শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবি ঢাবি শিক্ষার্থীদের, কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যানবাহনের গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ,রুবিনা আক্তার ‘হত্যাকাণ্ডের’ বিচার এবং শব্দ দূষণ প্রতিরোধসহ বিভিন্ন দাবিতে রোববার বিক্ষোভ করেছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা। ছবিটি রাজু ভাস্কর্য এলাকা থেকে তোলা। ছবি : সৈয়দ মাহামুদুর রহমান
প্রতিনিধি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত : ৪ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৮:৪৯

গাড়িচাপায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নারীর মৃত্যুর পর নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

রোববার বেলা এগারোটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকে শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভে বিভিন্ন বিভাগ ও ইনিস্টিটিউটের কয়েকশ শিক্ষার্থী অংশ নেন।

শিক্ষার্থীরা পরে মিছিল নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। পরে তারা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে।

শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘দাবি মোদের একটাই নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই’, ‘অনিয়মের ঠাঁই নাই, নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই’, ‘ক্যাম্পাসে রক্ত ঝরে, প্রশাসন কী করে’, ‘বিবেকের প্রশ্ন করি, এবার যদি আমরা মরি’, নীলক্ষেতে রক্ত কেন প্রশাসন জবাব চাই’,।

বিক্ষোভ শেষে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ক্যাম্পাসের কয়েকটি প্রবেশমুখে বাঁশের ব্যারিকেড বসিয়ে দেয়। ক্যাম্পাস সংশ্লিষ্ট নয় এমন কারো গাড়ি তারা ক্যাম্পাসের ভিতর ঢুকতে বাধা দেন। হ্যান্ডমাইক দিয়ে শিক্ষার্থীরা ঘোষণা করে, টিএসসিতে কোনো বহিরাগত থাকতে পারবে না। এর আগে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীদের পক্ষে নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতের দাবিতে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আনিকা তাহসিনা ১১ দফা দাবি উত্থাপন করেন।

দাবিগুলো হলো-

# বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল যানবাহনের গতিসীমা নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ, শব্দ দূষণ প্রতিরোধে ব্যবস্থা ও শাস্তির বিধান নিশ্চিত করা।

# রুবিনা আক্তার হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সর্বোচ্চ সমর্থন ও সহযোগিতা আদায় করা।

# ক্যাম্পাসে যানচলাচল নিয়ন্ত্রণের লক্ষে প্রধান প্রবেশদ্বারগুলোতে দ্রুত চেকপোস্ট বসানো ও গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা।

# বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শুধুমাত্র নিবন্ধিত রিক্সা চলাচল এবং রিকশাচালকদের জন্য ইউনিফর্ম ও ভাড়ার চার্ট প্রস্তুত করা।

# ভ্রাম্যমান দোকানের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ ও প্রশাসন কর্তৃক যথাযথ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত করা এবং ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখতে নূন্যতম ৩০০ ডাস্টবিন স্থাপনের ব্যবস্থা করা।

# প্রথম বর্ষ থেকে সকল শিক্ষার্থীর আইডি কার্ড প্রদান করা এবং ক্যাম্পাসের কিছু স্থানে সংরক্ষিত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।

# মাদকাসক্ত ও ভবঘুরে ব্যক্তিদের ক্যাম্পাস থেকে স্থায়ী উচ্ছেদ করা।

# সম্পূর্ণ ক্যাম্পাসকে সিসিটিভির আওতায় আনা এবং ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করা।

# প্রক্টর অফিসে জমে থাকা সকল অভিযোগ নিষ্পত্তি করা।

# নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার লক্ষে প্রক্টোরিয়াল অফিসের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

# নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিগুলো বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা।

দাবি উত্থাপন শেষে আনিকা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শতবর্ষ পার করেছে, সেই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে যুক্ত হয়েছে শত শত সমস্যাও। এই সমস্যাগুলোর সংমিশ্রণে আজ ক্যাম্পাসে আমাদের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হওয়ার সাথে সাথে জীবনের শঙ্কাও তৈরি হয়েছে। প্রতিনিয়ত নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ভুগছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আমাদের এই শিক্ষাঙ্গণ নিরাপদ করার লক্ষ্যে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ১১ দফা দাবি উপস্থাপন করেছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর ১১ দাবিতে স্মারকলিপি দেয়া হবে জানিয়ে আানিকা বলেন, যদি আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের স্বপক্ষে যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়া হয়, তাহলে ১১ ডিসেম্বর থেকে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা কঠোর থেকে কঠোরতর কর্মসূচি নিয়ে দিতে বাধ্য হব।

গত শুক্রবার বিকেলে চারুকলা অনুষদের উল্টোদিকের রাস্তায় যাওয়ার সময় একটি প্রাইভেটকারের ধাক্কায় পড়ে যান রুবিনা। চালক গাড়ি না থামিয়ে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। টিএসসি, ভিসি চত্বর হয়ে মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ পর্যন্ত রুবিনাকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায় গাড়িটি।

এরপর লোকজন গাড়িটি আটকে নিচ থেকে রুবিনা আক্তারকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গাড়ির চালক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আজাহার জাফর শাহকে মারধর করে পথচারীরা।

ওই ঘটনার পর সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে মশাল হাতে বিক্ষোভ করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অংশ নেয়। এছাড়া রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।

এসব কর্মসূচি থেকে বিক্ষোভকারীরা গাড়ি চাপায় ওই নারীর মৃত্যুর বিচারের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ, অবাধ যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে প্রবেশ পথগুলোতে পাহারা চৌকি বসানোসহ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।


চলতি অর্থবছরে জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪.৫ শতাংশ: এডিবির পূর্বাভাস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের গতি হবে ধীর। চলতি অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪.৫ শতাংশ। যদিও এটি চলতি অর্থবছরের সম্ভাব্য ৩.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় বেশি, তবু অতীতের তুলনায় অনেক কম। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রকাশিত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুকে (এডিও) এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে এডিবি বলেছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল রপ্তানি, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, জ্বালানি সংকট এবং প্রতিকূল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবেশের কারণে গেল অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে কম ছিল। তবে চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমা, ব্যবসা পরিচালনার নিয়মকানুন সহজ করা, সুশাসনের উন্নতি, কর প্রশাসনে সংস্কার এবং প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এডিবি সতর্ক করে বলেছে, প্রবৃদ্ধির গতি খুব দ্রুত বাড়বে না। কারণ ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার ঘাটতি এখনও বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

হালনাগাদ প্রতিবেদনে এডিবি আগামী অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪.৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখলেও মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস বাড়ানো হয়েছে। এপ্রিলে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের মূল্যস্ফীতি ৮.৫ শতাংশ হবে বলে ধারণা করা হলেও, সর্বশেষ প্রতিবেদনে তা বাড়িয়ে ৮.৮ শতাংশ করা হয়েছে।

এডিবির মতে, জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রভাব, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, বিনিময় হারজনিত চাপ এবং খাদ্য ও সেবা খাতে মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার তুলনায় ধীরে কমবে।

এডিবির বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান আকিরা মাতসুবাগা বলেন, কঠিন বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির মধ্যেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং সেবা খাতের স্থিতিশীলতা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সহায়তা করছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন, আর্থিক খাতের সুশাসন এবং জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে সংস্কার জরুরি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও তীব্র হলে জ্বালানির দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যেতে পারে, যা মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক লেনদেনের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করবে। একইসঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন শুল্ক বা বিধিনিষেধ, প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোর অর্থনৈতিক ধীরগতি, বৈদেশিক অর্থায়নের কঠোর পরিবেশ এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকিও বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকতে পারে।


প্রাথমিকে শিক্ষক পদে ৪৬ হাজার পরিক্ষার্থীর ফলাফল পুনরায় প্রকাশের নির্দেশ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক পদে ৪৬ হাজার পরিক্ষার্থীর ফলাফল পুনরায় প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ রায় দিয়েছেন। আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম।

প্রাইমারি স্কুলের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে ২০২৩ সালে একটি সার্কুলার হয়েছিল জানিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘সার্কুলার অনুযায়ী তখনকার সময়ে বিদ্যমান যে কোটা পদ্ধতি ছিল, সেখানে ৮৪ শতাংশ কোটার ভিত্তিতে নিয়োগ হয়েছিল। সেটাকে চ্যালেঞ্জ করে ১৫১ জন রিট পিটিশনার হাইকোর্ট ডিভিশনে মামলা করেছিলেন যে, জুলাই বিপ্লবের পরে সুপ্রিম কোর্টের যেহেতু একটা জাজমেন্ট হয়েছে যে, সেখানে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগটা হবে এবং মেধা হবে ৯৩ শতাংশ, তার ভিত্তিতে নিয়োগ হওয়া উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই মামলার ভিত্তিতে হাইকোর্ট ডিভিশন ওই নিয়োগটাকে অবৈধ ঘোষণা করে ১৫১ জনকে নিয়োগ দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সরকার আপিল দায়ের করেছিলেন। সেই আপিলটা আজকে শুনানি অন্তে চূড়ান্ত রায় হয়েছে। আপিল ডিভিশন সেই রায়ে তিনটি অবজারভেশন দিয়ে আপিলটিকে নিষ্পত্তি করেছেন।’


পদোন্নতি পেয়ে যুগ্ম সচিব হলেন ১৭২ কর্মকর্তা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ৯ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৩২
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের জনপ্রশাসনে বড় ধরনের পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। একসঙ্গে ১৭২ জন উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়ে সরকারের যুগ্ম সচিব করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন শাখা থেকে জারি করা এক আনুষ্ঠানিক আদেশে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠন হওয়ার পর দেশের আমলাতন্ত্র বা জনপ্রশাসনে এটিই বড় ধরনের পদোন্নতির ঘটনা।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত এবং দীর্ঘদিনের পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন করে এবারের এই বড় তালিকাটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এবারের এই বড় পদোন্নতির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, নতুন করে ২৫তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের একঝাঁক যোগ্য কর্মকর্তাকে যুগ্ম সচিব পদে উন্নীত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সরকারের এই নতুন পদোন্নতি তালিকায় মাঠপর্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত থাকা বেশ কয়েকজন জেলা প্রশাসকও (ডিসি) স্থান পেয়েছেন।

পাতা-১
পাতা-২
পাতা-৩
পাতা-৪
পাতা-৫
পাতা-৬
পাতা-৭
পাতা-৮
পাতা-৯

পদোন্নতি পাওয়া এই ১৭২ জন কর্মকর্তাকে দ্রুতই তাঁদের নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।


নতুন ৩ উপজেলা গঠনের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের প্রশাসনিক কাঠামো আরও গতিশীল এবং নাগরিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা জেলার বর্তমান তিনটি উপজেলাকে বিভক্ত করে নতুন আরও তিনটি পূর্ণাঙ্গ উপজেলা গঠন করেছে সরকার। নতুনভাবে স্বীকৃতি পাওয়া এই উপজেলাগুলো হলো— চট্টগ্রামের ‘ফটিকছড়ি উত্তর’, ময়মনসিংহের ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ এবং কুমিল্লার ‘বাঙ্গরা’।

গত বুধবার (৮ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক তিনটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

জারিকৃত প্রথম প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নিকারের ১২১তম সভার সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত মোতাবেক চট্টগ্রাম জেলার বৃহত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার অন্তর্গত বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট, ভূজপুর, হারুয়ালছড়ি এবং সুয়াবিল—এই ছয়টি ইউনিয়নের ভৌগোলিক সীমানাকে একত্রিত করে নতুন ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা গঠন করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এই উপজেলার সার্বিক দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অফিস সেট-আপ অনুমোদন করা হয়েছে, যার অধীনে ২৪টি সরকারি দপ্তরের জন্য মোট ২৩৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ সৃজন করা হয়েছে এবং এর মধ্যে কর্মকর্তার পদ থাকছে ৪০টি। নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার মূল প্রশাসনিক সদর দফতর ভূজপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ভূজপুর মৌজায় স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, একই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলাকে বিভক্ত করে এর আটটি ইউনিয়ন যথাক্রমে মশাখালী, পাঁচবাগ, উস্থি, লংগাইর, পাইথল, দত্তের বাজার, নিগুয়ারী এবং টাংগাব-এর সমন্বয়ে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ উপজেলা গঠন করা হলো। এই উপজেলার জন্যও সমসংখ্যক অর্থাৎ ২৪টি দপ্তরের অধীনে ৪০টি কর্মকর্তার পদসহ মোট ২৩৮ জন জনবলের অফিস সেট-আপ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার স্থায়ী সদর দফতরটি উস্থি ইউনিয়নের নয়াবাড়ী মৌজায় স্থাপিত হবে।

সর্বশেষ ‘বাঙ্গরা’ উপজেলা গঠন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার অধীনে থাকা শ্রীকাইল, আকুবপুর, আন্দিকোট, পূর্বধৈইর (পূর্ব), পূর্বধৈইর (পশ্চিম), বাঙ্গরা (পূর্ব), বাঙ্গরা (পশ্চিম), চাপিতলা, রামচন্দ্রপুর (উত্তর) এবং টনকী—এই ১০টি সুনির্দিষ্ট ইউনিয়নের সমন্বয়ে নতুন ‘বাঙ্গরা’ উপজেলা গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। অন্য দুটি উপজেলার মতো এখানেও ২৪টি প্রশাসনিক দপ্তরের জন্য ৪০টি অফিসার পদসহ মোট ২৩৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাংগঠনিক কাঠামো বা অফিস সেট-আপ অনুমোদন করেছে সরকার। নতুন এই বাঙ্গরা উপজেলার প্রধান দাপ্তরিক সদর দফতরটি বাঙ্গরা পূর্ব ইউনিয়নের খামারগ্রাম মৌজায় স্থাপন করা হবে। এই প্রজ্ঞাপনসমূহ জারির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক দাবির ঐতিহাসিক বাস্তবায়ন ঘটল।


১ কোটি দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠাবে সরকার: সংসদে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী ৫ বছরে বিদেশে ১ কোটি দক্ষ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে বর্তমানে ১০৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ৬টি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজিসহ মোট ১১০টি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৫৫টি কর্মসংস্থান উপযোগী স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি ট্রেড/কোর্সে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলুর প্রশ্নোত্তরে তিনি এ কথা জানান। অধিবেশনের সভাপতিত্ব করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, বৈদেশিক শ্রমবাজার সুসংহতকরণ, সম্প্রসারণ এবং সংরক্ষণ করার লক্ষ্যে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের উপযোগী দক্ষ কর্মী গড়ে তোলা এবং তাদের ভাষাগত সমস্যা দূরীকরণে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। এ ছাড়া আগামী ৫ বছরে বিদেশে ১ কোটি দক্ষ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, নিরাপদ, নিয়মিত ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন, অভিবাসন ব্যয় এবং দালালচক্রের প্রতারণা নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করছে। বিদেশগামী কর্মীদের দ্রুত সময়ে পাঠানো মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য হ্রাস, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের ভর্তি, মনিটরিং, সনদায়ন, বিদেশে অবস্থিত শ্রম কল্যাণ উইং হতে ডিমান্ড লেটার/ভিসা সত্যায়ন এবং বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মীদের বহির্গমন ছাড়পত্র ইস্যুসহ অভিবাসন ব্যবস্থাপনা আরো স্বচ্ছ, জবাবদিহিতা ও সহজতর করতে বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্ল্যাটফর্ম (ওইপি) চালু করা হয়েছে। ফলে অভিবাসনে বিভিন্ন পর্যায়ে দালালদের দৌরাত্ম্য হ্রাস পেয়েছে বিধায় অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দালাল বা সাব-এজেন্টদের আইনি কাঠামোর আওতায় আনার জন্য সরকার ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (রিক্রুটিং এজেন্ট লাইসেন্স এবং সাব-এজেন্ট নিবন্ধন ও আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’ প্রণয়ন করেছে। এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে অভিবাসন সংক্রান্ত কার্যক্রম বাস্তবায়নে জন্য জেলা এবং উপজেলা যথাক্রমে জেলা অভিবাসন সমন্বয় কমিটি এবং উপজেলা অভিবাসন সমধা কমিটি গঠন করা হয়েছে।


প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নগর এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ বিষয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি : বাসস
আপডেটেড ৯ জুলাই, ২০২৬ ১৭:৪২
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশের মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং সর্বোচ্চ মানের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে নগর এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ বিষয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস) আয়োজিত জাতীয় ডিসেমিনেশন কর্মশালায় ‘আলো ক্লিনিক’ মডেলের প্রমাণভিত্তিক ফলাফল, বাস্তবায়ন অভিজ্ঞতা এবং কার্যক্রম থেকে অর্জিত শিক্ষাগুলো তুলে ধরা হয়। যা থেকে নগরের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সরকারের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নির্ধারণে সহায়তা পাওয়া যায়।

উপজেলা পর্যায়ে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা চালু করা হচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার উপজেলা পর্যায়ে সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী ও দাতা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় জনস্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়নে সরকার কার্যকরভাবে কাজ করছে।

চিকিৎসার অভাবে যেন কোনো মানুষের প্রাণহানি না ঘটে, সে লক্ষ্যেই স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, দেশের সকল দুর্গম এলাকায় রোগীদের উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে আনার জন্য অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্প্রসারণ করা হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক্স, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ এমমানুয়েল আব্রিউ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নগর জনসংখ্যা ক্রমাগত বাড়লেও এখনো অনেক শিশু ও পরিবার সাশ্রয়ী ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। ২০২১ সাল থেকে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, গাজীপুর এবং নারায়ণগঞ্জে স্থাপিত ছয়টি আলো ক্লিনিক জাতীয় এসেনশিয়াল সার্ভিসেস প্যাকেজের (ইএসপি++) আওতায় বিনামূল্যে, সমন্বিত এবং সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে আসছে।

আলো ক্লিনিক মডেলের আওতায় মাতৃ, নবজাতক ও শিশুসেবা, টিকাদান, পুষ্টি স্ক্রিনিং, রোগনির্ণয় ও চিকিৎসাসহ নানা ধরনের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। প্রতিদিন গড়ে ১৬৮ জন রোগী এসব সেবা গ্রহণ করেন।

চারটি ক্লিনিকে ২৪/৭ ধাত্রী-নেতৃত্বাধীন নরমাল ডেলিভারি সেন্টার চালু রয়েছে, যেখানে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজারের বেশি নিরাপদ প্রসবসেবা প্রদান করা হয়েছে।

কর্মশালায় আলো ক্লিনিক মডেলের চার বছরেরও বেশি সময়ের বাস্তবায়ন অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত শিক্ষা তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে অংশীদারিত্বে এবং সুইডেন সরকারের অর্থায়নে ইউনিসেফ এই আলো ক্লিনিক মডেলটি উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন করেছে।

সূত্র: বাসস


তুরস্কের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বগুড়ায় হচ্ছে ড্রোন কারখানা: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৯ জুলাই, ২০২৬ ১৭:২৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও প্রযুক্তির মান বহুগুণ বাড়াতে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র তুরস্কের বিশেষ সহযোগিতায় বগুড়ায় একটি অত্যাধুনিক ড্রোন উৎপাদন কারখানা স্থাপনের যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বগুড়ায় নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশেই এই বিশেষ কারখানাটি গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে দেশের উত্তরাঞ্চলে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ বিমানঘাঁটি স্থাপনের কাজও অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এগিয়ে চলছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’ এ উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সরকারের এই নতুন প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন।

তিনি জানান, জাতীয় সংসদের নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, তুরস্কের সঙ্গে যৌথ অংশীদারত্বের ভিত্তিতে বগুড়া বিমানঘাঁটির একদম পাশেই এই ড্রোন উৎপাদন কারখানাটি নির্মাণ করা হবে।

সংলাপে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও দেশের উত্তরাঞ্চলে এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানের কোনো বিমানবন্দর গড়ে ওঠেনি। এই দীর্ঘদিনের অভাব দূর করতে বর্তমানে বগুড়া বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

তিনি আরও বলেন, এই কৌশলগত বিমানবন্দরটির ঠিক পাশেই ড্রোন তৈরির আন্তর্জাতিক কারখানাটি স্থাপন করা হবে, যা দেশের আকাশসীমার নিরাপত্তা ও সামগ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সরকার আশাবাদ ব্যক্ত করছে। এর পাশাপাশি তিনি আরও জানান যে, উত্তরাঞ্চলকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রথম বিমানঘাঁটি স্থাপনেরও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে বিমানবাহিনীর আধুনিক বহরে যুক্ত হতে যাওয়া নতুন ও আধুনিক যুদ্ধবিমানগুলো মূলত এই বিশেষ ঘাঁটিতেই স্থায়ীভাবে মোতায়েন করা হবে।

বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সভাপতি মাসুদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সংলাপটি অত্যন্ত সফলভাবে সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল। উল্লেখ্য, পাকিস্তান আমলে নির্মিত ঐতিহাসিক বগুড়া বিমানবন্দরটি দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণ সামরিক ও বেসামরিক কাজে ব্যবহৃত হলেও, এটিকে আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তরের উদ্যোগ বিভিন্ন সময়ে নেওয়া হয়েছিল কিন্তু তা আলোর মুখ দেখেনি।

এর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনকালেও এই বিমানবন্দরকে ঘিরে নানামুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছিল, তবে তৎকালীন রাজনৈতিক জটিলতার কারণে প্রকল্পটি আর বেশিদূর এগোতে পারেনি।


চিফ হুইপের সঙ্গে কোস্ট গার্ডের ডিজির সৌজন্য সাক্ষাৎ

জাতীয় সংসদ ভবনে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণির সঙ্গে কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক (ডিজি) সৌজন্য সাক্ষাৎ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণির সঙ্গে বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনে কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক (ডিজি) সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা, জেলেদের কল্যাণ, মৎস্য সম্পদের সংরক্ষণ, সমুদ্রপথে মাদকপাচার প্রতিরোধ, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে আন্তর্জাতিক যুদ্ধ, সংঘাত বা নাশকতাজনিত কারণে বাংলাদেশের সাবমেরিন কেবল বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় বাংলাদেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণে সমুদ্রের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্ঘটনা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দ্রুত অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে অন্যান্য দেশের আদলে মাছ ধরার নৌকায় রংভিত্তিক (কালার কোড) পরিচিতি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি জেলেদের অবস্থান শনাক্তকরণ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে জিপিএস ট্র্যাকার সরবরাহের সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় হয়।

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার, জেলেদের জীবন-জীবিকা সুরক্ষা, সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং ব্লু ইকোনমির অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, মৎস্য অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘সমুদ্রকেন্দ্রিক নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন এবং সামুদ্রিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।’ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক বলেন, ‘দেশের জেলেদের সার্বিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ড নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’ তিনি জানান, কোস্ট গার্ডের বহরে হেলিকপ্টার সংযোজন করা হলে সমুদ্রে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান, জরুরি সহায়তা প্রদান এবং দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এ সময় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি কোস্ট গার্ডকে আরও সমৃদ্ধ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা প্রদানে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।

বৈঠকে সমুদ্রে মৎস্য আহরণ, মৎস্য সম্পদের সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং এ সংক্রান্ত কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে সমুদ্রপথে মাদকপাচার প্রতিরোধে কোস্ট গার্ডের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। মৎস্য অধিদপ্তরের কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও মতবিনিময় হয়।

এ ছাড়া অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া সংবাদ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া ছবি, ভিডিও এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়, যাতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও অপপ্রচার কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা যায়।


অপতথ্য প্রতিরোধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে ‘বাংলাফ্যাক্ট’: সংসদে তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে গুজব, অপতথ্য ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা মোকাবিলায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। মন্ত্রী জানান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘বাংলাফ্যাক্ট’ অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৯ এর সংসদ সদস্য ফাহিমা নাসরিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

মন্ত্রী আরও জানান, এ পর্যন্ত ‘বাংলাফ্যাক্ট’ ৮৬০টি সত্যতা যাচাই (ফ্যাক্টচেক), বিশ্লেষণ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, ভিডিও ও রিল প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রকাশিত হয়েছে ৩০৬টি। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৩-৫টি দাবির সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে।

জহির উদ্দিন স্বপন জানান, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে পরিচালিত ১৩৭টি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, পেজ ও গ্রুপ, সংবাদমাধ্যমের আদলে পরিচালিত ১৬টি অপতথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট, ৩০০টির বেশি বিভ্রান্তিকর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং ১০০টি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের দক্ষতা বাড়াতে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলায় ১৪১টি প্রশিক্ষণ কর্মশালার মাধ্যমে ৬ হাজার ৭৭৪ জন সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। এর মধ্যে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০টি প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন ৭৩৯ জন সাংবাদিক। এসব প্রশিক্ষণের মধ্যে ডিজিটাল সাংবাদিকতা, এআই ও সত্যতা যাচাই (ফ্যাক্টচেক) বিষয়ক ১৪টি প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, প্রতিটি প্রশিক্ষণে গুজব মোকাবিলা, ফ্যাক্টচেকিং এবং সাংবাদিকতায় এআই ব্যবহারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য শিগগিরই একটি ‘ফ্যাক্টচেক ম্যানুয়াল’ প্রকাশ করা হবে। ভবিষ্যতেও এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তবে প্রশ্নে এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তির ঝুঁকি মোকাবিলায় মন্ত্রণালয়ের কোনো বিশেষ সেল বা দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও মন্ত্রী তার উত্তরে কোনো কিছু উল্লেখ করেননি।


সরকারি টাকায় বন্ধ বিদেশ ভ্রমণ ও গাড়ি কেনা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন গাড়ি কেনা, সরকারি অর্থায়নে বিদেশ ভ্রমণ ও প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণসহ বেশ কয়েকটি খাতে ব্যয় বন্ধ বা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণ, ভূমি অধিগ্রহণ এবং সরকারি কর্মচারীদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা, মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। পরিপত্রটি সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, সরকারি খাতের করপোরেশন এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হবে।

এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সাশ্রয়ী ব্যয়ের নীতি অনুসরণ করা হলেও পরিচালন বাজেটের আওতায় ব্যয় খুব বেশি কমানোর সুযোগ থাকে না। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়নের গতিও ধীর। এ পরিস্থিতিতে নতুন সরকার বড় বাজেট যথাযথভাবে বাস্তবায়নে আপাতত আগের মতো সরকারি ব্যয়ের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপে আগ্রহী নয়। তবে শেষ পর্যন্ত কৃচ্ছ্রসাধন নীতি জারি করা হলো।

পরিপত্র অনুযায়ী, পরিচালন বাজেটের আওতায় সব ধরনের থোক বরাদ্দ (অর্থনৈতিক কোড ৩৯১১১১১ ও ৪৯১১১১১) থেকে ব্যয় বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনার জন্য বরাদ্দ করা অর্থ ব্যয়ও বন্ধ থাকবে। তবে ১০ বছরের বেশি পুরোনো টিওএন্ডইভুক্ত যানবাহন প্রতিস্থাপন এবং নবগঠিত সরকারি প্রতিষ্ঠানের টিওএন্ডইভুক্ত যানবাহন অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে কেনা যাবে। এ ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স এবং নিরাপত্তার কাজে ব্যবহৃত মোটরযান ছাড়া অন্য সব নতুন বা প্রতিস্থাপন করা জিপ ও কার অবশ্যই সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিকচালিত যানবাহন হতে হবে।

পরিচালন বাজেটের আওতায় নতুন আবাসিক ভবন, অনাবাসিক ভবন এবং অন্যান্য ভবন স্থাপনা-নির্মাণও বন্ধ থাকবে। তবে চলমান কোনো নির্মাণকাজের অন্তত ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়ে থাকলে অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে সেই কাজে ব্যয় করা যাবে।

এ ছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ খাতে বরাদ্দ করা অর্থ ব্যয় বন্ধ থাকবে। সরকারি কর্মচারীদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত বিশেষ অগ্রিম বা ঋণ প্রদানও স্থগিত করা হয়েছে। উন্নয়ন বাজেটের আওতায়ও মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনা বন্ধ থাকবে। তবে পরিপত্র জারির আগে অনুমোদিত প্রকল্পের ক্ষেত্রে এই শর্ত শিথিল করা যেতে পারে।

উন্নয়ন বাজেটের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদন নিয়ে ব্যয় করা যাবে। একইভাবে পরিকল্পনা কমিশনের অনুকূলে ‘বিশেষ প্রয়োজনে উন্নয়ন সহায়তা’ খাতে সরকারি অর্থের সংরক্ষিত বরাদ্দও অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে ব্যয় করা যাবে।

বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ বন্ধ থাকবে। তবে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, বিদেশি প্রতিষ্ঠান বা বিদেশি সরকারের দেওয়া বৃত্তি বা ফেলোশিপের আওতায় স্নাতকোত্তর ও ডক্টরেট পর্যায়ের পড়াশোনার জন্য বিদেশ ভ্রমণ করা যাবে।

এ ছাড়া বিদেশি সরকার, প্রতিষ্ঠান বা উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নে আয়োজিত বৈদেশিক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মৌলিক ও আবশ্যিক প্রশিক্ষণের বিদেশ অংশ উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানে আয়োজন করা যাবে।

পণ্য জাহাজীকরণের পূর্বপর্যায়ের পরিদর্শন এবং কারখানায় গ্রহণযোগ্যতা পরীক্ষার ক্ষেত্রে শুধু জটিল প্রকৃতির পণ্য অথবা যেখানে এ ধরনের পরিদর্শন বাধ্যতামূলক, সেখানে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ বা কারিগরিভাবে সনদপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিদেশ ভ্রমণ বিবেচনা করা হবে। তবে এ ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরীক্ষা সম্পন্ন করার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় প্রতিটি ব্যয়ের ক্ষেত্রে অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।


বিমানবন্দরে যাত্রীদের জন্য ফ্রি শাটল সার্ভিস চালু

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসা ও বহির্গামী যাত্রীদের সুবিধার্থে বিনামূল্যে শাটল বাস সার্ভিস চালু করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। বুধবার (৮ জুলাই) বিমানবন্দরের ক্যানোপি এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সেবার উদ্বোধন করেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ।

বেবিচক জানায়, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা এবং বেবিচক চেয়ারম্যানের তত্ত্বাবধানে সংস্থাটির নিজস্ব অর্থায়নে এ শাটল সার্ভিস পরিচালিত হবে। বাসগুলো বিমানবন্দর–বিমানবন্দর বাসস্ট্যান্ড, জসিমউদ্দিন মোড়–বিমানবন্দর রেলস্টেশন এবং কাওলা–বিমানবন্দর রুটে চলাচল করবে। যাত্রীরা এসব রুটে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দ্রুত, নিরাপদ ও আরামদায়কভাবে যাতায়াত করতে পারবেন।

এ সেবা বিশেষভাবে প্রবীণ, নারী, শিশু, শারীরিকভাবে অক্ষম এবং ভারী লাগেজ বহনকারী যাত্রীদের জন্য উপকারী হবে বলে জানিয়েছে বেবিচক। পাশাপাশি ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার কমিয়ে বিমানবন্দর এলাকায় যানজট নিরসন, পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং যাত্রীসেবার মানোন্নয়নেও এটি ভূমিকা রাখবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ বলেন, ‘দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন, চলাচলে স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করতে বেবিচক ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এরই অংশ হিসেবে চালু করা হয়েছে এই বিনামূল্যের শাটল সার্ভিস, যা যাত্রীদের সময় সাশ্রয়, নিরাপদ চলাচল এবং উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।’

অনুষ্ঠানে বেবিচকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বিভিন্ন অংশীজন এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


বাংলাদেশ-পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পাকিস্তানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির ইন্টেরিয়র ও মাদক নিয়ন্ত্রণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নাকভী।

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা সহযোগিতা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ, আধুনিক নগর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি, দীর্ঘ ১৪ বছর পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঢাকা-করাচি রুটে সরাসরি বিমান চলাচল শুরু হওয়াকে দুই দেশের বাণিজ্য, যোগাযোগ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পাকিস্তানে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের ‘কম্পিউটারাইজড ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ড (সিএনআইসি)’ প্রাপ্তির জটিলতার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ সমস্যার কারণে অনেকেই শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টির দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানে পাকিস্তানের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

নগর নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে পাকিস্তানের ৪০টিরও বেশি শহরে বাস্তবায়িত ‘সেফ সিটি’ মডেলের অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে বাংলাদেশের শহরগুলোতে এ ধরনের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কারিগরি সহযোগিতা চাওয়া হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চতর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে পাকিস্তানের সহায়তাও কামনা করা হয়।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জানায়, মিয়ানমার যেন দ্রুত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ উপায়ে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়, সে লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পাকিস্তানের জোরালো সমর্থন প্রত্যাশা করছে।

বৈঠক শেষে পাকিস্তানের ইন্টেরিয়র ও মাদক নিয়ন্ত্রণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নাকভী বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান। জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ সুবিধাজনক সময়ে সফর করার সম্মতি জানান।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


এসডিজি অর্জনে নারী নেতৃত্ব অপরিহার্য: শামা ওবায়েদ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৮ জুলাই, ২০২৬ ২১:২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমতাভিত্তিক ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য নারীর ক্ষমতায়ন ও তাদের নেতৃত্ব শক্তিশালী করা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য শক্তিশালী স্থানীয় নেতৃত্ব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অর্থবহ অংশগ্রহণ অপরিহার্য।’

বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে জাতিসংঘের প্রকল্প সেবা বিষয়ক দপ্তর (ইউএনওপিএস) বাংলাদেশ আয়োজিত ‘বিল্ডিং এ মডেল ফর এসডিজি লোকালাইজেশন : এসডিজি-৫ অ্যান্ড এসডিজি-১৬’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, আজ যেসব উদ্যোগ তরুণ নারীদের ক্ষমতায়িত করছে, তা আগামী দিনের একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমতাভিত্তিক ও স্থিতিশীল বাংলাদেশের ভিত্তি স্থাপন করছে।

ইউএনওপিএস, ইউএন উইমেন-এর সমন্বয়ে এবং নারীপক্ষের অংশীদারিত্বে যৌথ এসডিজি ফান্ডের সহায়তায় বাস্তবায়িত ‘এনহ্যান্সিং উইমেনস পলিটিক্যাল লিডারশিপ থ্রু এসডিজি-৫ অ্যান্ড এসডিজি-১৬ লোকালাইজেশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক যৌথ কর্মসূচির অধীনে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

কর্মশালায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে বাস্তবায়িত এসডিজি স্থানীয়করণ মডেলের অভিজ্ঞতা, অর্জন, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ করণীয় তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি তরুণ নারী নেত্রী, শিক্ষার্থী, পরামর্শক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা নারীর নেতৃত্ব বিকাশ এবং স্থানীয় পর্যায়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।

ইউএনওপিএস বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সুধীর মুরালিধরন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অন্যদিকে, ইউএন উইমেন বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ নবনীতা সিনহা লিঙ্গ সমতা বিষয়ক এসডিজি ৫ এবং শান্তি, ন্যায়বিচার ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান বিষয়ক এসডিজি ১৬-এর অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে অংশীদারিত্বের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) নাসরীন জাহান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি জাতীয় অঙ্গীকারগুলোকে স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, এসডিজির স্থানীয়করণ জাতীয় অগ্রাধিকারকে কমিউনিটি পর্যায়ের কার্যক্রমে প্রতিফলিত করতে সহায়তা করে। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার এবং নারীর নেতৃত্বে বিনিয়োগ জরুরি।

কর্মশালায় এসডিজি স্থানীয়করণ মডেলটি উপস্থাপন করেন নারীপক্ষের নির্বাহী সদস্য মাহীন সুলতান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত ড. আবদেল ওয়াহাব সাইদানি, সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এবং হলিক্রস গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সিস্টার কল্পনা কস্তা।

‘কেউ যেন পিছিয়ে না থাকে’ তা নিশ্চিত করতে কর্মশালায় যৌথ অংশীদারিত্ব এবং স্থানীয় নেতৃত্বের সমাধানের মাধ্যমে এসডিজি স্থানীয়করণকে এগিয়ে নিতে ইউএনওপিএস, ইউএন উইমেন, নারীপক্ষ, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সহযোগীদের যৌথ প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়।


banner close