বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
১৫ মাঘ ১৪৩২
ট্রাইবুনালে রাজসাক্ষী মামুনের জবানবন্দি

শেখ হাসিনা-কামালের নির্দেশে জুলাই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১০:৪৮

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অপরাধের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। গণঅভ্যুত্থানের সময় শহীদ প্রত্যেকের পরিবার, আহত ব্যক্তি, দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই জবানবন্দি দেন আবদুল্লাহ আল-মামুন। গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে আসামি হিসেবে রয়েছেন তিনি। সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এ মামলায় দোষ স্বীকার করে নিয়ে ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজসাক্ষী) হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার তিনি রাজসাক্ষী হিসেবে এ মামলার ৩৬তম সাক্ষীর জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামুন বলেন, ‘আমি সাড়ে ৩৬ বছর পুলিশে চাকরি করেছি। পুলিশের চাকরি খুবই ট্রিকি চাকরি। সব সময় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে। আমার এই চাকরিজীবনে আমার বিরুদ্ধে কখনো কোনো অভিযোগ আসেনি। আমি সব সময় যথেষ্ট মানবিকতা ও সচেতনতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছি। চাকরিজীবনের শেষ পর্যায়ে এসে এত বড় গণহত্য আমার দায়িত্বকালীন সময়ে সংঘটিত হয়েছে, তার দায় আমি স্বীকার করছি।’

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের নির্দেশে এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। তিনি বলেন, ‘আমি গণহত্যার শিকার প্রত্যেকের পরিবার, আহত ব্যক্তিবর্গ, দেশবাসী এবং ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আমাকে দয়া করে ক্ষমা করে দেবেন।’

সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ‘আমার এই সত্য ও পূর্ণ বর্ণনার মাধ্যমে সত্য উদ্‌ঘাটিত হলে আল্লাহ যদি আমাকে আরও হায়াত দান করেন, বাকিটা জীবন কিছুটা হলেও অপরাধবোধ থেকে মুক্তি পাব।’

তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগের রাতে ৫০ শতাংশ ভোট ব্যালট বাক্সে ভরে রাখতে শেখ হাসিনাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন তৎকালীন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারী। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে।

২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি বাংলাদেশ পুলিশের ২৭তম মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন জাবেদ পাটোয়ারী। পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে পুলিশ থেকে অবসর গ্রহণের পর তাকে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার।

জবানবন্দিতে সাবেক এই আইজিপি বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর পুলিশে রাজনৈতিক প্রভাব আরও বেড়ে যায়। প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন কিছু কিছু কর্মকর্তা। ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে তাদের সরাসরি যোগাযোগ ছিল।

তিনি বলেন, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান ও এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনীতে দুটি গ্রুপ গড়ে উঠেছিল। একটির নেতৃত্ব দিতেন হাবিব ও আরেকটির নেতৃত্বে ছিলেন মনির।

চৌধুরী মামুন আরো বলেন, ‘এসব কর্মকর্তা প্রায় রাতেই সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বাসায় বৈঠকে করতেন। গোপন সেসব বৈঠক গভীর রাত পর্যন্ত চলত। বৈঠকে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা হলেন সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন-অর-রশীদ, এসবির মনিরুল ইসলাম, ঢাকার ডিআইজি নুরুল ইসলাম, অ্যাডিশনাল ডিআইজি বিপ্লব কুমার, এএসপি কাফী, ওসি মাজহার, ফোরকান অপূর্বসহ আরো অনেকে। এর মধ্যে কারো কারো সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি যোগাযোগ ছিল।’

মামুন বলেন, সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের ব্যক্তিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ থাকায় চেইন অব কমান্ড মানতেন না এসব কর্মকর্তা। কিন্তু আমি চাইতাম তারা পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করুক। মূলত পুলিশ বাহিনীতে গড়ে তোলা দুটি গ্রুপই এসব কর্মকাণ্ড চালাত। এছাড়া দুই গ্রুপের নেতৃত্বদানকারীরা চাইতেন তাদের নিজস্ব বলয়ের লোকজন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পোস্টিং পাক এবং ঢাকায় থাকুক।

জবানবন্দিতে র‍্যাবে থাকাকালীন টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন বা টিএফআই সেলসহ বহু বন্দিশালার বর্ণনাও দেন তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের আটকের প্রস্তাব প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) দিয়েছিল বলে জবানবন্দি দেন আবদুল্লাহ আল-মামুন। তিনি বলেন, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) তৎকালীন প্রধান মোহাম্মদ হারুন রশীদকে সমন্বয়কদের আটকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

মামুন বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন শুরু হওয়ার পর সারাদেশে সেনা মোতায়েন করা হয়। এরপর ১৯ জুলাই থেকে প্রায় প্রতি রাতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের ধানমন্ডির বাসায় কোর কমিটির বৈঠক হতো। বৈঠকে তাদের আন্দোলন দমনসহ সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হতো।

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, এই কোর কমিটির বৈঠকে তিনি, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাংগীর আলম, অতিরিক্ত সচিব টিপু সুলতান, অতিরিক্ত সচিব রেজা মোস্তফা, পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিএমপির ডিবির প্রধান মোহাম্মদ হারুন রশীদ, র‍্যাবের মহাপরিচালক হারুন অর রশিদ, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ কে এম আমিনুল হক, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের প্রধানেরা উপস্থিত থাকতেন।

কোর কমিটির একটি বৈঠকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের আটক করার সিদ্ধান্ত হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। তিনি বলেন, ডিজিএফআই এই প্রস্তাব দেয়। তিনি এর বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি রাজি হন। আটকের দায়িত্ব ডিবিপ্রধান হারুনকে দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত মোতাবেক ডিজিএফআই ও ডিবি তাদের আটক করে। ডিবি হেফাজতে নিয়ে আসে।

জবানবন্দিতে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, সমন্বয়কদের ডিবি হেফাজতে এনে আন্দোলনের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আপস করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। তাদের আত্মীয়স্বজনকেও ডিবিতে নিয়ে এসে চাপ দেওয়া হয়। সমন্বয়কদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে টেলিভিশনে বিবৃতি প্রদানে বাধ্য করা হয়। এ ব্যাপারে ডিবিপ্রধান হারুন অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

ডিবির তৎকালীন প্রধান হারুনকে ‘জিন’ বলে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ডাকতেন উল্লেখ করেন সাবেক আইজিপি। তিনি বলেন, হারুন সরকারের যেকোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে পারদর্শী ছিলেন।

সাবেক আইজিপি ট্রাইব্যুনালে আরও বলেন, আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার, হেলিকপ্টার থেকে গুলি ও ব্লক রেইডের সিদ্ধান্ত হয় রাজনৈতিকভাবে।

তিনি জানান, লেথাল উইপেন ব্যবহারের নির্দেশনা এসেছিল শেখ হাসিনার কাছ থেকে। আর সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান হাবিব, ডিবির হারুন ছিলেন মারণাস্ত্র ব্যবহারে অতিউৎসাহী।

মামুন জবানবন্দিতে বলেন, র‌্যাব-১ এ টিআইএফ নামে গোপন বন্দিশালা ছিল। অন্যান্য র‌্যাবের ইউনিটে ছিল এমন বন্দিশালা। রাজনৈতিক ভিন্নমত ও সরকারের জন্য হুমকি হয় এমন মানুষদের ধরে আনা হতো এখানে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে আসত এসব নির্দেশনা। কখনো নির্দেশনা দিতেন তারেক সিদ্দিকী। আর আয়নাঘরে আটক ও ক্রসফায়ারে হত্যার মতো কাজগুলো করতেন র‌্যাবের এডিসি অপারেশন ও গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক।

এ বছরের ২৪ মার্চ মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি জানান, স্বেচ্ছায় আসামি থেকে রাজসাক্ষী হয়ে সত্য উন্মোচন করতে চান তিনি।

এর আগে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনে আহত, শহীদ পরিবারের সদস্য, চিকিৎসকসহ ৩৫ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ মাসেই এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হওয়ার প্রত্যাশা করছে প্রসিকিউশন।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গ্রেপ্তার হন তৎকালীন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।


মোহাম্মদপুরে সেনাবাহিনীর অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৫

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক বিশেষ অভিযানে ১২ হাজার ৩০টি ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারি ও তার চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সেনা সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে গ্রেপ্তার হওয়া মাদক ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শেরেবাংলা সেনা ক্যাম্প জানতে পারে যে, রাজু নামের এক ব্যক্তি টেকনাফ থেকে ঢাকায় বিশাল মাদকের চালান নিয়ে আসছে। এই খবরের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টা থেকে বুধবার ভোর ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত মোহাম্মদপুরের টাউনহল, তাজমহল রোড ও জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় সাড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— রাজু (৩৫), রনি (৪০), রকি (৩২), সুমন (২৮) ও মহিন (১৮)।

অভিযানের ধারাবাহিকতায় প্রথমে টাউনহল রোড এলাকা থেকে রাজুকে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে তাজমহল রোড ও জেনেভা ক্যাম্প থেকে তার অন্য চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ইয়াবা ছাড়াও ৭১০ পুরিয়া ও ৪০০ গ্রাম গাঁজা, মাদক বিক্রির নগদ ১৫ লাখ ২৬ হাজার ৬২৫ টাকা, ২টি ডিজিটাল ওজন মেশিন এবং ১২টি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ধৃত পাঁচজন ও উদ্ধারকৃত সকল আলামত পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করেছে সেনাবাহিনী।

সেনাবাহিনীর ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, এই চক্রটি উদ্ধারকৃত মাদকসমূহ একজন শীর্ষ মাদক কারবারির কাছে সরবরাহের পরিকল্পনা করছিল, তবে সেই মূল হোতাকে এখনো আটক করা সম্ভব হয়নি। রাজধানীতে মাদক ও অপরাধ নির্মূলে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করে তিনি আরও জানান, “এই সিন্ডিকেটের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে ভবিষ্যতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে। রাজধানীতে মাদক ও অপরাধ দমনে সেনাবাহিনীর এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।”


কূটনীতিকদের পরিবারের নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা জানায়নি ভারত: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কোনো ধরনের নিরাপত্তা-উদ্বেগের কথা সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারতের এই প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি আদতে কোনো বিশেষ বার্তা কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এই ‘সংকেত’ নিয়ে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই বলে তিনি মনে করেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি স্থিতিশীল দাবি করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “বর্তমানে দেশে বড় ধরনের কোনও গণ্ডগোল নেই। ছোটখাটো ধাক্কাধাক্কি বা মারামারি ছাড়া বড় কোনও সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই, তবে সংকেত যে কী, তা একেবারেই বুঝতে পারছি না। এটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। তারা তাদের কর্মচারীদের ফিরে যেতে বলতেই পারেন। কেন বলেছেন, আমি তার কারণ খুঁজে পাই না।”

নির্বাচন পর্যবেক্ষণের বিষয়ে সরকারের সদিচ্ছার কথা জানিয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন যে, সরকার চায় সর্বোচ্চ সংখ্যক বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করুক। এ ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজে থেকে আগ বাড়িয়ে কোনো উদ্যোগ না নিলেও কেউ আসতে চাইলে তাকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

ব্রিফিংয়ে সৌদি আরবে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের পাসপোর্ট ব্যবহারের জটিলতা নিয়েও কথা বলেন উপদেষ্টা। তিনি জানান যে, অতীতে আমাদের প্রশাসনিক ত্রুটি ও দুর্নীতির সুযোগ নিয়ে প্রচুর রোহিঙ্গা হাতে লেখা পাসপোর্ট ব্যবহার করে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছেন। বর্তমানে সৌদি কর্তৃপক্ষের অব্যাহত চাপের মুখে জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করে সরকার প্রায় ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে পাসপোর্ট নবায়ন করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে পাসপোর্ট নবায়ন করার অর্থ এই নয় যে তারা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে গণ্য হবেন। এ প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমাদের ত্রুটির কারণে প্রচুর রোহিঙ্গা বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে সেখানে গেছে বহুবছর আগে। তখন হাতে লেখা পাসপোর্ট ছিল। এর মধ্যে প্রচুর দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যারা আমাদের পাসপোর্ট নিয়ে সৌদি আরবে গেছেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ তাদের পাসপোর্ট নবায়নের জন্য আমাদের ওপর চাপ দিচ্ছে।”


সড়ক নিরাপত্তা ও চক্ষুসেবা নিশ্চিতে বিআরটিসি ও ভিশনস্প্রিংয়ের সমঝোতা চুক্তি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)-এর চালক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উন্নত চক্ষুসেবা প্রদানের লক্ষ্যে ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় রাজধানীর মতিঝিলস্থ ‘পরিবহন ভবন’ এর সভাকক্ষে এই চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। বিআরটিসি’র পক্ষে চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল লতিফ মোল্লা এবং ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের পক্ষে কান্ট্রি ডিরেক্টর মিশা মাহজাবীন এই চুক্তিতে সই করেন। এই সমঝোতার আওতায় প্রায় ৪ হাজার কর্মীকে চক্ষু পরীক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় রিডিং ও প্রেসক্রিপশন চশমা সরবরাহ করা হবে। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে ২০২৭ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রাথমিকভাবে ঢাকা থেকে এই সেবা শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে তা সারাদেশের ডিপো ও ইউনিটগুলোতে বিস্তৃত হবে এবং সেবাগ্রহীতারা মাত্র ৫০ টাকা নিবন্ধন ফি’র বিনিময়ে এই সুযোগ পাবেন।

চক্ষু পরীক্ষার এই উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করে বিআরটিসি চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল লতিফ মোল্লা বলেন, “ঢাকা ও ঢাকার বাইরে আমাদের চালকরা এই চক্ষুপরীক্ষা সেবা কার্যক্রমের আওতায় আসলে, চালকদের চোখ পরীক্ষা করতে পারলে- চালকরা অন্তত চক্ষু সমস্যার কারণে দূর্ঘটনা কম করবে।” মূলত চালকদের সুস্থ চোখের দৃষ্টির মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসের লক্ষ্যেই এই বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মিশা মাহজাবীন তাদের প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, “বাংলাদেশে আমরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে প্রায় পাঁচ লাখ শ্রমিকের চোখ পরীক্ষা করেছি এবং তাদের মধ্যে ৩০ শতাংশের বেশি শ্রমিকের চশমার প্রয়োজন ছিল এবং তারা চশমা পেয়েছেন। আমরা আরও বেশি এ সেবা পৌঁছে দিতে চাই। ২০০১ সাল থেকে ভিশনস্প্রিং নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে চশমা পৌঁছে দিতে কাজ করছে।”

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিআরটিসি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও হিসাব পরিচালক ড. অনুপম সাহা, প্রশাসন ও অপারেশন পরিচালক জনাব মোঃ রাহেনুল ইসলাম এবং কারিগরী ও প্রশিক্ষণ পরিচালক কর্নেল কাজী আইয়ুব আলী। এ সময় কর্পোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের জিএম ও ডিজিএমসহ প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। চক্ষুসেবার এই কর্মসূচি কর্মীদের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি সড়কের জানমালের নিরাপত্তা বিধানেও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।


রেড চিটাগাং ক্যাটল জাত সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

রেড চিটাগাং ক্যাটল (আরসিসির) গুরুত্ব তুলে ধরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, ‘লাল গরুর দেশ চট্টগ্রাম। দুধ হয়তো কিছুটা কম দেয়; কিন্তু মাংসের দিক থেকে এবং জাতগত বৈশিষ্ট্যে রেড চিটাগাং ক্যাটলের তুলনা পৃথিবীর কোথাও নেই। তাই এই জাত সংরক্ষণ করা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।’

উপদেষ্টা বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা এ কে এগ্রো অ্যান্ড ডেইরি হাব-সংলগ্ন মাঠে ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলে ডেইরি খাতের উন্নয়ন: সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রতি বছর প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে গুঁড়াদুধ আমদানি করে। এই টাকা যদি দেশীয় দুধ উৎপাদন বাড়াতে ব্যয় করা হয়, তাহলে আমদানির প্রয়োজন কমবে। গুঁড়াদুধ তরল দুধে ভেজালের ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। তাই আমাদের শপথ নিতে আমদানি কমিয়ে দেশীয় তরল দুধের উৎপাদন বাড়াতে হবে।’

বিদ্যুৎ বিল ও ভর্তুকি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ‘ব্যাপক আলোচনা ও প্রচেষ্টার পর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ বিল রেয়াত এবং ১০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এটি প্রাথমিক উদ্যোগ হলেও ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।’

তিনি খামারি নিবন্ধনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘নিবন্ধন ছাড়া প্রকৃত চিত্র জানা সম্ভব নয়। অনলাইনে নিবন্ধন হলে সব তথ্য এক জায়গায় পাওয়া যাবে এবং নীতিনির্ধারণ সহজ হবে।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপির) মাধ্যমে খামারিরা প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, পিজি গ্রুপ গড়ে উঠেছে এবং অনেকের জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে ডেইরি কার্যক্রম।’ তিনি বলেন, ‘অনেকে বলছেন, লাভ-ক্ষতির হিসাব না করেও এটি এখন তাদের জীবনের অংশ। এর মানে ভবিষ্যতে এখান থেকেই তারা টেকসইভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন।’

নারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দুধ শুধু উৎপাদনের পরিসংখ্যান নয়—মানুষ কতটা দুধ গ্রহণ করছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য দুধ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, যা হাড়ের রোগ ও অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে সহায়ক। এলডিডিপির মাধ্যমে স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘স্কুলে দুধ সরবরাহ শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দরিদ্র ও শহরে শিশুদের জন্য যা কার্যকর উদ্যোগ।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ তরুণদের দেশ। ডেইরি ইন্ডাস্ট্রিতে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। আমরা সংগ্রামী জাতি—দেশের উন্নয়নের জন্য এই সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।’

সেমিনারে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ডেইরি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মিজ শাহীনা ফেরদৌসী, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (কৃত্রিম প্রজনন) মো. শাহজামান খান তুহিন, পরিচালক (সম্প্রসারণ) ডা. বেগম শামছুননাহার, চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (পরিচালক) ডা. মো. আতিয়ার রহমান এবং এ কে এগ্রো অ্যান্ড ডেইরি ফার্মের পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেইন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বয়জার রহমান। এ ছাড়া এলডিডিপির আওতায় ডেইরি হাব কার্যক্রম: বাস্তবায়ন, অগ্রগতি ও সম্ভাবনা শীর্ষক উপস্থাপনা ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করেন প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. মোস্তফা কামাল।


গণমাধ্যমকর্মীদের সংকট নিরসনে দশম ওয়েজ বোর্ড গঠনের দাবি বিএফইউজে-ডিইউজের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

অবিলম্বে গণমাধ্যমসেবীদের জন্য দশম ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদ এবং অন্তর্বর্তীকালীন মহার্ঘ ভাতা ঘোষণার দাবি জানিয়েছে সাংবাদিক সমাজের শীর্ষ দুই সংগঠন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এক যৌথ বিবৃতিতে বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী এবং ডিইউজের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম এই দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন যে, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সাংবাদিকরাও বর্তমানে দিশাহারা অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রায় এক দশক আগে ঘোষিত নবম ওয়েজ বোর্ড এখনো অনেক সংবাদমাধ্যম বিভিন্ন কৌশলে বাস্তবায়ন করছে না, যা সাংবাদিকদের প্রতি চরম বৈষম্য।

বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতারা বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার সাংবাদিকদের এই ন্যায্য দাবি বারবার এড়িয়ে গেছে। এমনকি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার রক্তঝরা আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতনের পর গত দেড় বছরেও অন্তর্বর্তী সরকার সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। সমাজের বিদ্যমান বেতন বৈষম্য নিরসনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বিএফইউজে-ডিইউজে নেতৃবৃন্দ বলেন, “আমরা গণমাধ্যমকর্মীরা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বা অন্য পেশাজীবীসহ কারো বেতন-ভাতা বৃদ্ধির বিরোধী নই। কিন্তু এর ফলে যাতে সমাজে বৈষম্য না বাড়ে, সরকারকে তা নিশ্চিত করতে হবে এবং সমাজের অন্যান্য অংশীজনের বিষয়টিও গুরুত্বসহ বিবেচনায় নিতে হবে।”

সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদার অবনমন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন যে, আগে গণমাধ্যমসেবীদের বেতন-ভাতা সরকারি কর্মচারীদের চেয়ে উন্নত থাকলেও বর্তমানে আমলাতান্ত্রিক প্রভাবে সংবাদকর্মীরা চরমভাবে উপেক্ষিত। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত এই পেশাজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে অবিলম্বে দশম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণার কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে যেসব সংবাদ প্রতিষ্ঠানে এখনো নবম ওয়েজ বোর্ড কার্যকর করা হয়নি, সেখানে বকেয়াসহ তা বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত বেতন-ভাতা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন সংগঠন দুটির শীর্ষ নেতারা।


ঢাকা ও তিন জেলায় নামছে ৩৮ প্লাটুন বিজিবি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ভোটারদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানী ঢাকাসহ চার জেলায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামছেন বিজিবি ৫ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা। আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে ৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৈমুর হাসান এই নিরাপত্তা পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঢাকা সেক্টরের আওতাধীন বিজিবি ৫ ব্যাটালিয়ন এলাকায় সর্বমোট ৩৮ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পাঁচটি সংসদীয় আসনে ১১ প্লাটুন, সাভার ও ধামরাইয়ের দুটি আসনে ৬ প্লাটুন, ফরিদপুরের চারটি আসনে ১৩ প্লাটুন এবং মানিকগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনে ৮ প্লাটুন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। রাজধানীর প্রবেশপথসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হবে যাতে কোনো প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে না পারে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও নিশ্ছিদ্র করতে এবার বিশেষায়িত কে-৯ ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজিবি। পাশাপাশি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত ও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করার জন্য বিজিবির র‍্যাপিড অ্যাকশন টিম (র‍্যাট), কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ) এবং প্রয়োজনে আকাশপথে টহল বা উদ্ধারকাজের জন্য হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও আধুনিকতা নিশ্চিত করতে এবার সদস্যদের জন্য বডি ওর্ন ক্যামেরা, নাইট ভিশন ডিভাইস, এপিসি এবং উন্নত সিগন্যাল সরঞ্জাম ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যাটালিয়ন সদরে একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।

বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৈমুর হাসান বিজিবির ভূমিকা স্পষ্ট করে জানান যে, এবারের নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের কোনো পূর্ব নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞা নেই। যদি কোনো প্রিজাইডিং অফিসার সহায়তা চান অথবা কেন্দ্রে সহিংসতা বা জাল ভোটের মতো কোনো অনিয়মের আশঙ্কা তৈরি হয়, তবে বিজিবি সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন। সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেবে না যুক্তরাষ্ট্র: সিইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

আপডেটেড ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৫:১৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের পক্ষ নেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। আজ বুধবার দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জানান, নির্বাচনের ফলাফল কী হবে তা সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের ওপর নির্ভর করছে এবং তারাই এটি নির্ধারণ করবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসা যেকোনো সরকারের সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র নিবিড়ভাবে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে।

বৈঠক প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত জানান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাকে নির্বাচনী প্রস্তুতির সার্বিক বিষয়ে অবহিত করেছেন এবং তিনি নিজে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলের বিষয়ে যথেষ্ট আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। যদিও সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি, তবে তার বক্তব্যে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। এর আগে বেলা ১১টার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ইসি ভবনে আসেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। ইসি সূত্রে জানা গেছে, এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সার্বিক আয়োজন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য ঢাকায় পৌঁছান ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার এই সন্ধিক্ষণে সিইসি’র সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই আলোচনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আন্তর্জাতিক মহলের কাছে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদূতকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে কমিশন বদ্ধপরিকর এবং সব ধরনের প্রস্তুতি সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে চলছে।


প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি শুরু হয়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ঠিক দুই সপ্তাহ আগে এই উচ্চপর্যায়ের সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হওয়ায় একে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৈঠকটি মূলত বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং আসন্ন নির্বাচনের সামগ্রিক প্রস্তুতি কেন্দ্রিক বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে, সে বিষয়ে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন আগ্রহ প্রকাশ করতে পারেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে এটিই তার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক, যা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্ব বহন করে।

উল্লেখ্য যে, ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন গত ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য ঢাকায় পৌঁছান। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের সঙ্গে দেখা করছেন। সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তারিখ ঘনিয়ে আসায় আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি এখন বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর নিবদ্ধ। এমন পরিস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে এই আলোচনা নির্বাচনী স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ভোটারদের আস্থা ফেরানো এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আজকের বৈঠকে এই বিষয়গুলোর পাশাপাশি সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হতে পারে। বৈঠকের বিস্তারিত ফলাফল ও সুনির্দিষ্ট আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে পরবর্তীতে কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হতে পারে। মূলত একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহায়তার ক্ষেত্র এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুরক্ষা নিয়ে এই বৈঠকে আলোকপাত করার সম্ভাবনা রয়েছে।


ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালু বৃহস্পতিবার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সরাসরি আকাশপথের যোগাযোগ পুনরায় স্থাপিত হতে যাচ্ছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ঢাকা-করাচি রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে নতুন এই যাত্রার সূচনা করবে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ২০১২ সালে এই রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার দীর্ঘ ১৪ বছর পর আবারও নিয়মিত যাতায়াতের সুযোগ পাচ্ছেন দুই দেশের যাত্রীরা। এই সরাসরি সংযোগের ফলে যাত্রীদের ভ্রমণের সময় যেমন বাঁচবে, তেমনি যাতায়াত খরচেও বড় ধরনের সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, ঢাকা থেকে করাচির দূরত্ব প্রায় ১ হাজার ৪৭১ মাইল। এই রুটে ১৬২ আসনের আধুনিক বোয়িং ৭৩৭ মডেলের উড়োজাহাজ দিয়ে আপাতত সপ্তাহে দুই দিন ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ও শনিবার নিয়মিতভাবে ফ্লাইটগুলো ঢাকা থেকে করাচির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে এবং পুনরায় ঢাকায় ফিরে আসবে। সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় এখন মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে, যা আগে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ট্রানজিট হয়ে যাওয়ার কারণে দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ ও ক্লান্তিকর ছিল।

নতুন এই রুটে যাত্রীদের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম। তিনি জানান, বৃহস্পতিবারের প্রথম ফ্লাইটের সবকটি টিকিট ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে এবং দ্বিতীয় ফ্লাইটেরও ৮০ শতাংশের বেশি আসন বুকিং হয়ে গেছে। সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় এতদিন যাত্রীদের দুবাই বা দোহার মতো দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হতো। এখন ট্রানজিটের ঝামেলা না থাকায় ভ্রমণ হবে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যের। এছাড়া খরচের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে বিশাল পরিবর্তন। আগে যেখানে ট্রানজিটসহ যাতায়াতে বিপুল অর্থ ব্যয় হতো, এখন সরাসরি ফ্লাইটে রাউন্ড ট্রিপে সর্বনিম্ন ৫১ হাজার টাকায় যাতায়াত করা যাবে। এতে যাত্রীদের অন্তত ৩০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হবে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা এই রুটটি পুনরায় চালু হওয়াকে অত্যন্ত কৌশলগত ও বাণিজ্যিক গুরুত্বসম্পন্ন বলে অভিহিত করেছেন। দ্য বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলমের মতে, ঢাকা-করাচি রুটে সরাসরি বিমান চলাচল কেবল যাত্রী পরিবহনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি দুই দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে। বিশেষ করে কার্গো বা পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এখানে বিশাল এক সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে। পাকিস্তান প্রতিবছর পর্যটন খাত থেকে বড় অঙ্কের রাজস্ব আয় করে, ফলে সরাসরি যাতায়াতের সুযোগে বাংলাদেশি ভ্রমণপিপাসুদের জন্যও এটি একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে।

উল্লেখ্য যে, দীর্ঘ সময় পর এই সরাসরি ফ্লাইট চালুর মাধ্যমে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও পর্যটন খাত আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ট্রানজিটের দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও অতিরিক্ত ব্যয় কমিয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে দ্রুত যাতায়াতের এই ব্যবস্থা সাধারণ যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবারের আনুষ্ঠানিক যাত্রার মাধ্যমে আকাশপথের এই শূন্যতা পূরণের পাশাপাশি আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি আরও সুদৃঢ় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে সেন্টমার্টিন ও টেকনাফে বিজিবির দুটি আধুনিক বিওপি উদ্বোধন করলেন মহাপরিচালক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন দ্বীপের সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুসংহত করতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) উদ্বোধন করেছেন। টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর আওতাধীন এই বিওপি দুটির একটি হলো সেন্টমার্টিন বিওপি এবং অন্যটি টেকনাফের লেঙ্গুরবিলে নবসৃজিত ‘সী-বিচ বিওপি’। গতকাল এক আনুষ্ঠানিক সফরের মাধ্যমে তিনি এই আধুনিক স্থাপনা দুটির উদ্বোধন সম্পন্ন করেন।

সেন্টমার্টিন বিওপি উদ্বোধনের মাধ্যমে দ্বীপটির সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন গতিশীলতা ও কার্যকারিতা যুক্ত হয়েছে। এখানে বিজিবি সদস্যদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত সৈনিক লাইন নির্মাণ করা হয়েছে, যা মূলত সীমান্তে দায়িত্বরত সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং মনোবল সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে। এই বিওপিটির একটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। উল্লেখ্য যে, ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) এই দ্বীপের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল। পরবর্তীতে দায়িত্বটি বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হলেও সীমান্তের গুরুত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা বিবেচনা করে ২০১৯ সালের ৭ এপ্রিল পুনরায় সেখানে বিজিবি মোতায়েন করা হয়। বর্তমান বিওপিটি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সেন্টমার্টিন দ্বীপের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিজিবির কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্তভাবে শুরু হলো।

সেন্টমার্টিন সফর শেষে মহাপরিচালক টেকনাফের লেঙ্গুরবিল এলাকায় নবনির্মিত ‘সী-বিচ বিওপি’ উদ্বোধন করেন। অত্যন্ত আধুনিক এবং দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই বিওপিতে দায়িত্বরত সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় সকল আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজিবি সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, নতুন এই বিওপিটি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি সেখানে অবস্থানরত সদস্যদের মনোবল ও অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এখানে আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ বিজিবির নজরদারি ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

বিজিবি মহাপরিচালক এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সীমান্ত সুরক্ষা ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবির সদস্যদের সর্বদা সজাগ থাকার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ফলে বিজিবি সদস্যরা আরও উৎসাহের সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। বিশেষ করে সেন্টমার্টিন ও টেকনাফ সীমান্তে মাদক পাচার রোধ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে এই আধুনিক বিওপিগুলো অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। মূলত সীমান্ত সুরক্ষায় বাহিনীকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করে তোলার চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই উন্নয়নমূলক পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে।


সাতক্ষীরা জেলার প্রশাসনিক মর্যাদা বৃদ্ধি: ‘বি’ থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করে প্রজ্ঞাপন জারি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাতক্ষীরা জেলাকে ‘বি’ থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরির জেলায় উন্নীত করেছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে জেলাটির প্রশাসনিক গুরুত্ব যেমন বাড়বে, তেমনি সরকারি জনবল ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২০ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১১৯তম সভায় বিশেষ বিবেচনায় সাতক্ষীরা জেলাকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এই অনুমোদনের প্রেক্ষিতেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই প্রজ্ঞাপন জারি করল। নতুন এই মর্যাদা অনুযায়ী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এখন জেলাটির প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামো এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধাদি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু করবে।

সাতক্ষীরা জেলাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পেছনে বেশ কিছু যৌক্তিক কারণ তুলে ধরেছে সরকার। নিকারের সভায় এই প্রস্তাব অনুমোদনের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে সাতক্ষীরা বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলা। বিশেষ করে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের একাংশ এই জেলায় অবস্থিত। পাশাপাশি সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দেশের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে পরিণত হয়েছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে। এই সামগ্রিক কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনা করেই জেলাটিকে ‘এ’ ক্যাটাগরির মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণত কোনো জেলায় উপজেলার সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে এর শ্রেণি নির্ধারণ করা হয়। যে সব জেলায় ৮টি বা তার বেশি উপজেলা থাকে, সেগুলোকে ‘এ’ ক্যাটাগরি, ৫ থেকে ৭টি উপজেলা থাকলে ‘বি’ ক্যাটাগরি এবং ৫টির কম উপজেলা থাকলে ‘সি’ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে অবস্থানগত কারণে বিশেষ গুরুত্ববহ জেলাগুলোকে সরকার বিশেষ বিবেচনায় উচ্চতর ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। সাতক্ষীরার ক্ষেত্রেও এই বিশেষ বিবেচনায় মর্যাদার পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এর আগে ২০২০ সালের ৬ আগস্ট সর্বশেষ জেলাগুলোর শ্রেণি হালনাগাদ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পরিপত্র জারি করা হয়েছিল। দীর্ঘ কয়েক বছর পর সাতক্ষীরা জেলার এই মানোন্নয়ন স্থানীয় প্রশাসনে নতুন গতিশীলতা আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে জেলা পর্যায়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দ এবং জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পাবে সাতক্ষীরাবাসী। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে জেলার সামগ্রিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।


ঢাকায় বাতাসের মান ‘চরম অস্বাস্থ্যকর’: বায়ুদূষণে বিশ্বজুড়ে শীর্ষে বাংলাদেশের রাজধানী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি ২০২৬), বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। সকাল থেকেই ঢাকার বাতাসের মান জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘এয়ার ভিজুয়ালের’ এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) অনুযায়ী, আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা ৩১৪ স্কোর নিয়ে বিশ্বে দূষণের তালিকায় প্রথম অবস্থানে উঠে আসে। এই স্কোর মূলত বাতাসের মানকে ‘চরম অস্বাস্থ্যকর’ বা বিপজ্জনক হিসেবে নির্দেশ করে।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মিশরের রাজধানী কায়রো, যার একিউআই স্কোর ছিল ২৫০। তালিকার তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল এবং এর ঠিক পরেই অবস্থান করছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। প্রতিদিনের এই সূচক অনুযায়ী, বাতাসের মান যখন ৩০১-এর বেশি হয়, তখন তা মানবদেহের জন্য ‘বিপজ্জনক’ বা ‘চরম অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ঢাকা আজ সেই বিপজ্জনক সীমা অতিক্রম করায় নগরবাসীর স্বাস্থ্যঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।

এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের মানদণ্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বায়ুর মান শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে তা ভালো এবং ৫১ থেকে ১০০ এর মধ্যে হলে তা মধ্যম মানের হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু ঢাকার বর্তমান স্কোর ৩০০ ছাড়িয়ে যাওয়ায় এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি সতর্কতা সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত শুষ্ক আবহাওয়ায় বাতাসে ধূলিকণা ও অন্যান্য দূষিত পদার্থের মিশ্রণ সহজে ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে দূষণের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

বায়ুদূষণ বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, শীতকালীন শুষ্ক আবহাওয়া ছাড়াও অপরিকল্পিত নির্মাণকাজ, যানবাহনের ধোঁয়া এবং চারপাশের শিল্পকারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত বাতাস ঢাকার বায়ুমানকে দিন দিন আরও নাজুক করে তুলছে। এমন অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতিতে বিশেষ করে শিশু, বয়োজ্যেষ্ঠ এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভোগা রোগীদের জন্য ঘরের বাইরে বের হওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। জরুরি প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। শহরের এই বিরূপ পরিবেশ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী এবং কার্যকর সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।


সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির কারণে চাকরি হারিয়েছেন ১২ লাখ কর্মী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। এ বছর নভেম্বরে এ অর্জনের ফলে একদিকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং মানব সম্পদের উন্নয়নের স্বীকৃতি পাবে দেশ। অন্যদিকে শুল্কমুক্ত সুবিধা কমবে, বিদেশি রেয়াতি ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে, পাশাপাশি বেশ কিছু চ্যালেঞ্জে পড়বে বাংলাদেশ। সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির কারণে ১২ লাখ মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। আগামী ৬ মাসে আরো ১২ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারাবে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীতে এলডিসি উত্তরণ নিয়ে আইসিসিবি আয়োজিত সেমিনারে এ আশঙ্কার কথা জানান ব্যবসায়ীরা।

এলিডিসি উত্তরণ নিয়ে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা বলেন, স্বল্প সুদে বিদেশি অর্থায়নের সুযোগ কমে আসবে। এতে চাপে পড়বে দেশের ব্যাংকিং খাত। প্রভাব মোকাবিলায় আর্থিক খাতকে প্রস্তুত করা জরুরি বলে মনে করেন আলোচকরা।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সুশাসনের অভাবে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। আর খেলাপি কমাতে না পারলে ব্যাংকগুলো সমস্যায় পড়বে। এজন্য ব্যাংকিং খাতে নিয়মনীতির সঠিক বাস্তবায়ন প্রয়োজন।’

এফবিসিসিআই'র সাবেক সভাপতি একে আজাদ বলেন, ‘মনিটারি পলিসি টাইটেন (মুদ্রানীতি কঠোর করায়) করাতে কী হয়েছে- ১২ লক্ষ লোক চাকরি হারিয়েছে। এখন তারা বেকার এবং আমার মনে হয় আগামী ছয় মাসে আরও ১২ লক্ষ লোক চাকরি হারাবে যে অবস্থা চলছে তাতে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, নীতি সুদহার ও মূল্যস্ফীতি কমাতে হলে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে হবে। ব্যাংক খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনার বিকল্প নেই বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘এনপিএ (নন-পারফরমিং অ্যাসেট) কখনই কম (লো) ছিল না, এটা শুধু লোক দেখানো ছিল কাগজে-কলমে। বাস্তবে এটা বেশি-ই (হাই) ছিল। আমাদের কখনই সে কারণে ইনটারেস্ট রেট (সুদ হার) কম হতে পারে না, আমাকে যদি ইনটারেস্ট রেট কমাতে হয়, আমাকে এনপিএ-কে অ্যাকচুয়্যালি (সত্যিকার অর্থে) কমাতে হবে।’

বিগত আমলে ব্যাংক খাতের লুটপাট ও অর্থপাচার নিয়ে ব্যবসায়ীদের সংগঠনগুলোর নীরবতার সমালোচনা করেন গভর্নর।


banner close