ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে শোভাযাত্রার মোটিফে আগুন লাগার ঘটনা কোন দুর্ঘটনা নয়, ইচ্ছাকৃত বলে জানিয়েছেন পুলিশ।
শনিবার দুপুরে চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে এই কথা বলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন মো. নজরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, কন্ট্রোল রুম থেকে আমাকে জানানো হয়েছে ভোর পাঁচটা পাঁচ মিনিটে এই ঘটনা ঘটেছে। আপাতদৃষ্টিতে দেখে মনে হচ্ছে, এটি এক্সিডেন্টাল কোন বিষয় না। কেউ ইনটেনশনালি এটি করেছে। এটুকু আমরা নিশ্চিত।
পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, এটির চতুর্পাশে প্রচুর ক্যামেরা। আমাদের ইনভেস্টিগেটিং টিম আসতেছে। ডিজিটাল রেকর্ডগুলো আমরা নিবো। ফরেনসিক করবো। এই মুহূর্তে বলার স্কোপ আসেনি যে, কারা এটি করেছে বা কারা করেনি। ইনভেস্টিগেশনে এটি বের হবে।
নজরুল ইসলাম বলেন, তবে আমরা দেখতে পাচ্ছি বিগত সরকারের সরকারপ্রধান, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার মোটিফ পোড়ানো হয়েছে। সেটি পোড়াতে গিয়েই কবুতরের আংশিক অংশ পোড়ানো হয়েছে। সুতরাং এই কাজটি যারা পছন্দ করেনা তারাই এটি করবে, এটি অনুমান। তবে আমরা তদন্ত করবো। ভিডিও ফুটেজ দেখে কে আগুন লাগিয়েছে তাকে ধরতে পারলে এটির মাস্টারমাইন্ড কারা সেটি বের করা যাবে।
নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ এবং প্রক্টরিয়াল টিম ছিলো। শুনেছি, ঘটনার সময় প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা নামাজে গেছে নামাজের সময় হওয়ার কারণে। আর পুলিশের টিম সম্পর্কে আমি এখনো ডিটেইলস জানি না। পুলিশের দশজন এখানে থাকে। গেইটে সাতজন আর যেখানে তৈরি করা হচ্ছে সেখানে ৩ জন থাকে। তাদের এখনো আমি জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারিনি।
জিজ্ঞাসাবাদের পরে জানতে পারবো তারা কই ছিল, কী অবস্থায় ছিল বা কিভাবে এই আগুন লেগেছে। তাদের কাছ থেকে কিছুটা তথ্য পাওয়া যাবে। আর ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করলে আরও ভালো তথ্য পাওয়া যাবে।
নজরুল ইসলাম বলেন, এটি নিয়ে আমরা একটি কমিটি করবো। যারা সাইবার নিয়ে কাজ করে তাদেরকে ইনফর্ম করা হয়েছে।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নবনিযুক্ত প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম শুক্রবার ঢাকা সেনানিবাসস্থ শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি শিখা অনির্বাণের পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন। মহান স্বাধীনতার লড়াইয়ে শহীদদের প্রতি এই আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর নবনিযুক্ত দায়িত্বের প্রথম দিনের কর্মসূচি শুরু করেন।
পরবর্তীতে নৌবাহিনী প্রধান নৌসদর দপ্তরে পৌঁছালে নৌবাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। তিনি গার্ড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। এ সময় নৌসদর দপ্তরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারগণসহ ঊর্ধ্বতন নৌ-কর্মকর্তারা তাঁকে স্বাগত জানান। উল্লেখ্য যে, রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম গত ২৩ জুলাই বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
নৌবাহিনী প্রধান দেশের বিশাল সমুদ্রসীমা এবং সুনীল অর্থনীতির নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে একটি শক্তিশালী ও আধুনিক ‘ব্লু ওয়াটার নেভি’ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই লক্ষ্যে নৌবাহিনীতে আধুনিক ফ্রিগেট, সাবমেরিন, অত্যাধুনিক সোনার ও রাডার সিস্টেমসহ সর্বশেষ প্রযুক্তির সংযোজন ঘটিয়ে দেশের সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা আরও সুসংহত করার বিষয়ে তিনি নিজের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা জানান।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন ও চলমান পরিস্থিতির মাঝেই থাইল্যান্ডে নিজের ব্যক্তিগত সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে এসেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। শুক্রবার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এক সপ্তাহ দেশের বাইরে থাকায় উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছুই জানেন না।
স্পিকার সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা যেমন শুনেছেন, আমিও তেমনই শুনেছি।’ এ বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই উল্লেখ করে তিনি জানান, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তিনি ব্যাংকক গিয়েছিলেন এবং নির্ধারিত সময়ের দুদিন আগেই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষ হওয়ায় দেশে ফিরেছেন।
বিদেশে অবস্থানের কারণে দেশে এই সময়ে কী ঘটেছে বা রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে কি না, সে সম্পর্কে তাঁর জানা নেই বলে মন্তব্য করেন স্পিকার। তবে দেশে ফেরার পর এখন তিনি সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন স্পিকার। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি যদি পদত্যাগ করতে চান, তবে তাঁকে স্পিকারের কাছেই পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদকে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।
অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে দায়িত্ব পালনের সাংবিধানিক বিধান তুলে ধরে স্পিকার আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি পদত্যাগ করলে স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এরপর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সংসদীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কাজ সম্পন্ন করতে হয়।
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের জোরালো গুঞ্জনের মধ্যে নিজের বিদেশ সফর সংক্ষিপ্ত করে শুক্রবার দুপুরে রাজধানী ঢাকায় ফিরেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। থাই এয়ারওয়েজের একটি বিশেষ ফ্লাইটে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। মূলত রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে স্পিকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তাঁর এই আকস্মিক প্রত্যাবর্তনকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতিকে তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিতে হলে স্পিকারের কাছে নিজের স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র জমা দিতে হয়। গত ১৯ জুলাই চিকিৎসার উদ্দেশ্যে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক সফরে গিয়েছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তাঁর নির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী আগামী ২৬ জুলাই দেশে ফেরার কথা থাকলেও উদ্ভূত পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় তিনি নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে এসেছেন। সংসদ সচিবালয়ের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা স্পিকারের প্রত্যাবর্তনের খবরটি নিশ্চিত করেছেন।
সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, যদি রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন বা তাঁর পদটি শূন্য হয়, তবে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ মোতাবেক নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকারই অস্থায়ী বা ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন করবেন। সেই হিসেবে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন পদত্যাগপত্র জমা দিলে পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।
তবে স্পিকার এই দায়িত্ব পালন করলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা বাধ্যতামূলক। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ এবং স্পিকারের দ্রুত প্রত্যাবর্তনের ঘটনাটি সাংবিধানিক ক্ষমতার ধারাবাহিকতা রক্ষায় একটি বড় ধরণের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বর্তমানে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে অবস্থানরত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ দেশে ফেরার পর তাঁর কাছেই সই করা পদত্যাগপত্র হস্তান্তর করবেন রাষ্ট্রপতি। নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই শুক্রবার দুপুরে স্পিকারের ঢাকা পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
রয়টার্সের বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সংবেদনশীলতার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সারওয়ার আলমও রয়টার্সকে নিশ্চিত করে বলেন, “স্পিকার থাইল্যান্ড থেকে ফেরার পর রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র দেবেন।” দেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ কার্যকর করার জন্য স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র জমা দেওয়া আবশ্যক। এ কারণেই স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের দ্রুত প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি এখন রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
১৯ জুলাই ব্যাংকক যাওয়া স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের ২৬ জুলাই ফেরার কথা থাকলেও তিনি শুক্রবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি বিশেষ ফ্লাইটে রাজধানী পৌঁছাবেন। রাষ্ট্রপতির দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মো. সাহাবুদ্দিন ইতোমধ্যে পদত্যাগের বিষয়ে মানসিকভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এমনকি বৃহস্পতিবার তিনি বঙ্গভবনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠককালে নিজের বিদায়ের প্রস্তুতির কথাও আভাস দিয়েছেন বলে একটি সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
রয়টার্স আরও জানিয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কের কারণে রাষ্ট্রপতির ওপর সরকারের পক্ষ থেকে পদত্যাগের চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে। এর কিছুদিন আগেই রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা নির্বাসন থেকে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কারণ নিয়ে প্রেস সচিবের পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এদিকে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, “এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না এবং সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো পদক্ষেপ নেই।” তিনি আরও যোগ করেন, “রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে চাইলে সেই সুযোগ তার রয়েছে, তবে এ নিয়ে সরকারের কাছ থেকে কিছু বলা হয়নি।”
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র দিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন এবং পদ শূন্য হলে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকারই অস্থায়ীভাবে সেই দায়িত্ব পালন করবেন। ১২৩ অনুচ্ছেদের বিধানমতে, পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রেক্ষিতে এখন সম্ভাব্য নতুন রাষ্ট্রপতির নাম নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। যেহেতু সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তাই দলটির মনোনীত প্রার্থীরই বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ ক্ষেত্রে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আব্দুল মঈন খানের নাম বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ সচিব বা সাবেক আমলার নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকেই তাঁর সাংবিধানিক অবস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক ও আলোচনা চলছিল। রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গণ-অভ্যুত্থান দমন অভিযানে বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই পটভূমিতে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বড় ধরণের এই পরিবর্তনকে রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তথ্যপ্রযুক্তির অভূতপূর্ব কল্যাণে কেনাকাটা এখন হাতের মুঠোয়। ঘরে বসেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, পোশাক বা আধুনিক গ্যাজেট—সবই মিলছে এক ক্লিকে। কিন্তু এই অপরিসীম সুবিধার আড়ালেই গড়ে উঠেছে প্রতারণা ও ভেজালের এক বিশাল ও অন্ধকার নেটওয়ার্ক। একদিকে ফেসবুকের লাইসেন্সবিহীন ভুঁইফোড় পেজের ডিজিটাল সন্ত্রাস ও তথ্য চুরি, অন্যদিকে শহরের নামী এয়ারকন্ডিশনড শপিং মলের কাচের শোকেসে সাজানো ক্ষতিকর ও অনুমোদনহীন পণ্য—সব মিলিয়ে আজকের সাধারণ ভোক্তা যেন এক অদৃশ্য গোলকধাঁধায় বন্দি।
রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি বাজার, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমভিত্তিক দোকান এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব নকল পণ্য সহজেই বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) সাম্প্রতিক অভিযানে দেশের প্রসাধনী বাজারে ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির পরীক্ষায় বাজার থেকে সংগ্রহ করা ৩৪টি আমদানি কসমেটিকস ও স্কিন কেয়ার পণ্যের মধ্যে ১৭টিকেই ভেজাল, অনুমোদনহীন অথবা মানহীন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ পরীক্ষাধীন আমদানি করা প্রসাধনীর প্রায় অর্ধেকই অনিরাপদ। ফলে প্রযুক্তি যেমন দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করেছে, তেমনি তা স্ক্যামারদের জন্য একটি শক্তিশালী হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। এভাবে বিশ্বে প্রতি বছর গড়ে ৬০ কোটিরও বেশি মানুষ ডিজিটাল মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের স্ক্যামের ফাঁদে পড়ছে। আর প্রতিদিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রায় ১৬ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ। ডাটা বিশ্লেষণ প্লাটফর্ম এক্সপ্লোডিং টপিকসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বজুড়ে ঠিক কতজন মানুষ সাইবার প্রতারণার শিকার হচ্ছে তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তবে বিভিন্ন গবেষণা এ সমস্যার ভয়াবহতা সম্পর্কে একটি ধারণা দেয়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, সিঙ্গাপুর, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, মেক্সিকো, পর্তুগাল ও স্পেনসহ ১৬টি দেশে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, গত তিন বছরে দেশগুলোর প্রায় ২২ কোটি মানুষ ডিজিটাল স্ক্যামের শিকার হয়েছে। এসব দেশের বাসিন্দারা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক-অষ্টমাংশ হওয়ায় অনুমান করা হয়, বৈশ্বিক পরিসরে প্রতি তিন বছরে প্রায় ১৮২ কোটি মানুষ অনলাইনে প্রতারিত হচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে মোবাইলভিত্তিক স্ক্যাম এখনো প্রতারণার সবচেয়ে প্রচলিত মাধ্যমগুলোর একটি। এর মধ্যে আছে ফোনকল ও এসএমএস বার্তা।
এক জরিপ অনুযায়ী, গত ১২ মাসে ৬০ শতাংশের বেশি মানুষ ফোন বা টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে প্রতারণার চেষ্টা লক্ষ্য করেছে। ফোন ও টেক্সটের পর সবচেয়ে বেশি প্রতারণা হয় ই-মেইলে। এছাড়া অনলাইনভিত্তিক স্ক্যামের ছয়টি মাধ্যমের মধ্যে শীর্ষে আছে ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপ, সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল বিজ্ঞাপন।
বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ বলছে, গত এক বছরে ব্যক্তিগতভাবে (সরাসরি সাক্ষাতে) প্রতারণার শিকার হয়েছেন ১০ শতাংশের কম মানুষ। অর্থাৎ এখন স্ক্যামের বড় অংশই ঘটছে ডিজিটাল মাধ্যমে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় শপিং স্ক্যাম বা অনলাইন কেনাকাটার নামে প্রতারণা বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। ভুয়া পার্সেল ডেলিভারির নামে এসএমএস বা ই-মেইলে লিংক পাঠিয়ে কুরিয়ার কোম্পানি বা অনলাইন বিক্রেতা সেজে প্রতারকরা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য বা অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার মার্কেটপ্লেসে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে পণ্যের বিজ্ঞাপন দিয়ে অর্থ নেয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাকাউন্ট মুছে দেয়ার ঘটনাও বাড়ছে।
এদিকে আবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অগ্রগতির ফলে ভয়েস ক্লোনিংয়ের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘ভিশিং’ প্রতারণা আরো ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অপরাধীরা পরিচিত কণ্ঠ নকল করে ফোন করে ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য বের করে নিচ্ছে।
সাইবার সুরক্ষা কোম্পানি জেনের সাইবার সেফটি সিটিও সিগি স্টেফনিসন বলছেন, ‘অনলাইনে প্রতারণার ধরন এখন দ্রুত বদলাচ্ছে। ফাঁস হওয়া ব্যক্তিগত তথ্য ও উন্নত ডিজাইন টুলস বা এআই ব্যবহার করে প্রতারকরা খুব সহজেই কাউকে ধোঁকা দিতে পারছে।’
অন্যদিকে, বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিত্তিক ই-কমার্সে নকল পণ্যের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। অনেক পেজে বিদেশি নামি ব্র্যান্ডের ছবি ব্যবহার করে অর্ডার নেওয়া হলেও বাস্তবে সরবরাহ করা হয় অত্যন্ত নিম্নমানের পণ্য।
বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) সাম্প্রতিক এক অভিযানে ভীতিকর চিত্র সামনে এসেছে। খোলা বাজার থেকে সংগ্রহ করা ৩৪টি আমদানি করা স্কিন কেয়ার ও প্রসাধনী পণ্যের মধ্যে ১৭টিই (৫০শতাংশ) ভেজাল, অনুমোদনহীন ও মানহীন হিসেবে শনাক্ত হয়েছে।
অর্থনৈতিক ক্ষতি: বাংলাদেশে ৬,০০০ কোটি টাকার প্রসাধনী বাজারের প্রায় ৪০ শতাংশই এখন নকল পণ্যের দখলে।
রাজস্ব ক্ষতি: অসাধু বাণিজ্যের কারণে সরকার প্রতি বছর অন্তত ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
ব্যবসায়িক ক্ষতি: বৈধ উৎপাদনকারী ও আমদানিকারকরা বছরে ১৩,০০০ থেকে ১৫,০০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থ হাতিয়ে নিতে প্রতারকরা সবচেয়ে বেশি যে পদ্ধতি ব্যবহার করে তা হলো ব্যাংক ট্রান্সফার। যেহেতু বর্তমান যুগে মোবাইল ওয়ালেট বা ডিজিটাল মানিব্যাগের মাধ্যমে অর্থ আদান-প্রদানের ঘটনা বেশি ঘটে, স্ক্যামাররা এ সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছে। অনেকের মধ্যে প্রযুক্তিগত জ্ঞান কম থাকায় সহজেই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
প্রতিবেদন আরো বলছে, গত বছর স্ক্যামাররা বিশ্বজুড়ে মোট ১ দশমিক শূন্য ৩ ট্রিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নিয়েছে। এ বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রায় পুরোটাই আর ফিরে পাওয়া যায়নি। এছাড়া উন্নয়নশীল দেশগুলো যেমন পাকিস্তান, কেনিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা নিজেদের মোট জিডিপির প্রায় ৩ শতাংশের বেশি অর্থ হারিয়েছে ডিজিটাল স্ক্যামের কারণে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমভিত্তিক ব্যবসায় এখন নকল পণ্যের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। অনেক পেজে বিদেশি ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। ছবি একরকম হলেও হাতে পাওয়ার পর পণ্যের মান সম্পূর্ণ ভিন্ন পাওয়া যাচ্ছে।
অনেক ক্ষেত্রে ভোক্তারা অগ্রিম টাকা পরিশোধ করার পর প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। আবার রিটার্ন সুবিধা না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অভিযোগ জানানোর সুযোগ সীমিত থাকে।
চিকিৎসকরা বলছেন, নকল প্রসাধনী, ভেজাল খাদ্য ও নিম্নমানের ওষুধ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। নকল স্কিন কেয়ার পণ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে ত্বকে অ্যালার্জি, সংক্রমণ এমনকি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
একইভাবে নকল ওষুধ রোগ নিরাময়ের পরিবর্তে জটিলতা বাড়াতে পারে। শিশুখাদ্যে ভেজাল থাকলে শিশুদের পুষ্টিহীনতা ও নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক ও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে দেশের ওষুধ খাতে। যে ওষুধ মানুষের জীবন রক্ষার কথা, সেই ওষুধই এখন অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বাজারে নকল অ্যান্টিবায়োটিক, মেয়াদোত্তীর্ণ ও দূষিত স্যালাইন, ভেজাল সিরাপ এবং নিম্নমানের উপাদানে তৈরি ওষুধ ছড়িয়ে পড়ায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু চক্র ময়দা, চকপাউডারসহ নিম্নমানের উপাদান ব্যবহার করে বিভিন্ন রোগের ট্যাবলেট তৈরি করছে। হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও ক্যানসারের মতো স্পর্শকাতর রোগের নকল ওষুধও বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে। ফলে রোগ নিরাময়ের পরিবর্তে অনেক রোগীর শারীরিক জটিলতা আরও বাড়ছে এবং ঝুঁকিতে পড়ছে মানুষের জীবন।
বৈধ ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত: নকল পণ্যের কারণে বৈধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আসল পণ্যের মান ধরে রাখতে তাদের উৎপাদন ব্যয় বেশি হলেও নকল পণ্য কম দামে বাজার দখল করছে। এতে সৎ ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের ব্র্যান্ড ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন রপ্তানিকারকরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নকল ও ভেজাল প্রসাধনী শুধু জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিই তৈরি করছে না, একই সঙ্গে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলছে দেশের অর্থনীতিকেও।
বাংলাদেশ কসমেটিকস অ্যান্ড টয়লেট্রিজ ইম্পোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার প্রসাধনী বাজারের ৪০ শতাংশই এখন নকল পণ্যের দখলে। এর ফলে প্রতি বছর সরকার অন্তত তিন থেকে চার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। পাশাপাশি বৈধ ব্যবসায়ীরা ১৩ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
ব্যবসায়ী সংগঠন, ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নকল পণ্যের কারণে একদিকে যেমন ভোক্তারা প্রতারিত হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল রাজস্ব। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের বৈধ শিল্প ও ব্র্যান্ডগুলোর সুনাম।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, অধিকাংশ ভোক্তা কম দামে কিনতে গিয়ে না বুঝেই নকল পণ্য কিনছেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে আসল ও নকলের পার্থক্য এতটাই সূক্ষ্ম যে সাধারণ ক্রেতার পক্ষে তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।
ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, নকল পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত নজরদারি, অনলাইন বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ এবং ট্র্যাকিং ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নকল পণ্যের বিস্তার ঠেকাতে সরকার, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা—তিন পক্ষকেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বাজার তদারকি বাড়ানোর পাশাপাশি ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে।
সামান্য অসতর্কতা শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়াতে পারে। তাই কম দামের প্রলোভনে না পড়ে যাচাই-বাছাই করে পণ্য কেনাই এখন সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেছেন, দেশে এমন কোনো পণ্য নেই, যার নকল বাজারে পাওয়া যায় না। কোনো পণ্য কিনতে গেলেই ক্রেতাদের ভাবতে হয় সেটি আসল নাকি নকল। অথচ বিদেশে এ ধরনের শঙ্কা থাকে না।
তিনি আরও বলেন, দেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা থাকলেও নকল পণ্যের বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে নিম্নমানের বৈদ্যুতিক তার ব্যবহারের কারণে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
সফিকুজ্জামান উদাহরণ দিয়ে বলেন, একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়। কিন্তু সেখানে নিম্নমানের বা নকল বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার করলে অতিরিক্ত বিদ্যুতের চাপ সহ্য করতে না পেরে আগুন লাগার সম্ভাবনা দেখা দেয়। এতে শুধু প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিই নয়, শ্রমিকদের কর্মসংস্থানও হুমকির মুখে পড়ে।
ভোক্তা-অধিকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান: অনলাইন ও অফলাইন প্রতারণা রুখতে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত রাজধানীসহ দেশব্যাপী অভিযান জোরদার করেছে।
ডিজিটাল কমার্স সেল গঠন: বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ভোক্তা-অধিকার অধিদপ্তর যৌথভাবে ই-কমার্স জালিয়াতি রোধে বিশেষ সেল গঠন করেছে। ফেসবুক পেজে লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করা এবং অগ্রিম টাকা নিয়ে পণ্য না দেওয়া পেজগুলোর ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/রকেট) অ্যাকাউন্ট ট্র্যাক করে ফ্রিজ (স্থগিত) করা হচ্ছে।
অনুমোদনহীন গোডাউনে হানা: গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও ভোক্তা-অধিকার দপ্তর বিভিন্ন নামি ব্র্যান্ডের লোগো নকল করে তৈরি করা জুতা, কসমেটিকস ও ইলেকট্রনিক্স পণ্যের অবৈধ গুদামে অভিযান চালিয়ে কোটি কোটি টাকার পণ্য জব্দ ও সিলগালা করছে। অভিযানে দোষী সাব্যস্তদের বিরুদ্ধে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ (ধারা ৪৫ ও ৫৩) এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী সরাসরি ফৌজদারি মামলা দায়ের ও দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশি ও বিদেশি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ ও ব্যবসা প্রসারের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, আমাদের মূল লক্ষ্য, একটি সুনির্দিষ্ট নিয়মভিত্তিক, বিশ্ব অর্থনীতির সাথে যুক্ত এবং বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় পরিচালিত অর্থনীতি গড়ে তোলা।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই বা ফিকি) আয়োজিত এফডিআই সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
‘বাংলাদেশে কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক এফআইসিসিআই এফডিআই সম্মেলন ২০২৬-জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হয়। এরপরই একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শিত হয়।
সম্মেলনে বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নতুন করে মূলধন বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি এ উদ্যোগে তাদের পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতারও আশ্বাস দিয়েছেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘নতুন ও দূরদর্শী বিএনপি সরকার চায়, আপনারা বাংলাদেশে আসুন, নতুন উদ্যোগ নিন এবং ব্যবসা প্রসারিত করুন। দেশীয় উদ্যোক্তা বা বিদেশি বিনিয়োগকারী যাই হোন, বাংলাদেশে মূলধন বিনিয়োগ করলে সরকার প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং সময়োপযোগী নীতিমালার মাধ্যমে আপনাদের পাশে থাকবে। এটি কেবল আশ্বাস নয়, এটি আমাদের সরকারের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে সত্যি। তবে এর পাশাপাশি আমাদের রয়েছে অফুরন্ত সম্ভাবনা ও সুদৃঢ় ভিত্তি। আমাদের রয়েছে একটি দ্রুত বিকাশমান বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার, একঝাঁক তরুণ ও পরিশ্রমী মানবসম্পদ, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং নিরঙ্কুশ জনসমর্থনপুষ্ট একটি নির্বাচিত সরকার। এই শক্তিগুলো একত্রিত হয়ে বাংলাদেশকে এক টেকসই ও স্থায়ী সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার এই অর্থনৈতিক রূপান্তরের একটি সুস্পষ্ট সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রদান করে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা আপনাদের কেবল বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানাচ্ছি না, বরং এই রূপকল্প বাস্তবায়নে আমাদের সঙ্গে বিশ্বস্ত অংশীদার হওয়ারও উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাস পূর্ণ করেছে। কিন্তু আমাদের অর্থনৈতিক ও নীতিগত প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়েছিল নির্বাচনের অনেক আগেই। আমরা বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়িক চেম্বার, অর্থনীতিবিদ, উন্নয়ন সহযোগী এবং নীতি-নির্ধারকদের কথা গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছি। তাদের মূল বার্তাটি ছিল একেবারেই স্পষ্ট। তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন বিনিয়োগের সুদৃঢ় আইনি সুরক্ষা, আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব নিয়ন্ত্রক কাঠামো, সহজীকৃত কর ব্যবস্থা, অর্জিত মুনাফা প্রত্যাহারের নির্বিঘ্ন প্রক্রিয়া, শক্তিশালী পুঁজিবাজার এবং উন্নত অবকাঠামো।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা আপনাদের কথাও গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করছি। সে অনুযায়ীই কাজ শুরু করেছি। আমরা আমাদের আইনি ও রেগুলেটরি কাঠামোর আধুনিকায়ন করছি। বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার করছি। এ ছাড়া দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা উন্নত করছি। কর ও ভ্যাট প্রশাসনকে সহজ এবং মুনাফা অর্জনের পর তা নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াকে ঝামেলামুক্ত করছি।’
একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি গতিশীল পুঁজিবাজার গঠন, স্টার্টআপগুলোকে উৎসাহিত, অপ্রয়োজনীয় বিধিমালা ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্য দূর, প্রশাসনিক প্রক্রিয়াগুলো সহজ এবং সরকারি সেবাগুলো ডিজিটালাইজড করছি।’ এ ছাড়া নবায়নযোগ্য শক্তিতে অধিকতর বিনিয়োগের পাশাপাশি বন্দর, লজিস্টিকস অবকাঠামো এবং সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি।
ঢাকার এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেশ-বিদেশের প্রায় ৬শ বিশিষ্ট প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। উপস্থিত ছিলেন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী, বহুজাতিক কোম্পানির নির্বাহী কর্মকর্তা, বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী নেতা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।
সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন এফআইসিসিআই এর সভাপতি এবং বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রুপালী হক চৌধুরী।
তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কেবল বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর নির্ভর করে না, নির্ভর করে দীর্ঘস্থায়ী ও বিশ্বাসযোগ্য অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর।’
তিনি বলেন, ‘এখানে উপস্থিত প্রত্যেক ব্যবসায়িক নেতাকে সেই সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের অংশ হতে আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা একসঙ্গে এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারি যা হবে সুদৃঢ়, ন্যায়ভিত্তিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক। আজকের এই মিলনায়তনের দিকে তাকালেই আমি দেখতে পাচ্ছি, দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সবচেয়ে প্রতিভাবান করপোরেট প্রধান, সফল বিনিয়োগকারী এবং বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞদের উজ্জ্বল উপস্থিতি। আপনাদের অনেকেই বাংলাদেশকে আপনাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ ও নতুন বিনিয়োগের প্রধান গন্তব্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন।’
বিনিয়োগকারীদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আপনাদের এই উদ্যোগ নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, আধুনিক প্রযুক্তির প্রবর্তন ঘটিয়েছে, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলকে সমৃদ্ধ করেছে এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অভাবনীয় অবদান রেখে চলেছে। এজন্য আপনাদের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনীতিতে প্রবেশের আগে আমি নিজেও একজন ব্যবসায়ী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলাম। আমার সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে আমি শিখেছি, যে কোনো ব্যবসা কেবল উদ্যোক্তার দক্ষতা বা রাজনৈতিক আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে সফল হতে পারে না, ব্যবসার সাফল্যের একটি বড় অংশ নির্ভর করে সরকারের প্রবৃদ্ধি-সহায়ক নীতিমালার ওপর।’
তিনি বলেন, ‘আপনাদের সবাইকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও সাফল্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আসুন আমরা একসাথে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাই, নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করি এবং আগামীর বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তুলি।’
প্রধানমন্ত্রী একটি সমৃদ্ধ ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত বাংলাদেশ গড়ার এই অগ্রযাত্রায় সকলকে অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান।
সম্মেলনে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে বিদ্যমান সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতবিনিময় হয়। এ ছাড়া ‘ফিকি এফডিআই’ প্রতিবেদন উন্মোচন করা হয়। এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করা এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিশ্লেষণ, পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী ইনভেস্টরস এক্সপো পরিদর্শন করেন। এতে তিনি অংশগ্রহণকারী কোম্পানি ও সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, এফআইসিসিআই এর সভাপতি এবং বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রুপালী হক চৌধুরী, বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী ও প্রতিনিধিরা।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বিভিন্ন যুগান্তকারী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন। ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ডসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ দেশের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ ও জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।’ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজে অনুষ্ঠিত ‘‘বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও শিক্ষা ক্ষেত্রে কৃতিত্বের সম্মাননা-২০২৬’’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় চিফ হুইপ হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালকে দেশের স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করে এর সার্বিক উন্নয়ন ও সেবার মানোন্নয়নে সবাইকে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বিশেষভাবে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ডা. জুবাইদা রহমানের প্রতি প্রতিষ্ঠানটিকে নিজের প্রতিষ্ঠান মনে করে এর উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
চিফ হুইপ বলেন, ‘এক সময় হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল দেশের স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে আস্থা, সুনাম ও উৎকর্ষের প্রতীক ছিল।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘ডা. জুবাইদা রহমানের সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানের একটি গভীর আবেগঘন সম্পর্ক রয়েছে। তার একমাত্র কন্যাসন্তানের জন্মও এই হাসপাতালেই হয়েছিল। সেই আত্মিক বন্ধন ও ভালোবাসার টান থেকেই তিনি আজ এই প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে অংশগ্রহণ করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন, স্বাস্থ্য বাজেট সম্প্রসারণ এবং আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার বিকাশে ডা. জুবাইদা রহমানের পরিবারের অবদান ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে। জাতি সেই অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘সেই গৌরবময় ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় ডা. জুবাইদা রহমানও হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের উন্নয়ন, আধুনিকায়ন ও সেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।’
চিফ হুইপ বলেন, ‘বর্তমানে একসময়কার দেশের অন্যতম সেরা এই হাসপাতালটি বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তবে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি আবারও দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আপনার কাছে কোনো নির্দিষ্ট দাবি নিয়ে আসিনি। শুধু চাই, আপনি এই হাসপাতালটিকে নিজের প্রতিষ্ঠান মনে করে এর উন্নয়নে যা যা প্রয়োজন, সেই উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। আপনার আন্তরিক সম্পৃক্ততা এই প্রতিষ্ঠানের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ডা. জুবাইদা রহমানের সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।’ একই সঙ্গে তিনি চিকিৎসক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘দেশের স্বাস্থ্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব, গবেষণামুখী মনোভাব এবং মানবিক সেবার আদর্শকে ধারণ করে কাজ করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। অধ্যাপক কে. এম. মজিবুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন, এমপি; বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল; অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার; অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ; অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল কবির এবং ডা. এইচ. এম. মোফাখখারুল ইসলাম (রানা)।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে কলেজ ও হাসপাতালের শিক্ষক, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন শ্রেণিপেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যের শেষে চিফ হুইপ হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের হারানো ঐতিহ্য ও গৌরব পুনরুদ্ধারে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ, সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান জানান এবং প্রতিষ্ঠানটির উত্তরোত্তর সাফল্য, সমৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, ‘শুধু দলের বহিষ্কারের ভিত্তিতেই সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের এমপি পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত নয়। সংসদের পক্ষ থেকে চিঠি পাওয়ার পর বিচার বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কার করলে এমপি পদ যাওয়ার সুযোগ নেই।’ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) নির্বাচন ভবনের নিজ দপ্তরে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
ইসি মাছউদ বলেন, ‘আইন অনুযায়ী দল থেকে পদত্যাগ করলে এমপি পদ না থাকার কথা রয়েছে। কিন্তু দল বহিষ্কার করলে সংবিধান অনুযায়ী এমপি পদ যাওয়ার সুযোগ নেই। সংসদ থেকে রেফারেন্স করলে সিদ্ধান্ত নিতে পারে কমিশন। সংবিধান অনুযায়ী স্পিকারের মাধ্যমে সংসদের চিঠি পেলে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে কমিশন।’
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত হন নজরুল ইসলাম।
গত সোমবার (২০ জুলাই) রাতে এক নারীর সঙ্গে তার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফেসবুকে ছড়ায়। এ বিষয়ে প্রথমে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বলে দাবি করেন। এরপর মঙ্গলবার সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ফেসবুকে পোস্টে ওই নারীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন।
গত বুধবার (২২ জুলাই) বিকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি সভায় মজলিসে শূরার এই সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জামায়াত বলছে, সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় তাকে গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে অবহিত করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, গত দেড়-দুই মাসের পরিশ্রমে প্রণীত সাম্প্রতিক বাজেট দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সমাদৃত ও প্রশংসিত হয়েছে। বাজেট তৈরি ভালো হলেও এর প্রকৃত সার্থকতা নির্ভর করছে সফল বাস্তবায়নের ওপর। অর্থ বিভাগের সকলের যৌথ প্রচেষ্টায় এই বাজেট সফলভাবে বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে প্রথম সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সাধারণ মানুষের মধ্যে আমলাতন্ত্র নিয়ে যে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে, তা পরিবর্তন করতে হবে। গত চার মাসে তিনি অনুভব করেছেন সবাই মিলে কাজ করলে যেকোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব।’ প্রচলিত পুরোনো ব্যবস্থা বা ধারা থেকে বেরিয়ে এসে পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনার মাধ্যমে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি।
আমির খসরু বলেন, ‘সভাগুলোকে কেবল একমুখী না রেখে কর্মকর্তাদের মুক্ত ও স্বতঃস্ফূর্ত মতপ্রকাশের সুযোগ দিতে হবে। মুক্ত আলোচনা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং প্রথাগত ভাবনার বাইরে গিয়ে উদ্ভাবনী উপায়ে (‘আউট অব দ্য বক্স’) কাজ করতে হবে। কাজের পরিবেশকে একটি পরিবারের মতো মনে করতে হবে।’ কেবল অভিযোগ না করে কাজের সুযোগ, নতুন ধারণা এবং সমস্যাগুলো সরাসরি উপস্থাপন করে সমাধানের দিকে গুরুত্ব দেন তিনি। অনুবিভাগগুলো থেকে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ ফিডব্যাক পাওয়া গেলে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে বলে তিনি জানান। অর্থ বিভাগকে দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তির কেন্দ্রবিন্দু উল্লেখ করে দেশের স্বার্থে সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে অর্থ মন্ত্রী তার বক্তব্য শেষ করেন।
সচিবালয়ে কক্সবাজারের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে অনুষ্ঠিত সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের ৫০ মিটার ও ৫০০ মিটারের বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেখানে পর্যটন উন্নয়ন হবে, সেখানে হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে উঠতে হবে। পরিবেশ রক্ষা নিশ্চিত করেই উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করতে হবে। কক্সবাজারকে ঘিরে সরকারের বড় পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে সেখানে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ এগোচ্ছে, রেল যোগাযোগ চালু হয়েছে এবং চট্টগ্রাম থেকে উন্নত সড়ক যোগাযোগ গড়ে তোলা হচ্ছে। এসব অবকাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে কক্সবাজারকে একটি আধুনিক ডিজিটাল পর্যটন নগরীতে রূপান্তর করা হবে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, সেখানে কক্সবাজার অন্যতম গ্রোথ হাব হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। পর্যটন, বাণিজ্য ও সেবা খাতের বিকাশের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে কক্সবাজারের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে।’
বাংলাদেশ পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে প্রশাসনিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবে একযোগে ১৭ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ শাখা-১ থেকে জারি করা এক সরকারি প্রজ্ঞাপনে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাঠামোগত রদবদলে একযোগে এতজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানোর এই ঘটনাটি বেশ উল্লেখযোগ্য একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন। সরকারি ওই প্রজ্ঞাপনে প্রশাসনিক নিয়মাবলি অনুসরণ করে এই কর্মকর্তাদের নির্ধারিত সময়ের আগেই অবসরে পাঠানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাধ্যতামূলক অবসরে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য অবসরজনিত সব ধরনের আর্থিক ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়মিতভাবেই পাবেন বলে প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের এই দীর্ঘ তালিকায় পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা রয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহীল বাকী, সিআইডির ডিআইজি সানা শামীনুর রহমান, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি (বিপিএ) সারদার ডিআইজি মো. ওয়ালিদ হোসেন এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অতিরিক্ত ডিআইজি) ফরিদা ইয়াসমিন। পাশাপাশি সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন ও রেবেকা সুলতানা, ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি বিধান ত্রিপুরা ও সুলতানা নাজমা হোসেন এবং পুলিশ স্টাফ কলেজের অতিরিক্ত ডিআইজি ড. এ কে এম ইকবাল হোসেনকেও এই তালিকায় রাখা হয়েছে।
এই প্রজ্ঞাপনের আওতায় অবসরে যাওয়া অন্যান্য কর্মকর্তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন এপিবিএনের অতিরিক্ত ডিআইজি সহেলী ফেরদৌস, পুলিশ একাডেমি সারদার অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ তবারক উল্লাহ এবং রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মো. হাবিবুর রহমান। একই সঙ্গে পুলিশ টেলিকমের অতিরিক্ত ডিআইজি হাসিনা রহমান, পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি ফয়সল মাহমুদ ও কানিজ ফাতেমা, নৌ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি জেসমিন বেগম এবং টিডিএস ঢাকার পুলিশ সুপার আব্দুর রহিম শাহ চৌধুরীকেও সরকারি নির্দেশে একযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) নির্ধারিত সময়ের সাত দিন আগেই আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ৫০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেছে। এবারের লিখিত পরীক্ষায় সর্বমোট ৬ হাজার ১৬৫ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। দেশের এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট এবং টেলিটক মোবাইলের এসএমএস পরিষেবার মাধ্যমে পরীক্ষার্থীরা তাদের বিস্তারিত ফলাফল জানতে পারবেন। পিএসসির পূর্বঘোষিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এই ফলাফল আগামী ৩০ জুলাই প্রকাশের কথা থাকলেও, এক সপ্তাহ আগেই তা প্রকাশ করে পরীক্ষার্থীদের জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে কমিশন।
কমিশনের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) ১০ আগস্ট থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা আগামী ১১ আগস্ট থেকে শুরু হবে। উল্লেখ্য, এই ৫০তম বিসিএসের মাধ্যমে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার মিলিয়ে সর্বমোট ২ হাজার ১৫০ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে শুধু ক্যাডার পদের সংখ্যাই রয়েছে ১ হাজার ৭৫৫টি। এই ক্যাডার পদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ দেওয়া হবে স্বাস্থ্য ক্যাডারে, যেখানে ৬৫০ জন চিকিৎসক নেওয়া হবে; এছাড়া প্রশাসন ক্যাডারে ২০০ জন এবং পুলিশ ক্যাডারে ১১৭ জন কর্মকর্তা নিয়োগ পাবেন।
তবে পিএসসি তাদের পরীক্ষা গ্রহণ এবং ফলাফল প্রকাশের গতি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ালেও এর প্রকৃত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ চাকরিপ্রার্থীরা। চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর পিএসসির পক্ষ থেকে নিয়োগের সুপারিশ পাঠানো হলেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন পুলিশ ভেরিফিকেশন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার ধীরগতির কারণে চূড়ান্ত নিয়োগ মাসের পর মাস আটকে থাকছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৪৫, ৪৬ ও ৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত সুপারিশের পর প্রায় আট মাস পার হয়ে গেলেও ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা এখনো চাকরিতে যোগ দিতে পারেননি।
এরই মধ্যে ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে এবং সর্বশেষ ৫০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফলাফলও দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকাশ করা হলো। ফলে পিএসসির দিক থেকে ফলাফল প্রকাশের গতি বাড়লেও অন্যদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ধীরগতির কারণে ভেরিফিকেশনের বিশাল জটে আটকে থাকছে নিয়োগ প্রক্রিয়া। নিয়োগ প্রক্রিয়ার এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে একদিকে যেমন শূন্য পদগুলো পূরণ হচ্ছে না, অন্যদিকে উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীদের চূড়ান্ত নিয়োগের অপেক্ষার প্রহর আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের শক্তিশালী অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং এই লক্ষ্য অর্জনে তারা বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে বিদেশি বিনিয়োগের গুরুত্ব এবং সরকারের সহায়ক নীতিমালার বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "ব্যবসায় সফলতার জন্য সরকারের ব্যবসায়ী নীতিও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের অনেক চ্যালেঞ্জ আছে, একই সঙ্গে সামর্থ্যও আছে। বাংলাদেশে নিরাপদ বিদেশি বিনিয়োগ দরকার। ট্যাক্স, ভ্যাট প্রক্রিয়া সহজ করে বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করার দিকে জোর দিয়েছি। বাংলাদেশ টেকসই ও স্থায়ী বিদেশী বিনিয়োগ চায়, আমরা এক হয়ে কাজ করতে চাই।" তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক বিভিন্ন প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং দেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের একটি অনুকূল ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতে সরকার পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভ্যাট ও ট্যাক্স প্রদান প্রক্রিয়া সহজ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি সকল সেবাকে ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনা এবং বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদানের বিষয়টিতেও সরকার বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, বাংলাদেশের সক্ষমতা ও সামর্থ্যকে কাজে লাগিয়ে একটি সমৃদ্ধ অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে সরকার সকলের সাথে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে আগ্রহী।
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের পাসপোর্টের তথ্য সংশোধন করে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু ও পুনঃইস্যুর (রি-ইস্যু) কার্যক্রমের সময়সীমা আরও ছয় মাস বৃদ্ধি করেছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখা থেকে মঙ্গলবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, এই বিশেষ সুবিধা এখন ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। জনস্বার্থ বিবেচনা এবং প্রবাসীদের পাসপোর্ট সংক্রান্ত সেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখার লক্ষ্যেই সরকার পূর্বের আদেশের মেয়াদ বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নুরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনটি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে জারি করা একটি আদেশের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের সময়সীমা ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। নতুন নির্দেশনার ফলে বিদেশে থাকা যেসব বাংলাদেশির পাসপোর্টে নাম, জন্মতারিখ কিংবা পিতা-মাতার নামসহ বিভিন্ন তথ্যে ভুল রয়েছে, তারা এখন নির্ধারিত বর্ধিত সময়ের মধ্যে সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে। এর ফলে বৈধভাবে ভ্রমণ ও প্রশাসনিক কাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রবাসীদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। যারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে পারেননি, তারা সরকারের এই পদক্ষেপে নতুন করে সুযোগ পাবেন। প্রজ্ঞাপনটি বাস্তবায়নের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরসহ সকল বাংলাদেশ মিশনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।