স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের মিছিল নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর বিমানবন্দর থানা পরিদর্শনকালে সাংবাদিকের এক প্রশ্নে তিনি এ কথা বলেন।
আওয়ামী লীগের মিছিলের বিষয়ে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার প্রশ্নে তিনি বলেন, দুজনকে এ্ররই মধ্যে আটক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে মিছিল না করতে পারে সেজন্য পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য আমরা চেষ্টা করছি।
পুলিশ সদস্যরা বদলির পরও পূর্বের জায়গায় থাকছেন এমন এক প্রশ্নে তিনি বলেন, বদলির পরও আগের জায়গায় রয়েছেন এমন নির্দিষ্ট (স্পেসেফিক) তথ্য পেলে তাদের বিষয়ে ব্যস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বদলির ক্ষেত্রে সাধারণ পুলিশ সদস্যদের একই বিভাগে রাখা যায় কিনা সেটি ভাবছি। পরিবার থেকে দূরে থাকলে তাদের ছুটির সংখ্যা কমে যায়। তারা মাত্র ২০ দিন ছুটি পায়। অন্যান্য ছুটি পায় ২০ দিন, যা অনেকক্ষেত্রে আমরা দিতেও পারি না। এজন্য আমরা চেষ্টা করব নিচের পর্যায়ে একই বিভাগে দেওয়ার জন্য।
পুলিশ সদস্যদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা দেখা ও উন্নত করার জন্য থানা পরিদর্শন করছেন বলে জানান উপদেষ্টা।
দেশে সারের কোনো সংকট নেই জানিয়ে সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টিকারীদের বিচারের মুখোমুখি করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ। বুধবার জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ বিধিতে এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। একই সঙ্গে সারের সংকট নিরসন ও বাজার নিয়ন্ত্রণে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় তদারকি করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
সংসদে নোটিশ উত্থাপনকালে আখতার হোসেন সারের বাজারে অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ও বিতরণ অব্যবস্থাপনার বিষয়টি তুলে ধরেন। এরপর ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালও সারের ডিলারশিপের অনিয়ম নিয়ে কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, মৃত ব্যক্তিদের নামে এখনো ডিলারশিপ রয়েছে এবং এক ইউনিয়ন বা জেলার ডিলার অন্য স্থানে কাজ করছেন। নিজের নির্বাচনী এলাকা কলমাকান্দা-দুর্গাপুরেও এমন চিত্র দেখেছেন জানিয়ে তিনি কৃষিমন্ত্রীর পদক্ষেপ জানতে চান।
জবাবে কৃষিমন্ত্রী জানান, মাঠপর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সারের মূল্যবৃদ্ধি রোধ করার লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় বিশেষ টাস্কফোর্স ও ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে। সরবরাহব্যবস্থায় কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো গেলে অসাধু চক্র কোনো সংকট তৈরি করতে পারবে না।
সারের প্রকৃত মজুত প্রসঙ্গে তথ্য দিয়ে কৃষিমন্ত্রী নিশ্চিত করেন যে, বর্তমানে দেশে প্রায় ১৩ লাখ টন সার মজুত রয়েছে, যেখানে গত বছর প্রয়োজন ছিল ১২ লাখ টন। এছাড়া আরও ৪ লাখ ৪২ হাজার ৮০০ টন সার আমদানির পাইপলাইনে রয়েছে। সরবরাহ বৃদ্ধির উদাহরণ টেনে তিনি জানান, রংপুর অঞ্চলে গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আগস্টে যেখানে ১০ হাজার ৫৯০ টন সার দেওয়া হয়েছিল, সেখানে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের একই সময়ে ১৮ হাজার ৮৪৭ টন সরবরাহ করা হয়েছে। দেশে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হলেও এবং ইউরিয়া ব্যতীত অন্যান্য সার মাত্র এক লাখ টনের মতো উৎপাদিত হলেও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় দেশে কোনো ঘাটতি নেই বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) নতুন সভাপতি (চেয়ারম্যান) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া। বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৮(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি জনস্বার্থে অধ্যাপক মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়াকে পিএসসির সভাপতি পদে নিয়োগ প্রদান করেছেন। সংবিধানের ১৩৯(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, তিনি দায়িত্বভার গ্রহণের তারিখ থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর অথবা তাঁর ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার মধ্যে যেটি আগে ঘটে, সে সময় পর্যন্ত কমিশনের সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করবেন।
এর আগে সম্প্রতি পিএসসির চেয়ারম্যানের পদ থেকে অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম পদত্যাগ করার পর সাংবিধানিক এই শীর্ষ পদটি শূন্য হয়ে পড়েছিল। সেই শূন্য পদ পূরণের লক্ষ্যেই সরকার নতুন এই নিয়োগ কার্যকর করেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর তৎকালীন পিএসসি চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইনসহ কমিশনের ১২ জন সদস্য একযোগে পদত্যাগ করেছিলেন। পরবর্তীতে ওই বছরের অক্টোবর মাসে অন্তর্বর্তী সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেমকে পিএসসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছিল।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কৃষি, শিক্ষা, মহিলা ও শিশু, সড়ক পরিবহন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং ধর্মসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ১০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এ পর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে কণ্ঠভোটে কমিটিগুলো সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
এদিন সংসদ নেতার অনুমতিক্রমে তার পক্ষে সংসদের চিফ হুইপ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম (বরগুনা-২) সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ এবং সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ২৪৬, ২৪৭ ও ২৪৮ বিধি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে কমিটি গঠনের প্রস্তাবগুলো উত্থাপন করেন।
কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি
এই কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায় (ঢাকা-৩)। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান (ফরিদপুর-৪), মো. মোস্তাফিজুর রহমান (নওগাঁ-১), মো. ফরিদুল কবির তালুকদার (জামালপুর-৪), মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ (ময়মনসিংহ-৪), মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী (মৌলভীবাজার-৪), সাবেরা সুলতানা (মহিলা আসন-১৪), মো. গোলাম রসুল (যশোর-৪) এবং মো. রায়হান সিরাজী (রংপুর-১)।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি
এই কমিটির সভাপতি হয়েছেন মো. সেলিম ভূঁইয়া (কুমিল্লা-২)। সদস্যরা হলেন— সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, ববি হাজ্জাজ (ঢাকা-১৩), রেজা কিবরিয়া (হবিগঞ্জ-১), মো. সেলিমুজ্জামান মোল্লা (গোপালগঞ্জ-১), মো. জাহাঙ্গীর আলী মিয়া (মাদারীপুর-২), তাহসিনা রুশদীর (সিলেট-২), বীথিকা বিনতে হোসাইন (মহিলা আসন-২৪), মো. মুজিবুর রহমান (রাজশাহী-১) এবং আতিকুর রহমান মুজাহিদ (কুড়িগ্রাম-২)।
মহিলা ও শিশু-বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি
এই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে সেলিমা রহমানকে (মহিলা আসন-১)। কমিটির সদস্যরা হলেন— সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, রাশেদা বেগম হীরা (মহিলা আসন-৩), বিলকিস ইসলাম (মহিলা আসন-৭), আন্না মিনজ (মহিলা আসন-১৯), মাধবী মারমা (মহিলা আসন-৩৪), ফাহিমা নাসরিন (মহিলা আসন-২৯), আল ফারুক আব্দুল লতিফ (নীলফামারী-২), নুরুন্নিসা সিদ্দিকা (মহিলা আসন-৩৭) এবং সাবেকুন নাহার (মহিলা আসন-৩৯)।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি
এই কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন রকিবুল ইসলাম (খুলনা-৩)। সদস্যরা হলেন— সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, হাবিবুর রশীদ (ঢাকা-৯), লুতফুর রহমান (কক্সবাজার-৩), মো. রুহুল আমিন দুলাল (পিরোজপুর-৩), মো. শহিদুল ইসলাম (ফরিদপুর-৪), মো. আক্তারুজ্জামান (ময়মনসিংহ-১০), নেওয়াজ হালিমা আরলী (মহিলা আসন-৫), মো. রফিকুল ইসলাম খান (সিরাজগঞ্জ-৪) এবং মো. মতিউর রহমান (ঝিনাইদহ-৩)।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি
এই কমিটির সভাপতি হয়েছেন আবুল কালাম আজাদ (টাঙ্গাইল-৭)। অন্য সদস্যরা হলেন— সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, আলতাফ হোসেন চৌধুরী (পটুয়াখালী-১), লুৎফুল হাই মাজেদ (ময়মনসিংহ-৮), সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম (দিনাজপুর-৩), জসিম উদ্দিন আহমেদ (চট্টগ্রাম-১৪), সুরাইয়া জেরিন (মহিলা আসন-২৫), শওকত আরা আক্তার (মহিলা আসন-৩৩), মাসুম মোস্তফা (নেত্রকোনা-৫) এবং মোহাম্মদ আবু তালিব (ঝিনাইদহ-৪)।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি
এই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে করিমুদ্দিন আহমেদকে (সুনামগঞ্জ-৫)। সদস্যরা হলেন— সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, মোহাম্মদ আবুল খায়ের ভূঁইয়া (লক্ষ্মীপুর-২), মোহাম্মদ তমিজউদ্দিন (ঢাকা-২০), মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ (রাজবাড়ী-২), মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া (কুমিল্লা-১০), মনসুরা আক্তার (মহিলা আসন-২৬), মোহাম্মদ কেরামত আলী (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১), সাইফুদ্দিন আহমেদ হানজালা (মাদারীপুর-১) এবং ওবায়দুল্লাহ সালাফী (নীলফামারী-৩)।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি
এই কমিটির সভাপতি হয়েছেন মোহাম্মদ আমানউল্লাহ আমান (ঢাকা-২)। কমিটির সদস্যরা হলেন— সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, ইয়াসের খান চৌধুরী (ময়মনসিংহ-৯), মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন (নরসিংদী-৫), মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল (জামালপুর-৩), মোহাম্মদ মজিবুর রহমান (গাজীপুর-১), নিলুফার চৌধুরী মনি (মহিলা আসন-১০), ফাহমিদা হক (মহিলা আসন-১৮), মোঃ শফিকুল ইসলাম (পটুয়াখালী-২) এবং নাজমুন নাহার (মহিলা আসন-৪০)।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি
এই কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন আলহাজ্ব জি কে গাউস (হবিগঞ্জ-৩)। সদস্যরা হলেন— সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, শেখ ফরিদুল ইসলাম (বাগেরহাট-৩), মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম ধুলু (নওগাঁ-৫), মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫), সরোয়ার আলমগীর (চট্টগ্রাম-২), সুলতানা জেসমিন (মহিলা আসন-৪৯), মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম (কুড়িগ্রাম-৩), মোহাম্মদ আব্দুল আলীম (বাগেরহাট-৪) এবং মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ (খুলনা-৬)।
ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি
এই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে নাসের রহমানকে (মৌলভীবাজার-৩)
অন্য সদস্যরা হলেন— সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (চট্টগ্রাম-৫), জয়নাল আবেদীন (ফেনী-২), সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ (বরিশাল-২), শাহ মোহাম্মদ ওয়ারেছ আলী মামুন (জামালপুর-৫), এরশাদুল্লাহ (চট্টগ্রাম-৮), সুলতানা আহমেদ (মহিলা আসন-১৭), মাহবুবুর রহমান বেলাল (রংপুর-৩) এবং মাহমুদুল্লাহ (ময়মনসিংহ-২)।
ধর্ম-বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি
এই কমিটির সভাপতি হয়েছেন রফিকুল ইসলাম জামাল (ঝালকাঠি-১)। সদস্যরা হলেন— সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, মোহাম্মদ শামীম কায়সার (গাইবান্ধা-৪), আজহারুল ইসলাম মান্নান (নারায়ণগঞ্জ-৩), নুরুল আমিন (চট্টগ্রাম-১), নিপুন রায় চৌধুরী (মহিলা আসন-১১), সুবর্ণা শিকদার (মহিলা আসন-২০), মোহাম্মদ নুরুল আমিন (রংপুর-৬), মোহাম্মদ আবুল হাসান (সিলেট-৫) এবং মোহাম্মদ আব্দুল খালেক (সাতক্ষীরা-২)।
সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস পর দেশে ফিরেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টায় মির্জা আব্বাসকে বহনকারী ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
এ সময় তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাসও সঙ্গে ছিলেন।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
গত ১১ মার্চ ইফতারে পানি পান করার সময় হঠাৎ জ্ঞান হারান মির্জা আব্বাস। অবস্থার উন্নতি না হলে গভীর রাতে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
১৫ মার্চ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসার পর তাকে মালয়েশিয়ায় চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা আব্বাস।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে হাসপাতালে গিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে যান।
নিশ্চিত করে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, রাষ্ট্রপতি চিকিৎসাধীন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নেন ও কিছুক্ষণ তার শয্যাপাশে অবস্থান করেন। এ সময় তিনি তার সুস্থতার জন্য দোয়া করেন।
এর আগে, গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী আবদুল্লা আল কায়েস জানান, গত কয়েক দিন ধরেই জ্বরে ভুগছিলেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। পরবর্তীতে চিকিৎসকদের পরামর্শে শারীরিক পরীক্ষার ও সুচিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেছেন, আজকের পদক্ষেপই আগামীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। পরিবেশ সুরক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির সমন্বয়ে পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, আকস্মিক বন্যা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, দাবদাহ ও খরার মতো দুর্যোগের প্রকোপ ও তীব্রতা বাড়ছে। বাংলাদেশের মতো উপকূলীয় ও নিম্নাঞ্চলীয় দেশের জন্য এসব ঝুঁকি গভীর উদ্বেগের বিষয়।
তিনি বলেন, সর্বনিম্ন কার্বন নিঃসরণ, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার, দূষণমুক্ত উৎপাদন ব্যবস্থা ও সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব। একবিংশ শতাব্দীর উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদি অভিযোজনের জন্য জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (এনএপি) ২০২৩-২০৫০ প্রণয়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাতে জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি ৩.০) প্রণয়ন করা হয়েছে। জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় স্বল্প-নিঃসরণ উন্নয়ন কৌশল এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন ও অংশীদারত্ব জোরদারেও কাজ চলছে।
মন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু সরকারের উদ্যোগে নয়; জনগণের সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমেই সবুজ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পরিবেশ সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শিশু-কিশোরদের ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা, পলিথিন ব্যবহার পরিহার, শব্দদূষণ রোধ, বিদ্যুৎ ও পানির সাশ্রয়ী ব্যবহার এবং বৃক্ষ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সচেতন করে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন চরম বাস্তব। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে হিমবাহ গলে ভয়াবহ বন্যা হচ্ছে। বাংলাদেশেও আকস্মিক বন্যা বেড়েছে। এখন শুধু হাওর বা নিচু এলাকায় নয়, পাহাড়ি এলাকাতেও বন্যা হচ্ছে।
তিনি বলেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা জারি করা গেলে কৃষির ক্ষতি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। পরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ী এবং পরিবেশ মেলায় অংশ নেওয়া শ্রেষ্ঠ স্টলের পুরস্কার, ক্রেস্ট, সনদ ও প্রাইজমানি বিতরণ করা হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ী, তদের অভিভাবক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন, অতীত সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নিতে বর্তমান সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে কিছু সমস্যার মুখোমুখি হলেও সরকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’
বুধবার দুপুরে তিন দিনের সরকারি সফরে নিজ নির্বাচনী এলাকা ভোলা-১ আসনে এসে সদর উপজেলার নতুনবাজার এলাকায় এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
পার্থ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতিকে দুর্বল করে গেছে। সেই অবস্থান থেকে আমাদের উঠে আসতে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং দেশকে সংকটমুক্ত করার জন্য কাজ করছেন।’
ভোলা-বরিশাল সেতু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভোলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এই সেতু নির্মাণ। সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।’ তিনি জানান, সেতু প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
এ সময় ভোলার বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘জেলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নদীভাঙন প্রতিরোধে ৭০০ কোটি টাকা এবং সড়ক সংস্কার ও উন্নয়নে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে।’
ভোলা-বরিশাল সেতু ও অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানিয়ে পার্থ বলেন, ‘আমরা সবাই ভোলার উন্নয়ন চাই। সরকারও ভোলার যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করছে।’
নিজের রাজনৈতিক ও সংসদীয় কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘গত ছয় মাসে জনগণ তাকে সংসদ সদস্য হিসেবে দেখেছে, কিন্তু তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ ওঠেনি।’ এলাকায় মিথ্যা মামলা, হয়রানি কিংবা চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
পার্থ আরও বলেন, ‘আমার দলে কোনো সন্ত্রাসী বা চাঁদাবাজের স্থান নেই। দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ালে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। জনগণের আস্থা ও সমর্থনেই আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি এবং সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করেই কাজ করতে চাই।’
সমাবেশে স্থানীয় নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসনের তিন কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। পদোন্নতির পর তাদেরকে দুই মন্ত্রণালেয়ে পদায়ন করা হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এর মধ্যে জনপ্রশাসনের অতিরিক্ত সচিব এ এন এম বজলুর রশীদকে পদোন্নতি দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে পদায়ন করা হয়েছে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম বেঞ্জামিন রিয়াজীকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ইয়াসমিন বেগমকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পদায়ন করা হয়েছে।
অপর দিকে, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলাকে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান ও আমদানি নির্ভরতার কারণে সৃষ্ট বর্তমান জ্বালানি সংকট থেকে দেশকে বের করে আনতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার।’
তিনি বলেছেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় তৈরি করা পরিকল্পনার মাধ্যমে জ্বালানি খাতকে রীতিমতো পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল। এর ফলে দীর্ঘদিনের যে অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান বা আমদানি নির্ভরতার কারণে এই যে সৃষ্ট বর্তমান জ্বালানি সংকট, এর থেকে বের করে আনার জন্য বর্তমান সরকার কতগুলো পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
আজ জাতীয় সংসদ অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে সেলিনা সুলতানা (৩৩৫ মহিলা আসন-৩৫) এর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন।
বর্তমান জ্বালানি সংকট থেকে দেশকে বের করে আনতে সরকারের সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির অংশ হিসেবে ১৫০টি কূপ খনন/ওয়ার্কওভার কর্মসূচির আওতায় ৩০টি কূপ খনন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ১৪০ এমএমসিএফডি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হয়েছে। বর্তমানে চলমান ৭টি কূপ খনন শেষ হলে আরো ৮৫ এমএমসিএফডি গ্যাস যুক্ত হবে। অবশিষ্ট কূপসমূহ খননের জন্য পর্যায়ক্রমে প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘দেশীয় গ্যাসের উৎস অনুসন্ধানের লক্ষ্যে ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সিসমিক সার্ভে এবং ৪,২০০ বর্গ কিলোমিটার ৩ডি সিসমিক সার্ভে পরিচালনার কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।’
‘বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন এন্ড প্রোডাকশন কোম্পানী লি. (বাপেক্স)-কে শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে আরো ২টি নতুন রিগ ক্রয়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬ অনুমোদনের পর বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। এছাড়া, অনশোর মডেল পিএসসি অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
অফশোর এবং অনশোর গ্যাস অনুসন্ধানের মাধ্যমে গ্যাস পাওয়া গেলে তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ : কক্সবাজার জেলার মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে কুতুবজোমে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্যে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সাথে নেগোসিয়েশন চলমান রয়েছে। ডিসেম্বর ২০২৮ সালে উক্ত টার্মিনাল হতে রিগ্যাসিফাইড এলএনজি (গ্যাস) সরবরাহ করা সম্ভব হবে মর্মে আশা করছি।'
তিনি বলেন, 'আগামী ২ বছরের মধ্যে এলএনজি আমদানি আরো ৬০০ এমএমসিএফডি বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলে জরুরি ভিত্তিতে নতুন ২-১টি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন হলে সামগ্রিকভাবে দেশে জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে।'
এর আগে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য নির্ধারিত ছিল।
সূত্রঃ বাসস
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর দুই দেশের শীর্ষ নেতার পারস্পরিক সুবিধা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি। বুধবার জাতীয় সংসদের টানেলে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করেন যে, সফরের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া বা শর্ত আরোপ করা স্বাধীন দেশের পক্ষে গ্রহণ করা কঠিন। চিফ হুইপ বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী, তাদের সময় মিলে যে সময়টা সুবিধাজনক হবে এবং এটা পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে যখন ভালো হবে, ঠিক তখনই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর করবেন।”
ভারতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশ হিসেবে উল্লেখ করে নূরুল ইসলাম মনি জানান যে, বাংলাদেশ কাউকেই উপেক্ষা করে না। তবে সরকারের মূল নীতি হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ, মর্যাদা এবং সম্মান অক্ষুণ্ণ রেখেই বিদেশের সাথে সম্পর্ক গড়া হবে। চিফ হুইপ আরও বলেন, “ইফ এনি কন্ডিশন হ্যাজ বিন ইমপোজড বাই আওয়ার ফ্রেন্ডস, সেটা আমাদের ভালোভাবে নেওয়াটা একটু কষ্টের ব্যাপার হয়ে যায়।” বাংলাদেশের ভূখণ্ড কোনোভাবেই অন্য দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হবে না এবং বিনিময়ে প্রতিবেশী দেশ থেকেও একই আচরণ প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।
চিফ হুইপ গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে ভারতের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় ধরে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার লুণ্ঠিত হলেও ভারত নীরব ছিল, যা বাংলাদেশের মানুষের মনে কষ্টের সৃষ্টি করেছে। তিনি আরও দাবি করেন, গত দেড় দশকে লুটপাট, গুম ও খুনে জড়িত অনেক ব্যক্তি বর্তমানে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। ভারতকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত কাউকে যেন আশ্রয় বা প্রশ্রয় না দেওয়া হয়। ভারতের সাথে বিদ্যমান অমীমাংসিত বিষয়গুলোর মধ্যে পানিবণ্টন সমস্যাকে অন্যতম ‘বড় সমস্যা’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি দ্রুত এর সমাধানের আশা প্রকাশ করেন।
সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া এবং বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যু নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, “আমরা বলি ভারত আমাদের বন্ধু, ভারতও বলে আমরা তাদের বন্ধু। কিন্তু তারা বেড়া দিয়েছে আমাদের ওপরে।” সীমান্তে মৃত্যুর ঘটনাগুলোকে মানবিক দৃষ্টিতে দেখার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া দুই দেশের সংসদের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে ‘ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ’ গঠনের একটি প্রস্তাব নিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাথে আলোচনার বিষয়টিও তিনি গণমাধ্যমকে অবহিত করেন।
এক-এগারোর সেনাসমর্থিত সরকারের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর চালানো অমানসিক নির্যাতনের স্মৃতি এখনো অমলিন বলে মন্তব্য করেছেন তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে উত্তরাঞ্চল ছাত্রফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আজও সেই দুঃসহ নির্যাতনের চিহ্ন বহন করছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘৩ সেপ্টেম্বর আমাদের প্রিয় নেতা আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস। আমাদের প্রিয় নেতাকে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপর তাঁকে অমানসিক নির্যাতন করা হয়েছিল। সেই নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন এখনও তিনি বয়ে বেড়াচ্ছেন।’ তবে নেতার উদারতার কথা স্মরণ করে তিনি যোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে চান না প্রতিশোধের রাজনীতি করতে। রুমনের ভাষায়, ‘আমাদের প্রিয় নেতা নিজেই বলেছেন তিনি সেই দিনগুলো মনে রাখতে চান না। আমরা যদি সেই দিনগুলোর কথা মনে রাখি, প্রতিশোধ নিতে যাই তাহলে পাঁচ বছরেও শেষ হবে না।’ তিনি স্পষ্ট করেন যে, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রতিশোধের বদলে দেশের উন্নয়ন করে সামনে এগিয়ে যাওয়াই প্রধানমন্ত্রীর মূল লক্ষ্য।
বিগত দিনগুলোতে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে রুমন বলেন, ‘বিগত সময় বিএনপি যখন দেশ পরিচালনা করেছে ঠিক ওই সময় আমাদের প্রিয় নেতাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে দেশ-বিদেশে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল। এই ষড়যন্ত্র থেকে আমাদের সকলকে সতর্ক থাকতে হবে যেন আমাদের প্রিয় নেতার ভালো কাজগুলো ভুলন্ঠিত না হয়।’ তিনি ছাত্রদল, যুবদলসহ দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনকল্যাণমূলক কাজগুলো সফল করার আহ্বান জানান। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, জনগণই সকল শক্তির উৎস এবং সেই জনগণই একাত্তর, এরশাদ বিরোধী আন্দোলন, ওয়ান-ইলেভেন এবং সর্বশেষ জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরচারকে হটিয়েছে।
দুঃসময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রুমন বলেন, অতীতে স্বৈরাচারী শাসনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে কীভাবে গোপনে কারামুক্তি দিবস পালন করা হতো, তা আজ ইতিহাসের অংশ। সে সময় রুহুল কবির রিজভী, ইকবাল হাসান মাহমুদ, ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং ব্যারিস্টার মীর হেলালের মতো নেতাদের সাহসিকতার কথা তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া প্রতিকূল পরিবেশে যেসব সাংবাদিক সাহস নিয়ে তথ্য প্রচারে সহায়তা করেছেন, তাঁদের প্রতিও তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আতিকুর রহমান রুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাজমুল হাসান, কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন স্তরের ছাত্রনেতৃবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা।
দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট নিরসনে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি ও সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার বড় ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, কক্সবাজারের মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে কুতুবদিয়া এলাকায় একটি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই প্রকল্পের বিষয়ে বর্তমানে আগ্রহী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এই টার্মিনালটি চালু হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশে এলএনজি আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্প ও আবাসিক খাতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে পায়রা ও মোংলা বন্দর এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে আরও দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তাবনা নিয়ে সরকার কাজ করছে বলেও সংসদে জানান প্রধানমন্ত্রী। মূলত ভৌগোলিক গুরুত্ব ও জ্বালানির চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই অঞ্চলগুলোতে টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই প্রস্তাবিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালগুলো সফলভাবে স্থাপিত হলে দেশের গ্যাস সংকট অনেকাংশেই হ্রাস পাবে। এর ফলে সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে, যা জাতীয় অর্থনীতি ও শিল্পায়নের গতিকে আরও বেগবান করবে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। আজ বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে তাঁরা দুই দেশের সংসদীয় প্রতিনিধিদলের পারস্পরিক সফর, রোহিঙ্গা সংকট ও তাদের সসম্মানে প্রত্যাবাসন এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বৈঠকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারত-বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বলেন, “দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্বাধীন সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে এ সম্পর্ক সামনে এগিয়ে যাবে।” তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, এই মৈত্রী সবসময় বিভিন্ন চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে এবং সময়ের প্রেক্ষাপটে তা পরিবর্তিত হয়েছে।
দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্পিকার বলেন, ২০০৮ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বিভিন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ আবারও গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুই দেশের সম্পর্ক মূলত সরকারকেন্দ্রিক ছিল।
ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী স্পিকারের বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, ভারত সরকার দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী জনগণকেন্দ্রিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে বিশেষভাবে আগ্রহী। জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে বর্তমান ভারত সরকার নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন। সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে হাইকমিশনার ভারতের লোকসভার স্পিকারের পক্ষ থেকে হাফিজ উদ্দিন আহমদকে ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান এবং সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময়ের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাইকমিশন ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।