আগামী ২৮শে মের মধ্যে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধ করতে হবে। না হলে গার্মেন্টস মালিকদের জেলে যেতে হবে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন এ কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে পাঁচজন গার্মেন্টস মালিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। উনারা দেশের বাইরে তো দূরে থাক ঢাকার বাইরে যেতে পারবেন না।
আজ বুধবার সকালে সচিবালয়ে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনে কক্ষে আসন্ন ঈদ উপলক্ষে নৌ পথের যাত্রীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার লক্ষ্যে বিভিন্ন সংস্থার প্রধানের সাথে বৈঠক শেষে তিনি একথা বলেন।
শ্রম উপদেষ্টা আরো বলেন, বকেয়া বেতন ভাতার দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠন থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা এবং কাকরাইলে শ্রম ভবন ঘেরাও কর্মসূচি শুনতে পাচ্ছিলাম। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে মঙ্গলবার রাত ৭ টা পর্যন্ত আমরা সচিবালয়ে গার্মেন্টস মালিক এবং শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সাথে বৈঠক করি। বৈঠকে গার্মেন্টস মালিকরা জানিয়েছেন, তারা ঘর বাড়ি বিক্রি করে হলেও শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করবেন এবং সেটা আগামী ২৮ তারিখের মধ্যে।
উপদেষ্টা জানান, গার্মেন্টস মালিকদের নিশ্চয়তা আমাদেরকে আশান্বিত করেছে। আমরা মনে করছি গার্মেন্টস মালিকরা ২৮ তারিখের মধ্যে তাদের স্ব স্ব গার্মেন্টসের শ্রমিকদের বেতন ভাতা পরিশোধ করবেন। এর অন্যথা হওয়ার সুযোগ নেই।
উপদেষ্টা আরো বলেন, গার্মেন্টস মালিকরা হয় শ্রমিকদের বেতন দেবেন, না হয় জেলে যাবেন। যারা শ্রমিকদের বেতন দিতে পারবেন না, তাদের গার্মেন্টসের মালিক হওয়ার প্রয়োজন নেই। কেউ কেউ হয়তো ফ্যাশন করার জন্য গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠা করেন। আগামীতে এটা হতে দেয়া যাবে না। টিএনজেড গার্মেন্টস এবং মাহমুদ গার্মেন্টসসহ পাঁচটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
এ সময় নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ বিভিন্ন দপ্তর সংস্থার কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা আগামী ঈদ উপলক্ষে নৌ রুটে যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেন।
উপদেষ্টা জানান, এবার ঈদের আগে এবং পরে কোন বাল্কহেড নদীতে চলাচল করতে পারবে না। এছাড়া যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোতে চারজন করে সশস্ত্র আনসার নিয়োজিত থাকবেন। যথাসময়ে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তিনি অনুরোধ জানান।
আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পোস্টাল ব্যালট পেপার প্রবাস থেকে আসা শুরুর মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিস তা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতি আসনে ৪০০ পোস্টাল ব্যালটের জন্য একটি করে বাক্স রাখা হচ্ছে। এবার ৩০০ আসনে প্রবাসে ও দেশে ১৫ লাখেরও বেশি পোস্টাল ভোটিংয়ে নিবন্ধন করেছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন বিকালে সাড়ে চারটার মধ্যে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে যাদের ব্যালট পেপার পৌঁছবে তাদের ব্যালট গণনা করা হবে।
রোববার ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১৫ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে পোস্টাল ব্যালটের স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স লক করেছেন ও তা গ্রহণের জন্য কক্ষ নির্ধারণ করেছেন।
রিটার্নিং অফিসার ইউনুচ আলী নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ব্যালট বাক্স লক করার পর সাংবাদিকদের বলেন, ওসিভি ও আইসিপিভি-ভোটের ব্যবস্থা হয়েছে এবার। পোস্টাল ব্যালটে যারা ভোট দেবেন তাদের ব্যালট পেপার রাখার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। এ ভোটকক্ষে ঢাকা-১৩ আসনের জন্য ২৪টি ব্যালট বাক্স রয়েছে।
ঢাকা-১৩ আসনে পোস্টাল ব্যালটের নিবন্ধিত রয়েছে পাঁচ হাজার ৬১৭ জন, আর ঢাকা-১৫ আসনে সাত হাজার ৪০৫ জন।
ইউনুচ আলী বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছি; তাদের উপস্থিতিতে বাক্স বন্ধ করাসহ সার্বিক কার্যক্রম করা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি সবশেষ ডাক বিভাগের ডাক আসবে। নিয়ম অনুযায়ী বারকোড মেশিন দিয়ে, কিউ আর কোড স্ক্যান করে যথাযথভাবে ল্যাপটপে ডিজিটালি সেভ করা হবে ও ব্যালটের খামটি বাক্সে রাখা হবে।
ইউনুচ আলী জানান, কোন ব্যালট বাক্স, লক নম্বরসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিটি কক্ষে সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তায় থাকবে। সাড়ে চারটার মধ্যে যেসব ব্যালট আসবে তা বাক্সে রাখা হবে। এরপর এলে তা বাক্সে রাখা হবে না, আলাদাভাবে থাকবে।
দায়িত্বশীল কর্মকর্তা অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এএইচএম কামরুল হাসান বলেন, প্রতিনিয়ত ডাক বিভাগ থেকে যেসব পোস্টাল ব্যালট আসবে, তা স্ক্যান করে, চেক করে রেজিস্ট্র এন্ট্রির করে বাক্সে রাখা হবে। ভোটগণনার সময় বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থেকে সব কিছু মিলিয়ে নেবেন; তারপর গণনা করা হবে।
সরবরাহকেন্দ্রিক জটিলতা না থাকলে আসন্ন রমজানে পণ্যমূল্য আরও কমতে পারে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা সেখ বশিরউদ্দিন। তিনি বলেছেন, গত বছরের তুলনায় এবার রমজানে বাজার আরও স্থিতিশীল থাকবে। উৎপাদন, আমদানি, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেটা বিশ্লেষণ করে সামগ্রিক বিবেচনায় এমনটিই মনে হয়েছে। রোববার বিকেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা বিষয়ে টাস্কফোর্সের সভা শেষে এ কথা বলেন তিনি।
প্রতিবার রোজার আগে নানা অজুহাতে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়, এবারও এরকম কোনো আশঙ্কা আছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশে এই মুহূর্তে গ্যাসের সংকট নেই, ডলারের সংকট নেই। বিনিময় হারও স্থিতিশীল। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আমরা ভোজ্যতেলকে বৈচিত্র্যময় করেছি।
এর আওতায় বাজারে প্রায় ৫ লক্ষ টন স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত রাইস ব্র্যান তেল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিযোগিতা আসার ফলে সরকার কর্তৃক স্বীকৃত মূল্যের চেয়েও বাজারে তেলের পাইকারি দাম কম। আমরা আশা করি, বাজারে যত প্রতিযোগিতা বাড়বে, আমরা এই ইনক্লুসিভ পলিসি নেয়ার ফলে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতেই বাজারমূল্য স্থির হবে।
টাস্কফোর্স ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উনারা আমাদের বিশেষ কোনো চ্যালেঞ্জ জানাননি। ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরাও বলছেন বাজারমূল্য স্থিতিশীল। সরবরাহকেন্দ্রিক কোনো জটিলতা যদি না থাকে, তাহলে আশা করা যায় রমজানে পণমূল্য আরও কমবে, ইনশাআল্লাহ।
পদ্মা সেতু নিয়ে উপদেষ্টার মন্তব্য নিয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ২০০৮ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায়িত হওয়ার সময় দেনা ছিল ২ লাখ কোটি টাকা। এ বছর সেটি ২৩ লাখ কোটি টাকার উপরে চলে গেছে। এই সামগ্রিক দায়ের ফলে টাকার মূল্যমান কমেছে ৪৬ ভাগ।
তিনি বলেন, ঋণভিত্তিক যে ব্যয়গুলো করা হয়েছে, সেটি আয় তৈরি করতে পারেনি। এর ফলে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে এবং বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি দায় তৈরি হয়েছে। যে কারণে আইএমএফের কাছ থেকেও ঋণ নিতে হয়েছে।
বশিরউদ্দিন বলেন, শুধু পদ্মা সেতু নয়; কর্ণফুলী টানেল, পদ্মা রেল সেতু, পায়রা বন্দরের মতো বিভিন্ন ধরনের যে অযাচিত ও অপরিণামদর্শী ব্যয় করা হয়েছে, তার সামগ্রিক প্রতিফলন এসেছে নিত্যপণ্যের বাজারে। পদ্মা রেল সেতুতে প্রাক্কলন ছিল ১৪শ কোটি টাকা টোল উঠবে, কিন্তু আসছে মাত্র ২৬ কোটি টাকা। বলা হয়েছিল, পদ্মা সেতু হলে জিডিপি ২ শতাংশ কমে আসবে, কিন্তু উল্টো জিডিপি কমছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, সাংবাদিকদের ওনার অ্যাসোসিয়েশন নোয়াব (নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) অনেক বড় বড় কথা বলে, একটা সাংবাদিকদের ইকুইপমেন্ট তারা দেয় না। জুলাই অভ্যুত্থানে যে ছয়জন সাংবাদিক মারা গেছেন, তাদের সঙ্গে সুরক্ষা সামগ্রী হিসেবে সামান্য হেলমেটও ছিল না।
রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ডিআরইউ এবং গণমাধ্যম ও যোগাযোগ উন্নয়ন সংগঠন সমষ্টি, ইউনেস্কো গ্লোবাল মিডিয়া ডিফেন্স ফান্ডের সহায়তায় ‘সাংবাদিক সহায়তা ডেস্ক হস্তান্তর অনুষ্ঠান’ শীর্ষক ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, কয়েকদিন আগে তারা অনেক বড় সম্মেলন করলেন, সাংবাদিকদের কোনো ইকুইপমেন্ট কথা বলেছেন কেউ? এডিটর কাউন্সিল (সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ) অনেক বড় বড় কথা বলে, এ বিষয়গুলো নিয়ে কোনো কথা বলেছে? আমার জানা নেই। কতজন সাংবাদিক মারা গেল0, সেটা নিয়েও একটা স্টেটমেন্ট দিয়েছে? আমি দেখিনি।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, যারা আপনার প্রতিষ্ঠানের মালিক, যারা অ্যাসাইনমেন্ট কাভার করতে পাঠাচ্ছে, তাদের অনেক দায়িত্ব আছে। সে দায়িত্ব তারা কতটুকু পালন করছে সেই বিষয়ে আপনারা সোচ্চার হবেন।
শফিকুল আলম আরও বলেন, সাংবাদিকরা অনেক ক্ষেত্রে সরকারের অনেক বেশি সমালোচনা করে। কিন্তু এতে যারা প্রকৃত দায়ী তাদের কথা ভুলে যায়। অন্যদের ব্যর্থতার কথাও বলা উচিত।
তিনি আরও বলেন, আমরা সাংবাদিকদের মধ্যে সার্বজনীন ঐক্যের কথা বলি। তবে সেটা শুধু সুবিধাবাদীদের জন্য হোক সেটা কাম্য নয়। সবার মধ্যে সেটা দরকার। একটি গ্রুপ নিজেরা ঐক্য তৈরি করবে, কিন্তু অন্য গ্রুপের এডিটরকে টেনে-হেঁচড়ে আনবে, কিন্তু তখন কিছু বলব না, সেটা হবে না।
প্রেস সচিব বলেন, এই অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আমরা চেষ্টা করেছি আপনারা কতটা প্রাণ খুলে ফ্রি জার্নালিজম করেছেন, সেটা চিন্তা করুন। এ সময় আপনারা ফ্রি ভাবে সমালোচনা করতে পেরেছেন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে সাংবাদিকতার কোনো গাইডবুক নেই। কোনো সেন্সিটিভ বিষয়ে যে ঝুঁকি, সেটি কীভাবে মোকাবিলা হবে; সেটা বলা হয় না।
অনুষ্ঠানে ইউনেস্কো বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রধান ও বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি সুসান ভাইজ সভাপতিত্ব করেন। ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলসহ অনুষ্ঠানে সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, সাংবাদিক সংগঠনের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা, আইনগত সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার প্রতিনিধি, গণমাধ্যম পেশাজীবী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক কঙ্গোতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত এভিয়েশন ট্রান্সপোর্ট ইউনিট কন্টিনজেন্টের নিয়মিত প্রতিস্থাপন কার্যক্রম শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে মোট ৬২ জন শান্তিরক্ষী সদস্য নতুন কন্টিনজেন্ট হিসেবে কঙ্গোতে মোতায়েন হচ্ছেন।
প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে বিমান বাহিনীর ৩৫ জন সদস্য জাতিসংঘের ভাড়া করা ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে রোববার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কঙ্গোর উদ্দেশে যাত্রা করেছেন। অবশিষ্ট ২৭ জন সদস্য একই এয়ারলাইন্সের ভাড়া করা বিমানে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি কঙ্গোর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন।
রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিআর জানায়, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এই কন্টিনজেন্টের নেতৃত্বে থাকবেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ সেলিম জাভেদ। উল্লেখ্য, কঙ্গোতে বিবদমান সংঘাত নিরসনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত দক্ষতা, পেশাদারিত্ব এবং আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে সে দেশের সরকার ও আপামর জনসাধারণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। তাদের অর্জিত এ সুনাম ও সাফল্য অক্ষুণ্ন রেখে শান্তিরক্ষীরা ভবিষ্যৎ দিনগুলোতে যেন আরও উৎকর্ষতা অর্জন করতে পারেন, এ কামনা করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে এক মোনাজাত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আইএসপিআর আরও জানায়, সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (পরিচালন) এয়ার ভাইস মার্শাল জাভেদ তানভীর খান ও বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিমান বন্দরে উপস্থিত থেকে তাদেরকে বিদায় জানান।
উল্লেখ্য, গত ২০ জানুয়ারি বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন কঙ্গোগামী এভিয়েশন ট্রান্সপোর্ট ইউনিট-১৫ কন্টিনজেন্ট সদস্যদের উদ্দেশে বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে ব্রিফিং করেন এবং মিশনের সাফল্য কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন। এসময় তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে তাদেরকে শৃঙ্খলা, সততা, পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী তথা দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনার আহ্বান জানান।
দীর্ঘ দুই মাস বন্ধ থাকার পর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন কার্যক্রম চালু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার বিকেল থেকে এই সেবাটি আবারও সচল করা হয়। মূলত পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন ও প্রার্থী চূড়ান্ত করতে এতোদিন এই সংশোধন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন এনআইডি মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর।
এনআইডি মহাপরিচালক বলেন, আমাদের ভোটার তালিকা সম্পূর্ণ হয়েছে। স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এনআইডি সংশোধন সেবাটি আজ থেকে পুনরায় চালু করা হয়েছে।
কেন এতদিন এই কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল— এমন প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক বলেন, আমাদের ওসিভি (আউট অব কান্ট্রি ভোটিং) ও আইপিসিভি (ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ভোটিং) সিস্টেম নিয়ে বড় কাজ চলছিল। এই সময়ে এসব নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। এখন কাজ শেষ হওয়ায় আমরা স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে এসেছি। এ ছাড়া, ভোটের মাঠে প্রার্থীদের চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টিও এনআইডি কার্যক্রম বন্ধ থাকার অন্যতম কারণ।
উল্লেখ্য, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এনআইডি সংক্রান্ত যেকোনো ভুল তথ্য প্রদান বা পরিবর্তন ঠেকাতে গত বছরের ২৪ নভেম্বর থেকে এনআইডি সংশোধন কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রেখেছিল ইসি। আজ নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে এটি আবারও সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হলো।
অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসাম থেকে অন্তত ১৫ বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠিয়েছে রাজ্য সরকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
তিনি বলেছেন, আসাম থেকে ১৫ জন অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
এক্সে দেওয়া পোস্টে আসামের এই মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘আসাম গভীর রাতে পার্টি নয়, গভীর রাতে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। ঠিক সেটাই হয়েছে; আমাদের সদাসতর্ক থাকা নিরাপত্তা বাহিনী অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ১৫ বাংলাদেশিকে নির্বিঘ্নে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে।’
বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সরবরাহ সংকটে রয়েছে। দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে, তবু চাহিদা অনুযায়ী পাওয়া যাচ্ছে না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পাইপলাইনের গ্যাসের সংকট। বাড়ির লাইনে ঠিকমতো গ্যাস না পেয়ে এলপিজি কিনতে ছুটছেন অনেকে। তবে সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে তারা এলপিজি সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। ফলে ভোগান্তি ও বাড়তি খরচের চাপ বাড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর।
তিতাস সূত্র বলছে, দিনে তাদের চাহিদা ১৮০ কোটি ঘনফুটের বেশি।এর মধ্যে সরবরাহ করা হয় ১৫৫ থেকে ১৬০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে শনিবার এটি আরও ১০ কোটি ঘনফুট কমে ১৪৫ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। এতে ঢাকার অনেক এলাকার গ্রাহক চুলায় গ্যাস পাচ্ছেন না। ফলে এলপিজির দিকে ঝুঁকছেন অনেকে। কিন্তু সেখানেও আছ সিন্ডিকেট। বাজারে এলপিজির সরবরাহও বাড়ছে না। ফলে মাসের শুরুতেই এলপিজি শেষ। বিদ্যুৎ–চালিত চুলায় রান্না করছেন অনেকে। এতে এক চুলায় রান্না করতে সময় বেশি লাগে। এলপিজির সিলিন্ডার খুঁজে পাচ্ছেন না। পেলেও দাম চাইছে ২ হাজার ২০০ টাকা।
মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যানে এলাকার সোহেলী বিশ্বাস বলেন, ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনেছি ২ হাজার টাকায়। শারমীন আকতারের দাবি, ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে তাকে গুনতে হয়েছে ২ হাজার ২০০ টাকা। আর শামীমা সুলতানা নামের একজন গ্রাহকের দাবি, তিনি ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনেছেন ২ হাজার ৫৫০ টাকায়।
তবে এলপিজি আমদানিকারকরা বলছেন, শীতে এলপিজির চাহিদা বেড়ে যায়। মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে চলছে নানা অস্থিরতা। বিশ্ববাজরে এলপিজির সংকট। তাই এখন চাইলেও এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না। এলপিজি পেলেও তা পরিবহনের জন্য জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না। নতুন উৎস খোঁজা হচ্ছে। সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনও (বিপিসি) আমদানির চেষ্টা করছে। আমদানি বাড়ানো গেলেই বাজারে এলপিজির সরবরাহ সংকট কমে আসতে পারে।
রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের জেলা শহরে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ করে সরকারি কোম্পানি তিতাস। সংস্থাটির গ্রাহক আছেন ২৭ লাখ ৭৮ হাজার। এর মধ্যে আবাসিক গ্রাহক ২৭ লাখ ৫৮ হাজার।
তিতাস সূত্র বলছে, দিনে তাদের চাহিদা ১৮০ কোটি ঘনফুটের বেশি।এর মধ্যে সরবরাহ করা হয় ১৫৫ থেকে ১৬০ কোটি ঘনফুট। গতকাল এটি আরও ১০ কোটি ঘনফুট কমে ১৪৫ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। এতে ঢাকার অনেক এলাকার গ্রাহক চুলায় গ্যাস পাচ্ছেন না।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) বলছে, দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। কিছুদিন ধরে সরবরাহ করা হচ্ছে ২৬০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) থেকে সরবরাহ হচ্ছিল প্রায় ৮৫ কোটি ঘনফুট। কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে পাইপলাইনে এলএনজি সরবরাহ করা হয়। রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য গতকাল একটি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা হয়। এতে সরবরাহ নেমে আসে ৫৮ কোটি ঘনফুটে। গতকাল সকাল ছয়টায় বন্ধ করা টার্মিনাল থেকে রাত পৌনে আটটার দিকে গ্যাস সরবরাহ চালু হয়। তবে সরবরাহ বাড়বে ধীরে ধীরে।
পাইপলাইনে গ্যাসের সংকটের কারণে এলপিজির চাহিদা আরও বেড়েছে। বাসায় গ্যাস না পেয়ে অনেকে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে ছুটছেন, তবে বাজারে সংকটের কারণে তা সহজে মিলছে না। কোথাও কোথাও ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে সরকার নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা।
দেশে এলপিজির গ্রাহক এক কোটির বেশি। জাতীয় নির্বাচন ও রমজান সামনে রেখে এলপিজির ঘাটতি এড়াতে আমদানি বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। ব্যবসায়ীরা জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে বাড়তি এলপিজি আমদানির প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।
আমদানিকারকদের ভাষ্য, শীত মৌসুমে চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে এলপিজির সংকট তৈরি হয়েছে। জাহাজ সংকটের কারণেও আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। তবে আমদানি বাড়ানো গেলে ধীরে ধীরে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ওপর সর্বোচ্চ আস্থা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকরা। নির্বাচন কমিশনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পর তারা এ আস্থা জানান বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এম এম নাসির উদ্দিন। গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে দ্য ওয়েস্টিন হোটেলে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন সিইসি।
এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন যে প্রস্তুতি নিয়েছে, তার সব প্রক্রিয়া কূটনীতিকদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। এতে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং কমিশনের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেছেন। স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে কমিশনের প্রতি তারা আস্থাশীল বলে জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের অনিয়ম বা লোকচুরির সুযোগ নেই এ বিষয়টিও কূটনীতিকদের জানানো হয়েছে। কমিশন একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে পারবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কূটনীতিকরা জানতে চান উল্লেখ করে সিইসি বলেন, নির্বাচনের সময় পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও আনসার মোতায়েন থাকবে এ পরিকল্পনার কথাও তাদের জানানো হয়েছে।
সিইসি বলেন, কূটনীতিকরা কমিশনের কর্মপরিকল্পনা ভালোভাবে বুঝেছেন এবং একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজনই যে কমিশনের মূল লক্ষ্য, তা তারা উপলব্ধি করেছেন। ভবিষ্যতে তারা নির্বাচন কমিশনকে সার্বিক সহযোগিতা করবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
এর আগে সকাল ১০টা থেকে দ্য ওয়েস্টিন হোটেলের বলরুমে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশে কর্মরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসে নির্বাচন কমিশন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, বেগম তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ, ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদসহ কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি, নির্বাচনী প্রক্রিয়া, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ, নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্পর্কে কূটনীতিকদের অবহিত করতেই এ বৈঠকের আয়োজন করা হয় বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ চার দিন পিছিয়ে ২৯ জানুয়ারি নতুন তারিখ ধার্য করা হয়েছে। গতকাল রোববার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ তারিখ ধার্য করেন।
রাজধানীর পল্টন থানায় করা এ মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল রোববার। কিন্তু তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন দাখিল না করায় আদালত তারিখ পিছিয়ে নতুন তারিখ ধার্য করেন। এর আগে, ২০ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পাঁচ দিন পিছিয়ে ২৫ জানুয়ারি ধার্য করা হয়েছিল।
আদালতের পল্টন থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে, গত ১৫ জানুয়ারি একই আদালত অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। ওইদিন আদালতে নারাজি দাখিল করেন মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের।
নারাজি দিয়ে অধিকতর তদন্তের দাবি করেন বাদী। নারাজি আবেদনে মামলার বাদী দাবি করেন হাদি হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী শনাক্ত হয়নি। এমনকি মূল রহস্যও উদ্ঘাটিতও হয়নি। এ কারণে বাদী আদালতে নারাজি দেন।
এর আগে গত ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটভুক্ত ১৭ আসামির মধ্যে বর্তমানে ১১ জন কারাগারে আটক রয়েছেন। প্রধান আসামি ফয়সালসহ ৬ জন পলাতক রয়েছেন।
২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে দুষ্কৃতকারীরা ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে অপারেশন শেষে এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে মামলা করেন। হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
উল্লেখ্য, সিআইডি তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর নতুন করে একজন আসামি গ্রেপ্তার করে তারা। প্রধান আসামি ফয়সালের ‘সহযোগী’ রুবেল আহমেদকে গত ২২ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করে ৬ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এদিন আরও ২৪টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গতকাল রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠক শেষে ব্রিফিং করেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ।
২০১৩ সালের অক্টোবরে রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিত্তি স্থাপন করা হয়। ২০২১ সালের শুরুতে একটি ইউনিট উৎপাদনে আসার কথা থাকলেও মহামারীর জটিলতায় তা পিছিয়ে যায়। পরে ইউক্রেন যুদ্ধসহ নানা জটিলতায় প্রকল্পের কাজ আরও বিলম্বিত হয়। সংশোধিত অনুমোদনের ফলে এর শেষ হওয়ার সময় ধরা হয়েছে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত।
মূল উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) ব্যয় ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত প্রথম সংশোধিত ডিপিপিতে সেটি ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি ৮৫ লাখ বাড়িয়ে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ ২২ দশমিক ৬৩ শতাংশ খরচ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ব্যয় বৃদ্ধির পুরো অর্থই মিলবে প্রকল্প ঋণ থেকে।
বিদ্যুৎ প্রকল্পে ২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধি প্রসঙ্গে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ডলারের হিসেবে খুব বেশি ব্যয় বাড়েনি। কিন্তু টাকার অঙ্কে দেখলে অনেক বেশি বৃদ্ধি মনে হয়।
রূপপুর বিদুৎকেন্দ্রসহ একনেকে অনুমোদন পাওয়া ২৫টি প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৪৫ হাজার ১৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ১০ হাজার ৮৮১ কোটি ৪০ লাখ, বৈদেশিক ঋণের ৩২ হাজার ৯৮ কোটি এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ২ হাজার ২৯১ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।
সভায় পরিকল্পনা, অর্থ, পররাষ্ট্র, খাদ্য, ভূমি, স্বরাষ্ট্র, কৃষি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবেশ, পানি সম্পদ, শিক্ষা, বাণিজ্য, বস্ত্র, পাট, বিমান পরিবহন, পর্যটন, স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণ খাতের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুমোদিত উদ্যোগগুলোর মধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের আওতায় আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণ এবং জেলা সড়ক উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ কার্যক্রম অনুমোদিত হয়।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পসমূহের আওতায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে শক্তিবৃদ্ধি এবং পার্বত্য অঞ্চলে পর্যটন সুবিধা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে স্যানিটেশন খাতে নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং কুমিল্লা জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুলিশ ফাঁড়ি, তদন্ত কেন্দ্র, নৌ-পুলিশ স্থাপনা, ট্রাফিক ইউনিট এবং হাইওয়ে থানা নির্মাণের পরিকল্পনা অনুমোদন পায়।
রেলপথ খাতে দোহাজারী হয়ে রামু অতিক্রম করে কক্সবাজার পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প সংশোধিত আকারে অনুমোদিত হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৬৪ জেলায় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিংভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
স্বাস্থ্য খাতে এক হাজার শয্যার বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল স্থাপন এবং পুষ্টি সেবা উন্নয়ন কর্মসূচি অনুমোদন লাভ করে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে সবুজায়ন কার্যক্রম এবং শিল্পভিত্তিক উৎপাদন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
পানি সম্পদ খাতে নদী ড্রেজিং, তীর সংরক্ষণ, বাঁধ ব্যবস্থাপনা এবং আড়িয়াল বিল এলাকার জীবনমান উন্নয়নে ছয়টি পরিকল্পনা অনুমোদিত হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ কার্যক্রম সংশোধিত আকারে অনুমোদন পায়।
সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের স্থায়ী ক্যাম্পাস সংক্রান্ত প্রকল্পের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের দিনে সংঘটিত যেকোনো সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করা হবে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে ‘নির্বাচন বানচালে সহিংস ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়ানোর উসকানি’ রয়েছে উল্লেখ করে উদ্বেগের কথাও জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
গতকাল রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।
শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় গভীর বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করে সরকারের পক্ষ থেকে এটিকে ‘সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের পরিপন্থি’ বলে দাবি করা হয়েছে।
সরকার বলছে, দিল্লিতে দেওয়া বক্তব্যে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সরকারের পতনের আহ্বান জানিয়েছেন এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বানচালের লক্ষ্যে সহিংস ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়ানোর উসকানি দিয়েছেন।
এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে প্রকাশ্যে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং দলীয় অনুসারী ও সাধারণ জনগণকে নির্বাচন ভণ্ডুল করতে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়ানোর আহ্বান জানান।
অন্তর্বর্তী সরকার মনে করে, নয়াদিল্লিতে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়া আন্তঃরাষ্ট্র সম্পর্কের প্রচলিত নীতিমালা, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের পরিপন্থি।
‘এটি বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি একটি স্পষ্ট অবমাননা এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের জন্য একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত’—উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের এই বেপরোয়া উসকানি প্রমাণ করে কেন অন্তর্বর্তী সরকার দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের দিনে সংঘটিত যেকোনো সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য সরকার আওয়ামী লীগকে দায়ী করবে এবং তাদের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে সরকার বলছে, দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত আনার জন্য বারবার অনুরোধ জানানো হলেও ভারত এখনো সে দায়িত্ব পালন করেনি। উল্টো নিজ ভূখণ্ডে তাকে এমন উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি।
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ২৫ জানুয়ারি রবিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ৩২তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় দেশের প্রান্তিক ও বিশেষ সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠীর কল্যাণে ভাতার হার ও আওতা বাড়ানোর নানামুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাসিক ভাতা ৫ হাজার টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা আগে ছিল ২০ হাজার টাকা। এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের মাসিক সম্মানি ভাতাসহ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভিজিএফ কার্যক্রমকে এই কমিটির কার্যপরিধিভুক্ত করার গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়েছে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন করে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৪ জন জেলেকে যুক্ত করে মোট ১৫ লাখ মৎস্যজীবীকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
বয়স্ক ও বিধবা ভাতার ক্ষেত্রেও ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৫৯ লাখ ৯৫ হাজার বয়স্ক ব্যক্তি এখন থেকে ৬৫০ টাকার পরিবর্তে ৭০০ টাকা এবং ৯০ বছরের ঊর্ধ্ব ২ লাখ ৫ হাজার জন মাসিক ১০০০ টাকা হারে ভাতা পাবেন। একইভাবে ২৮ লাখ ৭৫ হাজার বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারী ৭০০ টাকা এবং এই শ্রেণিতে ৯০ বছরের বেশি বয়সীরা ১০০০ টাকা করে মাসিক ভাতা পাবেন। প্রতিবন্ধী ভাতার ক্ষেত্রে ৩৫ লাখ ৮১ হাজার ৯০০ জন ৯০০ টাকা এবং নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ১০০০ টাকা হারে ভাতা প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য মাসিক বৃত্তির হার স্তরভেদে ৫০ টাকা বাড়িয়ে প্রাথমিক থেকে উচ্চতর পর্যায় পর্যন্ত যথাক্রমে ৯৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকা পর্যন্ত পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও জীবনমান উন্নয়নে বড় ধরনের বরাদ্দ বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়ে সভায় জানানো হয়, ক্যানসার, কিডনি ও লিভার সিরোসিসসহ জটিল রোগে আক্রান্তদের এককালীন আর্থিক সহায়তার পরিমাণ ৫০ হাজার টাকা থেকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে। মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৪ হাজার বাড়িয়ে ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ জনে উন্নীত করা হয়েছে, যেখানে একজন মা বর্তমানে মাসিক ৮৫০ টাকা হারে ভাতা পান। এছাড়া খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে ৬০ লাখ পরিবারের জন্য নিশ্চিত করা হয়েছে, যারা ১৫ টাকা কেজি দরে মাসে ৩০ কেজি করে খাদ্য সহায়তা পাবেন। অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নেও ভাতা ও উপবৃত্তির হার বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে ইউনেসকোর গ্লোবাল মিডিয়া ডিফেন্স ফান্ডের সহায়তায় আয়োজিত ‘সাংবাদিক সহায়তা ডেস্ক হস্তান্তর’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম।
২৫ জানুয়ারি আয়োজিত এই সভায় তিনি চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে সংবাদকর্মীদের প্রাণহানির প্রেক্ষাপট টেনে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া প্রসঙ্গে বলেন, ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় ছয়জন সাংবাদিক নিহত হলেও সাংবাদিকদের জন্য ন্যূনতম সুরক্ষা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা হয়নি। সাংবাদিকতার নিরাপত্তা সংকট শুধু সরকারের ব্যর্থতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এই দায় থেকে সংবাদমাধ্যমের মালিকপক্ষ, সম্পাদক পরিষদ ও সাংবাদিকদের পেশাজীবী সংগঠনগুলোও এড়াতে পারে না।’ তিনি উল্লেখ করেন যে, অধিকাংশ গণমাধ্যমই সংঘাতপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় হেলমেট বা টিয়ার গ্যাস প্রতিরোধী সরঞ্জামের সংস্থান করে না। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘অথচ যারা সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন, তারাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।’
অনুষ্ঠানে ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের আইনি হয়রানি ও ঝুঁকি মোকাবিলায় ইউনেসকোর প্রতিনিধি লিনা ফক্স গ্লোবাল মিডিয়া ডিফেন্স ফান্ডের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল জানান, এই নতুন ডেস্কের মাধ্যমে নির্যাতিত সাংবাদিকদের আইনি সহায়তা প্রদান আরও সুসংগঠিত হবে। সংগঠনের সভাপতি আবু সালেহ আকন সাংবাদিকদের বেতনহীন দুরবস্থা এবং কর্মক্ষেত্রে নিপীড়ন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে পেশাদার স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। বিএফইউজে সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন এবং ডিইউজে সভাপতি মো. শহীদুল ইসলামসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এই অনুষ্ঠানে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন। ডিআরইউর কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা এই সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ উদ্যোগে উপস্থিত ছিলেন।