অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং দেশবিরোধী ও ধ্বংসাত্মক আন্দোলন-সমাবেশে উসকানিদাতাদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ৮ম সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস এবং আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে থাকে সেসব বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং দেশবিরোধী ও ধ্বংসাত্মক আন্দোলন-সমাবেশে উসকানিদাতাদের গ্রেপ্তার করা হবে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা, টহল জোরদার এবং গোয়েন্দা নজরদারি আরও বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া ঈদ নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে ঢাকার বিভিন্ন প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসানো এবং বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও বস্তিতে অভিযান বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ঈদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একগুচ্ছ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
নির্দেশনাগুলো হলো-
১. আসন্ন ঈদুল ফিতরের প্রাক্কালে দেশব্যাপী সার্বিক আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করতে হবে।
২. চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রোধে ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য মোতায়েন, বিশেষ বিশেষ রাস্তায় ও মোড়ে চেকপোস্ট স্থাপন, টাকা স্থানান্তরে মানি এস্কর্ট প্রদান, জাল টাকার বিস্তার রোধ ও শনাক্তকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৩. রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ স্থানসহ দেশের অন্যান্য বড় বড় শহর ও বন্দরে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র্যাবের টহল বৃদ্ধি করতে হবে।
8. গার্মেন্টস ও অন্যান্য শিল্পের মালিক পক্ষ অর্থাৎ বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং শিল্প পুলিশ একত্রে বসে ঈদের পূর্বেই শ্রমিকদের বেতন-ভাতাদি, বোনাস ইত্যাদি পরিশোধের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৫. সাধারণ জনগণের ঈদ উপলক্ষ্যে নির্বিঘ্নে কেনাকাটা নিশ্চিত করতে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি নারী পুলিশ ও সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করতে হবে। মার্কেটগুলোতে বিশেষ রাত্রিকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে এবং সব মার্কেট সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার ব্যবস্থা করতে হবে।
৬. ঈদ উপলক্ষ্যে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নিরাপদ নিশ্চিতকল্পে বাস, ট্রেন ও লঞ্চে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করা, লঞ্চ/ফেরি ঘাটসমূহে অনিয়ম ও অবৈধ সিরিয়াল প্রদানের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা আদায় না করা, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন না করা এবং পরিবহনে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
৭. পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশে যানজট নিরসনের লক্ষ্যে যথাযথ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৮. যমুনা সেতু, পদ্মা সেতু এবং ফ্লাইওভারসহ টোলপ্লাজাসমূহে যানজট নিরসনে ইটিসিসহ (ইলেক্ট্রনিক টোল কালেকশন) দ্রুত টোল আদায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৯. যানজট নিরসনে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ কর্তৃক চিহ্নিত ১৫৫ স্পটে আইপি/সিসি ক্যামেরা স্থাপনপূর্বক ঈদুল ফিতরের পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সময় মনিটরিং জোরদার করতে হবে। প্রয়োজনে অধিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ড্রোনের মাধ্যমে মনিটরিং করা যেতে পারে;
১০. যানজট নিরসনে লক্ষ্যে ঈদের পূর্বের ৭ দিন ও পরের ৭ দিন সুনির্দিষ্ট পূর্ব তথ্য ব্যতীত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক সড়কের ওপরে মোটরযান তথা যানবাহন থামানো যাবে না;
১১. অত্যাবশ্যকীয় পণ্য পরিবহনকারী বা যাত্রীবাহী যানবাহন ব্যতীত স্থলবন্দর ও নৌবন্দরসহ যেকোনো জায়গা থেকে ছেড়ে আসা নির্মাণ সামগ্রী বহনকারী ও লম্বা যানবাহনসমূহ ঈদের পূর্বের ৩ দিন এবং পরের ৩ দিন যেন মহাসড়কে চলাচল করতে না পারে বা নৌ-রুটে ফেরি পারাপার করতে না পারে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে;
১২. ঈদের আগে ৫ দিন ও পরে ৫ দিন নদীতে বাল্কহেড চলাচল বন্ধ রাখতে হবে;
১৩. বিভিন্ন সড়ক, মহাসড়ক ও নৌ-পথে আকস্মিক দুর্ঘটনায় উদ্ধারকার্য পরিচালনায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের টিম, রেসকিউ বোট, ডুবুরি, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামাদিসহ অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখতে হবে। প্রয়োজনে কোস্টগার্ডের সহযোগিতা গ্রহণ করতে হবে;
১৪. দুর্ঘটনা কবলিত অথবা রাস্তা/ব্রিজে কোন গাড়ি নষ্ট হলে দ্রুত দুর্ঘটনা কবলিত/অকেজো গাড়ি অপসারণ/রেকারিং করে পার্শ্ববর্তী খালি জায়গায় স্থানান্তর করতে হবে। যমুনা ও পদ্মা সেতুসহ যানজট প্রবণ এলাকায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক রেকারের ব্যবস্থা রাখতে হবে;
১৫. ঈদের সময় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ অধিদপ্তর এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক কন্ট্রোলরুম স্থাপন করতে হবে। সকল কন্ট্রোল রুমকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় জয়েন্ট অপারেশন সেন্টারের (01320001223) সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর সাথে কন্ট্রোল রুমের সংযোগ স্থাপনপূর্বক সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষায় সমন্বয় জোরদার করতে হবে।
এছাড়া ধর্ষণ মামলার বিচার কেবল দ্রুতই নয়, বিচারটা যাতে নিশ্চিত ও যথাযথ হয় ব্যবস্থা নিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন কঠোর করা হচ্ছে। তাছাড়া সভায় মাদকের অপব্যবহার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে রাশিয়া। পাশাপাশি বর্তমান বাজারদরের তুলনায় কম মূল্যে ইউরিয়া সারসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য রপ্তানির প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ভিয়াচেস্লাভ সেন্টিউরিনের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ গুরুত্ব পায় খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি সহযোগিতা, সার সরবরাহ এবং সরকার-টু-সরকার বাণিজ্য সম্প্রসারণ।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে বাংলাদেশে সূর্যমুখী তেল, হলুদ মটরশুঁটি, ছোলা, লাল মসুর ডাল, সবুজ মসুর ডালসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সরবরাহে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
তারা বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
রাশিয়ার প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) কাছে জেএসসি এফইসি প্রোডিনটর্গের মাধ্যমে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার সরবরাহের আগ্রহের কথা জানায়।
প্রতিনিধিদল জানায়, বাংলাদেশ বর্তমানে যেসব দেশ থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করে, তার তুলনায় প্রতি মেট্রিক টনে ১০ মার্কিন ডলার কম দামে সার সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। এতে দেশের সার আমদানির ব্যয় কমার পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত হবে।
বৈঠকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এবং রাশিয়ার জেএসসি এফইসি প্রোডিনটর্গের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আওতায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
এ সময় খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত গম ও মিউরিয়েট অব পটাশ (এমওপি) সার সরবরাহে রাশিয়ার সহযোগিতার প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, রাশিয়া বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু। আগামী দিনে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্ত্রী রাশিয়ার বাণিজ্য সম্প্রসারণের আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করা হবে।
বৈঠকে উভয় পক্ষ বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করতে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়।
বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার দুজন কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। এই দুই কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়ে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব (অতিরিক্ত সচিব) মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা। পদোন্নতির পর তাকে আবার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগেই পদায়ন করা হয়েছে।
অন্যদিকে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামানও সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। পদোন্নতির পর তাকে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) করা হয়েছে।
নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ভেন্টিলেটর এবং হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিনের উদ্ভাবকদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় তিনি এসব জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম ব্যবহারোপযোগী করা এবং বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, স্বাস্থ্য খাতের আধুনিকায়নে গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবায় আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশে সরকার গবেষণা ও উদ্ভাবনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, মান যাচাই এবং উৎপাদনের ক্ষেত্রে সরকার সহযোগিতা দেবে।’
সভায় সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানান, দুটি ভিন্ন বিশেষজ্ঞ দল এই আধুনিক ভেন্টিলেটর ও অক্সিজেন মেশিন উদ্ভাবন করেছেন। যথাযথ প্রশাসনিক অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পন্ন করার পর এই সরঞ্জামগুলো দেশের সব হাসপাতালে ব্যবহারের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হওয়ার কারণে আমদানিকৃত যন্ত্রের তুলনায় এগুলো অনেক কম মূল্যে পাওয়া যাবে, যা দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় কমিয়ে আনতে সহায়ক হবে। এই উদ্ভাবন সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে চিকিৎসা খাতে বিদেশের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
যন্ত্র দুটির কারিগরি দিক সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা জানান, ভেন্টিলেটরটি মূলত গুরুতর শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের জীবন বাঁচাতে ব্যবহৃত হয়, যার ফলে এর সুরক্ষা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আরও নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। অন্যদিকে, হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিনটি সাধারণ শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এই যন্ত্রের একটি বড় সুবিধা হলো এটি বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়াই সচল থাকতে পারে, যা বিদ্যুৎবিহীন দুর্গম এলাকা কিংবা অ্যাম্বুলেন্সে রোগী স্থানান্তরের সময় অত্যন্ত কার্যকর। গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং বুয়েটের প্রো ভিসি ড. মুহাম্মদ শরীফুল ইসলামসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।
দেশব্যাপী গত তিন মাসে পরিচালিত বিশেষ ও নিয়মিত অভিযানে মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৮৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। মঙ্গলবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বিশাল সংখ্যক গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির বিবরণ অনুযায়ী, গত ১ মে থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত চলা এই কার্যক্রমে বিশেষ অভিযানে ৩৯ হাজার ২৬৭ জন এবং বিভিন্ন নিয়মিত মামলায় ১ লাখ ২ হাজার ৭২২ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
এই দীর্ঘ সময়ের অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিপুল পরিমাণ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত ৩২৫টি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে ১০১টি পিস্তল, ৯২টি বন্দুক, ৩৮টি এলজি, ৩৫টি শুটারগান এবং ১৯টি রিভলভারসহ বিভিন্ন অত্যাধুনিক অস্ত্র রয়েছে। এছাড়া ২ হাজার ৮০২ রাউন্ড গুলি, ১০৩টি ম্যাগাজিন, ৪৬টি ককটেল এবং ১০ হাজার ৩০০টি চকলেট বোমা জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র ও সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের তালিকায় রাইফেল, এসএমজি, এয়ারগান এমনকি একটি পেনগান থাকার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন।
একই সময়ে মাদকের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানে ছিল পুলিশ। তিন মাসের এই মাদকবিরোধী অভিযানে ৯১ লাখ ২২ হাজার ৯৯৬ পিস ইয়াবা, ৯ হাজার ৮০ পুরিয়া হেরোইন এবং প্রায় ৮ হাজার ২১১ বোতল বিদেশি মদসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এই সংক্রান্ত অপরাধে এখন পর্যন্ত ১৭ হাজার ৬৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ২৪ হাজার ৮২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূলত জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সিইসির নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করে। বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, ‘প্রাথমিক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সার্বিক প্রস্তুতি এবং আইনের বিধান ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, কমিশন যেকোনো সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।’
সিইসি আরও উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের তারিখ ও সময়সূচি এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। স্পিকারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সমন্বয়ের পর নির্দিষ্ট দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে এবং তা গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে।’ তিনি স্পষ্ট করেন যে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজেই এই নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং নির্বাচন কমিশন কার্যালয় থেকেই যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সংসদীয় অধিবেশন চলুক বা না চলুক, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এর কোনো প্রভাব পড়বে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। কমিশন চাইছে দ্রুততম সময়ে এই প্রক্রিয়া শেষ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কাজে মনোযোগ দিতে। এ লক্ষ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদের বিষয়ে ইতোমধ্যে সংসদ সচিবালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এদিকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্যের সাম্প্রতিক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্যের সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে সংসদ সচিবালয় থেকে লিখিতভাবে রেফার করা হলে ইসি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’ সামগ্রিক প্রস্তুতি গুছিয়ে এনে যথাসময়েই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো জানানো হবে বলে জানা গেছে।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো বঙ্গভবনে পৌঁছেছেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার সকালে জাতীয় সংসদের সরকারি বাসভবন থেকে তিনি বঙ্গভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। সেখানে পৌঁছানোর পর তিনি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের নিয়মিত দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে এটিই তার প্রথম আনুষ্ঠানিক কর্মদিবস এবং এই যাত্রার মাধ্যমেই বঙ্গভবনে তার দাপ্তরিক কর্মযাত্রার সূচনা হলো।
এর আগে গত ২৪ জুলাই সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে সাংবিধানিক নিয়মানুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব লাভ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর গত রোববার সকালে তিনি সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সে সময় তিনি স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে স্বাক্ষর করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানগণসহ সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্মৃতিসৌধ থেকে ফিরে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাজধানীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরেও পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আজ মঙ্গলবার থেকে তিনি পুরোদমে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির নিয়মিত কার্যাবলি সম্পাদন শুরু করেছেন।
দেশের সকল গণপরিবহনে আগামী ১ আগস্ট থেকে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) ডিভাইস সংযোজন এবং সেটি সার্বক্ষণিক সচল রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিআরটিএ কর্তৃক প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত তারিখের পর থেকে নতুন যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন কিংবা পুরনো যানবাহনের ফিটনেস সনদ নবায়ন করতে হলে জিপিএস ডিভাইসের প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে এবং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এর কার্যকারিতা প্রদর্শন করতে হবে।
মূলত নিরাপদ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা এবং পরিবহন ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ গত ১১ জুন এই সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। সেই প্রজ্ঞাপনের আলোকেই ১ আগস্ট থেকে এই কড়া নিয়ম কার্যকর হতে যাচ্ছে। বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, জিপিএস ডিভাইসের কারিগরি বিবরণ (স্পেসিফিকেশন) সংস্থাটির ওয়েবসাইট অথবা স্থানীয় কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করা যাবে।
আইনগত ভিত্তির বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় যে, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ২৫ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ৫৫ অনুযায়ী প্রতিটি গণপরিবহনে জিপিএস সংযোগ থাকা বাধ্যতামূলক। ডিভাইসের সক্রিয়তা নিশ্চিত হওয়ার পরই কেবল রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস সনদ প্রদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে কর্তৃপক্ষ।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (২০১৮ সাল) রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করা তৎকালীন ৩২ জেলা প্রশাসককে (ডিসি) বাধ্যতামূলক অবসরে (ওএসডি) পাঠিয়েছে সরকার। তারা বর্তমানে যুগ্মসচিব পর্যায়ে কর্মরত ছিলেন।
সোমবার (২৭ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনগুলোতে বলা হয়, যেহেতু তাদের চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে এবং সরকার জনস্বার্থে তাদের সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া প্রয়োজন মর্মে বিবেচনা করে। সেহেতু সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৪৫ ধারার দেওয়া ক্ষমতাবলে সরকারি চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হয়েছে।
বিধি অনুযায়ী এসব কর্মকর্তা অবসরজনিত সুবিধাদি প্রাপ্য হবেন বলেও প্রজ্ঞাপনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গত ৫ জুলাই ২০১৮ সালের নির্বাচনে পুলিশ সুপারের (এসপি) দায়িত্বে থাকা ৩৩ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। বিসিএস ২০তম ব্যাচের এসব কর্মকর্তার চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছিল।
এছাড়া ২০১৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা ২২ ডিসিকে বাধ্যতামূলক অবসর দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, তথ্যের অবাধ প্রবাহ থেকে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য আলাদা করা এবং অপতথ্য বা ভিত্তিহীন তথ্য ফিল্টারিং করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোমবার বরিশাল সার্কিট হাউস মিলনায়তনে ‘বরিশাল বিভাগের সাংবাদিকদের কল্যাণে করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট এবং বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়।
বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে গণমাধ্যমকে দুই ধরনের মানুষ ব্যবহার করছেন, যাদের উভয়ের কাছেই সাংবাদিকতার কার্ড রয়েছে। এদের একদল সাংবাদিকতার বৈশ্বিক ও নৈতিক চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করছেন, অন্যদিকে অন্যদল উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে পেশাটিকে দূষিত করছেন। ফলে অনেকেই মনে করছেন সাংবাদিকতা পেশার একটি সুস্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
তিনি আরও যোগ করেন, কোনটা অপসাংবাদিকতা বা ব্ল্যাকমেইলিং এবং কোনটা সমাজের জন্য অনিবার্য- এই বিভাজন নিশ্চিত করতে না পারলে রাষ্ট্র বা সমাজ বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাকে যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা দিতে পারবে না। আর এই কাজ কেবল সরকারের পক্ষে একা করা সম্ভব নয়, এর জন্য সাংবাদিকদের সক্রিয় অংশীদারত্ব প্রয়োজন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, একটি সমাজ বা রাষ্ট্রকে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে গণমাধ্যমকে আয়নার মতো ভূমিকা পালন করতে হয়। রাষ্ট্রকে প্রতিমুহূর্তে আয়নার সামনে দাঁড় না করালে তা ভুল পথে চালিত হতে পারে, যা জনগণের জন্য ক্ষতিকর। সাংবাদিকতা ছাড়া কোনো সভ্য সমাজ চলতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকতা পেশায় বিত্তবান হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তবে নিজের বিবেক ও মেধা চর্চার বিশাল সুযোগ রয়েছে। যারা জেনে-বুঝে এই মহৎ পেশায় যুক্ত হচ্ছেন, তাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা।
আধুনিক সাংবাদিকতার পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বর্তমানে সাংবাদিকতা ডেটা, ভিডিও ও অডিও কেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাংবাদিকদের প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এই রূপান্তরের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে না পারলে পেশাগতভাবে পিছিয়ে পড়তে হবে।
অনুষ্ঠানে বিভাগের তিন জেলার ৩৯ জন সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের মাঝে ১৮ লাখ ২০ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়। এরমধ্যে বরিশাল জেলায় ২৫ জন, ঝালকাঠির ৬ জন এবং পটুয়াখালীর ৩ জন রয়েছেন।
বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল বারীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, কল্যাণ ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য কাওছার হোসেন খন্দকার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহজাহান সাজু এবং বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আযাদ আলাউদ্দিন।
২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সব দাপ্তরিক চিঠিতে নজরুল বর্ষের নির্ধারিত লোগো ব্যবহার করতে নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
গত রোববার এ নির্দেশনা দিয়ে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব ও সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, সরকার চলতি বছরের ২৫ মে থেকে আগামী বছরের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী গত ২ জুলাই ‘নজরুল বর্ষ’র নির্ধারিত লোগো উন্মোচন করেন।
এতে আরো বলা হয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের আদর্শ, চেতনা ও সৃষ্টিকে জাতির কর্ম ও মননে সমুন্নত রাখার প্রয়াসে এবং যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের অংশ হিসেবে ২৫ মে ২০২৭ পর্যন্ত সব দাপ্তরিক পত্রে নির্ধারিত লোগো ব্যবহারের জন্য সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় অনুরোধ জানিয়েছে। সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ নির্দেশনা জারি করেছে বলে চিঠিতে জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান মালদ্বীপ সরকারের বিশেষ অতিথি হিসেবে দেশটির ৬১তম স্বাধীনতা দিবসের প্যারেডে অংশ নেন। এ সময়ে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার জানানো হয়, রোববার মালেতে রিপাবলিক স্কয়ারে অনুষ্ঠিত এ প্যারেডে পৌঁছালে মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদম ড. খলিলুর রহমানকে স্বাগত জানান।
অনুষ্ঠানে মালদ্বীপ ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সের বিভিন্ন শাখার বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও সামরিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশটির স্বাধীনতার ৬১তম বার্ষিকী উপলক্ষে শৃঙ্খলা, ঐতিহ্য ও জাতীয় গৌরব তুলে ধরা হয়।
প্যারেড শেষে ড. খলিলুর রহমান একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন, যেখানে দেশটির সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়। পরে বর্ণাঢ্য আতশবাজি প্রদর্শনীর মাধ্যমে দিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।
এর আগে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু ঘোষিত ‘ফাইভ মিলিয়ন ট্রিজ প্রজেক্ট’-এর অংশ হিসেবে মালের লোনুজিয়ারাই পার্কে একটি ক্রিস্টিনা গাছের চারা রোপণ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
গাছের চারা রোপণ অনুষ্ঠানে মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদম এবং জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ ও জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী আলী শরীফ উপস্থিত ছিলেন।
ড. খলিলুর রহমান মালদ্বীপে সবুজায়ন সম্প্রসারণে প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুর উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের বনায়ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের নেতাদের নেওয়া এসব উদ্যোগ পরিবেশগত স্থায়িত্ব, জলবায়ু কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পৃথিবীকে সুরক্ষিত রাখার অভিন্ন অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
তিনি আরও স্মরণ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে বিপুলসংখ্যক নিম গাছ রোপণ করা হয়েছিল, যা ‘জিয়া ট্রিজ’ নামে পরিচিত।
মালদ্বীপ সরকারের আমন্ত্রণে দেশটির ৬১তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দিতে বর্তমানে মালদ্বীপ সফর করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রফেসর ড. মাহবুব উল্লাহকে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। নিয়োগের তারিখ থেকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য তিনি এ পদে নিয়োগ পেয়েছেন। সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচিত হবেন না। তিনি কোনো গবেষণা সংস্থা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে নিজের পছন্দের বিষয়ে গবেষণা পরিচালনা করবেন এবং গবেষণার ক্ষেত্র সম্পর্কে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-কে অবহিত করবেন।
এছাড়া তিনি যে প্রতিষ্ঠান বা গবেষণা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন, সেখানে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের বার্ষিক অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেবেন। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানও তার গবেষণার অগ্রগতি সম্পর্কে ইউজিসির চেয়ারম্যানকে অবহিত করবেন এবং গবেষণালব্ধ ফলাফল শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসিতে পাঠাবেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫-এর গ্রেড-১ অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন। তবে এ সময় তিনি অন্য কোনো বেতনভুক্ত চাকরিতে যুক্ত হতে পারবেন না।
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকারের স্বাক্ষর, দাপ্তরিক প্যাড, সরকারি লোগো ও স্মারক নম্বর জাল করে একটি ডিও (ডেমি-অফিসিয়াল) পত্র তৈরি করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরে জমা দিয়ে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি জাতীয় সংসদ কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। সোমবার বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রচারিত ও বিভিন্ন দপ্তরে দাখিল করা ওই ডিও পত্রটি জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে ইস্যু করা হয়নি এবং এর সঙ্গে জাতীয় সংসদের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই।
সংসদ সচিবালয় জানায়, রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জাতীয় সংসদের নাম, সরকারি লোগো, দাপ্তরিক প্যাড বা অন্যান্য সরকারি পরিচয় জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা একটি গুরুতর ও আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
এ ধরনের জালিয়াতির ঘটনা নজরে আসার পর জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ইতোমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা এড়াতে জাতীয় সংসদ সচিবালয় সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সাধারণ জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের নামে কোনো ডিও বা সরকারি পত্র প্রাপ্ত হলে তার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংসদ সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত শাখার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।