মিথ্যা তথ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় (ডব্লিউএইচও) চাকরির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুন বাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। ঢাকার সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি দায়ের করেন দুদকের উপপরিচালক তাহাসিন মুনাবীল হক।
মামলায় পুতুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তিনি মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ নিয়েছেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, অটিজম ও স্নায়ু বিকাশজনিত সমস্যাবিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ লাভের উদ্দেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় ২০২৩ সালে একটি বায়োডাটা বা সিভি দাখিল করেন। সেই সিভিতে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও শিক্ষা ম্যানুয়েল তৈরি বা রিভিউ সম্পর্কিত কার্যক্রমে অংশ না নিয়েও নিজেকে সেই কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে দাবি করে আবেদন করেন। পরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ লাভ করে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ লাভ করায় তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৮/৪৭১ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এর ৫(২) ধারায় একটি নিয়মিত মামলা রুজুর অনুরোধ করা হয়েছে। এদিন দুর্নীতি ও প্রতারণার মাধ্যমে সূচনা ফাউন্ডেশনের জন্য ৩৩ কোটি টাকার তহবিল সংগ্রহের অভিযোগে পুতুলের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করেছে দুদক।
প্রসঙ্গত, এর আগে পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দের অভিযোগে পুতুলের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করা হয়েছিল। গত ১২ জানুয়ারি পুতুলের বিরুদ্ধে পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দের অভিযোগে একটি মামলা করে দুদক। ওই মামলায় পুতুল, শেখ হাসিনাসহ মোট ১৬ জনকে আসামি করা হয়। ক্ষমতার পালাবদলের পর পুতুলকে প্রথম আসামি করা হয়। দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে। দুদকের দাবি, প্রাথমিক অনুসন্ধানে পুতুল ও অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের এলএনজি বহনকারী জাহাজ চলাচলে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি বা সমস্যা হবে না বলে নিশ্চিত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহনাবাদি। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও ইরানি রাষ্ট্রদূত স্পষ্ট করে বলেন, ‘বাংলাদেশের এলএনজি বহনকারী জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হতে কোনো সমস্যা নেই। মক্কা প্যাক্টের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জাহাজও হরমুজ প্রণালী পার করতে পারবে।’ তাঁর এই মন্তব্য বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের স্বস্তির বার্তা বহন করছে।
মক্কা প্যাক্ট বা মক্কা জোটে ইরানের অংশগ্রহণের বিষয়ে রাষ্ট্রদূতের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা মক্কা প্যাক্টকে আমাদের বিপক্ষে দেখছি না। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে আমরা শুধু আমেরিকার ক্যাম্পে আক্রমণ করেছি, ইসলামিক কোনো রাষ্ট্রকে নয়।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, মক্কা প্যাক্টে যোগদানের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হলে ইরান তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে এবং গ্রহণ করবে।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদনের শেষ সময়সীমা নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। আবাস্থল পরিবর্তনের কারণে যারা নিজের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করতে ইচ্ছুক, তারা আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই আবেদন জমা দিতে পারবেন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক পত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠিতে আরও জানানো হয়েছে যে, ভোটার স্থানান্তরের জন্য প্রাপ্ত আবেদনগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইস্যু করার সর্বশেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ সেপ্টেম্বর। এরপর দাখিলকৃত আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই শেষে নিষ্পত্তির শেষ সময় ১০ সেপ্টেম্বর ধার্য করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে এবং ভোটারদের সঠিক আবাস্থল নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই নির্বাচন কমিশন এই সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করেছে। নির্ধারিত এই সময়ের পর আর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত দুটি সার্ভিস সেতু সাধারণ যানবাহনের যাতায়াতের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। দুই লেনের এই পৃথক দুটি সেতুর প্রতিটির দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ১৭ কিলোমিটার। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে আশুলিয়ার ধউর এলাকায় ফলক উন্মোচন ও ফিতা কাটার মাধ্যমে সেতু দুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলাম। উদ্বোধনের পরপরই সড়কটি জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশের দীর্ঘতম উড়ালসড়ক ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের একাংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে প্রকল্পটির কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় একাংশ খুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।’ অনুষ্ঠানে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, সিএমসি প্রেসিডেন্ট কিউ আই ইয়ি এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন।
আশুলিয়া ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির কথা স্মরণ করে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু বলেন, ‘আশুলিয়াবাসীর দীর্ঘ দিনের স্বপ্নের প্রকল্প এটি। অনেক ঘটনা ঘটেছে দীর্ঘ দিন ধরে। এখানে প্রচুর কারখানা, এগুলো সামার দিতে বেগ পোহাতে হয়েছে। আজকে চালুর মধ্য দিয়ে সেই ভোগান্তি কমবে। সবাই এর উপকার ভোগ করবে।’ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকার অন্যতম প্রবেশদ্বারে দীর্ঘস্থায়ী যানজট সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন উপস্থিত অতিথিবৃন্দ।
এদিকে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তুরাগ নদের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বজায় রাখার স্বার্থে আশুলিয়া বাজার থেকে ধউর বেড়িবাঁধ পর্যন্ত বর্তমানে ব্যবহৃত সড়কটি আর রাখা হবে না। এর পরিবর্তে নতুন নির্মিত এই সার্ভিস লেন ব্যবহার করেই যানবাহনগুলো যাতায়াত করবে এবং তুরাগ নদ পারাপারের ক্ষেত্রে চালকদের কোনো টোল দিতে হবে না। দীর্ঘদিনের ভোগান্তি শেষে নতুন এই পথ খুলে দেওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকরা। সাইফুল ইসলাম নামে একজন পিক-আপ চালক বলেন, ‘আগে রাস্তায় অনেক যানজট ছিল। এখন কমে যাবে। অনেক ভালো লাগছে। এখন দ্রুত যেতে পারবো।’ একই সুরে আশুলিয়ার বাসিন্দা দীপংকর দাস বলেন, ‘আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে অবশেষে চালু হয়েছে। এত দিন অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। আশা করছি, এখন যানজট থেকে অনেকটা রক্ষা পাবো।’ যাতায়াত সুবিধা নিয়ে পথচারী বাবুল হোসেন মন্তব্য করেন, ‘যানজট নিরসনে এক্সপ্রেসওয়ে অনেক ভূমিকা রাখবে। উত্তরা থেকে আশুলিয়া আসতে প্রচুর ভোগান্তি হতো। এখন আর ভুগতে হবে না আশা করছি।’
ঢাকার সঙ্গে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করতে ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কাজ বর্তমানে পুরোদমে এগিয়ে চলছে। ২০২২ সালের নভেম্বরে নির্মাণকাজ শুরু হওয়া এই মেগা প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি গত জুলাই মাস পর্যন্ত ৭২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ৪৫ দশমিক ৬৭ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের আওতায় আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ লাইন ছাড়াও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের সঙ্গে সংযোগ এবং বাইপাইলে দৃষ্টিনন্দন ‘ট্রাম্পেট ইন্টারচেঞ্জ’ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তুরাগ নদের পরিবেশ রক্ষা করে প্রকল্পের ২ দশমিক ৭২ কিলোমিটার সেতু আজ যান চলাচলের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
দেশে মাদকাসক্তি ও নৈতিক অবক্ষয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে শিক্ষাব্যবস্থাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলা, স্কাউটিং এবং নৈতিক শিক্ষার চর্চা বাড়াতে হবে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত মেধাবী স্কাউটদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে মেধাবীদের আগামীর বাংলাদেশের কারিগর হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “মেধাবীদের হাত ধরেই আগামী বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হলে আমার সামনে প্রথম সারিতে যারা বসে রয়েছে, তাদের প্রয়োজন। মেধাবীদের সমর্থন দিতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।” তিনি আরও যোগ করেন যে, স্কাউটিং শিক্ষার্থীদের মাঝে নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম এবং জনসম্পৃক্ততার শিক্ষা দেয়, যা তাদের মাদক ও অনৈতিকতা থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করবে।
শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন সম্পর্কে তিনি জানান যে, চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং নৈতিকতাকে পাঠ্যক্রমে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপের পাশাপাশি স্কাউট ও বিএনসিসির জন্য পৃথক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে সরকার পোশাক ও মিডডে মিলের ব্যবস্থা করছে এবং ফুটবলসহ অন্যান্য খেলাধুলায় বিজয়ীদের প্রধানমন্ত্রী নিজেই পুরস্কৃত করছেন বলে তিনি জানান।
নারী শিক্ষার অগ্রগতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপবৃত্তি কর্মসূচির কথা স্মরণ করে বলেন, এটি দেশে এক সামাজিক বিপ্লব ঘটিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও স্বীকৃত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা খাতের বাজেট বাড়াচ্ছেন এবং স্কাউটের জন্যও আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হচ্ছে। মেধাবীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর মনোভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, “যে যে কাজ করেনি, তাকে সেই কাজের জন্য পুরস্কার দেওয়া যায় না। এটা আমার কথা নয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথা। তোমরা যারা ভালো ফল করেছ, তাদের পুরস্কৃত করা হবে এবং সম্মানিত করা হবে।” পরিশেষে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বৃহৎ জনসংখ্যা ও মেধা দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ, যা কাজে লাগিয়ে দেশ সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন অনিয়ম, নিয়োগ-বদলি এবং কেনাকাটায় সিন্ডিকেট গঠনের মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অভিযোগটি খতিয়ে দেখতে উপ-পরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের একটি বিশেষ অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধান তালিকায় আসিফ মাহমুদ ছাড়াও রয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবং বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখপাত্র আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন, মানিলন্ডারিং বা বিদেশে টাকা পাচার এবং নিষিদ্ধ বিটকয়েন লেনদেনের মতো গুরুতর বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, স্বজনপ্রীতি ও আঞ্চলিক প্রভাব খাটিয়ে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগও জমা পড়েছে বলে জানা গেছে।
আরও জানা যায়, ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) গঠনে সরাসরি অনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে যে, আসিফ মাহমুদ তাঁর সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে অবৈধ সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছেন। ভুক্তভোগীদের দেওয়া এসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই দুদক এই ব্যাপক তল্লাশি ও অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে।
সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল অবশেষে অনুমোদিত হয়েছে। এখন কেবল গেজেট বা আনুষ্ঠানিক আদেশ জারির অপেক্ষা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, নতুন এই বেতন কাঠামো সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) অথবা আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জারি হতে পারে।
প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়ে সচিব বলেন, “অর্থ বিভাগ আজ অথবা আগামীকাল নতুন বেতন কাঠামো-সংক্রান্ত আদেশ জারি করবে। তখন এ বিষয়ে সবকিছু স্পষ্টভাবে জানা যাবে।” গত সোমবার (৩১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবিত এই নবম জাতীয় পে-স্কেল চূড়ান্তভাবে অনুমোদন লাভ করে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন স্কেলের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য ‘যৌথবাহিনী নির্দেশাবলি ২০২৬’ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই অনুমোদিত পে-স্কেল ও সংশ্লিষ্ট যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এবারও এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীরা এই নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
নতুন বেতন স্কেলের কাঠামো বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরকারি কর্মচারীদের পূর্বের ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে, তবে প্রতিটি গ্রেডের মূল বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। সংশোধিত কাঠামো অনুযায়ী, ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে দেখতে গিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বুধবার সকালে তিনি হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার সার্বিক খোঁজখবর নেন। রাষ্ট্রপতি এ সময় মন্ত্রীর চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকদের সাথেও কথা বলেন এবং তাঁর স্বাস্থ্যগত সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হন। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মন্ত্রীর অসুস্থতার বিষয়ে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী আবদুল্লা আল কায়েস গণমাধ্যমকে জানান, ‘গত কয়েক দিন ধরে মন্ত্রী ঠান্ডা, জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। মঙ্গলবার শ্বাসকষ্ট কিছুটা বেড়ে গেলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার ফুসফুসে ইনফেকশন হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।’ বর্তমানে মন্ত্রী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশ পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে পরিবর্তন এনে ঊর্ধ্বতন ছয় কর্মকর্তাকে নতুন কর্মস্থলে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট-১ শাখা থেকে অ্যাডিশনাল ডিআইজি রায়হান উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই রদবদলের তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
প্রজ্ঞাপনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিথুন সরকারকে চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রিভার) হিসেবে বদলি করা হয়েছে। একই সাথে ঢাকা পুলিশ স্টাফ কলেজের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম আশিকুর রহমানকে ভোলার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে নতুন দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া হাইওয়ে পুলিশের কার্যক্রম গতিশীল করতে হবিগঞ্জের মাধবপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এ কে এম সালিমুল হক এবং এপিবিএনে কর্মরত তানিয়া ইসলামকে ওই ইউনিটে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
এদিকে, চট্টগ্রামের মীরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. নাদিম হায়দার চৌধুরীর আগের ট্যুরিস্ট পুলিশে বদলির আদেশটি বাতিল করা হয়েছে। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তাঁকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিল্পাঞ্চল পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার অনিক চৌধুরীকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে পদায়ন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বদলি ও পদায়ন করা এসব কর্মকর্তাদের আগামী ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্ব হস্তান্তর করে অবশ্যই নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে তাঁকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে সিসিইউতে নেওয়া হয় বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। তবে তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য সরবরাহ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মন্ত্রণালয় ও হাসপাতাল সূত্র থেকে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরেই তিনি ভাইরাল ফ্লু, জ্বর এবং কাশিতে ভুগছিলেন। অসুস্থতার কারণে সোমবার ও মঙ্গলবার তিনি দাপ্তরিক কাজ থেকেও বিরত ছিলেন। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা জানান যে, মন্ত্রীর শারীরিক সমস্যা ও বর্তমান স্থিতিশীলতা সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে চিকিৎসকরা বিস্তারিত জানাবেন।
উল্লেখ্য, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন ইকবাল হাসান মাহমুদ। বর্তমানে তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
বাংলাদেশে গত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ‘গুম, হত্যাকাণ্ড ও রাজনৈতিক নিপীড়নের’ অভিযোগ নিয়ে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) গভর্নিং বডির কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলেছেন সংস্থার মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপ। জাতীয় সংসদ ভবনে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ‘রাজনৈতিকভাবে নিপীড়নের শিকার’ কয়েকজন সংসদ সদস্যের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অ্যান্ডা ফিলিপ বাংলাদেশে ‘হত্যা, গুম ও বিরোধী মতের মানুষের ওপর নিপীড়নের’ ঘটনাকে অমানবিক ও জঘন্য বলে মন্তব্য করেন। তিনি তার দেশ রোমানিয়ায় নিকোলাই চাউসেস্কুর শাসনামলের দমননীতির সঙ্গে বাংলাদেশের তৎকালীন সরকারপ্রধানের শাসনামলের মিল থাকার কথাও বলেন। সফর শেষে আইপিইউর গভর্নিং বডির কাছে বাংলাদেশে ‘স্বৈরাচারী শাসনামলের গুম, হত্যাকাণ্ড ও নিপীড়ন’ নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেওয়ার কথা জানান তিনি।
সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিও বৈঠকে ছিলেন।
স্পিকার বৈঠকে বলেন, ‘শেখ হাসিনার মাফিয়া শাসনামলে বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে গুম ও ভীতির সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়। বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের লোকদের নিপীড়ন, নির্যাতন, গুম ও হত্যার মাধ্যমে দেশের মানুষের বাক স্বাধীনতাকে হরণ করা হয়।
‘শেখ হাসিনার টানা ১৫ বছরের শাসনামলে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের দমনে গুম, বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ড, আয়নাঘর নামে পরিচিত গোপন বন্দিশালা এবং ডিজিটাল ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগ করা হয়েছিল।’
বৈঠকে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি তার ভাই বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের ‘গুম’ হওয়ার ঘটনা তুলে ধরেন।
এ সময় ‘নিপীড়ন থেকে বিপ্লব: রাষ্ট্রের পদ্ধতিগত মানবাধিকার লঙ্ঘন উন্মোচন’ শিরোনামের একটি ডকুমেন্টেশনও উপস্থাপন করা হয়।
বৈঠকে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান তার ‘গুম হওয়া’ এবং ‘আয়নাঘরে বন্দি জীবনের’ অভিজ্ঞতার কথা বলেন।
চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী অভিযোগ করেন, তাকে সাত মাস সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার একটি গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখা হয়েছিল। সেখানে নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা তিনি বৈঠকে তুলে ধরেন।
সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা তার স্বামী বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর গুম হওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে ইলিয়াস আলীকে ‘গুম করে’ বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব গুম ও বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন লুনা।
বৈঠকে উপস্থিত অন্য সংসদ সদস্যরাও বিগত সরকারের সময়ে রাজনৈতিক নিপীড়ন, গুম ও ভয়ভীতির অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
বৈঠকে সংসদ সদস্য নওশাদ জমির, জহরত আদিব চৌধুরী, তাহসিনা রুশদীর, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, আনিসুর রহমান, সানজিদা ইসলাম ও মাধবী মারমা উপস্থিত ছিলেন।
অতীত নিয়ে আটকে থাকলে উন্নয়নকাজ হবে না বলেছেন বাংলাদেশের নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, অতীত ভোলা যায় না। তবে অতীতে আটকে থাকাও যায় না।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের দীনেশ ত্রিবেদী এ কথা বলেন।
এক প্রশ্নের জবাবে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে তিনি কথা বলতে চান না। এ বিষয়ে কথা বলা উচিত নয়। বাংলাদেশের মানুষ যা ভালো বুঝবে, তা–ই হবে। দুই–তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী দল ক্ষমতায়, দেশের অবস্থা তারা ভালো বুঝবে।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারতের হাইকমিশনার তাদের দেশের স্থানীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে তার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে। এবার নির্বাচন বেশ চ্যালেঞ্জ হবে। কারণ, সরকারকে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হবে।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, তাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে দুই দেশের জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক। এটা সব সময় থাকবে। তিনি না থাকলে আরেকজন আসবেন। সিদ্ধান্ত একই থাকবে।
ভারতের হাইকমিশনার বলেন, ‘আমরা যা সিদ্ধান্ত নিই, তার প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। তাই সাধারণ মানুষের জন্য যা ভালো হয়, আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে তা করা।’
দীনেশ ত্রিবেদী আরও বলেন, ‘প্রতিবেশী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব বেড়ে যায়। আমরা সবাই সমান। কেউ বড়, কেউ ছোট নয়।’ স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর সঙ্গে ৩০ মিনিটের বৈঠকে নিজে অনেক কিছু শিখতে পেরেছেন।
বৈঠকে এক প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, চ্যালেঞ্জ থাকবে। চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে এগিয়ে যেতে হবে। দ্বিপক্ষীয় এ বৈঠকে অবাধ বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী কোনো কথা বলেননি। এ সময় তিনি দুই দেশ মিলেমিশে কাজ করার কথা বলেন।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো (পে-স্কেল) মন্ত্রিসভায় অনুমোদনকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে টিআইবি। তবে এই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হিসেবে সরকারি চাকরিজীবী ও পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের আয়-ব্যয়ের হিসাব ও সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করতে আবারও আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
এতে বলা হয়- বাজেটে নতুন বেতনকাঠামো ঘোষণার পর বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হিসেবে সরকারি কর্মজীবীদের সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিতে এর আগে টিআইবি আহ্বান জানিয়েছিল। সরকারের উচ্চপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে ফলো-আপ করেছিল।
ওই দাবি পুনর্ব্যক্ত করে বিবৃতিতে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আর্থিক সক্ষমতার কঠিন সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিনটি ধাপে সরকারি কর্মজীবীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা খুবই যৌক্তিক। জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে, তাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ পেশাগত উৎকর্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা প্রত্যাশা করা অসম্ভব। পে-স্কেল অনুমোদন, সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার।
তিনি বলেন, জনগণের করের টাকায় তাদের এই বেতন-ভাতা বৃদ্ধির কাঙ্ক্ষিত সুফল পেতে হলে, সব পর্যায়ের সরকারি কর্মজীবী ও তাদের পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের আয় ও সম্পদের হিসাব বাৎসরিক ভিত্তিতে হালনাগাদ করাসহ প্রকাশের বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়ন করতে হবে। অর্থাৎ যেসব কর্মজীবী তাদের আয়-ব্যয় ও সম্পদবিবরণী প্রতি বছর হালনাগাদ করাসহ প্রকাশ করবেন, কেবল তাদের জন্যই নতুন বেতন-ভাতা বৃদ্ধি প্রযোজ্য হওয়া উচিত। যারা প্রকাশ করবেন না, তাদের জন্য নতুন পে-স্কেল প্রযোজ্য হওয়া অনুচিত।
এই শর্ত বাস্তবায়িত হলে সরকারি খাতে দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত সেবার পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে মনে করেন ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি আরও বলেন, মনে রাখতে হবে, অনেক সরকারি কর্মজীবী আছেন যারা অনিয়ম ও দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে পেশাগত দায়িত্ব পালন ও সৎভাবে জীবন যাপন করেন। তাদের জন্য এই নতুন বেতনস্কেল সম্পূর্ণ ন্যায়সংগত ও অপরিহার্য। অন্যদিকে, যারা অসৎভাবে অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ-সম্পদ অর্জনে লিপ্ত, তাদের জন্য এই সুবিধা যেমন অযৌক্তিক, তেমনই সম্পূর্ণ নিষ্প্রয়োজন। তাদের অর্থসম্পদের আকাঙ্ক্ষা এতটাই গগনচুম্বী যে, কার্যকর জবাবদিহির উপায় নিশ্চিত না করে ঢালাওভাবে নতুন বেতনস্কেল প্রয়োগ করা হলে, সরকারি খাতে দুর্নীতির মাত্রা আরও বাড়বে।
যার দৃষ্টান্ত এর আগে স্থাপিত হয়েছে। নতুন বেতনকাঠামো সরকারি কর্মজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কর্মোদ্দীপনা বাড়ানোর পাশাপাশি, দক্ষ, গতিশীল ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সরকার যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে, তা উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, এর আগে সর্বশেষ ২০১৫ সালে বাস্তবায়িত অষ্টম পে- স্কেলের ক্ষেত্রে অনেকের মধ্যে একই আশাবাদ ছিল, কিন্তু বাস্তবতা হয়েছে সম্পূর্ণ বিপরীত। বেতন-ভাতা বৃদ্ধির বিপরীতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষের ব্যাপকতা ও গভীরতা বেড়েছে অধিক হারে। এবার অন্তত তার ব্যতিক্রম হবে- এই বিশ্বাস করতে চাই। এক্ষেত্রে সরকারি খাতে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক চর্চায় পরীক্ষিত পদ্ধতি হিসেবে সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা না হলে, সরকারি খাতে দুর্নীতির দুষ্টচক্র থেকে জনগণের পরিত্রাণের উপায় নেই। অথচ দুর্নীতির ভুক্তভোগী জনগণের অর্থেই সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতাসহ সব ব্যয় বহন করা হয়।
সর্বোপরি, সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির ফলে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিসহ মূল্যস্ফীতি ঘটার আশঙ্কাও করেছে টিআইবি। সংস্থাটি বলছে, এরই মধ্যে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে দিশেহারা স্বল্পআয়ের কর্মজীবী নারী-পুরুষসহ সাধারণ জনগণের দুর্দশা আরও বাড়ার কারণ হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এক্ষেত্রে করণীয় নির্ধারণসহ বেতন-ভাতা বাস্তবায়নের উল্লিখিত শর্ত বাস্তবায়নে সরকারের দূরদর্শিতা প্রত্যাশা করছে টিআইবি।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশের দায়িত্ব বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) কাছেই রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় প্রিলিমিনারি ও মৌখিকের মাঝখানে লিখিত পরীক্ষা যুক্ত করে তিন ধাপের পরীক্ষা পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সভায় এনটিআরসিএর শিক্ষক নিয়োগের সংশোধিত অনুসরণীয় পদ্ধতি এবং পরীক্ষার সিলেবাস নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। এতে এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান আলিফ রুদাবা, মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হেলালুজ্জামান সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন কাঠামোয় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা হবে তিন ধাপে—প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক। বর্তমানে প্রিলিমিনারির পর মৌখিক পরীক্ষার যে ব্যবস্থা রয়েছে, তার পরিবর্তে লিখিত পরীক্ষা যুক্ত করার প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষায় বসতে হবে। লিখিত পরীক্ষায় সফল প্রার্থীরাই এরপর মৌখিক পরীক্ষার সুযোগ পাবেন।
নতুন পদ্ধতি চালুর আগে সংশোধিত অনুসরণীয় পদ্ধতির অনুমোদন নিতে তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর এ বিষয়ে পরিপত্র জারি করা হবে। এরপর নতুন কাঠামো অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু করবে এনটিআরসিএ। পরীক্ষার কাঠামোর পাশাপাশি সিলেবাসেও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশোধিত সিলেবাসের প্রস্তাবও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।
এদিকে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ এনটিআরসিএর পরিবর্তে অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় নেওয়ার যে উদ্যোগ নিয়ে আগে আলোচনা হয়েছিল, সেখান থেকেও সরে এসেছে সরকার। আগের বিতর্কিত রেজ্যুলেশনটি বাতিল করে এনটিআরসিএর মাধ্যমেই নিয়োগের সুপারিশ করার ব্যবস্থা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তবে নতুন পদ্ধতি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও পরিপত্র জারির পরই পরীক্ষার নতুন কাঠামো এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া কার্যকর হবে।