সয়াবিন তেলের দাম লিটার প্রতি ১৪ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন। এতে এক লিটার সয়াবিনের দাম ১৭৫ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৯ টাকা।
মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ভোজ্যতেলের আমদানি ও সরবরাহসহ সার্বিক বিষয়ে পর্যালোচনা সংক্রান্ত সভাশেষে এ তথ্য জানান তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন তেল কিনতে এখন খরচ হবে ১৮৯ টাকা। আগে যা ছিল ১৭৫ টাকা। পাঁচ লিটার সয়াবিন তেলের বোতলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯২২ টাকা, যা ছিল ৮৫২ টাকা।
বোতলজাত তেলের পাশাপাশি খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দামও ১৪ টাকা বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের কারনে এই মুল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে এই মুল্য আরও কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
এর আগে, গতমাসের ২৭ তারিখে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৮ টাকা এবং খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম ১৩ টাকা বাড়াতে চেয়ে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনে চিঠি দেয় ভোজ্যতেল পরিশোধন কারখানাগুলোর সমিতি।
ভোজ্যতেলের আমদানি পর্যায়ে শুল্ক-কর অব্যাহতির মেয়াদ শেষ হওয়ায় দাম বাড়ানোর দাবি জানায় সমিতিগুলো।
এই নিয়ে গত সপ্তাহে সব পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেও সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি সরকার। অবশেষে আজকের (মঙ্গলবার) বৈঠক শেষে সরকারের সিদ্ধান্ত জানান বাণিজ্য উপদেষ্টা।
সাতক্ষীরা জেলাকে ‘বি’ থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরির জেলায় উন্নীত করেছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে জেলাটির প্রশাসনিক গুরুত্ব যেমন বাড়বে, তেমনি সরকারি জনবল ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২০ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১১৯তম সভায় বিশেষ বিবেচনায় সাতক্ষীরা জেলাকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এই অনুমোদনের প্রেক্ষিতেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই প্রজ্ঞাপন জারি করল। নতুন এই মর্যাদা অনুযায়ী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এখন জেলাটির প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামো এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধাদি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু করবে।
সাতক্ষীরা জেলাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পেছনে বেশ কিছু যৌক্তিক কারণ তুলে ধরেছে সরকার। নিকারের সভায় এই প্রস্তাব অনুমোদনের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে সাতক্ষীরা বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলা। বিশেষ করে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের একাংশ এই জেলায় অবস্থিত। পাশাপাশি সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দেশের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে পরিণত হয়েছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে। এই সামগ্রিক কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনা করেই জেলাটিকে ‘এ’ ক্যাটাগরির মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণত কোনো জেলায় উপজেলার সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে এর শ্রেণি নির্ধারণ করা হয়। যে সব জেলায় ৮টি বা তার বেশি উপজেলা থাকে, সেগুলোকে ‘এ’ ক্যাটাগরি, ৫ থেকে ৭টি উপজেলা থাকলে ‘বি’ ক্যাটাগরি এবং ৫টির কম উপজেলা থাকলে ‘সি’ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে অবস্থানগত কারণে বিশেষ গুরুত্ববহ জেলাগুলোকে সরকার বিশেষ বিবেচনায় উচ্চতর ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। সাতক্ষীরার ক্ষেত্রেও এই বিশেষ বিবেচনায় মর্যাদার পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এর আগে ২০২০ সালের ৬ আগস্ট সর্বশেষ জেলাগুলোর শ্রেণি হালনাগাদ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পরিপত্র জারি করা হয়েছিল। দীর্ঘ কয়েক বছর পর সাতক্ষীরা জেলার এই মানোন্নয়ন স্থানীয় প্রশাসনে নতুন গতিশীলতা আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে জেলা পর্যায়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দ এবং জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পাবে সাতক্ষীরাবাসী। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে জেলার সামগ্রিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি ২০২৬), বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। সকাল থেকেই ঢাকার বাতাসের মান জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘এয়ার ভিজুয়ালের’ এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) অনুযায়ী, আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা ৩১৪ স্কোর নিয়ে বিশ্বে দূষণের তালিকায় প্রথম অবস্থানে উঠে আসে। এই স্কোর মূলত বাতাসের মানকে ‘চরম অস্বাস্থ্যকর’ বা বিপজ্জনক হিসেবে নির্দেশ করে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মিশরের রাজধানী কায়রো, যার একিউআই স্কোর ছিল ২৫০। তালিকার তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল এবং এর ঠিক পরেই অবস্থান করছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। প্রতিদিনের এই সূচক অনুযায়ী, বাতাসের মান যখন ৩০১-এর বেশি হয়, তখন তা মানবদেহের জন্য ‘বিপজ্জনক’ বা ‘চরম অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ঢাকা আজ সেই বিপজ্জনক সীমা অতিক্রম করায় নগরবাসীর স্বাস্থ্যঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের মানদণ্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বায়ুর মান শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে তা ভালো এবং ৫১ থেকে ১০০ এর মধ্যে হলে তা মধ্যম মানের হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু ঢাকার বর্তমান স্কোর ৩০০ ছাড়িয়ে যাওয়ায় এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি সতর্কতা সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত শুষ্ক আবহাওয়ায় বাতাসে ধূলিকণা ও অন্যান্য দূষিত পদার্থের মিশ্রণ সহজে ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে দূষণের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
বায়ুদূষণ বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, শীতকালীন শুষ্ক আবহাওয়া ছাড়াও অপরিকল্পিত নির্মাণকাজ, যানবাহনের ধোঁয়া এবং চারপাশের শিল্পকারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত বাতাস ঢাকার বায়ুমানকে দিন দিন আরও নাজুক করে তুলছে। এমন অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতিতে বিশেষ করে শিশু, বয়োজ্যেষ্ঠ এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভোগা রোগীদের জন্য ঘরের বাইরে বের হওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। জরুরি প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। শহরের এই বিরূপ পরিবেশ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী এবং কার্যকর সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। এ বছর নভেম্বরে এ অর্জনের ফলে একদিকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং মানব সম্পদের উন্নয়নের স্বীকৃতি পাবে দেশ। অন্যদিকে শুল্কমুক্ত সুবিধা কমবে, বিদেশি রেয়াতি ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে, পাশাপাশি বেশ কিছু চ্যালেঞ্জে পড়বে বাংলাদেশ। সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির কারণে ১২ লাখ মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। আগামী ৬ মাসে আরো ১২ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারাবে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীতে এলডিসি উত্তরণ নিয়ে আইসিসিবি আয়োজিত সেমিনারে এ আশঙ্কার কথা জানান ব্যবসায়ীরা।
এলিডিসি উত্তরণ নিয়ে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা বলেন, স্বল্প সুদে বিদেশি অর্থায়নের সুযোগ কমে আসবে। এতে চাপে পড়বে দেশের ব্যাংকিং খাত। প্রভাব মোকাবিলায় আর্থিক খাতকে প্রস্তুত করা জরুরি বলে মনে করেন আলোচকরা।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সুশাসনের অভাবে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। আর খেলাপি কমাতে না পারলে ব্যাংকগুলো সমস্যায় পড়বে। এজন্য ব্যাংকিং খাতে নিয়মনীতির সঠিক বাস্তবায়ন প্রয়োজন।’
এফবিসিসিআই'র সাবেক সভাপতি একে আজাদ বলেন, ‘মনিটারি পলিসি টাইটেন (মুদ্রানীতি কঠোর করায়) করাতে কী হয়েছে- ১২ লক্ষ লোক চাকরি হারিয়েছে। এখন তারা বেকার এবং আমার মনে হয় আগামী ছয় মাসে আরও ১২ লক্ষ লোক চাকরি হারাবে যে অবস্থা চলছে তাতে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, নীতি সুদহার ও মূল্যস্ফীতি কমাতে হলে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে হবে। ব্যাংক খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনার বিকল্প নেই বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘এনপিএ (নন-পারফরমিং অ্যাসেট) কখনই কম (লো) ছিল না, এটা শুধু লোক দেখানো ছিল কাগজে-কলমে। বাস্তবে এটা বেশি-ই (হাই) ছিল। আমাদের কখনই সে কারণে ইনটারেস্ট রেট (সুদ হার) কম হতে পারে না, আমাকে যদি ইনটারেস্ট রেট কমাতে হয়, আমাকে এনপিএ-কে অ্যাকচুয়্যালি (সত্যিকার অর্থে) কমাতে হবে।’
বিগত আমলে ব্যাংক খাতের লুটপাট ও অর্থপাচার নিয়ে ব্যবসায়ীদের সংগঠনগুলোর নীরবতার সমালোচনা করেন গভর্নর।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্ব পালনে সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও নাগরিকবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রংপুর সার্কিট হাউসে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
সেনাপ্রধান বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য সামরিক-বেসামরিক প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
মতবিনিময় সভা শেষে তিনি নির্বাচনী দায়িত্বে মোতায়েন করা সেনাসদস্যদের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পরে শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে সেনাসদস্যদের দেওয়া বক্তব্যে সেনাপ্রধান সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সবাইকে নাগরিকবান্ধব আচরণের নির্দেশ দেন।
সেনাপ্রধানের রংপুর এরিয়া পরিদর্শনকালে জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, আর্মি ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ড, জিওসি, ৬৬ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, রংপুর এরিয়া এবং সেনাসদর ও রংপুর এরিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি রংপুর বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সংস্কার প্রস্তাব অগ্রাহ্য করে অন্তর্বর্তী সরকার উচ্চ ব্যয়ের মধ্য দিয়ে অপচয়ের পথ অনুসরণ করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। তারা বলছে, জনগণের কর্মসংস্থান, খাদ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ না বাড়িয়ে সরকারি পরিচলন ও প্রশাসনিক ব্যয়ে বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। এসব বরাদ্দ এবং দেশের জন্য ‘ক্ষতিকর’ আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরের তৎপরতা নতুন নির্বাচিত সরকারকেও বিপদে ফেলবে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি এক বিবৃতিতে এসব অভিযোগ করেন। গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্যদের পক্ষে বিবৃতিটি পাঠান আনু মুহাম্মদ, মোশাহিদা সুলতানা, সামিনা লুৎফা, নাজমুস সাকিব, দিলীপ রায়, মাহতাব উদ্দীন আহমেদ, ফেরদৌস আরা রুমী, সজীব তানভীর, আবদুল্লাহ মাহফুজ, আকরাম খান, সীমা দত্ত, আফজাল হোসেন ও ফারহানা শারমীন।
বিবৃতিতে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি বলেছে, আগামী সরকারের মন্ত্রীদের জন্য ঢাকার মন্ত্রিপাড়ায় ৭২টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট নির্মাণে ৭৮৬ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এর আগে মন্ত্রীদের জন্য ৬০টি গাড়ি কেনার প্রস্তাব তীব্র সমালোচনার মুখে বাতিল হলেও নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের জন্য ২২০টি গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে। অথচ সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে যে ২০২৫ সালে দেশের সার্বিক দারিদ্র্য বেড়েছে। গত দেড় বছরে প্রায় কয়েক লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছেন।
নির্বাচনের মাত্র ১২ দিন আগে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে কনসেশন চুক্তি এবং নির্বাচনের ৬ দিন আগে জাপানের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করতে অন্তর্বর্তী সরকার গোপন তৎপরতা চালাচ্ছে বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়। গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি বলছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ হলো সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করা। রুটিন কাজ ছাড়া নীতিনির্ধারণী কাজের কোনো এখতিয়ার বা যৌক্তিকতা এ সরকারের থাকে না। সব যুক্তি, তথ্য এবং জাতীয় স্বার্থ অগ্রাহ্য করে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেওয়া ও যথাযথ আলোচনা ছাড়াই জাপানের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তির ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকারের এই তৎপরতায় অস্বচ্ছতা, গোপনীয়তা এবং তাড়াহুড়া খুবই সন্দেহজনক। দেশের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে ‘ক্ষতিকর ও বিপজ্জনক’ এসব তৎপরতায় কমিটির সদস্যরা উদ্বেগ ও নিন্দা জানান।
গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি বলেছে, সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত সুপারিশে আছে আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরের আগে সংসদের উভয় কক্ষে আলোচনা করতে হবে। এখন দেশে সংসদ নেই, কাদের সঙ্গে আলোচনা করে অন্তর্বর্তী সরকার এমন গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেই প্রশ্ন রেখেছে কমিটি। তারা বলছে, এত তাড়াহুড়া করে, রাজনৈতিক দল ও জনগণের মতামত উপেক্ষা করে নির্বাচনের একদম আগ মুহূর্তে এসব দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরের তৎপরতা বিগত স্বৈরাচারী সরকারের স্বেচ্ছাচারিতার কথাই মনে করিয়ে দেয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানপরবর্তী দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা স্থিতিশীল করতে এবং সংস্কার করার প্রতিশ্রুতিতে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছিল উল্লেখ করে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি বলেছে, দেখা যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার নিজেই সংস্কার মানছে না। বরং অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া জারি রেখে জনগণকে দীর্ঘমেয়াদি গভীর সংকটে ফেলছে।
গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্যরা বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের চুক্তির ব্যাপারে উচ্চ আদালতে দায়ের করা রিট এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। এ পর্যায়ে সরকার কীভাবে তৎপরতা অব্যাহত রাখে, তা–ও প্রশ্ন। অন্যদিকে জাপান বিশ্ববাণিজ্য সংস্থাকে জানিয়েছে যে ২০২৯ সাল পর্যন্ত এলডিসি থেকে উত্তরণ হওয়া দেশগুলো জিএসপি সুবিধা পাবে। ফলে ২০২৯ সাল পর্যন্ত জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা এমনিতেই বাংলাদেশ পাবে। সে হিসাবে নির্বাচনের ৬ দিন আগে এই ধরনের বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ। গত দেড় বছর ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বেচ্ছাচারিতার ধারাবাহিকতা হচ্ছে এই সিদ্ধান্তগুলো।
বিভিন্ন দেশি–বিদেশি গোষ্ঠীর স্বার্থে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ দেশের অর্থনীতিকে আরও ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলেও মনে করে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। তারা বলেছে, সরকারের রাজস্ব আয়ে বিপুল ঘাটতি ও পরিচালন ব্যয় ব্যাপক বৃদ্ধির প্রবণতার মধ্যেই সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ১৪২ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।
সরকারের এই ধরনের চুক্তি ও আর্থিক অপচয়মূলক বরাদ্দের তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানায় গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি মনে। একই সঙ্গে তারা আসন্ন নির্বাচনে অংশ গ্রহণকারী দল এবং জনগণকে সরকারের এসব সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জোর প্রতিবাদ করার আহ্বান জানায়।
দেশের কৃষি ও জ্বালানি খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে পাঁচ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং ৭৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়। এই ক্রয়ের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া এবং রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার টন এমওপি সার সংগ্রহ করা হবে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড থেকে রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কেনার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ফার্টিগ্লোব থেকে জিটুজি (সরকার টু সরকার) চুক্তির আওতায় ২০০৭ সাল থেকেই ইউরিয়া সার আমদানি করা হচ্ছে। আগের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির অনুমোদন নিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বর্তমান সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম ৪১০ মার্কিন ডলার হিসেবে মোট ১ কোটি ৬৪ লাখ ডলারে এই ৪০ হাজার টন সার কেনা হবে, যার দেশীয় অর্থমূল্য ২০১ কোটি ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
একই সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে রাশিয়ার জেএসসি ‘ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রোডিনটর্গ)’ ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) চুক্তির আওতায় ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন প্রদান করা হয়। এক্ষেত্রে প্রতি মেট্রিক টন সারের মূল্য ধরা হয়েছে ৩৫২.৯৩ মার্কিন ডলার এবং এতে সরকারের মোট ব্যয় হবে ১৫১ কোটি ৫৬ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৫ টাকা। এছাড়া জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের ভিত্তিতে ২০২৬ সালে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় সিঙ্গাপুরের আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড থেকে পাঁচ কার্গো এলএনজি সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বল্পমেয়াদি এই চুক্তির মাধ্যমে দেশের বিদ্যমান জ্বালানি সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
নির্বাচনকালীন শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের পরিবেশ নিশ্চিত করতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন এবং এর আগে-পরে নির্দিষ্ট কিছু যানবাহন চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই সিদ্ধান্তের আলোকে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) নির্বাচন পরিচালনা অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের সই করা এক চিঠিতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা বাস্তবায়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে। ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের দিন ট্রাক, মাইক্রোবাস ও ট্যাক্সি ক্যাবসহ চার ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে এবং মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর তিন দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।
চিঠিতে উল্লিখিত সময়সূচি অনুযায়ী, ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ২৪ ঘণ্টা ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, মোটরসাইকেল চলাচলের ক্ষেত্রে ১০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৭২ ঘণ্টা বা তিনদিন এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। জনজীবন সচল রাখা ও জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে ইসি কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ব্যবস্থা রেখেছে। এই ছাড়ের আওতায় থাকবে— "আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী ও প্রশাসন। অনুমতিপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক ও সংবাদপত্রের গাড়ি। জরুরি সেবার মধ্যে যেমন— ওষুধ, স্বাস্থ্য-চিকিৎসা ও অনুরূপ কাজে ব্যবহৃত যানবাহন। বিমানবন্দরে যাওয়া-আসা করার যাত্রী বা আত্মীয়স্বজনের গাড়ি (টিকিট প্রদর্শন সাপেক্ষে)। দূরপাল্লার যাত্রী বহনকারী যানবাহন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনি এজেন্টের জন্য রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন সাপেক্ষে একটি গাড়ি (জিপ/কার/মাইক্রোবাস)। টেলিযোগাযোগ সেবায় নিয়োজিত বিটিআরসি ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের যানবাহন।"
এছাড়া জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর এবং আন্তঃজেলা বা মহানগরীর প্রধান প্রবেশ ও বহির্গমন পথগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে বলে কমিশন জানিয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাস্তব প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারদের নিজ নিজ এলাকায় অতিরিক্ত কোনো যানবাহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা বিদ্যমান বিধি শিথিল করার বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। মূলত ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ইসির পক্ষ থেকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগকে এই ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়।
রাজধানীর যানজটপূর্ণ এলাকাগুলোতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ট্রাফিক বিভাগ। এই জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়াসে মঙ্গলবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে গুলশান-২ চত্বরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান ট্রাফিক বিভাগ ‘নো হর্ন, নো ডাস্ট’ শীর্ষক এক মিনিটের প্রতীকী নীরবতা কর্মসূচি পালন করে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে চালক ও পথচারীদের মধ্যে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়।
কর্মসূচি চলাকালীন গুলশান-২ ক্রসিংয়ের চারদিকের ট্রাফিক সিগন্যালে লাল বাতি জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় এবং চালকদের গাড়ি থেকে নেমে নির্ধারিত এক মিনিট নীরবতা পালনের আহ্বান জানানো হয়। সাধারণ চালকরা এই আহ্বানে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দিয়ে গাড়ি থেকে নেমে ‘নো হর্ন, নো ডাস্ট’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে রাজপথে অবস্থান করেন। গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকায় সমন্বিতভাবে এই সচেতনতা কার্যক্রমের প্রসার ঘটানো হচ্ছে।
ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মিজানুর রহমান শেলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই আয়োজনে প্রায় ১৫০ জন ট্রাফিক সহায়তাকারী সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। এই প্রতীকী নীরবতা পালনের মূল উদ্দেশ্য ছিল হর্ন বাজানোর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে চালকদের সচেতন করা এবং রাস্তাঘাট ধূলিমুক্ত রাখার প্রয়োজনীয়তা জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নিকট ১০ দফা সুপারিশ পেশ করেছে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে ৭১টি নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত এই প্ল্যাটফর্মটি এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের স্মারকলিপির বিষয়বস্তু গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় সুপারিশসমূহ পাঠ করেন অ্যাকশন এইডের মরিয়ম নেছা।
নির্বাচন কমিশনের কাছে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির ১০ দফা সুপারিশ
১. দেশের সব প্রান্তের সব নাগরিক যাতে নির্বিঘ্নে, স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচন পূর্ববর্তী, নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ে নারীসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক নারী-পুরুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
২. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব ধরনের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারীদের প্রতি হয়রানি, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও সহিংস আচরণ প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রয়োগ ও মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
৩. নির্বাচনি ব্যয় সংকোচ করে ন্যূনতম নির্বাচনি ব্যয় নির্ধারণ করতে হবে এবং এ বিষয়ে কঠোরভাবে মনিটরিং করতে হবে।
৪. স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৫. নারী, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী, আদিবাসী জনগোষ্ঠী যাতে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সেদিকে দৃষ্টি রেখে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সুবিধাজনক স্থানে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে।
৬. জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার জন্য নিরপেক্ষভাবে সব ধরনের সহায়তা করতে হবে। এক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
৭. নির্বাচনি প্রচারণায় ধর্মের ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে।
৮. সব জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৯. যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
১০. নির্বাচনি প্রচারণায় ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষদের হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে মডারেটর ডা. ফওজিয়া মোসলেম জানান, "ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্রে করে আমরা নির্বাচন কমিশন বরাবর যে স্মারকলিপি দিয়েছিলাম, আজ সংবাদ সম্মেলনে সেই স্মারকলিপিই উপস্থাপন করা হচ্ছে।" দেশের গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোতে নারী প্রার্থী বৃদ্ধির তাগিদ দেওয়া হলেও বর্তমানে মাত্র ৪.০৮ শতাংশ নারীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে যা প্রত্যাশিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে প্রতিবন্ধী ভোটারদের সুবিধার্থে তাদের দেওয়া প্রস্তাব নির্বাচন কমিশন আমলে নেওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে আলোচকরা বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পেশিশক্তি ও অর্থের প্রভাবের সমালোচনা করে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রতিশ্রুত ৫ শতাংশ আসনে নারী মনোনয়ন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল। সংবাদ সম্মেলনে ব্র্যাক, অ্যাকশন এইড, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দিল্লিতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশে তাদের সমর্থক নেই বলেই দিল্লিতে প্রেস শো (সংবাদ সম্মেলন) করছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ৬৩তম ব্যাচ মহিলা কারারক্ষীদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, দিল্লিতে শেখ হাসিনার খবরের বক্তব্য ঘিরে বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে না। এতে দেশের নির্বাচন ভণ্ডুল বা দেশে অস্থিরতা তৈরিরও কোনো আশঙ্কা নেই। দেশে তাদের সমর্থক নেই বলেই দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।
এ সময় দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী নেতাকর্মীদের দেশে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি।
কারাগারে পর্যাপ্ত জায়গা নেই জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, শিগগিরই নতুন কারাগার তৈরির পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হওয়া নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।
প্রধান অতিথি হিসেবে প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেনসহ অন্য কর্মকর্তারা। প্রধান অতিথি নবীন প্রশিক্ষণার্থীদের সশস্ত্র সালাম ও অভিবাদন গ্রহণ করেন।
পরে নবীন কারারক্ষীদের বিভিন্ন শারীরিক কসরত, অস্ত্রবিহীন আত্মরক্ষার কৌশলের চমকপ্রদ পরিবেশনা উপভোগ করেন অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মোহাম্মদ মোস্তাফা কামাল, কর্নেল মো. তানভীর হোসেন, কর্নেল মেছবাহুল আলম সেলি মো. জাহাঙ্গীর কবির এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কমান্ড্যান্ট টিপু সুলতানসহ গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এই বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সে মোট ৮৬৬ জন কারারক্ষী ও মহিলা কারারক্ষী অংশগ্রহণ করেন।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কারাগার পরিচালনায় নিরাপত্তা ও মানবাধিকার একে অপরের পরিপূরক বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, বন্দিদের প্রতি মানবিক আচরণ, ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা কেবল আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরের কাশিমপুর কারা প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ৬৩তম ব্যাচ মহিলা কারারক্ষী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তার বক্তব্যে কারাগারকে ‘ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমের’ অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কারাগারের কাজ শুধু অপরাধীদের আটকে রাখা নয়, বরং তাদের সংশোধন করে সুনাগরিক হিসেবে সমাজে ফিরিয়ে দেওয়াও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নবীন কারারক্ষীদের সততা, দক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দেশপ্রেমের মহান দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক কারা প্রশাসন গঠনে প্রশিক্ষিত ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন কারারক্ষীরা কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে উপদেষ্টা বলেন, দুর্নীতি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু, যা প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে ধ্বংস করে এবং জনগণের বিশ্বাস ভেঙে দেয়। তিনি নবীন সদস্যদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, তারা কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক স্বার্থের রক্ষক নন, বরং জনগণের করের টাকায় বেতনভুক্ত সরকারি কর্মচারী। তাই ব্যক্তিস্বার্থ ও লোভের ঊর্ধ্বে উঠে জনকল্যাণকেই একমাত্র ব্রত হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং প্রশিক্ষণে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য সেরা প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। ৬৩তম ব্যাচের এই প্রশিক্ষণে সর্ববিষয়ে ও পিটিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন মোছা. রায়হানা আক্তার সুবর্ণা। এছাড়া ড্রিলে লিজা খাতুন, ফায়ারিংয়ে মানসুরা এবং আন-আর্মড কম্ব্যাটে জুথি পারভীন শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন। অনুষ্ঠানের শেষ অংশে মহিলা কারারক্ষীরা বিভিন্ন শারীরিক কসরত ও ডিসপ্লে প্রদর্শন করেন।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল বা বেতন কাঠামো বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বাস্তবায়ন করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি জানিয়েছেন, পে-কমিশনের প্রতিবেদনটি কেবল জমা দেওয়া হয়েছে, তবে এর বাস্তবায়নের ভার পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর ন্যস্ত থাকবে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকারের ম্যান্ডেট বা পরিকল্পনার মধ্যে পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি নেই। পে-কমিশনের কাজ ছিল সুপারিশমালা তৈরি করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া, যা এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
ভবিষ্যতে এই পে-স্কেলের ভাগ্য কী হবে, তা ব্যাখ্যা করে ফাওজুল কবির খান বলেন, পরবর্তীতে নির্বাচিত হয়ে যে সরকার ক্ষমতায় আসবে, তারাই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তারা চাইলে এই পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে পারে অথবা বাতিলও করতে পারে। তবে তিনি মনে করেন, প্রস্তাবিত এই পে-স্কেল পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য কোনো বাড়তি চাপ বা বোঝা হিসেবে দেখা দেবে না।
দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই বাড়াতে এবার প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বড় সুখবর দিয়েছে সরকার। এখন থেকে কোনো প্রবাসী বাংলাদেশি যদি দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আনতে সহায়তা করেন, তবে তাকে পুরস্কার হিসেবে নগদ অর্থ দেওয়া হবে। সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) গভর্নিং বোর্ডের সভায় এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়।
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন সভার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানান, নতুন এই কাঠামোর আওতায় কোনো প্রবাসী যদি দেশে ইকুইটি বিনিয়োগ আনতে ভূমিকা রাখেন, তবে সেই মোট বিনিয়োগের ওপর ১ দশমিক ২৫ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা পাবেন। বিষয়টি পরিষ্কার করতে গিয়ে তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কোনো প্রবাসী যদি ১০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ আনতে পারেন, তবে সরকার তাকে ১২ লাখ ৫০ হাজার ডলার প্রণোদনা হিসেবে দেবে। রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে যেমন নগদ সুবিধা পাওয়া যায়, এটিও অনেকটা সেভাবেই কাজ করবে। তবে এর মূল লক্ষ্য হলো কেবল ব্যক্তিগত ভোগের জন্য অর্থ না পাঠিয়ে, প্রবাসীদের মাধ্যমে শিল্প ও ব্যবসায়িক খাতে বড় পুঁজি নিয়ে আসা।
সরকারের এই উদ্যোগের পেছনের যুক্তি হলো বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসীদের বিশাল নেটওয়ার্ক ও প্রভাবকে কাজে লাগানো। প্রবাসীরা তাদের অবস্থানরত দেশগুলোর সমাজ ও বিনিয়োগকারী মহলের সঙ্গে যে সুসম্পর্ক বজায় রাখেন, তা ব্যবহার করে বাংলাদেশকে একটি লাভজনক বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরাই এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য। নীতিগতভাবে অনুমোদন পাওয়া এই প্রস্তাবটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বিদেশের মাটিতে বিডার নিজস্ব অফিস খোলার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে চীনে এবং পরবর্তীতে দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি দেশে অফিস স্থাপন করা হবে। তবে সরকারের খরচ কমাতে এসব অফিসে স্থায়ী বেতনের পরিবর্তে কমিশন বা সাফল্যের ভিত্তিতে জনবল নিয়োগের অভিনব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, যিনি যত বেশি বিনিয়োগ আনতে পারবেন, তার পারিশ্রমিকও সেভাবেই নির্ধারিত হবে। বিশেষ করে চীনে অফিস খোলার ক্ষেত্রে স্থানীয় ভাষা ও বাজার সম্পর্কে অভিজ্ঞদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিডা।