কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ স্থাপিত হয়েছে ২০০৮ সালে। এরপর গড়িয়েছে প্রায় দেড় দশক। এই দীর্ঘ সময়েও মেডিকেল কলেজটির নাক, কান ও গলা বিভাগ, চক্ষু বিভাগ, ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ এবং কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগে কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়নি। গত ১৪ বছর ধরেই অন্য বিভাগের শিক্ষকরা এসব বিষয়ে পড়িয়ে আসছেন শিক্ষার্থীদের।
আবার এই মেডিকেল কলেজের নেই কোনো হাসপাতাল। এজন্য ১৪ কিলোমিটার দূরে জেলা সদর হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের, করতে হচ্ছে ক্লিনিক্যাল ক্লাস। এ নিয়ে ভীষণ অসন্তোষ কলেজটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
আরও পড়ুন: মেডিকেল শিক্ষা ব্যবসা না
এমন সংকট নিয়ে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. তাজমীর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এই মেডিকেল কলেজ যখন চালু হয়, তখন না ছিলেন শিক্ষক, না ছিল যন্ত্রপাতি, না ছিল কিছু। মাঝে মাঝেই হতাশা লাগত। ধীরে ধীরে কিছুটা উন্নতি হলেও এখনো অনেক বিভাগেই শিক্ষক নেই। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হাসপাতাল নেই। ১৪ কিলোমিটার দূরে জেলা সদর হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ করতে হচ্ছে। বাসে করে সদরে আসতে হয় হাসপাতালে ক্লিনিক্যাল ক্লাসের জন্য, ফের কলেজে যেতে হয়। এতে সময় এবং এনার্জি- দুটোরই ক্ষতি হচ্ছে।’
হাসপাতাল না থাকার কারণে সবাই ভুগছে জানিয়ে ডা. তাজমীর রহমান বলেন, ‘আবার জেলা সদর হাসপাতালে ইন্টার্নদের জন্য হোস্টেলের ব্যবস্থা নেই, থাকতে হয় বাইরে। নিরাপত্তা এখানে অনেক বড় ইস্যু।’
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের মতোই অবস্থা দেশের একাধিক সরকারি মেডিকেল কলেজের।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজগুলোকে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর অন্তত দুই বছর আগে একটি পরিপূর্ণ হাসপাতাল চালু করতে হবে, অ্যাকাডেমিক ভবন এবং হাসপাতাল ভবন আলাদা হতে হবে। কোনো ভাড়া বাড়িতে হাসপাতাল এবং কলেজ স্থাপন করা যাবে না।
দেশে সরকারি এবং বেসরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে ১১৫টি। এর মধ্যে সরকারি ৩৭টি, বেসরকারি ৭২টি এবং ছয়টি আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ। এগুলোর বেশির ভাগই ঢাকা বিভাগে। ঢাকায় বেসরকারি মেডিকেল কলেজ আসার কথা আরও তিনটি। অথচ দেশের বেশির ভাগ বেসরকারি মেডিকেল কলেজে নেই প্রয়োজনীয় শিক্ষক ও যন্ত্রপাতি, নেই শিক্ষার মানও। এরপরও একের পর এক বেসরকারি মেডিকেল কলেজ অনুমোদন পাচ্ছে। আর এসব অনুমোদনে অনেক ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালাও মানা হচ্ছে না। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব এবং সঠিক নজরদারির অভাবকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভয়াবহ শিক্ষক সংকট
দেশে মেডিকেল শিক্ষায় বেসিক বা মৌলিক হিসেবে ধরা হয় ৮টি বিষয়কে। এগুলো হচ্ছে- এনাটমি, বায়োকেমিস্ট্রি, কমিউনিটি মেডিসিন, ফরেনসিক মেডিসিন, মাইক্রোবায়োলজি ও ভাইরোলজি, প্যাথলজি, ফার্মাকোলজি, ফিজিওলজি । এই ৮ বিষয়েই মারাত্মক শিক্ষক সংকট রয়েছে দেশে।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এই ৮টি বিষয়ে অধ্যাপকের মোট ২০৪ পদের বিপরীতে আছেন মাত্র ৭২ জন, পদ ফাঁকা রয়েছে ১৩২টি। সহযোগী অধ্যাপকের ২৫১টি পদের বিপরীতে আছেন ১৫৭ জন, সহকারী অধ্যাপকের ৩৫২টি পদের বিপরীতে শিক্ষক আছেন ১৯৬ জন, কিউরেটরের ৪৮ পদের বিপরীতে আছেন ৩২ জন, লেকচারার বা প্রভাষকের ১ হাজার ১৩৫ পদের বিপরীতে রয়েছেন ৮১১ জন। সব মিলিয়ে এই ৮ বিভাগের ১ হাজার ৯৯৭টি পদের বিপরীতে ৭২৩টি পদ ফাঁকা।
অন্যদিকে সব বিষয়ে অধ্যাপকের ৮৪৯টি পদের বিপরীতে আছেন ৩৪৮ জন, সহযোগী অধ্যাপকের ১ হাজার ৪৮০টি পদের বিপরীতে রয়েছেন ৭৩০ জন, সহকারী অধ্যাপকের ২ হাজার ৪৪৬ পদের বিপরীতে রয়েছেন ১ হাজার ৩৯২ জন, প্রভাষকের ১ হাজার ৫৩৮টি পদের বিপরীতে আছেন ১ হাজার ১৩৫ জন। সব মিলিয়ে ৬ হাজার ৩১৪টি পদের বিপরীতে আছেন ৩ হাজার ৬০৫ জন।
দেশে ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীর আসন ৪ হাজার ৩৫০টি। ৭২টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে এ আসন সংখ্যা ৬ হাজার ৩৫৪। ৬টি আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীর আসন সংখ্যা ৪২৫।
নিয়ম অনুসারে, প্রতি ১০ শিক্ষার্থীর জন্য ১ জন প্রভাষক এবং ২৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ জন বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক (সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, অধ্যাপক) থাকতে হবে। প্রতি বছর ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করে এবং পাঁচটি শিক্ষাবর্ষ চালু আছে এমন কলেজের জন্য কমপক্ষে ৭৭ জন শিক্ষক থাকা দরকার। প্রতি শিক্ষাবর্ষে ১০০ জন করে শিক্ষার্থী থাকলে ওই মেডিকেল কলেজে শিক্ষক থাকতে হবে ১৫৪ জন।
কিছু না থেকেও মেডিকেল কলেজ
২০১৯ সালে নওগাঁ, নীলফামারী, চাঁদপুর, নেত্রকোনা ও মাগুরায় মেডিকেল কলেজ করা হয়। কিন্তু এই পাঁচটির কোথাও কোনোটির অবকাঠামো নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের একজন কর্মকর্তা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এই পাঁচটির একদম কিচ্ছু নেই।’
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘২০১৯ সালের আগে ৩৭ সরকারি মেডিকেল কলেজের মধ্যে ১৭টি মেডিকেল কলেজের জন্য জনবল ছিল। কিন্তু বাকি ২০টির জন্য জনবল ছিল না। গত দুই বছরে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর গঠন হওয়ার পর জনবলের জন্য পদ তৈরি করা হয়েছে। তাও যেখানে যেভাবে দরকার, সেভাবে নেই। একটা গড় ধরে জনবল তৈরি করা হয়েছে। যেমন-নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা এখন তৃতীয় বর্ষে উঠবেন, ক্লিনিক্যাল ক্লাস করবেন, রোগীদের দেখতে হবে। কিন্তু সেখানে প্রয়োজনীয় বিভাগ নেই, রোগীও নেই।’
সরকারি ৩৭ মেডিকেল কলেজের ২০টিতেই হাসপাতাল নেই
সূত্র জানিয়েছে, দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজের মধ্যে কক্সবাজার, যশোর, টাঙ্গাইলসহ ২০টিতেই হাসপাতাল নেই। যশোর মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার পর পার হয়েছে ১১ বছর। এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি হাসপাতাল। ৫০০ বেডের হাসপাতালের জন্য গত বছরের অক্টোবর থেকে আন্দোলন চলছে সেখানে।
নীলফামারী মেডিকেল কলেজে ক্লাস শুরু হয় ২০১৯ সালে। কিন্তু নেই কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস, নেই মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। সেখানে ফরেনসিক মেডিসিন ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে একজন করে প্রভাষক রয়েছেন। কিন্তু সহকারী, সহযোগী কিংবা অধ্যাপক পদে কেউ নেই।
এ বিষয়ে নীলফামারী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. রবিউল ইসলাম খাঁ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘শিক্ষক সংকট প্রকট, কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস নেই, মেডিকেল কলেজ নেই। নেই সাফিসিয়েন্ট একটা ল্যাবও। রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে ‘অন রিকোয়েস্টে’ ল্যাব টেকনিশিয়ান এনে কাজ করতে হয়।
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে মেডিকেল কলেজ করার কথা চলছে জানিয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘কলেজ না হয় ভাড়া ভবনে করা হলো, কিন্তু হাসপাতাল কোথায় করা হবে? অথচ নীতিমালায় রয়েছে ৫০ শিক্ষার্থীর জন্য একটি আড়াই শ বেডের হাসপাতাল লাগবে।’
যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা
চিকিৎসক, শিক্ষক নিয়ে সংকটের কথা জানতে চাইলে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ কে এম আমিরুল মোরশেদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘সরকারি ও বেসরকারি দুই ক্ষেত্রেই মেডিকেল শিক্ষার মান নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে প্রশ্ন উঠেছে। আবার দীর্ঘদিন ধরে কোনো পদোন্নতি না থাকায় শিক্ষক সংকট তীব্র হয়েছে। কিন্তু মেডিকেল শিক্ষার মান নিশ্চিত করার অন্যতম উপায় প্রয়োজনীয় শিক্ষক এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করা।’
তিনি জানান, শিক্ষকদের মানোন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাসহ নতুন করে কিছু কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। হয়তো শিগগির এ সংকট কেটে যাবে।
প্রয়োজনীয় শিক্ষক, হাসপাতাল না থাকা নিয়ে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মৌলিক বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্যের ভবিষ্যতে আসলে রুগ্ণ দশা হবে। যেসব মেডিকেল কলেজে শিক্ষক নেই, রোগী দেখার মতো হাসপাতাল নেই, যন্ত্রপাতি নেই-সেসব কলেজের শিক্ষার্থীরা কী শিখবে, কোথা থেকে শিখবে? তারা কিছু না শিখে কীভাবে চিকিৎসক হবে?’
তিনি বলেন, ‘অপ্রশিক্ষিত, সঠিক শিক্ষাহীন চিকিৎসক যে দেশে তৈরি হবে সে দেশে চিকিৎসা ব্যবস্থায় সংকট অবশ্যম্ভাবী এবং তার জন্য দেশকে, দেশের মানুষকে অনেক বড় মূল্য দিতে হবে। একটা দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা মাছের বাজারে গিয়ে মাছের দরদাম করা নয়- এটা মেডিকেল কলেজ স্থাপনের অনুমতি দেবার আগে সংশ্লিষ্টদের ভেবে দেখার জন্য অনুরোধ করি।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, দেশে সব টিকার পর্যাপ্ত মজুত আছে। যক্ষ্মা, বিসিজিসহ নয়টি টিকার সবগুলো আমাদের হাতে আছে। আগামী ৬ মাস টিকা দিয়ে যেতে পারব। বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে হাসপাতালের লেকচার হলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী চীনের কুনমিং মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ‘চায়না বাংলাদেশ জয়েন্ট সার্জিক্যাল ক্লিনিক’ চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সরকারগুলো ২০২০ সালের পর থেকে ভ্যাকসিন দেয় নাই, যে কারণে হাম পরিস্থিতিটা সৃষ্টি হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘(হাম প্রতিরোধক) ভ্যাকসিনের স্টক ছিল না। আমরা খুব তড়িৎ গতিতে—ওই সপ্তাহে আমরা শুরু করতে পারি নাই; কিন্তু পরের সপ্তাহ থেকে আমরা ‘গ্যাভি’ (বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র শিশুদের জন্য টিকা কিনতে সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা) সাহায্যে, ইউনিসেফের সাহায্যে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে ইতোমধ্যে আমরা সারাদেশে টিকাদান শুরু করেছি। জলাতঙ্কের টিকার একটি সংকট হয়েছিল। স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করে আমরা সমাধান করেছি। একটা ক্লজ ছিল, বাইরে থেকে এই ভ্যাকসিনটা পরীক্ষা করিয়ে আনতে হতো। যে কারণে সরবরাহ নিতে অনেক দেরি হয়েছিল। আমরা ওই ক্লজটা প্রত্যাহার করেছি। অ্যান্টির্যাবিস ভ্যাকসিনের সবচেয়ে বড় উৎপাদক ইনসেপ্টা এবং পপুলার থেকে আমরা স্থানীয়ভাবে (টিকা) সংগ্রহ শুরু করেছি।’
আগামী দেড় মাসের ভেতরে আমাদের (অ্যান্টি র্যাবিস ভ্যাকসিনের) বাফার স্টক আসছে, যোগ করেন তিনি।
গ্রাম এলাকায় টিকার সংকট নেই জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এমএসআর এবং এডিবি ফান্ড থেকে টিকা কেনা হচ্ছে।’ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল থেকে ‘ছয় ট্রাক চিকিৎসা সরঞ্জাম লুটের ঘটনা’ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘চিকিৎসা সরঞ্জাম না... এখনো সমস্ত মালগুলো চেক করা যায়নি, তবে আপনাদের নিশ্চয়তার সঙ্গে বলতে পারি এগুলো লোহা জাতীয় জিনিস। কনস্ট্রাকশন ম্যাটেরিয়ালের পার্ট—আমরা ভিডিওতে যা দেখেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে একটা জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করবে। সে যেই হোক না কেন, যারাই এর সঙ্গে জড়িত, যত বড় অফিসারই হোক, আমরা প্রত্যেককে গ্রেপ্তার করব। যদি চাকরিজীবী হয়ে থাকে, চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে। কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
হামে আক্রান্ত হয়ে দেশে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ৩৫৮ শিশু। বুধবার (২২ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত দেশে মোট ১২৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত সারাদেশে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৩৮ শিশুর এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯০ শিশুর। এ ছাড়া এ সময় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ৯৩৪ জন এবং ২৭ হাজার ১৬৪ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) শিশু ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন এবং সুরক্ষা জোরদারে ‘চাইল্ড অ্যান্ড অ্যাডোলেসেন্ট মেন্টাল হেলথ (সিএএমএইচ) সার্ভিস অ্যাকশন প্ল্যান ডিসেমিনেশন ওয়ার্কশপ’ শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় দেশ-বিদেশের চিকিৎসক, গবেষক এবং সংশি¬ষ্ট বিভিন্ন পেশাজীবী ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর চাইল্ড অ্যান্ড অ্যাডোলেসেন্ট মেন্টাল হেলথের সহযোগিতায় এবং ইউনিসেফের সহায়তায় আয়োজিত এ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন মনোরোগবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম এম এ সালাহউদ্দিন কাউসার বিপ্লব।
কর্মশালায় শিশু ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, সেবার মানোন্নয়ন এবং জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিএমইউর ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য আর অবহেলার সুযোগ নেই। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ ও সক্ষম হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যখাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
প্রো-ভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, বর্তমানে শিশু-কিশোরদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যোগ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা জরুরি।
কর্মশালায় অধ্যাপক ডা. নাহিদ মাহজাবিন মোরশেদসহ বিশেষজ্ঞরা সিএএমএইচএসএএন’র আওতায় প্রণীত অ্যাকশন প্ল্যানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং তা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও বৃস্তিত পরিসরে পরিচালিত হলে শিশু ও কিশোরদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
সারা দেশে হামের টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে নারায়ণগঞ্জের জিন্দাপার্কে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। গত ৫ এপ্রিল প্রথম ধাপে শুরু হওয়া কর্মসূচি আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত এবং ১২ এপ্রিল শুরু হওয়া কর্মসূচি ১২ মে পর্যন্ত চলবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দেশের সব স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
গত ৫ এপ্রিল দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। দ্বিতীয় দফায় গত ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণসহ গুরুত্বপূর্ণ ৪টি সিটি করপোরেশনে (ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ) একযোগে এই কার্যক্রম শুরু করে সরকার।
সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়া বাকি দিনগুলোতে সকাল ৮টা থেকে সব স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে এই টিকা দেওয়া হবে।
গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে একজনের এবং হাম সন্দেহে আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (১৯ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ১৯৭ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ২৩ হাজার ৬০৬ জন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১৬৫ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা তিন হাজার ৪৪৩ জন।
১৫ মার্চ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৫ হাজার ৩২৬ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১২ হাজার ৩৯৬ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মৃত্যু হয়েছে ১৮১ জনের।
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৬ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ও দুই শিশুর হামে মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সবশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৫ এপ্রিল সকাল আটটা থেকে ১৬ এপ্রিল সকাল আটটা পর্যন্ত সময়কালে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮১১ শিশু। আর নতুন করে হাম শনাক্ত হয়েছে ৯২ শিশুর।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময় নতুন করে ১১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকরকে বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৯ জন রোগী। বর্তমানে হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৪৫ জন রোগী। চলমান এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত মোট ৬১৩ জন রোগী রামেকে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৫১ জন।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বলেন, ২৪ ঘণ্টায় হামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময় আরও ১১ শিশু ভর্তি হয়েছে।
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ১ মাসে সারাদেশে ১৯৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৩২ ও হাম সন্দেহে ১৬৬ শিশুর। একই সময় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১২ হাজার ৩৯৮ শিশু এবং হাম শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৯৭৩ জনের।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এই হিসাব গত ১৫ মার্চ সকাল ৮টা থেকে আজ ১৫ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম ও হাম সন্দেহে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১ জনের। এ সময় নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৭৬ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যার ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগে হাম ও হাম সন্দেহে ৯৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছে ১০ হাজার ৩০ জন। এর পরই আছে রাজশাহী বিভাগে। এখানে হাম ও হাম সন্দেহে আক্রান্ত হয়েছে ৪ হাজার ৫৫৬ জন ও মৃত্যু হয়েছে ৬৭ জন। সবচেয়ে কম আক্রান্ত হয়েছে রংপুর বিভাগে। এ বিভাগে ৬৪৪ জন শিশু হাম ও হাম সন্দেহে আক্রান্ত হয়েছে এবং এখানে গত এক মাসে কোন মৃত্যুর ঘটনা।
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১ জন শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বাকি ৮ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।
একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১১০৫ শিশু এবং হাম শনাক্ত হয়েছে ১৭৬ জনের।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এই হিসাব ১৩ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে আজ ১৪ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে মোট ৩১টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৬৪ জনের।
এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে আসা ১৮ হাজার ২৩১ জনের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১১ হাজার ৬৫২ জন। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৮৯৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন ৯ হাজার ৩০৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হামে মৃত্যু হওয়া ৯ জনের মধ্যে ৬ জনই ঢাকা বিভাগের।
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলছে। এর সঙ্গে বাড়ছে দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিলও। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এ রোগের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। ২৪ ঘণ্টায় বিভাগটিতে মারা গেছে চারজন।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) দৈনিক বুলেটিনে এসব তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। রবিবার (১২ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রাপ্ত উপাত্তের ভিত্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা এক হাজার ৩৭১ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঢাকায় ৬১৫ জন। একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৮২ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঢাকায় ৮৬ জন, যা গতকাল ছিল ১২৩ জনে।
এদিকে, এ সময় হাসপাতালে সন্দেহজনক হামে ভর্তি হয়েছে ৭২৯ জন। আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৭১৩ জন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত হাম ও উপসর্গ নিয়ে ১৮৬ জন মারা গেছেন।
সারাদেশে ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনের মৃত্যু হামেই হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আর ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে হাম সন্দেহে।
রোববার (১২ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হাম সন্দেহে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত হামে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ১৫১ জন।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১০ শিশুর মধ্যে ৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামের কারণে হয়েছে। বাকি ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে (সন্দেহজনক)।
এছাড়া নতুন আক্রান্ত ১৪২৮ জনের মধ্যে ১৫০ জন নিশ্চিতভাবে এবং ১২৬৮ জন সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত হয়েছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে রাজধানী ঢাকাসহ ঢাকা বিভাগে। গত ২৪ ঘণ্টায় শুধুমাত্র এই বিভাগেই ৭০৩ জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে এবং প্রাণ হারিয়েছে ৯ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে নিশ্চিতভাবে হামে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে হামের লক্ষণ নিয়ে বা সন্দেহজনক হিসেবে মৃত্যু হয়েছে আরও ১৫১ জন শিশুর। অর্থাৎ, গত এক মাসে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১৭৯ জন শিশুর মৃত্যু হলো।
একই সময়ে সারাদেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৬৩৯ জন। এছাড়া সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ২২৫ জনে।
বাংলাদেশে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) বিশ্ব পারকিনসন্স দিবস উদযাপিত হয়েছে। আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের বি ব্লক থেকে একটি জনসচেতনামূলক র্যালি বের হয়। এটি উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।
উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, পারকিনসন্স দিবস আয়োজনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এই রোগের বিষয়ে জনসচেতনা বৃদ্ধি আবশ্যক। আক্রান্ত রোগীদের সচেতন করতে পারলে এবং তাদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে রোগীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। তবে পারকিনসন্স রোগের বিষয়ে প্রিভিলেন্স, এই রোগে স্বাস্থ্যখাতে কী ধরণের প্রভাব পড়ছে এবং এই বিষয়ে এপিডেমিওলজিক্যাল সার্ভে করা প্রয়োজন। যাতে জনগোষ্ঠীর মধ্যে কোনো রোগ বা বৈশিষ্টে আক্রান্ত মানুষের অনুপাত জানা যায় এবং তাদের রোগ, স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও ঝুঁকির কারণগুলো খুঁজে বের করা যায়, যা রোগ প্রতিরোধ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি হ্রাসে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
র্যালিতে বিএমইউর নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. কনোজ কুমার বর্মন, অধ্যাপক ডা. শেখ মাহাবুব আলম, ইউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মাসুদ রানা, সহযোগী অধ্যাপক ডা. আনিছ আহমেদ, সহযোগী অধ্যাপক ডা. কাজী জান্নাত আরা, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও উপাচার্যের একান্ত সচিব লুৎফর রহমান প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, বয়স বাড়লে অনেকেরই হাঁটাচলার গতি কমে যায় এবং হাঁটতে গেলে ভারসাম্য রক্ষা করতে কষ্ট হয়। কিন্তু এর সঙ্গে যদি হাত-পা কাঁপা ও মাংসপেশী শক্ত হয়ে যাওয়ার সমস্যা থাকে, তা হলে তা পারকিনসন্স রোগের লক্ষণ। পারকিনসন্ সাধারণত বৃদ্ধ বয়সের রোগ; তবে কিছু ক্ষেত্রে অল্প বয়সেও পারকিনসন্স দেখা দিতে পারে।
দেশের হাম পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, গত ৪ বছর টিকাদান কর্মসূচিতে কিছুটা ছেদ পড়ায় বর্তমানে হামের এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে সরকার।
শনিবার (১১ এপ্রিল) বিশ্ব পারকিনসন দিবস উপলক্ষ্যে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হসপিটালে আয়োজিত সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
সচিব বলেন, রোববার (১২ এপ্রিল) থেকে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে হামের টিকা কার্যক্রম শুরু হবে। এ সময় দেশে টিকার কোনো ঘাটতি নেই বলেও নিশ্চিত করেন সচিব।
গবেষক এবং পরামর্শক টিমের পরামর্শ অনুযায়ী, ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বছর বয়সি বাচ্চাদের সবাইকে হামের টিকার আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে বলেও জানান স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।
দেশজুড়ে হঠাৎ বেড়ে গেছে হামের প্রাদুর্ভাব। প্রতিদিনই আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। গত ৯ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ১০ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত (২৪ ঘণ্টা) হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনক হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১৭৭ শিশু। আর হাম শনাক্ত হয়েছে ১৬৮ জনের।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ১৪৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামে মারা গেছে ২৩ শিশু। হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ২ হাজার ৪০৯। আর সন্দেহজনক হাম নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ৯১০। হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়া পাওয়া রোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ৬০৯ শিশু।
এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ৫ এপ্রিল থেকে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় শুরু হয়েছে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি। ১২ এপ্রিল ঢাকার দুই সিটি, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশন এবং ২০ এপ্রিল সারা দেশে একযোগে শুরু হবে টিকা কার্যক্রম।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, আগে হামের টিকা নেওয়া থাকলেও ৬ মাস থেকে ৫৯ মাসের সব শিশুদের হামের টিকা দিতে পারবে। তবে যাদের জ্বর কিংবা হাসপাতালে ভর্তি, তাদের অসুস্থ অবস্থায় টিকা নেওয়া যাবে না।