খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সাবেক উপাচার্য, উপ-উপাচার্যসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী লুৎফর রহমান ও মাহদী হাসান বাদী হয়ে এই মামলা করেছেন।
সোমবার (১৪ই এপ্রিল) নগরীর খানজাহান আলী থানায় মামলা দুটি নথিভুক্ত করা হয়। তবে গতকাল (মঙ্গলবার) নথিপত্র আদালতে পাঠানো হলে মামলার বিষয়টি সামনে আসে। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন। তিনি জানান, ২০১৭ সালের ১ মে রাতে কুয়েটের লালন শাহ হলের গেস্ট রুমে মামলার এক বাদী লুৎফর রহমানকে রাতভর মারধর করা হয়। এতে ওই শিক্ষার্থীদের দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে যায়। একই রাতে বাদী মাহদী হাসানকেও মারধর করা হয়। এতে তার চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ওসি কবির হোসেন আরও জানান, চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগীরা খুলনা মহানগর হাকিমের আদালতে মামলার আবেদন করেন। পরে আদালত থানাকে মামলাটি গ্রহণের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে সোমবার মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লুৎফর রহমানের মামলায় সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন, সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সোবহান মিয়া, সাবেক রেজিস্ট্রার জি এম শহিদুল ইসলাম, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়েত হোসেন নয়ন, সাধারণ সম্পাদক আলী ইমতিয়াজ সোহান, ছাত্রলীগ কর্মী মো. আসাদুজ্জামান, লালন শাহ্ হলের তৎকালীন ছাত্রলীগ কর্মী ও পরবর্তী কুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতি রুদ্রনীল সিংহ শুভ, ছাত্রলীগ নেতা এইচ এম তানভীর রেজওয়ান সিদিক, আল ইশমাম, রেশাদ রহমান, তারিকুল তিলক, পরিমল কুমার রায়, আলী ইবনুল সানি, তারিক আহমেদ শ্রাবন ও দৌলতপুর থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেনকে আসামি করা হয়েছে।
অন্যদিকে মাহদী হাসানের মামলায় সাবেক উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতা আলী ইবনুল সানি, কুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজান, বঙ্গবন্ধু হলের ছাত্রলীগ কর্মী আবির স্বপ্নিল, তাশরিফ সালেহ রাহুল, ফয়সাল, মশারুর আলম কৌশিক, আসাদুজ্জামান রিয়ান, পরিমল কুমার রায়, তারিক আহমেদ শ্রাবন ও দৌলতপুর থানার সাবেক সভাপতি এস এম আনোয়ার হোসেনকে আসামি করা হয়েছে।
বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার ৪২ দিনে দেশে কেউ গুম কিংবা ক্রসফায়ারের শিকার হয়নি বলে জানিয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সরকারের বয়স ৪২ দিন, চাইলে প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে পারত। কিন্তু গত ৪২ দিনে দেশে একটি মানুষও ক্রসফায়ারের শিকার হয়নি, একটি মানুষও গুমের শিকার হয়নি। চাইল্ডহুড সোজ দ্য ম্যান, মর্নিং সোজ দ্য ডে। আমরা মানবাধিকারের পথ ধরে হেঁটে যাচ্ছি।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে মানবাধিকার বিল ২০২৬ উত্থাপনের সময় মন্ত্রী এসব কথা বলেছেন। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, জিয়া পরিবারের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭১ সালের পরে আর কেউ হয়নি। আমার সামনে যারা বসে আছেন, আমার বন্ধুরা, তারা বিগত ১৭ বছরে অনেকেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন। অনেকের পরিবার মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন। আমাদের সামনে যারা বসে আছেন তাদের অনেকে মানবাধিকার কী জিনিস সেটা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার সবচেয়ে বড় পরিবার হলো জিয়া পরিবার। বাংলাদেশের ইতিহাসে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সবচেয়ে বড় পরিবার হলো বিএনপি পরিবার। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্যতম অপরাধের শিকার হলো বিএনপি পরিবার এবং জিয়া পরিবার। আমাদের সামনে বসে আছেন মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরমতম শিকার আমাদের প্রধানমন্ত্রী। আমাদের মানবাধিকার সম্পর্কে বিন্দুমাত্র কোনো পিছুটান নেই।
২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯’ সংশোধন করে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছিল।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সংসদের বৈঠকে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান সেই অধ্যাদেশ রহিত করে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
বিলটি উত্থাপনের পর এর তীব্র বিরোধিতা করেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি এই পদক্ষেপকে জাতীয় অগ্রগতির পথে অন্তরায় হিসেবে অভিহিত করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘এই বিল পাসের মাধ্যমে ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনটিকে পুনরায় কার্যকর করা হচ্ছে। আমরা দেখেছি, অতীতে এই কমিশনকে বিরোধী দল ও ভিন্নমত দমনে ব্যবহার করা হয়েছে। এই কমিশন বিএনপিকে দমনের বৈধতা দিয়েছিল। এমনকি আমরা কমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যানকে বলতে শুনেছি—মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর গুলি চালানো বৈধ।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘২০২৫ সালের অধ্যাদেশটি বাতিল করে ২০০৯ সালের আইনে ফিরে যাওয়া এই সংসদের জন্য একটি ‘ব্যাকওয়ার্ড মুভ’ বা পশ্চাৎমুখী পদক্ষেপ। এটি জাতি পিছিয়ে পড়ার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ (টেক্সটবুক এক্সাম্পল) হয়ে থাকবে।’
হাসনাত আবদুল্লাহর সমালোচনার জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য খুব সুন্দর বক্তৃতা দিয়েছেন। উনার বক্তৃতাগুলো পল্টন ময়দান, প্রেসক্লাব বা রাজপথের জন্য অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক ও জুসি (রসালো)। উনি সব পড়েছেন, শুধু বিলটা পড়েননি।’
আইনমন্ত্রী বিলে উল্লিখিত কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘বিলের প্রথম লাইনেই স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) সঙ্গে আরও বিস্তারিত আলোচনা, যাচাই-বাছাই করার প্রয়োজন রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া চলাকালীন মানবাধিকার কমিশনের আইনি কাঠামোতে যাতে কোনো শূন্যতা তৈরি না হয়, সেই উদ্দেশেই আপাতত ২০০৯ সালের আইনটি ফিরিয়ে আনা হয়েছে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, যদি ২০২৫ সালের অধ্যাদেশটি বাতিল করা হয় এবং ২০০৯ সালের আইনটি পুনর্বহাল না করা হয়, তবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বার্তা যাবে যে বাংলাদেশে কোনো মানবাধিকার কমিশনই নেই। বিতর্ক শেষে স্পিকারের হস্তক্ষেপে বিলটি কণ্ঠভোটে দেওয়া হয় এবং তা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
সেনা কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণামূলক কার্যক্রম চালানোর বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি একটি প্রতারক চক্র ডিজিএফআই এবং সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তার ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ফোনের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতারকরা সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে ইউনিফর্ম পরিহিত কর্মকর্তাদের ছবি সংগ্রহ করে তা হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইলে ব্যবহার করছে। এরপর সেই পরিচয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারণার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে সেনাবাহিনী স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে বা কোনো গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে ব্যক্তিগতভাবে এ ধরনের যোগাযোগ করা হয় না। কেউ যদি সেনা কর্মকর্তার পরিচয়ে ফোন বা বার্তার মাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বা কোনো ধরনের সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করে, তবে সংশ্লিষ্ট নম্বরসহ নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
একইসঙ্গে এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে জানানো হয়, প্রতারক চক্রকে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পাস হওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচন দেওয়া হবে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পাসের প্রক্রিয়ায় পাবনা-১ আসনের বিরোধীদলীয় সদস্য (জামায়াতে ইসলামী) ব্যারিস্টার নাজিব মোমেনের বিলটির বিরোধীতা করে দেওয়া বক্তব্যের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
পরে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিলটি ভোটে দিলে বিরোধী দলের সদস্যের আপত্তি নাকচ হয়ে যায় এবং তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এরপর বিল পাসের প্রতিবাদ করে বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেন।
বিল পাসের প্রক্রিয়ায় মীর শাহে আলম বলেন, ‘আইনটি পাস হয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার সাথে সাথে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকারের এসব প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন দেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই আইনের মধ্যে আরেকটি বিষয় রয়েছে, তা হলো— দলীয় প্রতীকে যে নির্বাচন হতো, এই আইনের মাধ্যমে জাতীয় এবং দলীয় প্রতীক বাতিল করে সাধারণ প্রতীকে নির্বাচনের ব্যবস্থা এই আইনে করা আছে। এই কারণে আইনটি পাস করা অত্যন্ত জরুরি।’
এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের ব্যানারে দলীয় মনোনয়ন নির্বাচন না করার স্বার্থে স্থানীয় সরকার পৌরসভা সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৫ জারি করা হয়।
তিনি বলেন, ‘বিলটি সংসদে পাস না হলে আসলে কারা আবার ক্ষমতায় ফিরে আসবে এটা কিন্তু বিবেচনার বিষয়। উনারা কাদের আবার ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছে? রক্তপিপাসু জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে যারা পুলিশের সাথে আমাদের হামলা করেছে, অস্ত্র ব্যবহার করেছে, হামলায় যারা আমাদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল সেই সমস্ত জনপ্রতিনিধি, এই আইনটি পাস না হলে আবার তারা পৌরসভার মেয়র এবং কাউন্সিলর পদে ফিরে আসবে। এই কারণেই এই অধ্যাদেশটি করে নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে এবং এই জায়গাগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে।’
চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম আট দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ৯৭.৫ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ৭৭.৫ কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা দাঁড়ায় ১১ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে)। এর মধ্যে গত বুধবার প্রবাসী আয় এসেছে এক হাজার ৮৫৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
এছাড়া চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৭১৮ কোটি ডলার। গত অর্থবছরে এই সময়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ২৫৬ কোটি ডলার। বছরে মোট প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০.৫ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এ ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ নতুন রেকর্ড গড়তে পারে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর দেশীয় সহযোগীদের তালিকায় পূর্বের মতোই তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টির নাম রেখে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আইন সংশোধনের বিল সংসদে পাস হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান এবং পরে কণ্ঠভোটে তা অনুমোদন পায়।
বিলটি নিয়ে আপত্তি জানায় জামায়াতে ইসলামী, তবে তাদের জোটসঙ্গী এনসিপি এ বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই বলে স্পিকারকে লিখিতভাবে অবহিত করে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা বিলের বিরোধিতা করে দীর্ঘ বক্তব্য দিলেও তিনি কোন ধারায় সংশোধন চান তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। এ কারণে স্পিকার তার আপত্তির ওপর আলাদা করে কোনো ভোট গ্রহণ করেননি।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশ অনুযায়ী ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’, ‘মুক্তিযুদ্ধ’, ‘মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য’ এবং ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’—এই বিষয়গুলোর সংজ্ঞা নতুনভাবে নির্ধারণ করা হয়। সেখানে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে উল্লিখিত দলগুলোর নাম অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়, যা বর্তমান সংশোধনীতে বহাল রয়েছে।
বিলের বিষয়ে আপত্তির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, স্বাধীনতার পরবর্তী সরকারগুলো, যেমন জিয়াউর রহমান বা খালেদা জিয়ার আমলেও আইনের সংজ্ঞায় রাজনৈতিক দলের নাম এভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তার মতে, শেখ হাসিনার সরকারের সময় বিষয়টি প্রথম যুক্ত হয় এবং পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারও কিছু পরিবর্তনসহ সেই ধারা বজায় রাখে।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর বলেন, “আল্লাহ ভালো জানেন, ’৭১ সালের সেই চরম সময়ে কার কী ভূমিকা ছিল। আল্লাহই পূর্ণাঙ্গ সাক্ষী, আমরা বাকিরা আংশিক সাক্ষী।
শফিকুর বলেন, বাংলাদেশে রাজনীতি সুস্থ ধারায় চলুক, প্রতিটি রাজনৈতিক দল জনগণের প্রতি দায়দরদ ও দেশের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে কাজ করুক। আমরা আর এই জাতিতে কোনো বিভক্তি চাচ্ছি না।
আলোচনা শেষে স্পিকার উল্লেখ করেন, বিরোধীদলীয় নেতা নির্দিষ্ট কোনো সংশোধনী প্রস্তাব দেননি, বরং সাধারণ বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। এরপর তিনি মন্ত্রীকে বিলটি উত্থাপনের অনুমতি দেন এবং তা পাস হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের স্পিকার মিল্টন ডিক এমপি’র নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বেলা ৩টায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে, বৈঠকে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক উন্নয়ন এবং দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
দেশে জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা আনতে কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ নামের একটি মোবাইল অ্যাপের পাইলটিং কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানায়, তাদের আওতাধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) পরীক্ষামূলকভাবে এ অ্যাপ চালু করেছে।
প্রাথমিকভাবে ঢাকার দুটি ফিলিং স্টেশনে—ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন এবং সোনারবাংলা ফিলিং স্টেশন—মোটরসাইকেল মালিক ও চালকদের জন্য অ্যাপটি ব্যবহারযোগ্য করা হয়েছে। পাইলটিং সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সব ধরনের যানবাহনের জন্য এটি চালু করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে ম্যানুয়াল পদ্ধতির কারণে জ্বালানি বিতরণে বিলম্বসহ নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একই ব্যক্তি একাধিকবার লাইনে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি নিচ্ছেন, যা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াকে অটোমেশন ও রিয়েল-টাইম মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে। সিস্টেমটি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের কেন্দ্রীয় ডেটাবেসের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। এতে ফিলিং স্টেশন মালিকরা ডিজিটালভাবে জ্বালানির বরাদ্দ এন্ট্রি দিতে পারবেন এবং কিউআর কোড স্ক্যান করে চালকরা নির্ধারিত পরিমাণ জ্বালানি নিতে পারবেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বিতরণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
স্মার্টফোন না থাকলেও ব্যবহারকারীরা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন করে কিউআর কোড প্রিন্ট নিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।
সরকারের আশা, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা বাড়বে, অপচয় ও অনিয়ম কমবে এবং সংকটকালীন পরিস্থিতিতে কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকা সফররত যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত ব্যারোনেস রোজি উইন্টারটন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বুধবার ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারা কুকের আয়োজিত নৈশভোজে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশবিষয়ক বাণিজ্য দূত ব্যারোনেস রোজি উইন্টারটনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
আলোচনায় উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী ও গভীর করতে একসঙ্গে কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সুবিধাজনক সময়ে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের শুরুতে আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দীর্ঘ সংগ্রাম এবং এর অব্যাহত অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আনোয়ার ইব্রাহিমকে শুভেচ্ছা জানান এবং একটি বিশেষ চিঠি হস্তান্তর করেন।
বৈঠকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়। শ্রমিকদের শোষণ রোধে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং দক্ষ নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে উভয় পক্ষই তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎকারে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়। উভয় দেশই পারস্পরিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। এছাড়া শিক্ষাক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা হয়।
উভয় পক্ষই বর্তমানে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক গতিপথে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেন।
কর্ম হারিয়ে দেশে ফিরে আসা প্রবাসীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশে আসা নিহত প্রবাসী শাহ আলমের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের সময় এই কথা জানান তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘নিহত প্রবাসীর লাশ কুমিল্লায় নিয়ে যেতে এবং দাফনের জন্য প্রবাসী সরকার খরচ দেবে। সরকার পাশে রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা হলে সেটাও দেখা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ চায় এই যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ হোক এবং ডিপ্লোমেসির মাধ্যমে বিশ্বে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে সে সমস্যার সমাধান হোক।’
কিরগিস্তানে আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের নিরাপদে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে।’
তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে যারা মারা যাচ্ছেন, তাদের লাশ পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যেসব বাংলাদেশি প্রবাসী আটকা পড়েছে তাদের ভিসা সংক্রান্ত জটিলতাসহ অন্যান্য সমস্যা বাংলাদেশ সরকার দেখছে। ওইসব দেশে যারা কর্মরত রয়েছেন তারা যেন আবার ফেরত যেতে পারে, তাদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টিও আমরা দেখছি।’
প্রত্যাগত শ্রমিকদের পুনর্বাসন ও নতুন কর্মসংস্থানের বিষয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘সরকারের ম্যানুফেস্টোতেই রয়েছে, আরও বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করা। যারা কর্ম হারিয়ে বাংলাদেশে ফেরত আসছেন, তাদের পুনর্বাসনের বিষয়ে চেষ্টা করছি। এছাড়া যারা ফেরত যেত চায়, তাদের বিষয়েও কিন্তু আমরা সচেষ্ট রয়েছি। বিদেশে নতুন নতুন কর্মসংস্থান কীভাবে তৈরি করা যায়, সে বিষয়ে কাজ করছি।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য রাষ্ট্রীয় সফরের দিন-তারিখ ও সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তিনি প্রথমে কোন দেশ সফর করবেন, সেটিও নির্ধারিত হয়নি।
বুধবার রাতে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
সম্প্রতি এ বিষয়ে কয়েকটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী প্রথমেই ভারত সফর করবেন।
এ প্রসঙ্গে আতিকুর রহমান রুমন বলেন, এসব তথ্য ভিত্তিহীন এবং এর কোনো সত্যতা নেই। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে এমন গুজব না ছড়ানোরও অনুরোধ করেন।
আতিকুর রহমান রুমন আরও বলেন, সরকারি সূত্র থেকে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হলে তা যথাসময়ে জানানো হবে।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার পাটজাত পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি ও রপ্তানি বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) পিএলসি এর মাধ্যমে রপ্তানিযোগ্য বহুমুখী পাটজাত পণ্য উৎপাদনের জন্য ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সংসদে নওগাঁ-৬ আসনের সরকারি দলের সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলামের টেবিলে উপস্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বৈচিত্র্য, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং কাঁচাপাটের গুণগতমান উন্নয়নে ঢাকা ও খুলনার দুটি পাটপণ্য পরীক্ষাগার আধুনিকায়ন এবং উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও বীজ উৎপাদন সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মানসম্মত পাটজাত পণ্য রপ্তানি বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া পাটজাত পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধিতে উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক রপ্তানিকারকদের নগদ ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে ১৩৮টি দেশে পাটজাত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা হয়। দেশগুলো হলো- চীন, ইরান, স্পেন, বেলজিয়াম, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালি, পাপুয়া নিউগিনি, তুরস্ক, মিশর, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, ভারত, নিউজিল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, জাপান, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, লিবিয়া, ডেনমার্ক, ব্রাজিল, হল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, হাঙ্গেরি, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, চিলি, রোমানিয়া, কানাডা, পেরু, শ্রীলংকা, রাশিয়া, পোল্যান্ড, ভিয়েতনাম, উজবেকিস্তান, নেপাল, তিউনেশিয়া, আইভরি কোস্ট, থাইল্যান্ড প্রমুখ।
তিনি জানান, পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) পিএলসি দেশের বাহিরে বিভিন্ন মেলা, সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়ামে অংশগ্রহণ করছে। এছাড়া উদ্যোক্তাদের রপ্তানির সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বহুমুখী পাটপণ্য রপ্তানি বিষয়ক প্রশিক্ষণ, এক্সপোর্ট ডকুমেনটেশন প্রশিক্ষণ, এক্সপোর্ট সার্টিফিকেশন, ডিজাইন ডেভলপমেন্ট, প্রডাক্ট ডেভলপমেন্ট, পণ্যের গুণগতমান উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, সচেতনতা কর্মশালা, ক্রেতা-বিক্রেতা সম্মেলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে ফলে পাটজাত পণ্যের রপ্তানি দিন দিন বাড়ছে।
মন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থ-বছরে পাটপণ্য রপ্তানির পরিমাণ ৭ লাখ ৫১ হাজার ৭৩৯ টন এবং ২০২৫-২৬ অর্থ-বছরে জুলাই-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাটপণ্য রপ্তানির পরিমাণ ৪ লাখ ৯ হাজার ৩৬৬ টন।