অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং দেশবিরোধী ও ধ্বংসাত্মক আন্দোলন-সমাবেশে উসকানিদাতাদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ৮ম সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস এবং আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে থাকে সেসব বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং দেশবিরোধী ও ধ্বংসাত্মক আন্দোলন-সমাবেশে উসকানিদাতাদের গ্রেপ্তার করা হবে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা, টহল জোরদার এবং গোয়েন্দা নজরদারি আরও বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া ঈদ নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে ঢাকার বিভিন্ন প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসানো এবং বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও বস্তিতে অভিযান বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ঈদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একগুচ্ছ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
নির্দেশনাগুলো হলো-
১. আসন্ন ঈদুল ফিতরের প্রাক্কালে দেশব্যাপী সার্বিক আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করতে হবে।
২. চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রোধে ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য মোতায়েন, বিশেষ বিশেষ রাস্তায় ও মোড়ে চেকপোস্ট স্থাপন, টাকা স্থানান্তরে মানি এস্কর্ট প্রদান, জাল টাকার বিস্তার রোধ ও শনাক্তকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৩. রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ স্থানসহ দেশের অন্যান্য বড় বড় শহর ও বন্দরে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র্যাবের টহল বৃদ্ধি করতে হবে।
8. গার্মেন্টস ও অন্যান্য শিল্পের মালিক পক্ষ অর্থাৎ বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং শিল্প পুলিশ একত্রে বসে ঈদের পূর্বেই শ্রমিকদের বেতন-ভাতাদি, বোনাস ইত্যাদি পরিশোধের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৫. সাধারণ জনগণের ঈদ উপলক্ষ্যে নির্বিঘ্নে কেনাকাটা নিশ্চিত করতে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি নারী পুলিশ ও সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করতে হবে। মার্কেটগুলোতে বিশেষ রাত্রিকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে এবং সব মার্কেট সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার ব্যবস্থা করতে হবে।
৬. ঈদ উপলক্ষ্যে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নিরাপদ নিশ্চিতকল্পে বাস, ট্রেন ও লঞ্চে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করা, লঞ্চ/ফেরি ঘাটসমূহে অনিয়ম ও অবৈধ সিরিয়াল প্রদানের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা আদায় না করা, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন না করা এবং পরিবহনে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
৭. পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশে যানজট নিরসনের লক্ষ্যে যথাযথ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৮. যমুনা সেতু, পদ্মা সেতু এবং ফ্লাইওভারসহ টোলপ্লাজাসমূহে যানজট নিরসনে ইটিসিসহ (ইলেক্ট্রনিক টোল কালেকশন) দ্রুত টোল আদায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৯. যানজট নিরসনে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ কর্তৃক চিহ্নিত ১৫৫ স্পটে আইপি/সিসি ক্যামেরা স্থাপনপূর্বক ঈদুল ফিতরের পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সময় মনিটরিং জোরদার করতে হবে। প্রয়োজনে অধিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ড্রোনের মাধ্যমে মনিটরিং করা যেতে পারে;
১০. যানজট নিরসনে লক্ষ্যে ঈদের পূর্বের ৭ দিন ও পরের ৭ দিন সুনির্দিষ্ট পূর্ব তথ্য ব্যতীত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক সড়কের ওপরে মোটরযান তথা যানবাহন থামানো যাবে না;
১১. অত্যাবশ্যকীয় পণ্য পরিবহনকারী বা যাত্রীবাহী যানবাহন ব্যতীত স্থলবন্দর ও নৌবন্দরসহ যেকোনো জায়গা থেকে ছেড়ে আসা নির্মাণ সামগ্রী বহনকারী ও লম্বা যানবাহনসমূহ ঈদের পূর্বের ৩ দিন এবং পরের ৩ দিন যেন মহাসড়কে চলাচল করতে না পারে বা নৌ-রুটে ফেরি পারাপার করতে না পারে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে;
১২. ঈদের আগে ৫ দিন ও পরে ৫ দিন নদীতে বাল্কহেড চলাচল বন্ধ রাখতে হবে;
১৩. বিভিন্ন সড়ক, মহাসড়ক ও নৌ-পথে আকস্মিক দুর্ঘটনায় উদ্ধারকার্য পরিচালনায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের টিম, রেসকিউ বোট, ডুবুরি, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামাদিসহ অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখতে হবে। প্রয়োজনে কোস্টগার্ডের সহযোগিতা গ্রহণ করতে হবে;
১৪. দুর্ঘটনা কবলিত অথবা রাস্তা/ব্রিজে কোন গাড়ি নষ্ট হলে দ্রুত দুর্ঘটনা কবলিত/অকেজো গাড়ি অপসারণ/রেকারিং করে পার্শ্ববর্তী খালি জায়গায় স্থানান্তর করতে হবে। যমুনা ও পদ্মা সেতুসহ যানজট প্রবণ এলাকায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক রেকারের ব্যবস্থা রাখতে হবে;
১৫. ঈদের সময় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ অধিদপ্তর এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক কন্ট্রোলরুম স্থাপন করতে হবে। সকল কন্ট্রোল রুমকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় জয়েন্ট অপারেশন সেন্টারের (01320001223) সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর সাথে কন্ট্রোল রুমের সংযোগ স্থাপনপূর্বক সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষায় সমন্বয় জোরদার করতে হবে।
এছাড়া ধর্ষণ মামলার বিচার কেবল দ্রুতই নয়, বিচারটা যাতে নিশ্চিত ও যথাযথ হয় ব্যবস্থা নিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন কঠোর করা হচ্ছে। তাছাড়া সভায় মাদকের অপব্যবহার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
জ্বালানি সংকটের মধ্যে গণপরিবহনের তেলের রেশনিং পদ্ধতি তুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।তিনি বলেন, ‘গণপরিবহনের জন্য জ্বালানি তেল রেশনিংয়ের সীমা আর থাকছে না।’
শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর গুলিস্তানে সেতুমন্ত্রী এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, ‘দূরপাল্লা ও গণপরিবহনে তেলের রেশনিং আজ (শনিবার) রাত থেকে থাকছে না। রাত থেকে পর্যাপ্ত তেল পাবে বাসগুলো।’
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং ইসরায়েল ও আমেরিকার মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে দেশেও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এর মধ্যে জ্বালানি সাশ্রয়ে গত ৬ মার্চ ফিলিং স্টেশন থেকে যানবাহনে তেল সরবরাহের সীমা বেঁধে দেয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী একটি মোটরসাইকেলে দিনে ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নেওয়া যাচ্ছে।
এ ছাড়া স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকেল বা এসইউভি ও মাইক্রোবাস দিনে পাচ্ছে ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল। পিকআপ বা লোকাল বাস দিনে ডিজেল নিতে পারছে ৭০ থেকে ৮০ লিটার। আর দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কনটেইনার ট্রাক দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল নিতে পারছে।
গণপরিবহনের ক্ষেত্রে সরকারের নির্দেশনা পরিবর্তন হলেও ব্যক্তিগত যানবাহনের ক্ষেত্রে নতুন কোনো নির্দেশনা আসেনি।
জাতীয় সংসদেই সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে আলোচনা, সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (১৪ মার্চ) জাতীয় সংসদে কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সংসদে প্রথম অধিবেশন কতদিন চলবে, কোন কোন বিষয়ে আলোচনা হবে, কী কী আইন উত্থাপন হবে, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপরে কত ঘণ্টা আলোচনা হবে, সেসব নিয়ে বৈঠকে কথা হয়েছে।
এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, রোববার (১৫ মার্চ) অধিবেশনের পর মুলতবি হয়ে ঈদের পর ২৯ মার্চ ফের সংসদ অধিবেশন বসবে। এপ্রিল মাসজুড়ে অধিবেশন চালু থাকবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশ বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হবে। সেখানে যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রতিবেদন আকারে সংসদে উত্থাপন করা হবে।
অমর একুশে গ্রন্থমেলায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের লেখা মুক্ত গদ্যের বই ‘শুধু মাধবীর জন্য’ এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অন্যপ্রকাশের স্টলে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) অনুষ্ঠানে বইটি লেখার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে উপস্থিত দর্শক ও পাঠকদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, মাধবীকে লেখা লেখকের চিঠিগুলোতে সুখ, দুঃখ, রাজনীতি এবং একাকিত্বের নানা অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে।
বইটির প্রধান চরিত্র ‘মাধবী’ আসলে কে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাধবী কে—এটা অনেক বড় প্রশ্ন। এই প্রশ্নের জবাব যদি আগেই দিয়ে দেই, তাহলে পাঠক বইটি পড়ার আগ্রহ হারাতে পারেন। তাই বিষয়টি আপাতত অপ্রকাশিতই থাকুক।
মো. আসাদুজ্জামান আরও বলেন, বইটিতে মানুষের অন্তর্গত একাকিত্বের অনুভূতি তুলে ধরা হয়েছে। চারপাশে অনেক মানুষ থাকা সত্ত্বেও মানুষ অনেক সময় নিজের ভেতরে একা থাকে এবং মনের অনেক কথাই সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারে না। সেই অনুভূতিরই প্রকাশ ঘটেছে ‘মাধবী’র কাছে লেখা চিঠিগুলোতে।
আইনমন্ত্রী জানান, বইটিতে সুখ, দুঃখ, আনন্দ, বেদনা, ক্ষোভের পাশাপাশি রাজনীতি, রাষ্ট্র, সমাজনীতি ও দর্শনের বিভিন্ন দিকও উঠে এসেছে। তিনি মাধবীকে মোট ২৫৩টি চিঠি লিখেছেন, যার মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ১২৫টি চিঠি প্রকাশ করা হয়েছে। পাঠকদের সাড়া বিবেচনা করে পরবর্তীতে দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, পাঠকদের আগ্রহই একজন লেখকের অনুপ্রেরণার প্রধান উৎস। পাঠক যদি কোনো লেখাকে গ্রহণ করেন, তাহলে লেখক আরও স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে লিখতে পারেন এবং নতুনভাবে অনুপ্রাণিত হন। এ কারণে তিনি পাঠকদের বইটি পড়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত জানাতে অনুরোধ করেন।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বইটি সম্পূর্ণ হৃদয়ের অনুভূতি থেকে লেখা। ভালো লাগা এবং একাকিত্বের অভিজ্ঞতা থেকেই এই লেখার সৃষ্টি। তিনি সবাইকে বইটি পড়ার জন্য আন্তরিকভাবে আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে অন্য প্রকাশের স্বত্বাধিকারী, লেখকের সহধর্মিণী, শুভানুধ্যায়ী, বিশিষ্টজন এবং মেলায় আগত দর্শক ও পাঠকরা উপস্থিত ছিলেন।
মোড়ক উন্মোচন শেষে আইনমন্ত্রী ‘শুধু মাধবীর জন্য’ বইটি ক্রয়কারী পাঠকদের জন্য অটোগ্রাফ প্রদান করেন এবং তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ও সহকারী পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার ১০ জন কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার বিপিএম-সেবা স্বাক্ষরিত দুই পৃথক আদেশে এসব পদায়ন করা হয়। তবে শনিবার (১৪ মার্চ) ডিএমপি থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের এক আদেশে সহকারী পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা-লালবাগ বিভাগ) এনায়েত কবীর সোয়েবকে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা-মিরপুর বিভাগ) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
অপরদিকে সহকারী পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা-ওয়ারী বিভাগ) এম এম সবুজ রানাকে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা-উত্তরা বিভাগ) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের আরেক আদেশে সহকারী পুলিশ কমিশনার (ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি বিভাগ) আরিফুল ইসলাম সরকারকে সহকারী পুলিশ কমিশনার ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগের (ট্রাফিক-রামপুরা জোন) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
সহকারী পুলিশ কমিশনার (সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ) ইমরানুল ইসলামকে মতিঝিল বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (সবুজবাগ জোন) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-সবুজবাগ জোন) তৌফিক আহমেদকে মতিঝিল বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (খিলগাঁও জোন) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
সহকারী পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ-উত্তর) জান্নাতুল ফেরদৌসকে মতিঝিল বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-সবুজবাগ জোন) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
সহকারী পুলিশ কমিশনার (ইকুইপমেন্ট-লজিস্টিক বিভাগ) মো. সাইদুর রহমান শেখকে তেজগাঁও বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল জোন) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
অপরদিকে, সহকারী পুলিশ কমিশনার (পিওএম-পূর্ব বিভাগ) শুভ্র দেবকে ট্রাফিক-রমনা বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-ধানমন্ডি জোন) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
সহকারী-পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন বিভাগ) হাসান রাশেদ পরাগকে উত্তরা বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (পেট্রোল-উত্তরা পশ্চিম) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
সহকারী-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-রামপুরা জোন) এ কে এম নছরুত হাসানকে ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-ডেমরা জোন) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
দেশের আরও পাঁচটি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। শনিবার (১৪ মার্চ) স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানা গেছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪' এর ধারা ২৫ক এর উপধারা (১) এর অনুবৃত্তিক্রমে নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিগণকে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের নামের পাশে বর্ণিত সিটি কর্পোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হলো’।
এর মধ্যে বরিশাল সিটি করপোরেশনে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অ্যাড. বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, রাজশাহী সিটিতে মো. মাহফুজুর রহমান, ময়মনসিংহ সিটিতে মো, রুকুনোজ্জামান রোকন, রংপুর সিটিতে মাহফুজ উন নবী চৌধুরী এবং কুমিল্লা সিটিতে মো. ইউসুফ মোল্লা।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকগণ স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪' এর ধারা ২৫ক এর উপ-ধারা (৩) অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এর ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। তারা বিধি মোতাবেক ভাতা পাবেন।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর মোট ৫০ ঘণ্টা আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির প্রথম বৈঠকে।
আজ শনিবার (১৪ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
কমিটির সদস্য হিসেবে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে আরও অংশগ্রহণ করেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, এ টি এম আজহারুল ইসলাম, বিরোধীদলের চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম এবং মুহাম্মদ নওশাদ জমির।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের কার্যাদি নিষ্পন্নের জন্য সময় বরাদ্দ ও অধিবেশনের স্থায়িত্বকাল নিয়ে আলোচনা করা হয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর মোট ৫০ ঘণ্টা আলোচনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টায় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে এবং ৩০ এপ্রিল অধিবেশন শেষ হবে বলে সিদ্ধান্ত হয় বৈঠকে। এ ছাড়া প্রয়োজনে অধিবেশনের সময় ও কার্যদিবস সম্পর্কিত যেকোনো বিষয় পরিবর্তনের ক্ষমতা স্পিকারকে দেওয়া হয়েছে
অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য আটটি ও অন্যান্য মন্ত্রীর জন্য ৪৬০টি প্রশ্নসহ মোট ৪৬৮টি প্রশ্ন পাওয়া গেছে। বিধি-৭১-এ মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশ পাওয়া গেছে ২৭টি এবং বিধি-১৩১ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত-প্রস্তাবের ৯৭টি নোটিশ পাওয়া গেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।
শনিবার (১৪ মার্চ) বিকাল পৌনে ৩টার দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
তিনি জানান, আগামীকাল সংসদের অধিবেশন শেষে তা ২৮ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি থাকবে। এরপর ২৯ মার্চ থেকে পুনরায় অধিবেশন শুরু হয়ে চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত।
বৈঠকে প্রথম অধিবেশনে কী কী বিষয় উত্থাপন করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া সংস্কার সংক্রান্ত বিষয়ে সংসদে সিদ্ধান্ত হবে বলেও জানান মন্ত্রী।
এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টায় বৈঠক শুরু হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতাসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা অংশ নেন।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর। আজ শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২ এর জেল সুপার মো. আল মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গতকাল শুক্রবার তার জামিনের কাগজ কারাগারে পৌঁছায়।
পরে যাচাই-বাছাই শেষে আজ শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
এ সময়ে তাঁর স্ত্রীসহ স্বজনেরা কারাগারে উপস্থিত ছিলেন।
খুব অল্প সময়ের মধ্যে বন্ধ পাটকল চালু হবে বলেছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম।
তিনি বলেন, পাট আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জীবনের সঙ্গে মিশে আছে। একসময় সোনালী আঁশের মাধ্যমে বাংলাদেশের পরিচিতি ছিল। আজকে এটা প্রায় অনেকটা পিছিয়ে গেছে। আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতেই ছিল বন্ধ পাটকল মিল আবার চালু করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতিতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই খাতে বৈচিত্র্য এনে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।
শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইন্সটিটিউট প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন আমাদের সরকারের বয়স খুবই কম তবুও আমরা বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা করছি যাতে খুব অল্প সময়ের মধ্যে এগুলো দৃশ্যমান হয়। পাশাপাশি পাট ও পাটের বীজের উৎপাদন বৃদ্ধি করা, বন্ধ মিল কারখানা গুলো চালু করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।
২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্লাস্টিককে নিষিদ্ধ করেছিলেন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এর ধারাবাহিকতায় আমরা আবার মানুষকে প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলে আমরা এই চট ও পাটের দ্রব্যাদি ব্যবহারের জন্য উদ্বুদ্ধ করব। ইতোমধ্যে আত্ম মন্ত্রণালয় ও সরকারের বিভিন্ন অফিসে পাটপণ্যের ব্যবহার বাড়াতে আমরা উদ্যোগী হচ্ছি। পাশাপাশি নিত্য প্রয়োজনীয় যেসব জায়গায় পাট ও চটের ব্যবহার করা যায় সেগুলো নিশ্চিত করা হবে।
এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, গণপূর্ত বিভাগ পিরোজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.শহীদুল ইসলাম, ভান্ডারিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন আকন, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান হাওলাদার, সদস্য সচীব মাসুদ রানা পলাশ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বিপ্লবসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
প্রথম পর্যায়ে ৫৪টি জেলায় এ কর্মসূচি শুরু হবে। আগামী ১৬ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় খাল খননের মাধ্যমে ‘দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
একইসঙ্গে আরও ৫৩টি জেলায় মন্ত্রী, উপদেষ্টা, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ ও সংসদ সদস্যগণ সংশ্লিষ্ট জেলায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
এ কর্মসূচি কৃষি ও সেচ কার্যক্রমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে; কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে এবং গ্রামীণ জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। একইসঙ্গে ভূ-উপরিস্থ পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস পাবে; যার ফলে খরা, বন্যা ও জলাবদ্ধতা হ্রাসে সহায়ক হবে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা-৩ শাখা থেকে এক পত্রের মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তুরস্কে সংক্ষিপ্ত যাত্রা বিরতি করবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা গনমাধ্যমকে জানান, নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে তুরস্কে অবস্থানকালে ড. খলিলুর রহমান কয়েকটি বৈঠক ও কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্ব পাওয়ার দৌড়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন আরও জোরালো করার চেষ্টা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের মাসিক সম্মানি প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের সম্মানি ভাতা দেওয়ার ঘোষণা আগেই দিয়েছিল বিএনপি।
ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতিটি মসজিদে মাসিক ভাতা ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে ইমাম ৫ হাজার, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার এবং খাদেম ২ হাজার টাকা করে পাবেন।
প্রতিটি মন্দিরের জন্য ৮ হাজার টাকা দেওয়া হবে। যা থেকে পুরোহিত ৫ হাজার এবং সেবাইত ৩ হাজার টাকা পাবেন। প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারের জন্য ৮ হাজার টাকা দেওয়া হবে। যার মধ্যে বিহার অধ্যক্ষ ৫ হাজার এবং উপাধ্যক্ষ ৩ হাজার টাকা পাবেন।
এ ছাড়া প্রতি চার্চের জন্য ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যারমধ্যে পালক/যাজক ৫ হাজার ও সহকারী পালক/যাজক ৩ হাজার টাকা পাবেন।
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের জেরে বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে জ্বালানি তেল, গ্যাস, সার, পরিবহন ব্যয় ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় জ্বালানি নিরাপত্তা, খাদ্য ও কৃষি উপকরণ সরবরাহ, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বাজার স্থিতিশীলতার ওপর জোর দিচ্ছে বিএনপি সরকার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, ব্যবসায়ীদের আস্থা অর্জন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কৃষি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে ‘ফার্মারস কার্ড’ ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রবর্তন, সার্কুলার অর্থনীতির মাধ্যমে বর্জ্যকে জ্বালানিতে রূপান্তর, তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা পুনরায় চালুর উদ্যোগ এবং দুর্নীতি রোধ ও বাজার স্থিতিশীল রাখার কার্যকর পদক্ষেপ। এছাড়া গণতান্ত্রিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট সংকটের বিষয়টিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এ কারণেই সরকার উদ্যোগ নিয়েছে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে উৎপাদন সচল রাখা এবং মানুষের জীবনযাত্রায় অপ্রয়োজনীয় কষ্ট বাড়তে না দেওয়া।
তিনি বলেন, আমরা দ্রুত উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছি, যার কাজ হলো যুদ্ধ পরিস্থিতির সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন করা এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় একটি কার্যকর ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট প্রস্তুত করা। কমিটিতে অর্থ, জ্বালানি, বাণিজ্য, স্বরাষ্ট্র, প্রবাসী কল্যাণ, খাদ্য ও স্থানীয় সরকারের মতো সব গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়কে যুক্ত করা হয়েছে, যাতে সমন্বিত এবং বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়।
তিনি বলেন, আমাদের প্রস্তুতি কয়েকটি স্তরে এগোচ্ছে। প্রথমত, জ্বালানি তেল, এলএনজি ও সারের মজুত, আমদানি ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, বিকল্প উৎস থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্যও কাজ চলছে। তৃতীয়ত, প্রয়োজন হলে বিদ্যুৎ, কৃষি ও জরুরি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে জ্বালানি বণ্টনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্থাৎ আমরা প্যানিক রেসপন্স নয়, প্ল্যানড রেসপন্সের পথে হাঁটছি।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান কাজ। বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরদিন থেকেই রমজান মাস শুরু হয়েছে। প্রস্তুতির জন্য খুব বেশি সময় না থাকলেও দেশে যে পরিমাণ খাদ্যপণ্যের সরবরাহ মজুত আছে, তা দিয়ে বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখা সম্ভব, শঙ্কার কোনো কারণ নেই।
খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর বলেন, ২০২৬ সালের পৃথিবীতে টিকে থাকতে হলে আমাদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। বৈশ্বিক পরিসরে বাংলাদেশকে শক্ত অবস্থানে নিতে আগামী পাঁচ বছরের প্রতিটি দিন, প্রতিটি ঘণ্টা আমরা পরিকল্পরা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করব।
দেশের রপ্তানি পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। তার মতে, চার-পাঁচ মাস ধরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ধারায় আছে, যার প্রভাব বাজারে পড়েছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে রপ্তানি খাতে বৈচিত্র্য আনার বিকল্প নেই। আগামী দিনে বিষয়গুলো মোকাবিলা করাই সরকারের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।
এদিকে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অর্থনীতির কঠিন একসময়ে দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ১৭ বছরে নানা চড়াই-উত্রাইয়ে নিজেকে ‘শাণিত’ করা তারেক রহমান এমন একসময় বাংলাদেশকে সাজানোর ক্ষমতা পেয়েছেন, যখন ব্যাংক খাত লুটপাটে পথহারা। দেশ চলছে ধারদেনায়।
অর্থনীতি বিশ্লেষক ও ফিন্যানশিয়াল এক্সিলেন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান মামুন রশীদ বলেন, একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে, বিশেষ করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের প্রথম এবং প্রধান কাজ ভেঙে পড়া অর্থনৈতিক কাঠামোকে মেরামত করা। দীর্ঘদিনের লুণ্ঠনমূলক অর্থনীতি আর সুশাসনের অভাব বিনিয়োগকারীদের মনে যে গভীর আস্থাহীনতা তৈরি করেছে, তা দূর করাই প্রধান চ্যালেঞ্জ।
অর্থনীতি বিশ্লেষক মামুন রশীদ আরো বলেন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ হাতে নিতে হবে। সবার আগে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করে একটি শক্তিশালী ও গতিশীল মুদ্রানীতি প্রণয়ন করতে হবে, যা কেবল কাগজ-কলমে নয়, বাস্তবে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফেরাবে। হুন্ডি বন্ধ করে বৈধ পথে রেমিট্যান্স আনা এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণে বিশেষ প্রণোদনা দিতে হবে। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সবচেয়ে বেশি জোর দিতে হবে বেকারত্ব, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট, বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য আর ব্যবসায়ের পরিবেশ তৈরিতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
নিট পোশাক রপ্তানি খাতের উদ্যোক্তা ও বিকেএমইএর সাবেক প্রেসিডেন্ট ফজলুল হক বলেন, ‘আমরা ব্যবসায়ীরা নির্বাচনের আগে তারেক রহমানকে আমাদের সমস্যার কথা জানিয়েছিলাম। বিশেষ করে আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি করা, জনজীবন-ব্যবসায় মব কালচার নিয়ন্ত্রণ করা, ব্যাংক খাত পুনর্গঠন, সুদের হার কমানো, জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানো, সুশাসন নিশ্চিত করা ইত্যাদি বিষয়ে তিনি খুবই আন্তরিক।