আগাম আভাস ছাড়াই বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশে দলটির সাত সংসদ সদস্য (এমপি) পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরদিন তাদের মধ্যে ছয়জন জাতীয় সংসদে গিয়ে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। হঠাৎ তৈরি হওয়া এই সুযোগে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। এমনকি একটি আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য এখনো পদত্যাগ না করলেও সেখানেও তৎপরতা দেখা গেছে।
বিএনপির পদত্যাগ করা ছয় সংসদ সদস্য হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের মো. আমিনুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের আবদুস সাত্তার, বগুড়া-৪ আসনের মো. মোশাররফ হোসেন, বগুড়া–৬ আসনের জি এম সিরাজ, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের জাহিদুর রহমান এবং সংরক্ষিত আসনের রুমিন ফারহানা। এই আসনগুলো শূন্য ঘোষণা করে গত রোববার গ্যাজেট প্রকাশ করেছে সংসদ সচিবালয়। শূন্য হওয়া এসব আসনে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য দলটির যুগ্ম মহাসচিব মো. হারুনুর রশীদ বিদেশে থাকায় তিনি এখনো পদত্যাগ করেননি। দেশে ফিরে তারও পদত্যাগ করার কথা রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আ.লীগে চাঙাভাব
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, শূন্য হওয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল, গোমস্তাপুর, ভোলাহাট) আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা এরই মধ্যে তৎপর হয়ে উঠেছেন। বিদেশ থেকে ফিরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদেরও পদত্যাগ করার কথা রয়েছে। তবে তিনি পদত্যাগ করার আগেই উপনির্বাচন মাথায় রেখে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। অবশ্য এই দুই আসনের উপনির্বাচন নিয়ে অন্য দলগুলোর আগ্রহ তেমন নেই।
আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠেয় এ উপনির্বাচন সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। এ উপনির্বাচনে অন্য কোনো দল অংশ নেবে না। আওয়ামী লীগের প্রার্থীই বিজয়ী হয়ে আসবেন।
সেখানে মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের বিলবোর্ড টাঙানো শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে কর্মী-সমর্থকদের প্রচার।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বেশি আলোচনায় আছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের দৌড়ে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য মু জিয়াউর রহমান, গোমস্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা, যুবলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল আলম সৈকত জোয়ার্দার, ভোলাহাট উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ, রাজশাহী জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার, আওয়ামী লীগ নেতা খুরশিদ আলম বাচ্চু, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা কামরুল হাসান লিংকনসহ বেশ কয়েকজন।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ বলেন, তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘আমি এর আগে এমপি ছিলাম। গত চার বছরে তেমন কিছুই হয়নি। অনেক উন্নয়ন প্রকল্পই থমকে গেছে। এ সময়ে আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারলে গত চার বছরের যে স্থবিরতা, সেটি অনেকটাই কাটিয়ে তুলতে পারব।’
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউর রহমান বলেন, ‘উপনির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা চেষ্টা করবেন এটাই স্বাভাবিক। নেত্রী যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটাই আমরা মেনে নেব।’
বগুড়ায়ও শুরু হয়েছে দৌড়ঝাঁপ
বগুড়া প্রতিনিধি জানান, বিএনপির সংসদ সদস্যদের পদত্যাগে শূন্য হয়েছে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) ও বগুড়া-৬ (সদর) আসন। এর পরপরই আসন দুটিতে নির্বাচনী হাওয়া লেগেছে। তবে এখানেও সে হাওয়া বইছে শুধু আওয়ামী লীগেই। এই উপনির্বাচনে অংশ নেবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে সিপিবি বা বামজোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও উপনির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বলে জানা গেছে।
বগুড়া-৬ আসনটি বরাবরই ছিল বিএনপির দখলে। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি টি জামান নিকেতারের নাম শোনা যাচ্ছে জোরেশোরে। তিনি এর আগে ২০১৯ সালের উপনির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। এ ছাড়াও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপুর নামও শোনা যাচ্ছে।
বগুড়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু বলেন, বগুড়া-৬ আসনে অনেক দক্ষ ও যোগ্য আওয়ামী লীগ নেতা রয়েছেন। সবাই এমপি হওয়ার মতো যোগ্যতা রাখেন। আমি ছাড়াও অন্তত ১৭ জন আওয়ামী লীগ নেতা উপনির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন।
বগুড়া-৪ আসনে সরব হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা জাসদ সভাপতি রেজাউল করিম তানসেন, নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন রানা, নন্দীগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ, কাহালু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হেলালউদ্দিন কবিরাজসহ বেশ কয়েকজন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন মোস্তফা কামাল ফারুকও সক্রিয় হয়েছেন। আলোচনায় আছেন জাতীয় পার্টির সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য ও সম্মিলিত নাগরিক জোটের বগুড়ার সদস্যসচিব, বগুড়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক উত্তরের দর্পণ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক আব্দুস সালাম বাবুও।
রেজাউল করিম তানসেন বলেন, এর আগে আমি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ১৪ দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এমপি হয়েছিলাম। তাই এবারও আমি আশাবাদী।
কাহালু পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হেলালউদ্দিন কবিরাজ বলেন, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে যাচ্ছি। মতবিনিময় করছি সবার সঙ্গে।
ঠাকুরগাঁওয়ে সক্রিয় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, শূন্য হওয়া ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে এরই মধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ইমদাদুল হক এবং সংসদীয় নারী সংরক্ষিত-১ আসনের সাবেক সদস্য সেলিনা জাহান লিটা। এ ছাড়া পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক বিপ্লব ও রানীশংকৈল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সহিদুল হকও আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী। এ দিকে ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য ইয়াসিন আলী এবং জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য ও দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য হাফিজ উদ্দীন আহমেদও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।
ইমদাদুল হক বলেন, ‘দীর্ঘদিন রাজনীতি করছি। আমি দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করে চলেছি। আমি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি।’
সেলিনা জাহান লিটা বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। আমার বাবা ছিলেন এই আসনের প্রথম সংসদ সদস্য। এ আসনের নারী ভোটারসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আমার যোগাযোগ রয়েছে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তৎপর বিভিন্ন দল
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, শূন্য হওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি কয়েকটি দলের প্রার্থী সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। এই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মঈন উদ্দিন মঈন, জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক রেজাউল ইসলাম ভূইয়াসহ বেশ কয়েকজন।
মঈন উদ্দিন মঈন বলেন, ‘১৯৭৩ সালের পর এখানে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নেই। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আবেদন যেন এখানে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়। এতে পিছিয়ে পড়া এলাকা এগিয়ে যাবে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘মোংলা থেকে দেশের উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করতে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’
একইসাথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ ও চীন একসাথে কাজ করতে চায় উল্লেখ করে মোংলাকে কেন্দ্র করে শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে চীনা বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
আজ বৃহস্পতিবার বাগেরহাটের মোংলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
এ উপলক্ষে সিআরসিসির চেয়ারম্যান দাই হেগেনের নেতৃত্বে আসা উচ্চপর্যায়ের চীনা প্রতিনিধিদলের সাথে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এসব কথা জানিয়েছেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশি জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য চীনা প্রতিনিধিদলকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি দিনটিকে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের উল্লেখ করে দেশের শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় এগিয়ে আসায় চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সূত্র: বাসস
মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক অবকাঠামো উন্নয়নে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া একটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে বাগেরহাটের মোংলায় এক অনুষ্ঠানে তিনি এ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান।
প্রকল্পটির আওতায় দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। এর লক্ষ্য মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো এবং বন্দরসেবার আধুনিকায়ন।
এর আগে সকালে একদিনের সরকারি সফরে খুলনা ও বাগেরহাটের বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দিতে হেলিকপ্টারে করে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে মোংলায় এসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।
মোংলায় পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের পক্ষে সংস্থাটির ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনস বিভাগের সদস্য সালেহ আহমেদ এবং চীনা পক্ষে চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের চেয়ারম্যান লি চংইয়াং সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
এমওইউ অনুযায়ী, দুই পক্ষ জ্বালানি, শিল্প অবকাঠামো, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো, পরিবহন, লজিস্টিকস এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণ করবে। সূত্র: বাসস
দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর রূপরেখা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে মোংলায় আরো শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হবে।’ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাগেরহাটের মোংলায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ এবং চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যকার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে তিনি এ কথা বলেন।
সরকারপ্রধান উল্লেখ করেন, দেশীয় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন এবং দেশে ব্যাপক বিদেশি পুঁজির প্রবাহ নিশ্চিত করার স্বার্থে একটি স্থিতিশীল ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বন্দরকেন্দ্রিক এই অঞ্চলকে আধুনিক শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে তুলে জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে এর ভূমিকা আরও বাড়ানোর ওপর তিনি জোর দেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অবকাঠামোগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ সমঝোতা স্মারক সম্পন্ন হয়। এতে ইনভেস্ট বাংলাদেশের পক্ষে সংস্থাটির ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন বিভাগের সদস্য সালেহ আহমেদ এবং চীনের পক্ষ থেকে চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের চেয়ারম্যান লি চংইয়াং আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেন।
স্বাক্ষরিত এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশে আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা, বৃহৎ লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক, বিশেষায়িত শিল্প পরিকাঠামো, টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দক্ষ জনশক্তি বিনির্মাণসহ বিভিন্ন কৌশলগত ক্ষেত্রে নতুন বিনিয়োগের অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও গভীর করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে বাগেরহাটের মোংলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই দ্বিপক্ষীয় চুক্তিটি সম্পন্ন হয়।
সমঝোতা স্মারকে বাংলাদেশের পক্ষে ইনভেস্ট বাংলাদেশের ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন বিভাগের সদস্য সালেহ আহমেদ এবং চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) সহযোগী সংস্থা চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের চেয়ারম্যান লি চংইয়াং স্বাক্ষর করেন। আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পাদনকালে ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং সিআরসিসির চেয়ারম্যান দাই হেগেন উপস্থিত ছিলেন।
স্বাক্ষরিত এই চুক্তির আওতায় পরিবহন ও যোগাযোগ পরিকাঠামো, আধুনিক লজিস্টিকস ব্যবস্থাপনা, ভারী শিল্পায়ন, টেকসই জ্বালানি, পরিবেশ সুরক্ষা এবং কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নসহ নানাবিধ কৌশলগত খাতে বৃহৎ আকারে কোর ও বৈদেশিক বিনিয়োগের সুযোগ প্রসারিত হবে। চুক্তি স্বাক্ষর পর্বের পর প্রধানমন্ত্রী সফররত উচ্চপর্যায়ের চীনা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরাসরি মতবিনিময় করেন।
এদিকে সরকারি এ সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণসহ সংলগ্ন সহায়ক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
সাম্প্রতিক তীব্র শ্রমিক অসন্তোষের ধাক্কা কাটিয়ে সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে কর্মচাঞ্চল্য এবং স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলসহ (ডিইপিজেড) আশপাশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সকাল থেকেই শ্রমিকেরা নিজস্ব পরিবহন কিংবা পায়ে হেঁটে নির্বিঘ্নে নিজ নিজ কর্মস্থলে প্রবেশ করে কাজে যোগ দেন।
শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই এলাকার শিল্প কারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যবস্থা পুরোপুরি সচল রয়েছে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে হাতে গোনা দু-একটি কারখানায় শ্রমিকেরা সকালে প্রবেশ করলেও পরবর্তীতে কাজে অংশ না নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার মতো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি প্রতিরোধ ও সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আশুলিয়া ও হেমায়েতপুরের গুরুত্বপূর্ণ কারখানাসমূহের প্রধান ফটকে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
শিল্পাঞ্চলে নাশকতা, সড়ক অবরোধ ও যেকোনো ধরনের ভাঙচুর প্রতিহত করতে শিল্প পুলিশের সঙ্গে সমন্বিতভাবে বিজিবির বিশেষ দল সার্বক্ষণিক টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং তাৎক্ষণিক শৃঙ্খলা নিশ্চিতে নয়জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের তদারকি অব্যাহত রয়েছে।
বাগেরহাটের মোংলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি মোংলা বন্দরের হেলিপ্যাডে অবতরণ করে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।
মোংলায় পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম; নৌপরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলী আসগর লবি এবং খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল।
তিনি বলেন, মোংলায় প্রধানমন্ত্রীর দুটি কর্মসূচি রয়েছে। এসব কর্মসূচি শেষে তিনি বাগেরহাট জেলা সদরে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর সড়কপথে খুলনায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী।
সেখানে জেলা স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)-এর উদ্বোধন শেষে বিকেল সাড়ে ৪টায় হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে তাঁর।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুস সামাদ চৌধুরী, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম অরিকুল আলম, প্রটোকল অফিসার কামরুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর এডিসি স্কোয়াড্রন লিডার সৈয়দ নাজমুল হোসেন। সূত্র: বাসস
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ও টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসির সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে যাত্রাবাড়ী থানার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে যাত্রাবাড়ী থানার বৈষম্যবিরোধী হত্যা মামলায় (মামলা নাম্বার ২৩) গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। যাত্রাবাড়ী থানার ২৬ আগস্ট ২০২৪ তারিখের একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। সে মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
এর আগে বুধবার দুপুরে মহাখালীর ডিবিসি কার্যালয় থেকে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে মিন্টু রোডের ডিবি কার্যালয়ে তুলে আনেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা।
প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, নতুন মজুরি বোর্ডের ওপর সরকারের পূর্ণাঙ্গ আস্থা রয়েছে। বোর্ড শ্রমিক ও মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে যৌক্তিক, গ্রহণযোগ্য ও ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ করবে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শ্রমিক, মালিক ও সরকারের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মাহদী আমিন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
মাহদী আমিন বলেন, আগে পাঁচ বছর অন্তর মজুরি বোর্ড গঠন করা হলেও এবার তিন বছর অন্তর নতুন বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের প্রথম বৈঠকও স্বল্পতম সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় বৈঠক দ্রুত আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে আলোচনা শেষ করে ডিসেম্বরেই নিম্নতম মজুরি ঘোষণা করা হবে বলে বোর্ড জানিয়েছে। মাহদী বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, সেখানে অবশ্যই শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা হবে, শিল্পের স্বার্থ রক্ষা হবে এবং বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা হবে।’
পোশাকশিল্পের স্বার্থে শ্রমিক, মালিক ও সরকারকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে এবং তৈরি পোশাকশিল্পের স্বার্থ রক্ষা করতে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এ খাতের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
মাহদী আমিন আরও বলেন, ঐতিহাসিকভাবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলে এ খাতের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বর্তমান সরকারও পোশাকশিল্পের উন্নয়ন ও শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করতে চায়।
শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, বৈঠকে মালিক, শ্রমিক ও সরকারের প্রতিনিধিদের মধ্যে যে আন্তরিকতা দেখা গেছে, তা কারখানাগুলোতেও বজায় রাখা প্রয়োজন। আজ বৃহস্পতিবার থেকে শ্রমিকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কাজে ফিরবেন বলে সরকার প্রত্যাশা করে। তবে মজুরি বোর্ডের সঙ্গে সংলাপ, পরামর্শ ও আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
পোশাক শিল্পে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ শ্রমিকদের মধ্যে কিছু বহিরাগত ঢুকে উসকানি দিচ্ছেন এবং উত্তেজনা সৃষ্টি করছেন। বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। এতে সাধারণ শ্রমিকদের রক্ত ঝরছে।
এ পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আন্তরিকতা ও ধৈর্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে বলে সরকার আশা করে।
শ্রমিকদের অবদানের কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, শ্রমিকদের ত্যাগ ও সংগ্রামের ওপর ভিত্তি করেই ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ স্লোগান বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও মমত্ববোধ নিয়ে শ্রমিকদের পাশে থাকবে। মজুরি বোর্ডও নিরপেক্ষভাবে মজুরি ঘোষণা করবে বলে সরকারের বিশ্বাস।
এ উপদেষ্টা বলেন, দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক পরিবর্তনেও শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনেও তাদের বড় অবদান ছিল। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো, সবাই বাংলাদেশি। তাই সবাইকে একসঙ্গে দেশের পুনর্গঠনে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
মেট্রোরেল, সেতু ও রেলকোচ কেনার মতো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে অর্থায়ন চেয়েছে বাংলাদেশ। দেশটির সঙ্গে ২০২৩–২০২৭ মেয়াদে ৩০০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিল (ইডিসিএফ) থেকে এসব প্রকল্পে অর্থায়নের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল দক্ষিণ কোরিয়া সফরের দ্বিতীয় দিনে গত মঙ্গলবার দেশটির এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব কোরিয়া (কেক্সিম), কোরিয়া ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন (কেআইসি), শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি ও প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয় গুরুত্ব পায়।
বুধবার (৪ নভেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থায়ন চাওয়া তিন প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ঢাকা এমআরটি লাইন-৫-এর দক্ষিণ রুট, মতলব উত্তর–গজারিয়া সেতু এবং ২৬০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী রেলকোচ কেনা। এসব প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়ে কোরীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের ৩০০ কোটি ডলারের ইডিসিএফ কাঠামোগত চুক্তি চলমান রয়েছে। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ তহবিল থেকে ৩০টি প্রকল্পে ২৭৮ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে। অবশিষ্ট অর্থ ব্যবহারে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার কেক্সিমের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী হোয়াং কিয়নের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। কেক্সিম জানায়, তহবিলের অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কোরীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মেট্রোরেলসহ তিন প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থ ও অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় উপমন্ত্রী চ্যাং হুর সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় পরিচালিত সমন্বিত প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন (আইজিএনডি) উদ্যোগের মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে দক্ষিণ কোরিয়ার কারিগরি সহায়তাকে স্বাগত জানান তিনি।
বৈঠকে কোরীয় পক্ষ এআই, ডিজিটাল রূপান্তর, বিকল্প অর্থায়ন এবং ভবিষ্যতে ইডিসিএফ সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে। আইজিএনডি উদ্যোগে আরও বিস্তৃত অংশগ্রহণ নিয়েও আলোচনা অব্যাহত রাখার কথা জানায় দেশটি।
বাংলাদেশের অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ডিজিটাল খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও কেআইসির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ১০০ থেকে ২০০ কোটি ডলারের বাংলাদেশ সার্বভৌম তহবিলকে সম্ভাব্য বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কোরীয় তহবিল ব্যবস্থাপকদের মাধ্যমে কেআইসির ইকুইটি বিনিয়োগের সঙ্গে কেক্সিমের অর্থায়ন যুক্ত করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখেছে দুই পক্ষ।
প্রযুক্তি সহযোগিতার ক্ষেত্রে এআইকে নতুন সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এলজি এআই রিসার্চের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ভাষার উপযোগী বৃহৎ ভাষা মডেল (এলএলএম) তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদনশিল্প ও সরকারি সেবায় এআই ব্যবহারের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
অন্যদিকে, ইয়ংওনের আয়োজনে কোরীয় বিনিয়োগবিষয়ক ব্যবসায়িক গোলটেবিল বৈঠকে বাংলাদেশের হালকা প্রকৌশল ও যন্ত্রাংশ উৎপাদন খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। কোরীয় কোম্পানিগুলোকে যৌথ উদ্যোগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং মূল্য সংযোজনভিত্তিক সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে চলমান অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে কাজে লাগিয়ে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি খাতে নতুন সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশের এ সফর চলছে।
বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা উপস্থিতির কারণে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে চীনের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান।
সাক্ষাৎকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে দেন লিউ হাইশিং। জবাবে প্রধানমন্ত্রীও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও দেশটির প্রিমিয়ার (প্রধানমন্ত্রী) লি ছিয়াংকে শুভেচ্ছা জানান।
লিউ হাইশিং বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরের সময় দুই দেশের ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি নতুন যুগের যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেই ঘোষণার আলোকে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও সম্প্রসারিত হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে চীনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের প্রতি চীনের অঙ্গীকার অপরিবর্তিত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের সম্ভাবনার প্রতিও আস্থা প্রকাশ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়। দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের জনগণের হৃদয়ে এ সম্পর্কের বিশেষ স্থান রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঐতিহাসিক এই সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা এগিয়ে নেওয়া এখন তাদের দায়িত্ব। তিনি আশা করেন, নতুন প্রজন্মের হাত ধরে দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার এ ঐতিহ্য আরও এগিয়ে যাবে।
তারেক রহমান বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়, যা পরবর্তী সময়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এ কর্মসূচি কৃষির উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখে। বর্তমান সরকারও ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে, যা কৃষক ও সাধারণ মানুষের উপকারে আসবে। সেই সাথে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে৷
চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ও বিএনপির মধ্যে দলীয় পর্যায়ে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন উভয় পক্ষ।
লিউ হাইশিং বলেন, দুই দলের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক করার বিষয়ে চীন আগ্রহী। এ সময় তিনি বিএনপির মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান।
বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনোমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি) এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির জন্য চীনের সমর্থনের কথা জানান লিউ হাইশিং।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৩ লাখ রোহিঙ্গার দীর্ঘদিনের উপস্থিতির কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি, সমাজ, জনমিতি ও পরিবেশের ওপর সৃষ্ট চাপের বিষয়টি তুলে ধরেন। এ সংকট সমাধানে চীনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
জবাবে লিউ হাইশিং বলেন, চীন রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কে অবগত। তিনি এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগের কথা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে অবহিত করবেন বলে জানান। বৈঠকে চীনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দুই দেশের রাজনৈতিক দল ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সাক্ষাৎকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউয়িন, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক পেং শিউবিন এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশ আজ বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বহির্বিশ্বের সাথে যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি সংযুক্ত। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক যাতায়াত ও বাণিজ্য সহজতর করার পাশাপাশি সীমান্ত অতিক্রমকারী ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে।
তিনি বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকায় হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও-এর মেঘনা হলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ইমিগ্রেশন ও বর্ডার গভর্নেন্স সংক্রান্ত আইওএম কৌশলগত রূপরেখা (২০২৭-২০৩১)’ শীর্ষক ব্রিফিং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আধুনিক, সমন্বিত ও প্রযুক্তিভিত্তিক নিরাপদ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা সুসংহত করতে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।
মন্ত্রী বলেন, সীমান্ত পরিচালনায় জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈধ ভ্রমণ ও বাণিজ্যকে গতিশীল করতে হবে। সরকার গৃহীত জাতীয় সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কৌশল এবং পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত সংস্কার ও উন্নয়ন রূপরেখা(২০২৭-২০৩১)-এর ওপর আলোকপাত করে তিনি জানান, ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার, কাগজবিহীন প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সরকারি সেবাগুলোর মধ্যে আন্তঃকার্যক্ষমতা বৃদ্ধিই বর্তমান সরকারের মূল অগ্রাধিকার।
ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নীতি ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে আমাদের বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্টগুলোর কার্যক্রমগত সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করতে হবে। একই সাথে সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে কেবল প্রযুক্তিনির্ভর না করে মানবিক অধিকার ও সুরক্ষার প্রতি সংবেদনশীল এবং পেশাদার মানদণ্ডে উন্নীত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বহুজাতিক অপরাধ, মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কোনো একক সংস্থার দায়িত্ব নয়। এর জন্য সকল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ প্রয়াস প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইওএম-এর প্রস্তাবিত ২০২৭–-২০৩১ মেয়াদের কৌশলগত রূপরেখাকে স্বাগত এবং বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের সীমান্ত কাঠামো গঠনে তাদের সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। একই সাথে তিনি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোকে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহযোগিতা বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ কেবল বাংলাদেশের সীমান্তকেই সুরক্ষিত করবে না, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপদ বিশ্বায়নে বড় অবদান রাখবে।
ব্রিফিং অনুষ্ঠানে আইওএম বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ড. লরা টম বন্ডে বলেন, ‘অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ভ্রমণের ধরন ও কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা পরিবর্তিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর ব্যবস্থা, দক্ষ জনবল এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে আরও ভালো সমন্বয়ের প্রয়োজন বাড়বে। কারিগরি দক্ষতা ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে সরকারের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে আইওএম সহযোগিতা করতে আগ্রহী।’
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. কামরুল আহসান এবং উপপুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং এবং ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোসহ বিভিন্ন অংশীদার সংস্থার প্রতিনিধিগণ আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
আলোচনায় বৈধ যাতায়াত ও বাণিজ্য সহজ করার পাশাপাশি মানবপাচার, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ এবং পরিচয় জালিয়াতির মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপায় নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
উল্লেখ্য, কৌশলগত রূপরেখাতে (কাঠামোটিতে) সম্ভাব্য সহযোগিতার চারটি ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল ব্যবস্থা ও তথ্য আদান-প্রদান, প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নির্বাচিত সীমান্ত পয়েন্টে অবকাঠামো ও সেবার উন্নয়ন। এ কাঠামো বা রূপরেখা প্রণয়নে সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত সংস্কার ও উন্নয়ন রূপরেখা (জুলাই ২০২৬ - জুন ২০৩১) বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আবারও শীর্ষস্থান অর্জন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও গবেষণা সংস্থা কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডসের (কিউএস) ‘ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংস: এশিয়া ২০২৭’-এ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ১৩৬তম এবং দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ১৬তম।
গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) কিউএস এশিয়া ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং প্রকাশ করে। বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গত বছরও বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ফলে আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ধারাবাহিকভাবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়টির এ অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এবারের র্যাঙ্কিংয়ে এশিয়ার ২৬টি দেশের মোট ১ হাজার ৭২২টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। তালিকায় প্রথম অবস্থান অর্জন করেছে হংকং বিশ্ববিদ্যালয়। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চীনের পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা, গবেষণা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার মূল্যায়নের ভিত্তিতে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ অবস্থানকে আনন্দ ও গর্বের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ অবস্থান আমাদের জন্য আনন্দ ও গর্বের। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ধারাবাহিকভাবে শীর্ষস্থান ধরে রাখা শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার স্বীকৃতি।
উপাচার্য আরও বলেন, শুধু র্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান ধরে রাখাই বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য নয়। শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে কাজ চলছে।
তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করা, গবেষণায় সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক মানের দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা কর্তৃপক্ষের অন্যতম অগ্রাধিকার।
উপাচার্যের মতে, এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কিউএস এশিয়া ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান নির্ধারণে একাধিক সূচক বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে একাডেমিক সুনাম, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, গবেষণার মান ও প্রভাব, পিএইচডিধারী শিক্ষকের সংখ্যা, আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি।
এসব সূচকের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সামগ্রিক অবস্থান মূল্যায়ন করা হয়। শিক্ষা ও গবেষণার মান, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার বিভিন্ন দিক এতে প্রতিফলিত হয়।
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষস্থান ধরে রাখার এ অর্জন দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। তবে আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে আরও এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন, গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ঘোষিত অগ্রাধিকারের মধ্যে এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশকে আরও উন্নত করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিসরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
সচিবালয়ের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার, প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সার্বক্ষণিক দৃশ্যমান স্থানে প্রবেশ কার্ড (আইডি কার্ড) প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের সচিবালয় নিরাপত্তা শাখার উপসচিব কাজী আরিফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সচিবালয়ে প্রবেশ ও অবস্থানকালে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর আইডি কার্ড দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে নিজ নিজ মন্ত্রণালয় ও বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সচিবালয়ে স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি সভায় অংশ নিতে আসা ব্যক্তি এবং ওটিপির মাধ্যমে বিভিন্ন দর্শনার্থী প্রবেশ করেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন সচিবালয়ে অফিস করায় এর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং আইডি কার্ড প্রদর্শন একান্ত প্রয়োজন।
এ অবস্থায় সচিবালয়ে প্রবেশ ও অবস্থানকালে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইডি কার্ড সার্বক্ষণিক দৃশ্যমান রাখার নির্দেশনা দিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।
দর্শনার্থী প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে আগের নির্দেশনা: এর আগে গত ২৭ অক্টোবর সচিবালয়ে দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়। এতে সচিবালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদারকির জন্য প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
নির্দেশনায় দর্শনার্থী প্রবেশ ব্যবস্থাপনায় কয়েকটি পদক্ষেপের কথা বলা হয়। এর মধ্যে রয়েছে, সোমবার ও বৃহস্পতিবার দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধের দিনগুলোতে সচিবালয়ের বাইরের অফিসের সঙ্গে সভার সংখ্যা যথাসম্ভব সীমিত রাখা।
এ ছাড়া দর্শনার্থীদের প্রবেশের সময় দুপুর ১২টার পরিবর্তে ২টা নির্ধারণ করায় নতুন সময় অনুযায়ী ওটিপি দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সাধারণ দর্শনার্থীদের সপ্তাহে একটির বেশি ওটিপি না দেওয়ার বিষয়টিও নির্দেশনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ছুটিতে গমনকারী কর্মকর্তাদের ছুটির সময়ের জন্য ওটিপি প্রদান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলায় গুরুত্ব: সচিবালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং দর্শনার্থীদের প্রবেশ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যেই এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশনায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিচয়পত্র দৃশ্যমান রাখার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অন্যদিকে, আগের নির্দেশনায় দর্শনার্থীদের প্রবেশের সময়, ওটিপি প্রদান এবং সভা আয়োজনের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে সচিবালয়ের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, প্রবেশাধিকার ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা আরও সুসংহত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।