আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের ১২৭ জন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকে বসবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আগামীকাল সোমবার প্রধান উপদেষ্টার তেজগাঁও কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
আজ রোববার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।
তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আগামীকাল (সোমবার) সারা দেশের মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা।
আবুল কালাম আজাদ বলেন, পুলিশ সুপার ও তার ওপরের পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই বৈঠক হবে। বিভিন্ন মহানগর কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, ক্রাইম টিমের সদস্যসহ ১২৭ জন শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা বিশেষ বৈঠকে যোগ দেবেন। পুলিশের আইজিপি সেখানে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন। ৫ আগস্টের পর পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তারা প্রধান উপদেষ্টাকে জানাবেন। একই সঙ্গে পুলিশের মোরাল অ্যাকটিভিটিজ ফিরিয়ে আনার জন্য কী কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাও অবহিত করবেন।
ব্রিফিংয়ে বলা হয়, এবার পুলিশ সপ্তাহ হবে ২৯ এপ্রিল। সেখানে প্রধান উপদেষ্টা বক্তব্য রাখবেন এবং দিকনির্দেশনা দেবেন। তার আগে আজকের সভায় পুলিশকে বিশেষ দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য ডাকা হয়েছে।
পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিং এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য আনা পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়ামের নতুন চালান সড়কপথে সফলভাবে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্য দিয়ে ইউরেনিয়াম বহনকারী বিশেষ বহরটি রূপপুর প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে। বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম জানান, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে রূপপুর প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম ইউরেনিয়ামের চালানটি প্রকল্প এলাকায় এসে পৌঁছেছে।
এর আগে রাশিয়া থেকে পারমাণবিক জ্বালানি বহনকারী বিশেষ কার্গো বিমানটি শুক্রবার রাতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরবর্তীতে শনিবার সকালে বিমানবন্দর থেকে তিনটি বিশেষায়িত লরির একটি বহর কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সড়কপথে পাবনার রূপপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। অত্যন্ত সংবেদনশীল এই পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে বিশেষায়িত নিরাপত্তা বাহিনী স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), পুলিশ এবং সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা পুরো পথজুড়ে কঠোর ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক পরিবহন সূচি অনুযায়ী ইউরেনিয়ামের এই চালানটি গত ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে ইউরেনিয়াম বহনকারী কার্গো উড়োজাহাজটি পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের কূটনৈতিক অনুমতি সময়মতো না পাওয়ায় নির্ধারিত দিনে ফ্লাইটটি পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি; ফলে কয়েক দিন বিলম্বে চালানটি দেশে পৌঁছায়।
উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক জ্বালানি দেশে আনা হয়েছিল এবং চলতি বছরের মে মাসে সেই জ্বালানি চুল্লিতে সফলভাবে স্থাপন করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, খুব দ্রুতই প্রথম ইউনিট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে ২০১৩ সালে এই মেগা প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়, যেখানে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিটের মাধ্যমে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে দায়িত্ব পাওয়া নতুন সরকার আগামী পাঁচ বছরে জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, নীতিমালার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার আমাদের অগ্রাধিকার। আমরা এখন প্রতিশ্রুতি থেকে সরাসরি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘ফ্র্যাগমেন্টস, ফ্রন্টিয়ার্স অ্যান্ড ফিউচারস: নেভিগেটিং পাওয়ার, টেকনোলজি অ্যান্ড ট্রাস্ট ইন আ ওয়ার্ল্ড রিরিটেন’।
সম্মেলনটি ৩ থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এতে শতাধিক দেশের প্রায় ২শ’ বক্তা, ৩শ’-এর বেশি প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী যোগ দিচ্ছেন।
সম্মেলনে সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচ, মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ এবং মালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুসা মারাসহ বিভিন্ন দেশের সাবেক ও বর্তমান রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা, কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক, গবেষক, ব্যবসায়ী, প্রযুক্তিবিদ ও বিশেষজ্ঞগণ অংশ নিচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করার পাশাপাশি দেশকে শক্তিশালী উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্রে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘উৎপাদন, সেবা, রপ্তানিসহ সকল খাতে আমরা ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই।'
বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিগত নিশ্চয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালার ধারাবাহিকতাই বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা দেবে।
তিনি বলেন, ‘সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষ অগ্রাধিকার পান।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের মায়ের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। যা সবচেয়ে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে শুরু হবে। ‘কৃষক কার্ড’ কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা, কৃষিসেবা ও বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করবে। ‘হেলথ কার্ড’ সবার জন্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করবে এবং চূড়ান্তভাবে ‘ইউনিভার্সেল কার্ড’-এর মাধ্যমে নাগরিকরা এক ছাতার নিচে সমন্বিত সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'সরকার এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগে কাজ করছে, যাদের প্রায় ৮০ শতাংশই নারী হবেন। তাঁরা তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় রেফারেল সেবা প্রদান করবেন।'
মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষা শুধু সনদ অর্জনের জন্য নয়, শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত করারও মাধ্যম হতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছি।'
তিনি আরো বলেন, 'শিশুদের চরিত্র গঠনে পাঠ্যক্রমে সংস্কৃতি, খেলাধুলা, মূল্যবোধ ও নৈতিকতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ দেওয়া এবং সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটানো হবে।'
শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নতিকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার প্রথম শ্রেণি থেকেই বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, মিড-ডে মিল ও বৃত্তি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার পরিধি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।’
দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে জাতীয় অগ্রগতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এই জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগাতে দক্ষতা, উন্নয়ন ও উপযুক্ত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা জরুরি।'
তিনি বলেন, 'সরকার ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও স্টার্ট-আপগুলোকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আমরা চাই আমাদের তরুণেরা বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতা করুক এবং ব্রেইন ড্রেনকে ব্রেইন সার্কুলেশনে রূপান্তর করুক।'
কৃষিকে অর্থনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রযুক্তি, সেচ, কৃষি অর্থায়ন ও কৃষিপণ্যের বাজারসংযোগ আরও সহজলভ্য করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তার পরিপূরক হিসেবে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষিপণ্য রপ্তানি শিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে।’
‘একটি শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতিই গড়ে তুলতে পারে একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।
পানি নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ কৃষিখাতকে সহায়তা করার পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।’
পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের পাশাপাশি বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরি স্থাপনে বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্বের শীর্ষ ১শ’টি লিড সার্টিফায়েড ফ্যাক্টরির মধ্যে ৫৩টিই এখন বাংলাদেশে রয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব শহর গড়ে তোলার মাধ্যমে বর্জ্য হ্রাস, জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন এবং দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করা সম্ভব।’
প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য। আমরা প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে সুদৃঢ় করছি। মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই সুরক্ষিত রাখতে হবে।
আইনের শাসন প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা হবে, যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশের জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকবে।’
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ এখনও প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো মিয়ানমারে তাদের দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।’
এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত রাজনৈতিক সমর্থন ও আন্তর্জাতিক অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘একই সঙ্গে সংকটের মূল কারণগুলোরও সমাধান করতে হবে। যে সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তার সমাপ্তিও হতে হবে মিয়ানমারেই।’
বঙ্গোপসাগরকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণে ভূমিকা রেখে চলেছে।'
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে সমুদ্রবন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতির মাধ্যমে বিশ্বের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। জাহাজ চলাচল, মৎস্যসম্পদ, পর্যটন, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক সরবরাহ চেইনে অপার সম্ভাবনা রয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আঞ্চলিকভাবে অভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানকে অভিন্ন সমৃদ্ধিতে রূপান্তর করতে হলে আরও গভীর দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততা প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, 'বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সমুদ্র খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত করা সম্ভব। নতুন বাজার উন্মুক্ত করার পাশাপাশি তরুণদের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে। সমতা, ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে আমরা আরও শক্তিশালী সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি।'
বাংলাদেশ সংলাপ, অংশীদারিত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে বিশ্বাসী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশ তার সব আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করে যাবে।কারণ শান্তি ও সম্প্রীতিই হলো যৌথ সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের মূল ভিত্তি।’
প্রধানমন্ত্রী বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলকে এমন একটি এলাকায় পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন , ‘যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র একসঙ্গে বিকশিত হবে, পারস্পরিক সমান সুবিধা গ্রহণ করবে এবং নাগরিকরা অর্থবহ সহযোগিতার হাত প্রসারিত করবে। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে তার যথাযথ ভূমিকা পালনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’
সিজিএস আয়োজিত এবারের বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের পাঁচটি মূল আলোচ্য বিষয়-ভূরাজনীতি, নিরাপত্তা ও কৌশলগত প্রতিযোগিতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবারস্পেস ও তথ্যক্ষমতা, বাণিজ্য, সংযোগ ও কৌশলগত প্রবৃদ্ধি, জলবায়ু, সহনশীলতা ও মানব নিরাপত্তা।
একসময় নদী ছিল জীবিকা, যোগাযোগ ও সভ্যতার প্রাণপ্রবাহ। আজ সেই নদীই পরিণত হচ্ছে প্লাস্টিক বর্জ্যের ভাগাড়ে। বুড়িগঙ্গার পানিতে ও তলদেশে জমছে বছরের পর বছর ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক। দূষিত হচ্ছে মাছ ও জলজ পরিবেশ, খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করছে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা। নদীতে ফেলা বোতল ও প্যাকেটের দূষণ শেষ পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে মানুষের খাবারের থালায়। ফলে প্লাস্টিক দূষণ এখন শুধু পরিবেশের সংকট নয়, জনস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও বড় উদ্বেগ।
তলদেশে ১৫ ফুট গভীরেও প্লাস্টিক: ১৬১০ সালে মুঘল সুবেদার ইসলাম খান চিশতির নৌবহর বুড়িগঙ্গার চাঁদনী ঘাটে নোঙর করেছিল। নদীতে ফেলা প্লাস্টিকের বোতল শত শত বছর পরও পরিবেশে টিকে থাকতে পারে। প্লাস্টিকের দীর্ঘস্থায়িত্বের কারণে আজকের বর্জ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও দূষণের বোঝা হয়ে থাকছে।
স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার জানিয়েছেন, বুড়িগঙ্গার মাটির ১৫ ফুট গভীরেও প্লাস্টিক বর্জ্য পাওয়া গেছে। কয়েকটি বর্জ্যের লেবেল পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেগুলো ১৫ থেকে ১৭ বছর আগে ফেলা হয়েছিল। অথচ সেগুলো দেখতে প্রায় নতুনের মতো।
২০২৩ সালে শুরু হওয়া তাদের গবেষণা এখনো চলছে। বোতল ও খাদ্যপণ্যের প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত পলিইথিলিন টেরেফথ্যালেট বা পিইটি প্লাস্টিকের ক্ষয় হতে আনুমানিক ৪৫০ বছর লাগতে পারে। সময়ের সঙ্গে এসব প্লাস্টিক ভেঙে মাইক্রোপ্লাস্টিক তৈরি করে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে।
উৎপাদন বাড়ছে, বাড়ছে বর্জ্য: দেশে প্লাস্টিকশিল্পের সম্প্রসারণের সঙ্গে বাড়ছে বর্জ্যের পরিমাণ। ইনভেস্ট বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ছয় হাজারের বেশি প্লাস্টিক উৎপাদনকারী কারখানা রয়েছে এবং এ খাতে কর্মরত প্রায় ১৫ লাখ মানুষ। শিল্পটির প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ২০ শতাংশ।
এসডোর ২০২২ সালের গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়।
বিশ্বব্যাংকের ২০২০ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সে বছর দেশে বছরে প্রায় ৯ লাখ ৭৭ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হতো। ঢাকায় দৈনিক বর্জ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬৪৬ টন, যা ২০০৫ সালের তুলনায় সাড়ে তিন গুণেরও বেশি।
এসডোর গবেষণা বলছে, রাজধানীতে প্রতিদিন প্রায় ১৪ লাখ পলিথিন ব্যাগ একবার ব্যবহারের পর ফেলে দেওয়া হয়। অথচ বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় মাত্র ৩৭ শতাংশ প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করা হয়। পুরান ঢাকার ইসলামবাগের মতো এলাকায় অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীরা প্লাস্টিক বাছাই করে পুনর্ব্যবহারের উপযোগী করেন। তবে এই ব্যবস্থা সব ধরনের বর্জ্য সংগ্রহ ও নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারছে না।
নদী থেকে খাবারের থালায় মাইক্রোপ্লাস্টিক: প্লাস্টিক দূষণের প্রভাব নদীর পানিতে সীমাবদ্ধ নেই। ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা জলজ প্রাণী ও খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করে মানুষের শরীরেও পৌঁছাতে পারে।
২০২৫ সালের একটি গবেষণায় বঙ্গোপসাগরের মাছের তুলনায় বুড়িগঙ্গা থেকে ধরা মাছে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের আরেক গবেষণায় বুড়িগঙ্গার মাছ, কাঁকড়া ও তলানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়। একই গবেষণায় ক্রোমিয়াম, সিসা, আর্সেনিক ও ক্যাডমিয়ামের মতো ভারী ধাতুর উপস্থিতিও পাওয়া গেছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ড. শফি মোহাম্মদ তারেকের ভাষ্য, মাছ, লবণ, তেল ও চিনির মতো খাদ্যপণ্যেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যাচ্ছে।
মানবস্বাস্থ্যে এসব কণার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে গবেষণা চলছে। তবে বিভিন্ন গবেষণায় প্রজনন, পরিপাক ও শ্বাসতন্ত্রের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সুন্দরবনেও দূষণের ছাপ: প্লাস্টিক দূষণ রাজধানীর নদী ও খালে সীমাবদ্ধ নয়। ২০২৫ সালের একটি গবেষণায় সুন্দরবনের পানিতে প্রতি লিটারে গড়ে ২৩.২৫টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। গবেষণায় পিইটি প্লাস্টিককে প্রধান দূষক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১ হাজার ৪১৫টি নদ-নদী রয়েছে, যেগুলোর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২৪ হাজার ১৪০ কিলোমিটার। এসব নদীতে প্লাস্টিক বর্জ্য জমে জলজ পরিবেশ ও পানিপ্রবাহের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
নগরজীবনেও এর প্রভাব স্পষ্ট। পলিথিন ও খাবারের প্যাকেট নালা-নর্দমা আটকে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি করে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে নর্দমার প্রতিবন্ধকতা দূর করতে এক হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় করেছে। কিন্তু পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পরও অনেক নর্দমা আবার বর্জ্যে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
নিষেধাজ্ঞা আছে, বাস্তবায়ন নেই: বাংলাদেশে ২০০২ সালে পলিথিনের শপিংব্যাগ নিষিদ্ধ করা হলেও বাজারে এর ব্যবহার ব্যাপকভাবে রয়ে গেছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, অবৈধ পলিথিন কারখানার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও পর্যটনকেন্দ্রে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনার কথাও তিনি জানিয়েছেন।
সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে হাইকোর্ট বুড়িগঙ্গার তীরে ইসলামবাগ, লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় ১৫ দিনের মধ্যে প্লাস্টিকসহ অন্যান্য বর্জ্য অপসারণের নির্দেশ দেন। তবে নির্দেশ বাস্তবায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ।
জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার, ২০২৬ সালের মধ্যে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ৯০ শতাংশ পর্যায়ক্রমে বন্ধ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে প্লাস্টিক উৎপাদন ৩০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এসব লক্ষ্য অর্জনের অগ্রগতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য প্রয়োজন।
সমাধান চাই সমন্বিত উদ্যোগ; ইন্টারন্যাশনাল রিভারকিপার বাংলাদেশের প্রতিনিধি শরীফ জামিল সমন্বিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিকল্পনার অভাবকে দূষণ মোকাবিলার বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এসডোর মহাসচিব শাহরিয়ার হোসেনের প্রস্তাব, ‘দূষণকারীই ব্যয় বহন করবে’ নীতি কার্যকর করা। তার মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের পণ্য নদী দূষিত করলে সেই দূষণ পরিষ্কারের দায়ও প্রতিষ্ঠানটিকে নিতে হবে। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করাও সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নদী পরিষ্কারের পাশাপাশি বর্জ্যের উৎসে নিয়ন্ত্রণ, পুনর্ব্যবহারের অবকাঠামো উন্নয়ন, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতা এবং আইনের ধারাবাহিক প্রয়োগ জরুরি।
বুড়িগঙ্গার তলদেশে জমে থাকা প্লাস্টিক অতীতের দূষণের সাক্ষ্য। আজ যে বোতল বা প্যাকেট নদীতে ফেলা হচ্ছে, তার ক্ষুদ্র কণা বহু বছর পরও পরিবেশে থাকতে পারে। তাই নদীকে বাঁচানোর উদ্যোগ শুধু পরিবেশ রক্ষার নয়—মানুষের খাদ্য, স্বাস্থ্য ও আগামী প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও প্রশ্ন।
সরকারের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী জনগণের সেবক বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। দেশের মানুষের কল্যাণে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর কাকরাইলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) অডিটরিয়ামে অধিদপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, জনগণের নির্বাচিত সরকার হিসেবে জবাবদিহি নিশ্চিত করে কাজ করার অঙ্গীকার রয়েছে সরকারের। সরকার গঠনমূলক সমালোচনা শুনতে প্রস্তুত। সরকারি কাজে কোনো ভুল হলে তা তুলে ধরলে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তবে মিথ্যা তথ্য বা প্রচারণার মাধ্যমে সমালোচনা না করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণ এবং বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে উন্নত ও সম্মানজনক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত। সীমিত সম্পদের মধ্যেও কর্মকর্তাদের নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের সেবা করে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যক্রম শুধু উন্নয়ন প্রকল্পনির্ভর না করে মাঠপর্যায়ের মানুষের প্রয়োজনের ভিত্তিতে পরিচালনা করতে হবে।
বিদ্যমান অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ জোরদার, বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পৃথক তহবিল ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ থাকা দরকার। একই সঙ্গে বড় শহরগুলোতে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং ছোট পৌরসভা ও উপজেলায় কম খরচে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
নদী ও পুকুরের পানি পরিশোধনের মাধ্যমে নিরাপদ পানি সরবরাহ বাড়িয়ে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানোর কথাও বলেন প্রতিমন্ত্রী।
আলোচনা সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. জামানুর রহমানসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর (৫৯) মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
রাষ্ট্রপতি তাঁর শোকবার্তায় বলেন, দেশের অনলাইন ও ডিজিটাল সাংবাদিকতার বিকাশে তৌফিক ইমরোজ খালিদী ছিলেন একজন পথিকৃৎ। তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ, সজ্জন ও বরেণ্য গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বকে হারাল এবং সাংবাদিকতায় তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
রাষ্ট্রপতি তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিগত স্মৃতির কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে জানান যে, তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যু তাঁর জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও মর্মাহত করার মতো একটি ঘটনা।
রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণের কারণে গত বৃহস্পতিবার রাতে তৌফিক ইমরোজ খালিদীকে লন্ডনের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় সময় শুক্রবার (২ অক্টোবর) বেলা ২টা ২৩ মিনিটে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
সংসদীয় গণতন্ত্রকে কার্যকর, টেকসই ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকার ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষকেই দায়িত্বশীল, সংযত ও গণতান্ত্রিক আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র দীর্ঘ আন্দোলন, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ফসল। এই অর্জন কোনো একক দলের নয়, বরং সরকার, বিরোধী দল ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। তাই গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে হুইপ বলেন, বিরোধী দলের আন্দোলন করার অধিকার থাকলেও এমন কর্মসূচি এড়িয়ে চলা উচিত যা জনমনে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এর ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং সরকারের ওপর কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার চাপ তৈরি হয়। তবে সরকারের অতিরিক্ত দমনমূলক আচরণও নতুন সংকট সৃষ্টি করতে পারে। ফলে কোনো পক্ষই যেন মুখোমুখি অবস্থানে না যায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার ও রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য নিয়ে হুইপ নিজান বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমস্যা একদিনে সমাধান সম্ভব নয়। তবে বিএনপির ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব ও জুলাই চার্টার নিয়ে সংসদে আলোচনা চলছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ক্ষেত্রে ঐকমত্য তৈরি করতে হবে। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সংসদকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।
রাজনৈতিক নৈতিকতা ও নেতৃত্বের গুণাবলী প্রসঙ্গে হুইপ নিজান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, রাজনীতিতে সততা, ত্যাগ এবং পরাজয় মেনে নেওয়ার মানসিকতা থাকা জরুরি।
একইসঙ্গে ক্ষমতা বা প্রভাব খাটিয়ে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়া থেকে রাজনৈতিক কর্মীদের দূরে থাকতে হবে। সংসদকে কার্যকর ও ভালোবাসার মাধ্যমেই দেশে একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক ধারা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, সুস্থ দেহ ও সুস্থ মনের জন্য খেলাধুলা অপরিহার্য। খেলাধুলা তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও দেশপ্রেমের বিকাশ ঘটায়। সুস্থ, সচেতন ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম গড়ে তুলতে ক্রীড়াচর্চার কোনো বিকল্প নেই।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) ঢাকার মিরপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে মোহাম্মদপুর তায়কোয়ানডো ক্লাব ও বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশন আয়োজিত ‘ক্লাব কাপ ওপেন তায়কোয়ানডো চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চীফ হুইপ বলেন, বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরা খেলাধুলায় অত্যন্ত প্রতিভাবান। ক্রীড়াক্ষেত্রকে এগিয়ে নিতে তরুণদের আরও উৎসাহিত ও সম্পৃক্ত করতে হবে। খেলাধুলার মাধ্যমে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি দায়িত্বশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গড়ে ওঠে।
তিনি বলেন, তরুণদের ইতিবাচক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের প্রসার জরুরি। এ ধরনের আয়োজন তরুণ খেলোয়াড়দের প্রতিভা বিকাশ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চীফ হুইপ অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের সাফল্য কামনা করেন এবং এ আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
শায়রুল কবির খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আনিসুর রহমান এমপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, খেলোয়াড়, ক্রীড়া সংগঠক, আমন্ত্রিত অতিথি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা প্রদান, নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিক নির্যাতন ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে জামায়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিমানবন্দর থানায় মামলাটি দায়ের করেন বিমানবন্দরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তা কর্মকর্তা শাহরিয়ার আলম সজিব। বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এজাহারে আনা অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে সৌদি আরবের মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট (বিজি-৩৩৮) বিমানবন্দরে অবতরণের পর যাত্রীদের ব্যাপক চাপ তৈরি হয়। এ সময় ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় হঠাৎ ট্রলি সংকট দেখা দেয় এবং যাত্রীরা দীর্ঘ সময় লাগেজ না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের আহ্বানে যাত্রীদের আশ্বস্ত করতে ঘটনাস্থলে যান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টার সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে নির্বাহী পরিচালকের দিকে এগিয়ে যান, অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং তাঁকে মারধর করাসহ ঘাড় ধরে বের করে দেওয়ার প্রকাশ্য হুমকি দেন; একই সময়ে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী সম্পর্কেও অশালীন মন্তব্য করেন।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা প্রটোকল সহকারীরা বিমানবন্দরের অতিসংবেদনশীল সংরক্ষিত (কেপিআই) এলাকায় নিয়মবহির্ভূতভাবে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। সে সময় দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাঁদের ভিডিও ধারণে নিষেধ করলে আখতারুজ্জামান ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে গালিগালাজের একপর্যায়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ ছাড়া সাধারণ যাত্রীদের জন্য আনা পবিত্র জমজমের পানির বোতল ট্রলি থেকে ফেলে দিয়ে ক্ষতিসাধন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণ করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়েছে।
মামলার বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন, একটি আন্তর্জাতিক সংরক্ষিত কেপিআই এলাকায় দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তাদের ওপর এমন আক্রমণাত্মক আচরণের কারণে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সরকারি শৃঙ্খলা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। বিমানবন্দর থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থলের ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার (সিসিটিভি) ফুটেজ সংগ্রহ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হচ্ছে এবং প্রাপ্ত আলামত পর্যালোচনার ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ চূড়ান্ত করা হবে।
বড় ধরনের ভূমিকম্পে কোনো ফায়ার স্টেশন কিংবা হেডকোয়ার্টার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যাতে উদ্ধার তৎপরতা থেমে না যায়, সে লক্ষ্যে জনবল, উদ্ধার সরঞ্জাম ও কমান্ড কাঠামো বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।
এর আওতায় ঢাকা ও আশপাশের ৪১টি পয়েন্টে উদ্ধার সরঞ্জাম ছড়িয়ে দেওয়া, পূর্বাচলে বিশেষ রেসকিউ টিম মোতায়েন, বিভাগীয় শহরগুলোতে পৃথক রেসকিউ টিম গঠন এবং ঢাকার আশপাশের ১০০টি ফায়ার স্টেশনকে জরুরি প্রয়োজনে ঢাকায় সহায়তার জন্য প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার বলেন, বড় ধরনের ভূমিকম্পে একটি জায়গায় নয়, একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা চালানোর প্রয়োজন হতে পারে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের জনবল, উদ্ধার সরঞ্জাম ও কমান্ড ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভূমিকম্প বিশ্লেষকদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় ১০০ বছর পরপর একটি বড় ভূমিকম্প হয়, যাকে মেজর ভূমিকম্প বা মেগা ডিজাস্টার বলা হয়। দেশে বড় স্কেলের একটি ভূমিকম্প হওয়ার শতবছর পার হয়ে যাওয়ায় যেকোনো সময় বড় ভূমিকম্প হতে পারে—এমন একটি ভীতি রয়েছে। তবে ঝড়ের ক্ষেত্রে যেমন দুই-তিন দিন আগে পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব, ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে এখনো সেভাবে পূর্বাভাস দেওয়ার প্রযুক্তি আবিষ্কৃত হয়নি।
ফলে ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। ভূমিকম্প হলে কী করণীয়, তা আগে থেকেই শেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিকেন্দ্রীকরণে কমান্ড ব্যবস্থা সচল রাখার উদ্যোগ
ফায়ার সার্ভিস জানায়, ভূমিকম্পসহ যেকোনো দুর্যোগে উদ্ধার ও অন্যান্য কার্যক্রম কমান্ডের ওপর নির্ভর করে।
ভূমিকম্পে পুরান ঢাকার পুরোনো সদর দপ্তর ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যাতে কমান্ড ব্যবস্থা সচল রাখা যায়, সে লক্ষ্যে বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দুজন পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কমান্ড কর্মকর্তাদের মিরপুরে অফিস করার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং সদর দপ্তরের মিডিয়া উইংয়ের মূল অংশও সেখানে স্থানান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি মিরপুর-১০-এর ট্রেনিং কমপ্লেক্সের কার্যক্রম পূর্বাচলের নতুন মাল্টিপারপাস ট্রেনিং কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়েছে।
মিরপুরে নির্মাণ করা হচ্ছে ভূমিকম্প প্রতিরোধক সদর দপ্তর ভবন
পুরান ঢাকার সদর দপ্তর ভবন নিয়ে ঝুঁকি থাকায় ঢাকার মিরপুরে নির্মাণ করা হচ্ছে ভূমিকম্প প্রতিরোধক বহুতল বিশিষ্ট সদর দপ্তর ভবন। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি-জাইকার সহযোগিতায় মিরপুর ১০-এ নির্মাণাধীন এই ভবনে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ‘বেজ আইসোলেশন প্রযুক্তি’ ব্যবহার করা হচ্ছে।
এতে ভবনটি ৮ মাত্রার ভূমিকম্পেও ভেঙে পড়বে না। গণপূর্ত অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ২০২৮ সালে এর বাস্তবায়ন সম্পন্ন হওয়ার কথা। তখন ফায়ার সার্ভিসের পুরো অধিদপ্তর সেখানে স্থানান্তর করা হবে।
৪১ পয়েন্টে উদ্ধার সরঞ্জাম বিকেন্দ্রীকরণ
ফায়ার সার্ভিসের অন্যান্য স্টেশনে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল ও সরঞ্জাম থাকলেও হেডকোয়ার্টারে বেশির ভাগ অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার সরঞ্জাম রাখা হতো। ভূমিকম্পে হেডকোয়ার্টার ভবন ধসে এসব সরঞ্জাম আটকে গেলে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে ঢাকা ও এর আশপাশের ৪১টি পয়েন্টে এসব সরঞ্জাম বিভাজন করে দেওয়া হয়েছে। ফলে কোনো ফায়ার স্টেশন ভূমিকম্পে আটকে গেলে নিকটস্থ ফায়ার স্টেশন থেকে সরঞ্জাম এনে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
বিশেষ রেসকিউ টিম গঠন
ভূমিকম্পের মতো বড় দুর্যোগে ফায়ার স্টেশনের জনবল পর্যাপ্ত নাও হতে পারে। এ কারণে এসআরটি বা স্পেশাল রেসকিউ টিম গঠন করা হয়েছে। ঢাকার পূর্বাচলে ৫০ থেকে ৬০ সদস্যের একটি বিশেষ টিম রাখা হয়েছে, যা দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করবে। একইভাবে বিভাগীয় শহরগুলোর বিভিন্ন স্টেশন থেকে জনবল এনে প্রতিটি বিভাগীয় সদর দপ্তরে ২০ সদস্যের একটি করে এসআরটি টিম রাখা হয়েছে। তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাতে এ ধরনের দুর্যোগে কলাপসড স্ট্রাকচার সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অপারেশন পরিচালনা করতে পারে।
ঢাকার সহায়তায় ১০০ ফায়ার স্টেশন প্রস্তুত
ভূমিকম্পে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে বিভাগীয় শহরের বাইরে ১০০টি ফায়ার স্টেশনকে এয়ারমার্ক করা হয়েছে, যাতে মহানগরীর কোনো স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা পর্যাপ্ত জনবল দিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম চালানো সম্ভব না হলে এসব স্টেশন থেকে জনবল ও সরঞ্জাম নিয়ে সহায়তা করা যায়। রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে গেলে হেলিকপ্টারে উদ্ধার সরঞ্জাম ও রেসকিউ টিম স্থানান্তরের বিষয়েও বিমান বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের উদ্যোগ চেষ্টা চলছে।
ভূমিকম্প মোকাবিলায় সরঞ্জাম দেওয়ার উদ্যোগ
ভূমিকম্প মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ অধিদপ্তরের সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালকের বেশ কয়েকটি বৈঠক হয়েছে। দুর্যোগে উদ্ধার অভিযানের সময় ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলো সেখানে তুলে ধরা হয়েছে। ভূমিকম্প-সম্পর্কিত দুর্যোগ ও মেগা ডিজাস্টারে কাজ করার জন্য ফায়ার সার্ভিসকে ইকুইপমেন্ট ও সরঞ্জাম সরবরাহ করার কথা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে কিছু সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে কমিউনিকেশন এক্সারসাইজ
বড় অগ্নিকাণ্ড বা মেগা ভূমিকম্পে ওয়্যারলেস কভারেজ ও মোবাইল টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ফায়ার সার্ভিসের যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হতে পারে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অ্যামেচার রেডিও অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আরাব) সহায়তায় গত আগস্টে দেশব্যাপী কমিউনিকেশন এক্সারসাইজ করা হয়েছে। এতে বেতার, মোবাইল ও ল্যান্ড টেলিফোন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে—এমন পরিস্থিতি তৈরি করে বিভিন্ন ফায়ার স্টেশনের যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখার মহড়া দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে এবং ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, রংপুর ও ময়মনসিংহসহ বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এ ঝুঁকি বেশি। তাই সমন্বিত প্রস্তুতি প্রয়োজন। বড় ভূমিকম্প মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষিত জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ছোট-বড় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, নিয়মিত মহড়া এবং সেগুলোর মনিটরিং ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে।
তিনি বলেন, বড় ভূমিকম্প মোকাবিলা উন্নত দেশগুলোর জন্যও কঠিন। বাংলাদেশেও এ ধরনের দুর্যোগে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে বিদ্যমান সক্ষমতা নিয়ে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ও চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, বড় ভূমিকম্পের পর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে একই সময়ে বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত বিপর্যয় মোকাবিলা করা। বিশেষ করে ভবনধস, মানুষের আটকে পড়া, গ্যাসলাইন থেকে অগ্নিকাণ্ড এবং বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
তিনি বলেন, ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে সরু সড়ক, যানজট, অবৈধ পার্কিং ও ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধারকারী গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের স্থিতিশীলতা যাচাই না করে উদ্ধারকাজে প্রবেশ করাও উদ্ধারকারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হবে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আমাদের অগ্রাধিকার হবে দ্রুত পরিস্থিতি মূল্যায়ন, আটকে পড়া মানুষকে শনাক্তকরণ, অগ্রাধিকারভিত্তিতে উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করা। একই সঙ্গে উদ্ধারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চলতি অক্টোবর মাসে বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে তিনটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে একটি ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. মোমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চলতি মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দেশের সামগ্রিক আবহাওয়া পরিস্থিতি ও নদ-নদীর অবস্থা পর্যালোচনা করে এক মাসের এই আনুষ্ঠানিক পূর্বাভাস জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি অক্টোবর মাসের প্রথমার্ধেই বাংলাদেশ থেকে পর্যায়ক্রমে বিদায় নিতে পারে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বা বর্ষা। চলতি মাসে সামগ্রিকভাবে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা কম বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বর্ষা বিদায়ের প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডলে অস্থিরতার কারণে মাসজুড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে তিন থেকে চার দিন বজ্রঝড় আঘাত হানতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করেছে।
তাপমাত্রার বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মাসে দিন ও রাতের সার্বিক তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকতে পারে। তবে অক্টোবর মাসের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসতে শুরু করবে এবং এ সময়ে দিন ও রাত উভয়ের তাপমাত্রাই ক্রমান্বয়ে কমতে থাকবে, যা মূলত শীতের আগাম বার্তা দেবে।
নদ-নদীর পরিস্থিতি নিয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অক্টোবর মাসে দেশের প্রধান প্রধান নদ-নদীগুলোতে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বিরাজমান থাকার সম্ভাবনা বেশি। তবে কোনো কারণে পাহাড়ি ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত সংঘটিত হলে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু কিছু নদীর পানি সাময়িকভাবে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে, যার ফলে সংশ্লিষ্ট কিছু নিম্নাঞ্চলে সাময়িক প্লাবন বা পানি জমার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
অননুমোদিত গুদামে শুল্কমুক্ত বিদেশি মদ মজুত রাখার অভিযোগে রাজধানীর দক্ষিণ গুলশানে অবস্থিত ‘টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেড’-এর চারটি ওয়্যারহাউস সিলগালা করেছে যৌথ তদন্তকারী দল। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টা থেকে ভোর সাড়ে চারটা পর্যন্ত কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির দুটি গুদামের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন থাকলেও অভিযানে আরও দুটি অননুমোদিত গুদামে পণ্য মজুতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ফলে শুল্কমুক্ত পণ্য খোলাবাজারে পাচার রোধ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে চারটি গুদামই তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করা হয়েছে।
কূটনৈতিক বন্ডেড ওয়্যারহাউস ‘টস বন্ড’ মূলত বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে শুল্কমুক্ত অ্যালকোহল সরবরাহের অনুমোদনপ্রাপ্ত একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলামের নামে নিবন্ধিত না হলেও কার্যত তাঁরই ছত্রচ্ছায়ায় এটি পরিচালিত হতো। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে শুল্কমুক্ত মদ খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগ ওঠায় শুল্ক গোয়েন্দারা কয়েক মাস ধরেই অনুসন্ধান চালাচ্ছিলেন। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ সফিউর রহমান জানিয়েছেন, অনুমোদনের বাইরে দুটি অবৈধ গুদামে পণ্য রাখার প্রমাণ পাওয়ায় সেগুলো সিলগালা করা হয়েছে এবং বন্ড কমিশনারেট থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের পাশাপাশি শেখ নুর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিদেশে গোপন সম্পদ ও অর্থপাচারের তথ্য পেয়েছে এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) এবং আয়কর গোয়েন্দা ইউনিট। কানাডা থেকে সংগৃহীত গোয়েন্দা তথ্যে দেখা গেছে, নুর ইসলাম, তাঁর স্ত্রী শীলা ইসলাম ও মেয়ে তাসনিম ইসলাম সে দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণের পাশাপাশি অন্তত চারটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় রয়েছেন। ২০১২ সালের ২৬ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত তাঁদের ১৬৩টি আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এক বছরেই প্রায় ৯৫ কোটি টাকা রেমিট্যান্স হিসেবে দেশে আনার তথ্য মিলেছে, যার কোনোটিই দেশীয় কর নথিতে উল্লেখ ছিল না। সংশ্লিষ্ট কর গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক ফাঁকির এই অভিযোগগুলো নিয়ে সরকারি সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে তদন্ত চালিয়ে আসছিল।
তদন্তকারী সংস্থাগুলো স্পষ্ট করেছে যে, এই অভিযান সম্পূর্ণ নিয়মিত রাজস্ব ও শুল্ক নজরদারির অংশ এবং এর সঙ্গে সম্প্রতি সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনার কোনো যোগসূত্র নেই। উল্লেখ্য, গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর দক্ষিণ মানিকদীতে নিউ গিনি আবাসন প্রকল্পে হামলার সময় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ‘ব্রাউনফিশ’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই ঘটনার পর ফেসবুক লাইভে রাজনৈতিক চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে পরে তা প্রত্যাহার করেন তিনি। ওই ঘটনায় আবাসন কোম্পানির পরিচালকের করা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরের জামাতাসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যেই বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সালমান মুক্তাদিরের সব ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করেছে।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জ্বালানি নিরাপত্তা, দক্ষ জনশক্তি অভিবাসন, কারিগরি শিক্ষা, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসসকে এ তথ্য জানান।
এ সময় অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার দেশটির গভর্নর জেনারেল স্যাম মস্টিন এসি’র পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিবাদন জানান এবং আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছাপত্র প্রদান করেন। শুভেচ্ছা জানানোর জন্য রাষ্ট্রপতি অস্ট্রেলিয়ার গভর্নর জেনারেলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের জ্বালানি উৎস বহুমুখীকরণে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে এলএনজি আমদানির সুযোগ সৃষ্টির প্রস্তাব দেন।
তিনি অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি অনুসন্ধান, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, চিকিৎসা কৌশল, লজিস্টিকস ও উৎপাদন খাতে অস্ট্রেলিয়ার আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
আগামী নভেম্বরে ক্যানবেরায় অনুষ্ঠেয় সিনিয়র কর্মকর্তাদের বৈঠক ও টিআইএফএ বৈঠক দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশি পেশাজীবীদের, বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল ও অন্যান্য কারিগরি ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ায় দক্ষ জনশক্তি অভিবাসনের সুযোগকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি।
এ ছাড়া বৃত্তি ও একাডেমিক বিনিময় কর্মসূচিতে অস্ট্রেলিয়ার অব্যাহত সহযোগিতা এবং ঢাকায় ইউনিভার্সিটি অব ক্যানবেরার একটি ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান কর্মশক্তির জন্য কর্মোপযোগী দক্ষতা উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার টেকনিক্যাল অ্যান্ড ফার্দার এডুকেশন (টিএএফই) প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর (টিটিসি) সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেন রাষ্ট্রপতি। এ ক্ষেত্রে কেয়ারগিভার প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রপতি দীর্ঘস্থায়ী এ সংকটে অস্ট্রেলিয়ার অব্যাহত মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং সংকটের টেকসই সমাধানে দেশটির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে বাস্তব অর্থনৈতিক সুযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন, বিনিয়োগ এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও চলাচল বৃদ্ধির ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেবে।
এ সময় হাইকমিশনার অস্ট্রেলীয় ব্যবসায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে, ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, কর সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ইতিবাচক নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশে ব্যাংকিং সংস্কারের প্রশংসা করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার বিদ্যমান সহযোগিতা আরও জোরদারে তার দেশের আগ্রহের কথা জানান।
এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি হাইকমিশনার ক্লিনটন পবকে।
চীন-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বর্তমানে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেছেন, এই বন্ধুত্ব দুই দেশ ও তাদের জনগণের মৌলিক স্বার্থে কাজ করে। নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা অব্যাহতভাবে এগিয়ে যাবে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) চীনের প্রতিষ্ঠার ৭৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে ‘অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় হাতে হাত রেখে, আরও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে’ শীর্ষক এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, এই বন্ধুত্ব দুই দেশ ও তাদের জনগণের মৌলিক স্বার্থে কাজ করে। নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা অব্যাহতভাবে এগিয়ে যাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, বেইজিং বাংলাদেশের নতুন সরকারকে দেশ পরিচালনায় সমর্থন করে যাচ্ছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় চীন সমর্থন অব্যাহত রাখবে, বহিরাগত হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করবে এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের আরও বড় ভূমিকা পালনে সহযোগিতা করবে।
তিনি বলেন, অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময়ের অভিন্ন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে চীন ও বাংলাদেশ ভালো প্রতিবেশী, বন্ধু ও অংশীদার হিসেবে সম্পর্ক বজায় রেখেছে। পারস্পরিক সম্মান ও আন্তরিকতার ভিত্তিতেই এ সম্পর্ক এগিয়ে চলেছে।
ইয়াও ওয়েন উল্লেখ করেন, এ বছর বাংলাদেশ ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫১তম এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতার ১০ম বার্ষিকী।
এ বছর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বছর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো চীন সফর করেন। এ সময় দুই দেশের নেতারা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছান এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন যুগে চীন-বাংলাদেশ অভিন্ন ভবিষ্যতের অংশীদারত্বের পর্যায়ে উন্নীত করেন। এটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে শক্তিশালী গতি এনেছে।
বাংলাদেশে তার দায়িত্ব পালনের সময়ে দেশটির রাজনৈতিক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে ইয়াও ওয়েন বলেন, তিনি বাংলাদেশের জনগণের দৃঢ়তা ও জাতীয় মর্যাদাবোধ দেখে গভীরভাবে মুগ্ধ হয়েছেন। গত তিন বছরে আমি ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে এই জাতির নেওয়া ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তগুলো প্রত্যক্ষ করেছি। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সংস্কার ও উন্নয়নের নতুন পথে এগিয়ে চলা বাংলাদেশের জনগণের অসাধারণ দৃঢ়তা ও জাতীয় মর্যাদাবোধের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।
রাষ্ট্রদূত স্বীকার করেন যে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নানা সময়ে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছে। তবে এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও দুই দেশের অংশীদারীত্ব তার প্রাণবন্ততা ধরে রেখেছে এবং সম্পর্ক অব্যাহতভাবে এগিয়ে চলেছে।