সোমবার, ১ জুন ২০২৬
১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

হঠাৎ সুযোগে এমপি হতে দৌড়ঝাঁপ

আপডেটেড
১৪ ডিসেম্বর, ২০২২ ১২:৫৩
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ১৪ ডিসেম্বর, ২০২২ ১২:৫৩

আগাম আভাস ছাড়াই বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশে দলটির সাত সংসদ সদস্য (এমপি) পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরদিন তাদের মধ্যে ছয়জন জাতীয় সংসদে গিয়ে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। হঠাৎ তৈরি হওয়া এই সুযোগে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। এমনকি একটি আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য এখনো পদত্যাগ না করলেও সেখানেও তৎপরতা দেখা গেছে।

বিএনপির পদত্যাগ করা ছয় সংসদ সদস্য হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের মো. আমিনুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের আবদুস সাত্তার, বগুড়া-৪ আসনের মো. মোশাররফ হোসেন, বগুড়া–৬ আসনের জি এম সিরাজ, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের জাহিদুর রহমান এবং সংরক্ষিত আসনের রুমিন ফারহানা। এই আসনগুলো শূন্য ঘোষণা করে গত রোববার গ্যাজেট প্রকাশ করেছে সংসদ সচিবালয়। শূন্য হওয়া এসব আসনে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য দলটির যুগ্ম মহাসচিব মো. হারুনুর রশীদ বিদেশে থাকায় তিনি এখনো পদত্যাগ করেননি। দেশে ফিরে তারও পদত্যাগ করার কথা রয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আ.লীগে চাঙাভাব

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, শূন্য হওয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল, গোমস্তাপুর, ভোলাহাট) আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা এরই মধ্যে তৎপর হয়ে উঠেছেন। বিদেশ থেকে ফিরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদেরও পদত্যাগ করার কথা রয়েছে। তবে তিনি পদত্যাগ করার আগেই উপনির্বাচন মাথায় রেখে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। অবশ্য এই দুই আসনের উপনির্বাচন নিয়ে অন্য দলগুলোর আগ্রহ তেমন নেই।

আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠেয় এ উপনির্বাচন সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। এ উপনির্বাচনে অন্য কোনো দল অংশ নেবে না। আওয়ামী লীগের প্রার্থীই বিজয়ী হয়ে আসবেন।

সেখানে মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের বিলবোর্ড টাঙানো শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে কর্মী-সমর্থকদের প্রচার।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বেশি আলোচনায় আছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের দৌড়ে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য মু জিয়াউর রহমান, গোমস্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা, যুবলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল আলম সৈকত জোয়ার্দার, ভোলাহাট উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ, রাজশাহী জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার, আওয়ামী লীগ নেতা খুরশিদ আলম বাচ্চু, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা কামরুল হাসান লিংকনসহ বেশ কয়েকজন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ বলেন, তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘আমি এর আগে এমপি ছিলাম। গত চার বছরে তেমন কিছুই হয়নি। অনেক উন্নয়ন প্রকল্পই থমকে গেছে। এ সময়ে আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারলে গত চার বছরের যে স্থবিরতা, সেটি অনেকটাই কাটিয়ে তুলতে পারব।’

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউর রহমান বলেন, ‘উপনির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা চেষ্টা করবেন এটাই স্বাভাবিক। নেত্রী যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটাই আমরা মেনে নেব।’

বগুড়ায়ও শুরু হয়েছে দৌড়ঝাঁপ

বগুড়া প্রতিনিধি জানান, বিএনপির সংসদ সদস্যদের পদত্যাগে শূন্য হয়েছে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) ও বগুড়া-৬ (সদর) আসন। এর পরপরই আসন দুটিতে নির্বাচনী হাওয়া লেগেছে। তবে এখানেও সে হাওয়া বইছে শুধু আওয়ামী লীগেই। এই উপনির্বাচনে অংশ নেবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে সিপিবি বা বামজোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও উপনির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বলে জানা গেছে।

বগুড়া-৬ আসনটি বরাবরই ছিল বিএনপির দখলে। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি টি জামান নিকেতারের নাম শোনা যাচ্ছে জোরেশোরে। তিনি এর আগে ২০১৯ সালের উপনির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। এ ছাড়াও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপুর নামও শোনা যাচ্ছে।

বগুড়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু বলেন, বগুড়া-৬ আসনে অনেক দক্ষ ও যোগ্য আওয়ামী লীগ নেতা রয়েছেন। সবাই এমপি হওয়ার মতো যোগ্যতা রাখেন। আমি ছাড়াও অন্তত ১৭ জন আওয়ামী লীগ নেতা উপনির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন।

বগুড়া-৪ আসনে সরব হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা জাসদ সভাপতি রেজাউল করিম তানসেন, নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন রানা, নন্দীগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ, কাহালু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হেলালউদ্দিন কবিরাজসহ বেশ কয়েকজন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন মোস্তফা কামাল ফারুকও সক্রিয় হয়েছেন। আলোচনায় আছেন জাতীয় পার্টির সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য ও সম্মিলিত নাগরিক জোটের বগুড়ার সদস্যসচিব, বগুড়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক উত্তরের দর্পণ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক আব্দুস সালাম বাবুও।

রেজাউল করিম তানসেন বলেন, এর আগে আমি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ১৪ দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এমপি হয়েছিলাম। তাই এবারও আমি আশাবাদী।

কাহালু পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হেলালউদ্দিন কবিরাজ বলেন, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে যাচ্ছি। মতবিনিময় করছি সবার সঙ্গে।

ঠাকুরগাঁওয়ে সক্রিয় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, শূন্য হওয়া ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে এরই মধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ইমদাদুল হক এবং সংসদীয় নারী সংরক্ষিত-১ আসনের সাবেক সদস্য সেলিনা জাহান লিটা। এ ছাড়া পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক বিপ্লব ও রানীশংকৈল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সহিদুল হকও আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী। এ দিকে ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য ইয়াসিন আলী এবং জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য ও দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য হাফিজ উদ্দীন আহমেদও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

ইমদাদুল হক বলেন, ‘দীর্ঘদিন রাজনীতি করছি। আমি দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করে চলেছি। আমি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি।’

সেলিনা জাহান লিটা বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। আমার বাবা ছিলেন এই আসনের প্রথম সংসদ সদস্য। এ আসনের নারী ভোটারসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আমার যোগাযোগ রয়েছে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তৎপর বিভিন্ন দল

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, শূন্য হওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি কয়েকটি দলের প্রার্থী সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। এই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মঈন উদ্দিন মঈন, জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক রেজাউল ইসলাম ভূইয়াসহ বেশ কয়েকজন।

মঈন উদ্দিন মঈন বলেন, ‘১৯৭৩ সালের পর এখানে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নেই। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আবেদন যেন এখানে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়। এতে পিছিয়ে পড়া এলাকা এগিয়ে যাবে।’


বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না লিল্লাহি রাজিউন)। সোমবার (১ জুন) বিকাল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

গত বছরের ২০ নভেম্বর স্ত্রী আনোয়ারা আহমেদ মারা গেছেন।

বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদ দীর্ঘদিন প্যারালাইজডসহ অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গুরুতর অবস্থায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

সে দিনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। অবশ্য পরবর্তীতে চিকিৎসকরা বিষয়টি নাকচ করে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন।

বর্ণাঢ্য জীবন

তোফায়েল আহমেদ ৯ বার জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। সর্বশেষ তিনি ভোলা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দীর্ঘদিন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মৌলভী আজহার আলী ও মা ফাতেমা বেগম। দাম্পত্য জীবনে স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ও একমাত্র সন্তান ডা. তাসলিমা আহমেদ জামান মুন্নীকে রেখে গেছেন।

অ্যাকাডেমিক জীবনে ১৯৬০ সালে ভোলা সরকারি হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও ১৯৬২ সালে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৬৪ সালে বিএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকাবিজ্ঞানে এমএসসি সম্পন্ন করেন।

রাজনীতিতে তোফায়েল আহমেদের হাতেখড়ি হয় ছাত্রলীগের মাধ্যমে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন ১৯৬৬-৬৭ মেয়াদে ইকবাল হলের (বর্তমানে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) নির্বাচিত ভিপি ছিলেন।

১৯৬৮-৬৯-এ গণজাগরণ ও ছাত্র আন্দোলনে তিনি ডাকসুর ভিপি হিসেবে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের কারণে শেখ মুজিবুর রহমানসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সব আসামিকে মুক্তি দেয় তৎকালীন পাকিস্তান সরকার।

কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ সেই বছরেরই ২৩ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবের সম্মানে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যান) এক সভার আয়োজন করে। লাখো জনতার অংশগ্রহণে আয়োজিত এই সম্মেলনে শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি ঘোষণা দেন তোফায়েল আহমেদ।

প্রথমবারের মতো ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয় লাভ করেন তিনি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে তিনি মুজিব বাহিনীর অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার প্রধানের একজন ছিলেন।

দেশ স্বাধীনের পরের বছর ১৯৭২ সালের ১৪ জানুয়ারি প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিবের দায়িত্ব লাভ করেন।

পরবর্তীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নিজের জেলা ভোলা থেকে ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করেন।

১৯৯৬ সালের ২৩ জুন তিনি শেখ হাসিনা সরকারের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে ২০১৩-১৮ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন।

রাজনৈতিক কারণে ১৯৭৫ সাল থেকে টানা ৩৩ মাস-সহ অসংখ্যবার কারাভোগ করেন এই নেতা।


বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাধ্য হয়েই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদ্যমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অনেকটা বাধ্য হয়েই অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সোমবার (১ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করেন যে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে দেশের বাজারেও তা দ্রুত কমিয়ে আনা হবে। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, সরকার কেবল তখনই এমন কঠিন ও অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নেয় যখন এছাড়া আর কোনো বিকল্প পথ খোলা থাকে না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি কথা কিন্তু বারবার বলার চেষ্টা করেছি যে, একান্ত যখন উপায়হীন হবে সরকার তখনই এ ধরনের অপ্রিয় কিছু সিদ্ধান্ত হয়তোবা নিতে বাধ্য হবে। তো মিডল ইস্ট ক্রাইসিসের কারণে এ ধরনের বাস্তবতা এসেছে।’

প্রতিমন্ত্রী অমিত জানান, দেশের জ্বালানি ব্যবহারের ৬৬ শতাংশই ডিজেল হওয়ায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যয় ও পণ্য পরিবহনের খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এর দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন যে, ডিজেলের পেছনেই সরকারকে সবচেয়ে বেশি আর্থিক ভর্তুকি দিতে হয়, তবুও ‘সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবে অ্যাফেক্টেড না হন’ সেই লক্ষ্যেই এর দাম বাড়ানো হয়নি। তবে সামগ্রিক ব্যয় সামাল দিতে অনিচ্ছা সত্ত্বেও কিছু ক্ষেত্রে দাম সমন্বয় করতে হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘না, না, আমি খুব স্পষ্ট করে বলতে পারি যে আমরা তো আশাবাদী যে মিডল ইস্ট ক্রাইসিস অচিরেই রিজলভ (মধ্যপ্রাচ্য সংকট সমাধান) হবে। আমি খুব দায়িত্ব নিয়েই বলতে পারি যদি গ্লোবাল প্রাইস মানে শার্পলি ডিক্লাইন করে আমরাও খুব শার্পলি এটা অ্যাডজাস্ট করার চেষ্টা করবো।’ আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে তার সুফল দেশের মানুষ যেন পায়, সেটি নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

অতীতের অভিজ্ঞতার কথা টেনে তিনি বলেন, ‘মানে বাড়ে যেভাবে হয়তো বা সেভাবে কমে না। কিন্তু আমি এটুকু দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি যদি এই ক্রাইসিস রিজলভ হয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য কমে আসে আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন, যেহেতু এটা নির্বাচিত সরকার, জনগণের প্রতি আমাদের একটি দায়বদ্ধতা রয়েছে, সেই দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে জনগণের কষ্ট লাঘবের জন্য আমরা ত্বরিত সিদ্ধান্ত নেবো ইনশাআল্লাহ।’ উল্লেখ্য যে, ১ জুন থেকে কার্যকর হওয়া নতুন দর অনুযায়ী ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার অকটেন ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।


পদত্যাগ করলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপন দেওয়ান

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। সোমবার (১ জুন) তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিকট তাঁর আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা দেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন যে, মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি বিভিন্ন প্রকার শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হয়েছেন, যার ফলে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড ও অর্পিত দায়িত্ব পালন করা তাঁর জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।

দীপেন দেওয়ান তাঁর পদত্যাগপত্রে আরও জানান, বর্তমান সরকারের গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা যেন কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সেই মহতী উদ্দেশ্যেই তিনি স্বেচ্ছায় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি মনে করেন, অসুস্থ অবস্থায় পদে বহাল থাকা মন্ত্রণালয়ের কাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ সকল বিষয় বিবেচনা করে তিনি পদত্যাগপত্রটি সদয় গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিনীত অনুরোধ জানান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীপেন দেওয়ানের এই পদত্যাগপত্রটি ইতোমধ্যেই গ্রহণ করেছেন। দীপেন দেওয়ানের এই পদত্যাগের ফলে মন্ত্রিসভায় একটি পদ শূন্য হলো এবং ওই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বভার কার হাতে ন্যস্ত হবে সে বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।


ঈদের ছুটি শেষে সচিবালয়ে অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জুন, ২০২৬ ১২:১২
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন শেষে প্রথম কর্মদিবসে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সোমবার (১ জুন) সকাল ১০টার দিকে তিনি সচিবালয়ে প্রবেশ করে সকলের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহা উদযাপন শেষে সোমবার সকালে সচিবালয়ে আসেন প্রধানমন্ত্রী। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এছাড়া দুপুর দেড়টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ ভবনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা এবং দুপুর ২টায় ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়নে করণীয় নির্ধারণ সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে উপস্থিতি এবং সরকারি কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ছুটির পর সরকারের নিয়মিত কার্যক্রমও পূর্ণমাত্রায় শুরু হলো।


জাতিসংঘের মরণোত্তর ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড' পদক পাচ্ছে ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আফ্রিকার বিতর্কিত আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী ছয় বাংলাদেশি বীর সেনানীকে মরণোত্তর ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক’ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতিসংঘ। আগামী ৫ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বিশ্ব শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই সম্মাননা প্রদান করবেন। জাতিসংঘের এক সাম্প্রতিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই গৌরবময় তথ্যটি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সম্মাননা প্রাপ্ত এই ছয় সাহসী শান্তিরক্ষী হলেন— মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. সবুজ মিয়া, মো. মাসুদ রানা, মো. মোমিনুল ইসলাম, শামীম রেজা ও সান্ত মণ্ডল। উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর আবেইতে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনীতে (ইউএনআইএসএফএ) দায়িত্ব পালনকালে একটি আকস্মিক ড্রোন হামলায় তাঁরা নির্মমভাবে শাহাদাত বরণ করেন। বিশ্ব শান্তির রক্ষায় তাঁদের এই নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগকে চিরস্মরণীয় করে রাখতেই এই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে ১৯৪৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো প্রায় সাড়ে ৪ হাজার শান্তিরক্ষীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন জাতিসংঘ মহাসচিব। এবারের আয়োজনে গত এক বছরে নিহত ৫৯ জনসহ মোট ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর এই পদকে ভূষিত করা হবে। এটি বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের সাহসিকতার একটি বৈশ্বিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত।

বর্তমানে বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে জনবল প্রেরণের ক্ষেত্রে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম দেশ হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। দেশের ৪ হাজারেরও বেশি দক্ষ সামরিক ও পুলিশ সদস্য বর্তমানে আবেই, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, লেবানন ও দক্ষিণ সুদানসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। বিশেষত ২৭৭ জন বাংলাদেশি নারী শান্তিরক্ষীর সক্রিয় অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক মহলে ভূয়সী প্রশংসা কুড়াচ্ছে। বর্তমানে ১১টি মিশনে ১১৮টি দেশের প্রায় ৫০ হাজার শান্তিরক্ষী নিয়োজিত রয়েছেন।


মে মাসে মব সহিংসতায় ৩২ মৃত্যু, গত ছয় মাসে সর্বোচ্চ: এমএসএফের উদ্বেগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা ও মব সহিংসতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে মে মাসে সর্বোচ্চ ৩২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) মে মাসের ‘মানবাধিকার পরিস্থিতি মনিটরিং প্রতিবেদন’-এ এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে, যা গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল স্বাক্ষরিত এই প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বরে ১০ জন নিহত হওয়ার পর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এই সংখ্যাটি যথাক্রমে ২১, ১৮, ১৯ ও ২১ জনে ওঠানামা করছিল, যা মে মাসে এসে এক লাফে ৩২ জনে পৌঁছায়।

এমএসএফ উল্লেখ করেছে, সামাজিক বিরোধগুলো সহিংসতায় রূপ নেওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও মবের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন, যা রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের দুর্বলতা এবং বিচারবহির্ভূত প্রবণতাকেই নির্দেশ করে।

প্রতিবেদনে মব সহিংসতার পাশাপাশি সীমান্ত পরিস্থিতি, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের অন্যান্য সূচকেও বড় ধরনের অবনতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। মে মাসে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে ও নির্যাতনে চারজনসহ সীমান্তসংশ্লিষ্ট ঘটনায় মোট সাতজন এবং মিয়ানমার সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।

এ ছাড়া রাজনৈতিক সহিংসতায় মে মাসে তিনজন নিহত ও ১৯৩ জন আহত হওয়ার পাশাপাশি ধর্ষণের ঘটনা এপ্রিলের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মে মাসে মোট ৭০টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ১৬টি দলবদ্ধ ধর্ষণ এবং ৬টি ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা রয়েছে। একই সাথে মাসটিতে ৫৩টি অজ্ঞাতনামা মরদেহ উদ্ধার এবং কারা হেফাজতে সাতজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়ে সামগ্রিক মানবাধিকার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।


ভোক্তাপর্যায়ে ফের বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ৩১ মে, ২০২৬ ২২:৫৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম পুনরায় বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় রবিবার (৩১ মে) এক বার্তার মাধ্যমে জানিয়েছে যে, জুন মাসের জন্য পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা হারে বাড়ানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, বিশ্ববাজারের অস্থিতিশীলতার সাথে অভ্যন্তরীণ বাজার সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতেই সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, "বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস/বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তাপর্যায়ে বিক্রয়মূল্য ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা,পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকায় পুনর্নির্ধারণ করা হলো।"
নতুন এই দর আগামীকাল ১ জুন থেকে সারা দেশে কার্যকর হতে যাচ্ছে। মে মাসে প্রতি লিটার পেট্রোল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকায় নির্ধারিত থাকলেও ডিজেলের মূল্য ১১৫ টাকায় অপরিবর্তিত ছিল। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সরকার এই পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উল্লেখ্য যে, প্রতি মাসেই বিশ্ববাজারের দরের ওপর ভিত্তি করে দেশীয় বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করার নিয়মিত চর্চা অনুসরণ করে আসছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। এর ফলে পেট্রোল ও অকটেনের ব্যবহারকারীদের ওপর ব্যয়ের বাড়তি চাপ তৈরি হলো।


আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আদ-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল এবং বেইলি রোডের মনোয়ারা হাসপাতালে যৌথ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। রবিবার (৩১ মে) বিকালে ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়।
অভিযানকালে মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ক্যান্টিনের ফ্রিজে লেবেলবিহীন ও জমাটবদ্ধ বাসি মিষ্টি রাখা, রান্নাঘরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, বিভিন্ন ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের অভাব এবং হাসপাতালের রেফ্রিজারেটরে তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র না থাকাসহ বিভিন্ন অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়। এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইনে ১ লাখ টাকা এবং নিরাপদ খাদ্য আইনে ২ লাখ টাকা—সর্বমোট ৩ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে দণ্ড আরোপ করা হয় এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
জরিমানার পাশাপাশি হাসপাতালের সামগ্রিক পরিবেশের উন্নয়ন, পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা রাখা, রেফ্রিজারেটরে তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র স্থাপন, ক্যান্টিনের মানোন্নয়ন এবং বেকারি স্থানান্তরের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কঠোরভাবে সতর্ক করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হয়।
এছাড়া বেইলি রোডের মনোয়ারা হাসপাতালেও মোবাইল কোর্টের অভিযান পরিচালিত হয়। এসময় হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দেওয়া হয়।
অভিযান পরিচালনাকালে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. মো. মাহমুদুর রহমান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-১-এর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফারিয়া ফয়েজ, নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মো. আসলাম ভূঁইয়া, রমনা থানার পুলিশ সদস্যরা এবং সিটি করপোরেশনের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত থেকে সহযোগিতা করেন।
জনস্বার্থে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এই যৌথ ও নিয়মিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


সামনে কঠিন সময়, হেসেখেলে কাটালে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে : প্রধানমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নির্দেশিত পথে দেশ পরিচালনা এবং নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সফল সরকার গঠন করাই তার প্রতি পরিপূর্ণ সম্মান প্রদর্শনের একমাত্র পথ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রদর্শিত পথে দেশ পরিচালনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
আজ রবিবার (৩১ মে) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি বর্তমান সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে বলেন, "জিয়াউর রহমান যেভাবে দেশ গঠন করতে চেয়েছিলেন, বর্তমান সরকার সেভাবেই চলার চেষ্টা করছে। মানুষ তাদের কাছেই প্রত্যাশা করে, যাদের কাছে কিছু পেতে পারে।" ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সমৃদ্ধির স্বার্থে আলস্য ত্যাগের পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, "আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। এই সময় হেসেখেলে কাটিয়ে দিলে দেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।"
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রসারে শিক্ষা ও তথ্য মন্ত্রণালয়কে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "দেশে সামাজিক, ধর্মীয় ও পারিবারিক মূল্যবোধের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। বিষয়গুলো কিভাবে শিশুদের মাঝে তৈরি করা যায়, তা নিয়ে তথ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।" জিয়ার সততা ও কর্মনিষ্ঠার ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও উল্লেখ করেন, "জিয়াউর রহমান কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এমন স্থানে নিয়ে গিয়েছেন, তাতে মানুষ জিয়া ও বাংলাদেশকে এক রকম মনে করত। কঠোর পরিশ্রম, সততার মাধ্যমে দেশে অনেক পরিবর্তন এনেছিলেন তিনি। জিয়াউর রহমানের সেই পথ অনুসরণ করতে হবে।"
এছাড়া দলের নেতা-কর্মীদের কঠোর পরিশ্রম ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, "নির্বাচনের আগের মতো পরিশ্রম জারি রাখতে হবে। ইশতেহার বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারকে সফল করতে হবে।" মূলত জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন দর্শনের মাধ্যমেই বর্তমান প্রতিকূলতা মোকাবিলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।


রামিসা হত্যা মামলার বিচার শুরু কাল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি

চাঞ্চল্যকর রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলার বিচারিক কার্যক্রম আগামীকাল পহেলা জুন থেকে শুরু হচ্ছে। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান এই মামলায় আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দৃঢ় আশা ব্যক্ত করেছেন। আজ রোববার সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা পরিষদের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালত যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন বলে সরকার বিশ্বাস করে।

মামলার অগ্রগতি নিয়ে আইনমন্ত্রী জানান যে, সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে অর্থাৎ মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই এই মামলার চার্জশিট প্রদান করা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে সঠিক সময়ে চার্জশিট দাখিল করার মাধ্যমে রাষ্ট্রপক্ষ তাদের প্রাথমিক দায়িত্ব পালন করেছে। আদালত খোলার প্রথম দিনেই মামলাটি শুনানির তালিকায় রাখা হয়েছে এবং এর গুরুত্ব বিবেচনা করে বিচারিক কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে সর্বোচ্চ দণ্ড প্রার্থনা করবে।

সংবিধান সংশোধন কমিটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন যে, ১৭ সদস্যের প্রস্তাবিত কমিটির জন্য বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো নাম পাওয়া যায়নি। সরকার ইতিমধ্যে নিজেদের পক্ষ থেকে সাতজন এবং অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে পাঁচজন সদস্যের তালিকা চূড়ান্ত করেছে। বিরোধী দলের জন্য নির্ধারিত পাঁচটি নামের জন্য সরকার বর্তমানে অপেক্ষা করছে। বিরোধী দলের মতামত ও নাম পাওয়া গেলেই জুলাই সনদের ধারাবাহিকতায় সংবিধান সংশোধনের মূল কাজ পুরোদমে শুরু হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আইনমন্ত্রী আরও জানান যে, মানবাধিকার আইন এবং গুম কমিশন আইন কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকার ইতিমধ্যে প্রথম পর্যায়ের পরামর্শ সভা সম্পন্ন করেছে। সেখান থেকে আসা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ ও মতামত এখন গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বাস্তবতার নিরিখে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই আইনগুলোকে জনস্বার্থে কার্যকর করার লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চলছে। প্রশাসনিক ও আইনি সংস্কারের মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন সুসংহত করতে সরকার একটির পর একটি ধাপ অতিক্রম করছে বলে তিনি দাবি করেন।


হজ শেষে দেশে ফিরলেন ৬ হাজারের বেশি হাজি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র হজ পালন শেষে বাংলাদেশিদের ফিরতি যাত্রা শুরু হয়েছে। গত ৩০ মে মধ্যরাত ৩টা পর্যন্ত মোট ১৫টি ফিরতি ফ্লাইটে ৬ হাজার ১৭৫ জন হাজি নিরাপদে দেশে পৌঁছেছেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টাল ও আইটি হেল্প ডেস্কের প্রকাশিত সর্বশেষ বুলেটিনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এবারের হজ মৌসুমে অংশগ্রহণকারী হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনার ৪১৬ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনার ৫ হাজার ৭৫৯ জন ইতিমধ্যে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন।

ফিরতি ফ্লাইট ব্যবস্থাপনায় তিনটি এয়ারলাইন্স সরাসরি অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তিনটি ফ্লাইটে ১ হাজার ১৮৪ জন এবং সৌদি এয়ারলাইন্স চারটি ফ্লাইটে ১ হাজার ৬৯১ জন হাজি পরিবহন করেছে। অন্যদিকে, ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স সবচেয়ে বেশি আটটি ফ্লাইটে ৩ হাজার ৩০০ জন হাজিকে ঢাকায় পৌঁছে দিয়েছে। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এই ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

আনন্দের এই প্রত্যাবর্তনের মধ্যেও কিছু শোক সংবাদ পাওয়া গেছে। সৌদি আরবে এ পর্যন্ত মোট ৩৭ জন বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৪ জন পুরুষ ও ১৩ জন নারী। মৃতদের মধ্যে ২৭ জন মক্কায় এবং ১০ জন মদিনায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। এ ছাড়া অসুস্থ হয়ে পড়ার কারণে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ১৭৬ জন হাজি চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছেন এবং বর্তমানে ২৬ জন হাজি সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাজিদের নির্বিঘ্নে দেশে ফেরা নিশ্চিত করতে মক্কায় বাংলাদেশ মিশনের কনফারেন্স কক্ষে একটি বিশেষ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় হাজিদের আবাসন, চিকিৎসা এবং নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। প্রশাসনিক দল, চিকিৎসক এবং আইটি দলের প্রতিনিধিরা এই সভায় উপস্থিত থেকে পরবর্তী কার্যক্রমের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালনের কোটা নির্ধারিত ছিল। হজযাত্রীদের সৌদি আরবগামী ফ্লাইট গত ১৮ এপ্রিল শুরু হয়ে ২১ মে শেষ হয়েছিল। দীর্ঘ এক মাসের সফর শেষে গত ৩০ মে থেকে পুনরায় হাজিরা ফিরতে শুরু করেছেন। হাজিদের ফিরে আসার প্রক্রিয়া যেন কোনো ধরনের বিড়ম্বনা ছাড়াই সম্পন্ন হয়, সে জন্য ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও বিশেষ নজরদারি ও সহায়তা কেন্দ্র চালু রাখা হয়েছে।


প্রধানমন্ত্রীর সান্নিধ্যে দৃষ্টিহীন নূরজাহানের স্বপ্নপূরণ

আপডেটেড ৩১ মে, ২০২৬ ১১:৫৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

বয়সের ভারে ন্যুব্জ এবং দৃষ্টিহীন হয়েও দীর্ঘদিনের এক স্বপ্ন লালন করছিলেন নূরজাহান বেগম। তাঁর প্রবল ইচ্ছা ছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান তারেক রহমানকে একবারের জন্য হলেও খুব কাছ থেকে দেখার এবং তাঁর সঙ্গে কথা বলার। গতকাল শনিবার রাজধানীর শাহজাহানপুরে একটি জনকল্যাণমূলক অনুষ্ঠানে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তটি নূরজাহান বেগমের জীবনে আসে, যেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সান্নিধ্য পান এবং সরাসরি কথা বলার সুযোগ লাভ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতার ঘোষক ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শাহজাহানপুরে দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এই আয়োজনের এক পর্যায়ে নূরজাহান বেগম প্রধানমন্ত্রীর সান্নিধ্যে আসেন। যদিও তিনি চোখে দেখতে পান না, তবে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি অনুভব করে তিনি অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেওয়ায় তিনি এক অভাবনীয় মানসিক শান্তি অনুভব করেন।

সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বৃদ্ধার সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কথা বলেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে নূরজাহান বেগম তাঁর জীবনের এক বড় ইচ্ছা পূরণ হয়েছে বলে জানান। সেই আবেগঘন মুহূর্তে তিনি প্রধানমন্ত্রীর মাথায় হাত রেখে এবং হাত ধরে প্রাণভরে দোয়া করেন। এমন মানবিক দৃশ্য দেখে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাঝে এক মর্মস্পর্শী পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

নূরজাহান বেগমের ব্যক্তিগত জীবন অত্যন্ত নিঃসঙ্গ ও কষ্টসাধ্য। তাঁর গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের বিক্রমপুর এলাকায়। বর্তমানে বৃদ্ধ বয়সে তাঁর আপন বলতে কেউ নেই; স্বামী ও সন্তান কাউকেই বেঁচে নেই তাঁর। চরম দারিদ্র্য ও দৃষ্টিহীনতা সত্ত্বেও জিয়া পরিবারের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে দেখার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতেন। অবশেষে এই মহতী আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাঁর সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নূরজাহান বেগমের মতো সাধারণ মানুষের এই গভীর ভালোবাসা প্রধানমন্ত্রীকে জনসেবায় আরও বেশি অনুপ্রাণিত করে। একজন দৃষ্টিহীন নাগরিকের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করতে পেরে প্রধানমন্ত্রী নিজেও ব্যক্তিগতভাবে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। এই সাক্ষাৎ কেবল একজন সাধারণ মানুষের ইচ্ছা পূরণ নয়, বরং নেতৃত্বের সঙ্গে সাধারণ জনগণের নিবিড় আত্মিক সম্পর্কের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।


সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য বহুল আলোচিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন এই বেতন কাঠামো কার্যকর হতে পারে বলে জানা গেছে। এই পদক্ষেপে কেবল মূল বেতনই নয়, বরং বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। নতুন পে-স্কেল নিয়ে ইতিমধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে, যা দীর্ঘ এক দশকের মধ্যে দেশের প্রশাসনিক কাঠামোয় সবচেয়ে বড় আর্থিক সংস্কার হতে পারে।

নবম জাতীয় পে-কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। মূলত ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ কর্মচারীদের জীবনমান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ায় এই বিশেষ সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাবনাটি বাস্তবায়িত হলে ১ম গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বিদ্যমান প্রতিটি ধাপে বেতন সমানুপাতিক হারে বৃদ্ধি পাবে, যা সরকারি সেবায় নিয়োজিত জনবলের আর্থিক সক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে।

নতুন এই বেতন কাঠামোতেও বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিটি গ্রেডের বেতন সীমা পুনর্গঠন করার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০তম বা সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং ১ম বা সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ বেতন বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে মেধাবীদের আরও বেশি আকৃষ্ট করার পাশাপাশি দুর্নীতিরোধ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

নতুন পে-স্কেলে আর্থিক নিরাপত্তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি অবসরে যাওয়া কর্মীদের পেনশন এবং বর্তমানে কর্মরতদের বিভিন্ন ভাতার হার পুনর্নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। চাকরিজীবীদের জন্য আধুনিক ও উন্নত জীবনমান নিশ্চিত করতে বেতনের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আর্থিক সুবিধাদিও এমনভাবে সাজানো হচ্ছে যেন তা সমসাময়িক অর্থনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। এর ফলে সরকারি খাতের ব্যয় বাড়লেও এটি সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিশেষে বলা যায়, নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে চলেছে। তবে এই বিশাল পরিবর্তন কার্যকর করার আগে সরকারের উচ্চপর্যায়ের চূড়ান্ত অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন সবাই। বাজেট বরাদ্দের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে বা একযোগে এই বেতন কাঠামো কার্যকর হতে পারে। প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার পরেই এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের পূর্ণাঙ্গ সুফল ভোগ করতে পারবেন দেশের লক্ষ লক্ষ সরকারি চাকরিজীবী।


banner close