একসময় হাম নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের সাফল্য ছিল আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত। নিয়মিত টিকাদান, জাতীয় পর্যায়ের একাধিক ক্যাম্পেইন এবং মাঠপর্যায়ে শক্তিশালী কর্মসূচির মাধ্যমে দেশটি হাম নির্মূলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। সেই বাংলাদেশেই এখন ফিরে এসেছে ভয়াবহ হাম। শুধু কয়েক হাজার নয়, আক্রান্তের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে; প্রায় ২০ হাজার রোগীর সংক্রমণ পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে এবং মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার পেরিয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশকে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাবের মুখে থাকা দেশ হিসেবে বর্ণনা করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বুধবার এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থাটি এ তথ্য জানিয়েছে।
রয়টার্স বলেছে, এটি নিছক একটি সংক্রামক রোগের বিস্তার নয়। এর পেছনে উঠে আসছে টিকাদানের ধারাবাহিক ঘাটতি, নিয়মিত কর্মসূচির দুর্বলতা, জাতীয় ক্যাম্পেইন পিছিয়ে যাওয়া, টিকা সংগ্রহের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এবং মাঠপর্যায়ে পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতার প্রশ্ন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসছে বড় প্রশ্ন—প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ কেন এমন পর্যায়ে গেল এবং বর্তমান সংকটের জন্য কার কতটা দায়?
বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে হামের উপসর্গে নতুন করে আরও ৩ জন মারা গেছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কেউ মারা যায়নি। এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে চলতি বছর এক হাজার ২ জন মারা গেছে। তাদের মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০০ জন ও হামের উপসর্গে ৯০২ জন মারা গেছে।
অধিদপ্তর জানায়, নতুন করে ৬৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১১৯ জন। এ নিয়ে চলতি বছর মোট ১৯ হাজার ৯০৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। আর হামের উপসর্গ দেখা গেছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫৮০ জনের।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, আক্রান্তদের বড় অংশই শিশু। প্রাদুর্ভাবের শুরুর দিকে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুরাই আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশ ছিল। নয় মাসের কম বয়সি শিশুরা সাধারণ নিয়মে হাম টিকার বয়সে পৌঁছায় না। ফলে তাদের সুরক্ষা অনেকাংশে নির্ভর করে আশপাশের মানুষের উচ্চ টিকাদান কভারেজের ওপর। কিন্তু সেই সুরক্ষার দেওয়ালেই বড় ফাঁক তৈরি হয়েছে।
হাম অত্যন্ত সংক্রামক হলেও প্রতিরোধের কার্যকর উপায় বহু বছর ধরেই পরীক্ষিত—টিকা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী, জনগোষ্ঠীর অন্তত ৯৫ শতাংশকে টিকার আওতায় রাখা গেলে ব্যাপক সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক কমে যায়। বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় এই মাত্রার কাছাকাছি কভারেজ ধরে রাখতে পেরেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই ধারাবাহিকতা ভেঙেছে।
২০২৪ ও ২০২৫ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটে। কিছু কর্মসূচি পিছিয়েছে, কিছু বাতিল হয়েছে। ফলে টিকার বাইরে থাকা শিশুদের একটি বড় জনগোষ্ঠী তৈরি হয়। মহামারি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এ ধরনের ‘ইমিউনিটি গ্যাপ’ তাৎক্ষণিকভাবে চোখে না পড়লেও কয়েক বছর পর তার ফল ভয়াবহ হতে পারে।
সাম্প্রতিক তথ্যেও দেখা যাচ্ছে, ২০২২ সালে নিশ্চিত হাম রোগী ছিল মাত্র ৩১১ জন, ২০২৩ সালে ২৮২, ২০২৪ সালে ২৪৭ এবং ২০২৫ সালে ১৩২ জন। অথচ ২০২৬ সালে সংখ্যা কয়েক হাজার পেরিয়ে প্রায় ২০ হাজারে পৌঁছেছে। এই উল্লম্ফন বাংলাদেশের টিকাদান ব্যবস্থার দুর্বলতা কতটা গভীরে গেছে, সেই প্রশ্নই সামনে আনে।
ইউনূস সরকারের সময়ে নীতির পরিবর্তন: সংকটের সবচেয়ে বিতর্কিত অধ্যায় টিকা সংগ্রহের পদ্ধতি পরিবর্তন।
রয়টার্স জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টিকা সংগ্রহের নীতিতে পরিবর্তন আনা হয়। আগে যে প্রক্রিয়ায় ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ করা হতো, সেটি পরিবর্তন করে উন্মুক্ত দরপত্রের দিকে যাওয়া হয়। এ পরিবর্তন নিয়ে ইউনিসেফ উদ্বেগ জানিয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। আশঙ্কা ছিল, নতুন প্রক্রিয়ায় সরবরাহ বিলম্বিত হতে পারে। এখানেই বর্তমান সরকারের নীতিগত দায়ের প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
কারণ, কোনো প্রতিরোধযোগ্য রোগের ক্ষেত্রে টিকা সরবরাহের ধারাবাহিকতা একটি মৌলিক বিষয়। সম্ভাব্য বিলম্বের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও কেন সংগ্রহ পদ্ধতি পরিবর্তন করা হলো, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরবরাহ ঝুঁকি কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছিল এবং সংকট দেখা দেওয়ার পর কেন দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হলো—এসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।
তবে পুরো বিপর্যয়ের দায় এককভাবে ইউনূস সরকারের ওপর চাপানোও বাস্তবতার পূর্ণ চিত্র হবে না। টিকাদানের দুর্বলতা এক দিনে তৈরি হয়নি। কোভিড-পরবর্তী সময়ে নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতি, প্রশাসনিক দুর্বলতা, মাঠপর্যায়ের নজরদারি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা—সব মিলিয়েই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের সময়ে নীতিগত পরিবর্তন ও সরবরাহ বিলম্ব যদি সংকটকে আরও বাড়িয়ে থাকে, তাহলে সেই সিদ্ধান্তের দায়ও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। আরেকটি বড় প্রশ্ন জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় পর্যায়ে কর্মসূচি হওয়ার কথা থাকলেও সেটি পিছিয়ে যায়। পরে ২০২৬ সালের এপ্রিলে জরুরি কর্মসূচি শুরু করতে হয়। অর্থাৎ সংক্রমণ যখন ইতোমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে, তখনো দেশজুড়ে প্রয়োজনীয় টিকাদান কার্যক্রম মাঠে নামেনি।
৫ এপ্রিল প্রথমে ৩০টি উচ্চঝুঁকির উপজেলায় জরুরি কর্মসূচি শুরু করা হয়। পরে তা দেশব্যাপী সম্প্রসারিত হয়। ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও গ্যাভির সহায়তায় পরিচালিত এ কর্মসূচিতে শেষ পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি শিশু টিকার আওতায় আসে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—এই উদ্যোগ যদি আরও আগে নেওয়া হতো, তাহলে কি সংক্রমণের বিস্তার এতটা ভয়াবহ হতো? আরেকটি অসঙ্গতি উঠে এসেছে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রায়।
জরুরি কর্মসূচিতে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সি প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে লক্ষ্য ধরা হয়েছিল। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ১ কোটি ৯৭ লাখের বেশি শিশু টিকা পেয়েছে। অথচ একই বয়সি শিশুদের নিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনে অন্তর্ভুক্তির সংখ্যা ছিল প্রায় ২ কোটি ২৬ লাখ। দুই কর্মসূচির হিসাবের পার্থক্য প্রায় ৪৬ লাখ।
এই ব্যবধানের ব্যাখ্যা জরুরি। একই বয়সি শিশুদের তালিকা যদি একটি জাতীয় কর্মসূচিতে এত বড় হয়, তাহলে হাম টিকাদানের সময় সেই শিশুদের একটি বড় অংশ কোথায় গেল—এ প্রশ্নের উত্তর ছাড়া টিকাদান কর্মসূচির প্রকৃত কভারেজ বোঝা কঠিন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেনের বক্তব্যে সংকটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে—মাইক্রো-প্ল্যানিং।
নিয়মিত ইপিআই কর্মসূচিতে প্রথমে টিকার উপযোগী শিশুদের তালিকা তৈরি করা হয়। এরপর তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ, টিকাদানের স্থান ও সময় নির্ধারণ এবং বাড়ি, স্কুল বা স্থানীয় কেন্দ্রে সেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। জরুরি কর্মসূচিতে দ্রুত মাঠে নামার কারণে এই প্রস্তুতি যথাযথভাবে করা সম্ভব হয়নি। ফলে কোথাও মানুষকে উপজেলা হাসপাতালে গিয়ে টিকা নিতে হয়েছে, আবার কোথাও বাড়ি বাড়ি যোগাযোগ বা মাইকিংয়ের মতো উদ্যোগ যথেষ্ট ছিল না। ফলে যারা নিজেরা কেন্দ্রে আসতে পারেনি, তাদের একটি অংশ বাদ পড়ে গেছে।
বিশেষ করে ভাসমান, ঠিকানাবিহীন ও পথশিশুদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা না থাকলে কাগজে কভারেজ বাড়লেও প্রকৃত জনগোষ্ঠী সুরক্ষিত হয় না। টিকাদানের ঘাটতির সঙ্গে চিকিৎসাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও সংকটকে তীব্র করেছে।
ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের রোগীদের জন্য ৬০টি শয্যা থাকলেও রোগীর চাপ সামলাতে অনেককে মেঝেতে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। ১ হাজার ৩৫০ রোগীর সক্ষমতার হাসপাতালটিতে রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৩৫০ ছাড়িয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডেঙ্গু। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪২ হাজার ছাড়িয়েছে। ফলে একই সময়ে দুই সংক্রামক রোগের চাপ সামলাতে গিয়ে স্বাস্থ্যব্যবস্থা অতিরিক্ত চাপে পড়েছে।
হামের রোগীদের ক্ষেত্রে শিশুদের অপুষ্টি, নিউমোনিয়া ও অন্যান্য জটিলতা মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায়। তাই শুধু টিকা নয়, উপজেলা ও জেলা পর্যায়েই পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন পরিবারের কথাও, যাদের সন্তান অসুস্থ হওয়ার পর এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরতে হয়েছে। এক শিশুর মা জানিয়েছেন, টিকা দেওয়ার সময় সন্তান অসুস্থ থাকায় টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে টিকাদান কেন্দ্রে গিয়ে টিকা না পাওয়ার অভিজ্ঞতাও হয়েছে।
এ ধরনের ঘটনা দেখায়, সমস্যাটি শুধু ‘মানুষ টিকা নেয়নি’—এত সরল নয়। কোথাও পরিবার টিকা দিতে পারেনি, কোথাও টিকা মেলেনি, কোথাও কর্মসূচির তথ্য পৌঁছেনি। অর্থাৎ চাহিদা ও সরবরাহ—দুই দিকেই ঘাটতি ছিল।
ডা. মুশতাক হোসেনের মতে, শুধু টিকা নিতে আসা শিশুদের টিকা দিলেই হবে না; যারা বাদ পড়েছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে। ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সি টিকাবঞ্চিত শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় আনার পাশাপাশি ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সি শিশুদের মধ্যেও টিকাদানের ঘাটতি চিহ্নিত করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে ভাসমান শিশুদের জন্য ভ্রাম্যমাণ টিকাদান ব্যবস্থা, উপজেলা পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ এবং গুরুতর রোগীদের স্থানীয় পর্যায়েই চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। জ্বরের ক্ষেত্রে হাম ও ডেঙ্গু—দুই সম্ভাবনাই বিবেচনায় রেখে পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ জরুরি।
বাংলাদেশে হামের এই বিপর্যয়কে শুধু একটি রোগের প্রাদুর্ভাব হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি রাষ্ট্রীয় টিকাদান ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের মান নিয়ে বড় পরীক্ষা।
দীর্ঘমেয়াদি ব্যর্থতার দায় যেমন আগের সময়গুলোর ওপর রয়েছে, তেমনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টিকা সংগ্রহের পদ্ধতি পরিবর্তন, সরবরাহ বিলম্ব এবং জাতীয় কর্মসূচি পিছিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তগুলোর দায়ও খতিয়ে দেখা দরকার।
বিশেষ করে ইউনিসেফের সতর্কতার পরও যদি সংগ্রহ পদ্ধতি পরিবর্তন করা হয়ে থাকে, তাহলে সিদ্ধান্তটি কে নিয়েছিলেন, কী ধরনের ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়েছিল এবং সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিকল্প ব্যবস্থা কেন আগে নেওয়া হয়নি—এসব প্রশ্নের উত্তর প্রকাশ্যে আসা প্রয়োজন। টিকা সংগ্রহের নথি, ক্রয় প্রক্রিয়া, সরবরাহের সময়সূচি, জাতীয় ক্যাম্পেইন পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং মাঠপর্যায়ের কভারেজ—সবকিছুর স্বাধীন পর্যালোচনা জরুরি।
কারণ হাম প্রতিরোধযোগ্য। শিশুর মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী ছিল না। বহু বছর যে রোগকে টিকার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছিল, সেটিই যদি আবার হাজার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে প্রশ্ন শুধু ভাইরাসের নয়—প্রশ্ন রাষ্ট্রের প্রস্তুতি, সিদ্ধান্ত ও জবাবদিহির।
বাংলাদেশের সামনে এখন দুটি কাজ—সংক্রমণ থামানো এবং কেন এই পরিস্থিতি তৈরি হলো, তার উত্তর খুঁজে বের করা। প্রথমটি জরুরি, দ্বিতীয়টি ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য।