রাজধানীর পল্টন দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন জাহিদুর রহমান নামের এক ব্যবসায়ী। হঠাৎ বাতাসে ধুলোবালি এসে নাকে-মুখে ঢুকে যায় তার। চারপাশে গাড়িগুলো পাল্লা দিয়ে হর্ন বাজিয়ে যাচ্ছে, দুই কান হাত দিয়ে চেপে ধরেও রেহাই পাচ্ছেন না।
তার ভাষ্যে, ‘মানুষ বাস করার মতো অবস্থায় নেই এই শহর। কেবল চাকরি করতে হবে বলে ঢাকায় আছি, নাহলে অনেক আগেই (এই শহর ছেড়ে) চলে যেতাম।’
‘সবকিছু ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায় নাগরিকদের এই শহরে এসেই ভিড় করতে হচ্ছে। ইচ্ছা থাকলেও নিরাপদ জীবনের খোঁজে অন্যত্র যাওয়া সম্ভব নয়’, বুধবার (১৯ মার্চ) কথাগুলো বলছিলেন তিনি।
নগরীর গণপরিবহনগুলোতে বেশিরভাগ সময়ই যাত্রীদের দাঁড়ানোর মতো জায়গাও থাকে না। বাইরে বের হলে বাসের দরজায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীদের ঝুলে থাকার দৃশ্য চোখে পড়তে বাধ্য।
ডিওএইচএসে বসে এসব কথারই পুনরাবৃত্তি করছিলেন বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা মারুফুল হক। বলেন, ‘অফিসের সময় বাসে জায়গা পাওয়া যায় না; আবার অফিস কামাইও দেওয়া যাবে না। যে কারণে লোকজন ঠেলেঠুলে হলেও বাসে উঠতে হয়। অনেকসময় ভেতরে একদমই জায়গা থাকে না, সেক্ষেত্রে দেরিতে অফিসে প্রবেশ এড়াতে গেটে ঝুলে পড়া ছাড়া উপায় থাকে না।’
‘ঢাকার সড়কে যানজট, বাসে ভিড়; আবার ফুটপাত দিয়ে হেঁটে চলাচল করবেন, তারও জো নেই। একে তো অনেক ফুটপাত ভাঙাচোরা, কোথাও আবার ম্যানহোলের ঢাকানা নেই; তার ওপর আবার ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের কারণে হাঁটার জায়গাও নেই অনেক জায়গায়।’
মারুফুল বলেন, ‘অর্থাৎ চলাচলের সব বিকল্প বন্ধ। ফলে রাস্তায় বের হলেই দুর্ভোগ পোহাতে হবে—এ একপ্রকার নিশ্চিত।’
‘অথচ এই শহরেই আমাদের বাস করতে হচ্ছে। গাদাগাদি করে বাসে উঠি, যানজট ঠেলে কোনোরকমে অফিসে পৌঁছাই। ক্লান্তি নিয়ে সারা দিন কাজ করি।’
ঢাকার বিকল্প কোনো রাজধানীর দরকার আছে কি না—জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. এম শামসুল হক বলেন, ‘বিশ্বের চল্লিশটির মতো দেশ তাদের রাজধানী অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। কয়েকটি দেশ এ প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। সর্বশেষ ইন্দোনেশিয়া তাদের রাজধানী পরিবর্তন করে নুসানতারায় নিয়ে গেছে। মিসরও চলে যাচ্ছে।’
কাজেই বাংলাদেশের রাজধানীও অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া এমন একটি বাস্তবতা, যা নিয়ে সমীক্ষারও প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন তিনি।
শামসুল হক বলেন, ‘চিকিৎসক যেমন রোগীর রেকর্ড দেখলে বুঝতে পারেন, হার্টবিট ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে, তখন তো চিকিৎসকরা বলেন, এটা বেয়ন্ড রিপেয়ারড (মৃত্যু আসন্ন)। এরকম ঢাকার সবকিছুই এত তলানির দিকে চলে যাচ্ছে যে, এত এত বিনিয়োগ করার পরও অর্থাৎ এত চিকিৎসা করার পরও কোনো উন্নতি হচ্ছে না, একেবারে নন-রেসপন্সিভ।’
ভারত, পাকিস্তান, ব্রাজিল, নাইজেরিয়া, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মিসর ও দক্ষিণ কোরিয়াও তাদের রাজধানী পরিবর্তন করেছে কিংবা করছে। অতিরিক্ত জনসংখ্যা ও যানজটের কারণেই দেশগুলো তাদের রাজধানী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানি ফুরিয়ে যাওয়া, পরিবেশগত উদ্বেগ, দূষণ, প্রাকৃতিক বিপর্যয়—এমন নানা কারণে বিভিন্ন দেশের রাজধানী সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আরও আধুনিক, স্মার্ট, পরিবেশগত টেকসই ও বিনিয়োগবান্ধব রাজধানী গড়ে তুলছে দেশগুলো।
বিকল্প রাজধানী হতে পারত পূর্বাচল
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ঢাকারও বিকল্প বের করা একটি চরম বাস্তবতা বলে উল্লেখ করেছেন ড. এম শামসুল হক।
তার ভাষ্যে, ‘অনেকের কাছে শকিং (তাক লাগানো) মনে হতে পারে, অনেকের কাছে এমন কিছু আবেগেরও মনে হতে পারে; কিন্তু আবেগ দিয়ে তো আর দেশ চলে না। যদি আমরা অনেক আগেই (এ বিষয়ে) চিন্তা করতাম, তাহলে অনেক সম্ভাবনা ছিল। এমনকি কম খরচে পূর্বাচলে আমরা বিকল্প রাজধানী করে ফেলতে পারতাম।’
‘পূর্বাচলের জায়গাটা অনেক উঁচু, বন্যামুক্ত। কৌশলগতভাবে একটি রাজধানী শহর বন্যামুক্ত হওয়া উচিত। সেক্ষেত্রে পূর্বাচল উঁচু জায়গায়, মাটিও অরিজিনাল।’
ঢাকার অন্যান্য জায়গায় মাটি ভরাট করে সবকিছু করা হয়েছে। মাটি ভরাট করে অবকাঠামো নির্মাণ করা হলে যেকোনো ভবনের ভিত্তি ব্যয় অনেক বেড়ে যায় বলে উল্লেখ করেন এই নগর প্রকৌশলী।
দুর্বল মাটিতে বিনিয়োগও খুব একটা কার্যকর হয় না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগের একটি অংশ দুর্বল মাটির জন্য নষ্ট হয়ে যায়। ফলে রাজধানী এমন একটি জায়গায় হতে হয়, যেখানকার মাটি ভালো। সে অনুসারে পূর্বাচল ভালো অপশন ছিল।’
‘অথচ সেখানে সাত হাজার একরের একটি টাউনশিপ গড়ে তোলা হয়েছে। প্লট দিয়ে ব্যক্তিকে কোটিপতি বানানো হয়েছে। এত বড় অন্যায় একবিংশ শতাব্দীতে কেউ করবে না, যেটা সেখানে হয়েছে।’
‘যদি আবাসনের কথা বলি, তাহলে ফ্ল্যাট দেওয়া যায়; কিন্তু আমাদের মতো জনবহুল দেশে প্লট দেওয়া যায় না।’
রাজধানী হিসেবে ঢাকার কার্যকারিতা নেই উল্লেখ করে এই অধ্যাপক বলেন, ‘তবে এটি নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। সেক্ষেত্রে অবশ্য লাভেই হবে, কারণ তাতে মানুষের মধ্যে কোনো প্রশ্ন থাকলে তা দূর হয়ে যাবে, সিদ্ধান্ত নিতে সরকারের সুবিধা হবে।’
‘কিন্তু কেউ যদি এসব নিয়ে নাড়াচাড়াই না করেন, তাহলে একজন রোগী মারা যাচ্ছেন কিনা, পয়েন্ট অব নো রিটার্নের দিকে চলে যাচ্ছেন কিনা— তা কিন্তু বোঝা যাবে না। এতে আমরা একটি অদূরদর্শী জাতি হিসেবে পরিচিতি পাব।’
ইন্দোনেশিয়ার উদহারণ টেনে তিনি বলেন, ‘তারা জাকার্তা থেকে রাজধানী সরিয়ে নুসানতারায় নিয়ে গেছেন। এতে খরচ হয়েছে ৩৫ বিলিয়ন ডলার। গত অক্টোবরে তাদের কাজের প্রথম ধাপ শেষ হয়েছে। মিসরের রাজধানী কায়রো থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আমরা যে ছয়টি মেট্রো করতে যাচ্ছি, সেটারও ২০ থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলার খরচ পড়বে।’
বিনিয়োগ ও পরিবেশবান্ধব, বাসযোগ্য, দূষণমুক্ত, গ্রিনসিটি হিসেবে ভাবলে ঢাকা কখনোই হবে না বলে জানান তিনি।
‘ঢাকায় যেভাবে ভূগর্ভস্থ পানি তোলা হচ্ছে, তাতে প্রতিনিয়ত আমাদের পানির স্তর নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে, ফলে পানি গভীর থেকে গভীরে নেমে যাচ্ছে।’
‘জাকার্তায়ও একই অবস্থা হয়েছিল। সেখানে অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে ভূগর্ভস্থ পানি বেশি তোলা হয়েছিল। একসময় দেখা গেল, পানি পাওয়া যাচ্ছে না। পানি না থাকলে বসতি হবে কীভাবে! ঢাকায়ও ভূগর্ভস্থ পানি দিন দিন তলানির দিকে চলে যাচ্ছে।’
শামসুল হক বলেন, ২০০৫ সালেও ঢাকা শহরে গাড়ির গতি ঘণ্টাপ্রতি ২৫ কিলোমিটার ছিল। এখন সেটা প্রতি ঘণ্টায় পাঁচ কিলোমিটারে নেমে এসেছে। ঢাকা শহরের হার্টবিট কমে শূন্যের দিকে যাচ্ছে। আমরা ঢাকাকে বাঁচাতে অনেক কিছু করেছি, কিন্তু ধীরে ধীরে এই শহরের অধঃপতন হয়েই চলেছে।’
জনবহুল শহর ঢাকা
আয়তনের তুলনায় ঢাকার জনসংখ্যা অনেক বেশি বলে মন্তব্য করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ।
তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরের জনসংখ্যা সমস্যাটাই হচ্ছে মূল বিষয়। মাত্র সাড়ে ৩০০ বর্গ কিলোমিটারের যে শহর, সেখানে প্রায় দেড় থেকে পৌনে দুই কোটি মানুষ বাস করছেন। যদিও বিবিএসের (বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো) পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকার জনসংখ্যা এক কোটি ছয় লাখ, তবে সেটা সঠিক নয়।’
‘ঢাকায় ৪৮ হাজার মানুষ এক বর্গ কিলোমিটারের মধ্যে বাস করছেন। এতে সবচেয়ে জনবহুল রাজধানীর খেতাব পেয়েছে ঢাকা শহর। প্রতিটি জায়গার একটি ক্যারিং ক্যাপাসিটি (ধারণক্ষমতা) আছে, সেই ক্যাপাসিটির চেয়ে অনেক বেশি মানুষ ঢাকা শহরে বাস করেন।’
‘আদর্শগতভাবে একটি শহরে একরপ্রতি মানুষ বাস করা উচিত দুইশর কম। সেই তুলনায় ঢাকা শহরের একরপ্রতি জনঘনত্ব অনেক বেশি, কোনো কোনো এলাকায় সেটি সাড়ে ৩০০ পেরিয়ে যায়। যেমন, লালবাগ এলাকায় এই সংখ্যাটি ছয়শর মতো।’
ড. আকতার মাহমুদ বলেন, ‘ক্যারিং ক্যাপাসিটির বেশি পরিমাণ মানুষ যখন একটি জায়গায় বসবাস করেন, সেখানে কয়েকটি নেগেটিভ এক্সটারনালিটিজ (পরোক্ষ ক্ষতি) তৈরি হয়। এর মধ্যে বায়ুদূষণ, পানিদূষণ, শব্দদূষণ থেকে শুরু করে সব ধরনের দূষণ রয়েছে। নদী-নালা, খাল-বিলগুলোর অবস্থা দেখলেই এর প্রভাব বুঝতে পারবেন। এর পাশাপাশি মরার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো রয়েছে যানজট।’
তিনি বলেন, ‘এতে মানুষের জীবনমান অনেক খারাপ হয়ে যায়। জনসংখ্যার বিপরীতে যে পরিমাণ নাগরিক সুবিধা থাকা উচিত, সেটা থাকে না। যে কারণে দেখবেন, আমাদের স্কুলগুলোতে কোনো খেলার মাঠ নেই। বাচ্চারা মুরগির খোপের মতো একটি স্কুলঘরে ক্লাস করে। এতে তাদের মানসিক বিকাশ হয় না।’
শুধু তা-ই নয়, মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো মেটানোও কঠিন হয়ে পড়ে বলে মন্তব্য করেন এই নগর-পরিকল্পনাবিদ।
‘আপনি দেখবেন, এখানে চিকিৎসকের সিরিয়াল পাওয়া যায় না। সব জায়গায় অতিরিক্ত ভিড়। যদি কোনো বাস স্টেশনে, হেলথকেয়ার কিংবা হাসপাতালে যান, কোথাও নাগরিক সুবিধা পাওয়া যাবে না। আবার পেতে হলে অনেক বেশি চেষ্টা করতে হয়। এর মানে হলো জনপরিসর অপ্রতুল। খোলা জায়গা ও পার্কগুলোর দিকে তাকান।’
‘সবকিছু বিচার বিশ্লেষণ করলে আমরা বলব যে ঢাকা শহরের জনসংখ্যা এত বেশি যে সেই অনুপাতে নাগরিক সুবিধা এখানে নেই,’ যোগ করেন তিনি।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘কুড়িগ্রাম থেকেও ঢাকায় মানুষ আসেন, আবার সাতক্ষীরা থেকেও আসেন। তিনটি প্রধান কারণে তারা আসেন: কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা। এছাড়া নদীভাঙনসহ আরও অনেক কারণ আছে।’
রাজধানী সরিয়ে নেওয়াই কি সমাধান
সেক্ষেত্রে ঢাকার এই জনচাপ কমাতে রাজধানী সরিয়ে নেওয়ার মতো সম্ভাবনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বিষয়টি একেবারে উড়িয়ে দেননি তিনিও। অন্য উপায়গুলোর সঙ্গে এটিও একটি ভেবে দেখার মতো বিষয় বলে জানান এই শিক্ষক।
তিনি বলেন, ‘ঢাকার শহরের এই পরিস্থিতি রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। সেটি করতে গেলে কিছু কিছু কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে।’
‘সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া, অর্থনীতি, লেখাপড়া, বিচারিক ও স্বাস্থ্যসেবা—সবকিছুর কেন্দ্র ঢাকা। সে কারণে কোনো কোনো দেশ এমন সমস্যায় পড়লে শহর থেকে কোনো কোনো কার্যক্রমকে কেন্দ্রবিমুখ করে ফেলে। কেউ কেউ রাজধানীও সরিয়ে নিয়েছে।’
তবে বাংলাদেশের মতো একটি দেশের রাজধানী সরিয়ে নেওয়া খুবই খরচের বিষয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রাজধানী না সরিয়ে পুত্রজায়ায় একটি প্রশাসনিক এলাকা গড়ে তুলেছে মালয়েশিয়া। জার্মানিতে ফ্রাঙ্কফুট হয়েছে অর্থনৈতিক রাজধানী।’
‘এভাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রাজধানী চট্টগ্রাম এবং প্রশাসনিক কাজের জন্য ঢাকা, চট্টগ্রাম কিংবা কুমিল্লার মতো একটি জায়গা নির্ধারণ করা যেতে পারে।’
এভাবে কিছু কিছু কাজ সরিয়ে নিয়ে রাজধানী না সরিয়েও ঢাকার ওপর চাপ কমিয়ে ফেলা সম্ভব বলে মত দেন আকতার মাহমুদ।
তার কথায়, ‘আমরা যেন সমস্ত কাজ ঢাকাকেন্দ্রিক করে না ফেলি। এখন যদি বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়, তাহলে ঢাকার প্রতি মানুষের আকর্ষণ কমে যাবে, আর দেশের চারদিকে মানুষ ছড়িয়ে পড়বে।’
‘সমগ্র বাংলাদেশ নিয়ে পরিকল্পনা করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অন্য বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, যাতে কর্মসংস্থান তৈরি হয়। পাশাপাশি জেলা শহরগুলোতে বিনিয়োগে প্রণোদনা দিয়ে প্রাইভেট কোম্পানিগুলোকে উৎসাহিত করতে হবে। এভাবে কাজগুলো অন্য বিভাগীয় ও পৌর শহরে সরিয়ে নিতে হবে। তাহলে লোকজন নিজের বাড়িতে কিংবা এলাকার কাছাকাছি বসবাস করা শুরু করবে।’
ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম ফের বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার নতুন এই দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন নির্ধারিত এই দাম সন্ধ্যা ৬টা থেকেই কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
বিইআরসির ঘোষণা অনুযায়ী, এবার প্রতি কেজি এলপিজিতে দাম বেড়েছে ১৭ টাকা ৬২ পয়সা। এর আগে চলতি মাসের শুরুতেই প্রতি কেজিতে দাম বাড়ানো হয়েছিল ৩২ টাকা ৩০ পয়সা। সেই হিসেবে এক মাসের মধ্যেই দ্বিতীয় দফায় দাম বাড়ল এলপিজির।
নতুন দাম অনুযায়ী, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি সিলিন্ডারে গ্রাহককে অতিরিক্ত ২১২ টাকা গুনতে হবে।
বিইআরসি জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় বাজারে এই দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যা আজ সন্ধ্যা থেকে কার্যকর হবে।
প্রসঙ্গত, এর আগে চলতি মাসের (এপ্রিল) শুরুতে প্রতি কেজিতে ৩২ টাকা ৩০ পয়সা বাড়ানো হয়েছিল। এক মাসের মধ্যে দুই দফায় এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সপ্তাহে দুই দিন বুধ ও বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট বিভাগে ভার্চ্যুয়ালি বিচারকাজ চলবে।
রোববার হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ নূরুল আমীন বিপ্লব স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরস্থিতি বিবেচনায় এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০ : (২০২০ সনের ১১ নং আইন) এবং অত্র কোর্ট কর্তৃক জারিকৃত প্রাকটিস ডাইরেকশন অনুসরণ করত’ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতি সপ্তাহে ২ (দুই) দিন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগে ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
হজ যাত্রায় প্রথম দিনে এখন পর্যন্ত ১১ ফ্লাইটে ৪ হাজার ৪৫৭ জন বাংলাদেশি হজ প্রত্যাশি সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এর মধ্যে সরকারি মাধ্যমে গিয়েছেন ১ হাজার ২৪৬ জন, আর বেসরকারি মাধ্যমে ৩ হাজার ২১১ জন।
হজ অফিস জানিয়েছে, হজ যাত্রার দ্বিতীয় দিনে রোববার ১৪টি ফ্লাইটে ঢাকা ছাড়বেন ৫ হাজার ৭৫৬ জন। এ উপলক্ষে সকাল থেকেই আসকোনা হজ ক্যাম্প মুসল্লিদের আনাগোনায় মুখর হয়ে উঠেছে। অন্যান্য বছরের মতো এবারও দুই দেশের ইমিগ্রেশন আশকোনা হজ ক্যাম্পে হচ্ছে।
এরই মধ্যে শতভাগ হজযাত্রী ভিসা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে হজ অফিস।
হজ ক্যাম্পের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অধিকাংশ হজযাত্রী সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তবে ক্যাম্পের ভেতরে কিছু অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভও জানিয়েছেন অনেকে। বিশেষ করে খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন হজযাত্রী।
এ ছাড়া ডরমিটরিতে মশার উপদ্রব এবং বিছানায় ছারপোকার কারণে রাত কাটাতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। হজযাত্রীদের দাবি, পবিত্র সফরের শুরুতেই যেন এ ধরনের ছোটখাটো সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা হয়।
হজ অফিস বলছে, ভোগান্তি কমাতে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে তারা।
ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আমিনুল ইসলাম গত শনিবার মেঘনা নদী থেকে দৈনিক ৫০ কোটি লিটার সরবরাহ সক্ষমতা সম্পন্ন নির্মাণাধীন নাঃগঞ্জ এর রূপগঞ্জস্থ গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগারটি পরিদর্শন করেন।
এ সময় ব্যবস্থপনা পরিচালক ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ প্রথমে একই জেলার আড়াইহাজার উপজেলাস্থ বিষনন্দীতে
মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত ইনটেক পয়েন্ট পরিদর্শন করেন। তারপর রূপগঞ্জস্থ প্লান্ট এরিয়া পরিদর্শন করেন।
এ সময় প্রকল্প পরিচালক ওয়াহিদুল ইসলাম মুরাদ সহ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের উর্ধতন কর্মকর্তার উপস্থিত ছিলেন। তারা ব্যবস্থাপনা পরিচালককে প্লান্টের বিভিন্ন দিক ঘুরিয়ে দেখান ও এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
প্রকল্প কাজ পরিদর্শন করে ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সেই সাথে ঢাকার পূর্বাঞ্চলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আংশিক পানি সরবরাহের আশা প্রকাশ করেন।
প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ আলোচ্য সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হবার আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস ও প্রদান করেন।
তিনি আরও বলেন, এ প্রকল্প থেকে পানি সরবরাহ চালু হলে রাজধানী মহানগরীর পূর্বাঞ্চলের মানুষ সর্বাংশে উপকৃত হবে।
সেই সাথে ভূ-গর্ভস্থ পানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশ-বান্ধব ও টেকসই পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার যে লক্ষ্য ঢাকা ওয়াসা নির্ধারণ করেছে তা অর্জন করা সম্ভব হবে।
কেননা এ শোধনাগার চালু হলে কয়েকশ গভীর নলকূপ বন্ধ বন্ধ হয়ে যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, আলোচ্য গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার এর প্রথম ফেজ থেকে দৈনিক ৫০ কোটি লিটার পানি রাজধানীতে সরবরাহ করা হবে এবং একই শোধনাগারের সেকেন্ড ফেজ থেকেও সমপরিমাণ পানি দৈনিক রাজধানীতে সরবরাহ করা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির সরবরাহে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। বিশ্ববাজারে দফায় দফায় বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। এ পরিস্থিতে গত শনিবার রাতে দেশের বাজারে সব ধরণের জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে সরকার। জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে ভাড়া সমন্বয় করতে সরকারকে অনুরোধ করেছেন বাস-ট্রাক মালিক সমিতির নেতারা।
রোববার (১৯ এপ্রিল) মধ্যে সমিতির পক্ষ থেকে দূরপাল্লার বাসে কিলোমিটার প্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৫ পয়সা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। দূরপাল্লার পরিবহনে বিশেষ করে ট্রাক-বাসগুলোতে জ্বালানি হিসেবে ডিজেল ব্যবহার করা হয়। যার মূল্য লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়েছে সরকার।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম দুপুরে গণমাধ্যমকে বলেন, আশা করছিলাম যে সরকার তেলের দাম যদি বৃদ্ধি করে, তবে সেই সঙ্গে গেজেটে উল্লেখ করে দেবে যে তেলের কারণে এত পয়সা করে প্রতি কিলোমিটার ইনক্লুড হবে। কিন্তু সেটি হয়নি। আজ মালিকরা বেশি দামে তেল কিনছে কিন্তু ভাড়া নিচ্ছে আগের রেটে। এভাবে তো মালিকরা লস দিয়ে বাস চালাবে না। আমরা অলরেডি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি যে, আজকের মধ্যে এটা নিরসন করে দিতে।
তিনি আরও বলেন, সরকার প্রতি বছর বাজেটের আগে একটা ক্যালকুলেশন করে, কস্টিং বডি দেখে বর্তমানে পরিস্থিতি অনুযায়ী জানিয়ে দিতে পারে যে এই বছরের জন্য এই ভাড়া নির্ধারণ করা হলো। এই হিসাবটা যদি ঠিকভাবে করা হয়, তাহলে সেটাই পুরো বছর চলতে পারে। এর মাঝে যদি কোনো বড় পরিবর্তন হয়, যেমন ডলারের দাম হঠাৎ বাড়ে বা কমে, তখন সেগুলোর প্রভাব নিয়ে আলাদা করে আলোচনা করা যেতে পারে। না হলে সাধারণভাবে ওই নির্ধারিত ভাড়াই কার্যকর থাকতে পারে। আমরা এই প্রস্তাবটাই দিয়েছিলাম স্থায়ী সমাধানের জন্য, কিন্তু সেটা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে না।
হাইকমিশনার হিসেবে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দিনেশ ত্রিবেদীকে। দেশটির গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, সব ঠিক থাকলে ত্রিবেদী প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হবেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘদিন পর প্রতিবেশী কোনো দেশে প্রথমবারের মতো একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে এ পদে নিয়োগ দিচ্ছে ভারত।
দীনেশ ত্রিবেদী আগে তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য হিসেবে রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে বাংলাদেশ সরকোরের থেকে সম্মতি নেবে ভারত।
৭৫ বছর বয়সি একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিককে বাংলাদেশে ভারতের দূত হিসেবে পাঠানোর এই সিদ্ধান্তটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনীতিকদের জন্যও একটি বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ত্রিবেদী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন এবং ৬ মার্চ ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগ দেন।
এই নিয়োগ এমন এক সময়ে করা হচ্ছে, যখন ভারত ও বাংলাদেশ তাদের সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুই দেশের সম্পর্ক অবনতি ঘটে। এবার দীনেশ ত্রিবেদীকে ঢাকায় পাঠিয়ে সেই সম্পর্ক ভারত সরকার পুনরুদ্ধারের আশা করছে বলে হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। প্রতিটি জ্বালানি পণ্যের দাম একলাফে অনেকটা বাড়লেও রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে মানুষের দীর্ঘ অপেক্ষার চিরচেনা চিত্রটি বদলায়নি। আজ রোববার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বর্ধিত মূল্যে তেল কিনতে আসা মানুষের চাপে পাম্পগুলোতে তেলের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষা আগের মতোই বিরাজ করছে। বিশেষ করে মিরপুর-১৪, মহাখালী, রমনা ও মতিঝিলের মতো ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সড়ক ছাপিয়ে মূল রাস্তায় চলে এসেছে, যা নগরীর স্বাভাবিক ট্রাফিক ব্যবস্থায়ও প্রভাব ফেলছে।
সরেজমিনে মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশনের সামনে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা যায়। সেখানে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের পাশাপাশি গণপরিবহনের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। অন্যদিকে রমনা এলাকার চিত্র ছিল কিছুটা ভিন্ন; সেখানে ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ বেশি থাকলেও বাইকের উপস্থিতি অন্যান্য দিনের তুলনায় প্রায় অর্ধেক দেখা গেছে। তবে মতিঝিল এলাকায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। সেখানে ‘করিম অ্যান্ড সন্স’ ফিলিং স্টেশনসহ বেশ কিছু পয়েন্টে ‘ফুয়েল পাশ’ ছাড়া কোনো বাইককে তেল দেওয়া হচ্ছে না, যা নতুন এই ব্যবস্থার সাথে অভ্যস্ত না হওয়া চালকদের জন্য বাড়তি বিড়ম্বনা তৈরি করেছে।
গতকাল শনিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি লিটার অকটেনের দাম ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪০ টাকা করা হয়েছে। পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ১৯ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৫ টাকায়। এছাড়া ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বেড়ে ১১৫ টাকা এবং কেরোসিনের দাম ১৮ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারিও জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হয়েছিল, যার দুই মাস যেতে না যেতেই আবারও বড় ধরণের মূল্যবৃদ্ধির মুখে পড়লেন দেশের সাধারণ মানুষ।
পাম্পে অপেক্ষারত চালকদের বক্তব্যে চরম ক্ষোভ ও নিরুপায় অবস্থার চিত্র ফুটে উঠেছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বাসচালক সেলিম জানান, পরিস্থিতির ভয়াবহতার কারণে তিনি এখন একদিন তেল সংগ্রহ করেন এবং অন্যদিন গাড়ি চালান। তাঁর মতে, দাম বাড়লেও যদি লাইনে দাঁড়ানোর ভোগান্তি কমত, তবে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যেত। তিনি বলেন, "দাম বেশি নিলে নিক, কিন্তু এই সাত-আট ঘণ্টার প্রতীক্ষা থেকে মুক্তি চাই।" আবার ফুড ডেলিভারি কর্মী মনিরের কণ্ঠে ছিল জীবন সংগ্রামের করুণ চিত্র। তিনি জানান, মোটরসাইকেল চালানোই তাঁর পরিবারের আয়ের একমাত্র উৎস। অকটেনের দাম যাই হোক না কেন, সেটি সংগ্রহ করা তাঁর জন্য বাধ্যতামূলক। বাইক বন্ধ হয়ে গেলে তাঁর পরিবারের অন্নসংস্থানও বন্ধ হয়ে যাবে।
নীতিনির্ধারকরা বিশ্ববাজারের সাথে সমন্বয় এবং সরবরাহ সচল রাখার স্বার্থে এই মূল্যবৃদ্ধিকে অপরিহার্য বললেও সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক বাজেটে এটি এক বিশাল বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে পরিবহন ভাড়া ও নিত্যপণ্যের দামের ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। উচ্চমূল্য সত্ত্বেও পাম্পগুলোতে এই নজিরবিহীন ভিড় মূলত জ্বালানি তেলের তীব্র চাহিদা এবং আমদানিনির্ভর অর্থনীতির এক নাজুক পরিস্থিতিকেই নির্দেশ করছে। সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই ভোগান্তি সহসা কাটছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক পদে ড. মোহাম্মদ জকরিয়া, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী এবং ওয়াক্ফ প্রশাসক পদে শফিক উদ্দিন আহমেদকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। রবিবার (১৯ এপ্রিল) এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ এর ৪৯ তারা অনুযায়ী সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা যেকোনও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্ম সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে এই তিন আমলাকে সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়।
আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেল আমদানিতে সরকার দুই বিলিয়ন ডলার বেশি খরচ করেছে উল্লেখ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণ হওয়ার পরেও সরকার জনগণের কষ্টের কথা বিবেচনা করে দেশে তেলের দাম খুব সামান্য বাড়িয়েছে।
আজ রবিবার (১৯ এপ্রিল) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ কথা বলেন তিনি।
জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের যা দাম ছিল, বর্তমান বাজারে তা প্রায় দ্বিগুণ। এই বিপুল দাম বৃদ্ধির ফলে সরকারের ওপর ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে।
তবু, আমরা জনগণের স্বস্তির কথা চিন্তা করে সেই অনুপাতে দাম বাড়াইনি।
ইকবাল হাসান আরো বলেন, সরকার ভর্তুকি দিয়ে হলেও বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। জনগণের ভোগান্তি কমাতে এবং অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই সরকার এই বাড়তি ব্যয়ের বোঝা নিজে বহন করছে এবং অত্যন্ত সীমিত পরিসরে দাম সমন্বয় করেছে।
উল্লেখ, আজ রবিবার (১৯ এপ্রিল) থেকে দেশব্যাপী নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পেট্রলের দাম লিটার প্রতি ১৯ টাকা ও অকটেনের দাম লিটার প্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। সেইসঙ্গে ডিজেলের দাম বেড়েছে প্রতি লিটারে ১৫ টাকা। এর ফলে, বর্তমানে প্রতি লিটার অকটেনের দাম দাঁড়িয়েছে ১৪০ টাকা, পেট্রলের দাম হয়েছে ১৩৫ টাকা এবং ডিজেলের দাম হয়ে গেছে ১১৫ টাকা। নতুন সিদ্ধান্তে দাম বাড়ানো হয়েছে কেরোসিনেরও।
ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার কেরোসিন এখন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়।
রাজধানীর মিরপুর মাজার রোড সংলগ্ন ঐতিহাসিক গাবতলী খেলার মাঠের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে তা পুনরায় খেলার উপযোগী করার ঘোষণা দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
রোববার (১৯ এপ্রিল) ১০৭ বছরের পুরোনো এই ঐতিহ্যবাহী মাঠটি পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
মাঠ পরিদর্শন শেষে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, এই মাঠে কাজী সালাউদ্দীন থেকে শুরু করে আমি নিজেও ফুটবল খেলেছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সারা দেশের গ্রামীণ জনপদসহ ঢাকা মহানগরের যেখানেই খেলার মাঠ দখলদারদের কবলে আছে, তা উদ্ধার করার কার্যক্রম শনিবার থেকে শুরু হয়েছে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রতিটি মাঠকে খেলার উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে।
গাবতলী মাঠের আইনি জটিলতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে আদালতের একটি রায় রয়েছে। আমরা আদালতের প্রতি সম্মান রেখেই আইনি প্রক্রিয়া মোকাবিলা করে মাঠের বৃহৎ অংশটি দখলমুক্ত করব। এখানে কোনোভাবেই অবৈধ স্থাপনা থাকতে দেওয়া হবে না। এটি এলাকাবাসী ও স্কুলের শিশুদের খেলার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আমরা সরেজমিনে দেখেছি, মাঠের চার ভাগের দুই ভাগের বেশি অংশে অবৈধ স্থাপনা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। আইন ও আদালত জনগণের কল্যাণের জন্য। সিটি কর্পোরেশনের আওতায় যত অবৈধ স্থাপনা আছে, তার সব উচ্ছেদ করা হবে। আমরা স্থানীয় সুধীজনদের সঙ্গে কথা বলে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেব, এর মধ্যে দখল না ছাড়লে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই মাঠ শুধু খেলাধুলা নয়, এলাকার সামাজিক কর্মকাণ্ড ও সমাবেশের জন্যও উন্মুক্ত রাখা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আজ থেকে ১০৭ বছর আগে মরহুম মুন্সি লাল মিয়া মিরপুর সিদ্ধান্ত হাই স্কুলের নামে ১.৭ একর আয়তনের এই মাঠটি ওয়াক্ফ করে গিয়েছিলেন। এটি ঢাকা-১৪ আসনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের একমাত্র খেলার মাঠ।
অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক মদদে মাঠের তত্ত্বাবধায়ক বাবলা নামের এক ব্যক্তি করোনা মহামারির সময় রাতের আঁধারে মাঠের জায়গা দখল করে অবৈধ ভবন ও দোকানপাট নির্মাণ করেন।
সাংবাদিকদের জীবনমান উন্নয়নে নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বাইরেও প্রবীণ সাংবাদিকদের অবসর ভাতার আওতায় আনার কাজে হাত দিয়েছি। ইতোমধ্যে কাজ অনেকটা অগ্রগতি হয়েছে। আশা করছি আমরা একটি সন্তোষজনক ফলাফল দিতে পারব।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) চিকিৎসাধীন অসুস্থ সাংবাদিক ইসমাইল হোসেন নেগাবানকে দেখতে গিয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে অসুস্থ সাংবাদিকের হাতে এক লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গণমাধ্যম হলো চতুর্থ স্তম্ভ। রাষ্ট্রের নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগ যেভাবে সুরক্ষা পায়, গণমাধ্যমকেও সেই আদলে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে সুরক্ষা দিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নীতিমালা তৈরির কাজ করছে সরকার।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে না থাকায় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সুরক্ষা বা পৃষ্ঠপোষকতায় কিছু ঘাটতি থাকে। আমরা বিশ্বাস করি, গণমাধ্যমকে যদি স্বাধীন ও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে দেওয়া হয়, তবে তা শেষ পর্যন্ত জনগণ ও রাষ্ট্রের কল্যাণেই কাজে লাগে। সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।
তিনি বলেন, সাংবাদিকতার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক পেশায় যারা জীবন দিয়ে কাজ করেন, তাদের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা চেষ্টা করছি।
সিনিয়র সাংবাদিকদের বর্তমান দুরবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অনেক মেধাবী সাংবাদিক ব্যক্তিগত জীবনে দুর্দশার মধ্যে আছেন। অথচ তারা অন্য পেশায় থাকলে হয়তো অনেক ভালো করতে পারতেন। গুণী বা রত্নদের সব সময় রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতা করা উচিত। প্রতিভা যেখানে থাকবে, রাষ্ট্রের দায়িত্ব সেখানে তাদের পাশে দাঁড়ানো।
চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল এবং ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও সিনিয়র সাংবাদিক খোন্দকার কাওছার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী এ সময় চিকিৎসাধীন সাংবাদিক ইসমাইল হোসেন নেগাবানের চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমানো ৩৪ প্রবাসীর নিথরদেহ দেশে ফিরেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভিন্ন ভিন্ন ফ্লাইটে করে কুয়েত, মালয়েশিয়া ও লিবিয়া থেকে এসব মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক এসব তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে।
প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের তথ্য অনুযায়ী, কুয়েত থেকে এসেছে ৩০ জন প্রবাসীর মরদেহ। গতকাল সন্ধ্যায় কুয়েত এয়ারলাইন্সের একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে মরদেহগুলো আসে। আর লিবিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে আসে দুটি করে মরদেহ।
প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের কর্মকর্তারা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বেশ কয়েকবার কুয়েতের ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এসব প্রবাসীর মরদেহ ওইসব ফ্লাইটে দেশে আসার কথা ছিল। পরবর্তীতে চার্টার্ড ফ্লাইটে এসব প্রবাসীর মরদেহ দেশের আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৯ হাজার ধর্মী এবং শূন্য পদসমূহে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের কবরী হলে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমীন। বর্তমান সরকারের দুই মাস পূর্ণ হওয়ায় সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়।
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ শিশু-কিশোরদের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; উপজেলা পর্যায়ে ৬টি খেলায় ৩ জন করে মোট ১৮ জন ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ শুরু হয়েছে। মহানগর পর্যায়ে উন্মুক্ত খেলার মাঠের সংস্থান করা হচ্ছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, আবারও শুরু হয়েছে শিশু কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণের প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি’, প্রথমবারের মতো সংযুক্ত হচ্ছে ক্রীড়া ও কোরআন তিলাওয়াত। জাতীয় সংসদের গ্যালারিতে শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫০ আসন বরাদ্দ এবং দেশব্যাপী বইপড়াকে উৎসাহিত করার জন্য বেসরকারি খাতের সাথে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
ড. মাহদী আমীন বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিশুর মাঝে বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতা ও পাটের তৈরি ব্যাগ বিতরণের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্কুলে পর্যায়ক্রমে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে লার্নিং উইথ হ্যাপীনেস, কারিগরি শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি যুক্ত করে শিক্ষাক্রমকে সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, মাদরাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি কোর্স অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্পোর্টস কার্ড ও স্পোর্টস অ্যালাউন্স কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ইতোমধ্যে শতাধিক ক্রীড়াবিদকে ভাতা দেওয়া হচ্ছে।