শুরু হচ্ছে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্পের যাত্রা। এ সমুদ্র বন্দর নির্মাণে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। এরপর শুরু হবে দুটি জেটির সমন্বয়ে একটি টার্মিনালের নির্মাণকাজ, যা ২০২৯ সালের দিকে শেষ হবে। এতে দেশের সমুদ্রবাণিজ্যের চেহারা পাল্টে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক সংশ্লিষ্টদের অন্যতম একজন। তিনি বলেন, ২২ এপ্রিল মঙ্গলবার ঢাকার হোটেল লো মেরিডিয়ানের বলরুমে জাপানি সাহায্য সংস্থা জাইকার সঙ্গে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণকাজের চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে।
এখন জাপানি প্রতিষ্ঠানটি মাতারবাড়িতে দুটি জেটি নির্মাণের কাজ শুরু করবে। জেটি দুটির একটির দৈর্ঘ্য ৪৬০ মিটার। এটিতে শুধু কন্টেনার হ্যান্ডলিং করা হবে। অপরটি মাল্টিপারপাস জেটি, যেটির দৈর্ঘ্য ৩০০ মিটার। নির্মিত জেটিতে ১৪ মিটার ড্রাফটের বিশালাকারের কন্টেইনার কিংবা কার্গো জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বড় আকৃতির তিনটি, মাঝারি আকৃতির হলে চারটি মাদার ভ্যাসেল বার্থিং দেওয়া যাবে।
ইতোমধ্যে সাড়ে ১২ মিটার ড্রাফটের জাহাজ চ্যানেলটিতে ভেড়ানো হয়েছে। জাহাজটিতে ৬৫ হাজার ২৫০ টন কয়লা ছিল। এ বন্দরে অনায়াসে এক লাখ টন পণ্যবোঝাই জাহাজ বার্থিং দেওয়া সম্ভব হবে বলেও মন্তব্য করেন সচিব ওমর ফারুক। তিনি বলেন, জোয়ার-ভাটার বাধা না থাকায় এই চ্যানেলটিতে রাতে দিনে ২৪ ঘণ্টা জাহাজ ভিড়ানোর সুবিধা রয়েছে। গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে বাংলাদেশের যে সীমাবদ্ধতা ছিল মাতারবাড়ি তা পুরোপুরি কাটিয়ে দিতে যাচ্ছে। এক লাখ টন ধারণক্ষমতার কার্গো জাহাজ কিংবা ৮-১০ হাজার টিইইউএস কন্টেনার বহনকারী জাহাজ ভিড়ানো শুরু করা হলে পণ্য পরিবহন খরচ বহুলাংশে কমে যাবে।
ইতোমধ্যে একটি সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরে ২০২৯ সালের মধ্যে বছরে ১১ লাখ এবং ২০৪১ সালে ২৬ লাখ টিইইউএস কন্টেনার হ্যান্ডলিং করা যাবে। বন্দর সূত্র জানায়, মাতারবাড়িতে ১২শ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে জাপানের আর্থিক সহায়তায়। জাইকা এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারিগরি এবং আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে। কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএল) এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করছে।
১২শ মেগাওয়াটের এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রতিদিন ১০ হাজার টন কয়লা পোড়ানো হয়। দুই মাসের প্রয়োজনীয় অন্তত ৬ লাখ টন কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে মজুদ রাখতে হয়। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির প্রয়োজনীয় জ্বালানির জোগান দিতে বিদেশ থেকে প্রতি মাসে অন্তত তিন লাখ টন কয়লা আমদানি করতে হয়। এক একটি জাহাজে ৬০ হাজার টন কয়লা পরিবহন করলেও মাসে অন্তত ৫টি মাদার ভ্যাসেল এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্যই হ্যান্ডলিং করতে হচ্ছে।
মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং কয়লা আমদানির পথঘাট তৈরি করতে ১৪.৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ২৫০ মিটার প্রস্থের ১৬ মিটার গভীর একটি চ্যানেল তৈরি করা হয়। এই চ্যানেল তৈরির পর জাইকার একটি প্রতিনিধিদল চট্টগ্রাম বন্দরে এসে মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্রবন্দর করা যায় মন্তব্য করে পুরো বিষয়টি উপস্থাপন করে। তারা জানান যে, কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য যেই চ্যানেলটি তৈরি করা হয়েছে সেটিকে যদি পাশে ১০০ মিটার বাড়িয়ে ৩৫০ মিটার এবং গভীরতা ২ মিটার বাড়িয়ে ১৮ মিটার করা হয় তাহলে এটি গভীর সমুদ্রবন্দর হিসেবে ব্যবহৃত হবে। বন্দর কর্তৃপক্ষের তৎকালীন শীর্ষ কর্মকর্তারা গভীর সমুদ্রবন্দরের বিষয়টি নিয়ে অগ্রসর হলে নতুন করে পরিকল্পনা গ্রহণ এবং মাতারবাড়ি বন্দর উন্নয়ন নামে আলাদা একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।
শুরুতে ১৭ হাজার ৭৭৭ কোটি ১৬ লাখ ১৩ হাজার টাকা ব্যয়ে মাতারবাড়ি বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প নামের প্রকল্পটি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন শুরু হয়। সমুদ্রবন্দর নির্মাণের জন্য চ্যানেলের প্রশস্ততা ১০০ মিটার বর্ধিত করে ৩৫০ মিটারে উন্নীত করা হয়। গভীরতাও ১৮ মিটার (এমএসএল) করা হয়েছে। নির্মিত চ্যানেল ও হারবার নিরাপদ ও সুরক্ষিত করার জন্য সিপিজিসিবিএল কর্তৃক ১,৭৫৩ মিটার উত্তর ব্রেকওয়াটার, ৭১৩ মিটার দক্ষিণ ব্রেকওয়াটার এবং উত্তর দিকে ১৮০২.৮৫ মিটার রিভেটমেন্ট নির্মাণ করা হয়।
২০১৮ সাল থেকে এসব কার্যক্রম শুরু হয়। জাপানের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব তহবিল থেকে প্রকল্পের খরচ জোগান দিতে থাকে। প্রকল্পটির জন্য জাইকা ১২ হাজার ৮৯২ কোটি ৭৬ লাখ ৫ হাজার টাকা ঋণ সুবিধা প্রদান করে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব তহবিল থেকে ২ হাজার ২১৩ কোটি ২৪ লাখ ৯৪ হাজার এবং সরকারের ২ হাজার ৬৭১ কোটি ১৫ লাখ ১৪ হাজার টাকা মিলে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু প্রকল্প গ্রহণের পরে কিছু ক্ষেত্রে খরচ বাড়তে থাকে। বিশেষ করে নির্মাণ সামগ্রির মূল্যবৃদ্ধি এবং আনুষঙ্গিক খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যয় পুনর্নির্ধারণ করা হয়। দ্বিতীয় দফায় ব্যয় সংশোধন করে নির্ধারণ করা হয় ১৭ হাজার ৮০৭ কোটি টাকা। সময় রাখা হয় ২০২৬ সাল পর্যন্ত। কিন্তু পরবর্তীতে নানা প্রতিকুলতায় প্রকল্পের ব্যয় বাড়তে থাকে। প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ২৪ হাজার ৩৮১ কোটি টাকা। কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য যে চ্যানেল ও জেটি নির্মাণ করা হয়েছিল তা বন্দর কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করেছে সিপিজিসিবিএল। একই সঙ্গে ওই চ্যানেল ও জেটি নির্মাণে যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে তার দায়ও বন্দর কর্তৃপক্ষের ওপর দেওয়া হয়।
এবার নতুন করে জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে পুরো প্রকল্পটি সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নৌ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. সাখাওয়াত হোসেন মাতারবাড়ি বন্দর পরিদর্শনের পর পুরো কার্যক্রমে গতিশীলতা আসে বলে উল্লেখ করে সূত্র জানিয়েছে যে, জাইকা প্রকল্পের জন্য অর্থায়ন করবে। প্রথম ধাপে ৬ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি জেটি, টার্মিনাল এবং ব্যাকইয়ার্ড ফ্যাসিলিটি গড়ে তোলা হবে।
এই ব্যয়ের পুরো অর্থের যোগান দেবে জাপানি সংস্থা জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। জেটি এবং টার্মিনাল নির্মাণ করবে জাপানি প্রতিষ্ঠান পেন্টা ওশান এবং থোয়া করপোরেশন। প্রতিষ্ঠান দুটির সঙ্গে এই চুক্তি স¤পাদিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠান দুটি যৌথভাবে আগামী ৪ বছরের মধ্যে ৪৬০ মিটার দীর্ঘ একটি কন্টেনার জেটি এবং ৩০০ মিটার দীর্ঘ একটি মাল্টিপারপাস জেটি নির্মাণ করবে। দুটি জেটির জন্য সমন্বিতভাবে নির্মাণ করা হবে একটি টার্মিনাল।
বন্দরের তথ্যমতে, মহেশখালীর ১ হাজার ৩০ একর জায়গায় বন্দরের অবকাঠামো এবং ব্যাকইয়ার্ড নানা ফ্যাসিলিটি গড়ে তোলা হবে। আগামী ২০২৯ সালে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুরোদমে কাজ শুরু করবে। এর মাধ্যমে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে নতুন গতিশীলতা তৈরি হবে। পাল্টে যাবে সমুদ্রবাণিজ্যের চেহারা।
১০ মার্চ রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে এমন তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ বি এম জাহিদ হোসেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর ১০ মার্চ বগুড়ায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বগুড়া-৬ (সদর) আসনের আসন্ন উপনির্বাচনের কারণে তার বগুড়া সফর স্থগিত করা হয়েছে।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান জানান, ১০ মার্চের কর্মসূচিটি স্থগিত করা হয়েছে এবং পরে নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে। জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের বলেন, ‘বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন চলায় ভোটের আগে প্রধানমন্ত্রী কোনো কর্মসূচি রাখেননি।’
রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে বিলবোর্ডে অভিনন্দন জানিয়ে বিজ্ঞাপন এবং ব্যানার দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন।
প্রেসসচিব বলেন, ‘মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী গুলশানের বাসা থেকে বেরিয়ে হাতিরঝিলে পুলিশ প্লাজার সামনে তাঁর ছবি সম্বলিত ব্যানার সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন এবং সেটা তৎক্ষণাৎ সরানো হয়।’
রাজধানীতে বিলবোর্ডে বিভিন্ন কোম্পানির প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে ছবিসহ বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হচ্ছে সেগুলো দ্রুত অপসারণ করতে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন বলে জানান রুমন। তিনি আরও বলেন, ‘কয়েকদিন আগে বিজয় সরণির সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী একটি এলইডি বোর্ডে অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর ছবি প্রদর্শিত হচ্ছিল দেখে তখনই অপসারণের নির্দেশনা দিয়েছিলেন।’
আজ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে অফিস করেছেন। সকাল ৯টা ১০ মিনিটে অফিসে আসেন তিনি।
দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং দুই কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্সান ফরিদ পদত্যাগ করেছেন।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পদত্যাগপত্র জমা দেন তারা।
পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে বের হয়ে যাওয়ার সময় কমিশনার মিঞা মহাম্মদ আলী আকবর আজিজী সাংবাদিকদের বলেন, আমি পদত্যাগ করেছি। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়েছি। কোন চাপের মুখে নয়, নিয়মতান্ত্রিকভাবেই পদত্যাগ করেছি। নতুন পর্ষদ গঠিত হবে। তাদের জন্য শুভ কামনা।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। চেয়ারম্যানের পাশাপাশি দুদকের দুই কমিশনারও একই সময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়।
বাংলাদেশে গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাবন্দি ডজনখানেক সাংবাদিককে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে কমনওয়েলথ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (সিজেএ)। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এক বিশেষ বিবৃতিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে হত্যাসহ বিভিন্ন ভুয়া ও ভিত্তিহীন অভিযোগে এসব সাংবাদিকদের দীর্ঘ সময় ধরে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নতুন সরকারকে স্বাগত জানিয়ে সিজেএ আশা প্রকাশ করেছে যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে আইনের শাসন ফেরাতে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সাংবাদিকদের মুক্তি দেওয়ার মাধ্যমেই তার প্রতিফলন ঘটবে।
বিবৃতিতে সিজেএ বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে সংগঠনটির সহ-সভাপতি ও ‘ভোরের কাগজ’-এর দীর্ঘদিনের সম্পাদক শ্যামল দত্তের কথা। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে একটি ভিত্তিহীন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি এবং আরও অনেক গণমাধ্যমকর্মী অত্যন্ত নাজুক পরিস্থিতিতে কারাবন্দি রয়েছেন। সিজেএ-র অভিযোগ, আটক সাংবাদিকদের যথাযথ আইনি সহায়তা ও জামিন প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। সংগঠনটি আরও স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ২০২৫ সালে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার মিথ্যা মামলার শিকার ব্যক্তিদের ভোগান্তি কমাতে ১৬ হাজার ৪২৯টি ভিত্তিহীন মামলা প্রত্যাহারের যে প্রক্রিয়া শুরু করেছিল, বর্তমান সরকারের উচিত সেই প্রক্রিয়ার আওতায় গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি হওয়া অবিচারের প্রতিকার করা।
সংগঠনটি তাদের বিবৃতিতে ২০২৪ সালের জুলাই থেকে বাংলাদেশের গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর নেমে আসা ভয়াবহ পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেছে। সিজেএ জানায়, এই সময়ের মধ্যে শত শত সাংবাদিক শারীরিক হামলার শিকার হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়াও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে অনেককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং কেড়ে নেওয়া হয়েছে তাঁদের প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড। ২০২৪ সালের অক্টোবরে সামোয়ায় অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠকের নীতিমালা উল্লেখ করে সিজেএ মনে করিয়ে দেয় যে, ৫৬টি দেশ সুশাসন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার স্বার্থে সাংবাদিকদের সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বাংলাদেশও সেই প্রতিশ্রুতির বাইরে নয়।
বিবৃতিতে জাতিসংঘের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি আইরিন খানের একটি মন্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, কারাবন্দি সাংবাদিকদের মামলাগুলো বর্তমান বাংলাদেশের আদালত কীভাবে পরিচালনা করে, তার ওপরই নির্ভর করছে নতুন সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রকৃত পরীক্ষা। সিজেএ সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে যাতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপরাধের ক্ষেত্রে দায়মুক্তির সংস্কৃতির অবসান ঘটানো হয় এবং ভবিষ্যতে তাঁরা যেন আইনের পূর্ণ সুরক্ষায় নির্ভয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন। গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা নতুন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার একটি অপরিহার্য অংশ হওয়া উচিত বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ করে পুলিশের সংস্কার ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় জাপানের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিন-ইচি সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে মন্ত্রী এই অনুরোধ জানান। বৈঠকে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ইস্যু, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাপানকে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও পরীক্ষিত উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, মেট্রোরেল এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের মতো মেগা প্রকল্পগুলোতে জাইকার মাধ্যমে জাপানের বড় বিনিয়োগ রয়েছে। এছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক সেফটি নিয়ে জাপান ইতিপূর্বে সফলভাবে কাজ করেছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, পুলিশের বর্তমান সংস্কার ও আধুনিকায়ন প্রক্রিয়ায় জাপান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দ্রুতই জাপানের কাছে কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা পাঠানো হবে বলেও তিনি জানান।
বৈঠকের শুরুতে জাপানি রাষ্ট্রদূত নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তাঁর নতুন দায়িত্বের জন্য অভিনন্দন জানান। রাষ্ট্রদূত শিন-ইচি বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, ডিএমপির ট্রাফিক সেফটি প্রজেক্টটি গত বছর সফলভাবে শেষ হয়েছে। ভবিষ্যতে পুলিশ ও ডিএমপির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে তাঁরা আরও নিবিড়ভাবে কাজ করতে আগ্রহী। আলোচনার এক পর্যায়ে রাষ্ট্রদূত চলতি বছর হলি আর্টিজান হামলার দশ বছর পূর্তির বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বাংলাদেশে অবস্থানরত জাপানি নাগরিক, বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার অনুরোধ জানান।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রদূতকে আশ্বস্ত করে বলেন, বাংলাদেশে বসবাসরত সকল জাপানি নাগরিকের জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাপানের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরণের অনুরোধ বা নিরাপত্তাজনিত বিষয়কে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং জাপান দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দেশের প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ও জনপ্রিয় বক্তা পীরজাদা মাওলানা মীর মো. হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদী আর নেই। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রাজধানীর গুলিস্তান পীর ইয়ামেনী জামে মসজিদের খতিব মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গুণী এই আলেমের মৃত্যুতে দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের মাঝে এবং আলেম সমাজে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মাওলানা হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদী তাঁর ওজস্বী কণ্ঠ এবং যুক্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে দেশজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তিনি কুরআন ও সুন্নাহর আলো ছড়িয়ে দিতে দেশের প্রতিটি প্রান্তে ওয়াজ নসিহত ও সমাজ সংস্কারমূলক কাজ করে গেছেন। তাঁর অমায়িক ব্যবহার এবং জ্ঞানগর্ভ আলোচনা সব মহলেই সমাদৃত ছিল। মরহুমের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আজ বাদ আসর রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে তাঁর প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৪৭ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার বারুদী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই বিশিষ্ট আলেম। তাঁর পিতা মাওলানা মীর মনিরুদ্দীন ছিলেন ছারছীনা দরবার শরীফের পীর আল্লামা নেছারউদ্দীন সাহেবের অন্যতম খলিফা। বাবার আদর্শেই তিনি ধর্মীয় শিক্ষার পথে পা বাড়ান। প্রাথমিক শিক্ষা নিজ গ্রামেই শুরু করার পর বারুদী নেছারিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে যথাক্রমে ১৯৬৩ ও ১৯৬৫ সালে দাখিল ও আলিম পাস করেন। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ কামিল মাদ্রাসা থেকে ১৯৬৭ সালে ফাজিল এবং সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া ঢাকা থেকে প্রথম বিভাগে কামিল পাশ করে তাঁর শিক্ষা জীবন শেষ করেন।
শিক্ষা জীবন শেষ করার পর থেকেই তিনি দ্বীন প্রচারের কাজে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। কেবল ধর্মীয় বক্তা হিসেবেই নয়, একজন নীতিবান মানুষ হিসেবেও তিনি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের ইসলামী শিক্ষা ও প্রচার প্রসারের ক্ষেত্রে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হলো। পরিবার, গুণগ্রাহী এবং অগণিত ভক্ত-অনুরাগী রেখে গেছেন তিনি। জানাজা শেষে তাঁকে তাঁর পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করার প্রক্রিয়া নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের নেওয়া শপথ কেন অবৈধ হবে না, রুলে সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম শাহীনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জনস্বার্থে দায়ের করা পৃথক রিট আবেদনের শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালতের এই রুলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানul করিম ও আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব। অন্যদিকে রিটের বিরোধিতা করে বক্তব্য রাখেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু, ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী এবং অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। তাঁদের সহযোগিতায় ছিলেন আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মূসা, সাদ্দাম হোসেন ও আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।
এর আগে গত সোমবার (২ মার্চ) জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট দায়ের করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌধুরী রেদোয়ান-ই খোদা রনি এবং অ্যাডভোকেট গাজী মো. মাহবুব আলম এই রিটগুলো দায়ের করেন। রিট আবেদনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ বাতিল করার পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথকে অবৈধ ঘোষণার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল।
এছাড়া গত ১৮ ফেব্রুয়ারি অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ জুলাই জাতীয় সনদকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক দাবি করে এটি বাতিলের নির্দেশনা চেয়ে আরও একটি রিট দায়ের করেছিলেন। ওই রিটে জুলাই সনদের কার্যকারিতা স্থগিত করারও আবেদন জানানো হয়েছিল। মূলত জুলাই জাতীয় সনদের বিভিন্ন ধারা এবং গণভোটের আইনি ভিত্তি নিয়ে আইনি মহলে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, এই রুলের মাধ্যমে উচ্চ আদালত সেই বিষয়ের আইনি ব্যাখ্যা ও বিবাদীদের অবস্থান জানতে চাইলেন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে চূড়ান্ত শুনানির পর বিস্তারিত জানা যাবে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রেক্ষাপটে হাইকোর্টের এই রুলটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক। আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের শুরুতে তারা পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বাহিনীর সদস্যদের নিরলস প্রচেষ্টার স্বীকৃতি দিয়ে বলেন, সমুদ্র উপকূল ও নদী তীরবর্তী এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে কোস্টগার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে জনগণের স্বার্থে দুর্যোগ মোকাবিলায় তাদের জনসেবামূলক কাজগুলো অব্যাহত রাখার জন্য তিনি বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন।
বৈঠকে মহাপরিচালক প্রধানমন্ত্রীকে কোস্টগার্ডের চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত করেন। প্রধানমন্ত্রী এই উন্নয়নের গতিপ্রকৃতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আশ্বস্ত করেন যে, বাহিনীর এই আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে।
পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোস্টগার্ডকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, পেশাদারিত্বের মাধ্যমে এই বাহিনী দেশের সমুদ্রসীমার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করবে।
দেশের আলোচিত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন আদেশ, গণভোট অধ্যাদেশ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদনগুলোর ওপর আজ আদেশ দেবেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম শাহীনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশটি ঘোষণা করবেন। এর আগে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত আদেশের জন্য আজকের দিনটি ধার্য করেছিলেন।
রিট আবেদনগুলোতে মূলত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং এটি বাতিল করার আর্জি জানানো হয়েছে। এছাড়া গণভোট অধ্যাদেশ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়াটি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়েও রুল জারির নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌধুরী রেদোয়ান-ই খোদা রনি এবং অ্যাডভোকেট গাজী মো. মাহবুব আলম পৃথক দুটি জনস্বার্থমূলক রিট পিটিশন দায়ের করেছিলেন। অন্যদিকে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ জুলাই জাতীয় সনদকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক দাবি করে এটি বাতিলের জন্য আরও একটি রিট দায়ের করেন।
দায়েরকৃত এসব রিটে বিবাদী হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষভুক্ত করা হয়েছে। রিট আবেদনকারীদের দাবি, জুলাই সনদের বেশ কিছু ধারা বিদ্যমান সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, ফলে এর কার্যকারিতা স্থগিত রাখা জরুরি। আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আজকের এই আদেশের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের ভবিষ্যৎ প্রক্রিয়ার বিষয়ে আদালতের অবস্থান স্পষ্ট হবে, যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সব মিলিয়ে পুরো দেশ এখন উচ্চ আদালতের এই আদেশের দিকে তাকিয়ে আছে।
রাজধানী ঢাকার বাতাসের মান আবারও বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১১৬টি প্রধান নগরীর মধ্যে দূষণের তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। ঢাকার বায়ুমানের সূচক বা একিউআই স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ২৩৪, যা পরিবেশ ও স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের ভাষায় ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে এমন দূষিত বাতাসে শ্বাসপ্রশ্বাস গ্রহণ করা সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
আইকিউএয়ারের লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঢাকার ঠিক পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর, যার স্কোর ২৩২। তৃতীয় অবস্থানে ভারতের রাজধানী দিল্লি ১৯৪ স্কোর নিয়ে অবস্থান করছে। দূষিত শহরের তালিকার পরবর্তী ধাপগুলোতে রয়েছে যথাক্রমে চীনের বেইজিং, ভারতের কলকাতা ও নেপালের কাঠমান্ডু। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর বড় শহরগুলোতে বায়ুদূষণের এই ভয়াবহ চিত্র সামগ্রিক আঞ্চলিক পরিবেশগত সংকটকেই ফুটিয়ে তুলছে।
বিপরীত দিকে, একই সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে নির্মল বায়ুর শহর হিসেবে তালিকার শেষে অর্থাৎ নিরাপদ অবস্থানে ছিল ইন্দোনেশিয়ার বাতাম। এই শহরটির বায়ুমানের স্কোর ছিল শূন্য। এছাড়া নির্মল বায়ুর তালিকায় ওপরের দিকে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সল্ট লেক সিটি, সান ফ্রান্সিসকো এবং অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরা। এসব শহরের উন্নত পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও কম দূষণ সাধারণ মানুষের বসবাসের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআই অনুযায়ী, বায়ুর মান শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে তা ভালো এবং ১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে হলে অস্বাস্থ্যকর ধরা হয়। তবে স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে পৌঁছালে তা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত হয়, যা বর্তমান ঢাকার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুষ্ক মৌসুমে নির্মাণ কাজ, যানবাহনের ধোঁয়া এবং ধুলোবালির কারণে ঢাকার বায়ুমান এমন উদ্বেগজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর বায়ুদূষণজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ প্রাণ হারান, যা আধুনিক বিশ্বের অন্যতম বড় নিরব ঘাতক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই ভয়াবহ দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপের দায়িত্ব পেয়েছেন বরগুনা-২ (বেতাগী-বামনা-পাথরঘাটা) আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মনি; ছয়জনকে দেওয়া হয়েছে হুইপের দায়িত্ব।
গতকাল সোমবার, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের আলাদা প্রজ্ঞাপনে এ বিষয়ে জানানো হয়।
হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য জি কে গউছ, খুলনা-৩ আসনের রকিবুল ইসলাম, শরীয়তপুর-৩ আসনের মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, নাটোর-২ আসনের এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, দিনাজপুর-৪ আসনের মো. আখতারুজ্জামান মিয়া ও লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান)।
চিফ হুইপ সংসদে সরকারি দলের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার সঙ্গে কয়েকজন হুইপ থাকেন, যারা সবাই সংসদ সদস্য। তাদের প্রধান কাজ সংসদে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, নিজ দলের সদস্যদের অধিবেশনে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ বিল ও প্রস্তাবে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোট নিশ্চিত করা।
চিফ হুইপ পূর্ণ মন্ত্রীর পদমর্যাদা ভোগ করেন, আর হুইপরা প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পান। সে অনুযায়ী তারা মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের মতো সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন।
জাতীয় সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই নিয়োগ অবিলম্বে কার্যকর হবে। নবনিযুক্ত চিফ হুইপ ও হুইপগণ আজ মঙ্গলবার শপথ নিতে পারেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সারা দেশে অন্তত ৩২ জন নারী ও কন্যাশিশু হত্যার শিকার হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৯ জনই কন্যাশিশু, যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ-এর নারী ও কন্যা নির্যাতনবিষয়ক মাসিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই উদ্বেগজনক চিত্র।
সোমবার (২ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সহিংসতার খবর বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া গেছে, যা বাস্তব পরিস্থিতির কেবল আংশিক প্রতিফলন।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপপরিষদে সংরক্ষিত ১৫টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, সংবাদপত্রে প্রকাশিত ঘটনার বাইরেও অসংখ্য নির্যাতনের ঘটনা অপ্রকাশিত থেকে যায়, যেগুলো কখনো আইনের কাছে পৌঁছায় না, আবার কখনো সমাজের ভয়ে চাপা পড়ে থাকে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ১৮৩ জন নারী ও কন্যা বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
এর মধ্যে ৭৩ জন কন্যা ও ১১০ জন নারী। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৩২ জন, যাদের মধ্যে ৪ জন কন্যাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।
যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৪ জন কন্যাসহ মোট ৭ জন। এর মধ্যে ২ জন কন্যাসহ ৪ জন যৌন নিপীড়নের শিকার, ২ জন উত্ত্যক্তকরণের এবং ১ জন নারী সাইবার সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ফেব্রুয়ারি মাসে ৩ জন কন্যা ও ১৪ জন নারীসহ ১৭ জনের মৃত্যু রহস্যজনক। আত্মহত্যা করেছেন ৮ জন। এসিডদগ্ধ হয়েছেন ১ জন এবং অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন ১ জন। যৌতুকজনিত সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৫ জন নারী, যার মধ্যে ৩ জনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া পারিবারিক সহিংসতায় শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৩ জন এবং গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন আরও ৩ জন।
অপহরণের শিকার হয়েছেন ১ জন কন্যাসহ ২ জন, আর ২ জন কন্যাকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে। পাচারের শিকার হয়েছেন ২০ জন কন্যাসহ মোট ৪০ জন। শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১ জন কন্যাসহ ১৫ জন। বাল্যবিবাহের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে ২ জনের ক্ষেত্রে। আরও ১ জন কন্যাসহ আরও ৭ জন বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
২৩ কোটি টাকা মানিলন্ডারিং ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রূকমীলা জামানসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার চার্জশিট দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (২ মার্চ) দুদকের প্রধান কার্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ চার্জশিট দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চার্জশিটে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর৪০৬/৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
একই মামলায় অভিযুক্ত অন্যদের মধ্যে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির (ইউসিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও সাইফুজ্জামান চৌধুরীর স্ত্রী রূকমীলা জামান ছাড়াও ব্যাংকটির সাবেক ও বর্তমান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ আরামিট পিএলসির একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী এবং হুন্ডি কার্যক্রমে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি রয়েছেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন, জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং পরবর্তীতে তা বিভিন্ন মাধ্যমে স্থানান্তর ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে। তবে আলোচিত এ মামলার আসামি শরীফ জহিরকে অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।