বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
২০ ফাল্গুন ১৪৩২

গুমের শিকার প্রায় ৩০০ জনকে হত্যা করা হয়েছে

* দাবি চিফ প্রসিকিউটরের
ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল, ২০২৫ ১২:৫৩
  • * গণহত্যা মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন যেকোনো দিন

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে উত্তরায় র‌্যাব-১ সদর দপ্তর, নগরীর আগারগাঁওয়ে র‌্যাব-২ ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানি (সিপিসি) এবং ঢাকা সেনানিবাসের কচুক্ষেতে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) বলপ্রয়োগ পূর্বক গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম গত ১৫ বছরে গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে দায়ের করা মামলার শুনানিতে অংশ নিয়ে গতকাল রোববার এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত ৮০০-৯০০টি জোরপূর্বক গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ পেয়েছি। এর মধ্যে প্রায় ৩০০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। ২০০টি অভিযোগের তদন্ত প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আমাদের আরও সময় প্রয়োজন।’

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আরও দুই মাস সময় চেয়ে আবেদন করা হলে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৪ জুন দিন ধার্য করেন।

গতকাল শুনানি শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তাজুল ইসলাম জানান, ১১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার মাধ্যমে মামলাটি আমরা শুরু করেছিলাম। তার মধ্যে একজন গ্রেপ্তার আছেন। তিনি হচ্ছেন সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান। এই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে তদন্ত সংস্থার সদস্যরা চারটি ডিটেনশন সেন্টার ও গোপন কেন্দ্র খুঁজে বের করেছেন এবং সেখানে গুমের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের ম্যাটেরিয়াল উদ্ধার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে, যারা এই কাজ পরিচালনা করতেন তাদের নাম ঠিকানা বের করা হয়েছে এবং কীভাবে এই লাশগুলো সরিয়ে ফেলা বা নষ্ট করা হতো সেটার ব্যাপারে তথ্য প্রমাণ অনেকাংশে জোগাড় হয়ে গেছে। বাদবাকি কিছু প্রমাণ জোগাড়ের কাজ এখনো চলমান আছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে শত শত অভিযোগ আছে এবং কয়েকশ অভিযোগের মধ্যে থেকে বেশ কতগুলো গুমের ঘটনা তদন্ত প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে এসেছে, সেগুলোর তদন্ত রিপোর্ট যেকোনো সময় আমরা হয়তো আদালতে দাখিল করতে পারব। এটার জন্য আমরা তিন মাসের সময় চেয়েছিলাম সেটি আদালত মঞ্জুর করেছেন। গুমের শতশত ঘটনাকে একত্রে করে একটি মামলা করা হয়েছে এবং প্রত্যেকটি মামলা ধরে ধরে আলাদা আলাদা করে তদন্ত করে দেওয়া চিন্তাভাবনা আমরা ও আমাদের তদন্ত সংস্থা করছে এবং তারা আশা করছেন খুব দ্রুতই আমরা তদন্ত রিপোর্টগুলো দিতে সক্ষম হব।

গণহত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন যেকোনো দিন

এদিকে জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন যেকোনো মুহূর্তে দাখিল হতে পারে বলেও জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, জুলাই আগস্ট গণহত্যায় যে মামলা দাখিল হয়েছে তাতে শেখ হাসিনার সম্পৃক্ততার তদন্ত প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পর্যায় আছি বলে আমরা আদালতকে জানিয়েছি। তবুও অধিকতর সতর্কতা ও স্বচ্ছতা অবলম্বন করার জন্য আমরা দুই মাস সময় চেয়েছি। আদালত সেটা মঞ্জুর করে আগামী ২৪ জুন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেছেন। কিন্তু আমরা আপনাদের এটা জানাতে পারি যে কোনো মুহূর্তে প্রতিবেদনটি দাখিল হয়ে যাবে। সেটা আগামী সপ্তাহেও হতে পারে, যেকোনো সময় হতে পারে।

সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তদন্তের জন্য আমরা সাক্ষীদের সাক্ষ্য নিয়েছি। বিভিন্ন ধরনের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ যেমন সিসিটিভি ফুটেজ, ক্যামেরা কিংবা ড্রোন ফুটেজ আমরা সংগ্রহ করেছি।

তদন্তের একেবারে শেষপর্যায়ে এসে মোটামুটি এটা বোঝা যাচ্ছে যে এসব অপরাধ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে, সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটির মাধ্যমে হাসিনা তার মন্ত্রী পরিষদ, পুলিশ বাহিনীসহ সবাইকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এবং তারা এই পরিকল্পনা সাজানো থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নে কাজ করেছে।

জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ মোট ১৯ জনকে গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

এদের মধ্যে ছিলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক, ফারুক খান, দীপু মনি, আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, গোলাম দস্তগীর গাজী, আমির হোসেন আমু, কামরুল ইসলাম, সাবেক মন্ত্রী ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক-ই ইলাহী চৌধুরী ও সালমান ফজলুর রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার ও জুনাইদ আহমেদ পলক, আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাঙ্গীর আলম।

ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে আজ তাদের মামলায় শুনানি হয়েছে।

এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীদের আদালতে হাজির করা হলে পরবর্তী শুনানির জন্য ২০ এপ্রিল দিন ধার্য করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালের এক মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার প্রাক্তন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং প্রাক্তন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজির আহমেদসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

১২ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (এনটিএমসি) প্রাক্তন পরিচালক মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে। আজ তাকে শুনানির জন্য ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

সূত্র: বাসস


জনগণই রাষ্ট্রের মালিক, আমরা তাদের সেবক: তথ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৪ মার্চ, ২০২৬ ২০:৪২
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, “রাষ্ট্রের মালিক জনগণ, আমরা কেবল তাদের সেবক।” অতীত সরকারের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

আজ বুধবার (৪ মার্চ) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের ম্যান্ডেটের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা করা।”

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্বাহী বিভাগকে দলীয় প্রভাব ও অপব্যবহারমুক্ত রেখে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঈদের আগেই এর দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ইউনিটগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানান।

কৃষক কার্ড কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষিযন্ত্র ও কৃষিঋণসহ বিভিন্ন সেবা সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে মধ্যস্বত্বভোগী ও দুর্নীতির সুযোগ না থাকে। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এছাড়া মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের জন্য ভাতা কার্যক্রম চালুর কথা তুলে ধরে বলেন, এ ক্ষেত্রেও কার্ডভিত্তিক স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে।

বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিল, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং চট্টগ্রাম জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে প্রেস ক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের আয়োজিত আরেকটি মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী।

সেখানে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রের সেবক হিসেবে আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। কাজেই জনগণকে ক্ষমতায়িত করতে আমরা সেবকই থাকতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান উন্নয়নের জন্যই চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের নামফলক স্থাপন করেছিলেন, কিন্তু দীর্ঘদিন সেটি গোপন করে রাখা হয়েছিল। আবার সে নামফলক পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে প্রেস ক্লাবকে এগিয়ে নিতে হবে।”

প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদের সঞ্চালনায় সভায় আবু সুফিয়ান এমপি, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি হাসান হাফিজ, বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, সাংবাদিক মো. শাহনেওয়াজ, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি জাহিদুল করিম কচি ও মিয়া মোহাম্মদ আরিফসহ অনেকে বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিল, চট্টগ্রাম পিআইডির উপপ্রধান তথ্য অফিসার মো. সাঈদ হাসান, বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক ও বিটিভির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।


​ময়লার বিল ১০০ টাকার বেশি নিলেই ব্যবস্থা: ডিএসসিসি প্রশাসক

আপডেটেড ৪ মার্চ, ২০২৬ ২০:১০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) কর্তৃক নির্ধারিত বাসা থেকে ময়লা সংগ্রহের বিল ১০০ টাকার বেশি নিলেই ঠিকাদাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম। বুধবার লালবাগের শহিদনগর শ্মশানঘাট এলাকায় মশক নিধনে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও ক্রাশ প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাক-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ।

সম্প্রতি মশার প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিএসসিসির উদ্যোগে মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও ক্রাশ প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে ডিএসসিসির ২৪ নং ওয়ার্ড এলাকায় এ প্রোগ্রামের আয়োজিত হয়। বিকাল ৩টা থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্য বিভাগের প্রায় ২০০ জন কর্মী অংশ নেন। তারা খাল, ড্রেন, নর্দমা ও ফুটপাত পরিষ্কারের পাশাপাশি মশার ওষুধ প্রয়োগ করেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে জনসচেতনতামূলক র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশাসক মোঃ আবদুস সালাম বলেন, "বাসা থেকে ময়লা সংগ্রহের বিল নির্ধারিত ১০০ টাকার বেশি কেউ দাবি করলে, আপনারা সিটি কর্পোরেশনে জানাবেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ময়লা সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারের চুক্তি বাতিল করা হবে।"

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ডিএসসিসির কবরস্থানে লাশ দাফন ও শ্মশানে লাশ দাহ্য বাবদ নিবন্ধন ফি ১০০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০০ টাকা করার ঘোষণাও দেন প্রশাসক।

তিনি বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে সিটি কর্পোরেশনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঢাকা শহর বাংলাদেশের মুখ। সারা পৃথিবী থেকে মানুষ এলে ঢাকা দেখেই দেশের অবস্থা বোঝা যায়। তাই ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রীন ঢাকা’ কর্মসূচির কথা বলেছেন।

পুরান ঢাকাকে আদি ঢাকা উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, আমরা চাই দক্ষিণ সিটির মধ্যে পুরান ঢাকাই সবচেয়ে উন্নত হোক। এখানে রাস্তার লাইট ঠিকমতো জ্বলবে, বর্জ্য নিয়মিত পরিষ্কার হবে এবং মশা নিয়ন্ত্রণে থাকবে—এটাই আমাদের লক্ষ্য।

দলের নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরে অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কারও ব্যবসা নেই, কারও ঘরবাড়ি নেই, কেউ পঙ্গু হয়ে গেছেন। তাদের বিষয়েও দায়িত্ব নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের যেমন ভাতা দেওয়া হচ্ছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

​অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মোঃ মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ জাহানে ফেরদৌসসহ বিভাগীয় প্রধানগণ এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি'র শ্রদ্ধা

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সংসদকে প্রাণবন্ত করতে ও মানুষের কল্যানে কাজ করতে চাই
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে নবনিযুক্ত ৬ হুইপকে নিয়ে দুপুরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৪ মার্চ, ২০২৬ ১৯:০৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনিযুক্ত চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। আজ বুধবার দুপুরে তাঁদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।

এ সময় চিফ হুইপের সঙ্গে ছিলেন জাতীয় সংসদের নবনিযুক্ত ছয় হুইপ মো. জি কে গউছ, রকিবুল ইসলাম, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মো. আখতারুজ্জামান মিয়া এবং এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান)।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং গনতন্ত্রের মা আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জীয়া ছিলেন বাংলাদেশের খেটে খাওয়া গণমানুষের নেতা। তারা দেশের স্বার্থে, দেশের কল্যাণে নিজেদের উৎসর্গ করেছেন। তাদের রেখে যাওয়া আমানত বর্তমান বাংলাদেশের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাতিঘর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ও নির্দেশনায় সমগ্র বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমুখী ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে পরিনত করা এবং দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই।

চিফ হুইপ আরও বলেন, পার্লামেন্ট হবে সকল কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু। আমি এবং হুইপবৃন্দ যারা আছেন আমরা সবাই চেষ্টা করবো পার্লামেন্টকে কার্যকরী করার এবং সত্যিকারের গনতন্ত্র যেন প্রতিষ্ঠালাভ হয়, তার জন্য যতটুকু করার তা আমরা করবো।

সংসদ প্রতিদ্বন্ধিতাতামূলক হবে কিনা এমন এক প্রশ্নের উত্তরে চিফ হুইপ বলেন- সংসদ কখনো প্রতিদ্বন্ধিতামূলক হয় না। প্রতিদ্বন্ধিতামূলক হয় নির্বাচন। সংসদ হবে কার্যক্রমের মূল কেন্দ্রবিন্দু। যেখানে প্রাণোবন্ত আলোচনা হবে,জাতীয় সমস্যা সমাধানের আলোচনা হবে। দেশের সাধারন মানুষের কল্যানে যে সমস্ত কার্যক্রম করা দরকার, আলোচনা করে সমাধান দরকার, আমি এবং আমরা বিশ্বাস করি সে সমস্ত কার্যক্রমই সংসদে হবে ইনশাআল্লাহ।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তাঁরা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন। এ সময় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


শামীম ওসমানসহ ১২ জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সাইনবোর্ড এলাকায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের খুঁজে না পাওয়ায় এই আদেশ আসে। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৫ মার্চ দিন ধার্য করা হয়েছে।

বুধবার (৪ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার–এর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।

প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর তারেক আবদুল্লাহ। তিনি আদালতকে জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের অগ্রগতি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।

প্রসিকিউটরের ভাষ্য অনুযায়ী, আসামিদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় গিয়েও তাদের পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় ১২ জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অনুমতি চাওয়া হয়। ট্রাইব্যুনাল আবেদন মঞ্জুর করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন।

মামলার প্রধান আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শামীম ওসমান ও তার ছেলে অয়ন ওসমান। বাকি ১০ আসামির নাম এখনো প্রকাশ করেনি প্রসিকিউশন। এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি এই ১২ জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল-১ তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ ও ২১ জুলাই এবং ৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা-সাইনবোর্ড এলাকায় ১০ জনকে হত্যা করা হয়। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় অভিযুক্তরা অস্ত্রধারী ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনার ভিত্তিতে শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।


৮ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পুনর্বণ্টন, কে পেলো কোন দফতরের দায়িত্ব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি কার্যক্রমে গতিশীলতা ও সমন্বয় বাড়াতে মন্ত্রিসভায় রদবদল আনা হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকারের ৮ জন প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর পুনর্বণ্টন করা হয়েছে। নতুন এই নির্দেশনায় বেশ কয়েকজন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বভার সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মো. শরীফুল আলম এখন থেকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা হাবিবুর রশিদ পেয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের দায়িত্ব। একই মন্ত্রণালয়গুলোর দায়িত্বে থাকা মো. রাজিব আহসানকে দেওয়া হয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং সেতু বিভাগের দায়িত্ব।

এছাড়া অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এখন থেকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন। মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা ফারজানা শারমীনকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মো. নুরুল হক পেয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা ববি হাজ্জাজকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি কাজের দক্ষতা ও সমন্বয় বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই পুনর্বণ্টন করা হয়েছে।


চাঁদাবাজ-অস্ত্রধারীদের তালিকা করে শিগগিরই সারাদেশে অভিযান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও সুদৃঢ় করতে এবার সারা দেশে চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। বুধবার (৪ মার্চ) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সদর দপ্তরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি জেলায় চাঁদাবাজ, অবৈধ অস্ত্রধারী এবং দাগি আসামিদের তালিকা তৈরি করার কাজ চলছে। এই তালিকা ধরে খুব শিগগিরই দ্রুত ও কার্যকর অভিযান পরিচালনা করা হবে, যাতে অপরাধীরা আইনের আওতায় আসে। এই উদ্যোগে দেশবাসীকে নিশ্চিন্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি অভিযানে জনগণের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা অটুট রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর।

ডিএমপি সদর দপ্তর পরিদর্শনকালে পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হলো দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা। এ ক্ষেত্রে পুলিশকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। বিগত সরকারের সময়ে পুলিশের ওপর রাজনৈতিক দোষ চাপানোর বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে কিছু ব্যক্তির দায়ভার পুরো প্রতিষ্ঠানের ওপর বর্তাতে পারে না। পুলিশকে এখন জনগণের সত্যিকারের বন্ধু হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।

বাহিনীর সদস্যদের মনোবল চাঙ্গা করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে দৃঢ় সংকল্প লক্ষ্য করেছেন। দেশ ও জাতির কল্যাণে তারা যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। অতীত ভুলে নতুন কৌশলে পুলিশ জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে কাজ করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে মূলত সারা দেশে অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার বার্তা দিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।


যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জ্বালানি সহায়তা চেয়েছে সরকার: জ্বালানি মন্ত্রী

আপডেটেড ৪ মার্চ, ২০২৬ ১৫:১৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর নেতিবাচক প্রভাবে বাংলাদেশেও জ্বালানি আমদানির আগের সব প্রতিশ্রুতি ও চালান আসা বন্ধ হয়ে গেছে। উদ্ভূত এই সংকট মোকাবিলায় এবার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জরুরি জ্বালানি সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

বৈঠক শেষে জ্বালানিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের এই আহ্বানের প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রতিনিধি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়েছেন এবং এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। মূলত বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থার কারণে জ্বালানি সরবরাহের চেইন ভেঙে পড়ায় এই কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

দেশের বর্তমান জ্বালানি মজুদ ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি তুলে ধরে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বর্তমানে যে পরিমাণ জ্বালানি মজুদ আছে, তা দিয়ে মার্চ মাস পর্যন্ত চলা সম্ভব হবে। তবে সামনেই ঈদুল ফিতর, তাই ঈদের সময় পর্যন্ত এই সংকট অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মজুদকৃত জ্বালানি কীভাবে সাশ্রয়ী উপায়ে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিকল্প উৎস হিসেবে সব জায়গা থেকে জ্বালানি আমদানির জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।

এদিকে আসন্ন গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন মন্ত্রী। তিনি জানান, দেশে অসহনীয় পর্যায়ের কোনো বিদ্যুৎ সংকট হবে না। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং লোডশেডিং এড়াতে বিদ্যুতের অপচয় রোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত নয়, প্রয়োজনে সংশোধনের সুযোগ আছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিটি অপরিবর্তনীয় কিছু নয়; বরং প্রয়োজনে এতে সংশোধন, সংযোজন বা বিয়োজনের সুযোগ রয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।

দুই দেশের বাণিজ্যের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৮ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি হয় প্রায় পৌনে তিন বিলিয়ন ডলার। একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার হওয়ায় দুই দেশের এই সম্পর্কের সঙ্গে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ, ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নসহ অর্থনীতির নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত।

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে এই চুক্তি স্বাক্ষর নিয়ে যে সমালোচনা চলছে, সে বিষয়েও কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করেন, যেকোনো চুক্তিতেই উভয় পক্ষের স্বার্থ জড়িত থাকে এবং কিছু ধারা এক পক্ষের অনুকূলে গেলেও অন্য ধারা অপর পক্ষের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। আলোচনার মাধ্যমে একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, চুক্তিটিকে এখনই সম্পূর্ণ ইতিবাচক বা নেতিবাচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি একটি রাষ্ট্রীয় বাস্তবতা, তবে ভবিষ্যতে আলোচনার মাধ্যমে এতে পরিবর্তনের পথ খোলা রয়েছে।

বৈঠকে ভিসা বন্ড ও শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হয়। মার্কিন আদালতে জরুরি ক্ষমতার আওতায় শুল্ক সংক্রান্ত রায়ের বিষয়টি সরকার পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানান মন্ত্রী। এছাড়া ভিসা বন্ড ইস্যুতে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার চায় দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের যাতায়াত যেন সহজ ও বাধাহীন হয়। যুক্তরাষ্ট্র নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী এবং নন-ট্যারিফ বাধাগুলো দূর করা গেলে ভবিষ্যতে মার্কিন বিনিয়োগ ও উন্নয়ন অর্থায়নের সুযোগ আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আনসার ও ভিডিপি মহাপরিচালকের সৌজন্য সাক্ষাৎ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। আজ বুধবার (৪ মার্চ) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় তাঁরা পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

আনসার ও ভিডিপির দেশপ্রেম এবং পেশাদারত্বের নিরলস প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের শান্তি, নিরাপত্তা এবং জনগণের স্বার্থে জনসেবামূলক কাজ অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দেন তিনি।

সাক্ষাতে আনসার ও ভিডিপির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত হন প্রধানমন্ত্রী। এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে বলে প্রধানমন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করেন এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।


পাঁচদিনে শাহজালাল বিমানবন্দরে বাতিল হলো ১৭৩ ফ্লাইট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের প্রভাবে বড় ধরণের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। গত পাঁচ দিনে এই বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ১৭৩টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মূলত নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ায় এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) আজ বুধবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বেবিচকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম দিনে ২৩টি ফ্লাইট বাতিল করার মধ্য দিয়ে এই অচলাবস্থার শুরু হয়। পরবর্তী দিনগুলোতে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে; ১ মার্চ ৪০টি এবং ২ মার্চ সর্বোচ্চ ৪৬টি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। গতকাল ৩ মার্চ ৩৯টি এবং আজ ৪ মার্চ দুপুর পর্যন্ত আরও ২৫টি ফ্লাইটের যাত্রা স্থগিত করা হয়েছে। ধারাবাহিক এই ফ্লাইট বাতিলের ফলে বিমানবন্দরের নিয়মিত শিডিউল পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যগামী হাজার হাজার যাত্রী বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

আজ বুধবার বাতিল হওয়া ২৫টি ফ্লাইটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৮টি ফ্লাইট রয়েছে এয়ার অ্যারাবিয়ার। এছাড়া এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ৫টি এবং কাতার ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ৪টি করে ফ্লাইটের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। কুয়েত ও জাজিরা এয়ারলাইন্সের আরও ৪টি ফ্লাইটও এই তালিকায় রয়েছে। আকাশপথের এই অচলাবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা। অনেকেরই ভিসার মেয়াদ শেষ পর্যায়ে থাকায় এবং নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে ফিরতে না পেরে তাঁরা গভীর দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

বেবিচকের জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে যে, পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান দেশগুলোর আকাশসীমা পুনরায় উন্মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলো যাত্রীদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানিয়েছে এবং আকাশপথ নিরাপদ হওয়ার সাথে সাথে নতুন শিডিউল ঘোষণা করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছে। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের ওপর বড় ধরণের ছায়া ফেলেছে।


পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক: আলোচনাকে ‘ইতিবাচক’ বললেন পল কাপুর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর জানিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অত্যন্ত ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় পল কাপুর কেবল ‘আলোচনা ভালো হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘এখানে (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে) আসতে আমাদের সব সময় ভালো লাগে।’

এদিন উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ের পাশাপাশি কৌশলগত প্রতিরক্ষা ইস্যুগুলো আলোচনার কেন্দ্রে ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে অস্ত্র কেনাকাটাবিষয়ক চুক্তি ‘আকসা’ (ACSA) এবং সামরিক গোপন তথ্য বিনিময় ও সুরক্ষার চুক্তি ‘জিসোমিয়া’ (GSOMIA) নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, সাংবাদিকরা তা জানতে চেয়েছিলেন। তবে এসব সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের কোনো সরাসরি জবাব না দিয়ে পল কাপুর ইতিবাচক আলোচনার ইঙ্গিত দিয়ে মন্ত্রণালয় ত্যাগ করেন। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই সফরকে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে শক্তিশালী কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সফরসূচি অনুযায়ী, বুধবার বিকেলেই মার্কিন এই শীর্ষ কূটনীতিক অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে বসবেন। এসব বৈঠকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক বিনিয়োগের বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে বলে জানা গেছে। এছাড়া সন্ধ্যায় তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন।

সফরের শেষ দিন অর্থাৎ আগামীকাল বৃহস্পতিবার পল কাপুর প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হবেন। এরপর দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও তাঁর সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। তিন দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরের ইতি টানবেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণের মাধ্যমে। গত ৩ মার্চ ঢাকায় পৌঁছানোর পর থেকেই পল কাপুরের এই সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের রূপরেখা নির্ধারণে তাঁর এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে পল কাপুরের বৈঠক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান কৌশলগত ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সুসংহত করার লক্ষ্য নিয়ে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর আজ সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। নবনির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর উচ্চপর্যায়ের কোনো মার্কিন প্রতিনিধির এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গেও একান্ত আলোচনায় বসবেন বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

মঙ্গলবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের মধ্য দিয়ে পল কাপুরের তিন দিনের ঢাকা সফর শুরু হয়। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের অংশীদারিত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া। বিশেষ করে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ এগিয়ে নেওয়ার উপায়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করাই তাঁর এই সফরের প্রধান লক্ষ্য।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আজ দিনভর অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করবেন পল কাপুর। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি তিনি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গেও পৃথক বৈঠকে বসবেন। এসব বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি খাতের সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সন্ধ্যায় তিনি আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচেম) আয়োজনে আয়োজিত এক নৈশভোজে অংশ নেবেন, যেখানে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে তাঁর মতবিনিময় করার কথা রয়েছে।

সফরের শেষ দিনে পল কাপুর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। মার্কিন এই শীর্ষ কূটনীতিকের আগমনে দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক যেমন নতুন মাত্রা পাবে, তেমনি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নেও তা সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সব মিলিয়ে পল কাপুরের এই সফরটি ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন অংশীদারিত্বের এক নতুন রূপরেখা তৈরি করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।


সিসা লাউঞ্জের আড়ালে মাদক ও অনৈতিক কাজ বন্ধে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টের নির্দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাজধানীর গুলশান ও বনানীসহ বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় পরিচালিত অনুমোদনহীন সিসা লাউঞ্জ ও সিসা বারগুলো অবিলম্বে বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সিসা সেবন বন্ধেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এই আদেশ দিয়েছেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু।

হাইকোর্টের এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজিপি, র‍্যাব মহাপরিচালক ও ডিএমপি কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, গত ১৮ জানুয়ারি রাজধানীর গুলশান-বনানীসহ অভিজাত এলাকায় অবৈধ সিসা বার বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন ন্যাশনাল ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু। রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়।

এরও আগে, গত ৮ জানুয়ারি অবৈধ সিসা লাউঞ্জ বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নোটিশে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করা হয়, যেখানে সিসা বারের আড়ালে মাদক ব্যবসার ভয়াবহ চিত্র উঠে আসে।

সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি ও উত্তরার মতো অভিজাত এলাকায় রাতের গভীরে ক্যাফে বা লাউঞ্জের আড়ালে সিসা বারের গোপন আড্ডা জমে ওঠে। প্রচলিত আইনে দেশে সিসা বার পরিচালনার কোনো বৈধ অনুমতি নেই। আইনত নিষিদ্ধ হলেও তদারকির অভাবে এই সংস্কৃতি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রাজধানীর প্রায় শতাধিক সিসা বার চালু রয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ৫০টি তরুণ-তরুণীদের প্রধান আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। এসব জায়গায় তামাকজাত সিসার সঙ্গে ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল এমনকি লিকুইড কোকেনের মতো ভয়াবহ মাদক মিশিয়ে সেবন করা হয়। উচ্চ শব্দে সংগীত ও অ্যালকোহলের গন্ধে সেখানে এক বিভীষিকাময় পরিবেশ তৈরি হয়।

শুধু মাদক নয়, এসব সিসা বারে তৈরি করা হয়েছে সাউন্ডপ্রুফ গোপন কেবিন, যেখানে নির্দিষ্ট গ্রাহকদের প্রবেশাধিকার থাকে। এসব কেবিনে মাদক সেবনের পাশাপাশি নানা ধরনের অনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা চলে আসছিল, যা বন্ধে এবার কঠোর অবস্থান নিলেন উচ্চ আদালত।


banner close