রাজধানীর পল্টন দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন জাহিদুর রহমান নামের এক ব্যবসায়ী। হঠাৎ বাতাসে ধুলোবালি এসে নাকে-মুখে ঢুকে যায় তার। চারপাশে গাড়িগুলো পাল্লা দিয়ে হর্ন বাজিয়ে যাচ্ছে, দুই কান হাত দিয়ে চেপে ধরেও রেহাই পাচ্ছেন না।
তার ভাষ্যে, ‘মানুষ বাস করার মতো অবস্থায় নেই এই শহর। কেবল চাকরি করতে হবে বলে ঢাকায় আছি, নাহলে অনেক আগেই (এই শহর ছেড়ে) চলে যেতাম।’
‘সবকিছু ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায় নাগরিকদের এই শহরে এসেই ভিড় করতে হচ্ছে। ইচ্ছা থাকলেও নিরাপদ জীবনের খোঁজে অন্যত্র যাওয়া সম্ভব নয়’, বুধবার (১৯ মার্চ) কথাগুলো বলছিলেন তিনি।
নগরীর গণপরিবহনগুলোতে বেশিরভাগ সময়ই যাত্রীদের দাঁড়ানোর মতো জায়গাও থাকে না। বাইরে বের হলে বাসের দরজায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীদের ঝুলে থাকার দৃশ্য চোখে পড়তে বাধ্য।
ডিওএইচএসে বসে এসব কথারই পুনরাবৃত্তি করছিলেন বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা মারুফুল হক। বলেন, ‘অফিসের সময় বাসে জায়গা পাওয়া যায় না; আবার অফিস কামাইও দেওয়া যাবে না। যে কারণে লোকজন ঠেলেঠুলে হলেও বাসে উঠতে হয়। অনেকসময় ভেতরে একদমই জায়গা থাকে না, সেক্ষেত্রে দেরিতে অফিসে প্রবেশ এড়াতে গেটে ঝুলে পড়া ছাড়া উপায় থাকে না।’
‘ঢাকার সড়কে যানজট, বাসে ভিড়; আবার ফুটপাত দিয়ে হেঁটে চলাচল করবেন, তারও জো নেই। একে তো অনেক ফুটপাত ভাঙাচোরা, কোথাও আবার ম্যানহোলের ঢাকানা নেই; তার ওপর আবার ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের কারণে হাঁটার জায়গাও নেই অনেক জায়গায়।’
মারুফুল বলেন, ‘অর্থাৎ চলাচলের সব বিকল্প বন্ধ। ফলে রাস্তায় বের হলেই দুর্ভোগ পোহাতে হবে—এ একপ্রকার নিশ্চিত।’
‘অথচ এই শহরেই আমাদের বাস করতে হচ্ছে। গাদাগাদি করে বাসে উঠি, যানজট ঠেলে কোনোরকমে অফিসে পৌঁছাই। ক্লান্তি নিয়ে সারা দিন কাজ করি।’
ঢাকার বিকল্প কোনো রাজধানীর দরকার আছে কি না—জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. এম শামসুল হক বলেন, ‘বিশ্বের চল্লিশটির মতো দেশ তাদের রাজধানী অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। কয়েকটি দেশ এ প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। সর্বশেষ ইন্দোনেশিয়া তাদের রাজধানী পরিবর্তন করে নুসানতারায় নিয়ে গেছে। মিসরও চলে যাচ্ছে।’
কাজেই বাংলাদেশের রাজধানীও অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া এমন একটি বাস্তবতা, যা নিয়ে সমীক্ষারও প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন তিনি।
শামসুল হক বলেন, ‘চিকিৎসক যেমন রোগীর রেকর্ড দেখলে বুঝতে পারেন, হার্টবিট ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে, তখন তো চিকিৎসকরা বলেন, এটা বেয়ন্ড রিপেয়ারড (মৃত্যু আসন্ন)। এরকম ঢাকার সবকিছুই এত তলানির দিকে চলে যাচ্ছে যে, এত এত বিনিয়োগ করার পরও অর্থাৎ এত চিকিৎসা করার পরও কোনো উন্নতি হচ্ছে না, একেবারে নন-রেসপন্সিভ।’
ভারত, পাকিস্তান, ব্রাজিল, নাইজেরিয়া, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মিসর ও দক্ষিণ কোরিয়াও তাদের রাজধানী পরিবর্তন করেছে কিংবা করছে। অতিরিক্ত জনসংখ্যা ও যানজটের কারণেই দেশগুলো তাদের রাজধানী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানি ফুরিয়ে যাওয়া, পরিবেশগত উদ্বেগ, দূষণ, প্রাকৃতিক বিপর্যয়—এমন নানা কারণে বিভিন্ন দেশের রাজধানী সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আরও আধুনিক, স্মার্ট, পরিবেশগত টেকসই ও বিনিয়োগবান্ধব রাজধানী গড়ে তুলছে দেশগুলো।
বিকল্প রাজধানী হতে পারত পূর্বাচল
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ঢাকারও বিকল্প বের করা একটি চরম বাস্তবতা বলে উল্লেখ করেছেন ড. এম শামসুল হক।
তার ভাষ্যে, ‘অনেকের কাছে শকিং (তাক লাগানো) মনে হতে পারে, অনেকের কাছে এমন কিছু আবেগেরও মনে হতে পারে; কিন্তু আবেগ দিয়ে তো আর দেশ চলে না। যদি আমরা অনেক আগেই (এ বিষয়ে) চিন্তা করতাম, তাহলে অনেক সম্ভাবনা ছিল। এমনকি কম খরচে পূর্বাচলে আমরা বিকল্প রাজধানী করে ফেলতে পারতাম।’
‘পূর্বাচলের জায়গাটা অনেক উঁচু, বন্যামুক্ত। কৌশলগতভাবে একটি রাজধানী শহর বন্যামুক্ত হওয়া উচিত। সেক্ষেত্রে পূর্বাচল উঁচু জায়গায়, মাটিও অরিজিনাল।’
ঢাকার অন্যান্য জায়গায় মাটি ভরাট করে সবকিছু করা হয়েছে। মাটি ভরাট করে অবকাঠামো নির্মাণ করা হলে যেকোনো ভবনের ভিত্তি ব্যয় অনেক বেড়ে যায় বলে উল্লেখ করেন এই নগর প্রকৌশলী।
দুর্বল মাটিতে বিনিয়োগও খুব একটা কার্যকর হয় না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগের একটি অংশ দুর্বল মাটির জন্য নষ্ট হয়ে যায়। ফলে রাজধানী এমন একটি জায়গায় হতে হয়, যেখানকার মাটি ভালো। সে অনুসারে পূর্বাচল ভালো অপশন ছিল।’
‘অথচ সেখানে সাত হাজার একরের একটি টাউনশিপ গড়ে তোলা হয়েছে। প্লট দিয়ে ব্যক্তিকে কোটিপতি বানানো হয়েছে। এত বড় অন্যায় একবিংশ শতাব্দীতে কেউ করবে না, যেটা সেখানে হয়েছে।’
‘যদি আবাসনের কথা বলি, তাহলে ফ্ল্যাট দেওয়া যায়; কিন্তু আমাদের মতো জনবহুল দেশে প্লট দেওয়া যায় না।’
রাজধানী হিসেবে ঢাকার কার্যকারিতা নেই উল্লেখ করে এই অধ্যাপক বলেন, ‘তবে এটি নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। সেক্ষেত্রে অবশ্য লাভেই হবে, কারণ তাতে মানুষের মধ্যে কোনো প্রশ্ন থাকলে তা দূর হয়ে যাবে, সিদ্ধান্ত নিতে সরকারের সুবিধা হবে।’
‘কিন্তু কেউ যদি এসব নিয়ে নাড়াচাড়াই না করেন, তাহলে একজন রোগী মারা যাচ্ছেন কিনা, পয়েন্ট অব নো রিটার্নের দিকে চলে যাচ্ছেন কিনা— তা কিন্তু বোঝা যাবে না। এতে আমরা একটি অদূরদর্শী জাতি হিসেবে পরিচিতি পাব।’
ইন্দোনেশিয়ার উদহারণ টেনে তিনি বলেন, ‘তারা জাকার্তা থেকে রাজধানী সরিয়ে নুসানতারায় নিয়ে গেছেন। এতে খরচ হয়েছে ৩৫ বিলিয়ন ডলার। গত অক্টোবরে তাদের কাজের প্রথম ধাপ শেষ হয়েছে। মিসরের রাজধানী কায়রো থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আমরা যে ছয়টি মেট্রো করতে যাচ্ছি, সেটারও ২০ থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলার খরচ পড়বে।’
বিনিয়োগ ও পরিবেশবান্ধব, বাসযোগ্য, দূষণমুক্ত, গ্রিনসিটি হিসেবে ভাবলে ঢাকা কখনোই হবে না বলে জানান তিনি।
‘ঢাকায় যেভাবে ভূগর্ভস্থ পানি তোলা হচ্ছে, তাতে প্রতিনিয়ত আমাদের পানির স্তর নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে, ফলে পানি গভীর থেকে গভীরে নেমে যাচ্ছে।’
‘জাকার্তায়ও একই অবস্থা হয়েছিল। সেখানে অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে ভূগর্ভস্থ পানি বেশি তোলা হয়েছিল। একসময় দেখা গেল, পানি পাওয়া যাচ্ছে না। পানি না থাকলে বসতি হবে কীভাবে! ঢাকায়ও ভূগর্ভস্থ পানি দিন দিন তলানির দিকে চলে যাচ্ছে।’
শামসুল হক বলেন, ২০০৫ সালেও ঢাকা শহরে গাড়ির গতি ঘণ্টাপ্রতি ২৫ কিলোমিটার ছিল। এখন সেটা প্রতি ঘণ্টায় পাঁচ কিলোমিটারে নেমে এসেছে। ঢাকা শহরের হার্টবিট কমে শূন্যের দিকে যাচ্ছে। আমরা ঢাকাকে বাঁচাতে অনেক কিছু করেছি, কিন্তু ধীরে ধীরে এই শহরের অধঃপতন হয়েই চলেছে।’
জনবহুল শহর ঢাকা
আয়তনের তুলনায় ঢাকার জনসংখ্যা অনেক বেশি বলে মন্তব্য করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ।
তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরের জনসংখ্যা সমস্যাটাই হচ্ছে মূল বিষয়। মাত্র সাড়ে ৩০০ বর্গ কিলোমিটারের যে শহর, সেখানে প্রায় দেড় থেকে পৌনে দুই কোটি মানুষ বাস করছেন। যদিও বিবিএসের (বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো) পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকার জনসংখ্যা এক কোটি ছয় লাখ, তবে সেটা সঠিক নয়।’
‘ঢাকায় ৪৮ হাজার মানুষ এক বর্গ কিলোমিটারের মধ্যে বাস করছেন। এতে সবচেয়ে জনবহুল রাজধানীর খেতাব পেয়েছে ঢাকা শহর। প্রতিটি জায়গার একটি ক্যারিং ক্যাপাসিটি (ধারণক্ষমতা) আছে, সেই ক্যাপাসিটির চেয়ে অনেক বেশি মানুষ ঢাকা শহরে বাস করেন।’
‘আদর্শগতভাবে একটি শহরে একরপ্রতি মানুষ বাস করা উচিত দুইশর কম। সেই তুলনায় ঢাকা শহরের একরপ্রতি জনঘনত্ব অনেক বেশি, কোনো কোনো এলাকায় সেটি সাড়ে ৩০০ পেরিয়ে যায়। যেমন, লালবাগ এলাকায় এই সংখ্যাটি ছয়শর মতো।’
ড. আকতার মাহমুদ বলেন, ‘ক্যারিং ক্যাপাসিটির বেশি পরিমাণ মানুষ যখন একটি জায়গায় বসবাস করেন, সেখানে কয়েকটি নেগেটিভ এক্সটারনালিটিজ (পরোক্ষ ক্ষতি) তৈরি হয়। এর মধ্যে বায়ুদূষণ, পানিদূষণ, শব্দদূষণ থেকে শুরু করে সব ধরনের দূষণ রয়েছে। নদী-নালা, খাল-বিলগুলোর অবস্থা দেখলেই এর প্রভাব বুঝতে পারবেন। এর পাশাপাশি মরার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো রয়েছে যানজট।’
তিনি বলেন, ‘এতে মানুষের জীবনমান অনেক খারাপ হয়ে যায়। জনসংখ্যার বিপরীতে যে পরিমাণ নাগরিক সুবিধা থাকা উচিত, সেটা থাকে না। যে কারণে দেখবেন, আমাদের স্কুলগুলোতে কোনো খেলার মাঠ নেই। বাচ্চারা মুরগির খোপের মতো একটি স্কুলঘরে ক্লাস করে। এতে তাদের মানসিক বিকাশ হয় না।’
শুধু তা-ই নয়, মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো মেটানোও কঠিন হয়ে পড়ে বলে মন্তব্য করেন এই নগর-পরিকল্পনাবিদ।
‘আপনি দেখবেন, এখানে চিকিৎসকের সিরিয়াল পাওয়া যায় না। সব জায়গায় অতিরিক্ত ভিড়। যদি কোনো বাস স্টেশনে, হেলথকেয়ার কিংবা হাসপাতালে যান, কোথাও নাগরিক সুবিধা পাওয়া যাবে না। আবার পেতে হলে অনেক বেশি চেষ্টা করতে হয়। এর মানে হলো জনপরিসর অপ্রতুল। খোলা জায়গা ও পার্কগুলোর দিকে তাকান।’
‘সবকিছু বিচার বিশ্লেষণ করলে আমরা বলব যে ঢাকা শহরের জনসংখ্যা এত বেশি যে সেই অনুপাতে নাগরিক সুবিধা এখানে নেই,’ যোগ করেন তিনি।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘কুড়িগ্রাম থেকেও ঢাকায় মানুষ আসেন, আবার সাতক্ষীরা থেকেও আসেন। তিনটি প্রধান কারণে তারা আসেন: কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা। এছাড়া নদীভাঙনসহ আরও অনেক কারণ আছে।’
রাজধানী সরিয়ে নেওয়াই কি সমাধান
সেক্ষেত্রে ঢাকার এই জনচাপ কমাতে রাজধানী সরিয়ে নেওয়ার মতো সম্ভাবনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বিষয়টি একেবারে উড়িয়ে দেননি তিনিও। অন্য উপায়গুলোর সঙ্গে এটিও একটি ভেবে দেখার মতো বিষয় বলে জানান এই শিক্ষক।
তিনি বলেন, ‘ঢাকার শহরের এই পরিস্থিতি রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। সেটি করতে গেলে কিছু কিছু কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে।’
‘সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া, অর্থনীতি, লেখাপড়া, বিচারিক ও স্বাস্থ্যসেবা—সবকিছুর কেন্দ্র ঢাকা। সে কারণে কোনো কোনো দেশ এমন সমস্যায় পড়লে শহর থেকে কোনো কোনো কার্যক্রমকে কেন্দ্রবিমুখ করে ফেলে। কেউ কেউ রাজধানীও সরিয়ে নিয়েছে।’
তবে বাংলাদেশের মতো একটি দেশের রাজধানী সরিয়ে নেওয়া খুবই খরচের বিষয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রাজধানী না সরিয়ে পুত্রজায়ায় একটি প্রশাসনিক এলাকা গড়ে তুলেছে মালয়েশিয়া। জার্মানিতে ফ্রাঙ্কফুট হয়েছে অর্থনৈতিক রাজধানী।’
‘এভাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রাজধানী চট্টগ্রাম এবং প্রশাসনিক কাজের জন্য ঢাকা, চট্টগ্রাম কিংবা কুমিল্লার মতো একটি জায়গা নির্ধারণ করা যেতে পারে।’
এভাবে কিছু কিছু কাজ সরিয়ে নিয়ে রাজধানী না সরিয়েও ঢাকার ওপর চাপ কমিয়ে ফেলা সম্ভব বলে মত দেন আকতার মাহমুদ।
তার কথায়, ‘আমরা যেন সমস্ত কাজ ঢাকাকেন্দ্রিক করে না ফেলি। এখন যদি বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়, তাহলে ঢাকার প্রতি মানুষের আকর্ষণ কমে যাবে, আর দেশের চারদিকে মানুষ ছড়িয়ে পড়বে।’
‘সমগ্র বাংলাদেশ নিয়ে পরিকল্পনা করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অন্য বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, যাতে কর্মসংস্থান তৈরি হয়। পাশাপাশি জেলা শহরগুলোতে বিনিয়োগে প্রণোদনা দিয়ে প্রাইভেট কোম্পানিগুলোকে উৎসাহিত করতে হবে। এভাবে কাজগুলো অন্য বিভাগীয় ও পৌর শহরে সরিয়ে নিতে হবে। তাহলে লোকজন নিজের বাড়িতে কিংবা এলাকার কাছাকাছি বসবাস করা শুরু করবে।’
আসন্ন গণভোট সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা দেশব্যাপী এক বিশেষ প্রচারণা কার্যক্রমের সূচনা করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচির বিস্তারিত জানানো হয়েছে। নির্বাচন মনিটরিং ও সহায়তা প্রদান সংক্রান্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টাগণ আজ থেকে শুরু হওয়া এই প্রচার অভিযানের মাধ্যমে আগামী ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলায় গণভোটের তাৎপর্য, উদ্দেশ্য এবং অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার খুঁটিনাটি জনসমক্ষে তুলে ধরবেন।
প্রচারণা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা বিভিন্ন জেলার স্থানীয় প্রশাসন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিচিত্র শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় সভায় মিলিত হবেন এবং গণভোটে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের বিষয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করবেন। কর্মসূচির প্রথম দিনে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বর্তমানে চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন, যেখানে তিনি প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকসহ জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছেন। মূলত রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই সরকারের পক্ষ থেকে এই প্রচারণামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিতের ঘোষণার পর বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ শুরু করেছে ঢাকা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত কারণ ও প্রভাব জানতে ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এবং আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়ার পরেই বাংলাদেশ সরকার পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছে, যেসব দেশের অভিবাসীরা তুলনামূলক বেশি হারে মার্কিন কল্যাণমূলক সুবিধা গ্রহণ করছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই স্থগিতাদেশ কার্যকর হবে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, নতুন অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় সম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবেন না—এমন নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। মূলত পারিবারিক পুনর্মিলন, কর্মসংস্থান বা স্থায়ী বসবাসের উদ্দেশ্যে যারা যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় ছিলেন, এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে তাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থগিতাদেশের সুনির্দিষ্ট আওতা, সময়সীমা এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর এর প্রকৃত প্রভাব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না পাওয়া পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া সম্ভব নয়। তবে দেশের নাগরিকদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনে সব ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে আইনি সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ একটি দায়মুক্তি আইন অনুমোদন করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যুতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান আইনবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। গণঅভ্যুত্থানকারীদের নিরাপত্তা ও আইনি জটিলতা নিরসনে সরকারের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “জুলাই-আগস্টে রাজনৈতিক প্রতিরোধে ফৌজদারি মামলা থাকলে সরকার প্রত্যাহার করবে। নতুন করে মামলা করা হবে না।”
বিগত আন্দোলনের সময় রাজনৈতিক প্রতিরোধের কারণে যেসব মামলা রুজু হয়েছিল সেগুলো সরকার নিজে থেকেই প্রত্যাহার করে নেবে বলে উপদেষ্টা নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দেশের কোথাও কোনো মামলা দায়ের হয়েছে কি না, আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সেই বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিপ্লবে অংশগ্রহণকারীদের যেকোনো প্রকার হয়রানি থেকে মুক্ত রাখতে এবং তাদের অবদানের আইনি স্বীকৃতি নিশ্চিতেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ অনতিবিলম্বে জারির দাবিতে রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলগুলোতে দ্বিতীয় দিনের মতো টানা অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর থেকে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব ও মিরপুর টেকনিক্যাল মোড়ের মতো ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে শিক্ষার্থীরা সড়ক দখল করে অবস্থান নিলে যান চলাচল পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাস থেকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর একটি বিশাল মিছিল নীলক্ষেত অতিক্রম করে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে গিয়ে অবস্থান নেয়। রাজপথ প্রকম্পিত করে শিক্ষার্থীরা এসময় ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘রাষ্ট্র তোমার সময় শেষ, জারি করো অধ্যাদেশ’, ‘আমি কে তুমি কে, ডিসিইউ ডিসিইউ’—এমন নানা স্লোগান দিতে থাকেন।
আন্দোলনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হাসান বলেন, “আমাদের দাবি স্পষ্ট- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ অনতিবিলম্বে জারি করতে হবে। আমরা আর কোনো কালক্ষেপণ মানব না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ছি না।” সায়েন্স ল্যাবের পাশাপাশি মিরপুর টেকনিক্যাল মোড়ে সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেওয়ায় গাবতলী থেকে আজিমপুর পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের এই অনড় অবস্থানের ফলে দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়ে সাধারণ নগরবাসীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে, যা জনজীবনে নাভিশ্বাস সৃষ্টি করেছে। এর আগে গত মঙ্গলবারও একই দাবিতে সড়ক অবরোধ করা হয়েছিল, যার ফলে রাজধানীবাসীকে ব্যাপক দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সাল থেকে শুরু হওয়া সাত কলেজের সংকট নিরসনে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হলেও শিক্ষার্থীরা পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে এখনো অনড় রয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে যে, প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশের পরিমার্জিত খসড়া গত মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এই খসড়াটি দ্রুত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নীতিগত অনুমোদন ও আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে উপদেষ্টা পরিষদে উপস্থাপন করার কথা রয়েছে। নতুন প্রস্তাবনায় কলেজগুলোর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার কথা উল্লেখ থাকলেও শিক্ষার্থীরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক ‘অধ্যাদেশ’ জারির দাবি জানাচ্ছেন।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পরিচয়পত্র পেশ করেছেন ঢাকায় নবনিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৬) তিনি রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনে গিয়ে এই পরিচয়পত্র দাখিল করেন। এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কূটনীতিক হিসেবে তার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন।
বঙ্গভবনে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশে স্বাগত জানান। এ সময় রাষ্ট্রপতি দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন রাষ্ট্রদূতের মেয়াদকালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রে উভয় দেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে বলে রাষ্ট্রপতি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রত্যুত্তরে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও গভীর, বহুমাত্রিক এবং ফলপ্রসূ করতে তিনি সর্বাত্মক প্রয়াস চালাবেন। তিনি দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে নিবিড়ভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের জন্য রাষ্ট্রপতির সার্বিক সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি তাকে বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। পরিচয়পত্র পেশ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় বেতন কমিশনের খণ্ডকালীন সদস্য পদ থেকে আকস্মিকভাবে পদত্যাগ করেছেন অধ্যাপক মো. মাকছুদুর রহমান সরকার। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানান। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত সুপারিশ কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে স্থান না পাওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে এই পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অধ্যাপক মাকছুদুর রহমান বলেন, বেতন কমিশনের চেয়ারম্যানের লিখিত নির্দেশনার আলোকেই দেশের সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সুনির্দিষ্ট সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটি দীর্ঘ পর্যালোচনা ও বিচার-বিশ্লেষণ শেষে কমিশনের কাছে মোট ৩৩টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা পেশ করে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সেই প্রস্তাবনাগুলোর কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। কমিটির সুপারিশগুলো এভাবে উপেক্ষিত হওয়ার প্রতিবাদেই তিনি কমিশন থেকে সরে দাঁড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাস্তবিক চাহিদা পূরণে এই সুপারিশগুলো অত্যন্ত জরুরি ছিল। প্রেস ব্রিফিংয়ের শেষ পর্যায়ে তিনি উচ্চশিক্ষার মান অক্ষুণ্ণ রাখতে ও এর উন্নয়নের স্বার্থে উপ-কমিটির প্রস্তাবনাগুলো গুরুত্বসহকারে আমলে নেওয়ার জন্য সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান। তার এই হঠাৎ পদত্যাগ শিক্ষা অঙ্গনে এবং বেতন কমিশনের কার্যক্রমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বাংলাদেশের হাওর ও জলাভূমি রক্ষা এবং এর যথাযথ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে। বুধবার রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশটি প্রকাশ করা হয়। নতুন এই আইন অনুযায়ী, হাওর ও জলাভূমি অবৈধভাবে দখল, ভরাট কিংবা এর শ্রেণি পরিবর্তন করলে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড অথবা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, সারা দেশের হাওর ও জলাভূমির একটি সরকারি তালিকা প্রণয়ন করা হবে। জেলা প্রশাসকদের সরবরাহ করা তথ্যের ভিত্তিতে সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই তালিকা প্রকাশ করবে এবং প্রয়োজনে সময় সময় তা সংশোধন বা হালনাগাদ করা হবে।
অধ্যাদেশটিতে হাওর ও জলাভূমির সুরক্ষা, সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে। হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর এই মহাপরিকল্পনা তৈরি ও নিয়মিত হালনাগাদ করবে, যা সরকারের বিদ্যমান নীতি ও কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। সরকার চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যে কোনো হাওর বা জলাভূমিকে ‘সংরক্ষিত এলাকা’ ঘোষণা করতে পারবে। সংরক্ষিত এলাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে ২ বছরের জেল বা ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া হাওর বা জলাভূমি সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে অধিদপ্তরের মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে মতামত না নিলে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে না।
নতুন এই আইনে পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় বিভিন্ন অপরাধের জন্য সুনির্দিষ্ট শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। হাওর বা জলাভূমির কান্দা অবৈধ দখল, ভরাট, অননুমোদিত খনন, রূপান্তর কিংবা পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করলে সর্বোচ্চ ২ বছরের জেল বা ১০ লাখ টাকা জরিমানার মুখে পড়তে হবে। অনুমোদন ছাড়া মাটি, বালু, পাথর বা অন্য প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলন করলেও একই শাস্তি প্রযোজ্য হবে। এছাড়া পানি, মাটি ও পরিবেশ দূষণ করলে ২ বছরের জেল বা ২ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। এমনভাবে পানি উত্তোলন করা যা জলজ প্রাণী বা উদ্ভিদের ক্ষতি করে, তার জন্য ২ বছরের জেল বা ৫ লাখ টাকা জরিমানার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও অধ্যাদেশটিতে কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে। নিষিদ্ধ জাল, বৈদ্যুতিক শক, বিষটোপ বা বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহার করে মাছ ধরলে ২ বছরের জেল বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা গুনতে হবে। মাছের প্রজনন বা উৎপাদন ব্যাহত হয় এমন কর্মকাণ্ডের জন্য ১ বছরের জেল বা ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি পরিযায়ী পাখি বা সংরক্ষিত জলজ প্রাণী শিকার, জলাবন বা কান্দার বন ধ্বংস কিংবা প্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট করলে ২ বছরের জেল বা ৫ লাখ টাকা জরিমানার উল্লেখ অধ্যাদেশে করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডে হাওর ও জলাভূমির প্রতিবেশ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে তা পরিশোধের নির্দেশ দিতে পারবেন এবং সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশও দিতে পারবেন, যা পালন করা বাধ্যতামূলক।
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে মার্কিন শিক্ষাবিদ ড. গর্ডন ক্লিংগেনশমিটের নেতৃত্বে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন তারা।
সাক্ষাৎ শেষে ন্যাশনাল খ্রিস্টান ফেলোশিপ অব বাংলাদেশের জেনারেল সেক্রেটারি মার্থা দাস মার্থা দাস বলেন, ‘জামায়াত আমির বলেছেন, তারা ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করবেন না। এটা আমাদের জন্য খুব ভালো বিষয়। যারা আমরা সংখ্যালঘু বা সংখ্যায় কম, তাদের নিজেদের সংখ্যালঘু হিসেবে মনে না করার আহ্বানও জানিয়েছেন আমির। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, ছোট সম্প্রদায়গুলোকে সন্তানের মত আগলে রাখবেন।’
বনি বাড়ৈ জানান, ‘আমরা এদেশের খ্রিস্টান নাগরিক হিসেবে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ চাই।’
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি, সংখ্যালঘুদের অধিকার, পারস্পরিক সহাবস্থান ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখার বিভিন্ন দিক নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়।
প্রতিনিধিদলে ছিলেন বাংলাদেশ ইভানজেলিক্যাল রিভাইভাল চার্চের চেয়ারম্যান রেভারেন্ড বনি বাড়ৈ, টিচার ফর পাস্তর ইন বাংলাদেশের ফরমার লেজিসলেটর ড. গর্ডন প্রমুখ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ একটি বহুধর্মীয় ও বহুসাংস্কৃতিক দেশ। এ দেশের সকল নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। জামায়াতে ইসলামী সব সময় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
সাক্ষাৎকালে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. যুবায়ের আহমেদ ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক সাইফুল্লাহ মানসুর।
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত কিশোরী ফেলানী খাতুনের ছোট ভাই মো. আরফান হোসেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সিপাহি পদে শপথ গ্রহণ করেছেন। বোন হারানোর গভীর শোককে দেশপ্রেমের শক্তিতে রূপান্তরিত করে দীর্ঘ প্রশিক্ষণ শেষে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই বাহিনীতে যোগদান করলেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর আরফান হোসেন শপথ নিয়েছেন এবং এখন থেকে তিনি বিজিবির একজন গর্বিত সিপাহি হিসেবে দেশের সীমান্ত রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব পালন করবেন।
শপথ গ্রহণের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আরফান হোসেন। তিনি দেশমাতৃকার সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আরফান বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আমার বোনকে যে সীমান্তে হত্যা করা হয়েছে, আজ আমি সেই সীমান্তের রক্ষী। সীমান্তে দায়িত্বরত থাকা অবস্থায় আমি কখনোই চাইব না যে, আমার বোনের মতো আর কারও বোন বা কোনো বাবা-মায়ের সন্তানকে এভাবে হত্যা করা হোক। তিনি শপথ করে বলেন, প্রয়োজন হলে নিজের জীবন দিয়ে হলেও তিনি সীমান্ত রক্ষা করবেন এবং সীমান্তে এ ধরনের নির্মম হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে সচেষ্ট থাকবেন।
এর আগে গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি লালমনিরহাটে ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আরফান হোসেনের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছিলেন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম। সে সময় আরফানের বাবা মো. নুরুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন। ছেলের এই সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে নুরুল ইসলাম বলেন, তার ছেলে নিজের যোগ্যতাতেই এই চাকরি পেয়েছে এবং এর পেছনে সবার দোয়া ছিল। তিনি বিশ্বাস করেন, আরফান চাকরিজীবনে সততা ও দক্ষতার পরিচয় দিতে সক্ষম হবে। ছেলের এই দেশসেবার মাধ্যমেই তার মেয়ে ফেলানীর আত্মা শান্তি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নির্মমভাবে প্রাণ হারান কিশোরী ফেলানী খাতুন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর দীর্ঘক্ষণ তার মরদেহ কাঁটাতারে ঝুলে ছিল, যা দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং বিবেকে নাড়া দেয়। দীর্ঘ ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও ফেলানীর পরিবার এখনো সেই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে ছোট ভাই আরফানের বিজিবিতে যোগদান শোকসন্তপ্ত এই পরিবারটির মাঝে কিছুটা হলেও স্বস্তি ও নতুন আশার সঞ্চার করেছে। নিয়োগপত্র হস্তান্তরের সময় বিজিবি কর্মকর্তারাও আশ্বস্ত করেছিলেন যে, তারা সর্বদা ফেলানীর পরিবারের পাশে থাকবেন।
বাহরাইনে একটি বাসা থেকে বিপুল সংখ্যক পোস্টাল ব্যালট বিতরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে, যেখানে দেখা যায় বাহরাইনে অবস্থানরত এক জামায়াত নেতার বাসা থেকে এসব ব্যালট বিতরণ করা হচ্ছে।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর জনমনে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে পোস্টাল ব্যালটের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, তিনি বিষয়টি দেখেছেন এবং এ ব্যাপারে যথাযথ তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হলে আসলে কী ঘটেছে এবং ঘটনার সত্যতা কতটুকু, তা পরিষ্কার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রথমবারের মতো শুরু হওয়া এই পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৫ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি ভোট দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এত বিশাল একটি কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করতে গেলে কিছু সমস্যা বা অনিয়মের চেষ্টা হতে পারে, যা মোকাবিলার জন্য সরকার প্রস্তুত রয়েছে।
রাজনৈতিক বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, রাজনীতির মাঠে যারা বিচরণ করেন, তারা সবাই যে নিখুঁত মানুষ, বিষয়টি এমন নয়। কেউ সুযোগ পেলে এই প্রক্রিয়ার অপব্যবহার করার চেষ্টা করবে—এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। তবে সরকারের মূল লক্ষ্য হলো যেন কোনোভাবেই এই সুযোগের অপব্যবহার না হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যখনই কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাবে, তখনই তা তদন্ত করা হবে। তদন্তের নির্দেশ ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে, তবে তদন্তকাজ কতটুকু এগিয়েছে তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি মিশনগুলোর ভূমিকা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বিষয়টি স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়ায় মিশনগুলোর ভূমিকা খুব একটা বেশি নয়। নিয়ম অনুযায়ী ব্যালট পেপার সরাসরি ভোটারদের কাছে পৌঁছে যাবে এবং তারা ভোট প্রদান করে তা ডাকযোগে বা বাই-পোস্ট দেশে পাঠাবেন। তাই পুরো প্রক্রিয়াটি এই দৃষ্টিকোণ থেকেই বিচার করতে হবে। তবে সরকার প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।
ঢাকা শহরের পানি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক, দক্ষ ও টেকসই করার লক্ষ্যে “স্মার্ট ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট (SWM) - এর জন্য স্মার্ট মিটার সিস্টেম পাইলট প্রকল্প”- এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ৯টায় ঢাকা ওয়াসা ভবনের বুড়িগঙ্গা মাল্টিপারপাস হল-এ এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় উপদেষ্টা, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, জনাব আদিলুর রহমান খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব জনাব মো. রেজাউল মাকসুদ জাহেদী এবং মিস হেজং কিম, চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স, বাংলাদেশে কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের দূতাবাস।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আব্দুস সালাম ব্যাপারী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা ওয়াসার সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে একটি ভিডিও প্রেজেন্টেশন প্রদর্শন করা হয়। একই সঙ্গে স্মার্ট মিটার সিস্টেম পাইলট প্রকল্পের কারিগরি দিকসমূহ তুলে ধরে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। এছাড়া সাসটেইনেবল ডিএমএ ম্যানেজমেন্ট টুল (SDMT) বিষয়ক একটি বিশেষ কারিগরি উপস্থাপনাও অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, স্মার্ট মিটার সিস্টেম বাস্তবায়নের মাধ্যমে পানির অপচয় হ্রাস, অবৈধ সংযোগ শনাক্তকরণ, বিলিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন সম্ভব হবে। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, এ পাইলট প্রকল্প ঢাকা শহরের পানি ব্যবস্থাপনায় একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নগর পানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এই পাইলট প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন ভবিষ্যতে বৃহত্তর পরিসরে স্মার্ট মিটারিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পথ সুগম করবে।
অনুষ্ঠানের শেষে সভাপতির সমাপনী বক্তব্য ও ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
গাজায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে (আইএসএফ) বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে পর্যালোচনামূলক আলোচনা চলছে। সম্প্রতি ওয়াশিংটন সফরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এই বাহিনীতে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করার পর থেকেই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে জাতিসংঘের সরাসরি তত্ত্বাবধান ছাড়া এমন কোনো সামরিক অভিযানে বাংলাদেশের যোগ দেওয়া কতটা যৌক্তিক হবে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়েই রাখা হয়েছে।
নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে উপদেষ্টা জানান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সময় যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে সাময়িকভাবে অনঅ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা স্থগিত রাখা হয়েছে। এছাড়া চীনের কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশে নির্মিত সামরিক স্থাপনাগুলো নিয়ে সৃষ্ট জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের প্রকল্পের মাধ্যমে অন্য কোনো বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়তে দেওয়া হবে না। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখেই পরিচালিত হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তৌহিদ হোসেন জানান, সীমান্তে সাম্প্রতিক হতাহতের ঘটনায় ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ সজাগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, গাজা মিশনে সেনা পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে এর আগে প্রেস সচিব শফিকুল আলমও সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছিলেন। মূলত ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সংহতি এবং আন্তর্জাতিক শান্তি মিশনে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতার আলোকেই এই জটিল বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে একটি স্বচ্ছ, ত্রুটিমুক্ত এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে রাজারবাগের বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ডিসেম্বর-২০২৫ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। কমিশনার স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, এই নির্বাচন দেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে যাচ্ছে, তাই দায়িত্ব পালনকালে কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে যেন সামান্যতম পক্ষপাতিত্ব বা অনিয়মের অভিযোগ না ওঠে, সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
নির্বাচনী পরিবেশ স্থিতিশীল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন যাতে জনমনে আতঙ্ক ছড়াতে বা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সে ব্যাপারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি। একই সাথে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাতে কেউ অনৈতিক রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে না পারে, সে বিষয়েও পুলিশকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তিনি সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সততা ও পেশাদারিত্বের সাথে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের তাগিদ দেন।
অনুষ্ঠানে ডিএমপির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও তাদের মতামত তুলে ধরেন। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. সরওয়ার পুলিশের নিরপেক্ষ ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে বলেন যে, প্রতিটি সদস্যকে আইন মেনে কাজ করতে হবে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানান যে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো ধরনের নাশকতা বরদাশত করা হবে না এবং দুষ্কৃতিকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। সভা শেষে ডিসেম্বর মাসে ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অবদানের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করা হয়। সভায় ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার, উপ-কমিশনার এবং সকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।