বুধবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবি ঢাবি শিক্ষার্থীদের, কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যানবাহনের গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ,রুবিনা আক্তার ‘হত্যাকাণ্ডের’ বিচার এবং শব্দ দূষণ প্রতিরোধসহ বিভিন্ন দাবিতে রোববার বিক্ষোভ করেছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা। ছবিটি রাজু ভাস্কর্য এলাকা থেকে তোলা। ছবি : সৈয়দ মাহামুদুর রহমান
প্রতিনিধি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

গাড়িচাপায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নারীর মৃত্যুর পর নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

রোববার বেলা এগারোটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকে শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভে বিভিন্ন বিভাগ ও ইনিস্টিটিউটের কয়েকশ শিক্ষার্থী অংশ নেন।

শিক্ষার্থীরা পরে মিছিল নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। পরে তারা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে।

শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘দাবি মোদের একটাই নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই’, ‘অনিয়মের ঠাঁই নাই, নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই’, ‘ক্যাম্পাসে রক্ত ঝরে, প্রশাসন কী করে’, ‘বিবেকের প্রশ্ন করি, এবার যদি আমরা মরি’, নীলক্ষেতে রক্ত কেন প্রশাসন জবাব চাই’,।

বিক্ষোভ শেষে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ক্যাম্পাসের কয়েকটি প্রবেশমুখে বাঁশের ব্যারিকেড বসিয়ে দেয়। ক্যাম্পাস সংশ্লিষ্ট নয় এমন কারো গাড়ি তারা ক্যাম্পাসের ভিতর ঢুকতে বাধা দেন। হ্যান্ডমাইক দিয়ে শিক্ষার্থীরা ঘোষণা করে, টিএসসিতে কোনো বহিরাগত থাকতে পারবে না। এর আগে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীদের পক্ষে নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতের দাবিতে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আনিকা তাহসিনা ১১ দফা দাবি উত্থাপন করেন।

দাবিগুলো হলো-

# বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল যানবাহনের গতিসীমা নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ, শব্দ দূষণ প্রতিরোধে ব্যবস্থা ও শাস্তির বিধান নিশ্চিত করা।

# রুবিনা আক্তার হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সর্বোচ্চ সমর্থন ও সহযোগিতা আদায় করা।

# ক্যাম্পাসে যানচলাচল নিয়ন্ত্রণের লক্ষে প্রধান প্রবেশদ্বারগুলোতে দ্রুত চেকপোস্ট বসানো ও গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা।

# বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শুধুমাত্র নিবন্ধিত রিক্সা চলাচল এবং রিকশাচালকদের জন্য ইউনিফর্ম ও ভাড়ার চার্ট প্রস্তুত করা।

# ভ্রাম্যমান দোকানের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ ও প্রশাসন কর্তৃক যথাযথ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত করা এবং ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখতে নূন্যতম ৩০০ ডাস্টবিন স্থাপনের ব্যবস্থা করা।

# প্রথম বর্ষ থেকে সকল শিক্ষার্থীর আইডি কার্ড প্রদান করা এবং ক্যাম্পাসের কিছু স্থানে সংরক্ষিত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।

# মাদকাসক্ত ও ভবঘুরে ব্যক্তিদের ক্যাম্পাস থেকে স্থায়ী উচ্ছেদ করা।

# সম্পূর্ণ ক্যাম্পাসকে সিসিটিভির আওতায় আনা এবং ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করা।

# প্রক্টর অফিসে জমে থাকা সকল অভিযোগ নিষ্পত্তি করা।

# নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার লক্ষে প্রক্টোরিয়াল অফিসের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

# নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিগুলো বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা।

দাবি উত্থাপন শেষে আনিকা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শতবর্ষ পার করেছে, সেই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে যুক্ত হয়েছে শত শত সমস্যাও। এই সমস্যাগুলোর সংমিশ্রণে আজ ক্যাম্পাসে আমাদের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হওয়ার সাথে সাথে জীবনের শঙ্কাও তৈরি হয়েছে। প্রতিনিয়ত নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ভুগছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আমাদের এই শিক্ষাঙ্গণ নিরাপদ করার লক্ষ্যে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ১১ দফা দাবি উপস্থাপন করেছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর ১১ দাবিতে স্মারকলিপি দেয়া হবে জানিয়ে আানিকা বলেন, যদি আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের স্বপক্ষে যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়া হয়, তাহলে ১১ ডিসেম্বর থেকে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা কঠোর থেকে কঠোরতর কর্মসূচি নিয়ে দিতে বাধ্য হব।

গত শুক্রবার বিকেলে চারুকলা অনুষদের উল্টোদিকের রাস্তায় যাওয়ার সময় একটি প্রাইভেটকারের ধাক্কায় পড়ে যান রুবিনা। চালক গাড়ি না থামিয়ে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। টিএসসি, ভিসি চত্বর হয়ে মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ পর্যন্ত রুবিনাকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায় গাড়িটি।

এরপর লোকজন গাড়িটি আটকে নিচ থেকে রুবিনা আক্তারকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গাড়ির চালক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আজাহার জাফর শাহকে মারধর করে পথচারীরা।

ওই ঘটনার পর সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে মশাল হাতে বিক্ষোভ করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অংশ নেয়। এছাড়া রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।

এসব কর্মসূচি থেকে বিক্ষোভকারীরা গাড়ি চাপায় ওই নারীর মৃত্যুর বিচারের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ, অবাধ যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে প্রবেশ পথগুলোতে পাহারা চৌকি বসানোসহ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।


তুরস্কে ভূমিকম্পে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জীবিত উদ্ধার

গোলাম সাঈদ রিংকু। ফাইল ছবি
আপডেটেড ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২৩:০২
কূটনৈতিক প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

তুরস্কে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী গোলাম সাঈদ রিংকুকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার বাংলাদেশের স্থানীয় সময় রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

ইস্তাম্বুলে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. নুর আলম দৈনিক বাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

নুর আলম বলেন, ‘৪৫ ঘণ্টা পরে তাকে উদ্ধারে সক্ষম হয়েছে তুরস্কের উদ্ধারকারীরা। আপাতত তাকে দেশটির খাহরামানমারাস শহরের একটি হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। শহরটিতে অবস্থানকারী বাংলাদেশি আরও দুই শিক্ষার্থী রিংকুর সঙ্গে থেকে সহযোগিতা করছেন। অবস্থা আশঙ্কাজনক না হলেও শারীরিকভাবে তিনি খুবই দুর্বল।’

রিংকুর ছোট ভাই গোলাম রসুল রিফাত জানান, তার ভাইকে উদ্ধারের বিষয়টি বাংলাদেশে অবস্থিত তুরস্ক দূতাবাস থেকেও জানানো হয়েছে।

রিফাত বলেন, ‘রিংকু ভাই প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় দুর্বল হয়ে পড়েছেন। এ জন্য তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে বলে তার বন্ধুরা জানিয়েছেন। এছাড়া ভাই ভালো আছেন।’

এর আগে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় নিখোঁজ আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নূরে আলমকে।

আরও পড়ুন: তুরস্কে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিখোঁজ

রিংকু বগুড়ার গাবতলী উপজেলার কাগইলের দেওনাই গ্রামের গোলাম রব্বানীর ছেলে। কাগইল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন তিনি। এরপর বগুড়া শহরের এপিবিএন স্কুল এন্ড কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে ২০১৫ সালে স্কলারশিপ নিয়ে তুরস্কে পড়তে যান।

তুরস্কের তুরস্কের খাহরামানমারাস সুতচু ইমাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূগোল বিভাগের শিক্ষার্থী তিনি। পড়ালেখার পাশাপাশি খণ্ডকালীন চাকরি করতেন কৃষক পরিবারের সন্তান রিংকু।

মঙ্গলবার দুপুরে তার স্বজনরা জানান, তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ খাহরামানমারাস এলাকায় রিংকু বসবাস করতেন। তুরস্কের ভয়াবহ ভূমিকম্প সেই ভবন পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়। এরপর থেকে রিংকুর বন্ধুরা তার খোঁজ পাচ্ছিলেন না।

ভূমিকম্পের পর থেকে রিংকুর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি তার পরিবারের লোকজন। মঙ্গলবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে রিংকুর বন্ধুরা তাকে উদ্ধারের খবরটি নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছেন তার রিংকুর ফুফাতো ভাই খায়রুল ইসলাম।

বিষয়:

মোবাইলের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে পুনরায় বিক্রি করতেন তারা

পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ৩ প্রতারক। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২১:৩৯
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

রাজধানীর দুইটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে চোরাই মোবাইল বিক্রিকারী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছিনতাই ও চুরি হওয়া মোবাইলের আইএমইআই নম্বর বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে পরিবর্তন করে বিক্রি করে আসছিলেন তারা। গ্রেপ্তাররা হচ্ছেন-মো. রাসেল, মো. কবির ও মো. সিয়াম।

সোমবার পল্লবী থেকে প্রথম রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যে কাফরুল এলাকা থেকে চক্রের অপর ২ সদস্য মো. কবির ও মো. সিয়ামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১১০টি চোরাই মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ, ১টি কম্পিউটর ও ২টি এসএসডি ড্রাইভ উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. জসীম উদ্দীন মোল্লা।

ডিসি বলেন, ‘গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায় রাসেলসহ কয়েক ব্যক্তি ছিনতাই বা চোরাই মোবাইলের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে পুনরায় বিক্রি করে থাকেন। প্রথমে ছয়টি মোবাইল ও একটি ল্যাপটপসহ রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ল্যাপটপ ও মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে চোরাই মোবাইলের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করতেন।’

ডিসি আরও বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে রাসেলের দেয়া তথ্যে কবির ও সিয়ামের নাম জানতে পারি আমরা। চক্রটি মিরপুর ১ নম্বরের শাহ আলী প্লাজার ৫ম তালার ভূঁইয়া টেলিকম দোকানে মোবাইলের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তনের কাজ করত। পরে ওই মার্কেটে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ১০৪টি চোরাই মোবাইল ও হার্ডডিক্স উদ্ধার করা হয়।’

ঘটনার বর্ণনায় তিনি আরও বলেন, ‘চোরাই মোবাইল চক্রের একটি অংশ ছিনতাই করা মোবাইল কম দামে কিনত। পরবর্তীতে আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে এসব মোবাইল বিভিন্ন দোকানে বিক্রির জন্য ডিসপ্লে করা হতো।’

বিভিন্ন সময় চুরি বা হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনের জিডি (সাধারণ ডায়রি) যাচাই-বাছাই করে সেগুলো আসল মালিককে ফেরত দেয়া হবে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।


বান্দরবানে গোলাগুলি, র‌্যাবের হাতে ৫ জঙ্গি আটক

র‌্যাবের (ডিজি) এম খুরশীদ হোসেন থানচি সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে তমাতুঙ্গি পর্যটন কেন্দ্রে প্রেস ব্রিফিং করেন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, বান্দরবান

বান্দরবানের থানচি ও রুমা উপজেলা সীমান্তে র‌্যাবের সাথে কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) ও জঙ্গি বাহিনীর গুলি বিনিময় হয়। এসময় ৫ জঙ্গিকে আটক করেছে র‌্যাব। গোলাগুলির ঘটনায় র‌্যাবের ৮ সদস্য আহত হয়েছে। তবে তাদের কারো নাম জানা সম্ভব হয়নি।

মঙ্গলবার সকালে গোলাগুলির পর বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) এম খুরশীদ হোসেন বিকালে জেলার থানচি উপজেলা সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে তমাতুঙ্গি পর্যটন কেন্দ্রে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।

খুরশীদ হোসেন বলেন, সকালে রুমা উপজেলা সীমান্তে রেমাক্রি প্রাংসা ইউনিয়নের দুর্গম রেমাক্রি ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এসময় র‌্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে জঙ্গি ও কেএনএফ সদস্যরা। এসময় র‌্যাবও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুঁড়লে দুপক্ষের গোলাগুলি শুরু হয়, যা বিকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

র‌্যাব মহাপরিচালক আরও বলেন, আনসারুল ইসলামসহ বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠন মিলে গঠন করেছে জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া। তারা সমতল থেকে পাহাড়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে আইনশৃংখলা বাহিনীর নজর এড়াতে।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বেচ্ছায় হিজরতের নামে বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হয় ১৯ জেলার ৫৫ তরুণ। এ তরুণদের অনেকেই জঙ্গিবাদে জড়িয়ে নতুন করে কথিত হিজরতের নামে ঘর ছেড়ে জামাতুল আনসারের হয়ে পাহাড়ি এলাকার আস্তানায় আশ্রয় নেয়। এসব আস্তানায় হিজরত করা তরুণদের ভারি অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দেয় কেএনএফ। বিষয়টি জানার পর গত ১৭অক্টোবর থেকে জঙ্গি ও সন্ত্রাস নির্মূল করতে অভিযানে নামে র‌্যাব ও সেনাবাহিনী।

র‌্যাবের অভিযানে এ পর্যন্ত ৪৩ জঙ্গি ও কেএনএফ এর ১৪ সদস্যকে আটক করা হয়েছে।

বিষয়:

হরিজনদের কোটা সংরক্ষণের দাবি

প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন হরিজন জনগোষ্ঠীর সদস্যরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২০:০১
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগে অনিয়ম হচ্ছে বলে অভিযোগ জানিয়ে হরিজন জনগোষ্ঠীর সদস্যরা বলছেন, হরিজনদের কোটা সংরক্ষণ করা হচ্ছে না। উল্টো তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। কোটা সংরক্ষণ করা না হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তারা।

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মঙ্গলবার সকালে এক মানববন্ধন থেকে এসব কথা বলেন হরিজন জনগোষ্ঠীর সদস্যরা। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে লিখিত পরীক্ষার ফল বাতিল ও হরিজনদের জন্য ৮০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ করার দাবিতে এ মানববন্ধন করে বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ।

হরিজনরা বলছেন, দেশে প্রায় ১৫ লাখ হরিজন জনগোষ্ঠীর বসবাস। বংশ পরম্পরায় পরিচ্ছন্নতা পেশার সাথে যুক্ত থাকার কারণে তারা প্রতিটি জায়গায় বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে জাত হরিজনদের জন্য ৮০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশকে অবজ্ঞা করে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান পরিচ্ছন্নকর্মী পদের নিয়োগ বাণিজ্য ও দুর্নীতি করে হরিজনদের বঞ্চিত করছে।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদের মহাসচিব নির্মল চন্দ্র দাস বলেন, ‘সম্প্রতি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে ৬৩ জনের বিপরীতে ৬৭ জনকে উত্তীর্ণ করা হয়েছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে হরিজনদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ৮ম শ্রেণি পাশ চাওয়া হলেও সেখানে লিখিত পরীক্ষায় বিসিএস ঘরানার প্রশ্ন করা হয়েছে। পরীক্ষায় প্রশ্ন ছিল কর্তৃপক্ষের মনগড়া আচরণ।’

হরিজন ঐক্য পরিষদের মহাসচিব বলেন, ‘তাদের (পরিবার পরিকল্পনা) মূল উদ্দেশ্য ছিল হরিজনদের বাদ দিয়ে নিজেদের লোককে নিয়োগ দেয়া ও নিয়োগ বাণিজ্য করা। এ নিয়োগে জাত হরিজনদের মধ্যে যারা অষ্টম শ্রেণি পাশ, তারাও আবেদন করেছিল। অথচ তাদের ফলের তালিকায় রাখা হয়নি। লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন জানিয়েছিলাম। কিন্তু, তারা কোনো পদক্ষেপ নেননি।’

মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন হরিজন ঐক্য পরিষদের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি লেবু বাসফোর, গগন লাল, সাংগঠনিক সম্পাদক পান্না বাসফোর, যুবনেতা পংকজ বাসফোর।


পরিবার সঞ্চয়পত্রে সুদের হার বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই: অর্থমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি।
আপডেটেড ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২০:১২
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

পরিবার সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার বাড়ানোর পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য কাজিম উদ্দিন আহম্মেদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা জানান। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, পরিবার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই। বিনিয়োগ পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরিবার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পুনর্নির্ধারণ করা হতে পারে।

ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে সরকার বিভিন্ন ধরনের সংস্কারমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করে থাকে। এসব সংস্কারমূলক কাজের বাস্তবায়নকে ত্বরান্বিত করার জন্য অনেক সময় আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান সরকারকে ‘বাজেট সাপোর্ট’ শীর্ষক নীতি ঋণ বা পলিসি ক্রেডিট দেয়। কাজেই রাশিয়া- ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটসহ জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বাজেট সহায়তা গ্রহণ করছে, বিষয়টি এ রকম নয়। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।

অর্থমন্ত্রী জানান, গত অর্থবছরে (২০২১-২২) বিভিন্ন উন্নয়নসহযোগীর কাছ থেকে মোট ৩ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ বাজেট সহায়তা পাওয়া গেছে। আর চলতি অর্থবছরের জন্য মোট ২ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ বাজেট সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

সংসদ সদস্য হাজি সেলিমের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ১৫ বিলিয়ন ডলারের ৫৩টি প্রকল্প বর্তমানে চলমান রয়েছে।

সংসদ সদস্য কাজিম উদ্দিন আহম্মেদের আরেক প্রশ্নের জবাবে মুস্তফা কামাল বলেন, দেশে কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে কৃষি সহায়তা প্রদান করার নিমিত্তে কৃষকদের সুদবিহীন ঋণ প্রদানের পরিকল্পনা নেয়া হয়।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য মামুনুর রশীদ কিরনের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কাজ করে যাচ্ছে। এনবিআর আশা করে, অর্থবছর শেষে লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জিত হবে।


‘বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে জাপান সব সময় সহযোগিতা করবে’

সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সঙ্গে দেখা করেন বাংলাদেশে নবনিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনরি। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২১:০২
বিশেষ প্রতিনিধি

বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে জাপান সব সময় সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নবনিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনরি।

মঙ্গলবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সঙ্গে সচিবালয়ে দেখা করে বাংলাদেশে জাপানের নতুন রাষ্ট্রদূত এ কথা বলেন।

বাংলাদেশে শতভাগ বিদ্যুতায়নের জন্য প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদকে ধন্যবাদ জানিয়ে জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনরি বলেন, ‘জাপান বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে সব সময় সহযোগিতা করবে। বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জাইকা কাজ করবে। গ্যাসমিটার তৈরিতে জাপানিজ কোম্পানি অনুদা’র সাফল্য দেখে জাপানের আরও ছোট-বড় কোম্পানি বাংলাদেশে কাজ করতে আগ্রহী।’ ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ ধারণা ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে পরিবর্তন করে উন্নত বাংলাদেশে পরিণত করবে বলেও মন্তব্য করেন জাপানের রাষ্ট্রদূত।

নসরুল হামিদ জাপানের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘পরিকল্পনা অনুসারে গৃহীত প্রকল্পসমূহে আগামী ৫ বছরে আরও ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার লাগবে। দুই দেশ যৌথভাবে একাটি অপারেশন এন্ড মেইন্টেনেন্স কোম্পানি করা যেতে পারে। এতে বাংলাদেশের অর্থ ও সময় উভয়ই সাশ্রয় হবে। বাংলাদেশ পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটকে আন্তর্জাতিক মানের একটি প্রতিষ্ঠান করার জন্য জাইকা সহযোগিতা করতে পারে।’

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য স্মার্ট বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মহাপরিকল্পনা প্রয়োজন যা সকল খাতকে নেপথ্যে থেকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। জ্বালানি খাতের (গ্যাস ও তেল) বিস্তারিত মহাপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে জাপান সহযোগিতা করতে পারে।

বৈঠকে মাতারবাড়ি পাওয়ার হাব, ভূগর্ভস্থ তার ও সাব-স্টেশন, প্রিপেইড মিটার, স্মার্ট মিটার, গ্যাস মিটার এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের আগত প্রকল্পসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়।


নির্বাচন সামনে রেখে বই নিয়ে অপপ্রচার: দীপু মনি

সংগৃহীত ছবি।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্যই পাঠ্য পুস্তুক নিয়ে অপপ্রচার করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সরকারের বিরুদ্ধে ইস্যু না পেয়ে বইয়ের ওপর সওয়ার হয়ে মিথ্যাচারের মাধ্যমে একটি চিহ্নিতমহল অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কখনো কুরআন ও সুন্নাহ বিরোধী কোনো কিছু কোনো দিন করেনি। কোনোদিন করবে না। করতে পারে না। দেশে ইসলামের প্রচার ও প্রসার যতটুকু হয়েছে তার অধিকাংশ বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার সরকারের আমলেই হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পাঠ্যপুস্তক নিয়ে নানা বিতর্ক শোনা যাচ্ছে। এই প্রচারণার সিংহভাগই অসত্য, অপপ্রচার। বিভিন্ন বইয়ের ছবি ‍ফটোশপ করে, লেখা এডিট করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এসব অপপ্রচার করা হচ্ছে। দেশের শিক্ষাক্রমের নয়, ‍যা প্রতিষ্ঠানে পড়ানো হয় না, সেগুলোকে আমাদের বই হিসাবে উল্লেখ করে অপপ্রচার করা হচ্ছে। আমাদের বইয়ে নেই এমন কল্পিত বিষয় ও ছবি ব্যবহার করে বইয়ের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা হচ্ছে। ভুয়া ও আপত্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। বইয়ের লেখকদের সম্পর্কে আপত্তিকর বক্তব্য দেয়া হচ্ছে। তাদের হুমকি দেয়া হচ্ছে। মন্ত্রী সম্পর্কে কদর্য ভাষায় বক্তব্য দেয়া হচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বরেণ্য শিক্ষাবিদ যারা পাঠ্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধেও বিষোদগার করা হচ্ছে। কদর্য ভাষায় আক্রমণ করা হচ্ছে। তাদের হুমকি দেয়া হচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যারা আক্রমণ করছেন তাদের কোনো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাক্রমের বই পড়ানো হয় না। যাদের প্রতিষ্ঠানে বই পড়ানো হচ্ছে তারা কিন্তু কোনো অপপ্রচার করছে না। যাদের প্রতিষ্ঠানে পড়ানো হয় তাদের মতামত নিয়েই পরীক্ষামূলক বইগুলো প্রকাশ করা হয়েছে। বইয়ে কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধন করা হচ্ছে এবং হবে। এ বিষয়ে দুটি কমিটি গঠন করার কথাও জানান শিক্ষামন্ত্রী।

যারা সমালোচনা করছেন তাদের উদ্দেশ্য ভুল সংশোধন নয় দাবি করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তারা বলছেন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে বলছেন। ইসলামকে সুরক্ষিত রাখার জন্য বলছেন। তাদের উদ্দেশ্য যদি সৎ হতো তাহলে গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে ভুল সংশোধনের পরামর্শ দিতেন। মিথ্যাচার করতেন না। ফটোশপ করে, এডিট করে এই ধরণের মিথ্যাচার করতেন না। নতুন শিক্ষাক্রম চালু হলে শিক্ষার্থীদের ব্রেন ওয়াশ করে ধর্মের জুজু দেখানো যাবে না এ কারণে এসব অপপ্রচার বলে দাবি করেন দিপু মনি।

সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমি, আমার ধর্ম, ধর্মবোধ, ধর্মের মর্মবাণী ও ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি বিশ্বাস রেখে এই কদর্য বক্তব্য দাতাদের যাতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যাতে হেদায়েত দান করুন। এই প্রার্থনা করি। তাদের সত্য বলার, মিথ্যাকে পরিহার করার, দেশকে অস্থিতিশীলতা করার চেষ্টা থেকে বিরত থাকার তৌফিক দান করুন। এই প্রার্থণা করি।

সংসদে বিরোধী দলের দুজন সংসদ সদস্যের বক্তব্যের সমালোচনা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জাতীয় পার্টির একজন সংসদ সদস্য পাঠ্যপুস্তক নিয়ে একটি বক্তব্য দিয়েছিলেন। পরে তিনি তার ভুল বুঝতে পেরে স্পিকারকে লিখিতভাবে অনুরোধ করেছিলেন বক্তব্য প্রত্যাহার করার জন্য। এর সাতমাস পর জাতীয় পাটির আরেক সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু পাঠ্যপুস্তক নিয়ে অসত্য, আপত্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি স্পিকারকে অনুরোধ করেন যেন, টিপুর বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করা হয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, রাষ্ট্রপতি দায়িত্বের শেষ বিকেলে এসে সরকারের উন্নয়নের চিত্র আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন। এই ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে মহামান্য রাষ্ট্রপতি তার গৌরবজ্জল জীবনের ইতি ঘটালেন। সেইদিক থেকে এটি একটি অসাধারণ ভাষণ। অবশ্য এর বাইরেতো তিনি যেতেই পারেন না, কিছু বলতেও পারেন না। মহামান্য রাষ্ট্রপতি কী বলতে পারবেন, আর্থিক খাতে চরম দুর্নীতি হচ্ছে। ব্যাংকের টাকা অবাধ লুটপাট হয়ে বিদেশে চলে যাচ্ছে। তিনি কী বলতে পারবেন, দুর্নীতি আজ সমাজে সর্বগ্রাসী রূপ নিচ্ছে। মধ্যবিত্তরা দিন দিন নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি কী বলতে পারবেন ধনী ও দরিদ্রদের মধ্যে বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করছে। দ্রব্যমূল্যের যাঁতাকলে মানুষ পিষ্ঠ। তিনি এগুলোর কিছুই বলতে পারবেন না।

ফিরোজ রশীদ বলেন, রাষ্ট্রপতি কী বলতে পারবেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের আওয়ামী লীগ টাকার বিনিময়ে হায়ার করে হাইব্রিড নেতাদের ভারে হাবুডুবু খাচ্ছে। ফুটপাতের দোকানদার তাদের চাঁদা দিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছেন। এই কথা কী রাষ্ট্রপতি বলতে পারবেন? নাকি এসব বলার উপায় রাষ্ট্রপতির থাকে না। এটাই নিয়ম।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, আইএমএফ যেসব প্রেসকিপশন দিয়েছে সেগুলো নতুন কিছু নয়। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদন উড়িয়ে না দিয়ে খতিয়ে দেখার আহআন জানান তিনি। তিনি বলেন, সিপিডি যে প্রতিবেদন দিয়েছে তা ভেরি হাই। এটি নিয়ে দ্বিমত থাকতে পার। কিন্তু এ রিপোর্ট উপেক্ষা না করে ভালভাবে দেখা উচিত সেখানে কী আছে।


কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পালাতে চেয়েছিলেন ইউরোপে

গ্রেপ্তার মো. হাসান ছালাম। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৯:১৫
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাত করার অপরাধে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. হাসান ছালাম পালাতে চেয়েছিলেন ইউরোপে। তবে তার সেই চেষ্টা সফল হয়নি। সোমবার দিনগত রাতে রাজধানীর মতিঝিল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটারিয়ন (র‌্যাব)।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার হাসান সালাম যৌথ মালিকানায় বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। এমনকি বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে পরিশোধ করেননি। তিনি সুপারশপ, জুয়েলারি ব্যবসা, ঠিকাদারি, ট্রাভেল এজেন্সি ও জমি কেনা-বেচাসহ ১১টি প্রতিষ্ঠানে অধিক হারে মুনাফা লাভের প্রলোভন দেখিয়েছেন। এভাবে তিনি তার ব্যবসায়িক পার্টনারসহ আত্মীয়-স্বজন এবং পরিচিত লোকজনের কাছ থেকে উচ্চহারে মাসিক লভ্যাংশ দেয়ার কথা বলে কোটি টাকার অধিক হাতিয়ে নেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ।

অধিনায়ক বলেন, ‘হাসান ছালাম বিনিয়োগকারীদের কিছুদিন লভ্যাংশ দিলেও পরবর্তীতে তা দেয়া বন্ধ করে দেন। পাওনাদাররা টাকার জন্য বারবার তাগিদ দিলে তিনি তাদেরকে চেক প্রদান করেন। পরে এসব চেক ব্যাংক থেকে ডিজঅনার করা হয়। এ কারণে পাওনাদাররা তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। এছাড়া তিনি ফার্স্ট ফাইন্যান্স লিমিটেড, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল ফাইন্যান্স, স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক, ব্রাক ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকসহ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আর পরিশোধ করেননি। কৌশলে এসব ঋণের দায় এড়ানোর জন্য তিনি বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং দোকান বিক্রি করে কুমিল্লা এবং ময়মনসিংহে জমি কেনেন।

র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, ২০১৮ সালে বিভিন্ন ব্যক্তি এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান তার বিরুদ্ধে মামলা করে। ২০২০ সালে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে তিনি পান্থপথে তার আলিশান ফ্ল্যাট বিক্রি করে ডেমরা এলাকায় বন্ধুর বাসায় গাঁ ঢাকা দেন। এছাড়া তিনি রাজধানীর উত্তরা, কেরাণীগঞ্জ ও মতিঝিল এলাকায় বিভিন্ন সময় আত্মগোপনে থাকেন। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় দেশ ছেড়ে ইউরোপে পালিয়ে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। ২০২২ সালে এক পাওনাদারের করা মামলায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি জানান, ২০০৮ সালে কুমিল্লায় মাসিক হারে লভ্যাংশ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কয়েকজনের কাছ থেকে অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে ঢাকা চলে আসেন। পরে বসুন্ধরা সিটিতে প্রথমে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে জেমস্ সুপারশপ নামে পাথরের ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন ব্যক্তিসহ বেশ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।

এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলেও জানায় র‌্যাব।

বিষয়:

৫ অপারেটরের কাছে সরকারের বকেয়া ১৩ হাজার কোটি টাকা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

মোবাইল অপারেটরদের কাছে সরকারের বকেয়ার তথ্য আবারো সংসদে দিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তিনি একটি বন্ধ হয়ে যাওয়া অপারেটরসহ পাঁচ মোবাইল অপারেটরের কাছে সরকারের বকেয়ার পরিমাণ ১৩ হাজার ৪০৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা বলে জানান।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম সরওয়ার জাহানের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান মোস্তফা জব্বার। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়েছে।

মন্ত্রীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণফোনের কাছ থেকে ১০ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৪ লাখ ৭৬ হাজার ১৩৫ টাকা, রবি আজিয়াটার কাছে ৭২৯ কোটি ২৩ লাখ ৯১ হাজার ৪৭৬ কোটি টাকা। বাংলালিংক ডিজিটালের কাছে ২০২১ সালের নিলামে বরাদ্দকৃত তরঙ্গের দ্বিতীয় কিস্তি এবং ২০২২ সালের তরঙ্গ নিলামের ডাউন পেমেন্ট বাবদ ২৭৩ কোটি ২৫ লাখ ৪১ হাজার ২৯২ টাকা।

রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর কোম্পানি টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের কাছে সরকারের পাওনা এক হাজার ৬৯৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা বলেও জানান মন্ত্রী।

মন্ত্রী জানান, টেলিটকের কাছে পাওনা টাকার মধ্যে এক হাজার ৫৮৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা থ্রিজি স্পেকট্রাম অ্যাসাইনমেন্ট ফি বাবদ। স্পেকট্রাম চার্জ বাবদ ২৭ কোটি ১৫ লাখ, রেভিনিউ শেয়ার বাবদ ৩৩ কোটি ৭৯ লাখ ও এসওএফ বাবদ ৪৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী জানান সিটিসেলের কাছে সরকারের পাওনা ১২৮ কোটি ৬ লাখ ৯৮ হাজার ৩২৩ টাকা পাওনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মোহম্মদ হাবিব হাসানের প্রশ্নের জবাবে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ডাক ও টেলিযোগ বিভাগের আওতাধীন বিটিআরসি কর্তৃক গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ইস্যূকৃত বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং বা কলসেন্টার রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটধারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৭৯টি। অপারেশনাল কল সেন্টারের সংখ্যা ৬৮ টি। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক কল সেন্টার ৪৫ টি, অভ্যন্তরীন কল সেন্টারের সংখ্যা ২৩ টি।

ডাক অধিদপ্তরের প্রচলিত অর্থে কোনো কল সেন্টার নেই বলে জানান ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের ডাকঘরসমূহকে কল সেন্টারে রূপান্তরের পরিকল্পনা আপাতত সরকারের নেই। সকল ডাকঘরে এ ধরনের কল সেন্টার তৈরির জন্য পর্যাপ্ত ও দক্ষ জনবল প্রয়োজন। এছাড়াও ডাক বিভাগের প্রতিটি ইউনিটের তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তার নাম ও টেলিফোন নম্বর ওয়েবসাইটে দেয়া রয়েছে।

চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ভারতের সঙ্গে আইপি ট্রানজিট লিজ প্রদান সংক্রান্ত একটি চুক্তি ২০১৫ সালের ৬ জুন স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী দেশটির পূর্বাঞ্চলের প্রদেশগুলির জন্য প্রাথমিক অবস্থায় ১০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ বাংলাদেশ হতে লিজ প্রদান করা হয়। বিএসসিসিএল বর্তমানে ভারতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি বিএসএনএলকে ত্রিপুরায়য় ২০ জিবিপিএস ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ রপ্তানি করছে।

বিষয়:

এমআরটির সঙ্গে সমন্বয় করে চালু হবে নগর পরিবহনের দুই রুট

মঙ্গলবার ডিএসসিসির প্রধান কার্যালয় নগর ভবনে বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৬:৩৩
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের (এমআরটি) সঙ্গে সমন্বয় করেই ঢাকা নগর পরিবহনের নতুন দুই যাত্রাপথ চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।

ঢাকা উত্তর সিটির করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেছেন, মেট্রোরেলের পাস দিয়েই নগর পরিবহন ব্যবহারের ব্যবস্থা করা যাবে।

মঙ্গলবার দুপুরে ডিএসসিসির প্রধান কার্যালয় নগর ভবনের বুড়িগঙ্গা হলে বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির ২৬তম সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির সভাপতি ফজলে নূর তাপস।

মেয়র তাপস বলেন, ‘এরই মাঝেই এমআরটি চালু হয়েছে। তাই এমআরটির সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন দুটি যাত্রাপথ চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সে পরিপ্রেক্ষিতে নতুন দুটি যাত্রাপথের ব্যাপারে আজকের সভায় বিশদ আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়েছে।’

এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র তাপস বলেন, ‘কিছু ব্যত্যয় আমরা লক্ষ্য করেছি। বিশেষ করে টিকিট না কেটে বাসে ওঠার একটা প্রবণতা লক্ষ্য করছি। সেটা কোনোভাবেই ঢাকা নগর পরিবহানে বরদাশত করা হবে না। সবাইকে টিকিট কাউন্টারের মাধ্যমে টিকিট কেটে বাসে উঠতে হবে।’

নগর পরিবহনে যাত্রী সেবার মান অক্ষুন্ন রাখা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে জানিয়ে ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে আলাপ করেছি। বিআরটিসি আমাদের নিশ্চিত করেছে- ঢাকা নগর পরিবহনের জন্য যে নির্দিষ্ট বাস, সেটা শুধু ঢাকা নগর পরিবহনের যাত্রাপথেই চলবে। এই বাসগুলো অন্য কোথাও ব্যবহার করা যাবে না।’

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘মেট্রোরেলে যাত্রীরা যে র‍্যাপিড পাস নিয়ে চলাচল করছে সেই পাস দিয়েই নগর পরিবহনের সব বাসে চলতে পারবেন; এমন সিদ্ধান্তই হয়েছে আজকের মিটিংয়ে। একটি কার্ডেই নগরবাসী মেট্রোরেল ও ঢাকা নগর পরিবহনে চলতে পারবেন।’

উত্তর সিটির মেয়র আরও বলেন, ‘মেট্রোরেলের যাত্রীদের সার্ভিস দেয়ার জন্য আমরা ২৪ ও ২৫ নম্বর যাত্রাপথ চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তারা যেন বাস থেকে নেমে মেট্রোরেলে উঠতে পারেন এবং মেট্রোরেল থেকে নেমে বাস ব্যবহার করতে পারেন- সেটা বিবেচনা করেই নতুন এই দুই রুট চালু করা হবে। এই দুই রুটে প্রাথমিকভাবে ৫০টি বাস চলবে।’

নতুন দুই রুট

২৪ নম্বর যাত্রাপথ: ঘাটারচর-বসিলা-মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড-শিশুমেলা-আগারগাঁও-মিরপুর ১০ দিয়ে কালসি ফ্লাইওভার হয়ে এয়ারপোর্ট-জসিমউদ্দীন-আব্দুল্লাহপুর।

২৫ নম্বর যাত্রাপথ: ঘাটারচর-বসিলা-মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড-আসাদগেট-মানিক মিয়া এভিনিউ দিয়ে খামারবাড়ি হয়ে বিজয় সরণি দিয়ে বের হয়ে জাহাঙ্গীর গেট-শাহিন স্কুল-মহাখালী (ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে)-কাকলি-বনানী উড়ালসেতু হয়ে রিজেন্সি-এয়ারপোর্ট-জসিমউদ্দীন-আব্দুল্লাহপুর।

বিষয়:

তুরস্কে উদ্ধারকারী দল পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

তুরস্কের খাহরামানমারাসের ভূমিকম্পের পর উদ্ধার তৎপরতা। ছবি: এএফপি
আপডেটেড ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৫:৫৯
কূটনৈতিক প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

তুরস্কে ভয়াবহ ভূমিকম্পের ঘটনায় উদ্ধারকারী দল পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে একটি জরুরি মেডিকেল দলও যাচ্ছে দেশটিতে।

মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও জনকূটনীতি অনুবিভাগের মহাপরিচালক সেহেলী সাবরীন দৈনিক বাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ভূমিকম্প ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আমরা দুটি দল পাঠানোর পরিকল্পনা করছি। একটি জরুরি মেডিকেল টিম এবং একটি উদ্ধারকারী দল।’

এছাড়া এক ক্ষুদে বার্তায় বাংলাদেশে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরান জানান, তুরস্কে বাংলাদেশ সরকার সহায়তা দিতে চেয়েছে। তারা আজ অথবা আগামীকাল উদ্ধারকারী দল পাঠাতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ১০ সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল পাঠাচ্ছে। এতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের পাঁচজন করে সদস্য থাকবেন।

সোমবার সকালে প্রাণঘাতী ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে তুরস্ক ও তার প্রতিবেশী দেশ সিরিয়া। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল সিরিয়ার সীমান্তবর্তী তুরস্কের গাজিয়ানতেপ শহরের কাছে। ভূপৃষ্ঠের ১৭ দশমিক ৭ কিলোমিটার গভীরে ছিল এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল। ভূমিকম্পের কারণে তুরস্ক ও সিরিয়ায় মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে।

শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে মৃতরে সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়েছে।

বিষয়:

‘শব্দদূষণের প্রত্যক্ষ শিকার সাধারণ মানুষ’

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সভায় বক্তারা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৫:৫৬
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

জলবায়ু অভিযোজনের পাশাপাশি শব্দদূষণ নিয়েও কাজ করতে হবে। এ ছাড়া ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে শব্দদূষণে কারা জড়িত, তা বের করে শব্দদূষণ রোধে উদ্যোগ নিতে হবে। কেননা শব্দদূষণের প্রত্যক্ষ শিকার সাধারণ মানুষ। তাই এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে শব্দদূষণ রোধে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

রাজধানীর সেগুন বাগিচায় মঙ্গলবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর রুনি মিলনায়তনে এক সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা।

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প- এর আওতায় গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের নিয়ে এই সভার আয়োজন করে পরিবেশ অধিদপ্তর। এতে সার্বিক সহযোগিতায় ছিল ইকিউএম কনসাল্টিং লিমিটেড ও স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)।

সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সদস্য খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন বলেন, জলবায়ু অভিযোজনের জন্য আমরা যেভাবে কাজ করছি, ঠিক একইভাবে শব্দদূষণ নিয়ে কাজ করতে হবে। উচ্চস্বরে অর্থহীন যে সঙ্গীত চর্চা হয়, তা অচিরেই বন্ধ করতে হবে।

শব্দদূষণের ক্ষতি সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা দরকার মন্তব্য করে এই সংসদ সদস্য বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে শব্দদূষণ কারা করছে, তা নির্ণয় করা যেতে পারে।

সভাপতির বক্তব্যে স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের সাবেক উপাচার্য মোহাম্মদ আলী নকী বলেন, শব্দ একটি আঘাত সৃষ্ট বাস্তব ঢেউ। এই ঢেউ অসহনীয় পর্যায়ে গেলে, তা শব্দদূষণে পরিণত হয়। এই ঢেউয়ের ভেতর একজন মানুষ কত সময় বা কতদিন ধরে অবস্থা করছেন, তা গুরুত্বপূর্ণ। এটির ওপর নির্ভর করে মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি কতটা বেশি। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শব্দদূষণ রোধে উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রবিউল আলম বলেন, ডিটিসিএ বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে। সরকারের এনফোর্সমেন্ট কর্তৃপক্ষকে শব্দমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র দিতে হবে, যেন তারা শব্দের তীব্রতা পরিমাপ করে পদক্ষেপ নিতে পারে।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, যানবাহনের সৃষ্ট শব্দদূষণের প্রত্যক্ষ শিকার সাধারণ জনগণ। তাই নিজ স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আমাদের নিজেদেরই হর্ণ বাজানো বন্ধ করতে হবে। শব্দদূষণের উৎস চিহ্নিত হলে প্রাধান্য ভিত্তিতে সমাধান করতে হবে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম-সম্পাদক আলমগীর কবির বলেন, শব্দের মাত্রা বজায় রাখতে আবাসিক এলাকা থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্প কারখানা সরিয়ে ফেলতে হবে। এ ছাড়া বিআরটিএ থেকে গাড়ি নিবন্ধনের সময় মালিক ও চালকদের নিয়ে সেমিনার করার মাধ্যমে সচেতন করতে হবে। প্রতিটি গাড়িতে শব্দদূষণ মনিটরিংয়ের জন্য ট্রাকিং ডিভাইস স্থাপন করে, তা পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেন তিনি।

এর আগে স্বাগত বক্তব্যে স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, শব্দদূষণসহ পরিবেশ দূষণরোধে আমাদের দেশে পর্যাপ্ত আইন রয়েছে। তবে সেই আইনের প্রয়োগ হয় কম। এই আইনের প্রয়োগ হোক সর্বশেষ পদক্ষেপ এবং সচেতনতাই হোক সর্বপ্রথম পদক্ষেপ।

সভায় প্রকল্প সংশ্লিষ্ট তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন প্রকল্পের মাঠ সমন্বয়ক মো. নাছির আহম্মেদ পাটোয়ারী।

সভায় আরও বক্তব্য দেন, বাপার যুগ্ম-সম্পাদক হুয়ায়ুন কবির, মিহির বিশ্বাস ও ইবনুল সাইদ রানা।


শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হতে আরও ২ বছর

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রাঙ্গনে সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পযটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলীসহ অন্যরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৫:৩৮
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল আগামী বছরের শেষে পুরোদমে চালু হবে। তবে এর আগে ওই বছরের অক্টোবরে টার্মিনালটির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পযটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী মঙ্গলবার রাজধানীর কুর্মিটোলায় বিমানবন্দরের নির্মাণাধীন তৃতীয় টার্মিনালের প্রাঙ্গনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী অক্টোবরে টার্মিনালের কার্যক্রমের প্রাথমিক উদ্বোধন করা হবে। এরপর ২০২৪ সালের এপ্রিল ও মে মাস নাগাদ টার্মিনালের প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হবে।

এর আগে শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মান সরেজমিনে পরিদর্শন করেন মাহবুব আলী। বিমানবন্দর যাত্রী সেবা সম্পর্কে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে অবকাঠামো সীমাবদ্ধতার কারণে সর্বোচ্চ সেবা দেয়া যাচ্ছে না বলে তিনি জানান। এ সময় বলেন, ‘সেবার মান বাড়াতে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে।’

ঢাকা, সিলেট, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের উন্নয়ন কাজের বর্ণনা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অ্যাভিয়েশন খাতে একটা নিরব বিপ্লব হচ্ছে।’

সংবাদ সম্মেলনে বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান বলেন, ‘তৃতীয় টার্মিনালের প্রথম পর্যায়ের কাজ ২০২৪ সালের এপ্রিল নাগাদ শেষ হবে।’

প্রথম পর্যায়ের কাজ করতে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে দাবি করে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই টাকা আর ফেরত দিচ্ছেন না তারা। এই টাকা দিয়ে টার্মিনালের জন্য নতুন সুযোগ সুবিধাসহ আরও কাজ যোগ করা হয়েছে। এজন্য প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজের জন্য আবারও দরপত্র আহ্বান করা হবে। সব শেষ করে টার্মিনালে পুরো কাজ শেষ করতে আগামী ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ সময় লাগবে।’

বেবিচক চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের বলেন, ‘টার্মিনালের প্রথম পর্যায়ে কাজে ১২টি বোর্ডিং ব্রিজ ধরা হয়েছিল, দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শেষ হলে বোর্ডিং ব্রিজ হবে ২৬টি।’

মাহবুব আলী বলেন, ‘প্রবাসী যাত্রীদের হয়রানি করা যাবে না। তারা বিদেশে গিয়ে অনেক কষ্ট করে টাকা আয় করেন দেশের জন্য। বিমানবন্দরে তাদের ভালো সেবা দিতে হবে।’

ইমিগ্রেশনে প্রবাসীদের হয়রানির শিকার হতে হয়— এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিমান প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যাদের সন্দেহজনক মনে হবে, তাদেরই যেন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া আছে। আর যাদের বিনা কারণে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, সেটা তো হয়রানির পর্যায়ে চলে যাবে।’

শাহজালাল বিমানবন্দরে ই-গেটগুলো কবে থেকে পুরোপুরি চালু হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ই-গেটগুলো চালু আছে। শতভাগ চালু করতে আরও সময় লাগবে।’


banner close