গাড়িচাপায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নারীর মৃত্যুর পর নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
রোববার বেলা এগারোটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকে শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভে বিভিন্ন বিভাগ ও ইনিস্টিটিউটের কয়েকশ শিক্ষার্থী অংশ নেন।
শিক্ষার্থীরা পরে মিছিল নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। পরে তারা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে।
শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘দাবি মোদের একটাই নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই’, ‘অনিয়মের ঠাঁই নাই, নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই’, ‘ক্যাম্পাসে রক্ত ঝরে, প্রশাসন কী করে’, ‘বিবেকের প্রশ্ন করি, এবার যদি আমরা মরি’, নীলক্ষেতে রক্ত কেন প্রশাসন জবাব চাই’,।
বিক্ষোভ শেষে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ক্যাম্পাসের কয়েকটি প্রবেশমুখে বাঁশের ব্যারিকেড বসিয়ে দেয়। ক্যাম্পাস সংশ্লিষ্ট নয় এমন কারো গাড়ি তারা ক্যাম্পাসের ভিতর ঢুকতে বাধা দেন। হ্যান্ডমাইক দিয়ে শিক্ষার্থীরা ঘোষণা করে, টিএসসিতে কোনো বহিরাগত থাকতে পারবে না। এর আগে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীদের পক্ষে নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতের দাবিতে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আনিকা তাহসিনা ১১ দফা দাবি উত্থাপন করেন।
দাবিগুলো হলো-
# বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল যানবাহনের গতিসীমা নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ, শব্দ দূষণ প্রতিরোধে ব্যবস্থা ও শাস্তির বিধান নিশ্চিত করা।
# রুবিনা আক্তার হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সর্বোচ্চ সমর্থন ও সহযোগিতা আদায় করা।
# ক্যাম্পাসে যানচলাচল নিয়ন্ত্রণের লক্ষে প্রধান প্রবেশদ্বারগুলোতে দ্রুত চেকপোস্ট বসানো ও গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা।
# বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শুধুমাত্র নিবন্ধিত রিক্সা চলাচল এবং রিকশাচালকদের জন্য ইউনিফর্ম ও ভাড়ার চার্ট প্রস্তুত করা।
# ভ্রাম্যমান দোকানের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ ও প্রশাসন কর্তৃক যথাযথ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত করা এবং ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখতে নূন্যতম ৩০০ ডাস্টবিন স্থাপনের ব্যবস্থা করা।
# প্রথম বর্ষ থেকে সকল শিক্ষার্থীর আইডি কার্ড প্রদান করা এবং ক্যাম্পাসের কিছু স্থানে সংরক্ষিত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।
# মাদকাসক্ত ও ভবঘুরে ব্যক্তিদের ক্যাম্পাস থেকে স্থায়ী উচ্ছেদ করা।
# সম্পূর্ণ ক্যাম্পাসকে সিসিটিভির আওতায় আনা এবং ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করা।
# প্রক্টর অফিসে জমে থাকা সকল অভিযোগ নিষ্পত্তি করা।
# নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার লক্ষে প্রক্টোরিয়াল অফিসের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
# নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিগুলো বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা।
দাবি উত্থাপন শেষে আনিকা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শতবর্ষ পার করেছে, সেই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে যুক্ত হয়েছে শত শত সমস্যাও। এই সমস্যাগুলোর সংমিশ্রণে আজ ক্যাম্পাসে আমাদের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হওয়ার সাথে সাথে জীবনের শঙ্কাও তৈরি হয়েছে। প্রতিনিয়ত নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ভুগছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আমাদের এই শিক্ষাঙ্গণ নিরাপদ করার লক্ষ্যে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ১১ দফা দাবি উপস্থাপন করেছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর ১১ দাবিতে স্মারকলিপি দেয়া হবে জানিয়ে আানিকা বলেন, যদি আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের স্বপক্ষে যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়া হয়, তাহলে ১১ ডিসেম্বর থেকে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা কঠোর থেকে কঠোরতর কর্মসূচি নিয়ে দিতে বাধ্য হব।
গত শুক্রবার বিকেলে চারুকলা অনুষদের উল্টোদিকের রাস্তায় যাওয়ার সময় একটি প্রাইভেটকারের ধাক্কায় পড়ে যান রুবিনা। চালক গাড়ি না থামিয়ে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। টিএসসি, ভিসি চত্বর হয়ে মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ পর্যন্ত রুবিনাকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায় গাড়িটি।
এরপর লোকজন গাড়িটি আটকে নিচ থেকে রুবিনা আক্তারকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গাড়ির চালক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আজাহার জাফর শাহকে মারধর করে পথচারীরা।
ওই ঘটনার পর সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে মশাল হাতে বিক্ষোভ করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অংশ নেয়। এছাড়া রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।
এসব কর্মসূচি থেকে বিক্ষোভকারীরা গাড়ি চাপায় ওই নারীর মৃত্যুর বিচারের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ, অবাধ যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে প্রবেশ পথগুলোতে পাহারা চৌকি বসানোসহ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট আন্তর্জাতিক যুদ্ধ ও বিগত সরকারের ভুল পরিকল্পনার জন্য হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, রাজপথে আন্দোলনের হুমকি না দিয়ে গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে জাতীয় সংসদে পরামর্শ দেন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) শিল্পকলা অ্যাকাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, আপনারা গ্যাস, বিদ্যুতের জন্য লংমার্চ করবেন, কর্মসূচি দেবেন ঠিক আছে। কিন্তু আপনারা একটা অল্টারনেটিভ বলুন, আমরা গ্যাস ও বিদ্যুৎ কীভাবে সরবরাহ করব, কোথা থেকে পাব, কীভাবে পাব।
তিনি বলেন, কী কী পদক্ষেপ নিলে বর্তমান সংকট মোকাবিলা সম্ভব, সে বিষয়ে বিরোধীদলের একটি পরিকল্পনা দেওয়া উচিত। সংসদে বিরোধীদলের সদস্যদের কথা বলার সুযোগ রয়েছে। সরকারের সমালোচনা ও সংসদের বাইরে কর্মসূচি পালন গণতন্ত্রের স্বাভাবিক চর্চা হলেও সংকট মোকাবিলায় পরামর্শ দেওয়াও প্রয়োজন।
রিজভী বলেন, একটা পরিকল্পিত অচলাবস্থা তৈরি করা আমার মনে হয় ঠিক হবে না। বরং কীভাবে এই সংকট নিবারণ করা যায়, সেই বিষয়ে পরিকল্পনা দিতে হবে। অতীতের পুনরাবৃত্তি হলে পরিস্থিতি আরও অন্ধকারের দিকে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে বৈশ্বিক যুদ্ধ ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার সংকট রয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানিতে সংকট দেখা দিয়েছে। এটি সরকারের নিজস্ব কোনো কারণে হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
জুলাই আন্দোলনে গান ও নৃত্যের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব সাংস্কৃতিক পরিবেশনা আন্দোলনকারীদের মধ্যে উদ্দীপনা ও সাহস তৈরি করেছিল।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার সভাপতি ফারহানা বেবীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন— সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন উজ্জ্বল, নায়ক হেলাল খান, জাকির হোসেন রুকন প্রমুখ।
বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশে বসবাসকারী কোনো জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মানুষকে ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে পরিচিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। ধর্ম বা অন্য কোনো বিভাজনের ভিত্তিতে নয়, বরং এ দেশের প্রতিটি মানুষ নাগরিকত্বের ভিত্তিতে সমান অধিকার ও নিরাপত্তা ভোগ করবে। আমাদের সবার প্রধান ও প্রথম পরিচিতি হওয়া উচিত ‘আমরা সবাই বাংলাদেশী’।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানী ঢাকার পলাশী মোড়ে অবস্থিত ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে ‘কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী উৎসব ১৪৩৩’ উপলক্ষ্যে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ আয়োজিত ‘ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিল’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, "আমাদের নেতা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন—‘সবার আগে বাংলাদেশ’। আর যদি সবার আগে বাংলাদেশ হয়, তবে আমরা প্রত্যেকেই ‘সবার আগে বাংলাদেশী’। আমাদের ধর্মীয়, সামাজিক কিংবা নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় এর পরে আসবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের মূল নীতিই হলো সবার জন্য বাংলাদেশ।"
অতীতের রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "অতীতে যারা মনে করত এবং রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চেয়েছিল যে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা একটি নির্দিষ্ট দলের ‘ভোট ব্যাংক’, এ দেশের সচেতন জনগণ সেই ভুল ধারণা ও কৃত্রিম মিথ সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিগত ছয় মাসে দেশের সকল ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আচার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জনগণই বিচারক, আপনারা ইতোমধ্যে রায় দিয়েছেন এবং আগামীতেও গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় রাখতে এবং সব ধরনের অসুর শক্তি ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে আপনাদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা থাকবে।
সংবিধান ও ধর্মীয় অধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বাধ্য। সংবিধানের চেতনা অনুযায়ী ধর্মের ভিত্তিতে কোনো প্রকার বৈষম্য করা যাবে না। তিনি বলেন, সব ধর্মাবলম্বীর উপাসনালয় এবং উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। সরকার কেবল সংবিধানে এটি কিতাবী রূপে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না, বাস্তবেও এই সাম্য ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
ভাষার ব্যবহারে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, "আমরা সচরাচর ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ শব্দটি ব্যবহার করি। কিন্তু আমি মনে করি ‘সাম্প্রদায়িক’ শব্দটির আর প্রয়োজন নেই। আজ থেকে আমাদের বলতে হবে—আমরা ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং শান্তি বজায় রাখব। এই ইতিবাচক চর্চাই সমাজকে আরও সুন্দর করবে।"
মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ এর সভাপতিত্বে সমাবেশ ও মিছিলে উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার এবং ঢাকা-০৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস (সাধন)।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে মিছিলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।
দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালকে দালালমুক্ত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আজ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল এবং শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই ঘোষণা দেন। এ সময় তাঁর সাথে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিলেটের হাসপাতালগুলোর ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দিয়ে বলেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে। রোগীদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে ভাগিয়ে নেওয়া দালাল চক্রের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে মন্ত্রী বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে একটি চক্র রোগীদেরকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যায়৷ এই দালাল চক্রকে ধরার জন্য ডিজিএফআই, র্যাবসহ সব আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী একযোগে কাজ করছে।’ তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন হাসপাতালে চলমান অভিযানের ফলে এই চক্রের দৌরাত্ম্য আগের চেয়ে অনেকটা কমে এসেছে।
অবৈধ ক্লিনিক ও ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে দেশজুড়ে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান ভুয়া চিকিৎসক বা সনদবিহীন টেকনিশিয়ান দিয়ে অপারেশনসহ চিকিৎসাসেবা পরিচালনা করছে, সেগুলো সিলগালা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেই এসব প্রতিষ্ঠানের তালিকা তদারকি করছেন বলে জানান।
হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গত এক মাসে তাঁর পরিদর্শন করা ২৫টিরও বেশি হাসপাতালে চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া চিকিৎসকদের উন্নত আচরণ এবং হাসপাতালের খাবারের মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি জানিয়েছেন যে, বর্তমান সরকার সংবাদমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতায় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী এবং সাংবাদিকরা যেন কোনো প্রকার ভয়ভীতি বা বাধা ছাড়াই তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলা পাবলিক হলে আয়োজিত এক সংবর্ধনা ও ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকদের পেশাগত কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের নির্ধারিত বাজেট বরাদ্দ ৬ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ কোটি টাকায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’ এছাড়া তিনি অপসাংবাদিকতা ও ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ রোধ করে পেশাগত উচ্চমান বজায় রাখতে প্রেস কাউন্সিলের সক্রিয় ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। হাওর অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়নের দাবির প্রেক্ষিতে তিনি জানান যে, বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে এবং শীঘ্রই এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কেবল জিপিএ-৫ বা ভালো ফলাফলই যথেষ্ট নয় বরং নৈতিকতা ও মানবিক গুণসম্পন্ন আদর্শ নাগরিক হওয়া জরুরি। দেশ ও শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তরুণ সমাজকে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার মাঠ আধুনিকায়ন এবং আধুনিক ভাষা শিক্ষার জন্য বিশেষ টেলিভিশন ও অনলাইন কার্যক্রম চালুর ঘোষণা দেন প্রতিমন্ত্রী।
কেন্দুয়া-আটপাড়া আসনের সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলিলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবুসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এই প্রাণবন্ত আয়োজনে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
সংসদীয় বিষয়াবলি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ-রাশিয়া সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ। প্রথাগত ও সরকারি কূটনীতির পাশাপাশি সংসদীয় কূটনীতি (পার্লামেন্টারি ডিপ্লোমেসি) এবং পেশাদার বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের আইনপ্রণেতাদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতেই গঠন করা হয়েছে এই কমিটি।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিনের সঙ্গে বাংলাদেশ-রাশিয়া সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপের একটি প্রতিনিধিদল এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়। বৈঠকে কৌশলগত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বহুমুখী ক্ষেত্র ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপের সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী এমপি দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধনের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই রাশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও পরীক্ষিত উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পাশে রয়েছে। সময়ের পরিক্রমায় দ্বিপাক্ষিক এই ঐতিহাসিক সম্পর্ক আজ সুদৃঢ় ও বিশ্বস্ত অংশীদারিত্বে রূপ নিয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কৃষি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, পারমাণবিক বিজ্ঞান, খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি খাত এবং সর্বোপরি দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বা ‘পিপল-টু-পিপল কানেকশন’ সুসংহত করতে যৌথ ও সমন্বিত কার্যক্রম অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’ বৈদেশিক নীতিতে গভীরভাবে বিশ্বাস করে। নতুন প্রজন্মের সমন্বয় এবং নতুন কাঠামোর অধীনে যৌথ উদ্যোগে আগামী দিনে ঢাকা-মস্কো দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব আরও গভীর ও গতিশীল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়ে সার্বিক আশ্বস্ত করেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক উন্নয়ন, উভয় দেশের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগে রাশিয়ার পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, দুই দেশের সংসদ সদস্যদের এই যৌথ অংশগ্রহণের ফলে বিদ্যমান বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
রাশিয়ান ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি উইথ বাংলাদেশের সভাপতি মিয়া সাত্তার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি হিসেবে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে চিহ্নিত করেন। তিনি মন্তব্য করেন, পারস্পরিক সুবিধা বা ‘মিউচুয়াল বেনিফিট’ হলো যেকোনো টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আসল ভিত। জনকূটনীতি (পাবলিক ডিপ্লোমেসি) এবং সামাজিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দুই বন্ধুপ্রতীম দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার তাগিদ দেন তিনি। তিনি বলেন, যৌথ স্বার্থ ও সুবিধার ওপর ভিত্তি করে গঠিত বাংলাদেশ-রাশিয়া সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও নির্ভরতা বৃদ্ধি করতে সরাসরি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
উক্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মৈত্রী গ্রুপের সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী এমপির নেতৃত্বে সংসদ সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খাইরুল কবির খোকন, সাঈদ আল নোমান, সাইফুল আলম, আতিকুর রহমান মুজাহিদ এবং জেবা আমিন খান। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক ও কূটনৈতিক প্রটোকল সমন্বয়ের অংশ হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব ইউরোপ ও সিআইএস অনুবিভাগের মহাপরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকার পাশাপাশি রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ 'স্টেট দুমা'-তেও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের মানোন্নয়নে একজন মুসলিম সংসদ সদস্যের নেতৃত্বে 'গ্রুপ অব ডেপুটিস' বা সংসদীয় মৈত্রী দল গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে আন্তর্জাতিক ও জনকূটনৈতিক পর্যায়ে দুই দেশের সুসম্পর্ক সুসংহত করতে ধারাবাহিকভাবে কাজ চলছে। সংসদীয় কূটনীতির এই শক্তিশালী বিকাশ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক নানা ফোরামে উভয় দেশের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য ভ্রমণের শর্ত আরও কঠোর করেছে মালয়েশিয়া। এখন থেকে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা (এমইভি) সুবিধা বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার মোট ৩১টি দেশের নাগরিকদের জন্য সীমিত করা হয়েছে। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের নতুন এক ঘোষণায় জানানো হয়েছে যে, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে এই দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য ঢালাওভাবে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা আর ইস্যু করা হবে না। ফলে সাধারণ পর্যটন বা সামাজিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের জন্য মূলত সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসাই প্রযোজ্য হবে।
ইমিগ্রেশন বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সাধারণ ভিজিট ভিসায় এক বছরের দীর্ঘ মেয়াদী মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা পাওয়ার সুযোগ কমে গেলেও বিশেষ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রয়োজনে এই সুবিধা বহাল থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে—ব্যবসায়িক ভ্রমণ, উন্নত চিকিৎসা সেবা গ্রহণ, ‘ফ্লাই অ্যান্ড ক্রুজ’ এবং বিয়ের অনুষ্ঠান বা ওয়েডিং ট্যুরিজম। মূলত অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন রোধ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুসংহত করতেই মালয়েশিয়া সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, নতুন এই ভিসা নীতি মূলত সামাজিক ভ্রমণ বা ট্যুরিস্ট ভিসার ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি বা অন্যান্য বিদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান বা ওয়ার্ক পারমিট ভিসার ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তের কোনো সরাসরি প্রভাব পড়বে না বলে জানানো হয়েছে। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের নিজস্ব ওয়েবসাইটে ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত তালিকা ও নতুন নীতিমালার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়েছে।
২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যকে কোনো স্লোগান নয়, বরং একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, চলতি দশকে রপ্তানি, বিনিয়োগ ও আর্থিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করতে চায় সরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে একটি নতুন সরকার এসেছে এবং বাংলাদেশের একটি নতুন দিকনির্দেশনা রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়া। এটি কোনো স্লোগান নয়, এটি একটি পরিকল্পনা। আমরা এই দশকে রপ্তানি, বিনিয়োগ এবং আর্থিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে আমাদের অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করতে চাই।’
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের (আইএসডিবি) অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান এ তথ্য জানান।
চুক্তির অধীনে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার অর্থায়ন করবে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক।
তারেক রহমান বলেন, তাঁর সরকারের লক্ষ্য বাংলাদেশকে একটি উৎপাদনকেন্দ্র এবং এ অঞ্চলের প্রবেশদ্বারে পরিণত করা।
তিনি বলেন, ‘পোশাকশিল্প আমাদের প্রথম প্রবৃদ্ধির গল্প তৈরি করেছে। এখন আমরা চাই ইলেকট্রনিকস, ওষুধশিল্প, হালকা প্রকৌশল এবং সবুজ শিল্প পরবর্তী প্রবৃদ্ধির গল্প তৈরি করবে। আমরা এমন কারখানা চাই, যেগুলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং এমন কর্মসংস্থান চাই, যা মানুষের মর্যাদা তৈরি করবে।’
সরকারের সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং হেলথ কার্ড প্রবর্তনের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠা নানা চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাত, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং উন্নয়ন অর্থায়নের ব্যয় বৃদ্ধি উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।
তিনি বলেন, ‘কোনো দেশ একা এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে না। এখন অংশীদারত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও আইএসডিবি’র মধ্যে নতুন ধরনের অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এই সহযোগিতা আরও উদ্ভাবনী, সাড়াপ্রদানকারী ও ফলাফলভিত্তিক হবে এবং বাংলাদেশের পরিবর্তিত উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
বাংলাদেশের উন্নয়ন অর্থায়নের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে আইএসডিবি ও এর সহযোগী সংস্থাগুলোর ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
ড. আল জাসেরকে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তাঁকে অভিনন্দন জানান।
তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে তাঁর নেতৃত্বে ব্যাংকটি সদস্যদেশগুলো ও মুসলিম উম্মাহর জন্য উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে যে আপনার দ্বিতীয় মেয়াদ আরও বড় সাফল্য বয়ে আনবে। আমাদের সরকার আপনার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে।’
অর্থায়ন চুক্তিটিকে একটি মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু একটি লেনদেন নয়; বাংলাদেশের প্রতি ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের আস্থারও বহিঃপ্রকাশ।
তারেক রহমান বলেন, ‘কয়েক দশক ধরে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং আমরা এই ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হতে পেরে গর্বিত।’
তিনি বলেন, ‘এই সদস্যপদ আমাদের জন্য অনেক বড় একটি বিষয়। এটি শুধু অর্থায়নের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং ইসলামি উম্মাহর সদস্য হিসেবে আস্থা, সংহতি এবং অভিন্ন লক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত।’
উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য স্বল্প খরচে অর্থায়নের একটি মাধ্যম হিসেবে ইসলামিক কনসেশনাল ফান্ড (আইসিএফ) প্রতিষ্ঠায় ড. আল জাসেরের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আইসিএফ থেকে সুবিধা গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে তহবিলটি সদস্য দেশগুলোর জন্য সহজ শর্তে অর্থায়ন সহায়তা আরও বাড়াবে।
সম্ভাব্য প্রকল্প চিহ্নিত করতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তারা ঢাকায় আইডিবি’র আঞ্চলিক হাবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করছেন বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
আইএসডিবি’র বৃহত্তর ভূমিকার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকটি সদস্য দেশগুলোর নিজ নিজ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তাদের মধ্যে সংযোগ স্থাপনে সহায়তা করতে পারে।
তিনি বলেন, ‘কিছু সদস্য রাষ্ট্র জ্বালানি খাতে এগিয়ে আছে। অন্যরা অবকাঠামো খাতে। ব্যাংকটি তাদের মধ্যে সেতুবন্ধন হতে পারে- সদস্যরা যেন শুধু পাশাপাশি নয়, বরং একে অপরের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করে।’
বাংলাদেশ সফর এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শক্তিশালীকরণে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ড. আল জাসেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আজ আপনার উপস্থিতি আমাদের মধ্যকার বন্ধনের দৃঢ়তারই পরিচায়ক। এই উপলক্ষ্যটি অংশীদারত্ব, সংহতি, উদ্ভাবন এবং যৌথ সমৃদ্ধির প্রতি আমাদের যৌথ অঙ্গীকারকে নবায়ন করুক।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের এই চুক্তি স্বাক্ষর প্রমাণ করে যে অংশীদারত্ব কী করতে পারে। এটি যৌথ লক্ষ্যকে বাস্তব ফলাফলে পরিণত করে। পূর্বাঞ্চলীয় শোধনাগার আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পটি শুধু একটি জ্বালানি বিনিয়োগ নয়। এটি আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সক্ষমতায় একটি বিনিয়োগ।’
বাংলাদেশ সরকার ও ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের মধ্যে ‘বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলীয় শোধনাগারের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের জন্য ১,০০৪.২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইএসডিবি) গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসেরের উপস্থিতিতে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মিজানুর রহমান এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক গ্রুপের পক্ষে সংস্থাটির ডিরেক্টর জেনারেল (কান্ট্রি প্রোগ্রামস) আনাসি আইসামি চুক্তিতে সই করেন।
প্রকল্পটি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) বাস্তবায়ন করবে।
প্রকল্পটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে বিপিসির বর্তমান পরিশোধন ক্ষমতা ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন মেট্রিক টনে উন্নীত হবে। এতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে, পরিবেশবান্ধব (ইউরো-৫ মানসম্পন্ন) পেট্রোলিয়াম তেল উৎপাদন বাড়বে এবং আমদানিকৃত পরিশোধিত জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরতা কমবে।
আইএসডিবি বাংলাদেশের অন্যতম বিশ্বস্ত বহুপাক্ষিক উন্নয়ন অংশীদার। প্রতিষ্ঠার পর থেকে অনুদান, প্রকল্প ঋণ, বাণিজ্য অর্থায়ন, বেসরকারি খাতে অর্থায়ন, রপ্তানি ঋণ নিশ্চয়তা ইত্যাদির মাধ্যমে ব্যাংকটি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নিরন্তর সহায়তা দিয়ে আসছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পরপরই আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারগুলোতে সহায়তা করার বিষয়ে তার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সূত্র: বাসস
দেশকে অস্থিতিশীল করতে কেউ কেউ নানাভাবে গুজব রটাচ্ছে উল্লেখ করে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্রকামী জনগণের সকল অধিকার কেড়ে নিয়ে কংসের মতো এক নিষ্ঠুর শাসক জনগণের কাঁধে চেপে বসেছিল। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ হাজারো প্রাণের বিনিময়ে কংসরূপী ফ্যাসিস্টদের পতন ঘটিয়েছে।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সনাতন ধর্ম মতে, হিন্দু ধর্মের অবতার শ্রীকৃষ্ণ প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগে মথুরায় এমন এক সময় জন্মগ্রহণ করেন, যখন মথুরার শাসক ছিলেন নিষ্ঠুর, দুষ্ট প্রকৃতির অত্যাচারী, স্বৈরাচারী কংস। শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের পর কংসের পতন ঘটে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, দুষ্টের দমন শিষ্টের পালনই ছিল শ্রীকৃষ্ণের অন্যতম ব্রত।
তিনি বলেন, এখন ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন, আরও অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটিয়ে এবার দেশ পুনর্গঠনের পালা। ইউরোপ-আমেরিকা সফরে গেলে আমরা সবাই কিন্তু কথিত সংখ্যালঘু। সুতরাং বর্তমান গ্লোবাল ভিলেজে সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু পরিচয় কোনো মুখ্য বিষয় নয়। অতএব সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু নয়, আসুন, আমরা সবাই নিজেদেরকে বাংলাদেশি ভাবি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আবহমানকাল থেকে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ একে অপরের সঙ্গে মিলে মিশে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রেখে নিজ নিজ ধর্ম এবং সংস্কৃতি পালন করে আসছে। তবে সময় সময় কংস-চরিত্রের মানুষেরা রাষ্ট্র ও সমাজে বিভেদ-বিরোধ সৃষ্টি-জিইয়ে রাখার অপচেষ্টা চালিয়েছে। সমাজবিরোধী অপশক্তি যাতে আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, আর কেউ যেন বিরজমান সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সে জন্য আমাদের সবাইকে অবশ্যই সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সমাজে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখা নাগরিক হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে কেউ কেউ নানাভাবে গুজব রটাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার আশ্রয় নিয়ে কেউ কেউ মানুষকে কখনো কখনো উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। দেশে কোনো রকমের বিদ্বেষ যেন আমাদের সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টির কারণ না হয়, সে বিষয়ে আমি সজাগ দৃষ্টি রাখতে সবার প্রতি একান্ত আহ্বান জানাই।
প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস-সংস্কৃতি অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার। বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, বিএনপি বিশ্বাস করে ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। এবং একইসঙ্গে বিএনপি ও বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, ধর্ম যার যার নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারও সবার।
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস রেমিট্যান্সে বড় ধরনের উল্লম্ফন হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫.২৬ বিলিয়ন ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিভিন্ন দেশ থেকে ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫.৫৯ বিলিয়ন ডলারে। প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ১৭.৩ শতাংশ। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ দিনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এ তথ্য জানান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহকে রেকর্ড পর্যায়ের বলে দেখানো হয়েছে। রেমিট্যান্স বৃদ্ধির এই প্রবণতা শুধু বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ায়নি, বরং দেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য ও ডলার বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলেছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় পাঠানোর প্রবণতা বাড়ায় আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার ওপরও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রেমিট্যান্সের প্রধান উৎস হিসেবে সৌদি আরবের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সৌদি আরব থেকে ৪.২৬ বিলিয়ন ডলার এলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ৫.৮৪ বিলিয়ন ডলার। এক বছরে দেশটি থেকে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ১.৫৮ বিলিয়ন ডলার। তবে প্রবৃদ্ধির দিক থেকে সবচেয়ে নজরকাড়া পরিবর্তন এসেছে যুক্তরাজ্য থেকে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যুক্তরাজ্য থেকে ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এলেও পরের অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ৫.৭২ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে বেড়েছে প্রায় ২.৫৫ বিলিয়ন ডলার বা ৮০.৪ শতাংশ। ফলে সৌদি আরবের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উৎসে পরিণত হয়েছে যুক্তরাজ্য।
মধ্যপ্রাচ্যনির্ভরতা অব্যাহত: রেমিট্যান্স বৃদ্ধির পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারের অবদানও গুরুত্বপূর্ণ। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে প্রবাসী আয় ৪.১৭ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৪.৫৮৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। মালয়েশিয়া থেকে ২.৮০৪ বিলিয়ন থেকে বেড়ে হয়েছে ৩.৪০ বিলিয়ন ডলার।
ওমান থেকে রেমিট্যান্স ১.৬৬ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ২.৪৮ বিলিয়ন। কুয়েত থেকে ১.৬২ বিলিয়ন থেকে বেড়ে ১.৭৬ বিলিয়ন এবং কাতার থেকে ১.২০ বিলিয়ন থেকে বেড়ে ১.৫৫ বিলিয়ন ডলার এসেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ এখনো কয়েকটি নির্দিষ্ট শ্রমবাজারের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। ফলে এসব দেশে অর্থনৈতিক মন্দা, শ্রমবাজারে পরিবর্তন কিংবা অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি হলে দেশে প্রবাসী আয়ের ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে।
ইউরোপ-এশিয়াতেও বাড়ছে আয়: ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইতালি থেকে রেমিট্যান্সে বড় উত্থান হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১.৬৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে হয়েছে ২.৫১ বিলিয়ন ডলার।
ফ্রান্স থেকে প্রবাসী আয় ৩৩৫.৫৯ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৪৭১.৪৪ মিলিয়ন এবং গ্রিস থেকে ১৮৫.১১ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ২০৩.৮২ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। জর্ডান থেকে ১৬৮.১৭ মিলিয়ন থেকে বেড়ে হয়েছে ২৪৬.৩৬ মিলিয়ন ডলার। অস্ট্রেলিয়া থেকেও রেমিট্যান্স ১৯৭.৯ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ২৫৮.১৬ মিলিয়ন ডলারে উঠেছে। এ ছাড়া সিঙ্গাপুর থেকে রেমিট্যান্স ৯৮৯ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১.৪৯ বিলিয়ন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ৪০৩ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ৬৬৯ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
ব্যতিক্রম যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা: সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির মধ্যেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসদেশে রেমিট্যান্স কমেছে। সবচেয়ে বড় পতন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশটি থেকে ৪.৭৩ বিলিয়ন ডলার এলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে হয়েছে ৩.৩৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ কমেছে প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলার বা ৩৫.৯ শতাংশ।
কানাডা থেকেও রেমিট্যান্স প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। ২২১ মিলিয়ন ডলার থেকে তা কমে হয়েছে ১১০ মিলিয়ন ডলার। মালদ্বীপ ও মরিশাস থেকেও প্রবাসী আয় কমেছে।
ডলার বাজারে স্বস্তি, তবে পুরো সমাধান নয়: রেমিট্যান্স বাড়ায় দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহও বাড়ছে। এতে আমদানি দায় পরিশোধ, বৈদেশিক লেনদেন ও ডলার তারল্য ব্যবস্থাপনায় কিছুটা স্বস্তি তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিভিন্ন মাসে শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ দেখা গেছে। মার্চ ২০২৬-এ এক মাসেই ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসে। জুনেও এসেছে প্রায় ২.৮২ বিলিয়ন ডলার। তবে রেমিট্যান্স বাড়লেই বৈদেশিক মুদ্রার বাজারের সব চাপ দূর হবে—এমন নয়। আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধসহ বিভিন্ন খাতে ডলারের চাহিদা রয়েছে। ফলে রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি রপ্তানি আয় বাড়ানো ও বৈদেশিক লেনদেনে ভারসাম্য ধরে রাখাও জরুরি।
নতুন শ্রমবাজারই বড় চ্যালেঞ্জ: প্রবাসী আয়ের এই রেকর্ড প্রবাহ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। বাড়তি ৫.২৬ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রবাসী পরিবারগুলোর ভোগ, সঞ্চয় ও বিনিয়োগে ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে দীর্ঘমেয়াদে রেমিট্যান্সের প্রবাহ ধরে রাখতে হলে কয়েকটি দেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন শ্রমবাজার তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে দক্ষ ও আধাদক্ষ কর্মী পাঠানোর পরিমাণ বাড়াতে হবে। বৈধ পথে অর্থ পাঠানো আরও সহজ ও প্রতিযোগিতামূলক করা গেলে আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়তে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, রেমিট্যান্সের বর্তমান উল্লম্ফনকে সাময়িক সাফল্য হিসেবে না দেখে এটিকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ দেওয়াই এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। নতুন শ্রমবাজার, দক্ষ জনশক্তি এবং নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের ওপর জোর দিতে পারলে বাংলাদেশের প্রবাসী আয় ভবিষ্যতে আরও বড় বৈদেশিক মুদ্রার উৎস হয়ে উঠতে পারে।
ভোটেকোশি নদী ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যার ফলে নেপালের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাংলাদেশে দেশটির বিদ্যুৎ রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বর্ষা মৌসুমে নেপাল গড়ে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করলেও এই বিপর্যয়ের পর তা কমে ৬৫০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে।
নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ জানান, গত ২৬ আগস্টের বন্যায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য অনুমোদিত ২২ দশমিক ১ মেগাওয়াটের চিলিমে এবং ২৪ মেগাওয়াটের ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি কার্যত শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে এবং এর বিকল্প হিসেবে অন্য কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ পাঠানোর জন্য ভারতের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
নেপাল থেকে ভারতীয় গ্রিডের মাধ্যমে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানির এই সংযোগটি সম্প্রতি শুরু হয়েছিল, যার বিনিময়ে নেপাল মার্কিন ডলারে অর্থ পেত। বন্যার কারণে অন্তত ১২টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে এবং সানজেন, আপার সানজেন ও সালাসুনগি কেন্দ্রগুলোকে জাতীয় গ্রিড থেকে বিচ্ছিন্ন রেখে স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
বন্যার পাশাপাশি ভারতীয় অনুমোদন নবায়ন না হওয়ায় আরও ৭৩ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করতে পারছে না নেপাল। আপার চামেলিয়া, সেতি রিভার এবং আপার তাদি খোলা প্রকল্পের রপ্তানি অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হলেও ভারতের সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি তা এখনও নবায়ন করেনি।
এছাড়া ২০২৫ সালের নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি হলেও সঞ্চালন সক্ষমতার অভাবে ভারত তাতে সায় দেয়নি। চীনের বিনিয়োগ, ঠিকাদার বা সরঞ্জাম যুক্ত থাকা কেন্দ্রগুলো থেকেও বিদ্যুৎ ক্রয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে ভারত, যার বড় উদাহরণ ৪৫৬ মেগাওয়াটের আপার তামাকোশি প্রকল্প।
নেপালের সাবেক জ্বালানি মন্ত্রী কুলমান ঘিসিং জানান, বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন নিশ্চিত ও নবায়নের জন্য কূটনৈতিক স্তরে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা জোরদার করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নেপাল ভারতে ও বাংলাদেশে ২৯ দশমিক ৩২ বিলিয়ন রুপির বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছিল, যেখানে শুষ্ক মৌসুমে আমদানির পরও দেশটির বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল ১৯ দশমিক ০৯ বিলিয়ন রুপি।
কলকাতাগামী বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশ ছাড়ার আগে হোটেল বুকিং নিশ্চিত এবং আবাসস্থলের নিরাপত্তা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশন।
গত মাসে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ উপহাইকমিশন বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কলকাতায় গত ১৯ আগস্ট অগ্নিকাণ্ডের পরবর্তী সময়ে স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট পরিস্থিতির বিবেচনায় চিকিৎসা বা অন্য কারণে বাংলাদেশ থেকে কলকাতা ভ্রমণকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার লক্ষ্যে নিম্নলিখিত নির্দেশনা অনুসরণের অনুরোধ জানানো যাচ্ছে। কলকাতায় আগমনের পূর্বে সংশ্লিষ্ট হোটেলের বুকিং নিশ্চিত করে এবং হোটেলটির বর্তমান কার্যক্রম, কক্ষের প্রাপ্যতা ও অবস্থান সম্পর্কে যথাযথভাবে অবগত হয়ে ভ্রমণ করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে আগত রোগীর সফরসঙ্গীদের কলকাতায় আসার পূর্বেই হোটেল বুকিং নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট হোটেলের কক্ষের প্রাপ্যতা, বুকিংয়ের বৈধতা, হোটেল থেকে হাসপাতালের দূরত্ব এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা সম্পর্কে কলকাতায় আগমনের পূর্বেই নিশ্চিত হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।
কলকাতায় সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠিত মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের পর স্থানীয় প্রশাসন ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য দুর্ঘটনাপ্রবণ আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁসমূহ সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছে। স্থানীয় নিরাপত্তা বিধি ও অন্যান্য নিয়ম কানুন মেনে ওই হোটেলগুলো পুনরায় চালু হতে মাসাধিক সময় লাগতে পারে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে কলকাতায় আবাসনের সমস্যায় না পড়ার জন্য অগ্রিম হোটেল বুকিং নিশ্চিত না করে ভ্রমণ না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমাজবিরোধী অপশক্তি আর যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং বিরাজমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কেউ যাতে বিনষ্ট করতে না পারে, সেজন্য দেশবাসীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পুরোহিত ও সেবাইতগণের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আবহমানকাল থেকে দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রেখে নিজ নিজ ধর্ম ও সংস্কৃতি পালন করে আসছে। তবে সময়ে সময়ে ‘কংস’ চরিত্রের মানুষেরা রাষ্ট্র ও সমাজে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশেও গণতন্ত্রকামী জনগণের সকল অধিকার কেড়ে নিয়ে ‘কংসের’ মত এক নিষ্ঠুর শাসক জনগণের কাঁধে চেপে বসেছিল। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর দলমত, ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ হাজারো প্রাণের বিনিময়ে কংসরূপী সেই ফ্যাসিস্টদের পতন ঘটিয়েছে। বাংলাদেশে আবারো গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন,আর অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটিয়ে এবার দেশ পুনর্গঠনের পালা।’
একটি রাষ্ট্র এবং সমাজে বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের সম্মিলন থাকে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটিই বৈচিত্র্যময় সমাজের সৌন্দর্য। আজকের এই অনুষ্ঠানে যারা ‘সংখ্যালঘু’ কিংবা ‘সংখ্যাগুরু’ হিসেবে বিবেচিত, ইউরোপ কিংবা আমেরিকা সফরে গেলে আমরা সবাই কিন্তু কথিত ‘সংখ্যা লঘু’ । সুতরাং, বর্তমান গ্লোবাল ভিলেজে ‘সংখ্যালঘু’ কিংবা ‘সংখ্যাগুরু’ এসব পরিচয় কোনো মুখ্য বিষয় নয়। ‘
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংখ্যালঘু’ কিংবা ‘সংখ্যাগুরু’ নয়, আসুন সবাই নিজেদেরকে বাংলাদেশী ভাবি। রাষ্ট্র এবং সমাজে দল, মত, ধর্ম, বর্ণ, পরিচয় যেন মানুষের মধ্যে বিভেদ বৈষম্য সৃষ্টির কারণ না হয়, সেই উপলব্ধি থেকেই দেশের সকল নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ রাখতে স্বাধীনতার ঘোষকের যুগান্তকারী রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’। তিনি বলেন, আমাদের সকল নাগরিকের গর্বিত পরিচয় ‘আমরা বাংলাদেশী’।
বর্তমান সরকার একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়তে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘রাষ্ট্র তার সাধ্য এবং সামর্থ্য অনুযায়ী দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। অপরদিকে নাগরিকগণ রাষ্ট্রের প্রতি তাদের সকল নাগরিক দায়িত্ব পালন করবে।'
তিনি বলেন, 'এভাবেই রাষ্ট্র ও সরকার এবং নাগরিকদের মধ্যকার পারস্পরিক দায়িত্ব ও আস্থা এবং আলাপের মাধ্যমেই গড়ে উঠবে সকলের কাঙ্ক্ষিত কল্যাণমূলক রাষ্ট্র। এই রাষ্ট্র এবং সমাজে কেউ যাতে পিছিয়ে না থাকে তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। এজন্য প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ ও সহায়তা।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সার্বভৌমত্ব সুসংহত রেখে সমৃদ্ধ স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে হলে দেশে নাগরিকদের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জরুরি। সেই লক্ষ্য পূরণেই বর্তমান সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড, সকল ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানী ভাতা প্রদানসহ যাবতীয় উদ্যোগ গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করে চলছে।'
সনাতন ধর্মের প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হিন্দু ধর্মীয় শাস্ত্রমতে, কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে জন্ম নিয়েছিলেন সনাতন ধর্মের প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ। হিন্দু ধর্মের অবতার শ্রীকৃষ্ণ প্রায় সাড়ে ৫ হাজার বছর আগে মথুরায় এমন একসময় জন্মগ্রহণ করেন, যখন মথুরার শাসক ছিলেন নিষ্ঠুর ও দুষ্টু প্রকৃতির, অত্যাচারী-স্বৈরাচারী 'কংস'। শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের পর 'কংসে'র পতন ঘটে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, দুষ্টের দমন শিষ্টের পালনই ছিল শ্রীকৃষ্ণের অন্যতম ব্রত।
হিন্দু সম্প্রদায়কে জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশ আপনার আমার আমাদের সকলের। নাগরিক হিসেবে এই দেশে আপনার আমার আমাদের সকলের অধিকার সমান। নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার। বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, বিএনপি বিশ্বাস করে, 'ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার'।
‘ধর্ম যার যার নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসুন, আমরা সবাই ধর্মীয় সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করি।'
তিনি আরও বলেন, 'শুভ জন্মাষ্টমীর উৎসবের পরই আপনাদের সামনে আসন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব দুর্গাপূজা। আপনারা সকল উৎসব-আয়োজন শান্তিতে ও স্বস্তিতে এবং নিরাপদে পালন করুন। আমি আবারো জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছার পাশাপাশি দুর্গোৎসবের আগাম শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।'
জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে শুভেচ্ছা বিনিময়ের এই আয়োজন করা হয়। গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
এর আগে হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রী হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে পুস্পস্তবক উপহার দেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষে তা গ্রহণ করেন সংসদ সদস্য সূবর্ণা শিকদার ঠাকুর।
অনুষ্ঠানে মন্দিরের ৯ জন পুরোহিত ও সেবায়েতের মধ্যে সম্মানী বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সারাদেশে পুরোহিত ও সেবাইতগণের ব্যাংক একাউন্টে এফটিএ’র মাধ্যমে এই অর্থ পৌঁছে যায়।
হিন্দু সম্প্রদায়ের আরাধ্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মদিন শুক্রবার। দিবসটির প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বী ব্যক্তিদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন।
হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠি বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ, ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন, সিপিডির ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, স্বামীবাগ ইসকনের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ ভক্তিময় নিতাই স্বামী মহারাজ, বিএনপির সহ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ডোনার, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, গণফোরাম সভাপতি সুব্রত চৌধুরীসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাসস
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনীকে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এক ব্রিফিংয়ে বাসস’কে এ তথ্য জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘পুলিশকে দুষ্টের দমনে অত্যন্ত কঠোর এবং শিষ্টের পালনে ন্যায়সঙ্গত ও মানবিক আচরণ করতে হবে।’ তিনি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় জরুরি ভিত্তিতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশনা দেন।
এছাড়া অপতথ্য, মিথ্যা তথ্য ও গুজব প্রচারসহ সাইবার অপরাধ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিস্তার দমন এবং নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ প্রধানকে নির্দেশ দেন। এ সময় রাষ্ট্রপতি বিচারবহির্ভূত হত্যা, জনহয়রানি ও মিথ্যা মামলা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখার জন্য বাংলাদেশ পুলিশকে নির্দেশনা দেন।
সাক্ষাৎকালে আইজিপি রাষ্ট্রপতিকে পুলিশ বাহিনীর মনোবল দৃঢ় রাখা এবং বাহিনীর আধুনিকায়ন ও ডিজিটালাইজেশনে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করেন। পাশাপাশি তিনি দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাসস