বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৮ আশ্বিন ১৪৩৩
জাতিসংঘের মহাসচিবের সঙ্গে নেতাদের বৈঠক

নির্বাচনের সময়সীমা প্রশ্নে দলগুলোতে ভিন্নমত

ছবি: সংগৃহীত
বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত
বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৫ মার্চ, ২০২৫ ২২:৩০

ঢাকা সফররত জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে গতকাল শনিবার দেশের কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা সাক্ষাৎ করে দেশে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে সংস্কার ও নির্বাচন প্রসঙ্গে নিজ নিজ দলীয় অবস্থান জানিয়েছেন। বৈঠকে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের কেউ ন্যূনতম, আবার কেউ মৌলিক সংস্কার চেয়েছেন। তবে, নির্বাচনের সময়সীমা প্রশ্নে তাদের মধ্যে ভিন্নমত দেখা গেছে। জবাবে, জাতিসংঘ মহাসচিব এদেশে আগামীতে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে জাতিসংঘের উদ্যোগে শনিবার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বিএনপির হয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, নায়েবে আমির ডা. আব্দুল্লাহ মো. তাহের, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি এবং সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স অংশ নেন।

বৈঠকে শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিক বিষয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া অন্যান্য বিষয়ের সংস্কার প্রস্তাবগুলো ভোটের পর পরবর্তী জাতীয় সংসদের মাধ্যমে বাস্তবায়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।

বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আমরা বলেছি, নির্বাচনকেন্দ্রিক যে সংস্কারগুলো আছে, তা দ্রুত শেষ করতে হবে। নির্বাচিত পার্লামেন্টের মাধ্যমে বাকি বিষয়গুলো (সংস্কার) শেষ হবে। আর সংস্কার তো অবশ্যই করতে হবে। সংস্কারের কথা তো আমরাই আগে বলেছি। আমরা জাতিসংঘের মহাসচিবকে সে বিষয়েও বলে এসেছি। আমরা যেটা বলেছি, মূলত নির্বাচনকেন্দ্রিক বিষয়গুলোর সংস্কার করে ফেলা, তারপর দ্রুত নির্বাচন করা, এরপর একটি সংসদের মাধ্যমে বাড়তি সংস্কারগুলো করা। সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া, এটাই আমরা বলেছি।’

জাতিসংঘের মহাসচিবের সঙ্গে কী নিয়ে আলাপ হয়েছে, বিএনপিই-বা কী বলেছে—এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির মহাসচিব বলেন, ‘জাতিসংঘের উদ্যোগে একটা গোলটেবিল আয়োজন করা হয়েছিল। এতে কমিশনপ্রধানরা ছিলেন। মূলত এখানে সংস্কারের যেসব বিষয় সম্পর্কে আলোচনা হচ্ছে, সেসব বিষয় সম্পর্কে জাতিসংঘের মহাসচিবকে জানানো হয়েছে।’ জাতিসংঘের মহাসচিব সংস্কার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেছেন কিনা জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘জাতিসংঘ মহাসচিব এ ব্যাপারে কোনো কথা বলেননি, এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আসলে এই গোলটেবিলটা, আমি আসলে বুঝিনি আরকি!’

বিএনপি জাতিসংঘের মহাসচিবকে নির্বাচন বিষয়ে কোনো টাইমফ্রেম দিয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখানে টাইম ফ্রেমের কথা বলার কোনো প্রয়োজন নেই, নির্বাচন তো আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। টাইমফ্রেমের কথা কেন তাদের বলব?

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সংস্কার ও নির্বাচন কীভাবে হবে, সেটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ইস‍্যু বলে জাতিসংঘ মনে করে। এ দেশের জনগণকেই তা নির্ধারণ করতে হবে। তবে জাতিসংঘ মহাসচিব আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, বাংলাদেশে আগামীতে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক সরকার আসবে, পৃথিবীর মধ্যে একটা নজির সৃষ্টি করবে আগামীর নির্বাচন।

বৈঠক শেষে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, আমরা সংস্কারের ব্যাপারে কথা বলেছি। একটা ফেয়ার নির্বাচনের বিষয়ে বলেছি, টেকসই গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যের ব্যাপারে কথা বলেছি। জাতিসংঘের মহাসচিব আমাদের অধিকাংশ বক্তব্য সমর্থন করেছেন। বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আশাবাদী। তবে, নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে দলটি কোনো কথা বলেনি বলে বৈঠকে অংশ নেওয়া অন্য একটি দলের নেতা জানান।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিতে জাতিসংঘের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সংস্কার ও নির্বাচনের বিষয়ে ঐকমত্য নিয়ে আমাদের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।

অন্যদিকে, জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও জাতিসংঘ মহাসচিবের পৃথক সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

ওই বৈঠক শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, বৈঠকে সংস্কার নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষে আমরা মনে করি, বিচার ও সংস্কার জনগণের কাছে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সরকারের অন্যতম কমিটমেন্ট। সংবিধান সংস্কার নিয়ে এনসিপির অবস্থান তুলে ধরেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার গণপরিষদের মাধ্যমেই করতে হবে। সংসদে সংবিধান সংস্কার টেকসই হবে না, বাংলাদেশের ইতিহাস থেকেও এটাই দেখতে পাই।

এনসিপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, আমরা মনে করি, নির্বাচনকে আমরা একটি সংস্কারের প্রক্রিয়া হিসেবে দেখি, সংস্কারের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখি। সংস্কার ছাড়া নির্বাচন কোনো কাজে দেবে না। অন্য সব রাজনৈতিক দলও এই কথার সঙ্গে একমত পোষণ করে। এখানে মতপার্থক্য হচ্ছে কোন সংস্কারটা কখন হবে, নির্বাচনের আগে কতটুকু হবে, নির্বাচনের পরে কতটুকু হবে। আমরা মনে করি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে মতপার্থক্যগুলা কেটে যাবে। আমরা ঐকমত্যে আসতে পারবো। সংস্কার ও গণহত্যার বিচারে জনগণের কাছে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংস্কারের মৌলিক ভিত্তি এই সরকারের আমলেই তৈরি করতে হবে। সংস্কার ছাড়া নির্বাচন কাজে দেবে না। এ ছাড়া, সংবিধান ও গণপরিষদ নিয়েও আমাদের অবস্থান তুলে ধরেছি।

বৈঠকে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত সংস্কার কার্যক্রম ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন বলে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা দৈনিক বাংলাকে জানান। এ বৈঠকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ, সদস্য ড. ইফতেখারুজ্জামান ও বদিউল আলম মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।

এ বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে দেওয়া যৌথ বক্তব্যে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, বাংলাদেশের শান্তি ও সংলাপ প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘ সহায়তা করবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত বাংলাদেশের ন্যায়সংগত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করা, কারণ এটি দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। বাংলাদেশের জনগণের পাশে থেকে একটি টেকসই ও ন্যায়সংগত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে জাতিসংঘ নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে থাকবে।

এ ছাড়া যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ও পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে, আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই যে, জাতিসংঘ শান্তি, জাতীয় সংলাপ, আস্থা ও সংহতি প্রতিষ্ঠায় সর্বদা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।’

প্রধান উপদেষ্টার আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় আসেন আন্তোনিও গুতেরেস। আজ রোববার তার ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে।


নির্বাচিত

মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আন্তর্জাতিক দাতব্য, জনহিতকর ও মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠক করেছেন। বৈঠকে বাংলাদেশে মানবিক সহায়তা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব জোরদারের বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর ইউএনজিএ সফরের কর্মসূচিতে বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হিসেবে রাখা হয়।

বৈঠকে বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় জনহিতকর ও মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এর মধ্যে ছিল গেটস ফাউন্ডেশন, ভিসা ফাউন্ডেশন, রকফেলার ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি) ও রোটারি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান।

ইউএনজিএ অধিবেশনের প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বৈশ্বিক মানবিক সংকট, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের মতো বিষয় আলোচনায় আসে। বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় আন্তর্জাতিক জনহিতকর ও মানবিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ নিয়েও মতবিনিময় হয়।

দারিদ্র্য হ্রাস, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু সহনশীলতা এবং মানবিক সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থাগুলোর অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার বিষয়ে এ ধরনের বৈঠককে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রাতরাশ বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে অংশ নেন। ‘দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি থেকে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার পথে’ টেকসই সমাধানের আহ্বানকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা এবং মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের প্রয়োজনীয়তা গুরুত্ব পায়।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে এর আগে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডির সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে। সেখানে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ও সমন্বিত ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়।

নিউইয়র্ক সফরের তৃতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও অংশ নেওয়ার কর্মসূচিতে রয়েছেন। জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত এ বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের মতো বিষয় বাংলাদেশের অবস্থান থেকে গুরুত্ব পাওয়ার কথা রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জলবায়ু অর্থায়ন ও অভিযোজন সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছে। ইউএনজিএর বিভিন্ন আলোচনায়ও এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে তাঁর বক্তব্য। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটাই হবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ।

পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায্য ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ও উঠে আসার কথা রয়েছে।

২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির অস্তিত্বগত হুমকি নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। একই দিনে মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি নিয়ে বাংলাদেশের আয়োজিত একটি সাইড ইভেন্টেও তিনি অংশ নেবেন।

ইউএনজিএর সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। এসব আলোচনায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় গুরুত্ব পাবে।

প্রধানমন্ত্রীর এবারের নিউইয়র্ক সফরে মানবিক সংকট, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকও সেই বৃহত্তর কূটনৈতিক ও উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।


নির্বাচিত

সরকারি সব কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ, বাদ পড়ছেন আওয়ামীপন্থীরা

ছবি: সংগৃহীত ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, সংস্থা ও জেলা পর্যায়ে বিদ্যমান সব সরকারি কমিটি পুনর্গঠন ও হালনাগাদের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব কমিটিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় কমিটিগুলোকে কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পুনর্গঠিত কমিটিতে স্থানীয় পর্যায়ের তিনজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সদস্য রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অন্তত একজন নারী থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গত ১৮ আগস্ট এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি জারি করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক আশরাফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, দপ্তর, সংস্থা ও জেলা পর্যায়ে গঠিত বিদ্যমান সব কমিটি পুনর্গঠন ও হালনাগাদ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সভাপতিত্বে থাকা ৯৮টি কমিটিও পুনর্গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারের কার্যক্রম পরিচালনা ও বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কমিটি রয়েছে। এসব কমিটির অধিকাংশই কয়েক বছর আগে গঠিত। আবার কিছু কমিটির প্রজ্ঞাপন ও কার্যক্রমের তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বিদ্যমান সব কমিটি পুনর্গঠন ও হালনাগাদ করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠি পাওয়ার পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে কমিটি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, পুরোনো অনেক কমিটির সদস্য বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন না। কেউ আত্মগোপনে, কেউ দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। ফলে কোনো কোনো কমিটির সভা আহ্বান করলেও সব সদস্যকে নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। কোথাও কোথাও অনুপস্থিত সদস্যদের সভায় ডাকলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির আশঙ্কাও রয়েছে।

এ কারণে নতুন বাস্তবতায় পুরোনো কমিটিগুলো পুনর্গঠন করে সরকারি কার্যক্রম সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সচিব ও দুজন জেলা প্রশাসক জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন সরকারি কমিটিতে দলটির সমর্থক বা ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের রাখা হয়েছিল। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁদের অনেকে আত্মগোপনে বা দেশের বাইরে চলে গেছেন। ফলে কমিটির কার্যক্রমে তাঁদের অংশগ্রহণ ব্যাহত হচ্ছে।

তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠিতে আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার কথা সরাসরি বলা হয়নি। বরং বিদ্যমান কমিটিগুলো পুনর্গঠন, হালনাগাদ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন করে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। আগের সরকারের আমলে বিভিন্ন কমিটিতে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের পাশাপাশি এমন কিছু সদস্যও রয়েছেন, যারা বর্তমানে সভায় অংশ নিতে পারছেন না। তাঁদের পরিবর্তে কার্যক্রমে সক্রিয় অংশীজনদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

সরকারি সূত্রের ভাষ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও এসব কমিটির অনেকগুলো পুনর্গঠন করা হয়নি। ফলে এখন কমিটিগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

পুনর্গঠিত প্রতিটি কমিটিতে স্থানীয় পর্যায়ের তিনজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অন্তত একজন নারী থাকতে হবে।

চিঠি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতি বা আহ্বায়ক এই তিনজন সদস্য মনোনয়ন দেবেন। স্থানীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব আরও কার্যকর করতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থার বিদ্যমান কমিটি পুনর্গঠনের সময় সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত তালিকায় জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে থাকা ৯৮টি কমিটির উল্লেখ রয়েছে। এসব কমিটিও পুনর্গঠন করতে বলা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি, জেলা কৃষি উন্নয়নবিষয়ক কোর কমিটি, জেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটি, ধান সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটি, ফলদ বৃক্ষরোপণ পক্ষ ও ফল প্রদর্শনী উদ্‌যাপন কমিটি এবং আম সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ-সংক্রান্ত কমিটি।

এ ছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি ও ওএমএস ডিলার নিয়োগ-সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভাপতিও জেলা প্রশাসকেরা। জেলা যুব উন্নয়ন কমিটি, যুব সংগঠনকে অনুদান দেওয়ার আবেদন যাচাই-বাছাই কমিটি, ক্রীড়াবিদদের ভাতা প্রদান-সংক্রান্ত কমিটি এবং জাতীয় যুব পুরস্কার-সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভাপতির দায়িত্বও ডিসিদের।

আগের সরকারের সময়ে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে সরকারি প্রতিনিধিদের বাইরে পাঁচজন সদস্য রাখা হতো। তাঁদের মধ্যে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, একজন সাংবাদিক এবং তিনজন রাজনৈতিক ব্যক্তি থাকতেন। এবারও সমানসংখ্যক প্রতিনিধি রেখে কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

একজন জেলা প্রশাসক বলেন, দেশে যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে, তখন বিভিন্ন কমিটিতে তাদের সমর্থকদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রবণতা দেখা যায়। আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকায় অনেক কমিটি দীর্ঘদিন পুনর্গঠন করা হয়নি। ফলে আগের সরকারের সময়ে অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের অনেকেই এখনো কমিটিতে রয়েছেন।

সরকারের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, কমিটি পুনর্গঠনে মূলত দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একদিকে দীর্ঘদিন ধরে যেসব কমিটির সভা হচ্ছে না, সেগুলোকে কার্যকর করা; অন্যদিকে যেসব কমিটিতে বর্তমানে কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে, সেগুলোতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা।

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, কমিটিগুলো পুনর্গঠন ও হালনাগাদের ফলে দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা কমিটিগুলো সক্রিয় হবে এবং সরকারি কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের অংশগ্রহণও বাড়বে।


নির্বাচিত

ডিজিটাল হয়রানি বন্ধে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করবে ফেসবুক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশে একটি ফোকাল অফিস স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিজিটাল হয়রানি কমাতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে মেটার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে তিনি এতে যোগ দিতে পারেননি। পরে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল মেটার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে।

বৈঠক শেষে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এসব তথ্য জানান।

শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশে মেটার বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারী রয়েছে। এ কারণে ঢাকায় প্রতিষ্ঠানটির একটি ফোকাল পয়েন্ট বা অফিস স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশে কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে মেটা আগ্রহ দেখিয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ঢাকায় মেটার উপস্থিতি কীভাবে ও কখন প্রতিষ্ঠা করা হবে, সে বিষয়ে দুই পক্ষের সংশ্লিষ্ট দলগুলো পরবর্তী সময়ে আরও আলোচনা করবে।

সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা বিপুল। তবে বিভিন্ন ডিজিটাল পরিসংখ্যানে যে ব্যবহারকারীর সংখ্যা পাওয়া যায়, সেগুলো মূলত মেটার বিজ্ঞাপনভিত্তিক হিসাব; এগুলোকে সক্রিয় ব্যবহারকারীর নিশ্চিত সংখ্যা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

বৈঠকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিজিটাল হয়রানি কমানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতা বিবেচনায় কীভাবে অনলাইনে হয়রানি কমানো যায় এবং এ ক্ষেত্রে মেটা কীভাবে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কাজ করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশে ডিজিটাল হয়রানির পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় এ ধরনের সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ সমস্যা মোকাবিলায় সরকারের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে মেটা আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

বৈঠকে বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের ই-কমার্স, অনলাইন ব্যবসা ও বৃহত্তর ডিজিটাল অর্থনীতির সম্প্রসারণে মেটার সহযোগিতার বিষয়টি উঠে আসে।

শামা ওবায়েদ জানান, বাংলাদেশ সরকারের বাজেটে ই-কমার্স ও প্রযুক্তি খাতকে যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা মেটার প্রতিনিধিদের জানানো হয়েছে। অনলাইন ব্যবসা সম্প্রসারণে সহযোগিতার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি আগ্রহ দেখিয়েছে।

বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে মেটা। শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনা, অনলাইন ব্যবসার বিকাশ এবং ডিজিটাল অর্থনীতির সম্প্রসারণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হয়। ভবিষ্যতে এসব ক্ষেত্রে মেটার সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের প্রথম দিনে বিশ্বব্যাংক, ভুটান, মালদ্বীপসহ বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি মেটার সঙ্গেও বাংলাদেশের ডিজিটাল ও অর্থনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হলো।


নির্বাচিত

সাবেক ৭ এমপিসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা সিদ্ধান্ত দুদকে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও অর্থপাচারের অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাবেক সাত সংসদ সদস্য, তাদের পরিবারের সদস্য, সাবেক দুই মেয়রসহ সংশ্লিষ্ট ১৮ জনের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব মামলায় প্রায় ৭৭ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির সচিব মো. সাইদুর রহমান খান এসব তথ্য জানান।

মামলার তালিকায় রয়েছেন কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জ ও আবদুর রউফ, কুষ্টিয়া-১ আসনের সাবেক এমপি মো. রেজাউল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ-৩ আসনের মো. আবু জাহির, ফেনী-৩ আসনের হাজী রহম উল্লাহ, লক্ষ্মীপুর-২ আসনের নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক এমপি ফরিদা ইয়াসমিন। তাদের কয়েকজনের স্ত্রী, ভাই ও স্বজনের বিরুদ্ধেও পৃথক মামলা হয়েছে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, সেলিম আলতাফ জর্জের বিরুদ্ধে ১ কোটি ১ লাখ ৬৪ হাজার ৩ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদ বিবরণীতে ৬৪ লাখ ৪৮ হাজার ৪৭৮ টাকা কম দেখানোর অভিযোগ রয়েছে।

আবদুর রউফের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৬৫ লাখ ১০ হাজার ৬০৫ টাকা এবং তার স্ত্রী জান্নাতুন নাহারের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৯৯ হাজার ২৯২ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক মামলা হয়েছে।

রেজাউল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে ২ কোটি ৪৬ লাখ ৯২ হাজার ৫৩৫ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ৩৭ লাখ ২৬ হাজার ৬০০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে। তার ভাই বুলবুল আহমেদ টোকেন চৌধুরীর বিরুদ্ধেও ১ কোটি ৭৯ লাখ ৩৫ হাজার ২৬৮ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ এবং ৩৪ লাখ ১৪ হাজার টাকা সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে মামলা হয়েছে।

হবিগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক এমপি আবু জাহিরের বিরুদ্ধে ৯ কোটি ৩২ লাখ ৭১ হাজার ৫৫৯ টাকা জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন, ৭ কোটি ২৭ লাখ ৩৬ হাজার ৬২৭ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং ব্যাংক হিসাবে ২২ কোটি ৫৬ লাখ ৩ হাজার ৭৫৬ টাকা স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ফেনী-৩ আসনের সাবেক এমপি হাজী রহম উল্লাহর বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৪৬ হাজার ৫২১ টাকা জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সাবেক এমপি নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের বিরুদ্ধে ৭৯ লাখ ৯৯ হাজার ৬৪২ টাকা এবং তার স্ত্রী চৌধুরী রুবিনা ইয়াছমিন লুবনার বিরুদ্ধে ১ কোটি ৮২ লাখ ৫১ হাজার ৫৮৯ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক মামলা হয়েছে।

নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে ১ কোটি ১৯ লাখ ৯৬ হাজার ৯৫০ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা হয়েছে। তার স্ত্রী আখতার জাহান বকুলের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৫০ লাখ ৮৩ হাজার ৪০০ টাকা এবং ছেলে মির্জা মাসরুর কাদের তাশিকের বিরুদ্ধে ৮১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৪৫ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগে পৃথক মামলা করা হয়েছে।

যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদারের বিরুদ্ধে ২৪ কোটি ৫৮ লাখ ৪৫ হাজার ২২১ টাকা এবং তার স্ত্রী শামীমা শারমিনের বিরুদ্ধে ৬ কোটি ৭২ লাখ ৯ হাজার ৪৫৩ টাকা জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক মামলা হয়েছে।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাবেক সম্পাদক ও নিউজটোয়েন্টিফোরের সাবেক সিইও নঈম নিজামের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ২ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার ১৩৫ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ১৯টি ব্যাংক হিসাবে ৩৯ কোটি ৩৯ লাখ ৬১ হাজার ৯১৩ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে।

তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৭৪ লাখ ১৩ হাজার ১৮০ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ১৭টি ব্যাংক হিসাবে ২১ কোটি ৯ লাখ ৩৪ হাজার ৮১৪ টাকা লেনদেনের অভিযোগে পৃথক মামলা হয়েছে।

এ ছাড়া খুলনা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম মাহাবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৫১ লাখ ৭৩ হাজার ২০০ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদ বিবরণীতে ৪৯ লাখ ৮৩ হাজার ১২০ টাকার তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে। তার স্ত্রী জাকিয়া মাহাবুবের বিরুদ্ধেও ৭৫ লাখ ৩৪ হাজার ৪৬১ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা হয়েছে।

দুদক জানিয়েছে, মামলাগুলোতে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা, দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।

অভিযোগগুলো দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্তের ভিত্তিতে করা হয়েছে; মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।


নির্বাচিত

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে অ্যাটর্নি-জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাক্ষাৎ করেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বঙ্গভবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সৌজন্যে সাক্ষাৎ করেন অ্যাটর্নি-জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। সাক্ষাৎকালে অ্যাটর্নি-জেনারেল রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান।

এ সময় তিনি রাষ্ট্রের স্বার্থ ও আইনগত অধিকার সুরক্ষায় অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম এবং গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ ও পদক্ষেপ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতি দেশের সংবিধানের সর্বোচ্চতা ও মর্যাদা সমুন্নত রাখার পাশাপাশি আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা অব্যাহত রাখতে রাষ্ট্রের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রের আইনগত স্বার্থ সংরক্ষণ, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, জনগণের অধিকার সুরক্ষা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকা পালনের বিষয়েও মতবিনিময় হয়।

রাষ্ট্রপতি অ্যাটর্নি-জেনারেলকে তার দায়িত্ব পালনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

প্রতি কিলোমিটারে ২৩ পয়সা বাড়লো লঞ্চের ভাড়া, সর্বনিম্ন ৩৫ টাকা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সড়কপথের পর এবার নৌপথে চলাচলকারী লঞ্চের ভাড়াও পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম ১০০ কিলোমিটার দূরত্বের জন্য প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২৩ পয়সা এবং ১০০ কিলোমিটারের অতিরিক্ত দূরত্বের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে নৌপথে সর্বনিম্ন ভাড়া ৩২ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে লঞ্চমালিকদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্তের কথা জানান সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী জানান, জ্বালানির মূল্য ও পরিচালন ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে নৌযান মালিকেরা ১৫ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানালেও সাধারণ যাত্রীদের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে তা ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। ভাড়া সমন্বয়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ভাড়া বাড়ানো কারও জন্যই কাম্য নয়। তবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে এর প্রভাব কোনো না কোনোভাবে পরিবহন খাতে পড়ে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, যাতে যাত্রীদের ওপর কম চাপ পড়ে। লঞ্চমালিকদের বিভিন্ন দাবি থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে ভাড়া বৃদ্ধির পরিমাণ সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রথম ১০০ কিলোমিটারে যে হারে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে, পরবর্তী ১০০ কিলোমিটারেও নির্ধারিত হারে ভাড়া সমন্বয় হবে। নৌপথে সর্বনিম্ন দূরত্ব ১০ কিলোমিটার ধরে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। তাই সর্বনিম্ন ভাড়া ৩৫ টাকা করা হয়েছে।’

রেলের ভাড়া বাড়ানোর প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শেখ রবিউল আলম জানান, ট্রেনের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং সরকার বিদ্যমান ভাড়াতেই পরিষেবা চালু রাখতে চাইছে। তিনি বলেন, ‘গতবার ডিজেলের দাম বাড়ার সময়ও রেলের ভাড়া বাড়ানো হয়নি। প্রায় ১০ বছর ধরে রেলের ভাড়া বাড়ানো হয়নি। এবার জ্বালানির দাম আরও বাড়ায় রেলের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। তারপরও আমরা এখনো ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিইনি। রেলের সংশ্লিষ্টদের বলেছি, সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করতে।’

সড়কপথে সম্প্রতি কার্যকর হওয়া বাসের নতুন ভাড়ার তদারকি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বাসমালিকেরা নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া নেবেন না বলে অঙ্গীকার করেছেন। এখন পর্যন্ত যে রিপোর্ট পেয়েছি, তাতে নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট অনুযায়ী ভাড়া আদায় হচ্ছে।’ তবে চার্ট না টাঙানো বা বাড়তি ভাড়া নেওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। গ্যাসচালিত যানবাহনের বিষয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, ‘সিএনজির দাম বাড়েনি। তাই সিএনজিচালিত যানবাহনের ভাড়া বাড়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমাদের জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ মালিক ও যাত্রী উভয় পক্ষের স্বার্থ সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, ‘আমরা যেন কেউ কাউকে প্রতিপক্ষ না মনে করি। ন্যায্যতার জায়গা থেকে সবার অধিকার বিবেচনা করলে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।’


নির্বাচিত

বাসের ভাড়া কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মহানগর, আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার রুটে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়িয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সহকারী সচিব জসিম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়। জনস্বার্থে জারিকৃত এই নতুন ভাড়ার হার গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) থেকেই কার্যকর বলে গণ্য হবে।

প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বড় বাসের ক্ষেত্রে যাত্রীপ্রতি প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ২ টাকা ৫৩ পয়সার পরিবর্তে ২ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে দূরপাল্লা ও আন্তঃজেলা রুটে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৪০ পয়সায়। এছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের মিনিবাস এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) আওতাভুক্ত জেলাসমূহ—ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জের অভ্যন্তরে চলাচলকারী উভয় যানের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ২ টাকা ৪৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৬০ পয়সা করা হয়েছে। পাশাপাশি দুই মহানগরে বাস ও মিনিবাসের সর্বনিম্ন ভাড়া যথাক্রমে ১০ টাকা এবং ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, যাত্রীদের আরামদায়ক যাতায়াতের লক্ষ্যে বিআরটিএ অনুমোদিত আসন সংখ্যা হ্রাস করে ভেতরের কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হলে ভাড়ার হার আনুপাতিক হারে পুনর্নির্ধারণ করতে হবে এবং সে ক্ষেত্রে বিআরটিএ বা যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নিতে হবে। তবে এই বর্ধিত ভাড়ার হার গ্যাস বা সিএনজিচালিত যানবাহনের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া প্রতিটি বাস ও মিনিবাসের ভেতরে যাত্রীদের সহজে নজরে পড়ে এমন স্থানে অনুমোদিত ভাড়ার তালিকা ঝুলিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।


নির্বাচিত

বিশ্বনেতাদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেওয়া নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:২৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান বিশ্বনেতাদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের দেয়া নৈশভোজে অংশ নিয়েছেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে বিশ্বনেতাদের সম্মানে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাতে নিউইয়র্কের বিলাসবহুল লোটে নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেলে এ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।

জাতিসংঘের সদস্যদেশগুলোর সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং তাঁদের সহধর্মিণীগণ এ নৈশভোজে অংশ নেন।

এর আগে সকালে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মানে প্রাতরাশের আয়োজন করেন। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানও অংশ নেন। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

ঢাকায় কার্যালয় স্থাপনে আগ্রহী মেটা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুবিশাল ব্যবহারকারী এবং অনলাইন বাণিজ্যের সম্প্রসারিত বাজারকে বিবেচনায় নিয়ে রাজধানী ঢাকায় নিজস্ব কার্যালয় খোলার গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। একই সঙ্গে দেশের ই-কমার্স খাতের উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি সম্প্রসারণ এবং সাইবার নিরাপত্তা সুরক্ষায় বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করার আগ্রহ দেখিয়েছে শীর্ষস্থানীয় মার্কিন এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যোগদান উপলক্ষে সফরের প্রথম দিনের সার্বিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। প্রতিমন্ত্রী জানান, মেটার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পূর্বনির্ধারিত ব্যস্ততার কারণে প্রধানমন্ত্রী নিজে অংশ নিতে না পারলেও তাঁর নির্দেশনায় সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি দল বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করে। ঢাকায় মেটার প্রাতিষ্ঠানিক দপ্তর খোলার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে এবং ঢাকাকে তাদের কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়টি দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় স্থান পেয়েছে।

আলোচনায় দেশের সাইবার নিরাপত্তা আইন, ডিজিটাল খাতের নীতিগত কাঠামো এবং অনলাইন ব্যবসায় মেটার কার্যকর সহযোগিতার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হয়। বিভিন্ন ডিজিটাল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট নাগাদ মেটার প্ল্যাটফর্মে দেশে বিজ্ঞাপনী ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে সাত কোটির মাইলফলক স্পর্শ করেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশে ব্যবসা সহজীকরণের অংশ হিসেবে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য বিকাশের মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের মূল্য পরিশোধের সুবিধাও চালু করেছে মেটা, যার ফলে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সহজেই ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের সুযোগ নিতে পারছেন।

এর পাশাপাশি ডিজিটাল মানবসম্পদ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দক্ষতা বাড়াতে দেশীয় অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি। লাইটক্যাসল পার্টনার্সের সঙ্গে যৌথভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল বিপণন বিষয়ক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মেটার ‘স্মল বিজনেস গ্রোথ একাডেমি’র অধীনে ইতোমধ্যে দেশের এক হাজারের বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ উল্লেখ করেন, বিপুল ব্যবহারকারী ও অনলাইন অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে মেটার মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব দেশের ডিজিটাল বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


নির্বাচিত

বিশ্বমঞ্চে জনস্বার্থ ও দেশের মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী : মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন মঙ্গলবার জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম দিনেই গুরুত্বপূর্ণ ১০টি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। এসব কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী জনগণের স্বার্থ ও বিশ্বমঞ্চে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৮ টায় জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

সফরের প্রথম দিনের কর্মসূচি পর্যালোচনা করে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থকে কীভাবে প্রাধান্য দেওয়া যায় এবং জনগণের স্বার্থকে সবার আগে রাখা যায়, বিশ্বমঞ্চে একজন নির্বাচিত সরকারপ্রধান হিসেবে বাংলাদেশের মর্যাদাকে কীভাবে আরও উপরে নিয়ে যাওয়া যায়, সেটাই নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিনের কর্মসূচিগুলো ব্যক্তিগত, বহুপক্ষীয়, আঞ্চলিক, দ্বিপক্ষীয়, রোহিঙ্গা সংকট এবং উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনাসহ কয়েকটি ভাগে বিভক্ত ছিল। দিনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজিত বিশ্বনেতা ও তাঁদের সহধর্মিণীদের সম্মানে প্রাতঃরাশ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেন।

মাহদী আমিন বলেন, প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে এবং মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ হুসেইন মোহাম্মদ লতিফের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে দুই দেশের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ, পর্যটন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সঙ্গেও বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং বহুপক্ষীয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীকে তুরস্ক সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছেন বলে তিনি জানান।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাইডলাইন বৈঠক করেছেন হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিস-আইমে। বৈঠকে হাইতির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সেখানে বাংলাদেশের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিনের আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকটও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহের সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, আগামী বুধবার জাতিসংঘে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়া যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে।

প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গেও বৈঠক করেছেন জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, বাণিজ্য, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সংস্কার ও অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ সরকারের বিভিন্ন নীতি ও অগ্রাধিকার নিয়ে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, নির্ধারিত কর্মসূচির মধ্যে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক এবং মেটার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি বৈঠক করা সম্ভব হয়নি। তবে মেটার সঙ্গে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বৈঠক করেছে এবং বাংলাদেশে মেটার বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিনের কর্মসূচির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত বিশ্বনেতা ও তাঁদের সহধর্মিণীদের সম্মানে অভ্যর্থনায় অংশগ্রহণও ছিল। প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের কর্মসূচিতে এ অভ্যর্থনার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে তার প্রথম ভাষণ দেবেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

জাতিসংঘে ট্রাম্পের সঙ্গে খলিলুর রহমানের শুভেচ্ছা বিনিময়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে চলমান জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করেছেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) অধিবেশনের ফাঁকে এই শীর্ষ সাক্ষাৎটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের একটি স্থিরচিত্র নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করে ড. খলিলুর রহমান লেখেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত মতবিনিময়।’ তবে দুই নেতার এই সাক্ষাতে পারস্পরিক কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সে ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবরণ তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমান বিশ্বসংস্থার জরুরি কাঠামোগত সংস্কার এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার দেশগুলোর স্থায়ী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার পক্ষে জোরালো অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় আফ্রিকান অঞ্চলের অন্তর্ভুক্তি ও অধিকার সুরক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। জাতিসংঘের দাপ্তরিক তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের ২ জুন ড. খলিলুর রহমান ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর এক বছর মেয়াদের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার থেকেই নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের মূল বিতর্ক পর্ব শুরু হয়েছে। উদ্বোধনী দিনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাধারণ পরিষদে তাঁর আনুষ্ঠানিক ভাষণ দেন। বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে সরকারি সফরে এ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


নির্বাচিত

তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যয়

নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দু'দেশের শীর্ষ নেতৃদ্বয়।

স্হানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের কাছে ৮২১ ইউনাইটেড নেশনস প্লাজায় অবস্থিত তুর্কি হাউসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের মধ্যে এ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক একথা জানান।

সহকারী প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার ও বহুমাত্রিক করার লক্ষ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন দুই নেতা। একই সঙ্গে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করপন তাঁরা।

তিনি জানান, বৈঠকের আলোচনাকালে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনেরও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দুই নেতা। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কোনো বিকল্প নেই : প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, 'মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কোনো বিকল্প নেই।'

তিনি বলেন, 'মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। সংকটের স্থায়ী সমাধানে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কোনো বিকল্প নেই এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।'

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘের শরণার্থী-বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহর সৌজন্য সাক্ষাৎ ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

মঙ্গলবার নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর আবাসস্থল হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্কে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সরকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক এ কথা জানান।

সহকারী প্রেস সচিব বলেন, দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ও সমন্বিত ভূমিকা নিয়ে বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়।

দ্বিপাক্ষিক এই বৈঠকে রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সময় বারহাম সালেহ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

banner close