সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

তদন্ত কার্যক্রম ও বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চলছে : চিফ প্রসিকিউটর

বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ১২ এপ্রিল, ২০২৫ ১৪:১৯

জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত কার্যক্রম এবং বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট রিপোর্টারদের সাথে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

এ প্রক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ সমন্বিত এবং পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের পলাতক সুবিধাভোগীরা বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে তদন্ত কার্যক্রম এবং বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিতভাবে তদন্ত কার্যক্রম এবং প্রসিকিউটরদের সম্পর্কে গুজব বা ভুল তথ্য ছড়ানোর মাধ্যমে বা মিথ্যা অপবাদ প্রদান করে জনমনে বিশেষত শহীদ পরিবারদের বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রসিকিউশন।

এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর অভিযোগ আনয়নের লক্ষ্যে বিপুল অর্থ ব্যয়ে ব্রিটেনের বিখ্যাত ল ফার্ম ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার্সকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ২২ মামলায় (মিস কেস) ১৪১ জন অভিযুক্ত ব্যক্তির মধ্যে ৫৪ জন গ্রেফতার ও ৮৭ জন পলাতক রয়েছেন বলে জানায় প্রসিকিউশন।

চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই- আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে দেড়-দুই হাজারের বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন। ২৫ হাজারের মতো ছাত্র-জনতা আহত হয়েছেন। এসব ঘটনার জলজ্যান্ত প্রমাণ রয়েছে। ট্রাইব্যুনালে আমরা সেটা প্রমাণ করতে সক্ষম হবো এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবো।’

প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মোট ৩৩৯টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যেখানে ৩৯ টি তদন্ত কার্যক্রম (কমপ্লেইন্ট রেজিস্টার অনুসারে) চলমান। তদন্তের প্রাথমিক সত্যতার আলোকে মিস কেইস হয়েছে ২২টি। এইসব মিস কেইসে সর্বমোট অভিযুক্ত ব্যক্তি ১৪১ জন। এর মধ্যে গ্রেফতার রয়েছেন ৫৪ জন, আর ওয়ারেন্ট ভুক্ত পলাতক ৮৭ জন।

প্রসিকিউশন জানায়, আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো, চানখারপুল হত্যাকাণ্ড, রামপুরা কার্নিশে ঝুলে থাকা ব্যক্তিকে গুলির প্রেক্ষিতে করা শেখ হাসিনার মামলার তদন্ত শেষ বা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমে চিফ প্রসিকিউটর সহ মোট ১৭ জন প্রসিকিউটর রয়েছেন। আর ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় মোট তদন্তকারী কর্মকর্তার সংখ্যা বর্তমানে ২৪ জন। তদন্ত সংস্থার সকল সদস্যই পুলিশ বাহিনী থেকে প্রেষণে বা চুক্তিভিত্তিক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আন্দোলন শুরু করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা। এ সংক্রান্ত হাইকোর্টের এক রায়কে কেন্দ্র করে ফুঁসে ওঠে ছাত্র সমাজ। তাদের ওপর সরকারের দমন পীড়নের প্রেক্ষিতে জনতা এসে শরীক হয় ছাত্রদের সাথে। শুরু হয় ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলন। এ আন্দোলন নির্মূলে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় ক্যাডারদের দিয়ে হত্যা গণহত্যা ও মানবতা বিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে। টানা ৩৬ দিনের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন হয়। আন্দোলন নির্মূলে পরিচালিত মানবতা বিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচার অনুষ্ঠিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।


নির্বাচিত

দেশে উগ্রবাদের আশঙ্কাজনক কোনো আলামত দেখছি না: সিটিটিসি প্রধান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে বর্তমানে উগ্রবাদী তৎপরতা নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়ার মতো কোনো আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে আশ্বস্ত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক। সোমবার (২৭ জুলাই) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান যে, কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠী যাতে সক্রিয় হতে না পারে, সেজন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সার্বক্ষণিক কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে কেরানীগঞ্জ ও মতিঝিলসহ বিভিন্ন স্থানে বোমা বিস্ফোরণ ও বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনাগুলোর প্রেক্ষাপটে সিটিটিসি প্রধান সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তাদের বিশেষায়িত ইউনিটের কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উগ্রবাদ দমনে সিটিটিসির সক্ষমতা ও তৎপরতা সম্পর্কে বলেন, "সবসময়ই আমরা অনলাইন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, আমাদের ডাটাবেজের মাধ্যমে উগ্রবাদ মনিটরিং অব্যাহত রেখেছি এবং যখনই কোনো সংবাদ পাই, আমরা সঙ্গে সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করি। আমরা এগুলো আয়ত্তে রাখছি আলাদা। এদের সর্বোচ্চ আমরা চেষ্টা করছি।" বর্তমান পরিস্থিতিতে উগ্রবাদীরা শক্তিশালী হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, "না, এ বিষয়ে আমরা এখনই বলার কোনো সুযোগ নেই। তবে আমরা বলব যে, দেশের মধ্যে আশঙ্কাজনক এরকম কোনো আমরা লক্ষণ দেখছি না।"

মতিঝিলে একটি ছাতার ভেতর থেকে বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনাটি নিয়ে এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান যে, খবর পাওয়ামাত্রই বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এর পেছনের কুশীলব বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়। এ সময় তিনি ‘পাতা কমব্যাট’ মামলার অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে জানান, এই মামলায় ইতিমধ্যে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মূল অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। প্রযুক্তিনির্ভর বিশেষ নজরদারি ও মাঠপর্যায়ের গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রাখার মাধ্যমে সিটিটিসি যেকোনো সম্ভাব্য উগ্রবাদী হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


নির্বাচিত

সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে: মির্জা ফখরুল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। তিনি আরও বলেন, "দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেয়া হবে। সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে।"

সোমবার সকালে রংপুরের বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় নবনির্মিত বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)-এর বিভাগীয় দপ্তরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।

সমসাময়িক রাজনীতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী মন্তব্য করেন, "যারা বিএনপিকে ফ্যাসিবাদী দল বলে, তাদের জ্ঞানের অভাব রয়েছে। বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল। আর জামায়াতে ইসলামী গণতান্ত্রিক দল কি না, সে বিষয়ে তাদের দলের নেতারাই বিবেচনা করবেন।"

উক্ত অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এরপর তিনি রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি চত্বরে আয়োজিত পল্লী মেলার সূচনা করেন এবং বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। পরবর্তী সময়ে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বিআরডিবি’র উপকারভোগীদের মাঝে গাছের চারা ও ঋণের চেক বিতরণ করেন তিনি।


নির্বাচিত

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানি ও আর্থিক সুবিধা বাড়লো

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বীর সন্তান, শহীদ পরিবার এবং যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানি ভাতার পাশাপাশি বিভিন্ন আর্থিক অনুদানের পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাজেট অধিশাখা থেকে সম্প্রতি জারি করা একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিভিন্ন পর্যায়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের উত্তরাধিকারীদের জন্য মাসিক সম্মানি, উৎসব ভাতা, চিকিৎসা সহায়তা এবং মহান বিজয় দিবস ও বাংলা নববর্ষের বিশেষ অনুদান পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের এই নতুন সুযোগ-সুবিধা ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আলোকে গৃহীত এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো মুক্তিযোদ্ধাদের সামাজিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা সুসংহত করা।

প্রজ্ঞাপনের বিস্তারিত অনুযায়ী, খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ‘বীর উত্তম’ খেতাবধারীরা এখন থেকে মাসিক ৩০ হাজার টাকা হারে সম্মানি ভাতা পাবেন। এর পাশাপাশি তাঁরা ১০ হাজার টাকা উৎসব ভাতা, ৫ হাজার টাকা বিজয় দিবস ভাতা এবং ২ হাজার টাকা নববর্ষ ভাতা লাভের অধিকারী হবেন। অন্যদিকে, ‘বীর বিক্রম’ ও ‘বীর প্রতীক’ খেতাবপ্রাপ্ত যোদ্ধাদের জন্য মাসিক সম্মানি ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। তাঁদের ক্ষেত্রেও উৎসব ভাতা ১০ হাজার টাকা, বিজয় দিবস ভাতা ৫ হাজার টাকা এবং নববর্ষ ভাতা ২ হাজার টাকা বহাল রাখা হয়েছে। শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তাঁদের মাসিক মূল সম্মানি বাড়িয়ে ২৩ হাজার টাকা করা হয়েছে। এর সাথে তাঁরা ২ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা, ৫ হাজার টাকা খাদ্য ভাতা, ২৩ হাজার টাকা উৎসব ভাতা এবং ২ হাজার টাকা বাংলা নববর্ষ ভাতা পাবেন।

যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য তাঁদের শারীরিক অক্ষমতার গুরুত্ব বিবেচনা করে চারটি ভিন্ন শ্রেণিতে ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন হার অনুযায়ী, ৯৬ থেকে ১০০ শতাংশ অক্ষম ‘ক’ শ্রেণির যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ৩০ হাজার টাকা, ৬১ থেকে ৯৫ শতাংশ অক্ষম ‘খ’ শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধারা ২৮ হাজার টাকা, ২০ থেকে ৬০ শতাংশ অক্ষম ‘গ’ শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধারা ২৩ হাজার টাকা এবং ১ থেকে ১৯ শতাংশ অক্ষম ‘ঘ’ শ্রেণির যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ২০ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা পাবেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ডা. মু. আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জাতির বীর সন্তানদের আর্থিক স্বচ্ছলতা ও জীবনমান নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং বর্তমান এই বৃদ্ধি সেই কল্যাণমুখী প্রচেষ্টারই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।


নির্বাচিত

ফের চালু হলো বিমানের ঢাকা-নারিতা সরাসরি ফ্লাইট

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম এবং বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত ফিতা কেটে ঢাকা-নারিতা ফ্লাইটের উদ্বোধন করেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় স্থগিত থাকার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-নারিতা সরাসরি আকাশপথ পুনরায় সচল হয়েছে। সোমবার মধ্যরাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই রুটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, "ভবিষ্যতে এই রুট আর বন্ধ করার প্রশ্নই আসে না।" তিনি আরও যোগ করেন যে, "আশা করি এবার রুটটি লাভজনক হবে এবং ইতোমধ্যে উদ্বোধনী ফ্লাইটের পাশাপাশি ফিরতি ও পরবর্তী ফ্লাইটগুলোর বুকিংও সম্পন্ন হয়েছে।" সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বিশ্বাস যে, সরাসরি এই বিমান যোগাযোগ দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিক্ষার পাশাপাশি জনসম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আরও বলেন, "আজকের ঢাকা-নারিতা ফ্লাইট আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।"

একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি জানান যে, জাপানে বসবাসরত প্রায় ৪৫ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে এই ফ্লাইটটি চালু করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, "জাপান প্রবাসী প্রায় ৪৫ হাজার বাংলাদেশি ছাত্র, শ্রমিক ও অভিবাসীদের কথা বিবেচনায় রেখে আমরা ফ্লাইটটি চালু করেছি।" ভবিষ্যতে চাহিদা অনুযায়ী বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, "১৯৮০ সালে উড়োজাহাজ স্বল্পতা থাকা সত্ত্বেও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্ক সুদৃঢ় করার জন্য ঢাকা-নারিতা ফ্লাইট চালু করেছিলেন।"

অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ফিতা কেটে যাত্রার শুভ সূচনা করেন এবং জাপানগামী যাত্রীদের বিদায় জানান। উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে বন্ধ হয়ে যাওয়া এই রুটটি পুনরায় সচল হওয়ার পর গত ২৭ জুলাই রাত ২টা ২৫ মিনিটে বিজি-৩৭৬ ফ্লাইটটি নারিতার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে।


নির্বাচিত

শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনালে বসছে অত্যাধুনিক ইনডোর টেলিকম নেটওয়ার্ক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (এইচএসআইএ) তৃতীয় টার্মিনালে দেশের অন্যতম অত্যাধুনিক ইনডোর টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন করতে যাচ্ছে সরকার। এর ফলে যাত্রী ও কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে কোনো ধরনের নেটওয়ার্ক দুর্বলতা ছাড়াই নিরবচ্ছিন্ন ভয়েস ও উচ্চগতির ডেটা সেবা নিশ্চিত হবে।

সরকারি নথি অনুযায়ী, এ প্রকল্পের আওতায় একটি অত্যাধুনিক ‘অ্যাক্টিভ ডিস্ট্রিবিউটেড অ্যান্টেনা সিস্টেম’ (অ্যাক্টিভ ডাস) বসানো হবে। এর সাথে যুক্ত থাকবে শত শত স্মল সেল ও ওয়াই-ফাই অ্যাক্সেস পয়েন্ট।

পুরো টার্মিনাল কমপ্লেক্সজুড়ে নিরবচ্ছিন্ন ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ৪জি এবং ভবিষ্যৎ উপযোগী ৫জি সংযোগ দিতে এই ব্যবস্থা ডিজাইন করা হয়েছে।

টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরী বলেন, এই নেটওয়ার্ক স্থাপন কাজের জন্য ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কার্যাদেশ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কাজ শুরু হবে।’

প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্ক মূলত আউটডোর টাওয়ারের ওপর নির্ভরশীল হলেও, এই প্রযুক্তি বিশেষভাবে জটিল ইনডোর পরিবেশের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যেখানে রি-ইনফোর্সড কংক্রিট, স্টিল কাঠামো ও বিশাল কাঁচের দেয়াল রেডিও সংকেতকে দুর্বল করে দেয়।

৭০০টি স্মল সেল এবং ৬৩৫টি ওয়াই-ফাই ইউনিটের সাহায্যে অ্যাক্টিভ ডাস কাঠামোর মাধ্যমে সংকেত ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এটি কোনো সিগন্যাল ড্রপ ছাড়াই যাত্রী ও কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন ভয়েস ও উচ্চগতির ডেটা সেবা দেবে।

ভবিষ্যতের বিমান চলাচল প্রযুক্তির কথা বিবেচনা করেই এই ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। যাত্রী, এয়ারলাইন্স ও বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি এই ৪জি ও ৫জি উপযোগী নেটওয়ার্ক আগামী দিনে বিমানবন্দরের আধুনিক পরিচালনায় সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগ কেন্দ্রের জন্য একটি সম্প্রসারণযোগ্য যোগাযোগ কাঠামো তৈরি হবে।

৪৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড, যার সম্পূর্ণ অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার।

প্রকল্পটির মাধ্যমে পুরো তৃতীয় টার্মিনালে মোবাইল নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে ইমিগ্রেশন এলাকা, চেক-ইন কাউন্টার, ভিআইপি লাউঞ্জ, এক্সপোর্ট কার্গো টার্মিনাল (ইসিটি), ইমপোর্ট কার্গো টার্মিনাল (আইসিটি) এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইনডোর সুবিধা।

প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে মূলধনী ব্যয় হিসেবে ৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই টাকা মূলত মূল নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম, ট্রান্সমিশন সিস্টেম, অ্যাক্টিভ ডাস উপকরণ, স্মল সেল ও ওয়াই-ফাই ডিভাইসসহ টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো খাতে খরচ হবে।

রাজস্ব ব্যয় হিসেবে নির্ধারিত ২ কোটি ২৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ, পরিবহন, প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণে খরচ হবে। অন্যদিকে দৈব ও মূল্যবৃদ্ধিজনিত সম্ভাব্য খরচের জন্য ২৫ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। প্রকল্পের কাজ ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধির বিষয়টিকে সামনে রেখেই এই বিনিয়োগ করা হচ্ছে। বর্তমানে এই বিমানবন্দর দিয়ে বছরে প্রায় ৯১ লাখ যাত্রী চলাচল করেন। ২০৩৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ১ কোটি ৮৫ লাখে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া প্রতিদিন এখান থেকে প্রায় ১৯০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালিত হয় এবং বছরে প্রায় ২ লাখ ৪৮ হাজার মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং করা হয়।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়, নবনির্মিত এই টার্মিনালে এখনো ব্যাপক ইনডোর মোবাইল কভারেজের ঘাটতি রয়েছে। ফলে, বিভিন্ন ইনডোর এলাকায় দুর্বল সিগন্যাল, কল বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এবং ধীরগতির ইন্টারনেট সেবার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

পুরো টার্মিনালজুড়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ নেটওয়ার্ক কার্যক্ষমতা নিশ্চিত করে এসব সীমাবদ্ধতা দূর করাই নতুন এই টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর লক্ষ্য।

দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি প্রতি বছর লাখ লাখ বিদেশি দর্শনার্থীর প্রথম প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে। তাই এই প্রকল্প বাংলাদেশের ডিজিটাল প্রবেশদ্বারকে আরো শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে। নিখুঁত ও উচ্চগতির মোবাইল সংযোগ যাত্রীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে, বিমানবন্দর পরিচালনায় গতি আনতে এবং পর্যটন ও বৈদেশিক বিনিয়োগে সহায়তা করতে অপরিহার্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই উদ্যোগ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। সেখানে বিমানবন্দর ও অন্যান্য প্রধান জনবান্ধব স্থানে বিনামূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

বাংলাদেশ ব্যাংক ও মুদ্রানীতি নিয়ে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রম ও দেশের মুদ্রানীতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা, মুদ্রানীতির লক্ষ্য, বাস্তবায়ন কৌশল ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে একটি বিস্তারিত প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়।

কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমান এমপির সভাপতিত্বে রোববার (২৬ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপস্থাপনার পর কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন এবং দেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ পরিবেশ, ব্যাংকিং খাতের চ্যালেঞ্জ ও মুদ্রানীতির কার্যকারিতা নিয়ে মতামত দেন।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, মো. জালাল উদ্দিন, মঈনুল ইসলাম খান, মো. শাহাদাত হোসেন, মো. সাইফুল আলম, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ও মো. আবুল হাসনাত বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়া বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে দেশের আর্থিক খাতের সার্বিক পরিস্থিতি, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত কার্যক্রম ও অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক নিয়ে সদস্যরা মতবিনিময় করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


নির্বাচিত

জনভোগান্তি এড়াতে সমন্বিত পরিকল্পনা সরকারের   

* গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে শিগগিরই: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী * আন্তর্জাতিক কারিগরি দল নিয়োগ * অভ্যন্তরীণ বিকল্প ব্যবস্থাপনা  
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

কক্সবাজারের মহেশখালীতে সাগরে অবস্থিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অনাকাঙ্ক্ষিত যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহে সাময়িক বিঘ্ন ঘটেছে। হঠাৎ তৈরি হওয়া এই সংকট নিরসনে এবং জনভোগান্তি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়, পেট্রোবাংলা এবং বিতরণকারী সংস্থাগুলো তৎপরতার সঙ্গে সমন্বিত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক কারিগরি দল নিয়োগের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বিকল্প ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে খুব দ্রুততম সময়ে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হচ্ছে।

গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে মার্কিন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘এক্সিলারেট এনার্জি’ পরিচালিত এফএসআরইউ ‘এক্সিলেন্স’-এ গ্যাস খালাসের সময় বয়লারে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। তবে আন্তর্জাতিক মানের অটোমেটেড সেফটি প্রটোকল এবং দায়িত্বরত কর্মীদের দ্রুততার কারণে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে এলএনজিবাহী জাহাজটিকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। ফলে শত কোটি ডলার মূল্যের অবকাঠামো ও জাতীয় সম্পদ একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডে টার্মিনালের দুটি বয়লারের একটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ কিছুটা কমে যায়। দুটি টার্মিনালের মাধ্যমে গড়ে প্রতিদিন ৯৫ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও এক্সিলারেটের ৬০ কোটি ঘনফুট সক্ষমতার টার্মিনালটি বন্ধ হওয়ায় সরবরাহ সাময়িকভাবে কমে দাঁড়ায়। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশীয় প্রতিষ্ঠান সামিট এলএনজি টার্মিনালের সরবরাহ ৫০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৫৭ কোটি ঘনফুটে উন্নীত করে জাতীয় গ্রিড সচল রাখা হয়েছে।

সংকট নিরসনে সরকারের বহুমুখী উদ্যোগ; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, গ্যাস সংকটের মূল কারণ কোনো জ্বালানি ঘাটতি নয়, বরং এটি একটি সম্পূর্ণ যান্ত্রিক ও কারিগরি বিষয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার যেসকল কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দল গঠন: ইংল্যান্ড (যুক্তরাজ্য) থেকে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের একটি দল ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছেন। মার্কিন কারিগরি দলসহ তারা সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য মহেশখালীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

ধাপে ধাপে সরবরাহ বৃদ্ধি: টার্মিনালের দ্বিতীয় বয়লারটি সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ মেরামত হলে দ্রুতই দৈনিক আরও ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

পর্যাপ্ত মজুত ও জাহাজ প্রস্তুত: পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, এলএনজি আমদানিতে কোনো ঘাটতি নেই। নতুন এলএনজিবাহী জাহাজ সাগরে প্রস্তুত রয়েছে, যা টার্মিনাল মেরামতের পরপরই খালাস প্রক্রিয়া শুরু করবে।

বিতরণ ব্যবস্থা ও কৌশলগত ব্যবস্থাপনা: জাতীয় চাহিদার বিপরীতে সাময়িক ঘাটতি সামাল দিতে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি সীমিত সরবরাহের মাধ্যমে সর্বাত্মক সমন্বয় বজায় রাখছে।

তিতাসের ব্যবস্থাপনা: তিতাসের প্রতিদিনের ১৯০ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে ১২০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়েছে, যাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অতি প্রয়োজনীয় খাতগুলোতে গ্যাস পৌঁছানো সম্ভব হয়।

সিএনজি পাম্প ও আবাসিক খাত: গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে যে দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়েছে, তা সামাল দিতে পেট্রোবাংলা নিয়মিত পাম্প মালিক অ্যাসোসিয়েশন এবং পরিবহন নেতাদের সাথে যোগাযোগ রাখছে। একই সাথে অসাধু চক্র যাতে কৃত্রিম সংকট বা গুজব ছড়িয়ে গ্যাসের বাজারে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তায় সরকারের দীর্ঘমেয়াদী রোডম্যাপ: সাময়িক এই সংকট সরকারের ভবিষ্যৎ জ্বালানি রূপরেখাকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার পথ উন্মোচন করেছে। বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্টদের মতামতের ওপর ভিত্তি করে সরকার দীর্ঘমেয়াদি কৌশল বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে। শুধু ভাসমান টার্মিনালের ওপর নির্ভরতা কমাতে দ্রুত স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের কাজ ত্বরান্বিত করা হচ্ছে। আমদানি করা এলএনজির পাশাপাশি সাগরে ও স্থলে দেশীয় গ্যাস কূপ খনন ও অনুসন্ধান কার্যক্রম ব্যাপকভাবে জোরদার করা হচ্ছে। ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য সৌর ও বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির বাস্তবমুখী নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

যান্ত্রিক ত্রুটি সম্পূর্ণ দূর করে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের রান্নাঘর, সড়ক ও শিল্পকারখানায় গ্যাসের স্বাভাবিক চাপ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি সংস্থা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।

গ্যাস সরবরাহের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে গ্যাস সরবরাহে যে সাময়িক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধানের জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অচিরেই গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে এবং পাওয়ার প্ল্যান্ট, শিল্পকারখানা, বাসাবাড়ি ও সিএনজি স্টেশনে গ্যাসের চাপ আগের মতো ফিরে আসবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের দুটি এফএসআরইউ বা ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটের মাধ্যমে আমদানি করা এলএনজি গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। এই গ্যাসের ওপর ভিত্তি করেই বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানা সচল থাকে এবং রাজধানীতে গৃহস্থালির রান্নার কাজ চলে। বর্তমানে একটি এফএসআরইউতে কারিগরি সমস্যা দেখা দিয়েছে। এটি মেরামতের জন্য একটি বেসরকারি কম্পানি ও পেট্রোবাংলা একযোগে কাজ করছে এবং সরকারের জ্বালানি বিভাগ সার্বক্ষণিক তদারকি করছে।


নির্বাচিত

সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তারের মতো কিছু দেখছি না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে বর্তমানে সরকার আমলে নেওয়ার মতো কোনো অভিযোগ দেখছে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তারের মতো কিছু দেখছি না। আইন অনুযায়ী তিনি যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকারী, সবই পাবেন। নিরাপত্তাও পাবেন। রোববার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে তিনি ‘পুলিশের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান’ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন এবং সংবিধান অনুযায়ী স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। স্পিকার তা গ্রহণ করেছেন। সাংবিধানিক বিধান অনুসারে বর্তমানে স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা চাই মানুষ রাজনৈতিকভাবে মত প্রকাশ ও প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা ভোগ করুক। এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলতেই পারে। তবে বিষয়টি আমলে নেওয়ার মতো কোনো আইনি ভিত্তি আমরা দেখিনি।’

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালীন কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সাবেক রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক দায়মুক্তি (ইমিউনিটি) ও বিশেষ অধিকার (প্রিভিলেজ) ভোগ করেছেন। ফলে ওই সময়ের কর্মকাণ্ডের জন্য তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার সুযোগ নেই। তবে দায়িত্বকালের বাইরে কোনো অভিযোগ থাকলে তা প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে।

শেখ হাসিনার সঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতির কথোপকথন নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকারের কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। ‘আমরাও পত্রিকায় দেখেছি। কোনো গণমাধ্যম যদি এমন দাবি করে, তাহলে তার প্রমাণও তাদেরই দিতে হবে। আমাদের কাছে সেরকম কোনো তথ্য নেই। আর কথা বলার জন্য লন্ডনে যেতে হয় নাকি? আজকালকার ইন্টারনেটের দুনিয়ায় লন্ডন যেয়ে কারো সাথে কথা বলতে হয় না, এটা আমার কাছে অলীক মনে হয়। কথা বলতে চাইলে তো এখান থেকেও বলা যায়,’ বলেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও ব্যাংকের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের বিচার হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সে সময়কার কোনো অভিযোগ থাকলে তা আইন ও বিধি অনুযায়ী বিবেচিত হবে।

এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে তার নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে আইন অনুযায়ী তিনি প্রাপ্য সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এসএসএফ, পিজিআরসহ ছয় মাস নিরাপত্তা সুবিধার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো কেন সাবেক রাষ্ট্রপতির গ্রেপ্তার দাবি করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এর উত্তর তাদের কাছ থেকেই জানতে হবে।


নির্বাচিত

আগস্টে পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন না হলে বৃহত্তর কর্মসূচির ডাক

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ না হলে সারাদেশের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। রোববার (২৬ জুলাই) বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সদস্যসচিব আশিকুল ইসলামের পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি না হলে প্রথমে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সেই আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে সারাদেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয়ে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

আশিকুল ইসলাম বললেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে একটি সময়োপযোগী, বাস্তবসম্মত ও ন্যায্য বেতনকাঠামোর প্রত্যাশা করে আসছেন। কিন্তু এখনো নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বললেন, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রজ্ঞাপন কোথায় আটকে আছে?’

‘দীর্ঘদিনের এই প্রত্যাশা পূরণে সরকারের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মদক্ষতা ও জনসেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।’—যোগ করেন তিনি।

আশিকুল ইসলাম জানালেন, সংগঠনটি সবসময় শান্তিপূর্ণ, দায়িত্বশীল ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বিশ্বাসী। তাই প্রথমেই সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন মহলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে। তবে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বার্থে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করে দেশব্যাপী বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।


নির্বাচিত

আধুনিক সেনাবাহিনী গড়তে মেধা ও শৃঙ্খলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা সেনানিবাসে সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৭ জুলাই, ২০২৬ ০০:০৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি পেশাদার ও আধুনিক সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ বা রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে মেধা, পেশাগত যোগ্যতা, সততা, চারিত্রিক দৃঢ়তা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও শৃঙ্খলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

রোববার (২৬ জুলাই) সকালে ঢাকা সেনানিবাসে সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। এতে তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন ও পুনর্গঠনে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে শাহাদাতবরণকারী সেনাসদস্যদের প্রতিও প্রধানমন্ত্রী গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বলে জানান উপপ্রেস সচিব।

এ সময় দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানে সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। এ জন্য তিনি সেনাপ্রধানসহ বাহিনীর সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানান।

এর আগে সকালে সেনাসদরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এবং চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে নির্বাচনী পর্ষদের উদ্বোধন করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সেনাপ্রধান।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন এবং সেনাবাহিনীর পরিদর্শক বইয়ে মন্তব্য লিপিবদ্ধ করেন।


নির্বাচিত

৭৬.৫ শতাংশ টুথপেষ্টে বিপজ্জনক প্লাষ্টিক কণা

* ভয়াবহ ঝুঁকিতে মানবস্বাস্থ্য * ১৯ ব্র্যান্ডের ৩৪ টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতেই প্লাস্টিকের কণা * ৪টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি মেলেনি
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

সুস্থতার অভ্যাসে অদৃশ্য বিষপ্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে কিংবা রাতে ঘুমানোর আগে দাঁত পরিষ্কার করা সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন জীবনের একটি মৌলিক অংশ। শৈশব থেকেই পরিবার, সমাজ ও চিকিৎসকদের মাধ্যমে শেখানো হয়—সুস্থ থাকার অন্যতম পূর্বশর্ত হলো সঠিক মুখগহ্বরের পরিচ্ছন্নতা বা ‘ওরাল হাইজিন’। কিন্তু অবচেতন মনে গড়ে ওঠা এই স্বাস্থ্যকর সুঅভ্যাসই যদি অজান্তে দেহে মরণঘাতী বিষ পৌঁছে দেয়, তবে তা কতটা শঙ্কার? এ জবাব এসেছে পরিবেশ বিষয়ক গবেষণাধর্মী সংস্থা ‘এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন’ (এসডো) এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায়; উন্মোচিত হয়েছে চাঞ্চল্যকর ও ভয়াবহ তথ্য। রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর লালমাটিয়ায় এসডোর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার বিস্তারিত ফলাফল তুলে ধরেছে সংস্থাটি।

সংস্থাটির গবেষণা বলছে, বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্ট পরীক্ষা করে ২৬টিতেই মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ক্ষুদ্র প্লাস্টিকের কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে প্লাস্টিকের কণা মিলেছে সর্বনিম্ন ২০টি থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি পর্যন্ত।

গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, পরীক্ষা করা কোনো টুথপেস্টের মোড়কেই মাইক্রোপ্লাস্টিক বা কৃত্রিম পলিমার ব্যবহারের তথ্য উল্লেখ ছিল না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসতন্ত্র, পরিপাকতন্ত্র, হৃদরোগ, স্নায়ুতন্ত্র, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

সংস্থাটি জানায়, গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত পরিচালিত এ গবেষণায় দেশের ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি ল্যাবরেটরিতে স্টিরিওমাইক্রোস্কোপি ও ফুরিয়ার ট্র্যান্সফর্ম ইনফ্রারেড স্পেকট্রোস্কোপি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকার ২ হাজার ৭৬০ জন ভোক্তার ওপর জরিপ চালানো হয়।

এসডোর চেয়ারম্যান সৈয়দ মারঘুব মোর্শেদ বলেন, বাংলাদেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে এটিই প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণা। এটি ভবিষ্যতে জাতীয় মানদণ্ড প্রণয়ন, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ এবং ভোক্তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

গবেষ্ণা প্রতিবেদনে বলা হয়, পরীক্ষা করা টুথপেস্টগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে উৎপাদিত ২৫টির ২২টিতে, ভারতে উৎপাদিত ৫টির ১টিতে, থাইল্যান্ডে উৎপাদিত ২টির ১টিতে এবং ভিয়েতনামে উৎপাদিত ২টি ব্র্যান্ডের দুটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক মিলেছে। আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, শিশুদের জন্য তৈরি বিশেষ ৬টি টুথপেস্টের ৪টিতেই ক্ষতিকর প্লাস্টিকের কণা শনাক্ত করা গেছে।

ফলাফলে উল্লেখ করা হয়, প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে সবচেয়ে বেশি ৩২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে মেডিপ্লাস ফ্লুরিড জেলে। এ ছাড়া ক্লোজ আপ রেড হট-এ ১৬০টি, ক্লোজ আপ মেন্থল ফ্রেশ-এ ১৬০টি, কুডুমু আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা স্ট্রবেরিতে ১৪০টি, সিগন্যাল গ্রিন টি-তে ১২০টি, পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট-এ ১০০টি, হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ার-এ ১০০টি এবং সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্টে ৮০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।

শিশুদের ব্যবহারের জন্য তৈরি টুথপেস্টের মধ্যে কুডুমু আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলায় ১৪০টি, মেরিল বেবি স্ট্রবেরিতে ৬০টি, মেরিল বেবি অরেঞ্জে ৪০টি এবং পেপসোডেন্ট কিড অরেঞ্জে ২০টি প্লাস্টিকের কণা ধরা পড়েছে।

এসডোর মহাসচিব ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকতে পারে—এ বিষয়ে অধিকাংশ মানুষই অবগত নন। তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পণ্যের লেবেলে উপাদানের স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রক তদারকি জরুরি।

এসডোর নির্বাহী পরিচালক সিদ্দীকা সুলতানা বলেন, এই গবেষণা বাংলাদেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ভিত্তি তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতে মানদণ্ড নির্ধারণ ও নীতিমালা প্রণয়নে সহায়ক হবে।

তবে সব টুথপেস্টে প্লাস্টিক কণা মেলেনি। গবেষণায় দেখা গেছে, দেশীয় ব্র্যান্ড জেনফ্রেশ, প্যারাস্যুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো) এবং ক্লোজ আপ রেড হট জিংক ফ্রেশ টেকনোলজিতে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি শিশুদের জন্য বাইরে থেকে আমদানিকৃত কুডুমু অরেঞ্জেও ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক ধরা পড়েনি বলে নিশ্চিত করেছে এসডো।

দন্ত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. মোশাররফ হোসেন খন্দকার বলেন, দাঁতের পরিচর্যার পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকা উচিত নয়। এটি দাঁত সাদা করতে সহায়তা করলেও এনামেলের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। দাঁতের সুরক্ষায় ফ্লোরাইড, কার্বনেট ও সিলিকাই বেশি প্রয়োজনীয়।

বিএসটিআইয়ের উপপরিচালক মো. মনজুরুল করিম বলেন, বর্তমান টুথপেস্টের মানদণ্ডে মাইক্রোপ্লাস্টিক অন্তর্ভুক্ত নেই। তবে এসআরও সংশোধনের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মানদণ্ড বা সহনশীল মাত্রা নির্ধারণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এসডো গবেষণার ভিত্তিতে ব্যক্তিগত পরিচর্যার পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক জাতীয় মানদণ্ড প্রণয়ন, নিয়মিত বাজার তদারকি, পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পণ্যের লেবেলে উপাদানের তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করেছে।

মাইক্রোপ্লাস্টিক কী, কেন ক্ষতিকর: ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। টুথপেস্টে ব্যবহৃত কণাগুলো এতটাই সূক্ষ্ম যে তা খালি চোখে দেখা অসম্ভব। এগুলো প্রধানত দুইভাবে ক্ষতি সাধন করে—

১. মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে। ব্রাশ করার সময় মুখের মিউকাস মেমব্রেন (শ্লেষ্মা ঝিল্লি) দিয়ে অতিসূক্ষ্ম প্লাস্টিক সরাসরি রক্তে মিশে যেতে পারে। প্লাস্টিকে থাকা ‘বিসফেনল-এ’ এবং থ্যালেটস শরীরের হরমোন নিঃসরণে বাধা সৃষ্টি করে, যা শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশে ব্যাঘাত ঘটায় এবং প্রাপ্তবয়স্কদের প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এছাড়া পরিপাকতন্ত্র, যকৃৎ ও বৃক্কে প্লাস্টিক জমা হতে থাকলে তা কোষের ভেতরে ক্রমাগত প্রদাহ ও টিস্যু ড্যামেজ তৈরি করে ক্যানসারের পথ প্রশস্ত করে।

২. প্রতিদিন ব্রাশ করার পর বেসিন থেকে কোটি কোটি প্লাস্টিক কণা ড্রেনের পানির সাথে নদী ও সাগরে গিয়ে পড়ে। সাধারণ ওয়াটার ফিল্টারেও এসব অতিসূক্ষ্ম কণা আটকায় না। সামুদ্রিক মাছ ও জলজ প্রাণী এগুলোকে খাবার মনে করে গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ‘বায়ো-অ্যাকিউমুলেশন’ বা জৈব-সঞ্চয়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেই প্লাস্টিক আক্রান্ত মাছ মানুষের পাতেই ফিরে আসে—তৈরি হয় ভয়াবহ বিষচক্র!

সচেতনতার অভাব ও আইনি শূন্যতা: পরীক্ষা করা কোনো টুথপেস্টের মোড়কে বা লেবেলে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা সিনথেটিক পলিমার ব্যবহারের তথ্য উল্লেখ না থাকায় সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ভোক্তা জরিপ অনুযায়ী ৪১.৯ শতাংশ মানুষ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকা সম্পর্কে ইতিপূর্বে কখনো শোনেনইনি। ৩১.৩ শতাংশ কিছুটা শুনলেও বিস্তারিত বা এর পরিণতি সম্পর্কে জানেন না। আর মাত্র ২৬.৯ শতাংশ উত্তরদাতা এ বিষয়ে কিছুটা সচেতন।

এই নীরব মহামারি থেকে বাঁচতে পরিবেশবিদ ও বিশেষজ্ঞরা সুনির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তারা বলেছেন, বিএসটিআই ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাকে অবিলম্বে প্রসাধন সামগ্রী ও টুথপেস্টে ‘মাইক্রোবিডস’ বা অণু-প্লাস্টিকের ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। টুথপেস্ট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কৃত্রিম পলিমারের বদলে চারকোল, প্রাকৃতিক সিলিকা, বেকিং সোডা বা নিম-তুলসীর মতো পরিবেশবান্ধব উপাদান ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। টুথপেস্টের প্যাকেজিংয়ে সঠিক রাসায়নিক উপাদান ও মাইক্রোপ্লাস্টিক-মুক্ত কি না তা স্পষ্টভাবে লেখা বাধ্যতামূলক করতে হবে। শিশুদের ব্রাশ করার সময় সঠিক পরিমাণ (সর্বোচ্চ মটরশুঁটি দানার সমান) টুথপেস্ট দেওয়া এবং ব্রাশ করার পুরো সময় পাশে থেকে গিলে ফেলা রোধ করতে হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দাঁত ও মুখের সুরক্ষায় যে পণ্যটি আমরা প্রতিদিন অপরিহার্য মনে করে অন্তত দু’বার ব্যবহার করছি, তাতেই যদি এমন মরণঘাতী উপাদান লুকিয়ে থাকে, তবে তা শুধু হতাশাজনকই নয়—একই সাথে আমাদের অস্তিত্বের জন্যও বিরাট এক প্রশ্নবোধক চিহ্ন। ইএসডিও (ESDO) এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষণা আমাদের চোখের সামনের পর্দা সরিয়ে দিয়েছে। এখন প্রয়োজন সরকারের কঠোর মনিটরিং, প্রস্তুতকারকদের বাণিজ্যিক সততা এবং সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আমাদের নিজস্ব সচেতনতা। নিরাপদ টুথপেস্ট বেছে নেওয়ার এই আন্দোলন শুরু হোক আজ আপনার ঘর থেকেই!


নির্বাচিত

বঙ্গভবন ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পদত্যাগের দুই দিন পর আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন ছেড়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। রোববার (২৬ জুলাই) দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে তিনি বঙ্গভবনের পাঠ চুকিয়ে গুলশানে অবস্থিত তাঁর নিজস্ব বাসভবন ‘গ্রিন ভিলা’র উদ্দেশে রওনা হন। এর আগে গত ২৪ জুলাই তিনি দেশের রাষ্ট্রপতির পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন।

সংবিধানের স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদের মেয়াদ পাঁচ বছরের হলেও, রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা প্রেক্ষাপটে তিনি মোট ৩ বছর ৩ মাস এই দায়িত্ব পালন করতে সমর্থ হন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মো. সাহাবুদ্দিন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় নানা গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন। পদত্যাগের চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে এবং আজ বঙ্গভবন ত্যাগের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক বাসভবনে তাঁর অবস্থানেরও শেষ হয়।

উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি। তিনি ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ ও দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন এবং দীর্ঘ মেয়াদে দায়িত্ব পালনের পর ২০২৬ সালের ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন।

তাঁর পদত্যাগের পরপরই সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব অর্পণ করে প্রয়োজনীয় সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।


নির্বাচিত

১৮ মন্ত্রীর পুলিশ এসকর্ট প্রত্যাহার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রের ব্যয় সংকোচনের লক্ষ্যে এবার ১৮ মন্ত্রীর পুলিশের প্রটেকশন এসকর্ট বা বিশেষ নিরাপত্তা বহর প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। তবে একজন উপদেষ্টা এবং ছয়জন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীর এই সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজের নিরাপত্তা বহরে গাড়ি কমিয়ে দেন। এমনকি সড়কে চলাচলের সময় বাড়তি কোনো ট্রাফিক সুবিধা নেন না। সাধারণ মানুষের মতো ট্রাফিক সিগন্যালে তাঁর গাড়িবহর থেমে যায়। ট্রাফিক পুলিশের সংকেত পাওয়ার পর আবার চলা শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্র জানিয়েছে, ২০ জুলাই ১৮ মন্ত্রীর প্রটেকশন এসকর্ট প্রত্যাহার করা হয়। তবে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী গানম্যান, বাড়ির প্রহরী এবং ঢাকার বাইরে সফরকালে বিশেষ পুলিশ প্রটেকশন সুবিধা বহাল থাকবে।

একজন মন্ত্রীর নিরাপত্তা বহরে সাধারণত একজন এসআই এবং চারজন কনস্টেবলের একটি দল থাকে। মন্ত্রীর গাড়ির সঙ্গে পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানে থাকে এই দল। গাড়ির জ্বালানি খরচ ও তাদের বেতন-ভাতা সরাসরি সরকারি কোষাগার থেকে দেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, রাষ্ট্রের ব্যয় সংকোচ, পুলিশের জনবল ও যানবাহনের ঘাটতি মেটাতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।


নির্বাচিত

banner close