২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা লিভ টু আপিল আগামী রোববার শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসবে।
আসামি পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, আজ জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চে শুনানির জন্য আপিলটি ছিলো। কিন্তু এই মামলায় হাইকোর্টের অথর জাজ বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান আজ আপিল বিভাগের বেঞ্চে ছিলেন।
নিয়ম অনুযায়ী হাইকোর্টে রায় দানকারী বিচারপতি একই মামলা আপিল বেঞ্চে শুনানি গ্রহণ করতে পারেন না।
এজন্য আগামী রোববার পুনর্গঠিত বেঞ্চে আপিলটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসবে। আদালত বিষয়টিতে আজ নট টুডে আদেশ দিয়েছেন।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন নিহত ও বহু মানুষ আহত হন। ওই গ্রেনেড হামলার ঘটনায় মতিঝিল থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা হয়। ২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সিআইডি এই মামলার তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দিলে শুরু হয় বিচার।
তবে, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এই মামলায় অধিকতর তদন্তে আসামির তালিকায় যুক্ত করা হয় বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৩০ জনকে।
দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন আলোচিত মামলার রায় দেন।
আলোচিত ওই রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন- আব্দুস সালাম পিন্টুর ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন, হুজি’র সাবেক আমির ও ইসলামিক ডেমোক্রেটিক পার্টির আহ্বায়ক মাওলানা শেখ আবদুস সালাম, কাশ্মীরি জঙ্গি আব্দুল মাজেদ ভাট, আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোস্তফা, মাওলানা শওকত ওসমান, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান, মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, মো. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, হোসাইন আহম্মেদ তামিম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. উজ্জল, এনএসআই-এর সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম ও হানিফ পরিবহনের মালিক মোহাম্মদ হানিফ।
বিচারিক আদালতের রায়ে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন ও ১১ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। সে রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামীরা হলেন- খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিএনপি’র সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, হুজি সদস্য হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, শাহাদাৎ উল্লাহ ওরফে জুয়েল, মাওলানা আবদুর রউফ, মাওলানা সাব্বির আহমেদ, আরিফ হাসান ওরফে সুমন, আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম মাওলাদার, মো. আরিফুল ইসলাম, মহিবুল মুত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন, আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন, মো. খলিল ওরফে খলিলুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মো. ইকবাল ওরফে ইকবাল হোসেন, লিটন ওরফে মাওলানা লিটন, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আব্দুল হাই ও রাতুল আহমেদ ওরফে রাতুল বাবু।
এছাড়া, বিচারিক আদালতের রায়ে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) মো. আশরাফুল হুদা ও শহিদুল হক, বিএনপি চেয়ারপারসন ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার, ডিজিএফআই-এর মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন, ডিএমপি’র সাবেক উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) খান সাঈদ হাসান, আরেক সাবেক উপ-কমিশনার (পূর্ব) ওবায়দুর রহমান খান, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক খোদা বক্স চৌধুরী, সিআইডি’র সাবেক বিশেষ সুপার মো. রুহুল আমিন, সাবেক এএসপি আবদুর রশিদ ও সাবেক এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমানকে দুই বছর করে কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এই মামলার আরেকটি ধারায় খোদা বক্স চৌধুরী, রুহুল আমিন, আবদুর রশিদ ও মুন্সি আতিকুর রহমানকে তিন বছর করে কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেন আদালত।
বিচারিক আদালতে এই রায়ের দেড় মাসের মাথায় ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্সসহ মামলার নথি হাইকোর্টে আসে। ২০২২ সালের ৫ ডিসেম্বর থেকে ডেথ রেফারেন্স এবং আসামিদের আপিল ও জেল আপিল শুনানি শুরু হয়। বিচারপতি সহিদুল করিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি চলছিল।
তবে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর হাইকোর্ট বেঞ্চ পুনর্গঠন হলে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি হয়। শুনানি শেষে গত ১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট এই মামলার সব আসামীকে খালাস দিয়ে রায় দেন। সে রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।
সরকারি কার্যালয়গুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণে সব সরকারি দপ্তরের জন্য জরুরি নির্দেশনা দিয়ে পরিপত্র জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
গত সোমবার (১০ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত এই পরিপত্রে জানানো হয়, বঙ্গভবন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পরিকল্পনা কমিশন এবং অর্থ বিভাগের দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতের সিংহভাগই সৌরবিদ্যুৎ থেকে সরবরাহ করতে হবে।
এছাড়া দেশের অন্যান্য সকল সরকারি দপ্তরেও পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা জারি করার সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর বলে গণ্য হবে।
এর আগে গত ৩ আগস্ট সচিবালয়ে সৌরবিদ্যুৎ সংক্রান্ত এক সভায় জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল বসানোর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম ধাপে বঙ্গভবন, তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, সচিবালয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয় ভবন এবং পরিকল্পনা কমিশন ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে।
উক্ত সভায় দেশে সৌর ইনভার্টার উৎপাদনের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানিতে সরকারি সহায়তার নির্দেশও দেওয়া হয়। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে সৌরবিদ্যুৎকে আরও সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক করতে একটি কার্যকর মডেল তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সরকারের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো বিদ্যমান জ্বালানি সংকট কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি সরকারি পর্যায় থেকে দেশজুড়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারিত করা।
গত ১৭ বছরে যেভাবে ব্যক্তি বা দলকেন্দ্রিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, সেই পুরনো ধারায় ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যতে আর সম্পর্ক এগোনোর সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এখন থেকে বাংলাদেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েই দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নির্ধারিত হবে।
উপদেষ্টা বলেন, বিগত সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ভারতের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্কের সুবিধা পেয়েছিল বলে দেশের মানুষের মধ্যে যে ধারণা রয়েছে, সেই অভিজ্ঞতা থেকে সম্পর্ককে নতুন ভিত্তিতে পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ভারতও বর্তমানে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্কের গুরুত্ব অনুধাবন করছে, যাকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি আরও বলেন, কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তিভিত্তিক সম্পর্ক না হয়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক হতে হবে দুটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্রের সম্পর্কের মতো।
উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দুই দেশের নিরাপত্তা বা অন্যান্য যেকোনো ইস্যুতে পারস্পরিক আলোচনার পথ খোলা থাকবে, তবে তা অবশ্যই সমমর্যাদার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। আগামী ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৩টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে এই অধিবেশন শুরু হবে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের লেজিসলেটিভ সাপোর্ট উইং থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এই অধিবেশন আহ্বান করেছেন।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়ার স্বাক্ষর করা রাষ্ট্রপতির এ আদেশটি অবিলম্বে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর অফিসকক্ষে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস লিনাস রাগনার উইকস (Nicolas Linus Ragnar Weeks)।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যকার নিরাপত্তা সহযোগিতা, অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কারিগরি শিক্ষার প্রসার, কারিগরি সহায়তা বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সুইডেনকে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দক্ষ ও বিশ্বমানের মানবসম্পদ তৈরিতে বর্তমান সরকার কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, সুইডেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কেয়ারগিভারসহ দক্ষ জনশক্তির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রশিক্ষণ জোরদার এবং দক্ষ মানবসম্পদ বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সুইডিশ সরকারের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।
আলোচনায় সুইডিশ রাষ্ট্রদূত জানান, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশের সঙ্গেই সুইডেনের ‘দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা কৌশল’ (Bilateral Cooperation Strategy) রয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে সুইডেনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ক্রমেই গভীর হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রেডিমেড গার্মেন্টস ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে সুইডিশ বিনিয়োগও বাড়ছে।
রাষ্ট্রদূত আরও জানান, বর্তমানে সুইডেনে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করছেন। তাঁদের একটি বড় অংশ শিক্ষার্থী।
বৈঠকে সুইডেনে অনিয়মিত অভিবাসনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, অসাধু মানবপাচারকারী চক্রের প্রলোভনে পড়ে কিছু নিরপরাধ মানুষ অনিয়মিত অভিবাসনের শিকার হচ্ছেন।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। উন্নত জীবনের প্রত্যাশা এবং মানবপাচারকারীদের প্রলোভন অনিয়মিত অভিবাসনের অন্যতম প্রধান কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সমস্যা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (IOM) সঙ্গে সমন্বয় করে দেশব্যাপী জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটকে সমগ্র অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সুইডেন রোহিঙ্গা ডোনার গ্রুপের কো-চেয়ার হিসেবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সহায়তার পরিমাণ বাড়ানোর জন্য সুইডেনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সুইডিশ রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের শিক্ষা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুইডেনের কাজ করার আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনই এ সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান।
সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশে সুইডিশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশে বর্তমানে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত সহায়ক ও অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, আগ্রহী আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় সকল প্রকার প্রশাসনিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের জন্য সরকার সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)-এর একটি বিশেষ প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হলে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের বিষয়টি গণমাধ্যম-কে নিশ্চিত করেছেন। অ্যামচেম বাংলাদেশের সভাপতি এবং মাস্টারকার্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ কামালের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এই সাক্ষাতে অংশ নেন। প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, প্রায় দুই মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণ করা সংগঠনটির নতুন কমিটি বাংলাদেশে আরও বৃহৎ পরিসরে মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে এবং দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের বাণিজ্যিক সুসম্পর্ককে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অ্যামচেম প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করে বলেন, দেশের চলমান অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশীদারিত্বকে সরকার অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।
বর্তমান সরকারের কার্যক্রমের পুঙ্খানুপুঙ্খ মূল্যায়ন চলছে এবং শাসনের ছয় মাস বা ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই দেশবাসীর সামনে সরকারের অর্জন, সীমাবদ্ধতা ও আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরবেন। আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে মূলত এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
তথ্য উপদেষ্টা জানান, ১৮০ দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়গুলো নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা কতটা অর্জন করেছে, তা অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে যাচাই করা হচ্ছে। এ কাজের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে তিনি নিজেও সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মূল্যায়ন শেষে প্রধানমন্ত্রী সম্ভবত জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণের মাধ্যমে বা বিশেষ কোনো উপায়ে সব তথ্য জনগণের সামনে পেশ করবেন। তবে এটি চূড়ান্ত হতে এখনও কিছু সময় বাকি।
মন্ত্রণালয়ভিত্তিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, রেলপথ খাতের আধুনিকায়নে সরকার নিরলস কাজ করছে। নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আন্তঃনগর ও কমিউটার ট্রেনের পরিসর বাড়ানো হয়েছে, যার ধারাবাহিকতায় ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে নতুন এক জোড়া ‘অভিযাত্রিক কমিউটার’ ট্রেন চালু করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে দীর্ঘ এক বছরের সফল আলোচনা শেষে ‘সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি’ বা সিইপিএ সম্পন্ন হয়েছে। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের ৮ হাজার ৪২৮টি পণ্য দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার লাভ করবে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে উপদেষ্টা জানান, সিলেট সিটি করপোরেশনে দেশের প্রথম ‘বায়ো-ড্রাইং প্ল্যান্ট’ স্থাপন করা হয়েছে, যা বর্জ্য থেকে বিকল্প জ্বালানি উৎপাদনের মাধ্যমে একটি বৃত্তাকার অর্থনীতি গড়ে তুলতে বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখবে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতির বিষয়ে তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও প্রান্তিক মানুষের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পাইলট প্রকল্পের অধীনে ৭০ হাজার ৮৬১টি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। আগামী ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জে এই কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারের লক্ষ্য হলো ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে সারা দেশের ৪১ লাখ পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান ডিজিটাল পেমেন্ট নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠান ‘ভিসা’র এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট স্টিফেন কারপিন আজ মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন। বৈঠকে তাঁরা বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল কমার্স বা ই-কমার্সের গতি ত্বরান্বিত করা এবং পেমেন্ট বা লেনদেন ব্যবস্থার নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এছাড়া বাংলাদেশের সামগ্রিক ডিজিটাল রূপান্তরে ভিসার পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়েও মতবিনিময় করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্টিফেন কারপিন তিন দিনের এক সংক্ষিপ্ত সফরে গত সোমবার বাংলাদেশে এসে পৌঁছান। আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত তিনি এ দেশেই অবস্থান করবেন। তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন ভিসার ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার গ্রুপ কান্ট্রি ম্যানেজার সুরেশ শেঠি। সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সাথে এই সাক্ষাৎটিকে বাংলাদেশের ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ার পথে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আজ জাতীয় সংসদ ভবনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হবে। বেলা ১১টায় এ সভা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ১৩ আগস্ট। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদ অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের জাতাকলে ভঙ্গুর বাংলাদেশ এখন পুনর্গঠনের সময় এসেছে। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শোষণ-শাসন বাংলাদেশকে একটি ঋণ নির্ভর ও আমদানি নির্ভর ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশসহ সকল ক্ষেত্রে ভঙ্গুর এই রাষ্ট্রটি এবার পুনর্গঠনের পালা। দেশ পুনর্গঠনের এই যাত্রা পথে এসডিজি’র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অনস্বীকার্য। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
তারেক রহমান আরও বলেন, এরই অংশ হিসেবে জনগণের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত অর্থনৈতিক কাঠামো বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই অবকাঠামো দেশের জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনাকে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি’র সঙ্গে সমন্বিত করেছে।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো নির্ধারণ বিষয়ক জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিএনপির জননীতির দিকে লক্ষ্য করলেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে সব সময় বিএনপির সকল পরিকল্পনা এবং কর্মসূচি জনবান্ধব। দেশ ও জনগণের উন্নয়নে- স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯-দফা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’ এবং বর্তমানে রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা। ঐতিহাসিকভাবে প্রতিটিই মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (এমডিজি) কিংবা বর্তমানের সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলের (এসডিজি) ভিশন ও মিশনের সঙ্গে খুব বেশি অমিল নেই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যেভাবে এমডিজি বাস্তবায়নে সাফল্যের পরিচয় দিয়েছিল, এসডিজি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ যথাযথভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলছে। আপনারা লক্ষ্য করবেন, এসডিজির প্রতিপাদ্য ‘নো ওয়ান লিভ বিহাইন্ড’ কিংবা ‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়’ মূলনীতির সঙ্গে বর্তমান সরকারের জননীতিরও মিল রয়েছে।
তিনি বলেন, সকল শ্রেণিপেশা তথা জনগণের স্বার্থ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের নীতি হচ্ছে ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’। বর্তমান সরকারের গৃহীত ‘সংস্কার ও উন্নয়নের পাঁচ স্তম্ভ’র মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, জেন্ডার সমতা এবং জলবায়ু সহনশীলতা এবং সুশাসন এসডিজির এই মূল অগ্রাধিকারগুলোই প্রতিফলিত হয়েছে।
তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে থেকে উত্তরণ এবং এসডিজি বাস্তবায়নে অর্জিত অগ্রগতি সুসংহত করতে বর্তমান সরকার ‘পুনরুদ্ধার-পুনর্বাসন-পুনর্গঠন বা রিকোভারি-রিহ্যাবিলিটেশন-রিকন্সট্রাকশন এই থ্রি-আর কৌশল গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে সাময়িক স্থিতিশীলতা থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত রূপান্তর- সবকিছুই একটি সুসংহত নকশায় বাস্তবায়িত হবে।
তারেক রহমান বলেন, জনগণের রায়ে বর্তমান সরকার গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পরদিন থেকেই নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় কৃষক কার্ড, জনস্বাস্থ্য এবং চিকিৎসা সেবা সহজ করতে ই-হেলথ কার্ডের মতো একাধিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বাস্তবায়ন করে চলছে।
তিনি বলেন, এর মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষক, স্বল্প আয়ের পরিবার ও ঝুঁকিপূর্ণজনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি ভর্তুকি, কৃষি উপকরণ, আর্থিক সহায়তা এবং স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্পোর্টস কার্ড, সারাদেশে ইমাম মুয়াজ্জিন এবং বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয়গুরুদেরকেও সম্মানী ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো না কোনো উপায়ে দেশের প্রতিটি শ্রেণিপেশার মানুষের কাছে সরকারের সহায়তা নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, এভাবে চলতি মেয়াদের মধ্যেই পর্যায়ক্রমে সম্ভাব্য প্রতিটি নাগরিককে সামাজিক সুরক্ষা বলয় এবং আর্থিক সহায়তা কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সুচিন্তিত পথনকশা সরকারের রয়েছে।
‘এসডিজি ভিলেজ’ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এবার রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর এই তিনটি গ্রামকে এসডিজি স্থানীয়করণের একটি পাইলট মডেল হিসেবে প্রাথমিকভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এই গ্রামগুলোতে ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ড, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের ঋণ, স্কুল ড্রেস, মাদ্রাসাভিত্তিক শিক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রাম পর্যটন, ওয়ান ভিলেজ-ওয়ান প্রোডাক্ট, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন ও ইকোট্যুরিজমসহ বিভিন্ন কর্মসূচি একযোগে পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। একইসঙ্গে এর প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হবে।
তিনি বলেন, এই উদ্যোগের সাফল্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে সারাদেশের অন্যান্য গ্রামেও এই মডেল সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আশা করি, এসডিজি ভিলেজ বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারকে একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘ডেভেলপমেন্ট মডেল’ হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার একটি দৃষ্টান্তমূলক প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠবে।
কোনো একক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মাধ্যমে এসডিজি বাস্তবায়ন সম্ভব নয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এর সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সরকার, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, এনজিও, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং প্রতিটি নাগরিকের সম্মিলিত সহযোগিতা।
তিনি বলেন, আশা করি, তিন দিনের এই সম্মেলনে প্রতিটি সমন্বয়কারী মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের অভীষ্টভিত্তিক অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবসম্মত এবং সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
তারেক রহমান বলেন, আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনায় কয়েকটি মৌলিক বিষয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট। এর একটি হলো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, যেখানে থাকবে অবাধ নির্বাচন, আইনের শাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা। আরেকটি মানবিক রাষ্ট্র, যেখানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নাগরিক অধিকার হবে সর্বজনীন। এবং একটি কল্যাণ রাষ্ট্র, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের অর্থনৈতিক সুযোগ ও ন্যায্যতা নিশ্চিত থাকবে।
তিনি বলেন, ২০৩০ সাল নাগাদ টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের লক্ষ্যে আসুন আমরা সবাই দৃঢ় সংকল্প নিয়ে কাজ করি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস. এম. শাকিল আখতার এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ভিসার শ্রেণি বাড়িয়ে বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন ও প্রস্থানকে সহজ ও সুশৃঙ্খল করতে নতুন ভিসা নীতিমালা অনুমোদন করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে ভিসা নীতিমালা ২০২৬ অনুমোদন করা হয়।
রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন ও প্রস্থানকে সহজ ও সুশৃঙ্খল করা; বিদেশি বিনিয়োগ, ব্যবসা ও দক্ষ মানবসম্পদ আকৃষ্ট করা; পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতকে উৎসাহিত করা; প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর নিশ্চিত করা; জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা; পারস্পরিকতা নীতির ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক এবং সেবামুখী অভিবাসন কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিদ্যমান ভিসা পদ্ধতি যুগোপযোগী, নিরাপদ, গতিশীল এবং সহজীকরণের উদ্দেশ্যে নতুন ভিসা নীতিমালা করা হয়েছে।
২০০৬ সালে ভিসা নীতিমালা ভিসার শ্রেণি ৩৩টি ছিল জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন ভিসা নীতিমালায় ৩৪টি ভিসার শ্রেণি নির্ধারণ করা হয়েছে। ভিসা নীতির ভিত্তিতে আগের সব ভিসাসংক্রান্ত সার্কুলার বাতিল করে একটি সমন্বিত ও আধুনিক ভিসা ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বহির্গমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলো সমন্বিতভাবে এটি বাস্তবায়ন করবে।
সদ্য প্রকাশিত চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা ও দক্ষতার শতভাগ নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে কৃত্রিমভাবে পাসের হার কিংবা জিপিএ-৫ বাড়ানোর যে সংস্কৃতি চালু ছিল, বর্তমান নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার তা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে এসেছে।’
সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল খালেক এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামানসহ বিভিন্ন বোর্ডের চেয়ারম্যানগণ উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার চিত্র তুলে ধরে ড. মাহদী আমিন বলেন, ‘বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের মাত্র দুই মাস পর গত ২১ এপ্রিল থেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। প্রথমবারের মতো আমরা সারাদেশে একক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত করেছি। কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা ও বডি ওন ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে খাতার শতভাগ নিরপেক্ষ ও নির্মোহ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে শিক্ষার্থী যেভাবে পড়াশোনা করেছে, ফলাফল ঠিক সেভাবেই এসেছে। এরফলে ফলাফলের ভালো বা মন্দের দিকে না তাকিয়ে আমাদের মনে রাখতে হবে যে, এটিই শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধার প্রতিফলন। যারা প্রত্যাশিত ফলাফল পায়নি, তাদের ভেঙে পড়ার কিছু নেই। সরকার প্রতিটি শিক্ষার্থীর পাশে রয়েছে।’
বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘একটি ভেঙে পড়া রাষ্ট্রকাঠামো রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তবে আমাদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা রয়েছে। গণতান্ত্রিক সরকার এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর যা শিক্ষার্থীদের মাঝে আত্মনির্ভরশীলতা তৈরি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।’
শিক্ষা খাতের চলমান সংস্কার ও নানা উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য পাঠ্যক্রম পরিমার্জন, সংযোজন ও বিয়োজন করা হচ্ছে। এতে নতুন চারটি বই যুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া তৃণমূল থেকে শুরু করে ঢাকা পর্যন্ত বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ফুটবল টুর্নামেন্ট, সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘স্টার্টআপ কম্পিটিশন’ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। একই সাথে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, ক্রীড়া-সংস্কৃতির সন্নিবেশ এবং শিক্ষায় প্রযুক্তির সঠিক সংমিশ্রণে (টেকনোলজিক্যাল ইন্টিগ্রেশন) শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে কাজ চলমান রয়েছে।
পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করায় শিক্ষক, অভিভাবক, পরীক্ষার্থী, শিক্ষা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান শিক্ষা উপদেষ্টা।
একই সাথে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেসব শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভালো ফল করেছে, তাদের কৃতিত্ব তুলে ধরে অনুপ্রেরণা দিন। আর যেসব জায়গায় ঘাটতি বা সমস্যা রয়েছে, তা চিহ্নিত করে সবাই মিলে সমন্বিতভাবে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে কাজ করি।’
শূন্য পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, ‘শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে আমরা খুব শীঘ্রই পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করব, আপনাদের সামনে তার ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে।’
সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘কোনো পরীক্ষার্থী যদি ন্যায্য নম্বর থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকে কিংবা নম্বর প্রদানে কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ে থাকে, তবে রিভিউ কমিটির মাধ্যমে তার সঠিক মূল্যায়ন করা হবে।’
ফল পুনর্নিরীক্ষণ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে ফল পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে শুধু নম্বর যোগ-বিয়োগের আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হতো। কিন্তু এবার আমরা আইনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষার্থীর খাতা যথাযথভাবে পুনর্নিরীক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করেছি। যদি কোনো শিক্ষক মূল্যায়নকালে যথাযথ নম্বর না দিয়ে থাকেন বা অসাবধানতাবশত ত্রুটি হয়ে থাকে, তবে অভিজ্ঞ রিভিউ কমিটির সম্মুখে সেই খাতা পুনরায় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে রিভিউ করা হবে। পরীক্ষার্থীকে তার প্রাপ্য নম্বর বুঝিয়ে দেওয়া হবে।’
চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় শতভাগ ফেল করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে যখন আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলাম এবং কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল নির্মূল করেছিলাম, তখনও প্রাথমিক অবস্থায় শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় চার থেকে পাঁচ গুণ বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ধারাবাহিক ও কঠোর তদারকির মাধ্যমে সেই সংখ্যা আমরা সফলভাবে কমিয়ে এনেছিলাম এবং সামগ্রিক পাসের হার ২৮ শতাংশ থেকে ৭৭ শতাংশে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছিলাম। সেই অভিজ্ঞতা আমাদের রয়েছে।’
ঢাকা ও দেশের অন্যান্য বিশেষ করে উপকূলীয় বা পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের মধ্যে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বৈষম্য সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত পার্থক্যের কারণে ফলের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভিন্নতা তৈরি হয়, যা বিশ্বের যে কোনো দেশেই বিদ্যমান। তবে শিক্ষার সার্বিক গুণগত মান বাড়িয়ে এ বৈষম্য দূর করতে সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয় পর্যায় থেকে বিশেষ তদারকি জোরদার করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবিক অর্থেই আমাদের অন্যতম ঘনিষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, পোশাক রপ্তানি, রেমিট্যান্স এবং বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের (এফডিআই) ক্ষেত্রে দু’দেশের এই অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) বরিশালের গৌরনদী ক্যাথলিক চার্চে আন্তঃধর্মীয় নেতাদের সাথে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বক্তব্য দেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। একই সাথে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশী অভিবাসীরা প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশে আসা মোট বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের (এফডিআই) সিংহভাগই আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে, যা আমাদের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ায় বড় অবদান রাখছে।’
মার্কিন রাষ্ট্রদূত তথ্যমন্ত্রীর নিজ এলাকা বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় ঘুরতে যাওয়ায় তাকে স্বাগত ও অভিনন্দন জানান।
রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করার পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির চর্চা হয়ে আসছে, যা এই অনুষ্ঠানে প্রতিফলিত হয়েছে।’
নিজ দেশের মূলনীতির কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ২৫০ বছর উদযাপন করছে। আমাদের দেশের অন্যতম মূল ভিত্তি হলো ধর্মীয় স্বাধীনতা, যেখানে প্রতিটি মানুষ কোনো ভয়ভীতি বা নিপীড়ন ছাড়া স্বাধীনভাবে নিজ ধর্ম পালন করতে পারে। এই নীতি যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সূচনা থেকেই চলে আসছে।’
প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিশ্বজুড়ে সম্প্রীতির পক্ষে অবস্থান তুলে ধরে বলেও জানান তিনি।
উৎসবে সার্বজনীনতার গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘উৎসব সবার জন্য হওয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্রেও আমরা ঈদ, দেওয়ালি, ক্রিসমাস ও ইস্টারের মতো অনুষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গুরুত্বের সাথে পালন করি, যা বিভিন্ন সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের মানুষের মাঝে মেলবন্ধন তৈরি করে।’
তিনি বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য ধর্মীয় গুরুদের অবদান অপরিসীম। স্থানীয় কোনো ধর্মীয় বিরোধ যেন বড় কোনো সংঘাতে রূপ না নেয়, সে বিষয়ে ধর্মীয় ও স্থানীয় নেতাদের সর্বদা সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। ধর্ম যার যার উৎসব সবার, বাংলাদেশের এই ধারণা একটি চমৎকার উদ্যোগ।’
গৌরনদী ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পুরোহিত ফাদার লিটন ফ্রান্সিস গোমেজের সভাপতিত্বে সভায় গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম, আগৈলঝাড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিরুপম মজুমদার, কলেজ অব ক্রিশ্চিয়ান থিওলজি বাংলাদেশের ভিসি রেভারেন্ড ড. পলাশ রায়সহ সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।