তথ্যপ্রযুক্তির অভূতপূর্ব কল্যাণে কেনাকাটা এখন হাতের মুঠোয়। ঘরে বসেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, পোশাক বা আধুনিক গ্যাজেট—সবই মিলছে এক ক্লিকে। কিন্তু এই অপরিসীম সুবিধার আড়ালেই গড়ে উঠেছে প্রতারণা ও ভেজালের এক বিশাল ও অন্ধকার নেটওয়ার্ক। একদিকে ফেসবুকের লাইসেন্সবিহীন ভুঁইফোড় পেজের ডিজিটাল সন্ত্রাস ও তথ্য চুরি, অন্যদিকে শহরের নামী এয়ারকন্ডিশনড শপিং মলের কাচের শোকেসে সাজানো ক্ষতিকর ও অনুমোদনহীন পণ্য—সব মিলিয়ে আজকের সাধারণ ভোক্তা যেন এক অদৃশ্য গোলকধাঁধায় বন্দি।
রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি বাজার, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমভিত্তিক দোকান এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব নকল পণ্য সহজেই বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) সাম্প্রতিক অভিযানে দেশের প্রসাধনী বাজারে ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির পরীক্ষায় বাজার থেকে সংগ্রহ করা ৩৪টি আমদানি কসমেটিকস ও স্কিন কেয়ার পণ্যের মধ্যে ১৭টিকেই ভেজাল, অনুমোদনহীন অথবা মানহীন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ পরীক্ষাধীন আমদানি করা প্রসাধনীর প্রায় অর্ধেকই অনিরাপদ। ফলে প্রযুক্তি যেমন দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করেছে, তেমনি তা স্ক্যামারদের জন্য একটি শক্তিশালী হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। এভাবে বিশ্বে প্রতি বছর গড়ে ৬০ কোটিরও বেশি মানুষ ডিজিটাল মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের স্ক্যামের ফাঁদে পড়ছে। আর প্রতিদিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রায় ১৬ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ। ডাটা বিশ্লেষণ প্লাটফর্ম এক্সপ্লোডিং টপিকসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বজুড়ে ঠিক কতজন মানুষ সাইবার প্রতারণার শিকার হচ্ছে তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তবে বিভিন্ন গবেষণা এ সমস্যার ভয়াবহতা সম্পর্কে একটি ধারণা দেয়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, সিঙ্গাপুর, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, মেক্সিকো, পর্তুগাল ও স্পেনসহ ১৬টি দেশে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, গত তিন বছরে দেশগুলোর প্রায় ২২ কোটি মানুষ ডিজিটাল স্ক্যামের শিকার হয়েছে। এসব দেশের বাসিন্দারা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক-অষ্টমাংশ হওয়ায় অনুমান করা হয়, বৈশ্বিক পরিসরে প্রতি তিন বছরে প্রায় ১৮২ কোটি মানুষ অনলাইনে প্রতারিত হচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে মোবাইলভিত্তিক স্ক্যাম এখনো প্রতারণার সবচেয়ে প্রচলিত মাধ্যমগুলোর একটি। এর মধ্যে আছে ফোনকল ও এসএমএস বার্তা।
এক জরিপ অনুযায়ী, গত ১২ মাসে ৬০ শতাংশের বেশি মানুষ ফোন বা টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে প্রতারণার চেষ্টা লক্ষ্য করেছে। ফোন ও টেক্সটের পর সবচেয়ে বেশি প্রতারণা হয় ই-মেইলে। এছাড়া অনলাইনভিত্তিক স্ক্যামের ছয়টি মাধ্যমের মধ্যে শীর্ষে আছে ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপ, সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল বিজ্ঞাপন।
বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ বলছে, গত এক বছরে ব্যক্তিগতভাবে (সরাসরি সাক্ষাতে) প্রতারণার শিকার হয়েছেন ১০ শতাংশের কম মানুষ। অর্থাৎ এখন স্ক্যামের বড় অংশই ঘটছে ডিজিটাল মাধ্যমে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় শপিং স্ক্যাম বা অনলাইন কেনাকাটার নামে প্রতারণা বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। ভুয়া পার্সেল ডেলিভারির নামে এসএমএস বা ই-মেইলে লিংক পাঠিয়ে কুরিয়ার কোম্পানি বা অনলাইন বিক্রেতা সেজে প্রতারকরা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য বা অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার মার্কেটপ্লেসে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে পণ্যের বিজ্ঞাপন দিয়ে অর্থ নেয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাকাউন্ট মুছে দেয়ার ঘটনাও বাড়ছে।
এদিকে আবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অগ্রগতির ফলে ভয়েস ক্লোনিংয়ের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘ভিশিং’ প্রতারণা আরো ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অপরাধীরা পরিচিত কণ্ঠ নকল করে ফোন করে ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য বের করে নিচ্ছে।
সাইবার সুরক্ষা কোম্পানি জেনের সাইবার সেফটি সিটিও সিগি স্টেফনিসন বলছেন, ‘অনলাইনে প্রতারণার ধরন এখন দ্রুত বদলাচ্ছে। ফাঁস হওয়া ব্যক্তিগত তথ্য ও উন্নত ডিজাইন টুলস বা এআই ব্যবহার করে প্রতারকরা খুব সহজেই কাউকে ধোঁকা দিতে পারছে।’
অন্যদিকে, বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিত্তিক ই-কমার্সে নকল পণ্যের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। অনেক পেজে বিদেশি নামি ব্র্যান্ডের ছবি ব্যবহার করে অর্ডার নেওয়া হলেও বাস্তবে সরবরাহ করা হয় অত্যন্ত নিম্নমানের পণ্য।
বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) সাম্প্রতিক এক অভিযানে ভীতিকর চিত্র সামনে এসেছে। খোলা বাজার থেকে সংগ্রহ করা ৩৪টি আমদানি করা স্কিন কেয়ার ও প্রসাধনী পণ্যের মধ্যে ১৭টিই (৫০শতাংশ) ভেজাল, অনুমোদনহীন ও মানহীন হিসেবে শনাক্ত হয়েছে।
অর্থনৈতিক ক্ষতি: বাংলাদেশে ৬,০০০ কোটি টাকার প্রসাধনী বাজারের প্রায় ৪০ শতাংশই এখন নকল পণ্যের দখলে।
রাজস্ব ক্ষতি: অসাধু বাণিজ্যের কারণে সরকার প্রতি বছর অন্তত ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
ব্যবসায়িক ক্ষতি: বৈধ উৎপাদনকারী ও আমদানিকারকরা বছরে ১৩,০০০ থেকে ১৫,০০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থ হাতিয়ে নিতে প্রতারকরা সবচেয়ে বেশি যে পদ্ধতি ব্যবহার করে তা হলো ব্যাংক ট্রান্সফার। যেহেতু বর্তমান যুগে মোবাইল ওয়ালেট বা ডিজিটাল মানিব্যাগের মাধ্যমে অর্থ আদান-প্রদানের ঘটনা বেশি ঘটে, স্ক্যামাররা এ সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছে। অনেকের মধ্যে প্রযুক্তিগত জ্ঞান কম থাকায় সহজেই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
প্রতিবেদন আরো বলছে, গত বছর স্ক্যামাররা বিশ্বজুড়ে মোট ১ দশমিক শূন্য ৩ ট্রিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নিয়েছে। এ বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রায় পুরোটাই আর ফিরে পাওয়া যায়নি। এছাড়া উন্নয়নশীল দেশগুলো যেমন পাকিস্তান, কেনিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা নিজেদের মোট জিডিপির প্রায় ৩ শতাংশের বেশি অর্থ হারিয়েছে ডিজিটাল স্ক্যামের কারণে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমভিত্তিক ব্যবসায় এখন নকল পণ্যের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। অনেক পেজে বিদেশি ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। ছবি একরকম হলেও হাতে পাওয়ার পর পণ্যের মান সম্পূর্ণ ভিন্ন পাওয়া যাচ্ছে।
অনেক ক্ষেত্রে ভোক্তারা অগ্রিম টাকা পরিশোধ করার পর প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। আবার রিটার্ন সুবিধা না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অভিযোগ জানানোর সুযোগ সীমিত থাকে।
চিকিৎসকরা বলছেন, নকল প্রসাধনী, ভেজাল খাদ্য ও নিম্নমানের ওষুধ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। নকল স্কিন কেয়ার পণ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে ত্বকে অ্যালার্জি, সংক্রমণ এমনকি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
একইভাবে নকল ওষুধ রোগ নিরাময়ের পরিবর্তে জটিলতা বাড়াতে পারে। শিশুখাদ্যে ভেজাল থাকলে শিশুদের পুষ্টিহীনতা ও নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক ও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে দেশের ওষুধ খাতে। যে ওষুধ মানুষের জীবন রক্ষার কথা, সেই ওষুধই এখন অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বাজারে নকল অ্যান্টিবায়োটিক, মেয়াদোত্তীর্ণ ও দূষিত স্যালাইন, ভেজাল সিরাপ এবং নিম্নমানের উপাদানে তৈরি ওষুধ ছড়িয়ে পড়ায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু চক্র ময়দা, চকপাউডারসহ নিম্নমানের উপাদান ব্যবহার করে বিভিন্ন রোগের ট্যাবলেট তৈরি করছে। হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও ক্যানসারের মতো স্পর্শকাতর রোগের নকল ওষুধও বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে। ফলে রোগ নিরাময়ের পরিবর্তে অনেক রোগীর শারীরিক জটিলতা আরও বাড়ছে এবং ঝুঁকিতে পড়ছে মানুষের জীবন।
বৈধ ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত: নকল পণ্যের কারণে বৈধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আসল পণ্যের মান ধরে রাখতে তাদের উৎপাদন ব্যয় বেশি হলেও নকল পণ্য কম দামে বাজার দখল করছে। এতে সৎ ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের ব্র্যান্ড ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন রপ্তানিকারকরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নকল ও ভেজাল প্রসাধনী শুধু জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিই তৈরি করছে না, একই সঙ্গে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলছে দেশের অর্থনীতিকেও।
বাংলাদেশ কসমেটিকস অ্যান্ড টয়লেট্রিজ ইম্পোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার প্রসাধনী বাজারের ৪০ শতাংশই এখন নকল পণ্যের দখলে। এর ফলে প্রতি বছর সরকার অন্তত তিন থেকে চার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। পাশাপাশি বৈধ ব্যবসায়ীরা ১৩ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
ব্যবসায়ী সংগঠন, ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নকল পণ্যের কারণে একদিকে যেমন ভোক্তারা প্রতারিত হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল রাজস্ব। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের বৈধ শিল্প ও ব্র্যান্ডগুলোর সুনাম।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, অধিকাংশ ভোক্তা কম দামে কিনতে গিয়ে না বুঝেই নকল পণ্য কিনছেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে আসল ও নকলের পার্থক্য এতটাই সূক্ষ্ম যে সাধারণ ক্রেতার পক্ষে তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।
ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, নকল পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত নজরদারি, অনলাইন বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ এবং ট্র্যাকিং ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নকল পণ্যের বিস্তার ঠেকাতে সরকার, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা—তিন পক্ষকেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বাজার তদারকি বাড়ানোর পাশাপাশি ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে।
সামান্য অসতর্কতা শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়াতে পারে। তাই কম দামের প্রলোভনে না পড়ে যাচাই-বাছাই করে পণ্য কেনাই এখন সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেছেন, দেশে এমন কোনো পণ্য নেই, যার নকল বাজারে পাওয়া যায় না। কোনো পণ্য কিনতে গেলেই ক্রেতাদের ভাবতে হয় সেটি আসল নাকি নকল। অথচ বিদেশে এ ধরনের শঙ্কা থাকে না।
তিনি আরও বলেন, দেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা থাকলেও নকল পণ্যের বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে নিম্নমানের বৈদ্যুতিক তার ব্যবহারের কারণে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
সফিকুজ্জামান উদাহরণ দিয়ে বলেন, একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়। কিন্তু সেখানে নিম্নমানের বা নকল বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার করলে অতিরিক্ত বিদ্যুতের চাপ সহ্য করতে না পেরে আগুন লাগার সম্ভাবনা দেখা দেয়। এতে শুধু প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিই নয়, শ্রমিকদের কর্মসংস্থানও হুমকির মুখে পড়ে।
ভোক্তা-অধিকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান: অনলাইন ও অফলাইন প্রতারণা রুখতে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত রাজধানীসহ দেশব্যাপী অভিযান জোরদার করেছে।
ডিজিটাল কমার্স সেল গঠন: বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ভোক্তা-অধিকার অধিদপ্তর যৌথভাবে ই-কমার্স জালিয়াতি রোধে বিশেষ সেল গঠন করেছে। ফেসবুক পেজে লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করা এবং অগ্রিম টাকা নিয়ে পণ্য না দেওয়া পেজগুলোর ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/রকেট) অ্যাকাউন্ট ট্র্যাক করে ফ্রিজ (স্থগিত) করা হচ্ছে।
অনুমোদনহীন গোডাউনে হানা: গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও ভোক্তা-অধিকার দপ্তর বিভিন্ন নামি ব্র্যান্ডের লোগো নকল করে তৈরি করা জুতা, কসমেটিকস ও ইলেকট্রনিক্স পণ্যের অবৈধ গুদামে অভিযান চালিয়ে কোটি কোটি টাকার পণ্য জব্দ ও সিলগালা করছে। অভিযানে দোষী সাব্যস্তদের বিরুদ্ধে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ (ধারা ৪৫ ও ৫৩) এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী সরাসরি ফৌজদারি মামলা দায়ের ও দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।