আষাঢ়ের চেনা বৃষ্টি মানেই এখন বাংলাদেশের দুই প্রধান মেগাসিটির বুকে এক অচেনা আতঙ্ক। আকাশে কালো মেঘের গুড়গুড় ডাক শুনলেই বুক কাঁপে কোটি নগরবাসীর। আধা ঘণ্টার এক পশলা বৃষ্টিতেই ঢাকা কিংবা চট্টগ্রাম—সবখানে তৈরি হয় রূপক অর্থে ‘নগর-নদী’। অলিতে-গলিতে জমে হাঁটু থেকে কোমর জল, কোথাও কোথাও তা বুক সমান উচ্চতাও ছাড়িয়ে যায়। নোংরা, দূষিত পানিতে নাকাল হতে হয় সাধারণ মানুষকে। বছরের পর বছর গেছে, দশক পার হয়েছে; নতুন নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সিটি মেয়ররা এসেছেন দৃশ্যপটে। প্রতিবারই নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্য ইশতেহারে বড় বড় হরফে লেখা হয়েছে জলাবদ্ধতা মুক্তির স্বপ্ন। ড্রেন চওড়া করা, খাল উদ্ধার, কালভার্ট পরিষ্কারের হিড়িক পড়েছে, খরচ হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। লস অ্যাঞ্জেলেস, টোকিও কিংবা সিঙ্গাপুরের মতো আধুনিক মেগাসিটি হওয়ার স্বপ্ন দেখা রাজধানী ঢাকা ও বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রাম প্রতি বর্ষায় এসে থমকে যায় আদিম এক জলজটের বৃত্তে। যেন প্রতিবারই মৌসুমি বৃষ্টিতে জলে ভাসে আধুনিকতার দাবিদার দুই শহর, আর নর্দমার নোংরা পানিতে তলিয়ে যায় জনপ্রতিনিধিদের রঙ-বেরঙের প্রতিশ্রুতি।
তবে এবারের সংকট শুধু দুই প্রধান শহরের জলাবদ্ধতার ভোগান্তিতেই সীমাবদ্ধ নেই; তা রূপ নিয়েছে এক জাতীয় সংকটে। টানা ভারি বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাত জেলায় বন্যা পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার নিয়েছে। এ পর্যন্ত বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনায় ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছে আরো ৩৯ জন।
একদিকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে তলিয়ে গিয়ে পরিণত হয়েছে অচল নগরীতে; অন্যদিকে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গ্রামীণ ও মফস্বল জনপদে বন্যা পরিস্থিতি ধারণ করেছে এক ভয়াবহ ও মানবিক বিপর্যয়কর রূপ। প্রকৃতির এই চরম বৈরী আচরণ এবং মানুষের তৈরি কাঠামোগত ব্যর্থতার মুখে পড়ে বর্তমানে থমকে গেছে দেশের কোটি মানুষের স্বাভাবিক জনজীবন।
ডুবন্ত ঢাকা, নাকাল নগরবাসী: শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া অবিরাম বৃষ্টিতে রাজধানী ঢাকার আধুনিক ড্রেনেজ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কঙ্কালসার রূপটি আবারও উন্মোচিত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত ১২টা থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৭৬ মিলিমিটার এবং সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মাত্র ছয় ঘণ্টায় ঢাকায় ৮২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এর আগের ২৪ ঘণ্টায়ও বৃষ্টি হয়েছে ৯৮ মিলিমিটার।
স্বল্প সময়ে এই বিপুল পরিমাণ বৃষ্টির পানি সামাল দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে নগরীর পানি নিষ্কাশন নালাগুলো। ফলে ভোর হতেই গ্রিন রোড, পান্থপথ, ধানমন্ডি, কারওয়ান বাজার, বিজয় সরণি, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এবং মিরপুরের কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া ও মনিপুর এলাকা কার্যত পানির নিচে তলিয়ে যায়। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে আবাসিক এলাকার অলিগলিতে এখন হাঁটুর ওপর পানি।
ফুটপাত তলিয়ে যাওয়ায় পথচারীরা মূল সড়ক দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। নোংরা পানির ঢেউয়ে ভিজে একাকার হচ্ছেন অফিসগামী মানুষ। সড়কগুলোতে শত শত রিকশা, অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে থাকায় সৃষ্টি হয়েছে মাইলের পর মাইল তীব্র যানজট। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক জলাবদ্ধতা।
জলাবদ্ধতার সবচেয়ে বড় কোপটি পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর। রাস্তাঘাট ও সরু গলিগুলো পানিতে তলিয়ে থাকায় সকালে অনেক শিক্ষার্থী বাসা থেকেই বের হতে পারেনি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঢাকার সেন্ট গ্রেগরি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মিরপুরের মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এবং কাকরাইলের লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলসহ বহু প্রতিষ্ঠানের ক্লাস ও পূর্বনির্ধারিত অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। হঠাৎ স্কুল বন্ধের নোটিশে চরম ভোগান্তিতে পড়েন অভিভাবকেরা।
ঢাকার জলাবদ্ধতার মূল কারণ : ঢাকার ভয়াবহ জলাবদ্ধতার মূল কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো অপরিকল্পিত নগরায়ণ। এর ফলে শহরের বেশিরভাগ প্রাকৃতিক জলাধার ও খাল ভরাট হয়ে গেছে। এছাড়া অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং ড্রেনে পলিথিন ও ময়লা জমে পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি হওয়া এই সমস্যার প্রধান কারণ।
খাল ও জলাশয় ভরাট: শহরের ভেতরের অনেক প্রাকৃতিক খাল বেদখল হয়ে গেছে এবং বিভিন্ন স্থানে আবাসিক বা বাণিজ্যিক ভবন তৈরি করা হয়েছে।
পাকা বা কংক্রিটের আধিক্য: রাস্তা ও বাড়ি-ঘর সব পাকা হওয়ার কারণে বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে মাটিতে শোষিত হতে পারে না।
ড্রেনেজ ব্যবস্থার ত্রুটি: ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। এছাড়া বিভিন্ন ড্রেনে পলিথিন, বর্জ্য ও পলি জমে পানি সহজে সরতে পারে না।সমন্বয়ের অভাব: বিভিন্ন সেবা সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে অনেক সময় ড্রেন পরিষ্কার বা সংস্কারের কাজ ঠিকমতো হয় না।
ঢাকার নতুন ‘ব্লু-পিনে’র স্বপ্ন: এক বৈজ্ঞানিক নেটওয়ার্কের আশাবাদ: অতীতের ব্যর্থতার গ্লানি মুছে ফেলতে এবার আর জোড়াতালির সমাধান নয়, ঢাকার তলিয়ে যাওয়া ভাগ্য ফেরাতে সম্পূর্ণ নতুন এক পথে হাঁটার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকার দুই নগর প্রশাসন। বিচ্ছিন্নভাবে টাকা ওড়ানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি যৌথভাবে হাত বাড়িয়েছে এক ঐতিহাসিক মহাপরিকল্পনা বা মাস্টারপ্ল্যানের দিকে। পানি নিষ্কাশনের পুরো প্রক্রিয়াকে একটি একক বৈজ্ঞানিক নেটওয়ার্কে বেঁধে ফেলার এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এবারের মহাপরিকল্পনার মূল দর্শন হলো ‘সমন্বিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা’। ঢাকা শহরের ভূ-প্রকৃতি, ঢাল এবং পানির প্রবাহকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে বিশ্লেষণ করে পুরো শহরের ড্রেনেজ নেটওয়ার্ককে একটি একক সফটওয়্যার বা সিস্টেমের আওতায় আনা হবে। এই পরিকল্পনার প্রধান স্তম্ভ চারটি হলো-
স্মার্ট ড্রেনেজ লাইন: অলিগলির ছোট ড্রেনগুলো থেকে পানি কীভাবে মূল ড্রেনে যাবে, তার সুনির্দিষ্ট ঢাল বৈজ্ঞানিক উপায়ে নির্ধারণ করা।
খালের পুনরুজ্জীবন: ঢাকার বুক চিরে বয়ে যাওয়া খালগুলোকে উদ্ধার করে সেগুলোর ধারণক্ষমতা ও নাব্য বৃদ্ধি করা, যাতে পানি দ্রুত সরতে পারে।
আউটলেট ব্যবস্থার আধুনিকায়ন: খাল থেকে পানি বুড়িগঙ্গা, তুরাগ বা বালু নদীতে পড়ার পথগুলোকে বাধামুক্ত ও দখলমুক্ত করা।
হাই-টেক পাম্পিং স্টেশন: নদীর পানি যখন শহরের চেয়ে উঁচুতে থাকবে, তখন স্বয়ংক্রিয় পাম্পের সাহায্যে শহরের পানি সেচে নদীতে ফেলার আধুনিক ব্যবস্থা।
দক্ষিণের কাণ্ডারি আইডব্লিউএম: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) তাদের মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের দায়িত্ব দিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় পানি গবেষণা ও প্রযুক্তি সংস্থা ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংকে (আইডব্লিউএম)। পুরো দক্ষিণ ঢাকাকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করে এই কাজ করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে সবচেয়ে বেশি ঘনবসতিপূর্ণ এবং তীব্র জলাবদ্ধতাপ্রবণ ৫টি অঞ্চলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই অঞ্চলগুলোর ড্রেন, খাল ও কালভার্টের থ্রি-ডি ম্যাপিং করা হচ্ছে। ডিএসসিসির প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান এই মহাপরিকল্পনা নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী।
তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ডিএসসিসির পুরো এলাকার মাস্টারপ্ল্যানের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। আমাদের বিশ্বাস, এই মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী যদি মাঠপর্যায়ের কাজ সম্পন্ন করা যায়, তবে ঢাকার জলাবদ্ধতার একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধান সম্ভব।
উত্তরের সঙ্গী বিশ্বব্যাংক: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে হাত মিলিয়েছে বিশ্বব্যাংকের সাথে। বিশ্বব্যাংকের একটি চলমান বড় প্রকল্পের আওতায় উত্তর ঢাকার ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যানের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ডিএনসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব আলম নিশ্চিত করেছেন যে, মাস্টারপ্ল্যানের একটি সুনির্দিষ্ট প্রকল্প ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।
সংস্থাটির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ফরহাদ জানান, বিশ্বব্যাংকের কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় এই উদ্যোগের প্রাথমিক কাজ গোছানো হয়েছে এবং খুব দ্রুতই মাঠপর্যায়ের সমীক্ষা ও নকশা প্রণয়নের মূল কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। উত্তর ঢাকার খালগুলোর উন্নয়ন ও নতুন পাম্প স্টেশন স্থাপনে বিশ্বব্যাংকের এই প্রজেক্ট গেম-চেঞ্জার হতে পারে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, রাজধানীর জলাবদ্ধতা সমস্যা যে জটিল আকার ধারণ করেছে, এটি নিরসনে সমন্বিত প্ল্যান বা মাস্টারপ্ল্যান সবার আগে জরুরি। বিচ্ছিন্নভাবে ড্রেন বড় করলে বা রাস্তা উঁচু করলে সমস্যা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত হয় মাত্র, সমাধান হয় না।
শত কোটি টাকার অপরিকল্পিত প্রকল্পে ডুবুডুবু চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা রূপ নিয়েছে এক অন্তহীন ট্র্যাজেডিতে। পাহাড়ি ঢাল আর সাগরের জোয়ার-ভাটার মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এই প্রাকৃতিক শহরটি এখন সামান্য বৃষ্টিতেই হাবুডুবু খায়। চাক্তাই খাল থেকে শুরু করে বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, চকবাজার, আগ্রাবাদ ও হালিশহর—সবখানে এখন পানির রাজত্ব।
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে গত কয়েক বছরে সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে চারটি মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সিডিএ-এর অধীনে পরিচালিত মেগা প্রকল্পটিই অন্যতম। কিন্তু বছরের পর বছর পার হলেও এবং হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরও চট্টগ্রামের ডুবন্ত ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। উল্টো এবারের বর্ষায় দেখা গেছে চেনা দৃশ্য—বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের নিচে কোমর জল, আর আগ্রাবাদ এক্সেস রোডে পানির ওপর ভাসছে মানুষের আসবাবপত্র।
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার মূল কারণগুলো কী: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জোয়ারের পানি আটকাতে খালের মুখে যেসব রেগুলেটর বা স্লুইস গেট তৈরি করা হয়েছে, সেগুলোর সঠিক পরিচালন পদ্ধতি এখনও ঠিক করা যায়নি। ফলে ভারি বৃষ্টির সময় যখন গেট বন্ধ থাকে, তখন শহরের ভেতরের পানি বের হতে না পেরে কৃত্রিম বন্যা তৈরি করে।
পাহাড় কাটা ও বালুর আস্তরণ: চট্টগ্রামের ঐতিহ্যের অংশ পাহাড়গুলো নির্বিচারে কাটার ফলে বৃষ্টির পানির সাথে বিপুল পরিমাণ বালু ও মাটি নেমে আসে। এই মাটি ড্রেন ও খালগুলোকে ভরাট করে ফেলে। ফলে খালের গভীরতা ও পানি ধারণক্ষমতা হ্রাস পায়।
সংস্থাগুলোর মধ্যে রেষারেষি ও সমন্বয়হীনতা: চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক), চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), ওয়াসা এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এখন ওপেন সিক্রেট। ড্রেন পরিষ্কারের দায়িত্ব কার, আর খাল খননের দায়িত্ব কার—এই কাদা ছোঁড়াছুঁড়িতেই পার হয় বছরের পর বছর।
চট্টগ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা ট্যাক্স দিই ঠিকই, কিন্তু বর্ষা এলেই আমাদের ঘরের ভেতর ড্রেনের নোংরা পানি ঢোকে। কোটি কোটি টাকার প্রজেক্টের কথা শুনি, কিন্তু বাস্তবে আমাদের কোনো লাভ হয়নি। প্রজেক্টের টাকা পানিতে গেছে, আমরাও পানিতেই আছি।
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে মহাবিপর্যয়: ঢাকা ও চট্টগ্রামের পরিস্থিতি যখন মূলত নাগরিক ভোগান্তি আর অর্থনৈতিক ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ, দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চিত্র তখন সম্পূর্ণ মৃত্যুরূপী। গত ৫ জুলাইয়ের পর থেকে মাত্র চার দিনে চট্টগ্রামে প্রায় ১,০০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এল নিনোর জলবায়ুগত প্রভাবের কারণেই এত অল্প সময়ে এই অস্বাভাবিক ও রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে।
পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টি এবং পাহাড়ধসের কারণে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
বিভাগটির বিভিন্ন জেলায় হতাহতের বিবরণ: কক্সবাজার: সবচেয়ে বেশি ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৩ জন রোহিঙ্গা। চট্টগ্রামে ৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
বান্দরবানে ৬ জন মারা গেছেন। রাঙ্গামাটিতে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
দুর্যোগের ফলে সাতটি জেলার প্রায় ৮ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি মানুষ এখন সরাসরি পানিবন্দি ও চরম দুর্গত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সেবার চরম বিপর্যয়: বন্যার তোড়ে এই অঞ্চলের কয়েকশ কিলোমিটার সড়ক সম্পূর্ণ ধসে গেছে, যার ফলে বহু গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকা দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পাহাড়ি ঢলের তোড়ে উপড়ে গেছে শত শত বিদ্যুতের খুঁটি, পানির নিচে তলিয়ে গেছে গ্রিড স্টেশন। ফলে বিকল হয়ে গেছে মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ারগুলোও। লাখ লাখ মানুষ এখন অন্ধকার, বিশুদ্ধ পানিহীন এবং আধুনিক যোগাযোগহীন এক বিচ্ছিন্ন ও আদিম দুনিয়ায় দিন কাটাচ্ছেন। বাইরের পৃথিবীর সাথে তাদের যোগাযোগের কোনো উপায় অবশিষ্ট নেই।
আশ্রয়কেন্দ্রে হাহাকার ও ত্রাণের জন্য আর্তনাদ: বিভাগজুড়ে দুর্গত মানুষদের আশ্রয়ের জন্য ১,৭০০টিরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তবে সেখানে ঠাঁই নেওয়া হাজার হাজার মানুষের মধ্যে এখন কেবলই কান্নার রোল। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শিশুখাদ্য, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং জরুরি ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দুর্গম বন্যাকবলিত এলাকায় বেসামরিক প্রশাসনের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যরা স্পিডবোট ও হেলিকপ্টার নিয়ে উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ বিতরণে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে চাহিদার তুলনায় তা অত্যন্ত অপ্রতুল। এই ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করেছে যে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী অন্তত দুই দিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। সমুদ্রবন্দরগুলোতে জারি রয়েছে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত। আগামী ১৪-১৫ জুলাইয়ের দিকে রাজধানীতে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও, দেশের উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাত আরও বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
ক্রমবর্ধমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ ও উদ্ঘাটনে পুলিশ সদস্যদের আধুনিক প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং তদন্ত সক্ষমতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। রবিবার সকালে রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশে আয়োজিত সাইবার অপরাধ মামলা তদন্তবিষয়ক বিশেষ ‘ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স’ (টিওটি) কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আইজিপি উল্লেখ করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিপফেক প্রযুক্তি, এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ এবং ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মতো আধুনিক আবিষ্কারগুলো জীবনযাত্রাকে সহজ করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য নিত্যনতুন বহুমুখী চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। এসব প্রযুক্তির অপপ্রয়োগের মাধ্যমে সাইবার অপরাধীরা আর্থিক জালিয়াতি, তথ্য চুরি, হ্যাকিং, ডিজিটাল চাঁদাবাজি এবং অনলাইনে হেনস্তার মতো মারাত্মক অপরাধ ঘটাচ্ছে। এই বাস্তবতায় অপরাধ দমনে পুলিশি কৌশলে যুগোপযোগী রূপান্তর এবং সাইবার তদন্তে আধুনিক সক্ষমতা অর্জন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আইজিপি বলেন, ‘এ কোর্সের মাধ্যমে আপনারা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করবেন না, একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ প্রদান ও যোগাযোগ দক্ষতা অর্জনেও সক্ষম হবেন। প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা অন্য তদন্তকারীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।’ তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই কোর্সের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে সহকর্মীদের দক্ষ করে তুলতে পারলে দেশে কার্যকর সাইবার তদন্তকারীর সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে এ ধরনের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ মডিউল ও কারিকুলাম নিয়মিতভাবে হালনাগাদ করার ওপর জোর দেন তিনি।
পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের রেক্টর ও অতিরিক্ত আইজিপি কাজী মো. ফজলুল করিমের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ডিআইজি (ট্রেনিং) মো. একরামুল হাবিব এবং প্রশিক্ষণের সার্বিক রূপরেখা ও রোডম্যাপ উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত ডিআইজি ড. মোছা. শেহেলা পারভীন। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের প্রশিক্ষণ শাখার সহযোগিতায় পরিচালিত এই ১০ দিনব্যাপী কোর্সে অংশ নেওয়া ৩৩২ জন কর্মকর্তা পরবর্তীতে মাঠপর্যায়ের সাইবার তদন্তকারীদের দক্ষ করে তোলার দায়িত্ব পালন করবেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সরকার নাগরিকের বাক-স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে প্রতিটি নাগরিকের মতপ্রকাশ ও গঠনমূলক সমালোচনার অধিকার রয়েছে। তবে গঠনমূলক সমালোচনা আর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে চরিত্রহনন এক নয়।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ’র সঙ্গে আজ দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিস কক্ষে আন্তর্জাতিক রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) একটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন মন্ত্রী ।
আইআরআই’র রেসিডেন্ট প্রোগ্রাম ডিরেক্টর জন ফ্লুহার্টি’র নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান, আইআরআই’র টেকনিক্যাল এডভাইজার রুকসানা হক এবং তরুণ রাজনীতিবিদ ও আইআরআই প্রশিক্ষণার্থী চামন ফারিয়া ও মোহাম্মদ প্রিন্স।
বৈঠকে সাইবার অপরাধ ও অনলাইন বুলিং প্রতিরোধ এবং প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সাক্ষাৎকালে আইআরআই’র রেসিডেন্ট প্রোগ্রাম ডিরেক্টর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তাদের চলমান যুব নেতৃত্ব গঠন ও সহিংসতামুক্ত রাজনৈতিক চর্চা সংক্রান্ত কর্মসূচির কথা অবহিত করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণ সমাজ ও রাজনৈতিক কর্মীরা বর্তমানে সাইবার বুলিং এবং সংগঠিত অপপ্রচারের কারণে হয়রানি ও মানহানির শিকার হচ্ছেন। তিনি এই ক্ষেত্রে সরকারি ও বিরোধী দলগুলোর জন্য একটি সর্বসম্মত নীতি ও আইনগত সুরক্ষার আহ্বান জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার নাগরিকের বাক-স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন পরিমার্জনের ক্ষেত্রে গত দুই মাস ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, সিনিয়র সম্পাদক এবং সুশীল সমাজের অংশীজনদের মতামত গ্রহণ করা হচ্ছে। আইনটির মূল লক্ষ্য হবে ডিজিটাল স্পেসে শালীনতা ফিরিয়ে আনা, নারী ও তরুণদের সাইবার বুলিং থেকে রক্ষা করা এবং একই সাথে সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা যাতে আইনের কোনো ধরনের অপব্যবহার না ঘটে।
মন্ত্রী সহিংসতামুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা সুসংহত করতে সরকার আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় অংশীজনদের ইতিবাচক পরামর্শ সাদরে গ্রহণ করবে বলে জানান।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার ও ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রের পাশাপাশি নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানি শেভরনকে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ রোববার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শেভরনের বেস অ্যাসেটস ও উদীয়মান দেশবিষয়ক প্রেসিডেন্ট জাভিয়ার লা রোসার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, সাক্ষাতে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে দেশে বিদ্যমান ও পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে শেভরনের বিনিয়োগের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শু শিয়ংসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস
গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং জনগণের অংশগ্রহণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের ভিত্তি তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী না হলে রাষ্ট্রের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক কাঠামো সুদৃঢ় করা সম্ভব নয়।’
আজ রোববার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মতো বিপুল জনসংখ্যার দেশে জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে শক্তিশালী ও কার্যকর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, স্থানীয় সরকারকে সত্যিকার অর্থে কার্যকর ও শক্তিশালী করতে প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। একই সঙ্গে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বদ্ধপরিকর বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার, গণতন্ত্র ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলাসহ নানা দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনা হয়।
সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ও জনগণের কাছে জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং নারী ক্ষমতায়নের মতো ক্ষেত্রে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, বৈঠকে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি গণতন্ত্র সুদৃঢ় করার নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ কওে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে দুই পক্ষ একমত পোষণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস
দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। আজ রবিবার রাজধানীর নভোথিয়েটারে আয়োজিত ‘সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া কোনো সুবিধা নয়; এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার।’
বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. জুবাইদা রহমান উল্লেখ করেন যে, মশাবাহিত এই রোগ প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের ব্যক্তিগত পর্যায়ের পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান। এ ছাড়া সামগ্রিক জাতীয় অগ্রগতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিটি প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘সবক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারলেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব’।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফেনী জেলা সফরের পূর্বনির্ধারিত সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে পুনর্নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী তিনি আগামী ১ অক্টোবর ফেনী সফরে যাবেন। রবিবার দুপুরে ফেনীর জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবুল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জেলা প্রশাসক জানান, সরকারপ্রধানের এই গুরুত্বপূর্ণ সফরকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা, ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংস্থান এবং উন্নত স্যানিটেশনসহ আনুষঙ্গিক যাবতীয় ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর সমন্বিতভাবে নিরবচ্ছিন্ন কাজ করে যাচ্ছে। আগামী ১ অক্টোবরের আগেই সফরের যাবতীয় আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শতভাগ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে সফরের তারিখ পেছানো হলেও প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে জেলার পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলাজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতিমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। এই সফরকালে প্রধানমন্ত্রী পরশুরামে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) সম্প্রতি অনুমোদিত ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা ব্যয়ের ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প’-এর আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করবেন। দীর্ঘপ্রতীক্ষিত এই বাঁধ ও নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে নদী অববাহিকার বিস্তীর্ণ জনপদের দীর্ঘদিনের বন্যা ও স্থায়ী জলাবদ্ধতার ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলবে।
এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন (ইসি) গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের বিধিমালা এবং প্রার্থীদের যোগ্য-অযোগ্যতাটা তৈরি করে নির্বাচন কমিশন। এখন নির্বাচন কমিশন আমাদের আইন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা, সবকিছু নিয়ে ঠিক করবে যে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন, কি পারবেন না।’
স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার মানদণ্ড প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ক্ষেত্রে প্রার্থীদের জন্য কোনো ধরনের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার আইনি বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। এর আগে সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলির এক সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রতিমন্ত্রী নিজেও উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীতে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান চালিয়েও থামানো যাচ্ছে না মাদক কারবার। প্রতিদিন গড়ে পাঁচ শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করছে পুলিশ।
টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হলেও বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা, হেরোইনসহ নানা ধরনের মাদক। পুলিশের হিসাবে, গত এক মাসে বিভিন্ন অভিযোগে ১৫ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রয়েছে মাদক কারবারিও।
ডিএমপি সদর দপ্তর সূত্র জানায়, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৪২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রমনা বিভাগে ২২ জন, লালবাগে ২৮, ওয়ারীতে ৬০, মতিঝিলে ৫২, তেজগাঁওয়ে ৯১, মিরপুরে ১৯৩, গুলশানে ৪১, উত্তরা বিভাগে ৪২, গোয়েন্দা বিভাগে ১২ এবং সিটিটিসিতে একজন রয়েছে। এ সময় ৫১টি মামলা করা হয়।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন জানান, অভিযানে তিন হাজার ২৯১টি ইয়াবা, ৪৫ কেজি ৪৯০ গ্রাম গাঁজা, একটি শটগানসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে চার শতাধিক শীর্ষ মাদক কারবারি রয়েছে। তারা বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করে। তালিকা করে তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশের তালিকায় থাকা শীর্ষ মাদক কারবারি মো. দিলদার ও তার সহযোগী শাকিরসহ অন্তত ৩৫ জন সীমান্ত থেকে মাদক এনে ঢাকায় বিক্রি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পকেন্দ্রিক মাদক কারবার নিয়েও রয়েছে অভিযোগ।
ক্যাম্পের হুমায়ূন রোডসহ অন্তত ১২ স্পটে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ডিএমপির বিভিন্ন এলাকায় এমন চার শতাধিক মাদক বিক্রির স্পট রয়েছে।
সরেজমিনে গত কয়েক দিনে কারওয়ান বাজার রেলগেট, মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প, মগবাজার রেলগেট, পল্লবী, খিলগাঁও ও উত্তর বাড্ডার কয়েকটি এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির চিত্র দেখা গেছে। মঙ্গলবার রাতে কারওয়ান বাজার রেলগেট এলাকায় কয়েকজন কিশোর-তরুণকে মাদকের ব্যাগ নিয়ে ঘুরতে দেখা যায়। ক্রেতাদের কাছে ইয়াবা বিক্রির পাশাপাশি রেলগেটের পাশে বসে অন্য বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রি করতে দেখা যায়।
মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পেও গত বুধবার ও গত বৃহস্পতিবার রাতে ইয়াবা, হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদক বিক্রির দৃশ্য দেখা যায়। কোথাও কোথাও মাদক কিনতে মানুষের সারিও দেখা গেছে। অথচ ক্যাম্পের চারপাশে পুলিশের একাধিক চেকপোস্ট রয়েছে এবং যৌথ বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালায়।
পুলিশের দাবি, ক্যাম্পের বড় একটি অংশের মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দীর্ঘদিন ধরে মাদকের সঙ্গে জড়িত। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দারিদ্র্য ও বেকারত্বের সুযোগ নিয়ে মাদক কারবারিরা সেখানে ব্যবসা বিস্তার করেছে।
এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ রাজধানীতে মাদক নিয়ন্ত্রণে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কঠোরভাবে অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয়ে ছাড় না দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
‘নবম জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬’ বাস্তবায়নে নতুন বেতন কাঠামোর পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণির সরকারি চাকরিজীবীর জন্য ৭টি পৃথক বিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক আদেশ (এসআরও) জারি করতে যাচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন অনলাইনে নির্ধারণে আইবাস প্লাস প্লাস ব্যবস্থাকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রজ্ঞাপন জারির পরই পে-স্কেল বাস্তবায়নের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে প্রজ্ঞাপনের খসড়া আইনগত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ভেটিং শেষ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে ৭টি পৃথক এসআরও থাকবে। এগুলোতে বিভিন্ন শ্রেণি ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং সংশ্লিষ্ট বিধান আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হবে। ক্ষেত্রগুলো হলো-বেসামরিক প্রশাসন, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সশস্ত্র বাহিনী এবং বিচার বিভাগ।
অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা একটি গণমাধ্যমকে বলেন, প্রজ্ঞাপন জারির পরই বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন কাঠামো প্রয়োগের ক্ষেত্রে কারিগরি ও প্রশাসনিক পার্থক্য বিবেচনায় নিয়ে পৃথক এসআরও প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রজ্ঞাপন জারির পর সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে বাস্তবায়নের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। সাতটি পৃথক এসআরও-এর মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণির চাকরিজীবীর বেতন কাঠামো প্রয়োগের বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি আইবাস প্লাস প্লাসে তথ্য হালনাগাদ ও নতুন বেতন নির্ধারণের কারিগরি প্রস্তুতিও চলছে।
এর আগে, গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নবম পে-স্কেলে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়। এতে ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে বলে সরকার জানিয়েছে।
এদিকে এবার নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে বড় পরিবর্তন আসছে বেতন নির্ধারণের ডিজিটাল ব্যবস্থায়। অর্থ বিভাগ সরকারি চাকরিজীবীদের ব্যক্তিগত তথ্য আইবাস প্লাস প্লাসের আওতায় আরও পূর্ণাঙ্গভাবে নিয়ে আসতে চায়।
নতুন ব্যবস্থায় প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারী অনলাইনে আইবাস প্লাস প্লাসে প্রবেশ করে চাকরি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করবেন। এর মধ্যে পদ, গ্রেড, বর্তমান মূল বেতন, চাকরিতে যোগদানের তথ্য, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেডসহ প্রয়োজনীয় তথ্য থাকবে।
তথ্য পূরণ ও যাচাই শেষে নতুন পে-স্কেলের কাঠামো অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর মূল বেতন ও প্রযোজ্য ভাতা সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারণ করা হবে। ফলে প্রত্যেক কর্মচারী নিজের তথ্যের ভিত্তিতে নতুন বেতন কাঠামোয় তার আর্থিক অবস্থান জানতে পারবেন।
বর্তমানে আইবাস প্লাস প্লাস সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বেতন, পেনশন, বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত হচ্ছে। এ ব্যবস্থায় অনলাইন বেতন বিল, জিপিএফ, ঋণ ও আয়কর-সংক্রান্ত হিসাব তৈরি এবং ইএফটির মাধ্যমে বেতন-পেনশন দেওয়ার সুবিধা রয়েছে।
নবম পে-স্কেলে গ্রেড, মূল বেতন, ভাতা, পদোন্নতি, ইনক্রিমেন্ট এবং বিভিন্ন শ্রেণির কর্মচারীর জন্য আলাদা বিধান থাকায় বিদ্যমান সফটওয়্যারকে নতুন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হচ্ছে।
অর্থ বিভাগের লক্ষ্য হলো কাগজে-কলমে বেতন নির্ধারণের পরিবর্তে তথ্যভিত্তিক ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে বেতন পুনর্নির্ধারণ করা। এতে বেতন নির্ধারণের জন্য হিসাবরক্ষণ অফিসে বারবার যাওয়ার প্রয়োজন কমবে। পাশাপাশি ভুল হিসাব, দ্বৈত সুবিধা কিংবা অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের ঝুঁকিও কমানো সম্ভব হবে।
মিয়ানমারে সংঘাত চলমান থাকায় এখনো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি হয়নি। বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের আবাসিক প্রতিনিধি জানান, রোহিঙ্গাদের জন্য জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন কখনো টেকসই হয় না। সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা চায় ঢাকা।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সমঝোতা সই হয় ২০১৭ সালে। ৯ বছরে কয়েক দফা কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফেরানোর উদ্যোগ নিলেও পরে তা ভেস্তে যায়। মিয়ানামের অভ্যন্তরীণ সহিংস সংঘাতের কারণে বাংলাদেশে আশ্রিত ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো যাচ্ছে না।
২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম ধাপে যাবে ১ হাজার ৪৭৬ জন। তবে এ উদ্যোগ আদৌ বাস্তবায়ন হবে কি না তা নিয়ে সংশয়ের কথা জানান বাংলাদেশে থাকা ইউএনএইচসিআরের আবাসিক প্রতিনিধি।
ইউএনএইচসিআরের আবাসিক প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইজেন বলেন, মিয়ানমারের জান্তা সেনাবাহিনী এবং আরাকান আর্মির মধ্যে আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে মোটেও ইতিবাচক নয়। যদি আমরা দেখি যে শরণার্থীদের নিজেরা পরিস্থিতি মূল্যায়নের সুযোগ না দিয়েই তাদের ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, তাহলে অবশ্যই আমরা উদ্বিগ্ন হব।
প্রত্যাবাসন প্রশ্নে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের দাবি নিশ্চিত হওয়া জরুরি বলে মনে করেন ইভো। তিনি বলেন, প্রত্যাবাসন অবশ্যই শরণার্থী-কেন্দ্রিক এবং স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ, নিরাপদ এবং সর্বোপরি টেকসই হতে হবে। জোর করে বা তাড়াহুড়ো করে ফিরিয়ে দেয়ার কোনো অর্থ নেই, যদি তারা সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে না পারে। এতে যেমন বড় ধরনের মানবিক দুর্ভোগ সৃষ্টি হবে, তেমনি আর্থিক ব্যয়ও অনেক বেড়ে যাবে, যা অবশ্যই এড়ানো উচিত।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, বিশ্বের কোনো দেশেই মানবিক কারণে এতো বিশাল জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার নজির নেই। আমরা মানবিক কারণে মানুষগুলোকে আশ্রয় দিয়েছি, যাতে তারা হত্যাযজ্ঞের শিকার না হয়। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, এটি কেবল বাংলাদেশের সমস্যা। এটি পুরো বিশ্বের সমস্যা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও দায়িত্ব। শুধু মুখে সমর্থন জানালেই হবে না, আর্থিক সহায়তা এবং সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে এ সংকট সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে।
টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের মাধ্যমে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোই এ সমস্যার এক মাত্র সমাধান। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরো সক্রিয় হওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ।
দেশের অভ্যন্তরে সরকারের ঋণের বোঝায় নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে সরকারের মোট পুঞ্জীভূত অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকায়। সদ্যসমাপ্ত এই অর্থবছরে ব্যাংকব্যবস্থা, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সঞ্চয়পত্র খাত থেকে ১ লাখ ৩১ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার, যা ছিল মূল লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৬ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা বেশি। সম্প্রতি সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণসংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু বাজেট ঘাটতি মেটাতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও অতিরিক্ত অর্থ ধার করতে হয়েছে সরকারকে। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে সরকারের মোট পুঞ্জীভূত অভ্যন্তরীণ ঋণের স্থিতি ছিল ১০ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, সরকারের এই বিপুল অভ্যন্তরীণ ঋণের সিংহভাগই এসেছে দেশের ব্যাংকব্যবস্থা থেকে। শুধু ব্যাংক খাত থেকেই গত অর্থবছরে সরকার ঋণ নিয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা; যা এর আগের অর্থবছরে ছিল ৭৭ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়েছে।
গত বাজেটে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং ব্যাংকবহির্ভূত ক্ষেত্র থেকে ২১ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারিত ছিল। তবে বছর শেষে ব্যাংক খাত থেকে স্থিতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকায়, যা এক বছরে পুঞ্জীভূত ব্যাংকঋণের ক্ষেত্রে ২৪ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
অন্যদিকে ব্যাংকবহির্ভূত খাতে এই ঋণের স্থিতি প্রায় ৪ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। ব্যাংক খাত থেকে গৃহীত এই ঋণের বড় অংশই এসেছে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ড বিক্রির মাধ্যমে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পৃথক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চ শেষে সরকারের বিদেশি ঋণের মোট স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৯১ বিলিয়ন বা ৯ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলারে। প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য ১২৫ টাকা হিসাব করলে দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ১১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি।
সর্বশেষ ২০২৫–২৬ অর্থবছর শেষে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা। এই প্রথমবারের মতো সরকারের অভ্যন্তরীণ পুঞ্জীভূত ঋণ সাড়ে ১১ লাখ কোটি টাকা ছাড়াল। এক বছরে ঋণ বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা।
অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, সরকারের এখন বড় খরচের খাত হয়ে উঠেছে ঋণের সুদ পরিশোধ, সেটি দেশি ঋণ হোক বা বিদেশি ঋণ হোক। উভয় ক্ষেত্রেই সুদ পরিশোধে সরকারকে বাজেটে বড় অঙ্কের বরাদ্দ রাখতে হচ্ছে। চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে ঋণের সুদ পরিশোধ বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান গণামাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের দেশি-বিদেশি ঋণের বোঝা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এতে সুদ পরিশোধের চাপও বাড়ছে। এ কারণে সরকারের খরচের দ্বিতীয় শীর্ষ খাতে পরিণত হয়েছে ঋণ পরিশোধ। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে এখন ঋণ পরিশোধে আমাদের নতুন করে ঋণ করতে হচ্ছে। ফলে আমরা বিপজ্জনক এক ঋণঝুঁকিতে পড়তে যাচ্ছি। এছাড়া বিদেশি ঋণের সুদ বাড়ছে।’
মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, বড় কিছু ঋণের গ্রেস পিরিয়ডও শেষ হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে ঋণের সুদ পরিশোধের চাপ আরও বাড়বে। এ অবস্থায় চাপ সামাল দিতে সরকারের ব্যয়ের ক্ষেত্রে অপচয় কমাতে হবে। সেই সঙ্গে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে আয় বাড়ানোয়।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, পানি বণ্টনসংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য সরকার ইতোমধ্যে একটি কারিগরি দল গঠন করেছে। দলটি শিগগিরই এ বিষয়ে ভারতকে অবহিত করবে।
গত শুক্রবার দিবাগত রাতে রাজবাড়ী জেলার কলিমহড় গ্রামে নিজের বাসভবনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
পানিসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিতুমীর বলেন, নদীতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি থাকলে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন সঠিকভাবে বজায় রাখা সম্ভব। এ কারণে বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে দেশের পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের অঙ্গীকার করেছে।
তিনি বলেন, এরই অংশ হিসেবে একনেকে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পদ্মা ব্যারেজের মাধ্যমে শুধু পানির আধার তৈরি করা হবে না, সেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থাও রাখা হবে।
উজানের পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের পানি সম্পদের সুষ্ঠু ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ৫৪টি নদীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পানি প্রবাহের সম্পর্ক রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের প্রধান ভিত্তি হচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। ন্যায়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার।
তিতুমীর বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের স্বীকৃতির ভিত্তিতে এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতিমালা অনুসরণ করে ভাটি অঞ্চলে পানির প্রবাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বৃদ্ধ বাবা-মাকে সুরক্ষা দিতে ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে সংশোধনী আনা হয়েছে। যশোর শহরের পিটিআই হলরুমে এক চাকরি মেলা উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আজ এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। হেবা আইনে স্পর্শ করার ক্ষমতা ইহজাগতিক কারও নাই। সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে আনা সাম্প্রতিক সংশোধনীকে হেবা আইনের লঙ্ঘন বলে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী জানান, বৃদ্ধ বাবা-মাকে সুরক্ষা দিতে ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে এই সংশোধনী আনা হয়েছে। আইনমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, হেবা আইনসহ অন্য যেকোনো আইনের অধীনে দান, উইল বা অন্য কোনোভাবে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এই সংশোধনী কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না। তিনি অভিযোগ করেন, সংশোধনীর এই অংশটুকু না পড়েই কেউ কেউ বিতর্ক তৈরির চেষ্টা করছেন।
‘ক্যারিয়ার হোক ক্ষুদ্রঋণ সেক্টরে, অবদান হোক দেশের উন্নয়নে’ প্রতিপাদ্যে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির আয়োজনে দিনব্যাপী এই চাকরি মেলায় ৩৭টি ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। মেলায় ২২ হাজার আবেদনের বিপরীতে এক হাজার ১১৫ জনকে চাকরি দেওয়া হয়। চাকরিপ্রাপ্তরা প্রধান অতিথির হাত থেকে নিয়োগপত্র গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম ও স্থানীয় জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মেরিনা আক্তারসহ অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।