মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
১৯ ফাল্গুন ১৪৩২

ঈদযাত্রাকে নিরাপদ-স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে রেলওয়ের নানা উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ১৯ মার্চ, ২০২৫ ১৭:৩৭

বরাবরের মতো এবারও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে ট্রেন। যাত্রীসেবা, অনলাইন টিকিট, নিরাপত্তা ও সময় বাঁচানোসহ নানা দিক বিবেচনায় রেলপথকে বেছে নিচ্ছে যাত্রীরা। ঈদযাত্রা উপলক্ষে অগ্রিম টিকিট কাটতে অনলাইনে ব্যাপক সক্রিয় হয়েছেন তারা। ৩৫ হাজার ৯১৩টি টিকিটের জন্য ১৭ মার্চ রেলওয়ে অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে ভিজিটর হিট করেছে প্রায় আড়াইকোটি বার। এখন পর্যন্ত কোন টিকিট অবিক্রিত নেই।

এবারের ঈদযাত্রাকে নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও উৎসবমুখর করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ঢাকার প্রধান দু’টি রেলওয়ে স্টেশন, গাজীপুরের জয়দেবপুর স্টেশনে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের সকল আন্তঃনগর স্টেশনে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, এবারের ঈদযাত্রায় রেলওয়ে স্টেশনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, এপিবিএন, আনসার ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় থাকবেন। পাশাপাশি সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরায় মনিটরিং করা হবে। এছাড়া, যাত্রীদের জন্য কমলাপুর ও ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে মেডিকেল টিম থাকবে।

টিকিট কালোবাজারি, ছাদে ও বিনা টিকিটে ভ্রমণের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার কথা জানান রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী। বেসরকারি ট্রেনের মালিকরা যেন অতিরিক্ত টিকিট বিক্রি করতে না পারে সে বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। কেউ লোকাল ট্রেনের টিকিট কেটে প্লাটফর্মে ঢুকে অন্য ট্রেনে যেন উঠতে না পারে সে সুযোগও বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

এদিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদযাত্রার বিশেষ দিনের আগেই কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে আসছেন অনেক ঘরমুখো মানুষ। যারা চাকরি করছেন তাদের অনেকের পরিবারকে আগে বাড়ি পাঠিয়ে দিতে দেখা গেছে। তারা স্টেশনের গেটগুলোতে সারিবদ্ধভাবে প্লাটর্ফমে প্রবেশ করছেন। কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি। বাহির পথেও যাত্রীরা নিরাপদে বের হচ্ছেন। টিকিটবিহীন যাত্রীদের জরিমানা করতে দেখা গেছে।

রেলওয়ে বিভাগ থেকে জানা গেছে, এবারের ঈদযাত্রায় রেলসেবাকে স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে টিকিট কাটার ক্ষেত্রে পরিবর্তন এনেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দু’টি রেলওয়ে অঞ্চলের জন্য আলাদা আলাদা সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের জন্য সকাল ৮টায় ও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জন্য দুপুর ২টায় টিকেট বিক্রি শুরু হয়। এই দু’সময়ে রেলওয়ে ওয়েবসাইট ও অ্যাপে ব্যাপক ট্রাফিক হয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে ও অনলাইনে টিকিট বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান সহজ.কম। তবে এবার ব্যাপক ট্রাফিকেও সার্ভার ডাউনের কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

ট্রেনের টিকিট বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান সহজ ডট কমের সিইও বাসসকে জানান, এবারের অনলাইন সেবা অনেক আরামদায়ক হয়েছে। টিকিট কাটতে কোন ধরনের সার্ভার জটিলতায় পড়তে হয়নি। এক সেকেন্ডের জন্যও সার্ভার বন্ধ হয়নি। একসাথে কতজন টিকিট কাটার চেষ্টা করছে তা গ্রাহক দেখতে পাচ্ছেন। এছাড়া গ্রাহকের নির্দিষ্ট স্টেশনে টিকিট শেষ হয়ে গেলে তাকে আগে ও পরের স্টেশনের সাজেসন দেওয়া হয়। যা যাত্রীদের জন্য অনেক আরামদায়ক হয়েছে।

এবারের ঈদযাত্রায় ১৪ মার্চ থেকে অনলাইনে অগ্রিম টিকিট বিক্রি করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জন্য দুপুর দুটায় ও পশ্চিমাঞ্চলের জন্য সকাল আটটায় দশদিন পরের টিকেট বিক্রি করা হয়। এবারের ঈদে সারাদেশে চলাচলকারী ১২০টি আন্তঃনগর ট্রেনের বাইরেও পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন চলবে। এছাড়া লোকাল, কমিউটার ও মেইল ট্রেনগুলো তাদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে চলাচল করবে।

রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ঢাকা বিভাগীয় কমান্ড্যান্ট মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বাসসকে বলেন, ‘এবারের ঈদযাত্রায় রেলওয়ে স্টেশনে নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য বর্তমান ৪৯০ জন রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর বাইরে অতিরিক্ত ২০০জন আনসার সদস্য যুক্ত হবেন। বিনা টিকিটে ভ্রমণ বন্ধ করতে আমরা যথেষ্ট ভূমিকা পালন করবো। ইতোমধ্যে আমরা প্রবেশ ও বাহিরের জন্য আলাদা গেইট তৈরি করেছি। এতে করে বিনা টিকিটে কেউই ভিতরে প্রবেশ করতে পারবে না। আর প্রবেশ ঠেকানো গেলে বগিতে অতিরিক্ত যাত্রী ও ছাদে ভ্রমণ বন্ধ করতে সক্ষম হবো।

কমলাপুর স্টেশনে তিন স্তরের নিরাপত্তা দেবে রেলওয়ে পুলিশ। এ বিষয়ে রেলওয়ে ঢাকা পুলিশের পলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বাসকে বলেন, ‘কমলাপুর থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াতকারী যাত্রীদের আমরা তিন স্তরের নিরাপত্তা দেবো। স্টেশনের প্রবেশপথে আমাদের পোশাকধারী পুলিশ, ডিবি, এপিবিএনের সদস্যরা থাকবেন।

সাথে সাদা পোশাকে আমাদের সদস্যরা থাকবেন, সার্বক্ষণিক সিসিটিভি মনিটরিং করা হবে। একই সেবা ঢাকা বিমানবন্দর ও জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশনেও থাকবে।’

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার শাহাদাৎ হোসেন বাসসকে বলেন, ‘ঈদকে কেন্দ্র করে স্টেশনে ইতোমধ্যে যাত্রীর আনাগোনা বেড়েছে। টিকিট করে প্লাটফর্মে ঢোকানো ও বের করা হচ্ছে। এবারের ঈদ যাত্রায় প্রত্যেক রুটে ট্রেনগুলো শিডিউল মেনে চলবে। সবমিলিয়ে ঈদযাত্রাকে স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলতে রেলওয়ে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।’

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বাসসকে বলেন, ‘এবারের ঈদযাত্রাকে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে কাজ করছে। নিরাপদ ভ্রমণকে অনিরাপদ করে তোলে ছাদে ওঠা যাত্রীরা। এবার যেন ছাদে ও বিনা টিকিটে কেউ ভ্রমণ করতে না পারে সেক্ষেত্রে আমরা কঠোর হবো। বিশেষ করে কমলাপুর, বিমানবন্দর, জয়দেবপুর স্টেশনে আমাদের নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা সেটি বাস্তবায়ন করবেন।’


পুলিশ সংস্কার ও পুনর্গঠনে জাপানের সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ করে পুলিশের সংস্কার ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় জাপানের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিন-ইচি সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে মন্ত্রী এই অনুরোধ জানান। বৈঠকে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ইস্যু, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাপানকে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও পরীক্ষিত উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, মেট্রোরেল এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের মতো মেগা প্রকল্পগুলোতে জাইকার মাধ্যমে জাপানের বড় বিনিয়োগ রয়েছে। এছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক সেফটি নিয়ে জাপান ইতিপূর্বে সফলভাবে কাজ করেছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, পুলিশের বর্তমান সংস্কার ও আধুনিকায়ন প্রক্রিয়ায় জাপান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দ্রুতই জাপানের কাছে কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা পাঠানো হবে বলেও তিনি জানান।

বৈঠকের শুরুতে জাপানি রাষ্ট্রদূত নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তাঁর নতুন দায়িত্বের জন্য অভিনন্দন জানান। রাষ্ট্রদূত শিন-ইচি বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, ডিএমপির ট্রাফিক সেফটি প্রজেক্টটি গত বছর সফলভাবে শেষ হয়েছে। ভবিষ্যতে পুলিশ ও ডিএমপির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে তাঁরা আরও নিবিড়ভাবে কাজ করতে আগ্রহী। আলোচনার এক পর্যায়ে রাষ্ট্রদূত চলতি বছর হলি আর্টিজান হামলার দশ বছর পূর্তির বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বাংলাদেশে অবস্থানরত জাপানি নাগরিক, বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার অনুরোধ জানান।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রদূতকে আশ্বস্ত করে বলেন, বাংলাদেশে বসবাসরত সকল জাপানি নাগরিকের জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাপানের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরণের অনুরোধ বা নিরাপত্তাজনিত বিষয়কে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং জাপান দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদী আর নেই

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ও জনপ্রিয় বক্তা পীরজাদা মাওলানা মীর মো. হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদী আর নেই। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রাজধানীর গুলিস্তান পীর ইয়ামেনী জামে মসজিদের খতিব মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গুণী এই আলেমের মৃত্যুতে দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের মাঝে এবং আলেম সমাজে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মাওলানা হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদী তাঁর ওজস্বী কণ্ঠ এবং যুক্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে দেশজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তিনি কুরআন ও সুন্নাহর আলো ছড়িয়ে দিতে দেশের প্রতিটি প্রান্তে ওয়াজ নসিহত ও সমাজ সংস্কারমূলক কাজ করে গেছেন। তাঁর অমায়িক ব্যবহার এবং জ্ঞানগর্ভ আলোচনা সব মহলেই সমাদৃত ছিল। মরহুমের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আজ বাদ আসর রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে তাঁর প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৪৭ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার বারুদী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই বিশিষ্ট আলেম। তাঁর পিতা মাওলানা মীর মনিরুদ্দীন ছিলেন ছারছীনা দরবার শরীফের পীর আল্লামা নেছারউদ্দীন সাহেবের অন্যতম খলিফা। বাবার আদর্শেই তিনি ধর্মীয় শিক্ষার পথে পা বাড়ান। প্রাথমিক শিক্ষা নিজ গ্রামেই শুরু করার পর বারুদী নেছারিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে যথাক্রমে ১৯৬৩ ও ১৯৬৫ সালে দাখিল ও আলিম পাস করেন। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ কামিল মাদ্রাসা থেকে ১৯৬৭ সালে ফাজিল এবং সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া ঢাকা থেকে প্রথম বিভাগে কামিল পাশ করে তাঁর শিক্ষা জীবন শেষ করেন।

শিক্ষা জীবন শেষ করার পর থেকেই তিনি দ্বীন প্রচারের কাজে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। কেবল ধর্মীয় বক্তা হিসেবেই নয়, একজন নীতিবান মানুষ হিসেবেও তিনি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের ইসলামী শিক্ষা ও প্রচার প্রসারের ক্ষেত্রে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হলো। পরিবার, গুণগ্রাহী এবং অগণিত ভক্ত-অনুরাগী রেখে গেছেন তিনি। জানাজা শেষে তাঁকে তাঁর পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করার প্রক্রিয়া নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।


জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্টের রুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের নেওয়া শপথ কেন অবৈধ হবে না, রুলে সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম শাহীনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জনস্বার্থে দায়ের করা পৃথক রিট আবেদনের শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।

আদালতের এই রুলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানul করিম ও আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব। অন্যদিকে রিটের বিরোধিতা করে বক্তব্য রাখেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু, ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী এবং অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। তাঁদের সহযোগিতায় ছিলেন আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মূসা, সাদ্দাম হোসেন ও আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।

এর আগে গত সোমবার (২ মার্চ) জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট দায়ের করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌধুরী রেদোয়ান-ই খোদা রনি এবং অ্যাডভোকেট গাজী মো. মাহবুব আলম এই রিটগুলো দায়ের করেন। রিট আবেদনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ বাতিল করার পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথকে অবৈধ ঘোষণার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল।

এছাড়া গত ১৮ ফেব্রুয়ারি অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ জুলাই জাতীয় সনদকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক দাবি করে এটি বাতিলের নির্দেশনা চেয়ে আরও একটি রিট দায়ের করেছিলেন। ওই রিটে জুলাই সনদের কার্যকারিতা স্থগিত করারও আবেদন জানানো হয়েছিল। মূলত জুলাই জাতীয় সনদের বিভিন্ন ধারা এবং গণভোটের আইনি ভিত্তি নিয়ে আইনি মহলে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, এই রুলের মাধ্যমে উচ্চ আদালত সেই বিষয়ের আইনি ব্যাখ্যা ও বিবাদীদের অবস্থান জানতে চাইলেন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে চূড়ান্ত শুনানির পর বিস্তারিত জানা যাবে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রেক্ষাপটে হাইকোর্টের এই রুলটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কোস্টগার্ড মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক। আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের শুরুতে তারা পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বাহিনীর সদস্যদের নিরলস প্রচেষ্টার স্বীকৃতি দিয়ে বলেন, সমুদ্র উপকূল ও নদী তীরবর্তী এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে কোস্টগার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে জনগণের স্বার্থে দুর্যোগ মোকাবিলায় তাদের জনসেবামূলক কাজগুলো অব্যাহত রাখার জন্য তিনি বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন।

বৈঠকে মহাপরিচালক প্রধানমন্ত্রীকে কোস্টগার্ডের চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত করেন। প্রধানমন্ত্রী এই উন্নয়নের গতিপ্রকৃতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আশ্বস্ত করেন যে, বাহিনীর এই আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে।

পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোস্টগার্ডকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, পেশাদারিত্বের মাধ্যমে এই বাহিনী দেশের সমুদ্রসীমার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করবে।


জুলাই সনদ ও গণভোটের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ আজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের আলোচিত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন আদেশ, গণভোট অধ্যাদেশ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদনগুলোর ওপর আজ আদেশ দেবেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম শাহীনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশটি ঘোষণা করবেন। এর আগে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত আদেশের জন্য আজকের দিনটি ধার্য করেছিলেন।

রিট আবেদনগুলোতে মূলত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং এটি বাতিল করার আর্জি জানানো হয়েছে। এছাড়া গণভোট অধ্যাদেশ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়াটি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়েও রুল জারির নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌধুরী রেদোয়ান-ই খোদা রনি এবং অ্যাডভোকেট গাজী মো. মাহবুব আলম পৃথক দুটি জনস্বার্থমূলক রিট পিটিশন দায়ের করেছিলেন। অন্যদিকে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ জুলাই জাতীয় সনদকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক দাবি করে এটি বাতিলের জন্য আরও একটি রিট দায়ের করেন।

দায়েরকৃত এসব রিটে বিবাদী হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষভুক্ত করা হয়েছে। রিট আবেদনকারীদের দাবি, জুলাই সনদের বেশ কিছু ধারা বিদ্যমান সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, ফলে এর কার্যকারিতা স্থগিত রাখা জরুরি। আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আজকের এই আদেশের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের ভবিষ্যৎ প্রক্রিয়ার বিষয়ে আদালতের অবস্থান স্পষ্ট হবে, যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সব মিলিয়ে পুরো দেশ এখন উচ্চ আদালতের এই আদেশের দিকে তাকিয়ে আছে।


বায়ুদূষণে আজও বিশ্বের শীর্ষে ঢাকা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাজধানী ঢাকার বাতাসের মান আবারও বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১১৬টি প্রধান নগরীর মধ্যে দূষণের তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। ঢাকার বায়ুমানের সূচক বা একিউআই স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ২৩৪, যা পরিবেশ ও স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের ভাষায় ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে এমন দূষিত বাতাসে শ্বাসপ্রশ্বাস গ্রহণ করা সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

আইকিউএয়ারের লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঢাকার ঠিক পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর, যার স্কোর ২৩২। তৃতীয় অবস্থানে ভারতের রাজধানী দিল্লি ১৯৪ স্কোর নিয়ে অবস্থান করছে। দূষিত শহরের তালিকার পরবর্তী ধাপগুলোতে রয়েছে যথাক্রমে চীনের বেইজিং, ভারতের কলকাতা ও নেপালের কাঠমান্ডু। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর বড় শহরগুলোতে বায়ুদূষণের এই ভয়াবহ চিত্র সামগ্রিক আঞ্চলিক পরিবেশগত সংকটকেই ফুটিয়ে তুলছে।

বিপরীত দিকে, একই সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে নির্মল বায়ুর শহর হিসেবে তালিকার শেষে অর্থাৎ নিরাপদ অবস্থানে ছিল ইন্দোনেশিয়ার বাতাম। এই শহরটির বায়ুমানের স্কোর ছিল শূন্য। এছাড়া নির্মল বায়ুর তালিকায় ওপরের দিকে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সল্ট লেক সিটি, সান ফ্রান্সিসকো এবং অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরা। এসব শহরের উন্নত পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও কম দূষণ সাধারণ মানুষের বসবাসের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআই অনুযায়ী, বায়ুর মান শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে তা ভালো এবং ১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে হলে অস্বাস্থ্যকর ধরা হয়। তবে স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে পৌঁছালে তা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত হয়, যা বর্তমান ঢাকার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুষ্ক মৌসুমে নির্মাণ কাজ, যানবাহনের ধোঁয়া এবং ধুলোবালির কারণে ঢাকার বায়ুমান এমন উদ্বেগজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর বায়ুদূষণজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ প্রাণ হারান, যা আধুনিক বিশ্বের অন্যতম বড় নিরব ঘাতক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই ভয়াবহ দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।


চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, হুইপ হলেন যারা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপের দায়িত্ব পেয়েছেন বরগুনা-২ (বেতাগী-বামনা-পাথরঘাটা) আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মনি; ছয়জনকে দেওয়া হয়েছে হুইপের দায়িত্ব।

গতকাল সোমবার, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের আলাদা প্রজ্ঞাপনে এ বিষয়ে জানানো হয়।
হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য জি কে গউছ, খুলনা-৩ আসনের রকিবুল ইসলাম, শরীয়তপুর-৩ আসনের মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, নাটোর-২ আসনের এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, দিনাজপুর-৪ আসনের মো. আখতারুজ্জামান মিয়া ও লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান)।
চিফ হুইপ সংসদে সরকারি দলের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার সঙ্গে কয়েকজন হুইপ থাকেন, যারা সবাই সংসদ সদস্য। তাদের প্রধান কাজ সংসদে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, নিজ দলের সদস্যদের অধিবেশনে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ বিল ও প্রস্তাবে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোট নিশ্চিত করা।
চিফ হুইপ পূর্ণ মন্ত্রীর পদমর্যাদা ভোগ করেন, আর হুইপরা প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পান। সে অনুযায়ী তারা মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের মতো সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন।
জাতীয় সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই নিয়োগ অবিলম্বে কার্যকর হবে। নবনিযুক্ত চিফ হুইপ ও হুইপগণ আজ মঙ্গলবার শপথ নিতে পারেন।


ফেব্রুয়ারিতে দেশে নিহত ৩২ নারী-কন্যাশিশু

নির্যাতনের শিকার ১৮৩, নিহতের ৯ জনই শিশু
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সারা দেশে অন্তত ৩২ জন নারী ও কন্যাশিশু হত্যার শিকার হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৯ জনই কন্যাশিশু, যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ-এর নারী ও কন্যা নির্যাতনবিষয়ক মাসিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই উদ্বেগজনক চিত্র।

সোমবার (২ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সহিংসতার খবর বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া গেছে, যা বাস্তব পরিস্থিতির কেবল আংশিক প্রতিফলন।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপপরিষদে সংরক্ষিত ১৫টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, সংবাদপত্রে প্রকাশিত ঘটনার বাইরেও অসংখ্য নির্যাতনের ঘটনা অপ্রকাশিত থেকে যায়, যেগুলো কখনো আইনের কাছে পৌঁছায় না, আবার কখনো সমাজের ভয়ে চাপা পড়ে থাকে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ১৮৩ জন নারী ও কন্যা বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

এর মধ্যে ৭৩ জন কন্যা ও ১১০ জন নারী। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৩২ জন, যাদের মধ্যে ৪ জন কন্যাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৪ জন কন্যাসহ মোট ৭ জন। এর মধ্যে ২ জন কন্যাসহ ৪ জন যৌন নিপীড়নের শিকার, ২ জন উত্ত্যক্তকরণের এবং ১ জন নারী সাইবার সহিংসতার শিকার হয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ফেব্রুয়ারি মাসে ৩ জন কন্যা ও ১৪ জন নারীসহ ১৭ জনের মৃত্যু রহস্যজনক। আত্মহত্যা করেছেন ৮ জন। এসিডদগ্ধ হয়েছেন ১ জন এবং অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন ১ জন। যৌতুকজনিত সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৫ জন নারী, যার মধ্যে ৩ জনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া পারিবারিক সহিংসতায় শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৩ জন এবং গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন আরও ৩ জন।

অপহরণের শিকার হয়েছেন ১ জন কন্যাসহ ২ জন, আর ২ জন কন্যাকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে। পাচারের শিকার হয়েছেন ২০ জন কন্যাসহ মোট ৪০ জন। শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১ জন কন্যাসহ ১৫ জন। বাল্যবিবাহের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে ২ জনের ক্ষেত্রে। আরও ১ জন কন্যাসহ আরও ৭ জন বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।


সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ কোটি টাকা মানিলন্ডারিং ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রূকমীলা জামানসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার চার্জশিট দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (২ মার্চ) দুদকের প্রধান কার্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ চার্জশিট দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চার্জশিটে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর৪০৬/৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

একই মামলায় অভিযুক্ত অন্যদের মধ্যে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির (ইউসিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও সাইফুজ্জামান চৌধুরীর স্ত্রী রূকমীলা জামান ছাড়াও ব্যাংকটির সাবেক ও বর্তমান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ আরামিট পিএলসির একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী এবং হুন্ডি কার্যক্রমে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি রয়েছেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন, জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং পরবর্তীতে তা বিভিন্ন মাধ্যমে স্থানান্তর ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে। তবে আলোচিত এ মামলার আসামি শরীফ জহিরকে অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।


যুদ্ধের ধাক্কায় ঝুঁকিতে দেশের অর্থনীতি

* মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার-রেমিট্যান্স হুমকিতে * জ্বালানি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাঁচামালের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা * দাম বাড়তে পারে এলএনজির
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

বিশ্ব রাজনীতির এক অস্থিরতম অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য। সেখানকার সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতির গতিপথকে বদলে দিতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশেও। কারণ, অর্থনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে বেশ কিছু ঝুঁকির মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশীদের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার হুমকিতে পড়তে পারে। আবার আমদানিনির্ভর জ্বালানি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাঁচামালের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কাও রয়েছে। এছাড়া দাম বাড়তে পারে এলএনজিরও। সব মিলিয়ে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, এমনিতেই বাংলাদেশের অর্থনীতি এক ভঙ্গুর অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। করোনার ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ধাক্কা লাগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের। বিদেশি ঋণের ফাঁদ আর মূল্যস্ফীতির চাপে অর্থনীতি রয়েছে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে। অর্থনৈতিক এই টানাপোড়েনের মধ্যেই নতুন সরকার ক্ষমতা নেওয়ার শুরুতেই আবার শুরু হলো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ। যুদ্ধের স্থায়িত্ব যত বেশি হবে, তার প্রভাব ততই বাড়তে থাকবে।

এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ও পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ আবু আহমেদ বলেন, ইরানে হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে সবচেয়ে বড় শঙ্কা তৈরি হয়েছে জ্বালানি তেল ঘিরে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় যদি সরবরাহ বিঘ্নিত হয় বা হরমুজ প্রণালি ঝুঁকির মুখে পড়ে, তবে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাবে। বাংলাদেশ যেহেতু শতভাগ আমদানিনির্ভর, তাই এ মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সরাসরি এসে পড়বে দেশের উৎপাদন ও পরিবহন খাতে।

এই অর্থনীতিবিদ বলেন, তেলের দাম বাড়া মানেই সবকিছুর দাম বাড়া। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও অসহনীয় হয়ে উঠবে। মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে। সবচেয়ে বড় ঝুঁকিটি তৈরি হবে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে। আমাদের ব্যালেন্স অব পেমেন্ট এমনিতেই আমাদের বিরুদ্ধে আছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তেলের দাম বাড়লে এ ঘাটতি আরও বিস্তৃত হবে। তেলের উচ্চমূল্যের কারণে ডলারের চাহিদা বাড়বে, ফলে টাকার ওপর চাপ তৈরি হবে। বিনিময় হার আরও অবনতির দিকে যেতে পারে, যা আমদানি ব্যয় ও ঋণ পরিশোধ—দুটোকেই কঠিন করে তুলবে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য এই যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি এবং বহুমুখী হতে পারে। তবে এ সংকটের প্রভাব কতটা গভীর হবে, তা মূলত নির্ভর করবে যুদ্ধের স্থায়িত্ব এবং এর বিস্তৃতির ওপর। যুদ্ধ দ্রুত থেমে গেলে এর প্রভাব হয়তো খুব প্রকট হবে না। কিন্তু এটি দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশ বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে ।

নিট পোশাক শিল্পের মালিকের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম গণমাধ্যমকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ তাদের মিত্রদেশের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের সঙ্গে ব্যাংকিং করা জটিল। তা ছাড়া ইরান থেকে আমাদের দেশে ক্রেতারাও সেভাবে আসেনি। সে কারণে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি তৈরি পোশাক কম যায়।

তার মতে, ইরানের সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্য কম হলেও বর্তমান যুদ্ধে পরোক্ষ ক্ষতি অনেক বেশি। তিনি বলেন, আমরা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধকল এখনো কাটিয়ে উঠতে পারিনি। এরই মধ্যে আবার নতুন যুদ্ধ। হরমুজ খাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাহাজে পণ্য পরিবহনে খরচ বাড়বে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যেসব জাহাজ যায়, সেগুলো হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে। এখন সেই জাহাজ ভারত মহাসাগর ও আটলান্টিক ঘুরে যেতে হবে।

মোহাম্মদ হাতেম আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে আকাশসীমা বন্ধ থাকায় কার্গো বিমানও চলছে না। তাতে জরুরি পণ্য রপ্তানি ব্যাহত হবে। আবার মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও এলএনজি আমদানিও বাধাগ্রস্ত হবে। সব মিলিয়ে আমরা দুশ্চিন্তা রয়েছি। সামনে আরেকটি বড় সংকট দেখতে পারছি আমরা।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, আমরা একটি রপ্তানিনির্ভর দেশ; তাই আমাদের অবশ্যই এই যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে, বিশেষ করে পোশাক রপ্তানিকারকরা। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে ভোক্তাদের সক্ষমতা কমবে, ফলে তারা পোশাকের মতো পণ্যে কম ব্যয় করবেন। দ্বিতীয়ত, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে দেশের বাজারে উৎপাদন খরচ বাড়বে, কারণ বাংলাদেশ জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ। তৃতীয়ত, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পাঠাতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের যদি বিকল্প নৌপথ বেছে নিতে হয়, তাহলে সামগ্রিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

মাহমুদ হাসান খান বলেন, এর আগে বাংলাদেশি পোশাক ব্যবসায়ীরা ভেবেছিলেন ইউক্রেন যুদ্ধ দুই সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হবে, কিন্তু সেই যুদ্ধ এখন চার বছর ধরে চলমান। এখন যদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদি হয়; তাহলে কুয়েত, ইরাক, ইরান, বাহরাইন, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য রপ্তানি বাজার মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।

জনশক্তি রপ্তানিকারকের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মোবারক উল্লাহ শিমুল বলেন, ‘ইরান-ইসরায়েল যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে, সেটা দীর্ঘায়িত হলে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের শ্রমিকরা নিঃস্ব হয়ে দেশে ফিরে আসবেন। দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে ভাটা পড়বে। এ অবস্থায় সরকারের উচিত প্রথমে প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো হটলাইন চালু করে শ্রমিকদের খবর রাখা ও বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া। আর আমাদের শ্রমিকদের যাতে ফেরত আসতে না হয় এবং নতুন করে কীভাবে আরও শ্রমিক পাঠানো যায়, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।’

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক প্রবাসী শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে। এ ছাড়া আকাশপথে ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হতে পারে, যা শ্রমিকদের যাতায়াত ও রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে অত্যন্ত সতর্কতা এবং সাবধানতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে।’

জ্বালানি তেল ও এলএনজি: মধ্যপ্রাচ্যই হলো বাংলাদেশের জ্বলানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রধান উৎস। তাই এই যুদ্ধ চলতে থাকলে দেশের জন্য জ্বালানির দাম ও সরবরাহ অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে। দেশে বর্তমানে বছরে জ্বালানি তেল আমদানি করা হয় কমবেশি ৭০ লাখ টন। যার বেশিরভাগই আনা হয় মধ্যপ্রাচ্য বা এশিয়ার দেশগুলো থেকে। এই যুদ্ধে তেল সরবরাহ নিয়ে চিন্তায় আছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি)। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে পুরো জ্বালানি খাতে নেমে আসবে বিপর্যয়।

বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, আগামী জুন পর্যন্ত পরিশোধিত জ্বালানি তেল নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। আমরা আপাতত সেফ সাইডে রয়েছি। পরিশোধিত জ্বালানি তেল মালয়েশিয়া, চীন, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আসছে। এসব দেশ থেকে জ্বালানি আমদানিতে হরমুজ প্রণালির কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে অপরিশোধিত তেলের দীর্ঘমেয়াদি উৎস সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত হওয়ায় বিষয়টি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। এটুকু বলা যায় যে, এ মুহূর্তে আমাদের জ্বালানি তেলের রিজার্ভে কোনো সংকট নেই।

বাংলাদেশ কনটেইনার শিপিং অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান হারুন-উর-রশিদ বলেন, বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় সবসময় ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার শিকার হয়। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ বাংলাদেশের পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। এ ছাড়া এরই মধ্যে ইয়েমেনের হুতিদের হামলার কারণে লোহিত সাগর দিয়ে পণ্য পরিবহন কমিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। রাশিয়া ও চীন এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।


কোন কোন আসনে গণভোটের হিসাব ভুল হয়েছিল, জানাল ইসি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গণভোটের প্রথম ফলাফলে ভুল থাকায় সম্প্রতি গণভোটের ফলাফল সংশোধন করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে প্রায় ১১ লাখের মতো ভোট কমে যায়।

বিষয়টিকে নির্বাচন কমিশন এর আগে ভুল হিসেবে ব্যাখ্যা দিয়েছে। এবার কোন কোন আসনে গণভোটের ফলাফলের হিসাব ভুলে হয়েছিল, তা জানিয়েছে সংস্থাটি।

ইসি জানায়, নেত্রকোনা-৩, ৪ ও ৫ আসনে ফলাফল প্রস্তুত করার সময় এক্সেল শিটে ভুল ইনপুটের কারণে গণভোটের ফলাফল বেড়ে যায়। এজন্য পরবর্তীতে তা সংশোধন করা হয়।

এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, নেত্রকোনা-৩ আসনে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫ ভোটের পরিবর্তে ভুল করে ৫ লাখ ২ দুই হাজার ৪৩৮টি ‘হ্যাঁ’ পড়েছে বলে এন্ট্রি করা হয়। আবার ৬০ হাজার ৭৮৭টি ভোটের পরিবর্তে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫ টি ‘না’ ভোট পড়েছে বলে এন্ট্রি করা হয়।

নেত্রকোনা-৪ আসনে ৮২ হাজার ১২৫টির পরিবর্তে ৪ লাখ ২০ হাজার ৬৮৬টি ‘হ্যা’ ভোট পড়েছে বলে এন্ট্রি করা হয়। আবার ১ লাখ ২ হাজার ১১৩ টির পরিবর্তে ৮২ হাজার ১২৫টি ‘না’ ভোট পড়েছে বলে এন্ট্রি করা হয়।

অন্যদিকে নেত্রকোনা-৫ আসনে ১ লাখ ৬৭১টির পরিবর্তে ভুল করে বার্তাশিটের এক্সেলে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৩০৮টি ‘হ্যা’ ভোট পড়েছে এন্ট্রি করা হয়। আবার ৪৪ হাজার ৫৭৩ টির পরিবর্তে ১ লাখ ৬৭১টি ‘না’ ভোট পড়েছে বলে তুলে ধরা হয়।

‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ এবং সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের সম্মতি যাচাইয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ওই ভোটের ফলাফল যা গত ১৩ ফেব্রুয়ারি গেজেটে প্রকাশিত হয়েছিল।

প্রথম গেজেটের হিসেব অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০টি এবং ‘না’ ভোটের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬টি। ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ ভোট মিলে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩টি। এর মধ্যে বাতিল হয়েছিল ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭টি। বাতিল ভোট বাদ দিয়ে মোট বৈধ ভোটার সংখ্যা দাঁড়ায় ৭ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৬টি।

সংশোধিত গেজেটের হিসেব অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০টি এবং ‘না’; ভোটের সংখ্যা দাঁড়াবে ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১টি। ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ ভোট মিলে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ৪০৭টি। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৬টি। বাতিল ভোট বাদ দিয়ে মোট বৈধ ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ২১১টি।

আগের তুলনায় ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮০টি ‘হ্যাঁ’ ভোট কমেছে। অন্যদিকে ‘না’ ভোটের সংখ্যা কমেছে ১ লাখ ১১ হাজার ৪৯৫টি। বাতিলকৃত ভোটের সংখ্যা আগের চেয়ে ১২ হাজার ৫৫৯টি বেড়েছে। সার্বিকভাবে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬টি কমেছে।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ এ বিষয়ে বলেছেন, ‘তখন করণিক ভুল ছিল, ট্রান্সপজিশনের ছিল। যার কারণে এই ভুল হয়েছে। করণিক ভুলতো হতেই পারে। যেহেতু হাতে করা হয়। যেগুলো এদিক-ওদিক হয়েছে সেগুলো কারেকশন করে পরবর্তীতে যেগুলো মাঠ থেকে দিয়েছে সে অনুযায়ী এগুলো ঠিক করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘মূল যে প্রতিপাদ্য, ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’; তাতে ‘হ্যাঁ’-এর সংখ্যা বেশি। সেটাতে কোনো বিচ্যুতি হয়নি।


রাজধানীতে নারীদের জন্য বাস সার্ভিস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেটেড ৩ মার্চ, ২০২৬ ০০:৩৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলামকে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশ দিয়েছেন।

এ তথ্য জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী। এসময় তারেক রহমান সড়ক পরিবহনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে রবিউল ইসলামের কাছ থেকে তথ্য নেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিয়েছেন।

আতিকুর রহমান রুমন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাজধানীতে নারী বাস সার্ভিস চালুর জন্য মন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, তিনি (তারেক রহমান) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রীকে শেরেবাংলা নগরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলের সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ ঈদের আগে শেষ করারও নির্দেশনা দিয়েছেন।


প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার হলেন মাহফুজুর রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্পিচ রাইটার এবং তিন উপ-প্রেসসচিব নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সোমবার (২ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপনে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার করা হয়েছে বার্তা সংস্থা ইউএনবির সম্পাদক এস এ এম মাহফুজুর রহমানকে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এস এ এম মাহফুজুর রহমানকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের সাথে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার (গ্রেড-১) পদে যোগদানের তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল বা তার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে (যেটি আগে ঘটে) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হলো।

এদিকে সাংবাদিক মোস্তফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু), মো. জাহিদুল ইসলাম ও মো. সুজাউদ্দৌলাকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেসসচিব পদে গ্রেড-৪ বেতন স্কেলের সর্বশেষ ধাপের বেতনে যোগদানের তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল বা তার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে (যেটি আগে ঘটে) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।


banner close