সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
৯ ভাদ্র ১৪৩৩
জাতিসংঘের মহাসচিবের সঙ্গে নেতাদের বৈঠক

নির্বাচনের সময়সীমা প্রশ্নে দলগুলোতে ভিন্নমত

ছবি: সংগৃহীত
বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত
বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৫ মার্চ, ২০২৫ ২২:৩০

ঢাকা সফররত জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে গতকাল শনিবার দেশের কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা সাক্ষাৎ করে দেশে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে সংস্কার ও নির্বাচন প্রসঙ্গে নিজ নিজ দলীয় অবস্থান জানিয়েছেন। বৈঠকে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের কেউ ন্যূনতম, আবার কেউ মৌলিক সংস্কার চেয়েছেন। তবে, নির্বাচনের সময়সীমা প্রশ্নে তাদের মধ্যে ভিন্নমত দেখা গেছে। জবাবে, জাতিসংঘ মহাসচিব এদেশে আগামীতে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে জাতিসংঘের উদ্যোগে শনিবার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বিএনপির হয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, নায়েবে আমির ডা. আব্দুল্লাহ মো. তাহের, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি এবং সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স অংশ নেন।

বৈঠকে শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিক বিষয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া অন্যান্য বিষয়ের সংস্কার প্রস্তাবগুলো ভোটের পর পরবর্তী জাতীয় সংসদের মাধ্যমে বাস্তবায়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।

বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আমরা বলেছি, নির্বাচনকেন্দ্রিক যে সংস্কারগুলো আছে, তা দ্রুত শেষ করতে হবে। নির্বাচিত পার্লামেন্টের মাধ্যমে বাকি বিষয়গুলো (সংস্কার) শেষ হবে। আর সংস্কার তো অবশ্যই করতে হবে। সংস্কারের কথা তো আমরাই আগে বলেছি। আমরা জাতিসংঘের মহাসচিবকে সে বিষয়েও বলে এসেছি। আমরা যেটা বলেছি, মূলত নির্বাচনকেন্দ্রিক বিষয়গুলোর সংস্কার করে ফেলা, তারপর দ্রুত নির্বাচন করা, এরপর একটি সংসদের মাধ্যমে বাড়তি সংস্কারগুলো করা। সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া, এটাই আমরা বলেছি।’

জাতিসংঘের মহাসচিবের সঙ্গে কী নিয়ে আলাপ হয়েছে, বিএনপিই-বা কী বলেছে—এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির মহাসচিব বলেন, ‘জাতিসংঘের উদ্যোগে একটা গোলটেবিল আয়োজন করা হয়েছিল। এতে কমিশনপ্রধানরা ছিলেন। মূলত এখানে সংস্কারের যেসব বিষয় সম্পর্কে আলোচনা হচ্ছে, সেসব বিষয় সম্পর্কে জাতিসংঘের মহাসচিবকে জানানো হয়েছে।’ জাতিসংঘের মহাসচিব সংস্কার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেছেন কিনা জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘জাতিসংঘ মহাসচিব এ ব্যাপারে কোনো কথা বলেননি, এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আসলে এই গোলটেবিলটা, আমি আসলে বুঝিনি আরকি!’

বিএনপি জাতিসংঘের মহাসচিবকে নির্বাচন বিষয়ে কোনো টাইমফ্রেম দিয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখানে টাইম ফ্রেমের কথা বলার কোনো প্রয়োজন নেই, নির্বাচন তো আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। টাইমফ্রেমের কথা কেন তাদের বলব?

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সংস্কার ও নির্বাচন কীভাবে হবে, সেটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ইস‍্যু বলে জাতিসংঘ মনে করে। এ দেশের জনগণকেই তা নির্ধারণ করতে হবে। তবে জাতিসংঘ মহাসচিব আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, বাংলাদেশে আগামীতে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক সরকার আসবে, পৃথিবীর মধ্যে একটা নজির সৃষ্টি করবে আগামীর নির্বাচন।

বৈঠক শেষে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, আমরা সংস্কারের ব্যাপারে কথা বলেছি। একটা ফেয়ার নির্বাচনের বিষয়ে বলেছি, টেকসই গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যের ব্যাপারে কথা বলেছি। জাতিসংঘের মহাসচিব আমাদের অধিকাংশ বক্তব্য সমর্থন করেছেন। বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আশাবাদী। তবে, নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে দলটি কোনো কথা বলেনি বলে বৈঠকে অংশ নেওয়া অন্য একটি দলের নেতা জানান।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিতে জাতিসংঘের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সংস্কার ও নির্বাচনের বিষয়ে ঐকমত্য নিয়ে আমাদের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।

অন্যদিকে, জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও জাতিসংঘ মহাসচিবের পৃথক সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

ওই বৈঠক শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, বৈঠকে সংস্কার নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষে আমরা মনে করি, বিচার ও সংস্কার জনগণের কাছে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সরকারের অন্যতম কমিটমেন্ট। সংবিধান সংস্কার নিয়ে এনসিপির অবস্থান তুলে ধরেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার গণপরিষদের মাধ্যমেই করতে হবে। সংসদে সংবিধান সংস্কার টেকসই হবে না, বাংলাদেশের ইতিহাস থেকেও এটাই দেখতে পাই।

এনসিপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, আমরা মনে করি, নির্বাচনকে আমরা একটি সংস্কারের প্রক্রিয়া হিসেবে দেখি, সংস্কারের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখি। সংস্কার ছাড়া নির্বাচন কোনো কাজে দেবে না। অন্য সব রাজনৈতিক দলও এই কথার সঙ্গে একমত পোষণ করে। এখানে মতপার্থক্য হচ্ছে কোন সংস্কারটা কখন হবে, নির্বাচনের আগে কতটুকু হবে, নির্বাচনের পরে কতটুকু হবে। আমরা মনে করি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে মতপার্থক্যগুলা কেটে যাবে। আমরা ঐকমত্যে আসতে পারবো। সংস্কার ও গণহত্যার বিচারে জনগণের কাছে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংস্কারের মৌলিক ভিত্তি এই সরকারের আমলেই তৈরি করতে হবে। সংস্কার ছাড়া নির্বাচন কাজে দেবে না। এ ছাড়া, সংবিধান ও গণপরিষদ নিয়েও আমাদের অবস্থান তুলে ধরেছি।

বৈঠকে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত সংস্কার কার্যক্রম ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন বলে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা দৈনিক বাংলাকে জানান। এ বৈঠকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ, সদস্য ড. ইফতেখারুজ্জামান ও বদিউল আলম মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।

এ বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে দেওয়া যৌথ বক্তব্যে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, বাংলাদেশের শান্তি ও সংলাপ প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘ সহায়তা করবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত বাংলাদেশের ন্যায়সংগত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করা, কারণ এটি দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। বাংলাদেশের জনগণের পাশে থেকে একটি টেকসই ও ন্যায়সংগত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে জাতিসংঘ নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে থাকবে।

এ ছাড়া যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ও পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে, আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই যে, জাতিসংঘ শান্তি, জাতীয় সংলাপ, আস্থা ও সংহতি প্রতিষ্ঠায় সর্বদা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।’

প্রধান উপদেষ্টার আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় আসেন আন্তোনিও গুতেরেস। আজ রোববার তার ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে।


সততা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে ঢাকা সেনানিবাসে বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গ্রুপ ছবিতে অংশগ্রহণ করেন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে বাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ওপর জোর দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি অফিসারদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলার মান, সততা, বিশ্বস্ততা ও আনুগত্য এবং সর্বোপরি নিযুক্তিগত উপযুক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করতে নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে ঢাকা সেনানিবাসে বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬ এর উদ্বোধনকালে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ নৌ ও বিমান বাহিনী দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

দেশের প্রয়োজনে বাংলাদেশ নৌ ও বিমান বাহিনীর ত্যাগের জন্য তিনি নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধান থেকে শুরু করে বাহিনীর সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন মহান স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল শহীদ, ২০২৪ সালে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় বীর ছাত্র-জনতার গণঅভুত্থানের সকল শহীদ এবং ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে যারা দেশে গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে হতাহত হয়েছেন প্রত্যেকের অবদান তিনি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল শহীদ, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনী তথা নৌ ও বিমান বাহিনীর শহীদসহ সকল বীর সেনাদের।

পরে প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল স্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। প্রথমে তিনি ঢাকা সেনানিবাসস্থ আকাশ প্রতিরক্ষা পরিচালন কেন্দ্রে স্থাপিত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন (এডিএসআই)-এর উদ্বোধনী স্মারক ফলক উন্মোচন করেন। এ সময়, তিনি নব উন্মোচিত এডিএসআই-এর বিভিন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

এছাড়া তিনি বিমান বাহিনীর এয়ার কমান্ড অপারেশন সেন্টার (এসিওসি) পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি এসিওসির ডিজিটাল লার্জ ডিসপ্লের সাহায্যে বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান কর্তৃক শত্রুবিমানসমূহকে বাধা প্রদান ও চট্টগ্রাম থেকে আনম্যান্ড এরিয়েল ভেহিকেল (ড্রোন)-এর লাইফ ফিডের মাধ্যমে হেলিকপ্টার থেকে সেনা অবতরণ অবলোকন করেন।

এরপর প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর এ্যারোস্পেস রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট কমপ্লেক্স এবং এর বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করেন।

এসময়, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতায় প্রস্তুতকৃত বিভিন্ন ধরনের আনম্যান্ড এরিয়েল ভেহিকেল (ড্রোন, কামিকাজি ড্রোন, ইন্টারসেপ্টর ড্রোন এবং ভিটোল) প্রদর্শন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী কোয়াডকপ্টার এর উড্ডয়ন অবলোকন করেন।

নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় এ ধরনের আধুনিক উড্ডয়ন ব্যবস্থা প্রস্তুতকরণ বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান তার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল স্থাপনা পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, প্রতিরক্ষা সচিবসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।


স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তর-সংস্থার প্রধানদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। রোববার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রথম কর্মদিবসে আয়োজিত পরিচিতি সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

পরিচিত সভা শুরু হওয়ার আগে সকাল সাড়ে ৯টায় মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। এ সময় নবনিযুক্ত তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীকে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ ফুল দিয়ে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানার সভাপতিত্বে সভায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বক্তব্য রাখেন।

তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘সংবাদমাধ্যম হচ্ছে গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ। বিগত ১৭ বছর আমাদের মূল লড়াই ছিল দেশে গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে গণমাধ্যমের ওপর যে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছিল, সেই কালচার থেকে বেরিয়ে স্বাধীন ও উন্মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিকদের অবদান খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। জনগণের তথ্য জানার অধিকার রয়েছে এবং আমরা কী কাজ করছি তা সঠিকভাবে তাদের সামনে তুলে ধরা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।

কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ওপর আস্থা ব্যক্ত করে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আপনারা প্রশাসনিক কাজে আমার চেয়ে অনেক বেশি অভিজ্ঞ। দেশের স্বার্থে এবং জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমরা সবাই এক হয়ে কাজ করব, যেন আমাদের কোনো সিদ্ধান্তের কারণে কারো প্রতি অন্যায় ও অবিচার না হয়।’

পরিচিতিমূলক সভায় অন্যান্যের মধ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ ও অধীনস্থ অন্যান্য দপ্তর-সংস্থার প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।


গুম-খুনের শিকার পরিবার পুনর্বাসনে আলাদা অধিদপ্তর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কল্যাণ, সুচিকিৎসা, আইনি সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নতুন একটি অধিদপ্তর গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে রোববার (২৩ আগস্ট) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আন্ত মন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সভাপতিত্বে সভায় প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ও মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

সভায় আহমেদ আযম খান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং তাদের জন্য ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর’ গঠন করা হয়েছে। একইভাবে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে যারা গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, পঙ্গুত্ব বা মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন, তাদের ত্যাগও রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তি যেন জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করতে না পারে এবং কোনো পরিবারকে স্বজন হারানোর মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, সে জন্য স্থায়ী প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও অধিদপ্তর গঠনের এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনার মধ্যে ছিল মানুষের স্বাধীনভাবে জীবনযাপন, মানবাধিকার সুরক্ষা, রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগ বন্ধ এবং প্রত্যক্ষ ভোটাধিকারের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। তাঁর দাবি, ২০০৯ সালের পর ভোটের অধিকার হরণ, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সেই মৌলিক চেতনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জীবন দিয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন, গুম হয়েছেন বা আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়েছেন, তাদের জন্য রাষ্ট্রের কিছু করার দায়িত্ব রয়েছে।

সভায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যপ্রণালি বা ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর ‘সিডিউল-১ (অ্যালোকেশন অব বিজনেস)’ সংশোধন করে নতুন দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

জাতিসংঘের ‘বেসিক প্রিন্সিপলস অ্যান্ড গাইডলাইনস অন দ্য রাইট টু আ রেমেডি অ্যান্ড রিপারেশন’ এবং বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে ভুক্তভোগী ও পরিবারের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও সভায় আলোচনা করা হয়।

এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নতুন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা, গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি ও পরিবারের অধিকার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়ন এবং ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর ‘সিডিউল-১ (অ্যালোকেশন অব বিজনেস)’ সংশোধনের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, পররাষ্ট্র, জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, অর্থ, আইন ও বিচার, সমাজকল্যাণ, স্বাস্থ্য সেবা, যুব ও ক্রীড়া, শ্রম ও কর্মসংস্থান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


হুমায়ুন কবির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ ও শামা ওবায়েদ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

পরিপত্র অনুযায়ী, হুমায়ুন কবির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ এবং শামা ওবায়েদ ইসলাম পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দিক-নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে কার্য সম্পাদনে সহায়তা করবেন-

ক) প্রতিমন্ত্রী-১: দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বিষয়াবলী, অনিবাসী বাংলাদেশি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী কর্তৃক নির্ধারিতব্য অন্য যেকোনো বিষয়।

খ) প্রতিমন্ত্রী-২: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, মানবাধিকার, গবেষণা এবং উদ্ভাবন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন, সৃজনশীল অর্থনীতি, এল ডি সি উত্তরণ, আই সি টি, সমুদ্র আইন ও সমুদ্র সম্পদ, বিশ্ব স্বাস্থ্য কূটনীতি, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কূটনীতি।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, উপর্যুক্ত দায়িত্ব বণ্টণে প্রধানমন্ত্রীর সদয় অনুমোদন রয়েছে।


বিদ্যুৎ আমদানিতে বাংলাদেশের ওপর ভারতের নতুন চার্জ আরোপের প্রক্রিয়া চলছে

ফাইল ছবি
আপডেটেড ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ২০:১৬
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে গ্রিড পরিচালনা ও আন্তঃসীমান্ত লেনদেন নিষ্পত্তির খরচ মেটাতে বাংলাদেশের ওপর 'সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি' (এসএনএ) নামে নতুন একটি চার্জ আরোপ হতে যাচ্ছে।

নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে বাংলাদেশকে প্রতি ইউনিটে অতিরিক্ত ০.০০৫ ভারতীয় রুপি (আধা পয়সা) গুণতে হবে, যা বিদ্যুতের মূল দামের (ট্যারিফ) অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হবে।

গ্রিড পরিচালনা, সিডিউলিং, মিটারিং ও বিদ্যুৎ লেনদেন নিষ্পত্তির ব্যয় মেটাতে এই ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে এসএনএ চুক্তি সইয়ের প্রক্রিয়া চলছে।

ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে অর্থ বিভাগের মতামত চাওয়া হয়েছে। শুরুতে ভারত প্রতি ইউনিটে ১ ভারতীয় পয়সা দাবি করলেও পরবর্তীতে বিপিডিবির দরকষাকষির ফলে তা আধা পয়সায় নির্ধারিত হয়। ভারতীয় আইন অনুযায়ী চুক্তিটি দ্রুত সই না হলে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে নেপাল ও ভুটানকেও একই হারে এসএনএ চার্জ দিতে হয়।

ভারতের সঙ্গে চুক্তির আওতায় ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পূর্ণ সক্ষমতায় আমদানি করা হলে বাংলাদেশকে প্রতি ঘণ্টায় ৫ হাজার ৮০০ রুপি চার্জ দিতে হবে। ভারতীয় বিদ্যুৎ বিধিমালার (সিইআরসি) অধীনে আঞ্চলিক গ্রিডে বাংলাদেশকে একটি পৃথক ‘কন্ট্রোল এরিয়া’ হিসেবে গণ্য করা হয়, যার দরুন মূল দামের বাইরে গ্রিড ব্যবহারের এই সমন্বয় ফি প্রযোজ্য হচ্ছে।

বর্তমানে ভারতের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে সর্বমোট ২,৬৫৬ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ আমদানির সুব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে এনভিভিএনের মাধ্যমে বিভিন্ন ভারতীয় কেন্দ্র থেকে আসা ১,১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্যই মূলত এই চুক্তি কার্যকর হবে।

অন্যদিকে আদানি পাওয়ারের ঝাড়খণ্ড কেন্দ্র থেকে আসা ১,৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের মূল ক্রয় চুক্তিতে এই চার্জ আগে থেকেই অন্তর্ভুক্ত থাকায় সেটির জন্য নতুন চুক্তির প্রয়োজন পড়ছে না।


বঙ্গভবনে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করলেন নব নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গভবনে নিজের দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ রবিবার (২৩ আগস্ট) বেলা ১১টায় তিনি রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন ও কার্যালয়ে এসে পৌঁছালে তাঁকে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।

বঙ্গভবনের ২ নম্বর প্রধান ফটকে পৌঁছালে বাংলাদেশ পুলিশের একটি সুসজ্জিত অশ্বারোহী দল রাষ্ট্রপতিকে রাজকীয় অভ্যর্থনা জানায়। এরপর বঙ্গভবনের ক্রেডেনশিয়াল মাঠে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) একটি চৌকস দল তাঁকে রাষ্ট্রীয় সম্মান তথা ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে।

অভ্যর্থনা পর্ব শেষে বঙ্গভবনের অক্টাগনালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন, জনবিভাগের সচিব এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরী, প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এবং পিজিআর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম আরিকুল আলম সপরিবারে রাষ্ট্রপতিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

দাপ্তরিক কার্যক্রমের প্রথম দিনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল তাঁর নির্ধারিত অফিস কক্ষে বসে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রে স্বাক্ষর করেন। এছাড়া তিনি বঙ্গভবনের পরিদর্শন বইয়েও স্বাক্ষর করেন বলে জানা গেছে। গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং পরদিন ২১ আগস্ট বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শপথ গ্রহণ করেন। আজ দাপ্তরিক কাজ শুরুর মধ্য দিয়ে তিনি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর দায়িত্বের পূর্ণ সক্রিয়তা প্রকাশ করলেন।


দক্ষতা ও সততার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ ও রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে পেশাগত দক্ষতা ও সততাকে প্রধান্য দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কর্মকর্তাদের নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলার মান, বিশ্বস্ততা এবং আনুগত্যের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করতে তিনি নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান। আজ রবিবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬ এর উদ্বোধনকালে তিনি এসব দিকনির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ছাড়াও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় নৌ ও বিমান বাহিনী বেসামরিক প্রশাসনকে যেভাবে সহায়তা করছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বাহিনীর সকল স্তরের সদস্যদের এই ত্যাগের জন্য তিনি নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানকে পরম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত সকল শহীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল স্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তিনি আকাশ প্রতিরক্ষা পরিচালন কেন্দ্রে নবস্থাপিত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন (এডিএসআই)-এর উদ্বোধনী স্মারক ফলক উন্মোচন করেন এবং এর কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। এছাড়া তিনি এয়ার কমান্ড অপারেশন সেন্টার (এসিওসি) পরিদর্শন করে ড্রোনের মাধ্যমে লাইভ ফিড এবং হেলিকপ্টার থেকে সেনা অবতরণের মহড়া অবলোকন করেন।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর এ্যারোস্পেস রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট কমপ্লেক্স এবং সেখানে নিজস্ব সক্ষমতায় তৈরি কামিকাজি ড্রোন, ইন্টারসেপ্টর ড্রোন ও ভিটোলসহ বিভিন্ন ধরনের আনম্যান্ড এরিয়েল ভেহিকেল (ড্রোন) প্রদর্শনী উপভোগ করেন। তিনি কোয়াডকপ্টারের উড্ডয়ন দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আশা করেন যে, প্রযুক্তিগত এই আত্মনির্ভরতা বিমান বাহিনীর সক্ষমতাকে আরও সুসংহত করবে।

এর আগে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর নির্বাচনী পর্ষদ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে ‘নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:০১
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির লক্ষ্যে গঠিত ‘নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন।

আজ রোববার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এর উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান।

এই পদোন্নতি পর্ষদে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন, কমান্ডার ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এবং বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন, উইং কমান্ডার ও স্কোয়াড্রন লিডার পদবির যোগ্য কর্মকর্তাগণ পরবর্তী পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন।
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

নির্বাচনী পর্ষদ শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনী প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে এডমিরাল র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। র‌্যাংক ব্যাজ পরিধান শেষে প্রধানমন্ত্রী নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানকে অভিনন্দন জানান।

এ সময় নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে নৌবাহিনীকে আরও আধুনিক, সক্ষম ও সময়োপযোগী বাহিনী হিসেবে এগিয়ে নিতে তার মূল্যবান পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা কামনা করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, সেনা ও বিমান বাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার উপস্থিত ছিলেন।


দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিগত ১৭ বছর ধরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে সংঘটিত যাবতীয় দুর্নীতি ও অনিয়মের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নবনিযুক্ত মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। আজ রবিবার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে প্রথম কার্যদিবসে কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। এ সময় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও উপস্থিত ছিলেন।

ড. আবদুল মঈন খান তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না, তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “গত ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। আমার মূল লক্ষ্য হবে দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন পূরণ এবং তাদের কাছে সরকারি সেবা যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়া।” একইসাথে তিনি এই মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করে এর হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অঙ্গ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এই মন্ত্রণালয় সরাসরি জনগণের সাথে কাজ করে বিধায় এর মাধ্যমে যথাযথ সেবা নিশ্চিত করা গেলে রাষ্ট্রব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে। তিনি জনগণের ক্ষমতার উৎসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে কর্মকর্তাদের নিষ্ঠার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান। ড. মঈন খান বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, সচ্ছল ব্যক্তিরা নিজেদের প্রয়োজনে পথ খুঁজে নিতে পারলেও দরিদ্র মানুষ সম্পূর্ণভাবে সরকারি সেবার ওপর নির্ভরশীল, তাই তাঁদের অধিকার ও সেবা নিশ্চিত করাই হবে তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন যে, সেই সময় এমনকি বিচার বিভাগের স্বাধীনতাও ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল এবং মন্ত্রণালয় থেকে রায় লিখে দেওয়া হতো। বর্তমান সরকার জনগণের জীবনমান উন্নয়নে তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো গঠনমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ব্যক্তিগত প্রসঙ্গে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বের স্মৃতিচারণ করে বলেন, তাঁর পরিবারের রাজনৈতিক আদর্শ দেশপ্রেম ও সেবার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।

মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়াকে একটি গুরুদায়িত্ব হিসেবে অভিহিত করে ড. মঈন খান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জনগণের কাতারে দাঁড়িয়ে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। দেশের বিপুল সংখ্যক দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে তিনি তাঁর সর্বোচ্চ সামর্থ্য নিয়োগ করবেন। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি মন্ত্রণালয়ের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঐকান্তিক সহযোগিতা কামনা করেন।


দীর্ঘ ১৭ বছর সংবাদমাধ্যমের হাত বেঁধে রাখা হয়েছিল: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নবনিযুক্ত তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন, বিগত দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের হাত আক্ষরিক অর্থে বেঁধে রাখা হয়েছিল। দেশের তথাকথিত গণতান্ত্রিক পরিবেশে গণমাধ্যমকে মুক্তভাবে কাজ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। আজ রবিবার (২৩ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে নিজের প্রথম কর্মদিবসে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

আন্দালিব রহমান পার্থ জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানে সংবাদমাধ্যমের সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, "জুলাই গণ-অভ্যুত্থানেও সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।" তিনি মনে করেন, দেশের সাম্প্রতিক এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং এই অবদানের স্বীকৃতি অবশ্যই থাকতে হবে।

বিগত সময়ে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত ও নৈতিক অবক্ষয়ের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, "গত কয়েক বছরে দেশের সব বিভাগেই নৈতিক অবক্ষয় হয়েছে। সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সময় লাগবে।" তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাই একযোগে কাজ করলে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

সংবাদমাধ্যমকে গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে আন্দালিব রহমান পার্থ আরও বলেন, সরকারের যাবতীয় কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে পৌঁছে দিতে হবে। এক্ষেত্রে তিনি গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান। দেশের গৌরবময় ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রেখে মন্ত্রণালয় ও গণমাধ্যমকে একযোগে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।


ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হলেন চৌধুরী আশিক মাহমুদ

চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’-এর চেয়ারম্যান হিসেবে চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনকে নিয়োগ প্রদান করেছে সরকার। তাঁকে আগামী এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে সম্প্রতি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনকে এই পদে অধিষ্ঠিত করা হলো। নিয়োগের প্রধান শর্ত হিসেবে তাঁকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে বিদ্যমান সকল কর্ম-সম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে। তাঁর এই নিয়োগের মেয়াদ হবে দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছর।

প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়, জনস্বার্থ বিবেচনা করেই এই আদেশ জারি করা হয়েছে এবং তাঁর নিয়োগের আনুষঙ্গিক অন্যান্য শর্তাবলি সম্পাদিত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান এখন থেকে দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি উন্নয়ন এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।


বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার প্রদান

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গার্ড অব অনার প্রদান। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণের পর আজ রবিবার (২৩ আগস্ট) প্রথমবারের মতো নিজের দাপ্তরিক কার্যালয় ‘বঙ্গভবনে’ গিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে তিনি রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবন থেকে বঙ্গভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন এবং বেলা ১১টায় সেখানে পৌঁছান।

বঙ্গভবনে প্রবেশের পর রাষ্ট্রপতি গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) একটি চৌকস দল তাঁকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানিয়ে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। এই আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হলো। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

উল্লেখ্য, গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে তিনি দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। এরপর গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের কাছে শপথবাক্য পাঠ করেন তিনি।

দায়িত্ব গ্রহণের পর গতকাল শনিবার সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহিদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি। এর আগে একই দিন দুপুরে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতেও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। আজ থেকে বঙ্গভবনের বাসিন্দা হিসেবে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক অভিভাবকের দায়িত্ব পালনে তিনি পুরোপুরি সক্রিয় হলেন। এখন থেকে তাঁর যাবতীয় রাষ্ট্রীয় ও দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড এই ঐতিহাসিক ভবন থেকেই পরিচালিত হবে।


বঙ্গভবনে উঠলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মিন্টো রোডের মন্ত্রিপাড়ার বাসা ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিজের নতুন ঠিকানা ‘বঙ্গভবনে’ উঠেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ রবিবার (২৩ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে তিনি রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবনে এসে পৌঁছান।

বঙ্গভবনের প্রধান তোরণ দিয়ে প্রবেশের পর নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে সেখানে রাষ্ট্রপতি গার্ড রেজিমেন্টের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় কায়দায় অভিবাদন বা ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। এখন থেকে তিনি দেশের এই সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদাধিকারীর দাপ্তরিক কাজ এবং সপরিবারে বসবাস বঙ্গভবনেই করবেন। রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির বাসভবন হিসেবে বঙ্গভবনে অবস্থান করা বাধ্যতামূলক।

উল্লেখ্য, গত ২১ আগস্ট শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এর আগে গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক এক নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে জয়লাভ করেন তিনি। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সংসদীয় ব্যবস্থায় অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫টি ভোট পান। তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-এর চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮টি ভোট।


banner close