রাজধানীর কাঁচাবাজারে শীতের পূর্ণ আমেজ। দীর্ঘদিনের চড়া দাম পেরিয়ে অধিকাংশ সবজি এখন ৪০ থেকে ৫০ টাকার ঘরে নেমে এসেছে। শীতের মৌসুমি সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ বাড়ায় বাজারে স্বস্তি ফিরলেও শসা ও টমেটোর চড়া দাম ভোগাচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এদিকে, নতুন বছরের শুরুতেই ক্রেতা-ভোক্তাদের জন্য সুখবর আসছে চালের বাজার থেকে। মৌসুমের আমন ধানের সরবরাহে পাইজাম, গুটি, স্বর্ণা, ব্রি-২৮, শম্পা কাটারিসহ প্রায় সব ধরনের চালের দাম কমেছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাজধানীর মালিবাগ, রামপুরা, খিলগাঁও, মানিকনগরসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত এক সপ্তাহে প্রতি কেজি এসব চালের দাম কেজিপ্রতি ৩ টাকা পর্যন্ত কমেছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর (ডিএএম) বলছে, অধিকাংশ চাল গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কম দামে বিক্রি হচ্ছে। ধরনভেদে এ সময় চালের দাম কমেছে ২ দশমিক ৫২ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কমেছে পাইজাম, আটাশসহ মাঝারি মানের চালগুলোর দাম।
বিক্রেতারা বলছেন, এবার সরকারের গুদামে চালের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তাই বাজার থেকে সরকার ধান-চাল কিনছে ধীরগতিতে। এ ছাড়া আমনের উৎপাদনও ভালো এবং আমদানি বেড়েছে। ফলে চালের দাম কমেছে।
বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, গুটি, স্বর্ণাসহ মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫২ টাকা কেজি, এক সপ্তাহ আগে এই চালের দাম ছিল ৫০-৫৪ টাকা। ব্রি-২৮, ব্রি-২৯, পাইজামসহ মাঝারি মানের চালগুলো বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৬ টাকা কেজি। এর মধ্যে গত এক সপ্তাহে পাইজামে কমেছে কেজিতে ২ টাকা ও নতুন আটাশ চালের দাম কমেছে ৩ টাকা। জিরাশাইল, শম্পা কাটারিসহ কিছু কিছু সরু চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৮২ টাকায়। এসব চালের দাম কেজিপ্রতি ১ টাকা কমেছে। তবে মিনিকেট, কাটারি নাজির, জিরা নাজিরসহ কিছু কিছু সরু চালের দাম বেড়েছে।
মানিকনগর বাজারের চাল ব্যবসায়ী মরিয়ম রাইস স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. ইউসুফ বলেন, আমন মৌসুমের ধান থেকে যে চালগুলো আসে, সেগুলোর দাম অনেকটাই কমেছে। আরেকটু কমতে পারে। তবে কিছু চাল রয়েছে বোরো মৌসুমের ধান থেকে আসে। সেগুলোর দাম কিছুটা বাড়লেও বাজারে তা খুব বেশি প্রভাব ফেলেনি। কারণ, অন্য চালের সরবরাহ বেড়েছে।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তর বলছে, গত বছরের তুলনায় গুটি, স্বর্ণাসহ মোটা চালগুলো বিক্রি হচ্ছে ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ কমে। এ ছাড়া পাইজামসহ মাঝারি মানের চালগুলোর দাম কমেছে ৮ শতাংশ। শম্পা কাটারিসহ কিছু কিছু সরু চালের দাম কমেছে ২ দশমিক ৫২ শতাংশ।
বাংলাদেশ রাইস মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি কাউসার আলম বাবু বলেন, এখন চালের বাজার অনেকটাই নমনীয়। ইতিমধ্যে কোনো কোনো অঞ্চলে বোরো ধানের আবাদও শুরু হয়েছে। যদি বোরো ধানে বড় ধরনের বিপর্যয় না হয়, তবে এ বছর চালের বাজার অস্থির হওয়ার সম্ভাবনা আর নেই।
গত ১৭ ডিসেম্বরের হিসাবমতে, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি গুদামগুলোয় ১৬ লাখ ৪৯ হাজার টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। চাল ছাড়া ভোজ্যতেল, মসুর ডাল, আটা, ময়দা, চিনিসহ প্রায় সব ধরনের মুদিপণ্য গত সপ্তাহের দামে স্থির রয়েছে। এ ছাড়া সবজি, ডিম, মুরগিসহ বিভিন্ন পণ্যের বাজারে স্বস্তি রয়েছে। সবজির বাজারে স্বস্তি বাড়িয়েছে হরেক রকম শাক।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে প্রতি কেজি মুলা ও শালগম বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। এ ছাড়া শিম, বেগুন ও মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৫০ টাকা এবং পেঁপে ৪০ টাকায় মিলছে। ফুলকপি প্রতি পিস ৩০ থেকে ৪০ টাকা ও বাঁধাকপি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলুর কেজি এখন ৩০ টাকা। তবে পাকা টমেটো ও শসার কেজি এখনো ১০০ টাকায় স্থির রয়েছে। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে কেজি দরে ১২০ টাকা।
এ ছাড়া গাজর ৫০ টাকা, কাঁচা টমেটো ৪০ টাকা এবং পেঁয়াজের ফুল প্রতি মুঠো ১৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মালিবাগ বাজারে সওদা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আয়নাল হক বলেন, ‘আজ বাজারে এসে মনে হচ্ছে শীতের আমেজ লেগেছে। অন্য সময়ে সবজি অনেক বেশি দামে কিনতে হতো, সেই তুলনায় আজ দাম কম। অধিকাংশ সবজিই ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে। তবে দুই-একটি সবজির দাম বেশি। সব মিলিয়ে সবজির দাম তুলনামূলক কমেছে।’
ফার্মের মুরগির বাদামি ও সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০৮-১১৫ টাকা ডজন। ডিমের দাম কয়েক সপ্তাহ ধরেই এই দামের মধ্যে রয়েছে। ফার্মের মুরগির মধ্যে ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৭০ টাকা কেজি। বাজারে নতুন মুড়িকাটা জাতের পেঁয়াজের দাম আরও একটু কমে ৫০-৬০ টাকায় নেমেছে; গত সপ্তাহে যা ছিল ৫৫-৬৫ টাকা। তবে ভালো মানের বাছাই করা পেঁয়াজ কিনতে এখনো ৬৫-৭০ টাকা লাগছে। বাজার থেকে ধীরে ধীরে উঠে যাচ্ছে পুরোনো আলু। নতুন আলুর দামও কমে ২০-২৫ টাকা কেজিতে নেমেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে প্রতি কেজি মুলা ও শালগম বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। এ ছাড়া শিম, বেগুন ও মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৫০ টাকা এবং পেঁপে ৪০ টাকায় মিলছে। ফুলকপি প্রতি পিস ৩০ থেকে ৪০ টাকা ও বাঁধাকপি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলুর কেজি এখন ৩০ টাকা। তবে পাকা টমেটো ও শসার কেজি এখনো ১০০ টাকায় স্থির রয়েছে। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে কেজি দরে ১২০ টাকা।
এ ছাড়া গাজর ৫০ টাকা, কাঁচা টমেটো ৪০ টাকা এবং পেঁয়াজের ফুল প্রতি মুঠো ১৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মালিবাগ বাজারে সওদা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আয়নাল হক বলেন, ‘আজ বাজারে এসে মনে হচ্ছে শীতের আমেজ লেগেছে। অন্য সময়ে সবজি অনেক বেশি দামে কিনতে হতো, সেই তুলনায় আজ দাম কম। অধিকাংশ সবজিই ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে। তবে দুই-একটি সবজির দাম বেশি। সব মিলিয়ে সবজির দাম তুলনামূলক কমেছে।’
বিক্রেতারা বলছেন, মৌসুম চলায় বাজারে সবজির প্রচুর সরবরাহ রয়েছে।
রামপুরা বাজারের সবজি বিক্রেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, বাজারে সবজির সরবরাহ প্রচুর, সব ধরনের সবজির দাম এখন কম যাচ্ছে। সরবরাহ বাড়ায় মূলত দাম কমেছে। তবে রাস্তা খরচ ও বিভিন্ন সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য না থাকলে সাধারণ মানুষ আরও কম দামে সবজি কিনতে পারত।
দীর্ঘদিন সবজির দাম বাড়তি থাকার পর এখন শীত মৌসুমে দাম একেবারেই কমে এসেছে বলে তিনি জানান।