বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার স্লোগান ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’

দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৪ মার্চ, ২০২৫ ১৫:৫৬

এবারের পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রায় চাকমা, মারমা, সাঁওতাল ও গারোসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।

আজ সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার স্লোগান—নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খানের সভাপতিত্বে সকাল ১১টার দিকে সভা শুরু হয়। এতে সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীও যোগ দেন।

সভায় ঢাবি উপাচার্য ছাড়াও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।

রেজিস্ট্রার মুন্সী শামস উদ্দিন আহমেদ বলেন, মঙ্গল শোভাযাত্রাকে শুধু বাঙালিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অনুষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে।

সভায় দেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও অন্যান্য সংগঠন কীভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং শোভাযাত্রায় কতজন মানুষ অংশ নেবে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়।

তিনি আরও জানান, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বাংলাদেশের জাতীয় নারী ফুটবল দলও শোভাযাত্রায় অংশ নেবে।


সরকারের উদ্যোগে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু

ফাইল ছবি
আপডেটেড ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:১৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

উত্তরাঞ্চলের কোটি মানুষের বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। সরকারের তৎপরতার অংশ হিসেবে এ মহাপরিকল্পনার মূল প্রশাসনিক ও কারিগরি দিক বাস্তবায়নের প্রাথমিক কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।

প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া তিস্তা-সংক্রান্ত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার পূরণে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করেছে বর্তমান সরকার। মহাপরিকল্পনার মূল কাজ শুরুর আগে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা নিরূপণের লক্ষ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশনে প্রায় ২৩ কোটি টাকার একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের এই উদ্যোগ অনুমোদন পেলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে বিশ্বমানের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হবে, যা মেগা প্রকল্পটির স্বচ্ছ ও টেকসইভাবে বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করবে।

সরকারের এই মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য উত্তরাঞ্চলের স্থায়ী বন্যা ও নদীভাঙন সমস্যার টেকসই সমাধান নিশ্চিত করা এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলকে দেশের মূল অর্থনৈতিক চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করা।

সরকার প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনার আওতায় ১১০ কিলোমিটার নদীতীর রক্ষা এবং ৬৭টি গ্রোয়েন বা স্পার নির্মাণ ও সংস্কার, ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা ও স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা, ২২৪ কিলোমিটার শক্তিশালী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং বাঁধের ওপর পাকা সড়ক নির্মাণ, নদীশাসনের মাধ্যমে নদীসংলগ্ন প্রায় ১৭০ বর্গকিলোমিটার নতুন জমি পুনরুদ্ধার ও কৃষি-শিল্প কাজে ব্যবহারের পথ উন্মোচন বিষয়ে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাউবো) মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন এই বিষয়ে বলেন, সরকারের এই সমন্বিত পরিকল্পনা কেবল নদী রক্ষাই করবে না, বরং আঞ্চলিক সংযোগ ও সেচব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত ২২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও এর ওপর তৈরি সড়ক উত্তরাঞ্চলের অনুন্নত যোগাযোগব্যবস্থাকে পাল্টে দেবে।

বর্ষাকালে নদীবেষ্টিত যেসব এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ত, সেখানে সরকারের এই বহুমুখী বাঁধ একই সঙ্গে প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে কাজ করবে বলেও তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

জানতে চাইলে নদী বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ এজাজ বলেন, নদীর পলি ব্যবস্থাপনা ও গতিপ্রকৃতি বিবেচনা করে ড্রেজিং কার্যক্রম সফল করা সম্ভব হবে।

বুয়েটের পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমান এ বিষয়ে বলেন, উজান-ভাটির পানিপ্রবাহ ও কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনবে।

সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম সাহাবুদ্দিন বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে দ্রুত বাস্তবে রূপ দিতে এ সমীক্ষা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে ব্যারেজ, নদীশাসন, ড্রেজিং, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি সংরক্ষণসহ প্রতিটি কম্পোনেন্টের কারিগরি ও অর্থনৈতিক সুফল নিশ্চিত করা হবে।

জানতে চাইলে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রস্তাবটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। এটি অনুমোদিত হলে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করে পরবর্তী ধাপে এগোনো সম্ভব হবে।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিএনপি সরকারের নেওয়া সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ও দৃঢ় সঙ্কল্পের কথা তুলে ধরেন। এরপরেই এই প্রকল্পের কাজে গতি পেল।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার মতো প্রান্তিক জেলাগুলোর অর্থনীতি যুগ যুগ ধরে তিস্তা নদীর খেয়ালিপনার শিকার। শুষ্ক মৌসুমে পানির তীব্র অভাব এবং বর্ষায় ভয়াবহ ভাঙনে গৃহহীন হতো লাখো মানুষ। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-যাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসবে এবং ১৭০ বর্গকিলোমিটার উদ্ধারকৃত জমি কৃষি ও স্থানীয় শিল্পে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

বিএনপি সরকারের উদ্যোগে সূচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা কেবল একটি নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প নয়, বরং এটি উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী সাফল্য হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে বলে মত বিশেজ্ঞদের। সূত্র: বাসস


প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলন আজ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ, বিশ্বনেতাদের সঙ্গে ফলপ্রসূ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং যুক্তরাষ্ট্র সফরের সামগ্রিক কূটনৈতিক অর্জন তুলে ধরতে আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী হলে’ আজ বিকেল সাড়ে ৩টায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘ সফরের বিস্তারিত দিক ও সরকারের আন্তর্জাতিক অবস্থান গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। বৈশ্বিক এই গুরুত্বপূর্ণ ফোরামে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব, বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনা এবং দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা অর্জনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হবে এ সংবাদ সম্মেলনে।


আজ জাতীয় কন্যা শিশু দিবস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশজুড়ে আজ ৩০ সেপ্টেম্বর পালিত হচ্ছে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস। বিগত বছরগুলোতে সরকারি নানা প্রণোদনা ও উপবৃত্তির সহায়তায় প্রাথমিক পর্যায়ে মেয়েদের শতভাগ ভর্তি এবং লিঙ্গসমতা অর্জনে বাংলাদেশ প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেও মাধ্যমিক স্তরে পৌঁছাতেই শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে পরবর্তী ধাপে কন্যাশিশুদের ধরে রাখার ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া এই স্থবিরতা দেশের সামগ্রিক শিক্ষা অগ্রযাত্রায় বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ উপাত্ত অনুযায়ী, মাধ্যমিক স্তরে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি। এই স্তরে ছাত্রদের ঝরে পড়ার হার যেখানে ৩০ দশমিক ৬৩ শতাংশ, সেখানে ছাত্রীদের ক্ষেত্রে এ হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে প্রায় ৩৪ দশমিক ৮৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ প্রাথমিকে সমতা অর্জিত হলেও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের গুরুত্বপূর্ণ ধাপে এসে প্রায় এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি মেয়ে শিক্ষার্থী নিজেদের শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মেয়েদের এভাবে অকালে বিদ্যালয় থেকে ছিটকে পড়ার প্রধানতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বাল্যবিবাহ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক তথ্যমতে, মাধ্যমিকে ঝরে পড়া ছাত্রীদের প্রায় ৭১ শতাংশই অপরিণত বয়সে বিয়ের শিকার হয়ে পড়াশোনা বন্ধ করতে বাধ্য হয়। অর্থনীতিবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কন্যাশিশুর শিক্ষা নিশ্চিত করা কেবল একটি ব্যক্তির ভবিষ্যৎ নয়, বরং একটি পরিবার ও গোটা জাতির টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ফলে শুধু বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; বরং মেয়েদের শিক্ষাঙ্গনে টিকিয়ে রাখা, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং কার্যকর সামাজিক সুরক্ষার মাধ্যমে বাল্যবিবাহের ঝুঁকি থেকে তাদের রক্ষা করাই এখন প্রধান জাতীয় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।


বিদেশ সফরে কড়াকড়িসহ সচিবদের ২৩ নির্দেশনা 

* দুর্নীতিবাজ শনাক্তে কমিটি * অফিসে সোলার প্যানেল স্থাপন * ডিজিটাল হাজিরা বাধ্যতামূলক
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এমন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করতে অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন, একই ব্যক্তির বারবার বিদেশ সফর নিরুৎসাহিত করা, সরকারি অফিসে সোলার প্যানেল স্থাপন এবং ডিজিটাল হাজিরা বাধ্যতামূলক করাসহ সচিবদের জন্য ২৩টি নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে সচিব সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে সভায় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব ও সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। পরে সিদ্ধান্তগুলো লিখিতভাবে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাছে পাঠানো হয়।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, একাধিক কর্মস্থলে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এমন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করতে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বারবার বিদেশ ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি দপ্তরগুলোতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধীনস্থ কার্যালয়ে সোলার প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রতি দুই মাস অন্তর বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠাতে হবে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

সকল কর্মচারীর সময়মতো অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সব সরকারি দপ্তরে ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এজন্য প্রয়োজনীয় হাজিরা মেশিন স্থাপন করতে হবে এবং হাজিরার তথ্য একটি কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডে সংযুক্ত করার ব্যবস্থা করবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।

সরকারি দপ্তর ও কার্যালয়ের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের অফিসগুলোকে প্রতি ১৫ দিন পরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। পরে তা জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার হয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে।

সরকারি চাকরি সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো কর্মচারী নিজের পক্ষে অন্য ব্যক্তির মাধ্যমে তদবির করলে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এসব ঘটনার তথ্য সংরক্ষণের জন্য ডোসিয়ার তৈরির কথাও বলা হয়েছে।

দাপ্তরিক কার্যক্রমে ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার বাড়াতে ডি-নথিতে বাস্তবায়নযোগ্য সব কার্যক্রম গোপনীয়তা বজায় রেখে সম্পন্ন করতে এবং প্রাপ্ত চিঠিপত্র ও নথি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শূন্য পদ দ্রুত পূরণ, অপ্রয়োজনীয় ও বিলুপ্তিযোগ্য পদ বাতিল, সেবা প্রত্যাশীদের হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা, সাংগঠনিক কাঠামো হালনাগাদ, সরকারি কর্মচারীদের কর্মজীবন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ক্যাডারভিত্তিক বার্ষিক প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সভায় আন্তঃসরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ভূমি ও আইনি বিরোধ আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে নিষ্পত্তি এবং এক সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অন্য প্রতিষ্ঠানের মামলা দায়েরের প্রবণতা পরিহারের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

এছাড়া সরকারি জমি সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি, অধিগ্রহণ করা জমির নামজারি সম্পন্ন করা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব পাঠানোর ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিধি অনুসরণ, সরকারি ক্রয় প্রস্তাব সময়মতো জমা দেওয়া এবং অর্থের সংস্থান ছাড়া কোনো ক্রয় প্রস্তাব উপস্থাপন না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন কমিটি পুনর্গঠন, খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং সব প্রকল্পের তদারকি জোরদার করার নির্দেশনার মধ্য দিয়ে সভা শেষ হয়।


জ্বালানি অর্থনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা

* নভেম্বর পর্যন্ত মিলবে না কাতারের এলএনজি * ভর্তুকি ও বৈদেশিক মুদ্রায় দ্বিমুখী চাপ * বিকল্প এলএনজিতেও বাড়বে ব্যয় * চাপে পড়বে শিল্প ও অর্থনীতি
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 বিশেষ প্রতিবেদক 

বাংলাদেশের জ্বালানি অর্থনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে বিঘ্ন। হরমুজ প্রণালী ঘিরে নিরাপত্তা সংকটের কারণে কাতারএনার্জি বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত এলএনজি সরবরাহ স্থগিত রাখার সময় নভেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে। ফলে দেশের গ্যাসের চাহিদা পূরণে বিকল্প উৎসের ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর পাশাপাশি উচ্চমূল্যে জ্বালানি কেনার চাপও সামলাতে হচ্ছে সরকারকে।

এই সংকটের তাৎপর্য কেবল গ্যাসের ঘাটতিতে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশের শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ সরবরাহ, সরকারি ভর্তুকি, আমদানি ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে জ্বালানির সম্পর্ক নিবিড়। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে একই পরিমাণ গ্যাস কিনতেও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়। আবার বাড়তি ব্যয় সরকার নিজে বহন করলে বাজেটের ওপর চাপ পড়ে, আর গ্রাহকের ওপর চাপালে উৎপাদন খরচ ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আমদানিনির্ভরতার মূল্য দিচ্ছে অর্থনীতি: বাংলাদেশের এলএনজি আমদানিতে কাতারের গুরুত্ব দীর্ঘদিনের। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশের মোট এলএনজি আমদানির প্রায় ৬০ শতাংশ এসেছিল কাতার থেকে। চলতি বছরের জন্য কাতারএনার্জির সঙ্গে নির্ধারিত প্রায় ৪০টি কার্গোর অর্ধেক সরবরাহও বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এই নির্ভরতার পেছনে রয়েছে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যকার ব্যবধান। স্থানীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে সরবরাহ কমে গেলে আমদানি করা এলএনজির প্রয়োজন বাড়ে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি কেনার সক্ষমতা শুধু চাহিদার ওপর নির্ভর করে না; এর সঙ্গে যুক্ত থাকে ডলারের প্রাপ্যতা, বৈশ্বিক মূল্য, পরিবহন ব্যয় এবং সরবরাহকারীদের সঙ্গে চুক্তির শর্ত।

বিশ্ববাজারে সংকটের সময় এসব বিষয় একসঙ্গে প্রতিকূল হয়ে উঠলে জ্বালানি সংগ্রহের খরচ দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। ফলে বাংলাদেশের জন্য সমস্যা দ্বিমুখী—একদিকে পর্যাপ্ত গ্যাস সংগ্রহ, অন্যদিকে সেই গ্যাস কেনার অর্থ জোগাড় করা।

বিকল্প উৎস মানেই সাশ্রয়ী জ্বালানি নয়: কাতারের ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশের প্রধান বিকল্পগুলোর একটি হলো স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনা। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির বাইরে তাৎক্ষণিক প্রয়োজন অনুযায়ী এই বাজার থেকে কার্গো সংগ্রহ করা যায়। তবে সরবরাহের সংকট তীব্র হলে ক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ে এবং দামও চড়ে যায়।

রয়টার্সের ১৫ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে এশিয়ার স্পট বাজারে এলএনজির দাম প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটে (এমএমবিটিইউ) প্রায় ১০ ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ৩০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। এই মূল্যবৃদ্ধি বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর ক্রেতাদের জন্য বড় ব্যয়ের ঝুঁকি তৈরি করে।

অর্থাৎ বিকল্প কার্গো পাওয়া গেলেও আগের দামে তা পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বেশি দামে কেনা এলএনজির জন্য বাড়তি ডলার ব্যয় করতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে একই বাজেটে আগের তুলনায় কম গ্যাস কেনার পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশ অবশ্য বিকল্প সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, সরকার নভেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য কাতারএনার্জি ট্রেডিংয়ের সঙ্গে বিদ্যমান দীর্ঘমেয়াদি সরকার-টু-সরকার ব্যবস্থার আওতায় আরও দুটি কার্গো কেনার অনুমোদন দিয়েছে। কার্গো দুটি ৬ ও ২২ নভেম্বর পৌঁছানোর কথা। তবে এ উদ্যোগের বাস্তব সুফল নির্ভর করবে নির্ধারিত সময়ে সরবরাহ ও পরিবহন পরিস্থিতির ওপর।

বিদ্যুৎ ও শিল্পে বাড়বে ব্যয়ের চাপ: বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনেও আমদানি করা এলএনজির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ১৪ সেপ্টেম্বর রয়টার্সের প্রতিবেদনে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, দেশের ৪০ শতাংশের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরশীল। উচ্চমূল্যের এলএনজি শিল্পের প্রবৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করছে এবং বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির চাপ বাড়াচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গ্যাসের সরবরাহ কমে গেলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সীমিত হতে পারে। ঘাটতি পূরণে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বেশি চালাতে হলে উৎপাদন ব্যয়ও বাড়তে পারে। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এর প্রভাব পড়তে পারে বিদ্যুতের সরবরাহ, সরকারি ব্যয় ও শিল্পের পরিচালন খরচে।

অন্যদিকে টেক্সটাইল, সিরামিক, কাচ, ইস্পাত ও সার উৎপাদনের মতো খাতে গ্যাসের সরবরাহ ও চাপ গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনীয় গ্যাস না পেলে উৎপাদন কমানো, অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহার কিংবা উৎপাদনসূচি পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। এতে পণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়তে পারে এবং রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এর অর্থনৈতিক প্রভাব এক খাতেই থেমে থাকে না। উৎপাদন ব্যয় বাড়লে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মুনাফা কমতে পারে, নতুন বিনিয়োগ পিছিয়ে যেতে পারে এবং পণ্যের দামে বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। তবে এই প্রভাবের মাত্রা নির্ভর করবে গ্যাসের প্রকৃত ঘাটতি, বিকল্প জ্বালানির দাম এবং সরকারের সরবরাহ ব্যবস্থাপনার ওপর।

ভর্তুকি ও বৈদেশিক মুদ্রায় দ্বিমুখী চাপ: উচ্চমূল্যে এলএনজি কেনার বাড়তি ব্যয় সরকার বহন করলে জ্বালানি খাতে ভর্তুকির প্রয়োজন বাড়তে পারে। এতে উন্নয়ন ব্যয়সহ বাজেটের অন্যান্য খাতে অর্থ বরাদ্দের সুযোগ সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আর আমদানি ব্যয় বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রার ওপরও চাপ তৈরি হয়।

তবে বাড়তি এলএনজি ব্যয় সরাসরি কতটা রিজার্ভ কমাবে, তা নির্ভর করবে আমদানির পরিমাণ, মূল্য পরিশোধের সময়সূচি, অন্যান্য রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ের প্রবাহ এবং সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনের ওপর। তাই জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং রিজার্ভের পরিবর্তনের মধ্যে সম্পর্ক থাকলেও একটিকে অন্যটির একমাত্র কারণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

এখানে নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো—জ্বালানির সরবরাহ সচল রাখা, শিল্পের উৎপাদন ধরে রাখা এবং সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সীমিত রাখা। সব খাতে সমানভাবে গ্যাস সরবরাহ সম্ভব না হলে বিদ্যুৎ, সার, শিল্প ও আবাসিক ব্যবহারের অগ্রাধিকার নির্ধারণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

শীতের বাজারে বাড়তে পারে প্রতিযোগিতা: উত্তর গোলার্ধে শীত ঘনিয়ে আসায় আন্তর্জাতিক গ্যাস বাজারে প্রতিযোগিতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইউরোপে শীতকালীন চাহিদা মেটাতে গ্যাসের প্রয়োজন বাড়ে। একই সময়ে এশিয়ার আমদানিকারকেরাও সরবরাহ নিশ্চিত করতে স্পট বাজারে সক্রিয় থাকে। ফলে সরবরাহ সীমিত থাকলে কার্গো সংগ্রহের খরচ বাড়তে পারে।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর রয়টার্সকে আন্তর্জাতিক গ্যাস ইউনিয়নের মহাসচিব মেনেলাওস ইদ্রেওস বলেন, ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে গ্যাস সরবরাহের সংকীর্ণতা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইউরোপ ও এশিয়ার ক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও বাজারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।

তবে নভেম্বরের পর বাংলাদেশের সরবরাহ পরিস্থিতি কেমন হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যায় না। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল, কাতারের উৎপাদন সক্ষমতা পুনরুদ্ধার এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদার পরিবর্তন—সবকিছুই এতে ভূমিকা রাখবে। ২৮ সেপ্টেম্বর রয়টার্স জানায়, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কাতার-সংশ্লিষ্ট কিছু এলএনজি জাহাজের চলাচল বেড়েছে; কিন্তু তাতে সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

বর্তমান সংকট বাংলাদেশের জ্বালানি নীতির একটি মৌলিক দুর্বলতা সামনে এনেছে: দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ও বিকল্প জ্বালানির সক্ষমতা পর্যাপ্ত না বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার প্রভাব বারবার দেশের অর্থনীতিতে ফিরে আসবে।

স্বল্প মেয়াদে বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি কেনা, সরবরাহকারীর সংখ্যা বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি স্পট মার্কেটের ঝুঁকি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আমদানির মূল্য, চুক্তির নমনীয়তা ও সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতার মধ্যে ভারসাম্য জরুরি।

দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানো, বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রের দক্ষ ব্যবহার, সঞ্চালন ও বিতরণব্যবস্থার অপচয় কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যুৎ ও শিল্পে জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার বাড়ানো গেলে একই পরিমাণ জ্বালানি দিয়ে বেশি উৎপাদন সম্ভব হতে পারে।

সব মিলিয়ে, কাতারের এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন বাংলাদেশের জন্য শুধু সাময়িক জ্বালানিসংকট নয়; এটি অর্থনৈতিক ব্যয় ও জ্বালানি নিরাপত্তার পরীক্ষাও। বিকল্প কার্গো দিয়ে তাৎক্ষণিক ঘাটতি কিছুটা সামাল দেওয়া সম্ভব হলেও উচ্চমূল্য, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং শিল্পের উৎপাদন ব্যয়ের ঝুঁকি থেকেই যাবে। নভেম্বরের পর সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও দেশীয় উৎপাদন ও জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্যময় করার উদ্যোগ ছাড়া এই ঝুঁকির স্থায়ী অবসান হবে না।


আর্থিক খাত সংস্কারসহ ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) একনেকের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

আর্থিক খাত সংস্কারসহ ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১৫ হাজার ৭১২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১০ হাজার ১১৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, বৈদেশিক ঋণ থেকে ৫ হাজার ২১১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৮২ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক বৈঠকে এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন একনেকের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘ইন্টিগ্রেটেড হেলথ সিস্টেম রেসপন্স টু ফাইট এগেইনস্ট টিবি, এইডস অ্যান্ড ম্যালেরিয়া’, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন এবং ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’। এ ছাড়া চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে বিদ্যমান শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণকেন্দ্রের উন্নয়ন, সুসাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদী অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর-ধনিয়া ও মেদুনা এলাকা রক্ষা প্রকল্প রয়েছে।

আরও রয়েছে রংপুর বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ, মাদারীপুর-শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, এসআরবির কারিগরি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, ফেনী জেলার সোনাগাজীতে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণ এবং তিন পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্প। এ ছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের সংশোধনও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।


তহবিল সংকটে ঝুঁকিতে শরণার্থী সহায়তা

* বাংলাদেশের ওপর বাড়তে পারে চাপ * রোহিঙ্গা জনসংখ্যা বাড়ছে, ছোট হচ্ছে সহায়তার পরিসর
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তার অর্থায়ন কমে যাওয়ায় শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য জাতিসংঘের কার্যক্রমে চাপ বাড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ওপরও। কক্সবাজার ও ভাসানচরে আশ্রিত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার খাদ্য, স্বাস্থ্য, আশ্রয়, পানি, পয়োনিষ্কাশন, শিক্ষা ও সুরক্ষার বড় অংশ আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। ফলে দাতাদের অর্থায়ন আরও কমলে রোহিঙ্গাদের জীবনরক্ষাকারী বিভিন্ন কর্মসূচি সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য পরিচালিত সহায়তাও কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ইউএনএইচসিআরের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ‘প্রটেকশন ইরোডেড: দ্য হিউম্যান কস্ট অব আন্ডারফান্ডিং’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থায়নের ঘাটতির কারণে সংস্থাটিকে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন কার্যক্রম সীমিত করতে হচ্ছে। ফলে সুরক্ষা, শিশু সেবা, নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র ও নিবন্ধন কার্যক্রমসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে লাখো মানুষ বঞ্চিত হতে পারেন।

অর্থসংকটের মধ্যে সংস্থাটি ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার নির্ধারণ ও ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্বজুড়ে মানবিক তহবিলের ঘাটতির এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সাড়াদান কর্মসূচিতেও প্রভাব ফেলছে।

ইউএনএইচসিআরের ২০২৬ সালের গ্লোবাল আপিল অনুযায়ী, চলতি বছর সংস্থাটির কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজন ৮ দশমিক ৫০৫ বিলিয়ন ডলার। এই অর্থ বিশ্বের ১২৮টি দেশ ও অঞ্চলে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ও রাষ্ট্রহীন মানুষের সুরক্ষা, জরুরি সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের উদ্যোগে ব্যয় করার কথা। ২০২৬ সালের জন্য সংস্থাটি ১৩ কোটি ৬০ লাখ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ও রাষ্ট্রহীন মানুষের সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েছে।

অর্থায়নের সংকটের কারণে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাকে সীমিত সম্পদের মধ্যে সবচেয়ে জরুরি কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিতে হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে দীর্ঘস্থায়ী শরণার্থী সংকটগুলোর ওপর, যেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ বছরের পর বছর আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সংকটে অর্থায়নের চাপ সবচেয়ে স্পষ্ট হয়েছে যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায়। ২০২৫ সালের পরিকল্পনায় রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীসহ প্রায় ১৪ লাখ ৮০ হাজার মানুষের জন্য ৯৩৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু অর্থায়নের ঘাটতির কারণে অগ্রাধিকারভিত্তিক জীবনরক্ষাকারী কার্যক্রমে গুরুত্ব দিতে হয়েছে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়েই জাতিসংঘ জানিয়েছিল, ওই বছরের পরিকল্পনায় অর্থায়ন ২০ শতাংশেরও নিচে ছিল এবং অর্থের ঘাটতির কারণে মৌলিক সহায়তা ঝুঁকিতে পড়ছিল।

২০২৬ সালে পরিস্থিতি আরও কঠিন। চলতি বছর রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশের আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠী মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ ৬০ হাজার মানুষকে সহায়তার লক্ষ্যে ৭১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে, এটি ২০২৫ সালের আবেদনের তুলনায় ২৬ শতাংশ কম।

অর্থাৎ রোহিঙ্গাদের প্রয়োজন কমে যাওয়ায় অর্থের চাহিদা কমেনি; বরং সীমিত তহবিলের বাস্তবতায় সহায়তার পরিসরকে অগ্রাধিকারভিত্তিক ও ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছে।

২০২৬ সালের ৭১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের আবেদনের বড় অংশই জীবনরক্ষাকারী সেবায় বরাদ্দের জন্য। এর মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তায় ২৪৭ দশমিক ৩ মিলিয়ন, আশ্রয় ও ক্যাম্প ব্যবস্থাপনায় ১২৮ মিলিয়ন, পানি, পয়োনিষ্কাশন ও স্বাস্থ্যবিধিতে ৬১ দশমিক ২ মিলিয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবায় ৪৯ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। শিক্ষা খাতে ৫২ দশমিক ৭ মিলিয়ন এবং জীবিকা ও দক্ষতা উন্নয়নে ৩৫ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়েছে। আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন খাতে ৩৬ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার রাখা হয়েছে।

জাতিসংঘের ২০২৬ সালের পরিকল্পনায় মোট ১ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন মানুষকে প্রয়োজনের মধ্যে বিবেচনা করা হলেও অগ্রাধিকারভিত্তিক পরিকল্পনায় ১ দশমিক ৫৬ মিলিয়ন মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

রোহিঙ্গা শিবিরে আন্তর্জাতিক অর্থায়নে শুধু খাদ্য বিতরণ করা হয় না। স্বাস্থ্যসেবা, বিশুদ্ধ পানি, পয়োনিষ্কাশন, আশ্রয়, শিক্ষা, নারী ও শিশু সুরক্ষা, পুষ্টি, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং জীবিকা উন্নয়নের মতো কার্যক্রমও এর আওতায় রয়েছে।

তহবিল কমে গেলে এসব সেবার সবগুলো একসঙ্গে বন্ধ হয়ে যাবে—এমন নয়। তবে সীমিত অর্থের কারণে কম গুরুত্বপূর্ণ বা দীর্ঘমেয়াদি কিছু কার্যক্রম পিছিয়ে যেতে পারে এবং জীবনরক্ষাকারী কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিতে হতে পারে। এতে শরণার্থীদের পাশাপাশি তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতিসংঘের ২০২৬ সালের পরিকল্পনাতেও কক্সবাজার ও ভাসানচরের রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি উখিয়া ও টেকনাফের আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সহায়তা কমলে ঘাটতির প্রতিটি ডলার বাংলাদেশ সরকারকে সরাসরি বহন করতে হবে—বিষয়টি এমন সরল নয়। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো তাদের অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণ করতে পারে, নতুন অর্থের উৎস খুঁজতে পারে অথবা সীমিত তহবিল সবচেয়ে জরুরি খাতে সরিয়ে নিতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে অর্থায়ন কমতে থাকলে বাংলাদেশের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ চাপ বাড়তে পারে। কারণ রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক অর্থায়নে পরিচালিত স্বাস্থ্য, পানি, স্যানিটেশন ও শিক্ষা কার্যক্রমে সংকোচন হলে সরকারি ও স্থানীয় সেবাব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাহিদা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য পরিচালিত সহায়তা কর্মসূচিও অর্থসংকটে পড়তে পারে।

বাংলাদেশের জন্য সংকটটি আরও জটিল হয়ে উঠেছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের অনিশ্চয়তায়। মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিস্থিতি তৈরি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে তাদের অবস্থান দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

জাতিসংঘও বলছে, রোহিঙ্গা সংকটের সবচেয়ে টেকসই সমাধান হলো নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন। সেই পরিস্থিতি তৈরি না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখা জরুরি।

২০১৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত রোহিঙ্গা সাড়াদান কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রায় ৫ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার মানবিক সহায়তা দিয়েছে। এই অর্থের মাধ্যমে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সুরক্ষাসহ বিভিন্ন জরুরি কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছে।

এখন সেই অর্থায়নের ধারাবাহিকতাই বড় প্রশ্নের মুখে। একদিকে মিয়ানমারে সংঘাতের কারণে নতুন করে রোহিঙ্গা আসার চাপ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মানবিক তহবিল কমছে। ফলে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়িত্ব এবং এর অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।

বৈশ্বিক অর্থসংকটের পুরো বোঝা বাংলাদেশকেই বহন করতে হবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো নির্দিষ্ট হিসাব এখনো নেই। তবে আন্তর্জাতিক সহায়তা দীর্ঘমেয়াদে কমতে থাকলে রোহিঙ্গা শিবিরের সেবা, আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর সহায়তা এবং বাংলাদেশের ওপর সামগ্রিক চাপ—তিন ক্ষেত্রেই নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। প্রত্যাবাসনের পথ অনিশ্চিত থাকা অবস্থায় তাই আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ধরে রাখাই বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ব্যবস্থাপনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।


সন্ত্রাস, দখল ও চাঁদাবাজি নিয়ে ৩৮ বিশিষ্ট নাগরিকের উদ্বেগ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক ও পেশিশক্তির প্রভাব খাটিয়ে ভূমি ও বাড়ি দখল, খাসজমি দখল, হামলা ও চাঁদাবাজির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ জানিয়েছেন ৩৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক। গত কিছুদিন এসব ঘটনা বেড়েছে উল্লেখ করে তারা বলেছেন, ‘এতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রবণতা স্পষ্ট হচ্ছে।’

মঙ্গলবারে (২৯ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এ বিবৃতিতে বলা হয়, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় ভূমি ও বাড়ি দখল, চর ও খাসজমি থেকে ভূমিহীনদের উচ্ছেদ এবং বাড়িঘরে হামলার খবর আসছে। রাজধানীর মিরপুর ১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও তারা উল্লেখ করেন। তাদের ভাষ্য, এরপর রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বেড়িবাঁধ এলাকায় কয়েকশ লোকের হামলা, ভাঙচুর ও জমি দখলের অভিযোগ ওঠে। এ সময় টাকা, জমির দলিলসহ বিভিন্ন মালামাল লুটের অভিযোগও করা হয়। এ ছাড়া ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের কথাও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতিদাতারা বলেন, ‘পটুয়াখালীর চরবাংলা, নোয়াখালীর সদর উপজেলার ভাটিরটেক ও চরফ্যাশন, ভোলার চরসহ আরও নানা স্থানে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সন্ত্রাসীরা চরে বসবাসরত ভূমিহীনদের উচ্ছেদ করে জমি দখলের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। জমিতে থাকা ফসলও তারা রাতের অন্ধকারে লুট করে নিয়ে যায়। এ ছাড়া ছিনতাইয়ের ঘটনা ঢাকা মহানগরসহ সব বড়-ছোট শহরে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে শিশুধর্ষণ ও নারীবিরোধী সহিংসতা। পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো কোনো এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করে সাবধানে চলাচল করার কথা বলা হয়েছে। এসবই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক অবনতির ইঙ্গিত দেয়।’

তারা বলেন, ‘জনমনের দৃঢ় বিশ্বাস এসব ঘটনা শুধু সন্ত্রাসী কার্যক্রমই নয়। এর সঙ্গে শাসক দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী মহল, পতিত সরকারের সশস্ত্র অনুসারী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাংশ সরাসরি জড়িত, যা সারাদেশে মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ঘটনার অবশ্যই দ্রুত উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তি, গোষ্ঠী এবং তাদের দেশে-বিদেশে মদদদাতা ও পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’

বিবৃতিদাতারা বলেন, ‘অভিযোগ রয়েছে অনেক স্থানেই সন্ত্রাসী ঘটনার সঙ্গে শাসক দলের কোনো না কোনো পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততা থাকায় পুলিশ সঠিক সময়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না।’

বিবৃতিতে বলা হয়, এসব ঘটনায় শুধু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নয়, সামগ্রিকভাবে সরকারের এর জবাবদিহি করার দায় রয়েছে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন সুলতানা কামাল, আনু মুহাম্মদ, খুশী কবির, শিরীন পারভিন হক, ইফতেখারুজ্জামান, আবু সাঈদ খান, জেড আই খান পান্না, সারা হোসেন, শাহীন আনাম, শহিদুল আলম, স্বপন আদনান, শামসুল হুদা, সামিনা লুৎফা, সুমাইয়া খায়ের, গীতি আরা নাসরীন, জোবাইদা নাসরীন, তাসনিম সিরাজ মাহবুব, নোভা আহমেদ, ফিরদৌস আজিম, রেহনুমা আহমেদ, সাঈদ ফেরদৌস, সুব্রত চৌধুরী, নায়লা খান, মো. নূর খান, পাভেল পার্থ, ঈশিতা দস্তিদার, মনিন্দ্র কুমার নাথ, রোজিনা বেগম, জাকির হোসেন, সাইদুর রহমান, সালেহ আহমেদ, রেজাউল করিম চৌধুরী, শাহেদ কায়েস, মিঠুন রাকসাম, সাঈদ আহমেদ, দীপায়ন খীসা, হানা শামস আহমেদ ও মুক্তাশ্রী চাকমা।


আইজিপির সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদলের প্রধান ও রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সৌহার্দ্যপূর্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার প্রশংসা করেন ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলার।

সাক্ষাতে বাংলাদেশ পুলিশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে পুলিশের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা, তদন্ত কার্যক্রমের সক্ষমতা বাড়ানো এবং ফরেনসিক ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি, তথ্য বিনিময় এবং আইনগত সহযোগিতার বিষয়েও উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে অপরাধের ধরনও পরিবর্তিত হওয়ায় সাইবার অপরাধ দমনে আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ ও মানবপাচার প্রতিরোধের পাশাপাশি অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে জেন্ডার সংবেদনশীল পুলিশিং নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বাংলাদেশ পুলিশকে আধুনিক, পেশাদার, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে আরও সক্ষম করে তুলতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কারিগরি সহায়তা ও দক্ষতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ বিনিময়, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং প্রাতিষ্ঠানিক পরামর্শের মাধ্যমে পুলিশের টেকসই সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

ভবিষ্যতে বাংলাদেশ পুলিশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে। বিশেষ করে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও দক্ষতা বিনিময়ের মাধ্যমে পুলিশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সক্ষমতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সাক্ষাৎকালে পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে এবার ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ রাশেদ খাঁনের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক নারী শিক্ষার্থীর ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন। তিনি দাবি করেছেন, ওই অভিযোগের পর তৎকালীন ছাত্র ফেডারেশনের নেতারা তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর পাটওয়ারীকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খাঁন এসব দাবি করেন। তাঁর পোস্টের তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযোগের কথা প্রকাশিত হয়েছে।

রাশেদ খাঁন তাঁর পোস্টে দাবি করেন, ছাত্র ফেডারেশনে থাকা অবস্থায় ২০১৯ সালে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে ঢাবির এক নারী শিক্ষার্থীর ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ ওঠে। ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্র ফেডারেশনের তৎকালীন দায়িত্বশীল নেতারা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

তাঁর দাবি, তদন্ত কমিটি বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে অভিযোগের সত্যতা পায়। এরপর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ছাত্র ফেডারেশন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।

রাশেদ খাঁন আরও দাবি করেন, সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত অনেকেই বিষয়টি সম্পর্কে জানতেন। ল্যাপটপ চুরির অভিযোগে বহিষ্কৃত হওয়ার পর পাটওয়ারী কিছু সময় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। পরে এবি পার্টিতে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি আবার রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হন বলে দাবি করেন রাশেদ।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এবি পার্টির নেতাকর্মীরা পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে ওঠা ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ সম্পর্কে জানতেন না। জানলে তাঁরা তাঁকে দলে নিতেন কি না—এ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

পোস্টের শেষাংশে রাশেদ খাঁন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে আরও একটি চুরির অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে রাজনৈতিক সমালোচনা করেন এবং তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে অতীতের অভিযোগের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এ অংশে তিনি পাটওয়ারীকে ‘ল্যাপটপ চোর’ ও ‘ছাগলচোর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

তবে রাশেদ খাঁনের পোস্টে উল্লেখ করা অভিযোগের বিষয়ে ছাত্র ফেডারেশনের তৎকালীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন, বহিষ্কারের লিখিত সিদ্ধান্ত বা সংশ্লিষ্ট নারী শিক্ষার্থীর বক্তব্যের কোনো নথি প্রকাশ্যে দেওয়া হয়নি। ফলে অভিযোগটি রাশেদ খাঁনের দাবি হিসেবেই উপস্থাপন করা হচ্ছে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এ অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিয়েছেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।


উন্নয়ন প্রকল্পে পরামর্শক ব্যয় কমানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) পরামর্শক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো এবং যৌক্তিক কারণ ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে জবাবদিহির আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করলে সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা এবং তা কঠোরভাবে যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এসব তথ্য জানান। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ডিপিপিতে থাকা পরামর্শক ব্যয় পর্যালোচনা করে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অনুমোদিত সময়সীমা ও বাজেটের মধ্যে চলমান ও নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

তিনি বলেন, যৌক্তিক কারণ ছাড়া কোনো প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো যাবে না। মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন হলে বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে হবে। এসব কারণ কঠোরভাবে যাচাই করা হবে। যথাযথ কারণ ছাড়া প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর ফলে বিলম্ব হলে দায়ী কর্মকর্তা ও বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

প্রকল্প গ্রহণের আগে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যমান চর্চা নিয়েও নতুন করে ভাবার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে সম্ভাব্যতা যাচাই না করে তা পর্যাপ্ত গভীরতা ও কারিগরি নির্ভুলতার সঙ্গে করতে হবে।

এর ফলে পরবর্তী সময়ে প্রকল্পের নকশা পরিবর্তন, ব্যয় বৃদ্ধি ও বাস্তবায়ন জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

যশোর, সৈয়দপুর ও রাজশাহী শাহ মখদুম বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে প্রক্রিয়াগত অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এসব বিমানবন্দরের রানওয়ে উন্নয়ন প্রকল্পটি সরকারের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের তালিকাতেও রয়েছে।

জোনায়েদ সাকি বলেন, ২০২৩ সালে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিজিপি) যে বাজেট সমন্বয় করেছিল, তা যথাসময়ে ডিপিপিতে প্রতিফলিত হয়নি। এ কারণেই বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) ইতোমধ্যে আটটি প্রকল্পের তদন্ত প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দিয়েছে। আরও চারটি প্রকল্পের প্রতিবেদন শিগগিরই জমা দেওয়া হবে। এসব প্রতিবেদন প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পাঠানো হচ্ছে।

আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, রংপুর বিভাগের গ্রামীণ এলাকায় সড়ক, কালভার্ট ও সেতু নির্মাণে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার একটি অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

এ ছাড়া ডিজিটাল শাসন ও আর্থিক তদারকি জোরদারে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটির অধীনে আটটি গুরুত্বপূর্ণ অটোমেশন উদ্যোগ সমন্বয়ের কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি), সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা (আইবাস++), বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান নম্বর, ওয়ান ওয়ালেট’–সংক্রান্ত অটোমেশন ব্যবস্থা।

জোনায়েদ সাকি বলেন, এসব ডিজিটাল ব্যবস্থার মধ্যে আন্তঃকার্যক্ষমতা নিশ্চিত করা গেলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা বিতরণে মানুষের হস্তক্ষেপ কমবে এবং ব্যাংকিং খাতে ডিজিটাল তদারকি আরও জোরদার হবে। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ (এনপিএল) ও আর্থিক অনিয়ম প্রতিরোধে নজরদারি বাড়াতেও এসব উদ্যোগ সহায়ক হবে।


বিরোধীদলসহ সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই সংবিধান সংশোধন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই সনদে দেওয়া নোট অব ডিসেন্টের বিষয়ে যদি বিরোধীদল পরিবর্তন আনতে চায়, সেটাও আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিরোধীদলসহ সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই সংবিধান সংশোধন করা হবে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এ আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদে যেসব বিষয়ে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে, সেগুলো নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে বিশেষ কমিটিতে এসে খোলামেলা আলোচনা করা যেতে পারে।’

সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের জন্য বিরোধীদলকে কমিটিতে সদস্য দেয়ার আহ্বানও জানান তিনি। এর আগে, সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটি জানিয়েছিল, জুলাই জাতীয় সনদই তাদের কাজের প্রধান ভিত্তি। সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যে আসা প্রস্তাবের পাশাপাশি ভিন্নমতও বিবেচনায় রাখার কথা জানিয়েছে কমিটি।

বিরোধীদলের জন্য কমিটিতে সদস্য থাকার সুযোগ রাখা হলেও তারা এখনো সদস্যের নাম দেয়নি বলে কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অধ্যাপক আলী রিয়াজের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে যারা সংলাপে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের সবার কাছ থেকেও মতামত নেয়া হবে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অংশীজনের মতামত নিয়ে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব তৈরির কাজ এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।


সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির ১ম বৈঠক অনুষ্ঠিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির ১ম বৈঠক মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহমেদ অপু, হুইপ মোঃ আখতারুজ্জামান মিয়া, মোছাঃ তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া এবং মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) ও এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় বিভিন্ন সময়ে পেট্রোলিয়াম পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি এবং মূল্য সমন্বয়ের কারণ, মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার উপায় এবং মূল্য হ্রাস-বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল পিএলসি’র ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশে জ্বালানি সংকট সৃষ্টির কারণ এবং জ্বালানী সরবরাহ ব‌্যবস্থা সংকটকালীন ও পরবর্তীতে একই থাকার পরেও শুধু জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির ফলে কিভাবে সংকটের অবসান হয়েছে, সে বিষয়ে বৈঠকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের নিকট ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

এ সময় দেশের বর্তমান জ্বালানি চাহিদা, জ্বালানি সংরক্ষণের সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানের প্রস্তুতি সম্পর্কে পরবর্তী বৈঠকে কমিটিকে বিস্তারিত তথ্য প্রদানের জন্য সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে জনগণের জন্য জ্বালানির মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও উপস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের কর্মকর্তাগণ এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়, মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।


banner close