বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলায় আসামি গ্রেফতারে অনুমতির সিদ্ধান্ত হাইকোর্টে স্থগিত

ছবি: সংগৃহীত
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ২৩ এপ্রিল, ২০২৫ ১৬:৫৭

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত আসামি গ্রেফতার না করতে বাংলাদেশ পুলিশের অফিস আদেশের কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলন সংক্রান্ত মামলায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত আসামি গ্রেফতার না করার অফিস আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিটটি করা হয়।

ওই অফিস আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের শুনানি শেষে বিচারপতি ফাতেমা নজীব এবং বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজীর সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ রুলসহ এই স্থগিতাদেশ দেন। স্বরাষ্ট্র সচিব, ডিএমপি কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে এই রিটের পক্ষে বিনা ফি’তে (প্র-বোনো) শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

গত ২০ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. জসিম উদ্দিন রিটটি করেন। এর আগে গত ৯ এপ্রিল বাংলাদেশ পুলিশের এক অফিস আদেশে বলা হয়, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংক্রান্ত রুজুকৃত মামলায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে এজাহার নামীয় আসামির সংখ্যা অধিক। এসব মামলার এজাহারনামীয় কিংবা তদন্তে প্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তারের নিমিত্তে উপযুক্ত প্রমাণসহ (ভিকটিম/বাণী/প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী, ঘটনা সংশ্লিষ্ট ভিডিও/অডিও/স্থির চিত্র ও সিডিআর ইত্যাদি) অবশ্যই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে গ্রেফতার করতে হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত বৈষম্যবিরোধী মামলার এজাহারনামীয় কিংবা তদন্তে প্রাপ্ত কোনো আসামি গ্রেফতার না করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’


নির্বাচিত

শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারকে শেষ বিদায়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অশ্রু, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শেষ বিদায় জানানো হলো দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, পাপেট আন্দোলনের পথিকৃৎ ও একুশে পদকপ্রাপ্ত মুস্তাফা মনোয়ারকে। মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) প্রাঙ্গণে প্রথম জানাজা শেষে তার মরদেহ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে শিল্পী, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ।

এর আগে সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ বিটিভি প্রাঙ্গণে পৌঁছায়। দীর্ঘদিনের সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সেখানে শেষ শ্রদ্ধা জানান। সকাল ৯টা ৫২ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয় তার প্রথম জানাজার নামাজ।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ, নাট্যব্যক্তিত্ব ম হামিদসহ শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনের অনেক বিশিষ্টজন।

পরে বেলা ১১টার দিকে মরদেহ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কফিন রাখা হলে একে একে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, তারিক আনাম খান, নিমা রহমান, ত্রপা মজুমদার, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দীন স্টালিন, বরেণ্য শিল্পী মনিরুল ইসলাম, চিত্রশিল্পী মনিরুজ্জামান, শারমিন এস মুরশীদ, কেরামত মাওলাসহ অনেকে।

শুধু ব্যক্তিগতভাবে নয়, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, গোলাম মোস্তফা একাডেমি, পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য, প্রাচ্যনাট, বটতলা, দূরন্ত স্টেশন, বঙ্গরঙ্গ নাট্যদলসহ অসংখ্য সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনও পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে এই গুণী মানুষটির প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।

দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত শহীদ মিনারে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তার মরদেহ নেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দ্বিতীয় জানাজার জন্য। এরপর প্রিয় কর্মস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ও চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

গত সোমবার রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, মুস্তাফা মনোয়ার শুধু একজন চিত্রশিল্পী ছিলেন না, ছিলেন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি শিল্প ও সংস্কৃতিকে মুক্তির সংগ্রামের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ তৎকালীন পাকিস্তানি শাসনের নির্দেশ অমান্য করে বাংলাদেশ টেলিভিশনের সম্প্রচার কক্ষে সাহসী ভূমিকা রাখেন তিনি।

১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া এই গুণী শিল্পী বাংলাদেশে পাপেট থিয়েটারকে জনপ্রিয় করে তোলার পাশাপাশি শিশুদের জন্য অসংখ্য কালজয়ী টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণ করেন। শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।


নির্বাচিত

কোনো নামেই কার্যক্রম চালাতে পারবে না আওয়ামী লীগ: তথ্য উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগের কর্মসূচি যতদিন নিষিদ্ধ আছে; ততদিন রিফাইন্ড বা তৃণমূল কোনো নামেই দলটি কার্যক্রম চালাতে পারবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে, যা একেবারেই অনুচিত। তাই আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ভারতে অবস্থান করা ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করে এবং সেসব বক্তব্যের অনুবাদ প্রচার করেছে বাংলাদেশের বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম। তাই, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় বক্তব্য প্রচারে কী ব্যবস্থা নেবে সরকার?

সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা সম্পূর্ণ নিষেধ এবং এ সংক্রান্ত আদালতের নির্দেশনা দেশের গণমাধ্যমগুলোকে কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রিফাইন্ড কিংবা তৃণমূল কোনো নামেই দলটি কার্যক্রম চালাতে পারবে না।

এদিন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সরকারের সুদৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে জনগণ এবং নিজস্ব স্বার্থ অনুযায়ী তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। এতে অন্য কোনো দেশের ‘কনসার্ন’ থাকার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, তিস্তা পাড়ের মানুষের সংকট অত্যন্ত গভীর ও মানবিক। বর্ষায় নদীভাঙন এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির তীব্র অভাব উত্তরাঞ্চলের মানুষকে চরম সংকটে ফেলে। তিস্তা মহাপরিকল্পনার মূল কাজ নদী শাসন, ড্রেজিং এবং পানি সংরক্ষণ করা। এই কাজে চীনের বিপুল দক্ষতা (এক্সপার্টিজ) এবং প্রয়োজনীয় ফান্ড রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এই কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে শুরু করার নির্দেশনা দিয়েছেন।

প্রকল্পটি নিয়ে ভূ-রাজনৈতিক কোনো চ্যালেঞ্জ রয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ বলেন, বাংলাদেশ সার্বভৌম দেশ হিসেবে জনগণ ও তার নিজস্ব স্বার্থে পদক্ষেপ নেবে। এই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রকাশের অধিকার রাষ্ট্রের রয়েছে। আমাদের এই উন্নয়নমূলক পদক্ষেপে অন্য কোনো দেশের কনসার্ন হওয়ার কারণ দেখি না। ভারত বা অন্য যেকোনো দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবেই এনগেজ করবে। যদি কারো কোনো সিকিউরিটি বা নিরাপত্তা কনসার্ন থাকেও, বাংলাদেশ তা মাথায় রাখবে। এসব সংবেদনশীল বিষয়ে কোনো আপস না করেই কাজ করবে।

বিগত আমলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময় জনগণের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে শুধু একটি নয়, একাধিক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই অবস্থান থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে এসেছে। আমরা যেকোনো দেশের সঙ্গে পারস্পরিক ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষা করেই কাজ করব।

জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, এই প্রকল্প বা ব্যারাজ নির্মাণের অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশ নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা দাবি করা ছেড়ে দিচ্ছে। আমরা তিস্তা ও গঙ্গাসহ অভিন্ন ৫৩টি নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে আমাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। তবে নদী শাসন ও সুরক্ষায় অভ্যন্তরীণ ডাউনস্ট্রিম ব্যারাজ প্রকল্পের কাজ নিজেদের স্বার্থেই দ্রুত করতে হবে।

ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রিয়াসাত আল ওয়াসিফ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

মুস্তাফা মনোয়ার বহুমুখী প্রতিভার অনন্য শিল্পী: তথ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন দেশের বহুমুখী প্রতিভার এক অনন্য শিল্পী এবং তার অবদান শিল্প-সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বিটিভি প্রাঙ্গণে জানাজায় অংশ নিয়ে তিনি মরহুমের প্রতি শ্রদ্ধা ও শোক প্রকাশ করেন।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন দেশের বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেছেন, তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এবং অন্তর্গতভাবেই একজন খাঁটি শিল্পী। দেশের সকল প্রতিভাবান মানুষের তালিকা করা হলে মুস্তাফা মনোয়ার প্রথম সারির অনন্য মানুষ হিসেবে গণ্য হবেন। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) প্রাঙ্গণে মরহুমের নামাজে জানাজায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ এবং সর্বশক্তিমান আল্লাহর দরবারে মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করে তার জান্নাত প্রার্থনা করেন।

মুস্তাফা মনোয়ারের বৈচিত্র্যময় কর্মজীবনের ওপর আলোকপাত করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘আমাদের কৈশোর থেকেই আমরা তার বহুমুখী প্রতিভা ও কাজের সাথে পরিচিত। তিনি শিল্পকলা ও সাহিত্যের জগতের বহু ক্ষেত্রে বিচরণ করেছেন। নিজে যেমন মেধার অবিরাম চর্চা করেছেন, ঠিক তেমনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দক্ষ হাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘মুস্তাফা মনোয়ার যখনই যেখানে যে দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখানেই তার কর্মের আন্তরিকতা, দক্ষতা, যোগ্যতা এবং সর্বোপরি এক অনন্য মননশীলতার গভীর ছাপ রেখে গেছেন।’

মুস্তাফা মনোয়ারের স্মৃতিবিজড়িত কর্মস্থল বিটিভি প্রাঙ্গণে উপস্থিত হতে পারাকে পরম সৌভাগ্য উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বিটিভি পরিবার এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সকলের পক্ষ থেকে মরহুমের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও শোক প্রকাশ করেন।

বিটিভি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই জানাজার নামাজে বিটিভির মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম, বিটিভির কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং মরহুমের দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা অংশ নেন।


নির্বাচিত

জুনে মব সহিংসতায় নিহত ৩৩, আহত বেড়েছে ৭৭ শতাংশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক
    # দীর্ঘ হচ্ছে সহিংসতার শিকার মানুষের তালিকা # অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে পুশ ইনের চেষ্টা # কারা হেফাজতে মৃত্যু ৯ # গভীর হচ্ছে নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ

দেশে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সংস্কৃতি বা মব জাস্টিস কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। জুন মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ঘটনায় অন্তত ৩৩ জন নিহত এবং ১২৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এর আগের মাসে এই ধরনের সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ছিল ৩২ এবং আহত হয়েছিলেন ৭১ জন। সেই হিসাবে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে মব সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও আহতের হার আশঙ্কাজনকভাবে প্রায় ৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

দেশের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং নিজস্ব অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদন তৈরি করে এমএসএফ।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনার সংখ্যা তুলে ধরে সংগঠনটি বলেছে, জুন মাসে বাংলাদেশের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে অবনতির দিকে গেছে এবং অধিকতর অস্থিতিশীল রূপ ধারণ করেছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক সহিংসতা, মব সহিংসতা, ব্যাপক গ্রেপ্তার, অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার এবং সীমান্ত পরিস্থিতির অবনতি—এসব সূচকে উদ্বেগজনক ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে, যা আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতাকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে।

এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৩০৩ জন আহত এবং দলীয় সংঘর্ষে ৭ জন নিহত হয়েছেন। সংগঠনটি বলছে, রাজনৈতিক সহিংসতা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দলীয় ও অজ্ঞাত ব্যক্তিদের হামলা, উভয় ক্ষেত্রেই হতাহতের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি হওয়া থেকে বোঝা যায়, রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমেই সহিংস ও অনিরাপদ হয়ে উঠছে।

এমএসএফের প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, জুন মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনায় নিহত হয়েছে তিনজন। কারা হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের।

এ মাসে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন, হামলা ও হুমকির ঘটনা ঘটেছে ১৯টি। আইনি হয়রানির শিকার হয়েছেন ৬ জন, গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩ জন অনলাইন পোর্টালের সাংবাদিক।

এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে নদী, সড়ক, রেললাইন ও ফসলি জমিতে পড়ে থাকা অবস্থায় ৬৫টি অজ্ঞাত ও নামীয় লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মে মাসে এই সংখ্যা ছিল ৫৩।

এমএসএফের সংগৃহীত তথ্য বলছে, জুনে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে ৬ জন নিহত এবং ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। জুনে ভারত থেকে ৪২৩ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা করা হয়। যার ফলে সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকেরা উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের জীবন যাপন করছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্তে সহিংসতা কিছু ক্ষেত্রে কমলেও ভারত থেকে পুশ ইনের চেষ্টা বৃদ্ধি পেয়েছে। যা একটি বড় মানবিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি করছে। এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

এমএসএফের প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, জুন মাসে ৩৪৮ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জুনে ৯ জন মৃত ও ২ জন জীবিতসহ মোট ১১ নবজাতককে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এ ছাড়া এই মাসে মাদক কারবারিদের মধ্যে সংঘর্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছে।


নির্বাচিত

দেশের সব তেলের ডিপো বন্ধ থাকছে কাল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বার্ষিক সমাপনী মজুত গণনা, পরিসম্পদ মূল্যায়ন ও বাস্তব যাচাই কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে বুধবার সারাদেশের সব তেল ডিপো ও প্রধান স্থাপনা থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বিপণন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পক্ষ থেকে এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিপিসির বণ্টন ও পরিবীক্ষণ অধিশাখার মহাব্যবস্থাপক ফেরদৌসী মাসুম হিমেল স্বাক্ষরিত ওই আদেশে জানানো হয়েছে যে, বিপিসির আওতাধীন কোম্পানিগুলোর প্রধান স্থাপনা ও ডিপোসমূহে বার্ষিক সমাপনী মজুদ গণনা ও যাচাই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামস্থ প্রধান স্থাপনা থেকে শুরু করে দেশের সব ডিপো এবং স্থাপনার বিপণন কার্যক্রম এদিন স্থগিত থাকবে।

তবে বিমান চলাচলের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখার বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, দেশি ও বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোতে নিরবচ্ছিন্নভাবে জেট-এ১ জ্বালানি তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট ডিপোর মজুদ ট্যাংকের বার্ষিক যাচাই কার্যক্রম দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে সরবরাহ সচল রাখতে হবে।

যমুনা অয়েল, পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও ইস্টার্ন রিফাইনারিসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কাছে এই আদেশের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে এবং কার্যক্রমটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।


নির্বাচিত

বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য ২০টি রেলকোচ প্রস্তুত করেছে ভারত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে আসার জন্য প্রস্তুত অবস্থায় আছে ২০টি ভারতীয় রেলকোচ। জুলাই মাসেই কোচগুলো বাংলাদেশে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় রেল বিভাগের কর্মকর্তারা।

২০২৪ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ শাসনামলে ভারতের রেল বিভাগের অধীন রপ্তানি সংস্থা রাইটসের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছিল বাংলাদেশের সরকার। সেই চুক্তির শর্ত ছিল— বাংলাদেশে মোট ২০০ রেলকোচ রপ্তানি করবে ভারত। এসব কোচের মধ্যে ১২০টি ব্রডগেজ যাত্রী কোচ, ৩৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ এবং ১০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী এই ২০০ কোচের মূল্য হিসেবে ভারতকে ৯১৫ কোটি রুপি প্রদান করবে বাংলাদেশ। এই প্রকল্পে বাংলাদেশকে অর্থ সহায়তা দিয়েছে ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি)।

ভারতের কেন্দ্রীয় রেল দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইকোনমিক টাইমসকে বলেন, ‘প্রথম চালান হিসেবে জুলাই মাসে ২০টি ব্রডগেজ কোচ বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য আমাদের যাবতীয় প্রস্তুতির কাজ শেষ। জুলাইয়ের যে কোনো দিন এই চালান বাংলাদেশে পাঠানো হবে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, পরবর্তী চালানগুলো আগামী ৩৬ মাসে পর্যায়ক্রমে পাঠানো হবে।’

প্রথম চালানের এই ২০টি কোচ তৈরি করা হয়েছে ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের কাপুরথালা এলাকায় অবস্থিত রেল কোচ কারখানায়। পরবর্তী কোচগুলোও সেখানেই প্রস্তুত করা হবে। ভারতের কেন্দ্রীয় রেল দপ্তরের ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিটি কোচের ওয়ারেন্টির মেয়াদ হবে ১৪ বছর।


নির্বাচিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থান, ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন। বুধবার ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উপলক্ষে মঙ্গলবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

তারেক রহমান বলেন, ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে। এটি অবশ্যই আমাদের জন্য গৌরবের। এ উপলক্ষে আমি সম্মানিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সব সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯২১ সাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশে উচ্চশিক্ষার প্রসার, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থান, ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে হাজারো সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীকে জীবন দিতে হয়েছে।

সরকারপ্রধান বলেন, অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আমরা দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। এবার গণতন্ত্র সুসংহত করার পালা। এক্ষেত্রেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রচলিত শিক্ষা কারিকুলামকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করার কোনো বিকল্প নেই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন কর্মপন্থা নির্ধারণ করা এখন সময়ের দাবি।

তারেক রহমান বলেন, প্রযুক্তিগত বিপ্লব মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল এন্টারপ্রেনারশিপ, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানোটেকনোলজি এবং ফাইভ-জি প্রযুক্তির মতো বিষয়গুলো শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করার বিকল্প নেই। শিক্ষাকে শুধু সার্টিফিকেট-নির্ভর না রেখে কর্মদক্ষতা ও প্রায়োগিক শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে, যা বাস্তব জীবনে যেকোনো দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা অর্জনে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করবে। এ কারণেই তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি শুধু পরিকল্পনা কিংবা পদক্ষেপ গ্রহণে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে।

তারেক রহমান আরও বলেন, মেধা ও একাডেমিক যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সংস্কৃতি জোরদার করতে হবে। বিশ্বের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে আরও বেশি মনোযোগী হওয়া জরুরি।

সরকারপ্রধান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক অ্যালামনাই দেশে-বিদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানে জ্ঞান, বিজ্ঞান, অর্থনীতি এবং বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। সেইসব প্রতিষ্ঠিত অ্যালামনাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে। ব্রিটেনসহ বিশ্বের অনেক দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইরা গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকেন। গবেষণা ও উদ্ভাবনে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদের আরো সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সৃজনশীল চর্চাকে শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে একটি বহুমাত্রিক শিক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। বৈশ্বিক কর্মবাজারে জায়গা করে নিতে শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি একটি তৃতীয় ভাষায়ও পারদর্শী হতে হবে। প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি তাদের নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে।

তারেক রহমান আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কেও সচেতন হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকেই তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়। এক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করতে পারে। আমি ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।


নির্বাচিত

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ‘ঐতিহাসিক উন্নতি’ হয়েছে: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গত ১০-১৫ বছরের তুলনায়; বিশেষ করে ২০২৫ সালের চেয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ‘ঐতিহাসিক উন্নতি’ হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, গত পরশু আমি সংসদে খাতভিত্তিক অপরাধের পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেছি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অধিকাংশ সূচকে আমরা ঐতিহাসিকভাবে উন্নত অবস্থানে আছি।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রস্তাবিত দায়যুক্ত ব্যয় ব্যতীত অন্যান্য ব্যয় সম্পর্কিত মঞ্জুরি দাবির ওপর আলোচনায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। পরে মন্ত্রণালয়ের জন্য ৩১ হাজার ৯৮ কোটি ৮৮ লাখ ১৫ হাজার টাকার বরাদ্দ কণ্ঠভোটে পাস হয়।

বিরোধী সদস্যদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনার জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অধিকাংশ অপরাধের সূচকে দৃশ্যমান অগ্রগতি এসেছে, যদিও ধর্ষণ মামলার সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে।

এর কারণ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগে ধর্ষিতারা মামলা রেকর্ড করতে থানায় যেত না, বা সামাজিক-রাজনৈতিক বিভিন্ন হস্তক্ষেপের কারণে পারতো না। এখন থানায় গেলেই বা অনলাইনে তারা জিডিসহ এফআইআর দায়ের করতে পারে। এখানে কোন প্রতিবন্ধকতা নেই । যার ফলে সংখ্যাটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিতের বিষয়েও সরকারের অগ্রগতি রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রামিসা হত্যা মামলার বিচার ১৭ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, যা দেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি রেকর্ড।

এছাড়া দীর্ঘদিন অমীমাংসিত তনু হত্যা মামলায় ডিএনএ রিপোর্টের ভিত্তিতে আসামি শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে পুলিশ কোনো গ্রেপ্তার করছে না। অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য কোনো রাজনৈতিক পরিচয়কে আমরা প্রাধান্য দেব না।

তিনি বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ বিভাগ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে ডগ স্কোয়াড, আধুনিক ল্যাবরেটরি, প্রশিক্ষিত জনবল ও প্রযুক্তিনির্ভর সরঞ্জাম যুক্ত করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা অনেক ক্ষেত্রেই সশস্ত্র থাকে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আধুনিক সরঞ্জাম ও সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অনলাইন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক জুয়া ও সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ১৮৬৭ সালের পুরোনো আইন বাদ দিয়ে আধুনিক জুয়া প্রতিরোধ আইন আনার উদ্যোগও চলছে।

এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেটে ছাঁটাই প্রস্তাব করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। দেশে ক্রমবর্ধমান হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি ও নারী-শিশু নির্যাতনের বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, মার্চ ও এপ্রিল মাসে সারাদেশে হত্যাকাণ্ড রেকর্ড করা হয় ৬০৫টি। একই সময়ে ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি, ১৯৬টি অপহরণ, ২২১৪টি চুরির ঘটনা এবং ১২৯টি পুলিশের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে । নারী ও শিশু নির্যাতন এ দুই মাসে নথিভুক্ত করা হয়েছে ৩ হাজার ৪৯৬টি।

জাতীয় দৈনিকের সংবাদের উদ্ধৃতি টেনে রুমিন ফারহানা বলেন, সারাদেশে প্রতিদিন গড়ে ১০টির বেশি খুনের ঘটনা ঘটছে।


নির্বাচিত

অনলাইন বেটিং প্রতিরোধে সংসদে আইন পাস সর্বোচ্চ ৭ বছরের জেল, কোটি টাকা অর্থদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাজি বা পণ (বেটিং), ম্যাচ ফিক্সিং বা স্পট ফিক্সিংসহ বিভিন্ন ধরনের জুয়া ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে নতুন আইন করতে বিল পাস করেছে জাতীয় সংসদ। পাস হওয়া বিলে অনলাইন বেটিংয়ের অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে জুয়া প্রতিরোধ বিল-২০২৬ পাস হয়। ১৮৬৭ সালের দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট রহিত করে নতুন আইন করা হচ্ছে।

নতুন আইনকে সমর্থন করলেও আইনে দেওয়া কিছু ক্ষমতার অপব্যবহারের আশঙ্কা করেছে বিরোধী দল। জুয়া প্রতিরোধের কথা বলে সরকারের সমালোচনাকারী কোনো ওয়েবসাইট, নিউজ পোর্টাল বা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের জন্য সংসদে তোলেন। বিলের ওপর বিরোধী দলের সদস্যদের আনা জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নিষ্পত্তি করেন স্পিকার।

বিলে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে দুই বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

অনলাইন জুয়া বা দূরবর্তী জুয়ার অপরাধ করলে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

কেউ অনলাইন বেটিংয়ে সম্পৃক্ত হলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংয়ের সাজা হবে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড।

পাস হওয়া বিলে অনলাইন ও দূরবর্তী জুয়া, বাজি বা পণ (বেটিং), বাজিকর, ম্যাচ ফিক্সিং বা স্পট ফিক্সিং, জুয়ার স্থান, সামগ্রীসহ মোট ২৪ ধরনের বিষয় সংজ্ঞায়ন করে অপরাধের প্রকৃতিভেদে ১৪ ধরনের সাজার (অর্থদণ্ড/কারাদণ্ড/উভয় দণ্ড) বিধান রাখা হয়েছে।


নির্বাচিত

গঠন হচ্ছে নতুন ৩ উপজেলা ও এক থানা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চট্টগ্রামের হাটহাজারীকে বিভক্ত করে ‘হালদা থানা’ এবং ফটিকছড়ির ছয়টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’, মুরাদনগরকে বিভক্ত করে ‘বাঙ্গারা’ ও গফরগাঁওয়ের পাগলা থানার আটটি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘আদর্শনগর’ নামে নতুন ৩টি উপজেলা গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এ বিষয়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর ১২১তম সভা আজ বুধবার বেলা ১১টায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ১০০০ নম্বর কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিকার-১ শাখা থেকে গত রোববার জারি করা সভার নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, দেশের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস, নতুন থানা ও উপজেলা গঠন এবং জেলা সীমানা পুনর্গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রস্তাব সভায় উপস্থাপন ও আলোচনা করা হবে।

সভার আলোচ্যসূচিতে রয়েছে মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানাকে বিভক্ত করে ‘হালদা থানা’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব উত্থাপন করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এছাড়া চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব উপস্থাপন করবে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

সভায় আরও আলোচনা হবে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘বাঙ্গারা’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব নিয়ে।

অন্যদিকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর আওতাধীন পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার অংশ ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার প্রশাসনিক সীমানা পুনর্গঠনের বিষয়টিও আলোচ্যসূচিতে রয়েছে। এ প্রস্তাবটি উপস্থাপন করবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

এছাড়া ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার অধীন আটটি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘আদর্শনগর’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবও সভায় বিবেচিত হবে।

সভায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (আরএইচডি) সংশ্লিষ্ট একটি প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মন্ত্রী এবং কমিটির সদস্যদের সভায় যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সভার কার্যপত্র আগেই সদস্যদের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং সভা শেষে কার্যপত্র ফেরত দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও জনসেবাকে আরও কার্যকর ও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে নিকারের এ সভাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সভায় অনুমোদন পাওয়া প্রস্তাবগুলো পরবর্তী সময়ে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কার্যকর করা হবে।


নির্বাচিত

ইসলামিক ফাউন্ডেশনে যোগ দিলেন নতুন মহাপরিচালক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) হিসেবে মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী যোগ দিয়েছেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আ. ছালাম খানের স্থলাভিষিক্ত হন তিনি। মঙ্গলবার দুপুর ৩টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে প্রধান কার্যালয়ে যোগ দেন তিনি। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা বিল্লাল বিন কাশেম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে গত ২১ মে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভীকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে আদেশ জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী ১৯৯৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পেশ ইমাম হিসেবে যোগ দেন।

এ ছাড়া তিনি সেন্ট্রাল শরীয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশ-এর জেনারেল সেক্রেটারি, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি বাংলাদেশ-এর শরীয়াহ বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন।

এ ছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শরীয়াহ বোর্ডের এক্সপার্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসায় শায়খুল হাদিস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

নবনিযুক্ত মহাপরিচালক দায়িত্বভার গ্রহণের পর ইসলামিক ফাউন্ডেশন আগারগাঁওস্থ সভাকক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে পরিচিতি সভায় মিলিত হন। মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বে নিয়োগ দানের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য প্রদান করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিদায়ী মহাপরিচালক আ. ছালাম খান (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ), নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (৮ম পর্যায়) প্রকল্পের পরিচালক এস. এম. তরিকুল ইসলাম।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন আইসিটি বিভাগের পরিচালক হাজেরা খাতুন, অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক মো. আব্দুল হামিদ খান, অনুবাদ ও সংকলন বিভাগের পরিচালক আনিসুজ্জামান সিকদার, পরিচালক যাকাত ফান্ড বিভাগ ও গবেষণা বিভাগের পরিচালক ড. ওয়ালীয়ুর রহমান খান, ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির উপপরিচালক শাহ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সমন্বয় বিভাগের পরিচালক মো. মহিউদ্দিন। অনুষ্ঠানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

সংসদে জুয়া প্রতিরোধ বিল পাস, অনলাইন বেটিংয়ে জরিমানা ৫ কোটি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ডিজিটাল যুগের আধুনিক অপরাধ যেমন অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং ও ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক লেনদেন রুখতে ১৫৯ বছরের পুরোনো আইন বাতিল করে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিতে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে। মঙ্গলবার স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের জন্য উপস্থাপন করলে তা সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়। মূলত ১৮৬৭ সালের সেকেলে আইনটি বর্তমান সময়ের জটিল প্রযুক্তিগত অপরাধ মোকাবিলায় যথেষ্ট ছিল না বলেই এই আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে।

বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, দেড় শতাধিক বছরের পুরোনো ‘The Public Gambling Act, 1867’ বর্তমান ডিজিটাল বাস্তবতায় অকার্যকর ও অপর্যাপ্ত হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্ম, ভিপিএন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে যে জুয়া ও অর্থপাচার হচ্ছে, তা তরুণ সমাজ এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর সাজার বিধান রেখে নতুন আইনটি প্রণয়ন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল।

নতুন আইনে আধুনিক জুয়ার বিভিন্ন ধরণ যেমন অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ক্যাসিনো বেটিং এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহারকে স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এ ছাড়া জুয়ার উদ্দেশ্যে ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহার করে অর্থ লেনদেন করা, বিদেশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধি বা এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুয়ার পেজ পরিচালনা করাকে এখন থেকে গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। এমনকি জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার কিংবা এ জাতীয় কোনো স্পনসরশিপ গ্রহণের ক্ষেত্রেও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

পাস হওয়া এই আইনে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে, যা প্রয়োজনে উভয় দণ্ডেও রূপান্তরিত হতে পারে। আইনের অধীনে সংঘটিত সকল অপরাধকে ‘আমলযোগ্য’ এবং ‘অজামিনযোগ্য’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এসব অপরাধের বিচারিক কার্যক্রম সাইবার ট্রাইব্যুনাল কিংবা বিশেষ ক্ষেত্রে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এই কঠোর আইনি ব্যবস্থার ফলে দেশ থেকে ডিজিটাল জুয়ার সিন্ডিকেট নির্মূল করা সহজ হবে বলে সরকার প্রত্যাশা করছে।


নির্বাচিত

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসি: মির্জা ফখরুল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতোমধ্যে তাদের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে নওগাঁ-৬ আসনের সরকারি দলের সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে সংসদকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন তিনি। সংসদে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে তিনি বলেন, সরকার একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী আরও জানান যে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় সকল কারিগরি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে কমিশন নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।

এদিকে, ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত গাইবান্ধা-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিমের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির কোনো সক্রিয় পরিকল্পনা সরকারের নেই। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মহলে যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে, মন্ত্রীর এই বক্তব্যের মাধ্যমে তার একটি আনুষ্ঠানিক বার্তা পাওয়া গেল। আজ সকালের অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে এই প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।


নির্বাচিত

banner close