আগাম আভাস ছাড়াই বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশে দলটির সাত সংসদ সদস্য (এমপি) পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরদিন তাদের মধ্যে ছয়জন জাতীয় সংসদে গিয়ে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। হঠাৎ তৈরি হওয়া এই সুযোগে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। এমনকি একটি আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য এখনো পদত্যাগ না করলেও সেখানেও তৎপরতা দেখা গেছে।
বিএনপির পদত্যাগ করা ছয় সংসদ সদস্য হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের মো. আমিনুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের আবদুস সাত্তার, বগুড়া-৪ আসনের মো. মোশাররফ হোসেন, বগুড়া–৬ আসনের জি এম সিরাজ, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের জাহিদুর রহমান এবং সংরক্ষিত আসনের রুমিন ফারহানা। এই আসনগুলো শূন্য ঘোষণা করে গত রোববার গ্যাজেট প্রকাশ করেছে সংসদ সচিবালয়। শূন্য হওয়া এসব আসনে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য দলটির যুগ্ম মহাসচিব মো. হারুনুর রশীদ বিদেশে থাকায় তিনি এখনো পদত্যাগ করেননি। দেশে ফিরে তারও পদত্যাগ করার কথা রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আ.লীগে চাঙাভাব
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, শূন্য হওয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল, গোমস্তাপুর, ভোলাহাট) আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা এরই মধ্যে তৎপর হয়ে উঠেছেন। বিদেশ থেকে ফিরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদেরও পদত্যাগ করার কথা রয়েছে। তবে তিনি পদত্যাগ করার আগেই উপনির্বাচন মাথায় রেখে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। অবশ্য এই দুই আসনের উপনির্বাচন নিয়ে অন্য দলগুলোর আগ্রহ তেমন নেই।
আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠেয় এ উপনির্বাচন সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। এ উপনির্বাচনে অন্য কোনো দল অংশ নেবে না। আওয়ামী লীগের প্রার্থীই বিজয়ী হয়ে আসবেন।
সেখানে মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের বিলবোর্ড টাঙানো শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে কর্মী-সমর্থকদের প্রচার।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বেশি আলোচনায় আছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের দৌড়ে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য মু জিয়াউর রহমান, গোমস্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা, যুবলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল আলম সৈকত জোয়ার্দার, ভোলাহাট উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ, রাজশাহী জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার, আওয়ামী লীগ নেতা খুরশিদ আলম বাচ্চু, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা কামরুল হাসান লিংকনসহ বেশ কয়েকজন।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ বলেন, তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘আমি এর আগে এমপি ছিলাম। গত চার বছরে তেমন কিছুই হয়নি। অনেক উন্নয়ন প্রকল্পই থমকে গেছে। এ সময়ে আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারলে গত চার বছরের যে স্থবিরতা, সেটি অনেকটাই কাটিয়ে তুলতে পারব।’
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউর রহমান বলেন, ‘উপনির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা চেষ্টা করবেন এটাই স্বাভাবিক। নেত্রী যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটাই আমরা মেনে নেব।’
বগুড়ায়ও শুরু হয়েছে দৌড়ঝাঁপ
বগুড়া প্রতিনিধি জানান, বিএনপির সংসদ সদস্যদের পদত্যাগে শূন্য হয়েছে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) ও বগুড়া-৬ (সদর) আসন। এর পরপরই আসন দুটিতে নির্বাচনী হাওয়া লেগেছে। তবে এখানেও সে হাওয়া বইছে শুধু আওয়ামী লীগেই। এই উপনির্বাচনে অংশ নেবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে সিপিবি বা বামজোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও উপনির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বলে জানা গেছে।
বগুড়া-৬ আসনটি বরাবরই ছিল বিএনপির দখলে। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি টি জামান নিকেতারের নাম শোনা যাচ্ছে জোরেশোরে। তিনি এর আগে ২০১৯ সালের উপনির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। এ ছাড়াও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপুর নামও শোনা যাচ্ছে।
বগুড়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু বলেন, বগুড়া-৬ আসনে অনেক দক্ষ ও যোগ্য আওয়ামী লীগ নেতা রয়েছেন। সবাই এমপি হওয়ার মতো যোগ্যতা রাখেন। আমি ছাড়াও অন্তত ১৭ জন আওয়ামী লীগ নেতা উপনির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন।
বগুড়া-৪ আসনে সরব হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা জাসদ সভাপতি রেজাউল করিম তানসেন, নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন রানা, নন্দীগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ, কাহালু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হেলালউদ্দিন কবিরাজসহ বেশ কয়েকজন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন মোস্তফা কামাল ফারুকও সক্রিয় হয়েছেন। আলোচনায় আছেন জাতীয় পার্টির সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য ও সম্মিলিত নাগরিক জোটের বগুড়ার সদস্যসচিব, বগুড়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক উত্তরের দর্পণ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক আব্দুস সালাম বাবুও।
রেজাউল করিম তানসেন বলেন, এর আগে আমি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ১৪ দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এমপি হয়েছিলাম। তাই এবারও আমি আশাবাদী।
কাহালু পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হেলালউদ্দিন কবিরাজ বলেন, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে যাচ্ছি। মতবিনিময় করছি সবার সঙ্গে।
ঠাকুরগাঁওয়ে সক্রিয় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, শূন্য হওয়া ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে এরই মধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ইমদাদুল হক এবং সংসদীয় নারী সংরক্ষিত-১ আসনের সাবেক সদস্য সেলিনা জাহান লিটা। এ ছাড়া পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক বিপ্লব ও রানীশংকৈল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সহিদুল হকও আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী। এ দিকে ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য ইয়াসিন আলী এবং জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য ও দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য হাফিজ উদ্দীন আহমেদও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।
ইমদাদুল হক বলেন, ‘দীর্ঘদিন রাজনীতি করছি। আমি দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করে চলেছি। আমি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি।’
সেলিনা জাহান লিটা বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। আমার বাবা ছিলেন এই আসনের প্রথম সংসদ সদস্য। এ আসনের নারী ভোটারসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আমার যোগাযোগ রয়েছে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তৎপর বিভিন্ন দল
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, শূন্য হওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি কয়েকটি দলের প্রার্থী সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। এই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মঈন উদ্দিন মঈন, জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক রেজাউল ইসলাম ভূইয়াসহ বেশ কয়েকজন।
মঈন উদ্দিন মঈন বলেন, ‘১৯৭৩ সালের পর এখানে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নেই। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আবেদন যেন এখানে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়। এতে পিছিয়ে পড়া এলাকা এগিয়ে যাবে।’
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত জনভোগান্তি কমাতে এবং সেবার মান ত্বরান্বিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এখন থেকে মাঠপর্যায়ের উপজেলা বা থানা নির্বাচন কার্যালয়ের পাশাপাশি আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদেরও ভোটারের আঙুলের ছাপ বা বায়োমেট্রিক যাচাই করার ক্ষমতা প্রদান করা হচ্ছে। বুধবার নির্বাচন কমিশনের এনআইডি অনুবিভাগের সিস্টেম ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আগে এই প্রযুক্তিগত সুবিধা কেবল উপজেলা ও থানা পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকায় সাধারণ মানুষকে পরিচয় নিশ্চিতকরণ বা এনআইডি সংশোধনের ক্ষেত্রে দ্বিমুখী বিড়ম্বনার শিকার হতে হতো।
বর্তমানে জাতীয় পরিচয়পত্রে নিজের নাম কিংবা পিতা-মাতার নামের মতো মৌলিক ও বড় ধরনের সংশোধনের জন্য নাগরিকদের বাধ্যতামূলকভাবে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যেতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে সব প্রয়োজনীয় নথিপত্র সঠিক থাকা সত্ত্বেও, ওই কার্যালয়ে আঙুলের ছাপ যাচাইয়ের কারিগরি সুবিধা তথা ‘এফআইএস ম্যাচিং’ ব্যবস্থা না থাকায় সেবাগ্রহীতাদের পুনরায় উপজেলা বা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। এই দীর্ঘসূত্রিতা ও ভোগান্তি লাঘবের উদ্দেশ্যেই আঞ্চলিক পর্যায়ে বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের সক্ষমতা চালুর বিষয়ে নীতিগত আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাওয়ার পরপরই মাঠপর্যায়ের আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোতে এই সুবিধা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে। কমিশনের এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষ দ্রুততম সময়ে এনআইডি সংশোধন ও পরিচয় নিশ্চিতকরণের সেবা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫১ জন এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ streetlight ৮৫ হাজার ৫২৪ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ১২০ জন। বিশাল এই জনগোষ্ঠীর পরিচয়পত্রের নিরাপত্তা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের বিকেন্দ্রীকরণ অত্যন্ত জরুরি ছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রশাসনিক এই পরিবর্তনের পাশাপাশি জাতীয় সংকটে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাবে সরকার ঘোষিত সাশ্রয়ী নীতির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে ইসি সচিবালয়। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ মাঠপর্যায়ের সব কর্মকর্তাকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেল ব্যবহারে সর্বোচ্চ সাশ্রয়ী হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। বিশেষ করে কার্যালয়গুলোতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে রাখা এবং সরকারি যানবাহনের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার পরিহার করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জারি করা ১১ দফা নির্দেশনার আলোকে নির্বাচন কমিশন তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যয় সংকোচন এবং সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এর ফলে প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ব্যয় হ্রাসে কমিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন কর্ণফুলী টানেল রুটিন রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য ট্রাফিক ডাইভারসন বা যানচলাচল নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রতিদিন দিবাগত রাতে এই কার্যক্রম চলবে।
সেতু কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, রক্ষণাবেক্ষণ কাজের সুবিধার্থে এই কদিন রাত ১১:০০টা হতে ভোর ০৫:০০টা পর্যন্ত প্রয়োজন অনুযায়ী 'পতেঙ্গা হতে আনোয়ারা' অথবা 'আনোয়ারা টু পতেঙ্গা' টিউবের ট্রাফিক ডাইভারসন করা হবে। অর্থাৎ, এক লেনের গাড়ি অন্য লেন দিয়ে নিয়ন্ত্রিতভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করা হতে পারে।
এই সময় বিদ্যমান যানবাহনের চাপ অনুযায়ী টানেলের উভয় প্রবেশমুখে সম্মানিত যাত্রী ও চালকদের সর্বনিম্ন ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট অপেক্ষমাণ থাকার প্রয়োজন হতে পারে।
টানেলের নিরাপদ ও কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে কর্তৃপক্ষ। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য তারা দুঃখ প্রকাশ করেছে।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে জুলাই বিপ্লব সংশ্লিষ্ট চারটি অধ্যাদেশের বিষয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির সব সদস্য ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
বুধবার (২৫ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে আয়োজিত বিশেষ কমিটির মুলতবি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এরইমধ্যে ১২০টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করেছি। পর্যালোচনার ক্ষেত্রে জুলাই সনদ এবং দেশের সংবিধানকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে জুলাই সংক্রান্ত চারটি অধ্যাদেশের বিষয়ে কমিটির সবাই একমত হয়েছেন। অবশিষ্ট অধ্যাদেশগুলো নিয়ে আগামী ২৯ মার্চ পুনরায় আলোচনা করা হবে।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই বিশেষ কমিটির বৈঠকটি বুধবার দুপুর ২টায় শুরু হয়। এর আগে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বেলা ১১টায় প্রথম দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গত ১৫ মার্চ স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে কোনগুলো স্থায়ী আইন হিসেবে বহাল থাকবে এবং কোনটি বাতিল হবে, তা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়াই এই কমিটির মূল দায়িত্ব।
কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, অবশিষ্ট ১৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে ২৯ মার্চের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনার পর চূড়ান্ত সুপারিশ প্রণয়ন করা হবে, যা পরবর্তী সময়ে সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ২৫ মার্চের গণহত্যা ছিল একটি সুপরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ।সুপরিকল্পিত এ হত্যাযজ্ঞ কেন প্রতিরোধ করা গেল না এ ব্যাপারে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃশ্যমান ভূমিকা এখনও ইতিহাসের গবেষণার বিষয়।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ‘গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষ্যে আমি সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ স্বাধীনতাকামী বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত ও নৃশংসতম গণহত্যার দিন। এ কালো রাতে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে বাংলাদেশের নিরস্ত্র স্বাধীনতাকামী মানুষের ওপর ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস গণহত্যা চালায়। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশ লাইনসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও নিরপরাধ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় এবং হত্যা করে।
তিনি বলেন, ২৫ মার্চের গণহত্যা ছিল একটি সুপরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ। সুপরিকল্পিত এ হত্যাযজ্ঞ কেন প্রতিরোধ করা গেল না এ ব্যাপারে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃশ্যমান ভূমিকা এখনও ইতিহাসের গবেষণার বিষয়। তবে ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে ‘উই রিভোল্ট’ বলে গণহত্যার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে সশস্ত্র প্রতিরোধ করে গড়ে তুলে চট্টগ্রামের ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট। গণহত্যা প্রতিরোধের মধ্য দিয়েই শুরু হয়ে যায় দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার মূল্য ও তাৎপর্য বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হলে ২৫ মার্চের গণহত্যা দিবস সম্পর্কেও জানা জরুরি। আসুন, আমরা সবাই রাষ্ট্র ও সমাজে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সাম্য মানবিক মর্যাদা সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতিদান দেয়ার চেষ্টা করি। একটি ন্যায়ভিত্তিক উন্নত সমৃদ্ধ স্বনির্ভর গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি।
তারেক রহমান বলেন, মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে আমি প্রার্থনা করি, তিনি যেন সব শহীদের বিদেহী আত্মাকে মাগফিরাত দান করেন। আমি ২৫ মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করছি।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ সাতদিনের ছুটি শেষে মঙ্গলবার থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত ও ব্যাংক বীমা খুললেও রাজধানী ঢাকা এখনও তার চিরচেনা রূপে ফিরতে পারেনি। যান্ত্রিক এই মহানগরে কর্মব্যস্ততার সেই স্বাভাবিক চাঞ্চল্য এখনও অনুপস্থিত। মূলত ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবসের সরকারি ছুটির সঙ্গে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় নাড়ির টানে বাড়ি যাওয়া মানুষের একটি বড় অংশ এখনও কর্মস্থলে ফেরেননি। ফলে রাজধানীর সড়কগুলো এখনও জনশূন্য ও যানজটমুক্ত রয়েছে, তবে এই ফাঁকা সড়কেও গণপরিবহনের ধীরগতির কারণে যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে নতুন ধরনের ভোগান্তি।
রাজধানীর মহাখালী, নতুনবাজার, রামপুরা ও বাড্ডার মতো অত্যন্ত ব্যস্ততম এলাকাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, সড়কে যানবাহনের চাপ নেই বললেই চলে। চিরচেনা সেই যানজট না থাকলেও গন্তব্যে পৌঁছাতে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, রাস্তা খালি থাকা সত্ত্বেও যাত্রী সংগ্রহের আশায় বাসগুলো বিভিন্ন মোড়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকছে এবং অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। উত্তরার এক শিক্ষার্থী জানান, রাস্তাঘাট পুরোপুরি ফাঁকা হওয়া সত্ত্বেও উত্তরা থেকে রামপুরায় আসতে তাঁর প্রায় ৪৫ মিনিট সময় লেগেছে, যা স্বাভাবিক সময়ে যানজটের মধ্যেও অনেকটা এমনই থাকে। বাসের চালক ও সহকারীরা প্রতিটি স্টপেজে যাত্রীর অপেক্ষায় দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করায় এই বিলম্ব ঘটছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ যাত্রীরা।
রাজধানীর পাড়া-মহল্লাগুলোতেও এখনও ঈদের আমেজ কাটেনি। অধিকাংশ দোকানপাট ও হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকায় নগরবাসীকে খাবার নিয়ে কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। কুড়িল বিশ্বরোড এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অধিকাংশ খাবারের দোকান বন্ধ থাকায় খোলা থাকা হোটেলগুলোতে দীর্ঘ লাইন দিয়ে নাশতা করতে হচ্ছে। এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খাবারের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। স্বাভাবিক সময়ে যে ডিম-খিচুড়ি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা অনেক জায়গায় ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নগরবাসী মনে করছেন, টানা এই ছুটি শেষে আগামী ২৯শে মার্চ রবিবার থেকে রাজধানী আবার তার পূর্ণ কর্মচাঞ্চল্যে ফিরতে শুরু করবে।
অন্যদিকে, ঢাকার ভেতরে মানুষের ফেরার মিছিল যেমন ধীর, তেমনই উল্টো চিত্র দেখা গেছে বাস টার্মিনালগুলোতে। সায়েদাবাদ, গাবতলী ও মহাখালী টার্মিনাল থেকে আজও অনেক মানুষকে ঢাকা ছাড়তে দেখা গেছে। তাঁদের মতে, ঈদের আগের অসহনীয় ভিড় ও ঝক্কি এড়াতে তাঁরা বাড়তি ছুটির এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে এখন সপরিবারে গ্রামে যাচ্ছেন। সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত শান্ত ও স্থবির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সময় পার করছে ঢাকা। একদিকে ফাঁকা সড়কের প্রশান্তি, অন্যদিকে সেবা ও পরিবহনের ধীরগতি—এই দুইয়ের মিশেলে এক মিশ্র অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন বর্তমানে অবস্থানরত নগরবাসী।
দেশের ১৮তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। বুধবার (২৫ মার্চ) এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রুহুল কুদ্দুস কাজল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি সুপ্রিম কোর্টের একজন সিনিয়র আইনজীবী।
রুহুল কুদ্দুস এর আগে পদত্যাগ করা অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। আসাদুজ্জামান অ্যাটর্নি জেনারেল পদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপির মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত হন। এরপর তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় তাকে আইনমন্ত্রী করা হয়েছে।
অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ বা মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেন, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারের এক মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী জানান, সরকারের এক মাসে জনকল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষায় বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির পাইলট প্রকল্প চালু করা হয়েছে। প্রান্তিক কৃষকদের সুবিধার্থে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদসহ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকদের সরাসরি সার, বীজ ও ঋণ সহায়তা দিতে স্মার্ট ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ইমাম-মুয়াজ্জিন ভাতা চালু এবং খাল খনন কর্মসূচিসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
এ সময় গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিতে গণমাধ্যমের প্রতি আহবান জানান মন্ত্রী।
বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে রাজধানীর চানখারপুলে একটি বেসরকারি হাসপাতাল, ১টি ব্লাড ব্যাংক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বুধবার সকালে অভিযান পরিচালনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আভিযানিক দল।
অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে আহমদ স্পেশালাইজড হসপিটাল, অ্যাক্টিভ ব্লাড ব্যাংক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সব কার্যক্রম বন্ধের আদেশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
অভিযানে গিয়ে দেখা যায়, আহমদ স্পেশালাইজড হসপিটালের জেনারেটর এবং অক্সিজেন সিলিন্ডার একই জায়গায় রাখা ছিল। এ ছাড়া হসপিটালটিতে জরুরি বিভাগ ও পোস্ট অপারেটিভ রুম না রাখার অভিযোগ আনা হয়।
অ্যাক্টিভ ব্লাডব্যাঙ্ক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে লাইসেন্সের মেয়াদ না থাকা এবং ট্রান্সফিউশন করার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকার অভিযোগ আনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ‘জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয়’ নিয়ে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিজ দপ্তরে এই সভা অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ৯টা ২ মিনিটে সচিবালয়ে আসেন এবং তার কিছু দাপ্তরিক কাজ সারেন।
এরপর মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে স্মারক ডাক টিকিট উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিজ দপ্তরে তিনি ‘জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয়’ নিয়ে সভায় সভাপতিত্ব করেন।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর দপ্তরে এ ডাকটিকিট উন্মোচন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টা ২ মিনিটে সচিবালয়ে প্রবেশ করেন এবং তার কিছু দাফতরিক কাজ সম্পন্ন করেন। এরপরই স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেন।”
ডাক টিকিট উন্মোচনের সময়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, ডাক সচিব আব্দুন নাসের খান ও ডাক অধিদফতরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
আজ প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মন্ত্রিপরিষদের সভা। বিকাল ৪টায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব। বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবা শিশুদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করছে বাংলাদেশের সরকার।”
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণ ও হোয়াইট হাউসের উদ্যোগে ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার গ্লোবাল কলিউশন’ সামিটে যোগ দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনটির উদ্বোধন করেন মেলানিয়া ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত শীর্ষ এ সম্মেলনে ডা. জুবাইদা রহমান এআই প্রযুক্তি নিয়ে বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে উন্নত বিশ্বের কাছে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “নারী, শিশু ও পরিবারকে শক্তিশালী করতে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে।”
ডা. জুবাইদা বলেন, “আজ এ ঐতিহাসিক সম্মেলনে আপনাদের সঙ্গে যোগ দিতে পারাটা আমার জন্য এক বিরাট সম্মানের বিষয়। আমি ফার্স্ট লেডিকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই, কারণ তিনি সারাবিশ্ব থেকে আমাদের এমন একটি মহৎ উদ্দেশ্যে একত্রিত করেছেন যা প্রতিটি জাতিকে স্পর্শ করে। আমরা উপলব্ধি করি যে, প্রতিটি দেশের ভবিষ্যৎ তার শিশুদের জীবনেই লেখা থাকে। আজ আমরা যে যত্ন দিয়ে থাকি, শিক্ষায় যে বিনিয়োগ করি এবং যে মূল্যবোধ গড়ে তুলি, তাই আগামী দিনে তাদের গড়া জাতিকে রূপ দেবে।”
সম্মেলনের উদ্বোধন করে মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প বলেন, “বিশ্ব এখন দ্রুত পরিবর্তনশীল। এখানে শিশুদের সফল হওয়ার জন্য যেসব দক্ষতা প্রয়োজন, তার ব্যবস্থা করতে আজ থেকেই একযোগে সবাইকে কাজ করতে হবে।”
বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২৬৪ কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে এই পদোন্নতির বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
এই পদোন্নতির ফলে তারা এখন জাতীয় বেতন গ্রেড-২০১৫–এর ষষ্ঠ গ্রেডে (৩৫,৫০০-৬৭,০১০ টাকা ) বেতন–ভাতা পাবেন।
জানা গেছে, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) অধীন সিনিয়র স্কেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের সিনিয়র স্কেলে পদোন্নতি দেওয়া হয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা পৃথক পৃথক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পদোন্নতি পাওয়া ২৬৪ সিনিয়র সহকারী সচিব বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের বরাবর ই–মেইলে যোগদান করবেন। একই সঙ্গে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা বর্তমান কর্মস্থলে কর্মরত থাকবেন।
আজ ভয়াল ২৫ মার্চ, জাতীয় গণহত্যা দিবস। বাঙালি জাতির জীবনে ১৯৭১ সালের এইদিন শেষে এক বিভীষিকাময় ভয়াল কালরাত নেমে এসেছিল। ওই রাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের পূর্ব পরিকল্পিত ‘অপারেশন সার্চ লাইট’র নীলনকশা অনুযায়ী বাঙালি জাতির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার ঘৃণ্য লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
এই অভিযানের নির্দেশনামা তৈরি করেন পাকিস্তানের দুই সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা ও মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী। নির্দেশনামার লিখিত নথি রাখা হয়নি। গণহত্যার সেই পুরো নির্দেশ মুখে মুখে ফরমেশন কমান্ডার বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হয়। অনেক পরে, ২০১২ সালে, মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা ‘এ স্ট্রেঞ্জার ইন মাই ওন কান্ট্রি’ শিরোনামে আত্মজীবনী প্রকাশ করেন। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত সেই আত্মজীবনীতে প্রথমবারের মতো ‘অপারেশন সার্চলাইট’ সম্পর্কে কিছু তথ্য প্রকাশিত হয়।
‘অপারেশন সার্চলাইট’ কীভাবে পরিকল্পিত হয়, ১৯৭১ সালের সেই স্মৃতিচারণ করে মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা লিখেছেন, ‘১৭ মার্চ, সকাল প্রায় ১০টা বাজে। টিক্কা খান আমাকে ও মেজর জেনারেল ফরমানকে কমান্ড হাউসে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে খবর পাঠান। খবর পেয়ে আমরা দুজন টিক্কা খানের সঙ্গে দেখা করি। গিয়ে দেখি, সেখানে জেনারেল আবদুল হামিদ খানও রয়েছেন। টিক্কা খান আমাদের বলেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শেখ মুজিবের সমঝোতা আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে না। প্রেসিডেন্ট চান আমরা যেন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি গ্রহণ করি এবং সে অনুযায়ী পরিকল্পনা তৈরি করি। এ ছাড়া আর কোনো মৌখিক বা লিখিত নির্দেশনা আমরা পাইনি। আমাদের বলা হয়, পরদিন ১৮ মার্চ বিকেলে আমরা দুজন যেন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে ওই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করি।’
পরদিন সকালেই খাদিম হোসেন রাজা তার কার্যালয়ে রাও ফরমান আলীকে নিয়ে বসেন। তারাই গণহত্যার এ অভিযানের নাম দেন ‘অপারেশন সার্চলাইট’।
মার্কিন সাংবাদিক রবার্ট পেইন ২৫ মার্চ রাত সম্পর্কে লিখেছেন, ‘সেই রাতে সাত হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়, গ্রেপ্তার করা হয় আরও তিন হাজার। ঢাকায় ঘটনার শুরু মাত্র হয়েছিল। এরপর সমস্ত পূর্ব পাকিস্তানজুড়ে সৈন্যরা বাড়িয়ে চলল মৃতের সংখ্যা। জ্বালাতে শুরু করলো ঘর-বাড়ি, দোকান-পাট। লুট আর ধ্বংস যেন তাদের নেশায় পরিণত হল। রাস্তায় রাস্তায় পড়ে থাকা মৃতদেহগুলো কাক-শেয়ালের খাবারে পরিণত হল। সমস্ত বাংলাদেশ হয়ে উঠলো শকুনতাড়িত শ্মশান ভূমি।’
এই গণহত্যার স্বীকৃতি খোদ পাকিস্তান সরকার প্রকাশিত দলিলেও আছে। পূর্ব পাকিস্তানের সংকট সম্পর্কে যে শ্বেতপত্র পাকিস্তান সরকার মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রকাশ করেছিল তাতে বলা হয়, ‘১৯৭১ সালের পয়লা মার্চ থেকে ২৫ মার্চ রাত পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি মানুষের জীবননাশ হয়েছিল।’
১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে জয়লাভ করা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের কাছে পাকিস্তানি জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করার ফলে সৃষ্ট রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের প্রক্রিয়া চলাকালে পাকিস্তানি সেনারা কুখ্যাত ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ নাম দিয়ে নিরীহ বাঙালি বেসামরিক লোকজনদের হত্যা করতে শুরু করে। তাদের এ অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগসহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ সব সচেতন নাগরিককে নির্বিচারে হত্যা করা। সেদিন দুপুরের পর থেকেই ঢাকাসহ সারাদেশে থমথমে অবস্থা বিরাজ করতে থাকে। সকাল থেকেই সেনা কর্মকর্তাদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। হেলিকপ্টারে তারা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সেনানিবাস পরিদর্শন করে বিকেলের মধ্যে ঢাকা সেনানিবাসে ফিরে আসে।
ঢাকার ইপিআর সদরদপ্তর পিলখানায় থাকা ২২তম বালুচ রেজিমেন্টকে পিলখানার কয়েকটি স্থানে অবস্থান নিতে দেখা যায়। মধ্যরাতে পিলখানা, রাজারবাগ, নীলক্ষেত আক্রমণ করে পাকিস্তানি সেনারা। হানাদার বাহিনী ট্যাংক ও মর্টারের মাধ্যমে নীলক্ষেতসহ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা দখল নেয়। সেনাবাহিনীর মেশিনগানের গুলিতে, ট্যাংক-মর্টারের গোলায় ও আগুনের লেলিহান শিখায় নগরীর রাত হয়ে উঠে বিভীষিকাময়।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল এএকে নিয়াজির জনসংযোগ অফিসারের দায়িত্বে থাকা সিদ্দিক সালিকের ‘উইটনেস টু সারেন্ডার’ গ্রন্থেও এ সংক্রান্ত বিবরণ পাওয়া যায়। সিদ্দিক সালিক বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় জেনারেল নিয়াজির পাশেই ছিলেন।
বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে অনুগত পাকিস্তানি হিসেবে পাক সামরিক জান্তার চক্রান্ত তিনি খুব কাছে থেকেই দেখেছেন। ২৫ মার্চ ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ শুরুর মুহূর্ত নিয়ে তিনি লিখেন ‘নির্দিষ্ট সময়ের আগেই সামরিক কার্যক্রম শুরু হয়ে যায়। এমন আঘাত হানার নির্ধারিত মুহূর্ত (এইচ-আওয়ার) পর্যন্ত স্থির থাকার চিহ্ন বিলুপ্ত হয়ে গেল। নরকের দরজা খুলে গেল।’
পাকিস্তানি হায়েনাদের কাছ থেকে রক্ষা পায়নি রোকেয়া হলের ছাত্রীরাও। ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব ও জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা, অধ্যাপক সন্তোষ ভট্টাচার্য, ড. মনিরুজ্জামানসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বিভাগের নয় শিক্ষককে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে চলে নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের সবচেয়ে বড় ঘটনাটি। সেখানে হত্যাযজ্ঞ চলে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত।
প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সব ব্যবস্থা চূড়ান্ত করে গোপনে ঢাকা ছেড়ে করাচি চলে যান। সেনা অভিযানের শুরুতেই হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে।
এদিকে, যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। আজ দেশের সব স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা হবে।
এছাড়া, দুপুর ১২টা থেকে ঢাকাসহ দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় মিনিপোলসমূহে গণহত্যা বিষয়ক বস্তুনিষ্ঠ ও নৈর্ব্যক্তিক দুর্লভ আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।
বাদ জোহর বা সুবিধাজনক সময়ে ২৫ মার্চের রাতে নিহতদের স্মরণে সারাদেশের মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা করা হবে।
দিবসটি উপলক্ষে রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত এক মিনিটের প্রতীকী ব্ল্যাকআউট পালন করা হবে। তবে কেপিআই ও জরুরি স্থাপনাগুলো এ কর্মসূচির বাইরে থাকবে। রাতে কোনো অবস্থাতেই আলোকসজ্জা করা যাবে না।
এদিন সকাল ১০টা বা সুবিধাজনক সময়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ব্যবস্থাপনায় দিবসটি উপলক্ষে একটি সেমিনার আয়োজন করা হবে।
২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস-২০২৬ পালন এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।