শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
১১ মাঘ ১৪৩২
সেনাপ্রধান

সতর্ক করে দিচ্ছি, নিজেরা কাদা ছোড়াছুড়ি করলে স্বাধীনতা বিপন্ন হবে

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ২০:৫৮
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ২০:২৮

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার–উজ–জামান এ কথা বলেছেন, আমি আপনাদের সতর্ক করে দিচ্ছি, পরে বলবেন যে সতর্ক করিনি, আপনারা যদি নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে একসাথে কাজ না করতে পারেন, নিজেরা যদি কাদা ছোড়াছুড়ি করেন, মারামারি কাটাকাটি করেন, এই দেশ এবং জাতির স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে। সেই সঙ্গে সেনাবাহিনীকে সহায়তা করার আহ্বান জানান তিনি
মঙ্গলবার রাজধানীর রাওয়া (রিটায়ার্ড অর্মি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন) কনভেনশন হলে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবসের’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
সেনাপ্রধান বলেন, আমি আপনাদের সতর্ক করে দিচ্ছি, পরে বলবেন যে সতর্ক করিনি। আপনারা যদি নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ না করতে পারেন, নিজেরা যদি কাদা ছোড়াছুড়ি করেন, মারামারি-কাটাকাটি করেন, এই দেশ এবং জাতির স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে। আমি আজকে বলে দিলাম, নাইলে আপনারা বলবেন যে, আমি সতর্ক করিনি।
জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, আমার অন্য কোনো আকাঙ্ক্ষা নাই, আমার একটাই আকাঙ্ক্ষা, দেশ এবং জাতিটাকে একটা সুন্দর জায়গায় রেখে ছুটি করা। আই হ্যাড এনাফ লাস্ট সেভেন–এইট মান্থস, আই হ্যাড এনাফ। আমি চাই, দেশ এবং জাতিকে একটা সুন্দর জায়গায় রেখে আমরা সেনা নিবাসে ফেরত আসব।
সেনাপ্রধান বলেন, আরেকটা জরুরি বিষয় ভাবলাম, আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করি, দেশের এই আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপের পেছনে কিছু কারণ আছে। প্রথম কারণটা হচ্ছে, আমরা নিজেরা হানাহানির মধ্যে ব্যস্ত, একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে বিষোদগারে ব্যস্ত। এটা একটা চমৎকার সুযোগ অপরাধীদের জন্য। যেহেতু আমরা একটা অরাজক পরিস্থিতির মধ্যে বিরাজ করছি। তারা (অপরাধী) খুব ভালোভাবেই জানে এই সময়ে অপরাধ করলে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। সেই কারণে এই অপরাধগুলো হচ্ছে। আমরা যদি সংগঠিত থাকি, একত্রিত থাকি তাহলে এটা সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, ডিজিএফআই, এনএসআই—এসব বাহিনী অতীতে দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছে উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, (তারা) খারাপ কাজের সঙ্গে অসংখ্য ভালো কাজ করেছে। আজ যে দেশের স্থিতিশীলতা, দেশটাকে যে এত বছর স্থিতিশীল রাখা হয়েছে, এটার কারণ হচ্ছে এই সশস্ত্র বাহিনীর বহু সেনা সদস্য, সিভিলিয়ান সবাই মিলে এই অরগানাইজেশনগুলোকে অসামরিক-সামরিক সবাই মিলে, এই অরগানাইজেশনগুলোকে ইফেক্টিভ (কার্যকর) রেখেছে। সেজন্য এতদিন ধরে আমরা একটা সুন্দর পরিবেশ পেয়েছি।
তিনি বলেন, এর মধ্যে যারা কাজ করেছে, যদি অপরাধ করে থাকে, সেটার শাস্তি হবে। অবশ্যই শাস্তি হতে হবে। না হলে এই জিনিস আবার ঘটবে। আমরা সেটাকে বন্ধ করতে চাই চিরতরে। কিন্তু তার আগে মনে রাখতে হবে, আমরা এমনভাবে কাজটা করব, এই সমস্ত অর্গানাইজেশনগুলো যেন আন্ডারমাইন্ড না হয়।
পুলিশ বাহিনীকে এতোদিনে কার্যকর করতে না পারার পেছনের কারণ উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, আজকে পুলিশ সদস্য কাজ করছে না। একটা বিশাল বড় কারণ হচ্ছে, অনেকের বিরুদ্ধে মামলা, অনেকে জেলে। র‍্যাব, বিজিবি, ডিজিএফআই, এনএসআই প্যানিকড (আতঙ্কিত)। বিভিন্ন দোষারোপ গুম খুন ইত্যাদি। তদন্ত চলছে, অবশ্যই তদন্ত হবে, দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে, এমন ভাবে কাজটা করতে হবে যেন এই অর্গানাইজেশনগুলো আন্ডারমাইন্ড না হয়। এই অর্গানাইজেশনগুলোকে যদি আন্ডারমাইন্ড করে আপনারা মনে করেন যে, দেশের শান্তি শৃঙ্খলা বিরাজ করবে, সবাই শান্তিতে থাকবেন, এটা হবে না। সেটা সম্ভব না। আমি আপনাদের পরিষ্কার করে বলে দিচ্ছি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব শুধু সেনাবাহিনীর নয়, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘এই দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব খালি সেনা সেনাবাহিনীর না। দুই লক্ষ পুলিশ আছে, বিজিবি আছে, র‍্যাব আছে, আনসার–ভিডিপি আছে। আমার আছে ৩০ হাজার সৈন্য। এদেরকে আমি এই যে একটা বিরাট ভয়েড, আমি এই ৩০ হাজার সৈন্য দিয়ে কীভাবে এটা পূরণ করব? ৩০ হাজার থাকে, আবার ৩০ হাজার চলে যায়, ক্যান্টনমেন্টে আরও ৩০ হাজার আসে, এটা দিয়ে আমরা দিন-রাত চেষ্টা করে যাচ্ছি। এখানে যে সমস্ত উচ্ছৃঙ্খল কাজ হয়েছে সেটা আমাদের নিজস্ব তৈরি। এটা আমাদের নিজস্ব ম্যানুফ্যাকচারড। আমরা এইগুলো তৈরি করেছি। এই বিপরীতমুখী কাজ করলে দেশে কখনো শান্তি শৃঙ্খলা আসবে না। এই জিনিসটা আপনাদের মনে রাখতে হবে।
তিনি বলেন, তদন্ত কমিশন হচ্ছে আবার আরেকটা। আমরা সর্বদা চেষ্টা করব তদন্ত কমিশনকে সহায়তা করতে। যে ধরনের সাহায্য সহযোগিতা প্রয়োজন হয় আমরা করব।
নির্বাচনের বিষয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘আমরা দেশে একটা ফ্রি ফেয়ার অ্যান্ড ইনক্লুসিভ ইলেকশনের জন্য দিকে ধাবিত হচ্ছি এবং তার আগে যে সমস্ত সংস্কার করা প্রয়োজন অবশ্যই সরকার সেদিকে হেল্প করবেন। আমি যতবারই ড. ইউনূসের সঙ্গে কথা বলেছি, কমপ্লিটলি অ্যাগ্রিড উইথ মি। দেয়ার শুড বি ফ্রি ফেয়ার অ্যান্ড ইনক্লুসিভ ইলেকশন অ্যান্ড দ্যাট ইলেকশন শুড বি উইথইন ডিসেম্বর, অর ক্লোজ টু দ্যাট। যেটা আমি প্রথমেই বলেছিলাম, ১৮ মাসের মধ্যে একটা ইলেকশন। আমার মনে হয় সরকার সেদিকেই ধাবিত হচ্ছে। ড. ইউনূস যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন, এ দেশটাকে ইউনাইটেড রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন উনি। উনাকে আমাদের সাহায্য করতে হবে। উনি যেন সফল হতে পারেন। সেদিকে আমরা সবাই চেষ্টা করব। আমরা একসাথে ইনশাল্লাহ কাজ করে যাব।’
দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘আসেন, আমরা নিজের নিজেদের মধ্যে মারামারি কাটাকাটি না করে দেশ জাতি যেন একসাথে থাকতে পারি সেদিকে আমাদের কাজ করতে হবে। আমাদের মধ্যে মতের বিরোধ থাকতে পারে, চিন্তা-চেতনার বিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু দিন শেষে যেন আমরা সবাই দেশ এবং জাতির দিকে খেয়াল করে যেন এক থাকতে পারি। তাহলে এই দেশটা উন্নত হবে। এই দেশটা সঠিক পথে পরিচালিত হবে। না হলে আমরা আরো সমস্যার মধ্যে পড়তে যাব।
সতর্ক করে দিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘বিশ্বাস করেন, উই ডোন্ট ওয়ান্ট টু হেড, ওইদিকে আমরা যেতে চাই না। আমি আপনাদের সতর্ক করে দিচ্ছি। পরে বলবেন যে আমি সতর্ক করিনি।
আমি আপনাদের সতর্ক করে দিচ্ছি। আপনারা যদি নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে একসাথে কাজ না করতে পারেন, নিজেরা যদি কাদা ছোড়াছুড়ি করেন, মারামারি কাটাকাটি করেন এই দেশ এবং জাতির স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে। আমি আজকে বলে দিলাম, নাইলে আপনারা বলবেন যে আমি আপনাদের সতর্ক করিনি। আমি সতর্ক করে দিচ্ছি আপনাদের। এই দেশ আমাদের সবার। আমরা সুখে শান্তিতে থাকতে চাই। আমরা চাই না হানাহানি কাটাকাটি মারামারি। সেই উদ্দেশ্যে আমি কাজ করে যাচ্ছি। আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের সেনাবাহিনীর প্রতি আক্রমণ করেন না।’
সামরিক বাহিনীর প্রতি অনেকে অকারণে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে বলে উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, একটা কমন জিনিস আমি দেখতে পাচ্ছি, সেনাবাহিনী এবং সেনাপ্রধানের প্রতি বিদ্বেষ কারো কারো, কী কারণে আজ পর্যন্ত আমি আমি এটা খুঁজে পাইনি। আমরা হচ্ছি একমাত্র ফোর্স, যেটা আপনাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছি, দাঁড়িয়ে আছি প্ল্যাটফর্মে। অফকোর্স নেভি অ্যান্ড এয়ারফোর্স। নেভি এয়ারফোর্স আমাদের সাহায্য করেন। আমাদের আক্রমণ করেন না, আমাদের অনুপ্রাণিত করেন, আমাদের উপদেশ দেন। কোনো একটা সমস্যা হয়ে গেলে আমি নুরুদ্দিন স্যারের শরণাপন্ন হই এবং উনি আমাকে উপদেশ দেন, সিনিয়র জেনারেলরা আমাকে উপদেশ দেন। আমি সবার কাছে শরণাপন্ন হই। আমাদের প্রতি আক্রমণ করেন না। উপদেশ দেন, আমরা অবশ্যই ভালো উপদেশ গ্রহণ করব। আমরা একসাথে থাকতে চাই এবং দেশ এবং জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যে দিতে চাই।


শিক্ষা সংস্কারে তরুণদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার আহ্বান ইউনেসকোর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইউনেসকোর হেড অব অফিস ও বাংলাদেশে রিপ্রেজেন্টেটিভ সুজান ভাইজ মন্তব্য করেছেন যে, তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে ঢাকার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় সম্মানীয় অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

সম্মানীয় অতিথির বক্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “শিক্ষা ব্যবস্থার তরুণদের অংশীদার হিসেবে যুক্ত করতে হবে। তাদের শুধু নির্দেশনা দেওয়া নয়, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণের অংশ বানানোই সময়ের দাবি।” বর্তমানে বাংলাদেশ যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেখানে তরুণদের আবেগ ও দায়বদ্ধতা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করে তিনি জানান যে, ইউনেসকো তরুণদের কেবল উপদেশগ্রহীতা নয় বরং মাঠপর্যায়ের উদ্ভাবনী অংশীদার হিসেবে দেখে। তবে শিক্ষা ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোর কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ২০২৩ সালের মূল্যায়নে অষ্টম শ্রেণির ৫৪ শতাংশ শিক্ষার্থীর বাংলায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা না থাকা এবং গণিতে আরও পিছিয়ে থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আগামী কয়েক বছরে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে শিক্ষার্থীদের বাস্তবসম্মত প্রস্তাব গ্রহণ এবং শিক্ষকদের কেবল জ্ঞানদাতা নয় বরং মেন্টর ও মানসিক বিকাশের সহযাত্রী হিসেবে গড়ে তোলার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

এছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে ইউনেসকো ও ইউনিসেফ আগামী চার বছর শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নে নিবিড়ভাবে কাজ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ জাতীয় ইউনেসকো কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সারভীনা মনীরের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন।


রায়েরবাজারে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে কিশোর গ্যাংসহ আটক ১৮

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর রায়েরবাজারের ক্যান্সার গলি ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় কিশোর গ্যাং এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে সেনাবাহিনীর এক বিশেষ অভিযানে ১৮ জনকে আটক করা হয়েছে।

শনিবার সকালে ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান যে, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে মধ্যরাত ১টা পর্যন্ত বসিলা সেনা ক্যাম্পের একটি বিশেষ দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে শাহরিয়ার, লিংকু, ইয়াসিন (২০), ইয়াসিন (২১), জসিম, স্বাধীন, রিয়াজ, নিজাম, মাহাবুব, হৃদয়, আকাশ, নিদ্রয়, সানি, করিম, রুজন, সাকিব, ফয়সাল ও উজ্জ্বল নামে ১৮ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়। আটককৃতদের কাছ থেকে ১২টি ধারালো তলোয়ার, ২টি চাপাতি, একটি চাইনিজ কুঠার, ২টি ধারালো সামুরাই, ১৩টি স্মার্টফোন, মাদক বিক্রির নগদ ৪০ হাজার ২০০ টাকা ও ১২৫ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন এবং তারই ধারাবাহিকতায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা নিয়মিত মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক অভিযোগ ও মামলা থাকায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে তাদের মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করা হবে।


রোহিঙ্গা নিয়ে মিয়ানমারের মিথ্যাচার, বাংলাদেশের তীব্র প্রতিবাদ

আপডেটেড ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ২৩:১৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে অভিহিত করে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমার যে বক্তব্য দিয়েছে, তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।

বাংলাদেশ বলছে, রোহিঙ্গাদের আদি পরিচয় মুছে ফেলে তাদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে প্রমাণের এই চেষ্টা মূলত গণহত্যার দায় এড়ানোর একটি অপকৌশল।

বিবৃতিতে বলা হয়, মিয়ানমার পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গাদের নিজস্ব জাতিগত পরিচয় অস্বীকার করছে। তাদের ‘বাঙালি’ আখ্যা দিয়ে ২০১৬-১৭ সালে চালানো ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ বা নৃশংসতাকে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান হিসেবে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে দেশটি। অথচ ঐতিহাসিক ও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে, রোহিঙ্গারা আরাকানের একটি স্বতন্ত্র নৃগোষ্ঠী, যারা ১৭৮৫ সালে বার্মিজদের দখলের অনেক আগে থেকেই সেখানে বসবাস করে আসছে।

পরিকল্পিতভাবে প্রান্তিকীকরণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে, ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন প্রণয়নের আগ পর্যন্ত রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাজনীতি, সমাজ ও সরকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। এমনকি ২০১৫ সাল পর্যন্ত তাদের ভোটাধিকার ছিল। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে এই জনগোষ্ঠীকে রাষ্ট্রহীন করতে এবং নির্মূল করতে তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয় এবং দেশ থেকে বিতাড়ন করা হয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় প্রায় ৫ লাখ মানুষ রাখাইনে আশ্রয় নিয়েছিল–মিয়ানমারের এমন দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘যুক্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ।

সরকার বলছে, মিয়ানমার এর সপক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ দিতে পারেনি। তৎকালীন রাখাইনের জনসংখ্যার তুলনায় ৩০ শতাংশ মানুষের অনুপ্রবেশের মতো ঘটনা ঘটলে তা অবশ্যই বিশ্ববাসীর নজরে আসত এবং আর্থ-সামাজিক সংকটের সৃষ্টি হতো। কোনো যৌক্তিক কারণেই মানুষ যুদ্ধ এড়িয়ে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া রাখাইনে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য যাবে না।

বাংলাদেশ জানায়, রোহিঙ্গাদের ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার কিছু মিল থাকলেও তা সম্পূর্ণ আলাদা। তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য ও সামাজিক রীতি রয়েছে। তাদের ‘বাঙালি’ ডাকা কেবল একটি পরিচয় বির্তক নয়, বরং এটি তাদের মানবাধিকার ও নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়ার একটি হাতিয়ার।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত আট বছরেও রাখাইনে নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে মিয়ানমার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুসারে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বদলে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে। এই অনীহা তাদের রোহিঙ্গা নির্মূলের অশুভ ইচ্ছারই প্রতিফলন।

বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এবং রাখাইনের বর্তমান নিয়ন্ত্রকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা রোহিঙ্গাদের নিজস্ব সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে তাদের টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করে।


আগে ছিল ভয়, এখন অসহিষ্ণুতা: রওনক জাহান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই অভ্যুত্থানের আগে ও পরের বাংলাদেশে জননিরাপত্তা একটি বড় হুমকি হয়েই রয়েছে বলে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক রওনক জাহানের পর্যবেক্ষণ। তার মতে, আগে ছিল ভয়ের পরিবেশ। গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরে এখন ভয়ের সঙ্গে অসহিষ্ণু পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর এফডিসিতে এক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন রওনক জাহান। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটেছিল। তারপরের বাংলাদেশে ‘মব’ হয়ে ওঠে আলোচনার নতুন উপাদান।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক রওনক জাহান বলেন, আগে ভয়ের পরিবেশ শুধু রাষ্ট্রের কাছ থেকে আসত। এখন বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গোষ্ঠীর দিক থেকে ভয় আসছে। অনেক সময় মানুষ বুঝতে পারছে না, ভয়টা ঠিক কোথা থেকে আসছে।

গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় পরমতসহিষ্ণুতার ওপর জোর দিয়ে রওনক জাহান বলেন, ‘আমাদের সে জন্য একটু সহিষ্ণু হতে হবে। সঠিক পথে না চললে প্রশ্ন তুলতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন তোলার অর্থ এই নয় যে ভাঙচুর করতে হবে কিংবা কাউকে গিয়ে পেটাতে হবে।’

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই মানুষ ভয় পাচ্ছে বলে সহিংসতা রোধে রাজনৈতিক দলগুলোকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান রওনক জাহান। তিনি বলেন, গণতন্ত্রে প্রতিযোগিতার অর্থ হলো নির্বাচনে একটি দল হারবে, অপর একটি দল জিতবে। দেশে এখনো রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে হারার মানসিকতা তৈরি হয়নি। অতীতে দেখা গেছে, যারা নির্বাচনে হেরে যান, তারা নির্বাচনকে বিভিন্নভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেন।

আগে ভয়ের পরিবেশ শুধু রাষ্ট্রের কাছ থেকে আসত। এখন বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গোষ্ঠীর দিক থেকে ভয় আসছে। অনেক সময় মানুষ বুঝতে পারছে না, ভয়টা ঠিক কোথা থেকে আসছে।

ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে জনগণের সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলেন, আগামী নির্বাচনে মানুষ দল ও মার্কার চেয়ে ব্যক্তিকে বাছাই করে ভোট দেবেন। তবে জটিল এই পরিস্থিতিতে নাগরিকদের বেশি সচেতন থাকতে হবে।

গণতান্ত্রিক কাঠামোকে সুরক্ষিত রাখতে নির্বাচিত ব্যক্তিদের সার্বক্ষণিক জবাবদিহির মধ্যে রাখতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রওনক জাহান বলেন, ‘নাগরিকেরা এটা যদি না করে, তাহলে তারা তাদের অধিকারকে রক্ষা করতে পারবে না। গণতন্ত্রের জন্য এটা সবচেয়ে জরুরি।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হচ্ছে, সেটা দেশি–বিদেশি পর্যবেক্ষকদের মতামতের ওপরও নির্ভর করবে বলে মনে করেন রওনক জাহান। তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু শব্দের নানা রকম ব্যাখ্যা হতে পারে। এটা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। দেশে ও বিদেশে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হচ্ছে কি না, সেটা গুরুত্বপূর্ণ।’

একেবারে ‘পারফেক্ট’ না হলেও নির্বাচন যাতে মোটামুটি গ্রহণযোগ্য হয়, সেই চেষ্টা সবাইকে করতে হবে বলে মন্তব্য করেন রওনক জাহান।

‘আসন্ন গণভোট ও সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হলেই গণতন্ত্র সুরক্ষিত হবে’ শীর্ষক এই বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিষয়বস্তুর পক্ষে অবস্থান নেন ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু হলেই আগামী দিনে দেশের গণতন্ত্র সুরক্ষিত থাকবে। বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে এর বিকল্প নেই।

বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির শিক্ষার্থীরা বলেন, শুধু গণভোট আয়োজনের মতো আনুষ্ঠানিকতাই গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত করবে না; বরং দেশের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো সংস্কার না করলে যেকোনো সংস্কার বিফলে যাবে।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ। আইনশৃঙ্খলাসহ সার্বিক পরিস্থিতি নির্বাচনের অনুকূলে রাখতে হবে। অনেকে নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। এমন পরিস্থিতিতে কালোটাকা, পেশিশক্তি ও প্রভাব বিস্তারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।


ফাঁস হওয়া প্রশ্নে ৭ কলেজে পরীক্ষা, তদন্তে কমিটি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ফাঁস হওয়া প্রশ্নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি ৭ কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ফাইনাল পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা তদেন্ত ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজধানীর ৭ কলেজে একযোগে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থায়নের মূলনীতি (কোর্স নম্বর-২০৮) বিষয়ের ফাইনাল পরীক্ষা হয়।

পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপে ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরীক্ষার হলে একই প্রশ্ন আসায় প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি পরীক্ষার অন্তত দুদিন আগে একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এ অবস্থায় দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন ও পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানানো হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সাত কলেজের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি।

এর আগেও সাত কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অনার্স থেকে মাস্টার্স পর্যায় পর্যন্ত প্রশ্নপত্র অর্থের বিনিময়ে ফাঁসের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিমাদ্রি শেখর চক্রবর্তী গণমাধ্যমকে জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কখনো এ ধরনের অনিয়মকে সমর্থন করে না। বিষয়টি সামনে আসায় সাত কলেজ প্রশাসককে অবগত করা হয়েছে। প্রয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহযোগিতা করবে।

সাত কলেজের অন্তর্বর্তী প্রশাসক অধ্যাপক একেএম ইলিয়াস গণমাধ্যমকে জানান, পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। তাই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার তাদের। তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। এরপর বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান তিনি।


বাংলাদেশবিরোধী দিল্লিভিত্তিক ‘থিংক ট্যাংক’ মাঠে, ইসলামী মৌলবাদের কল্পিত উত্থান নিয়ে নানা তৎপরতা  

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই বিপ্লবে ফ্যাসিস্ট হাসিনার উৎখাত এবং পরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে থেমে নেই ভারতের বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতা। আসন্ন সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের তিন সপ্তাহও বাকি নেই। ঠিক সেই মুহূর্তে হঠাৎ নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে দিল্লিভিত্তিক ‘থিংক ট্যাংক’।

কয়েকদিনে দিল্লিতে প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ নেতাদের সংবাদ সম্মেলন, বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় কূটনীতিকদের দিল্লিতে ফিরিয়ে নেওয়া, বাংলাদেশে ইসলামী মৌলবাদের কল্পিত উত্থান নিয়ে দিল্লিতে সেমিনারের আয়োজনসহ নানা ধরনের বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতা শুরু হয়েছে। এ তৎপরতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগ ছাড়া বাংলাদেশের নির্বাচন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না মোদি সরকারের নীতিনির্ধারকরা। বিএনপির ওপর পুরোপুরি আস্থা না রাখার পাশাপাশি ইসলামী দলগুলোর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে রীতিমতো উদ্বিগ্ন দিল্লি। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দিল্লি সর্বাত্মক বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতায় নেমেছে।

বিশ্লেষকরা আরও বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে আমরা একটি চ্যালেঞ্জিং সময় পার করছি। এ সময় দিল্লির বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতা বৃদ্ধি গভীর উদ্বেগের বিষয়। গত ১৭ জানুয়ারি দিল্লি প্রেসক্লাবে ভারতের ডিপস্টেট তথা গোয়েন্দা সংস্থার পরিকল্পনা ও সহযোগিতায় প্রথমবারের মতো সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে আওয়ামী লীগ। ওই সংবাদ সম্মেলনে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বাংলাদেশ সরকারকে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন হলে বাংলাদেশ অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে। কোনোভাবেই দেশে স্থিতিশীলতা আসবে না।’

তারা আরও বলেন, ‘আমরা শিগগিরই শেখ হাসিনাকে নিয়ে দেশে ফিরব এবং ক্ষমতায় যাব।’

ওই সংবাদ সম্মেলনের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দিল্লির কাছে আপত্তি জানালেও তা উপেক্ষা করছে মোদি সরকার। ওই সংবাদ সম্মেলনের মাত্র দুদিন পর গত বুধবার দিল্লিতে ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ‘সিডস অব হেট: বাংলাদেশ এক্সিমিস্ট সার্জ জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ অ্যান্ড আদার র‌্যাডিক্যাল অর্গানাইজেশনস’ শীর্ষক বইয়ের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির ও ভারতীয় সাংবাদিক দীপাঞ্জন রায় চৌধুরীর যৌথভাবে সম্পাদিত এ বইয়ের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠানে বিজেপি সরকারের সাবেক মন্ত্রী এমজে আকবর, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পংকজ সরণ, ড. অনির্বাণ গাঙ্গুলী, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি, শ্রুতি পাট্টানায়েক প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন। আলোচকরা বাংলাদেশে ইসলামপন্থিদের মৌলবাদী আখ্যা দিয়ে তাদের উত্থানকে ভারতের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেন। তাদের দাবিÑকথিত এ মৌলবাদী শক্তির উত্থানের ফলে বাংলাদেশের রাজনীতির চিত্র পাল্টে যাচ্ছে, যা দেশটির জন্য অস্তিত্ব সংকট তৈরি করবে।

পঙ্কজ সরণ তার বক্তৃতায় বলেন, ‘বাংলাদেশে মৌলবাদী শক্তির উত্থান ঘটছে। এখন বড় প্রশ্ন হলো- বাংলাদেশ তার অতীত থেকে বেরিয়ে এসে নতুনভাবে শুরু করতে পারবে কি না।’

এমজে আকবর বাংলাদেশ সম্পর্কে তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করে বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন অস্তিত্ব সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশটিতে এখন যারা সরকারে আছে, তাদের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ যে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা গণতান্ত্রিক নয়। এ পরিবর্তন যদি গণতান্ত্রিক পদ্ধতির মধ্য দিয়ে হতো, তাহলে আজ এই বইয়ের প্রকাশনা বা এটা নিয়ে আলোচনা করার প্রয়োজন পড়ত না।’

অন্য বক্তারা বাংলাদেশে কথিত মৌলবাদের উত্থানকে ভারতের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি বলে উল্লেখ করেন।

বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, ‘সময়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দিল্লিতে এমন একটি সময়ে বাংলাদেশবিরোধী বিভিন্ন ধরনের তৎপরতা চোখে পড়ছে, যখন বাংলাদেশ আগামী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে অগ্রসর হচ্ছে। ভারত যা করছে তা অপ্রত্যাশিত নয়, তারা বাংলাদেশ নিয়ে এ ধরনের অপতৎপরতা চালিয়েই আসছে।’

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। দিল্লি বাংলাদেশে কর্মরত তার কূটনীতিকদের পরিবার-পরিজনকে দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে। এটা বড় ধরনের একটি বার্তা দেয়। ভারত আসলে বাংলাদেশ নিয়ে বড় ধরনের কোনো ষড়যন্ত্র পাকাচ্ছে। সরকার, রাজনৈতিক দল এবং সর্বোপরি দেশের সাধারণ মানুষকে দিল্লির তৎপরতার বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। কোনো ধরনের উসকানিতে পা দেওয়া যাবে না।’

বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন করে ইউনূস সরকারকে আরও বেশি চাপে ফেলতে চাচ্ছে দিল্লি। মোদি সরকার কোনোভাবেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং ইউনূস সরকারকে মেনে নেয়নি। নির্বাচনকেন্দ্রিক বিভিন্ন জরিপে জামায়াত নেতৃত্বের ইসলামী দলগুলোর জোটের ভালো ফল করার আভাস মিলছে। বিষয়টিকে সামনে এনে ভারতের নীতিনির্ধারকরা বাংলাদেশকে মৌলবাদী ট্যাগ দিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে চাচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য- বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের এ তৎপরতার বিরুদ্ধে তেমন কেউ কিছু বলছেন না। একটি মৌলবাদী শক্তি এখন ভারত শাসন করছে। অথচ তারাই আবার কল্পিত মৌলবাদের ইস্যু সামনে এনে বাংলাদেশের দিকে আঙুল তুলছে।’


ফ্যাসিবাদের সহযোগীরাই ‘না’ ভোট চাচ্ছে  

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ফ্যাসিবাদের সহযোগীরাই ‘না’ ভোট চাচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার-পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং গৃহায়ন ও গণপুর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার আদিলুর রহমান খান। তিনি বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্যেই সরকার গণভোটে হ্যাঁ ভোট চাচ্ছেন। তবে যারা পরাজিত শক্তি, যারা ফ্যাসিবাদের সহযোগী, গণমানুষের প্রতিপক্ষ একমাত্র তারাই ‘না’ভোট চাচ্ছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় গণঅভুত্থ্যানে রংপুর জেলা শহীদদের স্মরণে স্থাপিত স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, ছাত্র-জনতার অনেক রক্ত ও ত্যাগের মধ্যদিয়ে গণঅভুত্থ্যানে ফ্যাসিস্ট সরকার পরাজিত হয়েছে। সেই গণঅভুত্থ্যানের মাধ্যমে এই সরকার, যারা জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের আয়োজন করেছেন। এদেশের মানুষ হ্যাঁ ভোটের পক্ষে। যারা ফ্যাসিবাদের সহযোগি, গণমানুষের প্রতিপক্ষ তারাই অন্য কিছু চিন্তা করবে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ, জনতার কাফেলা, জনতার জোয়ার হ্যাঁ ভোটের পক্ষে।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর হওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, গণভোটের পক্ষে বাংলাদেশের জনসাধারণ জুলাই সনদের পক্ষে শহীদদের আত্মত্যাগকে সামনে রেখে হ্যাঁ ভোটে সম্মতি দেবেন।

তিনি বাংলাদেশের মানুষকে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে রায় দেওয়ার আহ্বান জানান।

এসময় উপদেষ্টার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ইতিহাসের তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়: প্রধান উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের স্বাধিকার ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের এক তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ‘ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ঐতিহাসিক ছয় দফা, পরবর্তীকালে ১১ দফা এবং ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জাতি অর্জন করেছে মহান স্বাধীনতা।’

তিনি বলেন, তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসন ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ১৯৬৯ সালের জানুয়ারি মাসজুড়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দেশ উত্তাল হয়ে ওঠে। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ২৪ জানুয়ারি সে আন্দোলন রূপ নেয় এক ব্যাপক গণবিস্ফোরণে।’

প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, দমন-পীড়নের প্রতিবাদে সান্ধ্য আইন ভঙ্গ করে সংগ্রামী জনতা মিছিল বের করলে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন ঢাকার নবকুমার ইনস্টিটিউটের নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর রহমান মল্লিক। এ সময় গুলিতে শহিদ হন মকবুল, আনোয়ার, রুস্তম, মিলন, আলমগীরসহ আরও অনেকে।

তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে শহীদদের আত্মত্যাগ দেশের তরুণ সমাজকে জুগিয়েছে অফুরন্ত সাহস ও অনুপ্রেরণা।’

স্মৃতিবিজড়িত এই দিনে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আসুন, এই গণঅভ্যুত্থানের মূল্যবোধ ধারণ করে সবাই মিলে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলি।’ তিনি দেশের মুক্তিসংগ্রামের সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

এদিকে ‘সরস্বতী পূজা’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। হাজার বছর ধরে এ দেশে জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সব ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের সঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করে আসছেন।’

তিনি বলেন, ‘হিন্দু ধর্মমতে, দেবী সরস্বতী সত্য, ন্যায় ও জ্ঞানের প্রতীক। তিনি বিদ্যা, বাণী ও সুরের অধিষ্ঠাত্রী। তিনি আমাদের অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে যান। সরস্বতী পূজার এই পবিত্র উৎসব উপলক্ষে আমি প্রত্যাশা করি, আমাদের শিক্ষা যেন কেবল নিজের উন্নতির জন্য না হয়, বরং সমাজের উন্নতির জন্য হয়। আমরা যেন আমাদের জ্ঞান দিয়ে অন্যকে সাহায্য করি, দুর্বলদের পাশে দাঁড়াই এবং একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলি।’

প্রধান উপদেষ্টা হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ বাংলাদেশের সব নাগরিকের শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।


আরেক শুটার গ্রেপ্তার, অস্ত্র উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান ওরফে মোছাব্বির (৪৪) হত্যা মামলায় আরেক শুটার রহিমকে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মুছাব্বির হত্যা মামলায় আরেক শুটার রহিমকে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযান এখনো চলমান রয়েছে।

এর আগে মোছাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায় পুলিশ। গত ১০ জানুয়ারি রাতে মানিকগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। গ্রেপ্তাররা হলেন- জিন্নাত (২৪), আব্দুল কাদির (২৮) ও মো. রিয়াজ (৩২)।

এর আগে ৭ জানুয়ারি রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটির পেছনে স্টার হোটেলের সামনে মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন ৮ জানুয়ারি তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করা হয়। নিহত মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয়ে চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে এই মামলা করেন।


সিজিএসের সংলাপে হোসেন জিল্লুর রহমান: দুর্নীতি বন্ধ না হলে ভালো সরকার দিয়েও দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্নীতি ও হয়রানিকে একটি রাষ্ট্রীয়ব্যাধী হিসেবে অভিহিত করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ‘পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার’-এর (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন যে, দুর্নীতি নির্মূল করা না গেলে দেশে কেবল একটি ভালো সরকার গঠন করলেই কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হবে না। গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ’ (সিজিএস) আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক শাসন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ’ শীর্ষক নীতি সংলাপে তিনি আমলাতন্ত্রের সাধারণ মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার সংস্কৃতি ও জনবিমুখ রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে এই সংকটের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা প্রতিনিয়ত প্রশাসনিক বাধার মুখে পড়েন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি ও হয়রানির কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের একটি কাজের জন্য অসংখ্য দপ্তরে ঘুরতে হয় এবং নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয়। এসব দুর্নীতি ও হয়রানি বন্ধ করা না গেলে ভালো সরকার গঠন করলেও দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।’

সরকারি অর্থের ব্যবহারের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতার চরম অভাব নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে হোসেন জিল্লুর রহমান মিন্টো রোডে সচিবদের ফ্ল্যাট নির্মাণের উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, ‘রাজধানীর মিন্টো রোডে জনগণের টাকায় সচিবদের জন্য যে ফ্ল্যাটগুলো তৈরি করা হয়েছে, এসব ফ্ল্যাটের সুযোগ-সুবিধা বিলাসবহুল হোটেলকেও হার মানাবে। সচিবদের ফ্ল্যাট নির্মাণে জনগণের টাকা অপচয় করা হচ্ছে। অথচ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। সরকারি টাকা কোথায় এবং কেন খরচ হচ্ছে, তার কোনো সঠিক হিসাব নেই।’ তার মতে, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির সঠিক বাস্তবায়নের পরিবর্তে বিলাসবহুল প্রকল্পে অর্থ অপচয় করা হচ্ছে।

দেশের অর্থনীতির বর্তমান ভিত্তি হিসেবে পোশাকশিল্প ও প্রবাসীদের আয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি জানান যে, সস্তা শ্রমই এখন পর্যন্ত আমাদের প্রধান চালিকাশক্তি। তিনি মনে করেন যে, ‘দেশের অর্থনীতি বর্তমানে দুটি প্রধান স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। একটি পোশাকশিল্প, আরেকটি প্রবাসীদের পাঠানো আয়। এ দুই খাতেরই প্রধান শক্তি হলো আমাদের দেশের সস্তা শ্রম। তবে ভবিষ্যতের জন্য দেশের উন্নয়নের নতুন কোনো চালিকাশক্তি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না।’ তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রকল্পে স্বচ্ছতার অভাব এবং বেকারত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে এগোতে হলে উদ্ভাবনী ক্ষমতার ওপর নজর দিতে হবে।’ কাগজে-কলমে বিপুল খরচ হলেও বাস্তবে দক্ষতা বৃদ্ধির কোনো সঠিক হিসাব নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও কর্মসংস্থানের সংকট নিয়ে আলোকপাত করে তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগ ব্যবস্থা থমকে আছে এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য কর্মসংস্থান হলেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তা গুরুত্ব পাচ্ছে না।’ গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে তিনি জানান যে, দেশে দারিদ্র্য কমার বদলে উল্টো বাড়ছে। সংলাপে সিজিএস প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘একটি গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখার সূচনা হলেও সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে দেশ হোঁচট খাচ্ছে। দুর্নীতি একটি বহুমাত্রিক সমস্যা, অথচ বর্তমান সরকার টেকসই কোনো দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেনি।’ তিনি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ সীমিত হয়ে আসা এবং সাধারণ মানুষের উপেক্ষিত বোধ করার বিষয়টি তুলে ধরেন।

সুশাসনের প্রশ্নে র‍্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক এম আবু ইউসুফ অপারেশনাল বাজেট কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রশ্ন তোলেন যে, ‘একজন এমপি বা মন্ত্রীর কতটি গাড়ি প্রয়োজন, কেন তারা ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি পাবেন, কতজন স্টাফ রাখা যৌক্তিক—এসব প্রশ্ন তোলা দরকার।’ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পথে দেশের প্রস্তুতি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বক্তারা মন্তব্য করেন যে, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কার ছাড়া প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। ওই সংলাপে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহউপাচার্য সায়মা হক বিদিশা এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপনসহ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জামায়াতের সখ্য ‘ভয়ংকর অশনিসংকেত’: ফরহাদ মজহার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশিষ্ট কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার মন্তব্য করেছেন যে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত সম্পর্ক থাকা একটি ‘ভয়ংকর অশনিসংকেত’। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে দেশব্যাপী গ্যাস, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট মোকাবিলায় নাগরিক সমাজের করণীয় শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। ‘গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা মঞ্চ’ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি অভিযোগ তোলেন যে, গাজায় তথাকথিত ‘স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ পাঠানোর বিষয়ে জামায়াত কোনো আপত্তি উত্থাপন করেনি।

সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জামায়াতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সখ্যতা এবং ‘বন্ধুত্ব চায়’ এমন বার্তার প্রেক্ষাপটে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘বোঝা গেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জামায়াতের নীতির একটা সম্পর্ক রয়েছে। ফলে আগে থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই বক্তব্য দিচ্ছে।’ বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক আইনের কোনো কার্যকারিতা নেই উল্লেখ করে তিনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আচরণের উদাহরণ টানেন। তাঁর মতে, দেশের প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক দলই কোনো না কোনোভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত।

এমন এক পরিস্থিতিতে জাতীয় অস্তিত্ব ও জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ফরহাদ মজহার প্রশ্ন তোলেন, ‘১৭ কোটি মানুষকে নিয়ে আমরা কিভাবে টিকে থাকব? আমি যুদ্ধ চাই না, কারও যুদ্ধে জড়াতে চাই না। সাধারণভাবে ডাল-ভাত খেয়ে শান্তিতে বাঁচতে চাই।’ পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশে ভারতীয় আধিপত্যের সমালোচকদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন যে, অনেকেই ভারতের বিরোধিতা করলেও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে নীরব থাকেন। উক্ত আলোচনা সভায় রাজনৈতিক বিশ্লেষক মেজর (অব.) আহমেদ ফেরদৌস এবং কবি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোহাম্মদ রোমেল উপস্থিত ছিলেন।


ভারতে বসে হাসিনার বিবৃতি বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে না

আপডেটেড ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ০০:০৪
নিজস্ব প্রতিবেদক 

জুলাই বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। কিন্তু সেখানে বসেই বিভিন্ন সময়ে বিবৃতি দিয়ে আসছেন এই পলাতক রাজনীতিক। তার এমন কর্মকাণ্ড দিয়ে ভারত সরকারকে বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ। অন্তর্বর্তী সরকারে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন নয়াদিল্লির উদ্দেশে বলেছেন, ভারতে বসে শেখ হাসিনার বিবৃতি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার প্রত্যাশা করে না।

সম্প্রতি বিবিসি ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, দুই দেশের টানাপোড়েনসহ বিভিন্ন বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, কিছু ভুল বোঝাবুঝি বা অস্বস্তি থাকলেও ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক কারণে বাংলাদেশ-ভারত সুসম্পর্ক বজায় রাখা দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

জুলাই বিপ্লবে হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে টানাপড়েন সৃষ্টি হয়। সীমান্ত উত্তেজনা এবং পাল্টা কূটনীতিক তলবের ঘটনাও ঘটে। সবশেষ বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশন ও সহকারী হাইকমিশনগুলোতে দায়িত্বরত কূটনীতিক ও অন্য কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় নয়াদিল্লি।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বিবিসি ইন্ডিয়াকে সাক্ষাৎকার দিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। ১০ মিনিটের সাক্ষাৎকারে দিল্লিতে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, জাতীয় নির্বাচন, ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ভারত বসে শেখ হাসিনার কোনো ধরনের বিবৃতি প্রত্যাশা করে না বাংলাদেশ। বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন তৎপরতা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের জন্য ভালো কোনো উদাহরণ হবে না।

সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়নের প্রতিটি ঘটনায় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, ভারতের সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে বাংলাদেশ কখনোই কথা বলে না। বাংলাদেশের বিষয়েও ভারত সরকারেরও একই নীতি মেনে চলা উচিত।

হাসিনা সরকারের আমলে ইচ্ছে করে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করা হয়েছিল উল্লেখ করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, তারা একে-অপরকে শত্রু মনে করলেও দুই দেশের সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ।


সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে সেনাবাহিনী: সেনাপ্রধান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

জাতির প্রত্যাশিত অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে বলে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার জনাব মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে চট্টগ্রাম জেলার সার্বিক প্রস্তুতি ও চ্যালেঞ্জ ‘পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনে’ তুলে ধরেন। তিনি বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সেনাসদস্যদের দায়িত্ব পালনে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সেনাপ্রধান। একইসঙ্গে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার জন্য দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।

সভায় চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ ও পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও তিন পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ বিভাগীয়, জেলা প্রশাসনের এবং সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।


banner close