বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি কর্মীদের সংঘর্ষ

নয়াপল্টনে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলছে। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
৭ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৬:৪০
বিশেষ প্রতিনিধি, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
বিশেষ প্রতিনিধি, দৈনিক বাংলা

রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কার্যালয়ের সামনের সড়কে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকে।

এ সময় সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে দুপুরে পুলিশ তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে চাইলে উভয়পক্ষ বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে বিএনপির নেতা-কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার হায়াতুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘১০ তারিখের সমাবেশের এখনও চার-পাঁচ দিন বাকি আছে, কিন্তু বিএনপির নেতা-কর্মীরা আজকে নয়াপল্টনে রাস্তা বন্ধ করে মিছিল-মিটিং শুরু করেছিল।

‘আমরা তাদের এসব বন্ধ করতে বলায় তারা পুলিশের ওপর হামলা করে। এরপর আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিয়েছি। বিএনপি কর্মীদের চারপাশ থেকে হামলার কারণে বাড়তি ফোর্স আনিয়েছি। বাড়তি সতর্কতার জন্য সোয়াট সদস্যরাও ঘটনাস্থলে এসেছেন।’

এদিকে বিএনপির কার্যালয়ের মধ্যে অনেক নেতা-কর্মী আটকে রয়েছেন।

১০ ডিসেম্বর বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশকে সামনে রেখে স্বাভাবিক দিনের তুলনায় দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নেতা-কর্মীদের জটলা বেশি ছিল। এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। তার সঙ্গে অনেক নেতা-কর্মী নয়াপল্টনে জড়ো হন।

আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশ নিয়ে রাজনীতি অঙ্গনে তুমুল আলোচনা চলছে। বিএনপি নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করতে চায়। অন্যদিকে সরকার সেখানে সমাবেশ করতে দিতে নারাজ। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে বিএনপি বলছে, তারা সেখানে সমাবেশ করবে না। বিকল্প হিসেবে তারা আরামবাগের কথা বললেও পুলিশ বলছে রাস্তায় কোনোভাবেই সমাবেশ করা যাবে না।

এরমধ্যে বুধবার দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মির্জা আব্বাস বলেছেন, সরকার অথবা আওয়ামী লীগকে নয়াপল্টনের বিকল্প জায়গায় নাম প্রস্তাব করতে হবে। না হলে তারা দলীয় কার্যালয়ের সামনেই সমাবেশ করবে।


বিএনপির দ্বিতীয় দিনের পদযাত্রা শুরু

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৩০ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৫:৩০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১০ দফা দাবি আদায়ে রাজধানীতে বিএনপির পদযাত্রা শুরু হয়েছে। সোমবার দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে যাত্রাবাড়ী জামিআ ইসলামিয়া বাইতুন নূর মাদ্রাসার সামনে থেকে দ্বিতীয় দিনের এ কর্মসূচি শুরু করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির নেতা-কর্মীরা। পদযাত্রাটি শ্যামপুরে গিয়ে শেষ হবে। পদযাত্রা শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে তারা।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনুর সঞ্চালনায় এ সময় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন ও যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্না উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া আগামী ১ ফেব্রুয়ারি মুগদা থেকে মালিবাগ পর্যন্ত পদযাত্রা করবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে আগামী ৩১ জানুয়ারি গাবতলী থেকে মাজার রোড হয়ে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর পর্যন্ত পদযাত্রা হবে। প্রতিটি পদযাত্রা বেলা ২টায় শুরু হবে।

এর আগে গত শনিবার রাজধানীর বাড্ডা থেকে রামপুরা হয়ে মালিবাগেরর আবুল হোটেল পর্যন্ত পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি।

বিষয়:

পদযাত্রার পরবর্তী সময় ও স্থান জানাল বিএনপি

বিএনপির দলীয় লোগো।
আপডেটেড ২৯ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৬:৩৪
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

ক্ষমতাসীন সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনসহ ১০ দফা দাবিতে রাজধানীতে পদযাত্রা করছে বিএনপি। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত পদযাত্রা করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত শনিবার রাজধানীতে পদযাত্রা করে বিএনপি। বাড্ডার সুবাস্তু টাওয়ারের সামনে থেকে পদযাত্রাটি শুরু হয়ে মালিবাগ চৌধুরীপাড়ার আবুল হোটেলের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

বিএনপি নেতারা জানান, সোমবার দুপুর ২টায় যাত্রাবাড়ী থেকে পদযাত্রা শুরু হবে। পদযাত্রার আগে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দলের স্থায়ী কমিটি সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। সভাপতিত্ব করবেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আহ্বায়ক আব্দুস সালাম ও সঞ্চালনায় থাকবেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু।

এ ছাড়া মঙ্গলবার দুপুর ২টায় গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হবে পদযাত্রা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি স্থায়ী কমিটি সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে এ সময় বিশেষ অতিথি থাকবেন স্থায়ী কমিটি সদস্য নজরুল ইসলাম খান। পদযাত্রাটি সঞ্চালনায় থাকবেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি সদস্য সচিব আমিনুল হক।

পদযাত্রার তৃতীয় দিন বুধবার দুপুর ২টায় মুগদা স্টেডিয়াম থেকে শুরু হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন বিএনপি স্থায়ী কমিটি সদস্য মির্জা আব্বাস। সভাপতিত্ব করবেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আহ্বায়ক আব্দুস সালাম। আর সঞ্চালনায় থাকবেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু।

বিষয়:

বাড্ডা থেকে মালিবাগ পর্যন্ত বিএনপির পদযাত্রা দুপুরে

বিএনপির দলীয় প্রতীক।
আপডেটেড ২৮ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৩:৫৮
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

রাজধানীতে পদযাত্রার কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং ১০ দফা দাবি আদায়ে’ শনিবার দুপুর ২টার দিকে রাজধানীর বাড্ডা এলাকা থেকে মালিবাগ পর্যন্ত পদযাত্রা করার কথা রয়েছে দলটির।

গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ পদযাত্রা কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ২৮ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করবে।

বিএনপি নেতারা জানান, ২৮ জানুয়ারি মহানগর উত্তর বিএনপি রাজধানীর বাড্ডা এলাকা থেকে মালিবাগের আবুল হোটেল পর্যন্ত এবং ৩১ জানুয়ারি গাবতলী থেকে মাজার রোড হয়ে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর পর্যন্ত পদযাত্রা করবে। একইভাবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি ৩০ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ী থেকে শ্যামপুর পর্যন্ত এবং ১ ফেব্রুয়ারি মুগদা থেকে মালিবাগ পর্যন্ত পদযাত্রা করবে। প্রতিটি পদযাত্রা বেলা ২টায় শুরু হবে।

এদিকে ‘বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ নিত্যপণ্যের দাম কমানো, সরকারের পদত্যাগসহ ১০ দফা’ দাবিতে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকাসহ সব বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করবে বলেও ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। গত বুধবার নয়াপল্টনের সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।


ঢাকায় পদযাত্রা করবে বিএনপি

বৃহস্পতিবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২৬ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৪:৪০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

রাজধানীতে পদযাত্রার কর্মসূচির ঘোষণা করেছে বিএনপি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং বিএনপি ঘোষিত ১০ দফা দাবি আদায়ে আগামী ২৮ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এ কর্মসূচি পালন করবে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

বিএনপি নেতারা জানান, আগামী ২৮ জানুয়ারি মহানগর উত্তর বিএনপি ঢাকার বাড্ডা এলাকা থেকে মালিবাগের আবুল হোটেল পর্যন্ত এবং ৩১ জানুয়ারি গাবতলী থেকে মাজার রোড হয়ে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর পর্যন্ত পদযাত্রা করবে। একইভাবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি ৩০ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ী থেকে শ্যামপুর পর্যন্ত এবং ১ ফেব্রুয়ারি মুগদা থেকে মালিবাগ পর্যন্ত পদযাত্রা করবে। প্রতিটি পদযাত্রা বেলা ২টায় শুরু হবে।

এদিকে বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ নিত্যপণ্যের দাম কমানো, সরকারের পদত্যাগসহ ১০ দফা দাবিতে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকাসহ সব বিভাগীয় সদরে সমাবেশ করবে বিএনপি। গত বুধবার নয়াপল্টনের সমাবেশ থেকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

কর্মসূচি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আশা করি, এই কর্মসূচি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে হবে এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আন্দোলন আরও বেগবান হবে।’

এ কর্মসূচিতে যুগপতের সঙ্গীরাও থাকবে কিনা— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘অন্য দলগুলোকেও বলব। এখনো আলাপ করা হয়নি। যদি তারা থাকতে চান, অংশ নেবেন।’

সংবাদ সম্মেলনে মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান, সদস্য সচিব আমিনুল হক, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম, সদস্য সচিব রফিকুল আলম, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর সালাম আজাদ ও মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস উপস্থিত ছিলেন।


৪ ফেব্রয়ারি বিভাগীয় সমাবেশ করবে বিএনপি

নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২৫ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৯:২৭
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

সরকারের দমন-পীড়ন-নির্যাতন, দলীয় নেতা-কর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি, বিদ্যুৎ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর দাবিতে ৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীসহ বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। সরকারের পদত্যাগসহ ১০ দফা দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বুধবার বিকেলে সমাবেশ থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সরকারের পদত্যাগসহ ১০ দফা দাবি ও বিদ্যুতের দাম কমানোর দাবিতে সমাবেশ আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ইতিহাস হচ্ছে সন্ত্রাসের ইতিহাস। সন্ত্রাস কায়েম করে তারা ক্ষমতায় থাকতে চায়। আজ ৫০ বছর পরও চিৎকার করে বলতে হচ্ছে, গণতন্ত্র চাই, ভোটাধিকার চাই।’

আওয়ামী লীগের কর্মসূচির সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা যখনই কর্মসূচি দেই, তখনই আওয়ামী লীগ একটা পাল্টা কর্মসূচি দেয়। তাদের পার্টি অফিসের সামনে এখনো সমাবেশ চলছে। তাদের মধ্যে এত আস্থার অভাব আছে। এত ভয়, বিএনপির প্রোগ্রাম করলে না জানি কী হয়ে যায়। এই ভয়ে তারা পাল্টা কর্মসূচি দেয়।’

সমাবেশে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম বলেন, ‘সময় শেষ। সময় আর নাই।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘দেশের মানুষ এই সরকারকে বলতে চায়, আপনারা (সরকার) জনগণকে প্রতারিত করছেন। কদিন আগে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিএনপির নাকি গণতন্ত্রের কথা বলার অধিকার নেই। অথচ আওয়ামী লীগই গণতন্ত্র হত্যা করেছে। সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে ৬০০ গুম, ১ হাজার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শুরু করে। সরকার শুধু চাপাবাজি করে। যেখানে আওয়ামী লীগ, সেখানে তারা গণতন্ত্র হত্যাকারী, যেখানে বিএনপি সেখানে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারকারী। সরকারকে বিদায় জানাতে হবে। নয়তো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে না।’

দলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘দেশের প্রতিটি মানুষ জানে এই অবৈধ সরকরের বৈশিষ্ট্য কী। তাদের চরিত্র হলো, একনায়কতন্ত্র ও একদলীয় শাসন কায়েম করা। কিন্তু, দেশের মানুষ এই একদলীয় ও একনায়কতান্ত্রিক শাসন আর চায় না।’


নয়াপল্টনে জড়ো হচ্ছেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা

সমাবেশে অংশ নিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়েছেন নেতা-কর্মীরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২৫ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৩:৪৭
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হচ্ছেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা। বুধবার দুপুর ২টায় এ সমাবেশ শুরু হবে। সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ ১০ দফা দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ করছে বিএনপি ও তার যুগপৎ আন্দোলনের সমমনা দল ও সংগঠনগুলো।

বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে বেলা ১২টার পর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বিএনপি নেতা-কর্মীরা সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন। এ ছাড়া দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা পৃথক পৃথক ব্যানার নিয়ে নয়াপল্টনের সামনের সড়কে মিছিল করছেন। এ সময় তারা সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন।

বিএনপি কার্যালয়ের সামনের সড়কে চারটি ট্রাকের ওপর অস্থায়ী মঞ্চ বানানো হয়েছে। এ সমাবেশ থেকে যুগপৎ আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা বলে জানা গেছে।

এদিকে সমাবেশ ঘিরে নয়াপল্টন এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

আজকের সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ ছাড়া দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস ও সেলিমা রহমানসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম। সঞ্চালনায় থাকবেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীসহ সারা দেশে মহানগর ও জেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করছে বিএনপি সমমনা দলগুলো। গত ১৬ জানুয়ারি সমাবেশ ও মিছিল থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

বিষয়:

কারাগারে অসুস্থ রিজভী, হাসপাতালে নেয়ার দাবি

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নেতারা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৪ জানুয়ারি, ২০২৩ ২৩:৫৫
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অসুস্থ জানিয়ে তাকে বিশেষায়িত হাসপাতালে নেয়ার জানিয়েছে দলটি। দলের নেতারা বলছেন, কারাগারে রিজভীর রক্তবমি হচ্ছে, কিছুই খেতে পারছেন না।

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মঙ্গলবার রাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স এ কথা বলেন।

কোনো অঘটন ঘটলে সরকারকে এর দায় নিতে হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে হুঁশিয়ারি দেন বিএনপি নেতারা।

সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গত দুদিন আগে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। আমরা জানতে পেরেছি, তিনি বর্তমানে কারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং মুখে কোনো খাবার খেতে পারছেন না। তার স্ত্রী আঞ্জুমান আরা জানিয়েছেন, কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তিনি সর্বশেষ তথ্য জানতে পারছেন না।’

বিনপির এই নেতা বলেন, ‘রিজভী আহমেদ আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজশাহীতে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। পরবর্তীতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হলে তার শরীরে বেশ কয়েকবার অস্ত্রোপচার করতে হয়। গত দুবছরে তিনি হৃদরোগ এবং তিনবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়া তিনি বেশ কিছু জটিল রোগে আক্রান্ত।’

সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, এর আগেও যখন কারাগারে তিনি (রিজভী) অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, তখন বিশেষায়িত হাসপাতালে নিয়ে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়। এবারও কারাগারে রিজভী আহমেদ অসুস্থ হয়ে পড়ায় বিএনপি উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য কারাগারের বাইরে বিশেষায়িত হাসপাতালে হস্তান্তর ও নিঃশর্ত মুক্তি দেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছে। সেইসঙ্গে কারাগারে বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্পষ্ট করার জন্য আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে প্রিন্স বলেন, ‘আমরা আইনজীবীর মাধ্যমে কারাগারে খবর নেয়ার চেষ্টা করছি। আমরা এখন পর্যন্ত সুস্পষ্ট ধারণা পাইনি। গতকাল এবং আজ তাকে আদালতে আনার কথা ছিল কিন্তু আনা হয়নি। আমাদের ধারণা তিনি গুরুতর অসুস্থ, যে কারণে তাকে আদালতে আনা সম্ভব হয়নি।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা তার স্ত্রীর মাধ্যমে জানতে পেরেছি, তার পেটে প্রচণ্ড ব্যথা, বমি হচ্ছে এবং অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে তার বমির সঙ্গে রক্ত বের হচ্ছে। আমার তার প্রকৃত শারীরিক অবস্থা জানানো জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি। সেইসঙ্গে কারাগারের বাইরে বিশেষায়িত হাসপাতালে হস্তান্তরের দাবি জানাচ্ছি।’ কোনো অঘটন ঘটে গেলে এই সরকারকে দায়ী থাকতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন বিএনপির এ নেতা।

তিনি আরও বলেন, ‘গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের দাবিতে গড়া ওঠে আন্দোলনে ভীত হয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বেসামাল আচরণ করছেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে অশালীন ভাষায় কথা বলছেন, যা রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত।

বিষয়:

আন্দোলনের রোডম্যাপ চায় সঙ্গীরা, বিএনপির না

আপডেটেড ২৩ জানুয়ারি, ২০২৩ ১০:১৭
আহমেদ দীপ্ত

সরকারের পতনসহ ১০ দফা নিয়ে সুনির্দিষ্ট গতিপথ জানতে চায় বিএনপির সঙ্গে থাকা যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গীরা। তাদের মতে, বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের অবস্থান থেকে আন্দোলন শুরু করেছে। তবে এই আন্দোলনের গতিপথ কোন দিকে, সে সম্পর্কে সঙ্গীরা স্পষ্ট জানেন না। তারা আন্দোলনের চূড়ান্ত গতিপথ জানতে চান।

অবশ্য বিএনপি নেতারা বলছেন, সঙ্গীদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচির মাধ্যমে ধাপে ধাপে তারা এগোতে চান। যুগপৎ আন্দোলনের গতিপথ হচ্ছে যেকোনোভাবে এই সরকারের পতন ঘটানো। এরপর ধীরে ধীরে ১০ দফা দাবি বাস্তবায়ন ও ২৭ দফার আলোকে ক্ষমতায় গিয়ে রাষ্ট্রের মেরামত করা। এ জন্য এই আন্দোলনের পুরো কর্মসূচি বিএনপি আগেই ঘোষণা করতে অনাগ্রহী। ক্ষমতাসীনরা যাতে যুগপৎ আন্দোলন সম্পর্কে ধোঁয়াশায় থাকে, সে জন্যই এই রাজনৈতিক কৌশল নেয়া।

আর যুগপৎ আন্দোলনের নেতারা বলছেন, সরকারের পতন ঘটাতে চাইলে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামতে হবে। সেটি এক দফাও হতে পারে। এর জন্য আন্দোলনের সঙ্গীদের মতামত নিয়ে সেই আলোকে আগামীতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, সঙ্গীদের যুগপৎ আন্দোলন নিয়ে ধাপে ধাপে এগোতে চায় বিএনপি। পুরো কর্মসূচি আগেই ঘোষণা করবে না দলটি। বরং পরিস্থিতি বুঝে বাস্তবতার আলোকে সরকার পতনের এই আন্দোলন যুগপৎভাবে এগিয়ে নেয়া হবে। একটি কর্মসূচির দিন পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

গত ৩০ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো রাজধানীতে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করে যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গীরা। সেদিন রাজধানী ঢাকায় গণমিছিল করেন বিএনপির পাশাপাশি যুগপৎ আন্দোলনের রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। বর্তমানে এই যুগপৎ আন্দোলনে আছে ৫৪টি রাজনৈতিক দল ও সংগঠন।

গত বছরের ৮ আগস্ট আত্মপ্রকাশ করে সাত দলের গণতন্ত্র মঞ্চ। এই জোটে আছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, গণ-অধিকার পরিষদ, ভাসানী অনুসারী পরিষদ ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। এই জোট ১৪ দফা নিয়ে আন্দোলনের মাঠে সক্রিয় আছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, যুগপৎ আন্দোলন কখন যে গণ-অভ্যুত্থানে পরিণত হবে তা বলে দেয়া যায় না। তবে রাজনীতির অভিজ্ঞতায় আমি মনে করি, এ বছরই এই গণ-অভ্যুত্থানটি হবে।

গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা বলছেন, যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে তারা আশাবাদী। তবে এই আন্দোলনের রোডম্যাপের কথা এখনো বিএনপি বলেনি। আন্দোলনের সঙ্গীদের পক্ষ থেকেও কিছু বলা হয়নি। এই আন্দোলন সমন্বয় করতে একটি লিয়াজোঁ কমিটি করা হয়েছে বিএনপির পক্ষ থেকে। তবে তা কার্যকর নয়।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘সরকার পতনের যে আন্দোলন চলছে তা শান্তিপূর্ণ। সরকার চাইবে, ক্ষমতায় টিকে থাকতে। আর আমরা চাইব, সরকারকে সরাতে। এর জন্য কর্মসূচির পরিকল্পনা সুনির্দিষ্ট ও নিখুঁত হতে হবে।’

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বিএনপিকে বলা হয়েছে এই যুগপৎ আন্দোলনের একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করতে। খুব দ্রুতই তা হয়ে যাবে। এক দফা নিয়ে এই আন্দোলন হতে পারে। রোডম্যাপ হলে সে আলোকে আন্দোলনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে।

২০-দলীয় জোট ভেঙে গত ১২ ডিসেম্বর আত্মপ্রকাশ করে ১২-দলীয় জোট। এই জোটে আছেন তাসমিয়া প্রধানের নেতৃত্বে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) একটি অংশ। জাগপার এই অংশের সভাপতি তাসমিয়া প্রধান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বিএনপির নেতা-কর্মীর পাশাপাশি যুগপৎ আন্দোলনে থাকা অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীরাও গ্রেপ্তার হচ্ছেন, নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গীদের জানার অধিকার আছে, এই আন্দোলন কোন পথে এগোচ্ছে। কী উপায়ে এই আন্দোলন এগোবে, তা একটি নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।’

এদিকে বিএনপির নেতারা বলছেন, আন্দোলনের রোডম্যাপ প্রকাশ করা নিয়ে তাদের আগ্রহ কম। এই আন্দোলনের টার্গেট হচ্ছে জনগণের ভোটাধিকার ফেরত দেয়া, সরকারের পতনসহ এ রাষ্ট্রের কাঠামো মেরামত করা। সেই লক্ষ্য নিয়ে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় আছেন দলটির নেতা-কর্মীরা।

বিএনপির অন্যতম নীতিনির্ধারক খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এই কর্তৃত্ববাদী সরকার যদি আগেই জেনে যায় যুগপৎ আন্দোলন কোন দিকে, কীভাবে এগোচ্ছে, তারা তো আর বসে থাকবে না। এ জন্যই আন্দোলনের পুরো কর্মসূচি আমরা একেবারেই প্রকাশ করছি না। তবে প্রত্যেক কর্মসূচিই সঙ্গীদের সঙ্গে আলোচনা করে নেয়া হচ্ছে।’

যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত চারটি কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। প্রথম দুটি কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ কর্মসূচি পালনের দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের হামলার ঘটনা ঘটে।

সর্বশেষ গত ১৬ জানুয়ারি চতুর্থ কর্মসূচি পালন করে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা বিএনপি ও তার সমমনা রাজনৈতিক দলের সঙ্গীরা। সেদিন চট্টগ্রামের বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাধা দিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে এই সরকারের পতন ঘটানো সম্ভব কি না- জানতে চাইলে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান গতকাল রাতে দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘সরকার বলছে ধাক্কা দিয়ে তাদের ফেলে দেয়া সম্ভব না। এর মানে তারা লড়াই ছাড়া সরবে না। আন্দোলন-সংগ্রামের কঠোর কর্মসূচি ছাড়া তো এই সরকারের পতন সম্ভব না। সেদিকেই যেতে হবে।


জাতীয় ঐক্য করে সরকারকে বিদায় জানাতে হবে: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি
আপডেটেড ২২ জানুয়ারি, ২০২৩ ২০:৫০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য, বাংলাদেশকে একটা কল্যাণমূলক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে, মানুষের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির জন্য আরও বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য করে এই সরকারকে বিদায় জানাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে রোববার বিকেলে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ আসাদের ৫৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করে শহীদ আসাদ পরিষদ।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সব রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে। এই সরকারের পতন ছাড়া এই রাষ্ট্রের কল্যাণ সম্ভব নয়। শুধু ক্ষমতার পরিবর্তনের জন্য নয়, রাষ্ট্রকাঠামোর জন্য এই সরকারকে বিদায় জানাতে হবে। আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণই পথ দেখাবে। এখান থেকে বের হতেই হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি মাহবুব উল্লাহ বলেন, ‘এই সরকার পুলিশ দিয়ে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে আন্দোলন দমিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। যারা দমানোর চেষ্টা করছে, তাদের একসময়ে আইয়ুব সরকার দমন করে রাখতো। এই বৈপরীত্য রাজনীতি বোঝার জন্য যথেষ্ট।’

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সব রাজনৈতিক দল, কোনো না কোনো আকারে একটা লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। সেটি হচ্ছে, এই স্বৈরাচার সরকারের পতন। বিএনপি যে রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছে, এত স্পস্ট করে আগে কখনো উত্থাপন হয়নি। মানুষ একটা পরিবর্তন চায়। আর বিএনপির কর্মসূচিতে মানুষ বিশ্বাস রাখতে শুরু করেছে।’

সরকার প্রতিদিন সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে মন্তব্য করে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘বিদ্যুতখাত, ব্যাংকখাত সব খাত নষ্ট করেছে এই সরকার। গুম-খুন-ক্রসফায়ার করে, মামলা দিয়ে ক্ষমতায় টিকে আছে তারা। ফ্যাসিবাদের দুটি লক্ষণ। একটি হচ্ছে, ভয় দেখানো; আরেকটি, মিথ্যাচার করে শাসন জায়েজ করা। এই শাসন জায়েজ করছে মুক্তিযুদ্ধের নামে, উন্নয়নের নামে।’


জিয়াকে নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভুল ইতিহাস শেখানো হচ্ছে: মোশাররফ

ড্যাবের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২১ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৭:১৭
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে প্রথমে বিদ্রোহ করেছেন উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, বর্তমান সরকার ব্যর্থতা ঢাকতে তাকে পাকিস্তানের চর হিসেবে পরিচিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ভুল ইতিহাস শেখাচ্ছে।

শনিবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন খন্দকার মোশাররফ। জিয়াউর রহমানের ৮৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এই সভার আয়োজন করে।

জনগণের প্রতি বর্তমান সরকারের কোনো দায়বদ্ধতা নেই মন্তব্য করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘আজ দেশে গণতন্ত্র নেই। এই সরকার জনবিচ্ছিন্ন সরকার। তারা ১১ লাখ কোটি টাকা লুটে বিদেশে পাচার করেছে।’

দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের মুখে মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘যারা অর্থনীতি ধ্বংস করেছে তারা এর পুনর্গঠন করতে পারবে না। তাদেরকে বিদায় না দিলে দেশকে মেরামত করা যাবে না। দেশে বিচারব্যবস্থা সরকারের নিয়ন্ত্রণে। দলীয়করণের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। জনগণ আওয়াজ তুলেছে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে কোনো সংকটের সমাধান হবে না।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘কোনো স্বৈরাচার সরকার আপোসে ক্ষমতা ছেড়ে যায় না। তাদের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান ঘটানোর বিকল্প নেই। অতীতে যেমন ছাত্র-জনতা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচার এরশাদকে হটিয়েছে। তেমনই যেকোনো মুহূর্তে এই সরকার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বিদায় নেবে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ড্যাবের সভাপতি হারুন আল রশিদ বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা নিজ কানে শুনেছি। দেশের অসংখ্য মানুষ শুনেছে। তিনি দুইবার স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু সেই ইতিহাস বিকৃত করছে আওয়ামী লীগ। জিয়াউর রহমানের ঘোষণার পর দেশব্যাপী মানুষ পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। আজকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন হয়নি। এর চেয়ে বড় দুর্ভাগ্য আর কী হতে পারে?’


সব সমস্যার সমাধান এ সরকারের অবসান: আলাল

শনিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২১ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৫:৪৫
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, ‘এ দেশের সরকারের কাছে জনগণ নিরাপদ নয়। বর্তমান সময়ে দেশের মানুষের একটাই স্লোগান, তা হচ্ছে সব সমস্যার সমাধান হাসিনা সরকারের অবসান।’

শনিবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে আলাল এ কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা জেলার বিএনপির সভাপতিসহ গ্রেপ্তার হওয়া নেতাদের মুক্তির দাবিতে ঢাকা জেলা বিএনপি এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।

সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘মুক্তি কার কাছে চাইব? সারা দেশটাকে এই সরকার কারাগারে পরিণত করেছে। ২০০৯ সালে পিলখানা থেকে শুরু করে, সাভারের রানা প্লাজা ধসিয়ে মানুষ হত্যা করেছে। হোলি আর্টিজানে মানুষ মেরেছে। এর আগেরবার ক্ষমতায় থাকতে রমনার বটমূলে মানুষ মেরেছে। কোনো একটা ঘটনা আপনারা (আওয়ামী লীগ) শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করেননি। আপনাদের আমলে এ দেশের জনগণ নিরাপদ নয়।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘মাঝে মাঝে নিজের দলের নেতা-কর্মীদের ওপর রাগ করে ওবায়দুল কাদের মঞ্চ থেকে নেমে যান। দলের নেতা-কর্মীরা তার কমান্ড শোনে না। দলের নেতা-কর্মীরা কমান্ড শোনে না, তিনি আবার অন্য দল নিয়ে নসিহত করেন। তিনি দেশের সমস্যা সমাধান করতে পারেন না, বড় বড় কথা বলেন। এ কারণেই দেশের মানুষের একটাই স্লোগান- সব সমস্যার সমাধান, হাসিনা সরকারের অবসান।’

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্র ও ভোটার অধিকার ফিরিয়ে আনতে পারলে এই নোট চোর ও ভোট চোরের বিচার করা যাবে। নোট চোর ও ভোট চোরের চামড়া হচ্ছে গন্ডারের চামড়ার মতো। এ জন্য সারা বিশ্বের মানুষ বাংলাদেশের মানুষ এত সমালোচনা করে তার পরও তাদের (ক্ষমতাসীনদের) কিছু হয় না।’

আওয়ামী লীগের উদ্দেশে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘মানে মানে কেটে পড়েন। আবহাওয়া আমাদের চেয়ে আপনারা বেশি বোঝেন। সরকারে আছেন আবহাওয়া বিভিন্নভাবে পরিবর্তন হচ্ছে। কখন যে ঝড়-ঝঞ্ঝা নেমে আসে, সেটা থামানোর শক্তি আপনাদের নেই। এর আগে মানে মানে কেটে পড়েন। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া, রুহুল কবির রিজভীসহ বিএনপি নেতা-কর্মীদের মুক্ত করে দেন। না হলে আপনাদের কবল থেকে এই দেশকে কীভাবে রক্ষা করতে হয়, এ দেশের বিপ্লবী জনতা তা জানে। আমরা এটা প্রমাণ করে দেব।’

মানববন্ধনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীসহ দলটির অন্য নেতা-কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়:

খালেদা জিয়াসহ গ্রেপ্তার নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবি

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২০ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৫:৫০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ গ্রেপ্তার নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে এ দাবি জানান তারা। এ সময় বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদও জানানো হয়।

মানববন্ধনে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ বলেন, দেশের মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই চলছে। মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতের জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণআন্দোলন চলছে। এই গণআন্দোলনকে বানচাল করতে গত ৭ ডিসেম্বর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে হামলা চালানো হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে একটি ঠুনকো মামলায় আজকে পাঁচ বছর ধরে কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে। অপরদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদসহ সাড়ে চার শ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, রুহুল কবির রিজভী এই দেশের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের সহযোদ্ধা। তিনি চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনের একটি সাহসী কণ্ঠস্বর। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এই আন্দোলনকে দাবিয়ে রাখার জন্য। কিন্তু তারা (সরকার) জানে না একজন, দুইজন, পাঁচজন নেতাকে গ্রেপ্তার করে দাবিয়ে রাখা যাবে না।

জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবির ব্যাপারীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন, জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মনিরুজ্জামান মনির, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক কারী রফিকুল ইসলাম, মৎস্যজীবী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইসমাঈল হোসেন সিরাজী।


আ.লীগ আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে : মির্জা ফখরুল

রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আলোচনা সভায় অতিথিরা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৯ জানুয়ারি, ২০২৩ ২১:২৪
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের দুর্নীতির প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘যাদের পায়ে চপ্পল ছিল না তারা এখন রোডমাস্টার নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। আওয়ামী লীগ আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছে।’

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন। দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৮৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি এ সভার আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে, তখন দেশ থেকে গণতন্ত্র উধাও হয়ে যায়। পঁচাত্তরের আগে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে কবর দিয়ে বাকশাল কায়েম করেছিল। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেছিলেন।’

ফখরুল বলেন,‘বিজয় কিবোর্ড মোবাইলে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। কারণ এর মালিক আব্দুল জব্বার (মোস্তফা জব্বার) সরকারের মন্ত্রী। এটা ভয়ংকর দুর্নীতি। পত্রিকায় দেখলাম লন্ডনে বাংলাদেশিরা বাড়ি কিনছে। এরা সবাই ক্ষমতাসীন দলের সুবিধাভোগী, লুটেরা।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দিনের ভোট রাতে করে ক্ষমতায় এসে গণতন্ত্রের টুঁটি চেপে ধরেছে, তারাই আবারও ক্ষমতায় যেতে চায়। মানুষ জেগে উঠেছে। আমরা দেখেছি মানুষ এই সরকারের পতন দেখতে চায়। আমাদের মা-বাবা ভাই-বোনদের রক্ত অশ্রু বৃথা যাবে না। জেল জুলুম উপেক্ষা করে বিজয় অর্জন না করে ঘরে ফিরব না।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সরকার মুক্তিযুদ্ধের মূল ইতিহাস বিকৃত করছে। গণতন্ত্র ও অর্থনীতি ধ্বংস করেছে। গত ১২ বছরে বিএনপির ৬০০ জনকে গুম করেছে, লক্ষাধিক মামলায় ৩৭ লাখের অধিক বিএনপি নেতা-কর্মী আসামি।’

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা আন্দোলনে আছি। আওয়ামী লীগ শুধু চাপাবাজি করতে চায়। আওয়ামী লীগ হচ্ছে গণতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক আর বিএনপি গণতন্ত্রের জন্য। বিএনপির ১০ দফার প্রথম দফাতে এই সরকারের পদত্যাগ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের কথা বলা আছে।’

অনুষ্ঠানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপির জনস্রোত ঠেকানো যাচ্ছে না। বিএনপির জোয়ার থামবে না। বিএনপির সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ হয়ে গেছে।

প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন এ্যানির সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান প্রমুখ।


banner close