বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
২৬ চৈত্র ১৪৩২

সংস্কার সংক্ষিপ্ত হলে নির্বাচন ডিসেম্বরে বৃহত্তর হলে জুনে: প্রধান উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কর্মসূচির প্রতি জাতিসংঘ মহাসচিবের পূর্ণ সমর্থন
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন। ছবি: পিআইডি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৪ মার্চ, ২০২৫ ২১:৩৬

অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি ‘সংক্ষিপ্ত সংস্কার প্যাকেজ’ নিয়ে একমত হয়, তবে নির্বাচন ডিসেম্বরেই হতে পারে। তবে, তারা যদি ‘বৃহৎ সংস্কার প্যাকেজ’ গ্রহণ করে, তাহলে নির্বাচন আগামী বছরের জুনে অনুষ্ঠিত হবে।

শুক্রবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ঢাকায় সফররত জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সাক্ষাতে এলে আলোচনাকালে ড. ইউনূস এ কথা বলেন।

জাতিসংঘ মহাসচিবকে এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনার আসার জন্য এর চেয়ে ভালো সময় আর হতে পারত না। আপনার সফর কেবল রোহিঙ্গাদের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের জন্যও সময়োপযোগী’।

তিনি গুতেরেসকে সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত ছয়টি সংস্কার কমিশনের রিপোর্টের বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রায় ১০টি রাজনৈতিক দল তাদের মতামত জমা দিয়েছে।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, দলগুলো ছয়টি কমিশনের সুপারিশগুলোর সঙ্গে একবার একমত হলে, তারা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে, যা দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পাশাপাশি রাজনৈতিক, বিচারিক, নির্বাচনসংক্রান্ত, প্রশাসনিক, দুর্নীতি দমন এবং পুলিশ সংস্কারের একটি রূপরেখা হবে।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে নেওয়া সংস্কার কর্মসূচির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আশাপ্রকাশ করেন, সংস্কারগুলো একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং দেশের প্রকৃত রূপান্তর ঘটাবে। পাশাপাশি দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে কক্সবাজারে বসবাসরত দশ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

চার দিনের সফরে বৃহস্পতিবার ঢাকায় আসেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিব অধ্যাপক ইউনূসকে বলেন, ‘আমি সংস্কার কর্মসূচির প্রতি আমাদের সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করতে চাই। আমরা আপনাদের সংস্কার প্রচেষ্টাকে সমর্থন দিতে এখানে এসেছি। আমরা আপনাদের সর্বোত্তম সফলতা কামনা করি। যেকোনো সহযোগিতা লাগলে আমাদের জানান।’

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে এই সংস্কার প্রক্রিয়া একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং দেশের একটি ‘বাস্তব রূপান্তর’ নিশ্চিত করবে। তিনি বলেন, ‘আমি জানি যে সংস্কার প্রক্রিয়াটি জটিল হতে পারে’।

গুতেরেস বলেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে তিনি রমজান মাসে বাংলাদেশে এসেছেন।

কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে বসবাসরত ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য মানবিক সহায়তা হ্রাস নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, ‘পৃথিবীতে এতটা বৈষম্যের শিকার অন্য কোনো জনগোষ্ঠী আমি দেখিনি’। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের ভুলতে বসেছে’।

‘মানবিক সহায়তা হ্রাস করা একটি অপরাধ’ উল্লেখ করে আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো এখন প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় দ্বিগুণ করছে, কিন্তু তখন আবার বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তা সংকুচিত হচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি জাতিসংঘের ‘অপরিসীম কৃতজ্ঞতা’ প্রকাশ করেন গুতেরেস। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের প্রতি অত্যন্ত উদারতা দেখিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী আমার জন্য একটি বিশেষ বিষয়’।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস জাতিসংঘ মহাসচিবের সহযোগিতা চান, যাতে রোহিঙ্গারা সম্মানের সঙ্গে তাদের জন্মভূমি মিয়ানমারের পশ্চিম রাখাইন রাজ্যে ফিরে যেতে পারে। তিনি বলেন, যতদিন তারা বাংলাদেশে অবস্থান করছে ততদিন পর্যন্ত তাদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য ও মানবিক সহায়তা যেন নিশ্চিত করা যায়।

ড. ইউনূস বলেন, আমরা রোহিঙ্গাদের দুর্দশার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছি। বিশ্বকে জানতে হবে তারা কতটা কষ্ট পাচ্ছে। তাদের মধ্যে একটা হতাশার অনুভূতি রয়েছে’।

জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, তিনি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন এবং তাদের জন্য সহায়তা সংগ্রহকে অগ্রাধিকার দেবেন।

গুতেরেস বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন।

বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীর কার্যক্রম ‘অসাধারণ’ এবং বাংলাদেশ ন্যায়সঙ্গত বিশ্ব প্রতিষ্ঠার অগ্রভাগে রয়েছে উল্লেখ করে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনী আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’।

অধ্যাপক ইউনূসও বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের প্রশংসা করে বলেন, এই মিশনে কাজ করার ফলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এক অনন্য অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। তিনি বলেন, ‘শান্তিরক্ষী বাহিনীতে কাজ করা আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ’।

বৈঠকে ভূ-রাজনীতি, সার্কের বর্তমান অবস্থা এবং বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশেগুলোর সম্পর্কের বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। অধ্যাপক ইউনূস দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক ফোরামকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য তার প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ আসিয়ানের সদস্য হতে চায়।

প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের চট্টগ্রাম অঞ্চলে একাধিক বন্দর নির্মাণ প্রকল্প সম্পর্কেও কথা বলেন, যা নেপাল ও ভুটানসহ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে দেশকে ‘একটি অর্থনৈতিক কেন্দ্র’ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন ও জাপানসহ প্রায় প্রতিটি দেশের সমর্থন পেয়েছে।

অর্থনীতি প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তার সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে ধ্বংসপ্রাপ্ত ও ভঙ্গুর ব্যাংকিং খাত, সংকোচিত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেঙে পড়া অবস্থায় পেয়েছে।

তিনি বলেন, ‘অর্থনীতি এখন সুসংহত হয়েছে। রপ্তানি কয়েক মাস ধরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও ভালো অবস্থানে রয়েছে’।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অর্থনীতি এমনভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আগামী বছর স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বেরিয়ে আসবে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, ‘আমরা এলডিসি উত্তরণের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছি’।

তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের শাসনামলে লুটপাট হওয়া কয়েকশ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ফেরত আনার জন্য সরকার চেষ্টা করছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, আগের সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনীতির ভঙ্গুর পরিস্থিতি তাকে ১৯৭৪ সালের পর্তুগালের বিপ্লবী দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়।

বৈঠকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলিসংক্রান্ত হাই রিপ্রেজেনটেটিভ ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজিবিষয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।

জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রাবাব ফাতিমা ও বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গুইন লুইসও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।


পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূতের সাক্ষাৎ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের স‌ঙ্গে সাক্ষাৎ ক‌রে‌ছেন ঢাকা সফররত যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত ব্যারোনেস রোজি উইন্টারটন।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বুধবার ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারা কুকের আয়োজিত নৈশভোজে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশবিষয়ক বাণিজ্য দূত ব্যারোনেস রোজি উইন্টারটনের সঙ্গে সাক্ষাৎ ক‌রেন।

আলোচনায় উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী ও গভীর করতে একসঙ্গে কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ আনোয়ার ইব্রাহিমের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সুবিধাজনক সময়ে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের শুরুতে আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দীর্ঘ সংগ্রাম এবং এর অব্যাহত অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আনোয়ার ইব্রাহিমকে শুভেচ্ছা জানান এবং একটি বিশেষ চিঠি হস্তান্তর করেন।

বৈঠকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়। শ্রমিকদের শোষণ রোধে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং দক্ষ নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে উভয় পক্ষই তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকারে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়। উভয় দেশই পারস্পরিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। এছাড়া শিক্ষাক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা হয়।

উভয় পক্ষই বর্তমানে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক গতিপথে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেন।


কর্ম হারিয়ে দেশে আসা প্রবাসীদের নতুন কর্মসংস্থানের চেষ্টা করছি: শামা ওবায়েদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কর্ম হারিয়ে দেশে ফিরে আসা প্রবাসীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশে আসা নিহত প্রবাসী শাহ আলমের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের সময় এই কথা জানান তিনি।

শামা ওবায়েদ বলেন, ‘নিহত প্রবাসীর লাশ কুমিল্লায় নিয়ে যেতে এবং দাফনের জন্য প্রবাসী সরকার খরচ দেবে। সরকার পাশে রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা হলে সেটাও দেখা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ চায় এই যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ হোক এবং ডিপ্লোমেসির মাধ্যমে বিশ্বে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে সে সমস্যার সমাধান হোক।’

কিরগিস্তানে আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের নিরাপদে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে।’

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে যারা মারা যাচ্ছেন, তাদের লাশ পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যেসব বাংলাদেশি প্রবাসী আটকা পড়েছে তাদের ভিসা সংক্রান্ত জটিলতাসহ অন্যান্য সমস্যা বাংলাদেশ সরকার দেখছে। ওইসব দেশে যারা কর্মরত রয়েছেন তারা যেন আবার ফেরত যেতে পারে, তাদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টিও আমরা দেখছি।’

প্রত্যাগত শ্রমিকদের পুনর্বাসন ও নতুন কর্মসংস্থানের বিষয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘সরকারের ম্যানুফেস্টোতেই রয়েছে, আরও বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করা। যারা কর্ম হারিয়ে বাংলাদেশে ফেরত আসছেন, তাদের পুনর্বাসনের বিষয়ে চেষ্টা করছি। এছাড়া যারা ফেরত যেত চায়, তাদের বিষয়েও কিন্তু আমরা সচেষ্ট রয়েছি। বিদেশে নতুন নতুন কর্মসংস্থান কীভাবে তৈরি করা যায়, সে বিষয়ে কাজ করছি।’


প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফর নিয়ে গুজব না ছড়ানোর আহ্বান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য রাষ্ট্রীয় সফরের দিন-তারিখ ও সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তিনি প্রথমে কোন দেশ সফর করবেন, সেটিও নির্ধারিত হয়নি।

বুধবার রাতে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

সম্প্রতি এ বিষয়ে কয়েকটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী প্রথমেই ভারত সফর করবেন।

এ প্রসঙ্গে আতিকুর রহমান রুমন বলেন, এসব তথ্য ভিত্তিহীন এবং এর কোনো সত্যতা নেই। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে এমন গুজব না ছড়ানোরও অনুরোধ করেন।

আতিকুর রহমান রুমন আরও বলেন, সরকারি সূত্র থেকে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হলে তা যথাসময়ে জানানো হবে।


সরকার পাটজাত পণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে: বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার পাটজাত পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি ও রপ্তানি বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) পিএলসি এর মাধ্যমে রপ্তানিযোগ্য বহুমুখী পাটজাত পণ্য উৎপাদনের জন্য ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সংসদে নওগাঁ-৬ আসনের সরকারি দলের সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলামের টেবিলে উপস্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বৈচিত্র্য, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং কাঁচাপাটের গুণগতমান উন্নয়নে ঢাকা ও খুলনার দুটি পাটপণ্য পরীক্ষাগার আধুনিকায়ন এবং উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও বীজ উৎপাদন সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মানসম্মত পাটজাত পণ্য রপ্তানি বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া পাটজাত পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধিতে উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক রপ্তানিকারকদের নগদ ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে ১৩৮টি দেশে পাটজাত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা হয়। দেশগুলো হলো- চীন, ইরান, স্পেন, বেলজিয়াম, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালি, পাপুয়া নিউগিনি, তুরস্ক, মিশর, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, ভারত, নিউজিল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, জাপান, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, লিবিয়া, ডেনমার্ক, ব্রাজিল, হল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, হাঙ্গেরি, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, চিলি, রোমানিয়া, কানাডা, পেরু, শ্রীলংকা, রাশিয়া, পোল্যান্ড, ভিয়েতনাম, উজবেকিস্তান, নেপাল, তিউনেশিয়া, আইভরি কোস্ট, থাইল্যান্ড প্রমুখ।

তিনি জানান, পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) পিএলসি দেশের বাহিরে বিভিন্ন মেলা, সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়ামে অংশগ্রহণ করছে। এছাড়া উদ্যোক্তাদের রপ্তানির সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বহুমুখী পাটপণ্য রপ্তানি বিষয়ক প্রশিক্ষণ, এক্সপোর্ট ডকুমেনটেশন প্রশিক্ষণ, এক্সপোর্ট সার্টিফিকেশন, ডিজাইন ডেভলপমেন্ট, প্রডাক্ট ডেভলপমেন্ট, পণ্যের গুণগতমান উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, সচেতনতা কর্মশালা, ক্রেতা-বিক্রেতা সম্মেলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে ফলে পাটজাত পণ্যের রপ্তানি দিন দিন বাড়ছে।

মন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থ-বছরে পাটপণ্য রপ্তানির পরিমাণ ৭ লাখ ৫১ হাজার ৭৩৯ টন এবং ২০২৫-২৬ অর্থ-বছরে জুলাই-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাটপণ্য রপ্তানির পরিমাণ ৪ লাখ ৯ হাজার ৩৬৬ টন।


বরিশাল-ভোলা সড়কে হচ্ছে দীর্ঘতম সেতু, দক্ষিণাঞ্চলে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

* দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ১১ কিলোমিটার * সম্ভাব্য ব্যয় ১৭ হাজার ৪৬৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বরিশাল-ভোলা সড়কে কালাবাঁদর ও তেঁতুলিয়া নদীর ওপর ভোলা সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি পিপিপির ভিত্তিতে গ্রহণের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটি। এ সেতুর দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ১১ কিলোমিটার। সংশ্লিষ্টরা বরছেন, এই সেতু বাস্তবায়ন হলে শুধু যোগাযোগই নয়, খুলে যাবে দক্ষিণাঞ্চলের সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।

প্রকল্পটির সম্ভাব্য নির্মাণ ব্যয় ১৭ হাজার ৪৬৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা। নির্মাণের পর এটিই হবে দেশের সবচেয়ে বড় সেতু। বুধবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ ভবনে এই কমিটির সভা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সভা সূত্রে জানা গেছে, ভোলা জেলার সঙ্গে বরিশালসহ ঢাকার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ১০.৮৬৭ কি.মি. দীর্ঘ সেতু (৪-লেন) এবং ১৮.০৭৫ কি.মি. দীর্ঘ নদীর তীর রক্ষামূলক কাজ করা হবে।

সম্ভাব্য সমীক্ষায় প্রকল্পটি অর্থনৈতিক দিক থেকে প্রহণযোগ্য প্রতীয়মান হওয়ায় প্রকল্পটি পিপিপি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।

প্রকল্পটির সম্ভাব্য নির্মাণ ব্যয় ১৭ হাজার ৪৬৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা। সেতুটি চালু হওয়ার পর ২০৩৩ সালে এ সেতু দিয়ে দৈনিক প্রায় ৪,৯৯৬টি যানবাহন চলাচল করবে এবং ২০৬২ সালে ৪১ হাজার ৮৬৫টি যানবাহন চলাচল করবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৫০৭.৫ একর জমি অধিগ্রহণ এবং ইউটিলিটিজ স্থানান্তর বাবদ সকল ব্যয় সরকারের খাত হতে নির্বাহ করা হবে।

ভোলা বাংলাদেশের একমাত্র দ্বীপজেলা যা সম্পূর্ণভাবে নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন। বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুরসহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে এর যোগাযোগ নির্ভর করে নৌপথের ওপর।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বরিশাল দক্ষিণাঞ্চলের মূল নগরী হলেও ভোলা থেকে সরাসরি কোনো সড়ক বা রেল সংযোগ নেই। এই পরিস্থিতিতে ভোলা-বরিশাল সেতু একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে। বর্তমানে ভোলা থেকে বরিশাল যেতে নৌপথে দীর্ঘ সময় ব্যয় হয়, যা সাধারণ মানুষের জন্য সময় ও অর্থ দুইয়েরই অপচয়। ভোলা থেকে বরিশাল যেতে বর্তমানে ফেরি বা লঞ্চ ব্যবহার করতে হয়, যেখানে সময় লাগে প্রায় ২ থেকে ৩ ঘণ্টা। সেতু নির্মাণ হলে এই সময় কমে দাঁড়াবে মাত্র ১০-২০ মিনিটে। ফলে সহজতর হবে রোগী পরিবহন, জরুরি সেবা ও পণ্য পরিবহন। শিক্ষার্থীরা দ্রুত বরিশাল বা ঢাকায় পৌঁছাতে পারবে, উন্নত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে আগ্রহী হবে।

তারা আরো বলেন, সেতু হলে এসব এলাকাতে সহজে ও স্বল্প খরচে যাওয়া সম্ভব হবে। এতে পর্যটকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। যেখানে পর্যটক, সেখানে অর্থনীতি। সেতু হলে স্থানীয় পর্যায়ে হোটেল, রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট, গাইড সার্ভিস, নৌভ্রমণ, লোকাল হ্যান্ডিক্র্যাফট বিক্রি—এইসব খাতে কর্মসংস্থান তৈরি হবে। স্থানীয় মানুষের জীবিকা উৎস ও আয় বাড়বে। বিশেষ করে নারীদের জন্য হস্তশিল্প বা হোম-কিচেন ভিত্তিক উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ বাড়বে। নতুন ব্যবসা, দোকানপাট, পরিবহন সার্ভিস তৈরি হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি সেতু সংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠতে পারে নতুন আবাসিক ও বাণিজ্যিক জোন। এতে ভোলা-বরিশালকে ঘিরে একটি নতুন আর্থিক অঞ্চল তৈরি হবে।


ভূ-রাজনীতি ও পরিবেশ সংকটের যোগসূত্র তরুণ প্রজন্মকে বুঝতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, পরিবেশের সমস্যা কেবল একটি অর্থবছরের বা পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার বিষয় নয়, এটি মানব সভ্যতার অস্তিত্বের সংকট। তিনি তরুণ প্রজন্মকে নিছক একাডেমিক জ্ঞানার্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সমসাময়িক বিশ্ব রাজনীতি, জ্বালানি সংকট এবং পরিবেশের মধ্যকার গভীর যোগসূত্র অনুধাবন করার আহ্বান জানান।

বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন) আয়োজিত ‘সবুজ জ্বালানি অলিম্পিয়াড ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, পরিবেশগত সমস্যাগুলো অনেক সময় দৃশ্যমান হয় না বলে সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হওয়ার আগে এর ভয়াবহতা বুঝতে পারে না। এমনকি বিশ্বের অনেক ক্ষমতাধর রাষ্ট্রনায়কও বিজ্ঞানকে চ্যালেঞ্জ করে জলবায়ু পরিবর্তনের সত্যকে অস্বীকার করেছেন। এই পরিস্থিতিতে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করা এবং সেই সচেতনতাকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

বিশ্বের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, হরমুজ প্রণালীর সংকটের কারণে বিশ্ব আজ জ্বালানি ও অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে পড়েছে। আমাদের আমদানি-নির্ভর জ্বালানি নীতি ও বাণিজ্যিক ঘাটতি অর্থনীতিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারক হিসেবে আজকের তরুণদের বুঝতে হবে যে, জ্বালানি উৎপাদনের উৎসের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার রক্তাক্ত চেহারা আসলে কেমন।

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ শিল্প’ এবং উগ্র জাতীয়তাবাদ কীভাবে বিশ্ব রাজনীতিকে প্রভাবিত করে এবং পরিবেশের ক্ষতি করে, তা তরুণদের জানতে হবে। পরিবেশ বিজ্ঞানের জ্ঞানকে সামাজিক ও রাজনৈতিক ইকোসিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করতে পারলে তা প্রয়োগযোগ্য জ্ঞানে রূপান্তরিত হবে।

অনুষ্ঠানে সবুজ জ্বালানি অলিম্পিয়াডের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং পরিবেশ রক্ষা নিয়ে তরুণদের এই আগ্রহ একটি টেকসই বাংলাদেশ গড়ার পথে বড় শক্তি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিভিন্ন বিভাগের সরকারি কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

উল্লেখ্য, দুদিনের এই অলিম্পিয়াডে লিখিত পরীক্ষা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং উপস্থিত বক্তৃতার মাধ্যমে সেরা বিজয়ীদের নির্বাচন করা হবে।


আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদকে আবেদন 

আপডেটেড ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০০:১৩
নিজস্ব প্রতিবেদক  

আট মাসে অবৈধ প্রক্রিয়ায় ২৮৬ সাব-রেজিস্ট্রার বদলি করে শতকোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও তার পিএস মাসুমের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চেয়ে দুদকে আবেদন করেছেন ব্যারিস্টার সরোয়ার হোসেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুর্নীত দমন কমিশনে (দুদক) এ আবেদন করা হয়। বিষয়টি ব্যারিস্টার সরোয়ার হোসেন নিজেই নিশ্চিত করেছেন।

আবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন সাব-রেজিস্ট্রার বদলি ও পদায়নে ব্যাপক অনিয়ম, ঘুষ লেনদেন ও নীতিমালা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে সাব-রেজিস্ট্রারদের পছন্দের কর্মস্থলে বদলি দিতে জনপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে মোট লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি টাকা হতে পারে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, নিবন্ধন অধিদপ্তরের ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে অন্তত ২৮২ জনকে বদলি করা হয়, যার মধ্যে অন্তত ২০০ জন ঘুষের মাধ্যমে পছন্দের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বদলি নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অতীতে মাত্র আট মাসে এত বিপুলসংখ্যক বদলির নজির নেই বলেও আবেদনে দাবি করা হয়।

আবেদনে আরও বলা হয়, বদলির নীতিমালা অনুযায়ী এ, বি ও সি গ্রেডের অফিসে একই গ্রেডের কর্মকর্তাদের পদায়ন করার বিধান থাকলেও তা মানা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, ঘুষের বিনিময়ে সি ও বি গ্রেডের সাব-রেজিস্ট্রারদের এ গ্রেডের অফিসে পদায়ন করা হয়েছে। এমনকি যোগদানের আগের দিনও বদলির আদেশ পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়, বদলি-বাণিজ্যের মাত্রা এতটা বেড়ে যায় যে গত বছরের ১ জুন আইন মন্ত্রণালয় নিজেই একটি সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে বলা হয়, জেলা রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রার বদলি-পদায়নে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই এবং এ ধরনের প্রতারণা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়। তবে আবেদনকারীর দাবি, ওই বিজ্ঞপ্তি জারির আগেই শত শত বদলিতে বিপুল অঙ্কের ঘুষ লেনদেন হয়ে যায়।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট আইন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আসিফ নজরুল একাধিক জেলা রেজিস্ট্রারের পদোন্নতি ও বদলির আদেশ দেন। পরে ২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় ১৭ জন সাব-রেজিস্ট্রারকে বদলি করা হয়। সেই আদেশেই নীতিমালা ভঙ্গ করে কয়েকজনকে গ্রেডের বাইরে পদায়ন করা হয় বলে অভিযোগ।

আবেদনে উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, নীলফামারীর জলঢাকার সাব-রেজিস্ট্রার মনীষাকে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে বদলি করা হয়। পরে চার মাসের মধ্যে তাকে আবার দিনাজপুরের হাকিমপুরে বদলি করা হয়। কিন্তু যোগদানের আগের দিনই আবার তাকে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ধরনের অনেক উদাহরণ রয়েছে বলেও আবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন তার আবেদনে অভিযোগ করেন, আইন উপদেষ্টার পিএস শামসুদ্দিন মাসুমের মাধ্যমে এসব ঘুষ লেনদেন পরিচালিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বদলি-বাণিজ্যের বাইরে ‘অনুরোধ’ ও ‘নির্দেশ’-বাণিজ্যের মাধ্যমেও সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি যথাযথভাবে অনুসন্ধান করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুদকের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, এ বিষয়ে যদি ইতোমধ্যে দুদক কোনো অনুসন্ধান শুরু করে থাকে, তাহলে সে তথ্য আবেদনকারীকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।


অতীত সরকার যা করে গেছে, আইন অনুযায়ীই তার ফয়সালা হবে: চিফ হুইপ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সন্ত্রাসবিরোধী আইন পাস ও ন্যায়বিচার প্রসঙ্গে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেছেন, আইন অনুযায়ী দেশের সব মানুষের বিচার হবে। যিনি দোষ করেছেন তার বিচার হবে, নির্দোষ হলে হবে না। আমরা কোনো প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না। অতীত সরকার যা করে গেছে, আইন অনুযায়ীই তার ফয়সালা হবে। বুধবার (৮ এপ্রিল) সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

চিফ হুইপ বলেন, বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন প্রতিশোধপরায়ণ রাজনীতি পরিহারের দর্শন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন- ‘আমরা ভালোবেসে মানুষের হৃদয় জয় করব’। তারেক রহমান মনে করেন- তিনি বাংলাদেশের সব মানুষের প্রধানমন্ত্রী। যারা তাকে ভোট দিয়েছে এবং ভোট দেয় নাই, উনি সবারই প্রধানমন্ত্রী। আইনের শাসনের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং কেউ অপরাধী প্রমাণিত হলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী বিচার হবে, দল বিবেচনায় নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হবে না।

সংসদে বিল পাসের গতি নিয়ে তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পাসের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা ৪৪টি অধ্যাদেশ বিল আকারে পাস করেছি।

জনগণের দেওয়া আমানতের মর্যাদা রক্ষায় সংসদ সদস্যরা কঠোর পরিশ্রম করছেন উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, সংসদ বর্তমানে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৩ অনুযায়ী নির্ধারিত ৩০ দিনের সময়সীমার মধ্যে ১৩৩টি অধ্যাদেশ পাশ করার চাপে রয়েছে। ইতোমধ্যে ৪৪টি অধ্যাদেশ পাশ করা হয়েছে। দ্রুত অগ্রগতির জন্য একাধিক অধ্যাদেশকে একীভূত করে বিল আকারে উত্থাপন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়সীমার ভিতর অধ্যাদেশগুলো পাশ করার জন্য সংসদে বসবে অতিরিক্ত অধিবেশন; প্রয়োজনে শুক্রবারও দুই বেলা অধিবেশন বসতে পারে।

এর আগে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সংসদীয় দলের বৈঠকের বিষয়ে চিফ হুইপ বলেন, সংসদীয় দলের বৈঠক নিয়মিত একটি প্রক্রিয়া। সেখানে সংসদে সদস্যদের করণীয় এবং আগামী দিনের কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

এদিকে, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে রাজপথের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ও ত্যাগী নেত্রীরাই অগ্রাধিকার পাবেন বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, যারা রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত এবং সংসদে ভূমিকা রাখতে পারবেন, এমন নেত্রীদেরই সংসদ নেতা খুঁজে বের করবেন।

চিফ হুইপ বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, নারীরা সংসদে আসুক। যত দ্রুত আসে ততই লাভ। নারীদের ক্ষমতায়নের জন্যই আমরা ফ্যামিলি কার্ড করেছি।

রাজনীতিতে যারা দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত এবং সংসদে কন্ট্রিবিউট করতে পারেন, তাদেরই আমরা অগ্রাধিকার দেব। আমি মনে করি সংসদ নেতার সিদ্ধান্ত নির্ভুল হবে এবং তিনি সব সেকশনের রিপ্রেজেন্টেশন নিশ্চিত করবেন।


হাদি হত্যার দুই আসামিকে ফেরত দেবে ভারত, হাসিনা-কামালকে হস্তান্তরের অনুরোধ  

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান শরিফ হাদি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ২ আসামিকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে ভারত। একই সঙ্গে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ভিসা, বিশেষ করে চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক ভিসা সহজ করার আশ্বাস দিয়েছে দেশটি। বুধবার (৮ এপ্রিল) নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এ কথা জানান।

এ বিষয়ে বুধবার (৮ এপ্রিল) ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও তার প্রতিনিধিদলকে আতিথ্য দিতে পেরে আনন্দিত। তিনি বলেন, আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা করেছি। এছাড়াও আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ঘটনাবলি নিয়ে মতবিনিময় করেছি। ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে সম্মত হয়েছি।

এদিকে, নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৈঠকে ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করার জন্য ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান খলিলুর রহমান।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী গ্রেপ্তার দুজনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে উভয়পক্ষ সম্মত হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও ছিলেন। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে দিল্লি সফরে গেছেন।

২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে যে টানাপড়েন তৈরি হয়, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর সম্পর্কের সেই বরফ গলার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রী হিসেবে ভারত সফরে গেলেন খলিলুর রহমান। এই ‘শুভেচ্ছা’ সফরে গত মঙ্গলবার দিল্লি পৌঁছান তিনি।

বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে হায়দরাবাদ হাউসে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসেন নিজেদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে। তার আগে সকালে ভারতের কয়েকজন সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ সভায় যোগ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বিকেলে ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে তার বৈঠক হয়।

পারস্পরিক মর্যাদা ও আস্থার ভিত্তিতে দীর্ঘ মেয়াদে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা নিয়ে ভারতে যাওয়ার প্রথম দিনেই দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন খলিলুর রহমান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার আগে অন্তর্বর্তী সরকার আমলে খলিলুর রহমানও বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন।

কূটনৈতিক সূত্র বলছে, ড. খলিলুর রহমানের সফরে জ্বালানি সহায়তা, ভারতের পর্যটন ভিসা চালু, গঙ্গা চুক্তি নবায়ন, জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, বাণিজ্য সম্পর্কিত ইস্যুগুলো প্রাধান্য পায়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও আলোচনা হয়।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জয়শঙ্কর এবং খলিলুর রহমান সকালে মরিশাসের উদ্দেশে দিল্লি ছাড়বেন। ১১ ও ১২ এপ্রিল মরিশাসের রাজধানী পোর্ট লুইসে এই সম্মেলন হবে। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও এসব বৈঠকে যোগ দেবেন।

কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, কনফারেন্সে যোগ দিতে একই ফ্লাইটে রওনা হবেন জয়শঙ্কর এবং খলিলুর রহমান। প্রায় ১০ ঘন্টার ফ্লাইটে দ্বিপক্ষীয় নানা বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে পারেন।


রাজধানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন পরীক্ষামূলক ক্লাস চালুর পরিকল্পনা, আগ্রহী শিক্ষার্থীরাও

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, যানজট নিরসন এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে রাজধানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সমন্বিত পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীরাও আগ্রহ প্রকাশ করছে। বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক আলোচনায় এ আগ্রহের কথা জানান তারা।

শিক্ষার্থীরা বলছে, প্রতিদিন দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকার কারণে তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ক্লাসে পৌঁছতে দেরি হওয়ায় পড়াশোনায়ও ব্যাঘাত ঘটছে। এছাড়া যাতায়াতের জন্য অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহারের ফলে ব্যক্তিগত খরচ যেমন বাড়ছে, তেমনি জাতীয় পর্যায়েও চাপ তৈরি হচ্ছে।

বুধবার দুপুরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে ‘বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়’ বিষয়ক সেমিনারে এ কথা বলেন তারা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই সেমিনার আয়োজন করা হয়।

সেমিনারে শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলেন, সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে অনলাইন ক্লা চালু করা হলে- তা নগর জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে যানবাহনের চাপ কমবে, জ্বালানি সাশ্রয় হবে এবং শিক্ষার্থীদের সময় ব্যবস্থাপনাও সহজ হবে। তবে তারা একই সঙ্গে উল্লেখ করেন, অনলাইন শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সব শিক্ষার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি।

অভিভাবকরা বলছেন, পুরোপুরি অনলাইন না হলেও হাইব্রিড পদ্ধতি—অর্থাৎ কিছু ক্লা অনলাইনে ও কিছু সরাসরি—চালু করা গেলে তা কার্যকর সমাধান হতে পারে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, তীব্র যানজট ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার বাস্তবতা বিবেচনায় দেশের রাজধানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাশের সমন্বিত (হাইব্রিড) পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সব স্কুলে একযোগে নয়, বরং যেসব প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা রয়েছে, সেগুলোতে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে, যাতে জ্বালানি সাশ্রয়, যানজট কমানো এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠক্রম অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়।

মন্ত্রী বলেন, বিশ্ব ইতিহাসে নানা সংকটই নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতেও শিক্ষাব্যবস্থাকে থামিয়ে না রেখে নতুন পদ্ধতিতে এগিয়ে নিতে হবে। অতীতে বিশ্বযুদ্ধ, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন কিংবা সামাজিক রূপান্তরের মতো ঘটনাগুলো নতুন নতুন শিল্প ও সুযোগ সৃষ্টি করেছে। একইভাবে বর্তমান জ্বালানি সংকট, যানজট ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকেও নতুনভাবে ভাবতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের শিক্ষা হবে প্রযুক্তিনির্ভর ও অনেকাংশে পেপারলেস। সংসদ থেকে শুরু করে শ্রেণিকক্ষ-সব জায়গায় ডিজিটাল ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়বে। শিক্ষার্থীদেরও সেই বাস্তবতার জন্য প্রস্তুত করতে হবে।

শিক্ষকদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অনলাইন ক্লাস কার্যকর করতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও তদারকি বাড়াতে হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে অনলাইনে মনোযোগী থাকে, সে বিষয়েও নজরদারি প্রয়োজন। সরকার ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। যেমন-এয়ার কন্ডিশনারের তাপমাত্রা নির্ধারণ, অফিস সময়সূচিতে পরিবর্তন ইত্যাদি। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ও বৈদ্যুতিক পরিবহণের ব্যবহার বাড়ানোর দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, বর্তমানে পুরো পৃথিবী এসটি সংকেটের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী আপনাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী অত্যন্ত বিচক্ষণ একজন মানুষ। তিনি শিক্ষার জন্য বহুদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা সবাই প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য দেশের কল্যাণের জন্য কাজ করছি। আমরা আপনাদের সরকার, আপনারা যা বলবেন আমরা তা শুনব। সেই জন্য আজকের এই আয়োজন। আমরা যেন সবার সহযোগিতায় বর্তমান সংকট কাটিয়ে উঠতে পারি সেই উদ্দেশে কাজ করছি।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর বি এম আব্দুল হান্নান। সম্মানিত অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া।


হরমুজ প্রণালি পার হতে নোঙর তুলেছে বাংলাদেশি জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পারস্য উপসাগরে দীর্ঘ ২৮ দিন আটকে থাকার পর অবশেষে নোঙর তুলেছে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় জাহাজটি তার গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন এই জাহাজটিতে বর্তমানে ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক রয়েছেন।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কমডোর মাহমুদুল মালেক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'আজ বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার নিয়ে রওনা করেছে। সেখান থেকে হরমুজ প্রণালির মুখে আসতেই ৪০ ঘণ্টা সময় লাগে। আমাদের নির্দেশনা, এটি হরমুজ প্রণালির পার হওয়ার আগে নিরাপদে অবস্থান করবে। ইরান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বাংলাদেশ থেকে নির্দেশনা দিলে হরমুজ প্রণালি পার হবে।’

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘মেরিন ট্রাফিক’-এর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ২টার দিকে জাহাজটি ৯ দশমিক ৫০ নটিক্যাল মাইল গতিতে পারস্য উপসাগর দিয়ে এগোচ্ছিল।

বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, গত ২ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে পণ্য নিয়ে ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছিল। পরবর্তীতে কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি সেটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। এর ঠিক পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় সংঘাত।

গত ১১ মার্চ জেবেল আলী বন্দরে পণ্য খালাস শেষ হওয়ার পর কুয়েতের একটি বন্দরে নতুন করে পণ্য বোঝাই করার কথা ছিল। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ঝুঁকি এড়াতে বিএসসি সিদ্ধান্ত নেয় জাহাজটিকে দেশে ফিরিয়ে আনার। তবে নিরাপত্তার অভাবে সে সময় জাহাজটি মাঝপথ থেকেই আগের অবস্থানে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। দীর্ঘ ২৮ দিনের উৎকণ্ঠা শেষে আজ আবার নিজ গন্তব্যের পথে রওনা হলো ‘বাংলার জয়যাত্রা’।

ছাড়পত্রের অপেক্ষায় নর্ডিক পলক্স

এদিকে গত ৩ মার্চ থেকে সৌদি আরবের রাস তানুয়ারা বন্দরে আটকে আছে ‘নর্ডিক পলক্স’ নামক একটি তেলের ট্যাঙ্কার। জাহাজটি বাংলাদেশের জন্য প্রায় ৬০০ কোটি টাকা মূল্যের ১ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (ক্রুড অয়েল) বহন করছে। তবে এখন পর্যন্ত জাহাজটি ছেড়ে আসার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, ‘আমরা এখনো কোনো জাহাজ পার হওয়ার ক্লিয়ারেন্স পাইনি। তবে হরমুজ প্রণালির মুখে যেতে ৩৮-৪০ ঘণ্টা সময় লাগবে। এই জন্য ‘বাংলার জয়যাত্রা’ যাত্রা শুরু করেছে। এ সময়ের মধ্যেই ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার চেষ্টা করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘নর্ডিক পলক্স-এর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এটা ইউএসএ-র কোম্পানির জাহাজ। ক্লিয়ারেন্স পেলেই এটি যাত্রা শুরু করবে। হরমুজ প্রণালির মুখে যেতে এই জাহাজেরও ৪০ ঘণ্টার মতো সময় লাগবে।’

দীর্ঘদিন ধরে এই বিশাল পরিমাণ জ্বালানি তেল আটকে থাকায় দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও ‘বাংলার জয়যাত্রা’ ইতোমধ্যেই যাত্রা শুরু করেছে, তবে ‘নর্ডিক পলক্স’-এর ক্ষেত্রে মার্কিন মালিকানা এবং বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ছাড়পত্র পাওয়ার প্রক্রিয়াটি কিছুটা জটিল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিএসসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে দ্রুত জাহাজটি দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।


পয়লা বৈশাখে এবার বেশি হবে জনসমাগম, বাড়ছে নিরাপত্তা

ডিএমপি সদর দপ্তরে সমন্বয় সভায় বক্তব্য দেন ডিএমপি কমিশনার সরওয়ার। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার সরওয়ার বলেছেন, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নানা সংগঠনের উদ্যোগে বৈশাখী অনুষ্ঠান হবে। এ বছর অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আগের তুলনায় বেশি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাড়তি জনসমাগমের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সকল নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়ে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

‎আসন্ন বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ ও পয়লা বৈশাখ উদ্‌যাপনকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বুধবার সকালে ডিএমপি সদর দপ্তরে এ সংক্রান্ত সমন্বয় সভা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সভায় ডিএমপি কমিশনার বলেন, সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে একটি সুপরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থাও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরবচ্ছিন্ন চলাচল বজায় রাখাই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য।

‎‎সভায় বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে নিরাপত্তা, চিকিৎসা সেবা, অগ্নিনির্বাপণ ও নগর সেবাসংক্রান্ত প্রস্তুতি নিয়ে মতামত দেন।

এ ছাড়া সভায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বাংলা একাডেমি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ডিএমপির পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয় এবং তা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


banner close