ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘ। এসব অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে শঙ্কার কথাও বলেছে সংস্থাটি। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে- পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও খাদ্যের ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কথা বলেছে। এ যুদ্ধের সংকটে উদ্ভুত বেশি বেকায়দায় পড়েছে এশিয়ার দেশগুলো, যারা জ্বালানি তেলের প্রায় পুরোটাই উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানি করে।
এরই প্রভাব পড়ছে আমাদের অর্থনীতিতে। দেশে মূল্যস্ফীতি আবারও বেড়ে ৯ শতাংশ অতিক্রম করেছে। সর্বশেষ এপ্রিল মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এতে পড়েছে। ফলে সীমিত আয়ের মানুষ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর নতুন করে চাপ বেড়েছে।
বুধবার (৬ মে) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এপ্রিল মাসের মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে। এর আগে মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। টানা চার মাস মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির পর মার্চে কিছুটা কমলেও এপ্রিল মাসে আবার তা বেড়েছে। ফলে গত ছয় মাসের মধ্যে পাঁচ মাসেই মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে।
গত ১৯ এপ্রিল সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়। সে অনুযায়ী, ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১০০ টাকা থেকে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৩০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা এবং পেট্রলের দাম ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা করা হয়।
আইএমএফ ও জাতিসংঘের তথ্যে জানা যায়- ইরান-ইসরাইল ও মার্কিন যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে সারের আকাশচুম্বী দাম এবং তীব্র ঘাটতি দেখা দেবে, যা পরবর্তী সময়ে বিশ্বজুড়ে ফসলের উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। এই উৎপাদন ঘাটতি খুব দ্রুতই কৃষিপণ্যের মূল্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। যতদিন এই সংকটের সমাধান না হবে, সময়ের সাথে সাথে খাদ্য সংকটের এই ঝুঁকি আরও ঘনীভূত ও তীব্রতর হবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পায়, উৎপাদন খরচ বাড়ে এবং এর প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারেও পড়ে। এতে ভোক্তাদের আগের তুলনায় বেশি দামে পণ্য কিনতে হয়।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। গ্রাম ও শহর—উভয় এলাকাতেই সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি বাড়লে সীমিত ও মধ্যম আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যায়। আয় না বাড়লে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।
গত দুই সপ্তাহে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর শাকসবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মাছ ও মাংসের দামও বেড়েছে, তবে চালের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।
এদিকে এপ্রিল মাসে জাতীয় গড় মজুরি হার বেড়েছে ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ, যা মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম। ফলে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাচ্ছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে ভোগান্তি বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যস্ফীতির তুলনায় আয় না বাড়লে মানুষকে ধারদেনা করতে হয় কিংবা খাবার, পোশাক, যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় কমাতে বাধ্য হতে হয়।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) হিসাব বলছে, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আর্থিক ক্ষতির কারণ হিসেবে পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও খাদ্যের ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ইউএনডিপি পূর্বাভাস দিয়েছে, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বের প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়তে পারে, যার ৮৮ লাখই এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের।
ইউএনডিপি সতর্ক করে বলেছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষা দেওয়া এবং সরকারি ব্যয় ধরে রাখার চাপ দিন দিন বাড়বে।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) আলাদা এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও সার সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় খাদ্য সংকট বিপর্যয়কর পর্যায়ে চলে যেতে পারে।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সবশেষ পূর্বাভাস বলেছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি চলতি ও আগামী বছরে হ্রাস পাবে নামতে পারে। এছাড়া আঞ্চলিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে।
জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক পদে আবার নিয়োগ পেয়েছেন কথাসাহিত্যিক আফসানা বেগম। গত বৃহস্পতিবার তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এবার তাকে এক বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে একই পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তখন ওই পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল কবি ও প্রবন্ধকার এ এইচ এম সাখাওয়াত উল্লাহকে (সাখাওয়াত টিপু)।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন আফসানা বেগম। সে সময়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তার মেয়াদ ছিল দুই বছর। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তার নিয়োগ বাতিল করা হয়। আবার এই পদে নিয়োগ পেলেন আফসানা বেগম।
নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি–বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে সঙ্গে কর্মসম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে এই নিয়োগ দেওয়া হলো। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্র দিয়ে নির্ধারিত হবে।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেছেন, ‘পরিবেশ নিয়ে যারা সবচেয়ে বেশি সোচ্চার ছিলেন, তাদের মধ্যেই একজন ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা। কিন্তু বাস্তবে তারা পরিবেশের কোনো উন্নয়ন তো করতেই পারেননি, উল্টো ‘‘১২টা বাজিয়ে গেছেন’’। তারা এই ১৮ মাসে আমার ঢাকা শহরকে ১৮ বছর পিছিয়ে দিয়েছে।’ রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেছেন।
‘সমন্বিত পরিবেশ ব্যবস্থাপনা: বন, পরিবেশ, নদী ও নগরায়ণ’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, সমন্বয়হীনতা ও কার্যকর উদ্যোগের অভাবের কারণে আজ রাজধানীতে ট্রাফিক জট, হকার সংকট, বায়ুদূষণ ও নাগরিক দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। পরিবেশ ও নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে শুধু মুখে বড় বড় কথা বললেই হবে না, মাঠপর্যায়ে কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে।’
বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘এসব সংকট শুধু সিটি করপোরেশনের একার কারণে সৃষ্টি হয়নি। নাগরিকদের অসচেতন আচরণও এর জন্য অনেকাংশে দায়ী। আমরা যদি নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতাম, তবে অনেক সমস্যাই নিজে থেকে কমে যেত।’
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ইতোমধ্যে ১৫ দিনব্যাপী বিশেষ জরিপ কার্যক্রম শুরু করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কোথায় কোথায় মশার লার্ভা জন্ম নিচ্ছে বা নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তা চিহ্নিত করা হচ্ছে।’
বর্ষায় রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এ প্রশাসক বলেন, ‘বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে একই রাস্তা বারবার কাটতে হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে ধানমন্ডিতে একটি পাইলট প্রকল্প চালু করা হয়েছে- যেখানে টেলিফোন, ইন্টারনেট ও কেবল লাইনসহ সব সেবা মাটির নিচে নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে এটি পুরো ঢাকা শহরে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।’
ঢাকার খাল ও জলপথ ভরাট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঢাকার প্রাকৃতিক জলপথগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনে বড় সংকট তৈরি হয়েছে। অন্তত ১৫ থেকে ২০টি আউটলেটের মাধ্যমে পানি শীতলক্ষ্ম্যা ও বুড়িগঙ্গায় যাওয়ার স্বাভাবিক ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন ছিল; কিন্তু তা করা হয়নি। ফলে নিউমার্কেটের মতো নিচু এলাকায় দ্রুত পানি জমে যাচ্ছে।’
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে কাজ চলছে জানিয়ে প্রশাসক বলেন, ‘ভবিষ্যতে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সার উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বাসা থেকেই পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য আলাদা করার ব্যবস্থাও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
আসন্ন ঈদের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘একদিনে রাজধানীতে লক্ষাধিক পশু কোরবানি হয়, যা বিশাল ব্যবস্থাপনার বিষয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ৮ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির সব বর্জ্য অপসারণে কাজ করবে সিটি করপোরেশন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য রাখতে হলে ৫০ শতাংশ দায়িত্ব জনগণের এবং ৫০ শতাংশ দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের।’ ডাস্টবিন ও সড়কবাতি চুরির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি এলাকাভিত্তিক সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি গঠনের আহ্বান জানান।
এ সময় বিএনপির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং সহ-সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপুর সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নতুন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।
রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন উপসচিব তৌছিফ আহমেদ।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের কর্মকর্তা অতিরিক্ত আইজিপি জনাব মোসলেহ উদ্দিন আহমদকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পুলিশ কমিশনার হিসেবে বদলি ও পদায়ন করা হলো। জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে’ বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
নবনিযুক্ত ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালনের আগে তিনি পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইভিত্তিক একটি ট্যাক্সি কোম্পানি চলতি বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৬ হাজার চালক নিয়োগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আজ রোববার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী-এর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাৎকারে কোম্পানিটির প্রতিনিধিদল এই প্রস্তাবনা তুলে ধরে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিরা সভায় জানান যে বর্তমানে বিশ্বের ২৭টি দেশের ১৫ হাজার কর্মী তাঁদের অধীনে কর্মরত রয়েছেন, যার মধ্যে ৮ হাজার জনই বাংলাদেশি। বাংলাদেশি কর্মীদের অসামান্য পরিশ্রম এবং দক্ষতার কারণে তাঁদের নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এমনকি দুবাই বিমানবন্দরেও বাংলাদেশি নারীরা অত্যন্ত সফলভাবে ড্রাইভিং পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।
প্রতিনিধি দল আরও জানায়, সোমবার থেকে বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে যোগ্য চালক বাছাই কার্যক্রম শুরু হবে। এ দফায় প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫০০ চালকসহ চলতি বছর মোট ৬ হাজার চালক নিয়োগ দিতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘ভবিষ্যতেও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদী।’ পুরো প্রক্রিয়ায় ‘মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে’ বলেও জানান তিনি। মন্ত্রী বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, দুবাইয়ে পৌঁছানোর পর প্রশিক্ষণ চলাকালীন সময়েও যেন কর্মীদের নিয়মিত বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা হয়। এছাড়া চালকদের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ডাক্তার ও নার্সসহ বিভিন্ন পেশাজীবী কর্মী নিয়োগের জন্য তিনি কোম্পানিটির প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান।
একই সভায় উপস্থিত থেকে প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক উল্লেখ করেন যে, একজন বাংলাদেশি চালকের দুবাই যেতে বর্তমানে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। যেহেতু এসব কর্মীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে দরিদ্র ও শ্রমজীবী পরিবার থেকে আসেন, তাই তাঁদের পক্ষে ঋণ নিয়ে বিদেশে যাওয়ার খরচ জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই মানবিক দিকটি বিবেচনায় নিয়ে অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে এক লাখ টাকার মধ্যে রাখার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আধুনিক যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ রোববার (১৭ মে) দুপুর ২টায় বিমানবন্দরের এক অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম এই নতুন সেবার শুভ সূচনা করেন। এর ফলে এখন থেকে বিমানবন্দরে আসা হাজার হাজার যাত্রী কোনো খরচ ছাড়াই উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ‘সবার জন্য দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট’ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই এই ডিজিটাল সেবার পরিধি বাড়ানো হয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ৯৪ হাজার বর্গমিটার এলাকা জুড়ে এই শক্তিশালী ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কটি বিস্তৃত করা হয়েছে। এর আওতায় বিমানবন্দরের টার্মিনাল-১, টার্মিনাল-২, অভ্যন্তরীণ টার্মিনালসহ ভিআইপি ও ভিভিআইপি টার্মিনালও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এমনকি যাত্রীদের সুবিধার্থে কার পার্কিং এলাকাতেও এই নেটওয়ার্কের কাভারেজ নিশ্চিত করা হয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করতে পুরো এলাকায় ২৫০টি অ্যাক্সেস পয়েন্ট এবং ৪৮ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার ও ইথারনেট কেবল স্থাপন করা হয়েছে। এই শক্তিশালী অবকাঠামো নির্মাণে মোট ৩৭টি অত্যাধুনিক অ্যাক্সেস সুইচ ব্যবহার করা হয়েছে যা ইন্টারনেটের স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে।
প্রযুক্তিগত সক্ষমতার দিক থেকে এই নেটওয়ার্কটি অত্যন্ত উচ্চমানের। প্রতিটি অ্যাক্সেস পয়েন্ট একই সময়ে সর্বোচ্চ ১৫০ জন ব্যবহারকারীকে সেবা দিতে সক্ষম। সেই হিসেবে বিমানবন্দরে অবস্থানরত প্রায় ৩৭ হাজার ৫০০ জন যাত্রী একযোগে এই ফ্রি ওয়াই-ফাই ব্যবহার করতে পারবেন। পুরো সিস্টেমটি সর্বোচ্চ ৪০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ক্ষমতা নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে, যা ব্যবহারকারীদের দ্রুত গতির ব্রাউজিং অভিজ্ঞতা প্রদান করবে। বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এই উদ্যোগের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টাকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান এবং একে বিমানবন্দরের আধুনিকায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে অভিহিত করেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আফরোজা খানম তাঁর বক্তব্যে বিমানবন্দরের আগামী দিনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, শীঘ্রই বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল বা তৃতীয় টার্মিনালটিও উদ্বোধন করা সম্ভব হবে, যা বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে দাঁড়াবে। ফ্রি ওয়াই-ফাই উদ্বোধনকালে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা মনে করেন, এই ধরণের সুবিধা বিদেশি পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।
উল্লেখ্য যে, এই সেবাটি চালুর আগে গত ২৬ এপ্রিল থেকে একটি সফল পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছিল। ট্রায়াল চলাকালীন প্রায় ২০ হাজার যাত্রী এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেছেন এবং এই সময়ে মোট ২ দশমিক ৩ টেরাবাইট ডেটা ব্যবহৃত হয়েছে। সফল পরীক্ষামূলক সেশনের পরেই আজ থেকে এটি সাধারণ যাত্রীদের জন্য পূর্ণাঙ্গভাবে উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো। এখন থেকে যাত্রীরা বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ সময়ে সহজেই তাঁদের প্রয়োজনীয় ডিজিটাল কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন, যা দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি লাঘবে সহায়ক হবে। এই উদ্যোগটি মূলত একটি ‘স্মার্ট বিমানবন্দর’ গড়ার লক্ষ্যেই বাস্তবায়িত হয়েছে।
সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এবং দেশের অন্যতম ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড অ্যান্ড গ্রুপ’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান সিনহার জানাজায় অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র পেশ ইমাম আবু রায়হান।
মরহুমের শেষ বিদায়ের এই আনুষ্ঠানিকতায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম), ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ মন্ত্রিপরিষদের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পর পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মরহুমের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর স্পিকার ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রীসহ অন্যান্য বিশিষ্টজনরাও মরহুমের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাতে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৩ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী। তিনি মুন্সিগঞ্জ-২ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং চারদলীয় জোট সরকারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
দীর্ঘ আড়াই দশকের হামের টিকাদান কর্মসূচি বাতিলের সিদ্ধান্তকে ‘ফৌজদারি অবহেলা’ হিসেবে চিহ্নিত করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সংশ্লিষ্ট ২৪ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং তাঁদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আর্জি জানিয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। আজ রোববার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আবেদনটি জমা দেন। রিটে অভিযোগ করা হয়েছে যে, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হামের টিকাকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা থেকে সরিয়ে বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করার অশুভ প্রক্রিয়ার সঙ্গে এই ব্যক্তিরা যুক্ত ছিলেন।
রিট আবেদনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়াও সাবেক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আদিলুর রহমান খান, নূরজাহান বেগম, ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাখাওয়াত হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ মোট ২৪ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম জানান যে, গত ৬ এপ্রিল তিনি এই মর্মে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছিলেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো সদুত্তর না মেলায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। তাঁর মতে, টিকা কর্মসূচি বন্ধ হওয়ার পর দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, যার ফলে শতাধিক শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে এবং অসংখ্য মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রিট আবেদনে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালীন যেন অভিযুক্তরা দেশের বাইরে যেতে না পারেন, সে জন্য তাঁদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন জানানো হয়েছে। রিটে বিবাদী হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলামের দাবি, রাষ্ট্রীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহারের এই হীন প্রচেষ্টা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে এনেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে জনসম্মুখে আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
চামড়া শিল্পকে একটি টেকসই ও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক খাতে পরিণত করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। আসন্ন ঈদুল আজহায় পশুর বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করতে ‘জিরো ওয়েস্ট’ বা বর্জ্যহীন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ওপর জোর দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। আজ রোববার অনুষ্ঠিত চামড়া শিল্প টাস্কফোর্সের এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এই নতুন লক্ষ্যমাত্রার কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সাভারের কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) আধুনিক করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বা কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা হবে, যাতে বাংলাদেশের চামড়া বিশ্ববাজারে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারে।
সভায় মন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান যে, পশু জবাইয়ের পর থেকে শুরু করে চামড়া বিক্রির চূড়ান্ত পর্যায় পর্যন্ত প্রতিটি ধাপকে একটি সমন্বিত ও সুশৃঙ্খল কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসা হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পশু জবাই থেকে চামড়া বাজারজাতকরণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে এবং ঈদের পর থেকেই অ্যাকশনভিত্তিক কার্যক্রম শুরু হবে।’ বিশেষ করে কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া দিয়ে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুনাফা অর্জনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আলোচনায় ‘জিরো ওয়েস্ট’ ধারণার প্রায়োগিক দিক তুলে ধরে বলা হয়, পশুর হাড় বা চামড়ার পাশাপাশি পরিত্যক্ত চর্বি বা অ্যানিমেল ফ্যাটও সাবান উৎপাদন এবং বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিয়াল কেমিক্যাল তৈরির মূল্যবান উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এই অব্যবহৃত বর্জ্যগুলোই নতুন আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়াবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিক তদারকি ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে চামড়া খাত থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের সুবিধার্থে আজ রোববার (১৭ মে) থেকে ২৭ মে তারিখের ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ঈদযাত্রার এই টিকিটগুলো বরাবরের মতো শতভাগ অনলাইন বা ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংগ্রহ করতে হবে। সময়সূচি অনুযায়ী, আজ সকাল ৮টা থেকে পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু হবে এবং দুপুর ২টা থেকে পূর্বাঞ্চলের ট্রেনের আসনের টিকিট পাওয়ার সুযোগ মিলবে। রেলওয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সম্ভাব্য ঈদ ২৮ মে ধরে এই অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে।
রেলওয়ের পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, গত ১৩ মে থেকে পর্যায়ক্রমে ২৩ মে থেকে ২৬ মে পর্যন্ত চার দিনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে। আজ এই সিরিজের শেষ দিনের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। টিকিট বিক্রির প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিশেষ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। রেলওয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ‘একজন যাত্রী এই বিশেষ অগ্রিম টিকিট একবারের বেশি কিনতে পারবেন না এবং একবারে সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কেনা যাবে।’ এছাড়া বিশেষ ব্যবস্থাপনায় বিক্রি করা এই অগ্রিম টিকিটের ক্ষেত্রে নিয়ম করা হয়েছে যে, ‘একবার কেনা টিকিট ফেরত দেওয়ার সুযোগ নেই।’
যাত্রীদের চাপের বিষয়টি বিবেচনা করে ভ্রমণের দিন ট্রেন ছাড়ার আগে স্টেশন কাউন্টার থেকে মোট আসনের ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট ইস্যু করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে এই সুবিধা শুধুমাত্র উচ্চ শ্রেণি বাদে অন্য সব শ্রেণির আসনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। অন্যদিকে, ঈদের চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ২৮, ২৯ ও ৩০ মে তারিখের টিকিট বিক্রির বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্র ও সমাজকে নতুন করে মেরামত করতে চায়। আর সেই কার্যক্রমের প্রতিটি পর্বে সংশ্লিষ্ট দেশপ্রেমিকদের সঙ্গে নিয়ে জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতেই করণীয় নির্ধারণ করা হবে। আমরা কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এই পরিবর্তনের কথা বলছি না; রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থার গুণগত পরিবর্তনের জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (১৬ মে) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ’ আয়োজিত ‘জাতীয় চলচ্চিত্র সংসদ সম্মেলন-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, মাতৃভূমির ৫৫ বছরের ইতিহাসে আমরা যেমন গৌরবগাথা দেখেছি, তেমনি বিপর্যয়ও দেখেছি। গৌরব ও দুঃসময়ের সেসব অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত প্রজ্ঞা দিয়েই আমরা বিশেষজ্ঞদের জ্ঞানের সঙ্গে একটা সংযোগ তৈরি করতে চাই।
তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, চলচ্চিত্রসহ সংশ্লিষ্ট সকল ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কার্যকর মতবিনিময় এবং চিন্তার সংযোগ ঘটাতে না পারলে গুণগত মানের উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।’
চলচ্চিত্রকে সমাজ পরিবর্তনের এক শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, যারা বিত্তবান হওয়ার স্বপ্ন বাদ দিয়ে কেবল প্যাশন, দেশপ্রেম ও মানবকল্যাণের তাগিদে চলচ্চিত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, রাষ্ট্রকে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। সমাজ ও সভ্যতার বিকাশে এই ‘সফট পাওয়ার’ বা মেধার শক্তি অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও আইনের বিধি-বিধানের মধ্যে থেকে চলচ্চিত্র কর্মীদের জন্য সর্বোচ্চ সুযোগ উন্মুক্ত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে চমৎকার সব শব্দের আড়ালে চলচ্চিত্র মাধ্যমকে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রোপাগান্ডা মেশিন বানানোর করুণ অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। কিন্তু যারা কোনো গোষ্ঠীর বা মতবাদের দাস, তাদের পক্ষে মুক্ত চিন্তা করা সম্ভব নয়।
তিনি চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনকে কোনো বিশেষ নেপথ্য রিমোট কন্ট্রোলের হাতিয়ার না বানিয়ে, সমাজ পরিবর্তনের প্রকৃত স্বাধীন ও মুক্ত চিন্তার আন্দোলনে রূপান্তরিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনে অসামান্য অবদানের জন্য অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট শিল্প সমালোচক ও চলচ্চিত্র বোদ্ধা মঈনুদ্দিন খালেদকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ-এর সভাপতি ড. জহিরুল ইসলাম কচির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক ম. জাভেদ ইকবাল।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী (এলজিইডি) ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক বজায় থাকবে কি না, তা ফারাক্কা চুক্তি সম্পাদনের মধ্যদিয়েই প্রমাণিত হবে। শনিবার (১৬ মে) ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেছেন।
তিনি বলেছেন, যে কারণে এ বছর চুক্তি শেষে এটি নবায়নে ভারতকে এগিয়ে আসতে হবে। তবে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করেই ফারাক্কা ব্যারাজ চুক্তি নবায়ন করা হবে।
বর্তমান সরকারের পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত।’
দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, আমরা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। কোনো চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র (বাংলাদেশের বিরুদ্ধে) মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না।
একই অনুষ্ঠানে পানি ও পরিবেশগত সংকটের পাশাপাশি দেশের সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
তিনি বলেন, পানি সমস্যা, পরিবেশ সমস্যার পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সমস্যাও বিরাট আকার ধারণ করছে। যে উগ্র সাম্প্রদায়িকতার বিকাশ ঘটছে, সেটি নিয়ন্ত্রণ দরকার।’ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীও সাম্প্রদায়িকতা উসকে দিচ্ছেন বলে এ সময় তিনি অভিযোগ করেন।
আঞ্চলিক রাজনীতি ও প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে দলের অবস্থান পরিষ্কার করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও বলেন, প্রতিবেশীর সঙ্গে ঝগড়া করব না, তবে দাসত্বের শৃঙ্খলেও আটকে থাকব না।
ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা, বিশিষ্ট পানি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা দেশের নদী ও পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে ঋণাত্মক অবস্থায় আছে এবং এই পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে অন্তত ২ বছর সময় লাগতে পারে। শনিবার (১৬) চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের ১৮ তলা ভবনের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেছেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করতে হয়েছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে জ্বালানি খাতে। তিনি জানান, শুধু জ্বালানি খাতেই আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় ও বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধে গত দুই মাসে আরও প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা খরচ করতে হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশের জাতীয় অর্থনীতি এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্বাস্থ্য খাত নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আমীর খসরু বলেন, আগের সরকারের সময়ে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দের বড় একটি অংশ অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অপচয় হয়েছে। বর্তমান সরকার শুধু বরাদ্দ দিয়েই দায়িত্ব শেষ করবে না, বরং সেই অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে কিনা সেটিও কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।
তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে বিভিন্ন সরকার মেডিকেল কলেজ ও স্বাস্থ্যসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করেছে। তবে বর্তমান সরকার এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে না।
অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের মান ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নয়, পুরো রাষ্ট্রই ক্ষতির মুখে পড়ে। তাই স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
এ সময় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে দেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন আমির খসরু। তিনি বলেন, যোগ্যতা ছাড়া কাউকে ভর্তি করানো উচিত নয়। রাজনৈতিক বিবেচনায় ভর্তি হলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান নষ্ট হয়।
মন্ত্রী বলেন, মেডিকেল শিক্ষার মান বজায় রাখতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সঠিক অনুপাত, পর্যাপ্ত ফ্যাকাল্টি ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি। এসব প্রস্তুতি ছাড়া আসনসংখ্যা বাড়ানো উচিত নয়। পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি সেই অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া মৌলিক অধিকার। দীর্ঘদিন মানুষ এ অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। বর্তমান সরকার সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করতে কাজ করছে। সরকারি হাসপাতালের সীমাবদ্ধতার কারণে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা করা হবে। রোগীরা সেখানে চিকিৎসা নিলে বিল সরকার পরিশোধ করবে।
শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, মাল্টিমিডিয়া সুবিধা, ডিজিটাল লাইব্রেরি, খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার ভাষ্য, বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে। তাই মেডিকেল শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশে দক্ষ মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের ঘাটতি রয়েছে। দক্ষ জনবলের অভাবে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এ কারণে মেডিকেল টেকনোলজি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন তিনি।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাস খাতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আগের সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বকেয়াও পরিশোধ করতে হচ্ছে। ঋণাত্মক অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে সরকার কাজ করছে এবং অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, চিকিৎসক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী হাসপাতালটির উন্নয়নকাজে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহা আর নেই। গত শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার মেয়ে একমি গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসনিম সিনহা ।
মিজানুর রহমান সিনহা রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা দেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে সবশেষ ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মুন্সীগঞ্জ-২ (লৌহজং-টঙ্গীবাড়ি) আসন হতে দলীয় মননোয়ন লাভ করেন তিনি। পরবর্তীতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তার স্থলে বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আব্দুল সালাম আজাদকে এ আসনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়।
মিজানুর রহমান ১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার কলমা ইউনিয়নের ডহুরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার স্থানীয় বাড়ি ‘সিনহা হাউজ’ দীর্ঘদিন ধরে দর্শনীয় স্থান হিসেবে সকলের জন্য উন্মুক্ত। তার পিতার নাম হামিদুর রহমান সিনহা ও মাতার নাম নূরজাহান সিনহা। হামিদুর রহমান বাংলাদেশের ওষুধ ব্যবসায়ের অন্যতম পথিকৃৎ ও শিল্পগোষ্ঠী একমি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা।
১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নজরুল ইসলাম খান বাদলকে পরাজিত করে বিজয় অর্জন করেন। এরপর ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রাার্থী সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলিকে হারিয়ে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক কাজ ও দানশীলতার জন্যও এলাকায় ব্যাপক পরিচিত ছিলেন মিজানুর রহমান সিনহা।
মুন্সীগঞ্জ-২ আসনর সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিনসহ বিএনপি নেতাকর্মী, বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।