মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
২ আষাঢ় ১৪৩৩

এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রি ছাড়া কেউ ডাক্তার লিখতে পারবে না

ইউএনবি
প্রকাশিত
ইউএনবি
প্রকাশিত : ১২ মার্চ, ২০২৫ ১৫:৫৩

এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রি ছাড়া কেউ নামের আগে ডাক্তার পদবি লিখতে পারবেন না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার (১২ মার্চ) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি সাথিকা হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পৃথক দুটি রিটের শুনানি শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়। রায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রি ছাড়া আজ পর্যন্ত যারা ডাক্তার পদবি ব্যবহার করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
তবে বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) থেকে আইন ভঙ্গ করে ডাক্তার পদবি ব্যবহার করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
২০১০ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন হয়। ‘ডিএমএফ’ ডিগ্রিধারীদের (ডিপ্লোমাধারী হিসেবে নিবন্ধিত) ক্ষেত্রে আইনটির বৈষম্যমূলক প্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের তৎকালীন আহ্বায়ক শামসুল হুদাসহ অন্যরা ২০১৩ সালে একটি রিট করেন।
ওই আইনের ২৯ ধারার বৈধতা নিয়ে বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল অ্যাসোসিশনের সভাপতি ও সেক্রেটারি গত বছর অপর একটি রিট করেন।
বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইনের ২৯(১) ধারার ভাষ্য, এই আইনের অধীন নিবন্ধন করা কোনো মেডিকেল চিকিৎসক বা ডেন্টাল চিকিৎসক এমন কোনো নাম, পদবি, বিবরণ বা প্রতীক এমনভাবে ব্যবহার বা প্রকাশ করবেন না, যার ফলে তার কোনো অতিরিক্ত পেশাগত যোগ্যতা আছে বলে কেউ মনে করতে পারেন, যদি না তা কোনো স্বীকৃত মেডিকেল চিকিৎসা-শিক্ষা যোগ্যতা বা স্বীকৃত ডেন্টাল চিকিৎসা-শিক্ষা যোগ্যতা হয়ে থাকে।
ন্যূনতম এমবিবিএস অথবা বিডিএস ডিগ্রিপ্রাপ্তরা ছাড়া অন্য কেউ তাদের নামের আগে ডাক্তার পদবি ব্যবহার করতে পারবেন না। ২৯ (২) ধারার ভাষ্য, কোনো ব্যক্তি উপধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করলে তা হবে একটি অপরাধ এবং সেজন্য তিনি ৩ (তিন) বছর কারাদণ্ড বা ১ (এক) লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং ওই অপরাধ অব্যাহত থাকলে প্রতিবার এর পুনরাবৃত্তির জন্য অন্যূন ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে, বর্ণিত দণ্ডের অতিরিক্ত হিসাবে, দণ্ডনীয় হবেন।
প্রথম রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৩ সালের ১১ মার্চ হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। দ্বিতীয় রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ২৫ নভেম্বর হাইকোর্ট রুল দেন। রুলে আইনের ২৯ ধারা কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। রুলের ওপর একসঙ্গে শুনানি হয়।
আদালতে রিটের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন শুনানি করেন। এছাড়া প্রথম রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. সাইদুর রহমান।
রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ এম সাইফুল করিম শুনানি করেন। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের পক্ষে আইনজীবী কাজী এরশাদুল আলম শুনানি করেন।


নির্বাচিত

রাষ্ট্র এখন আর গণমাধ্যমকে চোখ রাঙায় না: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, অতীতের মতো রাষ্ট্র এখন আর গণমাধ্যমকে চোখ রাঙায় না বরং যেকোনো সমস্যা সমাধানে সহযোগী হতে চায়। এটাই ফ্যাসিবাদের সঙ্গে পার্থক্য। মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ৫১ বছর পর সংবাদপত্রের কালো দিবসের সালতামামি করলে দেখা যায়, অতীত ও বর্তমানের সংকট এক নয়। বর্তমানে সংবাদপত্রের কালো দিবস, গণমাধ্যমের সংকট ও সাংবাদিকতা পেশার কালো পরিবেশ একসূত্রে গাঁথা হয়ে গেছে। রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ না থাকলেও সাংবাদিকতা পেশায় প্রত্যাশিত সম্মান, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও পেশাগত তৃপ্তি অনুপস্থিত।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা, আর্থিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা– এই তিন বিষয় নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। এই তিন বিষয়কে সমন্বিতভাবে সমাধানের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এ উদ্দেশে ১৮ জুন জাতীয় কর্মপরিকল্পনার (ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান) খসড়া প্রণয়নের জন্য মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যমের পাশাপাশি সিটিজেন জার্নালিজমের বাস্তবতাকে অস্বীকার করা যাবে না, আবার নিয়ন্ত্রণ করাও সম্ভব নয়। অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে এ খাতকে একটি কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, যেসব গণমাধ্যম নিজেদের শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে দাবি করবে, তাদের অবশ্যই প্রচলিত আইন মেনে কর্মীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকে কেবল মুনাফাভিত্তিক শিল্প নয়, জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

সভায় ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, জাতীয় প্রেস ক্লাব এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

মেধা বিকাশে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার, নেতিবাচক প্রচারণা চলবে না: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষার্থীদের বহুমাত্রিক মেধা বিকাশে সরকার নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, মেধা বিকাশের এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা বা নেতিবাচক প্রচারণা গ্রহণ করা হবে না। আগামী প্রজন্মকে দক্ষ, সৃজনশীল ও আত্মবিশ্বাসী নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, যে শিক্ষার্থী সংগীতে ভালো, সে যেন বিদ্যালয় থেকেই উন্নত প্রশিক্ষণ পায়। যে বিতর্কে দক্ষ, সে যেন বিশ্বমানের বিতার্কিক হওয়ার সুযোগ পায়। আবার যে ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস, ব্যাডমিন্টন কিংবা হাডুডু খেলতে চায়, সে যেন আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় হওয়ার পথ খুঁজে পায়। এ লক্ষ্যেই সরকার স্কুলভিত্তিক প্রতিভা বিকাশ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং গান, নৃত্য, আবৃত্তি, বিতর্ক, বিজ্ঞান, গণিত, খেলাধুলা ও অন্যান্য সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পাবে।

অনুষ্ঠান শেষে প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পিইডিপি-৪) মোহাম্মদ আতিকুর রহমানসহ অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকেরা।


নির্বাচিত

ক্রেতাদের স্বস্তি ফেরাতে মাঠে সরকার, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং আদা, রসুন ও পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে পোলাওয়ের চালের দাম কিছুটা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মহাখালী কাঁচাবাজার ও মোহাম্মদপুর টাউন হল কাঁচাবাজার পরিদর্শন শেষে এ তথ্য জানান বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।

বাজার পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রী পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে পণ্যের সরবরাহ ও বিপণন পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। একই সঙ্গে বাজারে উপস্থিত ক্রেতাদের কাছ থেকেও মূল্য পরিস্থিতি সম্পর্কে মতামত নেন।

তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমানের নির্দেশনায় সরকার নিয়মিত বাজার তদারকি করছে। এর অংশ হিসেবে সোমবার কারওয়ান বাজার এবং মঙ্গলবার মহাখালী ও মোহাম্মদপুরের বাজার পরিদর্শন করা হয়েছে। এসব বাজারে ক্রেতাদের মধ্যে সন্তুষ্টির চিত্র দেখা গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শরীফুল আলম বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের লাভ করার সুযোগ থাকতে হবে, তবে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যাবে না। ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।’

তিনি জানান, বর্তমানে অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। ব্যবসায়ীরাও জানিয়েছেন, বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে আদা, রসুন ও পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে।

বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি দোকানে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্য তালিকা টানিয়ে রাখার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।

এ সময় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মণ্ডল উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত বাজার তদারকি এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সচল থাকলে নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।


নির্বাচিত

দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য: স্পিকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিরোধী দলসহ গণমানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করে গণতান্ত্রিক ধারা অব‌্যাহত রাখা এবং দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করাই বর্তমান বিএনপি সরকারের মূল লক্ষ‌্য বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন‌্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) বাংলাদেশের আবাসিক প্রোগ্রাম ডিরেক্টর জন ফ্লুহার্টির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ কথা জানান স্পিকার। জাতীয় সংসদে স্পিকারের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বিকালে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সাক্ষাৎকালে সরকার ও বিরোধী দল আলোচনা করে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে ঐকমত‌্যে পৌঁছাবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব‌্যক্ত করেন স্পিকার। আইআরআইয়ের রেসিডেন্ট প্রোগ্রাম ডিরেক্টরকে তিনি বলেছেন, ইতোমধ‌্যে জ্বালানি সংকটসহ জাতীয় ইস‌্যুগুলোতে বিরোধী দল আন্তরিকভাবে সংকট উত্তরণে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। যা অত‌্যন্ত আশাব‌্যঞ্জক। বর্তমান সরকার বিরোধী দলের সঙ্গে সকল বিষয়ে আলোচনা করে সার্বিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন স্পিকার।

বিগত আওয়ামী শাসনামলে বাংলাদেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের প্রসঙ্গ তুলে এ অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে মার্কিন সহযোগিতা কামনা করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন। শেখ হাসিনার দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনামলের নিপীড়নের উদাহারণ দিতে গিয়ে স্পিকার বললেন, আয়নাঘর, গুম-খুন ও বিরোধী মতের দমন-পীড়ন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা সম্পূর্ণভাবে রুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল।

সাক্ষাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস‌্যদের প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ‌্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আইআরআইয়ের সহযোগিতার প্রস্তাব দেন জন ফ্লুহার্টি।

নবনির্বাচিত সংসদ সদস‌্যদের ধীরে ধীরে সংসদের কার্যপ্রণালীসমূহ আয়ত্তে আনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে স্পিকার বললেন, ইতোমধ‌্যে ইউএনডিপি সংসদ সদস‌্যদের জন‌্য অরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের আয়োজন করে বিশেষজ্ঞগণের মাধ‌্যমে সংসদ সদস‌্যগণের দায়িত্ব ও কর্তব‌্য বিষয়ে হাতে-কলমে ধারণা দিয়েছে।

সাক্ষাতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এ প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশে পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা স্পিকারকে জানান জন ফ্লুহার্টি।

বৈঠকে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব‌্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া ও ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের কনসালট‌্যান্ট অমিতাভ ঘোষ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান পদে আফরোজা আব্বাস নিযুক্ত

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় মহিলা সংস্থার নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা এক অফিসিয়াল প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম রব্বানীর সই করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ‘জাতীয় মহিলা সংস্থা আইন, ১৯৯১’ এর ধারা-৮(১) এবং ধারা-৮(২) এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আফরোজা আব্বাসকে তাঁর যোগদানের তারিখ থেকে জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান পদে এই নিয়োগ প্রদান করা হলো।

সরকারি এই প্রজ্ঞাপনে আফরোজা আব্বাসের নিয়োগের ক্ষেত্রে দুটি প্রধান শর্তের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রথম শর্ত অনুযায়ী, দায়িত্বে যোগদানের তারিখ হতে চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর কার্যকাল পরবর্তী দুই বছরের জন্য বলবৎ থাকবে। তবে এই মেয়াদ সমাপ্ত হওয়ার পূর্বে সরকার চাইলে যেকোনো সময় এই নিয়োগ বাতিল করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করবে এবং একইভাবে তিনি নিজেও সরকারের উদ্দেশে স্বহস্তে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে যেকোনো সময় স্বীয় পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারবেন।

প্রজ্ঞাপনের দ্বিতীয় শর্তে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জাতীয় মহিলা সংস্থার শীর্ষ পদে তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগটি সম্পূর্ণ অবৈতনিক বা বিনা বেতনে হবে।


নির্বাচিত

একনেক সভায় ৭০০৩ কোটি টাকার ৫ প্রকল্প অনুমোদন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মঙ্গলবার (১৬ জুন) অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৭ হাজার ৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সচিবালয়ে আয়োজিত এই সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর জন্য সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৪ হাজার ৫৩৬ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ সহায়তা হিসেবে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে তিনটি একেবারেই নতুন এবং বাকি দুটি সংশোধিত। উল্লেখযোগ্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে ‘সাপোর্টিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট ফর চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’। এই প্রকল্পের মাধ্যমে চিনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এছাড়া পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফেনীর মুহুরি-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন, করতোয়া নদী সিস্টেমের উন্নয়ন এবং পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে কুষ্টিয়ার মিরপুর ও কুমারখালী উপজেলা রক্ষার সংশোধিত প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা খাতের উন্নয়নে ‘১০০টি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন’ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনীও এই সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদসহ মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্য এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা। নদী রক্ষা, কারিগরি শিক্ষা ও শিল্পায়নের লক্ষ্যে গৃহিত এই প্রকল্পগুলো দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে ভারত সফর প্রত্যাখ্যান করেছি: জাহেদ উর রহমান

সংগৃহীত ছবি
আপডেটেড ১৬ জুন, ২০২৬ ১৩:০২
নিজস্ব প্রতিবেদক

দিল্লি বিমানবন্দরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষমাণ রাখা এবং অসহযোগিতামূলক আচরণের প্রতিবাদ হিসেবে ভারত সফর বাতিল করে দেশে ফিরেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘দিল্লি বিমানবন্দরে দুই ঘণ্টা বসিয়ে রাখার প্রতিবাদ হিসেবে ভারতে প্রবেশ না করে দেশে ফিরেছি।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও সতর্ক হওয়া হবে, তবে এটি দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

গত রোববার ভারত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট (আইওআরএ)-এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দুই দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিতে দিল্লি গিয়েছিলেন এই উপদেষ্টা। নিয়ম অনুযায়ী তার সফরের বিষয়টি অন্তত দুই দিন আগেই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছিল বাংলাদেশ সরকার। তা সত্ত্বেও দিল্লি ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা আটকে রাখা হয় এবং শুরুতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপের পর প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও, এই অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।


নির্বাচিত

অমিত শাহের সঙ্গে মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ নিয়ে বিতর্কের ব্যাখ্যা দিল বিজিবি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অতিসম্প্রতি পরিলক্ষিত হচ্ছে যে সদ্য সমাপ্ত ৫৭তম বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন সম্পর্কে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যক্তিবর্গ এবং দু-একটি সংবাদমাধ্যম বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন এবং এমন কিছু তথ্য, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য উপস্থাপন করছেন, যা অনুমাননির্ভর এবং প্রতিষ্ঠিত কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে অসম্পূর্ণ ধারণার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। সঠিক তথ্য উপস্থাপনের লক্ষ্যে বিষয়গুলো স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে বিজিবি'র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ভূমি জরিপ অধিদপ্তর, যৌথ নদী কমিশন এবং অন্যান্য সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ প্রতিনিধিত্ব করেন।

মহাপরিচালক পর্যায়ের এই সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৩১টি এবং ভারতের পক্ষ থেকে ২১টি এজেন্ডা উপস্থাপন করা হয়। এখানে উল্লেখ্য যে, উক্ত এজেন্ডাসমূহের ওপর অনুষ্ঠিত আলোচনার ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের প্রামানিক/অথেন্টিক দলিল হলো “জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশনস (JRD)”, যা বিজিবি ও বিএসএফ-এর মহাপরিচালকদ্বয় কর্তৃক স্বাক্ষরিত হয়।

সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালকের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন ইস্যুকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করে। বিশেষ করে সীমান্তে নিরীহ ও নিরস্ত্র বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশনস (জেআরডি)-এ যথাযথভাবে প্রতিফলিত ও লিপিবদ্ধ হয়েছে। এছাড়াও পুশ-ইন, সীমান্ত হত্যা, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে অবৈধ অবকাঠামো নির্মাণ, মাদক চোরাচালান, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং পার্বত্য অঞ্চলের সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রমসহ বাংলাদেশের সকল উদ্বেগ গুলো শুধু আলোচিতই হয়নি, আনুষ্ঠানিকভাবে জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশনে নথিবদ্ধও হয়েছে। সম্মেলনের এই আনুষ্ঠানিক দলিল পর্যালোচনা করলে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, এতে বিজিবির পক্ষ থেকে উত্থাপিত সকল উদ্বেগ ও অবস্থান সম্পূর্ণ দৃঢ়তার সঙ্গে, স্পষ্টভাবে এবং কোনো ধরনের আপস বা নমনীয়তা ব্যতীত যথাযথভাবে প্রতিফলিত ও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ১২ জুন ২০২৬ তারিখে বিজিবি কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি উক্ত জয়েন্ট রেকর্ড অফ ডিসকাশসনের ওপর ভিত্তি করেই তৈরি করা হয়েছে।

উদ্দেশ্য প্রণোদিত কিছু ব্যক্তি এবং দু-একটি সংবাদমাধ্যম ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিজিবি মহাপরিচালকের সাক্ষাৎকে “গোপন বৈঠক” হিসেবে উপস্থাপনের যে চেষ্টা করেছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। পূর্বে অনুষ্ঠিত প্রতিটি সীমান্ত সম্মেলনেই আয়োজক দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টার সঙ্গে অংশগ্রহণকারী বাহিনীর প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ একটি প্রতিষ্ঠিত প্রচলন ও অনুসৃত প্রথা। এখানে উল্লেখ্য যে, ঢাকায় অনুষ্ঠিত ৫৬তম সীমান্ত সম্মেলনে ডিজি বিএসএফ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে একই ধরনের সাক্ষাৎ করেছিলেন। এবারও মহাপরিচালকের সাথে বিজিবির অন্য শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তা ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাথে সাক্ষাৎ করেন যা ভারতে গমনের পূর্বেই পূর্বনির্ধারিত এবং অনুমোদিত ছিল যেখানে সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান মহাপরিচালক বিজিবি দৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করেন। আয়োজক দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ একটি স্বাভাবিক কূটনৈতিক রীতি -এটিকে রহস্যময় করে উপস্থাপন করা বাস্তবতা বিবর্জিত।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে জনগনকে সাথে নিয়ে সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন, কাঁটাতার স্থাপন, মাদক ও মানবপাচার প্রতিহত করা, মায়ানমার সীমান্তের অস্থিতিশীলতা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিজিবি মহাপরিচালকের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় দৃঢ় অবস্থান নিয়ে বিজিবি যখন জনমনে আস্থা ফিরিয়ে এনেছে, তখন বিভ্রান্তিমূলক ও অসত্য তথ্য প্রচার এবং বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বকে প্রমাণহীন ব্যক্তিগত আক্রমণের মাধ্যমে হেয় করার প্রচেষ্টা বাহিনীর মনোবল ভাঙার অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়।

সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, মাদক চোরাচালান এবং সীমান্ত নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা জাতীয় স্বার্থের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মতামত ও বিশ্লেষণের অবকাশ অবশ্যই আছে - তবে তা যাচাইকৃত তথ্য, প্রামাণিক নথি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্যের ভিত্তিতে হতে হবে।

বিজিবি বর্তমানের মত ভবিষ্যতেও পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধের সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে তার কার্যক্রম পরিচালনা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও বদ্ধপরিকর।


নির্বাচিত

ইউনূস সরকারের ‘কালো অধ্যায়’ পেরিয়ে ট্রিলিয়ন ডলারের অভিযাত্রা

# দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রায় যুগান্তকারী মহাপরিকল্পনা # সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা প্রথম বছরের চ্যালেঞ্জ # লক্ষ্য ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে জিডিপি ৮.৫ শতাংশে উন্নীত করা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

একটি দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো তার বেসরকারি খাত, যার পিঠে ভর করে গড়ে ওঠে কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধির মজবুত ভিত্তি। কিন্তু ড. মুহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে আইনি সংস্কারের নামে নেওয়া কয়েকটি সিদ্ধান্ত ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নজিরবিহীন স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল। তবে বিচারহীনভাবে সম্পদ অবরুদ্ধকরণ এবং উদ্যোক্তাদের হাত-পা বেঁধে ফেলার সেই ‘অন্ধকার অধ্যায়’ পেরিয়ে অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করেছে দেশের আর্থিক খাত।
সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তনের পরে ইউনূস আমলের বিতর্কিত আইনি ধারাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে গেছে। এই পটভূমিতে দাঁড়িয়ে, দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করার দূরদর্শী লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে সরকার। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ‘থ্রি-আর’ কৌশল দেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসের এক নতুন বাঁক বদলের সূচনা করতে যাচ্ছে।
সরকারের লক্ষ্য, এই দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৮.৫ শতাংশে উন্নীত করা। ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে এই ৫ বছরেই বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সমৃদ্ধ অর্থনীতির চূড়ায় পৌঁছাতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ‘দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন-২০০৪’-এর যে সংশোধনী আনা হয়েছিল, আইন বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদরা তাকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম ‘নিকৃষ্ট কালো আইন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বলা আছে, আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার প্রতিটি নাগরিকের অবিচ্ছেদ্য অধিকার। আদালতের মাধ্যমে দোষী প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী বিবেচনা করা আইনের শাসনের পরিপন্থি। অথচ, সংশোধিত আইনে ‘আন্ডার কাভার’ তদন্তের নামে কোনো রকম বিচার বা চার্জশিট ছাড়াই যেকোনো নাগরিক বা ব্যবসায়ীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তাৎক্ষণিক জব্দ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়।
স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের মাধ্যমে ব্যবসা বন্ধ করার অবাধ সুযোগ তৈরি করা হয়।
সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদ (অবাধ চলাফেরা ও দেশত্যাগের মৌলিক অধিকার) এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ঐতিহাসিক রায় (দুদক বনাম জি বি হোসেন মামলা, ৭৪ ডিএলআর)—যেখানে বলা হয়েছিল শুধু মামলার অজুহাতে বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়া যাবে না—তা পুরোপুরি অমান্য করা হয়।
অর্থনীতির ওপর নেমে আসা আঘাতের খতিয়ান: ৫৫,০০০ কোটি টাকার সম্পদ অবরুদ্ধ: দেশের প্রায় দেড় হাজার শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী, শিল্পপতি ও সাধারণ পেশাজীবীর ব্যাংক হিসাব এবং সম্পত্তি আকস্মিকভাবে ফ্রিজ বা ক্রোক করা হয়।
১,০০০ উদ্যোক্তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা: বিশ্বায়নের এই যুগে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য যেখানে প্রতিনিয়ত বিদেশে যোগাযোগ করতে হয়, সেখানে এক হাজারেরও বেশি শিল্পপতির ওপর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় বহু চলমান বৈদেশিক চুক্তি বাতিল হয়ে যায়।
উৎপাদন বন্ধ ও লাখো মানুষের বেকারত্ব: পুঁজি ও মালিকের অনুপস্থিতিতে শত শত কলকারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নতুন বিনিয়োগ তো দূরস্থ, উল্টো সচল থাকা কয়েক লাখ মানুষ চাকরি হারিয়ে চরম বেকারত্বের মুখে পড়েন।
ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের ঐতিহাসিক বিস্ফোরণ: যাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে, তারা চাইলেও ব্যাংকের নিয়মিত কিস্তি ও ঋণ পরিশোধ করতে পারেননি। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের ব্যাংকিং খাতে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে দেশের ৬১টি তফসিলি ব্যাংকের মধ্যে ৪৪টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ একযোগে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে এর আগে কখনো ঘটেনি।
কেবল দুর্বল ব্যাংকই নয়; দেশের প্রথম সারির ও সুশাসিত আর্থিক সূচকে থাকা সিটি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, উত্তরা ব্যাংক এবং বিদেশি মালিকানাধীন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকেরও খেলাপি ঋণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।
দুর্নীতি দমন ও অর্থ পাচার রোধে বৈশ্বিক আইনি কাঠামো কঠোর হলেও, পৃথিবীর কোনো গণতান্ত্রিক বা আধুনিক অর্থব্যবস্থায় আদালতের রায় ছাড়া ঢালাওভাবে ব্যবসা বন্ধের নজির নেই।
ঘুরে দাঁড়ানোর মহাপরিকল্পনা—সরকারের ‘থ্রি-আর’ কৌশল: বিগত দেড় বছরের আইনি ও নীতিগত ঝড়ঝাপটা কাটিয়ে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে এখন নতুন করে সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। সব প্রতিকূলতার মধ্যেও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক তথ্য জানাচ্ছে, দেশের অর্থনীতি তার সহজাত স্থিতিস্থাপকতার প্রমাণ দিয়ে বিদায়ী অর্থবছরে ৪.১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এই ইতিবাচক ধারাকে ত্বরান্বিত করতে এবং দেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রায় নিয়ে যেতে এক যুগান্তকারী মহাপরিকল্পনা সাজিয়েছে নতুন সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিন ধাপের একটি বিশেষ অর্থনৈতিক রূপরেখা উন্মোচন করতে যাচ্ছেন, যা সংক্ষেপে ‘থ্রি-আর’ (Three-R) কৌশল নামে অভিহিত।
এই ‘থ্রি-আর’ কৌশলটি মূলত স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি—এই তিন স্তরের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।
কৌশলের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি হলো ‘রিকভারি’ বা অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার। বিগত আমলের বিতর্কিত আইনি গ্যাঁড়াকল ও ঢালাও ব্যাংক হিসাব জব্দের কারণে বেসরকারি খাতে যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, আগামী ১২ মাসের মধ্যে তা সম্পূর্ণ দূর করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে এই ধাপে। এর আওতায় সরকার অনতিবিলম্বে ব্যবসায়ীদের অবরুদ্ধ অ্যাকাউন্ট ও সম্পত্তি সচল করার প্রক্রিয়া দ্রুততর করবে, যাতে বাজারে বন্ধ হয়ে যাওয়া তারল্য প্রবাহ আবার স্বাভাবিক হয়।
একই সাথে, ব্যাংকিং খাতের চলমান অস্থিরতা কাটানো এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে সাধারণ মানুষের স্বস্তি ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে সামষ্টিক অর্থনীতিতে একটি শক্ত ‘স্ট্যাবিলাইজেশন’ বা স্থিতিশীলতা আনয়নই হবে এই প্রথম বছরের মূল চ্যালেঞ্জ।
প্রথম ধাপে স্থিতিশীলতা আসার পর, দ্বিতীয় ধাপে গুরুত্ব দেওয়া হবে ‘রিস্টোরেশন’ বা অর্থনীতির স্বাভাবিক কাঠামো ও গতি ফিরিয়ে আনার ওপর। বর্তমান সরকারের প্রথম তিন বছরের মধ্যে এই ধাপের কাজ সম্পন্ন করা হবে। এর মূল লক্ষ্য হবে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়ানো এবং বিগত দেড় বছরে আতঙ্কিত হয়ে যেসব দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তা ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছিলেন, তাদের পুনরায় বিনিয়োগে ফিরিয়ে আনা।
এই তিন বছরের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় চালু করার জন্য বিশেষ নীতিগত সুবিধা ও আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হবে, যার সরাসরি সুফল হিসেবে দেশের বাজারে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং সংকুচিত হয়ে পড়া শ্রমবাজার আবার প্রাণ ফিরে পাবে।
‘থ্রি-আর’ কৌশলের চূড়ান্ত ও সবচেয়ে দূরদর্শী ধাপ হলো ‘রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাক্সিলারেশন’ বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি বাড়াতে কাঠামোগত পুনর্গঠন। পাঁচ বছর মেয়াদি এই মহাপরিকল্পনাটি ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। এই ধাপে দেশের সনাতন অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে আধুনিক, ডিজিটাল ও উৎপাদনমুখী করে গড়ে তোলা হবে।


নির্বাচিত

সম্পূরক বাজেটে ব্যয় কমিয়ে ৭.৮৮ লাখ কোটি টাকার প্রস্তাব, ঘাটতি ২ লাখ কোটি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত ও সম্পূরক বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রস্তাবিত সংশোধিত বাজেটে সরকারের মোট ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩.৩ শতাংশ। সোমবার (ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সপ্তম দিনে অর্থমন্ত্রী সংশোধিত ও সম্পূরক বাজেট উত্থাপন করেছেন।

বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে সরকারের নিট ব্যয় ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছিল। তবে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন কিছুটা মন্থর হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে মোট ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গঠনের পর বৈশ্বিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক দুর্বলতা কাটিয়ে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে সরকারি ব্যয়ে অপচয় রোধ, অগ্রাধিকারহীন খাতে ব্যয় সংকোচন এবং প্রশাসনিক মিতব্যয়িতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয়ের পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম, পুরোহিত ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী দেওয়ার মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

এসব কর্মসূচির ব্যয় মেটাতেই সম্পূরক বাজেটে ব্যয় ও ঘাটতির সমন্বয় করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাজেট উপস্থাপনের পর স্পিকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দায়যুক্ত ব্যয় ব্যতীত অন্যান্য ব্যয়ের মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করেন। তিনি বলেন, সংবিধানের ৮৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দায়যুক্ত ব্যয় সংসদে আলোচিত হলেও তা ভোটের আওতাভুক্ত নয়।

স্পিকার জানান, সম্পূরক বাজেটে মোট ২৫টি মঞ্জুরি দাবি রয়েছে। এসব দাবির বিপরীতে বিরোধী দলের ২০ জন সংসদ সদস্য ৩০৪টি ছাঁটাই প্রস্তাবের নোটিশ দিয়েছেন।

সময় বিবেচনায় অর্থ বিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) আটটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ওপর উত্থাপিত ছাঁটাই প্রস্তাব আলোচনা করা হবে। বাকি দাবিগুলো সরাসরি ভোটে নিষ্পন্ন করা হবে।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা: ঢাকার বুক থেকে সরছে ৪ বাস টার্মিনাল

আপডেটেড ১৫ জুন, ২০২৬ ২৩:২০
নিজস্ব প্রতিবেদক
    # যানজটমুক্ত তিলোত্তমা নগরীর নতুন রোডম্যাপ

দীর্ঘদিনের তীব্র যানজট, হর্ন আর বিশৃঙ্খলার অভিশাপ থেকে রাজধানী ঢাকাকে মুক্ত করতে এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। ঢাকার প্রবেশপথ এবং অভ্যন্তরের ট্রাফিক জটলা চিরতরে দূর করার লক্ষ্যে সায়দাবাদ, গুলিস্তান এবং মহাখালী বাস টার্মিনাল রাজধানীর ভেতর থেকে সরিয়ে ঢাকার বাইরে বা উপযুক্ত প্রান্তিক (আউটার) স্থানে পর্যায়ক্রমে স্থানান্তরের কঠোর ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে ‘যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন’ বিষয়ক তৃতীয় দফার এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দেশের সার্বিক ট্রাফিক ব্যবস্থার আমূল সংস্কার এবং নগর পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিয়ে অত্যন্ত সুক্ষ্ম ও বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে ঢাকা মহানগরের দুই প্রশাসক সাংবাদিকদের এই মেগা পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেন।

যানজটের ‘রুট কজ’ বা মূল উৎস দূর করার উদ্যোগ: ঢাকা আজ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এবং ধীরগতির শহর হিসেবে পরিচিত। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো শহরের ভৌগোলিক বিন্যাস ও অপরিকল্পিত পরিবহন ব্যবস্থা। রাজধানীর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত সায়দাবাদ, গুলিস্তান এবং মহাখালী বাস টার্মিনাল দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকার অভ্যন্তরীণ যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে।

প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার দূরপাল্লার বাস এই টার্মিনালগুলোতে প্রবেশ করে এবং বের হয়। ফলে সায়েদাবাদ দিয়ে যাত্রাবাড়ী-চিটাগাং রোড, মহাখালী দিয়ে টঙ্গী-উত্তরা রুট এবং গুলিস্তানের কারণে পুরান ঢাকা ও মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের ওপর সার্বক্ষণিক যানজট লেগেই থাকে। এই সংকটের কারণে প্রতিদিন লাখ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশের অর্থনীতিতে। এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট দূর করতে নগরীর ভেতর থেকে এসব টার্মিনাল পর্যায়ক্রমে সরিয়ে ঢাকার বাইরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও দ্রুত উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

নীতি-নির্ধারণী সভায় শীর্ষ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি: প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এই নীতি-নির্ধারণী সভায় সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারক ও অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম নিজেদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন রূপরেখা তুলে ধরেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, ডিএমপি কমিশনার, রাজউক, বিআরটিএ, বিআরটিসি এবং সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, ঢাকাকে বাসযোগ্য

করতে হলে শহরের ভেতর দূরপাল্লার বাসের প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

সম্ভাব্য বিকল্প স্থানসমূহ: সংশ্লিষ্ট সূত্র ও নগর পরিকল্পনাবিদদের পূর্ববর্তী সমীক্ষা অনুযায়ী, টার্মিনালগুলো এক দিনে সরানো সম্ভব নয়। তাই পর্যায়ক্রমে ঢাকার বাইরে চারপাশের উপযুক্ত প্রান্তিক স্থানগুলোতে এগুলোকে পুনর্বাসন করা হবে। সম্ভাব্য বিকল্প স্থানগুলোর তালিকায় রয়েছে:

কাঁচপুর উত্তর ও দক্ষিণ: সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের বাসগুলোর জন্য। কেরানীগঞ্জ (বাউরিয়া): খুলনা ও বরিশালসহ দক্ষিণবঙ্গের বাসগুলোর জন্য।

সাভার (হেমায়েতপুর বা আমিনবাজার): রাজশাহী ও রংপুরসহ উত্তরবঙ্গের বাসগুলোর জন্য।

গাজীপুর বা বাউলিয়াসংলগ্ন এলাকা: ময়মনসিংহ বিভাগের বাসগুলোর জন্য।

এই প্রান্তিক টার্মিনালগুলো নির্মিত হলে দূরপাল্লার বাসগুলো ঢাকার মূল সীমানার বাইরে থেকেই তাদের যাত্রী নামিয়ে আবার চলে যেতে পারবে। ফলে শহরের ভেতরের রাস্তায় বাসের অতিরিক্ত চাপ প্রায় ৮০ শতাংশ কমে যাবে।

বাস্তবায়নের মূল চ্যালেঞ্জসমূহ: জমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামো নির্মাণ: ঢাকার বাইরে বিশাল আকৃতির আধুনিক টার্মিনাল তৈরির জন্য বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করা এবং সেখানে আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা একটি দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া।

পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সমন্বয়: পরিবহন সেক্টরের শক্তিশালী সিন্ডিকেট এবং শ্রমিক ইউনিয়নগুলোকে এই সিদ্ধান্তের পক্ষে আনা এবং তাদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করা একটি বড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ।

কানেক্টিভিটি বা লিংক ট্রান্সপোর্ট: দূরপাল্লার যাত্রীরা যখন ঢাকার বাইরে নামবেন, তখন তারা কীভাবে সহজে এবং কম খরচে শহরের ভেতরে ঢুকবেন, সেই সুব্যবস্থা করা।

নগর পরিকল্পনাবিদ এবং বুয়েটের বিশেষজ্ঞরা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, শুধু টার্মিনাল সরালেই ঢাকার যানজট কমবে না, যদি না এর সাথে সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়।

তারা বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত ঢাকার ট্রাফিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করতে পারে। তবে প্রান্তিক টার্মিনালগুলোর সাথে শহরের মূল অংশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে দ্রুত ও সহজলভ্য করতে হবে। দূরপাল্লার যাত্রীদের শহরের ভেতর নিয়ে আসার জন্য এই আউটার টার্মিনালগুলোর সাথে মেট্রোরেল, বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট অথবা বিশেষ চক্রাকার বাস সার্ভিসের সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

একই সাথে ঢাকার অভ্যন্তরীণ বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে শহরের ভেতরের লোকাল বাসগুলোর ফিটনেস ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

নতুন আশার আলো: রাজধানীবাসীর বহু বছরের পুরনো এবং যৌক্তিক দাবি ছিল আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালগুলো শহরের বাইরে নিয়ে যাওয়া। অবশেষে সরকারের এই কঠোর ও দূরদর্শী নির্দেশনা সেই দাবি বাস্তবায়নের পথ সুগম করল। এই মহাপরিকল্পনা যদি দ্রুত, দুর্নীতিমুক্ত এবং সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়, তবে ঢাকাবাসী আগামীতে একটি আন্তর্জাতিক মানের যানজটমুক্ত, দূষণমুক্ত এবং আধুনিক তিলোত্তমা নগরী উপহার পাবে—এমনটাই এখন টেকসই উন্নয়নের মূল প্রত্যাশা।


নির্বাচিত

সরকারিভাবে নতুন পাটকল স্থাপন নয় সব যাবে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়: সংসদে পাটমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে সরকারি উদ্যোগে নতুন কোনো পাটকল স্থাপনের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, এ খাতে সরকারি নীতি সহায়তা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

সোমবার জাতীয় সংসদে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান মন্ত্রী। এদিন বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া সংসদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

পাটমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) আওতাধীন ২৫টি মিলের মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৯টি মিল চালু আছে। সরকারঘোষিত ৩১ দফার আলোকে বাকি মিলগুলোও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ডিসেম্বরের মধ্যে চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করছি।

সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল লিখিত প্রশ্নে জানতে চান, সোনালি আঁশ পাট শিল্পের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি ও বন্ধ পাটকল চালুসহ নতুন পাটকল স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আছে কিনা?

জবাবে মন্ত্রী বলেন, সোনালি আঁশ পাটশিল্পের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য পাটের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ‘উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটি আগামী ৩০ জুন শেষ হবে। পরবর্তীতে একই ধরনের কার্যক্রম নিয়ে নতুন প্রকল্প রাজস্ব বাজেটের আওতায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

বিজেএমসির আওতাধীন ২৫টি মিলের মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৯টি মিল চালু আছে। ২০২০ সালের ১ জুলাইয়ের সরকারি সিদ্ধান্তে বিজেএমসির আওতাধীন ২৫টি মিলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং ২০টি মিলবে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ইজারা ভিত্তিতে পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে এরই মধ্যে ১৪টি মিলের ইজারা সম্পাদন করা হয়েছে, যার মধ্যে ৯টি মিল চালু করা হয়েছে।

অবশিষ্ট ৬টি মিল ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে, যার মধ্যে ৩টি মিলের বিপরীতে চূড়ান্ত প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে, একটি মিলের বিপরীতে দাখিল করা এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট (আগ্রহপত্র) প্রস্তাব মূল্যায়নের কাজ চলছে, ১টি মিলের জন্য আগ্রহপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং ১টি মিলের ইজারা কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। আর বাকি মিলগুলোও সরকার ঘোষিত ৩১ দফার আলোকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।

মন্ত্রী বলেন, ইজারা বহির্ভূত ৫টি মিলের মধ্যে সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত হওয়ায় ৩টি মিল এবং মামলাজনিত কারণে ২টি মিল লিজের বাইরে রাখা হয়েছিল। এই অবস্থায় সরকারিভাবে দেশে নতুন কোনও পাটকল স্থাপনের পরিকল্পনা নেই বরং সরকারি নীতি সহায়তা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে এই সেক্টরে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করাই সরকারের লক্ষ্য।


নির্বাচিত

বড়দিনের আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই পৌঁছে দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, খ্রিষ্টধর্মের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিনের আগেই শিক্ষার্থীরা ২০২৭ সালের পাঠ্যবই হাতে পাবে। সোমবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজের মাঠে আয়োজিত প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আশা করছি, এই বছরে ডিসেম্বর অর্থাৎ বড়দিনের আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে তাদের বই পৌঁছে দেব। বইগুলি পরিমার্জিত বই এবং বইগুলোর কারিকুলাম অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে। ২০২৮ সালে আমরা নতুন কারিকুলাম নিয়ে নতুন সিলেবাস নিয়ে আমরা আসতে পারব।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ইতিমধ্যে মাধ্যমিক স্তরের বইগুলো পরিমার্জন হয়েছে। চারটি বিষয়ে আমরা বই নতুনভাবে দিচ্ছি এবং এই কর্মযজ্ঞ শিক্ষা মন্ত্রণালয় চালিয়ে যাচ্ছে।’

সাধারণত বছরের প্রথম দিন ১ জানুয়ারি থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীর হাতে বিনা মূল্যের পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হয়। তবে এবার ২৫ ডিসেম্বরের আগেই তাদের হাতে পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়ার কথা বললেন শিক্ষামন্ত্রী।

আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ইতিমধ্যে আপনারা দেখেছেন, মাধ্যমিক স্তরের এসএসসি পরীক্ষা সমাপ্ত হয়েছে সুন্দরভাবে। প্রশ্নপত্র আউট (ফাঁস) হয়নি, নকল হয়নি এবং দুই মাসের ভেতরে আগামী ২০ জুলাইয়ের ভেতরে রেজাল্টও আউট (ফল প্রকাশ) হয়ে যাবে।’

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘এর পরবর্তীতে সেশন জট এবং এই যে গ্যাপ রয়েছে আমাদের এসএসসি, এইচএসসি এবং ইউনিভার্সিটি এডুকেশনের, এই গ্যাপগুলোকে আমরা সমন্বয় সাধন করছি। আশা করছি, ২০২৮-এর মধ্যে আমাদের ছেলেমেয়েরা পরীক্ষা দেওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গেই কলেজ অ্যাডমিশন এবং কলেজ শেষ করে ইউনিভার্সিটি অ্যাডমিশন...। এটাকে আমরা সিংক্রোনাইজ করছি। আমরা কোনো অবস্থায়ই অবহেলায় সময় কাটাব না আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য।’

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা এই যে সিংক্রোনাইজ করছি এসএসসি, এইচএসসি এবং ইউনিভার্সিটি এডুকেশন, এখানে যেন ছেলেমেয়েরা বসে না থাকে এবং অযথা যেন কোচিং সেন্টারে যেতে না হয় এবং ক্রিয়েটিভ এডুকেশন, সৃজনশীল লেখাপড়া যেন তারা করতে পারে, সেই দিকে লক্ষ্য রেখে আমরা সিলেবাস কারিকুলাম তৈরি করছি।’

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

banner close