সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১১ ফাল্গুন ১৪৩২

‘ছোট আম্মু’র জন্য আইনি লড়াইয়ে থাকবে রুবিনার পরিবার

গাড়ির নিচে আটকে পড়েন নারী (ডানে), তাকে নিয়েই গাড়ি চালাতে থাকেন চালক আজহার জাফর শাহ (বাঁয়ে)। ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া
আপডেটেড
৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ২৩:৫৪
জাকিয়া আহমেদ
প্রকাশিত
জাকিয়া আহমেদ
প্রকাশিত : ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ২৩:৫৪

ক্ষতটা অনেক গভীরে। জীবনের চাপে জীবন চলছে। বলা যায়, জীবনকে বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছি। সারাদিন পেশাগত কাজে ব্যস্ত থাকি, নিজের সংসারের ব্যস্ততাও আছে। কিন্তু একটু অবসর পেলেই স্মৃতিরা কড়া নাড়ে। সেই ছোটবেলা থেকে তাকে ‘ছোট আম্মু’ বলে জেনেছি। পুরোটা জীবনজুড়েই তো তার স্মৃতি। এখন কেবল তার স্মৃতিগুলোই সম্বল। সুখস্মৃতিগুলোও বেদনা হয়ে ফিরে ফিরে আসছে বারবার।

চোখে অশ্রু নিয়ে আর্দ্র কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন শফিকুর রহমান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ব্যক্তিগত একটি গাড়ি চাপা দিয়ে এক কিলোমিটারেরও বেশি টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নিহত রুবিনা আক্তারের ভাগ্নে তিনি। শফিকুরসহ তার গোটা পরিবারই এখনো সেই ঘটনার তীব্র মানসিক আঘাত কাটিয়ে উঠতে পারেনি।

ঘটনাটি ঘটেছিল গত শুক্রবার। বেলা ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা দিয়ে মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন রুবিনা। একটি ব্যক্তিগত গাড়ি মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিলে গাড়ির নিচে চাপা পড়েন রুবিনা। গাড়ির চালক কোনো ভ্রুক্ষেপ না করে তাকে সেই অবস্থাতেই এক কিলোমিটারের বেশি দূরত্ব টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যান। ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়ে রুবিনার শরীর। নীলক্ষেত এলাকায় গাড়িটিকে আটকাতে সক্ষম হয় পথচারীরা। তখন সবাই ব্যস্ত সেই গাড়িচালককে গণপিটুনি দেয়ায়। শেষ পর্যন্ত রুবিনাকে উদ্ধার করে যখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়, ততক্ষণে আর বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি তাকে।

রুবিনাকে চাপা দিয়ে গাড়ির নিচে করে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার সেই অমানবিক ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলে অভিহিত করেছে পুলিশ। রুবিনার পরিবারও এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চায় বলে জানালেন তার ভাগ্নে শফিকুর। তিনি নিজে একজন আইনজীবী। বিচারের জন্য একচুল ছাড় দেয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

শফিকুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। ছোট আম্মুর বিচারের জন্য শেষ পর্যন্ত আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।’

রুবিনার স্বামী মাহবুবুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে দুই বছর আগে। ছেলে আরাফাত রহমান রোহান তেজগাঁওয়ের একটি স্কুলে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। একমাত্র ছেলেকে নিয়ে রুবিনা থাকতেন তেজগাঁওয়ে স্বামীর বাসাতেই। সেখান থেকে বাবার বাড়ি হাজারীবাগে যাচ্ছিলেন দেবরের মোটরসাইকেলে। কিন্তু সেই যাত্রা পরিণত হয় রুবিনার অন্তিমযাত্রায়।

রুবিনা আক্তাররা পাঁচ বোন, দুই ভাই। এর মধ্যে রুবিনার ছোট বোনের ছেলে শফিকুর। তিনি জানালেন, রুবিনার বিয়ের আট থেকে ৯ বছর পর জন্ম নেয় তার সন্তান আরাফাত। ফলে বোনের সন্তানরা তার খুব আপন হয়ে ওঠে। ভাগ্নে-ভাগ্নিদের কাছে তিনি হয়ে ওঠেন ‘ছোট আম্মু’।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের সব কাজিনদের কাছে নিজেদের মায়ের চেয়েও ছোট আম্মু ছিল বেশি প্রিয়। তিনি অন্যরকম ছিলেন। তার এমন অস্বাভাবিক মৃত্যুতে আমরা এখনো ট্রমাটাইজড। কেউ ঠিকমতো ঘুমাতে বা খেতে পারি না। স্বাভাবিক মৃত্যু হলেও হয়তো কিছুটা মেনে নেয়া যেতে। কিন্তু যেভাবে তিনি কষ্ট পেয়েছেন, যেভাবে কষ্ট পেয়ে তাকে চলে যেতে হয়েছে— সেই কষ্টটা বুকের মধ্যে বারবার আঘাত করতে থাকে। কোনোভাবেই মানতে পারি না।’

‘ভিডিওটা বারবার চোখের সামনে আসে। বারবারই দেখি। আমাদের ছোট আম্মু কতটা কষ্ট পেয়েছেন সেটাই দেখতে চাই, অনুভব করতে চাই...। পাজর ভাঙার কষ্ট বোধহয় একেই বলে,’— বলেন শফিকুর রহমান।

এরই মধ্যে এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় সড়ক পরিবহন আইনের ৯৮ ও ১০৫ ধারায় মামলা করেছেন রুবিনা আক্তারের ভাই জাকির হোসেন মিলন। এ মামলায় নিজেই আইনজীবী থাকবেন জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রয়োজন হলে দেশসেরা আইনজীবীদের নিয়ে এ মামলায় লড়ব আমরা। ছোট আম্মুর জন্য শেষ পর্যন্ত লড়ে যাব। যা যা করতে হয়, আমি সব করব।’

নীলক্ষেত এলাকা থেকে রুবিনাকে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মীর সাফায়েত হাসান। দৈনিক বাংলার এ প্রতিবেদক তার সঙ্গেও কথা বলেন। গাড়িচালককে নিয়ে ব্যস্ততার ভিড়ে অন্য কারও সহায়তা না পাওয়ায় রুবিনাকে আরও একটু আগে হাসপাতালে নিতে না পারার আক্ষেপ ঝরল তার কণ্ঠে।

সাফায়াত বলেন, ‘যদি আরেকটু আগে তাকে হাসপাতালে নিতে পারতাম, তাহলে হয়তো তিনি বাঁচতেন অথবা বাঁচতেন না। কিন্তু চেষ্টা তো করা যেত। অন্তত চেষ্টাটুকুও না করতে পারার আক্ষেপটা থাকত না।’

সেদিনের ঘটনার বিবরণ দিয়ে সাফায়াত বলেন, বিকেল ৩টার দিকে রোকেয়া হলের সামনে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এমন সময় দেখতে পান, দ্রুতগতিতে একটি গাড়ি ছুটে চলেছে। তার পেছনে পেছনে দৌড়াচ্ছে আরও অনেকেই। কিছু না ভেবে বন্ধুর বাইসাইকেল নিয়ে গাড়ির পেছনে ছুট লাগান সাফায়াতও। বলেন, ‘আসলে তখনো আমি জানি না কী ঘটেছে। এরপর দেখলাম গাড়ির নিচে কিছু আটকে আছে। তখনো বুঝতে পারিনি সেটি একজন মানুষের শরীর। নীলক্ষেত পৌঁছানোর পর বুঝতে পারলাম।’

সাফায়াত জানান, নীলক্ষেত পৌঁছালে পথচারীরা গাড়িটিকে আটকে ফেলে। সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির চালককে বের করে গণপিটুনি দেয়া শুরু হয়। গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। কেউ কেউ ভিডিও করতে ব্যস্ত। কিন্তু রুবিনা যে তখনো গাড়ির নিচে আটকে রয়েছেন, সেদিকে খুব একটা খেয়াল করছিলেন না কেউ।

সাফায়াত বলেন, সবাই তখন ওই গাড়ি আর গাড়িচালককে নিয়ে উন্মত্ত হয়ে উঠেছে। কিন্তু ওই আন্টিকে (রুবিনা) যে কেউ বের করবে, হাসপাতালে নেবে, এমন কাউকে পাচ্ছিলাম না। একজন রিকশাওয়ালাকে অনুরোধ করলাম। তিনি ওখান থেকে চলে গেলেন। চিৎকার করে বলছিলাম, কেউ একটা রিকশা ডাকেন, একটা ভ্যান ডাকেন। কিন্তু কে শোনে কার কথা! বেশ কিছুক্ষণ পর একজন ভ্যান নিয়ে আসার পর তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হয়। তখন একজন আপু শুধু ছিলেন সঙ্গে।’

আক্ষেপ আর ক্ষোভ ঝরছিল সাফায়েতের কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে নেয়ার পর দ্রুত চিকিৎসা শুরু হলেও আন্টিকে (রুবিনা) বাঁচানো যায়নি। আমরা যদি আরেকটু আগে তাকে নিয়ে হাপসাতালে যেতে পারতাম, তাহলে হয়তো আন্টিকে বাঁচানো যেত। তাহলে হয়তো রোহানকে মা হারাতে হতো না। কিন্তু সবাই তো এখন ছবি তুলে, ভিডিও করে ভাইরাল হতে চায়। কেউ মানবিকতা দেখিয়ে এগিয়ে আসে না। অথচ আমরা নাকি মানুষ!’


১২ মার্চ শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন

আপডেটেড ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৬:৫৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে এই অধিবেশন আয়োজনের সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের ১ দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের এই প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেন। সোমবার জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই বিশেষ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের পরিচালক (গণসংযোগ) মো. এমাদুল হক স্বাক্ষরিত এক আদেশে রাষ্ট্রপতির এই সিদ্ধান্তের কথা জনসম্মুখে জানানো হয়।

সংসদীয় প্রথা ও আইন অনুযায়ী নতুন সংসদের প্রথম দিনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই নির্বাচনের পরপরই নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের শুভ সূচনা হবে। অধিবেশনের শুরুতেই রাষ্ট্রপতি বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং আগামী দিনের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণ দেবেন। রাষ্ট্রপতির এই ভাষণের পর সংসদ সদস্যরা আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর দীর্ঘ সাধারণ আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের পর এরই মধ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণসহ অন্যান্য প্রাথমিক প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় ১২ মার্চের এই অধিবেশনটি দেশের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে।


এসপি-ওসি নিয়োগ যোগ্যতার ভিত্তিতে, লটারিতে নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশের এসপি ও ওসিদের নিয়োগ আর লটারির মাধ্যমে হবে না বলে জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতেই এসব গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হবে।

আজ সোমবার ( ২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধিদপ্তরগুলোর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এসপি ও ওসিদের লটারির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রত্যাশিত সেবা দিতে পারেন না। বড় জেলা ও ছোট জেলার কাজের ধরন আলাদা- সেখানে অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও উপযুক্ততা বিবেচনা করা জরুরি। কিন্তু তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। এমনকি লটারির প্রক্রিয়াটিও স্বচ্ছ ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি নিয়োগ এভাবে হওয়া উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট বিভাগ যাদের দক্ষ ও উপযুক্ত মনে করবে, তাদেরই নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী পদায়ন করা হবে—এমন নির্দেশনা বৈঠকে দেওয়া হয়েছে।’

এর আগে গত নভেম্বরের শেষ দিকে অন্তর্বর্তী সরকার লটারির মাধ্যমে এসপি-ওসিদের পদায়ন শুরু করে। ২৪ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় লটারির মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার চূড়ান্ত করা হয়। পরে ডিসেম্বরের শুরুতে একই প্রক্রিয়ায় ৫২৭ থানায় নতুন ওসি পদায়ন করা হয়।


অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য দেশের হস্তক্ষেপ চায় না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ তার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য দেশের হস্তক্ষেপ চাইবে না।’

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘গতকাল থেকে আমাদের দেশের বিদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে আমরা বৈঠক শুরু করেছি।

আমরা তাদের কাছে আমাদের সরকারের বৈদেশিক নীতির আউটলাইন তুলে ধরেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা প্রতিটি দেশের সঙ্গে পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই। এখন পর্যন্ত সৌদি আরব, চীন, ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। আমি লক্ষ করেছি যে তারা আমাদের সরকারের প্রতি গভীর আস্থা এবং আমাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মোটো হচ্ছে বাংলাদেশ ফার্স্ট। সবার ওপরে থাকবে বাংলাদেশ। আমরা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবো, পরস্পরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করব না এবং আমাদের নীতিমালা হবে পারস্পরিক স্বার্থ, ন্যাশনাল ডিগনিটি ও জাতীয় মর্যাদার ওপর ভিত্তি করে।’


নির্বাচিত সরকার এলে পছন্দের লোক বসানোই স্বাভাবিক: বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম নবনির্বাচিত সরকারের প্রশাসনিক রদবদলকে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করেন। সোমবার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, একটি নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়াটা খুবই সাধারণ ঘটনা। বিচার প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

নিজের দায়িত্বকাল সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে তাঁকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে নির্বাচিত সরকার নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন নেতৃত্ব নিয়ে এসেছে এবং একে তিনি ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে তিনি প্রয়োজনে আইনি পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। সাধারণ নাগরিক হিসেবে তাঁর একমাত্র চাওয়া হলো জুলাই অভ্যুত্থানে ভুক্তভোগী মানুষের বিচারের দাবি যেন কোনোভাবেই থমকে না যায়।

পদত্যাগের বিষয়ে ওঠা গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে তাজুল ইসলাম জানান, দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি প্রশাসনিক পরামর্শ মেনেই সম্পন্ন হয়েছে। শুরুতে তাঁকে বর্তমান ধারা বজায় রাখার কথা বলা হলেও পরবর্তীতে নতুন নিয়োগের বিষয়টি সামনে আসে। সেই সময়ে তিনি পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করলেও সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তাঁকে সরাসরি পদত্যাগ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁকে আশ্বস্ত করেছিল নতুন কেউ দায়িত্ব গ্রহণ করলে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থলাভিষিক্ত হবেন। জনসাধারণের কাছে কোনো ভুল বার্তা যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই তিনি নিজে থেকে পদত্যাগপত্র জমা দেননি।

এ পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণাদি সম্পর্কে তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনাল এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ অকাট্য প্রমাণাদি হাজির করেছে, তা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের আদালতে উপস্থাপন করা হলে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। পুরো প্রসিকিউশন টিম কোনো অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং ছাড়াই অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে কাজ করেছে। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন শেষে তিনি পুনরায় সুপ্রিম কোর্টের নিয়মিত আইন পেশায় ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দেন।


জরুরি ভিত্তিতে পুলিশের ২ হাজার ৭০১ কনস্টেবল নিয়োগের নির্দেশ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশ বাহিনীতে জনবল বাড়াতে দ্রুত ২ হাজার ৭০১ জন কনস্টেবল নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এ নিয়োগ কার্যক্রম জরুরি ভিত্তিতে শুরু হবে।

আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচালনা করা।’

তিনি জানান, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় যেসব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, সেগুলো পুনরায় যাচাই করা হবে। লাইসেন্স যথাযথ নিয়মে দেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আশা করছি এই কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা যাবে। যারা লাইসেন্স পেয়েছেন, তারা কি তা পাওয়ার যোগ্য ছিলেন, তা যাচাই করা হবে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাতিল করা হবে। এছাড়া এই লাইসেন্সের অধীনে থাকা অস্ত্রগুলোও বাতিল হবে।’

তিনি আরও জানান, তার জানা অনুযায়ী ১০ হাজারের বেশি অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি। এসব অস্ত্র বর্তমানে অবৈধ হিসেবে গণ্য। এগুলো নিয়ে মামলা হতে পারে এবং আইনি প্রক্রিয়ায় উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হবে।


পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দনও জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রকে আরো নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে প্রথম সৌজন্য বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

পোস্টে ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন।

আমাদের দুই দেশকে আরও নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে পেরে আমি আনন্দিত।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সোমবার সকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসেন। শুরুতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে ও পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।


সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সশস্ত্র বাহিনীর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের কার্যক্রমসমূহ বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগরে অবস্থিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন শেষে এ কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে এলে প্রতিরক্ষা সচিব মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন তাকে স্বাগত জানান। এ সময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

উপদেষ্টাকে প্রতিরক্ষা সচিব প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড, উল্লেখযোগ্য সাফল্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেন। পরে উপদেষ্টা উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।

পরে উপদেষ্টা উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

উপদেষ্টা বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের কার্যক্রমসমূহ বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর। বর্তমান সরকার দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করণের জন্য কাজ করবে।

এসময় তিনি সরকারের নির্বাচনী ওয়াদা পূরণকল্পে মন্ত্রণালয়ের সকলে আন্তরিকভাবে কাজ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

একইসঙ্গে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সামরিক ও বেসামরিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্বাধীন-সার্বভৌম, আধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


যত দ্রুত সম্ভব কৃষক কার্ড চালু করবে সরকার: তথ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকার ফ্যামিলি কার্ডের মতোই যত দ্রুত সম্ভব কৃষক কার্ড চালু করবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘কৃষক কার্ড’ সংক্রান্ত একটি আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নীতিগতভাবে অনেক আগেই কৃষক কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি সরকার। বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা করার জন্যই আজ এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব ফ্যামিলি কার্ডের মতো পাইলট প্রকল্প আকারে কৃষক কার্ড দেওয়া শুরু হবে। প্রকৃত কৃষকরা এ কার্ড পাবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই কার্ডের মাধ্যমে উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব সুবিধা পাবেন কৃষক। মধ্যস্বত্বভোগীরা যেন সুবিধা নিতে পারে সেজন্যই স্মার্ট কৃষক কার্ড। পর্যায়ক্রমে সব কৃষক এ কার্ড পাবেন।’


প্রধানমন্ত্রীকে চীন সফরের আমন্ত্রণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

সচিবালয়ে আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এই বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বেইজিং সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে চীনের প্রেসিডেন্ট আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির সাংবাদিকদের ব্রিফিং প্রদান করেন। তিনি জানান চীনের রাষ্ট্রদূতের সাথে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল দুই দেশের বন্ধুত্বকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া। প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া সফরের আমন্ত্রণটি প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। এই সম্ভাব্য সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে বলে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। বাংলাদেশ সরকারের ঘোষিত ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতি চীনের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রশংসিত হয়েছে।

সচিবালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাতের আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে তাঁর নির্ধারিত দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। সেখানে তিনি তিন বাহিনীর প্রধানদের সাথে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিষয়ে মতবিনিময় করেন এবং নবনিযুক্ত প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের ব্যাজ পরিধান করান। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপক গতিশীলতা আনছেন। চীনের রাষ্ট্রদূতের এই সফর এবং শীর্ষ পর্যায়ের আমন্ত্রণ বাংলাদেশের বর্তমান আন্তর্জাতিক অবস্থানের গুরুত্বকেই পুনর্ব্যক্ত করছে। আগামীতে দুই দেশের এই উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা করা হচ্ছে।


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। চীনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের নতুন সরকারের ঘোষিত ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতিকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অখণ্ডতা ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সার্বভৌম অবস্থান রক্ষায় চীন সবসময় বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে পাশে থাকবে। বহুল আলোচিত তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে তিনি আশাবাদী হলেও বর্তমান সরকারের চূড়ান্ত অবস্থান নিয়ে এখনই মন্তব্য করেননি। তবে আঞ্চলিক রাজনীতিতে তৃতীয় কোনো দেশের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি জানান, চীন এই অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের টেকসই উন্নয়নের জন্য কাজ করছে এবং এখানে কোনো প্রতিবন্ধকতা কাম্য নয়। মূলত ওয়াশিংটনের প্রভাব ঠেকানোর কৌশলী বার্তার পাশাপাশি বেইজিংয়ের উন্নয়ন অংশীদারত্বের বিষয়টি তিনি স্পষ্ট করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের উপায় নিয়েও গুরুত্বের সাথে আলোচনা হয়। চীন বাংলাদেশে একটি স্থিতিশীল ও শক্তিশালী সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। নতুন সরকারের অধীনে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে বৈঠকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় তারা অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে চায়। সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের প্রশংসা করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের শুভেচ্ছা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নবনিযুক্ত অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী মোঃ জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে রাষ্ট্র মালিকানাধীন সাধারণ বীমা কর্পোরেশন (এসবিসি)। গত ২১ ফেব্রুয়ারি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এসবিসি পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও অবসরপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ জয়নুল বারী এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোঃ হারুন-অর-রশিদ এই অভিনন্দন প্রদান করেন। সাক্ষাৎকালে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকার চলাকালে কর্পোরেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ দেশের বীমা খাতের সার্বিক উন্নয়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় একযোগে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সাথে বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে নতুন নেতৃত্বের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন তাঁরা। সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় লক্ষ্য অর্জনে সব ধরনের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়। এই বৈঠকের মাধ্যমে দেশের আর্থিক খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বীমা শিল্পের আধুনিকায়ন ও গতিশীলতা বৃদ্ধির নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছে।


ডিজিএফআইয়ের নতুন মহাপরিচালককে র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) নবনিযুক্ত মহাপরিচালক কায়সার রশিদ চৌধুরীকে আনুষ্ঠানিকভাবে মেজর জেনারেল পদমর্যাদার র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই পদোন্নতি সূচক ব্যাজ পরানো হয়। দেশের অন্যতম শীর্ষ সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তাঁর দাপ্তরিক পদমর্যাদা বৃদ্ধির এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে নতুন মহাপরিচালককে এই সামরিক সম্মাননা প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি উপস্থিত থেকে তিন বাহিনীর প্রধানগণ এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি নবনিযুক্ত মেজর জেনারেলকে ব্যাজ পরিয়ে দিতে সহায়তা করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন উপস্থিত থেকে কায়সার রশিদ চৌধুরীকে অভিবাদন জানান। নতুন মহাপরিচালকের অধীনে সংস্থাটির গোয়েন্দা কার্যক্রম ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা তদারকিতে আরও গতিশীলতা আসবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করছে।

পেশাদার সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে কায়সার রশিদ চৌধুরী তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড ও স্টাফ পর্যায়ে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এই র‍্যাংক ব্যাজ পরিধানের মাধ্যমে তাঁর নতুন দাপ্তরিক যাত্রার এক আনুষ্ঠানিক অধ্যায় শুরু হলো। অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সরাসরি অংশগ্রহণ দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্বের প্রতি বিশেষ গুরুত্বের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।


প্রথমবার সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে অফিস করলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ সোমবার সকাল ৯টায় ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রথমবারের মতো দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নবনির্বাচিত সরকারপ্রধান তাঁর কার্যালয়ে পৌঁছালে তাঁকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানান তিন বাহিনীর প্রধানগণ। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে কুশল ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এই সফরটি জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সরাসরি তদারকি এবং প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সক্রিয় ভূমিকার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অফিসের প্রথম দিনে নির্ধারিত কার্যসূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সশস্ত্র বাহিনীর দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে নতুন ‘র‍্যাঙ্ক ব্যাজ’ পরিয়ে দেন। পদোন্নতিপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের নতুন প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান এবং মেজর জেনারেল কায়সার রশিদ চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে তিন বাহিনীর প্রধানগণ এই র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পরিধান অনুষ্ঠানে অংশ নেন, যা সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের মধ্যকার সুদৃঢ় সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটায়।

অনুষ্ঠানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রতিরক্ষা সচিব মো. আশরাফ উদ্দিনসহ সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

প্রশাসনিক ও প্রচার শাখার কর্মকর্তারাও এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষী ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মো. মেহেদুল ইসলামসহ উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর এই দাপ্তরিক কাজের সূচনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে নতুন গতিশীলতা আনবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সেনানিবাসে দাপ্তরিক কার্যক্রম শেষে প্রধানমন্ত্রী তাঁর পরবর্তী রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির উদ্দেশে যাত্রা করেন।


banner close