শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
১৭ মাঘ ১৪৩২
ইলিশের নতুন প্রজনন মৌসুম নির্ধারণ

৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন মা ইলিশ ধরা ও বিক্রয় নিষিদ্ধ : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৫:২০

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, ইলিশের ডিম ছাড়া ও প্রজননের জন্য এ বছর ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন মা ইলিশ রক্ষায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ সময় ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বিপণন ও মজুত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

উপদেষ্টা আজ দুপুরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে "মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৫" এবং সারাদেশে ইলিশের প্রাপ্যতা, আহরণ, মূল্য এবং রপ্তানি পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, মা ইলিশ রক্ষা করতে বিজ্ঞানভিত্তিক প্রজনন সময় বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা, বিশেষ করে মৎস্যজীবীদের মতামত অনুযায়ী এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়।

মৎস্য উপদেষ্টা বলেন, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ১৯ আশ্বিন থেকে ৯ কার্তিক ১৪৩২ (৪ থেকে ২৫ অক্টোবর ২০২৫ )। আশ্বিনী পূর্ণিমার পূর্বের ৪ দিন এবং অমাবস্যার পরের ৩ দিনকে অন্তর্ভুক্ত করে মোট ২২ দিন এই অভিযান চলবে। প্রজনন মৌসুমের পূর্ণিমা ও অমাবস্যা উভয় সময়ই ডিম পাড়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায়, দুটি পর্যায় অন্তর্ভুক্ত করে সর্বোচ্চ প্রজনন নিশ্চিত করা হয়েছে। এই কর্মসূচি “মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৫” নামে পরিচিত। অভিযান পরিচালনায় মৎস্য কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নৌ পুলিশ, কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীসহ সকল আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অংশগ্রহণ করবে।

জেলেদের জন্য সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে উপদেষ্টা বলেন, ৩৭টি জেলার ১৬৫টি উপজেলার ৬ লাখ ২০ হাজার ১৪০ জেলে পরিবারকে ভিজিএফ (চাল) দেওয়া হবে, পরিবার প্রতি বরাদ্দ থাকবে ২৫ কেজি করে চাল, যা পুরো কার্যক্রমে মোট ১৫ হাজার ৫০৩.৫০ মেট্রিক টন চাল প্রয়োজন হবে। তিনি আরো বলেন, এ অভিযানের সময় জলসীমার বাইরে মাছ ধরা ট্রলারের অনুপ্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। নদীতে এই সময় ড্রেজিং সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হবে। একইসাথে সমুদ্র, উপকূল ও মোহনায়ও প্রধান প্রজনন মৌসুমে ২২ দিন ধরে ইলিশ আহরণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে।

উপদেষ্টা আরো বলেন, বিএফআরআই'র গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নিষেধাজ্ঞার ফলে ৫২.৫% মা ইলিশ নিরাপদে ডিম ছেড়েছিল। এর ফলে ৪৪.২৫ হাজার কোটি জাটকা/রেণু ইলিশ পরিবারে যুক্ত হয়েছে। এই ডিম থেকে উৎপন্ন রেণু বা পোনা (জাটকা) ভবিষ্যতে পরিপক্ক ইলিশে পরিণত হবে।

ইলিশ আহরণ সম্পর্কে উপদেষ্টা বলেন, গত ৫ বছরে ইলিশ আহরণ কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ। ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ পর্যন্ত ইলিশ আহরণ ক্রমাগত হ্রাস পেয়েছে। তিনি বলেন, চলতি বছরের জুনের মাঝামাঝি সময়ে সারা দেশের ইলিশের জাটকা ইলিশ আহরণের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর আশা করা হয়েছিল বাজারে ইলিশের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি পাবে। তবে মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ও আগস্ট মাসে ইলিশ আহরণ ২০২৪ সালের তুলনায় যথাক্রমে ৩৩.২০% এবং ৪৭.৩১% কম হয়েছে। এই দুই মাসে মোট আহরণ হয়েছে ৩৫,৯৯৩.৫০ মেট্রিক টন, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ২২,৯৪১.৭৮ মেট্রিক টন (৩৮.৯৩%) কম।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ থেকে ইলিশ রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে ২০১০-১১ ও ২০১১-১২ অর্থবছরে সম্পন্ন হয়েছিল। ২০১০-১১ সালে ৮,৫৩৮.৭৭ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির মাধ্যমে ৩৫২.৪৯ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছিল। ২০২০-২১ অর্থবছরে রপ্তানির জন্য অনুমোদনের পরিমাণ ১,৮৭৫ মেট্রিক টন আর প্রকৃত রপ্তানি হয়েছিল ১,৮৭৫ মেট্রিক টন যার রপ্তানি মূল্য ছিল ১৫৪ কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছর রপ্তানির জন্য অনুমোদনের পরিমাণ ৪,৬০০ মেট্রিক টন আর প্রকৃত রপ্তানি হয় ১,২১১ মেট্রিক টন যার রপ্তানি মূল্য ১১৩ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে রপ্তানির জন্য অনুমোদনের পরিমাণ ৩,০০০ মেট্রিক টন আর প্রকৃত রপ্তানি হয় ১,৩৭৬ মেট্রিক টন যার রপ্তানি মূল্য ১৪৮ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রপ্তানির জন্য অনুমোদনের পরিমাণ ৩,৫৫০ মেট্রিক টন আর প্রকৃত রপ্তানি হয় ৬৬৫ মেট্রিক টন যার রপ্তানি মূল্য ৮৫ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানির জন্য অনুমোদনের পরিমাণ ২,৪২০ মেট্রিক টন আর প্রকৃত রপ্তানি হয় ৫৭৪ মেট্রিক টন যার রপ্তানি মূল্য ৬৮ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানির জন্য অনুমোদনের পরিমাণ ১,২০০ মেট্রিক টন -প্রকৃত রপ্তানি চলমান। সামগ্রিকভাবে দেখা যায়, অনুমোদিত পরিমাণের তুলনায় প্রকৃত রপ্তানি ধীরে ধীরে কমে আসছে।

উপদেষ্টা বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নির্ধারিত প্রতি কেজি ইলিশের রপ্তানি মূল্য ১২.৫০ ডলার (প্রতি ডলার = ১২১.৭২ টাকা)। এ হিসাবে বেনাপল স্হল বন্দর দিয়ে ৮১,৪৩৮ কেজি ইলিশের বাজার মূল্য দাঁড়ায় ১২ কোটি ৩৯ লাখ ৭ হাজার ৯১৭ টাকা। এ ছাড়া, আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ২২.২৬ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানি হয়েছে, যার বাজার মূল্য ৩ কোটি ৩৮ লাখ ১৫৪ টাকা।


নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন না হলে ৬ ফেব্রুয়ারি যমুনা অভিমুখে পদযাত্রার হুমকি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবি আদায়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে আলটিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ। দাবি মানা না হলে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে ভুখা মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এর আগে ১ থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিদিন নিজ নিজ দপ্তরের সামনে দুই ঘণ্টা করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন সরকারি কর্মচারীরা। ঢাকায় শুক্রবার সকালে এক প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচির ডাক দেন তারা।

পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী বলেন, ‘গত সাত বছর ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পরও সরকারি কর্মচারীদের দাবি আমলে নেওয়া হচ্ছে না। গত ৫ ডিসেম্বর লক্ষাধিক কর্মচারীর উপস্থিতিতে মহাসমাবেশের পর আশা করা হয়েছিল, ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশ হবে, কিন্তু তা হয়নি। দাবি আদায়ে তাই আগামী ১ থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত নিজ নিজ দপ্তরের সামনে দুই ঘণ্টা করে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। এ সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে ৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে যমুনা অভিমুখে ভুখা মিছিল করা হবে।’

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এ সমাবেশে সরকারি কর্মচারীরা তাদের ৭ দফা দাবি তুলে ধরেন। গুলো হচ্ছে—সর্বনিম্ন পে-স্কেল ৩৫ হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নবম পে-স্কেলের গেজেট জারি করতে হবে।

২০১৫ সালে পে-স্কেলের গেজেটে হরণ করা তিনটি টাইম ফেল, সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহালসহ বেতন জ্যেষ্ঠতা পুনর্বহাল ও সকল স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গ্র্যাচুইটির পাশাপাশি পেনশন প্রবর্তনসহ বিদ্যমান গ্র্যাচুইটি/আনুতোষিকের হার ৯০ শতাংশের স্থলে ১০০ শতাংশ নির্ধারণ ও পেনশন গ্র্যাচুইটি ১ টাকার সমান ৫০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।

ব্লক পোস্টে কর্মরত কর্মচারীসহ সব পদে কর্মরতদের পদোন্নতি বা পাঁচ বছর পরপর উচ্চতর গ্রেড প্রদান করতে হবে। এ ছাড়া টেকনিক্যাল কাজে নিয়োজিত কর্মচারীদের টেকনিক্যাল পদের মর্যাদা দিতে হবে।

কর্মরত কর্মচারীদের বেতন স্কেল শেষ ধাপে উন্নীত হওয়ায় বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি হচ্ছে না বিধায় চাকরিরতদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি অব্যাহতভাবে রাখতে হবে।

উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত পদের পদধারীদের প্রকল্পের চাকরিকাল গণনা করে টাইম ফেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রদান করার অবকাশ নেই মর্মে নং-অম/অবি (বাস্ত-৪) /বিবিধ-২০ (উঃক্ষেঃ/ ০৭ / ৪৭, তারিখ-২৪-০৩-২০০৮ খ্রি. যোগে অর্থ মন্ত্রণালয় হতে জারিকৃত বৈষম্যমূলক জারিকৃত আদেশ বাতিল করতে হবে।

বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে সংগতি রেখে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয় বিবেচনা করে বিদ্যমান ভাতাদি পুনর্নির্ধারণ ও সামরিক/আধা সামরিক বাহিনীর মতো (১০-২০ গ্রেডের) কর্মচারীদের রেশনিং পদ্ধতি চালু করতে হবে।

প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে বেতন ও পদবৈষম্য নিরসনের লক্ষ্যে সচিবালয়ের মতো সকল সরকারি, আধা সরকারি দপ্তর, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের এক ও অভিন্ন নিয়োগবিধি প্রণয়ন করে কর্মচারীদের মধ্যে সৃষ্ট বৈষম্য দূর করতে হবে।


বাংলাদেশের পক্ষে লড়বে ব্রিটিশ আইনি প্রতিষ্ঠান

আপডেটেড ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০০:৩০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কয়লার দাম ও বিদ্যুৎ শুল্ক নিয়ে ভারতের আদানি পাওয়ার লিমিটেডের সঙ্গে চলমান বিরোধ নিষ্পত্তিতে আন্তর্জাতিক সালিশ প্রক্রিয়ার জন্য যুক্তরাজ্যের একটি আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) পক্ষে সিঙ্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন সেন্টারে (এসআইএসি) মধ্যস্থতা ও সালিশ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠান থ্রি ভিপি চেম্বার্স নামের লন্ডনভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের বরাতে দ্য হিন্দু জানিয়েছে, বিপিডিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাণিজ্যিক ও আর্থিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে অভিজ্ঞ থ্রি ভিপি চেম্বার্স বাংলাদেশের পক্ষে আইনি প্রতিনিধিত্ব করবে। গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, কিংস কাউন্সেল ফারহাজ খান নেতৃত্বাধীন এই চেম্বার্সটি গত কয়েক মাস ধরে আদানির সঙ্গে চুক্তি পর্যালোচনাকারী জাতীয় কমিটিকে পরামর্শ দিয়ে আসছিল।

হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্বাক্ষরিত বিদ্যুৎ খাতের চুক্তিগুলো নিয়ে গঠিত জাতীয় পর্যালোচনা কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পাঁচ দিনের মধ্যেই এই আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলো। বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, গত বছর আদানি পাওয়ার সিঙ্গাপুরে সালিশ প্রক্রিয়া শুরু করায় বাংলাদেশকেও আইনি প্রস্তুতি নিতে হয়েছে।

আদানি পাওয়ারের দাবি, বিতর্কিত কয়লা শুল্ক সংক্রান্ত বকেয়া বাবদ বাংলাদেশ তাদের প্রায় ৪৮৫ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেনি। চুক্তি অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ সালিশে যাওয়ার আগে মধ্যস্থতা বাধ্যতামূলক হলেও তা চূড়ান্তভাবে বাধ্যতামূলক নয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, আদানি বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত কয়লার দাম অস্বাভাবিকভাবে বেশি নির্ধারণ করছে, যার ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কৃত্রিমভাবে বাড়ছে। চব্বিশের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিপিডিবি আদানির সঙ্গে চুক্তি পুনরায় পর্যালোচনার উদ্যোগ জোরদার করে।

জাতীয় পর্যালোচনা কমিটি বৃহস্পতিবার জানায়, আদানি পাওয়ার লিমিটেডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপ নেয়ার মতো শক্ত প্রমাণ তারা সংগ্রহ করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেন, আদানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের কিছু কর্মকর্তার অর্থ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে এসব প্রমাণ আদালতে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, এসব প্রমাণ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে পর্যালোচনা কমিটির অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন জমা দেয়ার সময় উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেছিলেন, চুক্তি যদি দুর্নীতির মাধ্যমে হয়ে থাকে, তবে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আদানির সঙ্গে বিদ্যমান বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি বাতিল করতে পারে।

হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন কমিটি আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি নিয়ে আলাদা প্রতিবেদনও তৈরি করেছে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এক কমিটি সদস্যের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, দেশে ও বিদেশে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে আদানি ও তাদের সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির শক্ত প্রমাণ সামনে আসবে।

তবে বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি বাতিলের ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তার মতে, আইনি ভিত্তি থাকলেও আন্তর্জাতিক আদালতে গেলে সর্বোচ্চ ৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দাবি আসতে পারে।

বর্তমানে আদানি ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। বকেয়া পরিশোধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ২০২৫ সালের জুনে এককালীন ৪৩৭ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করে ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সকল পাওনা মিটিয়েছে। এর আগে অর্থ পরিশোধে জটিলতার কারণে আদানি বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছিল, তবে বকেয়া পরিশোধের পর পূর্ণ সরবরাহ আবার চালু হয়েছে।


রোজার আগেই বাড়ল গরুর মাংসের দাম

* পোলাও চালসহ কয়েকটি উৎসবকেন্দ্রিক পণ্যের দামও বাড়তি * আগের দামেই মিলছে সবজি, পেঁয়াজ, মাছ, ডিম, মুরগি ও বিভিন্ন মুদিপণ্য
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে এখনো বাকি সপ্তাহতিনেক। এর মধ্যেই গরুর মাংসের বাজার যেন ‘গা গরম’ করতে শুরু করেছে। কোনো কোনো বাজারে এমন অবস্থাই দেখা গেছে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি)। এত দিন যারা ৭০০ টাকা কেজিতে গরুর মাংস বিক্রি করতেন এদিন তাদের সাড়ে সাতশ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। যারা ৭৫০ টাকায় বিক্রি করতেন তারা ৭৮০ টাকা পর্যন্ত নেন। কোথাও কোথাও আবার ৮০০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে। কিন্তু বিক্রেতাদের দাবি, এই দাম আগে থেকেই ছিল। এদিকে, বাজারে পেঁয়াজের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। সেই সঙ্গে দাম কমেছে আমদানি করা নাজিরশাইল চালের। তবে দাম বেড়েছে ছোট দানার মসুর ডাল, লেবু ও পোলাওয়ের চালের। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বাজারে নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে। আর বিদেশ থেকে নাজিরশাইল চাল আমদানি বেড়েছে। ফলে এ ধরনের চালের দামও কমেছে।

রাজধানীর সেগুনবাগিচা, শান্তিনগর, মালিবাগ, মানিকনগর ও মুগদাসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, গরুর মাংস ও পোলাওয়ের চালসহ কয়েকটি উৎসবকেন্দ্রিক পণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে নিত্যদিনের প্রয়োজনের সবজি, পেঁয়াজ, মাছ, ডিম, মুরগি ও বিভিন্ন মুদিপণ্য বিক্রি হচ্ছে গত সপ্তাহের দামেই।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সেগুনবাগিচা বাজারের গরুর মাংস বিক্রেতা মো. খোকন ৮০০ টাকা দাম চাইছিলেন। তবে দামাদামি করে ৭৮০ টাকায় কিনতে দেখা যায় কয়েকজন ক্রেতাকে। এ ছাড়া পরিচিত ক্রেতাদের কাছ থেকে ৭৫০ টাকা পর্যন্ত রাখেন খোকন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খোকন বলেন, ‘হাটে এখন গরু কিনতে ৩-৪ হাজার টাকা বেশি লাগছে। তাই কেজিপ্রতির দামও কিছুটা বেশি রাখতে হয়।’

রাজধানীর মুগদা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, গরুর মাংস সেখানে বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা কেজিতে। এই বাজারের বিক্রেতা আব্দুস সালাম সপ্তাহখানেক আগেও ৭০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। তিনি বললেন, ‘এখন আর পোষাতে পারছি না। এখন দাম কম রাখলে মাংসের মান ঠিক রাখা যাবে না। মান ঠিক রাখতে দাম কিছুটা বাড়িয়েছি। আমি ছাড়া সবাই আগে থেকেই ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি।’

মাংস বিক্রেতারা বলছেন, রোজার মাসে মাংসের চাহিদা বাড়ে। এ ছাড়া রোজার আড়াই মাস পর কোরবানির জন্য অনেক খামারি গরু সংরক্ষণ করেন। এতে বাজারে গরুর সরবরাহ কমে দাম বেড়ে যায়।

মানিকনগর বাজারে আসা মাংসের ক্রেতা মো. আলী বলেন, ‘একটা সময় ছিল শবে বরাতের কিছু আগে বাজার গরম হয়ে উঠত। তখন মাংসের বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে সিটি করপোরেশন দাম বেঁধে দিত। তবে শবে বরাতের বাজার নিয়ে আগ্রহ আগের মতো নেই। দামও বেঁধে দেওয়া হয় না। তবে হুজুগ একেবারে শেষ হয়েও যায়নি। তাই চাহিদা বাড়তে থাকায় মাংসের দাম বাড়ছে।’

সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বলছে, রাজধানীর খুচরা বাজারে গড়ে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০-৮০০ টাকা কেজি দরে। টিসিবির ভাষ্য, গত বছরও এ সময় গরুর মাংসের একই দাম ছিল।

প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০-১৮৫ টাকা কেজির মধ্যে। গতকালও এ দামেই বিক্রি হয়। ফার্মের ডিমের দাম প্রতি ডজন বাজারভেদে ছিল ১১০-১২০ টাকা।

শীতের সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় স্থির রয়েছে গত সপ্তাহের দামেই। সপ্তাহখানেক ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়ার পর আলুর দাম আবার কমে ২০-২৫ টাকায় নেমেছে। বাজারে আকারভেদে ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি ৩০-৩৫, শিম প্রতি কেজি ৩০-৪০ টাকার মধ্যে কেনা যাচ্ছে। তবে শসা ও খিরার বাজার এখনো চড়া, দাম প্রতি কেজি ৭০-৮০ টাকা। প্রতি কেজি বেগুন মান ও জাতভেদে ৫৫-৮০ টাকার মধ্যে। প্রতিটি লাউ কিনতে ৭০-৮০ টাকা গুনতে হচ্ছে।

পেঁয়াজের বাজার স্থির রয়েছে গত সপ্তাহের দামেই। ভালো মানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকা কেজি। এ ছাড়া মানভেদে ৫০ টাকা কেজিতেও পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে।

দাম কিছুটা বেড়েছে প্যাকেটজাত সুগন্ধি চালের। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ টাকা দামে, যা সপ্তাহখানেক আগেও ছিল ১৬০ টাকার মধ্যে।

বেড়েছে খোলা সুগন্ধি চালের দামও। প্রতি কেজি খোলা চালের দাম দেখা গেল ১৫০-১৬০ টাকা। এত দিন ছিল ১৪০-১৫০ টাকা।

সেগুনবাগিচা বাজারের মুদি দোকানি মোস্তাফিজুর রহমান বললেন, মুদিসামগ্রীর মধ্যে ছোলা, চিনি, ডালসহ অনেক কিছুর দাম আগেই বেড়েছে। নতুন করে আর তেমন বাড়েনি। রোজার আগে হয়তো আর বাড়বে না।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে দাম ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। অর্থাৎ, সপ্তাহের ব্যবধানে দাম কমেছে ১০ টাকা।

বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ কিছুটা কমেছে। মুদি পণ্যের বিক্রেতারা জানিয়েছেন, কয়েক দিন ধরে সরবরাহকারীদের (ডিলার) কাছ থেকে চাহিদামতো সয়াবিন তেল পাচ্ছেন না খুচরা বিক্রেতারা। তবে দাম বাড়েনি। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বাজারে ছোট দানার মসুর ডাল ১৬০–১৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তিন সপ্তাহ আগে এ দাম কেজিতে ২০ টাকা কম ছিল। অবশ্য মোটা দানার মসুরের দাম কেজিতে ৫ টাকা কমে ৮৫–৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নাজিরশাইলের দাম কমেছে: বাজারে দেশি ও আমদানি করা—দুই ধরনের নাজিরশাইল চাল বিক্রি হয়। এর মধ্যে আমদানি করা নাজির চালের দাম কেজিতে প্রায় ৫ টাকা কমেছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) এ চাল বিক্রি হয়েছে ৭৫–৮০ টাকা দরে। এক সপ্তাহ আগে যার দাম ছিল ৮০–৮৫ টাকা। তবে দেশি নাজিরশাইলের দাম ৮৫ টাকার আশপাশে। বিক্রেতারা জানান, বাজারে দেশি নতুন নাজিরশাইল চাল এলে দাম আরও কমবে।

অবশ্য মিনিকেট চালের দাম কমেনি। অর্থাৎ আগের দামেই তা স্থিতিশীল রয়েছে। মিনিকেট চালের মধ্যে প্রতি কেজি রশিদ ৭২–৭৩ টাকা, সাগর ও মঞ্জুর ৮০–৮২ টাকা, ডায়মন্ড ৮৫ টাকা এবং মোজাম্মেল চাল ৮৫–৮৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে এক মাসের ব্যবধানে পোলাওয়ের চালের দাম কেজিতে প্রায় ২৫ টাকা বেড়েছে।


নির্বাচন কমিশনের নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ নেই: ইসি সানাউল্লাহ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, আমাদের নির্বাচন কমিশনের নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। আমাদের প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য হলো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন নিশ্চিত করা। ইনশাল্লাহ, আমরা সেই পথে এগিয়ে যাচ্ছি এবং এটি সফল হবে।

শুক্রবার পটুয়াখালীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমি পটুয়াখালী এসেছিলাম রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ আমাদের ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেলকে সঙ্গে নিয়ে। আমরা দুই টিমের মাধ্যমে জেলায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছি। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ১২ দিন বাকি থাকলেও আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রস্তুতি দেখে অত্যন্ত সন্তুষ্ট এবং আশাবাদী যে, পটুয়াখালীতে খুব ভালো নির্বাচন হবে।

নির্বাচন কমিশনার আরও জানান, নির্বাচন কোনো নির্দিষ্ট শতাংশের ওপর নির্ভর করে না। আমরা চাই শতভাগ ভোটার ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হোক। আমরা পরিবেশ ও পরিস্থিতি যথাযথভাবে তৈরি করেছি এবং মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বলে আশা করি।

তিনি সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচনের সময় সাধারণত যে পরিবেশ থাকে, তার থেকে এবার মোটামুটি ভালো। কিছু ঘটনা ঘটে থাকলেও তা সীমিত। আমরা চাই না, নির্বাচনের কারণে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি হোক। প্রতিদ্বন্দ্বী দলের মধ্যে কিছু উত্তেজনা হতে পারে, কিন্তু সেটি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকলে ভালো হয়। নির্বাচনের পরে আমরা সবাই একসঙ্গে সমাজে বসবাস করব।

বিলবোর্ড সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, বিলবোর্ডের জন্য কোনো রঙিন পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ নয়। তবে ব্যানার, ফেস্টুন ও হ্যান্ডবিলের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। ডিজিটাল বিলবোর্ড থাকলে সেগুলোকে সাদাকালো করার প্রয়োজন নেই।

নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, আমরা নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি; শুধু আইন অনুযায়ী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ২১ নম্বর ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, সাধারণ নির্বাচনের জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের কোনো পক্ষপাতে অংশ নেওয়া বা প্রার্থীদের পক্ষে-বিপক্ষে প্রস্তাব দেওয়া যাবে না। তারা কেবল নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য মানুষকে অবহিত করতে পারবেন।

সভায় আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভোটকেন্দ্রভিত্তিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয় ও ভিজিল্যান্স টিমের দায়িত্ব ও কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার ড. মো. শহীদ হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় সহকারী রিটার্নিং অফিসার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কোর আফিসার, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাসহ গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পাদনের জন্য বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন নির্বাচন কমিশনার। সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।


ধুলায় ধূসর ঢাকা, ভোগান্তিতে নগরবাসী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকা যেন ধুলার চাদরে ঢাকা এক শহর। টানা পাঁচ দিন ধরে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত নগরীর তালিকায় শীর্ষে রাজধানী—বাতাসে ভাসছে ধুলাবালু। রাস্তায় নামলেই চোখ জ্বালা করে, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এ ক্ষেত্রে বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। অসহনীয় বায়ুদূষণে নানা শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি চলাচলেও ভোগান্তি পোহাচ্ছেন রাজধানীবাসী।

বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন গবেষণা বলছে, রাজধানীতে ধুলাদূষণের অন্যতম উৎস অপরিকল্পিত রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, সরকারি উন্নয়নকাজ ও ভবন নির্মাণ। শীত এলেই রাজউক, ওয়াসা, তিতাস গ্যাস ও সিটি করপোরেশন একসঙ্গে যার যার কাজ শুরু করে। পাশাপাশি গত কয়েক বছর ধরে মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো সরকারের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন চলমান। আবাসন খাতে কাজ চলে সারা বছর। তবে শীতে একটু বেশি থাকে। এ মৌসুমে বৃষ্টি হয় না বললেই চলে। সব মিলিয়ে ধূলায় আচ্ছাদিত থাকে রাজধানী ঢাকা।

সরেজমিনে রাজধানীর বেশ কয়েকটি রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির স্থান ও নির্মাণাধীন স্থাপনা ঘুরে দেখা যায়, অব্যবস্থাপনায় চলছে নির্মাণকাজ। বিভিন্ন জায়গায় চলছে অপরিকল্পিত রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি। নির্মাণসামগ্রী যত্রতত্র ফেলে রাখা। কোথাও দেখা যায়নি নির্মাণ বিধি মেনে ছাউনি দিতে কিংবা রাস্তা কাটাকাটি করতে। এসব জায়গা থেকে উড়ছে ধুলাবালি, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিনিয়ত ভোগাচ্ছে।

মালিবাগ রেলগেট থেকে বাসাবো পর্যন্ত গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি। এ সড়কটি ঘুরে দেখা যায় কোথাও নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখতে দেখা যায়নি। ইট, বালু, সিমেন্ট সুরকি আর মাটি থেকে প্রতিনিয়ত ধুলা ছড়াচ্ছে। এসব ধুলাবালিতে আশপাশের বাসিন্দারা বিরক্ত। এই সড়ক দিয়ে চলা গণপরিবহনের যাত্রীরাও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। পথচারীরা মাস্ক পরেও নিস্তার পাচ্ছেন না।

মালিবাগ বাজারের দোকানি গফুর হক বলেন, গত দেড় বছর ছিল এক্সপ্রেওয়ের কাজের কারণে ধুলাবালি। সেটি কিছুটা কমলেও এখন গ্যাসলাইনের কাজের কারণে এত ধুলাবালি বেড়েছে। এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করা কষ্টকর। মাস্ক পরলেও ধুলাবালি মুখে ঢুকছে। দোকানের জিনিসিপাতি প্রতি ঘণ্টায় মুছতে হয়।

শুধু মালিবাগ নয়। রাজধানীর বসুন্ধরা, নদ্দা, নতুনবাজার, প্রগতি সরণি, মৌচাক সিদ্ধেশ্বরী রোড, যাত্রাবাড়ী এলাকায়ও দেখা যায় একই চিত্র। সিদ্ধেশ্বরী রোডে কেটে রাখা রাস্তায় কংক্রিট, বালি ও মাটি রাস্তার ওপর পড়ে রয়েছে, যা বাতাসে ধুলা ছড়াচ্ছে। প্রগতি সরণিতে পাতালরেলের কাজ চলমান থাকায় ব্যাপক আকারে ছড়াচ্ছে ধুলাবালি। ইউটিলিটি লাইন অপসারণ করে নতুন করে বসানোর কাজ চললেও সেখানে যত্রতত্র জমে আছে মাটির স্তূপ।

রাজধানীর মৌচাক মোড়ে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙার কার্যক্রম। বুলডোজার ও কন্সট্রাকশন ক্রেন দিয়ে ইট, সিমেন্ট, সুরকি নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। ধুলাবালি উড়ে আশপাশে ছড়িয়ে যাচ্ছে। ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ফুটপাতের দোকানি ও পথচারীরা।

মৌচাক মোড়ের দোকানি হুমায়ুন কবির বলেন, গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এই ভবন ভাঙার কাজ চলমান। ইটের গুঁড়া আর বালি বাতাসে উড়ছে। আমি জামা-কাপড় বিক্রি করি। প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। ধুলাবালি দোকানে ঢুকে যাচ্ছে।


দায়িত্বশীল আচরণের অভাবে পর্যটন শিল্প পিছিয়ে রয়েছে: সৈয়দা রিজওয়ানা 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অপার সম্ভাবনা থাকার পরও কেবল দায়িত্বশীল আচরণের অভাবে দেশের পর্যটন শিল্প কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, ‘পর্যটনের অপার সম্ভাবনা থাকার পরও আমরা এখানে ভালো করতে পারিনি। এজন্য দায়িত্বশীল আচরণ দরকার। এটি যেমন পর্যটকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তেমনি যারা পর্যটন ব্যবসা করছেন তাদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’ রাজধানীর একটি হোটেলে দি বাংলাদেশ মনিটর ও গ্যালাক্সি গ্রুপের যৌথ আয়োজনে এক সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, ‘সেন্ট মার্টিন নিয়ে যখন অপপ্রচার হয়েছে, তখন যদি আপনারা পর্যটন খাতের উদ্যোক্তারা কথা বলতেন, তবে এত শোরগোল হতো না। আমরা সোনার ডিম পাড়া হাঁস থেকে একবারে সব ডিম পেতে চাই। একই ঘটনা সিলেটের সাদা পাথর এবং হাওরের ক্ষেত্রেও ঘটেছে।’

অনুষ্ঠানে দেশের ট্রাভেল, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৩৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেওয়া হয়। ২৯টি ক্যাটাগরিতে ২৭টি প্রতিষ্ঠান ও ৮ জন ব্যক্তি এবার এই সম্মাননা পেয়েছেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই অ্যাওয়ার্ডের মূল লক্ষ্য হলো পর্যটন খাতের অংশীজনদের সেবার মান ও পেশাদারত্ব উন্নয়নে অনুপ্রাণিত করা।

এ বছর আতিথেয়তা খাতে পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে অসামান্য অবদানের জন্য ‘লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন পাটা বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান শহীদ হামিদ। গ্যালাক্সি বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও সিইও আহমেদ ইউসুফ ওয়ালিদ জানান, দেড়শর বেশি মনোনয়ন থেকে জুরি বোর্ড যোগ্যদের নির্বাচিত করেছে।

সম্মাননা পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো– র‍্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন ঢাকা, পেনিনসুলা চট্টগ্রাম, প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল, গ্র্যান্ড প্যালেস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট রংপুর, হোটেল গ্র্যান্ড পার্ক বরিশাল, ওয়ান প্যারাডাইস হোটেল কক্সবাজার, ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা কক্সবাজার, সায়মন বিচ রিসোর্ট কক্সবাজার ও হোটেল সারিনা।


ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে ১৬ দেশ

আপডেটেড ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৮:২৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই সঙ্গে আয়োজিত গণভোটের সুষ্ঠুতা ও স্বচ্ছতা যাচাইয়ে বিশ্বের ১৬টি দেশ থেকে মোট ৫৭ জন দ্বিপক্ষীয় পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে আসার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে যে, এই একক দেশগুলোর প্রতিনিধিদের বাইরেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), কমনওয়েলথ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক শাসন বিষয়ক সংস্থার কয়েকশ বিশেষজ্ঞ নির্বাচনী কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। দ্বিপক্ষীয় পর্যবেক্ষক দলের মধ্যে মালয়েশিয়া থেকে সর্বোচ্চ ১৪ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করবেন, যাঁর নেতৃত্বে থাকবেন দেশটির নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান দাতো শ্রী রামলান বিন দাতো হারুন। এর পরেই ১২ জন সংসদ সদস্য নিয়ে গঠিত তুরস্কের প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দেবেন সাবেক তুর্কি রাষ্ট্রদূত মেহমেত ভাকুর এরকুল।

তালিকায় আরও রয়েছে ইন্দোনেশিয়া থেকে ৫ জন, জাপান থেকে ৪ জন এবং পাকিস্তান থেকে আসা ৩ জন পর্যবেক্ষক। এছাড়া ভুটান, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, জর্ডান, রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ মোট ১৬টি দেশের প্রতিনিধিরা এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সাক্ষী হতে বাংলাদেশে পা রাখবেন। এই বিশিষ্ট পর্যবেক্ষক দলে পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ জালাল সিকান্দার সুলতান এবং ভুটানের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ডেকি পেমার মতো ব্যক্তিত্বরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা এসডিজি সমন্বয়ক ও জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোরশেদ সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে জানান যে, ‘এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে।’ তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, খুব শিগগিরই আরও কয়েকটি দেশ তাদের প্রতিনিধি পাঠানোর বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করবে।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে কমনওয়েলথের ১৪ সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানান আকুফো-আদ্দো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) মিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন লাতভিয়ার ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ইভার্স ইজাবস। ইইউ প্রতিনিধিদলে অস্ট্রিয়া, রোমানিয়া, আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের মতো দেশের অন্তত সাতজন পার্লামেন্ট সদস্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। উল্লেখ্য যে, জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনে এবারের নির্বাচনে ৫০টিরও বেশি রাজনৈতিক দলের প্রায় ২ হাজার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একই দিনে ‘জুলাই সংস্কার সনদ’ নিয়ে দেশব্যাপী এক ঐতিহাসিক গণভোটও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের কাছে এই নির্বাচনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।


অপারেশন ডেভিল হান্টে রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩৫

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষ কার্যক্রম ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২’-এর আওতায় গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর ১১টি থানা এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে মোট ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এই অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেন।

ডিসি মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান যে, ‘রাজধানীর বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় অভিযান পরিচালনা করে ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।’ গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে শাহবাগ থানা এলাকা থেকেই সর্বোচ্চ ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে, যাদের নাম হলো— মো. রমজান (১৯), কাউছার আহম্মেদ (৩৩), মো. আলম সরদার (৪২), মো. আইউব আলী (৩৩), মিজানুর রহমান (৩৮), মো. শাহদাত (২৪), এমসার ইউনুছ (৪০), মাইখেল চন্দ্র (২৮), আলী আহম্মেদ (২৬), ইয়াহিয়া ফেরদৌস হিটলার (৩০), লিমন (১৯), মো. করিম মিয়া (২৬), মো. দেলোয়ার হোসেন (৩৫) ও মো. রমজান আলী (২৪)।

অভিযানের ধারাবাহিকতায় কোতোয়ালি থানা পুলিশ সাব্বির হোসেন (২৪) নামের এক তরুণকে এবং লালবাগ থানা পুলিশ শাহীন বাপ্পী শামীম ওরফে সেলিম (২৫) ও আমির হোসেন (২৬) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে। ডেমরা থানা পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন আক্তার হোসেন (৫৩), সূত্রাপুর থানা থেকে মনা ব্যাপারী (২৭) এবং মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ মো. হাফিজুল ইসলামকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া খিলগাঁও থানা এলাকা থেকে তাজবিন খান (৩২), শরিফুল ইসলাম (২৯), মো. ফারুক (৩৫) ও শরিফুল ইসলাম (৫৩) নামের চারজন এবং হাজারীবাগ থানা থেকে সুফল চৌধুরী (৩৫), মো. মুন্না (২০) ও মেহেদী হাসান (৩০) গ্রেপ্তার হয়েছেন। বাড্ডা থানার অভিযানে মো. সাহেব আলী (২১) নামের একজন এবং যাত্রাবাড়ী থানা এলাকা থেকে ইফতেখার রেজা (৪০), মামুন (৩০), রাজিব (২৬) ও শাওন ওরফে সেন্টু (২৮) নামের চারজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

একই সময়ে শেরেবাংলানগর থানা এলাকা থেকে এ বি এম মাহমুদুল বসরি (৩০), মো. জয়নাল হাওলাদার (৬৩) ও মো. সেলিম (৩০) নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান আরও জানিয়েছেন যে, বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এসব ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। রাজধানীর জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপির এই বিশেষ অভিযান পর্যায়ক্রমে অব্যাহত থাকবে বলেও পুলিশ প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে।


সারাদেশে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিপুল অস্ত্রসহ ৫০৪ জন গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশের সার্বিক জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত সাম্প্রতিক যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ৫০৪ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক বার্তায় জানানো হয় যে, গত ২৩ থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদাতিক ডিভিশন ও স্বতন্ত্র ব্রিগেডের সেনাসদস্যরা অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সমন্বিত তল্লাশি ও অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি, কিশোর গ্যাং এবং ডাকাতসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আটক করে। এই এক সপ্তাহের অভিযানে মোট ৪৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৭৫ রাউন্ড গোলাবারুদ, ৯৫টি ককটেল এবং দেশীয় অস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে ধৃত ব্যক্তিদের যথাযথ জিজ্ঞাসাবাদের পর সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আইএসপিআর তাদের বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করেছে যে, জননিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী সেনাবাহিনীর নিয়মিত টহল ও নিরাপত্তা অভিযান চলমান রয়েছে। এর পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণেও সেনাবাহিনী নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বৃহত্তর স্বার্থে এ ধরনের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। একইসাথে যেকোনো ধরনের অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক তৎপরতা নজরে এলে দ্রুততম সময়ে তা ‘নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পে অবহিত করার জন্য’ সাধারণ জনগণের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরবর্তী সময় থেকে অর্থাৎ গত ১১ ডিসেম্বর থেকে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে মোট ১ হাজার ৫০৭ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এই সময়কালের মধ্যে যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে ১৫৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১ হাজার ৮৩৪টি গোলাবারুদ উদ্ধার করার সাফল্য অর্জিত হয়েছে। মূলত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমন ও অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধে সেনাবাহিনীর এই সমন্বিত তৎপরতা জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।


পাবনার নদ-নদীতে বৈদ্যুতিক শকে মাছ নিধন, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মা, বড়াল ও ইছামতীসহ বিভিন্ন শাখা নদীতে এক শ্রেণির অসাধু মৎস্য শিকারি মেতে উঠেছে ‘কারেন্ট’ মরণখেলায়। নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের পর এখন নতুন আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে ইলেকট্রিক শক বা বৈদ্যুতিক চুইচ দিয়ে মাছ শিকার। এতে কেবল বড় মাছই নয়, ধ্বংস হচ্ছে পোনামাছ, ডিম ও জলজ কীটপতঙ্গ। পরিবেশবিদরা আশঙ্কা করছেন, এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নদীর দেশি সুস্বাদু মাছের দেখা আর পাবে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ব্যাটারি ও ইনভার্টার ব্যবহার করে শক্তিশালী বিদ্যুৎ তৈরি করা হয়। এরপর দীর্ঘ জিআই তার বা লোহার খাঁচা নদীর পানিতে ফেলে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করা হয়। মুহূর্তের মধ্যে কয়েকশ গজ এলাকার ছোট-বড় সব মাছ নিস্তেজ হয়ে ভেসে ওঠে। শিকারিরা দ্রুত সেসব মাছ তুলে নিয়ে সটকে পড়ে।

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈদ্যুতিক শকের ফলে নদীর যে ক্ষতি হচ্ছে তা অপূরণীয়: শকের সংস্পর্শে আসা যেসব মাছ বেঁচে যায়, তাদের প্রজনন ক্ষমতা চিরতরে হারিয়ে যায়। মাছের প্রধান খাবার শ্যাওলা ও অণুজীব বিদ্যুৎপ্রবাহে মারা যাচ্ছে, ফলে নদীতে মাছের বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। দেশি প্রজাতির মাছ যেমন-আইড়, বোয়াল, পাঙাশ ও কাজলি আজ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে।

স্থানীয় জেলেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা জাল দিয়ে মাছ ধরে কুলাই না, আর ওরা মেশিন দিয়ে সব সাবাড় করে দিচ্ছে। এভাবে চললে নদী কিছুদিনের মধ্যে মরুভূমি হয়ে যাবে।"

নদী বাঁচাও আন্দোলনের কর্মীরা দাবি জানিয়েছেন, নিয়মিত অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এই অপরাধীদের কঠোর শাস্তি প্রদান করতে হবে। অন্যথায়, পাবনার নদীগুলো কেবলই পানি প্রবাহের নালায় পরিণত হবে, যেখানে কোনো প্রাণের অস্তিত্ব থাকবে না।


সরকারের বিশেষ উদ্যোগে ২০ হাজার টাকায় দেশে ফিরতে পারবেন সৌদি প্রবাসীরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সৌদি আরব প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য যাতায়াত ব্যয় সহজ ও সাশ্রয়ী করতে মাত্র ২০ হাজার ৫০০ টাকায় দেশে ফেরার এক বিশেষ সুযোগ ঘোষণা করেছে সরকার। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তার মাধ্যমে প্রবাসীবান্ধব এই নতুন উদ্যোগের কথা জানানো হয়। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এই ব্যবস্থার আওতায় সৌদি আরব ও বাংলাদেশ মিলিয়ে মোট ৮০ হাজার টিকিট বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই উদ্যোগের ফলে প্রবাসী কর্মীরা যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও আর্থিকভাবে লাভবান হবে।

উপদেষ্টা জানান যে, বিশেষ করে হজ ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে আগে একমুখী ফাঁকা ফ্লাইট পরিচালনার যে চর্চা ছিল, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেটিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। এর ফলে বিমানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অতিরিক্ত ১০০ কোটি টাকারও বেশি আয় করার বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, মদিনা-ঢাকা ও জেদ্দা-ঢাকা রুটে একমুখী সর্বনিম্ন ভাড়া ২০ হাজার ৫০০ টাকা এবং মদিনা-ঢাকা-মদিনা ও জেদ্দা-ঢাকা-জেদ্দা রুটে রিটার্ন টিকিটের সর্বনিম্ন ভাড়া ৪২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বিশেষ ছাড় বাংলাদেশে আসার ক্ষেত্রে ১৮ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ২৫ মে ২০২৬ পর্যন্ত এবং পুনরায় সৌদি আরবে ফেরার ক্ষেত্রে ৩০ মে ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এই পদক্ষেপকে প্রবাসীবান্ধব নীতি বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করে সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, ‘ভবিষ্যতে এ ধরনের বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবনযাত্রা আরও সহজ করবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে।’ তবে এর যথাযথ বাস্তবায়নে গুরুত্বারোপ করে তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ‘অতীতে দেখা গেছে প্রবাসীদের সুবিধায় অনেক ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হলেও সঠিক তদারকির অভাবে তা মুখ থুবড়ে পড়েছে। তাই খেয়াল রাখতে হবে, এই উদ্যোগটি যেন শতভাগ কার্যকর থাকে।’ মূলত প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এবং বিমানের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়েই এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বর্তমান প্রশাসন।


জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের সহসভাপতি নির্বাচিত বাংলাদেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনে (পিবিসি) ২০২৬ সালের জন্য সহসভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশ। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে কমিশনের পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট ব্যুরো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০তম অধিবেশনের প্রথম সভার মাধ্যমে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই সহসভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে।

এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি এবং মহাসচিবের পক্ষে তাঁর শেফ ডি ক্যাবিনেট উপস্থিত থেকে শান্তি বিনির্মাণে কমিশনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। নির্বাচন-পরবর্তী এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের জন্য বাংলাদেশের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখায় কমিশনের সদস্যদের ধন্যবাদ জানায়। একই সাথে তারা জাতিসংঘের শান্তি বিনির্মাণ কার্যক্রমের প্রতি বাংলাদেশের গভীর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকার প্রতিশ্রুতি প্রদান করে।

কমিশনের এই নতুন অধিবেশনে মরক্কো সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে এবং বাংলাদেশের সাথে জার্মানি, ব্রাজিল ও ক্রোয়েশিয়া সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। মূলত সংঘাতকবলিত দেশগুলোতে শান্তি বজায় রাখতে সহায়তাকারী এই আন্তরাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা সংস্থাটি ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ এবং শীর্ষ সেনা ও অর্থ প্রদানকারী দেশগুলোর মধ্য থেকে নির্বাচিত ৩১টি সদস্যরাষ্ট্র নিয়ে এই কমিশন গঠিত। বাংলাদেশ শুরু থেকেই এর সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করছে এবং ইতিপূর্বে ২০১২ ও ২০২২ সালে সভাপতি এবং ২০১৩ ও ২০২৩ সালে সহসভাপতির দায়িত্ব সাফল্যের সাথে পালন করেছে।


প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান: প্রধান উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর নিজ দেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে প্রত্যাবাসনই এই সংকটের একমাত্র বাস্তব ও টেকসই সমাধান বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরকে সক্রিয় ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউএনএইচসিআরের নবনিযুক্ত কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইভো ফ্রেইজেন তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

সাক্ষাতে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে সহায়তা কার্যক্রমে ‘নাটকীয়ভাবে অর্থায়ন কমে যাওয়ার’ বিষয়টি তুলে ধরেন। পাশাপাশি শিবিরগুলোতে স্বনির্ভরতা ও জীবিকাভিত্তিক সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গত এক বছরে একাধিক উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি আয়োজন করলেও রোহিঙ্গা সংকট এখনো প্রত্যাশিত আন্তর্জাতিক মনোযোগ পাচ্ছে না।

তিনি বলেন, গত বছর রমজান মাসে জাতিসংঘ মহাসচিবের শরণার্থী শিবির পরিদর্শন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিষয়টি তুলে ধরতে সহায়ক হলেও আরও মনোযোগ প্রয়োজন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের শিবিরে অবস্থান কোনো সমাধান হতে পারে না। এতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ইতোমধ্যে নানা ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তাই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি।

তিনি বলেন, ‘সমস্যার শুরু মিয়ানমারে, সমাধানও সেখান থেকেই আসতে হবে। শিবিরে প্রযুক্তি-সুবিধা পাওয়া এক হতাশ ও ক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্ম বড় হয়ে উঠছে—এটি কারও জন্যই ভালো খবর নয়। আমাদের দায়িত্ব হলো তাদের শান্তি ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো।’

বৈঠকে ভাসানচরের রোহিঙ্গা পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট এবং দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিয়েও আলোচনা হয়। ড. ইউনূস জানান, ভাসানচর থেকে অনেক শরণার্থী আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে মূল ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়ছেন, যা দেশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

ইভো ফ্রেইজেন বলেন, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ইউএনএইচসিআর প্রধান বারহাম সালিহ শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং তার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি জানান, তার পূর্বসূরি ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি ২০১৭ সাল থেকে একাধিকবার শিবির পরিদর্শন করেছেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে আমরা একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে চাই। বিশ্বাসযোগ্য ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন নিশ্চিত করাই আমাদের সব প্রচেষ্টার লক্ষ্য। প্রথমবার ভোট দেওয়া ও নতুন ভোটারদের জন্য আমরা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আনন্দময় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে চাই।’

বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।


banner close