প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনে কক্সবাজার পৌঁছেছেন।
অধ্যাপক ইউনূস ও গুতেরেসকে বহনকারী বিমানের চার্টার্ড ফ্লাইটটি আজ দুপুর ১২টা ৪৮মিনিটের দিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ফারুক-ই- আজম বিমানবন্দরে তাদের স্বাগত জানান।
সফরের অংশ হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস কক্সবাজার বিমানবন্দরের একটি প্রকল্প উদ্বোধন করবেন এবং খুরুশকূল জলবায়ু উদ্বাস্তু কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন।
পরিদর্শন শেষে ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসকে সঙ্গে নিয়ে উখিয়ায় প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর সঙ্গে ইফতারে যোগ দেবেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস বিমান বন্দর থেকে সরাসরি উখিয়ায় যাবেন। সেখানে তিনি রোহিঙ্গা লার্নিং সেন্টার, রোহিঙ্গাদের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাটজাত পণ্যের উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন।
পরিদর্শন ও ইফতার শেষে প্রধান উপদেষ্টা ও জাতিসংঘ মহাসচিব একসাথে সন্ধ্যায় ঢাকায় ফিরবেন।
মালয়েশিয়ায় নতুন করে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ার পাশাপাশি দেশটিতে বর্তমানে অবস্থানরত অবৈধ বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধতা দেওয়ার ব্যাপারে দেশটির সরকার ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সদ্য সমাপ্ত মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে শনিবার (২৭ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কূটনৈতিক সাফল্যের তথ্য নিশ্চিত করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ পুনরায় শুরু করার পাশাপাশি সেখানে নানা জটিলতায় অবৈধ হয়ে পড়া বাংলাদেশিদের বৈধতা দেওয়ার বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক ও সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিয়েছেন। এর পাশাপাশি মানবিক কারণে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই ও স্থায়ী সমাধানে ঢাকাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মালয়েশিয়া। একই সাথে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রভাবশালী আঞ্চলিক জোট আসিয়ানে (ASEAN) বাংলাদেশের সদস্যপদ বা ডায়ালগ পার্টনারশিপ অর্জনের চলমান প্রচেষ্টায় কুয়ালালামপুর দৃঢ় সমর্থন জানাবে বলেও আশ্বাস দিয়েছে।
দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রসঙ্গে মন্ত্রী খলিলুর রহমান সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এই সফরের মধ্য দিয়ে মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন এক নতুন ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছেছে।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আন্তরিক পরিবেশের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর শেয়ার করা ঐতিহ্যবাহী ‘মহাজাদু’ গানটিও এখন দুই দেশের মধ্যকার গভীর ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের একটি অনন্য প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের নানাবিধ সুদূরপ্রসারী অর্জনের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের উত্তর বর্গের অর্থনৈতিক লাইফলাইন খ্যাত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা বা তিস্তা প্রকল্প’ বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছে চীন। এই লক্ষ্যে প্রস্তাবিত প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা বা ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এগিয়ে নিতে দুই দেশই যৌথভাবে একমত প্রকাশ করেছে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষভাগে সামগ্রিক মূল্যায়ন করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জোরালোভাবে বলেন, এবারের উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও অনেক বেশি গভীর, মজবুত ও বন্ধুত্বপূর্ণ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে।
বাংলাদেশিসহ বিদেশি নাগরিকদের উদ্দেশে এক জরুরি সতর্কবার্তা দিয়েছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ করদাতাদের অর্থে পরিচালিত বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধার অনৈতিক সুবিধা বা অপব্যবহার করলে ভিসা বাতিলসহ কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোনো বিদেশি দর্শনার্থী বা পর্যটক যদি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে সেখানকার করদাতাদের অর্থে পরিচালিত কোনো জনকল্যাণমূলক সুবিধার অপব্যবহার করেন কিংবা সেগুলোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, তবে তাদের কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
দূতাবাস স্পষ্ট জানিয়েছে, অনভিবাসী বা অস্থায়ী ভিসাধারীরা এই ধরনের অনিয়মে জড়ালে তাদের বর্তমান ভিসা সরাসরি বাতিল করা হতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে তাদের জন্য মার্কিন ভিসা পাওয়ার পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ বা অযোগ্য ঘোষণা করা হতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের সময় যেকোনো বিদেশি নাগরিককে নিজের যাবতীয় থাকা-খাওয়ার খরচ সম্পূর্ণ নিজেকেই বহন করতে হবে এবং এর জন্য যথাযথ পূর্বপ্রস্তুতি থাকতে হবে। অন্যের বা সরকারি তহবিলের ওপর নির্ভর করে ভ্রমণের চেষ্টা করা হলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
বিশ্ববাজারে সার ও জ্বালানির দাম এবং সরবরাহে অস্থিরতা মোকাবিলা, খাদ্যনিরাপত্তা টেকসই রাখা এবং দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশে দুটি প্রকল্পে ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। গত শুক্রবার (২৬ জুন) বিশ্বব্যাংকের ওয়াবসাইটে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে খাদ্য, সার ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং রাজস্ব ব্যয়ের সীমাবদ্ধতা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে। এতে ক্ষুদ্র কৃষক এবং দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশকে তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতে এগিয়ে এসেছে বিশ্বব্যাংক। ধান উৎপাদনের জন্য সার সরবরাহ নিশ্চিত করা, পরিবার, কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষা এবং জরুরি সেবা অব্যাহত রাখতে এ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
৩০০ মিলিয়ন ডলারের ‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট ফর ফুড সিকিউরিটি’ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অর্থায়ন দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে ২০২৬ সালের জুলাই-অক্টোবর আমন মৌসুম এবং ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বোরো মৌসুমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সার আমদানিতে সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক। দেশে মোট সারের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশিই বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়।
এই প্রকল্পের আওতায় ৬ লাখ মেট্রিক টন গুরুত্বপূর্ণ সার আমদানিতে অর্থায়ন করবে বিশ্বব্যাংক, যার অর্ধেকই ইউরিয়া সার। এতে ক্ষুদ্র কৃষকদের চাষ করা ১৪ লাখ হেক্টর জমির ধান উৎপাদন সহায়তা পাবে।
বিশ্বব্যাংকের লিড ইকোনমিস্ট ও প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার সোলেমান কুলিবালি বলেন, বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা আমন ও বোরো ধান মৌসুমের ওপর নির্ভরশীল। এই দুই মৌসুম মিলিয়ে দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ আসে। এ ছাড়া দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী কৃষি খাতে কর্মরত। তাই সার সরবরাহে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তা শুধু খাদ্যনিরাপত্তাকেই ঝুঁকিতে ফেলবে না, দারিদ্র্য বাড়াবে এবং কর্মসংস্থানেও প্রভাব ফেলবে।
এছাড়া, ৭১৩ মিলিয়ন ডলারের ‘কনটিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স’ প্রকল্পের আওতায় দ্রুত ছাড়যোগ্য জরুরি ব্যয়ের ক্ষেত্রে সহায়তা দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য নগদ সহায়তা ও জীবিকা সহায়তা। সংকটকালে আয় স্থিতিশীল রাখা এবং কর্মসংস্থান সুরক্ষায় এ সহায়তা ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্পের আওতায় জরুরি সেবা অব্যাহত রাখতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহেও অর্থায়ন করবে বিশ্বব্যাংক। এর মধ্যে খাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম, জ্বালানি এবং পানির মতো অপরিহার্য সেবা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রকল্পের অর্থ ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে ছাড় করা হবে বলে জানানো হয়েছে সংবাদ বিজ্ঞতিতে।
বিশ্বব্যাংকের লিড ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট এবং প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার লেসলি জেন ইউ করদেরো বলেন, বিশ্বব্যাংকের সংকট প্রস্তুতি ও সাড়া দেওয়ার টুলকিট বা ব্যবস্থার মাধ্যমে এ প্রকল্প বাংলাদেশকে তাৎক্ষণিকভাবে তহবিল পাওয়ার সুযোগ দেবে। বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর অব্যবহৃত অর্থ পুনর্বিন্যাস করে যেখানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেখানে সম্পদ বরাদ্দ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে আকস্মিক ধাক্কার প্রভাব থেকে মানুষ, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানগুলোকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এই সফরের ফলে দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং পারস্পরিক স্বার্থ ও সম্মানের ভিত্তিতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর উপলক্ষে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং বক্তব্য রাখতে গিয়ে এসব কথা বলেন। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর নতুন সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুসংহত করেছে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়া ও চীনের সঙ্গে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করেছে।
তিনি জানান, সফরকালে বিশেষ করে চীনের সঙ্গে ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে মালয়েশিয়া ও চীন বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে, যা এ ইস্যুতে সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করবে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরের আগে বা পরে জনসমাগমনির্ভর সংবর্ধনার প্রচলিত সংস্কৃতি পরিহার করে রাষ্ট্র পরিচালনায় সংযম, দায়িত্বশীলতা ও জনবান্ধব রাজনৈতিক চর্চার একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর এই উদ্যোগ দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে আরও ইতিবাচক ও আধুনিক ধারায় এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে অর্জিত সমঝোতা ও সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, বৈদেশিক বিনিয়োগ, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
মালয়েশিয়া ও চীন সরকারের রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রণে নিজের প্রথম বিদেশ সফর অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে সমাপ্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। স্বদেশে ফিরেই পরদিনই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও জিয়ারত সম্পন্ন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান।
আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ জিয়া উদ্যানে শায়িত পিতা-মাতার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি সেখানে পবিত্র ফাতেহা পাঠ করেন এবং মোনাজাতের মাধ্যমে মরহুমদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। ওই সময় প্রধানমন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলাম, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, একান্ত সচিব-২ মো. মেহেদুল ইসলাম, সহকারী একান্ত সচিব-২ আব্দুর রহমান সানীসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এর আগে শুক্রবার (২৬ জুন) রাত ৮টা নাগাদ প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরকারী দলকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে অবতরণের পর প্রধানমন্ত্রীকে পুষ্পস্তবকে বরণ করে নেন স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
উল্লেখ্য যে, জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে যোগদানের প্রাক্কালে পূর্বনির্ধারিত সূচির বাইরে গিয়েই শেরেবাংলা নগরের মাজার কমপ্লেক্সে পিতা-মাতার সমাধি জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মালয়েশিয়া ও চীন ভ্রমণে ‘অভূতপূর্ব সাফল্যের’ স্বাক্ষর রাখায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিবাদন জানিয়ে জাতীয় সংসদে একটি ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। আজ শনিবার প্রাতঃকালীন অধিবেশনে সর্বসম্মত সম্মতিক্রমে এই প্রস্তাবটি পাস করা হয়। গত ২১ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত মালয়েশিয়া ও গণচীন সফর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সংসদীয় সভার প্রারম্ভে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই ধন্যবাদ প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। প্রস্তাবটির ওপর সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনার পর স্পিকার সেটি ভোটে দিলে বিরোধী দলসহ সকল সদস্য সমর্থন জানান, ফলে এটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম মন্তব্য করেন যে, ‘প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। এ সফরের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও সুদৃঢ় হবে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ‘অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নয়নের পক্ষে এই সফর ছিল অত্যন্ত বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। সফরে দেশের নিরাপত্তা প্রশ্নে বিশ্ববাসীরও দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। ১৯৭১ সালে জাতি ত্যাগ ও তিতিক্ষার বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে, এরপর বহু কঠিন সময় অতিক্রম করতে হয়েছে। অতীতে এমন সরকারও ছিল যারা স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো প্রচেষ্টা গ্রহণ করেনি।’ সংসদ প্রধানের এই সফল রাষ্ট্রীয় সফরের কারণে দেশবাসী নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন এবং ‘বর্তমান সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের ফলে দেশবাসী আশান্বিত হয়েছেন এবং সাধারণ মানুষও সফরটি সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন।’
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার বক্তব্যে ব্যক্ত করেন যে, ‘এ সফরটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়া ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। সফলতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী অনেকগুলো চুক্তি সম্পন্ন করেছেন। চীন ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে।’ পূর্ববর্তী শাসনের সমালোচনা করে তিনি জানান যে, ‘ফ্যাসিবাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদেশে যাওয়ার সময় ও দেশে ফিরে সংবর্ধনা নিতেন’ তবে তারেক রহমান এই সংস্কৃতি রদ করেছেন। মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘তারেক রহমান এই চর্চা বন্ধ করেছেন। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, কোনো ধরণের সংবর্ধনা দেওয়া যাবে না।’ এই সফরে চীনের সঙ্গে ১৭টি এমওইউ হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রপতি সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়া ও গণচীনের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তারা তাদের ভূমিকা অক্ষুণ্ণ রাখবেন।’
আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তন প্রধানমন্ত্রী শুরু করেছেন। উনি যাওয়া বা আসার সময় বিমানবন্দরে হাজার লোকের সংবর্ধনা নেননি। সফর ছিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির উপর ভিত্তি করে। প্রতিটি দেশের সম্পর্ক হবে পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক স্বার্থ, কারও হস্তক্ষেপ নয় এবং নিজস্ব সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে। প্রধানমন্ত্রীর সফর তা করেছেন।’ মালয়েশিয়া ও চীনের সাথে দ্বিপাক্ষিক নানাবিধ স্বার্থের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটা আগামীর বাংলাদেশের রাজনীতি শুধু নয়, বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কি হবে, পররাষ্ট্রনীতি কেমন হবে, তা নিশ্চিত করেছে।’
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, ‘দেশটা সবার। আমরা সবাই স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির কথা বলে থাকি। এক্ষেত্রে বিরোধী দল হিসেবে আমাদের যেটুকু করণীয়, সরকারকে আশ্বস্ত করছি, সহযোগিতা করব। যে দুই দেশে সফর হয়েছে, তারা বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু।’ দেশের বাণিজ্য পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির মন্তব্য করেন যে, ‘বাংলাদেশ একটি আমদানিনির্ভর দেশ। আমাদের রপ্তানির চেয়ে আমদানি অনেক বেশি। রপ্তানি বৃদ্ধিতে সংক্ষিপ্ত, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার। আশা করি, প্রধানমন্ত্রী তার সফরে এ বিষয়গুলোতে আলোচনা করেছেন। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার স্বার্থে, বিদেশের সঙ্গে যতগুলো মৌলিক চুক্তি সম্পাদিত হবে তা এই সংসদে নিয়ে আসা উচিত। সমঝোতা স্বারক বা চুক্তি যাই হোক সেটা হবে দুই দেশের স্বার্থের ভিত্তিতে। আমরা কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাই না। আমরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে চাই না। সরকার যেনো সংসদকে এড়িয়ে কিছুই না করে।’
আলোচনার সমাপ্তিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ধন্যবাদ প্রস্তাবটি পুনরায় কণ্ঠভোটে দিলে সেখানে বলা হয়, ‘সংসদের অভিমত এই যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২১ জুন থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত মালয়েশিয়া এবং চীন সফরে অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য এই মহান সংসদ প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে।’ কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।
ছয় দিনের এই গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সফর শেষে গত শুক্রবার দিবাগত রাত সোয়া ৮টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রতিনিধিদল। সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাষ্ট্রীয় সফরে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। একই সাথে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সার্বিক উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করার ব্যাপারে চীনের শীর্ষ নেতৃত্ব সম্পূর্ণ ঐকমত্য পোষণ করেছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় ফিরে আসার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মাহদী আমিন এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। এ সময় বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, সুজন মাহমুদ, শাহাদাৎ স্বাধীন এবং সহকারী প্রেস সচিব কেএম নাজমুল হক খান উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই মালয়েশিয়া ও চীন সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। সফরে মালয়েশিয়া ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের কীভাবে সর্বোচ্চ উন্নয়ন করা যায়, সেই সমস্ত বিষয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও সুনির্দিষ্ট আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে চীনের রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে দেওয়া করিডরের প্রস্তাবের বিষয়টি বাংলাদেশ অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছে, যা আগামী দিনে এ দেশীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিদেশি বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
এর আগে গত ২১ জুন রাষ্ট্রীয় সফরের প্রথম ধাপে মালয়েশিয়ায় যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে পূর্বনির্ধারিত বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পরদিনই অর্থাৎ ২২ জুন বিকেল ৫টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হন।
চীন সফরকালে তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক বিশেষ দ্বিপক্ষীয় সাক্ষাৎসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। সফরের শেষ ভাগে শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে বেইজিংয়ে চীনের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী।
এরপর বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় বেইজিং বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়ে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে বহনকারী চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি রাত পৌনে ৮টায় ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফর।
দ্বিপক্ষীয় গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফর শেষে মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে রাজধানী ঢাকায় ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২৬ জুন) রাত পৌনে ৮টায় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর প্রতিনিধিদলকে বহনকারী চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ এবং দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
এই রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল দেশে ফিরেছেন। এর আগে বেইজিংয়ের স্থানীয় সময় বিকাল সোয়া ৫টায় তাঁরা ঢাকার উদ্দেশে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুন রাষ্ট্রীয় সফরের প্রথম ধাপে মালয়েশিয়ায় যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পরদিনই অর্থাৎ ২২ জুন বিকাল ৫টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হন।
চীন সফরকালে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফলপ্রসূ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি।
সফরের শেষ অংশে শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে বেইজিংয়ে চীনের মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গেও শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর, যা দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দুবাই থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সাড়া পাওয়া যায়নি। শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবসের ঐ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে মন্ত্রী জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যাবতীয় নথিপত্র ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে।
বেনজীর আহমেদের বর্তমান অবস্থা ও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠিয়েছি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে। আমাদের দূতাবাস সেসব ইউএই সরকারের কাছে হস্তান্তর করেছে। এটা হচ্ছে সর্বশেষ অবস্থা। ইউএই সরকারের তরফ থেকে আমাদেরকে এখনো কিছু জানানো হয় নাই। আশা করি খুব শিগগিরই জানানো হবে।’
সাবেক এই পুলিশ প্রধানকে ফিরিয়ে আনার অগ্রগতি নিয়ে মন্ত্রী আরও জানান, দুবাই থেকে মেইলে তার গ্রেপ্তারের খবর আসার পর তারা ৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠাতে বলেছিল। তবে সরকার মাত্র তিন দিনের মধ্যেই সকল নথিপত্র সেখানে পাঠিয়ে দিয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথম জানিয়েছিলেন যে, র্যাবের সাবেক এই মহাপরিচালক দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
বেনজীর আহমেদ অন্য কোনো দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করছেন কি না এবং এতে তাকে ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা এখনো ইউএই সরকারের রিপ্লাইয়ের জন্য অপেক্ষা করছি। তার সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে আমরা যতটুকু জানি সে ফেডারেল পুলিশের কাছেই আছে, তাদের হেফাজতে আছে। অন্য কোনো সংবাদ আমরা জানি না।’ বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার পাসপোর্ট নিয়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও সরকার বর্তমানে ইউএই কর্তৃপক্ষের পরবর্তী বার্তার জন্য অপেক্ষা করছে। বর্তমানে তিনি দুবাইয়ের ফেডারেল পুলিশের জিম্মায় রয়েছেন বলেই জানা গেছে।
মালয়েশিয়া ও চীনে ছয় দিনের ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় সফর সফলভাবে সম্পন্ন করে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২৬ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে তিনি বেইজিং ড্যাক্সিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ‘চায়না সাউদার্ন’-এর একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকার পথে যাত্রা শুরু করেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে উষ্ণ বিদায় জানান চীনের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত ইউয়ে শিয়াওইয়ং। বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও বিশেষ প্রটোকল প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে সফরসঙ্গীদের নিয়ে বিমানে আরোহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের শুরু হয়েছিল গত ২১ জুন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে কুয়ালালামপুর সফরের মধ্য দিয়ে। সেখানে দুই দিন অবস্থানের পর গত সোমবার তিনি চীনের দালিয়ানে পৌঁছান এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (WEF) উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। দালিয়ান থেকে গত বুধবার তিনি বুলেট ট্রেনে করে রাজধানী বেইজিংয়ে আসেন। বেইজিং সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে ফলপ্রসূ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এছাড়াও তিনি ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং বেইজিংয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’ শীর্ষক এক বিনিয়োগ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দুই দেশের রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করেছে। বেইজিংয়ে সই হওয়া ১৩টি সমঝোতা স্মারক বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। আজ রাতেই প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের ঢাকায় অবতরণ করার কথা রয়েছে।
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত একটি বিশেষ অর্থনৈতিক করিডোর প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শেষে বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এই নতুন দিগন্তকে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন আলোচনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘আজকে কানেক্টিভিটি নিয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিস্তারিত কথা হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত একটি ইকোনোমিক করিডোর তৈরির প্রস্তাব এসেছে। এই ইকোনোমিক করিডোরের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতির ব্যাপ্তি বাড়ানো, ট্রানজেকশন বাড়ানো এবং মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্টেশনকে আরো এনহ্যান্স করা।’ করিডোর ছাড়াও বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে চীন বিশেষ বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দরকে একটি শক্তিশালী রিজিওনাল হাব বা আঞ্চলিক কেন্দ্রে রূপান্তর করতে এবং মোংলা পোর্টকে আরও বেশি আধুনিক ও সেবাধর্মী করার লক্ষ্যে বেইজিং কারিগরি ও অবকাঠামোগত সহায়তা প্রদানের প্রস্তাব দিয়েছে।
বৈঠকে দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বা 'পিপল টু পিপল কানেক্ট' বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। শিক্ষা, সংস্কৃতি, গণমাধ্যম এবং প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ম্যান্ডারিন ভাষাকে তৃতীয় ভাষা হিসেবে অগ্রাধিকার দেওয়ার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাতে চীন শিক্ষক ও অবকাঠামো দিয়ে সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার উন্নয়নেও চীন তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সাথে শেয়ার করতে আগ্রহী বলে জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতের আধুনিকায়নে দুই দেশের মধ্যে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হতে যাচ্ছে। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে রোবোটিক সার্জারিসহ উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং আধুনিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশিদের জন্য চিকিৎসার প্রয়োজনে চীন ভ্রমণের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে চীনের ভূমিকা নিয়ে মাহদী আমিন জানান, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বেইজিং যেকোনো ধরনের সংলাপ ও সহযোগিতায় প্রস্তুত রয়েছে।
পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে প্রথমবারের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা বা আন্ডারস্ট্যান্ডিং তৈরি হয়েছে, যার ফলে আগামী দিনগুলোতে উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে নিয়মিত সংলাপের আয়োজন করা হবে। একই সাথে বৈশ্বিক জোট ব্রিকসে (BRICS) বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে চীন স্বাগত জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে দেশটির টেকসই উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এই উচ্চপর্যায়ের সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য সরকারিভাবে বিশেষ ভাতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং গুমের সঙ্গে জড়িত দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘International Day in Support of Victims of Torture-2026’ উপলক্ষে ‘ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের অধিকার’ বিষয়ক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য সরকারিভাবে বিশেষ ভাতা চালু করা হবে। বিষয়টি চলতি বাজেটেই অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। সকল লড়াই-সংগ্রামে সরকার আপনাদের পাশে থাকবে।
সংলাপে বিগত শাসনামলে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। স্বজন হারানোর বেদনাময় স্মৃতিচারণ ও আহাজারিতে মিলনায়তনের পরিবেশ আবেগঘন হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, এখন কান্নার সময় নয়, এখন সময় অধিকার আদায়ের, এখন সময় ন্যায়বিচার পাওয়ার। তিনি মানবাধিকার কমিশনকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি গুম-সংক্রান্ত একটি সংসদীয় কমিটি গঠনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংলাপে আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর মোঃ আমিনুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিবৃন্দ।
এই আয়োজনে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে তাঁদের প্রত্যাশা ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
মালয়েশিয়া ও চীনে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সফল রাষ্ট্রীয় সফর শেষে আজ শুক্রবার রাতে সরাসরি বেইজিং থেকে ঢাকা পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে কেন্দ্র করে কোনো প্রকার শোডাউন, রাজনৈতিক মিছিল কিংবা গণজমায়েত না করার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং সড়কপথে সাধারণ মানুষের চলাচল সুশৃঙ্খল রাখতে এই বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন যে, দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীর মাধ্যমে এই নির্দেশনার কথা সকল স্তরের নেতাকর্মীদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিশেষ ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি মহাসচিব ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
প্রধানমন্ত্রীর এই দ্বিমুখী সফর বাংলাদেশের কূটনীতি ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের সাফল্যের বার্তা নিয়ে এসেছে। বেইজিংয়ে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে ফলপ্রসূ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং দুটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর আগে তাঁর মালয়েশিয়া সফরেও দুই দেশের মধ্যে তিনটি চুক্তি ও একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। এই সফরগুলোর মাধ্যমে আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।