শনিবার, ৩ জানুয়ারি ২০২৬
২০ পৌষ ১৪৩২

নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবি ঢাবি শিক্ষার্থীদের, কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যানবাহনের গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ,রুবিনা আক্তার ‘হত্যাকাণ্ডের’ বিচার এবং শব্দ দূষণ প্রতিরোধসহ বিভিন্ন দাবিতে রোববার বিক্ষোভ করেছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা। ছবিটি রাজু ভাস্কর্য এলাকা থেকে তোলা। ছবি : সৈয়দ মাহামুদুর রহমান
প্রতিনিধি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত : ৪ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৮:৪৯

গাড়িচাপায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নারীর মৃত্যুর পর নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

রোববার বেলা এগারোটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকে শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভে বিভিন্ন বিভাগ ও ইনিস্টিটিউটের কয়েকশ শিক্ষার্থী অংশ নেন।

শিক্ষার্থীরা পরে মিছিল নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। পরে তারা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে।

শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘দাবি মোদের একটাই নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই’, ‘অনিয়মের ঠাঁই নাই, নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই’, ‘ক্যাম্পাসে রক্ত ঝরে, প্রশাসন কী করে’, ‘বিবেকের প্রশ্ন করি, এবার যদি আমরা মরি’, নীলক্ষেতে রক্ত কেন প্রশাসন জবাব চাই’,।

বিক্ষোভ শেষে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ক্যাম্পাসের কয়েকটি প্রবেশমুখে বাঁশের ব্যারিকেড বসিয়ে দেয়। ক্যাম্পাস সংশ্লিষ্ট নয় এমন কারো গাড়ি তারা ক্যাম্পাসের ভিতর ঢুকতে বাধা দেন। হ্যান্ডমাইক দিয়ে শিক্ষার্থীরা ঘোষণা করে, টিএসসিতে কোনো বহিরাগত থাকতে পারবে না। এর আগে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীদের পক্ষে নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতের দাবিতে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আনিকা তাহসিনা ১১ দফা দাবি উত্থাপন করেন।

দাবিগুলো হলো-

# বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল যানবাহনের গতিসীমা নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ, শব্দ দূষণ প্রতিরোধে ব্যবস্থা ও শাস্তির বিধান নিশ্চিত করা।

# রুবিনা আক্তার হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সর্বোচ্চ সমর্থন ও সহযোগিতা আদায় করা।

# ক্যাম্পাসে যানচলাচল নিয়ন্ত্রণের লক্ষে প্রধান প্রবেশদ্বারগুলোতে দ্রুত চেকপোস্ট বসানো ও গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা।

# বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শুধুমাত্র নিবন্ধিত রিক্সা চলাচল এবং রিকশাচালকদের জন্য ইউনিফর্ম ও ভাড়ার চার্ট প্রস্তুত করা।

# ভ্রাম্যমান দোকানের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ ও প্রশাসন কর্তৃক যথাযথ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত করা এবং ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখতে নূন্যতম ৩০০ ডাস্টবিন স্থাপনের ব্যবস্থা করা।

# প্রথম বর্ষ থেকে সকল শিক্ষার্থীর আইডি কার্ড প্রদান করা এবং ক্যাম্পাসের কিছু স্থানে সংরক্ষিত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।

# মাদকাসক্ত ও ভবঘুরে ব্যক্তিদের ক্যাম্পাস থেকে স্থায়ী উচ্ছেদ করা।

# সম্পূর্ণ ক্যাম্পাসকে সিসিটিভির আওতায় আনা এবং ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করা।

# প্রক্টর অফিসে জমে থাকা সকল অভিযোগ নিষ্পত্তি করা।

# নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার লক্ষে প্রক্টোরিয়াল অফিসের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

# নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিগুলো বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা।

দাবি উত্থাপন শেষে আনিকা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শতবর্ষ পার করেছে, সেই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে যুক্ত হয়েছে শত শত সমস্যাও। এই সমস্যাগুলোর সংমিশ্রণে আজ ক্যাম্পাসে আমাদের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হওয়ার সাথে সাথে জীবনের শঙ্কাও তৈরি হয়েছে। প্রতিনিয়ত নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ভুগছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আমাদের এই শিক্ষাঙ্গণ নিরাপদ করার লক্ষ্যে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ১১ দফা দাবি উপস্থাপন করেছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর ১১ দাবিতে স্মারকলিপি দেয়া হবে জানিয়ে আানিকা বলেন, যদি আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের স্বপক্ষে যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়া হয়, তাহলে ১১ ডিসেম্বর থেকে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা কঠোর থেকে কঠোরতর কর্মসূচি নিয়ে দিতে বাধ্য হব।

গত শুক্রবার বিকেলে চারুকলা অনুষদের উল্টোদিকের রাস্তায় যাওয়ার সময় একটি প্রাইভেটকারের ধাক্কায় পড়ে যান রুবিনা। চালক গাড়ি না থামিয়ে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। টিএসসি, ভিসি চত্বর হয়ে মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ পর্যন্ত রুবিনাকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায় গাড়িটি।

এরপর লোকজন গাড়িটি আটকে নিচ থেকে রুবিনা আক্তারকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গাড়ির চালক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আজাহার জাফর শাহকে মারধর করে পথচারীরা।

ওই ঘটনার পর সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে মশাল হাতে বিক্ষোভ করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অংশ নেয়। এছাড়া রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।

এসব কর্মসূচি থেকে বিক্ষোভকারীরা গাড়ি চাপায় ওই নারীর মৃত্যুর বিচারের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ, অবাধ যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে প্রবেশ পথগুলোতে পাহারা চৌকি বসানোসহ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।


খালেদা জিয়ার সমাধিতে পরিবারের সদস্যরা, শান্তি কামনা করে দোয়া

*শ্রদ্ধা জানাতে ও দোয়া করতে দলে দলে আসেন নেতাকর্মীরাও
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে তার আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া করেছেন পরিবারের সদস্যরা। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে তারা যান। এ সময় খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমান, নাতনি জাইমা রহমান, জাহিয়া রহমানসহ পরিবারের অন্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন। কবর জিয়ারতের সময় তারা কবরের পাশে দাঁড়িয়ে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন। এরপর দোয়া ও মোনাজাত করেন। প্রায় ২০ মিনিট সেখানে অবস্থান শেষে পরিবারের সদস্যরা চলে যান।
ফজরের নামাজের পর থেকে সাধারণ মানুষের জন্য কবর জিয়ারত ও দোয়া পাঠের সুযোগ উন্মুক্ত ছিল। তবে জাইমা রহমানসহ পরিবারের সদস্যদের আগমনকে কেন্দ্র করে প্রায় এক ঘণ্টার জন্য সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
পরে খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানাতে ও দোয়া করতে দলে দলে আসেন নেতাকর্মীরা। তারা কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া পড়ছেন, মোনাজাত করেন ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। বিএনপির নেতা–কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও শ্রদ্ধা জানাতে ও দোয়া করতে আসেন খালেদা জিয়ার কবরে।
এদিন সকাল থেকে বিএনপির নেতা–কর্মীরা কবরের পাশে ভিড় করতে থাকেন। সকালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা কবর জিয়ারত করেন। এ জন্য সকাল ১০টা থেকে ১০টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত নেতা–কর্মীসহ সাধারণ মানুষ ভেতরে যেতে পারেননি। পরিবারের সদস্যরা যাওয়ার পর দলে দলে বিএনপির নেতা–কর্মীরা কবর জিয়ারত করতে যান।
বেলা সাড়ে ১১টার পর খালেদা জিয়ার কবরে আসেন আমানউল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান, জহির উদ্দিন স্বপন, খায়রুল কবির খোকন ও নাজমুল হক প্রধানসহ ৯০’– এর স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র গণঅভ‍্যুত্থানের নেতারা। তারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ও দোয়া করেন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান বলেন, ‘খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন নেত্রী, তিনি ছিলেন গণতন্ত্রের মা। আজ তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এগিয়ে যাচ্ছেন। তার নেতৃত্বে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত হবে।’
বেলা ১১টার পর আসেন ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি। তিনি প্রথমে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে দোয়া ও মোনাজাত করেন। সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া শুধু জাতীয়বাদী দলের নন, তিনি সারা বাংলাদেশের জনগণের নেত্রী। তার জানাজায় মানুষের যে রকম ঢল এবং কান্না দেখেছি, আমরা সেখান থেকে বুঝতে পেরেছি, এ রকম নেত্রী আমরা বাংলাদেশ আর পাব না।’
জাতীয়তাবাদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশসহ (জেটেব) বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা দলে দলে খালেদা জিয়ার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান, দোয়া ও মোনাজাত করেন।
খালেদা জিয়া গত মঙ্গলবার রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। গত বুধবার খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। খালেদা জিয়ার জানাজায় দল–মতনির্বিশেষে অগণিত মানুষ যোগ দেন। জানাজা শেষে জিয়া উদ্যানে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে খালেদা জিয়াকে দাফন করা হয়।
বৃহস্পতিবারও খালেদা জিয়ার কবরে বিএনপির নেতা–কর্মী ও সাধারণ মানুষ দোয়া করেন, শ্রদ্ধা জানান।
খালেদা জিয়া গত মঙ্গলবার রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। গত বুধবার খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। খালেদা জিয়ার জানাজায় দলমত-নির্বিশেষে অগণিত মানুষ যোগ দেন।
জানাজা শেষে জিয়া উদ্যানে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে খালেদা জিয়াকে দাফন করা হয়।


‘দেশের চাবি আপনার হাতে’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

দেশের চাবি আপনার হাতে স্লোগানে গণভোট নিয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে কী পাবেন আর ‘না’ ভোট দিলে কী পাবেন না—শিরোনামে একটি লিফলেট শুক্রবার (২ জানুয়ারি) পোস্ট করা হয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে।

লিফলেটে ‘আপনি কি এমন বাংলাদেশ চান যেখানে...’—এই জিজ্ঞাসার বিপরীতে রাখা হয়েছে ১১টি সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে—তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) গঠনে সরকারি দল ও বিরোধী দল একত্রে কাজ করবে; সরকারি দল ইচ্ছেমতো সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না; সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান চালু হবে; বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটিসমূহের সভাপতি নির্বাচিত হবে; যত মেয়াদই হোক, কেউ সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না; সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়বে; ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য পার্লামেন্টে একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে; দেশের বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে; আপনার মৌলিক অধিকারের সংখ্যা (যেমন—অবাধে ইন্টারনেট সেবা প্রাপ্তির অধিকার) বাড়বে; দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছেমতো ক্ষমা করতে পারবেন না; রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য থাকবে। যেখানে বলা হয়েছে, ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে ওপরের সবকিছু পাবেন। ‘না’ ভোট দিলে কিছুই পাবেন না। মনে রাখবেন, পরিবর্তনের চাবি এবার আপনারই হাতে।

গণভোটের বিষয়ে প্রচারের জন্য প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের উদ্যোগে ‘গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম’ সেল খোলা হয়েছে। প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজকে।

সেলের উদ্যোগে গণভোটের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জনগণকে স্পষ্ট ধারণা দিতে নগর ও শহরাঞ্চলের জনবহুল জায়গাগুলোতে ডিজিটাল ও ম্যানুয়াল বিলবোর্ড স্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে গত বৃহস্পতিবার। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে দেশের সব সিটি করপোরেশন, পৌরসভার মেয়র, প্যানেল মেয়র ও প্রশাসকদের নিয়ে একটি পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকেরা সশরীরে অংশ নেন এবং বাকিরা অংশ নেন অনলাইনে। মোট ১২টি সিটি করপোরেশন এবং ৩৩০টি পৌরসভার প্রশাসকেরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।

সভায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন মহানগরী ও গুরুত্বপূর্ণ পৌর শহরগুলোর প্রবেশপথসহ জনবহুল স্থানে ডিজিটাল ও স্থির বিলবোর্ডের মাধ্যমে গণভোটের বিষয়বস্তু প্রচার করতে হবে। স্থানীয় সরকারের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ভোটারদের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হবে। এ ছাড়া মসজিদের ইমাম ও অন্য ধর্মের নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে গণভোটের বিষয়বস্তু স্পষ্ট করতে হবে।

সভায় অধ্যাপক আলী রীয়াজ সবাইকে গণভোটের লোগো সর্বত্র ব্যবহার করতে অনুরোধ করেন, যেন তা জনগণের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে বিলবোর্ডের মাধ্যমে গণভোটের লোগো, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত গণভোটের ব্যালট এবং গণভোট সম্পর্কিত লিফলেট যথাসম্ভব জনবহুল স্থানে প্রচার করতে হবে। সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভাগুলোকে তাদের সক্ষমতার মধ্যে সর্বোচ্চ প্রচার করতে অনুরোধ করেন। তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত কনটেন্ট যত বেশিসংখ্যক স্থানে যতবার সম্ভব প্রচারের অনুরোধ জানান।


চাল-সবজির দামে স্বস্তি, ভোগাচ্ছে টমেটো-শসা

* এক সপ্তাহে চালের দাম কমেছে ৩ টাকা পর্যন্ত * পেঁয়াজের দাম কমেছে; ডিম, মুরগির দাম স্থির
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কাঁচাবাজারে শীতের পূর্ণ আমেজ। দীর্ঘদিনের চড়া দাম পেরিয়ে অধিকাংশ সবজি এখন ৪০ থেকে ৫০ টাকার ঘরে নেমে এসেছে। শীতের মৌসুমি সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ বাড়ায় বাজারে স্বস্তি ফিরলেও শসা ও টমেটোর চড়া দাম ভোগাচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এদিকে, নতুন বছরের শুরুতেই ক্রেতা-ভোক্তাদের জন্য সুখবর আসছে চালের বাজার থেকে। মৌসুমের আমন ধানের সরবরাহে পাইজাম, গুটি, স্বর্ণা, ব্রি-২৮, শম্পা কাটারিসহ প্রায় সব ধরনের চালের দাম কমেছে।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাজধানীর মালিবাগ, রামপুরা, খিলগাঁও, মানিকনগরসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত এক সপ্তাহে প্রতি কেজি এসব চালের দাম কেজিপ্রতি ৩ টাকা পর্যন্ত কমেছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর (ডিএএম) বলছে, অধিকাংশ চাল গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কম দামে বিক্রি হচ্ছে। ধরনভেদে এ সময় চালের দাম কমেছে ২ দশমিক ৫২ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কমেছে পাইজাম, আটাশসহ মাঝারি মানের চালগুলোর দাম।

বিক্রেতারা বলছেন, এবার সরকারের গুদামে চালের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তাই বাজার থেকে সরকার ধান-চাল কিনছে ধীরগতিতে। এ ছাড়া আমনের উৎপাদনও ভালো এবং আমদানি বেড়েছে। ফলে চালের দাম কমেছে।

বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, গুটি, স্বর্ণাসহ মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫২ টাকা কেজি, এক সপ্তাহ আগে এই চালের দাম ছিল ৫০-৫৪ টাকা। ব্রি-২৮, ব্রি-২৯, পাইজামসহ মাঝারি মানের চালগুলো বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৬ টাকা কেজি। এর মধ্যে গত এক সপ্তাহে পাইজামে কমেছে কেজিতে ২ টাকা ও নতুন আটাশ চালের দাম কমেছে ৩ টাকা। জিরাশাইল, শম্পা কাটারিসহ কিছু কিছু সরু চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৮২ টাকায়। এসব চালের দাম কেজিপ্রতি ১ টাকা কমেছে। তবে মিনিকেট, কাটারি নাজির, জিরা নাজিরসহ কিছু কিছু সরু চালের দাম বেড়েছে।

মানিকনগর বাজারের চাল ব্যবসায়ী মরিয়ম রাইস স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. ইউসুফ বলেন, আমন মৌসুমের ধান থেকে যে চালগুলো আসে, সেগুলোর দাম অনেকটাই কমেছে। আরেকটু কমতে পারে। তবে কিছু চাল রয়েছে বোরো মৌসুমের ধান থেকে আসে। সেগুলোর দাম কিছুটা বাড়লেও বাজারে তা খুব বেশি প্রভাব ফেলেনি। কারণ, অন্য চালের সরবরাহ বেড়েছে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর বলছে, গত বছরের তুলনায় গুটি, স্বর্ণাসহ মোটা চালগুলো বিক্রি হচ্ছে ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ কমে। এ ছাড়া পাইজামসহ মাঝারি মানের চালগুলোর দাম কমেছে ৮ শতাংশ। শম্পা কাটারিসহ কিছু কিছু সরু চালের দাম কমেছে ২ দশমিক ৫২ শতাংশ।

বাংলাদেশ রাইস মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি কাউসার আলম বাবু বলেন, এখন চালের বাজার অনেকটাই নমনীয়। ইতিমধ্যে কোনো কোনো অঞ্চলে বোরো ধানের আবাদও শুরু হয়েছে। যদি বোরো ধানে বড় ধরনের বিপর্যয় না হয়, তবে এ বছর চালের বাজার অস্থির হওয়ার সম্ভাবনা আর নেই।

গত ১৭ ডিসেম্বরের হিসাবমতে, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি গুদামগুলোয় ১৬ লাখ ৪৯ হাজার টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। চাল ছাড়া ভোজ্যতেল, মসুর ডাল, আটা, ময়দা, চিনিসহ প্রায় সব ধরনের মুদিপণ্য গত সপ্তাহের দামে স্থির রয়েছে। এ ছাড়া সবজি, ডিম, মুরগিসহ বিভিন্ন পণ্যের বাজারে স্বস্তি রয়েছে। সবজির বাজারে স্বস্তি বাড়িয়েছে হরেক রকম শাক।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে প্রতি কেজি মুলা ও শালগম বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। এ ছাড়া শিম, বেগুন ও মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৫০ টাকা এবং পেঁপে ৪০ টাকায় মিলছে। ফুলকপি প্রতি পিস ৩০ থেকে ৪০ টাকা ও বাঁধাকপি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলুর কেজি এখন ৩০ টাকা। তবে পাকা টমেটো ও শসার কেজি এখনো ১০০ টাকায় স্থির রয়েছে। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে কেজি দরে ১২০ টাকা।

এ ছাড়া গাজর ৫০ টাকা, কাঁচা টমেটো ৪০ টাকা এবং পেঁয়াজের ফুল প্রতি মুঠো ১৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মালিবাগ বাজারে সওদা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আয়নাল হক বলেন, ‘আজ বাজারে এসে মনে হচ্ছে শীতের আমেজ লেগেছে। অন্য সময়ে সবজি অনেক বেশি দামে কিনতে হতো, সেই তুলনায় আজ দাম কম। অধিকাংশ সবজিই ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে। তবে দুই-একটি সবজির দাম বেশি। সব মিলিয়ে সবজির দাম তুলনামূলক কমেছে।’

ফার্মের মুরগির বাদামি ও সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০৮-১১৫ টাকা ডজন। ডিমের দাম কয়েক সপ্তাহ ধরেই এই দামের মধ্যে রয়েছে। ফার্মের মুরগির মধ্যে ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৭০ টাকা কেজি। বাজারে নতুন মুড়িকাটা জাতের পেঁয়াজের দাম আরও একটু কমে ৫০-৬০ টাকায় নেমেছে; গত সপ্তাহে যা ছিল ৫৫-৬৫ টাকা। তবে ভালো মানের বাছাই করা পেঁয়াজ কিনতে এখনো ৬৫-৭০ টাকা লাগছে। বাজার থেকে ধীরে ধীরে উঠে যাচ্ছে পুরোনো আলু। নতুন আলুর দামও কমে ২০-২৫ টাকা কেজিতে নেমেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে প্রতি কেজি মুলা ও শালগম বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। এ ছাড়া শিম, বেগুন ও মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৫০ টাকা এবং পেঁপে ৪০ টাকায় মিলছে। ফুলকপি প্রতি পিস ৩০ থেকে ৪০ টাকা ও বাঁধাকপি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলুর কেজি এখন ৩০ টাকা। তবে পাকা টমেটো ও শসার কেজি এখনো ১০০ টাকায় স্থির রয়েছে। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে কেজি দরে ১২০ টাকা।

এ ছাড়া গাজর ৫০ টাকা, কাঁচা টমেটো ৪০ টাকা এবং পেঁয়াজের ফুল প্রতি মুঠো ১৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মালিবাগ বাজারে সওদা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আয়নাল হক বলেন, ‘আজ বাজারে এসে মনে হচ্ছে শীতের আমেজ লেগেছে। অন্য সময়ে সবজি অনেক বেশি দামে কিনতে হতো, সেই তুলনায় আজ দাম কম। অধিকাংশ সবজিই ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে। তবে দুই-একটি সবজির দাম বেশি। সব মিলিয়ে সবজির দাম তুলনামূলক কমেছে।’

বিক্রেতারা বলছেন, মৌসুম চলায় বাজারে সবজির প্রচুর সরবরাহ রয়েছে।

রামপুরা বাজারের সবজি বিক্রেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, বাজারে সবজির সরবরাহ প্রচুর, সব ধরনের সবজির দাম এখন কম যাচ্ছে। সরবরাহ বাড়ায় মূলত দাম কমেছে। তবে রাস্তা খরচ ও বিভিন্ন সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য না থাকলে সাধারণ মানুষ আরও কম দামে সবজি কিনতে পারত।

দীর্ঘদিন সবজির দাম বাড়তি থাকার পর এখন শীত মৌসুমে দাম একেবারেই কমে এসেছে বলে তিনি জানান।


গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ড. কামাল হোসেন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ও গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ড. কামাল হোসেন গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, প্রবীণ এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বর্তমানে ফুসফুসজনিত জটিলতায় ভুগছেন এবং চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। ড. কামাল হোসেনের দ্রুত আরোগ্য কামনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় (মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ) বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় সর্বশেষ অংশ নিয়েছিলেন ড. কামাল হোসেন। সেখানে উপস্থিত হয়ে তিনি মরহুমার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। এর দুদিন পরই তার ফুসফুসে সংক্রমণজনিত সমস্যা দেখা দিলে তাকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা চলছে।


বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠায় অধ্যাদেশ জারি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে বাণিজ্যিক বিরোধ দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ‘বাণিজ্যিক আদালত’ প্রতিষ্ঠার জন্য একটি বিশেষ অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই অধ্যাদেশটি জারি করে। মূলত বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমানে জাতীয় সংসদ অকার্যকর থাকা অবস্থায় জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এই অধ্যাদেশটি প্রণয়ন ও জারি করেছেন।

এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিশেষায়িত আদালত গঠনের পাশাপাশি এ সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক সব আইনি বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগের ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিচারিক দীর্ঘসূত্রতা কমবে, যা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি এবং একটি টেকসই বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এর আগে, গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট থেকে সারা দেশে বিশেষায়িত বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠার একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল, যারই ধারাবাহিকতায় এই অধ্যাদেশ জারি করা হলো।


বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে অশ্রুসজল মানুষের শ্রদ্ধা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নেমেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে তার সমাধিস্থলে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে চোখের জলে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
এদিন দুপুর ১২টার পর খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এরপর থেকেই জিয়া উদ্যানে একে একে প্রবেশ করেন সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা। অনেকেই ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান, কেউ কেউ দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেন। এসময় শোকাবহ পরিবেশে অনেকেই ছিলেন অশ্রুসজল।
এর আগে, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকেই সাধারণ মানুষ কবর জিয়ারত করতে জিয়া উদ্যানে আসতে থাকেন। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে তখন প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরে দুপুর ১২টার দিকে প্রবেশমুখ খুলে দেওয়া হলে শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু হয়। প্রবেশমুখ খুলে দিলে বিএনপির নেতা–কর্মী ও সাধারণ মানুষ খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে যান। যারা এসেছেন, তাদের মধ্যে নারী ছিলেন বেশি।
জিয়া উদ্যানে আসা মানুষদের মধ্যে অনেকেই ঢাকার বাইরে থেকেও এসেছেন। বেগম খালেদা জিয়ার টানে শুধু বিএনপি নেতা-কর্মীরাই নন, বরং সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
মুন্সিগঞ্জ থেকে আসা ফাতেমা শারমিন জানান, তিনি রাজনীতি করেন না, তবুও কেবল শ্রদ্ধা থেকে শেষবারের মতো প্রিয় নেত্রীর কবরের মাটি ছুঁয়ে দেখতে এসেছেন।
ফেনী থেকে আসা মবিনুল ইসলাম বলেন, আমি কোনো দল করি না, কিন্তু বেগম জিয়ার শাসনকাল আমার কাছে সোনালী সময় মনে হয়। তাই তাকে শেষ বিদায় জানাতে ছুটে এসেছি।
আগতদের মধ্যে নারী ও ঢাকার বাইরে থেকে আসা মানুষের সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য। পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সভাপতি জাহিরুল ইসলামসহ তৃণমূলের অনেক নেতা-কর্মীকেও সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে কবর জিয়ারত করতে দেখা গেছে।
গত বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নামাজে জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেগম খালেদা জিয়াকে শেরেবাংলা নগরে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে সমাহিত করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিলতায় অসুস্থ ‘আপসহীন নেত্রী’ খ্যাত খালেদা জিয়া গত মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।


যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৪টি বিমান কিনছে সরকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান সংস্থা বোয়িং থেকে ১৪টি বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বোর্ড মিটিংয়ে নীতিগতভাবে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বোর্ড সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি বিমান ক্রয় নিয়ে মূল্য ও শর্তাবলি সংক্রান্ত আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে।

বিমান সূত্রে জানা যায়, বোর্ড সভায় বোয়িংয়ের ২৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের বিমান বিক্রয় প্রস্তাব এবং ২০ ডিসেম্বর ২০২৫-এ পাঠানো সংশোধিত খসড়া চুক্তি পর্যালোচনা করা হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, বোয়িং কোম্পানি বিমানের কাছে দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯, ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ মডেলের উড়োজাহাজ বিক্রি করতে আগ্রহ প্রকাশ করে। বোর্ড সভায় এ প্রস্তাবে নীতিগতভাবে সম্মতি দেওয়া হয় এবং আলোচনা অব্যাহত রাখার অনুমোদন দেওয়া হয়।

এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে বোয়িং থেকে বড় পরিসরে বিমান কেনার পরিকল্পনা নিয়েছে, যা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং রপ্তানি শুল্ক ইস্যুতে দ্বিপক্ষীয় বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বোয়িং কোম্পানির বাণিজ্যিক বিমান বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিঘির কাছে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুর রহমান লিখেছেন- বোর্ডের এই অনুমোদন চূড়ান্ত চুক্তির আগে আলোচনার একটি আনুষ্ঠানিক সূচনা মাত্র। চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কোনো ধরনের আর্থিক বা আইনি দায়ে আবদ্ধ থাকবে না।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিমানের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়বে এবং দেশের বিমান পরিবহন খাতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

এদিকে মঙ্গলবার বোর্ড সভার গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন বিমান কর্তৃপক্ষ একটি কমিটি গঠন করবে। এই কমিটি বোয়িং কেনার দরদামসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ইস্যুতে আলোচনা করবে বোয়িং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে।

গত বছরের ২৭ জুলাই সচিবালয়ে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, পাল্টা শুল্ক নিয়ে দর কষাকষির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ কোম্পানি বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে কিছু বিমান আগামী এক-দুই বছরের মধ্যে পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, ‘বোয়িংয়ের ব্যবসা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নয়, এটি বোয়িং কোম্পানি করে। বাংলাদেশ মোট ২৫টি বোয়িংয়ের ক্রয়াদেশ দিয়েছে। অন্য দেশও এমন ক্রয়াদেশ দিয়েছে। এখন বোয়িং কোম্পানি তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী সরবরাহ করবে। অর্ডারের বোয়িং পেতে অনেক সময় লাগবে। যারা আগে অর্ডার দিয়েছে, তাদের আগে দেবে কিংবা প্রতিষ্ঠানটি তাদের ব্যবসার ধরন অনুযায়ী বিমান সরবরাহ করবে। বাংলাদেশের অতিদ্রুত কিছু বোয়িং দরকার। আগামী দুয়েক বছরের মধ্যে হয়তো কয়েকটি বিমান পাওয়া যাবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনার বিষয়ে বাণিজ্য সচিবের ঘোষণার পর এয়ারবাস বিক্রির জন্য জোরেশোরে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেন ইউরোপের কূটনীতিকরা। এমনকী প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গেও সরাসরি এয়ারবাসের বিষয়ে আলাপ করেন কূটনীতিকরা।


মায়ের প্রতি আপনাদের শ্রদ্ধা ও সম্মান হৃদয় স্পর্শ করেছে : তারেক রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মা খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনে সহযোগিতার জন্য দায়িত্ব পালনরত সবাইকে নিজের ও পরিবারের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শেষবিদায়কে ঐতিহাসিক বিদায় উল্লেখ করেছেন তারেক রহমান। দেশের মানুষের জন্য যথাযথ শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে এই বিদায় সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল সোয়া সাতটার কিছু আগে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা লেখেন তারেক রহমান।

পোস্টে তিনি দেশবাসী ও খালেদা জিয়ার জানাজা-দাফনকাজে দায়িত্ব পালনরত সংশ্লিষ্ট সবার উদ্দেশে লেখেন, ‘গভীর শোকের এই সময়ে আপনারা যে সহমর্মিতা, সম্মান এবং দায়িত্ববোধ দেখিয়েছেন, তা আমাদের হৃদয় স্পর্শ করেছে।’

পোস্টে তারেক রহমান সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রধান উপদেষ্টা ও অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান।

ফেসবুক পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, ‘গতকাল, আমার জীবনের এক গভীর শোকের মুহূর্তে, আমি আমার মায়ের শেষ বিদায় দিতে পেরেছি। এটি এমন এক ঐতিহাসিক বিদায়, যা দেশের মানুষের জন্য যথাযথ শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। আর সেটি সম্ভব হয়েছে যাদের যত্ন, দায়িত্ববোধ ও পেশাদারত্বের কারণে; তাদের সবাইকে আমি অন্তরের গভীর থেকে ধন্যবাদ জানাই। দেশনেত্রীর অন্তিম যাত্রায় অবিরত দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যরা। আপনারা শুধু শৃঙ্খলা বজায় রাখেননি, শোকময় পরিবেশেও মানবিকতার উদাহরণ দেখিয়েছেন। আপনারা আমাদের সবাইকে নিরাপদে রেখেছেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে জানাজায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়েছেন। নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সকল নারী ও পুরুষ সদস্যদেরও আমি ধন্যবাদ জানাই, যার মাঝে রয়েছেন মাননীয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, র‍্যাব এবং এপিবিএন। আপনাদের ধৈর্য, সততা ও দায়িত্ববোধের কারণে লক্ষ-লক্ষ মানুষ নিরাপদে একত্রিত হতে পেরেছে, স্বতঃস্ফূর্তভাবে শোক প্রকাশ ও শ্রদ্ধা জানাতে পেরেছে, এবং শান্তিপূর্ণভাবে ফিরে যেতে পেরেছে। যাদের কাজ অনেক সময় চোখে পড়ে না, ডিজিএফআই, এনএসআই এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের নিবেদিত সদস্যদের প্রতিও আমি সমানভাবে কৃতজ্ঞ। আপনাদের সতর্কতা ও দায়িত্ববোধের কারণে দিনটি নিরাপদ এবং নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পিএসও, ডিজি এসএসএফ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত, তথ্য ও সম্প্রচার, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক, সংস্কৃতি ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়সমূহের উপদেষ্টাগণ, ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবদানও আমি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি। আপনাদের সমন্বয় এবং উপস্থিতির মাধ্যমে, আমরা শান্তিতে শোক প্রকাশ ও শ্রদ্ধা জানাতে পেরেছি।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরও ধন্যবাদ। তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণে বিদেশি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা সরাসরি উপস্থিত হয়ে সমবেদনা জানাতে পেরেছেন। এটা প্রমাণ করে, দেশের সীমানার বাইরে থেকেও আমার মার প্রতি কতটা গভীর সম্মান ছিল।

কয়েক বর্গ কিলোমিটারজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিশাল জনসমুদ্রের মধ্যে এই অনুষ্ঠান কভার করা সাংবাদিকদের জন্য খুবই কঠিন ছিল। এত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দেশ-বিদেশের মিডিয়াকর্মীরা আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে জানাজার নামাজ ও দাফনের খবর, ছবি ও ভিডিও সারা বিশ্বে পৌঁছে দিয়েছেন। তাদের সবার প্রতি আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা ও হৃদয়ের গভীর থেকে ধন্যবাদ। আমি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদেরও অন্তরের গভীর থেকে ধন্যবাদ জানাই। জাতীয় শোকের এই কঠিন সময়ে তারা ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থেকে প্রতিটি মুহূর্তে শান্তি ও যত্ন বজায় রাখতে সাহায্য করেছেন, যা আমাদের পরিবারের জন্য অমূল্য সমর্থন হিসেবে অনুভূত হয়েছে।

আপনারা ছিলেন সেই শক্তি, যার কারণে আমাদের পরিবার এবং পুরো জাতি মর্যাদার সঙ্গে আমার মার স্মৃতিকে সম্মান জানাতে পেরেছে, আলহামদুলিল্লাহ।’


দিল্লি-ঢাকা সম্পর্ক জোরদারে খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তার এই উল্লেখযোগ্য অবদান সব সময় স্মরণ করা হবে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে এই বার্তাই দিয়েছেন রাজনাথ সিং।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে যান রাজনাথ সিং। তিনি বাংলাদেশ মিশনে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্য রাখা শোক বইতে এই বার্তা লেখেন। খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

রাজনাথ সিং লিখেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক সমবেদনা জানাই। ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদারে তার উল্লেখযোগ্য অবদান সব সময় স্মরণ করা হবে।

শোকবার্তায় রাজনাথ সিং লেখেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক সমবেদনা জানাই। ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদারে তার উল্লেখযোগ্য অবদান সব সময় স্মরণ করা হবে।

এরপর এক এক্স পোস্টে তিনি বলেন, ‘নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে গিয়েছিলাম। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোক বইতে স্বাক্ষর করেছি। তার পরিবার এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমাদের সমবেদনা।’

এ নিয়ে দুবার দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনে গেলেন রাজনাথ সিং। এর আগে ২০২১ সালের ২২ নভেম্বর বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে দিল্লির মিশনে গিয়েছিলেন তিনি।


কার্যকর হলো ধূমপান ও তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। বিদ্যমান ২০০৫ সালের আইনটিকে আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত এই অধ্যাদেশটি গত ৩০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর আজ ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হলো। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তার মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন এই অধ্যাদেশের প্রধান লক্ষ্য হলো তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া এবং দেশে তামাক ব্যবহারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা। এর মাধ্যমে ই-সিগারেট, ভ্যাপ এবং হিটেড টোব্যাকোসহ সব ধরনের উদীয়মান তামাকজাত পণ্যকে বাংলাদেশে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

নতুন এই আইনে তামাকজাত দ্রব্যের সংজ্ঞাকে আরও বিস্তৃত করা হয়েছে, যার ফলে ই-সিগারেট, ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম, এবং নিকোটিন পাউচসহ সমসাময়িক সব পণ্য এখন থেকে তামাকের আওতায় পড়বে। সরকার চাইলে ভবিষ্যতে যেকোনো নতুন ক্ষতিকর পণ্যকে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্য হিসেবে ঘোষণা করার ক্ষমতা রাখে। জনস্বার্থ রক্ষায় পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপানের পাশাপাশি সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিয়ম অমান্যকারীদের ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণও কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে; আগে যেখানে এই অপরাধের জরিমানা ছিল মাত্র ৩০০ টাকা, এখন তা বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি সর্বসাধারণের জন্য একটি ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তামাক পণ্যের প্রচারণা বন্ধে এই অধ্যাদেশে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এমনকি ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও তামাকজাত দ্রব্যের কোনো বিজ্ঞাপন প্রচার করা যাবে না। বিক্রয়কেন্দ্রে তামাকের প্যাকেট প্রদর্শন করা এবং করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর কার্যক্রমের নামে তামাক কোম্পানির লোগো বা নাম ব্যবহার করাও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তরুণ প্রজন্মকে এই নেশা থেকে দূরে রাখতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ এবং শিশুপার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই সীমানার মধ্যে তামাক পণ্য বিক্রি করলে তাকে কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।

ই-সিগারেট ও আধুনিক তামাক পণ্যের বিস্তার রোধে এই অধ্যাদেশে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এসব পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ এবং বিক্রয়কে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং আইন অমান্য করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে। এছাড়া কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতার বিড়ির উৎপাদন ও বিপণন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং তামাকের সাথে যেকোনো ধরনের ক্ষতিকর বা আসক্তিমূলক রাসায়নিক মিশ্রণকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটের ৭৫ শতাংশ জায়গা জুড়ে রঙিন ছবি ও স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা সংবলিত স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং এখন থেকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সরকার আশা করছে যে, এই অধ্যাদেশটি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। আইন লঙ্ঘনের দায়ে কোম্পানিগুলোর লাইসেন্স বাতিল এবং মালামাল জব্দ করার মতো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা এখন থেকে প্রশাসনের হাতে থাকবে। তামাকের মতো একটি মরণঘাতী উপাদানের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সুস্থ ও তামাকমুক্ত সমাজ উপহার দিতে এই আইনটি একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশে ধূমপানের হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।


মোবাইল ফোন আমদানিতে ট্যাক্স কমানো হয়েছে: প্রেস সচিব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম মোবাইল ফোন আমদানিতে ট্যাক্স কমানোর বিষয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান যে, মোবাইল ফোন আমদানির ক্ষেত্রে আগে কাস্টমস ডিউটি ছিল ২৫ শতাংশ, যা বর্তমানে কমিয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশে উৎপাদিত মোবাইল ফোনের ওপর আরোপিত ট্যাক্স ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। সরকারের এই ইতিবাচক পদক্ষেপের ফলে দেশের মোবাইল ফোন শিল্পে ব্যাপক গতিশীলতা আসবে এবং সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্মার্টফোন কেনা আরও সহজসাধ্য হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রেসসচিব শফিকুল আলম তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, দেশে বিদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত বা 'ইউজড' মোবাইল ফোন আনা হয় এবং সেগুলো কিছুটা মেরামত বা রিফারবিশড করে বাজারে বিক্রি করা হয়। এতে একদিকে যেমন সাধারণ ক্রেতারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন, তেমনি সরকারও বড় অংকের রাজস্ব হারায়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং দেশীয় শিল্পের বিকাশে কর হ্রাসের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এতে করে দেশে উৎপাদিত মোবাইল ফোনের চাহিদা বাড়বে এবং বাজারে মানসম্মত ফোনের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসবে বলে সরকার মনে করছে।

সংবাদ সম্মেলনে নতুন বছরের পাঠ্যপুস্তক বিতরণ নিয়েও হালনাগাদ তথ্য প্রদান করা হয়। প্রেসসচিব জানান যে, আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে সকল শিক্ষার্থীর হাতে পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে এবং শিক্ষকদের পরামর্শ অনুযায়ী ইতিমধ্যে ১২৩টি বইয়ের ভুল সংশোধন করা হয়েছে। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেসসচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান যে, ইতিমধ্যে মোট পাঠ্যপুস্তকের প্রায় ৮৩ শতাংশ বই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। সময়মতো বাকি বইগুলো পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগ শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার ও তাঁর স্ত্রীর ২৮টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন অ্যান্ড গোয়েন্দা-দক্ষিণ) বিপ্লব কুমার সরকার এবং তাঁর স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগমের নামে থাকা ২৮টি ব্যাংক হিসাব ও দুটি বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে করা একটি বিশেষ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আলমগীর এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতের সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, দুদকের সহকারী পরিচালক রাসেল রনি অভিযুক্তদের অবৈধ আয়ের উৎস আড়াল করার চেষ্টা এবং সম্পদ বেহাত হওয়ার আশঙ্কার বিষয়টি আদালতে গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন।

আবেদনে দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বিপ্লব কুমার সরকার ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরিতে থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে বর্তমানে গভীর অনুসন্ধান চলছে। সংস্থার দাবি, অভিযুক্তরা অবৈধভাবে অর্জিত আয়ের উৎস গোপন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন অপকৌশল অবলম্বন করছেন, যা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় একটি গুরুতর অপরাধ। তদন্ত চলাকালে দুদক লক্ষ্য করেছে যে, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও বিও হিসাবগুলো থেকে অর্থ অন্যত্র স্থানান্তর বা হস্তান্তরের চেষ্টা করা হচ্ছে। যদি এই অর্থগুলো সরিয়ে ফেলা হয়, তবে পরবর্তীতে তা উদ্ধার করা রাষ্ট্রের জন্য দুরূহ হয়ে পড়বে বলে আদালতকে অবহিত করা হয়।

তদন্তের স্বার্থে এবং রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষায় এই অর্থ উত্তোলন অবিলম্বে অবরুদ্ধ করা একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করেছেন আদালত। আদালতের এই আদেশের ফলে বিপ্লব কুমার ও তাঁর স্ত্রীর উল্লেখিত হিসাবগুলো থেকে এখন আর কোনো ধরনের লেনদেন করা সম্ভব হবে না। এর আগেও এই দম্পতির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত ৯ ডিসেম্বর বিপ্লব কুমার সরকার, তাঁর স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম, ভাই প্রণয় কুমার সরকার এবং হোসনেয়ারার বোন শাহানারা বেগমের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছিলেন একই আদালত। দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের এই তদন্তে পর্যায়ক্রমে আরও অনেকের সংশ্লিষ্টতা বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


জয়শঙ্করের সফর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে না দেখার আহ্বান পররাষ্ট্র উপদেষ্টার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের আকস্মিক ঢাকা সফরকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের সমীকরণ হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। উপদেষ্টা বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে শ্রদ্ধা জানাতে জয়শঙ্করের এই সফরটি ছিল মূলত একটি আন্তর্জাতিক শিষ্টাচার এবং মানবিক সৌজন্যের বহিঃপ্রকাশ। এটিকে বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার না করাই শ্রেয় বলে তিনি মনে করেন।

উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন উল্লেখ করেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা কেবল বাংলাদেশে নয়, বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় অত্যন্ত ইতিবাচক। দল-মত নির্বিশেষে সব স্তরের মানুষের মাঝে তাঁর যে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তা আন্তর্জাতিক মহলেও স্বীকৃত। এই জনপ্রিয়তার কারণেই প্রতিবেশী দেশের প্রতিনিধি হিসেবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে বাংলাদেশে এসেছিলেন। এটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত একটি সফর ছিল এবং এর পেছনে গভীর কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য খোঁজা উচিত হবে না বলে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান।

সফরের সময় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কোনো ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে, তাঁদের মধ্যে কোনো ধরনের দ্বিপাক্ষিক বা রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনা হয়নি। পুরো প্রক্রিয়াটি সবার সামনেই সম্পন্ন হয়েছে এবং সেখানে কেবল শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপনের বিষয়গুলোই প্রাধান্য পেয়েছে। দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্কের টানাপোড়েন এই সফরের মাধ্যমে কমবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এর উত্তর ভবিষ্যতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যাবে। মূলত বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি আন্তর্জাতিক শ্রদ্ধা প্রদর্শনের বিষয়টিকে কোনো তাত্ত্বিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখার পরামর্শ দেন তিনি।


banner close