মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৭ আশ্বিন ১৪৩৩
৭১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ

স্ত্রীসহ সাবেক চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

৮টি ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনক লেনদেন ২৩২ কোটি টাকা
সাবেক চিফ হুইপ ও মাদারীপুর-১ আসনের সাবেক এমপি নূর -ই-আলম চৌধুরী লিটন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
২৪ মার্চ, ২০২৫ ২১:২১
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২৪ মার্চ, ২০২৫ ১৬:৪৬

৭১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক চিফ হুইপ ও মাদারীপুর-১ আসনের সাবেক এমপি নূর -ই-আলম চৌধুরী লিটন ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এছাড়া তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও নিজ নামে ৮টি ব্যাংক হিসাবে ৩৩২ কোটি ১১ লাখ ৮০ হাজার ২৪০ টাকা সন্দেহজনক লেনদেনেরও অভিযোগ পেয়েছে সংস্থাটি।

আজ সোমবার রাজধানীর সেগুন বাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, সাবেক চিফ হুইপ ও মাদারীপুর-১ আসনের সাবেক এমপি নূর-ই-আলম চৌধুরী ক্ষমতার অপব্যবহার করে অসাধু উপায়ে অর্জিত জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে সঙ্গতিবিহীন ৫৭ কোটি ৪৯ লাখ ৭ হাজার ৭৯৮ টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জন করে ভোগদখলে রাখে এবং তার নামে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান খুলে ওই প্রতিষ্ঠান এবং নিজ নামে ৮টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ৩৩২ কোটি ১১ লাখ ৮০ হাজার ২৪০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা তৎসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় একটি মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এছাড়া নূর-ই-আলম চৌধুরীর স্ত্রী জিনাত পারভীন চৌধুরী তার স্বামীর ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং স্বামীর প্রভাব ও আর্থিক সহায়তায় ১৩ কোটি ৮১ লাখ ৬০ হাজার ৩০৯ টাকার জ্ঞাত আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের মালিকানা অর্জন করে ভোগদখলে রাখায় জিনাত পারভীন চৌধুরী ও তার স্বামী নূর-ই-আলম চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় একটি মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, নূর-ই-আলম চৌধুরী ১৯৯১ সালে সংসদের উপ-নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত্র স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এই সংসদে তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় সম্পকিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সংসদের হুইপ এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি ২০১৪ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং তিনি অনুমিত হিসাব কমিটির সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের সচিব, সংসদ কমিটি, সংসদীয় সভাপতি এবং বেসরকারী সদস্যদের বিল ও বেসরকারী সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।


জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ)-এর ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্ক পৌঁছেছেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ)-এর ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন।

ইস্তাম্বুলে সংক্ষিপ্ত যাত্রা বিরতির পর প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে বহনকারী টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট স্থানীয় সময় সোমবার বিকেল ৬টা ২০ মিনিটে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি বাসস’কে এ কথা জানিয়েছেন।

বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে মোটরশোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রীকে ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বিএনপি নেতা-কর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলের সামনে ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন হাতে মিছিল এবং স্লোগান দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীও হাসিমুখে হাত নেড়ে নেতা-কর্মীদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।

নিউইয়র্ক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলেই অবস্থান করবেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ছাড়াও সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ ইসলাম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

এদিকে, ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, মিশিগান, জর্জিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশ থেকে আসা নেতাকর্মীসহ নিউইয়র্কস্থ বিএনপি নেতা-কর্মীরা দুপুর থেকেই তাদের প্রিয় নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আশপাশের এলাকায় ভিড় জমাতে থাকেন।

এ সময় তারা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন হাতে নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। মাঝেমধ্যে স্লোগান ধরেন-‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’।

নেতাকর্মীরা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শুধু একটি প্রটোকলভিত্তিক সমাবেশ নয়, বরং বৈশ্বিক নীতিনির্ধারক ও মার্কিন মহলের সামনে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরার এক উন্মুক্ত মঞ্চ।

আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। তাঁর ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট এবং বহুমুখী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংস্কার প্রাধান্য পাবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি:

২২ সেপ্টেম্বর:

এদিন সকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদর দফতরে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে স্বাগত প্রাতরাশে যোগ দেবেন। এরপর তিনি অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে এবারের অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এদিন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গ এবং হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ার ফিলস-আইমে’র সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।

এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক এবং মেটা প্ল্যাটফর্মসের প্রধান বৈশ্বিক বিষয়াবলি কর্মকর্তা জোয়েল কাপলানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ হবে।

সন্ধ্যায় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাঁদের সহধর্মিণীদের সম্মানে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

২৩ সেপ্টেম্বর:

প্রধানমন্ত্রী এদিন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধির সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে মতবিনিময় করবেন। তিনি রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়া ‘জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন।

তিনি এদিন ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। বোয়িং গ্লোবাল-এর প্রেসিডেন্ট ড. ব্রেন্ডন নেলসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

২৪ সেপ্টেম্বর:

প্রধানমন্ত্রী এদিন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হুমকি বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় প্রারম্ভিক বক্তব্য প্রদান করবেন। এরপর তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। এছাড়া মাতৃ ও নবজাতকের প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু রোধ সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে প্রারম্ভিক বক্তব্য দেবেন। তিনি এদিন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের সাথেও বৈঠক করবেন।
নিউইয়র্ক সময় বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে (সময় পরিবর্তন হতে পারে)। তাঁর জন্য বরাদ্দকৃত সময় ১৫ মিনিট।

এরপর রাতে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে নৈশভোজে অংশগ্রহণ করবেন।

২৫ সেপ্টেম্বর:

জেপিমরগান হেডকোয়ার্টার্সে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সাথে প্রাতরাশ বৈঠকে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এদিন কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহ’র সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।

তিনি ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট প্রিন্স জাইদ আল হুসেইনের সাথে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন। পরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতাদের সাথে মতবিনিময় করবেন।

রাত ১১ টায় (নিউইয়র্ক সময়) এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে প্রধানমন্ত্রী আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বাবা-মায়ের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ অনন্য নজির স্থাপন করেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনীতিতে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র: বাসস


দাম বাড়লেও থাকছে বড় ভর্তুকি

* পাচার রোধে সহায়ক হবে নতুন মূল্য * বড় প্রকল্পও এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ *পরিবহন খাতেও নিয়ন্ত্রিত সমন্বয়ের উদ্যোগ * মূল্য সমন্বয় ছাড়া বিকল্প ছিল না: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী 
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক    

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় দেশের জ্বালানি খাতে আর্থিক চাপ সামাল দিতে মূল্য সমন্বয় করেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্তে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য—বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসান কমানো, জ্বালানি আমদানির অর্থায়ন নিশ্চিত করা, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমানো এবং দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা।

নতুন দরে ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও আমদানি ব্যয় বাড়লেও দীর্ঘ সময় দেশে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত ছিল। এতে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিপিসির প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। প্রতি মাসে গড়ে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা।

এক বছরে আমদানি ব্যয় বেড়েছে ১০৭ শতাংশ: দেশের জ্বালানি খাতে আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ কতটা বেড়েছে, তা আমদানি ব্যয়ের পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। গত অর্থবছরে বিপিসি রেকর্ড ১০ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি তেল আমদানি করেছে। আগের অর্থবছরে এই ব্যয় ছিল ৫ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে আমদানি ব্যয় বেড়েছে ১০৭ শতাংশ।

বর্তমানে দেশের মোট পণ্য আমদানি ব্যয়ের ১৪ শতাংশের বেশি জ্বালানি খাতে ব্যয় হচ্ছে। শুধু আগস্ট মাসেই শুল্ক, কর ও পরিচালন ব্যয় বাদ দিয়ে বিপিসির জ্বালানি আমদানি ব্যয় হয়েছে ৭ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা। এক বছর আগে একই সময়ে এ ব্যয় ছিল ২ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের হিসাবে, মূল্য সমন্বয় না করলে শুধু ডিজেলেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত লোকসান বা ভর্তুকির প্রয়োজন হতে পারে। সব ধরনের জ্বালানি মিলিয়ে সম্ভাব্য চাপ প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

নতুন মূল্য সমন্বয়ের ফলে বছরে বিপিসির লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত কমানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।

দাম বাড়ার পরও বড় ভর্তুকি: জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম বেশি থাকায় মূল্য সমন্বয়ের পরও সরকারকে প্রতি লিটারে প্রায় ৭০ টাকা ভর্তুকি দিতে হবে। অর্থাৎ নতুন মূল্য নির্ধারণের পরও আন্তর্জাতিক বাজারের পুরো ব্যয় ভোক্তার ওপর চাপানো হয়নি।

প্রতিমন্ত্রীর মতে, মূল্য সমন্বয় ছাড়া বিপিসির ক্রমবর্ধমান লোকসান সামাল দেওয়ার বিকল্প ছিল না। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভর্তুকির চাপ কমিয়ে সেই অর্থ সামাজিক সুরক্ষা, সরকারি সেবা ও অন্যান্য অগ্রাধিকার খাতে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।

উন্নয়ন তহবিল থেকে নেওয়া হয়েছে ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা: বাড়তি আমদানি ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে মূল্য সমন্বয়ের পাশাপাশি সরকারি ভর্তুকি ও বিকল্প অর্থায়নের ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। জ্বালানি আমদানির অর্থ পরিশোধে বিপিসি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য সংরক্ষিত তহবিলের একটি অংশ ব্যবহার করেছে।

বিপিসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য রাখা তহবিল থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যবহার করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের জন্য সংরক্ষিত মোট তহবিল ছিল প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা। অর্থ ব্যবহারের পর প্রকল্পগুলোর হিসাবে অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ১ হাজার ৬৭৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

তবে কর্মকর্তারা বলছেন, জ্বালানি তেল বিক্রির আয় ও সরকারি ভর্তুকি পাওয়ার পর এসব তহবিল পুনর্গঠন করা সম্ভব হবে। ফলে জরুরি আমদানি সচল রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন অব্যাহত রাখার সুযোগ থাকবে।

পাচার রোধেও কাজে আসবে নতুন দাম: জ্বালানি বিভাগের আরেকটি যুক্তি হলো, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে দীর্ঘদিন জ্বালানি তেলের দাম কম থাকায় পাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। নতুন মূল্য সমন্বয়ের ফলে এ দামের ব্যবধান অনেকটাই কমেছে।

সরকারের দেওয়া হিসাবে, বাংলাদেশি মুদ্রায় কলকাতায় ডিজেলের দাম প্রায় ১৩৪ টাকা, মিয়ানমারে ১৬৫ টাকা, নেপালে ১৬১ টাকা এবং শ্রীলঙ্কায় প্রায় ১৭৯ টাকা। বাংলাদেশে নতুন দরে ডিজেল বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকায়।

ফলে সীমান্তবর্তী দেশগুলোর সঙ্গে দামের বড় ব্যবধান না থাকায় দেশের জ্বালানি দেশের বাজারেই ব্যবহারের সুযোগ বাড়বে এবং অবৈধ পাচারের ঝুঁকি কমতে পারে বলে আশা করছে সরকার।

জ্বালানি আমদানিতে নতুন ঋণ: বিপিসির হাতে বর্তমানে জ্বালানি আমদানির জন্য প্রায় ১২ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা রয়েছে। সেপ্টেম্বরের আমদানি ব্যয় পরিশোধের পর এ অর্থ আরও কমবে। এ অবস্থায় জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারি ভর্তুকি, নিজস্ব তহবিল ও বৈদেশিক অর্থায়নের সমন্বয়ে অর্থ জোগানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

আগামী অর্থবছরের জ্বালানি আমদানির অর্থায়নে ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইআইটিএফসি) থেকে ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ অর্থ পাওয়া গেলে জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানির অর্থায়নের চাপ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বড় প্রকল্পও চালু রাখার উদ্যোগ: জ্বালানি আমদানির পাশাপাশি বিপিসির উন্নয়ন প্রকল্পগুলোও চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এলপিজি ট্যাংক স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণে প্রায় ৫২৪ কোটি টাকা এবং সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) প্রকল্পের ঋণ পরিশোধে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ৬৯০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।

এ ছাড়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। নতুন অর্থায়ন ব্যবস্থা কার্যকর হলে এসব প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

পরিবহন ভাড়া সমন্বয়ের উদ্যোগ: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রভাব পরিবহন খাতেও পড়ছে। এ কারণে বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাস মালিকেরা কিলোমিটারপ্রতি ৪০ পয়সা বাড়ানোর দাবি করলেও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সিটি সার্ভিসে ১৮ পয়সা এবং দূরপাল্লার বাসে ২০ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।

সর্বনিম্ন ভাড়া বাসে ১০ টাকা এবং মিনিবাসে ৮ টাকা অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিআরটিএর সুপারিশ সরকারের কাছে যাবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।

রিজভীর বক্তব্যেও উঠে এসেছে বিশ্ববাজারের প্রসঙ্গ: জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও আন্তর্জাতিক বাজারের দামের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বিশ্ববাজারের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম এখনো কম। তার বক্তব্য অনুযায়ী, মূল্য সমন্বয়ের পরও সরকারকে প্রতি লিটারে প্রায় ৭০ টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।

তার বক্তব্যেও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সংগ্রহের বাড়তি ব্যয় এবং দেশে ভর্তুকি অব্যাহত রাখার বিষয়টি উঠে এসেছে।

সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে সরকার একদিকে মূল্য সমন্বয় করেছে, অন্যদিকে ভর্তুকি, নিজস্ব তহবিল ও বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে আমদানির অর্থায়ন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে উন্নয়ন তহবিল পুনর্গঠন, পাচার নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবহন ভাড়া সমন্বয়ের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে বিপিসির লোকসান ও আর্থিক চাপ কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রাখা এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহ নিরাপত্তা ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।


একটি ‘গুরুতর মানবিক সংকট’ রোহিঙ্গা ইস্যু: ড. খলিলুর রহমান

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:৫১
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সংঘাত বা সহিংসতা দিয়ে কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; কেবল আলোচনা ও কূটনৈতিক পথেই এর স্থায়ী সমাধান মিলবে জানিয়ে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান রোহিঙ্গা সংকটকে একটি ‘গুরুতর মানবিক সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

​জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ ‘হাই-লেভেল উইক’ শুরুর প্রাক্কালে ‘জাতিসংঘ নিউজ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খলিলুর রহমান এসব কথা বলেন।

খলিলুর রহমান বলেন, সহিংসতা সমস্যাকে সমাধান করে না, বরং দীর্ঘায়িত ও আরও ভয়াবহ করে তোলে। রোহিঙ্গারা নিজ দেশে চরম নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তবে এত কষ্টের পরও তাদের টিকে থাকার ক্ষমতা এবং নিজ ভিটায় ফিরে যাওয়ার আকুতি প্রশংসনীয়।

খলিলুর রহমান জানান, সাধারণ পরিষদ বিশ্বনেতাদের একত্রিত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমাধান খোঁজার এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম। তার এক বছরের মেয়াদে প্রধান লক্ষ্য—জাতিসংঘের প্রতি বিশ্ববাসীর ‘আস্থা পুনরুদ্ধার করা’। একই সঙ্গে জাতিসংঘের প্রয়োজনীয় সংস্কার, আর্থিক স্থায়িত্ব এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সঠিক নিরাপত্তা নীতিমালা তৈরির ওপর জোর দেন তিনি।

খলিলুর রহমান জানান, তার সভাপতির মেয়াদ শেষে উত্তরসূরির হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার আগে তিনি তিনটি ক্ষেত্রে অগ্রগতি দেখতে চান—জাতিসংঘের প্রয়োজনীয় সংস্কারে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে একমত করা। সংস্থাকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও দ্রাব্যতা নিশ্চিত রাখা। স্থানীয় পর্যায়ে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়নে গতি আনা।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ নিয়ে ড. খলিলুর রহমান বলেন, এই প্রযুক্তি মানবজাতির অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করতে পারে, আবার মারাত্মক ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। ​তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমাদের উদ্ভাবনের গতি থামানো যাবে না, তবে প্রযুক্তির সুরক্ষায় অবশ্যই উপযুক্ত নীতিমালা ও ‘গার্ডরেইল’ তৈরি করতে হবে। সরকারগুলোর পাশাপাশি প্রযুক্তির বিকাশ ও ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত সকল অংশীদারকে এই নিরাপত্তামূলক নীতিমালা তৈরির আলোচনায় যুক্ত হতে হবে।

​এদিকে, বর্তমানে বাংলাদেশে ১৩ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশ আয়োজিত একটি বিশেষ ইভেন্টে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো সহযোগিতা আহ্বান করবেন বলে জানা গেছে।


ইস্তাম্বুলের বিরতি শেষে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি শেষে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীদের বহনকারী তুর্কি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর ছাড়ে।

এর আগে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সকাল ৬টা ৫ মিনিটে ফ্লাইটটি ছেড়ে প্রায় ৮ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট পর তুরস্কের স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে দুই ঘণ্টা ৩৫ মিনিট যাত্রাবিরতি করেন প্রধানমন্ত্রী। নিউইয়র্ক সময় বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে ফ্লাইটটির জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে।

নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। পরে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে তাঁকে নিউইয়র্কের হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক হোটেলে নেওয়া হবে। সফরকালে তিনি সেখানেই অবস্থান করবেন।

নিউইয়র্কে পৌঁছে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে। সকালে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের স্বাগত প্রাতঃরাশে অংশ নেবেন তিনি। এরপর অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দেবেন। সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাঁদের সহধর্মিণীদের সম্মানে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

২৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠকে মতবিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেনের আয়োজনে বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলাবিষয়ক সভায় বক্তব্য দেবেন। একই দিন জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও অংশ নেবেন।

সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ২৪ সেপ্টেম্বর। ওই দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দেবেন। এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয় গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কার নিয়েও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন তিনি।

২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলায় আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, লস অ্যান্ড ড্যামেজ ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয়ে দেশের অবস্থান তুলে ধরবে।

জাতিসংঘ অধিবেশনের পাশাপাশি বাংলাদেশের আয়োজনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাইড ইভেন্টে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক সাইড ইভেন্টে তিনি রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাইবেন। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদারের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।

২৪ সেপ্টেম্বর মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক আরেকটি সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। সেখানে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরার পাশাপাশি দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ধাত্রীসেবার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে।

ইউএনজিএ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি দেশের শীর্ষ নেতার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। কর্মসূচির মধ্যে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক রয়েছে।

এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থী ও মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের কর্মসূচিও রয়েছে।

সফরে অর্থনৈতিক কূটনীতিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ওয়াল স্ট্রিট, মেটা এবং আরও কয়েকটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

এসব আলোচনায় বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, উৎপাদন, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনা, দক্ষতা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং তরুণদের জন্য মানসম্পন্ন কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ২৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নিউইয়র্ক সফর করছে। ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ১১টায় নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটসের ফ্লাইটে তাঁর ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম অংশগ্রহণ হওয়ায় বাংলাদেশের জন্য সফরটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।


অপদার্থকে বিদ্যুৎমন্ত্রী বানানো হয়েছে: জামায়াত আমির

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংকট চলছে দাবি করে সরকারের সমালোচনা করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিদ্যুৎ সংকট নেই—বিদ্যুৎমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘একজন অপদার্থ মানুষকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী বানিয়ে রাখা হয়েছে।’

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড়ে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের অংশ হিসেবে আয়োজিত পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

বিদ্যুৎ সংকটের প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, বগুড়ার পাশের জেলা সিরাজগঞ্জ এবং বিদ্যুৎমন্ত্রীর বাড়ি সেখানে। তাঁর দাবি, মন্ত্রী দেশে লোডশেডিং বা বিদ্যুতের ঘাটতি নেই বলে মন্তব্য করেছেন। গ্রামে বিদ্যুতের তার দীর্ঘ হওয়ায় ঠিকমতো বিদ্যুৎ পৌঁছায় না—মন্ত্রী এমন ব্যাখ্যাও দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

শফিকুর রহমান এ বক্তব্যের সমালোচনা করে এটিকে ‘অবাস্তব’ ও ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংকট থাকার পরও তা অস্বীকার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।

বর্তমান সরকারের কাছে জনগণের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, বিরোধী দলগুলো নতুন কোনো দাবি নিয়ে রাজপথে নামেনি। অতীতে বিএনপির নেতারাও ‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে’ স্লোগান দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শফিকুর রহমানের দাবি, সরকার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যর্থ হওয়ায় ১১ দলীয় ঐক্যকে লংমার্চে নামতে হয়েছে। ‘জনগণের সঙ্গে প্রতারণা না করলে আমাদের লংমার্চের জন্য রাস্তায় নামার প্রয়োজন হতো না’—বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সরকারের দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, সরকার গঠনের সাত মাস পার হলেও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হয়নি।

তাঁর অভিযোগ, দুর্নীতি দমন এবং এক কোটি তরুণের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বরং তাঁর দাবি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বেড়েছে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো পৃথক পরিসংখ্যান বা নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেননি; বক্তব্যগুলো তাঁর রাজনৈতিক সমালোচনা ও দাবি হিসেবে এসেছে।

কৃষকদের দুর্ভোগের কথাও তুলে ধরেন শফিকুর রহমান। তাঁর দাবি, কৃষকেরা সময়মতো সার পাচ্ছেন না এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘একদিকে বিদ্যুৎ মেলে না, অন্যদিকে ডাবল-ট্রিপল বিল এনে সাধারণ মানুষের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’ বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সারের সংকটকে তিনি পরস্পর সম্পর্কিত সমস্যা হিসেবে তুলে ধরেন।

বগুড়ার পথসভায় অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায়ের দাবিতে রাজপথে নেমেছে। তাঁর দাবি, লংমার্চের কারণে সরকারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস-সার সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি-দখলদারি বন্ধ এবং প্রশাসনে দলীয়করণ বন্ধ—এসব দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য কর্মসূচি পালন করছে।

এর আগে একই লংমার্চের বিভিন্ন পথসভায় শফিকুর রহমান সতর্ক করে বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের আট দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে তা যেকোনো সময় এক দফার আন্দোলনে পরিণত হতে পারে।

বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড়ের পথসভায় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বড় উপস্থিতি ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। লংমার্চটি ঢাকা থেকে রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে এবং পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে সিরাজগঞ্জ অতিক্রমের সময় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ‘এক দফা’ স্লোগান শোনার কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য, ওই স্লোগান দেশের মানুষের আন্দোলনের প্রতি সমর্থনের প্রতিফলন। তবে এটি তাঁর নিজস্ব বর্ণনা; এর মাধ্যমে বৃহত্তর জনমতের প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণ করা যায় না।


দেশের প্রতি ১০০ শিক্ষিত তরুণের ৩৬ জনই বেকার: আইএমএফ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ৩৬ শতাংশ। অর্থাৎ, চাকরির বাজারে প্রবেশ করা প্রতি ১০০ জন উচ্চশিক্ষিত তরুণের মধ্যে প্রায় ৩৬ জনই বেকার থাকছেন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

আইএমএফের হিসাবে, দেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের হার সামগ্রিক যুব বেকারত্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সি তরুণদের নিয়ে করা বিশ্লেষণে সামগ্রিক যুব বেকারত্বের হার প্রায় ১০ শতাংশ।

আইএমএফের ‘ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ সাময়িকীর সেপ্টেম্বর সংখ্যায় এ গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এশিয়ায় যুব বেকারত্ব নিয়ে করা গবেষণায় সংস্থাটি বলেছে, পুরো এশিয়াজুড়েই তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশি। তবে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে এ হার সবচেয়ে বেশি।

দক্ষিণ এশিয়ার তিন দেশের মধ্যে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি শ্রীলঙ্কায়—প্রায় ৪৩ শতাংশ। এরপর ভারতে প্রায় ৪২ শতাংশ এবং বাংলাদেশে প্রায় ৩৬ শতাংশ। তুলনামূলকভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশিরভাগ দেশে এ হার এ তিন দেশের চেয়ে কম।

ভারতে সামগ্রিক যুব বেকারত্বের হার ১৮ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় প্রায় ২২ শতাংশ। অর্থাৎ, এ দুই দেশেও সামগ্রিক যুব বেকারত্বের তুলনায় উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের হার বেশি।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের হার ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ১৮ শতাংশ, ভিয়েতনামে ১৬ শতাংশ, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে ১৩ শতাংশ এবং ফিলিপাইনে ১২ শতাংশ। সিঙ্গাপুরে এ হার তুলনামূলকভাবে কম, প্রায় ৮ শতাংশ।

আইএমএফ এ পরিস্থিতিকে ‘গ্র্যাজুয়েট গ্লাট’ বা উচ্চশিক্ষিত গ্র্যাজুয়েটের আধিক্য হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন বলেন, উচ্চশিক্ষিত তরুণেরা তাদের যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চাকরি খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছেন।

আইএমএফ আরও বলেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির দ্রুত ব্যবহার এমন অনেক প্রাথমিক পর্যায়ের প্রযুক্তিনির্ভর পদকে প্রতিস্থাপন করছে, যেসব পদ এতদিন নতুন গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করত। এর মধ্যে জুনিয়র প্রকৌশলী, অ্যানিমেটর ও প্রশাসনিক কর্মীদের মতো পদ রয়েছে।


লিটারে ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়ল তরল দুধের দাম

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটার পর এবার দেশের বেসরকারি ডেইরি কোম্পানিগুলোও প্যাকেটজাত তরল দুধের দাম লিটারে সর্বোচ্চ ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কোম্পানিভেদে বর্তমানে প্রতি লিটার প্যাকেটজাত তরল দুধ ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর আধা লিটারের দুধের প্যাকেটের জন্য ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত।

এর আগে গত আগস্ট মাসের শুরুর দিকে পাস্তুরিত তরল দুধের দাম লিটারে ১০ টাকা বাড়িয়েছিল মিল্কভিটা। সে সময় খুচরা পর্যায়ে প্রতি লিটার মিল্কভিটা দুধের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১১০ টাকা। পাশাপাশি ব্র্যান্ডটির ৫০০ মিলিলিটারের (আধা লিটার) স্ট্যান্ডার্ড লো-ফ্যাট দুধের দাম পাঁচ টাকা বাড়িয়ে ৬০ টাকা এবং আধা লিটার টোন্ড মিল্কের দাম পাঁচ টাকা বাড়িয়ে ৫৫ টাকা করা হয়। মিল্কভিটার মূল্যবৃদ্ধির প্রায় দেড় মাসের মাথায় বাজারে সক্রিয় আড়ং, প্রাণ এবং ফার্মফ্রেশসহ (আকিজ ডেইরি) অন্যান্য বেসরকারি ডেইরি কোম্পানিগুলোও তাদের উৎপাদিত তরল দুধের দাম বাড়িয়ে প্রতি লিটার ১১০ থেকে ১১৫ টাকা এবং আধা লিটার ৫৫ টাকা নির্ধারণ করেছে।

দুধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় তারা এই মূল্য সমন্বয়ে বাধ্য হয়েছে। খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহের খরচ, সংগ্রাহকদের মজুরি, পরিবহন ব্যয়, প্যাকেজিং উপকরণের দাম, গোখাদ্যের উচ্চমূল্য এবং গ্যাস ও বিদ্যুতের বাড়তি ব্যয়ের কারণে প্রতি লিটার তরল দুধে সামগ্রিক খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে মিল্কভিটা কর্তৃপক্ষ দাম বাড়ানোর সময় জানিয়েছিল, বিভিন্ন খাতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তাদের প্রতি লিটার দুধ উৎপাদনে আগের চেয়ে প্রায় ১১ থেকে সাড়ে ১১ টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে।

এদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে দীর্ঘদিন ধরে চলা মূল্যস্ফীতির মাঝে দুধের এই নতুন দাম সাধারণ ক্রেতাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। চলতি মাসের শুরুতেই কোম্পানিগুলো বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে পাঁচ টাকা বাড়িয়েছিল। এর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি প্রায় ২০০ টাকা এবং ফার্মের মুরগির ডিমের দাম প্রতি ডজন ১৫০ টাকার কাছাকাছি অবস্থান করায় সংসারের দৈনন্দিন খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ভোক্তাদের।


আত্মহত্যা করেছে সে’—দাবি গাজী নজরুলের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ঘটনার সময় তিনি বাসায় ছিলেন না এবং মরিয়ম নিজেই আত্মহত্যা করেছেন।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে রিমান্ড শুনানি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গাজী নজরুল বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। ঘটনার সময় আমি বাসায় ছিলাম না। সে নিজে নিজে আত্মহত্যা করেছে।’ মরিয়ম কেন আত্মহত্যা করেছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি জানেন না।

এদিন আদালত গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিন এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন। এর আগে পুলিশ দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছিল।

সোমবার দুপুরে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ গাজী নজরুল ও মাকছুদা ইসলামকে আদালতে হাজির করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকার পাঁচটি কারণ উল্লেখ করে দুজনের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

পুলিশের আবেদনে বলা হয়, মরিয়মের মৃত্যুর সময় আসামিরা একই বাসায় ছিলেন কি না এবং তার আত্মহত্যায় তাদের কোনো প্রভাব বা সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, উসকানি, মানসিক চাপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা অন্য কোনোভাবে সহায়তা করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মাহবুবুর রহমান রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন করেন। উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত গাজী নজরুলের চার দিন এবং মাকছুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড শুনানির সময় গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা পাশাপাশি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। শুনানির একপর্যায়ে মাকছুদা দুই হাতের ওপর মাথা রেখে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে মাথা তুলে কিছুটা পেছনে সরে যান।

এ সময় নজরুল তার স্ত্রীর কাছে জানতে চান, তার খারাপ লাগছে কি না। মাকছুদা ‘না’ বলে জবাব দেন। মাকছুদার হিজাব কিছুটা মাথার ওপর উঠে গেলে নজরুল সেটি ঠিক করে নিতে বলেন। পরে মাকছুদা হিজাব ঠিক করেন।

শুনানির সময় মাকছুদাকে কিছুটা উদ্বিগ্ন দেখা গেলেও নজরুলকে তুলনামূলক স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা যায়। তিনি সাদা টুপি ও মুখে মাস্ক পরে আদালতের কার্যক্রম মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন।

এর আগে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ওই রাতেই গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ ওই রাতেই আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় গাজী নজরুল ও মাকছুদাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার আদালতে হাজির করা হয়।

মামলার তদন্তে মরিয়মের মৃত্যুর পরিস্থিতি, আসামিদের ভূমিকা এবং তার মৃত্যুর আগে কোনো ধরনের চাপ, ভয়ভীতি বা প্ররোচনা ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আদালতের রিমান্ড আদেশের মাধ্যমে এখন গাজী নজরুল ও মাকছুদাকে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা।

মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং মামলায় করা অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। বর্তমানে গাজী নজরুল ও মাকছুদার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।


জাতীয় গ্রিডে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহে ইউনিয়ন পরিষদকে ১১৯ কোটি টাকা বরাদ্দ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণের জন্য দেশের ইউনিয়ন পরিষদগুলোর অনুকূলে এককালীন ১শ’ ১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা খাতের বিশেষ বরাদ্দ উপখাত থেকে এ অর্থ ছাড় করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউনিয়ন পরিষদ-২ শাখা থেকে সম্প্রতি এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশ জারি করা হয়।

স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউনিয়ন পরিষদ-২ শাখার উপসচিব বিষ্ণুপদ পাল এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশে স্বাক্ষর করেন।

আদেশে বলা হয়, জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদগুলোর অনুকূলে মোট ১১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা অবমুক্তির সরকারি মঞ্জুরি দেওয়া হয়েছে।

সরকারি আদেশ অনুযায়ী, বরাদ্দকৃত অর্থ উত্তোলনের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে ট্রেজারি রুলস (টিআর) ফরম-৩২ অনুযায়ী বিল প্রস্তুত করতে হবে। ওই বিলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিস্বাক্ষর নিয়ে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে দাখিল করতে হবে।

বরাদ্দকৃত অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। জেলা ও উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বিলের বিপরীতে অ্যাকাউন্ট পে চেক বা অ্যাডভাইস ইস্যু করা হবে।

আদেশে বলা হয়েছে, জেলা কার্যালয় থেকে ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক পরিচালিত ব্যাংক হিসাবে চেকের মাধ্যমে অর্থ প্রদান করা হবে। আর উপজেলা কার্যালয় থেকে পাঠানো অ্যাডভাইসের ভিত্তিতে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তর করবে।

এই ব্যয় চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের উন্নয়ন বাজেটের নির্ধারিত মঞ্জুরি ও সংশ্লিষ্ট হিসাব খাতের বরাদ্দ থেকে মেটানো হবে।

অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা ব্যবহার নির্দেশিকা, ২০২১ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫ যথাযথভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত কার্যক্রম বাস্তবায়ন ছাড়া অন্য কোনো কাজে এ অর্থ ব্যয় করা যাবে না।

সরকারি আদেশে আরও বলা হয়েছে, বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ে ভবিষ্যতে কোনো অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট বিল পরিশোধকারী আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা দায়ী থাকবেন।

একই সঙ্গে বরাদ্দ থেকে অব্যয়িত অর্থ আগামী ৩০ জুন ২০২৭ তারিখের মধ্যে সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের এ অর্থ অবমুক্তির বিষয়ে অর্থ বিভাগের সম্মতিও রয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর অর্থ বিভাগ এ বিষয়ে সম্মতি দেয়।


স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকার স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘বর্তমানে স্বাস্থ্য খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার। দেশের নাগরিকদের জন্য সহজ সেবা নিশ্চিত করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক রোগী যেসব হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন, সেসব হাসপাতালে বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে।’

গতকাল সোমবার ঢাকার মহাখালীতে জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের নবনির্মিত রেসপিরেটরি ক্রিটিক্যাল কেয়ার ও ইন্টারকনভেনশনাল পালমোলজি সেন্টারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ১০টি করে কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’ একই সঙ্গে দেশের চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালটি ২০০৫ সালে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া উদ্বোধন করলেও দীর্ঘ ২১ বছর পর এখানে আইসিইউসেবা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। নতুন আইসিইউতে ৪০টি শয্যা যুক্ত হয়েছে।’

জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. গোলাম সারওয়ার লিয়াকত হোসেন ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশীদ, ড্যাবের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস প্রমুখ।


মিরপুর ও লালবাগে নতুন দুই ডিসি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৫৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর ও লালবাগ বিভাগে উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) পদে নতুন দুই কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হয়েছে। সোমবার ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

আদেশ অনুযায়ী, ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদারকে মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এর আগে তিনি ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

অন্যদিকে মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. মোস্তাক সরকারকে লালবাগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এ পদায়ন করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ কার্যকর থাকবে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।


সাইবার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা বাড়াতে অঙ্গীকারবদ্ধ বাংলাদেশ-চীন

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সমঝোতা হয়। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাইবার নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রশিক্ষণ বিনিময়ের ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও চীন।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সমঝোতা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সাইবার অপরাধ দমন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রশিক্ষণ বিনিময়ের নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকের শুরুতে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন আগামী অক্টোবরের শুরুতে তার দায়িত্ব পালনের মেয়াদ শেষ করে বাংলাদেশ ত্যাগের বিষয়টি অবহিত করেন। একইসঙ্গে তিনি চীনের ‘মিনিস্টার অব পাবলিক সিকিউরিটি’র পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। রাষ্ট্রদূত চীনের পাবলিক সিকিউরিটিবিষয়ক ফোরামে বাংলাদেশ ও চীনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের পারস্পরিক বৈঠক এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়াতে চীন সফরের জন্য চীনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণ বার্তাটি পৌঁছে দেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও বিদায়ী রাষ্ট্রদূত উভয়ই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ করে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সাইবার অপরাধ মোকাবিলার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

রাষ্ট্রদূত জানান, বিগত দুই বছরে চীন বাংলাদেশের শতাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যকে সাইবার ক্রাইম, পাবলিক সিকিউরিটি ম্যানেজমেন্ট, ট্রাফিক ও ট্রান্সপোর্টেশন ম্যানেজমেন্ট, ইমিগ্রেশন এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের জন্য প্রশিক্ষণ দিয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান , বাংলাদেশ সরকার পুলিশ বাহিনীর জন্য একটি বিশেষায়িত ‘সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট’ গঠন ও অবকাঠামো তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, থানা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় ইউনিট পর্যন্ত ডিজিটাল ফরেন্সিক ল্যাব এবং সাইবার ল্যাব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে।

বৈঠকে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে চীনা বিশেষজ্ঞ ও ল্যাব পরিদর্শন এবং প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য বাংলাদেশকে একটি বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর পরামর্শ দেন।

মন্ত্রী এ সময় সিআইডি’র নেতৃত্বে একজন অতিরিক্ত আইজিপি, একজন অতিরিক্ত ডিআইজি এবং সাইবার ও ডিজিটাল ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ৫ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল চীনে পাঠানোর ঘোষণা দেন। দলটি চীনের সাইবার ল্যাব ও প্রযুক্তি পর্যবেক্ষণ করে দেশে ফরেন্সিক ল্যাব ও সরঞ্জাম প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব প্রস্তুত করবে।

রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চীন বর্তমানে বাংলাদেশের এক নম্বর উন্নয়ন সহযোগী ও শীর্ষ বিনিয়োগকারী দেশ। তিনি মন্ত্রীর কাছে বাংলাদেশে কর্মরত চীনা নাগরিক, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘চীন কেবল আমাদের শীর্ষ বিনিয়োগকারীই নয়, আমাদের অন্যতম প্রধান কৌশলগত উন্নয়ন অংশীদার’। তিনি বাংলাদেশে বসবাসরত সকল চীনা নাগরিক, ব্যবসায়ী ও উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মীদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, অতিরিক্ত আইজিপি ও সিআইডি প্রধান ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


সেতু বিভাগে চুক্তিভিত্তিক সচিব, পাসপোর্টে নতুন মহাপরিচালক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সেতু বিভাগের বর্তমান সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফকে একই পদে আরও এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের (ডিআইপি) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মেজর জেনারেল মো. আলীমুল আমীন।

সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মোহাম্মদ আবদুর রউফকে অবসরোত্তর ছুটি (পিআরএল) বাতিলের শর্তে আগামী এক বছরের জন্য সেতু বিভাগের সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্বও পালন করবেন।

মোহাম্মদ আবদুর রউফ গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি সচিব পদে পদোন্নতি পান। পরদিন ২৬ ফেব্রুয়ারি তিনি সেতু বিভাগের সচিব হিসেবে যোগ দেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্বও পান।

অন্যদিকে, মেজর জেনারেল মো. আলীমুল আমীনকে প্রেষণে নিয়োগ দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। পরে তাকে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে তার নিয়োগের বিষয়টি জানিয়ে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এ নিয়োগ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ার। নতুন নিয়োগের মাধ্যমে তার স্থলাভিষিক্ত হলেন মেজর জেনারেল মো. আলীমুল আমীন।

সরকারের সাম্প্রতিক প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে এই দুই নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।


banner close