বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন শুরু করার জন্য ওআইসিকে সক্রিয় করতে কাতারকে জোরালো ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন শুরু করতে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য কাতার তাদের কূটনৈতিক প্রভাব কাজে লাগাতে পারে। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক ও ভূ-কৌশলগত বিদ্যমান প্রেক্ষাপটে, কাতার জোরালোভাবে তাদের সংহতি প্রকাশ করে এই সংকট সমাধানে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া ওআইসি দেশগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে তহবিল সংগ্রহ জোরদার ও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের পক্ষে মত প্রকাশের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে ।’
কাতারের দোহায় আর্থনা শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে আজ বুধবার প্রধান উপদেষ্টা এক গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন।
‘বাধ্যতামূলকভাবে বাস্তুচ্যুত জনগণের সামাজিক ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ-রোহিঙ্গা ইস্যু’ শীর্ষক এই গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।
মানবতা, স্থিতিশীলতা ও ন্যায়বিচারের জন্য কাজ করতে বিশ্ববাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আসুন আমরা নিশ্চিত করি, আজকের আলোচনা শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে একটি অর্থবহ অংশীদারিত্বের সূচনা করে যা রোহিঙ্গা সংকটকে আমাদের যৌথ মানবিক অগ্রাধিকারগুলোর শীর্ষে রাখে এবং একটি স্থায়ী সমাধানের দিকে একযোগে কাজ করে।’
তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান বাংলাদেশের জন্য ব্যাপক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে এবং রোহিঙ্গাদের হতাশ করে তুলছে। ক্যাম্পগুলোতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বৃদ্ধি এবং অবৈধ অভিবাসনের চেষ্টা তাদের হতাশার স্পষ্ট চিহ্ন। এই সমস্যা যদি আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে এটি পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং উন্নয়নমূলক উদ্যোগগুলোও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
অধ্যাপক ইউনূস দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে উদ্ভূত নানা সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক মনোযোগ ধীরে ধীরে রোহিঙ্গা সংকট থেকে সরে যাচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ২০২৫ সালের ১৯ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের দাখিলকৃত ৮,২৯,০৩৬ জনের তালিকার মধ্যে মিয়ানমার সরকার ২,৩৯,০৫৬ জনকে যাচাই করেছে এবং এর মধ্যে ১,৭৬,১৯৮ জনকে ‘মিয়ানমারে বসবাসকারী ব্যক্তি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ টেকসই প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন ড. ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে ‘রোহিঙ্গা মুসলিম ও মিয়ানমারের অন্য সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন’ আয়োজন করবে।
এই সম্মেলনে কাতারের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ।
তিনি কাতার ফাউন্ডেশনকে এই বৈঠকের আয়োজন এবং নীতিগত বিবৃতির বাইরে গিয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান, জবাবদিহিতা ও সংহতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক (রোহিঙ্গা) আশ্রয় নিয়েছে, যেখানে প্রতি বছর প্রায় ৩২ হাজার নবজাতক যুক্ত হচ্ছে।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ কেবল মানবিক বিবেচনায় এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন,‘বাংলাদেশ মনে করে, টেকসই প্রত্যাবাসনই হলো বর্তমান সংকটের একমাত্র সমাধান।’
ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংসতার বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে), আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং মিয়ানমারের জন্য গঠিত স্বাধীন তদন্ত সংস্থার (আইআইএমএম) চলমান উদ্যোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, জাতিসংঘ এবং রোম সংবিধির সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের মতো অপরাধের কোনোভাবেই শাস্তি এড়ানো উচিত নয়।
রোহিঙ্গাদের আস্থা ফেরাতে এবং রাখাইন রাজ্যে তাদের প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি করতে মিয়ানমার ও এর কর্মকর্তাদের অপরাধের জন্য দায়ী করা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আইসিজে-তে দায়ের করা মামলাটি চলতি বছরের প্রথমার্ধে মেরিট পর্বে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আইনি ফার্ম ফোলি হোয়াগ জানিয়েছে, প্রাথমিক, আপত্তি ও মূলপর্ব শেষ হওয়ার পর তারা আইসিজে-তে মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে গণহত্যার শিকারদের ক্ষতিপূরণের আবেদন করবে।
গাম্বিয়া সরকার ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এখন পর্যন্ত ওআইসি ২৭ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেছে, যেখানে বাংলাদেশ সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে, যার পরিমাণ সাত লাখ ডলার।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ বর্তমান সংকটের একমাত্র সমাধান হিসেবে টেকসই প্রত্যাবাসনকেই বিবেচনা করে।
চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিতরণে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। রোববার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দৃঢ় অবস্থানের কথা ব্যক্ত করেন। উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে, একটি অসাধু চক্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রশ্নফাঁসের ভুয়া গুজব ছড়িয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা রোধে সাইবার নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
মাহদী আমিন জানান, প্রশ্নপত্র দেওয়ার নামে ভুয়া প্রশ্ন সাজিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সিটিটিসি ইউনিট গত কয়েক দিনে প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। এই চক্রটি একটি স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু পরীক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যাহত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিল। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ডিজিটাল মাধ্যমে কোনো চক্র অপতৎপরতা চালানোর চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রকাশিত প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি প্রকৃতপক্ষে কোনো প্রশ্নফাঁস ছিল না, বরং এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণা। চক্রটি পরীক্ষা শুরুর পর প্রশ্ন সংগ্রহ করে সেটিকে আগের রাতে আপলোড করা হয়েছে বলে দাবি করে শিক্ষার্থীদের ফাঁদে ফেলত। তবে উপযুক্ত তথ্যের অভাব ও প্রতিবেদনে ত্রুটি থাকায় সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন চ্যানেলটি ইতোমধ্যে নিজ দায়িত্বেই সেই সংবাদটি সরিয়ে নিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিগত ১৬ বছরের শিক্ষা খাতের অব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে মাহদী আমিন বলেন, অতীতে পাঠ্যপুস্তকে বিকৃত ইতিহাস ও মেধার চেয়ে দলীয় আনুগত্যকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতকে ঢেলে সাজাতে সচেষ্ট এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নানাবিধ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকার এমন একটি স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক শিক্ষা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চায় যা সব ধরনের প্রতারণামূলক মানসিকতার পরিপন্থী।
পরিশেষে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য বিশেষ আহ্বান জানান মাহদী আমিন। তিনি তথ্য যাচাই ছাড়া কোনো সংবাদ বা দাবি বিশ্বাস না করার পরামর্শ দেন এবং ডিজিটাল জগতের অপপ্রচার সম্পর্কে সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ করেন। সরকারের এই কঠোর তদারকি ও ত্বরিত ব্যবস্থা একটি সুন্দর ও নকলমুক্ত পরীক্ষা পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে দেশে পুনর্নির্ধারিত বর্ধিত বাস ভাড়া আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হচ্ছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ইতিমধ্যে আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটের নতুন ভাড়ার তালিকা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরী এলাকার ভাড়ার তালিকাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। পরিবহণ সেবা নির্বিঘ্ন রাখতে এবং যাত্রীদের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক এড়াতে প্রতিটি যানবাহনে হালনাগাদ ভাড়ার তালিকা বা চার্ট টাঙানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
মূলত গত ১৮ এপ্রিল সরকার ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই পরিবহণ মালিকরা ভাড়া বাড়ানোর দাবি তুলেছিলেন। নতুন মূল্য অনুযায়ী প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা এবং অকটেন ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির প্রভাব সামঞ্জস্য করতেই বাসের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। বিআরটিএ জানিয়েছে, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায় করলে বাসে দায়িত্বরত কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং রাস্তায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
নতুন তালিকা অনুযায়ী, গাবতলী রুটের আওতায় ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ে চলাচল করা ৫১ আসনের বাসের ভাড়া ১ হাজার ৫ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসের ভাড়া ১ হাজার ২৮১ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে ঢাকা-রংপুর রুটে বাসের আসনভেদে ভাড়া পড়বে ৭৫১ থেকে ৯১১ টাকা এবং দিনাজপুর রুটে ভাড়া ৯৭৪ থেকে ১ হাজার ২৪১ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া গাবতলী থেকে রাজশাহী ও মেহেরপুর রুটেও ভাড়া আসনভেদে সাতশ থেকে এক হাজার টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে।
সায়েদাবাদ থেকে ছেড়ে যাওয়া চট্টগ্রাম রুটের ৫১ আসনের বাসের ভাড়া এখন ৭০৪ টাকা এবং কক্সবাজার রুটের ভাড়া আসনভেদে ৯০০ থেকে ১ হাজার ১৪৭ টাকা পর্যন্ত পড়বে। এ ছাড়া সিলেট রুটে ৭৪০ টাকা, বরিশাল রুটে ৫৯২ টাকা এবং খুলনা রুটে ৬৯০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের দীর্ঘতম রুট ঢাকা-টেকনাফে চলাচলকারী ৪০ আসনের বাসের ভাড়া এখন ১ হাজার ৩৩৫ টাকা। অন্যদিকে মহাখালী থেকে ময়মনসিংহ ও জামালপুর রুটে বাসের মান অনুযায়ী ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
জ্বালানি তেলের এই দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেল। পরিবহণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের দাম লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা বাড়ায় পরিবহণ খাতে এর বহুমুখী প্রভাব পড়বে। তবে সরকার ও বিআরটিএ-র পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মালিকদের দাবির সঙ্গে সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের একটি ভারসাম্য বজায় রেখেই এই নতুন ভাড়া কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। আজ সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাওয়া বাসে নতুন এই তালিকা কার্যকর হতে দেখা গেছে।
৩৪ হাজার ৬৬৭ টনের বেশি জেট ফুয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে চীনের পতাকাবাহী ‘শিং তং ৭৯৯’ নামের একটি জাহাজ। ১৮২ দশমিক ৫ মিটার লম্বা এ জাহাজটি শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছে। এছাড়া ডিজেল নিয়ে আরও দুইটি জাহাজ এসেছে।
এর আগে গত ১৪ এপ্রিল সিঙ্গাপুর থেকে ১১ হাজার টন জেট ফুয়েল (জেট এ-১) নিয়ে বন্দরে এসেছিল ‘এমটি গ্রেট প্রিন্সেস’ নামক একটি ট্যাংকার।
স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম জানান, চীনের পতাকাবাহী জাহাজটি জেট ফুয়েল নিয়ে বন্দরের বহির্নোঙরে আসার পরপরই লাইটারিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ওজন কমিয়ে ড্রাফট (জাহাজের পানির নিচের অংশ) বন্দরের জেটিতে আনার উপযোগী হলেই দুই একদিনের মধ্যে জাহাজটি নিয়ে আসা হবে।
এদিকে শনিবার (২৫ এপ্রিল) ভোরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ৩৫ হাজার ৫৫ টন ডিজেল নিয়ে ভিড়েছে পানামার পতাকাবাহী ট্যাংকার প্রিভে অ্যাঞ্জেল। আগেরদিন তাইওয়ান থেকে ৩৩ হাজার ৪০০ টন ডিজেল নিয়ে বন্দরের বহির্নোঙরে ভিড়েছে পাকিস্তানি পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘এমটি কোয়েটা’।
বন্দর ও বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, পরিশোধিত ডিজেল, অকটেন নিয়ে আসা বেশ কয়েকটি জাহাজ বন্দর জেটি ও বহির্নোঙরে অবস্থান করছে। লাইটারিং ও ডলফিন জেটিতে তা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে খালাস করা হচ্ছে।
মোটরসাইকেলের বেপরোয়া ব্যবহার তরুণ-কিশোরদের জন্য এক নীরব মরণফাঁদ হয়ে উঠছে। শৌখিনতা মরণ নেশায় পরিণত হয়েছে। ‘স্পিড’ বা গতির রোমাঞ্চ অনুভব করতে গিয়ে প্রায় প্রতিদিনই সড়কে ঝরছে তরুণদের প্রাণ।
তথ্য বলছে, গত পাঁচ বছরে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন মোটরবাইক দুর্ঘটনায়। যার একটা বড় অংশ কিশোর ও তরুণ।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পরিসংখ্যান বলছে, গত মার্চ মাসে সারাদেশে ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত ও ২ হাজার ২২১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ৬৬ জন এবং শিশু ৯৮ জন। এদের মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ২০৪ জন নিহত হয়েছেন যা মোট মৃত্যুর ৩৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
জাতীয় অর্থপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল) সূত্র জানায়, প্রতিদিন গড়ে ১ হাজারের বেশি রোগী এ হাসপাতালে আসছে। এর অন্তত ৩০ শতাংশই মোটরবাইক দুর্ঘটনার শিকার। আর তাদের একটা বড় অংশ কিশোর কিংবা তরুণ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ বলছে, রাজধানীতে মোটরবাইক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বেপরোয়া গতিতে চালানো, রাতে রেসিং করা, সিগন্যাল না মানার প্রবণতা এবং ফিটনেস না থাকা। অনেকের আবার বয়স কম, তারপরও লাইসেন্স পেয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নগরজীবনে মোটরসাইকেল দ্রুত যাতায়াতের প্রতীক, হলেও এটি কিশোর ও তরুণদের জন্য হয়ে উঠেছে এক নীরব মৃত্যুফাঁদ। বিশেষ করে ১৫ থেকে ২৪-২৫ বছর বয়সি তরুণদের মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন পরিসংখ্যান ও মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, এই বয়সসীমার প্রায় ৭০ শতাংশ দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর পেছনে মোটরসাইকেল জড়িত।
বেপরোয়া গতির নেশা ও মৃত্যু: কিশোররা অনেক সময় বাইক নিয়ে বিপজ্জনক স্টান্ট করতে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছে। দুর্ঘটনার কবলে পড়াদের বড় একটা অংশ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী। এমন অল্পবয়সি শিশু-কিশোরদের সড়কে যানবাহন চালানোর কোনো বৈধতা নেই। লাইসেন্স পাওয়ার জন্য ন্যূনতম বয়স ১৮। অথচ সড়কে মোটরসাইকেল দাপিয়ে বেড়ানোদের অনেকেরই বয়স আঠারোর কম।
সরকারি আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে লাইসেন্স দেওয়া হয় না। এটিই সবচেয়ে বড় মেসেজ। যেখানে সরকার পারমিশনই দিচ্ছে না, সেখানে অভিভাবকরা সন্তানদের আবদার রাখতে গিয়ে মোটরসাইকেল কিনে দিচ্ছেন। ফলে কয়েক বছরে ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সি অনেক শিশু-কিশোর মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে।
বর্তমানে কিশোর ও যুবকদের কাছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল বেশ লোভনীয়। উঠতি বয়সি এসব শিশু, কিশোর ও যুবকরাই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে বেশি। দুর্ঘটনার পরিণাম জানা সত্ত্বেও অনেক সচেতন অভিভাবক তাদের ১২-১৭ বছর বয়সি কিশোর সন্তানটিকে কিনে দিচ্ছেন মোটরসাইকেল। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে অধ্যয়নরত কিশোররা তিন-চারজন করে বন্ধু নিয়ে বাইক চালাচ্ছে সর্বোচ্চ গতিতে। তারা দল বেঁধে বাইক প্রতিযোগিতায় মেতে উঠছে। আবার কেউ কেউ মোটরসাইকেল অতিরিক্ত গতিতে চালিয়ে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করছে টিকটকের জন্য। মোটরসাইকেল এবং কিশোরদের বেপরোয়া চলাচল বর্তমানে বাংলাদেশে একটি গুরুতর সামাজিক ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে পুলিশের অপরাধ অনুসন্ধানী বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার ড. মো. রুহুল আমিন সরকার বলেন, মোটরসাইকেল এখন কিশোর অপরাধ বা ‘কিশোর গ্যাং’-এর অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। মাদক বহন, দ্রুতগতিতে বাইক চালানো (বাইকার গ্রুপ), ইভটিজিং এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে এই বাহন ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, কিশোররা ট্রাফিক আইন বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের তোয়াক্কা না করেই মহাসড়ক ও যত্রতত্র দ্রুতগতিতে বাইক চালাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে পরিবারের ভূমিকাও এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, কর্মজীবী বাবা-মা সন্তানের আবদার পূরণ করতে গিয়ে মোটরসাইকেল কিনে দিতে বাধ্য হন। সন্তানের প্রতি ভালোবাসা বা সামাজিক চাপের কারণে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত অনেক সময় অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদের পথ খুলে দেয়। বাস্তবতা হলো—একজন তরুণ যখন যথাযথ প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স বা দায়িত্ববোধ ছাড়াই একটি শক্তিশালী যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ পায়, তখন তা তার নিজের জন্য যেমন বিপজ্জনক, ঠিক তেমনি অন্যদের জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৮টা পর্যন্ত) হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ১ হাজার ৫৮ জন রোগী হামের মতো উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে ২২৯ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের সংক্রমণ পাওয়া গেছে।
চলতি বছরে বাংলাদেশে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৪২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের কারণে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২০৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ১০ দিনে (১৫ মার্চ থেকে ২৫ এপ্রিল) দেশে মোট ৪ হাজার ৪৬০ শিশুর দেহে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে।
সর্বশেষ স্বাস্থ্য বুলেটিন অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত দেশব্যাপী ৩০ হাজার ৬০৭ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৭ হাজার ৮১ জন।
চলতি বছরের হজ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত ৮৪টি ফ্লাইটে মোট ৩৩ হাজার ৩১৮ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেন জানান, ৮৪টি ফ্লাইট জেদ্দায় অবতরণ করেছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে আজ আরও পাঁচটি ফ্লাইট ছাড়ার কথা রয়েছে।
বিমান সংস্থাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৩৫টি ফ্লাইটে ১৪,০৬৯ জন; সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইন্সের ৩১টি ফ্লাইটে ১২,১১৪ জন এবং সৌদি আরবভিত্তিক ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের ১৮টি ফ্লাইটে ৭,১৩৫ জন হজযাত্রী ভ্রমণ করেছেন।
তিনি আরও জানান, বাকি ৪৪,৯৭৮ জন হজযাত্রী নির্ধারিত ফ্লাইটে পর্যায়ক্রমে সৌদি আরবে পৌঁছাবেন।
লোকমান হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সৌদি দূতাবাস থেকে মোট ৭৮,২৯৬ জন হজযাত্রী হজের ভিসা পেয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪,৪১৯ জন সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং ৭৩,৮৭৭ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন।
এর আগে গত ১৭ এপ্রিল রাত ১১:৫৭ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪১৮ জন হজযাত্রী নিয়ে প্রথম হজ ফ্লাইট (বিজি৩০০১) জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এবছর বাংলাদেশ থেকে ৭৮,৫০০ জন হজযাত্রী হজ পালন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৪,৫৬৫ জন সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং ৭৩,৯৩৫ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন।
হজ কার্যক্রম ব্যবস্থাপনায় ৩০টি প্রধান সংস্থা এবং ৬৩০টি সমন্বয়কারী সংস্থাসহ প্রায় ৬৬০টি সংস্থা জড়িত রয়েছে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে, আগামী ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সড়ক, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, জ্বালানি তেলের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডিজেলচালিত পরিবহনের ভাড়া ইতোমধ্যে সমন্বয় করা হলেও গ্যাসচালিত যানবাহনের ক্ষেত্রে আগের ভাড়াই বহাল থাকবে। গ্যাসচালিত যানবাহনে ভাড়া বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বিআইডব্লিউটিএর এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী।
শেখ রবিউল আলম বলেন, সম্প্রতি সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। কী কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে তা স্পষ্ট করেছেন সড়ক, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তার মতে, ভর্তুকি বাড়ায় এবং পাচারের ঝুঁকি বিবেচনায় দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় কম দামে জ্বালানি সরবরাহ করায় ভর্তুকির চাপ বেড়েছিল। পাশাপাশি পাচারের ঝুঁকিও বিবেচনায় এনে সীমিত পরিসরে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কোনো চাপ ছিল না।
ভাড়া নির্ধারণে একটি নিয়মিত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া চালুর কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তার মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়া-কমার সঙ্গে মিল রেখে দেশে ভাড়াও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করা হবে, যা বাস্তবায়নে আলাদা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হবে না—বিআরটিএ প্রজ্ঞাপন জারি করলেই তা কার্যকর হবে।
একই সঙ্গে রাজধানীর যানজট কমাতে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ধাপে ধাপে প্রধান সড়কে এসব যান চলাচল সীমিত করার প্রস্তুতি চলছে এবং এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
প্রায় ১৫ ঘণ্টা উৎপাদনে থাকার পর আবার বন্ধ হয়ে গেছে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট। বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিটটির উৎপাদন বন্ধ করা হয়। এতে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
এর আগে বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে ১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট আগে থেকেই বন্ধ ছিল। এতে সেদিন এই কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে ইউনিটটি আবার উৎপাদনে ফেরে। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই আবার যান্ত্রিক ত্রুটিতে সেটি বন্ধ হয়ে গেল।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ায় ইউনিটটির উৎপাদন বন্ধ করতে হয়েছে। বয়লারের বাষ্প ঠাণ্ডা হতে সময় লাগবে। সব মিলিয়ে মেরামতে পাঁচ থেকে ছয় দিন সময় লাগতে পারে।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থাপনায় সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) বিভাগ জানিয়েছে, সম্ভাব্য নাশকতার বিষয়ে পুলিশ সদর দফতর থেকে একটি বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সিটিটিসির সাইবার ইন্টেলিজেন্স টিম ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সাথে কাজ শুরু করেছে।
পুলিশ সদর দফতরের ওই সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্যরা জাতীয় সংসদ ভবনসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। সম্প্রতি ওই সংগঠনের সক্রিয় সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু মোহাম্মদকে গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, গ্রেফতারকৃত ইসতিয়াকের সঙ্গে চাকরিচ্যুত দুই সেনাসদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই প্রেক্ষাপটে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার ও কঠোর নজরদারি বৃদ্ধির বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিটিটিসির পাশাপাশি ডিএমপির বিভিন্ন বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের ডিসি হারুন অর রশীদ জানিয়েছেন, তারাও পুলিশ সদর দফতরের সতর্কতামূলক চিঠি পেয়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে ডিএমপির প্রটেকশন বিভাগের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সহযোগিতা প্রদান করছেন। সিটিটিসি প্রধান জানান, স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে সুনির্দিষ্ট অভিযান বা নিরাপত্তা পরিকল্পনার সব তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে দেশে উগ্রবাদের অস্তিত্ব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন সিটিটিসি প্রধান। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পুলিশের তৎকালীন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে 'দেশে জঙ্গি নেই' বলে যে মন্তব্য করা হয়েছিল, বর্তমান সতর্কবার্তার প্রেক্ষিতে তা নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ বিষয়ে মুনশী শাহাবুদ্দীন বলেন, তারা প্রতিটি প্রাপ্ত তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে যাচাই করছেন এবং কোনো ধরনের উগ্রবাদী তৎপরতা শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক পরিস্থিতি মোকাবিলা করার মতো সক্ষমতা ও প্রস্তুতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রয়েছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
সামগ্রিকভাবে, সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় রাজধানীর জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সিটিটিসি প্রধান মুনশী শাহাবুদ্দীন জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, উগ্রবাদীদের যেকোনো পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সর্বদা সজাগ রয়েছেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সিটিটিসির বিশেষ টিমগুলো সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে।
‘বিএনপি ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় এসেছে’—জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘দেশকে আবার ভিন্নভাবে তারা স্বৈরাচারের মধ্যে নিতে চায় কিনা—সেই চিন্তা আমাদের করতে হবে। তাদের যে অতীত ইতিহাস, আমরা সবাই জানি। দেশবাসী সচেতনভাবে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। আগামীতে যেন রাজনৈতিকভাবে তাদের পুরোপুরি নির্মূল করা যায়, সেভাবে আমাদের কাজ করতে হবে।’
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথ সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াত আমীরের এই বক্তব্যকে বিভেদ ও ধুম্রজাল তৈরির প্রচেষ্টা বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনমত প্রতিফলিত হয়েছে। জনগণ ও বিশ্ববাসীর কাছে এই নির্বাচন স্বীকৃত। দীর্ঘ ১৮ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং আন্তর্জাতিক মহলে এই নির্বাচন প্রশংসিত হয়েছে। সেই নির্বাচনে ২১৩টি আসন পেয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। এমন স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিয়ে জামাত আমিরের বিতর্কিত মন্তব্য শুধু অনভিপ্রেত নয় বরং এটি সুস্থ চিন্তার পরিপন্থী।’
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমিরের এই বক্তব্য বিএনপি কেবল প্রত্যাখ্যানই করছে না বরং এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। ৫ আগস্টের পর আমরা গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার যে সুযোগ পেয়েছি, একটি বিশেষ পক্ষ বারবার বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সেই সুযোগ নষ্ট করতে চাইছে। তারা দেশকে আবারও স্বৈরাচারের দিকে ঠেলে দিতে চায় কি না, তা দেশবাসীকে ভেবে দেখতে হবে।’
নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সমর্থকদের সম্ভাব্য নাশকতার পরিকল্পনা ঘিরে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তরের এক চিঠিতে রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন কমিশনার ও সব জেলা পুলিশ সুপারসহ পুলিশের সব ইউনিটকে নিরাপত্তা জোরদারের এই নির্দেশ দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ইশতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে আবু মোহাম্মদের সঙ্গে একটি বাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এই চক্রটি জাতীয় সংসদ ভবন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থাপনা ও সদস্য, ধর্মীয় উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্র এবং শাহবাগসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হামলার পরিকল্পনা করতে পারে।
এ ছাড়া তারা বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগারে হামলার পরিকল্পনাও করে থাকতে পারে বলে গোয়েন্দা তথ্যে ইঙ্গিত রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। এ প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার, নজরদারি বৃদ্ধি এবং সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা জানান, সম্ভাব্য যেকোনো নাশকতা প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সমর্থকদের সম্ভাব্য নাশকতার পরিকল্পনা ঘিরে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তরের এক চিঠিতে রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন কমিশনার ও সব জেলা পুলিশ সুপারসহ পুলিশের সব ইউনিটকে নিরাপত্তা জোরদারের এই নির্দেশ দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ইশতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে আবু মোহাম্মদের সঙ্গে একটি বাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এই চক্রটি জাতীয় সংসদ ভবন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থাপনা ও সদস্য, ধর্মীয় উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্র এবং শাহবাগসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হামলার পরিকল্পনা করতে পারে।
এ ছাড়া তারা বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগারে হামলার পরিকল্পনাও করে থাকতে পারে বলে গোয়েন্দা তথ্যে ইঙ্গিত রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। এ প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার, নজরদারি বৃদ্ধি এবং সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা জানান, সম্ভাব্য যেকোনো নাশকতা প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে মেধাভিত্তিক দক্ষ ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশনের তৃতীয় ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে এক অনুষ্ঠানে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মেধানির্ভর, আত্মবিশ্বাসী, সৃজনশীল ও দায়িত্ববান মানবসম্পদ গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশনের তৃতীয় ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বিয়াম ফাউন্ডেশনের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত এর অগ্রযাত্রা প্রমাণ করে যে বিএনপি সরকার বরাবরই দেশ ও জনগণের স্বার্থে একটি সুদক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনপ্রশাসন দেখতে চেয়েছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও সরকার এই ধারা অব্যাহত রাখতে চায়।
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের চেতনা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে এই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক জনগণ। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ একটি জবাবদিহিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক এবং জনকল্যাণমুখী শাসনব্যবস্থার প্রত্যাশায় ছিল। বর্তমান সরকার সেই আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে আমলাতন্ত্রকে আরও জনমুখী হতে হবে। জনগণের সেবক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে তিনি বিয়াম ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের স্বেচ্ছাচারিতায় দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে ৫৮ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় ৯১ শতাংশ জেলা এখন হামের ঝুঁকির আওতায় রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শিশুদের হামের টিকা না দেওয়ায় পরিস্থিতিকে উচ্চঝুঁকির দিকে নিয়ে গেছে। দিন দিন মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। প্রতিদিনই শিশুরা মারা যাচ্ছে, নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে (বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল আটটা পর্যন্ত) হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৯৮ জন।
এ অবস্থায় বাংলাদেশে হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। পরিস্থিতি জাতীয়ভাবে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে মূল্যায়ন করেছে সংস্থাটি।
দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ জেলায় সংক্রমণ ছড়ানো, বিশালসংখ্যক শিশুর আক্রান্ত হওয়া, টিকাদানের অভাবে এ রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতায় ঘাটতি এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনাবলির আলোকে সংস্থাটির গত বৃহস্পতিবার এ মূল্যায়ন করে সংস্থাটি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডব্লিউএইচওর প্রতিবেদনে দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টিতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া, টিকার ঘাটতি এবং মৃত্যুর ক্রমবর্ধমান হার তুলে ধরা হয়। বর্তমান সংক্রমণ পরিস্থিতি দেশের আগের অর্জনকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয় ২০২৪-২৫ সালে (অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে) দেশে এমআর টিকার জাতীয় পর্যায়ের ঘাটতির কারণে টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ বা এমআর১ ও এমআর২ কভারেজ কমে যায়। এ কারণে সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকা শিশুর সংখ্যা বেড়েছে এবং বর্তমান প্রাদুর্ভাব তৈরি হয়েছে।
ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে দেশে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ১৯ হাজার ১৬১ সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৯৭৩ জনের। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে ১৬৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১২ হাজার ৩১৮ জন চিকিৎসাধীন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৯১ শতাংশ জেলা এখন হামের কবলে। দেশের আট বিভাগে সংক্রমণ শনাক্ত হলেও ঢাকা বিভাগ সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত। ১৫ মার্চ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে ৮ হাজার ২৬৩ জন সন্দেহভাজন রোগী।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি দেখা গেছে ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, কামরাঙ্গীরচর, কড়াইল, মিরপুর এবং তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও বস্তি এলাকায়। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে রাজশাহী (৩,৭৪৭ জন), চট্টগ্রাম (২,৫১৪ জন) এবং খুলনা বিভাগে (১,৫৬৮ জন) সংক্রমণ তীব্র হচ্ছে।
হামের প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুরা। আক্রান্ত শিশুদের ৭৯ শতাংশের বয়স ৫ বছরের নিচে। এর মধ্যে ৬৬ শতাংশের বয়স ২ বছরের কম এবং ৩৩ শতাংশের বয়স ৯ মাসের নিচে।
সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মৃত শিশুদের প্রায় সবাই টিকা না পাওয়া অথবা আংশিক টিকা পাওয়া (এক ডোজ)। ৯১ শতাংশ রোগী ১ থেকে ১৪ বছর বয়সি, যা এই বয়সি শিশুদের মধ্যে বড় ধরনের রোগ প্রতিরোধ ঘাটতির প্রমাণ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ২০২৪-২৫ সালে দেশে এমআর (হাম-রুবেলা) টিকার জাতীয় পর্যায়ের ঘাটতি এ পরিস্থিতির প্রধান কারণ। ২০০০ সালে যেখানে টিকার কভারেজ ছিল ৮৯ শতাংশ, সেখানে ২০২৪-২৫ সালে তা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। ২০২০ সালের পর থেকে দেশব্যাপী কোনো নিয়মিত সম্পূরক হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি (এসআইএ) পালিত না হওয়া এ ঝুঁকির পথ তৈরি করেছে।
এ ছাড়া অপুষ্টিতে ভোগা এবং ভিটামিন এ-এর ঘাটতি থাকা শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অন্ধত্ব ও মস্তিষ্কে প্রদাহের (এনসেফালাইটিস) মতো জটিলতা মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নতুন মূল্যায়নের পর সংস্থাটির সাবেক পরামর্শক ও জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, সংক্রমণ পরিস্থিতি বাড়তে থাকায় আমরা বলেছিলাম, হামকে জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণা করা হোক। এখন সরকারের উচিত জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করা এবং টিকাদান এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক তীব্র ভাইরাসজনিত রোগ। এটি সব বয়সী মানুষকে আক্রান্ত করতে পারে। বিশ্বজুড়ে অল্প বয়সি শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম বড় কারণ হিসেবে হাম এখনো বিবেচিত হয়। এই রোগ বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির নাক, মুখ বা গলা থেকে বের হওয়া ড্রপলেটের মাধ্যমেও সংক্রমণ হতে পারে।
সংক্রমণের পর সাধারণত ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে প্রাথমিক উপসর্গ দেখা যায়। তবে এই সময়সীমা ৭ থেকে ২৩ দিন পর্যন্ত হতে পারে। উপসর্গের মধ্যে থাকে উচ্চ জ্বর, সর্দি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, কাশি এবং মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ।
সাধারণত সংক্রমণের ১০ থেকে ১৪ দিন পর শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। ফুসকুড়ি প্রথমে মাথায় শুরু হয়, এরপর ধীরে ধীরে শরীরের মাঝের অংশ এবং পরে নিচের অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
ফুসকুড়ি ওঠার চার দিন আগে থেকে ফুসকুড়ি ওঠার চার দিন পর পর্যন্ত একজন রোগী অন্যদের মধ্যে রোগ ছড়াতে পারে। হামের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। বেশির ভাগ মানুষ দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর মধ্যে হাম গুরুতর অসুস্থতা তৈরি করতে পারে। এর মধ্যে আছে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশু, অপুষ্টিতে ভোগা শিশু, বিশেষ করে যাদের ভিটামিন এ ঘাটতি আছে এবং যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, প্রাদুর্ভাবের আগে বাংলাদেশ হাম নির্মূলের পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছিল। হামপ্রতিরোধী টিকার প্রথম ডোজের কভারেজ ২০০০ সালে ছিল ৮৯ শতাংশ। ২০১৬ সালে তা বেড়ে হয় ১১৮ শতাংশ। দ্বিতীয় ডোজ দেশব্যাপী চালুর পর ২০১২ সালে কভারেজ ছিল ২২ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা বেড়ে হয় ১২১ শতাংশ। একই সময়ে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হাম রোগীর হার দ্রুত কমে এসেছিল।
জাতীয় পর্যায়ে ঝুঁকি ‘উচ্চ’ হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। কারণ, একাধিক বিভাগে সংক্রমণ চলমান, বিপুলসংখ্যক শিশু সংক্রমণের ঝুঁকিতে, রোগ প্রতিরোধের ঘাটতি নথিভুক্ত এবং হাম-সম্পর্কিত সন্দেহভাজন মৃত্যু ঘটেছে।
টিকা না পাওয়া ও আংশিক টিকা পাওয়া শিশুদের মধ্যে রোগীর সংখ্যা বেশি। এর মধ্যে এমন শিশুরাও আছে, যাদের বয়স টিকা পাওয়ার জন্য এখনো যথেষ্ট হয়নি। এটি অব্যাহত সংক্রমণ এবং গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।