মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
৯ আষাঢ় ১৪৩৩

হাইকোর্টের ৪৮টি বেঞ্চে কাল থেকে বিচারকাজ শুরু

বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ১৯ এপ্রিল, ২০২৫ ১০:৫৯

ঈদুল ফিতরের ছুটি, সরকারি ও অবকাশকালীন ছুটি শেষে কাল রোববার ২০ এপ্রিল থেকে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকার্য পরিচালনার জন্য ৪৮টি বেঞ্চ গঠন করেছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

এর মধ্যে রয়েছে ৩০টি দ্বৈত বেঞ্চ এবং ১৮টি একক হাইকোর্ট বেঞ্চ।

প্রধান বিচারপতি নির্দেশিত সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ২০২৫ সালের ৯৪ নং বেঞ্চ গঠন বিধিতে বলা হয়েছে, ২০ এপ্রিল রোববার সকাল ১০টা ৩০ মিনিট হতে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকার্য পরিচালনার জন্য নিম্নে উল্লেখিত বেঞ্চসমূহ গঠন করা হইল।

দুজন করে বিচারপতির সমন্বয়ে যে ৩০টি (ডিভিশন) দ্বৈত বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে সেগুলো হলো: বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি মো. মনসুর আলমের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরী'র ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মো. যাবিদ হোসেনের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি জে. বি. এম. হাসান ও বিচারপতি ফয়েজ আহমেদের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি তামান্না রহমান খালিদী'র ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী'র ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. বশির উল্লাহ'র ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি নাসরিন আক্তারের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ ও বিচারপতি মোঃ তৌফিক ইনামের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি ইউসুফ আব্দুল্লাহ সুমনের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি কাজী এবাদত হোসেনের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি সাথীকা হোসেনের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি এ, কে, এম, জহিরুল হকের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি এ, এস, এম, আব্দুল মোবিন ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা'র ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী'র ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লা ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি মো. আলী রেজা'র ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি মোহাম্মদ আলী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলী'র ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীম ও বিচারপতি কে, এম, ইমরুল কায়েশের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীর ও বিচারপতি কাজী ওয়ালিউল ইসলামের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি কে, এম, হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মো. আব্দুল মান্নানের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি মুহম্মদ মাহবুব-উল ইসলাম ও বিচারপতি মো. হামিদুর রহমানের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকা'র ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মুবিনা আসাফের ডিভিশন বেঞ্চ।

১৮টি একক হাইকোর্ট বেঞ্চে যারা বিচারকাজ পরিচালনা করবেন তারা হলেন: বিচারপতি আবদুর রব, বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস, বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান, বিচারপতি ফরিদ আহমেদ, বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের, বিচারপতি মাহমুদুল হক, বিচারপতি জাফর আহমেদ, বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দ, বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী, বিচারপতি মো. সেলিম, বিচারপতি মো. সোহরাওয়ারদী, বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান, বিচারপতি মো. খায়রুল আলম, বিচারপতি আহমেদ সোহেল, বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদার, বিচারপতি মোঃ আতাবুল্লাহ, বিচারপতি মো. বজলুর রহমান ও বিচারপতি এ, কে, এম রবিউল হাসান।

এসব বেঞ্চ সুনির্দিষ্ট বিচারিক এখতিয়ার দিয়ে গঠন করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। গত ২০ মার্চ থেকে ছুটি ও অবকাশের কারণে সুপ্রিম কোর্টে নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে, এ সময়ে জরুরি মামলা সংক্রান্ত বিষয়াদি নিষ্পত্তি হয় অবকাশকালীন বেঞ্চ ও আপিল বিভাগে চেম্বার কোর্টে।


দুদকের সার্চ কমিটি গঠন, সদস্য হলেন যারা

ফাইল ছবি।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ দেওয়ার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি সার্চ কমিটি গঠন করেছে সরকার।
সোমবার (২২ জুন) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সার্চ কমিটি গঠনের তথ্য জানায়।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন যুগ্মসচিব তানভীর আহমেদ। সার্চ কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আপিল বিভাগের বিচাপতি মো. রেজাউল হক।
সার্চ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রাজিক আল জলিল। এছাড়া আইন অনুযায়ী পদাধিকারবলে বাংলাদেশ মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এস এম রেজভী, বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোবাশ্বের মোনেম এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সচিব ড. নাসিমুল গনি।


হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক এমপি তুহিন আক্তার গ্রেফতার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় দায়েরকৃত হত্যা ও হত্যাচেষ্টার পৃথক দুটি মামলায় সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিন এবং কাফরুল থানা মহিলা লীগের সভাপতি রোকেয়া জামালকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ প্রদান করেন।

সাবেক এমপি সাবিনা আক্তার তুহিনকে আদালতে হাজির করে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন জানান মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. সোহেল সৌরভ। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মিরপুর ১৪ নম্বর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে গুলিবর্ষণের ঘটনায় বাদী গুলিবিদ্ধ হন। ওই ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করা হয়। উক্ত মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে সাবিনা আক্তার তুহিনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

অন্যদিকে, কাফরুল থানা মহিলা লীগের সভাপতি রোকেয়া জামালকে মিরপুর ১০ এলাকায় আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত মো. শাকিলের হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মো. কবির হোসেন তাকে আদালতে হাজির করে এই আবেদন করেন। মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাকিল মারা গেলে তার বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে রোকেয়া জামালকে গ্রেফতার দেখানো হলো।

আদালতে শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আসামিদের গ্রেফতার দেখানোর পক্ষে জোরালো যুক্তি তুলে ধরেন। বিপরীতে আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন গ্রেফতারের বিরোধিতা করে জামিন প্রার্থনা করেন। তদন্ত কর্মকর্তারা আদালতকে জানান, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এই দুই আসামিকে গ্রেফতার দেখানো প্রয়োজন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।


সাইবার যৌন হয়রানি: সেফটি আইনের ধারা চ্যালেঞ্জ, হাইকোর্টের রুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাইবার যৌন হয়রানি, অনলাইন লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, স্টকিং, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার (ইমপারসোনেশন) এবং প্রযুক্তিনির্ভর নারীবিদ্বেষী অপরাধ সংক্রান্ত বিচারাধীন মামলাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে খারিজের বিধান দেয়া সাইবার সেফটি আইন, ২০২৬-এর ৫০(৫) ধারার সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রোববার হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

এদিন আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল নোমান। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট মনেরা হক মনি ও অ্যাডভোকেট শাহলা শরাফিননেজাদ। রুলে বিবাদীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, সাইবার সেফটি আইন, ২০২৬-এর ৫০(৫) ধারা যতদূর পর্যন্ত সাইবার যৌন হয়রানি, নারীর বিরুদ্ধে অনলাইন লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, স্টকিং, ইমপারসোনেশন এবং নারী হয়রানি-সংক্রান্ত বিচারাধীন ফৌজদারি মামলাগুলো খারিজ, অবলুপ্ত, প্রত্যাহৃত বা বিলুপ্ত করার বিধান দেয়, তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না।

একই সঙ্গে রুলে বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনালের সাইবার ট্রাইব্যুনাল মামলা নং-৪১/২০২৩ সাইবার সেফটি আইন, ২০২৬-এর ৫০(৫) ধারার ভিত্তিতে খারিজ করার আদেশ কেন অবৈধ, অসাংবিধানিক ও আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

রিট আবেদনে বলা হয়, সাইবার সেফটি আইন, ২০২৬-এর ৫০(৫) ধারা কার্যত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩-এর বিলুপ্ত ধারা ২১, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯ ও ৩১-এর অধীনে দায়ের হওয়া বিচারাধীন মামলাগুলো—বিশেষ করে সাইবার যৌন হয়রানি, অনলাইন লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, স্টকিং, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার এবং প্রযুক্তিনির্ভর নারীবিদ্বেষী অপরাধ সংক্রান্ত মামলাগুলো—স্বয়ংক্রিয়ভাবে খারিজের নির্দেশনা দেয়।

আবেদনে আরও বলা হয়, নতুন আইন প্রণয়নের সময় নারী ভুক্তভোগীদের চলমান মামলাগুলোর সুরক্ষার জন্য কোনো ‘সেভিং ক্লজ’ বা ‘ট্রানজিশনাল প্রোটেকশন মেকানিজম’ রাখা হয়নি। ফলে সাইবার যৌন হয়রানি ও প্রযুক্তিনির্ভর লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার নারীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এটি সংবিধানে প্রদত্ত আইনের দৃষ্টিতে সমতা, আইনের সমান সুরক্ষা, যথাযথ প্রক্রিয়া (ডিউ প্রসেস) এবং কার্যকর প্রতিকার লাভের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি বলে উল্লেখ করা হয়।

আইনজীবীরা জানান, মামলাটি ডিজিটাল পরিসরে নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা, ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার, আইন প্রণয়নের সাংবিধানিক সীমা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রতিকার প্রদানের বাধ্যবাধকতা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। রুলের জবাব পাওয়ার পর বিষয়টি পুনরায় শুনানির জন্য আদালতে উপস্থাপন করা হবে।


কণ্ঠশিল্পী মমতাজের জামিন বহাল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এক মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। রোববার বিচারপতি মো. রেজাউল হক ‘নো অর্ডার’ আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু। এর আগে ১৫ জুন আশুলিয়া থানার একটি হত্যা মামলা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলা এবং মিরপুর মডেল থানার একটি হত্যা মামলায় মমতাজ বেগমকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট।

এ তিন মামলায় জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করা হয়। এর মধ্যে এক মামলার শুনানি শেষে ‘নো অর্ডার’ আদেশ দেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৫ সালের ১২ মে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হয় ও কারাগারে পাঠানো হয়।

তার বিরুদ্ধে ঢাকার কয়েকটি থানায় হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।


হত্যা মামলায় দায়রা আদালতেও জামিন পাননি সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন এলাকায় খোবাইব হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের জামিন আবেদন দায়রা জজ আদালতেও নামঞ্জুর করা হয়েছে। রোববার ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ৭ম আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. সাদেকীন হাবিব বাপ্পি এ আদেশ দিয়েছেন।

সাবেক বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই মামলায় সিএমএম আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করেছিলেন। সেই আদেশের বিরুদ্ধে আমরা মহানগর দায়রা জজ আদালতে সিআর মিস ফাইল করি। জামিন শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

এই আইনজীবী আরও বলেন, ৭টি মামলায় জামিন বহাল থাকার পর সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে নতুন করে এই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এই মামলায় জামিন না হওয়া পর্যন্ত তার কারামুক্তি হচ্ছে না।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন খোবাইব (২০)।

যাত্রাবাড়ী ওভারব্রিজের নিচে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থানকালে মামলার আসামিদের নির্দেশে ও মদদে পুলিশ, র‍্যাবসহ অঙ্গসংগঠন যুবলীগ, ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও এর স্বেচ্ছাসেবক লীগের অস্ত্রধারীরা একযোগে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর অতর্কিত গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে খোবাইব ঘটনাস্থলেই মারা যান।

ওই ঘটনায় নিহতের ভাই জোবায়ের আহম্মেদ বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর মামলাটি দায়ের করেন। এতে শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, ওবায়দুল কাদেরসহ ৮০ জনকে আসামি করা হয়।

এর আগে, গত ১৭ মে আসামি হিসেবে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখাতে এবং হয়রানি না করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

পৃথক পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার পৃথক দুটি হত্যা মামলায় গত ৩০ মার্চ খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৩ মে রিট করেন খায়রুল হকের ছেলে আইনজীবী আশিক উল হক।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৪ জুলাই বিচারপতি খায়রুল হককে রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।


অভিনেতা যাহের আলভীর ১০ দিন রিমান্ড চায় পুলিশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার মিরপুরের ডিওএইসএসের বাসায় আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলায় ছোট পর্দার অভিনেতা মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া ওরফে যাহের আলভীকে রিমান্ডে নিতে চায় পুলিশ। রোববার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিবি পরিদর্শক আব্দুল মালেক ঢাকার চিপ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ রিমান্ড আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন আগামী বুধবার রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য করেছেন। ওই দিন জাহের আলভীকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার আদালতে আত্মসমর্পণ করার পর যাহের আলভীকে কারাগারে পাঠানো হয়।

গত ১ মার্চ বেলা পৌনে ১২টার দিকে বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় অভিনেতা আলভীর স্ত্রী ইকরাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা। পরে বাসার মালিকসহ স্বজনেরা কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ খবর পেয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে ইকরার মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন করাসহ বাসা থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।

এদিকে ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় ওই দিন রাতেই মামলা করেন তার মামা শেখ তানভীর আহমেদ। দীর্ঘদিনের ‘পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণেই’ তার ভাগনি ইকরা আত্মহত্যা করতে ‘বাধ্য হয়েছেন’ বলে মামলায় অভিযোগ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলিকে এ মামলায় আসামি করা হয়। নাসরিন সুলতানা ইতোপূর্বে আদালতে আত্মসমর্পণ করার পর তাকে জামিন দেওয়া হয়।


ধর্ষণ মামলায় শিবির নেতা জিসানের দুই দিন রিমান্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি

কুমিল্লায় এক বিধবা নারীর করা ধর্ষণ মামলায় ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক জিসান আহম্মেদ প্রধানের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক তৈয়ব উদ্দিন আহমেদ এ আদেশ দিয়েছেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী সহিদ উল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশ আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) জিসান আহম্মেদকে আদালতে হাজির করে। জেলা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আলম শাহ মামলার তদন্তের স্বার্থে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

বিচারক দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আগামী তিন দিনের মধ্যে তাকে পুনরায় আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন।

এর আগে গত ১২ জুন রাতে ভুক্তভোগী ওই নারী দাউদকান্দি মডেল থানায় জিসান আহম্মেদকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা ওই মামলায় মোট চারজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় ওই নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়।

পারিবারিক সূত্রের দাবি, কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর ওই দিনই কুমিল্লার রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে অচেতন অবস্থায় জিসান আহম্মেদকে উদ্ধার করা হয়। রাতেই তাকে চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিসান আহম্মেদকে ওই নারীর করা ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদনে সুস্থ ঘোষণার পর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পান তিনি। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে আদালতে হাজির করলে আদালত প্রথমে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


কারামুক্ত হয়েছেন অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই আন্দোলনের সময় নীলক্ষেত এলাকায় ব্যবসায়ী হত্যা মামলায় জামিন পাওয়ার পর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবুল বারাকাত।

রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কারা অধিদফতরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন ও মিডিয়া) জান্নাত উল ফরহাদ। তিনি জানান, জামিন মঞ্জুরের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছানোর পর গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান।

এর আগে গত মঙ্গলবার দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদমোস্তাফিজুর রহমানের আদালত অধ্যাপক আবুল বারকাতের জামিন মঞ্জুর করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন সে সময় তথ্যটি নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল পর্যন্ত ৫ হাজার টাকার মুচলেকায় আবুল বারকাতের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। এই জামিন পাওয়ার দুই দিন আগে জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর নীলক্ষেত এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল।

গত বছরের ১০ জুলাই রাতে ধানমন্ডির ৩ নম্বর সড়কের বাসা থেকে আবুল বারকাতকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরে জালিয়াতির মাধ্যমে জনতা ব্যাংক থেকে অ্যাননটেক্স গ্রুপের নামে ২৯৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ৭ জুন আপিল বিভাগ থেকে দুদকের ওই মামলায় নিজের পাসপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার শর্তে জামিন পান আবুল বারকাত। কিন্তু কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার আগেই জুলাই আন্দোলনের ওই হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।


অভিনেত্রী ববির স্বামী আবুল বাশার ২ দিনের রিমান্ডে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্যবসায় বিনিয়োগ, গাড়ি কেনাবেচা এবং কোরবানির গরু কেনার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গুলশান থানায় করা মামলায় গ্রেফতার অভিনেত্রী ববির বিটিএল গ্রুপের সিইও মির্জা আবুল বাশারের (৩৫) দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে রোববার (২১ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ'র আদালত এ আদেশ দেন।

ঢাকা মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মোক্তার হোসেন এতথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে, আসামিকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, গুলশান থানার উপপরিদর্শক মো. আরিফীন ইসলাম দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন। আসামিপক্ষে আইনজীবী গাজী মো. মাহবুব আলম এর বিরোধিতা করে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর গাড়ি ক্রয়-বিক্রয়ের নামে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গুলশান থানায় আবুল বাশারের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, বাদী মো. আজিজুল ইসলাম পুরোনো গাড়ি কেনাবেচার ব্যবসা করতেন। ব্যবসায়িক লেনদেনের অংশ হিসেবে আবুল বাশার একটি গাড়ি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার কাছ থেকে এক কোটি টাকা গ্রহণ করেন। তবে টাকা নেওয়ার পরও তিনি কোনো গাড়ি সরবরাহ করেননি। পরে বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন। একপর্যায়ে আবুল বাশার টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও টাকা পরিশোধ না করায় বাদী পুনরায় পাওনা টাকা চাইলে আসামি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং অভিযোগ অনুযায়ী হুমকি-ধমকিও দেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলার দায়েরের পর থেকে আবুল বাশার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপনে ছিলেন। গুলশান থানা পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, তিনি গুলশান-১ এলাকার একটি বাড়িতে অবস্থান করছেন। এরপর সেখানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে গত শনিবার তাকে গ্রেফতার করা হয়।


দুদকের মামলায় সাবেক এমপি মাসুদ উদ্দিন ৪ দিনের রিমান্ডে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণের নামে প্রায় ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও আলোচিত অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। রোববার (২১ জুন) দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত ৪ দিনের রিমান্ড অনুমোদন করেন। শুনানিকালে দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন, অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলের আবেদন জানান।

দুদকের দাখিলকৃত আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও অন্যান্য অভিযুক্তরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক নিয়োগের এজেন্ট হিসেবে নিজেদের নিযুক্ত করেন। মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর সরকারি খরচ ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও তারা বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেন। এভাবে শ্রমিকদের ক্ষতিগ্রস্ত করে বিভিন্ন ধাপে অবৈধভাবে মোট ১১৯ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। এরপর সেই অর্থ পাচার বা রূপান্তরের মাধ্যমে আইনি বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

এর আগে গত ২৩ মার্চ দিবাগত রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৪ মার্চ পল্টন মডেল থানার একটি মামলায় তাকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। পরবর্তীতে গত ২৫ মার্চ দুদকের এই মামলায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। বর্তমানে অর্থপাচার ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।


হাইকোর্টে একদিনে নিষ্পত্তি ২ হাজার ৪২৫ পুরোনো মামলা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মামলার জট কমাতে বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগে একদিনে ২ হাজার ৪২৫টি পুরোনো মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এদিন হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চগুলোতে মোট ১ হাজার ৮৮৪টি পুরনো ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। একই সঙ্গে রিট মোশন বেঞ্চগুলোতে ৫৪১টি পুরনো রিট মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। ফলে একদিনে পুরনো ক্রিমিনাল মিস ও রিট মামলা মিলিয়ে মোট ২ হাজার ৪২৫টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, পুরনো মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত চার কার্যদিবসে মোট ১৫ হাজার ১৭২টি পুরনো ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং ৫ হাজার ৫৬৮টি পুরনো রিট মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। অর্থাৎ চার কার্যদিবসে সর্বমোট ২০ হাজার ৭৪০টি পুরোনো মামলার নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনায় হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ ও রিট মোশন বেঞ্চসমূহে দীর্ঘদিনের পুরনো মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, মামলা জট কমানো এবং বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ৭ মে থেকে হাইকোর্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চগুলোর বিচারপতিরা প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে পুরনো ক্রিমিনাল মিস ও রিট মামলা নিষ্পত্তির এ বিশেষ কার্যক্রম শুরু করেন। আদালত প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলা জট নিরসনে পুরনো মামলা নিষ্পত্তির এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


সময় টিভির সাবেক এমডি ও পরিবারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বেসরকারি টিভি চ্যানেল সময় টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আহমেদ জোবায়ের ও তার পরিবারের সদস্যসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে রয়েছেন আহমেদ জোবায়েরের স্ত্রী শামীমা সুলতানা চৌধুরী, দুই সন্তান সারাফ নাওয়ার জয়ীতা ও আহমেদ রাফিদ কাদের ঋভু, শেখ মাহমুদ ইয়াসিন এবং সানি চৌধুরী।

এর আগে রাজধানীর কলাবাগান থানায় দায়ের করা একটি বিশ্বাসভঙ্গের মামলায় আহমেদ জোবায়েরসহ ছয়জনকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। গত ১০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই সমন জারি করে, যা পরে গত ১৪ মে মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগ নিশ্চিতের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে।

আদালত সূত্র জানায়, অভিযুক্তদের আইনি জবাব দাখিলের সুযোগ দিতে আদালত সশরীরে অথবা আইনজীবীর মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য বুধবার দিন ধার্য করেছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।


হাদি হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল আবারও পেছাল

শরিফ ওসমান বিন হাদি। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অধিকতর (সম্পূরক) তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়েছে। নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৮ জুন।

বুধবার (১৭ জুন) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে এদিন তদন্ত সংস্থা ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। এ কারণে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন। এ নিয়ে মামলাটিতে অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা ১৬তম বারের মতো সময় পেলেন।

ঢাকা মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর গত ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের নারাজি আবেদন দাখিল করেন। ওই দিন আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, শরিফ ওসমান হাদি অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করে মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২০ মিনিটে মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাথা ও ডান কানের নিচের অংশে মারাত্মকভাবে আহত হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ১৪ গত ডিসেম্বর পল্টন থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে এটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।


banner close