বরাবরের মতো এবারও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে ট্রেন। যাত্রীসেবা, অনলাইন টিকিট, নিরাপত্তা ও সময় বাঁচানোসহ নানা দিক বিবেচনায় রেলপথকে বেছে নিচ্ছে যাত্রীরা। ঈদযাত্রা উপলক্ষে অগ্রিম টিকিট কাটতে অনলাইনে ব্যাপক সক্রিয় হয়েছেন তারা। ৩৫ হাজার ৯১৩টি টিকিটের জন্য ১৭ মার্চ রেলওয়ে অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে ভিজিটর হিট করেছে প্রায় আড়াইকোটি বার। এখন পর্যন্ত কোন টিকিট অবিক্রিত নেই।
এবারের ঈদযাত্রাকে নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও উৎসবমুখর করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ঢাকার প্রধান দু’টি রেলওয়ে স্টেশন, গাজীপুরের জয়দেবপুর স্টেশনে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের সকল আন্তঃনগর স্টেশনে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, এবারের ঈদযাত্রায় রেলওয়ে স্টেশনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী, পুলিশ, র্যাব, এপিবিএন, আনসার ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় থাকবেন। পাশাপাশি সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরায় মনিটরিং করা হবে। এছাড়া, যাত্রীদের জন্য কমলাপুর ও ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে মেডিকেল টিম থাকবে।
টিকিট কালোবাজারি, ছাদে ও বিনা টিকিটে ভ্রমণের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার কথা জানান রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী। বেসরকারি ট্রেনের মালিকরা যেন অতিরিক্ত টিকিট বিক্রি করতে না পারে সে বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। কেউ লোকাল ট্রেনের টিকিট কেটে প্লাটফর্মে ঢুকে অন্য ট্রেনে যেন উঠতে না পারে সে সুযোগও বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
এদিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদযাত্রার বিশেষ দিনের আগেই কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে আসছেন অনেক ঘরমুখো মানুষ। যারা চাকরি করছেন তাদের অনেকের পরিবারকে আগে বাড়ি পাঠিয়ে দিতে দেখা গেছে। তারা স্টেশনের গেটগুলোতে সারিবদ্ধভাবে প্লাটর্ফমে প্রবেশ করছেন। কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি। বাহির পথেও যাত্রীরা নিরাপদে বের হচ্ছেন। টিকিটবিহীন যাত্রীদের জরিমানা করতে দেখা গেছে।
রেলওয়ে বিভাগ থেকে জানা গেছে, এবারের ঈদযাত্রায় রেলসেবাকে স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে টিকিট কাটার ক্ষেত্রে পরিবর্তন এনেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দু’টি রেলওয়ে অঞ্চলের জন্য আলাদা আলাদা সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের জন্য সকাল ৮টায় ও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জন্য দুপুর ২টায় টিকেট বিক্রি শুরু হয়। এই দু’সময়ে রেলওয়ে ওয়েবসাইট ও অ্যাপে ব্যাপক ট্রাফিক হয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে ও অনলাইনে টিকিট বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান সহজ.কম। তবে এবার ব্যাপক ট্রাফিকেও সার্ভার ডাউনের কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।
ট্রেনের টিকিট বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান সহজ ডট কমের সিইও বাসসকে জানান, এবারের অনলাইন সেবা অনেক আরামদায়ক হয়েছে। টিকিট কাটতে কোন ধরনের সার্ভার জটিলতায় পড়তে হয়নি। এক সেকেন্ডের জন্যও সার্ভার বন্ধ হয়নি। একসাথে কতজন টিকিট কাটার চেষ্টা করছে তা গ্রাহক দেখতে পাচ্ছেন। এছাড়া গ্রাহকের নির্দিষ্ট স্টেশনে টিকিট শেষ হয়ে গেলে তাকে আগে ও পরের স্টেশনের সাজেসন দেওয়া হয়। যা যাত্রীদের জন্য অনেক আরামদায়ক হয়েছে।
এবারের ঈদযাত্রায় ১৪ মার্চ থেকে অনলাইনে অগ্রিম টিকিট বিক্রি করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জন্য দুপুর দুটায় ও পশ্চিমাঞ্চলের জন্য সকাল আটটায় দশদিন পরের টিকেট বিক্রি করা হয়। এবারের ঈদে সারাদেশে চলাচলকারী ১২০টি আন্তঃনগর ট্রেনের বাইরেও পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন চলবে। এছাড়া লোকাল, কমিউটার ও মেইল ট্রেনগুলো তাদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে চলাচল করবে।
রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ঢাকা বিভাগীয় কমান্ড্যান্ট মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বাসসকে বলেন, ‘এবারের ঈদযাত্রায় রেলওয়ে স্টেশনে নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য বর্তমান ৪৯০ জন রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর বাইরে অতিরিক্ত ২০০জন আনসার সদস্য যুক্ত হবেন। বিনা টিকিটে ভ্রমণ বন্ধ করতে আমরা যথেষ্ট ভূমিকা পালন করবো। ইতোমধ্যে আমরা প্রবেশ ও বাহিরের জন্য আলাদা গেইট তৈরি করেছি। এতে করে বিনা টিকিটে কেউই ভিতরে প্রবেশ করতে পারবে না। আর প্রবেশ ঠেকানো গেলে বগিতে অতিরিক্ত যাত্রী ও ছাদে ভ্রমণ বন্ধ করতে সক্ষম হবো।
কমলাপুর স্টেশনে তিন স্তরের নিরাপত্তা দেবে রেলওয়ে পুলিশ। এ বিষয়ে রেলওয়ে ঢাকা পুলিশের পলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বাসকে বলেন, ‘কমলাপুর থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াতকারী যাত্রীদের আমরা তিন স্তরের নিরাপত্তা দেবো। স্টেশনের প্রবেশপথে আমাদের পোশাকধারী পুলিশ, ডিবি, এপিবিএনের সদস্যরা থাকবেন।
সাথে সাদা পোশাকে আমাদের সদস্যরা থাকবেন, সার্বক্ষণিক সিসিটিভি মনিটরিং করা হবে। একই সেবা ঢাকা বিমানবন্দর ও জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশনেও থাকবে।’
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার শাহাদাৎ হোসেন বাসসকে বলেন, ‘ঈদকে কেন্দ্র করে স্টেশনে ইতোমধ্যে যাত্রীর আনাগোনা বেড়েছে। টিকিট করে প্লাটফর্মে ঢোকানো ও বের করা হচ্ছে। এবারের ঈদ যাত্রায় প্রত্যেক রুটে ট্রেনগুলো শিডিউল মেনে চলবে। সবমিলিয়ে ঈদযাত্রাকে স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলতে রেলওয়ে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।’
বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বাসসকে বলেন, ‘এবারের ঈদযাত্রাকে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে কাজ করছে। নিরাপদ ভ্রমণকে অনিরাপদ করে তোলে ছাদে ওঠা যাত্রীরা। এবার যেন ছাদে ও বিনা টিকিটে কেউ ভ্রমণ করতে না পারে সেক্ষেত্রে আমরা কঠোর হবো। বিশেষ করে কমলাপুর, বিমানবন্দর, জয়দেবপুর স্টেশনে আমাদের নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা সেটি বাস্তবায়ন করবেন।’
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নৌপথে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হলে নৌযানের রুট পারমিট ও লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
তিনি জানান, ঈদে লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বা মালামাল বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। লঞ্চের ছাদে যাত্রী ওঠানো যাবে না বলেও স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ঈদ উপলক্ষে নৌপথে যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। ঢাকার জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়ক ১৫ রমজান থেকে ঈদের পর তৃতীয় দিন পর্যন্ত যানজটমুক্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সদরঘাট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ট্রাফিক পুলিশ, নৌ পুলিশ, আনসার ও কমিউনিটি পুলিশ সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) অনুমোদিত ভাড়ার তালিকা সব নদীবন্দর, টার্মিনাল ও নৌযানে দৃশ্যমান রাখতে বলা হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে রুট পারমিট ও লাইসেন্স বাতিলসহ মালিক ও চালকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ জন্য ঘাটগুলোতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হবে।
১৬ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত বালুবাহী বাল্কহেড ও ডিঙ্গি নৌকা চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। রাতের বেলায় স্পিডবোট চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং দিনের বেলায় স্পিডবোটে যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট পরিধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ১৭ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় ও দ্রুত পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক ছাড়া সাধারণ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ফেরিতে পারাপার বন্ধ থাকবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ফিটনেসবিহীন নৌযান ও ফেরি চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ করতে হবে এবং সিরিয়াল ভঙ্গ বা অনিয়মের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নদীর মাঝপথ থেকে যাত্রী ওঠানো বন্ধে নজরদারি বাড়ানো হবে। নৌপথে ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও যাত্রী হয়রানি প্রতিরোধে বিশেষ করে রাতে টহল জোরদার করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান এবং সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ উপস্থিত ছিলেন।
কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেছেন, সঠিক পরিকল্পনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও মাঠপর্যায়ের কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে অ্যাগ্রো-প্রোডাক্টকে দেশের প্রধান রফতানি পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। নবীন কর্মকর্তারা মাঠমুখী হয়ে কাজ করলে কৃষির সম্ভাবনা অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ নিতে পারে এবং খাদ্যনিরাপত্তা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে রাজধানীর মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট-এ ৪৪তম বিসিএস (প্রাণিসম্পদ) নবনিযুক্ত ক্যাডার কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে পাঁচ দিনব্যাপী অবহিতকরণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বহু দেশ সীমিত কৃষি মৌসুম থাকা সত্ত্বেও কৃষিকে অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলেছে। বাংলাদেশের অনুকূল জলবায়ু ও উর্বর মাটির কারণে সারা বছর ফসল উৎপাদনের সুযোগ থাকলেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের জন্য আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
গরুর গোবরের যথাযথ ব্যবহার ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমবে, পরিবেশ দূষণ হ্রাস পাবে এবং মাটির উর্বরতা সংরক্ষিত থাকবে। আমদানিনির্ভর রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব উপকরণ ব্যবহারে মাটি ও পরিবেশ দুটিই সুরক্ষিত থাকবে।
নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, সততা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করতে হবে। প্রাকৃতিক ও কৃষি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ পাবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। গবাদিপশু পালনকারীদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, সহজ ঋণ ও বীমা সুবিধা প্রদান এবং বাজারজাতকরণে সহায়তার জন্য ফার্মার্স কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ক্ষুদ্র খামারি ও উদ্যোক্তাদের সহায়তা দিয়ে প্রাণিসম্পদ খাতের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের। সভাপতিত্ব করেন ড. মো. আবু সুফিয়ান। স্বাগত বক্তব্য দেন ড. মো. বয়জার রহমান। এছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবে নতুন কেউ যোগদান না করা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত আইজি) মো. সরওয়ার।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) অ্যাডিশনাল ডিআইজি (পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট-১) শামিমা ইয়াছমিন খন্দকার স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে ‘ব্যক্তিগত ও পারিবারিক’ কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তার চুক্তির মেয়াদ আগামী নভেম্বর পর্যন্ত ছিল।
বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৯৮৪ ব্যাচের কর্মকর্তা শেখ মো. সাজ্জাত আলী পূর্বে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি থাকা অবস্থায় ২০১৬ সালের নভেম্বরে চাকরিচ্যুত হন। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তাকে ভূতাপেক্ষভাবে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয়। পরে ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর তিনি ডিএমপির ৩৮তম কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫–এ মনোনীত হওয়ার পরও পুরস্কার পাননি কবি মোহন রায়হান। বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানান তিনি।
এদিন দুপুরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
গত সোমবার বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ ঘোষণা করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কবিতা বিভাগে মোহন রায়হানের মনোনীত হওয়ার তথ্য জানানো হয়েছিল।
এ বিষয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মোহন রায়হানের বিরুদ্ধে বেশকিছু অভিযোগ আছে। এসব বিষয় খতিয়ে দেখে আবার পুরস্কার ঘোষণা করা হবে। আগের সরকারের সময় বাংলা একাডেমি তাকে এ পুরস্করের জন্য মনোনয়ন দিয়েছিল। এখন আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবো। তারপর সিদ্ধান্ত হবে।’
কী ধরনের অভিযোগ, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটা নিয়ে এখন কথা বলা যাবে না। বিষয়টি যেহেতু খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তাই এ বিষয়ে বলা যাবে না।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, ‘মোহন রায়হানের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে। তাই তাকে আপাতত পুরস্কার দেওয়া হয়নি। আমরা অভিযোগগুলো যাচাই করে দেখছি। সেগুলো বিবেচনার পর নিশ্চয়ই সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। একটু অপেক্ষা করতে হবে।’
ফেসবুক পোস্টে মোহন রায়হান লেখেন, ‘আপনারা অবগত আছেন এবার ২০২৫ বাংলা একাডেমির সাহিত্য পুরস্কার (কবিতায়) আমাকে প্রদান করা হয়েছিল। এই পুরস্কার আমার একদমই প্রত্যাশা ছিল না। আমি একজনের কাছেও পুরস্কারের জন্য তদবির করিনি। পুরস্কার কমিটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাকে নির্বাচিত করে।’
৪১ বছর আগে লেখা একটি কবিতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ডেকে এসএসএফ পুরস্কার গ্রহণের রিহার্সালও প্রদান করে। যথারীতি আজ পুরস্কার গ্রহণের জন্য এসে জানতে পারলাম, ৪১ বছর আগে কর্নেল তাহেরকে নিয়ে লেখা আমার ‘তাহেরের স্বপ্ন’ কবিতার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিয়ে একটি মহল আমার পুরস্কার বাতিল করিয়েছে।’
পুরস্কার ঘোষণা করে না দেওয়ার বিষয়টি অসম্মান কি না, জানতে চাইলে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মনোনয়ন আমরা দিই না। এটা বাংলা একাডেমি দেয়। আমরা এখন শুধু অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখছি। এটা সাময়িক সমস্যা। দু-এক দিনের মধ্যেই পুরস্কার ঘোষণা করা হতে পারে।’
বর্তমানে জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি মোহন রায়হানকে পুরস্কার না দেওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম বলেন, ‘মোহন রায়হানের কবিতা ও লেখালেখি সম্পর্কে কিছু অভিযোগ ওঠায় কর্তৃপক্ষ সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখার স্বার্থে সাময়িকভাবে পুরস্কার স্থগিত করেছে। এটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়ে গেলে আমরা অবিলম্বে এটা জানাবো।’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত না হলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা জানান।
সচিব বলেন, যারা সময়মতো অফিসে আসবেন না, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সময়নিষ্ঠার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন সকাল ৯টার আগেই অফিসে পৌঁছান। জনদুর্ভোগ কমাতে এবং যানজট এড়াতে অনেক সময় তিনি প্রটোকল ছাড়াই খুব ভোরে সচিবালয়ে আসেন। এতে কর্মকর্তাদের মধ্যে সময় সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হয়েছে এবং ইতিবাচক চাপও তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত অফিস করা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে নাসিমুল গনি বলেন, সেখানে প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব অফিস রয়েছে। তিনি চাইলে যে কোনো দিন সেখানে অফিস করতে পারেন, এটি পুরোপুরি তার সিদ্ধান্ত।
প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সময় ও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন হওয়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সময় হলে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি তিনি জানান, এখন থেকে মন্ত্রিসভার বৈঠক প্রতি বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে কীভাবে লাভবান করা যায়, সে চেষ্টা করছে সরকার। জনগণের ওপর ঋণের বোঝা চাপিয়ে রাখা ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, তিনি একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব নিয়েছেন। তার ভাষায়, রাতারাতি সব ঠিক করা সম্ভব নয়। জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সময় লাগবে।
সাবেক সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখার আড়ালে জনগণের ওপর বড় অঙ্কের ঋণের দায় রেখে যাওয়া হয়েছে। “হয়তো বলবেন, আমার সময় ব্ল্যাকআউট ছিল, এখন আলো জ্বলছে। কিন্তু এই আলোর পেছনে জনগণের ওপর ঋণের পাহাড় রেখে যাওয়া হয়েছে,” বলেন তিনি। ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেন, কষ্ট করে থাকা ভালো, কিন্তু ঋণের বোঝা টেনে নেওয়া ঠিক নয়।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে টুকু দাবি করেন, একাধিক তদন্ত বা কমিশন হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি অভিযোগ করেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার চরিত্র হনন করা হয়েছে এবং ভুল প্রতিবেদনের কারণে তার পরিবার ভোগান্তিতে পড়েছে।
জ্বালানি খাতের আর্থিক সংকট নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে বড় অঙ্কের ঋণের দায় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি। সরকারের লক্ষ্য, এমন একটি কাঠামো গড়ে তোলা যাতে রাষ্ট্র ঋণের ঝুঁকি কমায় এবং সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হয়।
তিনি আরও জানান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে জ্বালানি খাতের প্রতিটি স্তরে সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হবে।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সংবিধান সংস্কার উদ্যোগের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফলে বড় ধরনের সংশোধন এনেছে নির্বাচন কমিশন। পূর্বে ঘোষিত ফলের তুলনায় প্রায় ১১ লাখ ভোট কমিয়ে নতুন সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত অতিরিক্ত গেজেটে এ তথ্য জানানো হয়।
সংশোধিত গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় ঘোষিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এর বিষয়ে জনসম্মতি যাচাই করতে ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ১৩ ফেব্রুয়ারি ফলাফল গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছিল।
প্রথম ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ’ ভোট ছিল ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০ এবং ‘না’ ভোট ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬। মোট প্রদত্ত ভোট দাঁড়িয়েছিল ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩। এর মধ্যে বাতিল ভোট ছিল ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭। বাতিল ভোট বাদে বৈধ ভোটের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৬।
সংশোধিত গেজেটে দেখা যায়, ‘হ্যাঁ’ ভোট কমে হয়েছে ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০ এবং ‘না’ ভোট হয়েছে ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১। ফলে মোট প্রদত্ত ভোট কমে দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ৪০৭। বাতিল ভোট বেড়ে হয়েছে ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৬। বৈধ ভোট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ২১১।
তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ‘হ্যাঁ’ ভোট কমেছে ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮০ এবং ‘না’ ভোট কমেছে ১ লাখ ১১ হাজার ৪৯৫। মোট প্রদত্ত ভোট কমেছে ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬টি। একই সময়ে বাতিল ভোট বেড়েছে ১২ হাজার ৫৫৯টি।
সংশোধনের সুনির্দিষ্ট কারণ গেজেটে উল্লেখ করা হয়নি। নির্বাচন কমিশনের আদেশক্রমে সংশোধিত ফল প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
গণভোটের মাধ্যমেই ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর সাংবিধানিক বৈধতা ও জনসমর্থন চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, গত ১৭ বছরে দেশ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ সম্পদ পাচার হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে সামাজিক আন্দোলনের মতো সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবার নিজ জেলা সিরাজগঞ্জে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ খাতে বাজেট বৃদ্ধিসহ তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে শীঘ্রই এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি তাদের প্রশিক্ষণ, কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, ওষুধ ও যন্ত্রপাতির সরবরাহ বাড়ানোসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে।
হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোথাও অবৈধ স্থাপনা বা দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের মতো সমস্যা রয়েছে। এসব সমাধানে শুধু কেন্দ্রীয় নির্দেশনা যথেষ্ট নয়, স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
এর আগে সকালে সিরাজগঞ্জ সার্কিট হাউসে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। পরে দুপুর ১২টায় জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।
আগামী ২ মার্চ অষ্টম ‘জাতীয় ভোটার দিবস’ উদযাপন উপলক্ষে নির্ধারিত কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ের সব কর্মসূচি স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ইসি সচিবালয়ের উপসচিব মো. রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, অষ্টম ‘জাতীয় ভোটার দিবস’ উদযাপনের সব কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি-এর সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে পরিচালনা পর্ষদ অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান, সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী এবং পরিচালকবৃন্দ শাহ রাঈদ চৌধুরী, ফয়সাল সামাদ, মোহাম্মদ আবদুস সালাম, নাফিস-উদ-দৌলা, মজুমদার আরিফুর রহমান ও ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী।
শুরুতে বিজিএমইএ সভাপতি ফুল দিয়ে মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান এবং বোর্ড ও পোশাক শিল্প পরিবারের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান।
সাক্ষাৎকালে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, অর্থমন্ত্রী নিজেও একজন অভিজ্ঞ ও সফল ব্যবসায়ী হওয়ায় ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো তিনি ভালোভাবে অনুধাবন করতে পারেন। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পোশাক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি এবং তা থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে প্রধানত নিম্নলিখিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়-
বকেয়া নগদ প্রণোদনা দ্রুত ছাড় ও পদ্ধতি সহজ করা: বিজিএমইএ সভাপতি মন্ত্রীকে অবহিত করেন যে, বর্তমানে অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের নগদ সহায়তার আবেদন লিয়েন ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিট প্রক্রিয়ার জটিলতায় আটকে আছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বস্ত্র ও পোশাক খাতে এখনো প্রায় ৫৭০০ কোটি টাকার প্রণোদনা অনিষ্পন্ন থাকায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তীব্র অর্থ সংকটে রয়েছে, যা রপ্তানি সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
বিজিএমইএ নেতারা বকেয়া নগদ সহায়তার অর্থ দ্রুত ছাড় করা, একইসঙ্গে এই প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজ ও গতিশীল করা এবং কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে (বর্তমানে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে অর্থ ছাড়ের বিধান রয়েছে) আবেদন জমার সঙ্গে সঙ্গেই যেন অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়, সে ব্যাপারে মন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।
অর্থমন্ত্রী এই দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করে বকেয়া অর্থ দ্রুত ছাড় করার বিষয়ে ইতিবাচক সম্মতি জানান এবং পুরো প্রক্রিয়াটিকে আধুনিক ও সহজতর করার আশ্বাস দেন।
পুনঃতফসিলীকরণ ও ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল: বৈঠকে বিজিএমইএ এর সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী টেকনিক্যাল বিষয় তুলে ধরেন।
তিনি জানান, তফসিলি ব্যাংকগুলো এনপিএল পারফরম্যান্স ঠিক রাখতে গিয়ে অনেক সময় ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ করলেও সংশ্লিষ্ট কারখানাকে প্রয়োজনীয় ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দেয় না।
ফলে কারখানা সচল হতে পারে না এবং ঋণ পরিশোধও বাধাগ্রস্ত হয়। তিনি একে একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতিতে রূপান্তরের প্রস্তাব দিয়ে বলেন, পুনঃতফসিলের পাশাপাশি ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল পেলে কারখানা সচল হবে এবং ব্যাংকও তার পাওনা ফেরত পাবে। অর্থমন্ত্রী এই প্রস্তাবটির সঙ্গে একমত পোষণ করেন।
ব্যবসা সহজ করা ও ব্যবসা পরিচালনা ব্যয় হ্রাস: বৈঠকে বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ দ্ব্যর্থহীনভাবে উল্লেখ করেন যে, বিশ্ববাজারের তীব্র প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান সুসংহত করতে ব্যবসা সহজ করা এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি। তারা কাস্টমস, বন্দর এবং অন্যান্য প্রশাসনিক স্তরে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করে একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ নীতি সহায়তার অনুরোধ জানান।
অর্থমন্ত্রী ব্যবসা সহজ করার পথে বিদ্যমান সুনির্দিষ্ট বাধাগুলো চিহ্নিত করে এবং সেগুলো সমাধানের কার্যকর উপায় সংবলিত একটি পূর্ণাঙ্গ সুপারিশমালা বা তালিকা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জমা দেয়ার জন্য বিজিএমইএ নেতাদের নির্দেশ দেন। বিজিএমইএ সভাপতি মন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন যে, শিল্পের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক একটি বাস্তবধর্মী ও সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তারা সরকারের কাছে পেশ করবেন।
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী পোশাক শিল্পকে দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে এই খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধিতে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক নীতি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
পুলিশ সার্জেন্টের ১৮০টি শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পাশাপাশি শিগগিরই ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের দাবি অনুযায়ী পোশাক পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে পরে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
তিনি আরও জানান, সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আইন-শৃঙ্খলা কমিটি পুনর্গঠনের জন্য ইতোমধ্যে পত্র জারি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পরিচালক) ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুলিশ সার্জেন্টের ১৮০টি শূন্য পদে প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে।
নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ১২ লাখ কৃষকের মোট দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকবে না।
সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে যেসব কৃষক ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিয়েছেন, সুদ-আসল মিলিয়ে সেই পুরো অর্থই মওকুফ করা হবে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ সুবিধার আওতায় মোট প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের ক্ষেত্রে যত সুদই হোক, সুদ-আসলসহ সম্পূর্ণ অর্থ মওকুফ করা হবে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর উদ্দেশ্য দরিদ্র কৃষকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং কৃষি খাতকে শক্তিশালী করা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংক এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে কৃষকদের পাওনা সুদসহ প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা, যা এই মওকুফের আওতায় পড়বে। এতে আনুমানিক ১২ লাখ কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা ঋণের চাপ থেকে মুক্ত হয়ে উৎপাদন কাজে মনোযোগ দিতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ঋণের বোঝা কমে গেলে কৃষকেরা নতুন মৌসুমে আরও উৎসাহ নিয়ে চাষাবাদ শুরু করতে পারবেন। একই সঙ্গে তাঁদের ঋণমান উন্নত হবে, ফলে ব্যাংক থেকে ভবিষ্যতে স্বল্প সুদে ঋণ পাওয়ার সুযোগ বাড়বে এবং উচ্চ সুদের মহাজনী ঋণের ওপর নির্ভরতা কমবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ মেয়াদে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ-আসল মওকুফ করা হয়েছিল, যা কৃষকদের আর্থিক চাপ কমিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকে বুধবার ঘটে যাওয়া মবের ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বৃহস্পতিবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নতুন গভর্নর বাংলাদেশ ব্যাংকে সুশাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। যেসব কর্মকর্তা মব কালচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত, এইচআর নীতিমালা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এর আগে বেলা পৌনে ১১টার দিকে নতুন গভর্নর দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পরে শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত তুলে ধরতেই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
মুখপাত্র জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর গভর্নর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বন্ধ কলকারখানা পুনরায় সচল করতে সক্রিয় সহায়তার কথা বলেছেন। অর্থনীতিকে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানমুখী ধারায় নিতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, বুধবার গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের উপদেষ্টা আহসান উল্লাহকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা ‘মব’ তৈরি করে বের করে দেন। তাকে গাড়িতে তোলার ঘটনায় নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম। দুপুর ৩টার দিকে গভর্নরের সামনেই এ ঘটনা ঘটে।
এদিন বিকেলে আরও একটি ঘটনায় পাঁচ কর্মকর্তার বদলি আদেশে ডেপুটি গভর্নর কবির আহমেদের কাছ থেকে জোরপূর্বক সই নেওয়ার অভিযোগ ওঠে কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।