বাংলাদেশের সংস্কার ও পরিবর্তন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন সফররত জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে এক বৈঠকে এই অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।
বৈঠকের পর জাতিসংঘের এক বার্তায় বলা হয়, বৈঠকে সংস্থাটির মহাসচিব ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বাংলাদেশের চলমান পরিবর্তন ও সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেন। মহাসচিব বাংলাদেশের সংস্কার ও পরিবর্তন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন।
অ্যান্তোনিও গুতেরেস জাতিসংঘ ও বাংলাদেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতি বাংলাদেশের উদারতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায় দৃঢ় প্রতিশ্রুতির জন্যও বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান মহাসচিব।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর একই স্থানে প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা ইস্যু ও অগ্রাধিকার বিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন।
জাতিসংঘের বার্তায় বলা হয়েছে, মহাসচিব ও বিশেষ প্রতিনিধি (ড. খলিলুর রহমান) রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর আসন্ন উচ্চ-পর্যায়ের সম্মেলন নিয়ে আলোচনা করেন।
পরে জাতিসংঘ মহাসচিব প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আমন্ত্রণে গতকাল বৃহস্পতিবার ৪ দিনের সরকারি সফরে বাংলাদেশে আসেন অ্যান্তোনিও গুতেরেস। সফরসূচি অনুযায়ী, জাতিসংঘ মহাসচিব আজ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করবেন। সেখানে এক লাখ রোহিঙ্গার সঙ্গে ইফতারে যোগ দেবেন তারা।
জাতিসংঘ মহাসচিব দুর্দশাগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা বাড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি ‘আহ্বান’ জানাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
দিল্লিতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশে তাদের সমর্থক নেই বলেই দিল্লিতে প্রেস শো (সংবাদ সম্মেলন) করছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ৬৩তম ব্যাচ মহিলা কারারক্ষীদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, দিল্লিতে শেখ হাসিনার খবরের বক্তব্য ঘিরে বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে না। এতে দেশের নির্বাচন ভণ্ডুল বা দেশে অস্থিরতা তৈরিরও কোনো আশঙ্কা নেই। দেশে তাদের সমর্থক নেই বলেই দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।
এ সময় দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী নেতাকর্মীদের দেশে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি।
কারাগারে পর্যাপ্ত জায়গা নেই জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, শিগগিরই নতুন কারাগার তৈরির পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হওয়া নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।
প্রধান অতিথি হিসেবে প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেনসহ অন্য কর্মকর্তারা। প্রধান অতিথি নবীন প্রশিক্ষণার্থীদের সশস্ত্র সালাম ও অভিবাদন গ্রহণ করেন।
পরে নবীন কারারক্ষীদের বিভিন্ন শারীরিক কসরত, অস্ত্রবিহীন আত্মরক্ষার কৌশলের চমকপ্রদ পরিবেশনা উপভোগ করেন অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মোহাম্মদ মোস্তাফা কামাল, কর্নেল মো. তানভীর হোসেন, কর্নেল মেছবাহুল আলম সেলি মো. জাহাঙ্গীর কবির এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কমান্ড্যান্ট টিপু সুলতানসহ গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এই বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সে মোট ৮৬৬ জন কারারক্ষী ও মহিলা কারারক্ষী অংশগ্রহণ করেন।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কারাগার পরিচালনায় নিরাপত্তা ও মানবাধিকার একে অপরের পরিপূরক বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, বন্দিদের প্রতি মানবিক আচরণ, ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা কেবল আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরের কাশিমপুর কারা প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ৬৩তম ব্যাচ মহিলা কারারক্ষী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তার বক্তব্যে কারাগারকে ‘ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমের’ অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কারাগারের কাজ শুধু অপরাধীদের আটকে রাখা নয়, বরং তাদের সংশোধন করে সুনাগরিক হিসেবে সমাজে ফিরিয়ে দেওয়াও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নবীন কারারক্ষীদের সততা, দক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দেশপ্রেমের মহান দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক কারা প্রশাসন গঠনে প্রশিক্ষিত ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন কারারক্ষীরা কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে উপদেষ্টা বলেন, দুর্নীতি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু, যা প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে ধ্বংস করে এবং জনগণের বিশ্বাস ভেঙে দেয়। তিনি নবীন সদস্যদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, তারা কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক স্বার্থের রক্ষক নন, বরং জনগণের করের টাকায় বেতনভুক্ত সরকারি কর্মচারী। তাই ব্যক্তিস্বার্থ ও লোভের ঊর্ধ্বে উঠে জনকল্যাণকেই একমাত্র ব্রত হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং প্রশিক্ষণে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য সেরা প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। ৬৩তম ব্যাচের এই প্রশিক্ষণে সর্ববিষয়ে ও পিটিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন মোছা. রায়হানা আক্তার সুবর্ণা। এছাড়া ড্রিলে লিজা খাতুন, ফায়ারিংয়ে মানসুরা এবং আন-আর্মড কম্ব্যাটে জুথি পারভীন শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন। অনুষ্ঠানের শেষ অংশে মহিলা কারারক্ষীরা বিভিন্ন শারীরিক কসরত ও ডিসপ্লে প্রদর্শন করেন।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল বা বেতন কাঠামো বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বাস্তবায়ন করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি জানিয়েছেন, পে-কমিশনের প্রতিবেদনটি কেবল জমা দেওয়া হয়েছে, তবে এর বাস্তবায়নের ভার পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর ন্যস্ত থাকবে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকারের ম্যান্ডেট বা পরিকল্পনার মধ্যে পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি নেই। পে-কমিশনের কাজ ছিল সুপারিশমালা তৈরি করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া, যা এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
ভবিষ্যতে এই পে-স্কেলের ভাগ্য কী হবে, তা ব্যাখ্যা করে ফাওজুল কবির খান বলেন, পরবর্তীতে নির্বাচিত হয়ে যে সরকার ক্ষমতায় আসবে, তারাই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তারা চাইলে এই পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে পারে অথবা বাতিলও করতে পারে। তবে তিনি মনে করেন, প্রস্তাবিত এই পে-স্কেল পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য কোনো বাড়তি চাপ বা বোঝা হিসেবে দেখা দেবে না।
দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই বাড়াতে এবার প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বড় সুখবর দিয়েছে সরকার। এখন থেকে কোনো প্রবাসী বাংলাদেশি যদি দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আনতে সহায়তা করেন, তবে তাকে পুরস্কার হিসেবে নগদ অর্থ দেওয়া হবে। সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) গভর্নিং বোর্ডের সভায় এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়।
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন সভার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানান, নতুন এই কাঠামোর আওতায় কোনো প্রবাসী যদি দেশে ইকুইটি বিনিয়োগ আনতে ভূমিকা রাখেন, তবে সেই মোট বিনিয়োগের ওপর ১ দশমিক ২৫ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা পাবেন। বিষয়টি পরিষ্কার করতে গিয়ে তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কোনো প্রবাসী যদি ১০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ আনতে পারেন, তবে সরকার তাকে ১২ লাখ ৫০ হাজার ডলার প্রণোদনা হিসেবে দেবে। রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে যেমন নগদ সুবিধা পাওয়া যায়, এটিও অনেকটা সেভাবেই কাজ করবে। তবে এর মূল লক্ষ্য হলো কেবল ব্যক্তিগত ভোগের জন্য অর্থ না পাঠিয়ে, প্রবাসীদের মাধ্যমে শিল্প ও ব্যবসায়িক খাতে বড় পুঁজি নিয়ে আসা।
সরকারের এই উদ্যোগের পেছনের যুক্তি হলো বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসীদের বিশাল নেটওয়ার্ক ও প্রভাবকে কাজে লাগানো। প্রবাসীরা তাদের অবস্থানরত দেশগুলোর সমাজ ও বিনিয়োগকারী মহলের সঙ্গে যে সুসম্পর্ক বজায় রাখেন, তা ব্যবহার করে বাংলাদেশকে একটি লাভজনক বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরাই এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য। নীতিগতভাবে অনুমোদন পাওয়া এই প্রস্তাবটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বিদেশের মাটিতে বিডার নিজস্ব অফিস খোলার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে চীনে এবং পরবর্তীতে দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি দেশে অফিস স্থাপন করা হবে। তবে সরকারের খরচ কমাতে এসব অফিসে স্থায়ী বেতনের পরিবর্তে কমিশন বা সাফল্যের ভিত্তিতে জনবল নিয়োগের অভিনব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, যিনি যত বেশি বিনিয়োগ আনতে পারবেন, তার পারিশ্রমিকও সেভাবেই নির্ধারিত হবে। বিশেষ করে চীনে অফিস খোলার ক্ষেত্রে স্থানীয় ভাষা ও বাজার সম্পর্কে অভিজ্ঞদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিডা।
আগামী অর্থবছর থেকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়াচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা ও ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বয়স্ক ভাতা কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লাখ বাড়িয়ে ৬২ লাখ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ লাখ প্রবীণ ব্যক্তি আগের ৬৫০ টাকার পরিবর্তে মাসে ৭০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। পাশাপাশি, ৯০ বছরের বেশি বয়সি ২ দশমিক ৫ লাখ ব্যক্তি মাসে ১ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।
একই মন্ত্রণালয়ের আওতায় বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত নারীদের ভাতা কর্মসূচিতে ২৯ লাখ উপকারভোগীর মধ্যে ২৮ দশমিক ৭৫ লাখ নারী আগের ৬৫০ টাকার পরিবর্তে মাসে ৭০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। এছাড়া, ৯০ বছরের বেশি বয়সী ২৫ হাজার বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত নারী মাসে ১ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।
প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় ৩৬ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মধ্যে ৩৫ লাখ ৮১ হাজার ৯০০ জন মাসে ৯০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। বাকি ১৮ হাজার ১০০ জন মাসে ১ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।
প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য মাসিক উপবৃত্তি ও মেধা উপবৃত্তির পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাথমিক পর্যায়ে ৯৫০ টাকা, মাধ্যমিকে ১ হাজার টাকা, উচ্চ মাধ্যমিকে ১ হাজার ১০০ টাকা এবং উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে ১ হাজার ৩৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের তুলনায় ৫০ টাকা বেশি।
পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা ৭ হাজার বাড়িয়ে মোট ২ লাখ ২৮ হাজার ৩৮৯ জন করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের মাসিক ভাতা ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে।
এই কর্মসূচির আওতায় উপবৃত্তি ও মেধা উপবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ হাজার ১৯৮ জন বাড়িয়ে মোট ৪৫ হাজার ৩৩৮ জন করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক পর্যায়ে মাসে ৭০০ টাকা, মাধ্যমিকে ৮০০ টাকা, উচ্চ মাধ্যমিকে ১ হাজার টাকা এবং উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে ১ হাজার ২০০ টাকা করে উপবৃত্তি বা মেধা উপবৃত্তি পাবেন।
পাশাপাশি, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ৫ হাজার ৪৯০ জনকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ক্যানসার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকজনিত পক্ষাঘাত, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা ৫ হাজার বাড়িয়ে মোট ৬৫ হাজার করা হয়েছে। একইসঙ্গে এককালীন চিকিৎসা সহায়তার পরিমাণ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৪ হাজার বাড়িয়ে মোট ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ জন করা হয়েছে। এই কর্মসূচিতে প্রত্যেক মা মাসে ৮৫০ টাকা করে ভাতা পান।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগী পরিবারের সংখ্যা ৫ লাখ বাড়িয়ে মোট ৬০ লাখ পরিবার করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি পরিবার ছয় মাস ধরে খাদ্য সহায়তা পায়, যেখানে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল ১৫ টাকা কেজি দরে সরবরাহ করা হয়।
গত রোববার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি–সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ৩২তম বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় বীরত্বসূচক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের মাসিক ভাতা ৫ হাজার টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে আরও সুপারিশ করা হয়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের জন্য মাসিক সম্মানী চালু করা এবং তাদের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভিজিএফ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করার।
এ ছাড়া ২০২৬–২৭ অর্থবছরে নতুন করে আরও ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৪ জন জেলেকে অন্তর্ভুক্ত করে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় মোট জেলের সংখ্যা ১৫ লাখে উন্নীত করার সুপারিশও করা হয়েছে।
দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানো এবং বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা উৎপাদন বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সামরিক শিল্পাঞ্চল গড়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বাতিল হওয়া ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জায়গায় এই শিল্পাঞ্চল স্থাপন করা হবে। সোমবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।
সভা শেষে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমও উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আনোয়ারায় ফ্রি ট্রেড জোন, কুষ্টিয়া সুগারমিলে হবে ইকোনোমিক জোন, পৌর সভার ভেতরেও হবে ইকোনোমিক জোনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয় হয়েছে। এছাড়াও জাপানের সঙ্গে এফটিএ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বেজা ছাড়াও একই এইদিন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) গভর্নিং বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিডার গভর্নিং বোর্ডের সভায় প্রকৃত বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে (এফডিআই) রেমিট্যান্সের মতই প্রবাসিদের পাবে ১.২৫ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চীনসব অন্যান্য দেশে বিডার এজেন্সি অফিস করা এবং ব্যবসা ও বিনিয়োগের সঙ্গে জড়িত দেশের ছয় প্রতিষ্ঠানকে একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলন আশিক চৌধুরী জানান, মিরসরাইয়ে অবস্থিত জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (এনএসইজেড) প্রায় ৮৫০ একর জমিকে ‘ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ হিসেবে বেজার মাস্টারপ্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আশিক চৌধুরী বলেন, ‘ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলকে জি-টু-জি কাঠামো থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সেই জায়গাটিই এখন প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চল হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিজের আদলে একাধিক রাষ্ট্রীয় কারখানা গড়ে তোলা নয়। বরং বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে প্রযুক্তি বিনিময় ও যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পে সক্ষমতা তৈরি করাই মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের সুযোগও রাখা হবে।
সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সংঘাতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে উচ্চপ্রযুক্তির অস্ত্রের চেয়ে গোলাবারুদ ও মৌলিক সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতিই বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এতে নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে।
আশিক চৌধুরী জানান, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় ধাপে ধাপে এই শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হবে। একসঙ্গে পুরো ৮৫০ একর জমিতে কার্যক্রম শুরু করা হবে না। আগামী পাঁচ বছরে সীমিত পরিসরে প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হতে পারে।
সম্ভাব্য অংশীদার দেশ বা নির্দিষ্ট পণ্যের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি কূটনৈতিক ও দ্বিপক্ষীয় হওয়ায় এখনই বিস্তারিত জানানো সম্ভব নয়। রাজনৈতিক পরিবর্তন হলেও প্রকল্পটি চলমান থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আশিক চৌধুরী আরও জানান, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ফ্রি ট্রেড জোন (এফটিজেড) গঠনের নীতিগত অনুমোদনও দিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ৬০০ থেকে ৬৫০ একর জমিতে এ জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, ফ্রি ট্রেড জোন কার্যত ‘ওভারসিজ টেরিটরি’ হিসেবে পরিচালিত হবে, যেখানে কাস্টমস বাধ্যবাধকতা ছাড়াই পণ্য সংরক্ষণ, উৎপাদন ও পুনঃরপ্তানি করা যাবে। এতে বাংলাদেশের ‘টাইম টু মার্কেট’ সমস্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
দুবাইয়ের জেবেল আলি ফ্রি জোনের মডেল অনুসরণ করে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হলে এটি দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আনবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিমালা সংশোধনের জন্য শিগগিরই বিষয়টি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। এই সংবেদনশীল সময়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
সোমবার সেনা সদরে সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে সশস্ত্র বাহিনী অতীতের মতো এবারও পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে— এ বিষয়ে সরকার আশাবাদী।’
প্রধান উপদেষ্টা মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা জাতির ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। দীর্ঘদিনের ভোটাধিকার বঞ্চিত একটি জাতি ২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে নিজের দেশের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য যে আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছে এই নির্বাচনে ভোটদান হবে তার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ।’
তিনি আরও বলেন, ‘গণভোটের মাধ্যমে মানুষ যেমন ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্মাণে তার মতামত ব্যক্ত করবে, তেমনি সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে তারা সেই মতামত বাস্তবায়নের জন্য যোগ্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। তাই এই নির্বাচনের গুরুত্ব অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এই নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে আমাদের মনে রাখতে হবে যে তরুণদের একটি বিরাট অংশ এবারই প্রথম ভোট দিতে যাচ্ছে। এ ছাড়া বড়দের মধ্যেও অনেকে দীর্ঘদিন ভোটাধিকার বঞ্চিত ছিলেন। এরকম একটি পরিস্থিতিতে সকল ভোটারদের জন্য একটি শংকামুক্ত ও উৎসবমুখর ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমাদের সকলের দায়িত্ব রয়েছে। দেশের সামগ্রিক বাস্তবতায় আমি মনে করি এই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের জন্য সশস্ত্র বাহিনী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। সক্ষম, পেশাদার, নিরপেক্ষ ও জনমুখী বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী এই গুরুদায়িত্ব সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন করে জাতিকে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দিতে সর্বোচ্চ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আমি আশাবাদী।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি। দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন ভয়মুক্ত পরিবেশে, কোনো প্রভাব ব্যতীত নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে সর্বোচ্চভাবে সহায়তা প্রদান করতে হবে।’
নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বকে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে সকল সিদ্ধান্ত হতে হবে আইনসম্মত, সংযত ও দায়িত্বশীল। সামান্য বিচ্যুতিও যেন জনগণের আস্থাকে ক্ষুণ্ন না করে সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তরুণ ও দীর্ঘদিন ভোটাধিকার বঞ্চিত নাগরিকদের অংশগ্রহণে এবারের নির্বাচন বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। তাই ভয়মুক্ত পরিবেশে প্রত্যেক নাগরিকের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব।’
প্রধান উপদেষ্টা একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পথে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট শাসনকালে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতার বিষয়টি উপেক্ষিত থেকে গেছে। আমরা অত্যন্ত অল্প সময়ে এই পরিস্থিতির ব্যাপক পরিবর্তন সূচনা করেছি। দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে বর্তমান সরকার সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতার উন্নয়ন এবং যেকোনো আগ্রাসন মোকাবিলার জন্য যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি প্রধান অগ্রাধিকার।’
প্রফেসর ইউনূস বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনীর স্বনির্ভরতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্তমানে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সামরিক অস্ত্র ও সরঞ্জামাদি তৈরির কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম চলমান আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে নেদারল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং ইতালি, জাপান, থাইল্যান্ডসহ আরো কয়েকটি দেশের সঙ্গে অনুরূপ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এসব সমঝোতা স্মারক সম্পাদিত হলে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা ও আভিযানিক দক্ষতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।’
সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এসব উদ্যোগ ভবিষ্যতের নির্বাচিত সরকারও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা।
সেনা সদরের হেলমেট অডিটোরিয়ামে সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণের মতবিনিময় সভার অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে প্রধান উপদেষ্টাকে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লে. জেনারেল এস এম কামরুল হাসান, অভ্যর্থনা জানান।
মতবিনিময় সভায় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাগণ এবং সংশ্লিষ্ট আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্যে রাজধানীর চাঁনখারপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সর্বোচ্চ সাজার আদেশ পাওয়া বাকি দুজন হলেন- ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম।
এ মামলার আট আসামির মধ্যে রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুলকে ৬ বছরের কারাদণ্ড; শাহবাগ থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক আরশাদ হোসেনকে ৪ বছরের কারাদণ্ড এবং ওই থানার তিন পুলিশ কনস্টেবল মো. সুজন হোসেন, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলামকে ৩ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ এ সোমবার এ রায় ঘোষণা করে।
ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
গ্রেপ্তার চার আসামি আরশাদ, সুজন, ইমন ও নাসিরুলকে রায়ের সময় আদালতে হাজির করা হয়। বাকি চার আসামিকে পলাতক দেখিয়ে এ মামলার বিচার কাজ চলে।
বেলা ১১টা ২৭ মিনিটে গ্রেপ্তার চার আসামিকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। ১১টা ৪৭ মিনিটে বিচারকরা এজলাসে ওঠেন এবং ১১টা ৫০ মিনিটে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার রায় পড়া শুরু করেন।
রায় ঘোষণার সময় প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিমসহ অন্য প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন। আসামিদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. আবুল হোসেন, সিফাত হোসেন ও সাদ্দাম হোসেন অভি।
প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগরীর চানখাঁরপুল এলাকায় বাংলাদেশের মুক্তিকামী ছাত্রজনতা যখন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য অগ্রসর হচ্ছিল, সেই সময়ে পুলিশ সেই জায়গায় নির্বিচার গুলি করে ৬ জনকে হত্যা করে। নিহতদের মধ্যে শাহরিয়ার খান আনাস, জুনায়েদসহ ৬ জন রয়েছেন। এ ঘটনার মামলা হয়েছিল। কমান্ড রেসপন্সিবিলিটিতে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং আইজিপি আব্দুল্লাহ আল মামুনের শাস্তি হয়েছে আগে। বাকি অংশে যারা গ্রাউন্ডে কাজ করেছিল তাদের বিচারের জন্য আজকে এই মামলাটি ছিল। সেই মামলাতে আদালত বলেছেন, এই অপরাধীদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ হয়েছে। তারা ক্রাইমস এগেইনস্ট হিউম্যানিটি করেছেন, সেটা প্রমাণিত হয়েছে।
তাজুল বলেন, এসি ইমরুল, ইন্সপেক্টর আরশাদ এবং বাকি তিনজন কনস্টেবল, যারা সরাসরি ফিল্ডে থেকে গুলিবর্ষণ করেছিল, যাদের গুলি বর্ষণ করতে ভিডিওতে দেখা গেছে, যাদের নামে অস্ত্র ইস্যু ছিল না, অথচ তারা অন্যদের রাইফেল নিয়ে গুলি করেছে—তাদেরকে কম সাজা দেওয়া হয়েছে। একজনকে ৬ বছর, একজন ৪ বছর, বাকি তিনজন কনস্টেবলকে ৩ বছর করে সাজা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আদালতে যখন তাদের অফেন্স প্রমাণিত হয়েছে, ক্রাইমস এগেইনস্ট হিউম্যানিটি প্রমাণিত হয়েছে, ওয়াইড স্প্রেড এবং সিস্টেমেটিক অ্যাটাক প্রমাণিত হয়েছে এবং এই আসামিরা তারা প্রকাশ্যে গুলি করেছিল সেটা প্রমাণিত হয়েছে। তাদেরকে যে সাজা দেওয়া হয়েছে, আমরা মনে করি এটা ন্যায়সঙ্গত হয়নি। যদিও আদালতের আদেশ সকলের ওপরেই শিরোধার্য, আমাদেরকে মানতে হবে। যেহেতু একটা আপিলেট ফোরাম আছে, সুপ্রিম কোর্টে এটার বিরুদ্ধে, এই সাজার বিরুদ্ধে, কম সাজা যেটা দেওয়া হয়েছে, সেই অংশটুকুর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আমরা আপিল করব। পুরো রায় পাওয়ার পরে আরও পর্যালোচনা করে প্রসিকিউশন সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান তিনি।
প্রধান প্রসিকিউটর বলেন, যারা সরাসরি গুলিবর্ষণ করেছে, তাদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরে সাজা অল্প হওয়াটা, এটা ন্যায়বিচারের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে আমরা মনে করছি। সে কারণে আমরা মনে করছি যে এটা আপিল করা প্রয়োজন। কিন্তু বাকি তিনজনকে যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, সেটা যথার্থ হয়েছে বলে মনে করি এবং আগেও শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, সেটাও যথার্থ বলে আমরা মনে করেছি।
যাদের মৃত্যুদণ্ড হয়নি তাদের মৃত্যুদণ্ড চাইবেন কিনা প্রশ্ন করা হলে তাজুল বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকে মৃত্যুদণ্ডই চাইব। কারণ হচ্ছে যে, এই অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত ছিল, এটা কোনো সাধারণ মার্ডার নয়। আমরা বারবার যেটা বলার চেষ্টা করছি যে, মার্ডারের ক্ষেত্রে প্রমাণ করতে হবে কার গুলিতে কে মারা গেছে। কিন্তু ক্রাইমস এগেইনস্ট হিউম্যানিটিতে হাজার হাজার রাউন্ড বুলেট নিক্ষিপ্ত হয়েছে। শত শত হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছে। হাজারও মানুষ শহীদ হয়েছে, ১৪০০ শহীদ হয়েছে।
‘সেখানে কার গুলিতে কে মারা গিয়েছে সেটা প্রমাণ করা ক্রাইমস এগেইনস্ট হিউম্যানিটির ক্ষেত্রে প্রয়োজন নেই। এবং সেটা প্রমাণিত না হওয়ার কারণে কেউ সাজার থেকে রেহাই পেতে পারে না—এটা হচ্ছে আইনের বিধান, ইন্টারন্যাশনালি রিকগনাইজড প্রিন্সিপাল। সুতরাং সেই জায়গায় সেন্টেন্সিংয়ের ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে, সেটাকে আমরা মনে করছি এটা ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডের সাথে যাচ্ছে না। সে কারণেই আমরা আপিল করব।
সুজন হোসেনের গুলি করার দৃশ্য দেখা যাওয়ার বিষয়ে তাজুল বলেন, আদালত বলেছেন, সে গুলি করেছে, সে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে, উল্লাস করেছে—সবকিছুই কিন্তু আদালত বলেছেন যেটা প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে পেরেছে। এই ব্যাপারে কিন্তু অপরাধ প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি নেই।
প্রসিকিউশন সাকসেসফুলি এই আসামিদের ইনভলভমেন্ট, তারা কে কী করেছে সবকিছু প্রমাণ করতে পেরেছে। কিন্তু আদালত যেটা বলেছেন, এরা কনস্টেবল ছিল, তাদের সুপিরিয়ররা তাদেরকে কমান্ড করেছে, তারা করতে বাধ্য হয়েছে এবং সুজনের ব্যাপারে বলেছে সে অল্প কিছুদিন আগে এসেছে—এইসব বিবেচনায় তাকে কম শাস্তি দিয়েছে।
তাজুল বলেন, আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে, অনেকেই সেখানে গুলি চালিয়েছে, অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয় নাই। এটি পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। ওইদিন চানখাঁরপুলে ৪০ জন পুলিশ মোতায়েন ছিল।
অবজারভেশন যেটা আছে আমরা দেখে বলব। কারণ হাজার হাজার পুলিশ ছিল, সবার বিরুদ্ধেই তো আর মামলা করা যাবে না। ক্রাইমস এগেইনস্ট হিউম্যানিটিতে আমরা দেখেছি যে সবচেয়ে যারা বেশি এট্রোসাস কাজ করেছে, যারা কমান্ড দিয়েছে, অনেকে নিষ্ক্রিয় দাঁড়িয়ে ছিল। তারা হয়ত এই গ্রুপের মেম্বার ছিল, কিন্তু সবাইকে মামলায় আসামি করাটা হয়তো যুক্তিসঙ্গত না, এটা মনে করেছে প্রসিকিউশন। শুধুমাত্র যারা সরাসরি আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিল তাদের বিরুদ্ধেই ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছিল, তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করা হয়েছিল।
এ ট্রাইব্যুনালেই গত ২০ জানুয়ারি মামলার রায় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রায় প্রস্তুত না হওয়ায় ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান রায়ের জন্য ২৬ জানুয়ারি নতুন তারিখ ঠিক করে দেন।
পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দ্বিতীয় রায় এটি। রায়ের পুরো কর্যক্রম বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
গত বছরের ১৭ নভেম্বর প্রথম রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক মহাপুলিশ পরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের দিন, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট চাঁনখারপুল এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালায় পুলিশ। তাতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন; আহত হন অনেকে।
ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে জমা দেয়। নথিপত্র পর্যালোচনা করে ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ২৫ মে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে তা দাখিল করেন।
অভিযোগ আমলে নিয়ে সেদিন ট্রাইব্যুনাল হাবিবুর রহমানসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, চানখাঁরপুল এলাকায় আসামিরা নিরস্ত্র ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে ছয় জনকে গুলি করে হত্যা করে।
তদন্ত সংস্থা এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তদন্ত প্রতিবেদনটি ৯০ পৃষ্ঠার। প্রতিবেদনে ৭৯ সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। এছাড়া ১৯টি ভিডিও, পত্রিকার ১১টি রিপোর্ট, ২টি অডিও, বই ও রিপোর্ট ১১টি এবং ৬টি ডেথ সার্টিফিকেট সংযুক্ত করা হয়েছে।
দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে নির্বাচন করার পর ধরা পড়লে সংসদ সদস্য পদ হারাতে হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানের মাছউদ। দেশীয় পর্যায়ে পোস্টাল ব্যালটের পরিবর্তন কোনো দলের চাপে আনা হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি আগামীতে ঋণখেলাপিদের গ্যারান্টাররা নির্বাচনে যাতে অংশ নিতে না পারে সে সুপারিশও জানানো হবে বলে জানান তিনি।
সোমবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি তথ্য জানান।
ইসি মাছউদ বলেন, ভোটের স্বচ্ছতার প্রশ্নে ইসি আপস করবে না। এখন পর্যন্ত নির্বাচনি পরিবেশ বজায় আছে। রাজনৈতিক কোনো চাপ অনুভব করছে না ইসি।
সুষ্ঠু এবং সুন্দর পরিবেশে ভালো ভোট হবে আশা প্রকাশ করে ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহবান জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে কোনো চাপ নেই। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন এসেছে।
জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের নির্বাচনের বাইরে রাখার কোনো সুযোগ নেই। কারণ তাদের নিবন্ধন বহাল রয়েছে। আইন অনুযায়ী তারা ভোটে অংশগ্রহণ করতে পারবে। সব প্রার্থীর জন্য আমরা সমান সুযোগ তৈরি করছি।
ঋণখেলাপিদের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরাসরি ঋণ খেলাপিদের প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে গ্যারান্টারদের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী বৈধতা দেওয়া হয়েছে। আদালত যাদের বৈধ ঘোষণা করেছে, নির্বাচন কমিশন আপাতত তাদের বৈধ হিসেবেই গ্রহণ করছে। তবে নির্বাচনের পর কারও অযোগ্যতা প্রমাণিত হলে নির্বাচন কমিশন স্বপ্রণোদিতভাবে বা অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে পারবে।
এদিকে, এদিন ইসিতে নারী কর্মীদের প্রচারের সময় হামলার অভিযোগ জানিয়েছে জামায়াতের একটি প্রতিনিধি দল। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসান মাহবুব জুবায়ের জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ নিয়েও তার অভিযোগ জানিয়েছেন।
সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত হলে সড়ক পরিবহন আইনের আওতায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিধান রয়েছে। এত দিন এই ক্ষতিপূরণের জন্য দুর্ঘটনার ৩০ দিনের মধ্যে ম্যানুয়ালি আবেদন করতে হতো। সোমবার থেকে সেই আবেদনপ্রক্রিয়া চালু হয়েছে অনলাইনে। বিআরটিএর সার্ভিস পোর্টাল (বিএসপি) ব্যবহার করে এখন থেকে অনলাইনে ক্ষতিপূরণের আবেদন করা যাবে। তবে আগের মতোই আবেদন করতে হবে দুর্ঘটনার ৩০ দিনের মধ্যে।
বনানীতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) প্রধান কার্যালয়ে সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ আবেদনপ্রক্রিয়া অনলাইনে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমদ।
বিআরটিএ জানিয়েছে, অনলাইনে আবেদন করতে হলে প্রথমে বিআরটিএ’র সার্ভিস পোর্টাল (বিএসপি)-এ লগইন করতে হবে। এরপর ‘আর্থিক সহায়তা তহবিল’ অপশনে গিয়ে নির্ধারিত আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। ফরম পূরণ শেষে আবেদনকারী একটি একনলেজমেন্ট স্লিপ পাবেন। পরে আবেদনটি যাচাইবাছাইয়ের জন্য পর্যায়ক্রমে সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হবে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিআরটিএ’র পরিচালক (অডিট ও আইন) ও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যসচিব রুবাইয়াৎ-ই-আশিক বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণের জন্য যেসব আবেদন আসে, সেসবের বড় একটি অংশে ফরম সঠিকভাবে পূরণ করা হয় না। আবার অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করা হয় না। ফলে অনেকেই আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন। আজ থেকে অনলাইনে আবেদনপ্রক্রিয়া চালু হলো। যেহেতু নতুন উদ্যোগ, শুরুতে কিছু ত্রুটি থাকতে পারে, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো ঠিক হয়ে যাবে।’
সড়ক পরিবহন আইনের আওতায় দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবার পায় ৫ লাখ টাকা এবং আহত ব্যক্তি পান ৩ লাখ টাকা। তবে এই ক্ষতিপূরণ পেতে দুর্ঘটনার এক মাসের (৩০ দিনের) মধ্যে আবেদন করা বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত সময় পার হলে আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় বলে আইনে উল্লেখ রয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিআরটিএ চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ আবেদনপ্রক্রিয়া সহজ করতেই অনলাইনে আবেদন চালু করা হয়েছে। এই কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চলবে। ক্ষতিগ্রস্তরা যেন বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেই প্রক্রিয়াটি সহজ করা হচ্ছে। বর্তমানে আবেদন করার সময়সীমা ৩০ দিন রয়েছে। এটি বাড়ানোর জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিধিমালা সংশোধন হলে ক্ষতিপূরণ পাওয়া আরও সহজ হবে।’
উল্লেখ্য, সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয় ২০২৩ সালের ১৯ অক্টোবর। বিআরটিএ’র তথ্যমতে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১১৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে ২ হাজার ৬৪১টি চেক বিতরণ করা হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে। এর মধ্যে নিহত ২ হাজার ১৯৫ জন, আহত ৩১৬ জন এবং গুরুতর আহত ১৩০ জনের পরিবার ক্ষতিপূরণ পেয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ’র পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মো. জাকির হোসেন, পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং ও রোড সেফটি) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, পরিচালক (অপারেশন) মীর আহমেদ তারিকুলসহ সংস্থাটির অন্য কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশিদের জন্য মার্কিন ভিসা নিয়ে নতুন তথ্য জানিয়েছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। অভিবাসন ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার পর যুক্তরাষ্ট্র এবার জানিয়েছে, ‘ভিসা বন্ড’ পাইলট প্রোগ্রামের আওতায় সর্বোচ্চ তিন মাস মেয়াদি সিঙ্গেল এন্ট্রি (একবার প্রবেশযোগ্য) ভিসা দেওয়া হবে।
সোমবার ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এক বার্তায় ‘ভিসা বন্ড’ পাইলট প্রোগ্রাম কীভাবে কাজ করবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে।
এর আগে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন ভিসা স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। পরে গত ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ভিসা বন্ড’ তালিকায় যুক্ত করা হয়। বাংলাদেশিদের জন্য এই ভিসা বন্ড কার্যকর হয়েছে ২১ জানুয়ারি থেকে।
ঢাকার মার্কিন দূতাবাস জানায়, ভিসা বন্ড প্রোগ্রামের আওতায় আবেদনকারীদের জন্য যেসব শর্ত প্রযোজ্য হবে, সেগুলো হলো—
ভিসার জন্য অনুমোদন পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ভিসা বন্ড পরিশোধ করতে হবে
ভিসা ইন্টারভিউয়ের পর যোগ্য বিবেচিত হলে কনসুলার কর্মকর্তা pay.gov–এর সরাসরি লিংকসহ পরিশোধের নির্দেশনা দেবেন
সর্বোচ্চ ৩ মাস মেয়াদি সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা দেওয়া হবে
নির্ধারিত কিছু পোর্ট অব এন্ট্রি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে
যুক্তরাষ্ট্রে কাজ না করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরে এলে বন্ডের অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত দেওয়া হবে
ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশ যুক্ত হওয়ায়, বাংলাদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জামানত (ভিসা বন্ড) জমা দিতে হতে পারে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, এই পাইলট প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যারা অবৈধভাবে থেকে যান (ওভারস্টে), তাদের নিরুৎসাহিত করা। যেসব দেশের নাগরিকদের ওভারস্টের হার বেশি, মূলত সেসব দেশকেই এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ভিসা বন্ড প্রদানকারী বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে তিনটি নির্দিষ্ট বিমানবন্দর নির্ধারণ করা হয়েছে। সেগুলো হলো—
বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (BOS)
জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (JFK)
ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (IAD)
নির্ধারিত এসব বিমানবন্দর ছাড়া অন্য কোনো পথে প্রবেশ বা প্রস্থান করলে ভিসা বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হতে পারে, যা অর্থ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করবে।
বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় রয়েছে— আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল ও উগান্ডা। দেশভেদে ভিন্ন ভিন্ন তারিখ থেকে এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে।
ভিসা বন্ড হলো একটি ফেরতযোগ্য আর্থিক জামানত, যা কিছু দেশ নির্দিষ্ট বিদেশি নাগরিকদের সাময়িক ভিসা দেওয়ার আগে গ্রহণ করে। এর মাধ্যমে ভিসার শর্ত, বিশেষ করে থাকার সময়সীমা মেনে চলা নিশ্চিত করা হয়।
প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র হাজারো বিদেশি শিক্ষার্থী, পর্যটক ও কর্মীকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেয়। অনুমোদিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় অবস্থান করলে সেটিকে ভিসা ওভারস্টে বলা হয়।
উল্লেখ্য, অতীতে নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যও ওভারস্টে নিয়ন্ত্রণে ভিসা বন্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছিল, তবে পরে তা বাতিল করা হয়।
ভারতের আদানি পাওয়ারের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আমদানিকৃত বিদ্যুতের জন্য বাংলাদেশকে বাজারমূল্যের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি দাম দিতে হচ্ছে বলে সরকারের গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা কেন্দ্র থেকে সরবরাহ করা এই বিদ্যুতের দাম নিকটতম বেসরকারি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের চেয়ে ৩৯ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি ধরা হয়েছে। ন্যাশনাল রিভিউ কমিটি (এনআরসি) তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে যে, এই প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির হার ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির অন্যান্য চুক্তির তুলনায় সর্বোচ্চ। কমিটির মতে, এ ধরনের চরম মূল্য বৈষম্য মূলত ‘চুক্তির নির্দিষ্ট কিছু শর্তের ফল’ এবং পুরো চুক্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে ‘গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ’ পাওয়া গেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ যে হারে মূল্য পরিশোধ করছে, তা বাস্তবসম্মত দামের চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ আমদানির এই চুক্তিতে আন্তর্জাতিক রীতিনীতি লঙ্ঘনের বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেছে এনআরসি। সাধারণত স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজ নিজ দেশের করপোরেট কর নিজেরাই বহন করার নিয়ম থাকলেও আদানির ক্ষেত্রে সেই দায় বাংলাদেশের ওপর চাপানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদানি পাওয়ার পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্টে প্রচলিত এই রীতির ব্যত্যয় ঘটিয়ে ভারতীয় করপোরেট করের উপাদানটি বাংলাদেশে চার্জ করা হয়েছে, যা এই চুক্তির অত্যন্ত বিতর্কিত একটি দিক। এছাড়া বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ সরবরাহের ১০ শতাংশের বেশি জোগান দেওয়া এই কেন্দ্রটি ‘অতিরিক্ত দামে’ কয়লা ব্যবহার করছে বলেও কমিটি তাদের পর্যালোচনায় জানিয়েছে।
বিদ্যমান এই সংকট নিরসনে প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট চুক্তিগুলো পুনরায় পর্যালোচনার সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে ‘সবচেয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিকর শর্তগুলো পুনরায় আলোচনার সুযোগ’ খুঁজে বের করা সম্ভব হয়। অন্যদিকে, আদানি পাওয়ার এই প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে দাবি করেছে যে, কমিটি তাদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করেনি কিংবা প্রতিবেদনের কোনো অনুলিপিও প্রদান করেনি। তবে বড় অংকের বকেয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কোম্পানিটি জানিয়েছে যে, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তারা বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রেখেছে। বকেয়া পরিশোধের তাগিদ দিয়ে তারা বলেছে, ‘আমাদের কার্যক্রমে প্রভাব পড়ছে। তাই আমরা বাংলাদেশ সরকারকে দ্রুত আমাদের বকেয়া পরিশোধের আহ্বান জানাচ্ছি।’ গত ২০ জানুয়ারি প্রস্তুতকৃত এনআরসি-র এই শ্বেতপত্রটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি।
দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখে জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধার এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ইনসাফ মঞ্চ’। সোমবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই নতুন মঞ্চের ঘোষণা দেন এই প্লাটফর্মের আহ্বায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. শামীম কামাল।
সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশ এক গভীর ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছে, যেখানে জনগণের সার্বভৌমত্ব, কর্মসংস্থান, অর্থনীতি ও মৌলিক অধিকার নানাবিধ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এমতাবস্থায় হারানো অধিকার ফিরিয়ে আনা ও জাতীয় মর্যাদা সমুন্নত রাখার লক্ষ্যেই মূলত ইনসাফ মঞ্চ গঠিত হয়েছে।
এই প্ল্যাটফর্মের প্রধান লক্ষ্য হলো— ‘ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, মৌলিক মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, সম্মানজনক কর্মসংস্থান এবং ন্যায়ভিত্তিক রাজনৈতিক ও নির্বাচনী ঐক্য গড়ে তোলা।’ ইনসাফ মঞ্চ স্পষ্ট করেছে যে তারা কোনো প্রচলিত রাজনৈতিক জোটের বিকল্প হতে চায় না, বরং বর্তমান প্রেক্ষাপটে জনগণের ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে এবং নৈতিক রাজনীতি ও ভোটাধিকার রক্ষায় এটি একটি স্বতন্ত্র ও নির্বাচনকালীন ঐক্য হিসেবে সক্রিয় থাকবে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সম্ভাব্য গণভোটকে সামনে রেখে নিবন্ধিত দল, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও গণতান্ত্রিক শক্তির সমন্বয়ে এই মঞ্চের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। মঞ্চের নেতৃবৃন্দের মতে, ‘নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পালাবদলের প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি সাংবিধানিক মাধ্যম।’
একটি সুশৃঙ্খল ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর অধীনে পরিচালিত এই মঞ্চের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও নৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্বে থাকবেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. শামীম কামাল। সৎ ও দেশপ্রেমিক প্রার্থী উপস্থাপন, ডিজিটাল ও প্রথাগত মাধ্যমে সমান সুযোগভিত্তিক নির্বাচনী সহায়তা প্রদান এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধ অনুসরণ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে এই নতুন জোটের পক্ষ থেকে। একইসঙ্গে বাজার সিন্ডিকেট, দুর্নীতি ও বেকারত্বের মতো জনদুর্ভোগের কারণগুলোর পাশাপাশি যেকোনো আধিপত্যবাদী প্রভাবের বিরুদ্ধে জনগণের স্বার্থে সোচ্চার হওয়ার ঘোষণাও এসেছে।
মঞ্চের প্রতিটি প্রার্থীর ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কথা জানিয়ে ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে যে, ইনসাফ মঞ্চ কোনো সহিংসতা, অনৈতিক আচরণ বা অবৈধ রাজনীতির দায়ভার গ্রহণ করবে না। বিভাজনের বদলে ঐক্যের রাজনীতি এবং ব্যক্তিপূজা পরিহার করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই তাদের মূল দর্শন। মঞ্চের ভাষায়, ‘শুধু ভোটাধিকার নয়, মানুষের সার্বিক অধিকারের ইনসাফ নিশ্চিত করাই মঞ্চের লক্ষ্য।’
জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এই আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে শামীম কামালের পাশাপাশি সম্মিলিত গণতান্ত্রিক জোটের চেয়ারম্যান গাজী মুস্তাফিজ, গণমুক্তি জোটের চেয়ারম্যান ড. শাহরিয়ার ইফতেখার, শিক্ষাবিদ মোমেনা খাতুন এবং গণ আজাদী লীগের চেয়ারম্যান আতাউল্লাহ খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।