শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
৮ কার্তিক ১৪৩৩

মেডিকেল শিক্ষার রুগ্‌ণ স্বাস্থ্য

আপডেটেড
১৩ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৮:২৭
জাকিয়া আহমেদ
প্রকাশিত
জাকিয়া আহমেদ
প্রকাশিত : ১৩ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৭:৫৫

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ স্থাপিত হয়েছে ২০০৮ সালে। এরপর গড়িয়েছে প্রায় দেড় দশক। এই দীর্ঘ সময়েও মেডিকেল কলেজটির নাক, কান ও গলা বিভাগ, চক্ষু বিভাগ, ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ এবং কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগে কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়নি। গত ১৪ বছর ধরেই অন্য বিভাগের শিক্ষকরা এসব বিষয়ে পড়িয়ে আসছেন শিক্ষার্থীদের।

আবার এই মেডিকেল কলেজের নেই কোনো হাসপাতাল। এজন্য ১৪ কিলোমিটার দূরে জেলা সদর হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের, করতে হচ্ছে ক্লিনিক্যাল ক্লাস। এ নিয়ে ভীষণ অসন্তোষ কলেজটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

আরও পড়ুন: মেডিকেল শিক্ষা ব্যবসা না

এমন সংকট নিয়ে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. তাজমীর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এই মেডিকেল কলেজ যখন চালু হয়, তখন না ছিলেন শিক্ষক, না ছিল যন্ত্রপাতি, না ছিল কিছু। মাঝে মাঝেই হতাশা লাগত। ধীরে ধীরে কিছুটা উন্নতি হলেও এখনো অনেক বিভাগেই শিক্ষক নেই। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হাসপাতাল নেই। ১৪ কিলোমিটার দূরে জেলা সদর হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ করতে হচ্ছে। বাসে করে সদরে আসতে হয় হাসপাতালে ক্লিনিক্যাল ক্লাসের জন্য, ফের কলেজে যেতে হয়। এতে সময় এবং এনার্জি- দুটোরই ক্ষতি হচ্ছে।’

হাসপাতাল না থাকার কারণে সবাই ভুগছে জানিয়ে ডা. তাজমীর রহমান বলেন, ‘আবার জেলা সদর হাসপাতালে ইন্টার্নদের জন্য হোস্টেলের ব্যবস্থা নেই, থাকতে হয় বাইরে। নিরাপত্তা এখানে অনেক বড় ইস্যু।’

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের মতোই অবস্থা দেশের একাধিক সরকারি মেডিকেল কলেজের।

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজগুলোকে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর অন্তত দুই বছর আগে একটি পরিপূর্ণ হাসপাতাল চালু করতে হবে, অ্যাকাডেমিক ভবন এবং হাসপাতাল ভবন আলাদা হতে হবে। কোনো ভাড়া বাড়িতে হাসপাতাল এবং কলেজ স্থাপন করা যাবে না।

দেশে সরকারি এবং বেসরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে ১১৫টি। এর মধ্যে সরকারি ৩৭টি, বেসরকারি ৭২টি এবং ছয়টি আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ। এগুলোর বেশির ভাগই ঢাকা বিভাগে। ঢাকায় বেসরকারি মেডিকেল কলেজ আসার কথা আরও তিনটি। অথচ দেশের বেশির ভাগ বেসরকারি মেডিকেল কলেজে নেই প্রয়োজনীয় শিক্ষক ও যন্ত্রপাতি, নেই শিক্ষার মানও। এরপরও একের পর এক বেসরকারি মেডিকেল কলেজ অনুমোদন পাচ্ছে। আর এসব অনুমোদনে অনেক ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালাও মানা হচ্ছে না। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব এবং সঠিক নজরদারির অভাবকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভয়াবহ শিক্ষক সংকট

দেশে মেডিকেল শিক্ষায় বেসিক বা মৌলিক হিসেবে ধরা হয় ৮টি বিষয়কে। এগুলো হচ্ছে- এনাটমি, বায়োকেমিস্ট্রি, কমিউনিটি মেডিসিন, ফরেনসিক মেডিসিন, মাইক্রোবায়োলজি ও ভাইরোলজি, প্যাথলজি, ফার্মাকোলজি, ফিজিওলজি । এই ৮ বিষয়েই মারাত্মক শিক্ষক সংকট রয়েছে দেশে।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এই ৮টি বিষয়ে অধ্যাপকের মোট ২০৪ পদের বিপরীতে আছেন মাত্র ৭২ জন, পদ ফাঁকা রয়েছে ১৩২টি। সহযোগী অধ্যাপকের ২৫১টি পদের বিপরীতে আছেন ১৫৭ জন, সহকারী অধ্যাপকের ৩৫২টি পদের বিপরীতে শিক্ষক আছেন ১৯৬ জন, কিউরেটরের ৪৮ পদের বিপরীতে আছেন ৩২ জন, লেকচারার বা প্রভাষকের ১ হাজার ১৩৫ পদের বিপরীতে রয়েছেন ৮১১ জন। সব মিলিয়ে এই ৮ বিভাগের ১ হাজার ৯৯৭টি পদের বিপরীতে ৭২৩টি পদ ফাঁকা।

অন্যদিকে সব বিষয়ে অধ্যাপকের ৮৪৯টি পদের বিপরীতে আছেন ৩৪৮ জন, সহযোগী অধ্যাপকের ১ হাজার ৪৮০টি পদের বিপরীতে রয়েছেন ৭৩০ জন, সহকারী অধ্যাপকের ২ হাজার ৪৪৬ পদের বিপরীতে রয়েছেন ১ হাজার ৩৯২ জন, প্রভাষকের ১ হাজার ৫৩৮টি পদের বিপরীতে আছেন ১ হাজার ১৩৫ জন। সব মিলিয়ে ৬ হাজার ৩১৪টি পদের বিপরীতে আছেন ৩ হাজার ৬০৫ জন।

দেশে ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীর আসন ৪ হাজার ৩৫০টি। ৭২টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে এ আসন সংখ্যা ৬ হাজার ৩৫৪। ৬টি আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীর আসন সংখ্যা ৪২৫।

নিয়ম অনুসারে, প্রতি ১০ শিক্ষার্থীর জন্য ১ জন প্রভাষক এবং ২৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ জন বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক (সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, অধ্যাপক) থাকতে হবে। প্রতি বছর ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করে এবং পাঁচটি শিক্ষাবর্ষ চালু আছে এমন কলেজের জন্য কমপক্ষে ৭৭ জন শিক্ষক থাকা দরকার। প্রতি শিক্ষাবর্ষে ১০০ জন করে শিক্ষার্থী থাকলে ওই মেডিকেল কলেজে শিক্ষক থাকতে হবে ১৫৪ জন।

কিছু না থেকেও মেডিকেল কলেজ

২০১৯ সালে নওগাঁ, নীলফামারী, চাঁদপুর, নেত্রকোনা ও মাগুরায় মেডিকেল কলেজ করা হয়। কিন্তু এই পাঁচটির কোথাও কোনোটির অবকাঠামো নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের একজন কর্মকর্তা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এই পাঁচটির একদম কিচ্ছু নেই।’

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘২০১৯ সালের আগে ৩৭ সরকারি মেডিকেল কলেজের মধ্যে ১৭টি মেডিকেল কলেজের জন্য জনবল ছিল। কিন্তু বাকি ২০টির জন্য জনবল ছিল না। গত দুই বছরে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর গঠন হওয়ার পর জনবলের জন্য পদ তৈরি করা হয়েছে। তাও যেখানে যেভাবে দরকার, সেভাবে নেই। একটা গড় ধরে জনবল তৈরি করা হয়েছে। যেমন-নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা এখন তৃতীয় বর্ষে উঠবেন, ক্লিনিক্যাল ক্লাস করবেন, রোগীদের দেখতে হবে। কিন্তু সেখানে প্রয়োজনীয় বিভাগ নেই, রোগীও নেই।’

সরকারি ৩৭ মেডিকেল কলেজের ২০টিতেই হাসপাতাল নেই

সূত্র জানিয়েছে, দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজের মধ্যে কক্সবাজার, যশোর, টাঙ্গাইলসহ ২০টিতেই হাসপাতাল নেই। যশোর মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার পর পার হয়েছে ১১ বছর। এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি হাসপাতাল। ৫০০ বেডের হাসপাতালের জন্য গত বছরের অক্টোবর থেকে আন্দোলন চলছে সেখানে।

নীলফামারী মেডিকেল কলেজে ক্লাস শুরু হয় ২০১৯ সালে। কিন্তু নেই কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস, নেই মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। সেখানে ফরেনসিক মেডিসিন ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে একজন করে প্রভাষক রয়েছেন। কিন্তু সহকারী, সহযোগী কিংবা অধ্যাপক পদে কেউ নেই।

এ বিষয়ে নীলফামারী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. রবিউল ইসলাম খাঁ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘শিক্ষক সংকট প্রকট, কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস নেই, মেডিকেল কলেজ নেই। নেই সাফিসিয়েন্ট একটা ল্যাবও। রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে ‘অন রিকোয়েস্টে’ ল্যাব টেকনিশিয়ান এনে কাজ করতে হয়।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে মেডিকেল কলেজ করার কথা চলছে জানিয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘কলেজ না হয় ভাড়া ভবনে করা হলো, কিন্তু হাসপাতাল কোথায় করা হবে? অথচ নীতিমালায় রয়েছে ৫০ শিক্ষার্থীর জন্য একটি আড়াই শ বেডের হাসপাতাল লাগবে।’

যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা

চিকিৎসক, শিক্ষক নিয়ে সংকটের কথা জানতে চাইলে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ কে এম আমিরুল মোরশেদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘সরকারি ও বেসরকারি দুই ক্ষেত্রেই মেডিকেল শিক্ষার মান নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে প্রশ্ন উঠেছে। আবার দীর্ঘদিন ধরে কোনো পদোন্নতি না থাকায় শিক্ষক সংকট তীব্র হয়েছে। কিন্তু মেডিকেল শিক্ষার মান নিশ্চিত করার অন্যতম উপায় প্রয়োজনীয় শিক্ষক এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করা।’

তিনি জানান, শিক্ষকদের মানোন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাসহ নতুন করে কিছু কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। হয়তো শিগগির এ সংকট কেটে যাবে।

প্রয়োজনীয় শিক্ষক, হাসপাতাল না থাকা নিয়ে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মৌলিক বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্যের ভবিষ্যতে আসলে রুগ্‌ণ দশা হবে। যেসব মেডিকেল কলেজে শিক্ষক নেই, রোগী দেখার মতো হাসপাতাল নেই, যন্ত্রপাতি নেই-সেসব কলেজের শিক্ষার্থীরা কী শিখবে, কোথা থেকে শিখবে? তারা কিছু না শিখে কীভাবে চিকিৎসক হবে?’

তিনি বলেন, ‘অপ্রশিক্ষিত, সঠিক শিক্ষাহীন চিকিৎসক যে দেশে তৈরি হবে সে দেশে চিকিৎসা ব্যবস্থায় সংকট অবশ্যম্ভাবী এবং তার জন্য দেশকে, দেশের মানুষকে অনেক বড় মূল্য দিতে হবে। একটা দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা মাছের বাজারে গিয়ে মাছের দরদাম করা নয়- এটা মেডিকেল কলেজ স্থাপনের অনুমতি দেবার আগে সংশ্লিষ্টদের ভেবে দেখার জন্য অনুরোধ করি।’


ক্যান্সার চিকিৎসায় যুক্ত হচ্ছে ১৭ নতুন রেডিওথেরাপি মেশিন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:১৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসা সহজ ও সহজলভ্য করতে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১৭টি নতুন রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে ছয়টি এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ১১টি মেশিন স্থাপন করা হবে। প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান ও জনবল প্রশিক্ষণের কার্যক্রমও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

দেশের ক্যান্সার চিকিৎসাব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে দরিদ্র মানুষের জন্য ক্যান্সারের চিকিৎসা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির যন্ত্র নষ্ট থাকায় অনেক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ সংকট মোকাবিলায় ১৭টি নতুন রেডিওথেরাপি মেশিন কেনা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ক্যান্সারের মতো জটিল রোগে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা গেলে অনেক রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব। কিন্তু অর্থের অভাব এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটের কারণে দরিদ্র মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে এবং আগামী দিনে স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এক বছরব্যাপী পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি

পরিবার পরিকল্পনা খাতকে শক্তিশালী করতে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী এক বছরব্যাপী জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী নিয়ে ব্যাপক প্রচারাভিযান শুরু করা হবে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ১ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত এ ক্যাম্পেইন চলবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্মসূচিটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

কর্মসূচির আওতায় র‌্যালি, মেলা ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে। একই সঙ্গে ঘরে ঘরে জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী ও পরামর্শ পৌঁছে দেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘দু’টির বেশি সন্তান নয়, একটি হলে ভালো’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চালানো হবে। শুধু প্রচারণায় সীমাবদ্ধ না থেকে পরিবার পরিকল্পনার প্রয়োজনীয় সামগ্রীও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা পর্যায়ে নানা ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হবে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষকে পরিবার পরিকল্পনায় উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আন্তর্জাতিক প্রটোকল অনুসরণ করেই দেশে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ও স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। ডেঙ্গুর ধরন পরিবর্তন এবং ডেঙ্গু পরবর্তী কার্ডিয়াক জটিলতা বৃদ্ধি পাওয়ায় চিকিৎসকদের সজাগ থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৪ হাজার ৩৫৬ জন। এর মধ্যে ৮৮ হাজার ২৯৯ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে সুস্থ হওয়ার হার প্রায় ৯০ শতাংশ।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১,৮৬০

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও আটজনের প্রাণহানি ঘটেছে। একই সময়ে নতুন করে সংক্রমিত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৬০ জন রোগী। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ডেঙ্গুবিষয়ক বুলেটিনে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির এই হালনাগাদ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নতুন মৃত্যুসহ চলতি বছর দেশজুড়ে ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ২৮১ জনে। মাসভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, একক মাস হিসেবে কেবল সেপ্টেম্বরেই সর্বাধিক ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চলতি অক্টোবরের প্রথম ছয় দিনে ৪২ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং বছরের শুরুতে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুজন করে রোগী প্রাণ হারিয়েছেন।

বুলেটিনে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগীরা হাসপাতালে আসায় চলতি বছরে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯২ হাজার ২১৬ জনে। তবে একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৮৫২ জন এবং এ পর্যন্ত সর্বমোট সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ৮৬ হাজার ১৫২ জন। গত এক দিনে বিভাগভিত্তিক আক্রান্তের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ, যেখানে ৭৩০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি খুলনা বিভাগে ৩৭৬ জন, চট্টগ্রামে ২১৬, বরিশালে ২০০, রাজশাহীতে ১৭৬, ময়মনসিংহে ১১০ এবং রংপুর বিভাগে ৩৮ জন রোগী নতুন করে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু, মোট ১০৩৬ জন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম এবং এর বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে দুজন নিশ্চিতভাবে এই রোগে আক্রান্ত ছিলেন। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩৯০ জন রোগী। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে দেশের সার্বিক হাম পরিস্থিতির এই হালনাগাদ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারী রোগীদের মধ্যে চারজনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। আলোচ্য সময়ে বিভাগভিত্তিক নতুন রোগী ভর্তির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫৩২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রামে ২৭৩ জন, সিলেটে ১৫২, বরিশালে ১৩৯, খুলনায় ১৩২, ময়মনসিংহে ৮২, রংপুরে ৪৭ এবং রাজশাহী বিভাগে ৩৩ জন রোগী চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এসেছেন।

চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৯৩ জনে, যার মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ২২ হাজার ২০ জনের দেহে। এই সময়ে মোট ১ লাখ ৭৭ হাজার ৬৭৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হলেও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ৪৭৩ জন। সব মিলিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং এর উপসর্গ নিয়ে এক হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।


দেশের সব হাসপাতালে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে থাকায় রোগীর চাপ সামলাতে দেশের সব হাসপাতালকে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এ ক্ষেত্রে রাজধানীর হাসপাতালগুলোকে বাড়তি গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে স্থাপিত ফিল্ড হাসপাতালটি চালুর বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সোমবার (৬ অক্টোবর) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যে এসব তথ্য জানা গেছে।

চলতি বছর ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৯০ হাজার ৩৫৬ জন ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে ২৮১ জনের। মৃতদের মধ্যে ১৩২ জন পুরুষ এবং ১৪৫ জন নারী। আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের হার ৬২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং নারীর হার ৩৭ দশমিক ৭ শতাংশ।

চলতি বছর এ পর্যন্ত ঢাকা বিভাগে ডেঙ্গুতে ১২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে ২৪, চট্টগ্রামে ২৫, খুলনায় ৫৫, ময়মনসিংহে ২৩, রাজশাহীতে ১৯, রংপুরে ছয় এবং সিলেট বিভাগে দুজন মারা গেছেন।

গত রোববার সচিবালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় রোগীর সংখ্যা ও হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা পর্যালোচনা করা হয়। সভা শেষে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. নুরুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য হাসপাতালগুলোতে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত শয্যার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

তিনি জানান, রোগীর চাপ সামাল দিতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে কিছু রোগী জাতীয় বার্ন ইউনিটে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে স্থাপিত ফিল্ড হাসপাতালটি চালুর বিষয়েও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও ডেঙ্গু রোগীদের জন্য শয্যা আরও বাড়াতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিবর্তে কুর্মিটোলা মাল্টিডিসিপ্লিনারি হাসপাতালকে ঢাকার বাইরে থেকে আসা ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ডা. নুরুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ঢাকাতেই বেশি। এ কারণে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালের পরিচালকদের শয্যা বাড়াতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, সংকটের সময় সরকারি হাসপাতাল রোগী ফিরিয়ে দেয় না। তবে রোগীর সংখ্যা হাসপাতালের শয্যা সক্ষমতা ছাড়িয়ে গেলে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষকে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এই ভোগান্তি কমাতেই ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোর ওপর চাপও বাড়ছে। তাই আগেভাগেই অতিরিক্ত শয্যা ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা প্রস্তুত


হৃদরোগের কোনো সতর্কসংকেত উপেক্ষা করা যাবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অসংক্রামক ব্যাধিগুলোর মধ্যে হৃদরোগেই বর্তমানে সবচেয়ে বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটছে উল্লেখ করে হৃদযন্ত্রের কোনো প্রাথমিক লক্ষণ বা সতর্কবার্তাকে অবহেলা না করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে "বিশ্ব হার্ট দিবস ২০২৬" উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটি আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সফিউদ্দিন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষ সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করলেও বাস্তব জীবনে তার যথাযথ প্রতিফলন ঘটান না, যা হৃদরোগের মতো জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকির ক্ষেত্রে অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। তাই হৃদযন্ত্রের সামান্যতম অস্বস্তি বা সংকেত দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, শুধু হৃদরোগ নয়, সংক্রামক ও অসংক্রামক সব ধরনের জটিল রোগের ঝুঁকি হ্রাস করতে সর্বস্তরে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।

চিকিৎসক সমাজকে অনন্য মানবিক মর্যাদার আসনে স্থান দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সৃষ্টিকর্তার পরেই চিকিৎসকেরা আর্তমানবতার সবচেয়ে বড় আশ্রয়স্থল এবং করোনা অতিমারি থেকে শুরু করে ডেঙ্গুর প্রকোপ ও নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে চিকিৎসকেরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হাসান এবং প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির। অনুষ্ঠানটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডা. আ ফ খবির উদ্দিন আহমেদ। এর আগে মন্ত্রী সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল বিএমইউ চত্বরে বেলুন উড়িয়ে বিশ্ব হার্ট দিবসের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং বর্ণাঢ্য এক র‍্যালিতে নেতৃত্ব দেন।


স্বাস্থ্য খাতে ৩৫ হাজার পদে নিয়োগের উদ্যোগ

* মাঠপর্যায়ে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে ৪০ শতাংশের বেশি পদ শূন্য * ৫১তম বিশেষ বিসিএসে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া * টিকাদান থেকে রোগ নির্ণয়—জনবল ঘাটতিতে চাপে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় জনবল সংকট এখন শুধু শূন্য পদের পরিসংখ্যান নয়; এটি চিকিৎসাসেবার বিস্তার, রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে ৪০ শতাংশের বেশি পদ শূন্য থাকায় প্রায় ৩৫ হাজার পদে দ্রুত নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ক্যাডারে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

সরকারের ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতি বাস্তবায়নে ধাপে ধাপে দেশজুড়ে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে শূন্য পদে নিয়োগের অনুমোদন ও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পাশাপাশি নিয়োগ সম্পন্ন, কর্মস্থলে পদায়ন এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে জনবল ধরে রাখার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় কর্মী না থাকলে অবকাঠামো ও চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও জনগণ প্রত্যাশিত সেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট পর্যন্ত অধিদপ্তরের অনুমোদিত ১ লাখ ২৭ হাজার ১০১টি পদের মধ্যে প্রায় ৩৬ শতাংশ শূন্য ছিল। এই চিত্র স্বাস্থ্য খাতে জনবল পরিকল্পনা ও নিয়োগ কার্যক্রমের ব্যাপ্তি সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেয়। একই সঙ্গে এটি দেখায়, চিকিৎসক নিয়োগের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার কারিগরি, সহায়ক ও মাঠপর্যায়ের পদগুলো পূরণেও সমান গুরুত্ব প্রয়োজন।

মাঠপর্যায়ে শূন্য পদ, বাড়ছে কর্মরতদের দায়িত্বের চাপ: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জনবল কাঠামোয় সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা মাঠপর্যায়ের কর্মীস্বল্পতা। ১১ থেকে ১৬তম গ্রেডের মোট ৫৬ হাজার ৯০৮টি পদের মধ্যে ২০ হাজার ৯৯৫টি শূন্য। অর্থাৎ, এই গ্রেডগুলোতে প্রায় ৩৭ শতাংশ পদে জনবল নেই। এসব পদে স্বাস্থ্য সহকারী, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা কাজ করেন। টিকাদান, স্বাস্থ্যশিক্ষা, রোগ প্রতিরোধ এবং পরীক্ষাগারভিত্তিক রোগ নির্ণয়ে তাঁদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্য সহকারী অখিল উদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, একজন স্বাস্থ্য সহকারীর একটি ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও কর্মীসংকটের কারণে অনেককে একাধিক ওয়ার্ডের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অখিল উদ্দিন এ মাসের শুরুতে বলেছিলেন, স্বাস্থ্য সহকারীরা শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও জনবল সংকটের কারণে স্বাস্থ্যশিক্ষাসহ অন্য সেবা যথাযথভাবে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে এই সংকটের প্রভাব বহুমুখী। মাঠপর্যায়ের কর্মীরা সাধারণত টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা, রোগ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি, নির্ধারিত জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যবার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে অংশ নেন। তাদের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম হলে বিদ্যমান কর্মীদের কাজের পরিধি বাড়ে। এতে নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি বাড়তি দায়িত্ব সামলানোও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

অন্যদিকে, ১৭ থেকে ২০তম গ্রেডে অনুমোদিত ২৬ হাজার ২৯৫টি পদের মধ্যে ১৩ হাজার ৯৪৫টি শূন্য। অর্থাৎ, এ স্তরে প্রায় ৫৩ শতাংশ পদেই কর্মী নেই। দুই গ্রেড-গুচ্ছের এই চিত্র দেখায়, জনবল ঘাটতি কেবল একটি নির্দিষ্ট পেশায় সীমাবদ্ধ নয়; স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরেই নিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে।

পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ: চিকিৎসকস্বল্পতা কমাতে সরকার পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব এএনএম বজলুর রশীদ জানিয়েছেন, এ নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) গত ২৪ সেপ্টেম্বর ৫১তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্বাস্থ্য ক্যাডারে ৪ হাজার ৭০০ জন সহকারী সার্জন এবং ৩০০ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন নিয়োগের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। অর্থাৎ, এই নিয়োগের মাধ্যমে চিকিৎসক ও দন্ত চিকিৎসক মিলিয়ে পাঁচ হাজার পদ পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে প্রথম থেকে নবম গ্রেডে প্রায় ৩ হাজার ২০০ চিকিৎসক ও দন্ত চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তারপরও সংশ্লিষ্ট গ্রেডগুলোতে ২৪ শতাংশ পদ শূন্য ছিল বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে নতুন নিয়োগ চিকিৎসকস্বল্পতা কমানোর আরেকটি পদক্ষেপ হলেও সামগ্রিক ঘাটতি কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে নিয়োগের পরবর্তী অগ্রগতি এবং অন্যান্য শূন্য পদ পূরণের ওপর।

এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চিকিৎসক নিয়োগ এবং মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ পরস্পরের বিকল্প নয়। চিকিৎসক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন; অন্যদিকে স্বাস্থ্য সহকারী, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও অন্যান্য কর্মী টিকাদান, রোগ প্রতিরোধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নিয়মিত কার্যক্রম সচল রাখতে সহায়তা করেন। তাই স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন পেশার কর্মীদের মধ্যে প্রয়োজনীয় ভারসাম্য থাকা জরুরি।

বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসক পদায়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহায়ক জনবল নিশ্চিত করা না গেলে নিয়োগের সুফল পুরোপুরি কাজে লাগানো কঠিন হতে পারে। একইভাবে, জনবল কোথায় কতটা প্রয়োজন, কোন প্রতিষ্ঠানে কোন ধরনের ঘাটতি বেশি এবং কোথায় সেবা সম্প্রসারণের চাপ রয়েছে—এসব বিবেচনায় নিয়ে পদায়ন করা প্রয়োজন।

নিয়োগ প্রক্রিয়ার জটিলতা কাটিয়ে সেবাকেন্দ্রে কর্মী পৌঁছানোই লক্ষ্য: শূন্য পদ পূরণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কার্যালয়গুলোকে একাধিক নির্দেশনা দিয়েছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব এএনএম বজলুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল সভায় সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে শূন্য পদ পূরণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিচালক (প্রশাসন), বিভাগীয় পরিচালক ও সিভিল সার্জনদের কাছে নির্দেশনার অনুলিপি পাঠানো হয়।

নির্দেশনা অনুযায়ী, সিভিল সার্জন কার্যালয়গুলোকে শূন্য পদের বিস্তারিত তথ্যের ভিত্তিতে নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। বাজেট বরাদ্দের অভাবে যেসব কার্যালয়ে নিয়োগ আটকে আছে, সেগুলোকে চলতি অর্থবছরের প্রয়োজনীয় তথ্যসহ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়েছে। নিয়োগ শেষ হওয়ার পর নতুন করে পদ শূন্য হলে ছাড়পত্র নিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হবে। আর অনুমোদন বা ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে নতুন করে অনুমোদন নিয়ে কার্যক্রম শুরু করতে হবে।

স্থানীয় ও আইনি জটিলতা, সীমানাসংক্রান্ত সমস্যা, কোটা, প্রবেশপত্রের ভুল কিংবা সিটি করপোরেশন-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে কোথাও নিয়োগ আটকে থাকলে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়গুলোকে মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব বলেছেন, শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কার্যালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও দেওয়া হয়েছে।


ইউনিভার্সেল কার্ডিয়াক হাসপাতালে ফ্রি হার্ট ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইউনিভার্সেল কার্ডিয়াক হাসপাতালে দিনব্যাপী ‘ফ্রি হার্ট ক্যাম্প’। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইউনিভার্সেল কার্ডিয়াক হাসপাতালে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী ‘ফ্রি হার্ট ক্যাম্প’। মহাখালী রাওয়া’র বিপরীতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই ফ্রি হার্ট ক্যাম্পে বিনামূল্যে প্রায় তিন শতাধিক রোগীদের বিশেষায়িত চিকিৎসা পরামর্শ দিয়েছেন ইউনিভার্সেল কার্ডিয়াক হাসপাতালের সিনিয়র ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট অধ্যাপক ডা. অমল কুমার চৌধুরী, সিনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিয়াক সার্জারি) ব্রিগে. জেনা. অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, মিনিমালি ইনভেসিভ কার্ডিয়াক সার্জন (MICS) ডা. আশরাফুল হক সিয়াম, ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. সানিয়া হক, ডা. এম এ হাসনাত, ডা. সামি নজরুল ইসলাম; কার্ডিওভাসকুলার সার্জন ডা. রোমেনা রহমান; পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজিস্ট ডা. আব্দুল জাব্বার জীবন; কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সারাবান তাহুরা এবং ডায়াবেটিস, থাইরয়েড এবং হরমোন রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নাসরিন আক্তার তুলি।

একইদিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থিত ইউনিভার্সেল মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেডে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীদের জন্য অনুরূপ ‘ফ্রি হার্ট ক্যাম্প’ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে বিনামূল্যে শতাধিক রোগীদের বিশেষায়িত চিকিৎসা পরামর্শ দিয়েছেন ইউনিভার্সেল মেডিকেল সার্ভিসেস-এর কনসালটেন্ট ডা. মো. আশরাফুল আলম সিদ্দিক (হৃদরোগ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ)।

এ বিষয়ে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিছক কোনো প্রাইভেট হাসপাতাল নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতা আমাদের হাসপাতালের অবিচ্ছেদ্য বৈশিষ্ট্য এবং আমি আশাবাদী সামনেও আমরা অনুরূপ ফ্রি ক্যাম্প এর আয়োজন করব।’

প্রসঙ্গত, ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রোগীদের জন্য এরকম ফ্রি হেলথ ক্যাম্পের আয়োজন করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।


ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ২১৫৮

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ১৫৮ জন। রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ২২০ জনের মৃত্যু হলো। এর মধ্যে আগস্ট মাসেই মারা গেছেন ৪৩ জন। এছাড়া সেপ্টেম্বরে গত ২৬ দিনে ১২৮ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গুরোগীর মৃত্যু হয়েছে।

এতে জানানো হয়, গত শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২ হাজার ১৫৮ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৬৯৪ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ৭৫৫ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৮ হাজার ৬ জন।

বুলেটিনে আরও জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, ৬৬৪ জন। এর বাইরে খুলনা বিভাগে ৩২৯ জন, বরিশালে ২২৭ জন, চট্টগ্রামে ৩৪৫ জন, ময়মনসিংহে ১৩২ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং রাজশাহীতে ১৭৬ জন।


হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৯ শিশুর মৃত্যু, শনাক্ত সহস্রাধিক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও নয়টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হামের উপসর্গ এবং নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩৪১ জন। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত এক দিনে নতুন শনাক্ত রোগীদের মধ্যে ১ হাজার ২২৮ জন হামের উপসর্গযুক্ত এবং ১১৩ জন ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামের রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত কোনো রোগীর মৃত্যু না হলেও মারা যাওয়া নয়জন শিশুই উপসর্গজনিত জটিলতার কারণে প্রাণ হারিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামগ্রিক পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৮৮ হাজার ২৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২১ হাজার ২১২ জন। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৩১০ জন রোগী ভর্তি হন এবং চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৫১৯ জন। এছাড়া ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে সর্বমোট ৯৯৫ জন শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে এবং নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০১ জন।


ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৪৩২

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৪৩২ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১৪ জনে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে প্রাণঘাতী রূপ নিয়েছে; মাসের গত ২৬ দিনেই মারা গেছেন ১১৭ জন। এর আগে গত আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুজন করে রোগী মারা যান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের নিয়ে চলতি বছর দেশজুড়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ৫৩৬ জনে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৪২৯ জন, যা নিয়ে এ পর্যন্ত মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ৬৬ হাজার ২৫৬ জনে।

বিভাগভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫৬৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এছাড়া খুলনা বিভাগে ২৪১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২০৯ জন, বরিশাল বিভাগে ২০৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১২ জন, রাজশাহী বিভাগে ৫৭ জন এবং রংপুর বিভাগে ৫৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।


আজ থেকে দেশজুড়ে হামের দ্বিতীয় দফার টিকাদান শুরু, লক্ষ্য ৩৪ লাখ শিশু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে সুরক্ষার আওতায় আনতে আজ শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে দ্বিতীয় দফার বিশেষ হাম টিকাদান ক্যাম্পেইন। আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত এই কর্মসূচিতে নিয়মিত টিকাদানের তালিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদেরও টিকার আওতায় আনা হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শনিবার সকাল ৯টায় রাজধানীর বনানীর কড়াইলে টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬’-এর উদ্বোধন করবেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিসেফ, গ্যাভি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যৌথ কারিগরি সহায়তায় গত এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত পরিচালিত প্রথম দফার কার্যক্রমে ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য ছিল, যা সফলভাবে শতভাগের বেশি অর্জিত হয়। পরবর্তীতে দুই কোটি ২৩ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ক্যাম্পেইন চলাকালে দেখা যায় প্রায় ৪৩ লাখ শিশু হামের টিকা গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। এদের সুরক্ষায় তাৎক্ষণিক বিশেষ মপ-আপ ক্যাম্পেইন চালিয়ে ১৯ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়। অবশিষ্ট ২৪ লাখ শিশুর সঙ্গে বিগত তিন মাসে বয়স ছয় মাস পূর্ণ হওয়া আরও ১০ লাখ নতুন শিশু যুক্ত হয়ে এবারের মোট লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়িয়েছে ৩৪ লাখ।

টিকার মজুত পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, গত ১০ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফের কাছ থেকে অতিরিক্ত আরও ৪৩ লাখ ডোজ টিকা দেশে এসেছে। এর আগে কেন্দ্রীয় সংরক্ষণাগারে থাকা ১৫ লাখ ডোজসহ বর্তমানে দেশে মোট ৫৮ লাখ ডোজ টিকা প্রস্তুত রয়েছে। প্রচলিত ১০ শতাংশ অপচয় বা সিস্টেম লস বাদ দিলেও প্রায় ৫২ লাখ ডোজ কার্যকর টিকা হাতে থাকবে, যা বর্তমান ৩৪ লাখ শিশুর লক্ষ্যমাত্রা সফলভাবে পূরণের পরও সরকারের হাতে পর্যাপ্ত উদ্বৃত্ত মজুত নিশ্চিত করবে।


হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১০৮৪

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:৪৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে রোগটি ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া কোনো রোগীর মৃত্যুর তথ্য মেলেনি। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম পরিস্থিতি সংক্রান্ত নিয়মিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া শিশুরা ঢাকা, হবিগঞ্জ এবং কুষ্টিয়া জেলার বাসিন্দা ছিল।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর সারাদেশে হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৪ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১০১ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৯৮৩ জন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ২০১ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এর ফলে দেশে মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৮৩৩ জনে।

এ ছাড়া একই সময়ে নতুন করে ৬৪ জনের দেহে সংক্রমণটি নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর দেশে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ২১ হাজার ১৫ জনে পৌঁছেছে।


মহাসড়কের পাশে অব্যবহৃত ২৪ ট্রমা সেন্টার চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশের মহাসড়কগুলোর পাশে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃতভাবে পড়ে থাকা ২৪টি ট্রমা সেন্টার দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার।

একই সাথে দেশব্যাপী ২৪ ঘণ্টার অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন পড়ে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানকে আধুনিকায়ন করে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ নামে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য লজিস্টিকস নিশ্চিত করে ২৪টি কেন্দ্রেই পর্যায়ক্রমে চিকিৎসাসেবা চালু করা হবে।

গত ১২ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক বৈঠকে এসব কেন্দ্র চালুর বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বৈঠকে, বিদ্যমান ২৪টি ট্রমা সেন্টারের নাম পরিবর্তন করে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ নামে নামকরণ করতে হবে এবং সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সাথে আলোচনা করে সড়ক ও মহাসড়কের পাশে খালি জায়গায় প্রকল্পের মাধ্যমে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধন্ত গ্রহণ করা হয়।

এছাড়াও প্রয়োজন অনুযায়ী এক্স-রে মেশিন, এ্যাম্বুলেন্স ও যন্ত্রপাতির সংস্থান স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অনুমোদিত বাজেট থেকে নির্বাহ করতে হবে বলেও বৈঠকে নির্দেশনা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি দ্রুত সময়ের মধ্যেই চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশে বিভিন্ন সময়ে এই ২৪টি ট্রমা সেন্টার চালু করা হয়।

এর উদ্দেশ্য ছিল আহতদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় এনে প্রাণহানি কমানোই। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রশাসনিক অনুমোদন না থাকায়, বছরের পর বছর ধরে এসব সেন্টার অব্যবহৃত পড়ে আছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশে ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ১০টি ও ২০১০ সালে আরও ১৪টি ট্রমা সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এগুলোর মধ্যে মাত্র দুটিতে সীমিত পরিসরে বহির্বিভাগ চালু রয়েছে। একটি সংশ্লিষ্ট জেলা হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এগুলো নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল বিশেষ করে মাথা, বুক, মেরুদণ্ড ও হাড়ে গুরুতর আঘাত পাওয়া রোগীর দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করা।

তিন তলা ভবনে ২০ শয্যার আইসিইউ ও ৪০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

এমনই একটি কেন্দ্র হলো সিরাজগঞ্জ সদরের মুলিবাড়ি ট্রমা সেন্টার। ঢাকা-রাজশাহী-রংপুর মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের তাৎক্ষণিক সেবা দিতে ২০২০ সালে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি নির্মাণ করা হয়।

ছয় বছর অব্যবহৃত থাকার পর গত কোরবানির ঈদের সময় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের সেবা দিতে ২১ মে থেকে ১৪ দিনের জন্য অস্থায়ীভাবে কেন্দ্রটি চালু করা হয়েছিল। পরে এটি আবার বন্ধ হয়ে যায়।

পাবনার আটঘরিয়া, বগুড়ার শেরপুর, সিরাজগঞ্জ সদর ও উল্লাপাড়া, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, গোপালগঞ্জ সদর, মাদারীপুরের শিবচর, মানিকগঞ্জের শিবালয়, শরীয়তপুরের জাজিরা, ফরিদপুরের ভাঙ্গা (মধুখালী), মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর, ঢাকার ধামরাই, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, হাটহাজারী ও রাউজান, কুমিল্লার দাউদকান্দি, ময়মনসিংহের ভালুকা, সুনামগঞ্জের ছাতক এবং হবিগঞ্জের বাহুবলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব কেন্দ্র অবস্থিত।

মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি ট্রমা সেন্টারে সাতজন কনসালট্যান্ট, তিনজন অর্থোপেডিক সার্জন, দুজন অ্যানেসথেটিস্ট ও দুজন আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তাসহ মোট ১৪ জন চিকিৎসক থাকার কথা ছিল।

এ ছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে ১০ জন নার্সের পাশাপাশি ফার্মাসিস্ট, রেডিওগ্রাফার ও অন্যান্য টেকনিশিয়ান থাকার কথা ছিল।

তবে কোনো কেন্দ্রেই প্রস্তাবিত জনবল কাঠামো অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, ‘মহাসড়কগুলোকে কেন্দ্র করে আমরা চব্বিশটি ট্রমা সেন্টার চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। খুব দ্রুতই এগুলোকে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সেন্টার’ হিসেবে রূপান্তর করা হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে।

ভবিষ্যতে এটিকে আমাদের নিয়মিত স্বাস্থ্যব্যবস্থার (হেলথ সিস্টেম) একটি টেকসই অংশ হিসেবে পরিচালনা করার লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।’ সূত্র: বাসস


banner close