শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

রাজধানী হিসাবে ঢাকার বিকল্প কি সম্ভব?

আপডেটেড
২৪ মার্চ, ২০২৫ ১১:৫৭
ইউএনবি
প্রকাশিত
ইউএনবি
প্রকাশিত : ২৪ মার্চ, ২০২৫ ১১:৫৪

রাজধানীর পল্টন দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন জাহিদুর রহমান নামের এক ব্যবসায়ী। হঠাৎ বাতাসে ধুলোবালি এসে নাকে-মুখে ঢুকে যায় তার। চারপাশে গাড়িগুলো পাল্লা দিয়ে হর্ন বাজিয়ে যাচ্ছে, দুই কান হাত দিয়ে চেপে ধরেও রেহাই পাচ্ছেন না।

তার ভাষ্যে, ‘মানুষ বাস করার মতো অবস্থায় নেই এই শহর। কেবল চাকরি করতে হবে বলে ঢাকায় আছি, নাহলে অনেক আগেই (এই শহর ছেড়ে) চলে যেতাম।’

‘সবকিছু ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায় নাগরিকদের এই শহরে এসেই ভিড় করতে হচ্ছে। ইচ্ছা থাকলেও নিরাপদ জীবনের খোঁজে অন্যত্র যাওয়া সম্ভব নয়’, বুধবার (১৯ মার্চ) কথাগুলো বলছিলেন তিনি।

নগরীর গণপরিবহনগুলোতে বেশিরভাগ সময়ই যাত্রীদের দাঁড়ানোর মতো জায়গাও থাকে না। বাইরে বের হলে বাসের দরজায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীদের ঝুলে থাকার দৃশ্য চোখে পড়তে বাধ্য।

ডিওএইচএসে বসে এসব কথারই পুনরাবৃত্তি করছিলেন বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা মারুফুল হক। বলেন, ‘অফিসের সময় বাসে জায়গা পাওয়া যায় না; আবার অফিস কামাইও দেওয়া যাবে না। যে কারণে লোকজন ঠেলেঠুলে হলেও বাসে উঠতে হয়। অনেকসময় ভেতরে একদমই জায়গা থাকে না, সেক্ষেত্রে দেরিতে অফিসে প্রবেশ এড়াতে গেটে ঝুলে পড়া ছাড়া উপায় থাকে না।’

‘ঢাকার সড়কে যানজট, বাসে ভিড়; আবার ফুটপাত দিয়ে হেঁটে চলাচল করবেন, তারও জো নেই। একে তো অনেক ফুটপাত ভাঙাচোরা, কোথাও আবার ম্যানহোলের ঢাকানা নেই; তার ওপর আবার ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের কারণে হাঁটার জায়গাও নেই অনেক জায়গায়।’

মারুফুল বলেন, ‘অর্থাৎ চলাচলের সব বিকল্প বন্ধ। ফলে রাস্তায় বের হলেই দুর্ভোগ পোহাতে হবে—এ একপ্রকার নিশ্চিত।’

‘অথচ এই শহরেই আমাদের বাস করতে হচ্ছে। গাদাগাদি করে বাসে উঠি, যানজট ঠেলে কোনোরকমে অফিসে পৌঁছাই। ক্লান্তি নিয়ে সারা দিন কাজ করি।’

ঢাকার বিকল্প কোনো রাজধানীর দরকার আছে কি না—জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. এম শামসুল হক বলেন, ‘বিশ্বের চল্লিশটির মতো দেশ তাদের রাজধানী অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। কয়েকটি দেশ এ প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। সর্বশেষ ইন্দোনেশিয়া তাদের রাজধানী পরিবর্তন করে নুসানতারায় নিয়ে গেছে। মিসরও চলে যাচ্ছে।’

কাজেই বাংলাদেশের রাজধানীও অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া এমন একটি বাস্তবতা, যা নিয়ে সমীক্ষারও প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন তিনি।

শামসুল হক বলেন, ‘চিকিৎসক যেমন রোগীর রেকর্ড দেখলে বুঝতে পারেন, হার্টবিট ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে, তখন তো চিকিৎসকরা বলেন, এটা বেয়ন্ড রিপেয়ারড (মৃত্যু আসন্ন)। এরকম ঢাকার সবকিছুই এত তলানির দিকে চলে যাচ্ছে যে, এত এত বিনিয়োগ করার পরও অর্থাৎ এত চিকিৎসা করার পরও কোনো উন্নতি হচ্ছে না, একেবারে নন-রেসপন্সিভ।’

ভারত, পাকিস্তান, ব্রাজিল, নাইজেরিয়া, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মিসর ও দক্ষিণ কোরিয়াও তাদের রাজধানী পরিবর্তন করেছে কিংবা করছে। অতিরিক্ত জনসংখ্যা ও যানজটের কারণেই দেশগুলো তাদের রাজধানী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানি ফুরিয়ে যাওয়া, পরিবেশগত উদ্বেগ, দূষণ, প্রাকৃতিক বিপর্যয়—এমন নানা কারণে বিভিন্ন দেশের রাজধানী সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আরও আধুনিক, স্মার্ট, পরিবেশগত টেকসই ও বিনিয়োগবান্ধব রাজধানী গড়ে তুলছে দেশগুলো।

বিকল্প রাজধানী হতে পারত পূর্বাচল

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ঢাকারও বিকল্প বের করা একটি চরম বাস্তবতা বলে উল্লেখ করেছেন ড. এম শামসুল হক।

তার ভাষ্যে, ‘অনেকের কাছে শকিং (তাক লাগানো) মনে হতে পারে, অনেকের কাছে এমন কিছু আবেগেরও মনে হতে পারে; কিন্তু আবেগ দিয়ে তো আর দেশ চলে না। যদি আমরা অনেক আগেই (এ বিষয়ে) চিন্তা করতাম, তাহলে অনেক সম্ভাবনা ছিল। এমনকি কম খরচে পূর্বাচলে আমরা বিকল্প রাজধানী করে ফেলতে পারতাম।’

‘পূর্বাচলের জায়গাটা অনেক উঁচু, বন্যামুক্ত। কৌশলগতভাবে একটি রাজধানী শহর বন্যামুক্ত হওয়া উচিত। সেক্ষেত্রে পূর্বাচল উঁচু জায়গায়, মাটিও অরিজিনাল।’

ঢাকার অন্যান্য জায়গায় মাটি ভরাট করে সবকিছু করা হয়েছে। মাটি ভরাট করে অবকাঠামো নির্মাণ করা হলে যেকোনো ভবনের ভিত্তি ব্যয় অনেক বেড়ে যায় বলে উল্লেখ করেন এই নগর প্রকৌশলী।

দুর্বল মাটিতে বিনিয়োগও খুব একটা কার্যকর হয় না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগের একটি অংশ দুর্বল মাটির জন্য নষ্ট হয়ে যায়। ফলে রাজধানী এমন একটি জায়গায় হতে হয়, যেখানকার মাটি ভালো। সে অনুসারে পূর্বাচল ভালো অপশন ছিল।’

‘অথচ সেখানে সাত হাজার একরের একটি টাউনশিপ গড়ে তোলা হয়েছে। প্লট দিয়ে ব্যক্তিকে কোটিপতি বানানো হয়েছে। এত বড় অন্যায় একবিংশ শতাব্দীতে কেউ করবে না, যেটা সেখানে হয়েছে।’

‘যদি আবাসনের কথা বলি, তাহলে ফ্ল্যাট দেওয়া যায়; কিন্তু আমাদের মতো জনবহুল দেশে প্লট দেওয়া যায় না।’

রাজধানী হিসেবে ঢাকার কার্যকারিতা নেই উল্লেখ করে এই অধ্যাপক বলেন, ‘তবে এটি নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। সেক্ষেত্রে অবশ্য লাভেই হবে, কারণ তাতে মানুষের মধ্যে কোনো প্রশ্ন থাকলে তা দূর হয়ে যাবে, সিদ্ধান্ত নিতে সরকারের সুবিধা হবে।’

‘কিন্তু কেউ যদি এসব নিয়ে নাড়াচাড়াই না করেন, তাহলে একজন রোগী মারা যাচ্ছেন কিনা, পয়েন্ট অব নো রিটার্নের দিকে চলে যাচ্ছেন কিনা— তা কিন্তু বোঝা যাবে না। এতে আমরা একটি অদূরদর্শী জাতি হিসেবে পরিচিতি পাব।’

ইন্দোনেশিয়ার উদহারণ টেনে তিনি বলেন, ‘তারা জাকার্তা থেকে রাজধানী সরিয়ে নুসানতারায় নিয়ে গেছেন। এতে খরচ হয়েছে ৩৫ বিলিয়ন ডলার। গত অক্টোবরে তাদের কাজের প্রথম ধাপ শেষ হয়েছে। মিসরের রাজধানী কায়রো থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আমরা যে ছয়টি মেট্রো করতে যাচ্ছি, সেটারও ২০ থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলার খরচ পড়বে।’

বিনিয়োগ ও পরিবেশবান্ধব, বাসযোগ্য, দূষণমুক্ত, গ্রিনসিটি হিসেবে ভাবলে ঢাকা কখনোই হবে না বলে জানান তিনি।

‘ঢাকায় যেভাবে ভূগর্ভস্থ পানি তোলা হচ্ছে, তাতে প্রতিনিয়ত আমাদের পানির স্তর নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে, ফলে পানি গভীর থেকে গভীরে নেমে যাচ্ছে।’

‘জাকার্তায়ও একই অবস্থা হয়েছিল। সেখানে অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে ভূগর্ভস্থ পানি বেশি তোলা হয়েছিল। একসময় দেখা গেল, পানি পাওয়া যাচ্ছে না। পানি না থাকলে বসতি হবে কীভাবে! ঢাকায়ও ভূগর্ভস্থ পানি দিন দিন তলানির দিকে চলে যাচ্ছে।’

শামসুল হক বলেন, ২০০৫ সালেও ঢাকা শহরে গাড়ির গতি ঘণ্টাপ্রতি ২৫ কিলোমিটার ছিল। এখন সেটা প্রতি ঘণ্টায় পাঁচ কিলোমিটারে নেমে এসেছে। ঢাকা শহরের হার্টবিট কমে শূন্যের দিকে যাচ্ছে। আমরা ঢাকাকে বাঁচাতে অনেক কিছু করেছি, কিন্তু ধীরে ধীরে এই শহরের অধঃপতন হয়েই চলেছে।’

জনবহুল শহর ঢাকা

আয়তনের তুলনায় ঢাকার জনসংখ্যা অনেক বেশি বলে মন্তব্য করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরের জনসংখ্যা সমস্যাটাই হচ্ছে মূল বিষয়। মাত্র সাড়ে ৩০০ বর্গ কিলোমিটারের যে শহর, সেখানে প্রায় দেড় থেকে পৌনে দুই কোটি মানুষ বাস করছেন। যদিও বিবিএসের (বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো) পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকার জনসংখ্যা এক কোটি ছয় লাখ, তবে সেটা সঠিক নয়।’

‘ঢাকায় ৪৮ হাজার মানুষ এক বর্গ কিলোমিটারের মধ্যে বাস করছেন। এতে সবচেয়ে জনবহুল রাজধানীর খেতাব পেয়েছে ঢাকা শহর। প্রতিটি জায়গার একটি ক্যারিং ক্যাপাসিটি (ধারণক্ষমতা) আছে, সেই ক্যাপাসিটির চেয়ে অনেক বেশি মানুষ ঢাকা শহরে বাস করেন।’

‘আদর্শগতভাবে একটি শহরে একরপ্রতি মানুষ বাস করা উচিত দুইশর কম। সেই তুলনায় ঢাকা শহরের একরপ্রতি জনঘনত্ব অনেক বেশি, কোনো কোনো এলাকায় সেটি সাড়ে ৩০০ পেরিয়ে যায়। যেমন, লালবাগ এলাকায় এই সংখ্যাটি ছয়শর মতো।’

ড. আকতার মাহমুদ বলেন, ‘ক্যারিং ক্যাপাসিটির বেশি পরিমাণ মানুষ যখন একটি জায়গায় বসবাস করেন, সেখানে কয়েকটি নেগেটিভ এক্সটারনালিটিজ (পরোক্ষ ক্ষতি) তৈরি হয়। এর মধ্যে বায়ুদূষণ, পানিদূষণ, শব্দদূষণ থেকে শুরু করে সব ধরনের দূষণ রয়েছে। নদী-নালা, খাল-বিলগুলোর অবস্থা দেখলেই এর প্রভাব বুঝতে পারবেন। এর পাশাপাশি মরার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো রয়েছে যানজট।’

তিনি বলেন, ‘এতে মানুষের জীবনমান অনেক খারাপ হয়ে যায়। জনসংখ্যার বিপরীতে যে পরিমাণ নাগরিক সুবিধা থাকা উচিত, সেটা থাকে না। যে কারণে দেখবেন, আমাদের স্কুলগুলোতে কোনো খেলার মাঠ নেই। বাচ্চারা মুরগির খোপের মতো একটি স্কুলঘরে ক্লাস করে। এতে তাদের মানসিক বিকাশ হয় না।’

শুধু তা-ই নয়, মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো মেটানোও কঠিন হয়ে পড়ে বলে মন্তব্য করেন এই নগর-পরিকল্পনাবিদ।

‘আপনি দেখবেন, এখানে চিকিৎসকের সিরিয়াল পাওয়া যায় না। সব জায়গায় অতিরিক্ত ভিড়। যদি কোনো বাস স্টেশনে, হেলথকেয়ার কিংবা হাসপাতালে যান, কোথাও নাগরিক সুবিধা পাওয়া যাবে না। আবার পেতে হলে অনেক বেশি চেষ্টা করতে হয়। এর মানে হলো জনপরিসর অপ্রতুল। খোলা জায়গা ও পার্কগুলোর দিকে তাকান।’

‘সবকিছু বিচার বিশ্লেষণ করলে আমরা বলব যে ঢাকা শহরের জনসংখ্যা এত বেশি যে সেই অনুপাতে নাগরিক সুবিধা এখানে নেই,’ যোগ করেন তিনি।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘কুড়িগ্রাম থেকেও ঢাকায় মানুষ আসেন, আবার সাতক্ষীরা থেকেও আসেন। তিনটি প্রধান কারণে তারা আসেন: কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা। এছাড়া নদীভাঙনসহ আরও অনেক কারণ আছে।’

রাজধানী সরিয়ে নেওয়াই কি সমাধান

সেক্ষেত্রে ঢাকার এই জনচাপ কমাতে রাজধানী সরিয়ে নেওয়ার মতো সম্ভাবনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বিষয়টি একেবারে উড়িয়ে দেননি তিনিও। অন্য উপায়গুলোর সঙ্গে এটিও একটি ভেবে দেখার মতো বিষয় বলে জানান এই শিক্ষক।

তিনি বলেন, ‘ঢাকার শহরের এই পরিস্থিতি রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। সেটি করতে গেলে কিছু কিছু কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে।’

‘সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া, অর্থনীতি, লেখাপড়া, বিচারিক ও স্বাস্থ্যসেবা—সবকিছুর কেন্দ্র ঢাকা। সে কারণে কোনো কোনো দেশ এমন সমস্যায় পড়লে শহর থেকে কোনো কোনো কার্যক্রমকে কেন্দ্রবিমুখ করে ফেলে। কেউ কেউ রাজধানীও সরিয়ে নিয়েছে।’

তবে বাংলাদেশের মতো একটি দেশের রাজধানী সরিয়ে নেওয়া খুবই খরচের বিষয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রাজধানী না সরিয়ে পুত্রজায়ায় একটি প্রশাসনিক এলাকা গড়ে তুলেছে মালয়েশিয়া। জার্মানিতে ফ্রাঙ্কফুট হয়েছে অর্থনৈতিক রাজধানী।’

‘এভাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রাজধানী চট্টগ্রাম এবং প্রশাসনিক কাজের জন্য ঢাকা, চট্টগ্রাম কিংবা কুমিল্লার মতো একটি জায়গা নির্ধারণ করা যেতে পারে।’

এভাবে কিছু কিছু কাজ সরিয়ে নিয়ে রাজধানী না সরিয়েও ঢাকার ওপর চাপ কমিয়ে ফেলা সম্ভব বলে মত দেন আকতার মাহমুদ।

তার কথায়, ‘আমরা যেন সমস্ত কাজ ঢাকাকেন্দ্রিক করে না ফেলি। এখন যদি বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়, তাহলে ঢাকার প্রতি মানুষের আকর্ষণ কমে যাবে, আর দেশের চারদিকে মানুষ ছড়িয়ে পড়বে।’

‘সমগ্র বাংলাদেশ নিয়ে পরিকল্পনা করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অন্য বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, যাতে কর্মসংস্থান তৈরি হয়। পাশাপাশি জেলা শহরগুলোতে বিনিয়োগে প্রণোদনা দিয়ে প্রাইভেট কোম্পানিগুলোকে উৎসাহিত করতে হবে। এভাবে কাজগুলো অন্য বিভাগীয় ও পৌর শহরে সরিয়ে নিতে হবে। তাহলে লোকজন নিজের বাড়িতে কিংবা এলাকার কাছাকাছি বসবাস করা শুরু করবে।’


ঈদ উপলক্ষে আজও ব্যাংক খোলা, চলবে স্বাভাবিক লেনদেন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দীর্ঘ সাত দিনের ছুটির কারণে গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে এবং আর্থিক লেনদেন সচল রাখতে আজ শনিবার ও আগামীকাল রোববার দেশের সকল তফসিলি ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষণা অনুযায়ী, আজ ২৩ মে এবং আগামীকাল ২৪ মে নির্ধারিত সময়সূচি মেনে ব্যাংকগুলোতে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে যে, এই দুই দিন ‘সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত গ্রাহকরা নিয়মিত লেনদেন করতে পারবেন’ এবং আনুষঙ্গিক দাপ্তরিক কাজের জন্য ব্যাংক বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। মূলত সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ব্যাংক সচল রাখার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সাত দিনের দীর্ঘ ছুটির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডাটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড এনালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) গত ১৮ মে এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ সার্কুলার জারি করে। তবে দীর্ঘ সাধারণ ছুটি থাকলেও তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ এবং জাতীয় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে শিল্পাঞ্চল ও বন্দর সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগরীসহ আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের পোশাক শিল্প সমৃদ্ধ এলাকার ব্যাংক শাখাগুলো ২৫ ও ২৬ মে সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। ওই দিনগুলোতে দাপ্তরিক সময়সীমা সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হলেও ‘গ্রাহক লেনদেন করা যাবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত।’

এর পাশাপাশি দেশের সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থিত ব্যাংক শাখা ও বুথগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঈদের দিন ব্যতীত ছুটির অন্য দিনগুলোতেও এসব স্থানে সীমিত আকারে আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত ব্যাংকিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করেছে যে, এই বিশেষ ছুটির দিনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রচলিত বিধি অনুযায়ী যথাযথ আর্থিক ভাতা প্রাপ্ত হবেন। সাধারণ মানুষের কোরবানির কেনাকাটা ও শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সেই লক্ষ্যেই ব্যাংকিং খাতে এই বিশেষ তৎপরতা চালানো হচ্ছে।


বাংলাদেশ থেকে শেষ হলো হজ ফ্লাইট, ২৪ হজযাত্রীর প্রাণহানি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

চলতি বছরের হজ পালনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে সকল নির্ধারিত ফ্লাইট সম্পন্ন হয়েছে এবং নিবন্ধিত সকল হজযাত্রী বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। শুক্রবার (২২ মে) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালের আইটি হেল্পডেস্ক থেকে প্রকাশিত নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়েছে যে, ব্যবস্থাপনা সদস্যসহ মোট ৭৯ হাজার ১৬৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী ইতোমধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এবারের হজ যাত্রায় মোট ২০১টি ফ্লাইটের মাধ্যমে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৪৬৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯২৬ জন যাত্রী পবিত্র ভূমিতে গমন করেছেন।

হজের যাবতীয় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল হজযাত্রীকে দেশে ফিরিয়ে আনার এই প্রক্রিয়া আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

তবে এবারের হজ মৌসুমে এখন পর্যন্ত ২৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। মৃতদের মধ্যে ১৭ জন পুরুষ এবং ৭ জন নারী রয়েছেন। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, মক্কায় ১৫ জন এবং মদিনায় ৯ জন হজযাত্রী ইন্তেকাল করেছেন। সর্বশেষ গত ২২ মে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (৬১) নামের এক ব্যক্তি সৌদি আরবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে মৃতদের দাফন ও অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।


স্মার্টফোনে বন্দি শৈশব, ঝুঁকিতে মানসিক স্বাস্থ্য

* ঢাকার ৮৩ শতাংশ শিশুই দিনে ২ ঘণ্টার বেশি থাকছে স্ক্রিনে * ভুগছে নানা সমস্যায়, অল্প বয়সেই চোখে উঠছে চশমা * কমে যাচ্ছে শারীরিক পরিশ্রমের ক্ষমতা * ৮০ শতাংশ ভুগছে তীব্র মাথাব্যথায় * ব্যাহত হচ্ছে ঘুম, বাড়ছে স্থূলতা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কাইয়ুম আহমেদ

সাত বছর বয়সি তামিমের চোখ দুটো জোনাকির মতো জ্বলছে। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। তার ডান হাতের বুড়ো আঙুলটা মোবাইল স্ক্রিনের ওপর ঝড়ের গতিতে কাঁপছে। সে এখন চার দেয়ালের ঘরে নেই; এক রক্তক্ষয়ী কাল্পনিক যুদ্ধক্ষেত্রের সেনাপতি যেন!

সামনে ঠাণ্ডা হয়ে আসা ভাতের থালা নিয়ে পাথর হয়ে বসে আছেন মা। পরম স্নেহে এক লোকমা ভাত তামিমের মুখের কাছে নিতেই রুমের বাতাস কাঁপিয়ে চিৎকার করে উঠল সে—উফ আম্মু! ডিস্টার্ব কোরো না তো! আর একটা শট দিলেই এনিমি খতম! গেম ওভার হয়ে যাবে!

মায়ের হাতটা মাঝপথেই থমকে যায়। তামিমের মুখের সেই অদ্ভুত হিংস্রতা দেখে মায়ের বুকটা কেঁপে ওঠে। এই দৃশ্যটি কেবল তামিমের একার নয়; এটি আজ দেশের নতুন ‘মহামারি’।

রাজধানীর বনশ্রীর একটি বেসরকারি স্কুলের প্রথম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর দিন শুরু হয় ডিজিটাল স্ক্রিন দিয়ে, শেষও হয় স্ক্রিনেই। সকালে স্কুল থেকে ফেরার পর তামিমের আর কোনো ব্যস্ততা নেই। এলাকায় একটা খেলার মাঠ আছে ঠিকই, কিন্তু কর্মব্যস্ত বাবা-মায়ের তাকে নিয়ে মাঠে যাওয়ার সময় নেই! আবার একা ছাড়তেও ভরসা পান না তারা। ফলে তামিমের বিনোদন, অবসর আর একাকিত্বের একমাত্র সঙ্গী এখন স্মার্টফোনটি। তবে শুধু, তামিম নয়; ড্রয়িংরুমের সোফা থেকে শুরু করে ডাইনিং টেবিল, এমনকি রাতের বিছানা—শিশুদের শৈশবের সিংহভাগই এখন গ্রাস করে নিয়েছে এই স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের নীল আলো। নিজেদের অজান্তেই এই কৃত্রিম স্ক্রিন কেড়ে নিচ্ছে শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ, হাসি আর প্রাণচাঞ্চল্য, ঝুঁকিতে মানসিক স্বাস্থ্য।

গবেষণার ভয়াবহ পরিসংখ্যান: এক অদৃশ্য মহামারি: অনেক মা-বাবা মনে করেন, সন্তান ঘরে চোখের সামনে ফোন নিয়ে বসে আছে, মানে সে নিরাপদ আছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইসিডিডিআর,বি) সাম্প্রতিক এক গবেষণা এই ধারণার মুখে এক বড় চপেটাঘাত করেছে। ঢাকার শিশুদের ওপর পরিচালিত এই গবেষণায় যে তথ্য উঠে এসেছে, তাকে গবেষকরা সরাসরি অদৃশ্য মহামারি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

জার্নাল অব মেডিকেল ইন্টারনেট রিসার্চ (জেএমআইআর) হিউম্যান ফ্যাক্টরস-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় ঢাকার ছয়টি (তিনটি বাংলা ও তিনটি ইংরেজি মাধ্যম) স্কুলের ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সি ৪২০ জন শিশুর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা যাচাই করা হয়। ফলাফলে দেখা গেছে-

নিরাপদ সীমার লঙ্ঘন: আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, একজন শিশুর জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ নিরাপদ ‘স্ক্রিন টাইম’ বা স্ক্রিন দেখার সময় হলো ২ ঘণ্টা। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার ৮৩ শতাংশ শিশুই দৈনিক ২ ঘণ্টার বেশি সময় স্ক্রিন ব্যবহার করছে।

সাড়ে চার ঘণ্টার ডিজিটাল বন্দিত্ব: গড়ে ঢাকার শিশুরা স্মার্টফোন, টিভি বা কম্পিউটারের পেছনে দিনে সাড়ে ৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ব্যয় করছে। অর্থাৎ, তাদের দিনের একটা বড় অংশই কাটছে অবাস্তব এক ডিজিটাল জগতে।

শরীর ও মনে ডিজিটাল বিষক্রিয়া; অতিরিক্ত সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফল কতটা মারাত্মক হতে পারে, তা গবেষণার শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষার উপাত্তগুলো দেখলেই স্পষ্ট হয়:

১. শারীরিক বিপর্যয় : গবেষণায় অংশ নেওয়া শিশুদের এক-তৃতীয়াংশই ইতোমধ্যে চোখের নানা সমস্যায় ভুগছে। অল্প বয়সেই তাদের চোখে উঠছে চশমা। এছাড়া ৮০ শতাংশ শিশু প্রায়ই তীব্র মাথাব্যথার কথা জানায়। মাঠে না যাওয়া এবং সারাক্ষণ বসে ফোন গোঁতার কারণে শিশুদের শারীরিক পরিশ্রম কমে যাচ্ছে, ব্যাহত হচ্ছে ঘুম আর আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে ওজন (স্থূলতা)।

২. মানসিক ও আচরণগত জটিলতা: শারীরিক ক্ষতির চেয়েও ভয়ঙ্কর ক্ষতি হচ্ছে শিশুদের মনে।

তথ্য বলছে, প্রতি ৫ জন শিশুর মধ্যে প্রায় ২ জনই (৪০ শতাংশ) ভুগছে তীব্র দুশ্চিন্তা,অতি চঞ্চলতা কিংবা আচরণগত নানা মানসিক সমস্যায়।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের এক অভিভাবক আক্ষেপ করে বলেন, আমার ছেলেটা আগে কত শান্ত ছিল। এখন ফোন ছাড়া সে খেতেই চায় না। ফোন কেড়ে নিলে বা ওয়াইফাই বন্ধ করে দিলে সে আমাদের ওপর মারমুখী হয়ে ওঠে, জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। স্ক্রিনের আসক্তি আমাদের পরিবারের শান্তি কেড়ে নিয়েছে।

গোঁড়ায় গলদ: দায় কার: এই পরিস্থিতির জন্য আমরা খুব সহজেই শিশুদের দোষ দিয়ে দিই। কিন্তু একটু গভীরে তাকালে দেখা যাবে, এর জন্য দায়ী আমরা বড়রাই।

রামপুরার এক বাসিন্দা অকপটে স্বীকার করলেন সেই সত্য, ‘আমরা বাবা-মায়েরাই এর জন্য দায়ী। ছোটবেলায় বাচ্চা একটু কাঁদলে বা ঠিকমতো না খেতে চাইলে আমরাই তো শান্ত রাখার জন্য তাদের হাতে ইউটিউব চালিয়ে মোবাইল তুলে দিই। আমরা নিজেদের সাময়িক শান্তির জন্য শিশুকে বিষ খাওয়াচ্ছি, পরে সেটাই তাদের অভ্যাসে পরিণত হচ্ছে।’

আবার বাড্ডার এক অভিভাবক জানান সামাজিক প্রতিযোগিতার কথা। তার দ্বিতীয় শ্রেণিপড়ুয়া সন্তান বন্ধুদের দেখাদেখি ট্যাবের জন্য কান্না করত। বাধ্য হয়ে ট্যাব কিনে দেওয়ার পর এখন সেই সন্তান সারাক্ষণ এক কোণায় মুখ গুঁজে বসে থাকে। পড়াশোনা, গল্পগাছা—সব উধাও।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও মতামত: শিক্ষাবিদদের মতে, অতিরিক্ত গুগল-ইউটিউব নির্ভরতার কারণে শিশুরা বই পড়া থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এতে তাদের মেধাচর্চা কমছে এবং ভুল তথ্য শেখার বা নৈতিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ছে। স্মার্টফোন এখন শিশুদের জন্য এক প্রকার ‘মারণাস্ত্রের’ মতো কাজ করছে।

জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, এই সংকটের জন্য শুধু বাবা-মাকে দায়ী করা যাবে না। জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন এবং ডা. লেলিন চৌধুরীর মতে, এটি একটি সামাজিক সমস্যা। মাঠ ও পার্ক দখল হয়ে যাওয়ার কারণে শিশুরা ঘরে বন্দি হয়ে পড়ছে।

সমাধানের পথ: প্রযুক্তি পুরোপুরি বন্ধ করা কোনো বাস্তবসম্মত সমাধান নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘরে ও বিদ্যালয়ে শিশুদের জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ ডিজিটাল অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি খেলার মাঠ ও পাবলিক স্পেসগুলো উদ্ধার করে শিশুদের প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা শারীরিক খেলাধুলার সুযোগ করে দেওয়া জরুরি। একে গবেষকরা ‘অদৃশ্য মহামারি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এখনই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষাবিদদের মতে, এই গুগল-ইউটিউব নির্ভরতা শিশুদের মৌলিক শিক্ষার ভিত নড়িয়ে দিচ্ছে। শিক্ষার্থীরা এখন বইয়ের পাতা উল্টানোর চেয়ে স্ক্রিন স্ক্রল করতে বেশি পছন্দ করে। এতে তাদের গভীর চিন্তার ক্ষমতা বা মেধাচর্চা কমছে। একই সাথে ইন্টারনেটের দুনিয়ায় ছড়িয়ে থাকা ভুল তথ্য বা অনোপযুক্ত কনটেন্ট দেখার কারণে আশঙ্কাজনকভাবে নৈতিক অবক্ষয় ঘটছে। একজন অধ্যাপক তো স্পষ্টই বলেছেন, ‘প্রযুক্তি ভালো, কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্মার্টফোন শিশুদের জন্য এক প্রকার মারণাস্ত্রের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

তবে এই সংকটের দায় কেবল পরিবারের ওপর চাপিয়ে দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলার সুযোগ নেই সমাজ বা রাষ্ট্রের।

জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেনের মতে, ‘সামাজিকভাবে যদি একটা কালচার তৈরি হয়ে যায়, তবে একা বাবা-মায়ের পক্ষে সন্তানকে আটকে রাখা কঠিন। এর জন্য আমাদের সামাজিক পরিবেশ বদলাতে হবে।’

অন্যদিকে, জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. লেলিন চৌধুরী একটি অত্যন্ত জরুরি দিকে আঙুল তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘যে দেশে শিশুদের খেলার মাঠ আর বিনোদনের পার্ক যত কমতে থাকে, সে দেশে কারাগার আর হাসপাতালের সংখ্যা তত বাড়তে থাকে।’ তিনি অবিলম্বে দখল হয়ে যাওয়া খেলার মাঠ ও পাবলিক স্পেসগুলো উদ্ধার করে শিশুদের ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান এবং প্রতিটি অভিভাবককে প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টার জন্য সন্তানকে নিয়ে বাইরে বের হওয়ার পরামর্শ দেন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নতুন মহাপরিচালক মুফতি মুহিববুল্লা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশে এই প্রথম কোনো পেশাদার আলেম ও মসজিদের ইমামকে প্রশাসনিক উচ্চ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লা হিল বাকীকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশন আইন অনুযায়ী তাকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মুফতি মুহিববুল্লা হিল বাকী মধ্যমপন্থি আলেম ও ইসলামী গবেষক হিসেবে পরিচিত। তিনি কওমি, আলিয়া ও প্রচলিত শিক্ষাধারায় সমানভাবে শিক্ষিত একজন আলেম।


স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার ব্যবহার থাকছে না: ইসি মাছউদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রচারের মাধ্যম হিসেবে পোস্টারের ব্যবহার নিষিদ্ধ করাসহ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের সংস্কার আনতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও কোনো পোস্টার থাকবে না। এ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য হলো, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিধিতে যেসব গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে এরমধ্যে একটি হলো এই নির্বাচনে পোস্টার থাকবে না। আমরা নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্থানীয় সরকার নির্বাচন পোস্টার না রাখার পক্ষে।’ এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্বাচনি প্রচারের ধরনে একটি বড় পরিবর্তন আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সংশোধিত বিধিমালার কারিগরি ও কৌশলগত পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে এই নির্বাচন কমিশনার জানান, আসন্ন ভোটগুলোতে ইভিএম বা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের ব্যবহার থাকবে না এবং অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের বর্তমান বিধানটিও বাতিল করার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচনটি সম্পূর্ণ নির্দলীয়ভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কোনো দলীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ থাকছে না। এছাড়া নির্দলীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনমূলক স্বাক্ষরের যে আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল, সেটিও সহজ করার লক্ষ্যে বাতিল করা হচ্ছে। তবে উপজেলা নির্বাচন ব্যতীত অন্যান্য স্তরে প্রার্থীর জামানতের অঙ্ক বৃদ্ধি করা হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। আইনি কড়াকড়ির বিষয়ে তিনি বলেন যে, প্রবাসী বা পোস্টাল ভোটের কোনো ব্যবস্থা থাকছে না এবং আইসিটি আইনের মামলায় চার্জশিটভুক্ত কোনো ব্যক্তি বা পলাতক আসামি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাবেন না।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, ঈদের ছুটির পরপরই সংশোধিত এই বিধিমালাটি চূড়ান্ত করার কাজ শুরু হবে এবং আগামী জুন মাসের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচনি ডামাডোল শুরু হতে পারে। একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য তিনি মূলত চারটি স্তম্ভের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন—সরকারের নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ও সংঘাতমুক্ত আচরণ, নির্বাচন কমিশনের আপসহীন ভূমিকা এবং ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত সততা ও সক্ষমতা। তিনি বিশ্বাস করেন, সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার জন্য ইসিকে নীতিগত জায়গা থেকে ‘হুংকার’ দিতে হবে।

নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রিসাইডিং অফিসার যদি আন্তরিকভাবে বলেন- জাল ভোট আমি করতে দেব না, বা দুই নম্বর কাজ হবে না-তাহলে তা তার সততা, ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বের গুণাবলির ওপর নির্ভর করে।’ তাঁর মতে, কেবল ব্যক্তিগত সততা থাকলেই চলবে না, বরং মাঠ পর্যায়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতাও একজন কর্মকর্তার জন্য অপরিহার্য। এই সকল নিয়ামকের যথাযথ সমন্বয় ঘটলে একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি জোরালো আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।


আসামি সোহেল অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল: ডিবিপ্রধান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানা আদালতে লোমহর্ষক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। দ্বিতীয় শ্রেণির এই শিক্ষার্থীকে পাশবিক নির্যাতনের পর শ্বাসরোধে হত্যা এবং পরবর্তীতে তার নিথর দেহ থেকে মাথা ও হাত বিচ্ছিন্ন করার কথা তিনি স্বীকার করেছেন। শুক্রবার (২২ মে) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা দীর্ঘকাল ধরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল এবং ‘তার অতীত কর্মকাণ্ড ভালো ছিল না’। ঘাতকের চারিত্রিক স্খলন ও মাদকাসক্তিই এই বর্বরোচিত ঘটনার নেপথ্যে কাজ করেছে বলে পুলিশ মনে করছে।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, একই ভবনের পাশাপাশি কক্ষে থাকা রামিসাকে দেখে ঘটনার দিন সকালে ইয়াবাসক্ত সোহেলের মধ্যে ‘বিকৃত যৌন লালসা জেগে ওঠে’। সে শিশুটিকে কৌশলে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে বাথরুমে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে শিশুটি তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে সোহেল আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং ‘গোটা ঘটনা ফাঁস হওয়ার আতঙ্কে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে’। হত্যাকাণ্ডের পর সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বিষয়টি জানতে পেরে স্বামীকে বাঁচাতে লাশ গুম করার অমানবিক পরিকল্পনায় যোগ দেন। তাঁরা একটি ধারালো চাকুর সাহায্যে শিশুটির মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করেন এবং তার দুই হাত ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করেন। রামিসার মা যখন তাঁর মেয়ের সন্ধানে দরজায় নক করছিলেন, তখন সোহেলকে জানালা দিয়ে পালানোর সুযোগ করে দিতে স্বপ্না দীর্ঘক্ষণ দরজা বন্ধ করে রেখেছিলেন।

এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের পর গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নিহতের পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে রামিসার পল্লবীর বাসভবনে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান যে, পুলিশ দ্রুততম সময়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং ‘আসামি ১৬৪ ধারায় তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ​এখন চার্জশিট দেওয়ার পালা।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় ডিএনএ পরীক্ষার কাজ সিআইডি ল্যাবে চলমান রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্যমতে, ‘ডিএনএ টেস্টের নিয়ম হচ্ছে যে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগে, যেহেতু এটা বৈজ্ঞানিক বিষয়। সেটা শেষ হবে রোববারের দুপুরের মধ্যে। রোববারের মধ্যে ইনশাআল্লাহ আদালতে চার্জশিট দাখিল করতে পারবো এবং তারপর অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে যাতে বিচার কার্য নিষ্পন্ন হয় সে চেষ্টা করবো। যাতে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা যায় সেজন্য আমাদের পক্ষ থেকে চেষ্টা থাকবে।’

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে সকালে পল্লবীর একটি কক্ষের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জ থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ।


দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শক্তিশালী দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কায় নদীবন্দরগুলোকে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ১টা পর্যন্ত দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে যে, দেশের অন্তত ১০টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, কুমিল্লা এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে এই ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঝোড়ো হাওয়ার পাশাপাশি এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ভোর ৪টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে নৌযানগুলোকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মূলত বর্ষা পূর্ববর্তী আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাবে এই ধরণের আকস্মিক ঝড়ের সৃষ্টি হচ্ছে।


রামিসাদের আর্তচিৎকারে আকাশ ভারি হলেও গলে না ঘাতকের মন

# কোমলমতি শিশুর পৃথিবী আজ রক্তাক্ত বধ্যভূমি # বিচার চাই না, আপনারা বিচার করতে পারবেন না : রামিসার বাবা # চিৎকার শুনেছিলাম তবে বুঝতে পারিনি যে সেটি আমার মেয়ের : রামিসার মা # পরিবারও শাস্তি চায় খুনি সোহেলের # নিরাপত্তাহীনতায় শৈশব # ১৬ মাসে ৫২২ শিশু হত্যা
ছবি: রামিসা।খুন হওয়ার আগে পরে।
আপডেটেড ২২ মে, ২০২৬ ০১:৪১
শাহিনুর রহমান

যে বাতাস একটু আগেও স্নিগ্ধতার চাদরে জড়িয়ে রাখছিল চারপাশ; তা আচমকাই ভারি হয়ে উঠল এক আদিম, পৈশাচিক উন্মাদনায়। নিষ্প্রাণ বাতাস যেন সহসা জীবন্ত হয়ে কেঁদে উঠল এক মরণোন্মুখ লাশের শেষ আকুতিতে। অথচ ঘাতকের পাথুরে চোখে তখনো কেবলই বিকৃত উল্লাসের নাচ। তার হাতের ধারালো অস্ত্রের ডগা বেয়ে টপটপ করে ঝরছিল তাজা, উষ্ণ রক্ত। ঠিক তখনই, দরজার ওপাশ থেকে ভেসে আসছিল মায়ের ডাক—মেয়েকে ডাকছেন স্কুলে যাওয়ার জন্য। কিন্তু মা জানেন না, ভেতরে তখন মেয়ের রক্ত দিয়ে পৈশাচিকতার এক নতুন ইশতেহার লিখছে নরপিশাচ। চারদিকের আলোও যেন এই চরম নির্মমতার সাক্ষী হতে না পেরে বারবার শিউরে উঠছিল, ম্লান হয়ে আসছিল ভয়ে। আছিয়া, লামিয়া এবং সবশেষ রামিসা—একের পর এক নিষ্পাপ ফুলকে ছিঁড়ে ফেলছে এই নরপিশাচরা। যে সকাল শিশুর হাসিতে আলোকিত হওয়ার কথা ছিল; আজ সেই সকালই যেন হয়ে উঠছে বেদনার কালরাত, লাশের মিছিল। চারদিকে নিষ্পাপ শিশুদের আর্তচিৎকার। ফেটে যাচ্ছে আকাশ, নিষ্প্রাণ বাতাস। তবু গলছে না ঘাতকের হৃদয়ের পাথর।
আট বছরের রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা: রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটের ভেতরে নিয়ে যান। এরপর বাথরুমে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে ছোট্ট রামিসা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। ঠিক ওই সময়ে রামিসার মা সোহেলের বাসার দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করেন। ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে সোহেল তাৎক্ষণিক রামিসাকে গলা কেটে হত্যা করে।
এরপর মরদেহ গুম করার উদ্দেশে ধারালো ছুরি দিয়ে রামিসার মাথা কেটে শরীর থেকে আলাদা করা হয়। নৃশংসতার এখানেই শেষ নয়, ছুরি দিয়ে শিশুটির যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। আর খণ্ডিত মাথাটি রেখে দেওয়া হয় একটি বালতির ভেতর। এই পুরো ঘটনার সময় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না একই রুমে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য রামিসাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তারা। অনেক ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন স্বজনরা। তখন ফ্ল্যাটের কক্ষে রামিসার মস্তকবিহীন রক্তাক্ত দেহ ও বালতিতে মাথা দেখতে পান তারা।
জনগণের উপস্থিতি টের পেয়ে কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় মূল ঘাতক সোহেল রানা। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ প্রথমে স্ত্রী স্বপ্নাকে আটক করে। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে মূল অভিযুক্ত সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে।
৩ বছরের শিশুকে ধর্ষণে উত্তাল চট্টগ্রাম, ঘটনাস্থল ঘেরাও: চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটকের দাবিতে কয়েক হাজার বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি ঘটনাস্থল ঘেরাও করে বিক্ষোভ করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশও অবরুদ্ধ অবস্থায় পড়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যানঘাটায় একটি ভবনে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ ওঠার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা ভবনটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
ঢাকার পল্লবীর এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে সারাদেশের মতো চট্টগ্রামেও দিনভর বিক্ষোভ হয়। এর মধ্যে নতুন এই ঘটনায় নগরজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভুক্তভোগী শিশুটিকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার হোসেইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া বলেন, ‘শিশুটিকে উদ্ধার করে ওসিসিতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ অবস্থান করছে।’
কবির ভূঁইয়া আরও বলেন, ‘বিক্ষুব্ধ জনতা যে ভবনে অভিযুক্ত অবস্থান করছেন বলে ধারণা করছে, সেটি ঘেরাও করে রেখেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ভবন থেকে বের হতে দিচ্ছে না। তাকে উদ্ধার করে আইনের আওতায় আনা হবে।’
বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ কাজ করছে। শিশুটিকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে।
আট বছরের শিশু আছিয়াকেও ধর্ষণের পর হত্যা : মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার জারিয়া গ্রাম। দুপুরে রোদের তীব্রতা থাকলেও, আয়েশা খাতুনের জীর্ণ টিনের ঘরে যেন এক জমাট অন্ধকার। এই ঘরেই থাকত আট বছরের আছিয়া। ২০২৫ সালের ৫ মার্চ মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার জারিয়া গ্রামে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। বোনের শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে সে লালসার শিকার হয়। হাসপাতালে প্রায় আট দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে সে মারা যায়। তার মা আজও প্রতি রাতে চমকে ওঠেন। আয়েশা খাতুনের বিলাপ, ‘সবাই কথা দিছিল। এক বছর আগে আসামির ফাঁসি হইছে, কিন্তু কার্যকর হয় না। আমি কার কাছে বিচার চাইব?’
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডিত আসামির করা আপিল বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত শুনানি শেষ করে রায় বহাল রেখে চূড়ান্ত কার্যকরের পথে অগ্রগতি হবে।
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, এমন স্পর্শকাতর মামলার বিচার দীর্ঘ সময় ঝুলে থাকলে অপরাধীরা উৎসাহিত হতে পারে। তারা দ্রুত আপিল নিষ্পত্তি করে রায় কার্যকরের জোর দাবি জানিয়েছেন।
আছিয়ার বিচার থমকে আছে হাইকোর্টের আপিলের টেবিলে। অন্যদিকে, দেশের মানচিত্রজুড়ে গত কয়েক সপ্তাহে একের পর এক শিশুর নিথর দেহ মিলছে। সিরাজদিখান, রানীশংকৈল, রাজশাহী থেকে রাজধানীর পল্লবী—সর্বত্রই যেন এক পৈশাচিক উৎসব চলছে।
নিখোঁজ হুমায়রা জান্নাতের লাশ: গত শুক্রবার সন্ধ্যার আগে আকস্মিকভাবে নিখোঁজ হয় চার বছরের শিশু হুমায়রা জান্নাত। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামে। বাড়িতে না ফেরায় মেয়ের খোঁজ করেন মা তোষী খাতুন। খবর দেওয়া হয় বাবা হাসিবুল ইসলাম শান্তকে।
শান্ত কানপাড়া বাজারে একটি ওষুধের দোকান চালান। খবর পেয়ে ছুটে যান বাড়িতে। সারারাত এখানে সেখানে খোঁজাখুঁজি করেও শিশু হুমায়রার সন্ধান না পেয়ে অজানা আতঙ্কে শঙ্কিত হয়ে পড়ে পরিবার। জানানো হয় পুলিশকে। এদিকে নিখোঁজের ২১ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুর ২টার দিকে বাড়ির নিকটবর্তী একটি খেজুরগাছের নিচ থেকে শিশু হুমায়রার লাশ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার হাটকানপাড়া বাজার এলাকায়। চার বছরের ফুটফুটে সন্তান হুমায়রাকে হারিয়ে পাগলপ্রায় বাবা-মা। শিশু হুমায়রার হত্যাকাণ্ডে পাড়া-প্রতিবেশীসহ এলাকাবাসীর মাঝে শোকের সঙ্গে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর রোববার বিকেলে শিশু হুমায়রাকে সমাহিত করা হয়।
শিশু হুমায়রার মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী শিশুটির শরীরে ছোটখাটো আঘাতের চিহ্ন ছিল। পেট ফোলা ছিল এবং বাম হাতে ছোট কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।
১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা: মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ১০ বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শিশুটির সৎ মামাকে আটক করেছে পুলিশ।
গত শনিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের খাসকান্দি মদিনাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশু ওই এলাকার কাতারপ্রবাসী আনোয়ার হোসেনের মেয়ে। আটক সৎ মামা রাজা মিয়া (৪৫) খুলনার মোড়লগঞ্জের মৃত আকবর হাওলাদারের ছেলে। তিনি প্রায় ৬ বছর ধরে নিহত শিশুর পরিবারের সঙ্গে একই বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে নিজ ঘরের খাটের ওপর ওই শিশুর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের সদস্যরা পুলিশে খবর দেন। এরপর বিকেল ৪টার দিকে সিরাজদিখান থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সৎ মামা রাজা মিয়াকে আটক করে।
সিরাজদিখান থানার ওসি আব্দুল হান্নান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মেয়েটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত সৎ মামাকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ভুট্টাক্ষেতে পড়ে ছিল চার বছরের লামিয়ার মরদেহ: ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে নিখোঁজের প্রায় ২১ ঘণ্টা পর লামিয়া আক্তার নামে চার বছরের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে একই গ্রামের এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। গত ১৪ মে সকাল ৮টার দিকে উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের আনসারডাঙ্গী গ্রামের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত লামিয়া ওই গ্রামের শফিকুল ইসলামের মেয়ে।
রাণীশংকৈল থানার ওসি আমানুল্লাহ আল বারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে বেলা ১১টার দিকে লামিয়া বাড়ির পাশে খেলছিল। একপর্যায়ে সে সেখান থেকে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের পর মেয়েটির পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। এমন কি লামিয়ার সন্ধান চেয়ে এলাকায় মাইকিং করা হয়। তাতেও ওইদিন তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায় নি। পরদিন সকালে গ্রামবাসী গ্রামের পাশে একটি ভুট্টাক্ষেতে লামিয়ার মরদেহ দেখতে পায়। থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ভুট্টাক্ষেত থেকে লামিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে।
পরে স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযুক্ত কিশোরকে তার বাড়িতে আটকে রাখে।
ওসি আমানুল্লাহ আল বারী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠানো হয়েছে। আটক কিশোরের স্বীকারোক্তি অনুসারে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এনিয়ে নিহতের বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা: চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে গত মার্চ মাসে ১১ বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। একটি গুদামে তার লাশ ফেলে রাখে ঘাতক। এ ঘটনার প্রায় তিন মাস পর মূল অভিযুক্ত ও হত্যা মামলার আসামি মো. ফয়সালকে (১৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অতিরিক্ত চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (হাটহাজারী অঞ্চল) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে খবর পেয়ে নরসিংদী থেকে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতে হাজির করা হলে আসামি ফয়সাল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পুলিশ জানায়, গত ২৪ মার্চ ১১ বছর বয়সী ওই কন্যাশিশু নিখোঁজ হয়। এর দুই দিন পর ২৬ মার্চ ওই শিশুর বাড়ির পাশের একটি তুলার গুদাম থেকে দুর্গন্ধ বের হলে গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে লাশ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ গুদামের ভেতরে ফেলে রাখা হয় বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। ওই ভবনের পাশের সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা গেছে, অভিযুক্ত ফয়সাল শিশুটিকে নিয়ে গুদামের ভেতর ঢোকেন। পরে তিনি একা বেরিয়ে যান। এ ঘটনায় ২৬ মার্চ ফয়সালকে আসামি করে হাটহাজারী থানায় মামলা করেন ওই শিশুর মা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিশুটির বাবা প্রতিবন্ধী। মা স্থানীয় একটি কারখানার শ্রমিক। অভিযুক্ত ফয়সাল শিশুটির সঙ্গে একই কলোনিতে বসবাস করতেন। ফয়সালের বাড়ি বরিশালে। তিনি পেশায় দিনমজুর।
তিন বছরের ফুটফুটে হাবিবকে গলাটিপে হত্যা: রাজধানীর বাড্ডার এই শিশু জন্মদাতার চরম নিষ্ঠুরতায় পৃথিবী ছেড়েছে। যে হাত তাকে পরম নির্ভরতায় আগলে রাখার কথা, সেই হাত তাকে গলা টিপে হত্যা করেছে। গত ২৭ এপ্রিল স্ত্রী শিল্পী খাতুনের কাছে মাদক কেনার টাকা চেয়ে না পেয়ে তার সামনে সন্তানকে গলাটিপে হত্যা করেন শাহিন মিয়া। একইদিন গাজীপুর, বগুড়া ও ময়মনসিংহে গলা কেটে ও পানিতে ফেলে হত্যা করা হয়েছে পাঁচ শিশুকে। তবে শুধু শিশু রামিসা, ইরা কিংবা তিন বছরের হাবিবই শুধু নয়, মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, গত ১৬ মাসে (২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের এপ্রিল) হত্যা করা হয়েছে অন্তত ৫২২ শিশুকে। গড়ে মাসে ৩২ জনের বেশি শিশু নিহত হয়েছে। এ সময়ে ধর্ষণসহ চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১ হাজার ২২৩ শিশু। গড়ে মাসে ৭৬ জনের বেশি শিশু ধর্ষণসহ নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
মাদকাসক্তের বলি শিশুরা: মাদকাসক্তি শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, এটি পুরো পরিবার ও সমাজের জন্য হুমকি তৈরি করছে। বিশেষ করে অবাধ বিস্তারে শিশুদের নিরাপত্তা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। সম্প্রতি মাদকাসক্ত বাবার হাতে সন্তান হত্যা, প্রতিবেশীর শিশুসন্তানকে নির্যাতনের পর হত্যা এবং মাদক কেনার টাকার জন্য অপহরণের মতো ঘটনা ঘটেছে। মাদকের প্রভাবে চেনা মানুষ হয়ে উঠছে অচেনা। নির্ভরতা হাত হয়ে উঠছে ঘাতকের হাত।
গত ১৮ মার্চ ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মাদকের অর্থ সংগ্রহে মরিয়ম আক্তার (৪) নামে এক কন্যাশিশুর গলায় থাকা রুপার একটি চেইন ছিনতাই করে মাদকাসক্ত ইয়াছিন মিয়া (১৬) ও আকাশ (১৫)। ছিনতাইকালে ইয়াছিন ও আকাশকে চিনে ফেলায় শ্বাসরোধে শিশু মরিয়মকে হত্যা করে বাড়ির পাশের একটি মাটির চুলার ভেতর লাশ ভরে রাখে। শিশু মরিয়ম আক্তার একই গ্রামের মিজানুর রহমান ও রিমা আক্তার দম্পতির একমাত্র কন্যা।
সম্প্রতি ঢাকার সাভারে মাদকের টাকা জোগাতে ১২ বছরের এক শিশুকে অপহরণের পর হত্যা করে একটি চক্র। এ ঘটনায় রাব্বানী মোল্লা নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত ২৪ এপ্রিল ফরিদপুর বাখুন্ডা আশ্রয়ণ প্রকল্পে সাত বছরের শিশু আইরিন আক্তার কবিতাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে হত্যা করে মাদকাসক্ত যুবক ইসরাফিল মৃধা। হত্যার পর শিশুটিকে পাশের বাড়ির শৌচাগারের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে ফেলে দেয়। গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের রামুতে মাদকের টাকার জন্য তিন বছর শিশু ফাতেমাকে কুপিয়ে হত্যা করে তারই আপন চাচা নরুল হাকিম।
বড়দের দ্বন্দ্বে প্রাণ যাচ্ছে শিশুর: গত ৯ মে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় বাবার সঙ্গে অনলাইন জুয়ার টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এক শিশুকে অপহরণের পর হত্যা করে মরদেহ বস্তায় ভরে সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়। নিহত শিশুটির নাম আন্দালিব সাদমান ওরফে রাফি (৯)। হত্যার অভিযোগে প্রতিবেশী নূর মুহাম্মদ খোকনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, শিশুটির পিতা জহিরুল ইসলামের সঙ্গে অনলাইন জুয়া খেলা নিয়ে প্রতিবেশী খোকনের দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এর জেরে জহিরুলের ছেলেকে প্রথমে অপহরণ ও পরে হত্যা করে লাশ গুম করে রাখে খোকন। একই দিন চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদ এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় হাসান রাজু (৩২) নামে এক যুবককে। একই ঘটনায় ১১ বছরের রেশমি আক্তার চোখে গুলিবিদ্ধ হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নরপিশাসদের নখের আঁচড়ে রচিত হচ্ছে মানবতার নির্মম ও কলঙ্কিত অধ্যায়—এই রক্তাক্ত উপাখ্যানের শেষ কোথায়?


খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি ১.২৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব বিইআরসির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি (টিইসি) খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম গড়ে ১ টাকা ২৫ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।

কারিগরি কমিটির এই সুপারিশ অনুযায়ী দাম বাড়ানো হলে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকি প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত কমবে বলে জানিয়েছে বিইআরসি।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজধানীর কেআইবি মিলনায়তনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) দ্বিতীয় দিনের গণশুনানিতে এই প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।

কমিটির প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৯৫ হাজার ৬১২ মিলিয়ন কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহের বিপরীতে বিতরণ সংস্থাগুলোর মোট ১ লাখ ১৯ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা নিট রাজস্ব প্রয়োজন হবে বলে হিসাব করা হয়েছে।

কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির পর্যালোচনা অনুযায়ী, দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ বিতরণ সিস্টেম লস বা বিতরণ লোকসান ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৭.৩৮ শতাংশ থেকে সামান্য কমে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৭.৩৭ শতাংশে দাঁড়াতে পারে।

গ্রাহক পর্যায়ের ট্যারিফ কাঠামো নিয়ে টিইসি জানিয়েছে, লাইফলাইন গ্রাহকদের (০-৫০ ইউনিট) পরবর্তী ধাপগুলোর বিদ্যমান ‘স্ল্যাব’ বা বিদ্যুৎ ব্যবহারের স্তরে কোনো পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বর্তমানে যেভাবে বিভিন্ন ধাপে বিদ্যুতের দাম হিসাব করা হয়, তা অপরিবর্তিত থাকবে।

কমিটির সদস্যরা জানান, বিদ্যুতের বর্তমান স্ল্যাব কাঠামোতে কোনো অতিরিক্ত বোঝা চাপানো হবে না। এর আগে ০-৭৫ ইউনিটের প্রথম স্ল্যাবটি বাতিল করে তার পরিবর্তে ০-২০০ ইউনিটের একটি নতুন স্ল্যাব করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।

তবে কারিগরি কমিটি মনে করে, হঠাৎ স্ল্যাব পরিবর্তন করলে প্রান্তিক পর্যায়ের সাধারণ গ্রাহকরা বিপাকে পড়বেন। ফলে সাধারণ গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় বিদ্যমান স্ল্যাব কাঠামোই বহাল রাখার সুপারিশ করেছে কমিটি।


কাটছাঁটের পরেও লাগছে ৩৭ হাজার কোটি টাকা

* আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের প্রস্তাব * সরকারি সব খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অন্তর্ভুক্ত * পেনশনের হার শতভাগের কাছাকাছি বৃদ্ধির প্রস্তাব
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে সচিব কমিটির ডাকা গুরুত্বপূর্ণ সভা শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে এই বৈঠক শুরু হয়ে দুপুরে শেষ হয়। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে গেলে সরকারের অতিরিক্ত ৪৩ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতো। তবে একটু কাটছাঁট করে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ কমিয়ে ৩৭ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

কমিটির দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনা করে নিচের দুই স্তরের সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বেশি বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। ওপরের স্তরের কর্মকর্তারা তুলনামূলক কম সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে সরকারি পেনশনভোগীদের পেনশনের হার শতভাগের কাছাকাছি বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ অনুযায়ী একবারে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে গেলে সরকারের অতিরিক্ত ৪৩ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতো। তবে বর্তমানে চাকরিজীবীরা যে ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন, তা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে দেওয়ায় সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ কমে ৩৭ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এই হিসাব মাথায় রেখেই আগামী

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার (২১ মে) বাজেট নিয়ে দুটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নতুন এই বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। নবম পে-স্কেলের আওতায় শুধু প্রশাসন ক্যাডার নয়, বরং এর সঙ্গে শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন ও বিচার বিভাগীয় কর্মচারীসহ সরকারি সব খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অন্তর্ভুক্ত থাকছেন।

এর আগে গত সোমবার (১৮ মে) অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যমকে জানান, আগামী অর্থবছরের শুরুতে অর্থাৎ ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন শুরু হবে। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কঠিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জিডিপির তুলনায় রাজস্ব সংগ্রহের অবস্থাও বেশ দুর্বল। ফলে অনেক কিছু বাদ দিতে হচ্ছে এবং কাটছাঁট করতে হচ্ছে। তবে এর মধ্যেও নতুন বেতনকাঠামোর দিকটি অগ্রাধিকার দিয়ে দেখতে হচ্ছে।’

জানা গেছে, মূল কমিশনের সুপারিশ কিছুটা কাটছাঁট করে মোট তিন ধাপে এটি বাস্তবায়ন করা হতে পারে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এটি তিন অর্থবছরে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে কিনা, এমন প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কমিটির তেমন সুপারিশ ছিল। তবে আমাদের তো বাজেটের সীমাবদ্ধতা আছে। আমরা এখন একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।’

কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশনপ্রাপ্তদের পেনশন প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। যাদের মাসিক পেনশন ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে, তাদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া প্রবীণ পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ৭৫ বছরের বেশি বয়সি পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতা ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা এবং ৫৫ বছরের কম বয়সিদের জন্য ৫ হাজার টাকা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নতুন পে স্কেলে সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই বহাল রাখার সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি। এতে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়েছে।


ইপিআই কর্মসূচির সঙ্গে নিয়মিতভাবে হামের টিকা কর্মসূচি চলবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, হামের টিকাদান কর্মসূচি লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি সাফল্য অর্জন করেছে এবং এটি বন্ধ না হয়ে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) সঙ্গে নিয়মিতভাবে চলবে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে হামের প্রাদুর্ভাবে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের করণীয় ও জনসচেতনতা শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সিভিল সার্জন, পরিচালক এবং হাসপাতাল সুপারদের টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঈদের ছুটি ছাড়া অন্য সব দিন টিকাদান কার্যক্রম চলবে এবং ছুটির দিনেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘কিছু প্রত্যন্ত এলাকায় লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে থাকার আশঙ্কা থাকায় সেখানে বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে মাইকিং করা হচ্ছে এবং কঠোর নজরদারির মাধ্যমে শিশুদের টিকাদানের আওতায় আনা হচ্ছে।’

মন্ত্রী আরও জানান, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল আগেভাগেই সংগ্রহ করা হয়েছে এবং টিকা সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। টিউবারকিউলোসিস (টিবি) টিকার সিরিঞ্জ সংকট নিয়ে ছড়ানো গুজবের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি যাচাই করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ১১ লাখ ৫ হাজার সিরিঞ্জ জেলা পর্যায়ে বিতরণ করা হয়েছে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে টেন্ডার ও আউটসোর্সিং খাতে অনিয়মের কারণে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে, যারা চিকিৎসা খাতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।’ তবে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ও কাজের পরিবেশ নিশ্চিতে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ডাক্তারদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঈদের পরপরই প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অস্ত্রসহ ১০ জন আনসার এবং একজন কমান্ডার মোতায়ন করা হবে। জেলা পর্যায়ের হাসপাতালেও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’


কোরবানিযোগ্য পশু উৎপাদনে দেশ বর্তমানে স্বয়ংসম্পূর্ণ: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে কোরবানিযোগ্য পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং দেশীয় উৎপাদন দেশের চাহিদা পূরণে সক্ষম। দেশীয় খামারিদের সুরক্ষা ও জাতীয় স্বার্থে অবৈধভাবে পাচার বা চোরাই পথে আসা পশু ক্রয়ের বিষয়ে সচেতনতা প্রয়োজন। দেশের খামারিদের স্বার্থরক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (২১ মে) কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ‘কোরবানিবিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা-২০২৬ (মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী, চামড়া সংরক্ষণকারী এবং ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম)’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেছেন। কর্মশালার আয়োজন করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।

ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম, প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, ‘কোরবানির পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রশংসনীয়।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘কোরবানির পশুর মাংসের পাশাপাশি চামড়া ও অন্যান্য উপজাত সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা গেলে জাতীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা সম্ভব।’

তিনি বলেন, ‘কোরবানিকে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক মানুষ পশু জবাই, চামড়া ছাড়ানো, মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বণ্টনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে। এ বাস্তবতায় দক্ষ জনবল তৈরির বিকল্প নেই। বিশেষ করে চামড়া ছাড়ানোর মতো সংবেদনশীল কাজে প্রশিক্ষিত জনবল না থাকলে চামড়ার গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এর বাজারমূল্য কমে যায়।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘অবৈধভাবে আসা পশু ক্রয় করে কোরবানি দেওয়া কতটা সমীচীন- এ বিষয়ে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে সচেতনতা তৈরি প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘কোরবানির পশু ক্রয় ও ব্যবস্থাপনায় সচেতনতা বৃদ্ধি, দেশীয় খামারিদের সুরক্ষা এবং চামড়া সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।’

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. বয়জার রহমান এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিচালক ডা. বেগম শামছুননাহার আহম্মদ, পরিচালক ড. এ. বি. এম. খালেদুজ্জামান।


স্বল্পতম সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী মীরপুরে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি স্বল্পসময়ের মধ্যে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক ব্রিফিংয়ে একথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত করে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, বাকি বিচারের দায়িত্ব আইন বিভাগের। আমরা আশা করি স্বল্পতম সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেইসঙ্গে আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষে চার্জশিট দাখিল করা হবে। সংক্ষিপ্ত সময়ে বিচারিক প্রক্রিয়াও শেষ হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় বিচার বিলম্ব হয়, এটা আদালতের বিষয়। তনু হত্যাসহ বিভিন্ন মামলায় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সংক্ষিপ্ত সময়ে দৃষ্টান্তমূলক বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হবে। আইনশৃঙ্খলা সমুন্নত রাখার জন্য যা যা করার, সবই চেষ্টা করছেন বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


banner close