মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
১ বৈশাখ ১৪৩৩

যাতে মানুষ আর বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার না হন: আলী রীয়াজ

ছবি: সংগৃহীত
ইউএনবি
প্রকাশিত
ইউএনবি
প্রকাশিত : ২৬ এপ্রিল, ২০২৫ ১৪:১২

এমন একটি বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই, যাতে মানুষ আর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার না হন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

আজ শনিবার সংসদ ভবনস্থ এলডি হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সাথে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আলোচনার শুরুতে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় কমিশনের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।

আলোচনার সূচনায় অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বীর শহীদদের আত্মত্যাগে আমরা একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। আমাদের এই বীর শহীদদের কাছে ঋণ আছে। যে সুযোগ ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগে তৈরি হয়েছে, তা যেন লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হয়।’

রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনার মাধ্যমে একটি জাতীয় সনদ তৈরি করার কথা উল্লেখ করে আলী রীয়াজ আরও বলেন, ‘আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি জাতীয় সনদে উপনীত হতে চাই। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই, যেখানে মানুষ তার অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড বা কোনো নিপীড়নের শিকার না হন।’

‘রাষ্ট্র সংস্কারের যে উদ্যোগ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে, তা কেবল সরকারের উদ্যোগ নয়, এটি বাংলাদেশের জনগণের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার ফল,’ বলেন তিনি।

আলী রীয়াজ আরও বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের তাগিদ রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে এসেছে, ছাত্রসমাজের কাছ থেকে এসেছে এবং সর্বোপরি দেশের সকল স্তরের মানুষের কাছ থেকে এসেছে।

আলোচনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নেতৃত্বে ১০ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধিদলে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ হামিদুর রহমান আজাদ, রফিকুল ইসলাম খান, এহসান মাহবুব যোবায়ের, সাইফুল আলম খান মিলন, মতিউর রহমান আকন্দ, নুরুল ইসলাম বুলবুল, শিশির মোহাম্মদ মনির ও সরকার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, প্রথম পর্যায়ে গঠিত সংস্কার কমিশনগুলোর মধ্যে সংবিধান সংস্কার কমিশন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখিত গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলোর ওপর রাজনৈতিক দলের সুনির্দিষ্ট মতামত জানাতে অনুরোধ করে সুপারিশগুলোর স্প্রেডশিট আকারে ৩৯টি রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠানো হয়।

ইতোমধ্যে সংস্কার বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ৩৫টি দলের কাছ থেকে মতামত পেয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ এ পর্যন্ত ১৭টি রাজনৈতিক দল কমিশনের সাথে আলোচনায় অংশ নিয়েছে।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন হতে আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়।


ঝিনাইদহে ভার্চ্যুয়ালি ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ভার্চ্যুয়ালি ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইল সফরকালীন এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঝিনাইদহের এই কর্মসূচির সূচনা করেন। শৈলকুপা উপজেলার আবাইপুর ইউনিয়নের কৃপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ মজিদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা এবং জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে অংশগ্রহণ করেন।

পাইলট প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের আওতায় আবাইপুর ইউনিয়নের কৃপালপুর ব্লকের মোট ১,৬৭৯ জন নিবন্ধিত কৃষককে এই বিশেষ কার্ড প্রদান করা হচ্ছে। কৃষি সেবাকে আরও গতিশীল ও আধুনিক করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।


বৈদ্যুতিক লাইনে গ্যাস বেলুন, মেট্রো চলাচল সাময়িক বন্ধের পর আবার চালু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় মেট্রোরেলের বৈদ্যুতিক লাইনে একটি গ্যাস বেলুন আটকে যাওয়ার কারণে ওই অংশে প্রায় ১৫ মিনিট ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। পরে বেলুনটি সরিয়ে নেওয়ার পর আবার স্বাভাবিক হয় মেট্রোরেল চলাচল।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে বেলুন আটকে পড়ার বিষয়টি এমআরটি পুলিশের কন্ট্রোল রুমে জানানো হয়। এরপর দ্রুত অপসারণ কার্যক্রম শুরু করা হয়।

অবশেষে দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে কন্ট্রোল রুমে জানানো হয় যে বেলুনটি অপসারণ সম্পন্ন হয়েছে।

এর আগে এমআরটি পুলিশের কন্ট্রোল রুমের ওয়ারলেস অপারেটর জানান, কারওয়ান বাজার এলাকার মেট্রোরেল লাইনের উচ্চ ভোল্টেজ তারে একটি গ্যাস বেলুন উড়ে এসে আটকে যায়। যেহেতু এটি হাই-ভোল্টেজ লাইন, তাই বেলুনটি সরাতে কিছুটা সময় লাগছে। অপসারণ সম্পন্ন হলে আবার মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক হবে।


বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে সপ্তাহব্যাপী বৈশাখী মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এবং বাংলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে সাত দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলার যাত্রা শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর বাংলা একাডেমি চত্বরে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই মেলার উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে উৎসবের সূচনা করেন এবং এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। মেলাটি আগামী ২০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এবং প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সকল দর্শনার্থীর জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে।

এবারের মেলায় মোট ১৬০টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে যেখানে দেশীয় কুটির শিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের তৈরি বৈচিত্র্যময় পণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে। যার মধ্যে জামদানি, শতরঞ্জি, নকশিকাঁথা, শীতলপাটি, চামড়াজাত দ্রব্য এবং বিভিন্ন লোকজ ও কৃষিজাত পণ্যের বিশাল সমাহার রয়েছে। এছাড়া দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য পুতুলনাচ, বায়োস্কোপ, শিশুদের রাইড ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রান্তিক কারুশিল্পী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উদ্যোক্তাদের সহযোগিতায় কিছু স্টল বিনামূল্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং মেলায় স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির জন্য কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের একটি বুথও সক্রিয় রয়েছে।

সত্তরের দশকের শেষভাগ থেকে শুরু হওয়া বিসিক ও বাংলা একাডেমির এই যৌথ আয়োজন এখন বাঙালির নববর্ষ উদযাপনের একটি অবিচ্ছেদ্য সাংস্কৃতিক অংশে পরিণত হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিসিক চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলামের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় সংস্কৃতি ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিববৃন্দ এবং বাংলা একাডেমির সভাপতি শিক্ষাবিদ আবুল কাসেম ফজলুল হক বক্তব্য রাখেন।


মঙ্গল শোভাযাত্রা, ধানমন্ডিতে পুরোনো নামে নতুন বছর বরণ

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় জাতীয় সংগীত গাওয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। ‘বর্ষবরণ পর্ষদ’-এর ব্যানারে এই উৎসবের আয়োজন করা হয় | ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকায় সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। 'মঙ্গল শোভাযাত্রা': ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের প্রথম দিনকে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে স্বাগত জানিয়েছে ‘বর্ষবরণ পর্ষদ’। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

বাঙালির ঐতিহ্যবাহী নানা মোটিফ, মুখোশ ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে শত শত নারী-পুরুষ শোভাযাত্রায় অংশ নেন। রঙিন পোশাকে শিশুদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। বাদ্যের তালে নাচ-গানে নতুন বছরকে বরণ করে নেন অংশগ্রহণকারীরা।

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে এবার প্রথমবারের মতো দিনব্যাপী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বর্ষবরণ পর্ষদ। ‘জাগাও পথিকে, ও সে ঘুমে অচেতন’—প্রতিপাদ্য নিয়ে সাজানো এ আয়োজনে সন্ধ্যা পর্যন্ত গান, আবৃত্তি, নৃত্য ও মূকাভিনয়সহ নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা রাখা হয়েছে।

পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানসূচি শুরু হয় সকাল ৯টায় সমবেত কণ্ঠে সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে।

জাতীয় সংগীত, ধনধান্য পুষ্প ভরা এবং এসো হে বৈশাখ—এই তিনটি গান পরিবেশন করা হয়। এরপর সকাল ১০টার দিকে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের মীনাবাজারের সামনে থেকে শুরু হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। রাপা প্লাজা এলাকা ঘুরে একই সড়কের অন্য প্রান্ত হয়ে আবার অনুষ্ঠানস্থলে ফিরে এসে এটি শেষ হয়। পরে বেলা ১১টা থেকে মীনাবাজার চত্বরে সাংস্কৃতিক আয়োজন শুরু হয়। এতে ব্রতচারী ও ঢালীনৃত্য, মূকাভিনয়, একক আবৃত্তি এবং একক সংগীত পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত বিরতির পর আবার শুরু হবে বিকালের পর্ব। এ সময়ে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদসহ বিভিন্ন সংগঠনের সমবেত সংগীত পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে।

এ ছাড়া মুক্তধারা সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্র, উদীচী, স্রোত, কথা আবৃত্তি চক্রসহ বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পীরা বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করবেন। একক সংগীতে অংশ নেবেন মকবুল আহমেদ, সুকুমার বিশ্বাস, নারায়ণ চন্দ্র শীল, পীযূষ বড়ুয়া, মনিরা রওনক বুবলি, আখি হালদার, শাওন রায়, অরুনিমা আহমেদ প্রথমা ও শিল্পী সাহা।

অন্যদিকে একক আবৃত্তি পরিবেশন করবেন বেলায়েত হোসেন, লায়লা আফরোজ, নায়লা তারান্নুম কাকলি, মো. মাসুদ উজ জামান, শিখা সেনগুপ্তা, অনিকেত রাজেশ, শাহদাত হোসেন নিপু, ইকবাল খোরশেদ, অলক বসু, শাহীদা ফাল্গুনী, মোস্তাফিজুর রহমান মামুন ও মেহেদী হাসান প্রমুখ। এ ছাড়া তক্ষশীলা বিদ্যালয় পরিবেশন করবে ব্রতচারী নৃত্য এবং রঙ্গন আহমেদ উপস্থাপন করবেন মূকাভিনয়। পুরো আয়োজনের সমাপ্তি হবে সরদার হিরক রাজা ও তাঁর সঙ্গীদের বাউলগানের পরিবেশনার মাধ্যমে।


টাঙ্গাইলে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

কৃষকদের হাতে কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৪৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় টাঙ্গাইলে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টায় টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত জনসভায় তিনি এই বিশেষ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। সড়কপথে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে পৌঁছানোর কারণে তিনি পূর্বনির্ধারিত মাজার জিয়ারতের সূচি পরিবর্তন করে সরাসরি সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন। জানা গেছে, বিকেলে টাঙ্গাইল পৌর উদ্যানে কৃষি মেলার উদ্বোধন শেষে তিনি মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এই প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “বিজয়ের মাত্র দুই মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তার ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো একে একে বাস্তবায়ন করছেন। এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য কৃষকদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করা।” কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় এই কার্যক্রম শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে প্রায় ৩০ লাখ কৃষককে এই কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা হবে। কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, এই বিশাল প্রকল্পটি পরীক্ষামূলক পর্যায় থেকে শুরু করে মোট তিনটি ধাপে দেশব্যাপী সফলভাবে কার্যকর করা হবে।

এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা রাষ্ট্রীয়ভাবে নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন, যার মধ্যে রয়েছে সাশ্রয়ী মূল্যে কৃষি সরঞ্জাম ও সেচ সুবিধা গ্রহণ এবং অত্যন্ত সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের প্রাপ্যতা। এছাড়া কৃষকরা সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা ও ভর্তুকির পাশাপাশি আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির ওপর বিশেষ ছাড় পাবেন। ডিজিটাল প্রযুক্তির সুবিধা কাজে লাগিয়ে তাদের মোবাইলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজারের হালনাগাদ তথ্য পৌঁছে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে কার্ডধারী কৃষকরা ফসলের সুরক্ষা ও উন্নত ফলন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সরকারি প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাবেন। বিশেষ এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষি বিমা সুবিধা এবং উৎপাদিত ফসল সরাসরি ন্যায্যমূল্যে বিক্রির অধিকারও সুনিশ্চিত করা হবে।


রাষ্ট্রদূতসহ বিদেশি কূটনীতিকরাও বৈশাখী শোভাযাত্রা উপভোগ করলেন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী শোভাযাত্রার বর্ণিল রূপ উপভোগ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন রাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিকরা। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল থেকেই রাজু ভাস্কর্য ও টিএসসি প্রাঙ্গণে বিদেশি অতিথিদের পদচারণা ও উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতে দেখা যায়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এবং নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হ্যাকন অ্যারাল্ড গুলব্রানসেন তাদের সহধর্মিণীদের নিয়ে এই আনন্দ মিছিলে সশরীরে অংশ নেন।

ভারত, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন মিশনের কূটনীতিকরাও এই সাংস্কৃতিক উৎসবে শামিল হয়ে নিজেদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। অনেক কূটনীতিককে বৈশাখী এই বিশেষ মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করতে ও সেলফি তুলতে দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামি গণমাধ্যমকে অবহিত করেন যে, বিদেশি অতিথিরা সস্ত্রীক উপস্থিত থেকে পুরো আয়োজনটি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে উপভোগ করেছেন। আগত অতিথিদের যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সার্বক্ষণিক তৎপর ছিল।

এবারের শোভাযাত্রাটি সকাল ৯টার পর “নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান” প্রতিপাদ্য নিয়ে চারুকলা অনুষদের সম্মুখভাগ থেকে শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি শাহবাগ, রাজু ভাস্কর্য ও দোয়েল চত্বর প্রদক্ষিণ করে পুনরায় চারুকলায় ফিরে এসে সমাপ্ত হয়। উল্লেখ্য যে, রমনা বটমূলে ভোরের অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই মূলত বঙ্গাব্দ ১৪৩৩-এর বরণ কার্যক্রমের সূচনা হয়েছিল।


কৃষক কার্ড উদ্বোধন করতে টাঙ্গাইলে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

টাঙ্গাইলে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণমঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বহুমুখী কর্মসূচিতে অংশ নিতে টাঙ্গাইল সফর করছেন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বেলা ১১টা ২২ মিনিটে তিনি জেলা স্টেডিয়ামে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠানের বিশেষ মঞ্চে এসে পৌঁছান। টাঙ্গাইলের এই আয়োজনের মাধ্যমেই দেশব্যাপী এ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী এবং সেখানে আয়োজিত কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথির আসন অলঙ্কৃত করবেন।

নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া বিএনপির অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার ছিল এই বিশেষ কার্ড প্রবর্তন করা। এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুত ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড ও খালখনন কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন হয়েছে। জনসভা শেষে পৌর উদ্যানে একটি কৃষিমেলা উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর বিকেলের দিকে তিনি মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারতে অংশ নেবেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে ঘিরে পুরো টাঙ্গাইল শহরে এক আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। টাঙ্গাইলসহ এর আশেপাশের বিভিন্ন জেলার সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে চরম উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ও প্রস্তুতির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।


রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণে নির্ভীক চিত্তে সংস্কৃতি রক্ষার আহ্বান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাতের অন্ধকার ভেদ করে রাজধানীর বুকে যখন ভোরের স্নিগ্ধতা ফুটে উঠছিল, ঠিক তখনই পূর্ব আকাশে রবির উদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রমনা বটমূল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। লাল-সাদা পোশাকে সজ্জিত সর্বস্তরের মানুষের আগমনে সেখানে এক অপূর্ব মিলনমেলার সৃষ্টি হয়, যেখানে গানের সুরে নববর্ষকে বরণের মাধ্যমে বাঙালির নিজস্ব সত্তা ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হয়। ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পহেলা বৈশাখের প্রথম প্রহরে এবারও প্রভাতি আয়োজনের নেতৃত্বে ছিল ছায়ানট। ১৯৬৭ সাল থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে বাংলা সংস্কৃতিকে লালনকারী এই প্রতিষ্ঠানটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দর্শন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে— ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’।

ভোর সোয়া ৬টায় সমবেত কণ্ঠে ‘জাগো আলোক-লগনে’ সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। অজয় ভট্টাচার্যের কথা ও ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়ের সুরারোপিত এই গানটি যেন আগামীর এক নতুন বার্তা বয়ে আনে। এরপর ধারাবাহিকভাবে পরিবেশিত হয় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ও লালন সাঁইয়ের কালজয়ী সব সৃষ্টি। মাকছুরা আখতার অন্তরা, আজিজুর রহমান তুহিন, সেমন্তী মঞ্জরী, তানিয়া মান্নান ও লাইসা আহমদ লিসাদের কণ্ঠে রবীন্দ্রসঙ্গীত যেমন উপস্থিত শ্রোতাদের মুগ্ধ করে, তেমনি বিটু কুমার শীল, বিজন চন্দ্র মিস্ত্রী, নাসিমা শাহীন ফ্যান্সি, খায়রুল আনাম শাকিল ও শারমিন সাথী ইসলাম ময়নাদের পরিবেশনায় নজরুলের সুরধারা সবার মাঝে দ্রোহ ও সাম্যের চেতনা জাগিয়ে তোলে। শ্রাবন্তী ধর দ্বিজেন্দ্রগীতি পরিবেশন করেন এবং প্রখ্যাত শিল্পী চন্দনা মজুমদার পরিবেশন করেন ‘বড় সংকটে পড়িয়া দয়াল’ শীর্ষক লালনগীতি।

সংগীতের পাশাপাশি খায়রুল আলম সবুজের কণ্ঠে সলিল চৌধুরীর ‘এক গুচ্ছ চাবি’ কবিতাটির আবৃত্তি অনুষ্ঠানকে এক ভিন্ন মাত্রা দান করে। লোকজ সুর ও বিভিন্ন সম্মেলক গানের মধ্য দিয়ে এদিন মুক্তচিন্তা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার আহ্বান জানানো হয়। প্রায় দুই শতাধিক শিল্পীর সম্মিলিত প্রয়াসে সংগীত, কবিতা ও সংস্কৃতির এক অনন্য ধারা বয়ে যায় পুরো রমনা চত্বরে, যেখানে শিশু থেকে প্রবীণ—সবাই এক আত্মিক বন্ধনে আবদ্ধ হন। জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হলেও সমাপনী বক্তব্যে ছায়ানট সভাপতি সারওয়ার আলী বর্তমান সময়ের নানা অস্থিরতা ও সহিংসতার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।


কৃষক কার্ড কর্মসূচি উদ্বোধনে টাঙ্গাইল যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কৃষকদের জন্য প্রণীত ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনে অংশ নিতে টাঙ্গাইলের পথে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে তিনি ঢাকায় থেকে সড়কপথে যাত্রা শুরু করেন।

নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, সকাল ১০টায় টাঙ্গাইলে পৌঁছে প্রথমেই সন্তোষ এলাকায় মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করবেন তিনি। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে দেশব্যাপী প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন এবং কৃষক সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।

পরবর্তী সময়ে দুপুর সোয়া ১২টায় পৌর উদ্যানে আয়োজিত কৃষিমেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রাথমিক পর্যায়ে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় ১ হাজার ৪৫৩ জন কৃষক এই কার্ডের সুবিধার আওতায় আসবেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে ১৫ জন কৃষকের মধ্যে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করবেন এবং তাদের মাঝে গাছের চারা তুলে দেবেন।


নববর্ষে ঢাকায় কড়া নিরাপত্তা, ২০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলা নববর্ষ উদযাপন ঘিরে রাজধানী ঢাকার সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে ২০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)মোতায়েন করা হয়েছে।। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তারা দায়িত্ব পালন করছে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিজিবি।

এতে বলা হয়, আবহমান বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে ২০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে নববর্ষ উদযাপন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ করে রমনা বটমূল ও এর আশপাশের এলাকা, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, কাকরাইল, মৎস্য ভবন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন গেট, দোয়েল চত্বর, শাহবাগ জাতীয় জাদুঘর, শহীদ জিয়া শিশু পার্ক, রমনা বটমূল ছায়ানটের আয়োজনস্থল, রমনা মঞ্চ এবং ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছে।

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছে। বিজিবি সব নাগরিককে শান্তিপূর্ণ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে নববর্ষ উদযাপনের জন্য আহ্বান জানাচ্ছে।


নববর্ষকে স্বাগত জানিয়ে চারুকলা থেকে বের হলো ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’

চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে বের হওয়া এই শোভাযাত্রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ যোগ দেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ আজ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ বের হয়েছে। বাংলা সন ১৪৩৩ বরণ করে নিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদ আয়োজন করেছে বর্ণাঢ্য ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। এবারের শোভাযাত্রার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে এই শোভাযাত্রা শুরু হয়। পরে শাহবাগ থানার সামনে থেকে ইউটার্ন নিয়ে রাজু ভাস্কর্য ও টিএসসি প্রাঙ্গণ ডান পাশে রেখে দোয়েল চত্বর হয়ে বাংলা একাডেমির সামনে দিয়ে পুনরায় চারুকলা অনুষদের সামনে এসে শেষ হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ৯টা ৩ মিনিটে সম্মিলিত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং এর ঠিক তিন মিনিট পরেই বর্ণিল সাজে সজ্জিত হয়ে শোভাযাত্রাটি বের হয়।
শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী ছাড়াও অংশ নিয়েছেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীসহ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
শোভাযাত্রা উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সর্বস্তরের মানুষের উপচেপড়া ভিড়ে পুরো এলাকা এক আনন্দঘন জনসমুদ্রে পরিণত হয়। শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদের উত্তর গেট থেকে বের হয়ে শাহবাগ থানার সামনে দিয়ে ইউটার্ন নিয়ে রাজু ভাস্কর্য ও টিএসসি হয়ে দোয়েল চত্বর প্রদক্ষিণ করে।
এরপর বাংলা একাডেমির সামনে দিয়ে ঘুরে পুনরায় চারুকলা অনুষদে এসে এটি শেষ হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে এবারের উৎসবে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মাস্ক বা মুখোশ পরা নিষিদ্ধ থাকায় অংশগ্রহণকারীরা চারুকলার তৈরি মুখোশগুলো হাতে নিয়ে প্রদর্শন করেন।
এবারের শোভাযাত্রায় বাংলার লোক-ঐতিহ্য ও সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতির মেলবন্ধনে পাঁচটি প্রধান মোটিফ বা প্রতীক তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ‘মোরগ’ মোটিফটি ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে গণতন্ত্রের নবযাত্রাকে স্বাগত জানাতে মোরগকে নতুন ভোর ও জাগরণের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে শোভাযাত্রায় রাখা হয়েছে আরও চারটি মোটিফ। বাউল শিল্পীদের ওপর সাম্প্রতিক হামলা ও লোকজ সংগীতের অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে এবং সাংস্কৃতিক শিকড়কে তুলে ধরতে আনা হয়েছে বিশালাকৃতির ‘দোতারা’।
শান্তি ও সহাবস্থানের বৈশ্বিক ডাক দিতে রাখা হয়েছে ‘পায়রা’। এ ছাড়া লোকশিল্পের আভিজাত্য ও শক্তির প্রতীক হিসেবে নারায়ণগঞ্জের লোকশিল্প জাদুঘরের আদলে নির্মিত হয়েছে ‘কাঠের হাতি’ এবং গ্রামীণ ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে কিশোরগঞ্জের বিখ্যাত ‘টেপা ঘোড়া’ শোভাযাত্রাকে করেছে আরও আকর্ষণীয়।
এবারের পহেলা বৈশাখে বিশ্ববিদ্যালয় এরিয়ায় মুখোশ পড়া নিষিদ্ধ থাকায় চারুকলা অনুষদ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত মুখোশ হাতে নিয়ে প্রদর্শন করতে দেখা যায় শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের। শোভাযাত্রার সম্মুখভাগে ছিল পুলিশের সুসজ্জিত ১২টি ঘোড়ার বহর।
এরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০ শিক্ষার্থীর হাতে শোভা পাচ্ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। বাদ্যযন্ত্রশিল্পীদের বাজানো ‘এসো হে বৈশাখ’ ও দেশাত্মবোধক গানের সুরে মাতোয়ারা হয়ে ওঠেন অংশগ্রহণকারীরা।
শোভাযাত্রা শেষে টিএসসি প্রাঙ্গণে লোকজ সংস্কৃতির গান ও নৃত্যের মাধ্যমে বাংলা নববর্ষের মূল অনুষ্ঠানমালার সমাপ্তি ঘটে। চারুকলার এই বর্ণিল আয়োজন কেবল আনন্দ উৎসব নয়, বরং অন্ধকার ভেদ করে আলোর পথে ফেরার এক বলিষ্ঠ সংকল্পে রূপ নেয় এবারের পহেলা বৈশাখে।


বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ আজ

* চারুকলার বৈশাখী শোভাযাত্রা সকাল নয়টায়। * উৎসবের মূল প্রতিপাদ্য  —‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। * রমনার বটমূলে ছায়ানটের প্রভাতি অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা—‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হাজার বছরের ঐতিহ্য আর বাঙালির প্রাণের স্পন্দন নিয়ে আবার এলো পহেলা বৈশাখ। ফিরে এলো রৌদ্রকরোজ্জ্বল বৈশাখী দিনে সুরে-বাণীতে, সাজসজ্জায়, আহারে-বিহারে, আনন্দ-উল্লাসে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বাংলার নতুন বছর ১৪৩৩ বরণ করে নেবে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে দেশের সব মানুষ। পুরোনো ব্যর্থতা ঝেরে ফেলে সবার কল্যাণ কামনায় উদ্‌যাপিত হবে নববর্ষের উৎসব। নববর্ষকে আবাহন জানিয়ে বহুকণ্ঠে ধ্বনিত হবে ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো...।’ আয়োজনের মূল দায়িত্বে থাকছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদের ৭১তম ব্যাচ। এবারের প্রতিপাদ্য—‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। রাষ্ট্র, সমাজে ঐক্য, সম্প্রতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পুনরুজ্জীবনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এই নববর্ষের প্রতিপাদ্য।

বাংলা নববর্ষের চেয়ে বড় কোনো সর্বজনীন উৎসব দেশে আর নেই। এ কারণে মানুষে মানুষে মহাপ্রাণের মিলন ঘটানোর বর্ষবরণের এই উৎসব গভীর তাৎপর্যময় হয়ে আছে আমাদের জীবনে। এ উৎসব বাঙালির আত্মপরিচয়, অসাম্প্রদায়িক চেতনা আর শিকড়ের দিকে ফিরে তাকানোর এক মহতী লগ্ন। ইতিহাসের ধুলোবালি মাখা পথ পেরিয়ে বাংলা নববর্ষ আজ যে অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে, তা যেমন গৌরবের, তেমনি সংগ্রামের।

এবারের শোভাযাত্রার মূল কাঠামোর মধ্যে থাকছে চার চাকার কাঠের হাতি, কিশোরগঞ্জের টেপা পুতুল, শান্তির পায়রা, মোরগ ও দোতারা। এর পাশাপাশি মাছ, বাঘ ও হরিণ শাবক, ছাগল ও ছাগশিশু, কাকাতুয়া, ময়ূর ও ঘোড়া। এ ছাড়া বিভিন্ন মুখোশের মধ্যে থাকছে রাজা-রানি মুখোশ, প্যাঁচা, বাঘ, সিংহ, খরগোশ প্রভৃতি।

চারুকলার শিক্ষক শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিটি মোটিফের সঙ্গে বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য মিশে আছে। রংতুলির আঁচড়ে তারা সেই ইতিহাসকে তুলে ধরছেন।

মূল কাঠামোর মধ্যে আছে টেপা পুতুল কিশোরগঞ্জের সংস্কৃতিকে মনে করিয়ে দেবে, মোরগের পেছনে সূর্যের কাঠামো দিয়ে গ্রামীণ সকালের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। শান্তির বার্তা দেবে পায়রা, আর লোকঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে থাকছে সোনারগাঁয়ের কাঠের হাতি। আর বাংলার লোকসংস্কৃতি, বাউল ঐতিহ্য ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে থাকছে দোতারা।

এছাড়া ভয়কে জয় করার প্রত্যয় নিয়ে বাংলা নতুন বছরের ভোরে কণ্ঠ ছেড়ে গান গাইবে ছায়ানট। ছায়ানটের নববর্ষ বরণের প্রভাতি অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা নির্ধারণ করা হয়েছে—‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’।

ছায়ানট সভাপতি সারওয়ার আলী বলেন, দলবদ্ধ আক্রমণের ভয়ের সংস্কৃতি থেকে মুক্ত হয়ে আমরা নির্ভয়ে গান করতে চাই। ইতিহাস স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৬৭ সালে রমনার বটমূলে ছায়ানটের আয়োজনে নববর্ষ বরণের প্রভাতি অনুষ্ঠানের প্রধান বৈশিষ্ট্যই ছিল ভয়ের পরিবেশ থেকে বের হয়ে এসে সংগীতের ভেতর দিয়ে বাঙালি জাতিসত্তার পরিচয়কে তুলে ধরা। পয়লা বৈশাখের এ অনুষ্ঠান কালক্রমে দেশের সব ধর্ম, বর্ণের মানুষের কাছে এক অভিন্ন উৎসবে পরিণত হয়েছে।

সারওয়ার আলী বলেন, এ বছর ছায়ানটসহ দেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও সংবাদপত্রের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা হয়েছে। কিন্তু সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাংবাদিকেরা দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। নির্ভয়ে নিজেদের অবস্থান থেকে নিজেদের লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন। আমরা আশা করব, সেদিন প্রকৃতই আর বেশি দূরে নয়, যখন এমন পরিস্থিতির অবসান হবে। রাষ্ট্র ও সমাজে একটি মুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হবে।

ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক শিল্পী লাইসা আহমদ লিসা জানান, বরাবরের মতোই সংস্কৃতিবিরোধী অপশক্তিকে তুচ্ছ করে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে বাঙালি তার সর্ববৃহৎ উৎসব নতুন বছর বরণ করতে প্রস্তুত হয়েছে। ছায়ানট বলতে চায় ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’, সেখানেই বাঙালির জয়। সব প্রতিকূলতা দূর করে নতুন বছরে আমরা আরও মানবমুখী হতে চাই। তিনি বলেন, মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধবাজরা হাজার হাজার বছরের পারস্য সভ্যতা ধ্বংসলীলায় মত্ত হয়েছে, বিশ্ব জনজীবন যখন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে, তখন শান্তি-কল্যাণ-স্বস্তির আকাঙ্ক্ষাও থাকবে ছায়ানটের এ আয়োজনে।

সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে অনুষ্ঠান শুরু হবে সম্মেলক কণ্ঠে ‘জাগো আলোক-লগনে’ গানের পরিবেশনা দিয়ে। এবার অনুষ্ঠান সাজানো হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন সাঁইর গান, লোকগানের পাশাপাশি, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অজয় ভট্টাচার্য, আবদুল লতিফ, জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্রের গান দিয়ে।

এবারের অনুষ্ঠানে বিশেষ সংযোজন থাকবে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রখ্যাত গণসংগীতজ্ঞ সলিল চৌধুরীর জন্মশতবর্ষ ও প্রয়াত বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা গীতিকার সুরকার ও চিত্রশিল্পী মতলুব আলীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের গান দিয়ে। মোট ২২টি গান পরিবেশিত হবে প্রায় দুই ঘণ্টার এ অনুষ্ঠানে। এর মধ্যে ৮টি থাকবে সম্মেলক গান, আর একক কণ্ঠের গান থাকবে ১৪টি। পাঠ থাকবে দুটি। ছায়ানটের শিশু বিভাগের শিক্ষার্থীসহ সব বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিশিষ্ট শিল্পী মিলিয়ে প্রায় ২০০ শিল্পী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। রমনার বটমূল থেকে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি ও দীপ্ত টেলিভিশন এবং প্রথম আলো ও বিডিনিউজ টুয়েন্টি ফোর ডটকমের ওয়েব পোর্টাল। এ ছাড়া সরাসরি দেখা যাবে ছায়ানটের ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজে।

এদিকে, ‘জাগাও পথিকে, ও সে ঘুমে অচেতন’—প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজন করবে বর্ষবরণ পর্ষদ। রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কে এই শোভাযাত্রা হবে। এ ছাড়া দিনব্যাপী থাকবে গান, আবৃত্তি, নৃত্য, মূকাভিনয়সহ নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন।

গতকাল সোমবার বিকেলে বর্ষবরণ পর্ষদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে দিনব্যাপী এ আয়োজন শুরু হবে সকাল ৯টায় শিশুদের নেতৃত্বে সমবেত কণ্ঠে গানের মধ্য দিয়ে। জাতীয় সংগীত, ধনধান্য পুষ্প ভরা এবং এসো হে বৈশাখ—এই তিনটি গান পরিবেশন করবে তারা। এরপর সকাল সাড়ে ৯টায় ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের মীনাবাজারের সামনে থেকে শুরু হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা। রাপা প্লাজা ঘুরে ২৭ নম্বর সড়ক, ছায়ানট, স্টার কাবাব হয়ে আবার অনুষ্ঠানস্থলে ফিরে আসবে শোভাযাত্রা। এরপর বেলা ১১টা থেকে মীনাবাজার চত্বরে শুরু হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালা। সেখানে থাকবে ব্রতচারী ও ঢালীনৃত্য, মূকাভিনয়, একক আবৃত্তি, একক গান পরিবেশনা।

বেলা ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত মধ্যাহ্নবিরতি শেষে শুরু হবে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার বৈকালিক অধিবেশন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ পর্বে থাকবে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদ ও বিভিন্ন শাখা সংসদ, উঠোন, তপোবন, খেলাঘরসহ বিভিন্ন সংগঠনের পরিবেশনায় সমবেত কণ্ঠে সংগীত। এ ছাড়া বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করবে মুক্তধারা সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্র, উদীচী, স্রোত, কথা আবৃত্তি চক্রসহ বিভিন্ন সংগঠনের বাচিক শিল্পীরা।

একক সংগীত পরিবেশনায় থাকবেন মকবুল আহমেদ, সুকুমার বিশ্বাস, নারায়ণ চন্দ্র শীল, পীযূষ বড়ুয়া, মনিরা রওনক বুবলি, আখি হালদার, শাওন রায়, অরুনিমা আহমেদ প্রথমা, শিল্পী সাহা।

একক আবৃত্তি নিয়ে মঞ্চে উঠবেন বেলায়েত হোসেন, লায়লা আফরোজ, নায়লা তারান্নুম কাকলি, মো. মাসুদ উজ জামান, শিখা সেনগুপ্তা, অনিকেত রাজেশ, শাহদাত হোসেন নিপু, ইকবাল খোরশেদ, অলক বসু, শাহীদা ফাল্গুনী, মোস্তাফিজুর রহমান মামুন, মেহেদী হাসান প্রমুখ। এ ছাড়া ব্রতচারী নৃত্য পরিবেশন করবে তক্ষশীলা বিদ্যালয়, আর মূকাভিনয় পরিবেশন করবে রঙ্গন আহমেদ। পুরো অনুষ্ঠানমালা শেষ হবে সরদার হিরক রাজা ও তার সঙ্গীদের বাউলগান পরিবেশনার মধ্য দিয়ে।

বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ বাঙালি জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দিনটি শুধু নতুন বছরের সূচনা নয়, বরং এক নতুন অধ্যায়ের শুরু। এর মধ্য দিয়েই আসে নতুন সকাল, নতুন স্বপ্ন, নতুন সম্ভাবনা; গড়ে ওঠে মানুষ আর প্রকৃতির মধ্যে অপূর্ব মেলবন্ধন।

যেভাবে এলো পহেলা বৈশাখ: বাংলা সনের প্রবর্তনে দুই মুসলিম শাসকের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য—সুলতান হোসেন শাহ ও মোগল সম্রাট আকবর। তবে অধিকাংশ গবেষকের মতে, আকবরই বাংলা সনের প্রধান প্রবর্তক।

কৃষির সুবিধার্থে আকবরের নির্দেশনায় পণ্ডিত ফতেহ উল্লাহ সিরাজী সৌর সন ও আরবি হিজরি সালের সমন্বয়ে বাংলা সন প্রণয়ন করেন। প্রথমে এর নাম ছিল ‘ফসলি সন’; পরে তা ‘বঙ্গাব্দ’ বা বাংলা সন নামে পরিচিতি পায়।

কেউ কেউ মনে করেন, গৌড়েশ্বর রাজা শশাঙ্কের আমলেই বাংলা পঞ্জিকার সূচনা। তখন খাজনা আদায় হতো চন্দ্রবর্ষ অনুযায়ী, অথচ কৃষিকাজ নির্ভর করত সৌরবর্ষের ওপর। ফলে চৈত্রের শেষ দিনে খাজনা পরিশোধের পর পহেলা বৈশাখে জমিদারেরা মিষ্টান্ন দিয়ে প্রজাদের আপ্যায়ন করতেন। সেখান থেকেই শুরু হয় নববর্ষ উদযাপনের প্রথা, যা ক্রমে সামাজিক উৎসবে রূপ নেয়। আকবরের চালু করা ফসলি সনের এই রেওয়াজ ‘হালখাতা’ হিসেবেও পরিচিত। ফারসি শব্দযুগল ‘হালখাতা’ বলতে নতুন খাতা বোঝায়। এর মাধ্যমে সাধারণত পুরোনো খাতার পুরোনো হিসাব পরিশোধ করে নতুন খাতায় নতুন হিসাব তোলা হয়।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের সমাপ্তি হলে এই অঞ্চলে সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন আসে। পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের শাসনের অধীনে গেলে প্রথম আঘাত আসে ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর। ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ হলেও অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্যের কারণে পূর্ব বাংলার বাঙালির নিজস্ব ঐতিহ্যচেতনা প্রবল হয়ে ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলা নববর্ষ হয়ে ওঠে সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের এক শক্তিশালী প্রতীক।

১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন করলে বাংলা নববর্ষকে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপনের উদ্যোগের পাশাপাশি দিনটিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করে। যদিও পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামরিক শাসনের কারণে এই উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হয়। তবুও বাঙালির জাতীয় চেতনা দমে যায়নি।

রাষ্ট্রচিন্তক আবুল মনসুর আহমদ বলেন, ‘বহুদর্শনের ফলে শহরবাসীর এই যে মনের বিকাশ ও দৃষ্টির প্রসারতা, এটা তারা লাগাইতে চায় নিজের সমাজের ও দেশের কাজে। অপরের দেখাদেখি নিজের লোককে ভাল করিয়া তুলিবার প্রবল ইচ্ছা জাগে তাদের অন্তরে। তারা হইয়া উঠে রিফর্মিস্ট। তারা নিজেদের চাল-চলনে, আচার-ব্যাবহারে, ঈদে-পার্বণে, এমনকি ধর্ম বিশ্বাসে, এক কথায় নিজেদের কালচারে, সংস্কার প্রবর্তন করিয়া সেটাকে করিতে চায় অধিকতর ভব্য, শালীন সুন্দর।’

বর্তমান সময়ে পহেলা বৈশাখ কেবল রমনার বটমূল বা চারুকলায় সীমাবদ্ধ নেই। দেশজুড়ে বৈশাখী মেলা, পান্তা-ইলিশের আমেজ আর নাগরদোলার কিড়িং-কুড়িং শব্দে মুখরিত হয় জনপদ। বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর যুগেও বাঙালির এই প্রাণের উৎসব হারায়নি তার জৌলুস। বরং বিদেশে অবস্থানরত লাখো প্রবাসী বাঙালির মাধ্যমে পহেলা বৈশাখ এখন নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ার থেকে শুরু করে লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ার পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।


ইউনূস ও নূরজাহানের বিরুদ্ধে দুদকে তদন্তের আবেদন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হাম ও অন্য রোগের টিকা ও সিরিঞ্জ ক্রয়ে অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত করে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ড. নূরজাহান বেগমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করা হয়েছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বিপ্লব কুমার দাশ দুদক চেয়ারম্যান বরাবর এ আবেদন দাখিল করেন।

স্বাস্থ্য খাতে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের স্বাস্থ্য ও অর্থ খাত রক্ষা এবং শিশুদের জীবন রক্ষায় জনস্বার্থে এ জালিয়াতি ও দুর্নীতির বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক তদন্ত করা আবশ্যক। হাম ও অন্যান্য রোগের টিকা ক্রয় এবং প্রদানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টাসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের কোনো প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতি রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আবেদনে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাবে প্রায় শতাধিক শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি রাষ্ট্রের একজন সচেতন নাগরিক ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে আমাকে মারাত্মক ব্যথিত, উদ্বিগ্ন এবং চিন্তিত করেছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, সরকারিভাবে শিশুদের হামসহ অন্যান্য জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন রোগের টিকার সংকট এবং এর ফলে সৃষ্ট হাম রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়া ও শিশুর মৃত্যুর সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে, যা সত্যিই উদ্বেগজনক। হামে আক্রান্ত হয়ে একের পর এক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ড. নূরজাহান বেগমের দায় রয়েছে বলে রাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিক এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় মতামত ব্যক্ত করেছেন। এছাড়াও বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হামের টিকা এবং সিরিঞ্জের অভাবকে পূর্ববর্তী সরকারের সৃষ্ট সমস্যা বলে মন্তব্য করছে।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকার টিকা ক্রয়ের পদ্ধতিতে কোনো পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই পরিবর্তন আনে। স্বাস্থ্য খাতে যথেষ্ট (প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা) বাজেট থাকা সত্ত্বেও তারা সময়মতো হামসহ অন্য রোগের টিকা ক্রয় এবং শিশুদের টিকা প্রদান করতে ব্যর্থ হয়।

ফলে বর্তমানে হামের প্রকোপ বেড়ে গেছে, যা একটি মহামারি আকার ধারণ করছে। বিভিন্ন তথ্যসূত্রে জানা যায় যে, এরই মধ্যে শতাধিক শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে এবং হাজার হাজার শিশু অপ্রতুল প্রতিরোধ ব্যবস্থার কারণে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। হাম একটি সংক্রামক ব্যাধি যা দ্রুত সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা ক্রয়ে নতুন পদ্ধতি গ্রহণ এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় সংখ্যক টিকা ও সিরিঞ্জ ক্রয় না করার বিষয়টি সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ না করা এবং স্বাস্থ্য খাতে যথেষ্ট বাজেট থাকা সত্ত্বেও অর্থের সঠিক ব্যবহার না করা দুর্নীতি ও অনিয়মের ইঙ্গিত প্রদান করে। বিভিন্ন সংবাদপত্র এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে এরই মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে টিকা ও সিরিঞ্জ ক্রয়ে সরাসরি অনিয়মের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।


banner close