বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
৫ চৈত্র ১৪৩২

ছোট আকারের মিডিয়া-কর্মীদের শেয়ার দেওয়ার সুপারিশ

প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ২২ মার্চ, ২০২৫ ১৯:৫৯

ছোট আকারের মিডিয়া কোম্পানিতে কর্মীদের শেয়ার দেওয়া বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে বলে সুপারিশ করা হয়েছে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে।

শনিবার (২২ মার্চ) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

গণমাধ্যমের মালিকানা সংক্রান্ত সুপারিশে বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণমাধ্যমের মালিকানার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং একক মালিকানা ও একাধিক গণমাধ্যমের মালিকানা অর্জনের মাধ্যমে গণমাধ্যমের কেন্দ্রীকরণের বিষয়গুলোয় সংস্কার শুরু হয়েছে।

‘এমনকি দর্শক বা পাঠকের কত শতাংশ একটি গণমাধ্যমের গ্রাহক-ভোক্তা, এর ভিত্তিতেও সেই গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের নতুন প্রকল্পের অনুমোদন বা আবেদন প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে। একক মালিকানার পরিবর্তে মালিকানা বিস্তৃত করার প্রয়োজনীয়তার কথা আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বাধীন কমিশন তার প্রতিবেদনে বলেছিল।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইন্দোনেশিয়ায় গণমাধ্যম চালু করার অধিকার দেশটির যেকোনো নাগরিকের রয়েছে; কিন্তু সেই গণমাধ্যমকে করপোরেশন হিসাবে কাজ করতে হয়, যার অর্থ হচ্ছে তা পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হবে, যাতে সাধারণ মানুষও শেয়ার ধারণ করতে পারবে।

‘একই সঙ্গে দেশটির মিডিয়া অ্যাক্টে সাংবাদিক-কর্মচারীদের শেয়ার দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। উন্নত বিশ্বেও অধিকাংশ বড় গণমাধ্যম কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির কারণে কোম্পানির উদ্যোক্তা বা ব্যবস্থাপকদের শেয়ারহোল্ডারদের কাছে অন্তত জবাবদিহি করতে হয়।’

এতে আরও বলা হয়, তথ্যের সঙ্গে মানুষের বিশ্বাস বা আস্থার বিষয়টি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা জনগণের আমানতের সঙ্গে তুলনীয়। অথচ ব্যাংকের আমানতকে জনগণের আমানত বিবেচনায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি বাধ্যতামূলক করা হলেও আমাদের দেশে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তেমনটি করা হয়নি।

সুপারিশে বলা হয়, ব্যাংকিং খাতে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি বা একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালক পারিবারিকভাবে ১০ শতাংশের বেশি শেয়ারধারণ করতে পারে না এবং কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে একই সময়ে পরিবারের তিনজনের বেশি পরিচালক থাকতে পারেন না। কিন্তু গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এক্ষেত্রে তাই পরিবর্তন প্রয়োজন।

‘কমিশন প্রথম পর্যায়ে মাঝারি ও বৃহৎ মিডিয়া কোম্পানিগুলোকে সর্বসাধারণের জন্য শেয়ার ছাড়া ও স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া সমীচীন মনে করছে। উদ্যোক্তা পরিচালক ও ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি বা একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শেয়ার ধারণের সীমা ২৫ শতাংশের মধ্যে সীমিত করা ও প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যে শেয়ারবণ্টন বাধ্যতামূলক করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। কর্মীদের শেয়ার ধারণের সর্বোচ্চ সীমা পাঁচ শতাংশেই সীমিত রাখতে হবে, যাতে উদ্যোক্তারা কর্মীদের সঙ্গে মিলে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে না পারেন।’

এতে ছোট আকারের মিডিয়া কোম্পানিতে কর্মীদের শেয়ার দেওয়া বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে বলে সুপারিশে বলা হয়েছে।

‘একই কোম্পানি, গোষ্ঠী, ব্যক্তি, পরিবার, উদ্যোক্তা যাতে একই সঙ্গে একাধিক মাধ্যমের মালিক হতে না পারেন, সেজন্য বিশ্বের বহুদেশে ক্রস-ওনারশিপ (টেলিভিশনের মালিক সংবাদপত্রের মালিক হতে পারেন না, বা সংবাদপত্রের মালিক টেলিভিশন চ্যানেলের মালিক হতে পারেন না) নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’

এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও এটি আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ‘ব্রিটেনেও কাছাকাছি ধরনের এক আইনে টেলিভিশনের মালিক কোনো স্থানীয় পত্রিকায় ২০ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারেন না। ভারতে এ ধরনের একটি বিল পার্লামেন্টে বিতর্কের অপেক্ষায় আছে। আমাদের দেশেও বেসরকারি খাতে টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমোদন দেওয়ার সময় এই মর্মে সিদ্ধান্ত ও প্রজ্ঞাপন হয়েছিল বলে তৎকালীন তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ গণমাধ্যম কমিশনের কাছে পেশ করা লিখিত বক্তব্যে জানিয়েছেন। তবে সেই প্রজ্ঞাপন মন্ত্রণালয়ে খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্পষ্টতই সরকারগুলো ওই নীতি অনুসরণ করেনি।’

সুপারিশে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক উত্তম চর্চা হচ্ছে গণমাধ্যমের কেন্দ্রীকরণ যেন কোনোভাবেই ঘটতে না পারে, সেই ব্যবস্থা গ্রহণ। কমিশন মনে করে, আমাদেরও অচিরেই অনুরূপ পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। ক্রস-ওনারশিপ নিষিদ্ধ করে অর্ডিন্যান্স জারি করা যায় এবং যেসব ক্ষেত্রে এটি বিদ্যমান, সেগুলোয় পরিবর্তন আনার নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে তাদের ব্যবসা পুনর্গঠনের লক্ষ্য ঠিক করে দেওয়া প্রয়োজন।

‘এগুলো নানা পদ্ধতিতে হতে পারে। যেসব কোম্পানি/গোষ্ঠী/প্রতিষ্ঠান/ব্যক্তি/পরিবার একই সঙ্গে টেলিভিশন ও পত্রিকার মালিক তারা যে কোনো একটি গণমাধ্যম রেখে অন্যগুলোর মালিকানা বিক্রির মাধ্যমে হস্তান্তর করে দিতে পারে। অথবা দুইটি মিডিয়ার (টেলিভিশন ও পত্রিকাকে) সাংবাদিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীকে একত্রিত করে আরও শক্তিশালী ও বড় আকারের একটি মিডিয়া (টেলিভিশন অথবা দৈনিক পত্রিকা) পরিচালনা করতে পারে,’ বলা হয় সুপারিশে।


যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন সঠিক নয়: প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ

প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। তিনি বলেছেন, সেই কারণে আমাদের কিছু ট্রেনের সময় বিপর্যয় ঘটেছে। সবগুলো না, দুটি ট্রেন। একতা এবং নীলসাগর। এতে পরিবেশ কিছুটা নষ্ট হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে দেশের প্রধান রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করতে এসে তিনি এ কথা বলেন। হাবিবুর রশীদ হাবিব বলেন, ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে স্টেশন মাস্টার ও ট্রেনের দুই লোকোমাস্টারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আপাতত আমাদের ট্রেন ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। রেলের মাঠ পর্যায় থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। সবাই মাঠের সক্রিয় আছেন।

তিনি বলেন, দুইটা ট্রেনের সময় বিলম্বিত হওয়ায় যাত্রীসেবা কিছুটা বিঘ্নিত হয়েছে। আমি সেটা পরিদর্শন করতে এখানে এসেছি। আমি আসার এক ঘণ্টা আগেও আপনার নিশ্চয় জানতেন না আমি এখানে আসব।

এবারের স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রায় ভাড়া আদায়ের এই নৈরাজ্য গত ২০ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করতে চলেছে বলে দাবি করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঈদে বাসে ও মিনিবাসে শুধুমাত্র অতিরিক্ত ভাড়া হিসেবেই যাত্রীদের পকেট থেকে প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা বাড়তি হাতিয়ে নেওয়া হবে।

তবে যাত্রী কল্যাণ সমিতির এই প্রতিবেদন সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ভাড়া-সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। এসময় তিনি স্টেশনে উপস্থিত যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দুটি ট্রেন ছাড়া বাকি ট্রেনগুলোর চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ঈদযাত্রার সামগ্রিক অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ঈদের পর পুরো ব্যবস্থার মূল্যায়ন করা হবে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এবারের ঈদে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দূরপাল্লার বাস-মিনিবাসে প্রায় ৪০ লাখ ট্রিপ এবং সিটি সার্ভিসে আরো প্রায় ৬০ লাখ ট্রিপ যাত্রী যাতায়াত করতে পারে। গত ১৪ মার্চ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৮৭ শতাংশ বাস ও মিনিবাসেই সরকারি চার্ট অমান্য করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।


জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করবেন রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় ঈদগাহে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহ ময়দান পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতিও বরাবরের মতো এখানে ঈদের নামাজ আদায় করবেন। ফলে এবার একসঙ্গে দুই ভিভিআইপিকে নামাজ আদায় করতে দেখা যাবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, জাতীয় ঈদগাহে নারী-পুরুষ মিলিয়ে প্রায় ৪০ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। ঈদগাহের সার্বিক প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি জানান, জাতীয় এই ময়দানে নারীসহ প্রায় ৪০ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জামাত শেষে সাধারণ মুসল্লিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের সুযোগ পাবেন। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে যদি ঈদগাহ ময়দান নামাজ আদায়ের অনুপযোগী হয়ে পড়ে, সেক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধান ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীজুড়ে নিশ্ছিদ্র ও বহুমুখী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার জানিয়েছেন, জাতীয় ঈদগাহ ও বায়তুল মোকাররমসহ প্রধান জামাতগুলোতে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা বলয় নিশ্চিত করা হবে।

প্রতিটি প্রবেশপথে আর্চওয়ে এবং মেটাল ডিটেক্টর বসানো হবে এবং পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে মৎস্য ভবন, প্রেসক্লাব এবং শিক্ষা ভবন এলাকাকে এন্ট্রি পয়েন্ট হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ঈদগাহের আশপাশের রাস্তায় সব ধরনের যানবাহন প্রবেশ ও পার্কিং নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের বিশেষায়িত শাখা সিটিটিসি, ডগ স্কোয়াড এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। ডিএমপি কমিশনার আরও জানান, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ওয়াচ টাওয়ার, ফায়ার সার্ভিস এবং মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

নারীদের জন্য ঈদগাহে প্রবেশের পৃথক গেট ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। রাজধানীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঈদগাহ ও জামাতগুলোতেও পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে যাতে ধর্মপ্রাণ মানুষ নির্বিঘ্নে উৎসব পালন করতে পারেন।

নামাজে অংশগ্রহণকারী মুসল্লিদের জন্য ডিএমপির পক্ষ থেকে কিছু নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। জামাতে আসার সময় মুসল্লিরা কেবল জায়নামাজ, মোবাইল ফোন এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ছাতা বহন করতে পারবেন। তবে দেশলাই, লাইটার বা যেকোনো ধরনের দাহ্য বস্তু সঙ্গে রাখা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ঈদ উপলক্ষে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলার সার্বিক সুরক্ষায় পুলিশের টহল জোরদার করা হবে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ লাইনের বিশেষ পাহারা থাকবে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এবারের ঈদ উদযাপনে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন।


নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত: ২২ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়ার সান্তাহার বাগবাড়ী এলাকায় চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হওয়ার ২২ ঘণ্টা পর উদ্ধার অভিযান শেষে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। লাইনচ্যুত বগিগুলো সরিয়ে নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টা ২০ মিনিটে চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা খুলনা গামী যাত্রীবাহী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল শুরুর মধ্য দিয়ে এই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এর আগে গতকাল বুধবার দুপুর ২টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসো চিলাহাটি অভিমুখী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি বগুড়ার সান্তাহারের বাগবাড়ী এলাকায় লাইনচ্যুত হয়।

রেলওয়ে পশ্চিম অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আহমদ হোসেন মাসুম জানান, গতকাল দুর্ঘটনা হওয়ার পর থেকে রেলওয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশে আমরা এখানে এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করি। সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী থেকে একটি রিলিফ ট্রেন এবং পার্বতীপুর থেকে আরেকটি রিলিফ ট্রেন এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সারারাত ব্যাপী উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বগি গুলোকে লাইন থেকে অপসারণ করা হয়েছে এবং রেললাইন মেরামত কাজ চলমান রয়েছে। আমরা এই অবস্থাতে ট্রেন চালাতে পারবো। চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি বেলা ১১ টা ২০ মিনিটে যাত্রীসহ প্রথমে যাবে। লাইন নির্মাণ কাজ মোটামুটি স্বাভাবিক। এই স্থানটিতে ট্রেনগুলো ধীর গতিতে চলাচল করবে। সেই সাথে আমাদের নির্মাণ কাজ চলমান থাকবে। ঈদের আগ মুহূর্তে এমন দুর্ঘটনার জন্য দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ঈদযাত্রায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন বুধবার দুপুর ২টায় বগুড়ার সান্তাহার রেলওয়ে জংশন ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর বাগবাড়ী নামক এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ট্রেনের ৯টি কোচ লাইনচ্যুত হয়। সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় উদ্ধারকারী (রিলিফ) ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। ঘটনার পর দায়িত্ব অবহেলার কারণে সান্তাহারের সহকারী স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম রঞ্জুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।


ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে তীব্র যানজট, ঈদযাত্রায় চরম ভোগান্তি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহনের অস্বাভাবিক চাপে গভীর রাত থেকে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে নাভিশ্বাস উঠেছে ঈদে বাড়ি ফেরা হাজার হাজার মানুষের। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে মহাসড়ক ঘুরে দেখা যায়, উত্তরবঙ্গমুখী যানবাহনের দীর্ঘ সারি ও ধীরগতির কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।

পরিবহন সংশ্লিষ্ট ও যাত্রীরা জানান, ভোররাত থেকেই মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে চন্দ্রা, কালিয়াকৈর, গোড়াই, মির্জাপুর বাইপাস, পাকুল্যা, করটিয়া, টাঙ্গাইল বাইপাস ও এলেঙ্গা এলাকায় গাড়ি প্রায় থেমে আছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এই যানজট আরও প্রকট আকার ধারণ করছে।

বগুড়াগামী যাত্রীরা গণমাধ্যমকে জানান, বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে বাসে উঠলেও সকাল ৮টা পর্যন্ত তারা মির্জাপুর বাইপাসেই আটকে আছেন। সাভার, নবীনগর ও চন্দ্রা পার হতেই তাদের ৭ ঘণ্টা সময় লেগেছে। বিশেষ করে এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার রাস্তায় চলমান উন্নয়ন কাজ ও খানাখন্দের কারণে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। দীর্ঘ সময় বাসে বসে থাকায় নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা চরম বিপাকে পড়েছেন।

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে পুলিশের পাশাপাশি টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, হাইওয়ে পুলিশ ও মেডিকেল টিম কাজ করছে। যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি যানবাহন চলাচল করায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যানজট নিরসনে সেতুর উভয় প্রান্তে মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা লেনসহ ১৮টি টোল বুথ সচল রাখা হয়েছে।

এদিকে মহাসড়কের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়মিত তদারকি করছেন স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। এছাড়া দুর্ঘটনা কবলিত যান দ্রুত সরাতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে রেকার।


নীলসাগরের ৯টি বগি লাইনচ্যুত, উদ্ধারে আরও সময় লাগবে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা থেকে ছেড়ে চিলাহাটিগামী ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রেল যোগাযোগ এখনো বন্ধ রয়েছে। লাইনচ্যুত বগিগুলো উদ্ধার করতে আরও কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় ঈশ্বরদী ও পার্বতীপুর থেকে উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেনটি ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেছে। এ বিষয়ে সান্তাহার জংশন স্টেশনের মাস্টার খাদিজা খাতুন বলেন, ঈশ্বরদী ও পার্বতীপুর থেকে দুটি উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন পৌঁছানোর পর থেকে উদ্ধারকাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, দুপুরের পরপরই লাইন সচল করা সম্ভব হবে।

রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বগুড়া পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ বলেন, যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থানা-পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নওগাঁ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) আবুজার গাফফার জানান, নওগাঁ সদর হাসপাতালে ১০০ জনের বেশি আহত চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩০ জনকে ভর্তি করা হয়েছে এবং অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

রেলওয়ে জানিয়েছে, ঢাকা-পঞ্চগড়-ঢাকা রুটে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, একতা এক্সপ্রেস ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস ব্যবহার করে ট্রান্সশিপমেন্ট করা হবে। খুলনা-নীলফামারী রুটে সীমান্ত ও রূপসা এক্সপ্রেস দিয়ে একই ব্যবস্থা চালু থাকবে। এছাড়া পার্বতীপুর, রাজশাহী ও চিলাহাটি রুটেও কয়েকটি ট্রেনের মাধ্যমে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস বগুড়া হয়ে চলবে এবং বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেসের কয়েকটি ট্রিপ আংশিক পরিবর্তন ও কিছু যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বুধবার বেলা ২টার দিকে ঢাকা থেকে নীলফামারীর চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস সান্তাহার এলাকায় লাইনচ্যুত হয়। ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে।


বগুড়ায় দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া শিশুর চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বগুড়ার শেরপুরে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজন নিহত হয়েছেন। তবে আশ্চর্যজনকভাবে প্রাণে বেঁচে গেছে দেড় বছরের এক শিশু কন্যা, যাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।

বুধবার সকালে ঢাকা থেকে রংপুরগামী একটি মাইক্রোবাস বগুড়ার শেরপুর এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক শিশুটির বাবা-মাসহ আরও তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে শিশুটির চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আহত শিশুটির উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও শহীদ জিয়াউর রহমান হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছেন। এছাড়া ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ করে শিশুটির সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

তিনি আরও জানান, শিশুটির চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ভারও প্রধানমন্ত্রী নিজে বহন করবেন।

গুরুতর আহত দেড় বছরের শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে বগুড়ার জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ রংপুরের কাউনিয়ায় নেওয়া হয়েছে। সেখানেই তাদের দাফন সম্পন্ন হবে। নিহতরা পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে একই গাড়িতে করে ঈদ উদযাপনের উদ্দেশ্যে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথে শেরপুর এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন তারা।


সদরঘাটে লঞ্চ সংঘর্ষ: দুই নৌযানের রুট পারমিট বাতিল, তদন্তে দুই কমিটি

আপডেটেড ১৯ মার্চ, ২০২৬ ১১:০২
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চের সংঘর্ষের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নৌযান দুটির রুট পারমিট বাতিল করা হয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নৌ-পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে দায় নির্ধারণের ভিত্তিতে ‘এমভি আশা-যাওয়া-৫’ ও ‘এমভি জাকির সম্রাট-৩’ লঞ্চের রুট পারমিট ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিগুলোকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দুর্ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, তদন্তে যারা দোষী সাব্যস্ত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নৌপথে এমন অবহেলা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

হতাহতদের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, নিহতের পরিবারকে সর্বোচ্চ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের অভিযান রাতে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তা পুনরায় জোরদার করা হবে।

উল্লেখ্য, বুধবার বিকেলে সদরঘাটে যাত্রী ওঠানোর সময় দুটি লঞ্চের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এতে মো. সোহেল নামে এক যুবক নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন। ঈদ ও পোশাক কারখানার ছুটিকে কেন্দ্র করে যাত্রীচাপ বেড়ে যাওয়ায় নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।


ঈদ ঘিরে বাংলাদেশ ভ্রমণে নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র

আপডেটেড ১৮ মার্চ, ২০২৬ ২০:১৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আসন্ন ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে মার্কিন নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণের বিষয়ে বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। বুধবার (১৮ মার্চ) প্রকাশিত এক বার্তায় জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ঈদের ছুটি এবং ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের সরকারি ছুটি থাকায় অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকতে পারে এবং সেবামূলক কার্যক্রম সীমিত হতে পারে। এই সময়ে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত জনসমাগম এবং তীব্র যানজটের কারণে স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

সতর্কবার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, জ্বালানি সাশ্রয় ও মজুত সংরক্ষণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার কিছু বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে জ্বালানি ক্রয়ের ওপর সীমা নির্ধারণ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি ছুটির মেয়াদ বৃদ্ধির মতো সিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার ফলে দৈনন্দিন যাতায়াত ও সাধারণ পরিষেবা গ্রহণে ভ্রমণকারীরা কিছুটা অসুবিধার সম্মুখীন হতে পারেন।

এছাড়া আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের মেয়াদের প্রয়োজনীয়তার কথা মনে করিয়ে দিয়ে নাগরিকদের দ্রুত পাসপোর্ট নবায়নের পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।


পাটুরিয়া নৌপথ পরিদর্শনে নৌ প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌপথে এবারের ঈদযাত্রা বেশ স্বস্তিদায়ক হয়েছে। ঘরমুখো মানুষের ভিড় থাকলেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ভোগান্তির খবর পাওয়া যায়নি এবং যাত্রী ও যানবাহন পারাপার স্বাভাবিক গতিতে চলছে।

বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজীব আহসান এই নৌপথের সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান যে, সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের আন্তরিকতা এবং নিয়মিত তদারকির কারণে এবারের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ঘাটগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বিশেষ করে পাটুরিয়া লঞ্চঘাটে যাতে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে কোনো লঞ্চ ছেড়ে না যায়, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে। নৌপথের পাশাপাশি সড়ক ও রেলপথেও বিকল্প ব্যবস্থা থাকায় এবারের ঈদযাত্রা সাধারণ মানুষের জন্য আরামদায়ক হচ্ছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


সদরঘাটে লঞ্চের চাপায় দুইজন নিহত, নিখোঁজ ২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর সদরঘাটে ট্রলার দিয়ে লঞ্চে ওঠার সময় দুই লঞ্চের মাঝখানে চাপা পড়ে দুইজন যাত্রী নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রার ষষ্ঠ দিনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্র জানায়, একটি লঞ্চে ট্রলারের মাধ্যমে যাত্রী তোলার সময় এমভি জাকের-৩ নামক একটি লঞ্চ পেছন থেকে জোরে ধাক্কা দিলে দুই লঞ্চের মাঝে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আরও দুইজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং এখন পর্যন্ত আরও দুইজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিখোঁজদের উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করেছে। বর্তমানে সদরঘাট এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


ঈদ যাত্রায় ঘরমুখো মানুষের ঢল, সাভারে তিন সড়কে গণপরিবহনের ধীরগতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাভারে ঈদকে কেন্দ্র করে সড়কে নেমেছে ঘরমুখো মানুষের ঢল। একই সঙ্গে সড়ক ও মহাসড়কে বেড়েছে গণপরিবহনের চাপ। তবে ঘরমুখো মানুষের চাপ ও গণপরিবহনের বাড়তি চাপে সৃষ্টি হয়েছে ধীরগতি। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে ঘরমুখো মানুষ।

বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক, নবীনগর-চন্দ্রা সড়ক ও আব্দুল্লাহপুর - আশুলিয়া - ডিইপিজেড সড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট এ চিত্র লক্ষ্য করা যায়।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর, উল্লাইল, গেন্ডা, সিন্ডবি ও সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে সড়কে ৩ কিলোমিটার গাড়ির ধীরগতি রয়েছে। এছাড়া নবীনগর-চন্দ্রা সড়কের বাইপাইল, নবীনগর, ডিইপিজেড ও জিরানী সড়কে ৩ কিলোমিটার এবং আব্দুল্লাহপুর-আশুলিয়া-ডিইপিজেড সড়কের জামগড়া, জিরাবোতে ২ কিলোমিটার সড়কে গাড়ির ধীরগতি লক্ষ্য করা যায়।

রংপুরগামী সাভার পরিবহনের যাত্রীরা বলেন, আমি সাভারের হেমায়েতপুর থেকে রংপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি। তবে আশুলিয়ার বাইপাইল পর্যন্ত আসতে প্রায় দেড় ঘন্টা সময় লেগেছে বলে জানান তিনি।

বাসের চালক বলেন, সড়কে কিছু জায়গায় আজকে দাঁড়াতে হচ্ছে। গতকালের থেকে আজ যাত্রী ও গাড়ির চাপ বেড়েছে। তাই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তিনি।

সাভার হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ শাজাহান বলেন, সড়কে যাত্রীর চাপ ও গাড়ি চাপ তুলনামূলক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে যানজট নিরসনে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।


ডিজিটাল হেলথ কার্ডে রোগীর সব তথ্য রেকর্ড থাকবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বকুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে রোগীদের চিকিৎসার সুবিধার্থে বিজ্ঞানসম্মত ডিজিটাল হেলথ কার্ড বিতরণ করা হবে। বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা পরিষদ হলরুমে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুস্থ ও গরিব জনসাধারণের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে রোগীর জিন থেকে শুরু করে পূর্ববর্তী চিকিৎসার সমস্ত রেকর্ড সংরক্ষিত থাকবে। ফলে দেশের যেকোনো স্থানে চিকিৎসকের কাছে গেলে রোগীকে মুখে কিছু বলতে হবে না, কার্ড দেখেই চিকিৎসক সব বুঝতে পারবেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি যা দিয়েছি তা বাস্তবায়ন শুরু করেছি। ইতোমধ্যে আপনারা দেখেছেন ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের মাধ্যমে আমরা আমাদের কথা রেখেছি। পর্যায়ক্রমে প্রতিমাসেই আমরা সারা বাংলাদেশে এই কার্ড বিতরণ করব।’

কৃষকদের সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, কৃষকের কৃষি ঋণের ১০ হাজার টাকা সমুদয় সুদসহ মওকুফ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া আগামী মাসের ভেতরে কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড দেয়া হবে। এভাবে প্রত্যেকটা মন্ত্রণালয়ে সজাগ দৃষ্টি রেখে সরকার কাজ শুরু করেছে, যাতে জনগণের উপকার হয়।

সরকারের দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা যেই ভোট দিয়েছেন তার বিনিময়ে এই দুনিয়ায় যেন কিছু কল্যাণ দিয়ে যেতে পারি, সেই চেষ্টাই আমরা করছি। যেন আপনারা বোঝেন, ভোট দিয়ে যাদের এমপি বানিয়েছেন তারা আপনাদের কাছে দায়বদ্ধ। আপনাদের খোঁজখবর রাখাসহ আমাদের জবাবদিহিতাও আছে।


বৃহস্পতিবার জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক

আপডেটেড ১৮ মার্চ, ২০২৬ ১৭:০৮
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার তথ্য পর্যালোচনা ও মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ-উল ফিতরের তারিখ নির্ধারণ করতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বৈঠকে বসতে যাচ্ছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

বুধবার (১৮ মার্চ) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অবস্থিত বাংলাদেশ ইসলামী ফাউন্ডেশন-এর সম্মেলন কক্ষে সন্ধ্যা ৬টায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। এতে আরও বলা হয়, এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন ধর্ম মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।

বাংলাদেশের আকাশে কোথাও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে ০২-৪১০৫৩২৯৪, ০২-২২৬৬৪০৫১০ এবং ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭- এই ফোন নম্বরগুলোতে অথবা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

সূত্র: বাসস।


banner close