আগাম আভাস ছাড়াই বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশে দলটির সাত সংসদ সদস্য (এমপি) পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরদিন তাদের মধ্যে ছয়জন জাতীয় সংসদে গিয়ে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। হঠাৎ তৈরি হওয়া এই সুযোগে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। এমনকি একটি আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য এখনো পদত্যাগ না করলেও সেখানেও তৎপরতা দেখা গেছে।
বিএনপির পদত্যাগ করা ছয় সংসদ সদস্য হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের মো. আমিনুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের আবদুস সাত্তার, বগুড়া-৪ আসনের মো. মোশাররফ হোসেন, বগুড়া–৬ আসনের জি এম সিরাজ, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের জাহিদুর রহমান এবং সংরক্ষিত আসনের রুমিন ফারহানা। এই আসনগুলো শূন্য ঘোষণা করে গত রোববার গ্যাজেট প্রকাশ করেছে সংসদ সচিবালয়। শূন্য হওয়া এসব আসনে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য দলটির যুগ্ম মহাসচিব মো. হারুনুর রশীদ বিদেশে থাকায় তিনি এখনো পদত্যাগ করেননি। দেশে ফিরে তারও পদত্যাগ করার কথা রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আ.লীগে চাঙাভাব
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, শূন্য হওয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল, গোমস্তাপুর, ভোলাহাট) আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা এরই মধ্যে তৎপর হয়ে উঠেছেন। বিদেশ থেকে ফিরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদেরও পদত্যাগ করার কথা রয়েছে। তবে তিনি পদত্যাগ করার আগেই উপনির্বাচন মাথায় রেখে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। অবশ্য এই দুই আসনের উপনির্বাচন নিয়ে অন্য দলগুলোর আগ্রহ তেমন নেই।
আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠেয় এ উপনির্বাচন সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। এ উপনির্বাচনে অন্য কোনো দল অংশ নেবে না। আওয়ামী লীগের প্রার্থীই বিজয়ী হয়ে আসবেন।
সেখানে মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের বিলবোর্ড টাঙানো শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে কর্মী-সমর্থকদের প্রচার।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বেশি আলোচনায় আছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের দৌড়ে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য মু জিয়াউর রহমান, গোমস্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা, যুবলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল আলম সৈকত জোয়ার্দার, ভোলাহাট উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ, রাজশাহী জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার, আওয়ামী লীগ নেতা খুরশিদ আলম বাচ্চু, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা কামরুল হাসান লিংকনসহ বেশ কয়েকজন।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ বলেন, তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘আমি এর আগে এমপি ছিলাম। গত চার বছরে তেমন কিছুই হয়নি। অনেক উন্নয়ন প্রকল্পই থমকে গেছে। এ সময়ে আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারলে গত চার বছরের যে স্থবিরতা, সেটি অনেকটাই কাটিয়ে তুলতে পারব।’
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউর রহমান বলেন, ‘উপনির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা চেষ্টা করবেন এটাই স্বাভাবিক। নেত্রী যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটাই আমরা মেনে নেব।’
বগুড়ায়ও শুরু হয়েছে দৌড়ঝাঁপ
বগুড়া প্রতিনিধি জানান, বিএনপির সংসদ সদস্যদের পদত্যাগে শূন্য হয়েছে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) ও বগুড়া-৬ (সদর) আসন। এর পরপরই আসন দুটিতে নির্বাচনী হাওয়া লেগেছে। তবে এখানেও সে হাওয়া বইছে শুধু আওয়ামী লীগেই। এই উপনির্বাচনে অংশ নেবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে সিপিবি বা বামজোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও উপনির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বলে জানা গেছে।
বগুড়া-৬ আসনটি বরাবরই ছিল বিএনপির দখলে। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি টি জামান নিকেতারের নাম শোনা যাচ্ছে জোরেশোরে। তিনি এর আগে ২০১৯ সালের উপনির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। এ ছাড়াও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপুর নামও শোনা যাচ্ছে।
বগুড়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু বলেন, বগুড়া-৬ আসনে অনেক দক্ষ ও যোগ্য আওয়ামী লীগ নেতা রয়েছেন। সবাই এমপি হওয়ার মতো যোগ্যতা রাখেন। আমি ছাড়াও অন্তত ১৭ জন আওয়ামী লীগ নেতা উপনির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন।
বগুড়া-৪ আসনে সরব হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা জাসদ সভাপতি রেজাউল করিম তানসেন, নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন রানা, নন্দীগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ, কাহালু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হেলালউদ্দিন কবিরাজসহ বেশ কয়েকজন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন মোস্তফা কামাল ফারুকও সক্রিয় হয়েছেন। আলোচনায় আছেন জাতীয় পার্টির সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য ও সম্মিলিত নাগরিক জোটের বগুড়ার সদস্যসচিব, বগুড়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক উত্তরের দর্পণ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক আব্দুস সালাম বাবুও।
রেজাউল করিম তানসেন বলেন, এর আগে আমি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ১৪ দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এমপি হয়েছিলাম। তাই এবারও আমি আশাবাদী।
কাহালু পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হেলালউদ্দিন কবিরাজ বলেন, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে যাচ্ছি। মতবিনিময় করছি সবার সঙ্গে।
ঠাকুরগাঁওয়ে সক্রিয় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, শূন্য হওয়া ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে এরই মধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ইমদাদুল হক এবং সংসদীয় নারী সংরক্ষিত-১ আসনের সাবেক সদস্য সেলিনা জাহান লিটা। এ ছাড়া পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক বিপ্লব ও রানীশংকৈল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সহিদুল হকও আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী। এ দিকে ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য ইয়াসিন আলী এবং জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য ও দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য হাফিজ উদ্দীন আহমেদও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।
ইমদাদুল হক বলেন, ‘দীর্ঘদিন রাজনীতি করছি। আমি দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করে চলেছি। আমি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি।’
সেলিনা জাহান লিটা বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। আমার বাবা ছিলেন এই আসনের প্রথম সংসদ সদস্য। এ আসনের নারী ভোটারসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আমার যোগাযোগ রয়েছে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তৎপর বিভিন্ন দল
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, শূন্য হওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি কয়েকটি দলের প্রার্থী সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। এই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মঈন উদ্দিন মঈন, জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক রেজাউল ইসলাম ভূইয়াসহ বেশ কয়েকজন।
মঈন উদ্দিন মঈন বলেন, ‘১৯৭৩ সালের পর এখানে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নেই। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আবেদন যেন এখানে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়। এতে পিছিয়ে পড়া এলাকা এগিয়ে যাবে।’
ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম পুনরায় বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় রবিবার (৩১ মে) এক বার্তার মাধ্যমে জানিয়েছে যে, জুন মাসের জন্য পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা হারে বাড়ানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, বিশ্ববাজারের অস্থিতিশীলতার সাথে অভ্যন্তরীণ বাজার সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতেই সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, "বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস/বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তাপর্যায়ে বিক্রয়মূল্য ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা,পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকায় পুনর্নির্ধারণ করা হলো।"
নতুন এই দর আগামীকাল ১ জুন থেকে সারা দেশে কার্যকর হতে যাচ্ছে। মে মাসে প্রতি লিটার পেট্রোল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকায় নির্ধারিত থাকলেও ডিজেলের মূল্য ১১৫ টাকায় অপরিবর্তিত ছিল। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সরকার এই পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উল্লেখ্য যে, প্রতি মাসেই বিশ্ববাজারের দরের ওপর ভিত্তি করে দেশীয় বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করার নিয়মিত চর্চা অনুসরণ করে আসছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। এর ফলে পেট্রোল ও অকটেনের ব্যবহারকারীদের ওপর ব্যয়ের বাড়তি চাপ তৈরি হলো।
আদ-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল এবং বেইলি রোডের মনোয়ারা হাসপাতালে যৌথ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। রবিবার (৩১ মে) বিকালে ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়।
অভিযানকালে মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ক্যান্টিনের ফ্রিজে লেবেলবিহীন ও জমাটবদ্ধ বাসি মিষ্টি রাখা, রান্নাঘরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, বিভিন্ন ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের অভাব এবং হাসপাতালের রেফ্রিজারেটরে তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র না থাকাসহ বিভিন্ন অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়। এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইনে ১ লাখ টাকা এবং নিরাপদ খাদ্য আইনে ২ লাখ টাকা—সর্বমোট ৩ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে দণ্ড আরোপ করা হয় এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
জরিমানার পাশাপাশি হাসপাতালের সামগ্রিক পরিবেশের উন্নয়ন, পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা রাখা, রেফ্রিজারেটরে তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র স্থাপন, ক্যান্টিনের মানোন্নয়ন এবং বেকারি স্থানান্তরের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কঠোরভাবে সতর্ক করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হয়।
এছাড়া বেইলি রোডের মনোয়ারা হাসপাতালেও মোবাইল কোর্টের অভিযান পরিচালিত হয়। এসময় হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দেওয়া হয়।
অভিযান পরিচালনাকালে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. মো. মাহমুদুর রহমান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-১-এর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফারিয়া ফয়েজ, নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মো. আসলাম ভূঁইয়া, রমনা থানার পুলিশ সদস্যরা এবং সিটি করপোরেশনের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত থেকে সহযোগিতা করেন।
জনস্বার্থে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এই যৌথ ও নিয়মিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নির্দেশিত পথে দেশ পরিচালনা এবং নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সফল সরকার গঠন করাই তার প্রতি পরিপূর্ণ সম্মান প্রদর্শনের একমাত্র পথ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রদর্শিত পথে দেশ পরিচালনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
আজ রবিবার (৩১ মে) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি বর্তমান সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে বলেন, "জিয়াউর রহমান যেভাবে দেশ গঠন করতে চেয়েছিলেন, বর্তমান সরকার সেভাবেই চলার চেষ্টা করছে। মানুষ তাদের কাছেই প্রত্যাশা করে, যাদের কাছে কিছু পেতে পারে।" ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সমৃদ্ধির স্বার্থে আলস্য ত্যাগের পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, "আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। এই সময় হেসেখেলে কাটিয়ে দিলে দেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।"
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রসারে শিক্ষা ও তথ্য মন্ত্রণালয়কে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "দেশে সামাজিক, ধর্মীয় ও পারিবারিক মূল্যবোধের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। বিষয়গুলো কিভাবে শিশুদের মাঝে তৈরি করা যায়, তা নিয়ে তথ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।" জিয়ার সততা ও কর্মনিষ্ঠার ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও উল্লেখ করেন, "জিয়াউর রহমান কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এমন স্থানে নিয়ে গিয়েছেন, তাতে মানুষ জিয়া ও বাংলাদেশকে এক রকম মনে করত। কঠোর পরিশ্রম, সততার মাধ্যমে দেশে অনেক পরিবর্তন এনেছিলেন তিনি। জিয়াউর রহমানের সেই পথ অনুসরণ করতে হবে।"
এছাড়া দলের নেতা-কর্মীদের কঠোর পরিশ্রম ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, "নির্বাচনের আগের মতো পরিশ্রম জারি রাখতে হবে। ইশতেহার বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারকে সফল করতে হবে।" মূলত জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন দর্শনের মাধ্যমেই বর্তমান প্রতিকূলতা মোকাবিলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
চাঞ্চল্যকর রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলার বিচারিক কার্যক্রম আগামীকাল পহেলা জুন থেকে শুরু হচ্ছে। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান এই মামলায় আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দৃঢ় আশা ব্যক্ত করেছেন। আজ রোববার সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা পরিষদের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালত যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন বলে সরকার বিশ্বাস করে।
মামলার অগ্রগতি নিয়ে আইনমন্ত্রী জানান যে, সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে অর্থাৎ মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই এই মামলার চার্জশিট প্রদান করা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে সঠিক সময়ে চার্জশিট দাখিল করার মাধ্যমে রাষ্ট্রপক্ষ তাদের প্রাথমিক দায়িত্ব পালন করেছে। আদালত খোলার প্রথম দিনেই মামলাটি শুনানির তালিকায় রাখা হয়েছে এবং এর গুরুত্ব বিবেচনা করে বিচারিক কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে সর্বোচ্চ দণ্ড প্রার্থনা করবে।
সংবিধান সংশোধন কমিটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন যে, ১৭ সদস্যের প্রস্তাবিত কমিটির জন্য বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো নাম পাওয়া যায়নি। সরকার ইতিমধ্যে নিজেদের পক্ষ থেকে সাতজন এবং অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে পাঁচজন সদস্যের তালিকা চূড়ান্ত করেছে। বিরোধী দলের জন্য নির্ধারিত পাঁচটি নামের জন্য সরকার বর্তমানে অপেক্ষা করছে। বিরোধী দলের মতামত ও নাম পাওয়া গেলেই জুলাই সনদের ধারাবাহিকতায় সংবিধান সংশোধনের মূল কাজ পুরোদমে শুরু হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আইনমন্ত্রী আরও জানান যে, মানবাধিকার আইন এবং গুম কমিশন আইন কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকার ইতিমধ্যে প্রথম পর্যায়ের পরামর্শ সভা সম্পন্ন করেছে। সেখান থেকে আসা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ ও মতামত এখন গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বাস্তবতার নিরিখে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই আইনগুলোকে জনস্বার্থে কার্যকর করার লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চলছে। প্রশাসনিক ও আইনি সংস্কারের মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন সুসংহত করতে সরকার একটির পর একটি ধাপ অতিক্রম করছে বলে তিনি দাবি করেন।
পবিত্র হজ পালন শেষে বাংলাদেশিদের ফিরতি যাত্রা শুরু হয়েছে। গত ৩০ মে মধ্যরাত ৩টা পর্যন্ত মোট ১৫টি ফিরতি ফ্লাইটে ৬ হাজার ১৭৫ জন হাজি নিরাপদে দেশে পৌঁছেছেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টাল ও আইটি হেল্প ডেস্কের প্রকাশিত সর্বশেষ বুলেটিনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এবারের হজ মৌসুমে অংশগ্রহণকারী হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনার ৪১৬ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনার ৫ হাজার ৭৫৯ জন ইতিমধ্যে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন।
ফিরতি ফ্লাইট ব্যবস্থাপনায় তিনটি এয়ারলাইন্স সরাসরি অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তিনটি ফ্লাইটে ১ হাজার ১৮৪ জন এবং সৌদি এয়ারলাইন্স চারটি ফ্লাইটে ১ হাজার ৬৯১ জন হাজি পরিবহন করেছে। অন্যদিকে, ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স সবচেয়ে বেশি আটটি ফ্লাইটে ৩ হাজার ৩০০ জন হাজিকে ঢাকায় পৌঁছে দিয়েছে। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এই ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
আনন্দের এই প্রত্যাবর্তনের মধ্যেও কিছু শোক সংবাদ পাওয়া গেছে। সৌদি আরবে এ পর্যন্ত মোট ৩৭ জন বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৪ জন পুরুষ ও ১৩ জন নারী। মৃতদের মধ্যে ২৭ জন মক্কায় এবং ১০ জন মদিনায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। এ ছাড়া অসুস্থ হয়ে পড়ার কারণে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ১৭৬ জন হাজি চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছেন এবং বর্তমানে ২৬ জন হাজি সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাজিদের নির্বিঘ্নে দেশে ফেরা নিশ্চিত করতে মক্কায় বাংলাদেশ মিশনের কনফারেন্স কক্ষে একটি বিশেষ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় হাজিদের আবাসন, চিকিৎসা এবং নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। প্রশাসনিক দল, চিকিৎসক এবং আইটি দলের প্রতিনিধিরা এই সভায় উপস্থিত থেকে পরবর্তী কার্যক্রমের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালনের কোটা নির্ধারিত ছিল। হজযাত্রীদের সৌদি আরবগামী ফ্লাইট গত ১৮ এপ্রিল শুরু হয়ে ২১ মে শেষ হয়েছিল। দীর্ঘ এক মাসের সফর শেষে গত ৩০ মে থেকে পুনরায় হাজিরা ফিরতে শুরু করেছেন। হাজিদের ফিরে আসার প্রক্রিয়া যেন কোনো ধরনের বিড়ম্বনা ছাড়াই সম্পন্ন হয়, সে জন্য ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও বিশেষ নজরদারি ও সহায়তা কেন্দ্র চালু রাখা হয়েছে।
বয়সের ভারে ন্যুব্জ এবং দৃষ্টিহীন হয়েও দীর্ঘদিনের এক স্বপ্ন লালন করছিলেন নূরজাহান বেগম। তাঁর প্রবল ইচ্ছা ছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান তারেক রহমানকে একবারের জন্য হলেও খুব কাছ থেকে দেখার এবং তাঁর সঙ্গে কথা বলার। গতকাল শনিবার রাজধানীর শাহজাহানপুরে একটি জনকল্যাণমূলক অনুষ্ঠানে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তটি নূরজাহান বেগমের জীবনে আসে, যেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সান্নিধ্য পান এবং সরাসরি কথা বলার সুযোগ লাভ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতার ঘোষক ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শাহজাহানপুরে দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এই আয়োজনের এক পর্যায়ে নূরজাহান বেগম প্রধানমন্ত্রীর সান্নিধ্যে আসেন। যদিও তিনি চোখে দেখতে পান না, তবে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি অনুভব করে তিনি অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেওয়ায় তিনি এক অভাবনীয় মানসিক শান্তি অনুভব করেন।
সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বৃদ্ধার সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কথা বলেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে নূরজাহান বেগম তাঁর জীবনের এক বড় ইচ্ছা পূরণ হয়েছে বলে জানান। সেই আবেগঘন মুহূর্তে তিনি প্রধানমন্ত্রীর মাথায় হাত রেখে এবং হাত ধরে প্রাণভরে দোয়া করেন। এমন মানবিক দৃশ্য দেখে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাঝে এক মর্মস্পর্শী পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
নূরজাহান বেগমের ব্যক্তিগত জীবন অত্যন্ত নিঃসঙ্গ ও কষ্টসাধ্য। তাঁর গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের বিক্রমপুর এলাকায়। বর্তমানে বৃদ্ধ বয়সে তাঁর আপন বলতে কেউ নেই; স্বামী ও সন্তান কাউকেই বেঁচে নেই তাঁর। চরম দারিদ্র্য ও দৃষ্টিহীনতা সত্ত্বেও জিয়া পরিবারের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে দেখার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতেন। অবশেষে এই মহতী আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাঁর সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নূরজাহান বেগমের মতো সাধারণ মানুষের এই গভীর ভালোবাসা প্রধানমন্ত্রীকে জনসেবায় আরও বেশি অনুপ্রাণিত করে। একজন দৃষ্টিহীন নাগরিকের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করতে পেরে প্রধানমন্ত্রী নিজেও ব্যক্তিগতভাবে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। এই সাক্ষাৎ কেবল একজন সাধারণ মানুষের ইচ্ছা পূরণ নয়, বরং নেতৃত্বের সঙ্গে সাধারণ জনগণের নিবিড় আত্মিক সম্পর্কের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য বহুল আলোচিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন এই বেতন কাঠামো কার্যকর হতে পারে বলে জানা গেছে। এই পদক্ষেপে কেবল মূল বেতনই নয়, বরং বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। নতুন পে-স্কেল নিয়ে ইতিমধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে, যা দীর্ঘ এক দশকের মধ্যে দেশের প্রশাসনিক কাঠামোয় সবচেয়ে বড় আর্থিক সংস্কার হতে পারে।
নবম জাতীয় পে-কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। মূলত ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ কর্মচারীদের জীবনমান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ায় এই বিশেষ সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাবনাটি বাস্তবায়িত হলে ১ম গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বিদ্যমান প্রতিটি ধাপে বেতন সমানুপাতিক হারে বৃদ্ধি পাবে, যা সরকারি সেবায় নিয়োজিত জনবলের আর্থিক সক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে।
নতুন এই বেতন কাঠামোতেও বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিটি গ্রেডের বেতন সীমা পুনর্গঠন করার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০তম বা সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং ১ম বা সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ বেতন বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে মেধাবীদের আরও বেশি আকৃষ্ট করার পাশাপাশি দুর্নীতিরোধ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
নতুন পে-স্কেলে আর্থিক নিরাপত্তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি অবসরে যাওয়া কর্মীদের পেনশন এবং বর্তমানে কর্মরতদের বিভিন্ন ভাতার হার পুনর্নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। চাকরিজীবীদের জন্য আধুনিক ও উন্নত জীবনমান নিশ্চিত করতে বেতনের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আর্থিক সুবিধাদিও এমনভাবে সাজানো হচ্ছে যেন তা সমসাময়িক অর্থনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। এর ফলে সরকারি খাতের ব্যয় বাড়লেও এটি সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিশেষে বলা যায়, নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে চলেছে। তবে এই বিশাল পরিবর্তন কার্যকর করার আগে সরকারের উচ্চপর্যায়ের চূড়ান্ত অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন সবাই। বাজেট বরাদ্দের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে বা একযোগে এই বেতন কাঠামো কার্যকর হতে পারে। প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার পরেই এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের পূর্ণাঙ্গ সুফল ভোগ করতে পারবেন দেশের লক্ষ লক্ষ সরকারি চাকরিজীবী।
ঈদুল আজহার দীর্ঘ অবকাশ কাটিয়ে জীবিকার তাগিদে আবারও রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ। তবে বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতার তুলনায় এবারের ফিরতি যাত্রায় যাত্রীচাপ অনেকটা কম পরিলক্ষিত হচ্ছে। রবিবার (৩১ মে) সকাল থেকেই গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালী বাস টার্মিনালসহ কমলাপুর রেলস্টেশন ও সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে, তবে কোথাও যানজট বা অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে ভোগান্তির সৃষ্টি হয়নি। পরিবহন ব্যবস্থা ছিল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং যাত্রীদের নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা গেছে।
দক্ষিণাঞ্চল থেকে লঞ্চে ফেরা যাত্রীদের মতে, এবারের নদীপথের যাত্রা ছিল অত্যন্ত আরামদায়ক ও সময়োপযোগী। বাসের ক্ষেত্রেও ময়মনসিংহ, জামালপুর কিংবা গাজীপুর থেকে আসা যাত্রীদের তেমন কোনো ঝক্কি পোহাতে হয়নি এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো অভিযোগও ওঠেনি। এক অদ্ভুত চিত্র দেখা গেছে রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে; একদিকে যেমন মানুষ ঢাকায় ফিরছেন, অন্যদিকে ঈদের সময় যেতে না পারা অনেকে এখন গ্রামের পথে রওনা হয়েছেন। এই দ্বিমুখী যাত্রার ফলে পরিবহন কেন্দ্রগুলোতে ব্যস্ততা থাকলেও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘ সাত দিনের ছুটি পাওয়ায় যাত্রীরা ধাপে ধাপে ফিরছেন, যার ফলে এককালীন চাপ সৃষ্টি হয়নি। ২৫ মে থেকে শুরু হওয়া এই ছুটি আজ ৩১ মে শেষ হচ্ছে এবং আগামীকাল থেকে সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক পুরোদমে চালু হবে। এর ফলে আজ বিকেল কিংবা সন্ধ্যার দিকে রাজধানীমুখী মানুষের ভিড় কিছুটা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, ফাঁকা রাস্তা ও পর্যাপ্ত যানবাহনের উপস্থিতিতে এবারের ঢাকা ফেরা ছিল অনেকটাই স্বস্তিদায়ক।
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে গঠিত ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার শুরু থেকেই নানামুখী বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য সমালোচিত হয়েছে, এখনো হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক মহল এবং সুশীল সমাজে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হয়ে দাঁড়িয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের তথাকথিত কিচেন কেবিনেট বা অনানুষ্ঠানিক ক্ষমতা বলয়। কেউ কেউ একে সরকারের ভেতর আরেক সরকার হিসেবেও আখ্যা দিচ্ছেন।
তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের একটি মন্তব্য ঘিরে দেশের মূলধারার সংবাদমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো সরগরম।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে সাত সদস্যের একটি কিচেন কেবিনেট ছিল, যাদের মতামতের ভিত্তিতেই সরকার পরিচালিত হতো। সেখানে উপদেষ্টা পরিষদের অন্যদের স্থান ছিল না। তারা প্রতি মঙ্গলবার বসে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে যা হয়েছে সেখানে ‘ডিপ স্টেটে’র ভূমিকা ছিল।
তৌহিদ হোসেন আরও বলেন, তিনি তিন দফা পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন; কারণ তার মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন উপদেষ্টার প্রভাব ছিল। এবারই প্রথম নয়। এর আগেও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন অন্তর্বর্তী সরকারের এক উপদেষ্টার দেওয়া পোস্টের বিরোধিতা করে সেই উপদেষ্টার দেওয়া অসত্য ও ভিত্তিহীন তথ্যের বিপরীতে প্রকৃত সত্য প্রকাশ করে দিয়েছিলেন। বহুল আলোচিত ছাত্র উপদেষ্টা ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগ আমলে সম্পাদিত কোন কোন চুক্তি অন্তর্বর্তী সরকার বাতিল করেছে তার একটি তালিকা দেন।
তৌহিদ হোসেন সেই বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়ে দেন, তালিকায় যেসব চুক্তির কথা বলা হয়েছে সেগুলো স্বাক্ষরই হয়নি। সেই সময়ই বোঝা গিয়েছিল, ইউনূস সরকারের সঙ্গে তার বোঝাপড়া হয়তো ঠিকঠাক নেই। সে কারণেই কি না, তাকে প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা বলতে দেখা যেত না।
কিচেন কেবিনেট ও ডিপ স্টেট নিয়ে আলোচনা এটাই প্রথম নয়। এর আগে ইউনূস সরকারের এক উপদেষ্টা বলেছিলেন, ডিপ স্টেট তাদের দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় রাখতে চেয়েছিল। তখনও সরকারের ভেতর আরেক সরকারের বিষয়টি আলোচিত হয়।
কিচেন কেবিনেট বিষয়টি বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। সরকারি প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে রাজনৈতিক, এমনকি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও দেখা যায় কিচেন কেবিনেট। অর্থাৎ একটি প্রতিষ্ঠান সেটি রাজনৈতিক হোক কিংবা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হোক—সেখানে সবাই সমান গুরুত্ব এবং সম্মান পেয়ে থাকেন না। দু-চার জন মানুষ পুরো প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করেন। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যদি সৎ এবং নিবেদিতপ্রাণ হন, তাহলে প্রতিষ্ঠান ভালো চলে; প্রতিষ্ঠান এগিয়ে যায়। অসুবিধা হলো, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যদি অন্যথা করেন, তাহলে প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়; যা বাংলাদেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দেখা যায়। বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠান নির্মাণের জন্য এটিই, অর্থাৎ কিচেন কেবিনেটই বড় সমস্যা।
অভিজাততন্ত্র অথবা অলিগার্কির সঙ্গে গণতন্ত্রের পার্থক্য এখানেই। গণতন্ত্রে সকলের অংশগ্রহণ থাকে, অন্য ব্যবস্থায় থাকে কতিপয়ের নিয়ন্ত্রণ। অংশীদার বাড়লে প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা যায় এবং সেখানে স্বাভাবিকভাবেই ভারসাম্য (চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স) চলে আসে। কারও পক্ষে একা সেটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না, কতিপয় সেখানে আধিপত্য বিস্তার করতে পারে না।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্ষেত্রে এই আলোচনাটি সামনে আসার মূল কারণ- ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর গঠিত সরকারের এই কাঠামোর ক্ষমতায় ছিল বহুমাত্রিকতা। একদিকে ছিলেন অভিজ্ঞ আমলা, অর্থনীতিবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা, যারা দাপ্তরিকভাবে উপদেষ্টা পদের দায়িত্বে ছিলেন; অন্যদিকে ছিলেন আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র প্রতিনিধি এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীরা, যাদের অনেকেই দাপ্তরিক কাঠামোর বাইরে থেকেও ছিলেন অত্যন্ত প্রভাবশালী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক দলগুলোর একাংশের মতে, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো প্রথাগত আমলাতান্ত্রিক নিয়মে বা পুরো উপদেষ্টা পরিষদের সম্মিলিত আলোচনার ভিত্তিতে হয়নি; বরং ইউনূসের কার্যালয়কেন্দ্রিক একটি ছোট গোষ্ঠী এই সিদ্ধান্তগুলো নিয়ন্ত্রণ করেছে।
নোবেলজয়ী ইউনূস অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশের মানুষ আশায় বুক বেঁধেছিল; অতি সম্মানিত এই ব্যক্তি হয়তো বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে সংশোধন করে সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবেন। কিন্তু তার আমলেও প্রতিষ্ঠিত হলো কিচেন কেবিনেট। অর্থাৎ তিনিও গতানুগতিকতার বাইরে যেতে পারলেন না। এ যেন ‘দশচক্রে ভগবান ভূত’।
হয়তো এ কারণেই নির্বাচনের তিন দিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একপেশে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে ইউনূস সরকার। এ ব্যাপারে তৌহিদ হোসেন বলেন, এই চুক্তির ব্যাপারে তার মন্ত্রণালয়ের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।
এই বাণিজ্য চুক্তি সংশোধন ছাড়া বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের স্বাধীন সত্তা থাকবে না। চুক্তিটি পড়লে বোঝা যাবে যে, এটি কোনো একটি জায়গা থেকে নাজিল হয়েছে এবং এই কিচেন কেবিনেটের সদস্যরা সেটি বাস্তবায়ন করেছেন। বাংলাদেশের প্রতি সামান্যতম ভালোবাসা থাকলে এমন একতরফা চুক্তি কেউ করতে পারে না।
বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের শাসনামলে যে অব্যবস্থা, নৈরাজ্য, মব সন্ত্রাসসহ দেশের স্বার্থবিরোধী যে অপকর্মগুলো হয়েছে, সেগুলো কিছু কতিপয় ব্যক্তির নেওয়া সিদ্ধান্ত থেকেই হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়। ব্যাপক সংস্কারের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রকে সুরক্ষা ও সুসংহত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ইউনূস। কিন্তু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বিপরীতে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কিচেন কেবিনেট, যার মাধ্যমে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো আসত এবং বাস্তবায়িত হতো। তার পুরো উপদেষ্টা পরিষদের পরিবর্তে হাতেগোনা কিছু মানুষ সিদ্ধান্ত নিতেন, যা বব উডওয়ার্ডের ভাষায় পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক ব্যবস্থা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যেকোনো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল শক্তি হলো তার সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা এবং স্বচ্ছতা। ইউনূসের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের প্রভাব প্রাতিষ্ঠানিক কেবিনেটের চেয়েও দৃশ্যমানভাবে বড় হয়ে উঠছিল, যা, সরকারের ভেতরেই এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব বা ফ্রাস্ট্রেশন তৈরি করে।
গত ২৫ মে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে এ নিয়ে কথা বলেন সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে বড় সিদ্ধান্তগুলো কেবিনেটে হতো না, বরং কেবিনেটের বাইরে আলোচনা হতো। সব সরকারেরই একটি ‘কিচেন কেবিনেট’ থাকে, তবে সেখানে কারা ছিলেন তা তিনি জানেন না।
তিনি আরও জানান, কিচেন কেবিনেটের একটা বৈঠকে তাকে যেতে হয়েছিল, যমুনাতে। পরে জানতে পারেন প্রতি মঙ্গলবার তারা বসেন। সিদ্ধান্ত নেয় কেউ কেউ, এ ধরনের কথাবার্তা শোনা যেতো। আমার কানেও আসতো। কিন্তু এর বাইরে আসলে আমার জানা ছিল না যে, এ রকম একেবারে একটা গ্রুপ আছে, যারা নিয়মিত বসে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য।
আলোচনায় কারা, আসিফের ব্যাখ্যা: দুই সাবেক উপদেষ্টার পর অনেকে এ নিয়ে আঙুল তোলেন প্রভাবশালী আরও তিন উপদেষ্টার দিকে। তারা হলেন আসিফ নজরুল, রিজওয়ানা হাসান ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
এ বিষয়ে সম্প্রতি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তৎকালীন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দাবি করেন, কিচেন কেবিনেটের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে নিজের সংশ্লিষ্টতাও অস্বীকার করেন আসিফ।
তদন্তের দাবি রাজনীতিবিদদের: এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, যাদের বিরুদ্ধে কিচেন কেবিনেটে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে, তাদের বিষয়ে তদন্ত করা যেতে পারে।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কিচেন কেবিনেট নিয়ে কতিপয় সাবেক উপদেষ্টার মন্তব্য ‘ঠাকুর ঘরে কেরে আমি কলা খাই না।’ তারা একে অপরে দায়মুক্তি নিতে চান। আমার মনে হয়, কয়েকদিন পর মুহাম্মদ ইউনূসও এ নিয়ে বলবেন তিনি কিছু জানেন না।
আমরা মনে করি, এত কিছুর দরকার নেই। বরং সে সরকারের কে কী করেছেন তা আলাদা আলাদা করে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হোক। তাহলেই বোঝা যাবে, আসলে দেশবিরোধী চুক্তি বা লুটপাটের সঙ্গে কারা সম্পৃক্ত ছিলেন।
এ বিষয়ে সাংবাদিক, গবেষক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক কামরান রেজা চৌধুরী তার এক নিবন্ধে বলেছেন,
গণতন্ত্রপ্রিয় হিসেবে এদেশের মানুষ আশা করেছিল, মুহাম্মদ ইউনূস হয়তো বাংলাদেশের অতীতের সকল বাজে রাজনৈতিক নজির থেকে দেশকে বের করে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের একটি নবসূচনা করবেন। কিন্তু তা হয়নি। কেন হয়নি এ ব্যাপারে তাদের সমর্থকদের বিভিন্ন ব্যাখ্যা থাকতে পারে। যত ব্যাখ্যাই আসুক না কেন, দেশের মানুষ যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন বিপজ্জনক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি মেনে নেবে না সেটি নিশ্চিত। এর জন্য দেশের কোটি কোটি মানুষকে খেসারত দিতে হবে। আর এই খেসারতের জন্য বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে যতটা দুষবে, তার চাইতে অনেক বেশি দুষবে মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার সহযোগী ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট (যদি থাকে) রাজনৈতিক নেতাদের। এই অভিযোগ থেকে মুহাম্মদ ইউনূস ও তার কিচেন কেবিনেটের সদস্যরা মাফ পাবেন বলে মনে হয় না।
তার সমর্থকদের অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলছেন, আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বাংলাদেশের কোনো দলই মুহাম্মদ ইউনূসের কিছু করতে পারবে না।
কথা সত্য, আইনিভাবে হয়তো কিছুই করতে পারবে না। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না অতীত ইতিহাস। মীর জাফরকেও দেশের মানুষ আইনিভাবে বিচার করতে পারেনি। কিন্তু তার বিচার হয়েছে; জনগণের আদালতে। দুই বাংলায় মীর বংশের মানুষেরা কখনও তাদের সন্তানদের নাম জাফর রাখেন না। কৃতকর্মের জন্য মীর জাফর পেয়েছেন তার প্রাপ্য স্থান।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের দুস্থ ও সাধারণ মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (৩০ মে) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অসহায়দের মাঝে বস্ত্র ও শুকনা খাবার বিতরণের সময় তিনি এই আহ্বান জানান।
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, "আসুন আমরা শপথ গ্রহণ করি, আমাদের যার যার অবস্থান থেকে আমরা চেষ্টা করব, যাতে সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে পারি। আজকের এই দিনে এটিই হোক আমাদের প্রত্যাশা, এটিই হোক আমাদের সাফল্য।"
জিয়াউর রহমানের স্মৃতি ও আদর্শের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, "আজকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী। আপনারা যারা বহুদিন ধরে দলের সাথে জড়িত আছেন, আপনারা জানেন, শহীদ জিয়ার শাহাদাৎ হওয়ার পরে থেকে আমরা চেষ্টা করি এই দিনটিতে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। এই দিনে বিভিন্ন জায়গায় অসহায় মানুষ যারা আছেন, অসুবিধায় যারা আছেন, আমাদের যতটুকু সম্ভব, তাদের জন্য আমরা চেষ্টা করেছি।" তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, "আপনাদের কাছে আমার আহ্বান থাকবে, দলের পক্ষ থেকে শুধু নয়, আপনাদের যাদের পক্ষে সম্ভব, ব্যক্তিগত উদ্যোগেও চেষ্টা করবেন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য, এটাই শহীদ জিয়ার শিক্ষা।"
এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তরের আহ্বায়কবৃন্দ, দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এই মানবিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত হওয়ার মাধ্যমেই নেতার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
শহীদ জিয়ার স্মৃতি স্মরণে শনিবার (৩০ মে) ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ১৯৭১ সালের মার্চে বেতারে প্রচার হওয়া তাঁর সেই তেজস্বী ভাষণ তৎকালীন জনসাধারণের হৃদয়ে দেশপ্রেমের জোয়ার বইয়ে দিয়েছিল।
সেই বেতার বার্তার কথা স্মরণ করে হাইকমিশন বলেছে, "আজ বাংলাদেশের জনগণ যখন জাতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বীর উত্তম-এর স্মরণে সমবেত হয়েছে, তখন আমরা ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে তার কণ্ঠে ধ্বনিত সেই বিখ্যাত বেতার ভাষণের কথা স্মরণ করছি– যা জনগণকে উদ্দীপ্ত করেছিল, নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের পথে তাদের অনুপ্রাণিত করেছিল এবং জাতীয় মুক্তির দিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।"
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, "আজও, তখনকার মতোই, ভারত বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অভিন্ন আত্মত্যাগের এক গৌরবগাঁথা এবং উভয় দেশের জনগণের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির অভিন্ন যাত্রায় পাশে রয়েছে।" ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকীর এই দিনে জিয়াউর রহমানের কালজয়ী সেই ভাষণের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে ভারতীয় দূতাবাস।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) টাওয়ার এবং অত্যাধুনিক রাডার সিস্টেম চালুর পর বিদেশি উড়োজাহাজের ফ্লাইং ওভার চার্জ আদায়ে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। চলতি ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি থেকে মার্চ) এ খাত থেকে সরকারের আয় হয়েছে ১৯৯ কোটি ২৮ লাখ ৭৩ হাজার ৮১০ টাকা। এটি গত দুই বছরের মধ্যে একই সময়ে আদায়কৃত সর্বোচ্চ রাজস্ব। মূলত আকাশসীমা পর্যবেক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত দুই বছরে ফ্লাইং ওভার চার্জ থেকে রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালের প্রথম তিন মাসে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ১৫৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১৮৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকায়। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত দুই বছরের ব্যবধানে একই সময়ে রাজস্ব আদায় বেড়েছে প্রায় ৪২ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই টাওয়ারটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই এর ইতিবাচক প্রভাব জাতীয় অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে।
নতুন এই এটিসি টাওয়ারে সংযুক্ত রাডার সিস্টেমের সক্ষমতা আগের তুলনায় অনেক বেশি। এতে থাকা এস-ব্যান্ড প্রাইমারি রাডার ৮০ নটিক্যাল মাইল এবং মোড-এস সেকেন্ডারি রাডার ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত দেশের আকাশসীমা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারে। এর ফলে বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারকারী প্রতিটি উড়োজাহাজকে শনাক্ত করা এখন অনেক সহজ হয়েছে। বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় গত ২০ এপ্রিল এই আধুনিক ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়, যা দেশের এভিয়েশন খাতের জন্য একটি বড় মাইলফলক।
শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ জানিয়েছেন, আগে প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতার কারণে বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন বাংলাদেশের আকাশসীমার একটি বড় অংশ নজরদারির বাইরে থাকত। এর সুযোগ নিয়ে অনেক বিদেশি উড়োজাহাজ আমাদের আকাশসীমা ব্যবহার করলেও তাদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফি আদায় করা সম্ভব হতো না। নতুন ও আধুনিক রাডার সিস্টেম স্থাপনের ফলে এখন সেই ‘ব্লাইন্ড স্পট’ বা নজরদারিহীন এলাকাগুলো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এখন কোনো ফাঁকফোকর ছাড়াই সব উড্ডয়নকালীন চার্জ যথাযথভাবে আদায় করা হচ্ছে।
ফ্রান্সের বিখ্যাত থ্যালেস কোম্পানির কারিগরি সহায়তায় সরকারি পর্যায়ে (জি-টু-জি) এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে। ৯৪২ কোটি টাকা ব্যয়ের এই বিশালাকার প্রকল্পের পুরো অর্থই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএবি) নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হয়েছে। আধুনিক এই প্রযুক্তির সংযোজন কেবল রাজস্বই বাড়াবে না, বরং বাংলাদেশের আকাশসীমার নিরাপত্তা আরও সুসংহত করবে এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে দেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার দুপুরে রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি নিজ হাতে এসব বস্ত্র তুলে দেন। মূলত প্রয়াত নেতার স্মৃতি ও আদর্শকে স্মরণ করে সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে মাসব্যাপী সমাজসেবামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই আয়োজন করা হয়।
বস্ত্র বিতরণের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী এদিন অসহায় মানুষের জন্য খাদ্য ও বিভিন্ন উপহারসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে সুবিধাবঞ্চিতদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদানের একটি বিশেষ প্রকল্পেরও যাত্রা শুরু হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরামর্শ দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেন এবং তাদের অভাব-অভিযোগের কথা শোনেন।
এই মানবিক কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরকারের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন উল্লেখযোগ্য। এছাড়া সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ারুজ্জামানসহ স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কর্মসূচিতে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন।
জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার দিনব্যাপী ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের মোট ১৬টি পৃথক স্থানে আয়োজিত বিভিন্ন মানবিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। কর্মসূচির শুরুতেই সকাল সোয়া ১১টার দিকে তিনি দলের জ্যেষ্ঠ নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। সেখানে তিনি প্রয়াত নেতার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ প্রার্থনা করেন।
পরিশেষে বলা যায়, দলের প্রতিষ্ঠাতার শাহাদাৎবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরের মতো এবারও বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনগুলো ব্যাপক জনসেবামূলক কাজ পরিচালনা করছে। শুধু রাজধানী নয়, সারা দেশেই কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে দুস্থদের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে জিয়াউর রহমানের জনকল্যাণকর দর্শনকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই কার্যক্রমগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।