রাজনীতিতে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি রক্ষায় পাহাড়সম দৃঢ়তা দেখানোর নজির বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই বিরল নেতৃত্বের উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন কর্মসূচির আলোকে এবং মা দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার দেখানো পথেই রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন তারেক রহমান। তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম মাসেই ৭০টি উদ্যোগ নিয়েছেন, যা শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়—বরং নেতৃত্বের এক নতুন দর্শনের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
প্রটোকল কমানো, সচিবালয় থেকে হেঁটে ওসমানী মিলনায়তনে যাওয়া, সাদামাটা শুভ্র পোশাক পরা, মন্ত্রী-এমপি ও কর্মকর্তাদের সময়মতো অফিসে উপস্থিতির নির্দেশ—সব মিলিয়ে তার প্রথম মাস যেন একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে; ক্ষমতা মানুষের জন্য, দূরত্বের জন্য নয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার শপথ নিয়ে সরকার গঠন করেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এ সরকার গতকাল শুক্রবার, ৩৭ দিন পার করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই সময়ের মধ্যেই ইশতেহার অনুযায়ী বেশ সংখক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সূচনা করে এক ঝাঁক মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে— মহান আল্লাহর উপর বিশ্বাস ও আস্থা (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) সংসদে বসানো এবং সংসদকে জনগণের সংসদ হিসেবে ঘোষণা করা। প্রতিশোধ নয় প্রতিহিংসা নয় ভালোবাসা দিয়ে মানুষকে আবদ্ধ করার কালচার তৈরি করা। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর বিরোধীদলীয় নেতাদের বাড়ি যাওয়া, ইফতারে অংশগ্রহণ করা। বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। জুলাই যোদ্ধাদের ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া। জনগণের মূল্য বোঝে এমন কর্মকর্তাদের নিয়োগ প্রদান করা। মিথ্যা এবং ভৌতিক মামলা থেকে নেতা কর্মীদের মুক্তি দেয়া। বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা সীমিত করা, প্রাতিষ্ঠানিক জাকাত ব্যবস্থা চালু করা, বাজার মনিটরিং ও দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীলতা, শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ, রপ্তানিমুখী শিল্পে প্রণোদনা, বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠান পুনঃচালু, স্থানীয় উদ্যোগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ইপিজেড- বিসিক এলাকা ও হাই-টেক পার্কে সম্ভাবনাময় ব্যবসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়। ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ, ক্রীড়া ও সংস্কৃতির উদ্যোগ, মাদকবিরোধী অভিযান-সীমান্তবর্তী পয়েন্টে সিসিটিভি ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে চোরাচালান ও মাদক প্রবাহ কমানো। মুক্তিযুদ্ধ তালিকা যাচাই করে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা হতে বাদ দিয়ে প্রকৃতদের সুবিধা নিশ্চিত। শ্রমবাজার পুনরুদ্ধার, চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি, ওএমএস-এর মাধ্যমে অতি দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য স্বল্পমূল্যে চাল সরবরাহ। পুনর্ভর্তি ফি বাতিল করে প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি স্কুলে বাৎসরিক পুনঃভর্তি ফি নেওয়া বন্ধ করা। মেধাভিত্তিক ভর্তি নিশ্চিত করে লটারি পদ্ধতি বাতিল ও স্বচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা চালু, শিক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরানো। দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা জোরদার-পুলিশ ও গোয়েন্দা কার্যক্রম শক্তিশালী করা , সন্ত্রাস ও চোরাচালান রোধে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া। নারীর নিরাপত্তা ও পিংক বাস চালুর ব্যাবস্থা করা। শহর ব্যবস্থাপনায় স্মার্ট প্রযুক্তি প্রয়োগ করে স্মার্ট ট্রাফিক ও নাগরিক সেবা ব্যবস্থার উন্নয়ন। শহীদ সেনা দিবস ঘোষণা- ২৫ ফেব্রুয়ারি ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ পালন ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ বিচারে গুরুত্বারোপ। ঢাকা হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালু। বিমানবন্দর ও চলন্ত ট্রেনে ফ্রি ওয়াইফাই, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব নীতি প্রণয়ন ও ব্যবহার নিশ্চিত, গ্রিন এনার্জি সচেতনতা বৃদ্ধি। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ক্লিনিক কার্যক্রম জোরদার-প্রধানত গ্রামীণ ও পৌর এলাকায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি-আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে চাষাবাদে দক্ষতা ও উৎপাদন বৃদ্ধি। কৃষি পণ্যের বাজার ও মূল্য সংরক্ষণে কৃষকের আয় নিশ্চিত করতে বাজার পর্যবেক্ষণ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম। রপ্তানিমুখী শিল্প সম্প্রসারণে বিদেশি বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণ ও শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি। নতুন শিল্প খাতের মাধ্যমে নারীর কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, নতুন গার্মেন্টস জোন ও শিল্প ক্লাস্টার উন্নয়ন, স্থানীয় উদ্যোগ ও কর্মসংস্থান। শ্রমবাজার পুনরুদ্ধার, মালয়েশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে বাধা দূর করার জন্য সফল কূটনৈতিক উদ্যোগ। পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপনের প্রক্রিয়া ইত্যাদি।
নারীপ্রধান দরিদ্র পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড; ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় সেবকদের সম্মানি প্রদান; ক্ষুদ্র কৃষকদের কৃষিঋণ মওকুফ; সব নির্বাচনী এলাকার অসহায় ও গরিবদের জন্য শাড়ি, থ্রিপিস ও হাজি রুমাল বরাদ্দ এবং সব পরিচ্ছন্নতা কর্মীর জন্য ঈদ উপহার। এছাড়া কৃষি খাতে সহায়তা দিতে ‘কৃষক কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা পয়লা বৈশাখ থেকে শুরু হওয়ার কথা। প্রাথমিক পর্যায়ে টাঙ্গাইলের ১১ উপজেলায় ২১ হাজার ৫০০ কৃষককে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বছরে আড়াই হাজার টাকা প্রণোদনা দেওয়া হবে। এ ছাড়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের দরিদ্র পরিবারগুলোকে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাইলট প্রকল্প হিসেবে ৩৭ হাজার ৫৬৭ পরিবার এই সুবিধা পাচ্ছে। এটি ধাপে ধাপে সারাদেশে সম্প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে শিগগিরই ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে এসব কর্মসূচির মধ্যে অন্যতম সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন প্রকল্প। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিএনপি সরকার গঠনের পর জনগণের কল্যাণ ও সুশাসন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলো নিয়েছেন।
উল্লেখযোগ্য উদ্যোগগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে-নির্বাচনে জয়লাভের পর বড় উদযাপন না করা, জনগণের প্রতি নম্রতা প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক সংহতি ও সামাজিক ঐক্য নিশ্চিত করা। বিরোধী দলকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা, সংসদে ও সংসদের বাইরে বিরোধী দলের প্রতি শালীন আচরণ এবং অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা। প্রশাসনে শৃঙ্খলা ও অফিস সময় নিশ্চিতকরণ। শনিবারও প্রধানমন্ত্রীর অফিস খোলা রাখার ব্যাবস্থা এবং কর্মকর্তাদের যথা সময়ের মধ্যে অফিসে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সাধারণ চলাফেরায় ট্রাফিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন, জনগণও আইন মেনে চলতে উৎসাহিত হচ্ছে। এমপিদের বিশেষ সুবিধা বাতিল। শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট গ্রহণ না করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত, যা জনগণের আস্থা বৃদ্ধি করেছে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাতে চাপ তৈরি হওয়ায় সরকার ইতোমধ্যে কয়েকটি তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি বেসরকারি খাতে এলএনজি আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা মজুত রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা এবং জ্বালানি তেল ক্রয়ে সীমা নির্ধারণের মতো পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ফলে সমগ্র বিশ্বে জ্বালানি সংকটের মধ্যেও তারেক রহমানের সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি না করায় যা ভোক্তাদের কাছে এক আস্থা- ভরসার প্রতীক হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ৩৭ দিনে রাষ্ট্র পরিচালনার ধরনে এক আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে ফ্যাসিবাদের জাঁতাকলে পিষ্ট রাষ্ট্রযন্ত্রকে সংস্কার করার পাশাপাশি তিনি জনগণের মৌলিক চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তিনি নিজে ‘ভিভিআইপি কালচার’ বর্জন করে যে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন, তা নজিরবিহীন। এছাড়া দুর্নীতিবিরোধী অভিযান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ সুগম করতে তার কঠোর নির্দেশনাগুলো দেশের ভেতরে ও বাইরে সরকারের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করেছে।
রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, এসবই তাৎক্ষণিক কৌশল। কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলো চাপের মুখে পড়তে পারে। জ্বালানি আমদানি ব্যয় বাড়লে অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় ব্যয় সংকোচন বা অগ্রাধিকার পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে চলমান কর্মসূচিগুলোর ওপর।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, খাল খনন কর্মসূচি : তারেক রহমান কেবল স্বপ্ন দেখাননি বরং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের রূপরেখা তৈরি করে তা হাতে-কলমে প্রমাণ করছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে তিনি পিতার সেই কালজয়ী ‘খাল কাটা কর্মসূচি’কে আধুনিকায়ন করে পুনরায় জাতীয় এজেন্ডায় পরিণত করেছেন। সরকার গঠনের মাত্র এক মাসের মাথায় নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম বড় এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দৃষ্টান্ত দেখিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন—এটি কেবল কোনো রাজনৈতিক স্লোগান ছিল না, বরং এটি ছিল একটি অর্থনৈতিক বিপ্লবের অঙ্গীকার।
১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন খাল কাটা কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন, তখন সেটি কেবল পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ছিল না, ছিল একটি আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতির বীজ বপন। আজ কয়েক দশক পর তারই সন্তান তারেক রহমান সেই কর্মসূচির মশাল হাতে নিয়েছেন। নির্বাচনী ইশতেহারে তিনি অঙ্গীকার করেছিলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নদী ও খাল খনন হবে তার সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
খাল খনন কর্মসূচি কেন বর্তমান সময়ে অপরিহার্য, তা বুঝতে হলে আমাদের জলবায়ু পরিবর্তন এবং কৃষি ব্যবস্থার দিকে তাকাতে হবে। বাংলাদেশের কৃষি এখনো অনেকাংশেই বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। বর্ষায় বন্যা আর খরায় পানির অভাব—এই দ্বিমুখী সংকট থেকে পরিত্রাণের একমাত্র পথ হলো নদী ও খালগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা। তারেক রহমানের এই উদ্যোগ কেবল মৃত খালগুলোকে প্রাণ দেবে না, বরং কয়েক কোটি একর কৃষিজমিকে সেচ সুবিধার আওতায় নিয়ে আসবে, যা আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা: শহীদ জিয়ার সময় মানুষ কোদাল হাতে যেভাবে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে খাল খনন করেছিল, সেই ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ পুনরাই শুরু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক কর্মীদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে যে, এই খাল তাদের সম্পদের অংশ। যখন মানুষ নিজে থেকে সম্পৃক্ত হবে, তখন সেখানে দুর্নীতির সুযোগ কমে যাবে এবং কাজের গুণমান নিশ্চিত হবে।
বৈজ্ঞানিক ও টেকসই পরিকল্পনা: কেবল যত্রতত্র মাটি কাটলেই হবে না। আধুনিক প্রকৌশল বিদ্যা ব্যবহার করে পানির প্রবাহ ও ভৌগোলিক ঢাল বিশ্লেষণ করে নকশা করতে হবে। ড্রেজিং প্রযুক্তির পাশাপাশি স্থানীয় পলি অপসারণের সহজ উপায়গুলো ব্যবহার করতে হবে যাতে বছরের পর বছর ধরে খালের নাব্যতা বজায় থাকে।
সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা: খাল খননের সঙ্গে মৎস্য চাষ, সামাজিক বনায়ন এবং হাঁস পালনের মতো কার্যক্রম যুক্ত করতে হবে। খালের পাড়ে পরিকল্পিতভাবে ফলদ ও বনজ গাছ রোপণ করলে তা বজ্রপাত প্রতিরোধ এবং মাটির ক্ষয় রোধে কাজ করবে। সেই সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিকল্প আয়ের উৎস তৈরি হবে।
তদারকি ও স্বচ্ছতা: বড় প্রকল্পে সবচেয়ে বড় ভয় থাকে অর্থ অপচয় ও দুর্নীতির। তারেক রহমানের সরকার যেহেতু স্বচ্ছতার ওপর জোর দিচ্ছে, তাই প্রতিটি খালের জন্য একটি ‘ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেম’ থাকা প্রয়োজন। প্রতিটি খালের বর্তমান অবস্থা এবং খনন পরবর্তী ফলাফল ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে জনগণের সামনে উন্মুক্ত রাখতে হবে।
দখলমুক্ত করা: খালের নাব্যতা ফেরানোর প্রথম ধাপ হলো অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে খালগুলোকে উদ্ধার করা। রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে যারা খাল দখল করে ঘরবাড়ি বা কারখানা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।
তারেক রহমান কেবল খাল কাটার কথা বলছেন না, তিনি আসলে একটি ‘ব্লু ইকোনমি’ বা নীল অর্থনীতির ভিত গড়তে চাচ্ছেন। অভ্যন্তরীণ নৌপথ সচল হলে পণ্য পরিবহনের খরচ কমে যাবে, যা সরাসরি বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলবে। এছাড়া এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে, ফলে পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।
শহীদ জিয়ার ‘১৯ দফা’ থেকে শুরু করে আজকের ‘ভিশন’—তারেক রহমানের ৩১ দফা তার নেতৃত্বের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন তিনি তার পিতার যোগ্যতম উত্তরসূরি। গত এক মাসাধিককাল ধরে তার নির্বাচনী ওয়াদাগুলো একের পর এক বাস্তবায়ন করে চলেছেন। তারেক রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশ আত্মমর্যাদাশীল ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পথে হাঁটছে।
নতুন প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপগুলো প্রশাসন ও রাজনীতিতে এক ধরনের নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম মাসের পদক্ষেপগুলো সমাজ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তিনি সরকারকে জন অংশগ্রহণমূলক করার চেষ্টা করছেন। নির্বাচনের ইশতিহারে যা প্রকাশ করেছেন, তা দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যে দৃশ্যমান। ফ্যামিলি কার্ড পাইলট প্রক্রিয়ায় অনেকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। অতীতে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচিত হওয়ার পর ইশতিহার এড়িয়ে যেত। এবার ভিন্নতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে —বর্তমান সরকার যা বলেছে তা বাস্তবায়ন করছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ এবং বিশ্বাসের সম্পর্ক আরও মজবুত হচ্ছে।