সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
২৮ আষাঢ় ১৪৩৩

হঠাৎ সুযোগে এমপি হতে দৌড়ঝাঁপ

আপডেটেড
১৪ ডিসেম্বর, ২০২২ ১২:৫৩
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ১৪ ডিসেম্বর, ২০২২ ১২:৫৩

আগাম আভাস ছাড়াই বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশে দলটির সাত সংসদ সদস্য (এমপি) পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরদিন তাদের মধ্যে ছয়জন জাতীয় সংসদে গিয়ে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। হঠাৎ তৈরি হওয়া এই সুযোগে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। এমনকি একটি আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য এখনো পদত্যাগ না করলেও সেখানেও তৎপরতা দেখা গেছে।

বিএনপির পদত্যাগ করা ছয় সংসদ সদস্য হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের মো. আমিনুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের আবদুস সাত্তার, বগুড়া-৪ আসনের মো. মোশাররফ হোসেন, বগুড়া–৬ আসনের জি এম সিরাজ, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের জাহিদুর রহমান এবং সংরক্ষিত আসনের রুমিন ফারহানা। এই আসনগুলো শূন্য ঘোষণা করে গত রোববার গ্যাজেট প্রকাশ করেছে সংসদ সচিবালয়। শূন্য হওয়া এসব আসনে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য দলটির যুগ্ম মহাসচিব মো. হারুনুর রশীদ বিদেশে থাকায় তিনি এখনো পদত্যাগ করেননি। দেশে ফিরে তারও পদত্যাগ করার কথা রয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আ.লীগে চাঙাভাব

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, শূন্য হওয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল, গোমস্তাপুর, ভোলাহাট) আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা এরই মধ্যে তৎপর হয়ে উঠেছেন। বিদেশ থেকে ফিরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদেরও পদত্যাগ করার কথা রয়েছে। তবে তিনি পদত্যাগ করার আগেই উপনির্বাচন মাথায় রেখে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। অবশ্য এই দুই আসনের উপনির্বাচন নিয়ে অন্য দলগুলোর আগ্রহ তেমন নেই।

আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠেয় এ উপনির্বাচন সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। এ উপনির্বাচনে অন্য কোনো দল অংশ নেবে না। আওয়ামী লীগের প্রার্থীই বিজয়ী হয়ে আসবেন।

সেখানে মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের বিলবোর্ড টাঙানো শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে কর্মী-সমর্থকদের প্রচার।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বেশি আলোচনায় আছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের দৌড়ে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য মু জিয়াউর রহমান, গোমস্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা, যুবলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল আলম সৈকত জোয়ার্দার, ভোলাহাট উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ, রাজশাহী জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার, আওয়ামী লীগ নেতা খুরশিদ আলম বাচ্চু, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা কামরুল হাসান লিংকনসহ বেশ কয়েকজন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ বলেন, তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘আমি এর আগে এমপি ছিলাম। গত চার বছরে তেমন কিছুই হয়নি। অনেক উন্নয়ন প্রকল্পই থমকে গেছে। এ সময়ে আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারলে গত চার বছরের যে স্থবিরতা, সেটি অনেকটাই কাটিয়ে তুলতে পারব।’

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউর রহমান বলেন, ‘উপনির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা চেষ্টা করবেন এটাই স্বাভাবিক। নেত্রী যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটাই আমরা মেনে নেব।’

বগুড়ায়ও শুরু হয়েছে দৌড়ঝাঁপ

বগুড়া প্রতিনিধি জানান, বিএনপির সংসদ সদস্যদের পদত্যাগে শূন্য হয়েছে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) ও বগুড়া-৬ (সদর) আসন। এর পরপরই আসন দুটিতে নির্বাচনী হাওয়া লেগেছে। তবে এখানেও সে হাওয়া বইছে শুধু আওয়ামী লীগেই। এই উপনির্বাচনে অংশ নেবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে সিপিবি বা বামজোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও উপনির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বলে জানা গেছে।

বগুড়া-৬ আসনটি বরাবরই ছিল বিএনপির দখলে। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি টি জামান নিকেতারের নাম শোনা যাচ্ছে জোরেশোরে। তিনি এর আগে ২০১৯ সালের উপনির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। এ ছাড়াও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপুর নামও শোনা যাচ্ছে।

বগুড়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু বলেন, বগুড়া-৬ আসনে অনেক দক্ষ ও যোগ্য আওয়ামী লীগ নেতা রয়েছেন। সবাই এমপি হওয়ার মতো যোগ্যতা রাখেন। আমি ছাড়াও অন্তত ১৭ জন আওয়ামী লীগ নেতা উপনির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন।

বগুড়া-৪ আসনে সরব হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা জাসদ সভাপতি রেজাউল করিম তানসেন, নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন রানা, নন্দীগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ, কাহালু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হেলালউদ্দিন কবিরাজসহ বেশ কয়েকজন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন মোস্তফা কামাল ফারুকও সক্রিয় হয়েছেন। আলোচনায় আছেন জাতীয় পার্টির সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য ও সম্মিলিত নাগরিক জোটের বগুড়ার সদস্যসচিব, বগুড়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক উত্তরের দর্পণ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক আব্দুস সালাম বাবুও।

রেজাউল করিম তানসেন বলেন, এর আগে আমি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ১৪ দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এমপি হয়েছিলাম। তাই এবারও আমি আশাবাদী।

কাহালু পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হেলালউদ্দিন কবিরাজ বলেন, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে যাচ্ছি। মতবিনিময় করছি সবার সঙ্গে।

ঠাকুরগাঁওয়ে সক্রিয় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, শূন্য হওয়া ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে এরই মধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ইমদাদুল হক এবং সংসদীয় নারী সংরক্ষিত-১ আসনের সাবেক সদস্য সেলিনা জাহান লিটা। এ ছাড়া পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক বিপ্লব ও রানীশংকৈল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সহিদুল হকও আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী। এ দিকে ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য ইয়াসিন আলী এবং জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য ও দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য হাফিজ উদ্দীন আহমেদও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

ইমদাদুল হক বলেন, ‘দীর্ঘদিন রাজনীতি করছি। আমি দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করে চলেছি। আমি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি।’

সেলিনা জাহান লিটা বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। আমার বাবা ছিলেন এই আসনের প্রথম সংসদ সদস্য। এ আসনের নারী ভোটারসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আমার যোগাযোগ রয়েছে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তৎপর বিভিন্ন দল

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, শূন্য হওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি কয়েকটি দলের প্রার্থী সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। এই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মঈন উদ্দিন মঈন, জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক রেজাউল ইসলাম ভূইয়াসহ বেশ কয়েকজন।

মঈন উদ্দিন মঈন বলেন, ‘১৯৭৩ সালের পর এখানে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নেই। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আবেদন যেন এখানে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়। এতে পিছিয়ে পড়া এলাকা এগিয়ে যাবে।’


নির্বাচিত

বর্জ্য থেকেই মিলবে বিদ্যুৎ, ঢাকায় দুই মেগা প্রকল্প

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক
    কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

ঢাকা শহরের বিপুল পরিমাণ বর্জ্যকে বিদ্যুৎ ও পরিবেশবান্ধব পণ্যে রূপান্তরের লক্ষ্যে আমিনবাজার ও মাতুয়াইলে দুটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প দুটির মাধ্যমে প্রতিদিন কয়েক হাজার টন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। এ ছাড়া মিথেন গ্যাস, সার, পশুখাদ্য ও পরিবেশবান্ধব ইকো-ব্রিকস উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে। রোববার প্রকল্প দুটির অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নিয়ে সকালে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকাল সাড়ে ৯টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এ বৈঠক হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন বৈঠকের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠকে জানানো হয়, ঢাকার আমিনবাজারে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি কেন্দ্র নির্মাণে বিনিয়োগ করবে চীনের সিএমইসি গ্রুপ। প্রকল্পটিতে প্রতিদিন ঢাকা শহরের প্রায় তিন হাজার টন বর্জ্য ব্যবহার করা হবে। এসব বর্জ্য থেকে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে জানান, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৮ সালের আগস্টের মধ্যে কেন্দ্রটি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করতে পারবে। প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর আগামী ২৫ বছর সেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আরেকটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাতুয়াইলে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিঅ্যান্ডএফ কোম্পানি এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। এখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি তা থেকে মিথেন গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, মাতুয়াইলের এ প্রকল্পে বছরে বর্জ্য থেকে প্রায় ১৫ হাজার টন মিথেন গ্যাস উৎপাদিত হবে। সেই গ্যাস ব্যবহার করে বছরে প্রায় ৮১ হাজার মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দৈনিক হিসাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ হবে প্রায় ২২১ মেগাওয়াট-ঘণ্টা।

শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না মাতুয়াইলের প্রকল্পটি। সেখানে সৌরবিদ্যুৎ, সার, পশুখাদ্য এবং পরিবেশবান্ধব ইকো-ব্রিকস উৎপাদনেরও পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টন বর্জ্য এ প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে।

সরকারের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে বর্জ্য থেকে নিঃসৃত ক্ষতিকর গ্যাস নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রশমনেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বৈঠকে প্রকল্প দুটির বাস্তবায়ন দ্রুত এগিয়ে নিতে স্থানীয় সরকার, বিদ্যুৎ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক আয়োজনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

জলাবদ্ধ মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষা, দ্রুত ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জুমের মাধ্যমে দেশের আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), সিভিল সার্জনসহ মাঠ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

সভায় বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকার জলাবদ্ধতার সর্বশেষ পরিস্থিতি, ক্ষয়ক্ষতি, আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থা, উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ এবং চিকিৎসাসেবার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষাই প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই।

তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ খাবার পানি, শিশু খাদ্য, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

একই সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ, পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ সুবিধা সচল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিশেষভাবে নারী, শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী এবং গর্ভবতী নারীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেন, দুর্যোগকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু চক্র যেন চুরি, ডাকাতি, মজুতদারি, ত্রাণ আত্মসাৎ বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভায় দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি, স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রম, উদ্ধার কার্যক্রমে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়, নদ-নদীর পানির স্তর এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত পর্যবেক্ষণের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এসময় চট্টগ্রাম থেকে যুক্ত হওয়া কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, সেখানকার জলাবদ্ধতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে সিলেট অঞ্চলে মনু নদের বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে এবং রংপুর বিভাগে নতুন করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এসব তথ্য জানার পর প্রধানমন্ত্রী সম্ভাব্য সব ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ, প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা এবং জনগণের পাশে থেকে সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দেন।


নির্বাচিত

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ও কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার এবং কাতারের বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির পিতা শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী মরহুমদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক প্রজ্ঞাবান, অভিজ্ঞ, সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব। সুদীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি সততা, প্রজ্ঞা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে তিনি শিক্ষামন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে সুসংহত করা, সংসদীয় সংস্কৃতির বিকাশ এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের অবদান জাতি চিরকাল গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

জমির উদ্দিন সরকার আজীবন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আদর্শে অবিচল ছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি দলের দীর্ঘ সংগ্রাম, প্রতিকূলতা ও দুঃসময়ের কোনো পর্যায়েই, কোনো পরিস্থিতিতেই আদর্শচ্যুত হননি। রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি নিষ্ঠা, প্রজ্ঞা ও দৃঢ়তার সঙ্গে দলীয় জাতীয়তাবাদী আদর্শকে সমুন্নত রেখেছেন।

বিগত দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে মরহুমের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং মানুষের মৌলিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার অবিস্মরণীয় অবদান বিএনপির ইতিহাসে যেমন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে, তেমনি দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায়ও এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, দক্ষ সংসদীয় ব্যক্তিত্ব এবং সত্যিকারের দেশপ্রেমিককে হারাল। তার আদর্শ, প্রজ্ঞা, সততা ও কর্মময় জীবন আগামী প্রজন্মের রাজনীতিকদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত ও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে মরহুমের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করার জন্য প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে তিনি মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও অসংখ্য গুণগ্রাহীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এদিকে, কাতারের বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির পিতা শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির কাছে গককাল রোববার পাঠানো এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে শোকাহত।

বাংলাদেশ সরকার, দেশের জনগণ এবং ব্যক্তিগতভাবে তিনি কাতারের আমির, রাজপরিবার, সরকার ও ভ্রাতৃপ্রতিম কাতারের জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন।

শোকবার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ছিলেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক। তার নেতৃত্বে কাতার একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও বিশ্বে সম্মানিত রাষ্ট্রে পরিণত হয়। আঞ্চলিক শান্তি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় তার অবদান দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।

তারেক রহমান আরও বলেন, পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও কাতারের দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

শোকবার্তার শেষাংশে তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন এবং তার আত্মাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করার প্রার্থনা জানান।

একইসঙ্গে কাতারের আমির, রাজপরিবার ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের এই শোক সইবার শক্তি ও ধৈর্য দানের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।


নির্বাচিত

মুজিববর্ষ উদযাপনে ব্যয় ৯৮২ কোটি ৯১ লাখ টাকা: সংসদে অর্থমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১২ জুলাই, ২০২৬ ২৩:০৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘মুজিব বর্ষ’ পালন উপলক্ষে প্রতিটি জেলা-উপজেলায় বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে এবং শেখ মুজিবের ছবি ও বেদি তৈরি, বিভিন্ন সরকারি অফিসে ব্রোঞ্জ, তামা ও মার্বেল পাথরের মূর্তি বানাতে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সময় গণনার ডিজিটাল বোর্ড তৈরিতে সব মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মোট ৯৮২ কোটি ৯১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। গতকাল রোববার জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (রংপুর-৩) মাহবুবুর রহমান বেলালের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্ব চলে।

মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, ৬২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে ৪৩টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মাধ্যমে এই অর্থ ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সর্বোচ্চ ২৮৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া রেলপথ মন্ত্রণালয় ২০৬ কোটি ৭৩ লাখ ৭১ হাজার, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ১৪০ কোটি ৪৫ লাখ ৫০ হাজার, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ১৩৩ কোটি ৩ লাখ ২০ হাজার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৪৭ কোটি ৬৬ লাখ ৫৬ হাজার, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ২৬ কোটি ২৬ লাখ ৪১ হাজার, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ২৪ কোটি ৩০ লাখ ৪৩ হাজার, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ২৩ কোটি ২০ হাজার এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ২০ কোটি ৪৯ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয় করেছে।

সম্পূরক প্রশ্নে মাহবুবুর রহমান জানতে চান, এই বিপুল সরকারি ব্যয়ের কোনো নিরীক্ষা বা তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না। সরকারি অর্থের অপচয় বা অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনের আওতায় আনা হবে কি না এবং ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তির প্রচারে এ ধরনের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বন্ধে সরকার কী পদক্ষেপ নেবে, তা-ও জানতে চান তিনি।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, মুজিব বর্ষের ব্যয় নিরীক্ষা বা তদন্তের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। মুজিব বর্ষ ছাড়াও আগের সরকারের সময় বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের আরও অনেক বিষয় রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার পর্যায়ক্রমে সেগুলোর হিসাব যাচাই করছে। এই যাচাইয়ের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, এটা তো শুধু মুজিব বর্ষ। এ ছাড়া সেই সময়ের প্রধানমন্ত্রীর এক বছরে খাওয়া-দাওয়ার খরচ হয়েছে ৩৫ কোটি টাকা।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ব্যয়ের সঙ্গে আগের প্রধানমন্ত্রীর ব্যয়ের তুলনা টেনে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি শুধু একটি খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এ ধরনের আরও অনেক ব্যয় রয়েছে। তিনি বলেন, ‘সবগুলোর বিষয়ে ক্রমান্বয়ে স্টক চেকিং করছি।’

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, জনগণের অর্থ লুট করে বিদেশে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অভিযুক্ত অনেকের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মামলা করা হয়েছে এবং তদন্তও চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যে সংসদকে এ বিষয়ে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জানিয়েছি। অনেক মামলা হয়েছে, তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্ত অনেকের সম্পত্তি জব্দের প্রক্রিয়াও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।’

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকার তার কঠোর অবস্থানে অনড়। তিনি বলেন, দেশের টাকা লুট করে যারা বিদেশে পালিয়ে গেছেন, তাদের সঙ্গে বিএনপি কোনো আপস করবে না। এই সরকারও কোনো আপস করবে না। এই অভিযান চলতেই থাকবে।

আমির খসরু জানান, সরকার এ পর্যন্ত যেসব আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি একাধিকবার সংসদকে বিস্তারিত অবহিত করেছেন। অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলালের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সার্কভুক্ত দেশসমূহের মধ্যে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত তিনটি লাইন অব ক্রেডিট ঋণচুক্তির আওতায় বর্তমানে সাতটি প্রকল্প চলমান রয়েছে।


নির্বাচিত

শেখ হাসিনার দেশে ফিরে সরাসরি আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই: চিফ প্রসিকিউটর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফিরে সরাসরি আত্মসমর্পণের কোনো আইনি সুযোগ নেই।

রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করেন যে, শেখ হাসিনা চাইলেই সাধারণ নাগরিকদের মতো স্বাধীনভাবে দেশে ফিরতে পারবেন না।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণে নির্বাসনে রয়েছেন। তিনি যদি দেশে ফিরতে চান, তবে অবশ্যই বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা ও কূটনৈতিক আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসতে হবে। তিনি যখনই দেশের মাটিতে পা রাখবেন, তখনই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং সরাসরি কারাগারে পাঠানো হবে।

ট্রাইব্যুনালের চলমান মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে চিফ প্রসিকিউটর জানান, ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। আগামী ২১ জুলাই এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত নৃশংসতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রধান ১০টি মামলার তদন্ত কাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। খুব দ্রুতই এই প্রতিবেদনগুলো আদালতে পেশ করা হবে।

অর্থাৎ, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এবং আত্মসমর্পণ—উভয় ক্ষেত্রেই আইনি ও কূটনৈতিক জটিলতা রয়েছে এবং দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের এই শীর্ষ আইন কর্মকর্তা।


নির্বাচিত

প্রাথমিকে বৃত্তি পেল ৭৯২৪৬ শিক্ষার্থী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। ২০২৫ সালের পরীক্ষায় মোট ৭৯ হাজার ২৪৬ শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। রোববার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ফল ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ৪৩ হাজার ৩৫৪ জন বা ৫৪ দশমিক ৭১ শতাংশ ছাত্রী এবং ৩৫ হাজার ৮৯২ জন বা ৪৫ দশমিক ২৯ শতাংশ ছাত্র।

এবার ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে ৩২ হাজার ৯৬৫ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ২৬ হাজার ৩৭৫ শিক্ষার্থী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। আর বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ৬ হাজার ৫৯০ জন।

সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ৪৬ হাজার ২৮১ জন। এর মধ্যে ৩৬ হাজার ৪২০ জন সরকারি এবং ৯ হাজার ৮৬১ জন বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬ অনুযায়ী, এবার মোট ৮২ হাজার ৫০০টি বৃত্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়। যার মধ্যে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি ৩৩ হাজারটি এবং সাধারণ বৃত্তি ৪৯ হাজার ৫০০টি।

এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে সরকারি বিদ্যালয়ে ৮০ শতাংশ এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ে ২০ শতাংশ বৃত্তি দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

শিক্ষা বিভাগের তথ্য মতে, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে হলেও বৃত্তির টাকা দেয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। কারণ, পঞ্চম শ্রেণি শেষ করা শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। যখন বৃত্তি পায়, তখন তারা মাধ্যমিকে পড়া শুরু করে। নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিক বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এই বৃত্তির টাকা পায়। এরপর অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে হয় জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা। ওই বৃত্তি পরীক্ষার ভিত্তিতে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বৃত্তির টাকা দেওয়া হয়।

বর্তমানে প্রাথমিকে মেধাবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা এককালীন ২২৫ টাকা ও মাসে ৩০০ টাকা করে পাবে। আর সাধারণ বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের এককালীন ২২৫ টাকা ও মাসে ২২৫ টাকা করে দেওয়া হবে। অর্থাৎ এবার যারা বৃত্তি পেয়েছে, তারা এই টাকা পাবে।

তবে ২০২৬ সালের বৃত্তি পরীক্ষা থেকে এই টাকা বাড়ানো হবে। অর্থাৎ এ বছরের শেষে যে বৃত্তি পরীক্ষা হবে, তাতে বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা বর্ধিত হারে টাকা পাবে।

এ বিষয়ে বৃত্তি পরীক্ষার ফল উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ–সংক্রান্ত প্রস্তাব তুলে ধরেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী। তিনি বলেন, বৃত্তির সংখ্যা একই আছে (৮২ হাজার ৫০০টি)। তবে মেধাবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের এককালীন ২২৫ টাকার জায়গায় ৪৫০ টাকা ও মাসে ৩০০ টাকার জায়গায় ৬০০ টাকা করা হয়েছে। মানে দ্বিগুণ করা হচ্ছে।

এ ছাড়া সাধারণ বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের এককালীন ২২৫ টাকার পরিবর্তে ৪৫০ টাকা ও মাসে ২২৫ টাকার পরিবর্তে ৪৫০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

মেধাবৃত্তি দেওয়া হয় উপজেলা বা থানা অনুযায়ী। আর সাধারণ বৃত্তি দেওয়া হয় ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক পাঁচটি করে (দুজন বালক ও দুজন বালিকা এবং একটি মেধার ভিত্তিতে)।

একসময় নির্ধারিতসংখ্যক শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে আলাদা বৃত্তি পরীক্ষা হতো। পরে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা চালু হয়, যেখানে সব শিক্ষার্থী অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের মহামারির সময় তা বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০২২ সালের শেষ দিকে প্রাথমিকে হঠাৎ বৃত্তি পরীক্ষা চালু হলেও ফলাফলে ভুল ও অসংগতি দেখা দেয়। পরে তা আবারও চালুর সিদ্ধান্ত হয়। গত বছরের শেষে এ পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও মামলার কারণে প্রাথমিকের বৃত্তি আটকে যায়। গত এপ্রিলে জটিলতা কাটিয়ে এ পরীক্ষা হয়। তার ফল প্রকাশ করা হলো।


নির্বাচিত

বন্যাকবলিত ১১ জেলায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে বিজিবি মোতায়েন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

টানা কয়েকদিনের ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতিতে উদ্ধার তৎপরতা, আশ্রয়ের ব্যবস্থা ত্রাণসামগ্রী বিতরণ ও চিকিৎসা সহায়তায় ১১ জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। জেলাগুলো হলো, বান্দরবান, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুর। রোববার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দপ্তর থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টানা ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও ভূমিধসে সৃষ্ট দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা, ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, জরুরি চিকিৎসা সহায়তা প্রদান ও ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় বান্দরবান, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুর জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

বিজিবি জানিয়েছে, দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই ১১ জেলায় মোট ৯০টি পয়েন্টে সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিজিবি। সেই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, বান্দরবানের বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে ইতোমধ্যে ১১৬ জন পর্যটকসহ ১২২টি পরিবারের ছয় শতাধিক মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ও ৪৮ জনকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দিয়েছে বিজিবি। পাশাপাশি বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে উপরে পড়া গাছ ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে তারা। এছাড়াও নাইক্ষ্যংছড়িতে ভূমিক্ষয়ের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়া স্টিলের সেতু রক্ষায় জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিতে নিরলসভাবে কাজ করছে বিজিবি।


নির্বাচিত

সাবেক স্পীকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে ডেপুটি স্পীকারের শোক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি সাবেক স্পীকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার এঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১২ জুলাই, ২০২৬ খ্রি: ভোর ৪:১৯ মিনিট রাজধানী শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ, এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ১৯৬১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে গিয়ে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ‘ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল’ ডিগ্রি লাভ করেন। দেশে ফিরে তিনি আইন পেশায় যুক্ত হয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের একজন খ্যাতিমান বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।

তিনি ২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পীকারের দায়িত্ব পালন করেন ।

তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

উল্লেখ্য, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

এক শোক বার্তায় জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি দুঃখ প্রকাশ ও গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।


নির্বাচিত

সাবেক স্পীকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে চীফ হুইপের গভীর শোক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ মোঃ নূরুল ইসলাম, এমপি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সাবেক স্পীকার, বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও বরেণ্য রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার-এর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

এক শোকবার্তায় চীফ হুইপ বলেন, "ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন একজন প্রজ্ঞাবান সংসদীয় ব্যক্তিত্ব, খ্যাতিমান আইনজ্ঞ এবং দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ। রাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান বিকাশে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জাতীয় সংসদের স্পীকার হিসেবে তিনি দক্ষতা, প্রজ্ঞা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে সংসদীয় গণতন্ত্রকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁর মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক ও সংসদীয় অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।"

চীফ হুইপ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করার প্রার্থনা জানান। একই সঙ্গে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও গুণগ্রাহীদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও আন্তরিক সহানুভূতি জ্ঞাপন করেন।

উল্লেখ্য, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জনের পর যুক্তরাজ্যের লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি লাভ করেন। দেশে ফিরে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের একজন খ্যাতিমান আইনজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।

তিনি ২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পীকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।


নির্বাচিত

সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা নিয়ে সরকার বন্যার্ত মানুষের পাশে আছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সারাদেশে চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে বন্যাকবলিত মানুষের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এবং সরকারের এই সমন্বিত প্রচেষ্টায় দুর্গতরা অচিরেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে। আশাবাদের এই কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

গতকাল শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দেশব্যাপী চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া নানা উদ্যোগ ও দিকনির্দেশনা তুলে ধরে তিনি এ কথা জানান।

দেশজুড়ে প্রবল বৃষ্টিপাতের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন স্থানে বন্যা, পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান-এই পাঁচটি জেলায় জনমানুষের অবর্ণনীয় কষ্টের সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক এই পরিস্থিতি নিজে এবং তাঁর টিম মেম্বারদের মাধ্যমে মনিটরিং করছেন।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এই পাঁচ জেলার স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, ডিসি, এসপি, সিভিল সার্জন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। রবিবারও (আজ) প্রধানমন্ত্রী দেশের সব বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন। উদ্ধার তৎপরতায় ডিসি, এসপি, ইউএনও থেকে শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রতিটি পর্যায়ের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী এরই মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে দুই কোটি টাকারও বেশি অর্থনৈতিক অনুদান নিশ্চিত করেছেন, যা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছানো হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের কাছে চাল ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার বিরামহীন প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, ‘বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী এরই মধ্যে চট্টগ্রামে অবস্থান করে পরিস্থিতি সরাসরি মনিটর করছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতারা তৃণমূল পর্যায়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর পুরো দল এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে উদ্ধার ও ত্রাণ কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত হওয়ার আহবান জানিয়েছেন এবং তারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত গৃহস্থালি, কৃষি, মৎস্য ও গবাদি পশু খামারিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কার্যকর উদ্যোগ শুরু হয়েছে। দ্রুতই খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু করা হবে। বর্তমানে সচল থাকা এক হাজারেরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য, পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাকে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। কিছু জায়গায় মোবাইল নেটওয়ার্ক বিঘ্নিত হলেও সংযোগ পুনঃস্থাপনে স্থানীয় প্রশাসন ও নেতাকর্মীরা কাজ করছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা ও শাহাদত হোসেন স্বাধীন, সহকারী প্রেস সচিব মো. নাজমুল হক খান ও আবদুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর গভীর শোক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১২ জুলাই, ২০২৬ ১৩:৫১
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও ভাষা আন্দোলনের অকুতোভয় সৈনিক ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী মরহুমের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক প্রজ্ঞাবান, অভিজ্ঞ, সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব। সুদীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি সততা, প্রজ্ঞা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।” প্রবীণ এই রাজনীতিবিদের রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন থাকাকালীন তাঁর নিষ্ঠা ও প্রজ্ঞার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে সুসংহত করা, সংসদীয় সংস্কৃতির বিকাশ এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের অবদান জাতি চিরকাল গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।”

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় আরও উল্লেখ করেন যে, জমির উদ্দিন সরকার আজীবন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এবং গণতন্ত্রের সুরক্ষায় অবিচল ছিলেন। “তিনি দলের দীর্ঘ সংগ্রাম, প্রতিকূলতা ও দুঃসময়ের কোনো পর্যায়েই, কোনো পরিস্থিতিতেই আদর্শচ্যুত হননি। রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি নিষ্ঠা, প্রজ্ঞা ও দৃঢ়তার সঙ্গে দলীয় জাতীয়তাবাদী আদর্শকে সমুন্নত রেখেছেন।” বিগত দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং মানুষের মৌলিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার অবিস্মরণীয় অবদান বিএনপির ইতিহাসে যেমন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে, তেমনি দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায়ও এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে।”

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের প্রয়াণে দেশ এক অভিজ্ঞ দেশপ্রেমিককে হারাল, যা পূরণ হবার নয়। তাঁর সততা ও কর্মময় জীবন আগামী দিনের রাজনীতিকদের জন্য পাথেয় হয়ে থাকবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। প্রধানমন্ত্রী মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট মরহুমের জান্নাত নসিবের প্রার্থনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার ও অসংখ্য গুণগ্রাহীর প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।


নির্বাচিত

সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের জীবনাবসান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, সাবেক স্পিকার ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই। রবিবার ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন প্রখ্যাত এই আইনজ্ঞ। বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী জমির উদ্দিন সরকার ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে অধ্যাপক এ. কিউ. এম. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলায় জন্ম নেওয়া এই রাজনীতিবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে উচ্চশিক্ষা শেষে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি লাভ করেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে রাজনীতিতে আসা এই নেতা ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্নের অন্যতম স্তম্ভ।

সংসদীয় গণতন্ত্র ও আইনি অঙ্গনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। মন্ত্রী হিসেবে তিনি আইন, বিচার, সংসদ বিষয়ক, শিক্ষা ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলো পরিচালনা করেছেন। আইনি গবেষণাতেও তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল এবং আন্তর্জাতিক আইন ও সমুদ্র আইন নিয়ে তাঁর লেখা বইগুলো উচ্চ প্রশংসিত। ব্যক্তিগত জীবনে তিন সন্তানের জনক জমির উদ্দিন সরকারের দুই পুত্রই বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের স্বনামধন্য আইনজীবী।


নির্বাচিত

বাংলাদেশিদের জন্য অভিবাসী ভিসা স্থগিতের কারণ জানাল মার্কিন দূতাবাস

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য অভিবাসী (ইমিগ্র্যান্ট) ভিসা স্থগিতের কারণ ব্যাখ্যা করেছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। দূতাবাসের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধা ব্যবহারের হার তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) এক বিবৃতিতে মার্কিন দূতাবাস জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের প্রতি তাদের দায়িত্ব হলো, অভিবাসীরা যেন অবৈধভাবে সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধা গ্রহণ না করেন এবং সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে না পড়েন, তা নিশ্চিত করা।

দূতাবাস আরও জানায়, চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই স্থগিতাদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা যাচাই-বাছাই নীতিমালা ও প্রক্রিয়াগুলোর পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হবে, যাতে সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়।

তবে এ স্থগিতাদেশ কেবল অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অনভিবাসী (নন-ইমিগ্র্যান্ট) ভিসা, যেমন পর্যটন, শিক্ষার্থী ও অন্যান্য অস্থায়ী ভিসার ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তের কোনো প্রভাব পড়বে না।


নির্বাচিত

banner close