ঢাকা সফররত জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে গতকাল শনিবার দেশের কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা সাক্ষাৎ করে দেশে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে সংস্কার ও নির্বাচন প্রসঙ্গে নিজ নিজ দলীয় অবস্থান জানিয়েছেন। বৈঠকে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের কেউ ন্যূনতম, আবার কেউ মৌলিক সংস্কার চেয়েছেন। তবে, নির্বাচনের সময়সীমা প্রশ্নে তাদের মধ্যে ভিন্নমত দেখা গেছে। জবাবে, জাতিসংঘ মহাসচিব এদেশে আগামীতে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে জাতিসংঘের উদ্যোগে শনিবার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বিএনপির হয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, নায়েবে আমির ডা. আব্দুল্লাহ মো. তাহের, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি এবং সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স অংশ নেন।
বৈঠকে শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিক বিষয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া অন্যান্য বিষয়ের সংস্কার প্রস্তাবগুলো ভোটের পর পরবর্তী জাতীয় সংসদের মাধ্যমে বাস্তবায়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।
বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আমরা বলেছি, নির্বাচনকেন্দ্রিক যে সংস্কারগুলো আছে, তা দ্রুত শেষ করতে হবে। নির্বাচিত পার্লামেন্টের মাধ্যমে বাকি বিষয়গুলো (সংস্কার) শেষ হবে। আর সংস্কার তো অবশ্যই করতে হবে। সংস্কারের কথা তো আমরাই আগে বলেছি। আমরা জাতিসংঘের মহাসচিবকে সে বিষয়েও বলে এসেছি। আমরা যেটা বলেছি, মূলত নির্বাচনকেন্দ্রিক বিষয়গুলোর সংস্কার করে ফেলা, তারপর দ্রুত নির্বাচন করা, এরপর একটি সংসদের মাধ্যমে বাড়তি সংস্কারগুলো করা। সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া, এটাই আমরা বলেছি।’
জাতিসংঘের মহাসচিবের সঙ্গে কী নিয়ে আলাপ হয়েছে, বিএনপিই-বা কী বলেছে—এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির মহাসচিব বলেন, ‘জাতিসংঘের উদ্যোগে একটা গোলটেবিল আয়োজন করা হয়েছিল। এতে কমিশনপ্রধানরা ছিলেন। মূলত এখানে সংস্কারের যেসব বিষয় সম্পর্কে আলোচনা হচ্ছে, সেসব বিষয় সম্পর্কে জাতিসংঘের মহাসচিবকে জানানো হয়েছে।’ জাতিসংঘের মহাসচিব সংস্কার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেছেন কিনা জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘জাতিসংঘ মহাসচিব এ ব্যাপারে কোনো কথা বলেননি, এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আসলে এই গোলটেবিলটা, আমি আসলে বুঝিনি আরকি!’
বিএনপি জাতিসংঘের মহাসচিবকে নির্বাচন বিষয়ে কোনো টাইমফ্রেম দিয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখানে টাইম ফ্রেমের কথা বলার কোনো প্রয়োজন নেই, নির্বাচন তো আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। টাইমফ্রেমের কথা কেন তাদের বলব?
দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সংস্কার ও নির্বাচন কীভাবে হবে, সেটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যু বলে জাতিসংঘ মনে করে। এ দেশের জনগণকেই তা নির্ধারণ করতে হবে। তবে জাতিসংঘ মহাসচিব আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, বাংলাদেশে আগামীতে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক সরকার আসবে, পৃথিবীর মধ্যে একটা নজির সৃষ্টি করবে আগামীর নির্বাচন।
বৈঠক শেষে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, আমরা সংস্কারের ব্যাপারে কথা বলেছি। একটা ফেয়ার নির্বাচনের বিষয়ে বলেছি, টেকসই গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যের ব্যাপারে কথা বলেছি। জাতিসংঘের মহাসচিব আমাদের অধিকাংশ বক্তব্য সমর্থন করেছেন। বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আশাবাদী। তবে, নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে দলটি কোনো কথা বলেনি বলে বৈঠকে অংশ নেওয়া অন্য একটি দলের নেতা জানান।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিতে জাতিসংঘের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সংস্কার ও নির্বাচনের বিষয়ে ঐকমত্য নিয়ে আমাদের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।
অন্যদিকে, জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও জাতিসংঘ মহাসচিবের পৃথক সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
ওই বৈঠক শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, বৈঠকে সংস্কার নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষে আমরা মনে করি, বিচার ও সংস্কার জনগণের কাছে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সরকারের অন্যতম কমিটমেন্ট। সংবিধান সংস্কার নিয়ে এনসিপির অবস্থান তুলে ধরেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার গণপরিষদের মাধ্যমেই করতে হবে। সংসদে সংবিধান সংস্কার টেকসই হবে না, বাংলাদেশের ইতিহাস থেকেও এটাই দেখতে পাই।
এনসিপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, আমরা মনে করি, নির্বাচনকে আমরা একটি সংস্কারের প্রক্রিয়া হিসেবে দেখি, সংস্কারের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখি। সংস্কার ছাড়া নির্বাচন কোনো কাজে দেবে না। অন্য সব রাজনৈতিক দলও এই কথার সঙ্গে একমত পোষণ করে। এখানে মতপার্থক্য হচ্ছে কোন সংস্কারটা কখন হবে, নির্বাচনের আগে কতটুকু হবে, নির্বাচনের পরে কতটুকু হবে। আমরা মনে করি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে মতপার্থক্যগুলা কেটে যাবে। আমরা ঐকমত্যে আসতে পারবো। সংস্কার ও গণহত্যার বিচারে জনগণের কাছে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংস্কারের মৌলিক ভিত্তি এই সরকারের আমলেই তৈরি করতে হবে। সংস্কার ছাড়া নির্বাচন কাজে দেবে না। এ ছাড়া, সংবিধান ও গণপরিষদ নিয়েও আমাদের অবস্থান তুলে ধরেছি।
বৈঠকে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত সংস্কার কার্যক্রম ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন বলে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা দৈনিক বাংলাকে জানান। এ বৈঠকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ, সদস্য ড. ইফতেখারুজ্জামান ও বদিউল আলম মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
এ বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে দেওয়া যৌথ বক্তব্যে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, বাংলাদেশের শান্তি ও সংলাপ প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘ সহায়তা করবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত বাংলাদেশের ন্যায়সংগত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করা, কারণ এটি দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। বাংলাদেশের জনগণের পাশে থেকে একটি টেকসই ও ন্যায়সংগত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে জাতিসংঘ নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে থাকবে।
এ ছাড়া যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ও পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে, আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই যে, জাতিসংঘ শান্তি, জাতীয় সংলাপ, আস্থা ও সংহতি প্রতিষ্ঠায় সর্বদা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।’
প্রধান উপদেষ্টার আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় আসেন আন্তোনিও গুতেরেস। আজ রোববার তার ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে।
আগামী বুধবার ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালনকল্পে দেশের সকল সংবাদপত্র অফিস ছুটি পালনের ঘোষণা দিয়েছে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)।
আজ সোমবার সংগঠনের সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নোয়াবভুক্ত সব সদস্যের অবগতির জন্য ছুটি-সংক্রান্ত এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে এই বিশেষ ছুটির মধ্যেও প্রকাশনা অব্যাহত রাখার সুযোগ রেখে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, “এই ছুটির সময়ও নোয়াব সদস্যরা বিশেষ ব্যবস্থায় পত্রিকা প্রকাশ করতে পারবেন।”
রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান, জাতীয় দিবস, সরকারি সভা এবং প্রটোকল সংক্রান্ত অন্যান্য আয়োজনে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও চেয়ারম্যানদের যথাযথ পদমর্যাদা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ লক্ষ্যে ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স, ১৯৮৬ (জুলাই ২০২০ পর্যন্ত সংশোধিত)’ কঠোরভাবে অনুসরণের জন্য জেলা প্রশাসকদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গত ৩০ জুলাই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জেলা পরিষদ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দেশের সকল জেলা প্রশাসকের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে।
প্রেরিত পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ও সরকারি সভাসহ বিভিন্ন প্রটোকলিক আয়োজনে আসন বিন্যাস, দাপ্তরিক চিঠিপত্র ও আমন্ত্রণপত্রে নামের ক্রম নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার তালিকা বা ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স গুরুত্বের সাথে অনুসরণ করতে হবে। জেলা পরিষদের প্রশাসক ও চেয়ারম্যানদের প্রাপ্য মর্যাদা ও সম্মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব খোন্দকার ফরহাদ আহমদ স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনায় সরকারি কার্যক্রম ও প্রটোকল পালনে স্বচ্ছতা ও নিয়মানুবর্তিতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
এই নির্দেশনার অনুলিপি অবগতি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ আশা করছে যে, এই নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও চেয়ারম্যানরা তাদের নির্ধারিত রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও সম্মাননা সুশৃঙ্খলভাবে লাভ করবেন। মূলত সরকারি অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার তালিকার ব্যত্যয় রোধ করাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।
বাংলাদেশে আশ্রয়গ্রহণকারী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবন রক্ষাকারী ত্রাণ ও সুরক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়া সরকার এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ২ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব, শুল্ক ও বহুসংস্কৃতি বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিলের উপস্থিতিতে এই মানবিক সহায়তার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। অস্ট্রেলিয়ার ২০২৬-২৮ মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এই বহুবর্ষী অর্থায়ন করা হবে, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এই শরণার্থী জনগোষ্ঠী এবং তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয়দের জন্য অপরিহার্য সেবা নিশ্চিত করবে।
অস্ট্রেলিয়ার এই সময়োপযোগী সহায়তা এমন এক সময়ে এলো যখন বৈশ্বিক মানবিক সহায়তার প্রবাহে এক ধরনের অনিশ্চয়তা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই তহবিলের মাধ্যমে ইউএনএইচসিআর এবং এর সহযোগী সংস্থাগুলো রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে নিরাপত্তা কার্যক্রম, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কর্মসূচি পরিচালনা করতে পারবে। অনুষ্ঠানে জুলিয়ান হিল বলেন, “অস্ট্রেলিয়া আমাদের অঞ্চলের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটগুলোতে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে, যা আমাদের অঞ্চলকে আরও নিরাপদ, স্থিতিশীল এবং সহনশীল করে তুলছে। মিয়ানমার ও বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের মানবিক চাহিদা পূরণে সহায়তা অব্যাহত রাখতে অস্ট্রেলিয়া প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরতে চান, তবে তাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের জন্য মিয়ানমারে প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এই সংকটের মূল কারণগুলোর সমাধান ছাড়া তা সম্ভব নয়।”
ইউএনএইচসিআর-এর অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকেয়িসোনি সংকটটি বিশ্ববাসীর নজরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “প্রায় নয় বছর পর নতুন নতুন মানবিক সংকট সামনে আসায় রোহিঙ্গা সংকটটি বৈশ্বিক মনোযোগ থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ধারাবাহিক সহায়তা একটি শক্তিশালী বার্তা দেয় যে রোহিঙ্গাদের বিশ্ব ভুলে যায়নি। আমি যেসব শরণার্থীর সঙ্গে কথা বলি, প্রত্যেকেই তারা নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আশা ব্যক্ত করেন, যেখানে তাদের অধিকার ও মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। মিয়ানমারে পূর্ণ নাগরিকত্বের নিশ্চয়তাসহ স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তাদের প্রতি অবিচল সমর্থন অব্যাহত রাখতে হবে।”
বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইলও শরণার্থীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে জানান, “বাংলাদেশে রোহিঙ্গা এবং তাদের আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিতে অস্ট্রেলিয়া প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইউএনএইচসিআরকে দেওয়া এই সর্বশেষ ২ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলারের সহায়তা নারী, কন্যাশিশু এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য অত্যাবশ্যক সেবা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।”
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ভয়াবহ সহিংসতার পর বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার অধিকাংশ বর্তমানে কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থান করছেন। দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে তারা প্রায় সম্পূর্ণভাবে বৈশ্বিক মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। অর্থায়নের ঘাটতি এই শরণার্থীদের জীবনকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে, যার ফলে অনেকেই উন্নত জীবনের আশায় সমুদ্রপথে বিপজ্জনক যাত্রার ঝুঁকি নিচ্ছেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এমন চেষ্টার সময় প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা নিখোঁজ বা প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া ২০২৪ সাল থেকে নতুন করে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রবেশ করায় আবাসন ও জ্বালানির ওপর চাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার এই ধারাবাহিক সহায়তা রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা ও টেকসই জীবনমান নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। আজ সোমবার সকালে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “আসুন আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি আমাদের দেশটাকে পরিষ্কার ও সুন্দর রাখতে। যা নিশ্চিত করবে আমাদের আগামী দিনের বংশধরদের জন্য একটি সুস্থ দেশ, সুস্থ পরিবেশ।”
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে পরিবেশের বর্তমান অবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন পরিবেশের বিষয়টি সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে স্পর্শ করে। ৪০ বা ৩০ বছর আগের তুলনায় বর্তমান সময়ে ঢাকা শহরসহ জেলা, উপজেলা ও গ্রামগঞ্জের রাস্তাঘাট এবং বাজার এলাকায় প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট, ব্যবহৃত টিস্যুসহ নানাবিধ আবর্জনা যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।’ তিনি মনে করেন, পরিবেশ দূষণের এই ক্রমবর্ধমান হার জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন দুর্ভোগের চিত্র ফুটিয়ে তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই পায়ে হেঁটে চলে অথবা বাসে চলাচল করে। এই মানুষগুলো যখন রাস্তা পার হয়, বিভিন্ন জায়গায় যখন আবর্জনা জমে থাকে, ময়লা থাকে, এই মানুষগুলোর কিন্তু অনেক কষ্ট হয়। বিভিন্ন জায়গায় অনেক দুর্গন্ধ হয়, আবর্জনা জমে থাকে। তবে আমরা যদি সকলে মিলে একটু সচেতন হই। যত্রতত্র আমাদের ব্যবহারকৃত আবর্জনা না ফেলে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় জমা করি এবং নির্দিষ্ট উপায়ে যদি এটাকে পরে ধ্বংস করি, তাহলে যেমন আমাদের পরিবেশটি ভালো থাকবে ঠিক একইভাবে আমরা আমাদের পরিবেশটাকে সুন্দরভাবে রাখতে পারব।’
গৃহস্থালি পরিবেশের উদাহরণ টেনে তিনি জনগণের বিবেককে জাগ্রত করার চেষ্টা করে বলেন, ‘চিন্তা করে দেখুন তো আপনার ঘরে যে ঘরটিতে আপনি থাকেন, যে বাসাটিতে আপনি থাকেন, যদি চারিদিকে এমন তৃষ্ণ ছড়িয়ে থাকতো, যদি চারিদিকে এমন আবর্জনা ছড়িয়ে থাকতো, আপনার কাছে কি ভালো লাগতো দেখতে? নিশ্চয়ই না। আমাদের কারো কাছেই ভালো লাগতো না। কবি তো সুন্দরভাবে লিখেছেন, সবুজ, শস্য শ্যামলা আমার ভুবন। তবে আমরা কেন আমাদের পরিবেশটাকে সুন্দর করতে পারবো না।’
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিজের সাম্প্রতিক সফরের অভিজ্ঞতা বিনিময় করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত কয়েক মাসে যখন আমি দেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি হয়তো কোন একটি পুকুরের পাশ দিয়ে যাচ্ছি, দেখেছি পুকুরের ভিতরে বিভিন্ন রকম ময়লা স্তুূপ হয়ে পড়ে আছে। অথবা পুকুরপাড়ে বিভিন্ন ময়লা স্তুূপ হয়ে পড়ে আছে। অথচ একসময় এসব স্থানে মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে বসত ও গল্প করত।’ কেবল পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ওপর নির্ভর না করে নাগরিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যখন যাই তখন হয়তো যারা পরিচ্ছন্ন কর্মী তারা হয়তো পরিষ্কার করে রাখছে। কিন্তু আমরা যখন বেরিয়ে আসছি তখন আর সেটি আগের মতন পরিষ্কার থাকছে না। যদি পরিষ্কার থাকতো আপনি যদি পরিষ্কার করে রেখে আসেন আপনার পরবর্তীতে যে যাবে সেও সেই পরিচ্ছন্নতার সুন্দর পরিবেশটি উপভোগ করতে পারবে।’
ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি আজকে থেকে প্রত্যেকে সচেতন হই আমাদের হাতের আবর্জনা বা ব্যবহৃত আবর্জনা যদি নির্দিষ্ট জায়গায় সুন্দরভাবে আমরা গুছিয়ে ফেলি তাহলে ধীরে ধীরে হয়তো আমরা আমাদের এই বাংলাদেশটাকে আবর্জনা মুক্ত করতে পারবো। সুন্দর একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে পারবো।’ জাতীয় উন্নয়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি পরিশেষে বলেন, ‘দেশটা তো আমাদের সকলের। আমরা সকলে মিলে যদি চেষ্টা করি তাহলে আমরা বড় কিছু করতে সক্ষম হব। প্রিয় দেশবাসী, আপনাদের কাছে আজকে এই সহযোগিতাটা আমি চাইছি।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম নিয়মিত ও বৈধ উপায়ে অভিবাসনের পথ প্রশস্ত করতে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সঙ্গে বিদ্যমান অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করার তাগিদ দিয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ মন্ত্রণালয়ে আইওএমের অপারেশনস বিষয়ক উপ-মহাপরিচালক উগোচি ড্যানিয়েলসের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এই গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকে অভিবাসীদের সামগ্রিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিশ্ব শ্রমবাজারের বর্তমান চাহিদার সঙ্গে বাংলাদেশের জনশক্তিকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রতিমন্ত্রী নিরাপদ, শৃঙ্খলিত ও নিয়মিত অভিবাসনের লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে আইওএম-এর সক্রিয় সহযোগিতার প্রশংসা করেন। নিরাপদ, শৃঙ্খলিত ও নিয়মিত অভিবাসনের বৈশ্বিক চুক্তি বা জিসিএম চ্যাম্পিয়ন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, জিসিএম ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান এই চুক্তির লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে একটি সমন্বিত ও কর্মমুখী কাঠামো হিসেবে কাজ করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নৈতিকতা বজায় রাখা এবং পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক বাজারের নিরিখে কর্মীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করা বর্তমানে অত্যন্ত জরুরি।
বৈঠকে বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, কেয়ারগিভিং এবং কৃষি খাতে বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্য দেশের সঙ্গে মেধা অংশীদারিত্ব সহজতর করার মাধ্যমে বাংলাদেশের দক্ষ কর্মীবাহিনীকে বৈশ্বিক চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করতে আইওএম-এর কারিগরি সহায়তা কামনা করা হয়। অভিবাসী কর্মীদের, বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ সুরক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সেবা কার্যক্রম জোরদার করার ওপর প্রতিমন্ত্রী বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া সংকটকবলিত দেশগুলো থেকে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে আইওএম-এর ভূমিকার জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান এবং মানব পাচার রোধ ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিবাসন মোকাবিলায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের জন্য আইওএম-এর মানবিক সহায়তার প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী তাদের সসম্মানে ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকার ওপর জোর দেন। অন্যদিকে, আইওএম প্রতিনিধি উগোচি ড্যানিয়েলস টেকসই অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়োচিত উদ্যোগ ও বৈশ্বিক নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। উভয় পক্ষই অভিবাসীদের অধিকার রক্ষা এবং মানবিক অগ্রাধিকারগুলো বাস্তবায়নে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে নিজ নিজ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
সরকারি দপ্তরের দাপ্তরিক কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) টুল ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
একই সঙ্গে সরকারি সংবেদনশীল ও গোপনীয় তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রচলিত আইন, বিধি-বিধান ও সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ই-গভর্নেন্স-২ শাখা থেকে গত ২৮ জুলাই জারি করা এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি সব সিনিয়র সচিব ও সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে সরকারি দপ্তরগুলোর বিভিন্ন দাপ্তরিক কার্যক্রমে এআই টুলের ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে কাজের গতি, দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়লেও অসতর্ক ব্যবহারে সরকারি সংবেদনশীল ও গোপনীয় তথ্য অননুমোদিতভাবে প্রকাশ বা তৃতীয় পক্ষের কাছে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে সরকারি দাপ্তরিক কাজে এআই টুল ব্যবহারের সময় সরকারি তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন, বিধি-বিধান এবং সরকারের জারি করা নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে, যাতে প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি সরকারি তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা অক্ষুণ্ন থাকে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব শেখ জোবায়ের আহমেদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: বাসস
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের প্রধান অ্যাডমিরাল স্টিফেন কোহলার তিন দিনের সরকারি সফরে আগামীকাল মঙ্গলবার ঢাকায় পদার্পণ করবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে প্রাপ্ত সংবাদ অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনীর এই শীর্ষ কর্মকর্তার আগমন দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় ও কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস জানিয়েছে, অ্যাডমিরাল কোহলারের নেতৃত্বে ২২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এই রাষ্ট্রীয় সফরে অংশ নেবে।
সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন মাত্র তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর বাংলাদেশ সফর সম্পন্ন করেছেন। এই ধারাবাহিক যোগাযোগ ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ও সামরিক সংযোগের গতিশীলতাকে নির্দেশ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের উত্তরোত্তর গুরুত্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিরক্ষা খাতে দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা প্রসারের লক্ষ্যেই এই উচ্চপর্যায়ের সফরটি আয়োজন করা হয়েছে। অভিজ্ঞ যুদ্ধবিমানচালক এবং সামরিক কৌশলবিদ হিসেবে সুপরিচিত অ্যাডমিরাল স্টিফেন কোহলারের এই উপস্থিতি দুই রাষ্ট্রের পারস্পরিক নিরাপত্তা আস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তারা এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আরও শক্তিশালী ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় দেশ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। রোববার (২ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
এ সময় মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে বৈঠকে কোন কোন বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে— এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলছিলেন, ‘সার্জিও গরের এই সফর ছিল মূলত একটি অনুসন্ধানমূলক সফর। এটি ছিল তার প্রথম ঢাকা সফর। দুই দেশ পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী।
ওয়াশিংটনের সঙ্গে অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক আছে জানিয়ে হুমায়ুন কবির উল্লেখ করেন, সব বৈঠকই আন্তরিক ও ইতিবাচক পরিবেশে হয়েছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আগামী দশকে বাংলাদেশকে এশিয়ার একটি সম্ভাবনাময় প্রযুক্তিগত হাব হিসেবে দেখতে চায়। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, আঞ্চলিক সহযোগিতা, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে ম্যানিলায় গিয়েছিলাম। সেখানেও সার্জিও গরের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে। পরে তিনি ঢাকায় এসে প্রথমে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন, যেখানে আমিও উপস্থিত ছিলাম। এরপর শনিবার তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা জানান, প্রথম সফর হওয়ায় সার্জিও গরের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর সার্জিও গর সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মান রয়েছে। এ থেকেই দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা ও পারস্পরিক আস্থার বিষয়টি বোঝা যায়। আমাদের সম্পর্ক এখন নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে।
তিনি মন্তব্য করেন, নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর সরকার একটি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। সরকারের ভিত্তি জনগণ, আর সে কারণেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ সম্মান অর্জন করছে। বেইজিং, ওয়াশিংটন, সৌদি আরব কিংবা রাশিয়া— সব জায়গাতেই বাংলাদেশ একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও কৌশলগত সম্পৃক্ততা বজায় রাখছে।
তার মতে, এটি একটি নতুন সূচনা এবং অত্যন্ত ইতিবাচক সূচনা। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি। এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশ বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন থাকবে। বরং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই আমরা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনা করব।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এবং বৈদেশিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তানীতি আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই জানিয়ে তিনি বললেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে তার যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, এর পেছনে তার নেতৃত্ব, ব্যক্তিত্ব, আন্তরিকতা এবং বিনয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করেন এবং জনগণের সরকার পরিচালনা করতে চান।
অন্যদিকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বললেন, শেখ হাসিনা এখন একটি অপ্রাসঙ্গিক বিষয়। কেউ একজন সন্ত্রাসীকে নিয়ে কথা বলে না। বুঝতে পেরেছেন?
মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এলএনজি আমদানির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত এইচ.ই.ইউ কিয়াও সোয়ে মোয়ের সঙ্গে বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এ প্রস্তাব দেন।
বৈঠকে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, দেশের অভ্যন্তরে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আমদানিতে বিশেষ আগ্রহী।
এর জবাবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত প্রস্তাবটিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন। পাশাপাশি এলএনজি আকারেও গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ প্রস্তাবেও ইতিবাচক সাড়া দেন জ্বালানিমন্ত্রী।
বৈঠকে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম পর্যন্ত পাইপলাইন নির্মাণের অতীতের প্রস্তাব নতুন করে আলোচনায় আনার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
দ্বিপক্ষীয় জ্বালানি সহযোগিতা আরো এগিয়ে নিতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তাব দেন ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি মিয়ানমারের জ্বালানিমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানোর কথা বলেন। প্রয়োজনে নিজেও মিয়ানমার সফরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
আলোচনায় সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের প্রসঙ্গ তুলে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ওই সফরে চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোর গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে গ্যাস পাইপলাইন স্থাপিত হলে তা করিডোর বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং জ্বালানি সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সহযোগিতার বহু সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র রয়েছে। ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির আলোকে দুই দেশের সম্পর্ক আরো জোরদারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আন্তরিক আগ্রহের কথাও তিনি বৈঠকে তুলে ধরেন।
এ সময় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার যৌথ কারিগরি কমিটির বৈঠকে বিষয়টি পর্যালোচনা করা যেতে পারে।
বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ উপস্থিত ছিলেন।
সদ্য সমাপ্ত জুলাই মাসে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছে ২৮৬ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৮৩ পয়সা ধরে)। রোববার (২ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছে ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সে হিসাবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ।
এর আগে গত অর্থবছরের শেষ মাস জুনে দেশে এসেছিল ২৮২ কোটি মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয়।
এদিকে গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই-জুন) ১২ মাসে দেশে বৈধ চ্যানেলে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি মার্কিন ডলার। তার আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স আগে কখনো আসেনি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, প্রবাসীদের জন্য নগদ প্রণোদনা, ব্যাংকিং সেবার সহজলভ্যতা এবং বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর সুযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও উদ্ভাবনী উদ্যোগে তরুণ উদ্ভাবকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘তরুণ উদ্ভাবকেরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তাদের গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও স্টার্টআপ উদ্যোগে সরকার সব সময় পাশে থাকবে।’
রোববার (২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আন্ডার ওয়াটার রোবোটিক ড্রোন নির্মাণ প্রতিযোগিতা ‘মেট রভ ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারওয়াটার রোবোট প্রতিযোগিতা ২০২৬’ এ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ হয়।
বিজয়ী দলের সবাই বাংলাদেশের মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) শিক্ষার্থী। এমআইএসটির শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়া তাদের উদ্ভাবিত আন্ডারওয়াটার রোবটটি প্রধানমন্ত্রীর সামনে প্রদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রী রোবটটির নকশা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও ব্যবহারিক দিক সম্পর্কে খুঁটিনাটি জানতে চান এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেন।
এ সময় বিজয়ী দলকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রোবটটির আরও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, বাণিজ্যিকীকরণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভবিষ্যৎ অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।’
এমআইএসটির (উদ্ভাবকদের) ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কেও জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। তারা পড়াশোনা শেষে প্রযুক্তি খাতেই কাজ করতে এবং নিজেদের উদ্যোগে নতুন কিছু করতে আগ্রহী বলে জানান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, তারা যদি প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপ গড়ে তুলতে চান, তাহলে সরকারের স্টার্টআপ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী তরুণদের উদ্দেশে বলেন, বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিতে হলে উদ্ভাবক, গবেষক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে এবং সরকার তাদের পাশে থাকবে। তিনি বলেন, তৈরি পোশাক শিল্প দেশের প্রধান রপ্তানি খাত হলেও এর পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর, ফার্মাসিউটিক্যালস, ফার্নিচার ও কসমেটিকসসহ নতুন সম্ভাবনাময় শিল্পকে শক্তিশালী করে বহুমুখী রপ্তানি অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি সেমিকন্ডাক্টর বিশেষজ্ঞদেরও দেশে এসে এই খাতের বিকাশে অবদান রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি খাতে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করলে বাংলাদেশ আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে।
এ সময় প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলাম, এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ব্রি. জেনারেল কে এম মোস্তাফিজুর রহমান ও উদ্ভাবনী দলের ১০ জন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
বিদায়ী অর্থবছরের বিদেশি ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে প্রায় ৪৫০ কোটি ডলার, যা এ যাবৎকালের রেকর্ড। বিদেশি ঋণ ছাড়, প্রতিশ্রুতি, ঋণ শোধ—এসব বিষয়ে রোববার (২ আগস্ট) হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।
ইআরডির প্রতিবেদন অনুসারে, বিদায়ী অর্থবছরের (২০২৫-২৬) বিদেশি ঋণের সুদ ও আসলসহ মিলিয়ে প্রায় ৪৪৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার শোধ করেছে বাংলাদেশ। এর আগে কখনো এত ঋণ শোধ করা হয়নি। আগের অর্থবছরে ৪০৯ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ করা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিদেশি ঋণের দায় ক্রমাগত বেড়ে যাচ্ছে, যা অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ সৃস্টি করছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, গত জুলাই–জুন সময়ে ৪৪৯ কোটি ৪০ লাখ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। এর মানে প্রতি মাসে গড়ে সাড়ে ৩৭ কোটি ডলারের বেশি ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে। এ সময়ে ঋণের আসল বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ২৯৫ কোটি ডলার। ঋণের সুদ বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ১৫৪ কোটি ডলার।
এদিকে বিদেশি ঋণ পরিশোধ বাড়লেও কমেছে বিদেশি ঋণছাড় ও ঋণের প্রতিশ্রুতি। গত অর্থবছরের একই সময়ে ঋণ প্রতিশ্রুতি এসেছিল ৮৩২ কোটি ডলারের। গত অর্থবছরে ঋণ ছাড় হয়েছে ৮০৭ কোটি ডলার।
এদিকে ঋণ দেওয়ার শীর্ষে আছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি দিয়েছে ২০৭ কোটি ডলার। এ ছাড়া এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ১৯১ কোটি ডলার ছাড় করে দ্বিতীয় স্থানে আছে। তৃতীয় স্থানে থাকা রাশিয়া দিয়েছে ১০৫ কোটি ডলার। তবে ঋণের অর্থ ছাড় করলেও ভারত ও চীন বিদায়ী অর্থবছরে নতুন ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে সব মিলিয়ে ১১০ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ করেছিল বাংলাদেশ। প্রায় ১০ বছর পর ২০২১-২২ অর্থবছরে ঋণ পরিশোধ বেড়ে ২০১ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা পৌনে ৩০০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। বিদায়ী ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধ বাবদ প্রায় ৪৫০ কোটি ডলার দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে, অর্থাৎ গত ১৪ বছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধ বেড়ে প্রায় চার গুণের বেশি হয়েছে।
ভবিষ্যতে ঋণের চাপ আরও বাড়বে। কারণ, বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পের ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধ শুরু হচ্ছে। যেমন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের ঋণের কিস্তি শুরু হচ্ছে শিগগিরই। জাপানকে এ অর্থ দিতে হবে। এদিকে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ ও মেট্রোরেল প্রকল্পের ঋণের কিস্তি শুরু হয়েছে।
ইআরডির কর্মকর্তারা বলছেন, বড় বড় মেগা প্রকল্পের ঋণের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হয়ে হওয়ায় বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ছে।
আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারলেই এ দেশ এগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে টেকসই করতে হলে প্রভাবমুক্ত স্বাধীন বিচার বিভাগ, দক্ষ প্রশাসন এবং কার্যকর সংসদ গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
ঠাকুরগাঁও বার কাউন্সিলের উদ্যোগে তাকে দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আজ রোববার এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলে অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজও সহজ হয়ে যায়। আমরা যদি প্রভাবমুক্ত একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ গড়ে তুলতে পারি, তবে দেশের নাগরিকগণ প্রকৃত ন্যায়বিচার পাবেন।
একইভাবে প্রশাসনকে দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর এবং সংসদকে আরও কার্যকর করতে পারলে গণতন্ত্র অনেক দূর এগিয়ে যাবে।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, সমস্যা সবসময়ই থাকবে। কিন্তু সেই সমস্যার মধ্য দিয়েই রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হলেই গণতন্ত্র সুদৃঢ় ও স্থায়ী হবে।
মাদক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের জন্য মাদক একটি বড় সামাজিক সমস্যা। এতে অসংখ্য মেধাবী তরুণ-তরুণীর ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শুধু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ জন্য পরিবার, সমাজ এবং সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
জেলার উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে ইতোমধ্যে মেডিকেল কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমোদন পাওয়া গেছে। এগুলোর বাস্তবায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং আগামী বছর থেকেই শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালকে ২৫০ শয্যা থেকে ৬০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। পরিত্যক্ত বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, যোগাযোগসহ জেলার সার্বিক উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জেলা জজ মো. জামাল হোসেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, জেলা পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, ঠাকুরগাঁও বার কাউন্সিলের সিনিয়র আইনজীবীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।