ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পাকিস্তানের আকাশসীমা পরিহার করে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এমতাবস্থায় বিমানের টরেন্টো, রোম এবং লন্ডনগামী ফ্লাইট সমূহের সময়সূচিতে পরিবর্তন করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার থেকে আগামী ৩১ মে পর্যন্ত সময়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এর টরেন্টো, লন্ডন এবং রোম ফ্লাইট সমূহের ফ্লাইটের পরিবর্তিত সময়সূচি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-টরেন্টো ফ্লাইট বিজি ৩০৫ বা ৩০৬ ঢাকা থেকে প্রস্থান ৩ টা ৪৫ মিনিটের পরিবর্তে ৩ টা (৪৫ মিনিট অগ্রগামী করা হয়েছে)। তবে টরেন্টো থেকে প্রস্থান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
ঢাকা লন্ডন ফ্লাইট বিজি ২০১ বা ২০২ ঢাকা থেকে প্রস্থান ৭ টা ৪০ মিনিটের পরিবর্তে ৭ টা (৪০ মিনিট অগ্রগামী করা হয়েছে) এবং লন্ডন থেকে প্রস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।
শুধু বৃহস্পতিবারের জন্য ঢাকা-লন্ডন, ঢাকা থেকে প্রস্থান ৮ টা ৫০ মিনিটের পরিবর্তে ৮ টা ১০ মিনিটে (৪০ মিনিট অগ্রগামী করা হয়েছে)।
এদিকে ঢাকা-রোম ফ্লাইট বিজি ৩৫৫ বা ৩৫৬ ঢাকা থেকে প্রস্থান ১১ টা ৩০ মিনিটের পরিবর্তে ১০ টা ৪৫ মিনিট এবং রোম থেকে প্রস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।
যাত্রীদের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে পরিবর্তিত সময় অনুসারে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এর চেক-ইন কাউন্টারে রিপোর্ট করার জন্য অনুরোধ জানানো যাচ্ছে। যাত্রীদের এই সাময়িক অসুবিধার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আন্তরিক ভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ভারী শিল্পে ব্যবহৃত জ্বালানি ফার্নেস অয়েলের দাম একলাফে প্রায় ১২ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। লিটারে ১১ টাকা ৯২ পয়সা বাড়িয়ে ফার্নেস অয়েলের লিটারপ্রতি নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০৮ টাকা ৭৮ পয়সা। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়ানোর বিষয়টি জানিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন দাম বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা থেকেই কার্যকর হবে।
দাম বাড়ানোর বিষয়ে বিইআরসির সচিব নজরুল ইসলাম সরকারের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) গত ২২ ফেব্রুয়ারির আদেশ অনুযায়ী ২৯ আগস্ট থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশিত ফার্নেস অয়েলের প্ল্যাটস রেটের গড় এবং চলতি সেপ্টেম্বর মাসে আমদানিকৃত ক্রুড অয়েলের সিআইএফ মূল্যের ভিত্তিতে এবং ডলারের বিনিময় হার বিবেচনায় বিইআরসি আইন, ২০০৩ এর ধারা ২২(খ) ও ৩৪ এ প্রদত্ত দায়িত্ব ও ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কর্তৃক সরবরাহকৃত ফার্নেস অয়েলের মূল্যহার সমন্বয় করা হলো।
দেশের কোথাও এলপি গ্যাসের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে এক অনলাইন বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা দেন।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, দেশে এলপি গ্যাসের সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। তবে কিছু জায়গায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দাম নেওয়া হতে পারে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও কেন এলপিজি ঘাটতির কথা শোনা যাচ্ছে এবং কেন অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে তথ্য ও প্রমাণসহ প্রতিবেদন পাঠাতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, জেলা প্রশাসকরা তথ্য পাঠানোর পর আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। যেসব এলাকায় সরবরাহ কম পাওয়া যাবে, সেখানে সরবরাহ বাড়াতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হলে কিংবা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম নেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলপিজি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসনকে অধিকতর সজাগ ও সতর্ক থাকারও নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রাথমিক প্রশাসনিক ও কারিগরি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে প্রায় ২৩ কোটি টাকার একটি প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মধ্য দিয়ে তিস্তা অববাহিকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন প্রতিরোধ, পানিপ্রবাহ ব্যবস্থাপনা এবং উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিকাশের পরিকল্পনা পরবর্তী ধাপে এগোনোর সুযোগ তৈরি হবে।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের যে অঙ্গীকার রয়েছে, প্রস্তাবিত সমীক্ষাকে তার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সমীক্ষার প্রস্তাব পাঠানো এবং মূল প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হওয়া এক বিষয় নয়। প্রকল্পের কারিগরি, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত যৌক্তিকতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ওপরই পরবর্তী কার্যক্রমের অগ্রগতি নির্ভর করবে।
নদীশাসন থেকে যোগাযোগ অবকাঠামো: প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনায় তিস্তা নদী ও এর তীরবর্তী এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে একাধিক অবকাঠামোগত উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১১০ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৬৭টি গ্রোয়েন বা স্পার নির্মাণ ও সংস্কার, ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং এবং ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাঁধের ওপর পাকা সড়ক নির্মাণেরও প্রস্তাব রয়েছে। এতে বন্যাপ্রবণ ও নদীবেষ্টিত এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি বর্ষাকালে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া জনপদগুলোর সঙ্গে সারা বছরের যোগাযোগ বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া নদীশাসনের মাধ্যমে নদীসংলগ্ন প্রায় ১৭০ বর্গকিলোমিটার জমি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে এসব জমি কৃষি ও শিল্পের কাজে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে জমি পুনরুদ্ধারের বাস্তব সম্ভাবনা, পরিবেশগত প্রভাব এবং জমির ব্যবহার কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা বিস্তারিত সমীক্ষায় যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাউবো) মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন রাষ্ট্রীয় বলেছেন, সরকারের এই সমন্বিত পরিকল্পনা নদী রক্ষার পাশাপাশি আঞ্চলিক যোগাযোগ ও সেচব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও এর ওপর নির্মিত সড়ক উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। বর্ষায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এলাকাগুলোতে এই অবকাঠামো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার পাশাপাশি অর্থনৈতিক যোগাযোগের পথ হিসেবেও কাজ করতে পারে।
সমীক্ষায় গুরুত্ব পাবে নদীর গতিপ্রকৃতি: তিস্তা মহাপরিকল্পনার সফলতা শুধু অবকাঠামো নির্মাণের ওপর নির্ভর করবে না; নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি, পলি জমার ধরন, উজান থেকে আসা পানির পরিমাণ এবং ভাটির প্রবাহের সঙ্গে প্রকল্পের সামঞ্জস্যও গুরুত্বপূর্ণ।
নদী বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ এজাজের মতে, নদীর পলি ব্যবস্থাপনা ও গতিপ্রকৃতি বিবেচনায় নিয়ে ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমান বলেন, উজান-ভাটির পানিপ্রবাহ ও কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনতে পারে। এই বিবেচনায় সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় শুধু প্রস্তাবিত অবকাঠামোর ব্যয় ও নির্মাণপদ্ধতি নয়, বরং নদীর ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, পানি সংরক্ষণের সম্ভাবনা এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
পাঁচ জেলার মানুষের প্রত্যাশা: তিস্তার পানিপ্রবাহ ও নদীভাঙনের প্রভাব রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার বিস্তীর্ণ জনপদে পড়ে। শুষ্ক মৌসুমে পানির স্বল্পতা এবং বর্ষায় বন্যা ও নদীভাঙন কৃষি, যোগাযোগ, বসতবাড়ি ও স্থানীয় অর্থনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী চাপ সৃষ্টি করে।
মহাপরিকল্পনার আওতায় নদী তীর সংরক্ষণ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে ভাঙনপ্রবণ এলাকার ঝুঁকি কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি সেচের উন্নয়ন ও পানির কার্যকর ব্যবস্থাপনা কৃষি উৎপাদনে সহায়ক হতে পারে। যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নত হলে কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণেও সম্ভাবনা তৈরি হবে।
তবে এসব সুফল নির্ভর করবে প্রকল্পের নকশা, বাস্তবায়নের মান, পানির প্রাপ্যতা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থ সুরক্ষার ওপর। বিশেষ করে পুনরুদ্ধার করা জমির ব্যবহার, নদীনির্ভর মানুষের জীবিকা এবং প্রকল্পের কারণে সম্ভাব্য পরিবেশগত পরিবর্তনের বিষয়গুলো পরিকল্পনার শুরু থেকেই বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
অনুমোদনের অপেক্ষায় পরবর্তী ধাপ: পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম সাহাবুদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে এগিয়ে নিতে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে ব্যারেজ, নদীশাসন, ড্রেজিং, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি সংরক্ষণসহ প্রকল্পের বিভিন্ন অংশের কারিগরি ও অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা যাচাই করা হবে।
পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি সরকারের অগ্রাধিকার বিবেচনায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের রূপরেখা ও অঙ্গীকার তুলে ধরেন। এর পর প্রকল্পটির প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে অগ্রগতির বিষয়টি সামনে এসেছে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনার সামনে এখন গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো প্রস্তাবিত সমীক্ষা সম্পন্ন করে বাস্তবসম্মত, অর্থনৈতিকভাবে যৌক্তিক ও পরিবেশসম্মত একটি পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা। দীর্ঘদিনের নদীভাঙন ও পানিসংকট মোকাবিলার পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের কৃষি, যোগাযোগ ও শিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তার বাস্তব রূপ নির্ধারিত হবে এই প্রস্তুতিপর্বের সিদ্ধান্ত, অর্থায়ন এবং পরবর্তী বাস্তবায়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে।
৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষা-২০২৫-এ সুপারিশপ্রাপ্ত ৬১১ জন প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয় থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বরের সুপারিশের ভিত্তিতে ৬১১ জনকে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের প্রবেশ পদে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী নির্ধারিত বেতনক্রমে তাদের এ নিয়োগ দেওয়া হয়।
নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ১২ অক্টোবরের মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত কার্যালয়ে যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী চাকরিতে যোগদানে সম্মত নন বলে গণ্য হবেন এবং তার নিয়োগপত্র বাতিল হবে।
প্রজ্ঞাপনের শর্ত অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্তদের দুই বছর শিক্ষানবীশ হিসেবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজন হলে সরকার এ সময় অনূর্ধ্ব আরও দুই বছর বাড়াতে পারবে। শিক্ষানবীশকালে কোনো প্রার্থীকে চাকরিতে বহাল রাখার অনুপযোগী মনে হলে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই এবং পিএসসির সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা যাবে।
বুনিয়াদি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন, বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং শিক্ষানবীশকাল সন্তোষজনকভাবে শেষ হলে সংশ্লিষ্টদের চাকরি স্থায়ী করা হবে।
নিয়োগপ্রাপ্তদের বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র অথবা সরকার নির্ধারিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এরপর চাকরিসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সরকার নির্ধারিত পেশাগত ও বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে।
প্রশিক্ষণে যাওয়ার আগে নিয়োগপ্রাপ্তদের কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের কাছে অঙ্গীকারনামা দিতে হবে। একই সঙ্গে একজন জামিনদারসহ ৩০০ টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বন্ড দিতে হবে।
শিক্ষানবীশকালে অথবা শিক্ষানবীশকাল শেষ হওয়ার পর তিন বছরের মধ্যে চাকরি থেকে ইস্তফা দিলে প্রশিক্ষণকালীন বেতন-ভাতা, প্রশিক্ষণের জন্য নেওয়া অগ্রিম, ভ্রমণভাতা ও অন্যান্য অর্থের পাশাপাশি প্রশিক্ষণের পেছনে সরকারের ব্যয় করা অর্থ ফেরত দিতে হবে।
চাকরিতে যোগদানের সময় আরও একটি ৩০০ টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বন্ড দিতে হবে। এতে নিয়োগপ্রাপ্ত নিজে বা পরিবারের কোনো সদস্য যৌতুক গ্রহণ কিংবা প্রদান করবেন না—এ মর্মে অঙ্গীকার করতে হবে।
এ ছাড়া কোনো নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি বিদেশি নাগরিককে বিয়ে করে থাকলে বা বিয়ের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ থাকলে তার নিয়োগপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। নিয়োগের পর কোনো কর্মকর্তার বিষয়ে বিরূপ বা ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় সংশোধন বা নিয়োগ বাতিলের অধিকারও কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করেছে।
সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ১৩(১) উপবিধি অনুযায়ী, চাকরিতে যোগদানের সময় নিয়োগপ্রাপ্তদের নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন বা দখলে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বিবরণসংবলিত ঘোষণাপত্র সংশ্লিষ্ট ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে।
এ ছাড়া একই বিধিমালার ১৩(২) উপবিধি অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পর ডিসেম্বর মাসে সম্পত্তির মূল্য বৃদ্ধির হিসাবসংবলিত বিবরণী যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে।
প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলা বিভাগে ৬১ জন, ইংরেজিতে ৪৪, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ৪৯, দর্শনে ২৭, অর্থনীতিতে ৩৬, প্রাণিবিদ্যায় ১২, ইতিহাসে ২৭, সমাজকল্যাণে ২২, রসায়নে ২৯, ইসলাম শিক্ষায় ১১, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে ৩০, পদার্থবিদ্যায় ২২ এবং উদ্ভিদবিদ্যায় ২২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সমাজবিজ্ঞানে ১৫, গণিতে ৩০, ভূগোলে ১৫, হিসাববিজ্ঞানে ২৬, মার্কেটিংয়ে ১০, ব্যবস্থাপনায় ৩১, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিংয়ে ১৭, মনোবিজ্ঞানে ৯, কৃষিবিজ্ঞানে ৪, পরিসংখ্যানে ১২, সংস্কৃতে ৩, গার্হস্থ্য অর্থনীতিতে ৬, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে ২৪ এবং খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগে দুজনকে প্রভাষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বিদেশি হজযাত্রীদের জন্য ২০২৭ সালের হজ মৌসুমে একটি সমন্বিত ‘অল-ইন-ওয়ান’ প্যাকেজ চালুর ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। নতুন এই ব্যবস্থায় হজযাত্রার প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সেবা একটি একক ইলেকট্রনিক চুক্তির আওতায় আনা হবে।
সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৭ সালের হজ মৌসুমে বিদেশি হজযাত্রীদের জন্য এই সমন্বিত প্যাকেজ চালু করা হবে। ইলেকট্রনিক পাথ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্যাকেজটি দেওয়া হবে। এতে একজন হজযাত্রীর সৌদি আরবে পৌঁছানো থেকে শুরু করে হজ শেষে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সেবা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত প্যাকেজে চারটি প্রধান সেবা রাখা হয়েছে। এগুলো হলো- পবিত্র স্থানগুলোতে সেবা, মক্কা ও মদিনায় আবাসন, যাতায়াত এবং খাবারের ব্যবস্থা। এর পাশাপাশি হজযাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত কিছু ঐচ্ছিক সেবাও যুক্ত করার সুযোগ থাকবে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদেশি হজবিষয়ক দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলো বিভিন্ন শ্রেণির হজযাত্রীর প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা কর্মসূচি তৈরি করতে পারবে। একই সঙ্গে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য একটি নির্দিষ্ট, স্বচ্ছ ও নমনীয় চুক্তিভিত্তিক কাঠামো থাকবে।
এক প্ল্যাটফর্মে হজের বিভিন্ন সেবা
নতুন ব্যবস্থায় হজযাত্রার বিভিন্ন ধাপকে আরও সমন্বিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এতদিন হজযাত্রার আবাসন, পরিবহন, খাবার ও পবিত্র স্থানসংক্রান্ত সেবার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে আলাদা ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন হতো। নতুন ইলেকট্রনিক ব্যবস্থায় এসব সেবা একটি সমন্বিত চুক্তির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো বিদেশি হজযাত্রীদের জন্য সেবা ব্যবস্থাপনাকে আরও সুসংগঠিত করা এবং হজ পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো।
১৪৪৮ হিজরি হজের আগাম প্রস্তুতি
২০২৭ সালের হজ মৌসুমের জন্য সৌদি আরবের আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই প্যাকেজ চালু করা হচ্ছে। ইসলামী বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ২০২৭ সালের হজ মৌসুম হবে ১৪৪৮ হিজরি।
সৌদি সরকারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা ‘সৌদি ভিশন ২০৩০’ এবং ‘পিলগ্রিম এক্সপেরিয়েন্স প্রোগ্রাম’-এর লক্ষ্যগুলোর সঙ্গেও এই উদ্যোগ সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে জানিয়েছে হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ১৪৪৮ হিজরি হজ মৌসুমের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে ৭৫টির বেশি দেশের হজবিষয়ক দপ্তরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। এসব বৈঠকে হজ ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম, বিভিন্ন বিধিবিধান এবং প্রয়োজনীয় শর্ত নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়েছে।
আরও ডিজিটাল হচ্ছে হজ ব্যবস্থাপনা
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরব হজ ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারও ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে চুক্তি সম্পাদন, সেবা পরিচালনা এবং ভিসা-সংক্রান্ত কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে।
নতুন ‘অল-ইন-ওয়ান’ প্যাকেজও সেই ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ। এর ফলে বিদেশি হজযাত্রীদের সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, হজবিষয়ক দপ্তর এবং সৌদি কর্তৃপক্ষ- সব পক্ষের কার্যক্রম একই ডিজিটাল কাঠামোর মধ্যে সমন্বয় করার সুযোগ তৈরি হবে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের আশা, একক ইলেকট্রনিক চুক্তির মাধ্যমে হজের বিভিন্ন সেবা আরও স্বচ্ছ ও নমনীয়ভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের হজযাত্রীদের প্রয়োজন ও গ্রুপভিত্তিক চাহিদা অনুযায়ী সেবা পরিকল্পনা তৈরির সুযোগও বাড়বে। এ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে ২০২৭ সালের হজ মৌসুমে বিদেশি হজযাত্রীদের পুরো যাত্রাপথকে একটি সমন্বিত সেবা কাঠামোর আওতায় আনার দিকে আরও এক ধাপ এগোচ্ছে সৌদি আরব।
নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ফুটপাত দখলমুক্ত করার উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তিনি বলেন, প্রয়োজনে তাঁর লাশের ওপর দিয়ে হলেও ফুটপাত দখলমুক্ত করার কর্মসূচি চলবে। অরাজকতা ও উচ্ছেদ অভিযানে বাধা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরের হোপ মার্কেট এলাকার ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ডিএনসিসির জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রশাসক বলেন, নগরবাসী যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারেন, সে জন্য ফুটপাত দখলমুক্ত করার যে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, তা কোনো বাধার মুখে বন্ধ হবে না। জনগণের চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে অরাজকতা সৃষ্টিকারী, দুষ্কৃতকারী ও অবৈধ দখলদারদের ইন্ধনে সিটি করপোরেশনের পরিবহন, পুলিশ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল করে রাখা ব্যক্তিদের ও তাদের সহযোগীদের ইন্ধনে মিরপুর-১০-এর অভিযানে এই হামলা হয়।
তিনি বলেন, পরে মিরপুরের সাধারণ মানুষের প্রতিরোধের মুখে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।
প্রশাসক আরও জানান, হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ডিএনসিসি ও পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক মামলা করা হবে। তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বুধবার সকালে মিরপুর-১০ নম্বর হোপ মার্কেট এলাকায় ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। অভিযানকে কেন্দ্র করে হকারদের সঙ্গে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, সিটি করপোরেশনের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর এবং আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং পুনরায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। ডিএনসিসি প্রশাসক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান।
শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, নগরবাসীর স্বার্থে ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রমে নগরবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি অবৈধ দখল ও অরাজকতার বিরুদ্ধে প্রশাসনের অবস্থান কঠোর থাকবে বলেও জানান।
বিকল্প ব্যবস্থা না করে ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সড়ক যানবাহন চলাচলের জন্য এবং ফুটপাত পথচারীদের হাঁটার জন্য উন্মুক্ত রাখা জরুরি। তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদের পাশাপাশি তাদের জন্য বিকল্প স্থান নির্ধারণ করে ব্যবসার সুযোগ দিতে হবে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিরপুরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও হকারদের সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। মিরপুর-১০ ও ১৩ নম্বর এলাকায় ওই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। অভিযানকে কেন্দ্র করে পুলিশ, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
শফিকুর রহমান বলেন, সামাজিক শৃঙ্খলার অভাবে ফুটপাত ও সড়কে ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।
ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান বলেন, গ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে জীবিকার তাগিদে অনেক মানুষ রাজধানীতে এসে ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তাদের অনেককে বিভিন্ন পর্যায়ে চাঁদা দিতে হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এ পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য নির্ধারিত স্থানে ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে তিনি এ সমস্যার টেকসই ও সমন্বিত সমাধানের কথা বলেছিলেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা করে দিলে সেখানে তারা ব্যবসা করতে পারবেন এবং সিটি করপোরেশন যৌক্তিক হারে কর পেতে পারে। তবে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি চলতে দেওয়া উচিত নয়।
শফিকুর রহমানের ভাষ্য, শুধু উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে ফুটপাতের সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়। এর জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে সমন্বিত, সুপরিকল্পিত ও টেকসই উদ্যোগ প্রয়োজন।
উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, দখলদারি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ উন্মুক্ত রাখা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকার সুযোগ নিশ্চিত—দুই বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম, সহকারী সেক্রেটারি ফখরুদ্দিন মানিকসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রবীণ নাগরিকদের আর্থিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বয়স্ক ভাতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার বিস্তৃতি এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও শক্তিশালী করার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত হবে। এবারের প্রতিপাদ্য—‘দীর্ঘায়ুর যুগ: দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করতে ব্যবস্থাপনায় নতুন ভাবনা’ (The Age of Longevity: Rethinking Systems for Longer Lives)। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দিবসের প্রতিপাদ্যও একই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতির ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। দীর্ঘায়ু মানুষের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও পারিবারিক সহায়তার ব্যবস্থাগুলোকে সময়োপযোগী করে তোলার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।
প্রবীণদের স্বার্থরক্ষায় সরকার সচেতন ও সতর্ক উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি কল্যাণমুখী ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জীবনচক্রের প্রতিটি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার পাশাপাশি প্রবীণ বয়সে নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনযাপনের সুযোগ সৃষ্টি, বয়স্ক ভাতা সম্প্রসারণ এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লিখিত কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের ধারণার আলোকে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। প্রবীণদের অবহেলা না করে তাঁদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রাখা এবং সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
প্রবীণ জনগোষ্ঠীর আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বয়স্ক ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি এবং উপকারভোগীর সংখ্যা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের অন্যতম নির্বাচনি অঙ্গীকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী শক্তিশালী করার কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
প্রবীণ ব্যক্তিদের পরিবার ও সমাজের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁদের ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার ওপর দাঁড়িয়েই আজকের বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে। তাই একটি কল্যাণমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রবীণদের প্রতি যত্নশীল দৃষ্টিভঙ্গি অপরিহার্য।
পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—তিন স্তরেই প্রবীণদের প্রতি সম্মান, সহানুভূতি ও দায়িত্বশীলতার চর্চা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং সমাজে সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রবীণ নাগরিকদের স্বার্থরক্ষায় সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তবে রাষ্ট্র ও সমাজে আবহমান কালের ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ যত বেশি বজায় থাকবে, প্রবীণদের যত্ন, সম্মান ও মর্যাদাও তত বেশি সুরক্ষিত থাকবে।
আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে দেশের সব প্রবীণ নাগরিকের প্রতি শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, এমন একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা তাঁর সরকারের লক্ষ্য, যেখানে বয়সে তরুণ কিংবা প্রবীণ—প্রতিটি মানুষ নিজের সর্বোচ্চ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও পরিপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারে।
তিনি ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস-২০২৬-এর সার্বিক সফলতা কামনা করেন।
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪৫ জনে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৯৪৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজন, চট্টগ্রাম বিভাগে একজন, খুলনা বিভাগে দুজন এবং রংপুর বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
একই সময়ে সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগে—৩৪৩ জন। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩২০ জন, খুলনা বিভাগে ২৪৮ জন, বরিশাল বিভাগে ২১২ জন, রাজশাহী বিভাগে ২১১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২১০ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৮৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০২ জন, রংপুর বিভাগে ৯৯ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৪ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ ঢাকা বিভাগেই মারা গেছেন ১১৪ জন।
এ ছাড়া চলতি বছরে খুলনা বিভাগে ৪৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২০ জন, বরিশাল বিভাগে ১৯ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৪ জন, রংপুর বিভাগে ছয়জন এবং সিলেট বিভাগে একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি চিকিৎসাব্যবস্থা প্রস্তুত রাখার ওপর গুরুত্ব রয়েছে।
পেশাদারত্বের পাশাপাশি মানবিকতা ও সেবার মনোভাব নিয়ে জনগণকে পুলিশি সেবা দেওয়ার জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএম। তিনি বলেছেন, জনমুখী পুলিশিংয়ের মূল ভিত্তি হলো জনগণের আস্থা অর্জন এবং সেই আস্থাকে কার্যকর অংশীদারত্বে রূপ দেওয়া।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের মাল্টিপারপাস হলে দুই দিনব্যাপী ‘কমিউনিটি পুলিশিং নীতিমালা প্রণয়ন’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের রেক্টর (অতিরিক্ত আইজি) কাজী মো. ফজলুল করিম, বিপিএম-সেবা।
কর্মশালার উদ্যোগকে ইতিবাচক ও সময়োপযোগী উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধ এবং নিরাপদ সমাজ গঠনে কমিউনিটি ও বিট পুলিশিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ এবং মাদকবিরোধী অভিযান যথাযথভাবে পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল কমিউনিটি গড়ে তুলতে পুলিশ ও জনগণের অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
আলী হোসেন ফকির বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ সততা, ন্যায়সংগত আচরণ ও পারস্পরিক সম্মানের সঙ্গে জনগণকে সেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পারস্পরিক আস্থা অর্জনের মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ সদস্যদের আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে হবে।
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড় খুঁজে বের করে সেরা খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে জাতীয় কাবাডি দল গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত ‘১ম কমিউনিটি পুলিশিং কাবাডি টুর্নামেন্ট-২০২৬’ সারা দেশে প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে বলে জানান আইজিপি।
কাবাডি দেশের জাতীয় খেলা ও গৌরবের অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। পুলিশের সঙ্গে জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়াতেও এ ধরনের কার্যক্রম ভূমিকা রাখছে।
কর্মশালায় ‘বাংলাদেশে কমিউনিটি ও বিট পুলিশিং পুনর্গঠন: একটি জনমুখী, প্রতিরোধমূলক ও গোয়েন্দা-তথ্যনির্ভর পুলিশিং কাঠামোর পথে’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের রেক্টর কাজী মো. ফজলুল করিম।
মূল প্রবন্ধে বিদ্যমান অভিজ্ঞতা ও অর্জনের ভিত্তিতে কমিউনিটি ও বিট পুলিশিংকে আরও প্রতিরোধমূলক, জবাবদিহিমূলক, তথ্যনির্ভর ও জনসম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. সায়েদুর রহমান ও ভাইস রেক্টর ড. মো. আব্দুস সোবহান। তাঁরা কমিউনিটি ও বিট পুলিশিংকে আরও কার্যকর করার বিভিন্ন বাস্তব দিক তুলে ধরে মতামত দেন।
কর্মশালায় মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, মতামত ও সুপারিশ সমন্বয় করে বাংলাদেশ পুলিশের কমিউনিটি ও বিট পুলিশিংকে আরও কার্যকরভাবে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের লক্ষ্যে বাস্তবমুখী ও বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশমালা প্রণয়ন করা হবে।
কর্মশালায় বাংলাদেশ পুলিশের কমিউনিটি অ্যাফেয়ার্স অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন।
কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সার সরবরাহে বিঘ্ন ঘটানো ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলের ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করেছে সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে সার সরবরাহের সাপ্লাই চেইন ঠিক রাখতে ডিজিটাল রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ও এর আওতাধীন কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে বিসিআইসি ও বিএডিসির রাসায়নিক সারের উৎপাদন, মজুদ ও বিতরণ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত দুই বছরে গ্যাস সংকটের কারণে যমুনা ফার্টিলাইজার কারখানায় মাত্র তিন দিন সার উৎপাদন হয়েছে। অন্যদিকে আশুগঞ্জ সার কারখানায় গত ১৯ মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় সার সংকট মোকাবিলা ও ব্যয় কমাতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশে সার উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সুপারিশ করেছে কমিটি।
এ ছাড়া বন্ধ ও পে-অফ করা সার কারখানাগুলোর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাওয়া হয়। বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু এবং পুরোনো সার কারখানাগুলো আধুনিকায়নের মাধ্যমে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
সারের কৃত্রিম সংকট রোধে ডিলারদের কার্যক্রম কঠোরভাবে নজরদারির আওতায় আনার বিষয়েও আলোচনা হয়। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলের ক্ষেত্রে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা পর্যালোচনার পাশাপাশি সার সরবরাহ ব্যবস্থায় ডিজিটাল রিয়েল-টাইম মনিটরিং চালুর পরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে বীজ উৎপাদনে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসরণ করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে বিএডিসির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী—সে বিষয়ে পরবর্তী বৈঠকে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপনের জন্যও সুপারিশ করা হয়েছে।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, সংসদ সদস্য মোছা. তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, মো. মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া ও মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান অংশ নেন।
এ ছাড়া শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তারা, বিসিআইসি, বিএডিসি ও এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা আরও বাড়ানোর জন্য চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করতে বঙ্গভবনে এলে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানান।
এ সময় রোহিঙ্গা সংকটে চীনের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সংকট সমাধান ও টেকসই প্রত্যাবাসনে চীনের উদ্যোগ সহায়ক হবে।
তিনি তৈরি পোশাক, বৈদ্যুতিক যান, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর ও সৌরশক্তিসহ বিভিন্ন খাতে আরও সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
কুনমিং-চট্টগ্রাম করিডর এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডরসহ বহুপাক্ষিক আঞ্চলিক যোগাযোগের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ চীন ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করতে প্রস্তুত।
এ সময় তিনি মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে যোগাযোগ, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে আলোচনা আরো এগিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন।
এ সময় তিনি বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক জোরদারে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের অবদানের প্রশংসা করেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালের চীন সফর এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে তাঁর নিজের এবং বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ ও তরুণ নেতৃত্ব এবং শিক্ষার্থীদের চীন সফরের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এ সকল সফর ও বৈঠক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও গভীর ও সুদৃঢ় করেছে।
তিনি চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই সম্পর্ক সামনের দিনগুলোতে আরো শক্তিশালী ও সুসংহত হবে।
এক হাজার শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ ও অর্থায়নের জন্য রাষ্ট্রপতি চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে জনগণের জন্য উন্মুক্ত জটিল ব্লাড ক্যান্সার চিকিৎসায় চীনা দক্ষতা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা চান। রাষ্ট্রদূত সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
রাষ্ট্রপতি চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সাফল্য কামনা করে বলেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক উন্নয়নে তাঁর অবদান বাংলাদেশ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া, চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিই ইউইন। সূত্র: বাসস
রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানে বড় ধরনের সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, অভিযানে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশের সঙ্গে পূর্ব যোগাযোগ করেননি বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। সার্বিক ঘটনাটির কারণ ও প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিক তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনে ডিএনসিসির উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে হকারদের সঙ্গে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাঁধে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফুটপাত দখলমুক্ত করার সময় ডিশ লাইনের কেবল অপসারণকালে একটি বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে গিয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। সেই আগুন দ্রুত পাশের একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিকট শব্দে ট্রান্সফরমারটি বিস্ফোরিত হলে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হকাররা চড়াও হয়ে সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ধাওয়া করে এবং তাদের তিনটি ময়লার গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের জানান, সংঘাতের পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে মিরপুর ১০ নম্বর থেকে মিরপুর ১৪ নম্বরমুখী সড়কে সাময়িকভাবে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এদিকে ছড়িয়ে পড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট কাজ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।