বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৯ ভাদ্র ১৪৩৩

কমিশন প্রস্তাবিত সুপারিশ বাস্তবায়নে কাজ করবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা

শনিবার তথ্য ভবনে অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২২ মার্চ, ২০২৫ ২১:৩৪

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম বলেছেন, গণমাধ্যম মালিক, সম্পাদক ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে কথা বলে সাংবাদিকতা পেশাকে সাংবাদিকবান্ধব করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন প্রস্তাবিত সাংবাদিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সুপারিশ বাস্তবায়নে কাজ করবে সরকার।

শনিবার রাজধানীর তথ্য ভবনে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে মৃত্যুবরণকারী সাংবাদিক পরিবার এবং অসুস্থ-অসচ্ছল সাংবাদিকদের মাঝে কল্যাণ অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, ঢাকা শহরের সাংবাদিকদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়। আমি নিজেও সাংবাদিকতা করার চেষ্টা করেছি। তখন দেখেছি, ১০ হাজার, ১১ হাজার, ১২ হাজার টাকা বেতনের কথা বলে। এই ১০ হাজার, ১২ হাজার টাকা বেতনে সাব-এডিটর বা নিউজ রুম এডিটরের কাজ করতে হয়। এই টাকা দিয়ে ঢাকা শহরে একটা পরিবার তো দূরের কথা একটা ফ্ল্যাট ভাড়াও পাওয়া যাবে না।

সাংবাদিকদের কল্যাণ অনুদান প্রদানকে একটি আপৎকালীন ব্যবস্থা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের নিয়মিত বেতন-ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা থাকলে কল্যাণ অনুদান প্রদানের হয়তো প্রয়োজন হতো না। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত সাংবাদিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সুপারিশ বাস্তবায়নে কাজ করবে সরকার। উপদেষ্টা বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের কর্মপরিধি বাড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, সাংবাদিকদের কল্যাণে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। গুজব ও অপপ্রচার মোকাবিলায় সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ করে গণমাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার করতে হবে।

বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, সাংবাদিক মুহাম্মদ খায়রুল বাশার, সাজিদ আরাফাত ও মীর মুশফিক আহসান।

অনুষ্ঠানে ৩৭৪ জন সাংবাদিক ও সাংবাদিক পরিবারের মাঝে ১ কোটি ৯৩ লাখ ৯০ হাজার টাকার অনুদানের চেক প্রদান করা হয়। এর মধ্যে মৃত্যুবরণকারী সাংবাদিক পরিবার রয়েছে ১১টি। অনুদানপ্রাপ্তদের মধ্যে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত সাংবাদিক রয়েছেন ১৯২ জন।


নির্বাচিত

 ‘ঘুষ ডট সাইট’: সেই শাহেদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চেয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

‘ঘুষ ডট সাইট’ ওয়েবসাইট তৈরি করা কিশোর শাহেদ শরীফ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 নিজস্ব প্রতিবেদক

‘ঘুষ ডট সাইট’ ওয়েবসাইট তৈরি করে সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি করা সেই কিশোর শাহেদ শরীফের খোঁজ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এ সময় শরীফের কাছ থেকে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং মায়ের পেনশন সম্পর্কিত খোঁজ খবর নেওয়া হয়। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে কিশোর শরীফ সাংবাদিকদের এই খবরের সত‍্যতা নিশ্চিত করেছেন।

শরীর বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ‘ঘুষ ডট সাইট’ নিয়ে আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং এটি কীভাবে সামনে এগিয়ে নিতে চাই, তা জানতে চেয়েছেন। এ ছাড়া আমার মায়ের পেনশনের বিষয়টিও জানতে চেয়েছেন। এছাড়াও মঙ্গলবার সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের সঙ্গে একটি বৈঠক হয়েছে। আমার মনে হচ্ছে, সরকার বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। এটি আমার ভালো লেগেছে।

এদিকে সিটি প্রশাসকের বৈঠকেও শাহেদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং তার উদ্যোগ পরিচালনায় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বৈঠক শেষে সিটি প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান বলেন, জেন-জি এর অনেক ছেলে-মেয়ে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করতে চায়। শাহেদের মধ্যে সেই স্পিড দেখেছি। ‘ঘুষ ডট সাইট’ নিয়ে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আমরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাব। এই উদ্যোগ অনৈতিক দাবির বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি ও সমঅধিকারভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রাখবে।

এ বিষয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শাহেদ শরীফ আহমেদ বলেন, ওয়েবসাইটে সংগৃহীত ডেটাবেজ বিশ্লেষণ করে দেশের কোন বিভাগে ঘুষের অভিযোগ বেশি, তা চিহ্নিত করতে তিনি সরকারকে সহযোগিতা করতে চান।

তবে একা সবকিছু সামলাতে গিয়ে তার পড়াশোনায় ক্ষতি হচ্ছে বলেও জানান শাহেদ। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সহায়তা বা স্বীকৃতি পেলে কাজের চাপ কমবে এবং পড়াশোনার পাশাপাশি এটি চালিয়ে নেওয়া সহজ হবে।

জানা যায়, প্রয়াত শিক্ষিকা মায়ের পেনশনের টাকা তুলতে বিভিন্ন পর্যায়ে ঘুষ দাবির মুখে পড়েন শাহেদ। পাশাপাশি নিজের পাসপোর্ট করতেও তাকে তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়। এসব অভিজ্ঞতার প্রতিবাদ হিসেবে গত ২১ আগস্ট তিনি ‘ঘুষ ডট সাইট’ চালু করেন।

এদিকে শাহেদ শরীফের মায়ের মৃত্যুর পর সরকারি পাওনা পেতে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়। তিন সদস্যের এই কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

গত সোমবার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের এক আদেশে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রধান করা হয়েছে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিকদার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদকে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশীষ কুমার তরফদার ও মো. সাদ্দাম হোসেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান সিকদার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, ‘ঘুষ ডট সাইট’ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখতে কমিটি করা হয়েছে। বতর্মানে তদন্ত চলমান।


নির্বাচিত

পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়েই হবে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর: চিফ হুইপ

ছবি: চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক  

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সুবিধাজনক সময় ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি। সফরের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়ার শর্ত থাকলে সেটি গ্রহণ করা কঠিন হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের টানেলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন চিফ হুইপ।

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে নূরুল ইসলাম বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতকে বাংলাদেশ উপেক্ষা করবে না। ভারতও বাংলাদেশকে উপেক্ষা করে না। প্রধানমন্ত্রী এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী, তাদের সময় মিলে যে সময়টা সুবিধাজনক হবে এবং এটা পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে যখন ভালো হবে, ঠিক তখনই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর করবেন।

ভারত সফরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি নেই বলেও জানান চিফ হুইপ। ভারতের দিক থেকেও আপত্তি থাকার কথা নয় বলে তিনি মনে করেন।

সফরের জন্য নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘কেউ যদি ঠিক করে দেয় যে, এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আসতে হবে, নতুবা নয়, কিন্তু নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে আমার সময় না থাকলে আমি যাব কী করে? সেটাতে কেউ সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। এটা স্বাধীন দেশ।’

চিফ হুইপ বলেন, ‘ইফ এনি কন্ডিশন হ্যাজ বিন ইমপোজড বাই আওয়ার ফ্রেন্ডস, সেটা আমাদের ভালোভাবে নেওয়াটা একটু কষ্টের ব্যাপার হয়ে যায়।’

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে নূরুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির কথা বলেছেন। বাংলাদেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে মর্যাদা, সম্মান ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

চিফ হুইপ বলেন, ‘ভারত আমাদের একটা নেইবারিং কান্ট্রি। আমরা কোনো নেইবারকে ইগনোর করি না।’

বাংলাদেশের এক ইঞ্চি মাটিও যেন অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার না হয়, সেটি সরকারের অবস্থান বলে উল্লেখ করেন চিফ হুইপ। একইভাবে অন্য কোনো প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ডও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে না বলে প্রত্যাশা করেন তিনি। ক্ষমতাচ্যুত সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তির ভারতে অবস্থানের প্রসঙ্গও তোলেন চিফ হুইপ।

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির অভিযোগ, গত ১৭ বছরে নিপীড়ন, নির্যাতন, লুটপাট, গুম ও খুনে জড়িত অনেকেই ভারতে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। গণতন্ত্র, অর্থনীতি, মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে রয়েছে, তাদের আশ্রয় না দিতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

নূরুল ইসলাম বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত কাউকে ভারত আশ্রয় বা প্রশ্রয় দেবে না বলে তারা প্রত্যাশা করেন। গত ১৭ বছরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের ভূমিকারও সমালোচনা করেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, ভারত নিজেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে দাবি করে এবং বাংলাদেশও সেটি বিশ্বাস করে। কিন্তু বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ভারত কথা বলেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নূরুল ইসলাম বলেন, গত ১৭ বছর ধরে আমাদের দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। এ দেশে মানুষের মানবাধিকার বলতে কিছুই ছিল না। ভারত একবারও কথা বলে নাই। সে দুঃখ আমাদের আছে এবং অনেক দিন ধরে থাকবে। এই অসন্তোষ দূর করার দায়িত্ব মূলত ভারতের বলে মন্তব্য করেন তিনি।

চিফ হুইপ বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও বাড়বে। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের মর্যাদার ভিত্তিতে।

বাংলাদেশ ও ভারতের সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি ‘ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ’ গঠনের প্রস্তাবের কথাও জানান চিফ হুইপ। তিনি বলেন, দীনেশ ত্রিবেদী দুই দেশের সংসদের মধ্যে এমন একটি কাঠামো গড়ে তোলার আগ্রহ জানিয়েছেন।

আগেও বাংলাদেশের সংসদে এ ধরনের বন্ধুত্ব কমিটি ছিল জানিয়ে নূরুল ইসলাম বলেন, নতুন করে সেটি গঠনে কোনো সমস্যা নেই। ভারতের সংসদীয় চর্চাকে বাংলাদেশ বিভিন্ন সময়ে অনুসরণ করেছে বলেও জানান তিনি।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলোর মধ্যে পানিবণ্টনের সমস্যাকে ‘বড় সমস্যা’ হিসেবে তুলে ধরেন চিফ হুইপ। বাংলাদেশ ভাটির দেশ হওয়ায় উজানের পানি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পানির অভাবে বাংলাদেশকে পানি সংরক্ষণের জন্য বড় প্রকল্প নেওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে বলেও তার বক্তব্যে উঠে আসে। এ সমস্যা সমাধানে ভারত এগিয়ে আসবে বলে প্রত্যাশা করেন নূরুল ইসলাম।

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া এবং বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। চিফ হুইপ বলেন, আমরা বলি ভারত আমাদের বন্ধু, ভারতও বলে আমরা তাদের বন্ধু। কিন্তু তারা বেড়া দিয়েছে আমাদের ওপরে।

সীমান্তে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের মানুষ যখন মারা যায়, আমরা কষ্ট পাই। সে হিন্দু কি মুসলমান, যে মানুষই হোক, বাংলাদেশে বসবাস করে।

সীমান্তের বিষয়গুলো ভারত মানবিকভাবে বিবেচনা করলে দুই দেশের অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষা করতে চায়। এ কাজে ভারতের সহযোগিতাও মর্যাদার ভিত্তিতে প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।


নির্বাচিত

আধুনিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

* পরমাণু শক্তি কমিশনের সঙ্গে চুক্তি * নভেম্বরেই গ্রিডে আসছে বিদ্যুৎ * দামের বিষয়ে পিডিবি ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা
ছবি: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগেই জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন গ্রিডের সঙ্গে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে (আরএনপিপি) সংযুক্ত করার মাধ্যমে দেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বিএইসি) এবং ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টার (এনএলডিসি) পরিচালনার দায়িত্বে থাকা জিই ভার্নোভারের মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি হয়েছে।

চুক্তির আওতায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-১ ও ইউনিট-২-এর আটটি সঞ্চালন লাইন এবং ৪০০ কেভি ও ২৩০ কেভি জিআইএস সাবস্টেশনের নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যাল ও তথ্য এনএলডিসির এসসিএডিএ/ইএমএস ব্যবস্থায় ইন্টিগ্রেট করা হবে। এই কারিগরি ইন্টিগ্রেশনের ফলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় তথ্য ও সংকেত জাতীয় গ্রিড পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় পাওয়া যাবে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে রূপপুরের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় তথ্য পর্যবেক্ষণ ও ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকার পরমাণু শক্তি কমিশনের কার্যালয়ে চুক্তি সই হয়। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পক্ষে চুক্তিপত্রে সই করেন প্রকল্প পরিচালক ড. কবির হোসেন এবং জিই ভার্নোভার পক্ষে সই করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি দেবেশ ঝা।

এ বিষয়ে ড. কবির হোসেন বলেন, ‘রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে বিশ্বস্ততার সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনের তথ্য প্রেরণে এই চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি মাইলফলক। এটি কেন্দ্রটির কমিশনিং প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যতের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনায় বড় ভূমিকা রাখবে।’

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উপপ্রকল্প পরিচালক ড. মো. খালেকউজ্জামান জানান, এনএলডিসির স্কাডা সিস্টেমের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ফলে কেন্দ্রের সঙ্গে গ্রিডের রিয়েল-টাইম তথ্য আদান-প্রদান, সমন্বিত পরিচালন এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ সুনিশ্চিত হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে। গত ২৮ এপ্রিল জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এখন বি-২ কমিশনিং লাইসেন্স ও নিরাপত্তা ছাড়পত্রের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমতি পেলেই শুরু হবে চেইন রিয়্যাকশন প্রক্রিয়া এবং এর মাধ্যমেই শুরু হবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া। ধাপে ধাপে তা পৌঁছাবে বাণিজ্যিক উৎপাদন পর্যায়ে।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) প্রধান প্রকৌশলী (স্কিম ডিরেক্টর) মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, বাংলাদেশের সব অপারেটিং বিদ্যুৎকেন্দ্রই জিই ভার্নোভার স্কাডা/ইএমএস সিস্টেমের মাধ্যমে জাতীয় লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এই কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পুরো দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতি ও বাস্তব অবস্থা এক জায়গা থেকেই নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়। বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার আগেই এই চুক্তির ফলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র জাতীয় গ্রিড ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত হলো।’

বর্তমানে ১ নম্বর ইউনিটের ফুয়েল-লোডিং পরবর্তী বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। নির্ধারিত সময়সূচি বজায় রেখে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু করার জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই স্কাডা সিস্টেমের কাজ সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি ছিল বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী নভেম্বর মাসেই দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। প্রাথমিক ধাপে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের মধ্য দিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশগুলোর অভিজাত ক্লাবে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১০ টাকার নিচেই থাকবে।

প্রকল্প সূত্র জানায়, বর্তমানে কেন্দ্রটি চালুর আগে কারিগরি প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ‘প্রেসারাইজার পাইলট অপারেটেড রিলেটেড ভালব’ (পিওআরভি)-এর ত্রুটি সংশোধনের কাজ চলছে। এই ধাপটি সফলভাবে শেষ হওয়ার পর শুরু হবে বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল ‘পাওয়ার স্টার্টআপ’ বা ফিউশন রিয়্যাকশন প্রক্রিয়া।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে যাওয়ার আগে মূলত দুটি ধাপ পার করতে হবে। প্রথম ধাপে রিয়্যাক্টরে ফিউশন ঘটাতে সময় লাগবে দুই থেকে তিন সপ্তাহ। এরপর টারবাইন ঘুরিয়ে স্টিম তৈরির মাধ্যমে উৎপাদনে যেতে লাগবে আরও ছয় সপ্তাহ। সব মিলিয়ে প্রায় নয় সপ্তাহ বা দুই মাস সময়ের প্রয়োজন। যদি কারিগরি কোনো বড় বাধা না আসে, তবে নভেম্বর মাসেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে।

বিদ্যুতের দামের বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও প্রকল্প কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। ২০১৬ সালে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ৪ টাকা ৬৫ পয়সা ধরা হলেও বর্তমানে তা কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, সব ধরনের খরচ ও বিমা যুক্ত করার পরও প্রতি ইউনিটের দাম দুই অংকের নিচে, অর্থাৎ ১০ টাকার কম থাকবে। তাদের ধারণা, এটি ৯ টাকার কাছাকাছি হতে পারে।

উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হওয়ার মাধ্যমে বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসেবে পারমাণবিক জ্বালানি ক্লাবে যুক্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।


নির্বাচিত

জ্বালানি স্বনির্ভরতার পথে এগোচ্ছে দেশ: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

* বাপেক্সকে পঙ্গু করে রাখায় বর্তমান জ্বালানি সংকট * ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত কয়লা উত্তোলন করলে আগে স্থানীয়দের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের মৌখিক উত্তরদান পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিগত সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে পঙ্গু করে রাখার ফলেই দেশে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকট ও আমদানি নির্ভরতা তৈরি হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, এই সংকট কাটিয়ে দেশকে জ্বালানিতে স্বনির্ভর ও টেকসই ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নিতে বর্তমান সরকার বহুমাত্রিক ও সমন্বিত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের মৌখিক উত্তরদান পর্বে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহতকরণ, নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসার এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার রূপরেখা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত অনুসন্ধান এবং আমদানিনির্ভরতার ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটকে স্থায়ীভাবে নিরসন করে দেশকে স্বনির্ভর ও টেকসই ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নিতে একাধিক যুগান্তকারী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের জ্বালানি ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচির আওতায় ৩০টি কূপের খননকাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) নতুন গ্যাস যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে আরও ৭টি কূপের খননকাজ অব্যাহত রয়েছে এবং এগুলোর কাজ শেষ হলে গ্রিডে অতিরিক্ত ৮৫ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হবে। অবশিষ্ট কূপগুলো পর্যায়ক্রমে খননের জন্য নতুন নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া নতুন গ্যাসের অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করতে ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সাইসমিক সার্ভে এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গ কিলোমিটার ৩ডি সাইসমিক সার্ভে পরিচালনার বৃহৎ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একইসঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে আরও শক্তিশালী ও সক্ষম করে তুলতে নতুন দুটি আধুনিক রিগ ক্রয়ের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

দেশের বিদ্যমান জ্বালানি সংকটের জন্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ভূমিকাকে দায়ী করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত স্বৈরাচারের সময়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে রীতিমতো পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল। ফলে অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান বা আমদানি নির্ভরতার কারণে সৃষ্ট বর্তমান জ্বালানি সংকট।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে অফশোর ও অনশোর মডেল পিএসসি (প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্যাক্ট)-এর আওতায় ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। পিএসসি ২০২৬ অনুমোদনের পর আন্তর্জাতিক বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে এবং অনশোর মডেল পিএসসি অনুমোদনের প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হলে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বহুগুণ বাড়বে।

পাশাপাশি সামুদ্রিক এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোমে একটি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে আগ্রহী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে, যা থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে রিগ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহ সম্ভব হবে। এর ফলে আগামী দুই বছরের মধ্যে এলএনজি আমদানি ক্ষমতা আরও ৬০০ এমএমসিএফডি বাড়বে।

এছাড়া জরুরি ভিত্তিতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল কিংবা পায়রা ও মোংলা বন্দর এলাকায় আরও এক থেকে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে সরকার যে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে, তা সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের উত্তরে বিস্তারিত উঠে আসে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, জনমনে আগ্রহ তৈরি ও এ খাতের দ্রুত প্রসারে ২০২৬ সালের ৮ জুন তারিখে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারিসহ সব প্রয়োজনীয় উপাদানের ওপর থেকে কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, আগাম কর এবং অতিরিক্ত অগ্রিম আয়করসহ সব ধরনের শুল্ক সম্পূর্ণ ছাড় দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া রুফটপ সোলার প্যানেল স্থাপনকারীদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় আর্থিক মডেল ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে যারা বাসাবাড়ি বা প্রতিষ্ঠানের ছাদে সোলার স্থাপন করবেন, তাদের উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ সরকার প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ১৫ পয়সা দরে কিনে নেবে। বর্তমান গড়ে প্রতি ইউনিট ৬ থেকে ৭ টাকা উৎপাদন খরচের বিপরীতে এই বাল্ক রেট ও সরকারি প্রণোদনার ফলে উদ্যোক্তারা ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত (৪০ শতাংশ মুনাফা ও ৫ শতাংশ প্রিমিয়াম) নিট মুনাফা অর্জনের সুযোগ পাবেন, যা পরবর্তী তিন বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারের অংশ হিসেবে সরকারি ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালে সোলার প্যানেল বসাতে জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের সব জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে রুফটপ সোলার সফলভাবে স্থাপন করা হয়েছে এবং অন্যান্য সরকারি দপ্তরে বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সোলারের পাশাপাশি বায়ু বিদ্যুৎ, জলবিদ্যুৎ এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সমন্বিত পরিকল্পনাও এগিয়ে চলছে।

ফুলবাড়ীতে আগে পুনর্বাসন, তারপর কয়লা উত্তোলন

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে আগে স্থানীয়দের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা সবাই রাজনীতি করি এই দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য। অবশ্যই আমরা দেশের জ্বালানি সমস্যা সমাধান করতে চাই। ফুলবাড়ীয়ায় যে কয়লার খনি আছে সেটি পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো কয়লার একটি।’

‘আমরা এই কয়লা উত্তোলন করে যদি আমাদের জ্বালানি সংকট মেটাতে পারি, অবশ্যই সেটা যেমন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করবে, একইভাবে দেশের জন্য সেটি ভালো হবে,’ বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অবশ্যই সেই কয়লা উত্তোলন করতে গেলে ওপেন পিট (উন্মুক্ত পদ্ধতি) যদি করতে হয়, স্বাভাবিকভাবেই সেখানে বসতবাড়ি আছে, কৃষিজমি আছে। আমরা যেহেতু রাজনীতি করি দেশের মানুষের জন্য, অবশ্যই সবার আগে আমরা সিদ্ধান্ত নেব, কীভাবে সেই মানুষদের আগে সেটেলমেন্ট করা যায়।’

‘তাদের সেটেলমেন্টের ব্যবস্থা করে, তাদের আয়-রোজগার যেন বন্ধ না হয় এবং সেই প্রকল্প গ্রহণ করলে সেখান থেকেও যেন তারা কোনো না কোনোভাবে সুবিধা পেতে পারে, সেসব পর্যালোচনা করেই এবং পরিবেশের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব,’ যোগ করেন তিনি।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রী বুদ্ধিমান মানুষ, সফর নিয়ে আশাবাদী ভারত: দীনেশ ত্রিবেদী

ছবি: ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের অনুকূল পরিবেশ আছে কিনা প্রশ্নে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, এটি সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভর করে। তিনি অনেক বুদ্ধিমান মানুষ, জনগণের নেতা তিনি। সুতরাং আমি মনে করি, এটি প্রধানমন্ত্রীর ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। আর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের খাতিরে যা করা প্রয়োজন, আমার এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, উভয় পক্ষের অভিপ্রায় জনগণকেন্দ্রিক। যখন জনগণকেন্দ্রিক বিষয় হয়, তখন যা হওয়ার হবেই। আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব এবং এটাই গণতন্ত্রের মূল সৌন্দর্য। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের তিনি এই কথা বলেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, গণতন্ত্রে আলোচনার কোনো শেষ নেই। আলোচনা শেষ হলে তা গণতন্ত্র না। এটি গঙ্গা বা পদ্মার মতো প্রবহমান একটি নদীর মতো আলোচনার পথ খোলা রাখাই হলো গণতন্ত্রের মূল সৌন্দর্য।

স্পিকারের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব এবং ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব। তার সঙ্গে খেলাধুলার অনেক কথা হলো। ভারতের প্রয়াত ফুটবলার চুন্নী গোস্বামী হতে শুরু করে অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশের সর্বশেষ টেস্ট সিরিজ নিয়েও কথাবার্তা হলো।

বাংলাদেশ ও ভারতের সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি ‘ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ’ বা মৈত্রী গ্রুপ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। দলমত-নির্বিশেষে দুই দেশের এমপিদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে এই দুই গণতান্ত্রিক দেশের সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের প্রতি বিশেষ শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। একই সঙ্গে তিনি তাদের ভারতের সংসদ ভবন ও সেখানকার কার্যক্রম পরিদর্শনের জন্য আমন্ত্রণ জানান।

আলোচনায় ভারতীয় সংসদের আধুনিকায়ন ও ডিজিটালাইজেশনের প্রসঙ্গটি গুরুত্ব পায়। ভারতীয় রাষ্ট্রদূত জানান, ভারতীয় সংসদে এখন সব কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে হচ্ছে, যার ফলে এমপিদের আর কাগুজে নথির ওপর নির্ভর করতে হয় না। জওহরলাল নেহরু থেকে শুরু করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যসহ পুরোনো সব আর্কাইভ ডিজিটাল লাইব্রেরিতে সহজলভ্য করা হয়েছে। বাংলাদেশের সংসদেও এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।

সংসদ ভবনের স্থাপত্যশৈলী এবং এর চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জলাধারের প্রশংসা করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘এটিকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই স্বপ্নের প্রতিফলন বলে মনে হবে যেখানে মন হবে ভয়হীন এবং উচ্চকিত।’ তিনি এই পরিবেশকে কাজের জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক বলে বর্ণনা করেন।


নির্বাচিত

আগামী ১৫ দিনে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

সংসদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, আগস্টে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে তা যাতে আর না হয়—এ জন্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে দেশের চলমান বিদ্যুৎ-সংকট সম্পর্কিত বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুলের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী। বেলা সাড়ে ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, নিছক কথামালার আড়ালে প্রকৃত সত্যকে লুকাতে চাই না। বর্তমানে সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষ বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহের কারণে কষ্টে আছে।’

এ পরিস্থিতির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের ভুল নীতির অনিবার্য পরিণতি হিসেবে বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর সঙ্গে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য-সংকটও নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে।

তার ভাষ্য, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্য-সংকট সামনে আসে, যার প্রভাব জ্বালানি সরবরাহের ওপর পড়েছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট। এই সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে বর্তমানে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে শিল্প ও আবাসিক খাতে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে বিদ্যুৎ, শিল্প ও গৃহস্থালি—তিন খাতের মধ্যে ভারসাম্য রেখে গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছে।

বর্তমান বিদ্যুৎ-সংকটের পেছনে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি জানান, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। একই ক্ষমতার মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের আরেকটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রয়েছে।

ভারতের আদানি গ্রুপ থেকে চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পাওয়ার বিষয়টিও সংসদে তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে দিনে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় প্রায় ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া আমদানি করা এলএনজি সরবরাহে ব্যবহৃত দুটি ভাসমান টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে (ফ্লোটিং স্টোরেজ রিগ্যাসিফেকেশন ইউনিট) ত্রুটি দেখা দেওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছিল বলে জানান তিনি।

গত ২১ জুলাই এফএসআরইউতে ত্রুটি দেখা দেয় এবং তা মেরামতে প্রায় ২১-২২ দিন সময় লাগে। এর প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। তবে এ সংকটের প্রায় ৮৮ শতাংশ সমাধান করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী।

পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত পায়রা ও মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ ইউনিটগুলো চালু করার ওপর জোর দেন প্রতিমন্ত্রী। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশাবাদী তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগস্ট মাসে বাংলাদেশের মানুষকে যে কষ্ট পোহাতে হয়েছে, অন্তত সেপ্টেম্বর মাসের জন্য এই কষ্ট যেন না পোহাতে হয়, সে ব্যাপারে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।’

আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ-সংকট মোকাবিলায় রুফটপ সোলারসহ দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার যে রুফটপ সোলার নীতি নিয়েছে, তার ফলে আগামী গ্রীষ্মে মানুষকে চলতি সময়ের মতো দুর্ভোগ পোহাতে হবে না বলে তারা আশাবাদী।

এ সময় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত নিয়ে সংসদ সদস্যদের উদ্বেগকে স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রতিনিধিদের প্রকৃত তথ্য জানানো এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে থাকা ভুল বোঝাবুঝি দূর করার চেষ্টা করা হবে।


নির্বাচিত

রপ্তানি অর্ডার হাতছাড়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে জ্বালানি সংকট

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পর্যাপ্ত গ্যাসের অভাবে সিংহভাগ পোশাক কারখানা সক্ষমতার অর্ধেকেরও কম উৎপাদনে বাধ্য হচ্ছে, যা রপ্তানি অর্ডার হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এ অবস্থায় দ্রুততম সময়ে নতুন ভাসমান স্টোরেজ ইউনিট (এফএসআরইউ) স্থাপন, জ্বালানির মূল্য স্থিতিশীল রাখা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানায় অগ্রাধিকারভিত্তিতে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বিজিএমইএ’র একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। বৈঠকে বিজিএমইএ প্রতিনিধিদল জ্বালানি সংকটসহ পোশাক শিল্পের ৪ চ্যালেঞ্জ এবং তা উত্তরণে ৬টি সুপারিশ করেছে।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি রেজোয়ান সেলিম, সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান, সহ-সভাপতি শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী এবং পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম রোজালিন।

বৈঠকে বিজিএমইএ প্রতিনিধিদল পোশাক শিল্পে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান এবং পোশাক শিল্পকে হরতালের আওতামুক্ত রাখতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে পোশাক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, উদীয়মান চ্যালেঞ্জ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ়করণসহ দেশীয় শিল্প সুরক্ষার বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে আলোচনা হয়।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিজিএমইএ প্রতিনিধি দলের কথা মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং পোশাক শিল্পকে জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ‘মেরুদণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, সাময়িক এ প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ অবস্থান বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে শিল্পের টেকসই বিকাশ ও সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট সরকারি মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহযোগিতা প্রদানের বিষয়ে আশ্বাস দেন তিনি।

বৈঠকে বিজিএমইএ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের অভাবে সিংহভাগ কারখানা সক্ষমতার অর্ধেকেরও কম উৎপাদনে বাধ্য হচ্ছে, যা রপ্তানি অর্ডার হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার ও মজুরি সমন্বয়ে গত ৩ বছরে উৎপাদন খরচ প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। বৈশ্বিক কারণে রপ্তানি কমায় বিনিয়োগেও মন্দা দেখা যাচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাইয়ে ১ দশমিক ৯২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এ কারণে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কমায় নতুন বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে। উচ্চ ব্যয় ও অর্ডার সংকটের মুখোমুখি হয়ে গত ৩ বছরে প্রায় ৪০০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, যা কর্মসংস্থানের জন্য চরম উদ্বেগজনক।

বিদ্যমান সংকট থেকে উত্তরণে বিজিএমইএ ৬টি সুপারিশ করেছে। এগুলো হচ্ছে- জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে দ্রুততম সময়ে অতিরিক্ত ২টি এফএসআরইউ স্থাপনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি মূল্য স্থিতিশীল রাখা ও আমদানি পর্যায়ে সকল শুল্ক-কর প্রত্যাহার করা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (১৫০-৫০০ কেজি বয়লার বিশিষ্ট) কারখানায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সংযোগ দেওয়া এবং পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে দীর্ঘমেয়াদে স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা দেওয়া। পাশাপাশি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে দ্রুত বাস্তবায়ন করা, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে বর্ধিত কার্গো শেড নির্মাণ করা এবং বে-টার্মিনাল ও মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরের কাজ দ্রুত শেষ করা।

এছাড়া ঋণের সুদের হার হ্রাস করার সুপারিশ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পোশাক খাতের জন্য বিশেষায়িত ‘পোস্ট-শিপমেন্ট ফাইন্যান্সিং স্কিম’ প্রণয়ন করা এবং জিটিএফ ও টিডিএফ তহবিলে অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধি করা। ব্যবসা সহজ করতে কাস্টমস বন্ড অডিট প্রক্রিয়া জটিলতামুক্ত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং পোশাক শিল্পের কাঁচামাল দ্রুত সরবরাহের স্বার্থে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর সুপারিশ করে বিজিএমইএ।

এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী বাণিজ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দ্রুততম সময়ে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনে কূটনৈতিক প্রয়াস জোরদার করা এবং প্রধান বাণিজ্য অংশীদার দেশ ও অঞ্চলগুলোর সঙ্গে এফটিএ, পিটিএ এবং ইপিএ সম্পাদনে দ্রুত ও কৌশলগত কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা। শ্রমিকদের কল্যাণ গাজীপুরে আধুনিক হাসপাতাল ও কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য দ্রুত জমি বরাদ্দ দান এবং ঝুট ব্যবসাকে প্রাতিষ্ঠানিক ও আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে সময়োপযোগী নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে বিজিএমইএ।


নির্বাচিত

খেলাপি ঋণ ছাড়াল ৬ লাখ কোটি টাকা 

* খেলাপি কমাতে নতুন ‘এক্সিট’ নীতি
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ আবারও নতুন উচ্চতায় উঠেছে। জুন ২০২৬ শেষে ব্যাংকগুলোর শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। মাত্র তিন মাসে এই ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা। ফলে মোট ঋণের মধ্যে শ্রেণিকৃত ঋণের অনুপাতও বেড়ে হয়েছে ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অর্থাৎ ব্যাংক খাতের বিতরণ করা প্রতি ১০০ টাকার ঋণের মধ্যে প্রায় ৩৩ টাকাই এখন খেলাপি বা ঝুঁকিপূর্ণ। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন।

মার্চ শেষে শ্রেণিকৃত ঋণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা এবং অনুপাত ছিল ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। জুনে তিন মাসের ব্যবধানে ঋণের পরিমাণ যেমন বেড়েছে, তেমনি অনুপাতও বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫২ শতাংশীয় পয়েন্ট।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব বিশ্লেষণেও খেলাপি ঋণকে ব্যাংক খাতের অন্যতম প্রধান ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট খেলাপি ঋণের অনুপাত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের ২০ দশমিক ২০ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশে উঠেছিল। পরে মার্চ ২০২৬-এ তা কিছুটা কমে ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশে নামে। একই সময়ে নিট খেলাপি ঋণের অনুপাতও ১০ দশমিক ৫৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৬ দশমিক ৪০ শতাংশে উঠেছিল এবং মার্চে ১৫ দশমিক ০১ শতাংশে নেমে আসে। অর্থাৎ খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমানোর কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও ব্যাংক খাতের ঋণমান এখনো অত্যন্ত চাপের মধ্যে রয়েছে।

সমস্যাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো খেলাপি ঋণের কেন্দ্রীভূত অবস্থান। বাংলাদেশ ব্যাংকের মার্চের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দেশের ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে মাত্র ১৫টি ব্যাংকে মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৮৫ শতাংশ কেন্দ্রীভূত ছিল। এসব ব্যাংকের সম্মিলিত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা।

এতে বোঝা যায়, পুরো ব্যাংক খাতের পাশাপাশি কিছু ব্যাংকের দুর্বল ঋণ ব্যবস্থাপনা ও সুশাসন পরিস্থিতিকে আরও সংকটপূর্ণ করে তুলছে।

খেলাপি ঋণ বাড়লে ব্যাংকের শুধু মুনাফাই কমে না, মূলধন সংরক্ষণ ও নতুন ঋণ বিতরণের সক্ষমতাও দুর্বল হয়। কারণ খেলাপি ঋণের বিপরীতে ব্যাংককে প্রয়োজনীয় সংস্থান বা প্রভিশন রাখতে হয়। ফলে একদিকে আটকে যায় আমানতকারীদের অর্থ, অন্যদিকে নতুন উদ্যোক্তা ও উৎপাদনশীল খাতে ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা সংকুচিত হয়।

বিশ্বব্যাংকও বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের এই দুর্বলতাকে গুরুতর বলে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটির জুন ২০২৬-এর হিসাবে, মার্চে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের অনুপাত ছিল ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার ব্যাংকগুলোর গড় ছিল মাত্র ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে পুরো ব্যাংক ব্যবস্থার মূলধন-ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদ অনুপাতও ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬ শতাংশ ছিল।

খেলাপি ঋণ কমাতে দীর্ঘদিন ধরে পুনঃতফশিল, পুনর্গঠন ও নীতিসহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এর পরও কাঙ্ক্ষিত হারে ঋণ আদায় না হওয়ায় সমস্যাটি স্থায়ী রূপ নিচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫ সালের আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওই বছর ব্যাংক খাতে পুনঃতফশিল করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৭০ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা, যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ৯৯ শতাংশ বেশি। পুনঃতফশিলকৃত ঋণের স্থিতিও মোট ঋণের ২৪ দশমিক ৫৪ শতাংশে উঠেছিল।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালায় অবশ্য ঋণ পুনঃতফশিলকে নিয়মিত প্রক্রিয়া হিসেবে ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ বা তহবিল সরানোর মতো ঘটনায় তৈরি ঋণ পুনঃতপশিল না করার নির্দেশনাও রয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৬ সালের জুনে খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের জন্য এককালীন ‘স্পেশাল এক্সিট’ সুবিধা চালু করে। এর আওতায় ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ‘ব্যাড/লস’ হিসেবে শ্রেণিকৃত ঋণ এককালীন পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। শর্ত পূরণ হলে ব্যাংক সুদ মওকুফ করতে পারবে, তবে মূল ঋণের অর্থ মওকুফের সুযোগ নেই। প্রতারণা, জালিয়াতি, অর্থ সরিয়ে নেওয়া বা অন্যান্য অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ঋণ এই সুবিধার আওতায় পড়বে না।

এর পাশাপাশি বিপাকে পড়া ব্যবসায়ীদের ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগও বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ ৩১ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিসহায়তার আবেদনের সময়সীমা ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বাড়িয়েছে। ১ হাজার কোটি টাকা বা তার বেশি ঋণ থাকা প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপকে সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত পুনঃতফশিলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ দুই বছর গ্রেস পিরিয়ড থাকতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, শুধু পুনঃতফশিল বা সুদ মওকুফ করে খেলাপি ঋণের প্রকৃত সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন ঋণ দেওয়ার আগে গ্রাহকের সক্ষমতা যাচাই, বড় ঋণের ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি, সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা।

বাংলাদেশ ব্যাংকও ভবিষ্যৎ কৌশলে রিস্ক-বেইজড সুপারভিশন, ব্যাংকভিত্তিক অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ, মূলধন পুনর্গঠন, বিশেষায়িত ঋণ আদায় ইউনিট এবং অর্থঋণ আদালতের কার্যক্রম দ্রুত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। পাশাপাশি ২০২৭ সালে আন্তর্জাতিক হিসাবমান IFRS 9 অনুযায়ী Expected Credit Loss বা সম্ভাব্য ঋণক্ষতি নির্ধারণ পদ্ধতি পুরোপুরি বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।

সব মিলিয়ে, ৬ লাখ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ এখন শুধু ব্যাংকের হিসাবের সমস্যা নয়; এটি বিনিয়োগ, আমানতকারীর আস্থা, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য বড় ঝুঁকি। তাই নতুন করে ঋণ দেওয়ার চেয়ে পুরোনো ঋণের প্রকৃত অবস্থা নির্ণয়, আদায় বাড়ানো এবং দুর্বল ব্যাংকের সংস্কার—এই তিন ক্ষেত্রেই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন।


নির্বাচিত

দেশে সারের সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুত আছে: সংসদে কৃষিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে সারের কোনো সংকট নেই জানিয়ে সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টিকারীদের বিচারের মুখোমুখি করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ। বুধবার জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ বিধিতে এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। একই সঙ্গে সারের সংকট নিরসন ও বাজার নিয়ন্ত্রণে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় তদারকি করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

সংসদে নোটিশ উত্থাপনকালে আখতার হোসেন সারের বাজারে অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ও বিতরণ অব্যবস্থাপনার বিষয়টি তুলে ধরেন। এরপর ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালও সারের ডিলারশিপের অনিয়ম নিয়ে কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, মৃত ব্যক্তিদের নামে এখনো ডিলারশিপ রয়েছে এবং এক ইউনিয়ন বা জেলার ডিলার অন্য স্থানে কাজ করছেন। নিজের নির্বাচনী এলাকা কলমাকান্দা-দুর্গাপুরেও এমন চিত্র দেখেছেন জানিয়ে তিনি কৃষিমন্ত্রীর পদক্ষেপ জানতে চান।

জবাবে কৃষিমন্ত্রী জানান, মাঠপর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সারের মূল্যবৃদ্ধি রোধ করার লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় বিশেষ টাস্কফোর্স ও ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে। সরবরাহব্যবস্থায় কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো গেলে অসাধু চক্র কোনো সংকট তৈরি করতে পারবে না।

সারের প্রকৃত মজুত প্রসঙ্গে তথ্য দিয়ে কৃষিমন্ত্রী নিশ্চিত করেন যে, বর্তমানে দেশে প্রায় ১৩ লাখ টন সার মজুত রয়েছে, যেখানে গত বছর প্রয়োজন ছিল ১২ লাখ টন। এছাড়া আরও ৪ লাখ ৪২ হাজার ৮০০ টন সার আমদানির পাইপলাইনে রয়েছে। সরবরাহ বৃদ্ধির উদাহরণ টেনে তিনি জানান, রংপুর অঞ্চলে গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আগস্টে যেখানে ১০ হাজার ৫৯০ টন সার দেওয়া হয়েছিল, সেখানে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের একই সময়ে ১৮ হাজার ৮৪৭ টন সরবরাহ করা হয়েছে। দেশে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হলেও এবং ইউরিয়া ব্যতীত অন্যান্য সার মাত্র এক লাখ টনের মতো উৎপাদিত হলেও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় দেশে কোনো ঘাটতি নেই বলে জানান তিনি।


নির্বাচিত

পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান অধ্যাপক নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) নতুন সভাপতি (চেয়ারম্যান) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া। বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৮(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি জনস্বার্থে অধ্যাপক মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়াকে পিএসসির সভাপতি পদে নিয়োগ প্রদান করেছেন। সংবিধানের ১৩৯(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, তিনি দায়িত্বভার গ্রহণের তারিখ থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর অথবা তাঁর ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার মধ্যে যেটি আগে ঘটে, সে সময় পর্যন্ত কমিশনের সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করবেন।

এর আগে সম্প্রতি পিএসসির চেয়ারম্যানের পদ থেকে অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম পদত্যাগ করার পর সাংবিধানিক এই শীর্ষ পদটি শূন্য হয়ে পড়েছিল। সেই শূন্য পদ পূরণের লক্ষ্যেই সরকার নতুন এই নিয়োগ কার্যকর করেছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর তৎকালীন পিএসসি চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইনসহ কমিশনের ১২ জন সদস্য একযোগে পদত্যাগ করেছিলেন। পরবর্তীতে ওই বছরের অক্টোবর মাসে অন্তর্বর্তী সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেমকে পিএসসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছিল।


নির্বাচিত

সংসদে কৃষি-শিক্ষাসহ ১০ স্থায়ী কমিটি গঠন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কৃষি, শিক্ষা, মহিলা ও শিশু, সড়ক পরিবহন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং ধর্মসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ১০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এ পর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে কণ্ঠভোটে কমিটিগুলো সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
এদিন সংসদ নেতার অনুমতিক্রমে তার পক্ষে সংসদের চিফ হুইপ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম (বরগুনা-২) সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ এবং সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ২৪৬, ২৪৭ ও ২৪৮ বিধি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে কমিটি গঠনের প্রস্তাবগুলো উত্থাপন করেন।

কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি
এই কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায় (ঢাকা-৩)। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান (ফরিদপুর-৪), মো. মোস্তাফিজুর রহমান (নওগাঁ-১), মো. ফরিদুল কবির তালুকদার (জামালপুর-৪), মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ (ময়মনসিংহ-৪), মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী (মৌলভীবাজার-৪), সাবেরা সুলতানা (মহিলা আসন-১৪), মো. গোলাম রসুল (যশোর-৪) এবং মো. রায়হান সিরাজী (রংপুর-১)।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি
এই কমিটির সভাপতি হয়েছেন মো. সেলিম ভূঁইয়া (কুমিল্লা-২)। সদস্যরা হলেন— সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, ববি হাজ্জাজ (ঢাকা-১৩), রেজা কিবরিয়া (হবিগঞ্জ-১), মো. সেলিমুজ্জামান মোল্লা (গোপালগঞ্জ-১), মো. জাহাঙ্গীর আলী মিয়া (মাদারীপুর-২), তাহসিনা রুশদীর (সিলেট-২), বীথিকা বিনতে হোসাইন (মহিলা আসন-২৪), মো. মুজিবুর রহমান (রাজশাহী-১) এবং আতিকুর রহমান মুজাহিদ (কুড়িগ্রাম-২)।

মহিলা ও শিশু-বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি
এই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে সেলিমা রহমানকে (মহিলা আসন-১)। কমিটির সদস্যরা হলেন— সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, রাশেদা বেগম হীরা (মহিলা আসন-৩), বিলকিস ইসলাম (মহিলা আসন-৭), আন্না মিনজ (মহিলা আসন-১৯), মাধবী মারমা (মহিলা আসন-৩৪), ফাহিমা নাসরিন (মহিলা আসন-২৯), আল ফারুক আব্দুল লতিফ (নীলফামারী-২), নুরুন্নিসা সিদ্দিকা (মহিলা আসন-৩৭) এবং সাবেকুন নাহার (মহিলা আসন-৩৯)।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি
এই কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন রকিবুল ইসলাম (খুলনা-৩)। সদস্যরা হলেন— সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, হাবিবুর রশীদ (ঢাকা-৯), লুতফুর রহমান (কক্সবাজার-৩), মো. রুহুল আমিন দুলাল (পিরোজপুর-৩), মো. শহিদুল ইসলাম (ফরিদপুর-৪), মো. আক্তারুজ্জামান (ময়মনসিংহ-১০), নেওয়াজ হালিমা আরলী (মহিলা আসন-৫), মো. রফিকুল ইসলাম খান (সিরাজগঞ্জ-৪) এবং মো. মতিউর রহমান (ঝিনাইদহ-৩)।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি
এই কমিটির সভাপতি হয়েছেন আবুল কালাম আজাদ (টাঙ্গাইল-৭)। অন্য সদস্যরা হলেন— সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, আলতাফ হোসেন চৌধুরী (পটুয়াখালী-১), লুৎফুল হাই মাজেদ (ময়মনসিংহ-৮), সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম (দিনাজপুর-৩), জসিম উদ্দিন আহমেদ (চট্টগ্রাম-১৪), সুরাইয়া জেরিন (মহিলা আসন-২৫), শওকত আরা আক্তার (মহিলা আসন-৩৩), মাসুম মোস্তফা (নেত্রকোনা-৫) এবং মোহাম্মদ আবু তালিব (ঝিনাইদহ-৪)।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি
এই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে করিমুদ্দিন আহমেদকে (সুনামগঞ্জ-৫)। সদস্যরা হলেন— সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, মোহাম্মদ আবুল খায়ের ভূঁইয়া (লক্ষ্মীপুর-২), মোহাম্মদ তমিজউদ্দিন (ঢাকা-২০), মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ (রাজবাড়ী-২), মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া (কুমিল্লা-১০), মনসুরা আক্তার (মহিলা আসন-২৬), মোহাম্মদ কেরামত আলী (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১), সাইফুদ্দিন আহমেদ হানজালা (মাদারীপুর-১) এবং ওবায়দুল্লাহ সালাফী (নীলফামারী-৩)।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি
এই কমিটির সভাপতি হয়েছেন মোহাম্মদ আমানউল্লাহ আমান (ঢাকা-২)। কমিটির সদস্যরা হলেন— সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, ইয়াসের খান চৌধুরী (ময়মনসিংহ-৯), মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন (নরসিংদী-৫), মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল (জামালপুর-৩), মোহাম্মদ মজিবুর রহমান (গাজীপুর-১), নিলুফার চৌধুরী মনি (মহিলা আসন-১০), ফাহমিদা হক (মহিলা আসন-১৮), মোঃ শফিকুল ইসলাম (পটুয়াখালী-২) এবং নাজমুন নাহার (মহিলা আসন-৪০)।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি
এই কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন আলহাজ্ব জি কে গাউস (হবিগঞ্জ-৩)। সদস্যরা হলেন— সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, শেখ ফরিদুল ইসলাম (বাগেরহাট-৩), মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম ধুলু (নওগাঁ-৫), মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫), সরোয়ার আলমগীর (চট্টগ্রাম-২), সুলতানা জেসমিন (মহিলা আসন-৪৯), মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম (কুড়িগ্রাম-৩), মোহাম্মদ আব্দুল আলীম (বাগেরহাট-৪) এবং মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ (খুলনা-৬)।

ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি
এই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে নাসের রহমানকে (মৌলভীবাজার-৩)
অন্য সদস্যরা হলেন— সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (চট্টগ্রাম-৫), জয়নাল আবেদীন (ফেনী-২), সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ (বরিশাল-২), শাহ মোহাম্মদ ওয়ারেছ আলী মামুন (জামালপুর-৫), এরশাদুল্লাহ (চট্টগ্রাম-৮), সুলতানা আহমেদ (মহিলা আসন-১৭), মাহবুবুর রহমান বেলাল (রংপুর-৩) এবং মাহমুদুল্লাহ (ময়মনসিংহ-২)।

ধর্ম-বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি
এই কমিটির সভাপতি হয়েছেন রফিকুল ইসলাম জামাল (ঝালকাঠি-১)। সদস্যরা হলেন— সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, মোহাম্মদ শামীম কায়সার (গাইবান্ধা-৪), আজহারুল ইসলাম মান্নান (নারায়ণগঞ্জ-৩), নুরুল আমিন (চট্টগ্রাম-১), নিপুন রায় চৌধুরী (মহিলা আসন-১১), সুবর্ণা শিকদার (মহিলা আসন-২০), মোহাম্মদ নুরুল আমিন (রংপুর-৬), মোহাম্মদ আবুল হাসান (সিলেট-৫) এবং মোহাম্মদ আব্দুল খালেক (সাতক্ষীরা-২)।


নির্বাচিত

সাড়ে পাঁচ মাস পর দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস পর দেশে ফিরেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টায় মির্জা আব্বাসকে বহনকারী ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

এ সময় তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাসও সঙ্গে ছিলেন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত ১১ মার্চ ইফতারে পানি পান করার সময় হঠাৎ জ্ঞান হারান মির্জা আব্বাস। অবস্থার উন্নতি না হলে গভীর রাতে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

১৫ মার্চ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসার পর তাকে মালয়েশিয়ায় চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা আব্বাস।


নির্বাচিত

অসুস্থ বিদ্যুৎ মন্ত্রীকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন রাষ্ট্রপতি

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে হাসপাতালে গিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে যান।

নিশ্চিত করে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, রাষ্ট্রপতি চিকিৎসাধীন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নেন ও কিছুক্ষণ তার শয্যাপাশে অবস্থান করেন। এ সময় তিনি তার সুস্থতার জন্য দোয়া করেন।

এর আগে, গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী আবদুল্লা আল কায়েস জানান, গত কয়েক দিন ধরেই জ্বরে ভুগছিলেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। পরবর্তীতে চিকিৎসকদের পরামর্শে শারীরিক পরীক্ষার ও সুচিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।


নির্বাচিত

banner close