মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

অসুস্থ হয়েও আমরণ অনশন ভাঙতে নারাজ শিক্ষার্থীরা

# কুয়েট ভিসি পদত্যাগের দাবি
ছবি: সংগৃহীত
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশিত
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশিত : ২৩ এপ্রিল, ২০২৫ ১০:৪৫

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাছুদের পদত্যাগের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে এ অনশনে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাদেরও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ছাড়াও অনশনরত এক শিক্ষার্থী মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ার সময় জ্ঞান হারালে তাকেও কুয়েটের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে এ পরিস্থিতিতেও অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের এক দাবি, ভিসির পদত্যাগ ছাড়া তারা অনশন ভাঙবেন না।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি বাস্তবায়নের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার সেন্টারের মূল ফটকের সামনে গিয়ে দেখা যায় সেখানে অনশনরত বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী তখনো ঘুমিয়ে আছেন। মশার হাত থেকে বাঁচতে বড় মশারি টানানো হয়েছে। কেউ কেউ বসে বই পড়ছেন। কাঁথা-বালিশ ছড়ানো ছিটানো। প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচতে চারদিকে পাঁচ-ছয়টি স্ট্যান্ড ফ্যান চলছে। অদূরে একটি সাদা অ্যাম্বুলেন্স যেকোনো পরিস্থিতি সামলানোর জন্য অপেক্ষমাণ। অনশনরত শিক্ষার্থীদের সাহস জোগাতে অন্য শিক্ষার্থীরা বিভিন্নভাবে তাদের সহায়তা করছেন।

গত সোমবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে শিক্ষার্থীরা ছাত্র কল্যাণ কেন্দ্রের সামনে অনশন শুরু করেন। সে সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ছাত্র কল্যাণ কেন্দ্রের পরিচালক, সিন্ডিকেট সদস্য, শিক্ষক সমিতির সভাপতি, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষক তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অনশন না করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান। তবে শিক্ষার্থীরা গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা, তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে ৩৭ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কারের ঘোষণা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের কাউকে দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করানো, শিক্ষার্থীদের দাবি সত্ত্বেও ক্যাম্পাসের হল খুলে না দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এ সময় তারা ভিসিকে উদ্দেশ করে বলেন, এখন তার সঙ্গে সমঝোতা করলে ভবিষ্যতে তিনি আবারও এসব ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন। ফলে তারা এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ কারণে ভিসির পদত্যাগের এক দফা দাবিতে গেছেন তারা। তার পদত্যাগই এ সমস্যার একমাত্র সমাধান।

টানা আড়াই ঘণ্টা দুপক্ষের আলোচনায় ফল না হওয়ায় শিক্ষকরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তবে যাওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক আব্দুল্লাহ ইলিয়াস আক্তার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, অনেক ধরনের কথা হয়েছে। একটাই কথা ছিল আমরা একটা সমাধান চাই। আসলে ১৮ তারিখের (১৮ ফেব্রুয়ারি) যে ঘটনা তা অনেক শাখা-প্রশাখা হয়ে আজ এই পর্যায়ে এসেছে। তাই আমরা তোমাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাব। এই ভবনে আমার অফিস। সেখানে সব সময় দরজা খোলা থাকবে। আবার আমরা আসব। আমাদের শিক্ষকরা আসবেন। তাদেরকে অনুরোধ করা হবে যতক্ষণ পর্যন্ত তারা না বুঝবে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েটে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। পরদিন প্রশাসনিক ভবনসহ সব একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় কুয়েটে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে কমিটিও করা হয়। ওই দিন রাতেই খানজাহান আলী থানায় অজ্ঞাতনামা ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করে মামলা করে প্রশাসন।

এদিকে গত ১০ এপ্রিল কুয়েটের ২২ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আমলি আদালতে মামলা করেন নগরের মহেশ্বরপাশা উত্তর বণিকপাড়া এলাকার হোচেন আলী নামের এক ব্যক্তি। আদালত বাদীর অভিযোগ আমলে নিয়ে খানজাহান আলী থানাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। এতে আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।

অন্যদিকে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর গত ১৪ এপ্রিল বিকেলে কুয়েটের ১০১তম (জরুরি) সিন্ডিকেট সভায় ৩৭ জন শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ ছাড়া আগামী ৪ মে থেকে শুরু এবং ২ মে সব আবাসিক হল খুলে দিয়ে ৪ মে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়।

তবে ছাত্ররা এর আগেই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে চলে এসে হল খুলে দেওয়ার দাবি জানান। তারা এক রাত খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করে নিজেরাই সিলগালা করা তালা ভেঙে হলে উঠে পড়েন। এরপর তাদের দাবি মানতে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেন। তাতে কোনো সাড়া না পেয়ে ভিসির পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন কিছু শিক্ষার্থী।


নির্বাচিত

শেখ হাসিনাকে আসতে হবে না, তাকে ধরে আনতে চাই: তথ্য উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, শেখ হাসিনাকে আসতে হবে না, তাকে সরকার ধরে আনতে চায়। এসব বিষয় নিয়ে সরকারের মধ্যে কোনো লুকোচুরি নেই। একইসঙ্গে বাংলাদেশের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও ভারতীয় গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রকাশ হওয়ায় সরকারের অসন্তুষ্টির কথাও জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান উপদেষ্টা।

জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা নিজে ফিরুন বা সরকার তাকে ফিরিয়ে আনুক, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কোনো কৌশল নেই। শেখ হাসিনাকে সরকার ফিরিয়ে আনতে চায় কি না এ নিয়ে কেউ কেউ যে ধরনের অনুমান করছেন, তা সঠিক নয়। ভারতের ওপর চাপ তৈরির জন্য প্রত্যর্পণের দাবি তোলা হচ্ছে— এমন কোনো কৌশল সরকারের নেই। ভারত সরকারকে বিষয়টি শর্ত হিসেবে দেওয়া হয়েছিল এবং সেটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, আমরা প্রায়ই বলছি, শেখ হাসিনা, আপনি আসবেন না, আপনাকে আমরা ধরে নিয়ে আসতে চাই। আপনি আসামি, আপনি পলাতক আসামি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটরের বরাত দিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তিনি (শেখ হাসিনা) দেশে ফিরে তার বিরুদ্ধে হওয়া বিচার পুনর্বিবেচনার সুযোগও পাবেন না। টেকনিক্যালি এখন ব্যাপারটা এ রকম, তিনি আসবেন এবং তার জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে। আমরা তাকে ধরে আনতে চাই।

ভারতীয় গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা নিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রত্যর্পণ না হওয়া পর্যন্ত অন্তত তিনি (হাসিনা) যেন এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে না পারেন, ভারত সরকারের কাছ থেকে সে বিষয়ে পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছিল বাংলাদেশ। আমরা প্রত্যাশা করব, ভারত সরকার এই বিষয়ে তার ওপর একটি বিধিনিষেধ দেবে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার দাবি শক্তিশালী এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের কোনো দ্বিধা নেই। ভারত চাইলে (হাসিনাকে ফেরত দিয়ে) সম্পর্ক উন্নয়নে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে পারে।

লোডশেডিং সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা জানান, ২০২৩ ও ২০২৬ সালের জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসের গড় লোডশেডিংয়ের চিত্র তুলনা করলে দেখা যায়, জুন ও জুলাইয়ে ২০২৬ সালে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় কম ছিল।

তিনি বলেন, ২০২৩ সালের জুনে প্রতিদিন গড়ে লোডশেডিং ছিল ৯৬৯ মেগাওয়াট। ২০২৬ সালের জুনে তা দাড়ায় ৭৪১ মেগাওয়াটে। একইভাবে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে গড়ে লোডশেডিং ছিল ৬১৩ মেগাওয়াট, যা ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ছিল ৪৬০ মেগাওয়াট।

তবে আগস্টের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালের আগস্টে গড় লোডশেডিং ছিল ৩৬০ মেগাওয়াট। কিন্তু ২০২৬ সালের আগস্টে তা বেড়ে ১ হাজার ৫৬৫ মেগাওয়াটে দাঁড়ায়। আগস্টে কী সংকট হয়েছিল সবাই সেটা জানেন।

এদিকে ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, এ ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল নাকি অন্য কিছু।

উপদেষ্টা বলেন, ইটস অ্যা মাফিয়া গ্যাং। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই ছেড়ে দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও হামলার আশঙ্কা থাকলেও সরকার ও সংশ্লিষ্টরা তা মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।


নির্বাচিত

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা সুসংহত করে গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে হবে: মঈন খান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করে জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক ধারাকে শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই অভিমত ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এসব প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা তুলে ধরেন। এ সময় তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচন ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য সরকার বদ্ধপরিকর।

মন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা পাঁচটি স্থানীয় সরকারসংক্রান্ত অধ্যাদেশ নতুন সরকার আইন হিসেবে জাতীয় সংসদে পাস করেছে। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ—এ পাঁচ আইনে আগে থাকা দলীয় মনোনয়ন এবং জাতীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিধান বিলুপ্ত করা হয়েছে।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিকেন্দ্রীকরণ ও ক্ষমতার ভারসাম্য, নারী ক্ষমতায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ পানি সরবরাহ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ সহযোগিতা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনাও উঠে আসে।

অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সুশাসন, নারী ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে অস্ট্রেলিয়ার আগ্রহের কথা জানান।

বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান। হাইকমিশনার নতুন পোর্টফলিওতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন

বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্রমবর্ধমান নগরায়ণের ফলে দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করার পাশাপাশি বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। এ ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বৈঠকের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

গণতন্ত্র বাঁচাতে হলে গণমাধ্যমকেও বাঁচাতে হবে : রাষ্ট্রপতি

জাতীয় প্রেসক্লাবের ম্যানেজিং কমিটির ১২ সদস্যের একটি দল রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ছবি: বঙ্গভবন
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতন্ত্রের মূল শক্তি হচ্ছে গণমাধ্যম। গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হলে গণমাধ্যমকেও বাঁচাতে হবে। গণমাধ্যমকে সঠিক পথে থেকে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সুশাসনের জন্য দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

আজ দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ম্যানেজিং কমিটির ১২ সদস্যের একটি দল রাষ্ট্রপতির সাথে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাথে সম্পর্কের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রেস ক্লাবের সঙ্গে আমার সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক। আমার সবচেয়ে দুঃসময়ে আপনারা আমার পাশে ছিলেন, যা আমার জন্য বিরাট প্রাপ্তি।

এ সময় তিনি সাংবাদিকদের কল্যাণে সার্বিক সহযোগিতা করার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমার জায়গা থেকে আপনাদের জন্য যেটুকু করার আছে, আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন, আমি সেটুকু করার চেষ্টা করবো।

সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ঐক্য অত্যন্ত জরুরি, বিভক্তি কখনো সাফল্য এনে দিতে পারে না। আপনারা মৌলিক জায়গাগুলোতে এক হতে পারলে সরকার ও বিরোধী দলের সঙ্গেও কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবেন।’

এ সময় তিনি নিজেদের সুরক্ষার জন্য এবং অনিয়ম ও গণহারে সাংবাদিক ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

একইসাথে রাষ্ট্রপতি সংবাদকর্মীদের কর্মসংস্থানের সংকট নিরসনে বন্ধ হয়ে যাওয়া পত্রিকাগুলো পুনরায় চালু করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘বন্ধ পত্রিকাগুলো, বিশেষ ট্রাস্টের অধীনে থাকা পত্রিকাগুলো পুনরায় চালু করা গেলে অন্তত ১ হাজার সাংবাদিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

এসময় তিনি দৈনিক বাংলা-সহ বন্ধ থাকা অন্যান্য পত্রিকা পুনরায় চালু করার উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান।

তিনি দেশে গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে তরুণ প্রজন্মের মন-মানসিকতা পরিবর্তনে সাংবাদিকদের কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র হচ্ছে একটা সংস্কৃতি। একে প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে হবে। সেজন্য মন-মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন করতে হবে। পুরোনো কর্তৃত্ববাদী চিন্তা-ভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধারণ করতে হবে। নতুন প্রজন্মের মধ্যেও গণতান্ত্রিক ভাষা ও মানসিকতা তৈরি করা জরুরি। আন্দোলন করে পরিবর্তন আনার পরও যদি পুরোনো মানসিকতা থেকে যায়, তাহলে প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব হবে না।’

এ সময় তিনি সরকারের যৌক্তিক ও গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি সরকারের ভালো কাজগুলো গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে যথাযথভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, জনগণের নির্বাচিত সরকারকে কাজ করার জন্য সময় দিতে হবে। এ সময় তিনি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধসহ বৈশ্বিক কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের কথা যথাযথভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

একইসাথে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সুদীর্ঘ ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি এই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেন।

তিনি দেশের গণমাধ্যমের প্রাণকেন্দ্র এই জাতীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সরকারের সাথে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর জোর দেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ উপস্থিত অন্য সদস্যদের রাষ্ট্রপতির সাথে পরিচয় করিয়ে দেন এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। এ সময় তিনি রাষ্ট্রপতিকে সুবিধাজনক সময়ে প্রেস ক্লাবে আমন্ত্রণ জানান।

প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া অতীতের স্মৃতিচারণ করে বলেন, প্রেস ক্লাবে আপনি আমাদের পরিবারের একজন সদস্যের মতো ছিলেন। আমরা গর্বিত ও আনন্দিত যে, প্রেস ক্লাবেরই একজন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।

সদস্য কাদের গনি চৌধুরী বিগত সময়ের অপসাংবাদিকতার কথা তুলে ধরেন এবং দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের ধারা অব্যাহত রাখতে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি বলেন, গত ১৭ বছর সাংবাদিকদের ওপর যে ধরনের বাধা ও নিয়ন্ত্রণ ছিল, তাতে সাংবাদিকতার সংজ্ঞাই পরিবর্তন করতে হয়েছিল। কিন্তু গত কিছুদিনে আমরা মুক্তভাবে লিখতে পারছি, মুক্তভাবে বলতে পারছি। এই স্বাধীনতা যেন অক্ষুণ্ন ও অব্যাহত থাকে।

তিনি বলেন, সাংবাদিকরা আপনাদের সামনে সত্যটা তুলে ধরেন। আপনারা অন্যান্য জায়গায় হয়তো সবসময় আপনাদের খুশি রাখার মতো কথা শুনবেন। কিন্তু সত্যটা জানতে হলে সাংবাদিকদের কাছে আসতে হবে। এই পথ যেন অব্যাহত থাকে, এই স্বাধীনতা যেন অক্ষুণ্ন থাকে।

এ সময় তিনি সংবাদ মাধ্যম ও সাংবাদিকদের কল্যাণে দ্রুত দশম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে সরকার ও রাষ্ট্রপতির নিকট সহযোগিতা কামনা করেন।

সদস্য সৈয়দ আবদাল আহমদ এ সময় রাষ্ট্রপতির সাথে অতীতের স্মৃতিচারণ করেন এবং গণতন্ত্র রক্ষায় রাষ্ট্রপতির ত্যাগ ও অবদানের কথা স্মরণ করেন।

উপস্থিত সাংবাদিক নেতারা এ সময় প্রেস ক্লাবের অবকাঠামো সম্প্রসারণে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করলে রাষ্ট্রপতি সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের পক্ষে প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও) সৈয়দ আবদাল আহমদ, কোষাধ্যক্ষ বখতিয়ার রাণা, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও মাসিক সরগম-এর সম্পাদক কাজী রওনাক হোসেন, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য শাহনাজ বেগম পলি, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মাসুমুর রহমান খলিলী, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এ কে এম মোহসিন এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মোহাম্মদ মোমিন হোসেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

বাঁধনের ওপর হামলার বিষয়টি ইতালীয় কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, ভেনিসে জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনাটি ইতালীয় কর্তৃপক্ষের কাছে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আজ বিকেলে আমি বাঁধনের সঙ্গে কথা বলেছি এবং এ বিষয়ে আমাদের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি। স্থানীয় পুলিশ ঘটনাটির বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে। আমাদের দূতাবাস ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জোরালোভাবে তুলে ধরবে।’

আজ জাতীয় সংসদে দুই সংসদ সদস্য বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করলে তার জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এর আগে সরকারি দলের সংসদ সদস্য জহরত আদিব চৌধুরী (সংরক্ষিত নারী আসন-২৭) এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আখতার হোসেন (রংপুর-৪) বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনতে ইতালীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

হুমায়ুন কবির বলেন, 'আজ সকালে আমি পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে কথা বলেছি, বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছি এবং কঠোর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছি, যাতে আমরা ইতালীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাতে এবং বাঁধনকে সর্বোচ্চ কনস্যুলার সহায়তা দিতে পারি।'

তিনি বলেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বাঁধন তার ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী ও চার বছর বয়সী এক শিশুকে নিয়ে ভেনিসের একটি পার্কে হাঁটছিলেন। এ সময় আওয়ামী লীগের স্থগিতকৃত কিছু কর্মী ও সন্ত্রাসী একটি দল তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোমে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মিলানে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল বাঁধনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং তাকে প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা ও সহযোগিতা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ঘটনার পর ভেনিস পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দিয়েছে এবং বাঁধন ইতালীয় পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করবেন।

তিনি আরো বলেন, ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাস বিষয়টি দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছেও তুলে ধরবে।

হুমায়ুন কবির বলেন, এ ঘটনায় বাঁধনকে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করবে।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যোগ্য নেতৃত্বে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নির্বাচিত এই সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া, রাষ্ট্রীয় কোষাগার লুট এবং মানুষ হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের বিচারের আওতায় আনতে কোনো দ্বিধা করবে না।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভূমিকার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, খুব শিগগিরই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ, যা দেশের জন্য গর্বের বিষয়।

তিনি বলেন, 'আজ বাংলাদেশের জন্য গর্বের দিন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আমরা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছি। বৈশ্বিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এখন সর্বোচ্চ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।'

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আর কোনো দেশের অধীনতা মেনে নেবে না এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নিজস্ব গতিপথে এগিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, 'বাংলাদেশ আর কোনো দেশের দাসত্ব বা গোলামী করবে না। বাংলাদেশ তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যাবে।'

এর আগে সংসদে দেওয়া তার প্রথম বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে আত্মত্যাগকারীদের ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে ভূমিকা রাখার জন্য এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় তিনি সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের অভিনন্দন জানান।

তিনি আরো বলেন, সরকার বাঁধনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করবে।

এদিকে ইতালির মেস্ত্রেতে আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে পরিচয় দেওয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা ও হয়রানির অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশি অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।


নির্বাচিত

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে পানি বণ্টনসহ অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদার ও টেকসই করতে দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ সকালে বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এলে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ তথ্য জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ন্যায়সঙ্গত ও পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান করা গেলে দুই দেশের জনগণের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস আরও বৃদ্ধি পাবে।

অভিন্ন নদ-নদীর পানি ব্যবস্থাপনা দুই দেশের জনগণের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি গঙ্গা, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য বণ্টনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানান।

হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এ ব্যাপারে তার সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে রাষ্ট্রপতিকে জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, নিকটতম প্রতিবেশী এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দেয়।

তিনি বলেন, সার্বভৌম সমতা, জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা এবং জনগণের কল্যাণকে সমুন্নত রেখে ভারতের সঙ্গে সম্মানজনক, ভবিষ্যতমুখী ও পারস্পরিকভাবে শ্রদ্ধাপূর্ণ ও লাভজনক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে আগ্রহী বাংলাদেশ।

সাক্ষাৎকালে ভারতের হাইকমিশনার রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন, শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানান।

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ভারত অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় উল্লেখ করে হাইকমিশনার ত্রিবেদী দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে তার দেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, তার দেশ পারস্পরিক মর্যাদা, আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে আরো দৃঢ়, উন্নত ও শক্তিশালী করতে প্রবল আগ্রহী।

রাষ্ট্রপতি তাঁকে অভিনন্দন জানানোর জন্য হাইকমিশনারকে ধন্যবাদ জানান এবং ভারতের রাষ্ট্রপতির নিকট আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানানোর অনুরোধ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাণিজ্য, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি, যোগাযোগ, সংস্কৃতি এবং দু’দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। দুই দেশের জনগণের সামর্থ্য ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে অভিন্ন শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনে ভারত ও বাংলাদেশ আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারে।

ভারতের হাইকমিশনার দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন এবং তার দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রপতি এ সময় তার সফল কর্মকাল কামনা করেন এবং দুই দেশের সম্পর্ককে আরও ফলপ্রসূ, ইতিবাচক ও জনকল্যাণমুখী করার আশা প্রকাশ করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ভারতীয় হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ৩ মাসের বিশেষ অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে আয়োজিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযান উদ্বোধন করবেন।

আগামী ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী এ বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি।

ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় আগামী তিন মাসকে ঝুঁকিপূর্ণ সময় বিবেচনায় নিয়ে এ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে আয়োজিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু মশকনিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

কর্মসূচির আওতায় মহানগর এলাকায় সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন এবং জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকরা কার্যক্রম সমন্বয় করবেন। উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) স্থানীয় পর্যায়ের কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকবেন।

উপ-প্রেস সচিব জানান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক এ অভিযানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি স্কাউট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), গার্ল গাইডস, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা হবে।

প্রতি শনিবার স্বেচ্ছাসেবক ও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় গিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেবেন। একই সঙ্গে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে পারে— এমন জায়গা চিহ্নিত করা এবং মানুষকে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

হাসান শিপলু জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাঠপর্যায়ের পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে টেলিভিশনে জনসচেতনতামূলক প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা নিয়মিতভাবে তুলে ধরতে সংশ্লিষ্টদের বলেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন মাস ডেঙ্গু পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ও আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখার বিষয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

পুলিশ প্রশাসনে রদবদল, ১০ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ পুলিশের অভ্যন্তরীণ কর্মবণ্টন ও শৃঙ্খলা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ১০ জন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ইউনিটে বদলি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তরের অ্যাডিশনাল ডিআইজি রায়হান উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়। জনস্বার্থে এই বদলি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তোফায়েল হোসেন সরকারকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এবং একই ইউনিটের মো. রবিউল ইসলামকে গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গাজীপুর কালীগঞ্জ সার্কেলের মো. আসাদুজ্জামানকে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সার্কেলে এবং কটিয়াদীর বর্তমান কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেনকে শিল্পাঞ্চল পুলিশে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া এসবির মাহিন ফরাজীকে বরিশালের গৌরনদী সার্কেলে, পুলিশ সদর দপ্তরের তানজিনা চৌধুরীকে সিআইডিতে এবং র‍্যাবের এস এম আরিফ রাইয়ানকে চট্টগ্রামের পটিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

বদলির তালিকায় আরও রয়েছেন গাইবান্ধার শেখ মুত্তাজুল ইসলাম, যাঁকে গাজীপুর কালীগঞ্জ সার্কেলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গৌরনদী সার্কেলের আবু ছালেহ মো. আনসার উদ্দীনকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। আদেশে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, পদায়নকৃত কর্মকর্তাদের আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তরে ব্যর্থ হলে ২০ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁরা তাৎক্ষণিক অবমুক্ত বা স্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য হবেন।


নির্বাচিত

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তার মাধ্যমে এই সাক্ষাতের তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সাক্ষাৎকালে ভারতীয় হাইকমিশনার রাষ্ট্রপতিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণে তাঁর দায়িত্ব পালনের পূর্ণ সাফল্য কামনা করেন। আলোচনার একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দুই দেশের অভিন্ন ইতিহাস, দীর্ঘস্থায়ী সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন এবং জনগণের মধ্যকার নিবিড় সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার এই সুগভীর বন্ধনকে সামনের দিনগুলোতে আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে দুই সার্বভৌম রাষ্ট্রের জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব ও সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করা হয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে এই সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।


নির্বাচিত

১৬ ডিসেম্বর চালু হচ্ছে শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল: বিমানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের প্রধান বিমানবন্দর হযরত শাহজালালের বহুল প্রতীক্ষিত ‘থার্ড টার্মিনাল’ আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, উদ্বোধনের প্রথম দিনেই এই টার্মিনাল ব্যবহার করে ২০টি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ চলাচল করবে।

বিমানমন্ত্রী টার্মিনাল পরিচালনার আর্থিক ও কারিগরি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বলেন, এই নতুন টার্মিনাল থেকে অর্জিত আয়ের ২৭ শতাংশ সরাসরি বাংলাদেশের কোষাগারে জমা হবে। এছাড়া গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং বা বিমান ভূমিতে থাকাকালীন সেবার ৫০ শতাংশ কাজ এককভাবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালনা করবে। তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী ৫ থেকে ৬ মাসের মধ্যে থার্ড টার্মিনালটি তার পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হতে শুরু করবে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে গৃহীত এই মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে নির্মাণকাজ শুরু হওয়া এই প্রকল্পে ৫ হাজার কোটি টাকা সরকারি তহবিল থেকে এবং বাকি অর্থ জাপানি উন্নয়ন সংস্থা জাইকার ঋণ হিসেবে সরবরাহ করা হয়েছে। যদিও ২০২৩ সালের অক্টোবরে টার্মিনালটির আংশিক উদ্বোধন করা হয়েছিল এবং ২০২৪ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ চালুর লক্ষ্যমাত্রা ছিল, তবে বিভিন্ন কারিগরি কারণে তা সম্ভব হয়নি। ১৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে দেশের অ্যাভিয়েশন খাতে এক নতুন মাইলফলক স্থাপিত হতে যাচ্ছে।


নির্বাচিত

গ্যাস সংকট কাটলেই বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে: ডা. জাহেদ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে চলমান বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লোডশেডিংয়ের প্রধান কারণ হিসেবে গ্যাসের স্বল্পতাকে চিহ্নিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সাথে সাথেই দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসবে। মঙ্গলবার সরকারের উন্নয়ন ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে লোডশেডিংয়ের একটি তুলনামূলক পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৬ সালের জুন ও জুলাই মাসে দেশে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ প্রকৃতপক্ষে কম ছিল। তথ্যমতে, ২০২৩ সালের জুনে দৈনিক গড় লোডশেডিং ৯৬৯ মেগাওয়াট থাকলেও চলতি বছরের জুনে তা কমে ৭৪১ মেগাওয়াটে নেমেছিল। একইভাবে জুলাই মাসেও লোডশেডিংয়ের মাত্রা আগের বছরের তুলনায় কম ছিল। তবে আগস্ট মাসে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে এবং লোডশেডিংয়ের পরিমাণ বেড়ে গড়ে ১ হাজার ৫৬৫ মেগাওয়াটে দাঁড়ায়। আগস্টের এই অস্বাভাবিক সংকটের কারণ সবারই জানা বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ঢাকার লোডশেডিং নিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিগত সরকারের আমলে ঢাকার মানুষকে লোডশেডিংয়ের আওতামুক্ত রাখা হয়েছিল কারণ এখানকার মানুষের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বেশি ছিল। ফলে ঢাকার মানুষ দীর্ঘদিন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়ায় বর্তমানের সামান্য সংকটকেও বড় করে দেখছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, “ঢাকার মানুষ লোডশেডিং না দেখায় তাদের মধ্যে একটি বিশেষ ধরনের ধারণা তৈরি হয়েছে।” তবে তিনি মনে করেন, বৃহত্তর জাতীয় সংকটে রাজধানীর বাসিন্দাদেরও কিছুটা ধৈর্যশীল হওয়া প্রয়োজন।

পরিশেষে উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গ্যাসের সরবরাহ উন্নত করার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। গ্যাসের অভাব দূর হলে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়বে এবং লোডশেডিংয়ের বর্তমান অসহনীয় পরিস্থিতি দ্রুতই লাঘব হবে। রাজধানীর গুরুত্ব বিবেচনা করে বিদ্যুৎ বন্টনে ঢাকাকে কিছুটা অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও সামগ্রিকভাবে পুরো দেশের সংকট মেকাতেই সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান।


নির্বাচিত

২০৩১ সালের মধ্যে ৪৫ লাখ মানুষকে দক্ষতাভিত্তিক সাক্ষরতায় আনার পরিকল্পনা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

২০৩১ সালের মধ্যে দেশের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবঞ্চিত প্রায় ৪৫ লাখ নিরক্ষর মানুষকে জীবনমুখী ও কারিগরি দক্ষতায় সমৃদ্ধ করার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুফল অর্জন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) নিশ্চিতকরণ এবং ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ কাজে লাগিয়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো (বিএনএফই) এ উদ্যোগ নিয়েছে।

অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে সাক্ষরতার হার ৭৭.৯ শতাংশ। সাধারণ অক্ষরজ্ঞানের সীমা অতিক্রম করে অবশিষ্ট নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে প্রায়োগিক সাক্ষরতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং প্রাক-বৃত্তিমূলক শিক্ষার ছায়াতলে আনাই বর্তমান সরকারের মূল অগ্রাধিকার।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে বলেন, ‘শিক্ষাকে কর্মসংস্থান ও বাস্তব জীবনদক্ষতার সাথে সম্পৃক্ত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার আলোকে আমরা কেবল বর্ণমালা শেখানোতেই সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না। ২৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ৪৫ লাখ এই কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে প্রায়োগিক বা দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করতে চাই। এটি নিশ্চিত করা গেলে ২০৩১ সাল নাগাদ দেশে সাক্ষরতার হার ৯০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে।’

‘আলফা’ কর্মসূচির অধীনে রূপরেখা

বিএনএফই জানিয়েছে, দেশের বয়স্ক ও কর্মক্ষম মানুষকে প্রাক-বৃত্তিমূলক শিক্ষার আওতায় আনতে ‘অ্যাডাল্ট অ্যান্ড ফাংশনাল লিটারেসি ফর অ্যাবিলিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রাম (আলফা)’ শীর্ষক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বৈশ্বিক ‘ইচ ওয়ান টিচ ওয়ান’ (প্রত্যেকে একজনকে শিক্ষা দান) মডেলের ওপর ভিত্তি করে এই কর্মসূচির কনসেপ্ট নোট ইতোমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনের ‘সবুজ পাতায়’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কর্মপরিকল্পনা অনুসারে, প্রথম ধাপে ৪০টি জেলার নির্বাচিত ৪০টি উপজেলায় ৩৫ হাজার নিরক্ষর মানুষকে নিয়ে এক বছরের একটি পাইলট প্রকল্প শুরু করা হবে। পাইলট কর্মসূচির অভিজ্ঞতা ও মাঠপর্যায়ের ফলাফল পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে মূল প্রকল্পের মাধ্যমে ২৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ৪৫ লাখ নিরক্ষর নারী-পুরুষকে সরাসরি দক্ষতাভিত্তিক সাক্ষরতার আওতায় আনা হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ২০৩১ সালের মধ্যে দেশে শতভাগ সাক্ষরতার লক্ষ্য অর্জনের পথ সুগম হবে। অর্থাৎ তখন সাক্ষরতার হার ৮৬ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক মনোয়ারা ইশরাত বাসস’কে বলেন, ‘সরকারের পরিকল্পনা কেবল পড়তে ও লিখতে শেখানো নয়; শিক্ষার সুযোগবঞ্চিতদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করে জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা। বর্তমান শ্রমবাজারের চাহিদা বুঝে আমরা কারিগরি ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে তাদের দক্ষ করে তুলতে চাই। যেন তারা প্রশিক্ষণ শেষেই জীবিকায়নে যুক্ত হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের পরিকল্পনার আওতায় নেওয়া প্রকল্পগুলো পরিকল্পনা কমিশনের সবুজ পাতায় অন্তর্ভুক্তিসহ অনুমোদনের বিভিন্ন ধাপে কাজ এগিয়ে চলেছে। এসব প্রকল্প ও রূপরেখা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে ২০৩১ সালের মধ্যে দেশে সাক্ষরতার হার ৯০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি।’

‘আলো’ প্রকল্পে বিকল্প শিক্ষার সুযোগ পাবে শিশু-কিশোররা

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো জানায়, কেবল প্রাপ্তবয়স্কদের সাক্ষরতাই নয়, বরং বিদ্যালয় বহির্ভূত ও ঝরে পড়া শিশুদের মূলধারার শিক্ষায় ফিরিয়ে আনতে ‘অল্টারনেটিভ লার্নিং অপারচুনিটি ফর আউট অব স্কুল চিলড্রেন (আলো)’ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। মোট ১৫৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২৬ থেকে ২০২৮ মেয়াদে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের মধ্য দিয়ে দেশের ৬৪ জেলার নির্বাচিত ৬৪টি উপজেলায় কার্যক্রম শুরু হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রকল্পের বাস্তবায়ন নির্দেশিকা চূড়ান্তকরণ এবং শিক্ষার্থী-জরিপ কার্যক্রম শুরু প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রকল্পের প্রথম ধাপে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী ১৯ হাজার ২০০ জন বিদ্যালয় বহির্ভূত শিশুকে মানসম্মত উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হবে। দ্বিতীয় ধাপে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী আরও ১৯ হাজার ২০০ জন কিশোর-কিশোরীকে (যারা অষ্টম শ্রেণি পাস করার পূর্বে ঝরে পড়েছে) প্রাক-বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো জানায়, ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচির আওতায় সম্প্রতি ৫৮টি জেলায় ৪ হাজার ৩১২ জন ঝরে পড়া শিক্ষার্থীকে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত ১১টি ট্রেডে সফলভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

বিএনএফই আরও জানায়, বাংলাদেশ ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস ফ্রেমওয়ার্ক (বিএনকিউএফ)-এর আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পরিচালিত মূল্যায়নে ৪ হাজার ১৯৮ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৮৮২ জন বা ৯২.৪৭ শতাংশ শিক্ষার্থীর সরাসরি চাকরি, শিক্ষানবিশি বা স্বকর্মসংস্থানের ‘ফিউচার লিংকেজ’ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। এই সফলতার মডেল অনুসরণ করেই প্রস্তাবিত ৪৫ লাখ মানুষের জন্য প্রস্তুত করা আলফা কর্মসূচিতে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

দক্ষতাভিত্তিক মডেল ‘স্কিলফো’

বিএনএফই জানায়, ‘উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা আইন, ২০১৪’-এর আওতায় বিদ্যালয় বহির্ভূত শিশু ও নিরক্ষরদের জন্য বয়স ও প্রয়োজনভিত্তিক শিক্ষা, জীবনদক্ষতা ও প্রাক-বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। কক্সবাজারে সফল ‘স্কিলফো’ পাইলট প্রকল্পে ৬ হাজার ৮২৫ জন কিশোর-কিশোরীকে মৌলিক সাক্ষরতা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের মডেল তৈরি করা হয়েছে। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় দেশের আরও ১৬টি জেলার ৬৪টি উপজেলায় ১ লাখ তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে স্কিলফো প্রকল্পের ২য় পর্যায় শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার প্রকল্প দলিল পুনর্বিন্যাস চলমান।

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর উপপরিচালক (বাস্তবায়ন) হিরামন কুমার বিশ্বাস বাসসকে বলেন, ‘আলো, স্কিলফো এবং আলফার মতো সমন্বিত কর্মসূচিগুলো পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের বিভিন্ন ধাপে রয়েছে। এগুলো মাঠপর্যায়ে পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হলে ২০৩১ সালের মধ্যে সাক্ষরতার হারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথ সুগম হবে।’

আজ ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। বিশ্বব্যাপী যথাযোগ্য মর্যাদায় পলিত হচ্ছে এ দিবস। সাক্ষরতা দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য— ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’-কে ভিত্তি ধরে সরকারের নেওয়া এই সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে নিরক্ষরমুক্ত করা সম্ভব বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে ড. খলিলুর রহমানের বৈঠক অনুষ্ঠিত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ঐতিহাসিক ৮১তম অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবং সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের প্রাক্কালে সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কস্থ জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে তাঁরা আসন্ন অধিবেশনের কর্মপরিকল্পনা, বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। ড. খলিলুর রহমান আগামী এক বছরের জন্য বিশ্বের ১৯৩টি দেশের এই সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরামের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর এই অভিষেককে কেন্দ্র করে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানিয়েছে। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের এই উচ্চতর নেতৃত্বকে দেশের জন্য এক অনন্য কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, প্রায় ৪০ বছরের দীর্ঘ বিরতির পর আবারও কোনো বাংলাদেশি এই মর্যাদাপূর্ণ পদের জন্য নির্বাচিত হলেন। এর আগে ১৯৮৬-৮৭ সালে ৪১তম অধিবেশনে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। ড. খলিলুর রহমানের এই দায়িত্ব গ্রহণ বিশ্ব রাজনীতিতে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব ও সক্রিয় কূটনৈতিক অবস্থানেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। দায়িত্ব পালনকালে তিনি আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষা, উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক সংকট সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দেবেন।


নির্বাচিত

অক্টোবরের মধ্যে ফের বাংলাদেশ-ভারত ট্রেন চালুর উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৩৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দীর্ঘ বিরতির পর আগামী অক্টোবরের মধ্যেই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মৈত্রী, মিতালী ও বন্ধন এক্সপ্রেস পুনরায় চালু করার জোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) থেকে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের বার্ষিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বন্ধ হয়ে যাওয়া এই আন্তদেশীয় রেল যোগাযোগ পুনরায় সচল করাই বর্তমান সভার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য এই তিনটি ট্রেনের চলাচল স্থগিত করা হয়েছিল। বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় শুরু হতে যাওয়া দুই দিনব্যাপী এই বৈঠকে ভারত ও বাংলাদেশের রেল কর্মকর্তারা যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি নতুন রুট নিয়েও আলোচনা করবেন। এই প্রসঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সোমবার বলেন, “আমরা শুধু সীমান্ত ভাগাভাগি করি না, আমরা স্বপ্নও ভাগাভাগি করি। আমি আবারও একই কথা বলছি—মানুষে মানুষে সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির এই ধারা অচিরেই স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

ভারতীয় প্রভাবশালী গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের বৈঠকে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ রাজশাহী থেকে কলকাতা পর্যন্ত একটি নতুন আন্তদেশীয় ট্রেন চালুর প্রস্তাব পেশ করবে। এছাড়া মৈত্রী এক্সপ্রেসের রুট পরিবর্তন নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশের। ইতিপূর্বে ট্রেনটি যমুনা সেতু হয়ে চলাচল করলেও, এখন থেকে পদ্মা সেতু ব্যবহার করে ঢাকা-কলকাতা রুটে ট্রেনটি পরিচালনার প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে। এতে যাত্রীদের সময় ও খরচ দুই-ই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, বিগত সরকারের আমলে পদ্মা সেতু চালু হলেও যান্ত্রিক বা কৌশলগত কারণে ট্রেনটি সেই রুট ব্যবহার করেনি।


নির্বাচিত

banner close