অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি ‘সংক্ষিপ্ত সংস্কার প্যাকেজ’ নিয়ে একমত হয়, তবে নির্বাচন ডিসেম্বরেই হতে পারে। তবে, তারা যদি ‘বৃহৎ সংস্কার প্যাকেজ’ গ্রহণ করে, তাহলে নির্বাচন আগামী বছরের জুনে অনুষ্ঠিত হবে।
শুক্রবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ঢাকায় সফররত জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সাক্ষাতে এলে আলোচনাকালে ড. ইউনূস এ কথা বলেন।
জাতিসংঘ মহাসচিবকে এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনার আসার জন্য এর চেয়ে ভালো সময় আর হতে পারত না। আপনার সফর কেবল রোহিঙ্গাদের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের জন্যও সময়োপযোগী’।
তিনি গুতেরেসকে সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত ছয়টি সংস্কার কমিশনের রিপোর্টের বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রায় ১০টি রাজনৈতিক দল তাদের মতামত জমা দিয়েছে।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, দলগুলো ছয়টি কমিশনের সুপারিশগুলোর সঙ্গে একবার একমত হলে, তারা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে, যা দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পাশাপাশি রাজনৈতিক, বিচারিক, নির্বাচনসংক্রান্ত, প্রশাসনিক, দুর্নীতি দমন এবং পুলিশ সংস্কারের একটি রূপরেখা হবে।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে নেওয়া সংস্কার কর্মসূচির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আশাপ্রকাশ করেন, সংস্কারগুলো একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং দেশের প্রকৃত রূপান্তর ঘটাবে। পাশাপাশি দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে কক্সবাজারে বসবাসরত দশ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
চার দিনের সফরে বৃহস্পতিবার ঢাকায় আসেন জাতিসংঘ মহাসচিব।
ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিব অধ্যাপক ইউনূসকে বলেন, ‘আমি সংস্কার কর্মসূচির প্রতি আমাদের সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করতে চাই। আমরা আপনাদের সংস্কার প্রচেষ্টাকে সমর্থন দিতে এখানে এসেছি। আমরা আপনাদের সর্বোত্তম সফলতা কামনা করি। যেকোনো সহযোগিতা লাগলে আমাদের জানান।’
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে এই সংস্কার প্রক্রিয়া একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং দেশের একটি ‘বাস্তব রূপান্তর’ নিশ্চিত করবে। তিনি বলেন, ‘আমি জানি যে সংস্কার প্রক্রিয়াটি জটিল হতে পারে’।
গুতেরেস বলেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে তিনি রমজান মাসে বাংলাদেশে এসেছেন।
কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে বসবাসরত ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য মানবিক সহায়তা হ্রাস নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, ‘পৃথিবীতে এতটা বৈষম্যের শিকার অন্য কোনো জনগোষ্ঠী আমি দেখিনি’। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের ভুলতে বসেছে’।
‘মানবিক সহায়তা হ্রাস করা একটি অপরাধ’ উল্লেখ করে আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো এখন প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় দ্বিগুণ করছে, কিন্তু তখন আবার বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তা সংকুচিত হচ্ছে।
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি জাতিসংঘের ‘অপরিসীম কৃতজ্ঞতা’ প্রকাশ করেন গুতেরেস। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের প্রতি অত্যন্ত উদারতা দেখিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী আমার জন্য একটি বিশেষ বিষয়’।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস জাতিসংঘ মহাসচিবের সহযোগিতা চান, যাতে রোহিঙ্গারা সম্মানের সঙ্গে তাদের জন্মভূমি মিয়ানমারের পশ্চিম রাখাইন রাজ্যে ফিরে যেতে পারে। তিনি বলেন, যতদিন তারা বাংলাদেশে অবস্থান করছে ততদিন পর্যন্ত তাদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য ও মানবিক সহায়তা যেন নিশ্চিত করা যায়।
ড. ইউনূস বলেন, আমরা রোহিঙ্গাদের দুর্দশার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছি। বিশ্বকে জানতে হবে তারা কতটা কষ্ট পাচ্ছে। তাদের মধ্যে একটা হতাশার অনুভূতি রয়েছে’।
জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, তিনি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন এবং তাদের জন্য সহায়তা সংগ্রহকে অগ্রাধিকার দেবেন।
গুতেরেস বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন।
বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীর কার্যক্রম ‘অসাধারণ’ এবং বাংলাদেশ ন্যায়সঙ্গত বিশ্ব প্রতিষ্ঠার অগ্রভাগে রয়েছে উল্লেখ করে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনী আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’।
অধ্যাপক ইউনূসও বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের প্রশংসা করে বলেন, এই মিশনে কাজ করার ফলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এক অনন্য অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। তিনি বলেন, ‘শান্তিরক্ষী বাহিনীতে কাজ করা আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ’।
বৈঠকে ভূ-রাজনীতি, সার্কের বর্তমান অবস্থা এবং বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশেগুলোর সম্পর্কের বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। অধ্যাপক ইউনূস দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক ফোরামকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য তার প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ আসিয়ানের সদস্য হতে চায়।
প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের চট্টগ্রাম অঞ্চলে একাধিক বন্দর নির্মাণ প্রকল্প সম্পর্কেও কথা বলেন, যা নেপাল ও ভুটানসহ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে দেশকে ‘একটি অর্থনৈতিক কেন্দ্র’ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন ও জাপানসহ প্রায় প্রতিটি দেশের সমর্থন পেয়েছে।
অর্থনীতি প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তার সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে ধ্বংসপ্রাপ্ত ও ভঙ্গুর ব্যাংকিং খাত, সংকোচিত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেঙে পড়া অবস্থায় পেয়েছে।
তিনি বলেন, ‘অর্থনীতি এখন সুসংহত হয়েছে। রপ্তানি কয়েক মাস ধরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও ভালো অবস্থানে রয়েছে’।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অর্থনীতি এমনভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আগামী বছর স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বেরিয়ে আসবে বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, ‘আমরা এলডিসি উত্তরণের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছি’।
তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের শাসনামলে লুটপাট হওয়া কয়েকশ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ফেরত আনার জন্য সরকার চেষ্টা করছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, আগের সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনীতির ভঙ্গুর পরিস্থিতি তাকে ১৯৭৪ সালের পর্তুগালের বিপ্লবী দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়।
বৈঠকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলিসংক্রান্ত হাই রিপ্রেজেনটেটিভ ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজিবিষয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।
জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রাবাব ফাতিমা ও বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গুইন লুইসও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মুহাম্মদ কাদের গনি চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে থেকে এক প্রজ্ঞাপনে তাকে এ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা আইন, ২০১৮-এর ধারা ১০(১) অনুযায়ী এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছর মেয়াদে তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন।
নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, মুহাম্মদ কাদের গনি চৌধুরীকে অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে। তার নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বলে জানানো হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস মোকাবিলায় বাংলাদেশ প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে এবং একই সঙ্গে সেখানে অবস্থানরত কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাদের পাশে দাঁড়াতেও প্রস্তুত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ড. খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা তাদের সব ধরনের সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছি।’
এর আগে সকালে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানালের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
ড. খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে জানিয়েছেন যে, তারা এখনো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন তা মূল্যায়ন করছেন। তিনি বলেছেন, আজ সন্ধ্যা বা আগামীকালের মধ্যে তারা আমাদের জানাবেন, কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, নেপাল তাদের নির্দিষ্ট প্রয়োজনের কথা জানানোর পর বাংলাদেশ সাড়া দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
ফোনালাপে খলিলুর রহমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে গভীর সহানুভূতি ও সমবেদনা প্রকাশ করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই দুর্যোগকে একটি ‘ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, যারা তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, বাংলাদেশের মানুষের ভাবনা ও প্রার্থনা সেই পরিবারগুলোর সাথে রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহর প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সমবেদনা বার্তাও পৌঁছে দেন এবং নেপালের সরকার ও জনগণের প্রতি ঢাকার পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন।
সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ড. খলিলুর রহমান বলেন, এই দুর্যোগে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে নেই। এখন পর্যন্ত আমরা কোনো বাংলাদেশির নাম পাইনি।
তিনি আরো জানান, দুর্যোগ যখন আঘাত হানে, তখন বেশ কয়েকজন বিদেশি পর্যটক মানস সরোবর এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই দুর্যোগে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া মাত্রই ঢাকাকে অবিলম্বে তা জানানোর জন্য নেপালি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে। ‘জীবিত বা মৃত, যেকোনো অবস্থায় কোনো বাংলাদেশির খোঁজ পাওয়া গেলে, আমরা আমাদের পূর্ণ সহযোগিতা প্রসারিত করব এবং তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
তিনি বলেন, পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্যও বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে। এজন্য প্রয়োজনীয় ফ্লাইট বা বিমান চলাচলের ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন, দুর্যোগে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেলে তার সরকার এ বিষয়ে পূর্ণ সহযোগিতা করবে।
এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সংহতি প্রকাশের জন্য বাংলাদেশের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল এবং ড. খলিলুর রহমানকে অবহিত করেছেন যে, সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন শেষ করার পর নেপাল তাদের নির্দিষ্ট প্রয়োজনের কথা বাংলাদেশকে জানাবে।
ছবি: বাসস
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারদলীয় সদস্যদের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান।
বাংলাদেশে অবকাঠামো, বন্দর ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে চীনের সহযোগিতা আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পয়ঃনিষ্কাশন, আবাসনসহ বাংলাদেশের শিক্ষা কারিকুলামে ম্যান্ডারিন তথা চীনা ভাষা অন্তর্ভুক্তকরণ, দাশেরকান্দি স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) পূর্ণমাত্রায় ব্যবহার উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় পাইপলাইন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়।
রাজধানীর কড়াইল, গুলশান ও মহাখালী বস্তির উন্নয়নে আধুনিক আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চীনের কাছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। প্রস্তাবটি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নে চীন প্রাথমিকভাবে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।
বৈঠকের শুরুতে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান এবং দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার ও সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার। দেশের উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও নগর উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে চীনের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে পারে।
চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটি আরও বৃদ্ধি করতে চীন আগ্রহী।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে চীনের সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তিনি জানান, আগামী সেপ্টেম্বরে তার চীন সফরের সময় এ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ রয়েছে।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আজ ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে।
বিকেল ৩টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে এ অধিবেশন শুরু হবে।
আজকের দিনের কার্যসূচিতে রয়েছে- সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন, শোকপ্রস্তাব, প্রশ্ন জিজ্ঞাসা এবং উত্তর, জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ (বিধি-৭১), বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব এবং আইন-প্রণয়ন কার্যাবলী।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, শুরু হতে যাওয়া তৃতীয় অধিবেশনটি ৫, ৭ বা ১০ দিনের সংক্ষিপ্ত অধিবেশন হতে পারে। তবে প্রয়োজন হলে এর মেয়াদ বাড়ানো হবে।
তিনি বলেন, এই অধিবেশনে সংসদীয় কমিটিগুলো গঠনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সদস্যদের নাম পাওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো চূড়ান্ত করা হবে।
বুধবার সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
চিফ হুইপ বলেন, তৃতীয় অধিবেশনে প্রায় ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপিত হতে পারে। এর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর, গুম ও মানবাধিকার সুরক্ষা-সংক্রান্ত বিল উল্লেখযোগ্য।
সম্পত্তি হস্তান্তর-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত আইনের বিষয়ে তিনি বলেন, বাবা-মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দিলেও তাঁরা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তির ভোগদখল ও ব্যবহারের অধিকার বজায় রাখবেন। এর মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের পর বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের অবহেলা রোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মনি বলেন, জুলাই সনদের ধারাবাহিকতায় জনগণ নির্বাচনী ইশতেহার দেখেই ভোট দিয়েছেন এবং তাঁদের ওপর আস্থা রেখেছেন। সেই আস্থার ভিত্তিতেই তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। দেশের স্বার্থে প্রয়োজন হলে নতুন আইন প্রণয়ন এবং বিদ্যমান আইনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের একটি কমা, দাঁড়ি কিংবা সেমিকোলনের পরিবর্তনও সংবিধান সংস্কারের অংশ। জুলাই সনদে দক্ষিণ প্লাজায় সব রাজনৈতিক দল সম্মিলিতভাবে যে অঙ্গীকারে স্বাক্ষর করেছে, তার প্রতিটি বিষয় যথাযথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।
সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে উল্লেখ করে চিফ হুইপ জানান, এতে বিএনপি থেকে ৭ জন এবং জামায়াত থেকে ৫ জন সদস্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যান্য ছোট দল থেকেও একজন করে সদস্য রাখার প্রস্তাব রয়েছে। বিরোধী দল তাদের সদস্যদের নাম দিলে তাঁদেরও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংবিধান সংশোধন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। উদাহরণ হিসেবে তিনি ভারতের সংবিধান গত ৭৬ বছরে ১০৬ বার সংশোধনের বিষয়টি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, তৃতীয় অধিবেশনের মধ্য দিয়ে সংসদীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন, সংসদীয় কমিটির কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদ আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দুর্যোগ মোকাবিলায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে কাঠমান্ডুকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ঢাকা।
বুধবার (২৬ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় বাংলাদেশের জনগণ গভীরভাবে শোকাহত।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নেপালের এই ভয়াবহ দুর্যোগ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ। এতে শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন এবং পর্যটকসহ আরও অনেকের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ এই কঠিন সময়ে নেপাল সরকার ও দেশটির বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে।
বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর সমবেদনা জানিয়ে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত উদ্ধার, চিকিৎসা ও পুনরুদ্ধার কামনা করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘নিহতদের জন্য আমরা গভীর সমবেদনা জানাই। নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধার এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করি।’
নেপালের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি পুনর্ব্যক্ত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দুর্যোগের পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাঠমান্ডুকে সহায়তা দিতে ঢাকা প্রস্তুত রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে নেপালকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।’
সূত্র: বাসস
আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া তৃতীয় অধিবেশনে সংসদীয় কমিটিগুলো গঠনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সদস্যদের নাম পাওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো চূড়ান্ত করা হবে। অধিবেশনটি ৫, ৭ বা ১০ দিনের সংক্ষিপ্ত অধিবেশন হতে পারে; তবে প্রয়োজন হলে এর মেয়াদ বাড়ানো হবে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সংসদ ভবনে গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সংসদীয় কমিটি, সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা, সংবিধান সংশোধন এবং আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে চিফ হুইপ এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ বলেন, তৃতীয় অধিবেশনে প্রায় ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপিত হতে পারে। এর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর, গুম ও মানবাধিকার সুরক্ষা-সংক্রান্ত বিল উল্লেখযোগ্য। সম্পত্তি হস্তান্তর-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত আইনের বিষয়ে তিনি বলেন, বাবা-মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দিলেও তাঁরা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তির ভোগদখল ও ব্যবহারের অধিকার বজায় রাখবেন। এর মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের পর বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের অবহেলা রোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জুলাই সনদ ও সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, জুলাই সনদের ধারাবাহিকতায় জনগণ নির্বাচনী ইশতেহার দেখেই ভোট দিয়েছেন এবং তাঁদের ওপর আস্থা রেখেছেন। সেই আস্থার ভিত্তিতেই তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। দেশের স্বার্থে প্রয়োজন হলে নতুন আইন প্রণয়ন এবং বিদ্যমান আইনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।
তিনি বলেন, সংবিধানের একটি কমা, দাঁড়ি কিংবা সেমিকোলনের পরিবর্তনও সংবিধান সংস্কারের অংশ। জুলাই সনদে দক্ষিণ প্লাজায় সব রাজনৈতিক দল সম্মিলিতভাবে যে অঙ্গীকারে স্বাক্ষর করেছে, তার প্রতিটি বিষয় যথাযথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।রাজনৈতিক আলোচনা
চিফ হুইপ জানান, সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। এতে বিএনপি থেকে ৭ জন এবং জামায়াত থেকে ৫ জন সদস্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যান্য ছোট দল থেকেও একজন করে সদস্য রাখার প্রস্তাব রয়েছে। বিরোধী দল তাদের সদস্যদের নাম দিলে তাঁদেরও
কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংবিধান সংশোধন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। উদাহরণ হিসেবে তিনি ভারতের সংবিধান গত ৭৬ বছরে ১০৬ বার সংশোধনের বিষয়টি উল্লেখ করেন।
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরা, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানানো বিরোধী দলের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিরোধী দল সংসদের বাইরে অস্থিরতা সৃষ্টি না করে জনগণের সমস্যা ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংসদে তুলে ধরবে এবং আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমে সমাধানের পথ বের করবে।
চিফ হুইপ বলেন, “সংসদের বাইরে আন্দোলন করে আবার স্বৈরাচারী ব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি করে দেবে না আশা করি। ১৭ বছর ধরে জেল, গুম ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে যে অর্জন এসেছে, সেই অর্জন অন্য কারও হাতে তুলে দেওয়া হবে—এটা আমি বিশ্বাস করি না। আমরা চাই, বিরোধী দল সংসদে এসে জনগণের কথা বলবে, সরকারের ভুল ধরিয়ে দেবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সমাধানের পথ বের করবে।”
তিনি বলেন, তৃতীয় অধিবেশনের মধ্য দিয়ে সংসদীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন, সংসদীয় কমিটির কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদ আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
চলমান সংকট মোকাবিলায় সময় প্রয়োজন—এ কথা উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, কোনো সরকারের পক্ষে মাত্র ছয় মাসে দীর্ঘদিনের সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “আপনার গভর্নমেন্টের বয়স ছয় মাস। ইচ্ছা করলাম, আমি দারুণভাবে চেষ্টা করলাম—আমি ছয় মাসে একটা বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট করতে পারব? সবকিছু অনুকূলে থাকলেও একটা বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট করতে দুই বছর লাগে মিনিমাম।”
তিনি বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণসহ বড় অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধানে সময় প্রয়োজন। তাই জনগণকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সহযোগিতা করতে হবে। অস্থিরতা সৃষ্টি হলে এর ক্ষতি কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়, বরং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর পড়তে পারে।
বিদ্যুৎ খাতের চুক্তি প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, বিগত সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ খাতে করা বিভিন্ন চুক্তি দেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক দায় সৃষ্টি করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, দায়মুক্তির ব্যবস্থা রেখে এমন আইন করা হয়েছিল, যার ফলে এসব চুক্তির বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ সীমিত হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধের কারণে জনগণের অর্থের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
আদানির সঙ্গে করা বিদ্যুৎ চুক্তিকে ‘গর্হিত অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে। দেশের স্বার্থে এ ধরনের চুক্তির অর্থনৈতিক চাপ থেকে বেরিয়ে আসতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
নেপালের আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে বিপুলসংখ্যক প্রাণহানি এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। একইসাথে, দেশটির এই বিপদ মুহূর্তে পাশে থেকে উদ্ধার, ত্রাণ কার্যক্রমসহ যেকোনো ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তায় বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই শোক ও সংহতি প্রকাশ করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, নেপালের এই মর্মান্তিক দুর্যোগের খবর ও পরিস্থিতি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দুর্ঘটনায় বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছে এবং পর্যটকসহ অনেকের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার এবং বাংলাদেশের জনগণ এই কঠিন সময়ে বন্ধুপ্রতীম দেশ নেপালের সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা ও পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে।
বিজ্ঞপ্তিতে নিহতদের আত্মার প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে, পাশাপাশি নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধার এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতার আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
দুর্যোগকালীন এই সময়ে ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার তৎপরতায় নেপালকে যেকোনোভাবে সম্ভাব্য সহায়তার জন্য বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন এলাকায় বুধবার বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া আগামীকাল বৃহস্পতিবারও (২৭ আগস্ট) দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
অধিদপ্তর জানায়, বুধবার (২৬ আগস্ট)সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণও হতে পারে।
এ সময়ে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়ও রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিনও সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে টেকনাফে। একই সময়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহী, শ্রীমঙ্গল, যশোর ও চুয়াডাঙ্গায়। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল সিলেটে, ২৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঝাড়খন্ড ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে মধ্যপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।
এ ছাড়া মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বেলা ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বসবে। সংসদের এই অধিবেশনটি রাজনৈতিক ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অধিবেশনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। একই সঙ্গে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অধিবেশন চলাকালে সংসদ এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা আইন ভঙ্গের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
আগামীকাল ২৭ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাওয়া তৃতীয় অধিবেশনে সংসদীয় কমিটিগুলো গঠনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
তিনি বলেন, বিরোধীদলের পক্ষ থেকে সদস্যদের নাম পাওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো চূড়ান্ত করা হবে। তৃতীয় অধিবেশন ৫, ৭ বা ১০ দিনের সংক্ষিপ্ত অধিবেশন হতে পারে। তবে প্রয়োজন হলে এর মেয়াদ বাড়ানো হবে।
গত ছয় মাসে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলাগুলোর প্রায় সব আসামিকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বুধবার (২৬ আগস্ট) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকার ক্ষমতার ছয় মাস পূর্ণ করেছে। এই সময়ে এমন একটি ঘটনাও ঘটেনি, যার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হয়েছে।’
রংপুরে সাম্প্রতিক সময়ে বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন বলেন, ঘটনার পর যৌক্তিক সময়ের মধ্যেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রথম ছয় মাস অর্থাৎ ১৮০ দিনেই নেট মিটারিং সংযোগের মাধ্যমে ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ নতুনভাবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ ও বিদ্যুৎ খাতের টেকসই উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হয়। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন অগ্রগতি সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মপরিকল্পনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নেট মিটারিং, এনার্জি স্টোরেজ, জাতীয় গ্রিডের ফ্রিকোয়েন্সি নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা এবং জ্বালানি দক্ষতাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কর্মপরিকল্পনায় দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, এলএনজি অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সাশ্রয়ী ও স্বচ্ছ ট্যারিফ ব্যবস্থা গড়ে তোলাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের নেওয়া অধিকাংশ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মপরিকল্পনা শতভাগ বাস্তবায়িত হয়েছে। আর জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের অগ্রগতি হয়েছে ৯০ দশমিক ৫৫ শতাংশ। দুই বিভাগ মিলিয়ে সরকারের সামগ্রিক বাস্তবায়ন অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৯৫ দশমিক ২৮ শতাংশে।
বিদ্যুৎ বিভাগের বাস্তবায়ন অগ্রগতি
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১৮০ দিনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০)’ প্রণয়ন করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্রেডার উদ্যোগে ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি রোডম্যাপ ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চেন্ট পলিসির আওতায় চারটি মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টের মধ্যে ১০ মেগাওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
প্রতিবেদনে জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্রে সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ, জলবিদ্যুৎ, বায়োমাস ও বায়োগ্যাস, ক্লিন কুকিং, জ্বালানি সংরক্ষণ প্রযুক্তি, মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে বিনিয়োগের ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি ব্যবসায়িক মডেল প্রণয়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সুনীল অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে অফশোর উইন্ড পাওয়ার প্রকল্প উন্নয়ন গাইডলাইন প্রস্তুত করা হয়েছে।
অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় গ্রিডের ফ্রিকোয়েন্সি নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ঈশ্বরদী ও ভুলতা গ্রিড উপকেন্দ্রে যথাক্রমে ১২০ মেগাওয়াট ও ৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বিইএসএস) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভোলায় বার্জ মাউন্টেড বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। এর বাইরে জ্বালানি দক্ষতা ও সংরক্ষণে ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। পাশাপাশি ৩০টি ডেজিগনেটেড কনজুমারের স্থাপনায় জ্বালানি নিরীক্ষা করা হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের বাস্তবায়ন অগ্রগতি
প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিকল্পনা অনুযায়ী সাতটি গ্যাসকূপ খনন ও চারটি কূপের ওয়ার্কওভার কার্যক্রমের ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ৬টি কূপের (সিলেট-১০ ও ১১, শ্রীকাইল-৫, রশিদপুর-১১, তিতাস-২৮ এবং সুন্দলপুর-৪) খনন সম্পন্ন হয়েছে। এসব কূপ থেকে দৈনিক মোট ২১ দশমিক ৪২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে। অন্যদিকে, ওয়ার্কওভার সম্পন্ন শেষে চারটি কূপ থেকে দৈনিক আরও ১০ দশমিক ৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। ফলে নতুন করে মোট ৩২ দশমিক ০২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি প্রতিবেদন বলছে, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়াতে সারা দেশে ৫০টি কূপ খননের বৃহৎ কর্মসূচির আওতায় ২৮টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছে। তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে ২ হাজার হর্স পাওয়ারের একটি রিগ কেনার দরপত্র মূল্যায়নের কাজ চলছে। একই সঙ্গে ১ হাজার ৫০০ হর্স পাওয়ার রিগ ক্রয়ের ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানোর কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমুদ্রাঞ্চলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বাংলাদেশ অফশোর মডেল পিএসসির-২০২৬ আওতায় বিডিং রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। অন্যদিকে, স্থলভাগে অনুসন্ধানের জন্য বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসির -২০২৬ খসড়া অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির নীতিগত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে ২ডি সাইসমিক সার্ভের ৫০০ লাইন কিলোমিটারের কাজ শেষ হয়েছে। তবে বর্ষাকালের কারণে ৩ডি সাইসমিক সার্ভের ১০০ বর্গকিলোমিটার কাজ কিছুটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এলএনজি অবকাঠামো উন্নয়নে উদ্যোগ
মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশীয় জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নে কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুুবজোম এলাকায় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে বাস্তবায়ন মডেল নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ২৮ জুলাই জি-টু-জি পদ্ধতিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়ে অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এছাড়া ল্যান্ডবেজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্যে পিপিপি পদ্ধতিতে ট্রানজ্যাকশন এডভাইজার নিয়োগের জন্য
ইওআই আহ্বান করা হয়েছে। ক্রুড অয়েল রিফাইনারি নির্মাণের লক্ষ্যে মডার্নাইজেশন অ্যান্ড এক্সপানশন অব ইআরএল প্রকল্পের কনসালট্যান্ট নিয়োগের জন্যও ইওআই আহ্বান করা হয়েছে।
কমেছে সিস্টেম লস
প্রতিবেদনে বলা হয়, জ্বালানি খাতে এ বছরের ফেব্রুয়ারি-জুন এই পাঁচ মাসে সিস্টেম লস ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ কমিয়ে ৭ দশমিক ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। যা জানুয়ারিতে ছিল ৮ দশমিক ০৩ শতাংশ।
অগ্রগতি প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩ অনুযায়ী কমিশনের গণশুনানির মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস, এলপিজি, ফার্নেস অয়েল ও জেট ফুয়েলের ট্যারিফ নির্ধারণের কার্যক্রমও গ্রহণ করা হয়েছে। শিল্প খাতে গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থায় গ্যাস বরাদ্দ সংক্রান্ত খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্যে নেওয়া কাজের প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে।
সূত্র: বাসস
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটির ক্ষেত্রে শিক্ষাকেই অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
চীন সরকারের আমন্ত্রণে সফররত মাহদী আমিন গুয়াংঝুতে অনুষ্ঠিত ‘চীন-বাংলাদেশ এডুকেশন কো-অপারেশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের এক আলোচনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, ‘বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও গভীর বন্ধুত্বের সূচনা হয়েছিল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে এ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। বর্তমান সরকারও চীনের সাথে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।’
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক সরকারের মূল অঙ্গীকার হলো নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করা। সে লক্ষ্যে সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি তরুণদের আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে এগিয়ে রাখতে মান্দারিন (চীনা ভাষা) সহ তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
শিক্ষাকে সার্বজনীন ও সম্পূর্ণ কর্মমুখী করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা জানান, চীনের শীর্ষস্থানীয় পলিটেকনিক ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ বৃদ্ধি, যৌথ গবেষণা প্রকল্প গ্রহণ এবং আধুনিক ল্যাব সুবিধা নিশ্চিত করতে চায় বাংলাদেশ।
চীনের বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, ‘উভয় দেশের মধ্যে নিয়মিত শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থী বিনিময় বাড়াতে হবে। একই সাথে চীনে বর্তমানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে নিবিড় সহযোগিতা প্রয়োজন।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ দাউদ মিয়া, আনহুই নরমাল বিশ্ববিদ্যালয়েথ স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট তিয়ান শিংইউ,জিয়াংশি সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ঝেং পেংউ,থিয়েনচিন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন ডিন লি চিয়াং, শেনিয়াং আরবান কনস্ট্রাকশন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনের ডিন, শাও শিউজুয়ান, গুয়াংডং ভোকেশনাল কলেজ অব ফিন্যান্স অ্যান্ড ট্রেডের প্রেসিডেন্ট ঝাং শিয়াওইয়ান, শিয়েননিং ভোকেশনাল টেকনিক্যাল কলেজের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ফাং গাওয়েন, উহান অপটিকস ভ্যালি ইংছাই টেকনিক্যাল স্কুলের প্রিন্সিপাল ইয়ান গানটিং, গুয়াংডং পলিটেকনিক অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ভাইস-প্রেসিডেন্ট পান ছিহুয়া, চীন-বাংলাদেশ এডুকেশন অ্যান্ড কালচারাল এক্সচেঞ্জ অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার শেখ কোরবান আলীসহ চীনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ।
সভায় যৌথ আন্তর্জাতিক সেবা কেন্দ্র ‘চীন-বাংলাদেশ শিল্প ও শিক্ষা একীকরণ আন্তর্জাতিক সেবা কেন্দ্র’-এর আনুষ্ঠানিক শুভ সূচনা করা হয়।
সূত্র: বাসস