সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
২৩ চৈত্র ১৪৩২

জাতির আত্মপরিচয়ে পহেলা বৈশাখ এক উজ্জ্বল উপাদান: তারেক রহমান

তারেক রহমান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৩ এপ্রিল, ২০২৫ ২০:২৫

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জাতির আত্মপরিচয়ে পহেলা বৈশাখ এক উজ্জ্বল উপাদান। পহেলা বৈশাখ ১৪৩২ উপলক্ষে তার ভেরিফাইড ফেসবুকে আজ রোববার এক স্ট্যাটাসে এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশি জাতিসত্তার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ নববর্ষ উদযাপন। বাংলা নববর্ষ বাংলাদেশিদের হৃদয়ে তার প্রকাশ অনন্য ভিন্নরূপ। আমি এই উৎসবমুখর দিনে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সব বাংলাদেশির জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।’

তিনি বলেন, ‘আবহমানকাল ধরে নানা রূপ ও বৈচিত্র্য নিয়ে জাতির জীবনে বার বার ঘুরে আসে পহেলা বৈশাখ। নববর্ষের উৎসবের সঙ্গে যেন ভরে ওঠা প্রকৃতি ও প্রাণের যোগ আবহমানকাল ধরে বিদ্যমান। আমাদের হৃদয়ে সঞ্চারিত হয় স্বজাতির অতীত গৌরব ও ঐশ্বর্য। আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সুদূর অতীতকাল ধরে নির্মীয়মাণ বিশালত্ব এক শক্ত ভিত্তি লাভ করে। ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মনুষ্যত্বের বাণী একত্রিত হয়ে গঠন করে এক সুগ্রন্থিত জাতি।’

তিনি বলেন, ‘জাতির আত্মপরিচয়ে পহেলা বৈশাখ এক উজ্জ্বল উপাদান। প্রতি বছর নববর্ষ পেছনের আলোকের দীপ্তিতে উৎকর্ষ ও অগ্রগতির পথে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে প্রেরণা দেয়। এখন আমাদের প্রাণবন্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের উদার দৃষ্টিভঙ্গির যে সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং প্রবণতা রয়েছে তার ভিত্তিতে বহুমত ও পথের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার চিরস্থায়ী কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।’

বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিরতা ও সহিংসতার প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান বলেন, ‘১৪৩১ সাল নানা ঘটনা ও দুর্ঘটনার সাক্ষী। আমরা ১৪৩২ সালের প্রভাতে দাঁড়িয়ে আছি। শান্তির জন্য শুধু অপেক্ষা করলে হবে না, সমাধান হতে হবে নিঃস্বার্থ। তাহলেই রক্তপাত থামবে, শান্তি ধরা দেবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলা সন-তারিখ আমাদের প্রাত্যহিক জীবন, দৈনন্দিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অপরিহার্য অনুষঙ্গ। তাই এটি জাতীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ, বিদগ্ধজনের মানসিক আশ্রয় ও মননের পরিচর্যার উৎসস্থল। সুপ্রাচীনকাল ধরে গড়ে ওঠা ভাষা ও কৃষ্টির নিবিড় বন্ধন ভেঙে ফেলার জন্য বিদেশি আধিপত্যবাদী প্রভুরা সাংস্কৃতিক আধিপত্য বিস্তারের জন্য মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলেছে। আমাদের এ সম্পর্কেও সচেতন ও সদা জাগ্রত থাকতে হবে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘নববর্ষের প্রথম দিনে আমি সবার কল্যাণ ও শান্তি কামনা করছি। বৈশাখের বহ্নিতাপে সমাজ থেকে মুছে যাক অসত্য, অন্যায়, অনাচার ও অশান্তি। চারিদিকে প্রবাহিত হোক শান্তির সুবাতাস, সুশীলা নদী, সমস্ত জগৎ হোক অমৃতময়।’

১৪৩২ বাংলা সনের নতুন প্রভাতের প্রথম আলোতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান তারেক রহমান।


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। সোমবার (৬ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন প্রণয় ভার্মা।

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির জানিয়েছেন, বৈঠকে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি ছাড়াও দ্বিপাক্ষিক জনগণ-সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ইতিবাচক মানসিকতা থাকলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি নতুন ও সুদৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব। এ সময় দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেন সরকারপ্রধান।

জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী ভারত।

বৈঠকে শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ূন কবির বলেন, ‘শেখ হাসিনা বাংলাদেশে রাজনৈতিকভাবে মরে গেছেন। শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ বলতে বাংলাদেশে এখন আর কিছু নেই।’ তবে বৈঠকে শেখ হাসিনাকে নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি জানিয়ে দেশের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

হুমায়ূন কবির জানান, ইন্ডিয়ান ওসেন সামিটে (Indian Ocean Summit) অংশ নিতে মরিশাস যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা। যাত্রাপথে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভারতে একটি শুভেচ্ছা সফরও করবেন তারা।


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেসব চুক্তি হয়েছে, সেগুলোতে ড. ইউনূস কোনো দিনও আমাকে ডাকেননি: আসিফ নজরুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেসব চুক্তি হয়েছে, সেগুলোতে আমাকে কোনো দিনও ডাকা হয়নি। কারণ সেটা আমার এরিয়া কনসার্ন না। ইকোনমিক, ব্যাংকিং ও এনবিআর ইস্যুতে যে আলোচনা করা হয়েছে, সেখানেও আমাকে ডাকা হয়নি। সেটা স্যার (ড. মুহাম্মদ ইউনূস) কনসার্ন কয়েকজন উপদেষ্টাদের নিয়ে বসতেন।

লিগ্যাল (আইন) ইস্যুতে আমাকে ডাকা হতো। পলিটিক্যাল ও সংস্কার ইস্যুতে আমাকে ডাকা হতো। এমন অনেক বড় বড় ইস্যু-যেখানে যাকে প্রয়োজন, সেখানে স্যার তাকে ডাকতেন।

সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন আসিফ নজরুল।

সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন করা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেড় বছরের পুরো সময়ে আলোচনায় ছিল সরকারের মধ্যে আর একটা সরকার ছিল। একটা কিচেন কেবিনেট ছিল। সেই কিচেন কেবিনেটের সদস্য আপনিও ছিলেন, এ ধরনের অভিযোগ আছে। প্রশ্ন শুনে আসিফ নজরুল সাফ জানিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে তাকে ডাকেননি ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

উল্টো প্রশ্ন রেখে আসিফ নজরুল বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে কোন সরকারের আমলে কিচেন কেবিনেট ছিল না?

এ সময় সাবেক এই উপদেষ্টা আরো বলেন, কিচেন কেবিনেটের সদস্য কেউ না কেউ কোনোভাবে ছিল। যারা দু-একজন হয়তো ছিল না, তারা হয়তো ওই বিষয়ে এত বেশি গুরুত্বপূর্ণ না, এ জন্য তাদের রাখতেন না।

এ বিষয়ে সাবেক এক উপদেষ্টার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে বলছি, ওই উপদেষ্টা বলেছেন- ইউনূস সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় তিনি ছিলেন না। তবে উনি লেবার ‘ল’-এর বিষয়ে যতগুলো সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেই আলোচনায় উনিই ছিলেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং প্রত্যেকটা বিষয়ে তিনিই বেশি সিদ্ধান্ত নিতেন। এরপর ইলেকশন কমিশন যখন ইলেকশন ‘ল’ ড্রাপ্টটা নিয়ে এলো, তখন উপদেষ্টারা মিলে আলোচনায় বসলাম।

তখন আমাদের অবজারভেশন কী কী আছে সেটা আপনিই বলেন। তখন ওই উপদেষ্টাকে বেশি বলতে বলা হয়েছিল। কারণ তার ইলেকশন বিষয়ে বেশি অভিজ্ঞা রয়েছে।


১৩ এপ্রিল ৩ জেলায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করল সরকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে আগামী ১৩ এপ্রিল ৩ পার্বত্য জেলায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার।

রোববার (৫ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ফরিদা ইয়াসমিন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ১৩ এপ্রিল ‘চৈত্র সংক্রান্তি’ উপলক্ষে তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলো।

তিনটি পার্বত্য জেলার পাশাপাশি দেশের অন্যত্র সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্য এটি ঐচ্ছিক ছুটি হিসেবে প্রযোজ্য হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।


সরকারি দলের সংসদীয় সভা আজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আজ সরকারি দলের সংসদীয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সরকার দলীয় সব সংসদ সদস্যকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনে সরকার দলীয় সভাকক্ষে (পশ্চিম ব্লক, লেভেল ৯, কক্ষ নম্বর ৯৩২) এই সভা অনুষ্ঠিত হবে।

গতকাল রোববার বিকালে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ শাখার উপপরিচালক নীলুফার ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।


ঢাকায় যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে ঢাকা সফরে এসেছেন যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত ব্যারোনেস উইন্টারটন।

নতুন সরকার গঠনের পর এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আজ (সোমবার) থেকে তার সফরের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশন এ তথ্য জা‌নি‌য়ে‌ছে।

ব্রিটিশ হাইক‌মিশন বল‌ছে, ফেব্রুয়ারিতে নতুন নির্বাচিত সরকার গঠনের পর তার এ সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ বলা হচ্ছে। বাণিজ্য, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষা, বিমান চলাচল ও প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

সফরকালে ব্যারোনেস উইন্টারটন মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রবৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হবে।

ব্রিটিশ হাইকমিশন জানিয়েছে, তিনি বাংলাদেশে কার্যরত যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন। তার এ সফরের লক্ষ্য, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর নতুন সুযোগ খুঁজে বের করা।

সফরের অংশ হিসেবে ব্যারোনেস উইন্টারটন এমন কিছু রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন, যারা যুক্তরাজ্যের ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিম (ডিটিসিএস) সুবিধা ব্যবহার করে পণ্য রপ্তানি করছে। এই স্কিমের আওতায় শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা, সহজ নিয়ম ও রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণে উৎসাহ দেওয়া হয়।

ডিটিসিএস-এর আওতায় বাংলাদেশ সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী দেশ। এর মাধ্যমে দেশটি প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে পণ্য রপ্তানি করে কর্মসংস্থান বাড়াতে পারছে।

সফরের বিষয়ে ব্যারোনেস উইন্টারটন বলেন, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে। তিনি নতুন সুযোগ খুঁজে বের করে দুই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, এই সফর দুই দেশের অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করবে।

যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানি বাজার এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও বিনিয়োগ অংশীদার হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।


নতুন সরকারের প্রথম একনেক বৈঠক আজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই বৈঠকে মোট ১১ হাজার ৫৭৮ কোটি ২২ লাখ টাকার ১৭টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

এর মধ্যে নতুন প্রকল্প রয়েছে ৯টি। প্রস্তাবিত ব্যয়ের মধ্যে সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করবে ৮ হাজার ৭০৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা, বৈদেশিক ঋণ থেকে আসবে দুই হাজার ৮৫৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে ১৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। প্রকল্পগুলোর ধরন অনুযায়ী রয়েছে নতুন ৮টি, সংশোধিত ৩টি এবং মেয়াদ বাড়ানো ৬টি প্রকল্প। এছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প সরাসরি বৈঠকে উত্থাপন করা হবে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব এসএম শাকিল আখতার জানিয়েছেন, এটি চলতি অর্থবছরের নবম একনেক সভা। আগে থেকে নির্ধারিত স্থান পরিকল্পনা কমিশন চত্বরের এনইসি সম্মেলন কক্ষ হলেও জ্বালানি সাশ্রয়ের কারণে হঠাৎ করে সভার স্থান পরিবর্তন করে সচিবালয়ের মন্ত্রিসভার কক্ষে নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মোট ১৮টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উত্থাপিত হবে।

উত্থাপিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্প’ উল্লেখযোগ্য। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় ছয়টি প্রকল্প এনেছে, যার মধ্যে রয়েছে সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন, পল্লী উন্নয়ন, চর উন্নয়ন, সিটি করপোরেশন অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জরুরি পানি সরবরাহ সংক্রান্ত প্রকল্প।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন সংক্রান্ত একটি সংশোধিত প্রকল্প উপস্থাপন করছে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় নিয়ে এসেছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প—শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডায়াগনস্টিক ইমেজিং আধুনিকীকরণ, পাশাপাশি গোপালগঞ্জে ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্প।

এছাড়া গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সচিবালয়ে ২১ তলাবিশিষ্ট নতুন অফিস ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সৈনিকদের আবাসন সুবিধা বাড়াতে ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ করবে। সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ও একাধিক বড় প্রকল্প নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে মহাসড়ক সম্প্রসারণ, রাঙামাটিতে নতুন সেতু নির্মাণ এবং ময়মনসিংহে জলবায়ু-সহনশীল সেতু নির্মাণ।

এ বৈঠকে ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের ৩৩টি প্রকল্প সম্পর্কেও একনেককে অবহিত করা হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন সরকারের প্রথম একনেক সভার এই সিদ্ধান্তগুলো দেশের অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন গতি যোগ করবে এবং বিভিন্ন খাতে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কার্যক্রমকে এগিয়ে নেবে।


সৌ‌দিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত মামুনের মরদেহ দেশে এসেছে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে সৌদি আরবে নিহত বাংলাদেশি কর্মী আব্দুল্লাহ আল মামুনের মরদেহ দেশে এসেছে।

সোমবার (৬ এ‌প্রিল) সৌদি এয়ারলাইন্সের এস‌ভি৮০৬ ফ্লাই‌টে মামুনের মরদেহ বহনকারী বিমান‌টি সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

মামুনের প‌রিবা‌রের উপ‌স্থি‌তি‌তে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে মরদেহ গ্রহণ করেন।

গত ৮ মার্চ ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের আল-খারজ এলাকায় আঘাত হানলে মামুন দগ্ধ হন। তার শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। রিয়া‌দে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহত মামুনের বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর গ্রামে।


ইউনূস আমলের বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে টেনে তোলাই নতুন সরকারের লক্ষ্য

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কাইয়ুম আহমেদ

দেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল-নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহম্মদ ইউনূসের হাত ধরে এবার ঘুরে দাঁড়াবে দেশের অর্থনীতি; ফিরবে শান্তি, স্বস্তি। কিন্তু সে প্রত্যাশার ছিঁটেফোটাও পূরণ হয়নি; উপরন্তু তার দেড় বছরে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি, উচ্চ সুদহার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নামেনি, বাড়েনি উৎপাদন এমনকি নতুন কর্মসংস্থানও। ফলে প্রবৃদ্ধি নামে তলানিতে। এতে সার্বিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে দেশের অর্থনীতি। এই দুর্বল অর্থনীতিকে সবল করার লক্ষ্য নিয়েই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৮,৮৩,০০০ কোটি টাকার বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার। এই বাজেটে গুরুত্ব পাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জ্বালানিসংকট, রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি—এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই দিতে হবে একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাজেট। ভর্তুকি, উন্নয়ন ব্যয় ও ক্রমবর্ধমান দায়দেনার চাপের মধ্যে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই হবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর জন্য সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ।
তারা আরো বলছেন, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ মৌলিক প্রায় সবখানেই অন্তর্বর্তী সরকারের নানা ঘাপলা ধরা পড়ছে। ঘটনা না ঘটলে বা ফাঁস না হলে তা এত স্পষ্ট না-ও হতে পারত। নতুন বাজেট প্রণয়ন করতে গিয়ে অর্থনীতির দৈন্যদশায় অনেকটাই পথহারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা; যা টেনে আনতে প্রাণান্ত অবস্থা! এই অবস্থার মধ্যেও পূর্ববর্তী ঋণের চাপের সঙ্গে বর্তমান জ্বালানি সংকট যোগ হয়ে নতুন প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। অর্থনীতির রক্ত চলাচল ঠিক রাখাই এখন কঠিন। তবে সরকারের আশা ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির সূচনা করা। এ বিষয়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর আবদুল বায়েস বলেন, ইউনূস একজন অর্থনীতিবিদ হিসেবে সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল বিপর্যস্ত অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। অথচ তার সময়ে অর্থনীতি আরও মুখ থুবড়ে পড়েছে। সব সূচকই ছিল নিম্নমুখী। ব্যবসাবাণিজ্যে ছিল আস্থার সংকট। শিল্প-কারখানাগুলোর উৎপাদন ছিল নিম্নমুখী। না ছিল কোনো নতুন উদ্যোগ, না এসেছে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ। উল্টো দেশে বেকারত্ব ও গরিব মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশ্বব্যাংকের হিসাবে প্রায় ৩০ লাখ নতুন দরিদ্র হয়েছে ড. ইউনূসের আমলে।
ব্যক্তি খাতের গড় বিনিয়োগ চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন : ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতের গড় বিনিয়োগ হার ছিল জিডিপির ২৪ শতাংশ। ২০২৫ সালের জুনে তা কমে ২২ দশমিক ৪৮ শতাংশে নেমে আসে। বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ এক বছরে প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট পতনের ঘটনাটি ছিল গত চার দশকের মধ্যে নজিরবিহীন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বাজেটের সম্ভাব্য আকার হতে পারে আট লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৯৩ হাজার কোটি টাকা বেশি।
এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ছয় লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা ধরা হলে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে দুই লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা বা জিডিপির ৩.৬ শতাংশ। এই ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে দুই লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ২ শতাংশ) সংগ্রহের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হবে এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে আসবে এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকা।
প্রস্তাবিত বাজেট কাঠামো অনুযায়ী মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হতে পারে প্রায় ছয় লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব খাত থেকে আয়ের লক্ষ্য পাঁচ লাখ ৭১ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ৮.৪ শতাংশ) এবং এনবিআর থেকে কর আদায়ের লক্ষ্য প্রায় পাঁচ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা।
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার হতে পারে প্রায় দুই লাখ ৫৩ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা বেশি। তবে এবার প্রকল্প বাছাইয়ে কার্যকারিতা ও বাস্তবায়ন সক্ষমতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এই বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির মধ্যে ১ কোটি কর্মসংস্থান, ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি তৈরি এবং ফ্যামিলি, হেলথ ও কৃষক কার্ডসহ জনবান্ধব অঙ্গীকার পূরণের লক্ষ্য। একইসাথে বিনিয়োগবান্ধব করনীতি গ্রহণেও থাকবে বাড়তি গুরুত্ব। এছাড়া বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন ও মানবসম্পদ গঠনে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষা, প্রযুক্তি দক্ষতা এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ বাড়ানোর আলোচনা রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অত্যন্ত দুর্বল অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়েছে বর্তমান সরকারকে। একদিকে অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে হবে, অন্যদিকে জনগণের কাছে দেওয়া নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের চাপও রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নতুন করে অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করেছে।
তিনি স্পষ্ট করেছেন, সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধির দিকে এগোতে চায়। অর্থনীতিতে চাপ মোকাবিলায় টাকা ছাপানোর মতো স্বল্পমেয়াদি সমাধানের পথে সরকার হাঁটতে চায় না। বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থনীতিকে টেকসই পথে ফেরানোই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের দুর্বলতা বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় অনেক সময় সম্ভব হয় না, ফলে উন্নয়ন ব্যয় ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় চাপ তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, দেশের পূর্ববর্তী ঋণ এবং বর্তমান জ্বালানি সমস্যার কারণে নতুন করে ঋণ করে অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়া চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূল্যস্ফীতি বর্তমানে যে পর্যায়ে রয়েছে, আগামীতে তার থেকেও বাড়তে পারে।
তবে বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব ঘাটতি মোকাবিলা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সিপিডি নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম বাজেট হতে যাচ্ছে। এমন এক সময়ে এই বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে, যখন দেশের অর্থনীতি অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। অর্থনীতি উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আহরণের ধীরগতি, বাজেট বাস্তবায়নে দুর্বলতা, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ, নিম্ন বিনিয়োগ এবং সীমিত কর্মসংস্থানের মতো নানা সমস্যার সম্মুখীন। পাশাপাশি আর্থিক খাতের অস্থিরতা এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধির শ্লথগতিও অর্থনীতির জন্য অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে। একই সঙ্গে আগামী সময়ে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা (এলডিসি) থেকে উত্তরণের বিষয়টিও একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে রয়েছে। ফলে এই পরিস্থিতিতে নীতিনির্ধারকদের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
ড. ফাহমিদা খাতুনের মতে, নতুন সরকারের জন্য এই বাজেট একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এর মাধ্যমে তারা নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের সূচনা করতে পারে এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে কার্যকর নেতৃত্ব প্রদর্শন করতে পারে। তবে এসব লক্ষ্য অর্জনে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সুসংগঠিত রাজস্ব কাঠামো গড়ে তোলা অপরিহার্য।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর বলেন, ১৮ মাসের মধ্যে নতুন করে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরি করতে চায়। এক কোটির অর্ধেকও যদি হয়, তাহলে কিন্তু বিনিয়োগটা বাড়াতে হবে। আর বিনিয়োগটা হতে হবে কর্মসংস্থানবান্ধব। এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি পেতে গেলে কিন্তু আমাদের প্রবৃদ্ধির হার হতে হবে প্রায় ৮ শতাংশ, মানে প্রতি বছর প্রায় ৮ শতাংশ করে প্রবৃদ্ধি হতে হবে। এই মুহূর্তে আছে প্রায় ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। যদিও নাজুক অবস্থায় রয়েছে আর্থিক খাত। অভ্যন্তরীণ আয়ে নেই তেমন সুখবর। অর্থবছরের ছয় মাসে লক্ষ্যের তুলনায় রাজস্ব আদায় কম হয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। বিশাল ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে নতুন বাজেটে দিক নির্দেশনা দরকার।
অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরি বলেন, মূল্যস্ফীতি বহুদিন ধরে উচ্চপর্যায়ে রয়ে গেছে। মূল্যস্ফীতির কারণে স্বল্প আয় ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী নিষ্পেষিত। দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকে যদি আকৃষ্ট করা না যায় তাহলে উৎপাদন বাড়বে না, প্রবৃদ্ধি বাড়বে না এবং কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে না। আর্থিক খাত যদি সক্ষম না হয়, তাহলে বিনিয়োগ বা ঋণ প্রবাহ, বেসরকারি খাতে উৎপাদন, কোনোটিতেই কিন্তু সফলতা আসবে না।


মার্চে মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮.৭১ শতাংশে

খাদ্যবহির্ভূত খাতে বেড়েছে ০.০৮ শতাংশ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৬ সালের মার্চে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮.৭১ শতাংশে। এর আগের মাস ফেব্রুয়ারিতে এই হার ছিল ৯.১৩ শতাংশ। আগের বছরের মার্চে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯.৩৫ শতাংশ।

রোববার (৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৮.২৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ফেব্রুয়ারি মাসে ছিল ৯.৩০ শতাংশ। তবে গত বছরের মার্চে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৯৩ শতাংশ। অন্যদিকে, খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে এবছরের মার্চে দাঁড়িয়েছে ৯.০৯ শতাংশে, যা ফেব্রুয়ারি মাসে ছিল ৯.০১ শতাংশ। তবে এই খাতে ২০২৫ সালের মার্চে মূল্যস্ফীতি ছিল তুলনামূলক বেশি, ৯.৭০ শতাংশ।

গ্রামীণ এলাকায় পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে সাধারণ মূল্যস্ফীতি মার্চে দাঁড়িয়েছে ৮.৭২ শতাংশ, যা ফেব্রুয়ারির ৯.২১ শতাংশ থেকে কম। তবে গত বছরের একই সময়ে, অর্থাৎ মার্চ ২০২৫-এ এটি ছিল বেশি—৯.৪১ শতাংশ।

গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৯.০৭ শতাংশ থেকে ৮.০২ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি সামান্য বেড়ে ৯.৩৪ শতাংশ থেকে ৯.৩৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

আগের বছরের মার্চ মাসে গ্রামাঞ্চলে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল যথাক্রমে ৮.৮১ শতাংশ এবং ৯.৯৭ শতাংশ।

শহরাঞ্চলেও মূল্যস্ফীতিতে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। মার্চে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৬৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯.০৭ শতাংশ।

শহরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯.৮৭ শতাংশ থেকে কমে ৮.৭৮ শতাংশে নেমেছে, তবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে ৮.৫৭ শতাংশ থেকে ৮.৬২ শতাংশ হয়েছে।

আগের বছরের জানুয়ারিতে শহরাঞ্চলে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল যথাক্রমে ৯.১৮ শতাংশ এবং ৯.৯৫ শতাংশ।

বিবিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে স্বল্প আয়ের দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকদের গড় মজুরি সামান্য বেড়ে ৮.০৯ শতাংশ হয়েছে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৮.০৬ শতাংশ।

যদিও মার্চে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৯.১৩ শতাংশ থেকে ৮.৭১ শতাংশে নেমেছে, তবুও শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত আয় এখনো পিছিয়ে রয়েছে। ফলে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে টানা ৫০ মাস ধরে প্রকৃত আয় হ্রাসের ধারা অব্যাহত রয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১১.৬৬ শতাংশে পৌঁছায়, যেখানে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ৭.৯৩ শতাংশ—ফলে ৩.৭৩ শতাংশ পয়েন্টের একটি বড় ব্যবধান তৈরি হয়। বর্তমানে সেই ব্যবধান কমে ০.৬২ শতাংশ পয়েন্টে নেমে এসেছে।


সব ধর্মাবলম্বীদের ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সুখী, সমৃদ্ধ বেটার বাংলাদেশ গড়তে সব ধর্মাবলম্বীদের ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমরা সব ধর্মের মানুষকে এক চোখে দেখি এবং সবাইকে ভালোবাসি একই রকমভাবে। আমরা বিশ্বাস করি, ধর্ম যার যার, দেশটা সবার। রোববার (৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ইস্টার সানডে উপলক্ষে এক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান ইস্টার সানডে উপলক্ষে একটি প্রতিনিধি দল মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। তাদের সাথে প্রধানমন্ত্রী শুভেচ্ছা এবং মতবিনিময় করেছেন। প্রধানমন্ত্রী খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সাফল্য কামনা করেছেন।

ফেডারেশন অব প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চ ইন বাংলাদেশ সভাপতি ফিলিপ পি. অধিকারীর নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন।

মতবিনিময়ের এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেছেন, আমরা সব ধর্মের মানুষকে এক চোখে দেখি এবং সবাইকে ভালোবাসি একই রকমভাবে। আমরা বিশ্বাস করি, ধর্ম যার যার, দেশটা সবার। আসুন দেশটাকে গড়ার লক্ষ্যে সব ধর্মের মানুষ, সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ সবাইকে সুখী, সমৃদ্ধ একটা বেটার বাংলাদেশ গড়তে একযোগে কাজ করতে হবে, এই লক্ষ্য নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাই।

প্রধানমন্ত্রী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে সব ধর্মের মানুষ ভোট দিয়েছে এরকম মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, একটা কথা প্রচলিত ছিল যে, অন্য ধর্মের মানুষজন বিএনপিকে ভোট দেয় না। এটা এবারের নির্বাচনে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বিএনপিকে সব ধরনের মানুষ ভোট দিয়ে জয়ী করেছে।

বিগত সরকারের আমলে দেশের অবস্থার প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে বিএনপি যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেছে তখন দেশের ভঙ্গুর দশা ছিলো। অর্থনৈতিক খাতে ভঙ্গুর অবস্থা, যোগাযোগ খাতে ভঙ্গুর দশাসহ বিভিন্ন সেক্টরে যে অবস্থা বিরাজ করছিল, মনে হয়েছে একটা যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের দায়িত্ব নিয়েছি।

ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে দেশে জ্বালানি সংকট পরিস্থিতি মোকাবিলার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রেভারেন্ড অসীম বাড়ৈ এবং ফেডারেশন অব প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চ ইন বাংলাদেশের অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার খ্রীস্টেফার মি. অধিকারী।

জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের পক্ষ থেকে নারী প্রতিনিধি, ইস্টার সানডে সরকারি ছুটি ঘোষণা দাবি তুলে নেতৃবৃন্দ তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারকে সহযোগিতা এবং তাদের সহযাত্রী হিসেবে কাজ করার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন।

প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে নেতৃবৃন্দ জানান, তার জন্য আমাদের ৭ হাজার চার্চে প্রার্থনা হয়েছে, এখন আপনার (তারেক রহমান) সরকারের জন্য প্রার্থনা হয় প্রতিদিন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে খ্রিষ্টান ধর্মালম্বীদের দাবিসমূহ বিবেচনা করে দেখবেন বলে জানান। পরে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ইন্টার সানডে উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীকে ক্রেস্ট উপহার দেওয়া হয়।


১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় শুরু জরুরি টিকাদান

আপডেটেড ৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০০:০৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

হাম মোকাবিলায় দেশে জরুরি হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে দেশের ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় একযোগে এই কর্মসূচি শুরু হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এদিন সকালে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারে, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী পাবনা সদরে, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ঝালকাঠির নলছিটিতে এবং স্বাস্থ্যসচিব গাজীপুরে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সি শিশুরা হাম-রুবেলার টিকা পাবে। কেউ আগে পেয়ে থাকলেও চলমান ক্যাম্পেইনে টিকা নিতে পারবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হামের পরিস্থিতি বর্তমানে সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। মূলত যেসব এলাকায় সম্প্রতি হামের প্রকোপ বেশি দেখা গেছে, সেসব ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করে টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

বিশেষ কার্যক্রমের আওতাভুক্ত এলাকাগুলো হলো—বরগুনা জেলার বরগুনা পৌরসভা ও সদর, পাবনার পাবনা পৌরসভা ও সদর, চাঁদপুরের চাঁদপুর পৌরসভা ও সদর, কক্সবাজারের মহেশখালী, গাজীপুরের গাজীপুর সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা ও সদর, পাবনার ঈশ্বরদী, নেত্রকোনার আটপাড়া, ময়মনসিংহের ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল, পাবনার আটঘরিয়া, রাজশাহীর গোদাগাড়ী, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ, নওগাঁর পোরশা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ, যশোরের যশোর পৌরসভা ও সদর, নাটোরের নাটোর পৌরসভা ও সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং, কক্সবাজারের রামু, চাঁদপুরের হাইমচর, ময়মনসিংহের তারাকান্দা, মাদারীপুরের মাদারীপুর পৌরসভা ও সদর, বরিশালের বাকেরগঞ্জ, ঢাকার নবাবগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জের মুন্সিগঞ্জ পৌরসভা ও সদর, পাবনার বেড়া, ঝালকাঠির নলছিটি, শরীয়তপুরের জাজিরা এবং মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর।

যেসব শিশুর জ্বর রয়েছে বা বর্তমানে অসুস্থ, তাদের এই সময়ে টিকা না দিয়ে সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে।

টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি আক্রান্ত বা জ্বর আছে—এমন শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সুস্থ শিশুদের ক্ষেত্রে শুধু টিকাই দেওয়া হবে, অতিরিক্ত কোনো ওষুধ দেওয়া হবে না। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে টিকা দেওয়া হবে। আগের টিকাদান কেন্দ্রগুলো ছাড়াও স্থানীয়ভাবে নির্ধারিত স্থান, স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টারে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রাথমিকভাবে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে কার্যক্রম শুরু হলেও ধীরে ধীরে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। জুলাই মাসের মধ্যে এটি নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে চালু থাকবে।

শিশু হামের ভ্যাকসিন পেয়েছে কি, টিকা-কার্ড দেখে জানবেন যেভাবে: এসব এলাকায় পাঁচ বছরের কম বয়সি সব শিশুকে টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে জ্বর বা অন্য কোনো অসুস্থতা থাকলে এখন টিকা দেওয়া হবে না। পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার পর তাদের টিকা দেওয়া হবে। এ ছাড়া রোগের জটিলতা কমাতে হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন সব রোগীকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।


তিন মাসে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার সাড়ে ৩ হাজার অপরাধী: র‌্যাব মহাপরিচালক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে হত্যা, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত প্রায় সাড়ে ৩ হাজার অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) নবনিযুক্ত মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ।

রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

ডিজি বলেন, গত তিন মাসে অস্ত্র সংক্রান্ত অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব ৩৩১টি অস্ত্র উদ্ধার ও ১০৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়াও গত তিন মাসে হত্যা সংক্রান্ত মামলায় ৪৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, একই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রায় ১৭৫ জন, ছিনতাইকারী ৬১ জন, ডাকাত ১০৬ জন, মানবপাচারকারী ২৬ জনসহ ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং পর্নোগ্রাফি মামলায় ৩ হাজার ৪৭৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানের বিষয়ে ডিজি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান পরিচালনার সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় র‌্যাব সদস্য নিহতের ঘটনায় ২৯ জনকে অভিযুক্ত করে র‌্যাব একটি মামলা দায়ের করে। এরপর গত ৯ মার্চ জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ অভিযান পরিচালনার করে র‌্যাব এবং পুলিশ ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে।


সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর, সংসদে বিল পাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৩২ বছর করে সংসদে পাস হয়েছে সরকারি চাকরি (সংশোধন) বিল- ২০২৬।

রোববার (৫ এপ্রিল) জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী সরকারি চাকরি (সংশোধন) বিল, ২০২৬ সংসদে উত্থাপন করার পরে তা পাস হয়।

‘সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাগুলোতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ বিল, ২০২৬’ শীর্ষক বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

এই বিলের আওতায় সিভিল সার্ভিসের সব ক্যাডারের চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২, সিভিল সার্ভিসের আওতা বহির্ভূত অন্যান্য সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, স্ব শাসিত সংস্থাসমূহে চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩২ এবং প্রতিরক্ষা ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চাকরিতে স্ব স্ব বিধিমালা বহাল থাকবে।


banner close