রোববার, ৯ আগস্ট ২০২৬
২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

হেজাজের শরীরে আঘাতের চিহ্ন

ডিবি হেফাজতে মারার অভিযোগ পরিবারের
ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৬ মার্চ, ২০২৫ ২১:২৪

শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হেজাজ বিন আলিমের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।

নিহত হেজাজের ভাই আবিদ বিন আলম বলেন, ‘আমার ভাইয়ের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তবে কে বা কারা পিটিয়েছে এ বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।’

এ ছাড়া মৃত্যুর আগে হেফাজ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানান, ‘তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হেফাজতে ব্যাপক মারধর করা হয়।’

রোববার দুপুরে আবিদ বিন আলম বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে আমার বড় ভাই হেজাজের মরদেহ গ্রহণ করেছি। ভাইকে ধানমণ্ডিতে জানাজা শেষে দাফন করা হবে।

এর আগে গত শনিবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় হেজাজ বিন আলিমের (৩৭)। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

রোববার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে হেজাজের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ তার পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে।

নিহত হেজাজ বিন আলমের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার সদর থানা এলাকায়। মৃত্যুর আগে ধানমন্ডি শেরেবাংলা রোডের ৪৯/এ বাসায় থাকতেন তিনি। তার বাবার নাম শাহ আলম খান।

এদিকে ঢাকা জেলা প্রশাসনের (এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট) মো. রৌশন আহমেদের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদনে মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শেখ কাদের আহমেদ উল্লেখ করেন, গত ১১ মার্চ সি ও এল ও সেনাবাহিনীর একটি টিম হেজাজকে গ্রেপ্তারপূর্বক মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করলে সে অসুস্থ থাকায় দুইবার প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। অতঃপর হেজাজ পরদিন আদালত থেকে জামিন হন। ১৫ মার্চ জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোররাতে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ‘নেফ্রলজি’ বিভাগে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেলের ৯০১ নাম্বার ওয়ার্ডে তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডিবি ওয়ারী বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারের সঙ্গে কথা বলতে হবে, এ বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারব না।

মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী ইফতেখার হাসান বলেন, তার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র হত্যার কোনো মামলা ছিল না। তার বিভিন্ন রকমের নাম ছিল, নামের বিভ্রাটের কারণে পরে তাকে একটি ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। পরদিন তিনি জামিনে বের হয়ে যান।


নির্বাচিত

আমদানি নির্ভরতা ভেঙে নিজস্ব গ্যাস উত্তোলনে জোর দিচ্ছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান সরকারের দৃষ্টিতে উন্নয়ন মানে কেবল দৃশ্যমান বিশাল অট্টালিকা বা মেগা প্রজেক্ট নয়, বরং মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা গ্যাস সম্পদ উত্তোলন করাই এখনকার আসল উন্নয়ন।

রোববার দুপুরে বরিশাল নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হলে আঞ্চলিক পত্রিকা ‘দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশ’-এর ৫৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার ১৭ বছরে নিজস্ব গ্যাস সম্পদ উত্তোলন না করে আমদানিকারকদের সুবিধা দিতে হাজার হাজার কোটি টাকার জ্বালানি বিদেশ থেকে নিয়ে এসেছে। ফলে পুরো বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আমদানি-নির্ভর হয়ে পড়েছিল। মধ্যস্বত্বভোগীদের লাভের সুযোগ দিতেই নিজস্ব উত্তোলন বন্ধ রেখে বেশি দামে গ্যাস আমদানি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, একদল লুটেরাকে ধনী করার উদ্দেশে দুর্বল বৈদেশিক মুদ্রার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি দেশে এমন চক্রান্তই করা হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার নিজস্ব গ্যাস সম্পদ উত্তোলনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত সচল রাখতে বাধ্য হয়ে যেটুকু প্রয়োজন কেবল সেটুকুই আমদানি করা হবে, বাকি চাহিদা নিজস্ব উত্তোলনের মাধ্যমেই মেটানো হবে যাতে উৎপাদন খরচ অনেকাংশে কমে আসে।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের গ্রাস থেকে রক্ষার করার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সীমান্ত এলাকায় নেশাদ্রব্য উৎপাদন করে বাংলাদেশকে বাজার হিসেবে ব্যবহারের গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। অতীতে কোনো কোনো সংসদ সদস্য এসব কারবারে জড়িত থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সেই সমস্ত কারবারীরা সরকার পরিবর্তনের পর এখন ক্ষমতাসীন দলের পার্টনার খুঁজে বেড়াচ্ছেন। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে এসব চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।

রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশে একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত দরকার। তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফার কর্মসূচির মধ্য দিয়েই এই সংস্কার ও মেরামতের কাজ সম্পন্ন হবে।

বিএনপিতে কোনো গডফাদার বা মাস্তানতন্ত্রকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকে ‘চাবুকের’ ভূমিকা পালন করতে হবে।

গণমাধ্যমকে সমাজের নিখুঁত আয়না হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম নিখুঁত না হলে সমাজের সঠিক ছবি উঠবে না এবং তা সাধারণ মানুষের আস্থা হারিয়ে ফেলবে।

দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম খশরু, বিএনপি নেতা আজিজুল হক আক্কাস, মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির জাহিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসরাইল পণ্ডিত, বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আমিনসহ স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

দাম বাড়ল জেট ফুয়েলের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আগস্ট মাসের জন্য অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে প্রতি লিটার জেড ফুয়েলের দাম ১৩০ টাকা ৯৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৫৯ টাকা ৫২ পয়সা করা হয়েছে। রোববার এক বার্তায় এ তথ্য জানায় বিইআরসি।

এছাড়া ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার ফুয়েলের দাম শূন্য দশমিক ৮৫৫৬ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ০৩৫৮ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

চলতি বছরের ২৪ মার্চ জেট ফুয়েলের দাম অভ্যন্তরীণ রুটে ৮০ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৯ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। পরে ৭ এপ্রিল আবারও বাড়ানো হয় দাম।

এরপর মে মাসের জন্য অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ২২৭ টাকা ৮ পয়সা থেকে কমিয়ে ২০৫ টাকা ৪৫ পয়সা করা হয়। জুনে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে প্রতি লিটারের দাম ১৬৫ টাকা ৮৮ পয়সা থেকে আরও কমিয়ে ১৫০ টাকা ২১ পয়সা করা হয়েছিল।


নির্বাচিত

কেউ কেউ মাত্র ২৯ বছর বয়সেই রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের জন্য ব্যাকুল: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কেউ কেউ ২৯ বছর বয়সেই রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের জন্য ব্যাকুল হয়ে আছেন বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান। তিনি বলেন, জুলাইয়ের চেতনা ও কৃতিত্ব নিয়ে একেকজন একেক ধরনের বয়ান দিচ্ছেন। যারা জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করছেন, তাদের শিক্ষা হওয়া উচিত।

রোববার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাইয়ে চিকিৎসকদের অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, অনেকে জুলাইকে ৩৬ দিনের আন্দোলন হিসেবে তুলে ধরছেন। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থান ১৭ বছরের আন্দোলনের ফসল। এই আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে একেকজন একেক ধরনের বয়ান দিচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে চক্রান্তমূলকভাবে রাষ্ট্রপতি ও বিদেশি অতিথিদের সামনে দেশকে কলঙ্কিত করা হয়েছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির মধ্যে বিভাজন তৈরি হলে মৌলবাদীরা এর সুযোগ নেবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

অন্তর্বর্তী সরকারের গাফিলতির সমালোচনা করে আহমেদ আযম খান বলেন, হাজার হাজার জুলাই যোদ্ধা এখনো গেজেটের অন্তর্ভুক্ত হননি।

মন্ত্রী জানান, গত ১৭ বছরের আন্দোলনে যারা গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন, তাদের জন্য শিগগিরই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নতুন একটি অধিদপ্তর চালু করা হবে।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।


নির্বাচিত

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের তালিকায় শীর্ষ পাঁচে বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি, নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত এবং অনিয়মিত অভিবাসন ও মানব পাচার রোধে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য যৌথভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের তালিকায় বাংলাদেশ শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।

রোববার প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সারাহ কুক। এ সময় আলোচনায় এসব বিষয় উঠে আসে। বৈঠকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী। বাংলাদেশ থেকে নিরাপদ, নিয়মিত ও যৌক্তিক ব্যয়ে শ্রম অভিবাসনের বিষয়ে যুক্তরাজ্যের উদ্বেগও তুলে ধরেন তিনি। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের তালিকায় বাংলাদেশ বর্তমানে শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে রয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন করা বাংলাদেশিদের মধ্যে অল্পসংখ্যকের আবেদন অনুমোদিত হয়েছে। যাদের আবেদন নাকচ হয়েছে, তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

হাইকমিশনার জানান, আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর কেউ স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরতে চাইলে পুনর্বাসনের জন্য তাকে তিন হাজার পাউন্ড পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। তবে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হলে এ সুবিধা প্রযোজ্য নয়। এ ছাড়া অভিবাসন ব্যবস্থা উন্নয়ন ও ‘গ্লোবাল কমপ্যাক্ট অন মাইগ্রেশন’ বাস্তবায়নেও বাংলাদেশকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানান ব্রিটিশ হাইকমিশনার।

বৈঠকে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, শোষণ, অনিয়মিত অভিবাসন ও মানব পাচার প্রতিরোধে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে চায় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দক্ষ ও মানসম্পন্ন মানবসম্পদ তৈরি, নিরাপদ ও মানসম্মত কর্মসংস্থান এবং অভিবাসী কর্মীদের অধিকার, মর্যাদা ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন তিনি।

যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মানের কর্মী তৈরিতে ইংরেজি ভাষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চান মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজির সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ‘গ্রিন স্কিল’ ও ‘ডিজিটাল স্কিল’ প্রশিক্ষণেও যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।

বিদেশফেরত কর্মীদের টেকসই পুনর্বাসন ও সামাজিক পুনরেকত্রীকরণের জন্য এফসিডিও, আইএলও ও বিশ্বব্যাংকের অংশীদারত্বে চলমান ‘রাইজ’ প্রকল্পের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির জন্য একটি ‘যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি।

বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, ইউরোপের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের কর্মী তৈরিতে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর সংযোগ স্থাপন করা যেতে পারে। আন্তর্জাতিক মানের সনদপ্রাপ্ত কর্মীদের বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠানো গেলে তরুণদের বৈধ পথে অভিবাসনে উৎসাহিত করা সম্ভব হবে।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনের জাস্টিস অ্যান্ড হোম অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলর রায়ান ডানকানসনসহ দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


নির্বাচিত

শেখ হাসিনা কাউকে বিশ্বাস করতেন না, নিজেই ফোনকল মনিটরিং করতেন: প্রসিকিউশন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন দাবি করেছে, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের বা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কোনো ব্যক্তি বা পদধারীকে বিশ্বাস করতেন না। ফলে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মাধ্যমে সবার ফোনকল রেকর্ড করাতেন তিনি। কে কী বলছে, তা নিজেই মনিটরিং ও নজরদারি করতেন।

প্রসিকিউশন বলেছে, শেখ হাসিনা এনটিএমসির প্রধান নিয়োগ করেছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানকে। তার মাধ্যমে তিনি ফোনকলগুলো রেকর্ড করতেন।

রোববার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ একটি মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় এ বিষয়টি তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে তৃতীয় দিনের মতো রোববার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেছে প্রসিকিউশন।

গাজী এমএইচ তামিম জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে কোথায় কী ধরনের বৈঠক ও যোগাযোগ হয়েছিল, সেসবের বিভিন্ন দিক ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরেন। একইসঙ্গে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশের পৃথক দুটি ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে বাজিয়ে শোনানো হয়। এছাড়া আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের বেশ কয়েকটি কথোপকথনের উদ্ধৃতিও তুলে ধরেন প্রসিকিউটর তামিম।

এ প্রসঙ্গে গাজী এমএইচ তামিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালে ১৪টি কথোপকথন উপস্থাপন করা হয়েছে। শুরুতেই ওবায়দুল কাদের ও জুনাইদ আহমেদ পলকের একটি কথোপকথন শোনানো হয়, যা এরই মধ্যে ট্রাইব্যুনালে দালিলিক প্রমাণ হিসেবে গৃহীত হয়েছে। এই কথোপকথনে উঠে এসেছে, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই ইন্টারনেট সেবা সীমিত করার নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের। পরে শেখ হাসিনার অনুমোদন নিয়ে তা কার্যকর করেন পলক।’

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি শুধু কথোপকথনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ১৬ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা থেকে দেশের ৫৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে থ্রি-জি ও ফোর-জি নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশনা জারি করেছিল সরকার। শুধু তাই নয়, আন্দোলন চলাকালে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টিকটকসহ বেশ কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এটি 'সিস্টেম ক্রাইম'-এর একটি অংশ। এছাড়া জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী ওই সময় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়া আহত আন্দোলনকারীদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।'

তামিম বলেন, 'ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে চট্টগ্রামের তৎকালীন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের কথোপকথনের পরপরই ১৬ জুলাই ওয়াসিমসহ তিনজনকে আওয়ামী লীগের নেতারা গুলি চালিয়ে হত্যা করেন। এছাড়া ওবায়দুল কাদের ও তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথনেও আন্দোলনকারীদের বিভিন্নভাবে ট্যাগ দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। তাদের কথোপকথনে আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী, জঙ্গি, বিএনপি-জামায়াত ও রিলিজিয়াস অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়টি উঠে এসেছে। হাছান মাহমুদ বলেছিলেন, আন্তর্জাতিকভাবে ‘জঙ্গি’ শব্দটি গুরুত্ব পায়। তাই এ শব্দ ব্যবহার করা হলে আন্তর্জাতিক বিশ্ব আমাদের পক্ষে কথা বলবে।’

এ সময় শেখ হাসিনার একটি কথোপকথনের উদ্ধৃতি তুলে ধরে তামিম বলেন, ‘ওরা তো আমাদের অনেক কিছু পোড়াইছে। ওদের বাড়িঘর সব পোড়ায় দে। ওদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে না? সেগুলো পোড়ায় দে। এখন শুধু একটাই কাজ, সময়মতো বসে থাকবা, আর ওদের ঘরবাড়িতে আগুন দিবা।’ এমন ১৪টি কথোপকথনই সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছে বলে জানান প্রসিকিউটর৷

প্রসিকিউটর তামিম আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনার সময়ে চালু করা বিভিন্ন ব্যবস্থার মধ্যে একটি ছিল ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি)। এর প্রধান ছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান। তার মাধ্যমে তিনি ফোনকলগুলো রেকর্ড করতেন। শেখ হাসিনা নিশ্চয়ই নিজের ফোনকল এনটিএমসিতে দেননি। কিন্তু আমরা অসংখ্য ফোনকল পেয়েছি এ সংস্থার মাধ্যমে। শেখ হাসিনা ঠিক যার সঙ্গে কথা বলছেন, তার ফোন নম্বরটি এনটিএমসিতে ছিল। এ কারণে ওই ব্যক্তির সঙ্গে যে-ই কথা বলতেন, সেটি রেকর্ড হয়ে যেতো। একইভাবে শেখ হাসিনাও যখন এসব ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছেন, তখন তার ফোনকলও রেকর্ড হয়েছে।’

তিনি যোগ করেন, ‘এমন বহু কল রেকর্ড থেকে দেখা গেছে, নিজেদের অধীনস্থদের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে প্রাণঘাতী অস্ত্র ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতা-কর্মী। এছাড়া ওবায়দুল কাদের দলের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলেছেন, কীভাবে সারাদেশে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের টাকা দিয়ে আন্দোলনে প্রতিহত করতে হবে, আন্দোলনকারীদের ওপর আক্রমণ করতে হবে- এসব বিষয়ে। সেই টাকা কোন উৎস থেকে আসবে, কীভাবে সংগ্রহ করা হবে, এমন একটি কথোপকথনও আমরা দেখিয়েছি।’


নির্বাচিত

শিক্ষকরা অবসর-কল্যাণ ভাতা পাবেন ১৫ আগস্ট থেকে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণসুবিধার অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া অবশেষে শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী ১৫ আগস্ট দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে এ অর্থ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অর্থ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলেও প্রথম ধাপেই শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের সম্পূর্ণ পাওনা হাতে পাচ্ছেন না। সীমিত অর্থের সংস্থান থাকায় এবার আংশিক অর্থ দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে অর্থের সংস্থান অনুযায়ী অবশিষ্ট পাওনা পরিশোধ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অবসর সুবিধা বোর্ড ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের সুবিধাভোগীদের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি অর্থ পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ও আইবাস প্লাস প্লাস ব্যবস্থার মাধ্যমে এ অর্থ পাঠানো হবে। ফলে অর্থ পাওয়ার জন্য সুবিধাভোগীদের অফিসে এসে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করা কিংবা কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর দ্বারস্থ হওয়ার প্রয়োজন হবে না।

রোববার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডের সচিব অধ্যক্ষ মো. মোশাররফ হোসেন বলেছেন, আগামী ১৫ আগস্ট থেকে আটকে থাকা অর্থ বিতরণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। আমরা ১৫ আগস্টের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং দিন-রাত কাজ করছি।

তবে প্রথম ধাপে পুরো পাওনা দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট করেছেন বোর্ড সচিব। অর্থ এককালীন নাকি পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে– এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রথম ধাপে নির্ধারিত সংখ্যক আবেদনকারীর অর্থ দেওয়া হবে। পুরো টাকা দেওয়া হবে না। আজকের মিটিংয়ের পর বিস্তারিত জানানো হবে।’

এ ছাড়া অর্থের পরিমাণ ও বিতরণের পদ্ধতি নিয়ে রোববারের বৈঠকে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অর্থ পেতে শিক্ষক-কর্মচারীদের অফিসে গিয়ে অপেক্ষা করতে হবে না। ইএফটি ও আইবাস প্লাস প্লাসের মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে টাকা পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এতে অর্থ বিতরণে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ কমবে। এবার অবসর সুবিধা বোর্ডের ৭০ হাজার ১১৯টি এবং কল্যাণ ট্রাস্টের ৫৩ হাজার ৪৭৭টি আবেদন অর্থ পরিশোধের আওতায় আনার প্রস্তুতি চলছে। দুই প্রতিষ্ঠানে মোট আবেদনের সংখ্যা ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৯৬টি।

সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার অবসর সুবিধা বোর্ডের ৭০ হাজার ১১৯টি এবং কল্যাণ ট্রাস্টের ৫৩ হাজার ৪৭৭টি আবেদন অর্থ পরিশোধের আওতায় আনার প্রস্তুতি চলছে। দুই প্রতিষ্ঠানের আবেদন মিলিয়ে মোট আবেদন সংখ্যা ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৯৬টি। তবে এই সংখ্যাকে সুবিধাভোগী শিক্ষক-কর্মচারীর মোট সংখ্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ একই শিক্ষক-কর্মচারী অবসর সুবিধা ও কল্যাণ সুবিধা—দুইটির জন্যই আবেদন করতে পারেন।

চাকরিকালে শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে নির্ধারিত হারে চাঁদা নিয়ে অবসর ও কল্যাণ তহবিল গঠন করা হয়। প্রচলিত ব্যবস্থায় অবসর সুবিধার জন্য মূল বেতনের ৬ শতাংশ এবং কল্যাণ সুবিধার জন্য ৪ শতাংশ হারে চাঁদা জমা হয়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও নির্ধারিত অর্থ সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট তহবিলে জমা দেওয়া হয়। এসব অর্থের পাশাপাশি সরকারের বিশেষ বরাদ্দ এবং তহবিলে থাকা অর্থের ব্যবস্থাপনা থেকেও সুবিধা দেওয়ার অর্থ জোগাড় করা হয়।

কিন্তু প্রতি মাসে নতুন করে যে পরিমাণ আবেদন জমা পড়ে, সেগুলো নিষ্পত্তির জন্য যে অর্থ প্রয়োজন, তহবিলে তার তুলনায় অর্থের প্রবাহ কম। ফলে একদিকে নতুন আবেদন জমতে থাকে, অন্যদিকে পুরোনো আবেদন নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের ঘাটতি তৈরি হয়। এভাবেই বছরের পর বছর ধরে অবসর ও কল্যাণসুবিধার আবেদনজট বড় হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা পাওনা অর্থ না পেয়ে দুর্ভোগে ছিলেন। তাদের কষ্ট লাঘবের জন্য সরকার এ বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।


নির্বাচিত

হামের উপসর্গে আরও ৬ মৃত্যু, শনাক্ত ৯৮৮

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যু নেই। রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৮৭৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৭৫ জন মারা গেছে আর হামে মারা গেছে ৯৮ জন।

এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৩৮ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই রয়েছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১২২ জন। এ ছাড়া রাজশাহীতে ৯১, ময়মনসিংহে ৭২, চট্টগ্রামে ৬১, বরিশালে ৪৬, খুলনায় ৩২ ও রংপুর বিভাগে ১৩ জন মারা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া নিয়মিত পরিসংখ্যানে মৃতদের বয়সভিত্তিক তথ্য পাওয়া যায় না। রোগতত্ত্ববিদেরা বলছেন, হাম সব বয়সি মানুষের হতে পারে, তবে শিশুরাই এতে বেশি আক্রান্ত হয়।

সরকারের তথ্য বলছে, সারাদেশে নতুন করে ৯৮৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ দেখা গেল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩২০ জনের। নতুন করে আরও ৭৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ১১৫।

হাসপাতালে ভর্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৩৮২ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ১৪২ জন।


নির্বাচিত

প্রাথমিকের কারিকুলামে যুক্ত হচ্ছে ‘সায়েন্স টয়’: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক ও সৃজনশীল করে গড়ে তুলতে প্রাথমিকের কারিকুলামে ‘সায়েন্স টয়’ যুক্ত করা হবে জানিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, আমরা চাই শিশুরা শুধু বই পড়ে বিজ্ঞান শিখবে না, বরং হাতে-কলমে কাজ করে, খেলতে খেলতেই বিজ্ঞান শিখবে। এ লক্ষ্যেই প্রাথমিকের কারিকুলামে ‘সায়েন্স টয়’ যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

রোববার রাজধানীর হোটেল শেরাটনে ইউনিসেফ বাংলাদেশ আয়োজিত ‘ফাউন্ডেশনাল লার্নিং অ্যাকশন ট্র্যাকার’- সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় বিজ্ঞান, গণিত, ডিজাইন ও সৃজনশীলতার ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিশুদের শেখার প্রক্রিয়াকে আনন্দময় ও বাস্তবভিত্তিক করতে কারিকুলামের ভেতরে ‘সায়েন্স টয়’ ও হাতে-কলমে শেখার বিভিন্ন উপকরণ যুক্ত করা হবে।

তিনি বলেন, পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘ম্যাথ ল্যাব’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যেখানে বিভিন্ন উপকরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আকার, আকৃতি, গুণ, ভাগ, যোগ-বিয়োগসহ গণিতের মৌলিক ধারণা শিখবে।

প্রতিমন্ত্রী ফাউন্ডেশনাল লার্নিংয়ের ঘাটতি দূর করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যগুলোর একটি হলো প্রতিটি শিশুর মৌলিক পড়া, লেখা ও গণিতের দক্ষতা নিশ্চিত করা। কোনো শিক্ষার্থী উচ্চতর শ্রেণিতে উঠলেও তার ভিত্তিগত শেখার ঘাটতি থাকলে পরবর্তী শিক্ষাজীবনে তা বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। শিশুদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্মসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আগামী ১৬ আগস্ট প্রথমবারের মতো বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে বলেও জানান তিনি।

মিড-ডে মিল কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় যেসব ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত হয়েছে, সেগুলো সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একটি পাইলট প্রকল্পের সফলতা শুধু কতজনের কাছে পৌঁছেছে তা দিয়ে নয়, বরং বাস্তবায়নের সময় কী কী সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে এবং সেগুলোর কতটা কার্যকরভাবে সমাধান করা গেছে তার ভিত্তিতেও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন প্রকল্পকে শুধু দর্শননির্ভর নয়, বরং অপারেশনাল ও বাস্তবভিত্তিক হতে হবে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাদর্শন থাকবে, তবে সেই দর্শন বাস্তবায়নের জন্য প্রতিটি প্রকল্পের সুস্পষ্ট কার্যক্রম, বাস্তবায়ন কাঠামো, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা থাকতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের দর্শন হলো দেশের প্রতিটি ঘরে, প্রতিটি শিশুর কাছে সঠিক শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু প্রকল্প যখন মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন হবে, তখন সেটি হতে হবে সম্পূর্ণ অপারেশনাল। ধাপে ধাপে কীভাবে কাজটি করা হচ্ছে, কীভাবে মনিটরিং হচ্ছে, এসব বিষয়ে আমরা আরও শক্তিশালী ব্যবস্থা তৈরি করছি।

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব জেসমিন নাহার, ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ারস, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীসহ সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

দেশে ফিরলেন রোমে আটকে পড়া বিমানের ২৫৯ যাত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কারিগরি ত্রুটির কারণে ইতালির রোমে দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পর দেশে ফিরেছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩০৬ ফ্লাইটের ২৫৯ যাত্রী। রোববার বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। দুপুর দেড়টার দিকে বিমানবন্দরের টার্মিনাল থেকে বেরিয়ে আসা যাত্রীদের অনেকের চোখেমুখে ছিল ক্লান্তির ছাপ। দীর্ঘ সময় বিমানবন্দর ও লাউঞ্জে কাটানো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

কানাডার টরন্টো থেকে আসা যাত্রী শাজাহান আলম বলেন, ৪০ ঘণ্টা যাযাবরের মতো ছিলাম। আট ঘণ্টা ফ্লাইটের ভেতর কেটেছে। এরপর বিমানবন্দরের লাউঞ্জে নেওয়া হয়। পরে বলা হয় হোটেলে নেওয়া হবে। কিন্তু বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের লাউঞ্জে রেখে আমেরিকা-কানাডার পাসপোর্টধারীদের হোটেলে নেওয়া হয়। আমরা লাউঞ্জেই পড়ে রইলাম।

বাংলাদেশি পাসপোর্টের কোনো দামই দেওয়া হয়নি মন্তব্য করে শাহজাহান আলম বলেন, খাবার যা দেওয়া হয়েছে, সেটাও আমাদের উপযোগী ছিল না। সব মিলিয়ে প্রায় দুই দিনের মতো যাযাবরের জীবন কাটাতে হয়েছে।

আনিকা নামের আরেক যাত্রী জানান, রোমে অবতরণের প্রায় তিন ঘণ্টা পর তারা ফ্লাইটের কারিগরি ত্রুটির কথা জানতে পারেন। এরপর আরও প্রায় পাঁচ ঘণ্টা উড়োজাহাজের ভেতরেই অপেক্ষা করতে হয়। পরে যাত্রীদের নামিয়ে লাউঞ্জে রাখা হয়।

তার অভিযোগ, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের লাউঞ্জে রেখে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টধারীদের হোটেলে নেওয়া হয়েছিল। চেয়ারেই কেটে গেল ৪০ ঘণ্টা। বিমান ও আমাদের অ্যাম্বাসি চেষ্টা করলে আমাদেরও হোটেলে নেওয়া সম্ভব ছিল। অনঅ্যারাইভাল ভিসা দেওয়ার উদ্যোগও ছিল। কিন্তু কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে আমাদের এত দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

শাফায়াত হোসেন নামে আরেক যাত্রী বলেন, বর্তমান সরকারকে পাসপোর্ট শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিতে হবে। নতুন সরকার, নতুনভাবে সবকিছু শুরু হচ্ছে। বিমান ও অ্যাম্বাসিতে পুরোনো ব্যবস্থার পরিবর্তন দেখতে চাই। তারপরও আমাদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সায়েম রানাও ফ্লাইটটিতে আটকা পড়েছিলেন। তিনি বলেন, একটা চেয়ারে কীভাবে এত সময় কাটানো সম্ভব? এত বড় একটি ঘটনায় সমন্বয়ের ঘাটতি কেন থাকবে? যাত্রীদের দুর্ভোগের সময় দায়িত্বশীলদের আরও সক্রিয় হওয়া উচিত ছিল।

কানাডার পাসপোর্টধারী মাহমুদা তালুকদার জানান, তিনি ও তার ছোট মেয়ে হোটেলে থাকার সুযোগ পেয়েছেন। তার ভাষ্য, আমার কানাডার পাসপোর্ট থাকায় হোটেলে ছিলাম। ছোট মেয়ে নিয়ে আমার তেমন কষ্ট করতে হয়নি। কিন্তু যারা বিমানবন্দরে ছিলেন, তাদের অনেক দুর্ভোগ হয়েছে।

যাত্রীরা জানান, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের জন্য দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরের লাউঞ্জে বা চেয়ারে বসে থাকা ছিল অত্যন্ত কষ্টকর। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার মধ্যে অনেকে অসুস্থও হয়ে পড়েন।

তাদের কেউ কেউ রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সেবার মান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। যাত্রীদের ভাষ্য, সেবার মান ও যাত্রী ব্যবস্থাপনায় দ্রুত পরিবর্তন না আনলে জাতীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সটি যাত্রীদের আস্থা হারাতে পারে।

গত বৃহস্পতিবার কানাডার টরন্টো থেকে ২৫৯ যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়ন করে বিজি-৩০৬। গত শুক্রবার ইতালির রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরে জ্বালানি নিতে যাত্রাবিরতির সময় উড়োজাহাজটিতে কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়ে।

দীর্ঘ প্রায় আট ঘণ্টা চেষ্টা করেও ত্রুটি মেরামত করা সম্ভব না হওয়ায় ফ্লাইটটি বাতিল করে যাত্রীদের উড়োজাহাজ থেকে নামিয়ে নেওয়া হয়। পরে যাত্রীদের একাংশকে হোটেলে এবং যাদের ইতালিতে প্রবেশের অনুমতি ছিল না, তাদের বিমানবন্দরের লাউঞ্জে থাকার ব্যবস্থা করা হয়।

এদিকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম নিয়ে বাংলাদেশ থেকে একটি প্রকৌশলী দল শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া ১১টার দিকে রোমে পৌঁছায়। এরপর প্রকৌশলীরা উড়োজাহাজটির ত্রুটি মেরামত করে সেটিকে উড্ডয়নের উপযোগী করেন।


নির্বাচিত

হেফাজত আমিরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ রোববার বিকেলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে অবস্থিত আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন। বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে পৌঁছালে প্রবীণ এই আলেম তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। পরবর্তীতে মাদ্রাসার অতিথি আপ্যায়ন কক্ষে দুই নেতার মধ্যে এক বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করেন। গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল এবং জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এছাড়া সংসদ সদস্য সরোয়ার আলম ও গিয়াস কাদের চৌধুরীও আলোচনায় অংশ নেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানায়। প্রধানমন্ত্রী গাড়ি থেকে নেমে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। ব্যক্তিগত আলোচনা শেষে প্রধানমন্ত্রী মাদ্রাসা চত্বরে আয়োজিত একটি মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন। আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভার জন্য মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বিশেষ প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বর্তমানে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ও শীর্ষ ওলামায়ে কেরামের সঙ্গে তাঁর এই মতবিনিময় সভাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।


নির্বাচিত

বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাঁশখালীর বাহারছড়া গ্রামে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষদের পুনর্বাসনে সরকারের কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুর ১টা ২০ মিনিটে বাহারছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাঁশখালীর বন্যা কবলিত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে টিনের নতুন ঘরের চাবি তাদের হাতে তুলে দেন।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাথে কথা বলেন এবং তাদের পরিবারের খোঁজ-খবর নেন। তিনি সেখানে একটি মেহগনি গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে অন্যান্যের মধ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ৭ জুলাই থেকে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চল এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। বন্যায় জলাবদ্ধতায় এসব এলাকার শত শত মানুষের ঘর-বাড়ি, পুকুর, জলাশয় ও ঘেরের মাছ পানিতে ভেসে যায়।

এখানে কর্মসূচি শেষ করে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহর সাথে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।


নির্বাচিত

উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন শেষে চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী, সমুদ্রপাড়ে জনসমুদ্র

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) চলমান কাজ পর্যবেক্ষণ শেষে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এসে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে তিনি হেলিকপ্টারযোগে সেখানে অবতরণ করেন।

সরকারপ্রধানের এই সফরকে কেন্দ্র করে বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত এলাকায় স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তাঁকে একনজর দেখার জন্য সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। জানা গেছে, সাম্প্রতিক প্রলয়ংকরী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রমে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন। এই অনুষ্ঠানে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি বন্যায় বসতবাড়ি হারানো ১০০টি পরিবারের কাছে নতুন গৃহের চাবি হস্তান্তর করার কথা রয়েছে তাঁর।

বাঁশখালীর নির্ধারিত কর্মসূচি সমাপ্ত করে প্রধানমন্ত্রী ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসার উদ্দেশে যাত্রা করবেন। সেখানে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে তাঁর একটি সৌজন্য সাক্ষাতের সূচি নির্ধারিত রয়েছে। ওই বৈঠকে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের অন্তত ৫০ জন শীর্ষ নেতার সঙ্গে তিনি মতবিনিময় করবেন। পরবর্তীতে তিনি হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির প্রয়াত আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন।

মাদ্রাসা পরিদর্শন শেষে হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসন উপলক্ষে আয়োজিত আরেকটি সমাবেশে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০টি পরিবারকে নতুন করে ঘর নির্মাণের জন্য এক লাখ টাকা করে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে ১৫ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে ১০ হাজার টাকা করে অর্থসহায়তা দেওয়ার কর্মসূচিও তাঁর সফরসূচিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

চট্টগ্রাম সফরের চূড়ান্ত পর্যায়ে নগরের রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ হোটেলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সভায় তিনি অংশগ্রহণ করবেন। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, এই সভায় চট্টগ্রাম মহানগর এবং উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপিসহ ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ জন তৃণমূল পর্যায়ের নেতা উপস্থিত থাকবেন। এই মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী দলের বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে সরাসরি কথা বলার পাশাপাশি দলের কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সার্বিক কর্মসূচি শেষে রোববার রাত ৯টা ২০ মিনিটে তিনি চট্টগ্রামের মাটি ত্যাগ করে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে ফিরতি যাত্রা করবেন।


নির্বাচিত

দুই প্রধানমন্ত্রী আলোচনায় বসলে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব: ভারতীয় হাইকমিশনার

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী অভিমত প্রকাশ করেছেন যে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরাসরি আলোচনায় বসলে দুই রাষ্ট্রের মধ্যকার বহুবিদ সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে। আজ রবিবার ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে শিশুদের জন্য একটি খেলার জায়গা উদ্বোধনকালে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

হাইকমিশনার দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর গভীর আস্থা প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনবান্ধব ব্যক্তি। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও জনবান্ধব ব্যক্তি। দুই দেশের প্রধান একসঙ্গে হলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আমার পুরো আত্মবিশ্বাস আছে।’ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ এক আছে, সমাধান হবেই। কোনো নেতিবাচক বিষয় নেই, সব ইতিবাচক আছে।’

বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যকার সুদৃঢ় সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করে দীনেশ ত্রিবেদী উল্লেখ করেন, ‘দুই দেশের মানুষের এই সম্পর্ক সরকারি পর্যায়েও বজায় রাখতে হবে।’ বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসার ব্যাপক চাহিদার কথা বিবেচনা করে তিনি আরও জানান যে, বর্তমানে আবেদন কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানোর বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সাথে সাধারণ মানুষের ভিসা প্রাপ্তির ব্যয় কমানো এবং দ্রুততম সময়ে ভিসা প্রদানের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে তাঁরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলে তিনি গণমাধ্যমকে অবহিত করেন।

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের আন্তরিক আচরণের প্রশংসা করে হাইকমিশনার বলেন, দুই প্রতিবেশী দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে যে হৃদ্যতা বিদ্যমান, তা দুই দেশের কূটনীতি ও সরকারি সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রতিফলিত হওয়া জরুরি।


নির্বাচিত

banner close