ্লোবাল ফ্রড সামিটে অংশ নিতে আজ রোববার ভিয়েনা যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
মাদক ও অপরাধবিষয়ক জাতিসংঘ দপ্তর এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ পুলিশ সংস্থার যৌথ আয়োজনে ১৬ ও ১৭ মার্চ ভিয়েনা আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই দুই দিনব্যাপী সামিট অনুষ্ঠিত হবে। এতে পাঁচ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সামিটের উদ্বোধনী ও পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন ছাড়াও ‘গ্লোবাল ফ্রড রেসপন্স মেকানিজম’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠক এবং ‘প্রতারণা দমনে জাতীয় অঙ্গীকার’ শীর্ষক বিশেষ অধিবেশনে প্যানেল বক্তা হিসেবে অংশ নেবেন তিনি।
এ ছাড়া সামিটের ফাঁকে মাদক ও অপরাধবিষয়ক জাতিসংঘ দপ্তরের নির্বাহী পরিচালক জন ব্র্যান্ডোলিনো এবং যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী লর্ড হ্যানসনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে তার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজ বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ভিয়েনার উদ্দেশে রওনা হবেন। সামিট শেষে তিনি আগামী ২০ মার্চ ভোর ৫টা ৩৫ মিনিটে তুর্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় ফিরবেন।
দেশে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। আজ রোববার জাতীয় সংসদে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী।
স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হলে প্রথমে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘নিয়োগের যোগ্যতা ও সনদ নিয়ে একটি জটিলতা রয়েছে। আশা করছি, এটি কাটিয়ে শিগগিরই আমরা এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সক্ষম হব। এক্ষেত্রে কারিআনা পাশধারীদের নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে। ইসলাম ধর্মের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মকে প্রাধান্য নিয়ে আমরা কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।’
এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সরকার শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি সিস্টেম চালু করেছিল। আমার কাছে এটাকে যুক্তিসংগত মনে হয়নি। আগামী শিক্ষাবর্ষে ভর্তির পদ্ধতি নির্ধারণের জন্য আমরা অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে সকলের অভিমত নিয়ে ভর্তির বিষয় চিন্তা করব।’
এহসানুল হক মিলন আরও বলেন, ‘আমরা ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলোকে সরকারের আওতায় এনে দেশের নিয়মকানুন মেনে যুগোপযোগী করা যায় কি না সেই বিষয়ে কাজ করছি। ইবতেদায়ী ও কওমী শিক্ষাসহ সব শিক্ষা ব্যবস্থাকে সমন্বিত শিক্ষা পদ্ধতির আওতায় আনার কাজ করছি। এটা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।’
সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের করা এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে এহসানুল হক মিলন বলেন, ‘সরকার নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়ে প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।’ তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। বর্তমান সরকার এগুলোর মানোন্নয়নের বিষয়ে বদ্ধপরিকর। সরকার নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়ে প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য নতুন করে আবেদন আহ্বান করবে সরকার। পুরাতন আবেদনগুলো পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হবে।
বিরোধী দল অসাংবিধানিকভাবে সংস্কার পরিষদ শপথ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, রাষ্ট্র আবেগ দিয়ে চলে না, আইন দিয়ে চলে।
রোববার (১৫ মার্চ) জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দলের নেতা জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে এ কথা বলেন।
‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ’ উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই সনদ আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। তবে সেটা আইন-কানুন, বিধি-বিধান ও সংবিধানের মধ্য দিয়ে।
তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন, এখানে ‘সংস্কার পরিষদ’ নামে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ বাস্তবায়ন করতে হলে আগে সংবিধানে সংশোধনী আনতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন, কোনো ‘সংস্কার পরিষদের’ অধিবেশন আহ্বান করেননি। আমরা এখন সাংবিধানিকভাবে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অংশ নিচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের আওতায় যে পরিষদের কথা বলা হচ্ছে, তার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে ইতোমধ্যে আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়েছে এবং এ বিষয়ে রুল জারি রয়েছে। বিষয়টি এখন বিচার বিভাগের বিবেচনায়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমানে এমন কোনো পরিষদের অস্তিত্ব নেই। যদি গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে এ ধরনের পরিষদ গঠন করতে হয়, তাহলে আগে সংবিধানে সংশোধনী আনতে হবে। সংসদে আলোচনা শেষে সংবিধান সংশোধন হলে তবেই সেটি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হবে এবং পরে প্রয়োজন হলে পরিষদ গঠন ও শপথ গ্রহণের বিষয়টি আসতে পারে।
সংবিধানে বহুল আলোচিত নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে।
রোববার (১৫ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৭৪ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়। রায়টি লিখেছেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ।
গত ২০ নভেম্বর ওই রায় দিয়েছিলেন সর্বোচ্চ আদালত।
স্বৈরাচার সরকারের আমলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রদত্ত ভাতা গ্রহণকারীদের তালিকায় সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন। তিনি বলেছেন, ইতিমধ্যে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম দূর করে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের ভাতা নিশ্চিতে কাজ শুরু হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অবৈধ ও মনগড়া কর্মসূচিগুলো সংশোধন করা হবে।
রবিবার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন ফারুক ও শাহাজাহান চৌধুরীর করা প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে সকাল ১১টায় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। এ অধিবেশন চলবে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত।
প্রশ্নোত্তর পর্বের শুরুতে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত সব স্বৈরাচারের বিদায় হয়ে একটি সার্বভৌম সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই সুষ্ঠু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য সংসদ থেকে জনগণকে আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
শেখ হাসিনার সরকারের আমলের বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরে ফারজানা শারমিন বলেন, স্বৈরাচার সরকারের আমলে সমাজকল্যাণ বিভাগ যত অবৈধ এবং মনগড়া কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, সেগুলো অচিরেই সংশোধন করা দরকার। ওই সময়ে দেশে একটি অস্থির সময় বিরাজ করেছে। আমাদের হাতে বর্তমানে যে তালিকাগুলো আছে, সেগুলো আমরা রি-চেক (পুনরায় যাচাই) করছি। কারা সত্যিকার অর্থে এই উপকার পাওয়ার যোগ্য, আমরা তা দেখছি।
ফ্যামিলি কার্ডের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের ইস্যুতে ১৪টি ইউনিটে আমরা কাজ শুরু করার পর সেখান থেকে ফিডব্যাক নিচ্ছি। ভাতার কার্ডগুলোতে যেসব অনিয়ম আছে, সেগুলো চিহ্নিত করে আমরা সমাধানের দিকে যাচ্ছি। এ ছাড়া বিগত সময়ে যেসব আইন ও নীতিমালা করা হয়েছে, সেগুলো যাচাই করে একটি সুষ্ঠু নীতিমালার আওতায় আনা হবে।
দেশে ভাতা কর্মসূচি চালুর কৃতিত্ব সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দিয়ে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই প্রগ্রাম প্রথম চালু করেন আমাদের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। পরবর্তী সময়ে অন্য সরকারগুলো এটি বাস্তবায়ন করে।
তবে বিগত সময়গুলোতে এসব তালিকায় ব্যাপক স্বজনপ্রীতি করা হয়েছিল। আমাদের মূল লক্ষ্য তালিকা নয়, বরং কারা প্রকৃত সুবিধাভোগী হওয়ার যোগ্য, তা চিহ্নিত করা।
মাঠ পর্যায়ে তালিকা সংশোধনের উদ্যোগ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা এরই মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই কমিটির মাধ্যমে তালিকাগুলো যাচাই-বাছাই করে সত্যিকার অর্থে যারা বেনিফিশিয়ারি (সুবিধাভোগী), তারাই যেন কার্ড ও সুযোগ-সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করা হবে। সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যেই যাদের প্রকৃত প্রয়োজন, তাদের কাছেই সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে সরকার সচেষ্ট রয়েছে বলেও সংসদে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।
উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে। তাকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি রোববার (১৫ মার্চ) সকাল ১১টা ২০ মিনিটে উড্ডয়ন করেছে।
মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শেই তাকে বিদেশে নেওয়া হচ্ছে। তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলার এখনই কোনো সুযোগ নেই বলে সকালে জানিয়েছেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম।
এরআগে, মির্জা আব্বাসের ব্যক্তিগত সচিব মিজানুর রহমান সোহেল জানান, দুপুর ১২টার দিকে মির্জা আব্বাসকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হবে। তাকে বহন করতে যাওয়া এয়ার এম্বুলেন্সটি সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ঢাকায় এসে পৌঁছেছে।
জানা গেছে, মির্জা আব্বাসের সঙ্গে যাবেন তার সহধর্মিণী আফরোজা আব্বাস এবং জ্যেষ্ঠ পুত্র মির্জা ইয়াসির আব্বাস।
গত বৃহস্পতিবার ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে মির্জা আব্বাসকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সিটি স্ক্যান রিপোর্টে জটিলতা ধরা পড়লে মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তে শুক্রবার তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচার পরবর্তী নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা অবস্থায় শনিবার সকালে তার পুনরায় সিটি স্ক্যান করা হয়।
আগামী পয়লা বৈশাখে (১৪ এপ্রিল) কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (১৫ মার্চ) বেলা ১১টায় বাংলাদেশ সংসদ সচিবালয়ে কৃষক কার্ড বিষয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন— কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ও প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং স্থানীয় সরকার, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ প্রমুখ।
সংবিধান অনুযায়ী সংসদ আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি। এখানে সংস্কার পরিষদ বলতে কিছু নেই। জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের বাস্তবায়নের কথা বলছে আগে সংশোধনী আনতে হবে।
রোববার (১৫ মার্চ) সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে অংশ নেয়ার আগে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) নতুন সংসদের যাত্রা শুরু হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষে অধিবেশন রোববার পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেছিলেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
জাতীয় সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, দিনের কার্যসূচিতে প্রশ্নোত্তর পর্ব, জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর দেয়া হবে।
সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির প্রথম বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বিকাল ৩টায় অধিবেশন বসবে।
শনিবার সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনের সময়সূচি ও কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর মোট ৫০ ঘণ্টা আলোচনা বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য আটটি এবং অন্যান্য মন্ত্রীর জন্য ৪৬০টি প্রশ্নসহ মোট ৪৬৮টি প্রশ্ন জমা পড়েছে। বিধি-৭১ অনুযায়ী মনোযোগ আকর্ষণের ২৭টি নোটিশ এবং বিধি-১৩১ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের ৯৭টি নোটিশ পাওয়া গেছে।
অবশেষে জ্বালানি তেল বিতরণের ওপর আরোপিত রেশনিংসহ সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজ রোববার (১৫ মার্চ) থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সকল বিতরণ কেন্দ্রে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বিতরণ স্বাভাবিক থাকবে।
রোববার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সৃষ্ট সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে দেশে জ্বালানি সংকট মোকাবেলার জন্য সরকার কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে, জ্বালানি তেল বিতরণে সাময়িকভাবে রেশনিং পদ্ধতিসহ বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হলো। ইতোমধ্যে আমদানি করা জ্বালানি তেলবাহী বেশ কয়েকটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। পাশাপাশি, আসন্ন ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন করা এবং বোরো মৌসুমে কৃষকদের সেচকাজের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়টিও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে দেশের সব বিতরণ কেন্দ্র থেকে গ্রাহকরা তাদের চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে পারবেন, যা জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ দুপুর ১২টায় সিঙ্গাপুর নেওয়া হবে। তাকে বহন করতে যাওয়া এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ঢাকায় এসে পৌঁছেছে।
রোববার (১৫ মার্চ) মির্জা আব্বাসের ব্যক্তিগত সচিব মিজানুর রহমান সোহেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, আজ সকাল ৯টা ১০ মিনিটে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকায় অবতরণ করেছে। দুপুর ১২টায় এটি সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবে।
জানা গেছে, মির্জা আব্বাসের সঙ্গে যাবেন তার সহধর্মিণী আফরোজা আব্বাস এবং জ্যেষ্ঠ পুত্র মির্জা ইয়াসির আব্বাস।
গত বৃহস্পতিবার ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে মির্জা আব্বাসকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সিটি স্ক্যান রিপোর্টে জটিলতা ধরা পড়লে মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তে শুক্রবার তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়।
অস্ত্রোপচার পরবর্তী নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা অবস্থায় শনিবার সকালে তার পুনরায় সিটি স্ক্যান করা হয় এবং চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক। বর্তমানে সিঙ্গাপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।