বরাবরের মতো এবারও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে ট্রেন। যাত্রীসেবা, অনলাইন টিকিট, নিরাপত্তা ও সময় বাঁচানোসহ নানা দিক বিবেচনায় রেলপথকে বেছে নিচ্ছে যাত্রীরা। ঈদযাত্রা উপলক্ষে অগ্রিম টিকিট কাটতে অনলাইনে ব্যাপক সক্রিয় হয়েছেন তারা। ৩৫ হাজার ৯১৩টি টিকিটের জন্য ১৭ মার্চ রেলওয়ে অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে ভিজিটর হিট করেছে প্রায় আড়াইকোটি বার। এখন পর্যন্ত কোন টিকিট অবিক্রিত নেই।
এবারের ঈদযাত্রাকে নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও উৎসবমুখর করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ঢাকার প্রধান দু’টি রেলওয়ে স্টেশন, গাজীপুরের জয়দেবপুর স্টেশনে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের সকল আন্তঃনগর স্টেশনে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, এবারের ঈদযাত্রায় রেলওয়ে স্টেশনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী, পুলিশ, র্যাব, এপিবিএন, আনসার ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় থাকবেন। পাশাপাশি সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরায় মনিটরিং করা হবে। এছাড়া, যাত্রীদের জন্য কমলাপুর ও ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে মেডিকেল টিম থাকবে।
টিকিট কালোবাজারি, ছাদে ও বিনা টিকিটে ভ্রমণের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার কথা জানান রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী। বেসরকারি ট্রেনের মালিকরা যেন অতিরিক্ত টিকিট বিক্রি করতে না পারে সে বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। কেউ লোকাল ট্রেনের টিকিট কেটে প্লাটফর্মে ঢুকে অন্য ট্রেনে যেন উঠতে না পারে সে সুযোগও বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
এদিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদযাত্রার বিশেষ দিনের আগেই কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে আসছেন অনেক ঘরমুখো মানুষ। যারা চাকরি করছেন তাদের অনেকের পরিবারকে আগে বাড়ি পাঠিয়ে দিতে দেখা গেছে। তারা স্টেশনের গেটগুলোতে সারিবদ্ধভাবে প্লাটর্ফমে প্রবেশ করছেন। কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি। বাহির পথেও যাত্রীরা নিরাপদে বের হচ্ছেন। টিকিটবিহীন যাত্রীদের জরিমানা করতে দেখা গেছে।
রেলওয়ে বিভাগ থেকে জানা গেছে, এবারের ঈদযাত্রায় রেলসেবাকে স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে টিকিট কাটার ক্ষেত্রে পরিবর্তন এনেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দু’টি রেলওয়ে অঞ্চলের জন্য আলাদা আলাদা সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের জন্য সকাল ৮টায় ও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জন্য দুপুর ২টায় টিকেট বিক্রি শুরু হয়। এই দু’সময়ে রেলওয়ে ওয়েবসাইট ও অ্যাপে ব্যাপক ট্রাফিক হয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে ও অনলাইনে টিকিট বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান সহজ.কম। তবে এবার ব্যাপক ট্রাফিকেও সার্ভার ডাউনের কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।
ট্রেনের টিকিট বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান সহজ ডট কমের সিইও বাসসকে জানান, এবারের অনলাইন সেবা অনেক আরামদায়ক হয়েছে। টিকিট কাটতে কোন ধরনের সার্ভার জটিলতায় পড়তে হয়নি। এক সেকেন্ডের জন্যও সার্ভার বন্ধ হয়নি। একসাথে কতজন টিকিট কাটার চেষ্টা করছে তা গ্রাহক দেখতে পাচ্ছেন। এছাড়া গ্রাহকের নির্দিষ্ট স্টেশনে টিকিট শেষ হয়ে গেলে তাকে আগে ও পরের স্টেশনের সাজেসন দেওয়া হয়। যা যাত্রীদের জন্য অনেক আরামদায়ক হয়েছে।
এবারের ঈদযাত্রায় ১৪ মার্চ থেকে অনলাইনে অগ্রিম টিকিট বিক্রি করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জন্য দুপুর দুটায় ও পশ্চিমাঞ্চলের জন্য সকাল আটটায় দশদিন পরের টিকেট বিক্রি করা হয়। এবারের ঈদে সারাদেশে চলাচলকারী ১২০টি আন্তঃনগর ট্রেনের বাইরেও পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন চলবে। এছাড়া লোকাল, কমিউটার ও মেইল ট্রেনগুলো তাদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে চলাচল করবে।
রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ঢাকা বিভাগীয় কমান্ড্যান্ট মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বাসসকে বলেন, ‘এবারের ঈদযাত্রায় রেলওয়ে স্টেশনে নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য বর্তমান ৪৯০ জন রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর বাইরে অতিরিক্ত ২০০জন আনসার সদস্য যুক্ত হবেন। বিনা টিকিটে ভ্রমণ বন্ধ করতে আমরা যথেষ্ট ভূমিকা পালন করবো। ইতোমধ্যে আমরা প্রবেশ ও বাহিরের জন্য আলাদা গেইট তৈরি করেছি। এতে করে বিনা টিকিটে কেউই ভিতরে প্রবেশ করতে পারবে না। আর প্রবেশ ঠেকানো গেলে বগিতে অতিরিক্ত যাত্রী ও ছাদে ভ্রমণ বন্ধ করতে সক্ষম হবো।
কমলাপুর স্টেশনে তিন স্তরের নিরাপত্তা দেবে রেলওয়ে পুলিশ। এ বিষয়ে রেলওয়ে ঢাকা পুলিশের পলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বাসকে বলেন, ‘কমলাপুর থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াতকারী যাত্রীদের আমরা তিন স্তরের নিরাপত্তা দেবো। স্টেশনের প্রবেশপথে আমাদের পোশাকধারী পুলিশ, ডিবি, এপিবিএনের সদস্যরা থাকবেন।
সাথে সাদা পোশাকে আমাদের সদস্যরা থাকবেন, সার্বক্ষণিক সিসিটিভি মনিটরিং করা হবে। একই সেবা ঢাকা বিমানবন্দর ও জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশনেও থাকবে।’
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার শাহাদাৎ হোসেন বাসসকে বলেন, ‘ঈদকে কেন্দ্র করে স্টেশনে ইতোমধ্যে যাত্রীর আনাগোনা বেড়েছে। টিকিট করে প্লাটফর্মে ঢোকানো ও বের করা হচ্ছে। এবারের ঈদ যাত্রায় প্রত্যেক রুটে ট্রেনগুলো শিডিউল মেনে চলবে। সবমিলিয়ে ঈদযাত্রাকে স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলতে রেলওয়ে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।’
বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বাসসকে বলেন, ‘এবারের ঈদযাত্রাকে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে কাজ করছে। নিরাপদ ভ্রমণকে অনিরাপদ করে তোলে ছাদে ওঠা যাত্রীরা। এবার যেন ছাদে ও বিনা টিকিটে কেউ ভ্রমণ করতে না পারে সেক্ষেত্রে আমরা কঠোর হবো। বিশেষ করে কমলাপুর, বিমানবন্দর, জয়দেবপুর স্টেশনে আমাদের নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা সেটি বাস্তবায়ন করবেন।’
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান জানিয়েছেন, নৌকা থেকে লঞ্চে যাত্রী ওঠা সম্পূর্ণ বন্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় যাত্রী নিরাপত্তা, সেবা ও সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এসব বিষয়ে কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠা রোধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে নৌকা থেকে লঞ্চে যাত্রী ওঠার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হবে।
লঞ্চে নৌকা থেকে কোনো যাত্রী উঠতে দেওয়া হবে না। এই সিদ্ধান্তে আমরা খুবই কঠোর।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর মাধ্যমে কঠোর নজরদারি করা হবে। সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করব, আপনারা নিয়ম মেনে চলুন এবং নিজেদের জীবনের নিরাপত্তার প্রতি যত্ন নিন।
তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতে পারাপারের ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে ঘাট থেকে দূরে একটি স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে নৌকা-লঞ্চ চলাচল বন্ধ করা যায়।
অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো অভিযোগ আসেনি। একজন যাত্রীও আমাদের কাছে অভিযোগ করেনি যে তার কাছ থেকে বেশি ভাড়া নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সরকার এরই মধ্যে ভাড়া ১০ শতাংশ কমিয়ে নির্ধারণ করেছে এবং তা কার্যকর রয়েছে।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় না উঠে রাজধানীর গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে নিজের বাসায় থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুলশানে নিজের বাসায় থাকবেন। সরকারি বাসভবন যমুনায় উঠছেন না। তারেক রহমান গুলশানের নিজের যে ছোট বাসাটি, তাতে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। সে জন্য তিনি দেশে ফেরার পর এই বাসায় উঠেছেন। সেভাবেই বাসাটি সাজানো-গোছানো হয়েছে।
রুমন আরও জানান, পবিত্র ঈদের দিন সকাল আটটায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে আসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তিনি সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নিয়ে নামাজ আদায় করবেন।
নামাজ শেষে সকাল ১০টা থেকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তিনি পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানসহ দেশের সব ঈদগাহ, বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জনসমাগম হয় এমন প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাদা পোশাকে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাবের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক কর্নেল ইফতেখার আহমেদ।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের নিরাপত্তা পরিদর্শন শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ইফতেখার আহমেদ বলেন, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে র্যাবের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আমাদের অতিরিক্ত র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানসহ সব ঈদগাহ ময়দান, বাস টার্মিনাল, রেল স্টেশন, লঞ্চঘাটসহ যেসব জায়গায় জনসমাগম হয় এসব জায়গায় র্যাবের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের মোবাইল পেট্রোলিং এবং ফুট স্টার্টিং টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে। ডগ স্কোয়াড, বোম ডিস্পোজাল ইউনিট এবং সাদা পোশাকে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি চলমান আছে এবং এই কার্যক্রমটা এবার অনেক জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি আমাদের যে সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধীসহ অন্যান্য যে কোনো অপরাধের বিষয়ে অভিযান আমাদের অব্যাহত আছে।
র্যাবের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক আরও বলেন, আমাদের সাইবার ক্রাইম গুজব ও উসকানি প্রতিরোধের জন্য যত ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যায় সাইবার মনিটরিং টিম সার্বক্ষণিক মনিটর করছে। যে কোনো অভিযোগ পেলে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। এবারের ঈদ অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে হবে বলে আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি।
বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় আগামী শনিবার (২১ মার্চ) সারা দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক শেষে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসেন কায়কোবাদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে কমিটি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে কোথাও শাওয়ালের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর শনিবার (২১ মার্চ) পবিত্র ঈদের নামাজ আদায় করা হবে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, দেশের সকল ঈদগাহ ও মসজিদে ঈদের জামাত আয়োজনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। মুসল্লিরা যেন যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও শৃঙ্খলা মেনে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেন সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় সারা দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আরও একদিন রোজা পালন করে শনিবার (২১ মার্চ) আনন্দঘন পরিবেশে ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন বলে ধর্মমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
রাজধানীর সদরঘাটে দুই লঞ্চের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গঠিত এই কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ১৮ মার্চ সদরঘাটের ১৪ নম্বর পন্টুনের কাছে ঢাকা-ইলিশা রুটের আসা-যাওয়া-৫ এবং ঢাকা-দৌলতদিয়া-যশোরহাট রুটের এমভি জাকের স্মার্ট-৩ লঞ্চের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবুল ইসলামকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ঢাকা অঞ্চলের নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-মামুন, বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক এস এম শাহেদ রেজা, নৌপরিবহন অধিদফতরের ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড শিপ সার্ভেয়ার মোহাম্মদ এহতেছানুল হক ফকির এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এ কে এম শামসুজ্জোহা।
এছাড়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. মেহেদী হাসান এই কমিটিতে সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার জানিয়েছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা নেই। তবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
রাজধানী ঢাকায় আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১২১টি ঈদগাহ ও ১৫৯৯টি মসজিদে মোট ১৭২০টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
মো. সরওয়ার বলেন, বরাবরের মতো এবারও জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে ৩৫ হাজারেরও বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করবেন। আর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মোট পাঁচটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তার মধ্যে প্রথম জামাত শুরু হবে সকাল সাতটায়। এছাড়া আগারগাঁওয়ে পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগের দিন ঢাকায় তিনটি ঈদ জামাত এবং শিয়া সম্প্রদায়ের আটটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তিনি বলেন, জাতীয় ঈদগাহ, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ এবং ঢাকার অন্যান্য সব স্থানে অনুষ্ঠিতব্য ঈদ জামাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি সমন্বিত ও সুবিন্যস্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
ঈদে নিরাপত্তার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিরাপত্তার শঙ্কা নেই, তারপরেও আমাদের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা মনিটরিং করছে। যদি কিছু হয় আমাদেরকে জানাবে। সেই অনুযায়ী আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি আছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অটুট রাখার জন্য।
জাতীয় ঈদগাহে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে জানিয়ে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, প্রবেশ গেটে তল্লাশির জন্য আর্চওয়ে এবং মেটাল ডিটেক্টর থাকবে। পুরো জাতীয় ঈদগাহ ময়দানসহ আশেপাশের এলাকায় সিসি ক্যামেরা দিয়ে মনিটরিং করা হবে। ঈদগাহ ময়দানে আসার প্রধান তিনটি সড়কের প্রবেশ মুখ মৎস্যভবন, প্রেস ক্লাব এবং শিক্ষাভবনে ব্যারিকেড থাকবে, যাতে অন্যান্য গাড়ি এই ঈদগাহ ময়দানের আশেপাশের রাস্তায় না আসে। সেখানেও আর্চওয়ে এবং মেটাল ডিটেক্টর থাকবে।
তিনি বলেন, ঈদ জামাতের চারদিকে পুলিশের পেট্রোলিং ব্যবস্থা থাকবে। মূল গেট হয়ে সব মুসল্লিদের প্রবেশ করতে হবে। নারী বা মহিলাদের জন্য পৃথক প্রবেশ গেট এবং পৃথক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। ঈদগাহ ময়দান এবং আশেপাশের এলাকায় সিটিটিসির ডগ স্কোয়াড সুইপিং এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের সুইপিং টিম সুইপিং করবে। আমাদের ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল টিম স্ট্যান্ডবাই থাকবে। পুরা এলাকা ঘিরে অন্য একটা বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলয় তৈরি করতে সোয়াট, সাদা পোশাকে ডিবি এবং সিটিটিসির সদস্যরা ঈদগাহে দায়িত্ব পালন করবেন।
মুন্সিগঞ্জের ১৫ জন জুলাইযোদ্ধার গেজেট বাতিল করেছে সরকার। সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত তিনটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনগুলোতে বলা হয়েছে, ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’–এর সিডিউল-১ অনুযায়ী এবং ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫’―এর ১১ (৪) ধারা অনুসারে দেওয়া ক্ষমতাবলে এসব গেজেট বাতিল করা হয়েছে।
২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন আন্দোলনে অংশ নিয়ে নিহত ব্যক্তিদের ‘জুলাই শহীদ’ এবং আহত ব্যক্তিদের ‘জুলাইযোদ্ধা’―র মর্যাদা দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আহতদের ক্যাটাগরি অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে সরকার।
বাতিল হওয়া তালিকায় শ্রেণি ‘ক’ (অতি গুরুতর) থেকে ১ জন, শ্রেণি ‘খ’ (গুরুতর আহত) থেকে ১ জন এবং শ্রেণি ‘গ’ (আহত) থেকে ১৩ জন রয়েছেন।
শ্রেণি ‘ক’–তে সাদ্দাম হোসেন মৃধা এবং শ্রেণি ‘খ’–তে মো. রাব্বি হোসেনের গেজেট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া 'গ'-শ্রেণির বাতিল করা ‘জুলাইযোদ্ধা’দের মধ্যে রয়েছেন মো. মহসীন, মো. সোহেল, মো. আসিফ, মোসা. মানছুরা, মো. শাকিল বেপারী, রোমেল, মো. বাদল বেপারী, রমজান হোসেন, এহসানুল হক সোহাগ, রুনা আক্তার ছোঁয়া, আল আমিন, মো. মামুন হোসেন এবং রনক বেপারী।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিশেষ শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি ভারত সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণকে এই আনন্দময় উৎসবের আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
শুভেচ্ছা বার্তায় মোদী উল্লেখ করেন, বিগত এক মাস ধরে ভারতসহ বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা পবিত্র রমজান মাস পালন করেছেন এবং রোজা ও প্রার্থনার মাধ্যমে পুণ্যময় সময় অতিবাহিত করেছেন।
নরেন্দ্র মোদী তার বার্তায় আরও বলেন, ঈদুল ফিতরের এই উদযাপন আমাদের সহানুভূতি, ভ্রাতৃত্ব ও একতার মতো চিরন্তন মূল্যবোধের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তিনি বিশ্বজুড়ে মানুষের শান্তি, সম্প্রীতি, সুস্বাস্থ্য এবং সুখের জন্য প্রার্থনা করেন। সেই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্যের বন্ধন ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরিশেষে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তার সর্বোচ্চ সম্মানের আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন।
নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। তিনি বলেছেন, সেই কারণে আমাদের কিছু ট্রেনের সময় বিপর্যয় ঘটেছে। সবগুলো না, দুটি ট্রেন। একতা এবং নীলসাগর। এতে পরিবেশ কিছুটা নষ্ট হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে দেশের প্রধান রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করতে এসে তিনি এ কথা বলেন। হাবিবুর রশীদ হাবিব বলেন, ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে স্টেশন মাস্টার ও ট্রেনের দুই লোকোমাস্টারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আপাতত আমাদের ট্রেন ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। রেলের মাঠ পর্যায় থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। সবাই মাঠের সক্রিয় আছেন।
তিনি বলেন, দুইটা ট্রেনের সময় বিলম্বিত হওয়ায় যাত্রীসেবা কিছুটা বিঘ্নিত হয়েছে। আমি সেটা পরিদর্শন করতে এখানে এসেছি। আমি আসার এক ঘণ্টা আগেও আপনার নিশ্চয় জানতেন না আমি এখানে আসব।
এবারের স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রায় ভাড়া আদায়ের এই নৈরাজ্য গত ২০ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করতে চলেছে বলে দাবি করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঈদে বাসে ও মিনিবাসে শুধুমাত্র অতিরিক্ত ভাড়া হিসেবেই যাত্রীদের পকেট থেকে প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা বাড়তি হাতিয়ে নেওয়া হবে।
তবে যাত্রী কল্যাণ সমিতির এই প্রতিবেদন সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ভাড়া-সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। এসময় তিনি স্টেশনে উপস্থিত যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দুটি ট্রেন ছাড়া বাকি ট্রেনগুলোর চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ঈদযাত্রার সামগ্রিক অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ঈদের পর পুরো ব্যবস্থার মূল্যায়ন করা হবে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এবারের ঈদে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দূরপাল্লার বাস-মিনিবাসে প্রায় ৪০ লাখ ট্রিপ এবং সিটি সার্ভিসে আরো প্রায় ৬০ লাখ ট্রিপ যাত্রী যাতায়াত করতে পারে। গত ১৪ মার্চ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৮৭ শতাংশ বাস ও মিনিবাসেই সরকারি চার্ট অমান্য করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
জাতীয় ঈদগাহে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহ ময়দান পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতিও বরাবরের মতো এখানে ঈদের নামাজ আদায় করবেন। ফলে এবার একসঙ্গে দুই ভিভিআইপিকে নামাজ আদায় করতে দেখা যাবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, জাতীয় ঈদগাহে নারী-পুরুষ মিলিয়ে প্রায় ৪০ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। ঈদগাহের সার্বিক প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি জানান, জাতীয় এই ময়দানে নারীসহ প্রায় ৪০ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জামাত শেষে সাধারণ মুসল্লিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের সুযোগ পাবেন। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে যদি ঈদগাহ ময়দান নামাজ আদায়ের অনুপযোগী হয়ে পড়ে, সেক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধান ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীজুড়ে নিশ্ছিদ্র ও বহুমুখী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার জানিয়েছেন, জাতীয় ঈদগাহ ও বায়তুল মোকাররমসহ প্রধান জামাতগুলোতে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা বলয় নিশ্চিত করা হবে।
প্রতিটি প্রবেশপথে আর্চওয়ে এবং মেটাল ডিটেক্টর বসানো হবে এবং পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে মৎস্য ভবন, প্রেসক্লাব এবং শিক্ষা ভবন এলাকাকে এন্ট্রি পয়েন্ট হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ঈদগাহের আশপাশের রাস্তায় সব ধরনের যানবাহন প্রবেশ ও পার্কিং নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের বিশেষায়িত শাখা সিটিটিসি, ডগ স্কোয়াড এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। ডিএমপি কমিশনার আরও জানান, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ওয়াচ টাওয়ার, ফায়ার সার্ভিস এবং মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
নারীদের জন্য ঈদগাহে প্রবেশের পৃথক গেট ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। রাজধানীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঈদগাহ ও জামাতগুলোতেও পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে যাতে ধর্মপ্রাণ মানুষ নির্বিঘ্নে উৎসব পালন করতে পারেন।
নামাজে অংশগ্রহণকারী মুসল্লিদের জন্য ডিএমপির পক্ষ থেকে কিছু নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। জামাতে আসার সময় মুসল্লিরা কেবল জায়নামাজ, মোবাইল ফোন এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ছাতা বহন করতে পারবেন। তবে দেশলাই, লাইটার বা যেকোনো ধরনের দাহ্য বস্তু সঙ্গে রাখা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ঈদ উপলক্ষে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলার সার্বিক সুরক্ষায় পুলিশের টহল জোরদার করা হবে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ লাইনের বিশেষ পাহারা থাকবে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এবারের ঈদ উদযাপনে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন।
বগুড়ার সান্তাহার বাগবাড়ী এলাকায় চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হওয়ার ২২ ঘণ্টা পর উদ্ধার অভিযান শেষে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। লাইনচ্যুত বগিগুলো সরিয়ে নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টা ২০ মিনিটে চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা খুলনা গামী যাত্রীবাহী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল শুরুর মধ্য দিয়ে এই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এর আগে গতকাল বুধবার দুপুর ২টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসো চিলাহাটি অভিমুখী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি বগুড়ার সান্তাহারের বাগবাড়ী এলাকায় লাইনচ্যুত হয়।
রেলওয়ে পশ্চিম অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আহমদ হোসেন মাসুম জানান, গতকাল দুর্ঘটনা হওয়ার পর থেকে রেলওয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশে আমরা এখানে এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করি। সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী থেকে একটি রিলিফ ট্রেন এবং পার্বতীপুর থেকে আরেকটি রিলিফ ট্রেন এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সারারাত ব্যাপী উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বগি গুলোকে লাইন থেকে অপসারণ করা হয়েছে এবং রেললাইন মেরামত কাজ চলমান রয়েছে। আমরা এই অবস্থাতে ট্রেন চালাতে পারবো। চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি বেলা ১১ টা ২০ মিনিটে যাত্রীসহ প্রথমে যাবে। লাইন নির্মাণ কাজ মোটামুটি স্বাভাবিক। এই স্থানটিতে ট্রেনগুলো ধীর গতিতে চলাচল করবে। সেই সাথে আমাদের নির্মাণ কাজ চলমান থাকবে। ঈদের আগ মুহূর্তে এমন দুর্ঘটনার জন্য দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ঈদযাত্রায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন বুধবার দুপুর ২টায় বগুড়ার সান্তাহার রেলওয়ে জংশন ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর বাগবাড়ী নামক এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ট্রেনের ৯টি কোচ লাইনচ্যুত হয়। সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় উদ্ধারকারী (রিলিফ) ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। ঘটনার পর দায়িত্ব অবহেলার কারণে সান্তাহারের সহকারী স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম রঞ্জুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহনের অস্বাভাবিক চাপে গভীর রাত থেকে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে নাভিশ্বাস উঠেছে ঈদে বাড়ি ফেরা হাজার হাজার মানুষের। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে মহাসড়ক ঘুরে দেখা যায়, উত্তরবঙ্গমুখী যানবাহনের দীর্ঘ সারি ও ধীরগতির কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।
পরিবহন সংশ্লিষ্ট ও যাত্রীরা জানান, ভোররাত থেকেই মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে চন্দ্রা, কালিয়াকৈর, গোড়াই, মির্জাপুর বাইপাস, পাকুল্যা, করটিয়া, টাঙ্গাইল বাইপাস ও এলেঙ্গা এলাকায় গাড়ি প্রায় থেমে আছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এই যানজট আরও প্রকট আকার ধারণ করছে।
বগুড়াগামী যাত্রীরা গণমাধ্যমকে জানান, বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে বাসে উঠলেও সকাল ৮টা পর্যন্ত তারা মির্জাপুর বাইপাসেই আটকে আছেন। সাভার, নবীনগর ও চন্দ্রা পার হতেই তাদের ৭ ঘণ্টা সময় লেগেছে। বিশেষ করে এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার রাস্তায় চলমান উন্নয়ন কাজ ও খানাখন্দের কারণে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। দীর্ঘ সময় বাসে বসে থাকায় নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে পুলিশের পাশাপাশি টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, হাইওয়ে পুলিশ ও মেডিকেল টিম কাজ করছে। যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি যানবাহন চলাচল করায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যানজট নিরসনে সেতুর উভয় প্রান্তে মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা লেনসহ ১৮টি টোল বুথ সচল রাখা হয়েছে।
এদিকে মহাসড়কের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়মিত তদারকি করছেন স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। এছাড়া দুর্ঘটনা কবলিত যান দ্রুত সরাতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে রেকার।
ঢাকা থেকে ছেড়ে চিলাহাটিগামী ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রেল যোগাযোগ এখনো বন্ধ রয়েছে। লাইনচ্যুত বগিগুলো উদ্ধার করতে আরও কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় ঈশ্বরদী ও পার্বতীপুর থেকে উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেনটি ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেছে। এ বিষয়ে সান্তাহার জংশন স্টেশনের মাস্টার খাদিজা খাতুন বলেন, ঈশ্বরদী ও পার্বতীপুর থেকে দুটি উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন পৌঁছানোর পর থেকে উদ্ধারকাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, দুপুরের পরপরই লাইন সচল করা সম্ভব হবে।
রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বগুড়া পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ বলেন, যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থানা-পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নওগাঁ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) আবুজার গাফফার জানান, নওগাঁ সদর হাসপাতালে ১০০ জনের বেশি আহত চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩০ জনকে ভর্তি করা হয়েছে এবং অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
রেলওয়ে জানিয়েছে, ঢাকা-পঞ্চগড়-ঢাকা রুটে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, একতা এক্সপ্রেস ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস ব্যবহার করে ট্রান্সশিপমেন্ট করা হবে। খুলনা-নীলফামারী রুটে সীমান্ত ও রূপসা এক্সপ্রেস দিয়ে একই ব্যবস্থা চালু থাকবে। এছাড়া পার্বতীপুর, রাজশাহী ও চিলাহাটি রুটেও কয়েকটি ট্রেনের মাধ্যমে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস বগুড়া হয়ে চলবে এবং বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেসের কয়েকটি ট্রিপ আংশিক পরিবর্তন ও কিছু যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বুধবার বেলা ২টার দিকে ঢাকা থেকে নীলফামারীর চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস সান্তাহার এলাকায় লাইনচ্যুত হয়। ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে।