আগাম আভাস ছাড়াই বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশে দলটির সাত সংসদ সদস্য (এমপি) পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরদিন তাদের মধ্যে ছয়জন জাতীয় সংসদে গিয়ে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। হঠাৎ তৈরি হওয়া এই সুযোগে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। এমনকি একটি আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য এখনো পদত্যাগ না করলেও সেখানেও তৎপরতা দেখা গেছে।
বিএনপির পদত্যাগ করা ছয় সংসদ সদস্য হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের মো. আমিনুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের আবদুস সাত্তার, বগুড়া-৪ আসনের মো. মোশাররফ হোসেন, বগুড়া–৬ আসনের জি এম সিরাজ, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের জাহিদুর রহমান এবং সংরক্ষিত আসনের রুমিন ফারহানা। এই আসনগুলো শূন্য ঘোষণা করে গত রোববার গ্যাজেট প্রকাশ করেছে সংসদ সচিবালয়। শূন্য হওয়া এসব আসনে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য দলটির যুগ্ম মহাসচিব মো. হারুনুর রশীদ বিদেশে থাকায় তিনি এখনো পদত্যাগ করেননি। দেশে ফিরে তারও পদত্যাগ করার কথা রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আ.লীগে চাঙাভাব
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, শূন্য হওয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল, গোমস্তাপুর, ভোলাহাট) আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা এরই মধ্যে তৎপর হয়ে উঠেছেন। বিদেশ থেকে ফিরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদেরও পদত্যাগ করার কথা রয়েছে। তবে তিনি পদত্যাগ করার আগেই উপনির্বাচন মাথায় রেখে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। অবশ্য এই দুই আসনের উপনির্বাচন নিয়ে অন্য দলগুলোর আগ্রহ তেমন নেই।
আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠেয় এ উপনির্বাচন সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। এ উপনির্বাচনে অন্য কোনো দল অংশ নেবে না। আওয়ামী লীগের প্রার্থীই বিজয়ী হয়ে আসবেন।
সেখানে মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের বিলবোর্ড টাঙানো শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে কর্মী-সমর্থকদের প্রচার।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বেশি আলোচনায় আছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের দৌড়ে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য মু জিয়াউর রহমান, গোমস্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা, যুবলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল আলম সৈকত জোয়ার্দার, ভোলাহাট উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ, রাজশাহী জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার, আওয়ামী লীগ নেতা খুরশিদ আলম বাচ্চু, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা কামরুল হাসান লিংকনসহ বেশ কয়েকজন।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ বলেন, তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘আমি এর আগে এমপি ছিলাম। গত চার বছরে তেমন কিছুই হয়নি। অনেক উন্নয়ন প্রকল্পই থমকে গেছে। এ সময়ে আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারলে গত চার বছরের যে স্থবিরতা, সেটি অনেকটাই কাটিয়ে তুলতে পারব।’
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউর রহমান বলেন, ‘উপনির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা চেষ্টা করবেন এটাই স্বাভাবিক। নেত্রী যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটাই আমরা মেনে নেব।’
বগুড়ায়ও শুরু হয়েছে দৌড়ঝাঁপ
বগুড়া প্রতিনিধি জানান, বিএনপির সংসদ সদস্যদের পদত্যাগে শূন্য হয়েছে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) ও বগুড়া-৬ (সদর) আসন। এর পরপরই আসন দুটিতে নির্বাচনী হাওয়া লেগেছে। তবে এখানেও সে হাওয়া বইছে শুধু আওয়ামী লীগেই। এই উপনির্বাচনে অংশ নেবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে সিপিবি বা বামজোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও উপনির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বলে জানা গেছে।
বগুড়া-৬ আসনটি বরাবরই ছিল বিএনপির দখলে। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি টি জামান নিকেতারের নাম শোনা যাচ্ছে জোরেশোরে। তিনি এর আগে ২০১৯ সালের উপনির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। এ ছাড়াও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপুর নামও শোনা যাচ্ছে।
বগুড়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু বলেন, বগুড়া-৬ আসনে অনেক দক্ষ ও যোগ্য আওয়ামী লীগ নেতা রয়েছেন। সবাই এমপি হওয়ার মতো যোগ্যতা রাখেন। আমি ছাড়াও অন্তত ১৭ জন আওয়ামী লীগ নেতা উপনির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন।
বগুড়া-৪ আসনে সরব হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা জাসদ সভাপতি রেজাউল করিম তানসেন, নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন রানা, নন্দীগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ, কাহালু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হেলালউদ্দিন কবিরাজসহ বেশ কয়েকজন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন মোস্তফা কামাল ফারুকও সক্রিয় হয়েছেন। আলোচনায় আছেন জাতীয় পার্টির সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য ও সম্মিলিত নাগরিক জোটের বগুড়ার সদস্যসচিব, বগুড়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক উত্তরের দর্পণ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক আব্দুস সালাম বাবুও।
রেজাউল করিম তানসেন বলেন, এর আগে আমি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ১৪ দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এমপি হয়েছিলাম। তাই এবারও আমি আশাবাদী।
কাহালু পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হেলালউদ্দিন কবিরাজ বলেন, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে যাচ্ছি। মতবিনিময় করছি সবার সঙ্গে।
ঠাকুরগাঁওয়ে সক্রিয় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, শূন্য হওয়া ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে এরই মধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ইমদাদুল হক এবং সংসদীয় নারী সংরক্ষিত-১ আসনের সাবেক সদস্য সেলিনা জাহান লিটা। এ ছাড়া পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক বিপ্লব ও রানীশংকৈল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সহিদুল হকও আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী। এ দিকে ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য ইয়াসিন আলী এবং জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য ও দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য হাফিজ উদ্দীন আহমেদও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।
ইমদাদুল হক বলেন, ‘দীর্ঘদিন রাজনীতি করছি। আমি দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করে চলেছি। আমি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি।’
সেলিনা জাহান লিটা বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। আমার বাবা ছিলেন এই আসনের প্রথম সংসদ সদস্য। এ আসনের নারী ভোটারসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আমার যোগাযোগ রয়েছে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তৎপর বিভিন্ন দল
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, শূন্য হওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি কয়েকটি দলের প্রার্থী সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। এই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মঈন উদ্দিন মঈন, জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক রেজাউল ইসলাম ভূইয়াসহ বেশ কয়েকজন।
মঈন উদ্দিন মঈন বলেন, ‘১৯৭৩ সালের পর এখানে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নেই। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আবেদন যেন এখানে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়। এতে পিছিয়ে পড়া এলাকা এগিয়ে যাবে।’
ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসন ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে বুড়িগঙ্গা নদীর সঙ্গে জিয়া সরণি খালকে যুক্ত করার প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এই কাজের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর জিয়া সরণি খাল, কোনাপাড়া খাল ও কুতুবখালী খাল পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি এসব তথ্য জানান।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের অবহেলার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই খালটি দীর্ঘদিন সংস্কারহীন ছিল।
বর্তমানে সিটি করপোরেশনের অর্থায়নে খালটির অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ প্রাথমিক সংস্কারকাজ চলছে।
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘সব খাল দখলমুক্ত করা হবে এবং অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনানুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মীর শাহে আলম বলেন, বিএনপি সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত। তাই জনস্বার্থে যেকোনো উন্নয়নমূলক কাজ সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই সম্পন্ন করা হবে।
তিনি আরো যোগ করেন, কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, বরং জনকল্যাণই এই সরকারের মূল লক্ষ্য।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ‘দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচি শুরু করেছে বিএনপি সরকার। গত ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরের সাহাপাড়ায় খাল খননের মাধ্যমে একযোগে দেশের ৫৪টি খালের খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জানা গেছে, কৃষি সেচ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাসহ সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন করা হবে।
প্রথম পর্যায়ে ৫৪টি জেলায় চলবে এই কর্মসূচি।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের ওপর ভর্তুকির চাপ ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। চলতি অর্থবছরের মার্চ থেকে জুন সময়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও এলএনজি খাতে নির্ধারিত ভর্তুকির বাইরে সরকারকে অতিরিক্ত প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে। আগামী ঘাটতি বাজেটে বাড়তি চাপ পড়বে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক চিত্র তুলে ধরে বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও এলএনজির মূল্য দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যাওয়ায় এই অতিরিক্ত ভর্তুকি প্রয়োজন হচ্ছে। এর ফলে একদিকে বাজেটে ঘাটতি বাড়বে, অন্যদিকে প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অতিরিক্ত আমদানি ব্যয় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১০ দিনের মাথায় মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হয়েছে- যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। জ্বালানি তেল ও এলএনজির মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারে দ্বিগুণের বেশি বেড়ে গেছে। এর প্রভাবে সরকারকে চলতি অর্থবছরের মার্চ-জুন সময়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, এলএনজিতে নির্ধারিত ভর্তুকির অতিরিক্ত আরও প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা দিতে হবে। এটি একদিকে যেমন সরকারের বাজেট ঘাটতি বাড়াবে অন্যদিকে সমপরিমাণ প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আমদানি মূল্য পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও প্রভাব ফেলবে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘সরকার এ অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনগণকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। যার মধ্য উল্লেখযোগ্য—সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অফিস-আদালত বিকেল ৫টার পরিবর্তে ৪টায় বন্ধ করা, ডেলাইট ব্যবহার করে বৈদ্যুতিক লাইট ব্যবহার কমানো ও এসির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, মার্কেট-সুপারমল সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করা, বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে জ্বালানির নিরাপত্তা মজুত নিশ্চিত করা, ভর্তুকির অর্থ যথাসময়ে ছাড়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি ক্রয় ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজেটে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ ও ব্যালেন্স অব পেমেন্টে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ সহনীয় রাখতে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে অতিরিক্ত বাজেট সাপোর্ট পেতে উদ্যোগ গ্রহণ।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘একটি আমদানিনির্ভর অর্থনীতি হিসেবে বাংলাদেশ এই ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার বাইরে নয়। বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে সরকারের অতিরিক্ত ভর্তুকি প্রদানের প্রয়োজন হলেও জনগণের কষ্টের কথা মাথায় রেখে সরকার আপাতত মূল্য সমন্বয় না করে পূর্বের মূল্যই বহাল রেখেছে। এই প্রতিকূল বৈশ্বিক পরিবেশের মধ্যেই আমাদের অর্থনীতিকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে এবং আমরা সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা স্থাপন ও নানা চাপ মোকাবিলা করে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজে হাত দিয়েছি। নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম বাজেটের কাছে জনগণের যে বিপুল প্রত্যাশা সে বিষয়ে আমরা সম্পূর্ণ সচেতন। অন্যদিকে জনগণও উত্তরাধিকার হিসেবে পাওয়া বিভিন্ন সমস্যার কারণে আমাদের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় রাখবেন—এটাও আমরা আশা করি। আমাদের এবারের লক্ষ্য কেবল প্রবৃদ্ধি নয়, বরং একটি টেকসই, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা।’
আমির খসরু বলেন, ‘সেই ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতার উত্তরাধিকার ধারণ করে আমরা আজ আবার বাংলাদেশের অর্থনীতিকে একটি প্রাগ্রসর, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই পথে পরিচালিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমরা এটা করতে চাই স্বচ্ছতা, সততা ও জবাবদিহির ওপর নির্ভর করে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ আমাদের ওপর আস্থা রেখে আমাদের নির্বাচিত করেছেন। সেই আস্থার প্রতিদান দেওয়াই হবে এই সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।’
বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্থাপিত হলো। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩ কার্যদিবসে সর্বোচ্চ ৯১টি বিল পাসের নজির সৃষ্টি হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তরের লক্ষ্যে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’; ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল, ২০২৬’; ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, ২০২৬’সহ মোট ২৪টি বিল শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৩ দিনে ৯১টি বিল পাস হলো। এর আগের দিন, অর্থাং বৃহস্পতিবার ৩১টি বিল পাস হয়েছিল।
পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের ‘নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’; ‘বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’; ‘ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’; ‘কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’; ‘রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’; সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু ‘বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশন বিল, ২০২৬’; ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিল, ২০২৬’; অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘আমানত সুরক্ষা বিল, ২০২৬’; ‘এক্সাইজেস অ্যান্ড সল্ট বিল, ২০২৬’; ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; ‘গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; ‘বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; ‘অর্থ ২০২৫-২৬ অর্থবছর বিল, ২০২৬’; শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিল, ২০২৬’ ও ‘বিশ্ববিদ্যালয়-সংক্রান্ত কিছু আইন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম ‘জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা বিল, ২০২৬’ ও ‘সাইবার সুরক্ষা বিল, ২০২৬’; মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং বিলগুলো সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন ও বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
এদিকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, ২০২৬’ সংসদে পাসের জন্য উত্থাপন করার প্রস্তাব করলে ঢাকা-১২ আসনের বিরোধী দলের সদস্য সাইফুল ইসলাম মিলন বিলটি উত্থাপনের বিরোধিতা করে জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব করেন। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বিষয়টি ভোটে দেন। পরে কণ্ঠভোটে জনমত যাচাই প্রস্তাবটি নাকচ হয় ও বিলটি পাস হয়।
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব করলে মাদারীপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য আনিছুর রহমান এই বিলের ওপর তিনটি সংশোধন প্রস্তাব করেন। পরে স্পিকার তার সংশোধনীগুলো গ্রহণ করেন। পরে বিলটি সংসদে স্থিরকৃত আকারে পাস হয়। তবে বিলে গৃহীত সংশোধনীর ওপর আপত্তি জানায় বিরোধী জোট। এ বিষয়ে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। একপর্যায়ে বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে।
অধিবেশনে সর্বশেষ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার ভিসা পাওয়া পরিস্থিতি দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। দেশটিতে স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার হার নেমেছে অনেক। সেই সঙ্গে বেড়েছে প্রত্যাখ্যানের হারও।
দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোম অ্যাফেয়ার্সের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিদেশ থেকে করা উচ্চশিক্ষার ভিসা আবেদনগুলোর মাত্র ৬৭ দশমিক ৬ শতাংশ অনুমোদন পেয়েছে। গত অন্তত ২১ বছরের মধ্যে এটিই সবচেয়ে কম হার।
সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ থেকে যারা আবেদন করেছেন, তাদের ৫১ শতাংশই ভিসা পাননি। অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি আবেদনকারী প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। তথ্যটি প্রকাশ করেছে টাইমস হায়ার এডুকেশন।
এতে দেখা যায়, দক্ষিণ এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশেও ভিসা প্রত্যাখ্যান বেড়েছে। যেমন ভারতে ৪০ শতাংশ, নেপালে ৬৫ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ৩৮ শতাংশ এবং ভুটানে ৩৬ শতাংশ আবেদন বাতিল হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষ এখন যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করেছে। আবেদনকারী সত্যিই পড়াশোনার জন্য যাচ্ছে কিনা, সেটি বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ফলে অনেক আবেদন বাতিল হয়ে যাচ্ছে।
এদিকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে আবেদনও বেড়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে আবেদন বেড়েছে ৫১ শতাংশ। ভারতের ক্ষেত্রে এই হার ৩৬ শতাংশ আর নেপালে ৯১ শতাংশ। তবে চীন থেকে আবেদন কমেছে।
এ পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও। ভিসা না পাওয়ার হার বাড়লে কোনো প্রতিষ্ঠানের ‘ঝুঁকি’ বাড়ে। ফলে ভবিষ্যতে সেখানকার আবেদন আরও কঠোরভাবে যাচাই করা হতে পারে।
এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়া। সংগঠনটি বলছে, ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার যেভাবে বাড়ছে, তা নিয়ে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
সব মিলিয়ে, অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সময়টা সহজ নয়। তাই আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রস্তুতি আরও ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ-২০২৬ জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিতে পাস হয়েছে। শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসনসহ গণঅভ্যুত্থানের মর্ম ও আদর্শকে রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় জীবনে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে এবং এ সংক্রান্ত ইতিহাস সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে বিলটি উত্থাপন করা হয়। অন্যদিকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপন করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। এরপর অধিবেশন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিলটি ভোটে দেন। তখন সংসদ সদস্যরা ‘হ্যাঁ’ বলে বিলের পক্ষে সম্মতি দেন।
স্পিকার বিলটি পাসের ঘোষণা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরো সংসদ কক্ষ দীর্ঘস্থায়ী করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে। সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে এবং টেবিল চাপড়িয়ে এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। মাইক ছাড়াই অনেকে এটিকে ‘বিপ্লবের আইনি স্বীকৃতি’ হিসেবে অভিহিত করেন। সরকারের দলের পক্ষ থেকে বিরোধী দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
বিলের উদ্দেশ্য ও বিষয়বস্তু অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার এবং আহত যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি এই অভ্যুত্থানের প্রকৃত মর্ম ও আদর্শকে রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত করা এবং সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে এই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ১৭ জুন এ-সংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশ জারি করে গেজেট প্রকাশ করেছিল। ইতোমধ্যে কার্যকর হওয়া সেই অধ্যাদেশটি জাতীয় সংসদে বিলটি পাসের মাধ্যমে স্থায়ী আইনে পরিণত হলো।
অপরদিকে জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস, নিদর্শন ও দলিলাদি সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রদর্শনের জন্য জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার উদ্দেশে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী সংসদ অধিবেশনে বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিলটি পাসের বিষয়ে বিরোধীদলীয় সদস্যরা আপত্তি জানালেও বিধিসম্মত না হওয়ায় তা গ্রহণ করেননি স্পিকার।
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের (এমপি) উত্থাপিত জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনার এবং প্রয়োজনে তা লেখে রাখার জন্য মন্ত্রীদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার সময় সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে এ মন্তব্য করেছেন তিনি।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘অনেক সময় দেখা যায় সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকার সমস্যা তুলে ধরেন। তখন সংশ্লিষ্ট অনেক মন্ত্রীই তা মনোযোগ দিয়ে শোনছেন না বা নোট নিচ্ছেন না। এতে এমপিদের মধ্যে হতাশা তৈরি করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। ট্রেজারি বেঞ্চ হোক কিংবা বিরোধী দল–নির্বিশেষে সবার কথা শোনার মাধ্যমেই জনগণের সমস্যার সঠিক সমাধান সম্ভব।’
মন্ত্রীদের এই ছোট উদ্যোগগুলো মাঠপর্যায়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দেশে হামে গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১৭৭ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে মোট ১৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে দেশের ৩০ জেলায় জরুরি হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গত এক দিনে নতুন করে ১৬৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২,৪০৯ জনে। এ ছাড়া সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ৯১০ জন। একই সময়ে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ১৩ হাজার ৪৯৭ জন এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৬ হাজার ৬০৯ জন।
এদিকে পূর্বে পাঠানো তথ্যে ভুল থাকায় তা সংশোধন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সংশোধিত তথ্যে বলা হয়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুটি এবং ঢাকার ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি সন্দেহজনক মৃত্যুর তথ্য ভুলভাবে যুক্ত হয়েছিল। এ কারণে মোট সন্দেহজনক মৃত্যুর সংখ্যা তিনটি কমানো হয়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তরের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) আরও ২০টি বিল পাস হয়েছে। এরমধ্যে সকালের অধিবেশনে ১০টি বিল পাস হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১১তম কার্যদিবসে কণ্ঠভোটে ৩১টি বিল পাস হয়। এর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ থেকে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই ২৮টি বিল পাস করা হয় এবং অধ্যাদেশ রহিত করে আরও তিনটি বিল অনুমোদন দেওয়া হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ১৩তম দিনের সকালের অধিবেশনে উত্থাপিত বিলগুলোর ওপর দফাওয়ারী কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা হয়নি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপন করলে সর্বসম্মতিক্রমে সেগুলো পাস হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীরবিক্রম।
অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে সংসদের বিশেষ কমিটি ৯৮টি অপরিবর্তিতভাবে এবং ১৫টি সংশোধনসহ পাশের সুপারিশ করে। বাকি ২০টির মধ্যে ৪টি বাতিল এবং ১৬টি আরও শক্তিশালী করে নতুন বিল আকারে আনার সুপারিশ করা হয়।
পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের উত্থাপন করেন- ‘নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’; ‘বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’; ‘ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’; ‘কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’; ‘রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’; সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী উত্থাপন করেন- ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু উত্থাপন করেন- ‘বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশন বিল, ২০২৬’; ‘বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিল, ২০২৬’; অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উত্থাপন করেন- ‘আমানত সুরক্ষা বিল, ২০২৬’; ‘এক্সাইজেস অ্যান্ড সল্ট বিল, ২০২৬’; মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; ‘গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; শিক্ষা মন্ত্রী আনম এহছানুল হক মিলন উত্থাপন করেন- ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিল, ২০২৬’ ও ‘বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত কতিপয় আইন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম উত্থাপন করেন- ‘জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা বিল, ২০২৬’ ও ‘সাইবার সুরক্ষা বিল, ২০২৬’; মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন উত্থাপন করেন- ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল, ২০২৬’ পাশের প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং বিলগুলো সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’ পাশের প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং বিলগুলো সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দেশে ফেরেন তিনি।
সফরকালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের প্রশংসনীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের পক্ষ থেকে সেনাপ্রধানকে একটি বিশেষ রেজ্যুলেশন দেওয়া হয়।
এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আনম এহছানুল হক মিলনের আবেদনের প্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদের দর্শক গ্যালারিতে শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ১০০টি আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সংসদ অধিবেশনে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত মোট আসন সংখ্যা ৫০ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১৫০টিতে উন্নীত হলো।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে সংসদ গ্যালারিতে অনূর্ধ্ব ১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য মাত্র ৫০টি আসন সংরক্ষিত ছিল। আসন সংখ্যা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে মন্ত্রী স্পিকারের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক পত্রের মাধ্যমে আরও ১০০টি আসন বরাদ্দের আবেদন জানান। স্পিকার সেই আবেদন অনুমোদন করেছেন।
নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে পূর্বের তুলনায় আরও বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী সরাসরি সংসদের কার্যক্রম দেখার সুযোগ পাবে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সংসদীয় রীতিনীতি ও গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে নিবিড়ভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ লাভ করবে।
এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্র সম্পর্কে ধারণা দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রজন্মকে রাষ্ট্র ও রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, এই বিষয়ে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার ভূঁইয়ার সঙ্গে তার বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সচিব এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, শিক্ষার্থীরা সংসদে এলে অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে তাদেরকে সংসদের কার্যপ্রণালী, স্থাপত্যশৈলী, ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করা হবে।
কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহকে সংসদ অধিবেশনে অসহিষ্ণু না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, এটা শাহবাগ মোড় নয়, এটা সংসদ।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর অধিবেশন চলাকালে তিনি এ কথা বলেন।
সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ্য করে স্পিকার বলেন, ‘এত অসহিষ্ণু হলে চলবে না মি. আবদুল্লাহ। দিস ইজ নট শাহবাগ স্কয়ার, দিস ইজ পার্লামেন্ট। এখানে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে, শুনতে হবে। আর মৌখিক কথাবার্তার স্কোপ এখানে খুবই কম। নোটিশ দেবেন।’
তিনি বলেন, ‘আইনমন্ত্রীর কথা পূর্ণ বিবেচনা করা যেতে পারে। প্রয়োজনে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে পরবর্তী অধিবেশনে একটি সংশোধনী বিল আনেন। সেটি নিশ্চয়ই সরকারি দল বিবেচনা করবে।’
সংসদের পরিবেশ ভালো রাখার আহ্বান জানিয়ে স্পিকার বলেন, ‘এত বড় জুলাই অভ্যুত্থানের পর এই সংসদ হয়েছে। ইলেকশনের মাধ্যমে আমরা সবাই এখানে এসেছি। এত বড় বিরোধীদল খুব কমই এসেছে সংসদে।’
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কিছুটা কমলেও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন-এর জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে না পেরে ফিরে যাচ্ছে শারজা বন্দরের দিকে।
প্রায় ৪০ দিন আটকে থাকার পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে গত বুধবার সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে প্রণালির উদ্দেশে রওনা দেয় জাহাজটি। প্রায় ৪০ ঘণ্টার যাত্রা শেষে শুক্রবার সকালে হরমুজের কাছাকাছি পৌঁছে ইরান সরকারের কাছে পারাপারের অনুমতি চাওয়া হয়, তবে তা মেলেনি।
ফলে নিরাপত্তার স্বার্থে জাহাজটিকে ঘুরিয়ে আবার শারজায় ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুল মালেক বলেন, ‘ইরানের নির্দেশনা অনুযায়ী অনুমতি চাওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। কূটনৈতিকভাবে অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’
তিনি জানান, বর্তমানে জাহাজটি হরমুজের নিকটবর্তী অবস্থানে রয়েছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপদ স্থানে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জাহাজে থাকা ৩১ জন নাবিকের জন্য খাদ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। প্রতিদিন ১৮ টন পানি উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও ইঞ্জিন সচল রাখতে হওয়ায় ব্যবহার কমিয়ে দৈনিক ৬ টনে নামানো হয়েছে। নাবিকদের মনোবল ধরে রাখতে দৈনিক খাদ্য বরাদ্দ ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করা হয়েছে এবং বেসিক বেতনের সমপরিমাণ ওয়ার অ্যালাউন্স দেওয়া হচ্ছে।
বিএসসির তথ্যমতে, ভারত থেকে পণ্য নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে জাহাজটি। পরে কাতার থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দর-এ পৌঁছে।
পরদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। ১১ মার্চ পণ্য খালাস শেষ হলেও কুয়েতে নতুন পণ্য তোলার পরিকল্পনা স্থগিত করে জাহাজটিকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
বিগত দেড় দশকে দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রভাবে দেশের অর্থনীতি গভীর সংকটে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তার মতে, এই সময়ে শুধু অর্থনৈতিক কাঠামো নয়, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাও কার্যকারিতা হারিয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘কোন অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে এবং আগামীর যাত্রা কোথায় হবে সে সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রদান করা হচ্ছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এই দল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাস করে এবং দেশের উন্নয়নে জনগণকে সাথে নিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই দায়বদ্ধতা থেকেই ২০০৫-০৬ অর্থবছর, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ২০২৩-২৪ অর্থবছর এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক ও প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থার একটি চিত্র দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদী সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটের কারণে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে এবং সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক খাত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। অর্থনীতির আকার বাড়লেও ভেতরের কাঠামোগত দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৭৮ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭.১৭ শতাংশ। কিন্তু ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এসে প্রবৃদ্ধি কমে ৪.২২ শতাংশে নেমেছে, আর মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে। শিল্পখাতে প্রবৃদ্ধি ১০.৬৬ শতাংশ থেকে কমে ৩.৫১ শতাংশে এবং কৃষিতে ৫.৭৭ শতাংশ থেকে ৩.৩০ শতাংশে নেমে এসেছে।
তিনি বলেন, শিল্প ও সেবা খাতে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় তরুণদের বড় অংশ কৃষিতে যুক্ত হচ্ছে, যা ছদ্ম বেকারত্ব বাড়াচ্ছে। কৃষিতে কর্মসংস্থান ৪১ শতাংশ হলেও জাতীয় আয়ে এর অবদান মাত্র ১১.৬ শতাংশ, যা নিম্ন উৎপাদনশীলতার ইঙ্গিত দেয়।
সঞ্চয় ও বিনিয়োগের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ২০০৫-০৬ সালে জাতীয় সঞ্চয় ছিল ২৯.৯৪ শতাংশ, যা ২০২৩-২৪ সালে কমে ২৮.৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে টাকার মান অবমূল্যায়িত হয়ে ডলারের বিপরীতে ৬৭.২ টাকা থেকে বেড়ে ১২১ টাকায় পৌঁছেছে, ফলে আমদানি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, মুদ্রা সরবরাহ ও রিজার্ভ মুদ্রার প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহও কমেছে। ১৮.৩ শতাংশ থেকে তা নেমে ৬.৫ শতাংশে এসেছে, যা বিনিয়োগে স্থবিরতার ইঙ্গিত বহন করে। রাজস্ব আহরণেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি এবং বাজেট ঘাটতি বেড়ে ৪.০৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের বড় বড় প্রকল্পগুলো যথাযথ যাচাই ছাড়া বাস্তবায়ন হওয়ায় জনগণ প্রত্যাশিত সুফল পায়নি, বরং বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
ঋণ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০০৫-০৬ সালে সুদ পরিশোধে ব্যয় ছিল ৮৫ বিলিয়ন টাকা, যা ২০২৩-২৪ সালে বেড়ে ১১৪৭ বিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে। অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ায় বেসরকারি খাত, বিশেষ করে এসএমই উদ্যোক্তারা ঋণ পেতে বাধার মুখে পড়ছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, রপ্তানি ও আমদানির প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হয়ে পড়েছে এবং হুন্ডি ও অর্থ পাচারের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ২০ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ কিছুটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
এদিকে, বৈষম্যহীন উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার ৫০ লাখ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, জনগুরুত্বহীন এবং দীর্ঘদিন অর্থায়নহীন ‘জম্বি প্রকল্প’ চিহ্নিত করে বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিকল্পিত সংস্কারের মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে, যার অংশ হিসেবেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।