রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অ্যান্টি টেরোজিম ইউনিট (এটিইউ)। এসময় তার কাছ থেকে জিহাদের বয়ান সম্বলিত একটি ডায়েরি এবং জঙ্গিবাদ সংশ্লিষ্ট কাজে ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে মাতুয়াইল উত্তর পাড়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম যুলকিফল মাহমুদ ওরফে শান্ত মাহমুদ। তিনি লক্ষীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার চর লরেন্স গ্রামের শাহ আলমের ছেলে।
এটিইউয়ের পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ আসলাম খান শনিবার বিকেলে দৈনিক বাংলাকে জানান, গ্রেপ্তার যুলকিফল মাহমুদ ওরফে শান্ত মাহমুদ ২০১৯ সালে তামিম আল আদনানীর বিভিন্ন ভিডিও দেখে জঙ্গিবাদে উৎসাহিত হন। এরপর জিহাদে যোগ দেয়ার জন্য তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। এক পর্যায়ে নিষিদ্ধ সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্যদের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। পরে তিনি জিহাদের প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জিহাদের প্রচারণা চালিয়ে যান। একই সঙ্গে সাংগঠনের জন্য চাঁদাও দেন।
পুলিশ সুপার আরও জানান, তিনি ছদ্মনামে ফেসবুক আইডির মাধ্যমে আনসার আল ইসলামের ফেসবুক পেইজের বিভিন্ন জঙ্গি সংক্রান্ত পোস্টে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করতেন। এছাড়া বিভিন্ন পোস্ট দিয়ে খিলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য জিহাদের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সিঙ্গাপুর ও কাতার থেকে ছয় কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড থেকে পাঁচ কার্গো এবং কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি থেকে এক কার্গো এলএনজি কেনা হবে। আন্তর্জাতিক বাজারের জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) সূচকের চেয়ে কম দামে এসব এলএনজি কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। রোববার ভার্চুয়ালি সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২০২৬ সালের ৫১তম সভায় প্রস্তাব দুটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সভায় জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে এলএনজি কেনার দুটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। আলোচনা শেষে প্রস্তাব দুটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়।
প্রথম প্রস্তাবের আওতায় বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড থেকে পাঁচ কার্গো এলএনজি কেনা হবে। সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬-এর ৬৮ ধারা এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫-এর ৯৯(২) বিধি অনুসরণ করে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এসব এলএনজি কেনার প্রস্তাব করা হয়।
প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) এলএনজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে জেকেএম সূচকের দামের চেয়ে ০.১৭ মার্কিন ডলার কম। এ ক্ষেত্রে বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেডকে সুপারিশকৃত দরদাতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রয়োজন হলে এবং উভয় পক্ষ সম্মত হলে অতিরিক্ত কার্গো কেনার সুযোগ রাখার প্রস্তাবও অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়।
দ্বিতীয় প্রস্তাবে বিদ্যমান দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি থেকে এক কার্গো এলএনজি কেনার কথা বলা হয়েছে। কার্গোটি ২০২৬ সালের ২০ ডিসেম্বরের জন্য নির্ধারিত হয়েছে।
এই কার্গোর ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক বাজারের জেকেএম সূচকের তুলনায় কম দাম প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম হবে জেকেএম সূচকের দামের চেয়ে ০.১০ মার্কিন ডলার কম। এ প্রস্তাবে কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসিকে সুপারিশকৃত দরদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা ও অন্যান্য খাতে গ্যাসের চাহিদা পূরণে এলএনজি আমদানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিযোগিতামূলক দামে এলএনজি কেনা গেলে আমদানি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
তবে ছয় কার্গো এলএনজি কেনার মোট ব্যয়, সরবরাহের পূর্ণ সময়সূচি এবং এর ফলে সম্ভাব্য আর্থিক সাশ্রয়ের পরিমাণ সম্পর্কে সভার প্রকাশিত তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।
সরকারের অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, দুই সরবরাহকারীর কাছ থেকে মোট ছয় কার্গো এলএনজি সংগ্রহের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আরও একটি পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন করে ৩৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট ভবনে ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত থাকলে তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, সরকারি ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য ‘Enhancing Clean Energy Access through Rooftop Solar PV in Public Infrastructure’ শীর্ষক প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় রুফটপ সোলার প্যানেলের মাধ্যমে ৩৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট ভবনে ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত থাকলে তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে।
কমিটির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা এমপির সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে আলোচ্যসূচি অনুযায়ী প্রথম বৈঠকের কার্যবিবরণী নিশ্চিত করা হয়। এরপর মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রথম বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়।
বৈঠকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরস্থানের মূল অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং সংশ্লিষ্ট উদ্যান ও প্রাঙ্গণের অসমাপ্ত সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
এ বিষয়ে জানানো হয়, কবরস্থানের মূল অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
জাতীয় সংসদ ভবনকেন্দ্রিক গণপূর্ত অধিদপ্তরের ২০২৬ সালে সম্পন্ন করা বিভিন্ন পূর্তকাজের বিস্তারিতও বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। জাতীয় সংসদ ভবনের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সংসদের ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গুলশান, বনানী, উত্তরা, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এবং ঝিলমিল আবাসিক এলাকায় রাজনৈতিক বিবেচনায় মোট ১ হাজার ৪১৩টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৯৪৪টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে।
রাজউকের এসব প্লট বরাদ্দে কোনো অনিয়ম বা বিধিবহির্ভূত কাজ হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হাইকোর্ট বিভাগের একটি রিট পিটিশনের রুলের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত কমিটি বিভিন্ন প্রকল্পের নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।
বৈঠকে জানানো হয়, এ পর্যন্ত পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ৮৭৪টি এবং ঝিলমিল আবাসিক এলাকার ২০০টি প্লটের অনিয়মসংক্রান্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। এসব প্লটের নথিসংক্রান্ত কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রয়েছে।
রাজনৈতিক বিবেচনায় বরাদ্দ ও অনিয়মের অভিযোগগুলো সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।
বৈঠকে আরও জানানো হয়, আগামী ১৬ ডিসেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের আগারগাঁওয়ে নতুন সচিবালয়ের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এমপি, মো. লুৎফুজ্জামান বাবর এমপি, শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল এমপি, এম মঞ্জুরুল করিম রনি এমপি, মো. রুহুল আমিন এমপি এবং মো. তাজউদ্দীন খান এমপি।
এ ছাড়া বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান গন্তব্য সৌদি আরবের শ্রমবাজারে কর্মী নিয়োগ কমে যাওয়ায় দেশের জনশক্তি রপ্তানি খাতে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, নিরাপত্তা-সংকট ও বিমান চলাচলে বিঘ্নের প্রভাবে বিদেশে কর্মী পাঠানোর গতি কমেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সৌদি আরবের শ্রমবাজারের ওপর বাংলাদেশের অতিনির্ভরতা। ফলে দীর্ঘমেয়াদে রেমিট্যান্স প্রবাহ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং কর্মসংস্থানের ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে বিদেশে গেছেন ৫ লাখ ৯০ হাজার ১৮৮ জন কর্মী। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৮ লাখ ৬৪ হাজার ৭৩৫ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিদেশে কর্মী পাঠানো কমেছে ৩১.৮ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান দেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জের গভীরতা তুলে ধরে।
সৌদি আরবনির্ভরতায় বড় ধাক্কা: বাংলাদেশের বিদেশগামী কর্মীদের সবচেয়ে বড় গন্তব্য সৌদি আরব। বিএমইটির হিসাব বলছে, চলতি বছরের ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত দেশটিতে গেছেন ৩ লাখ ১৫ হাজার ৯৩৫ জন বাংলাদেশি কর্মী। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৭৭ হাজার ১০ জন। ফলে সৌদি আরবে কর্মী পাঠানো কমেছে ৪৫.২ শতাংশ।
গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে বিদেশে কর্মী পাঠানোর মোট ঘাটতি ২ লাখ ৭৪ হাজার ৫৪৭ জন। এর মধ্যে শুধু সৌদি আরবেই কমেছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৭৫ জন। অর্থাৎ মোট ঘাটতির প্রায় ৯৫ শতাংশই সৌদি আরবের শ্রমবাজারে কর্মী নিয়োগ কমে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।
এই চিত্র বাংলাদেশের শ্রমবাজারের কাঠামোগত দুর্বলতাকে সামনে এনেছে। একটি নির্দিষ্ট দেশের নিয়োগ পরিস্থিতির পরিবর্তন দেশের সামগ্রিক বৈদেশিক কর্মসংস্থানে বড় প্রভাব ফেলছে। তাই নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধানের পাশাপাশি বিদ্যমান বাজারগুলোতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এখন গুরুত্বপূর্ণ।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, সৌদি আরবে ৩০ লাখের বেশি বাংলাদেশি বসবাস ও কাজ করছেন। তাঁর ভাষ্য, এত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত থাকায় আঞ্চলিক সংকটের প্রভাব পড়া স্বাভাবিক। দীর্ঘমেয়াদি চাপ মোকাবিলায় সরকার বিকল্প শ্রমবাজার খোঁজার চেষ্টা করছে।
সংঘাতের প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্থান ও মজুরিতে: ইয়েমেনের হুথি ও সৌদি আরবের সংঘাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি শ্রমবাজারের অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে নির্মাণ, অবকাঠামো, পরিবহন ও অন্যান্য খাতে বিনিয়োগের গতি কমে যেতে পারে। এতে নতুন কর্মী নিয়োগের চাহিদা হ্রাসের পাশাপাশি আগে থেকে কর্মরত শ্রমিকদের চাকরি ও আয়ের ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদারের মতে, যুদ্ধের অনিশ্চয়তায় প্রবাসীরা সঞ্চিত অর্থ দেশে পাঠিয়ে দিতে পারেন। এতে সাময়িকভাবে রেমিট্যান্স বাড়লেও সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে কয়েক মাস পর সেই প্রবাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নলেজ হাব ইনস্টিটিউট ট্রাস্টের সভাপতি খন্দকার গোলামও সতর্ক করেছেন, দীর্ঘ সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বিনিয়োগ প্রকল্প ব্যাহত হতে পারে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশে মূলধনী ব্যয় কমলে নতুন শ্রমিকের চাহিদা কমবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান কর্মীদের ছাঁটাইয়ের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
ফ্লাইট বিপর্যয়ে বাড়ছে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ভোগান্তি: আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাবে বিমান চলাচলে বিঘ্ন বাংলাদেশের বিদেশগামী কর্মীদের জন্য আরেকটি বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট ব্যবস্থাপনা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রমে বিধিনিষেধের কারণে ১০ থেকে ২৩ অক্টোবরের মধ্যে ঢাকা থেকে ১৪১টি সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইটে বিপর্যয় ঘটে। এতে ২১ হাজার ৯৩৩ জন যাত্রী আটকা পড়েন।
অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশী বিদেশে চাকরি ও ভিসা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছেন। ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হওয়ায় তাদের যাত্রা, কাজে যোগদান এবং নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যাদের ভিসার মেয়াদ সীমিত, তাদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও জটিল হতে পারে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক জানিয়েছেন, আটকে পড়া কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতে সরকার দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় সক্রিয় রয়েছে। দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করা গেলে কর্মীদের আর্থিক ক্ষতি ও প্রশাসনিক জটিলতা কমানো সম্ভব হবে।
রেমিট্যান্স বাড়লেও স্বস্তি পুরোপুরি নেই: বিদেশে কর্মী পাঠানো কমলেও এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে, অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে এসেছে ৮.৫৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৭.৫৯ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩.৩ শতাংশ।
এই সময়ে সৌদি আরব থেকে এসেছে ১.৬৫ বিলিয়ন ডলার, যা মোট রেমিট্যান্সের ১৯.২ শতাংশ। আগের বছরের একই সময়ে দেশটি থেকে এসেছিল ১.২৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ৩৪ শতাংশ। তবে এই প্রবৃদ্ধিকে দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশে ২.৯৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এলেও সেপ্টেম্বরে তা কমে ২.৭৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। এটি ১১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন মাসিক প্রবাহ। সংঘাতের কারণে প্রবাসীদের আয় কমে গেলে কিংবা চাকরি হারানোর ঘটনা বাড়লে ভবিষ্যতে রেমিট্যান্সে চাপ তৈরি হতে পারে।
বিকল্প শ্রমবাজারই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ: সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে কর্মী নিয়োগ কমলেও সব শ্রমবাজারে একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না। চলতি বছরের ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে গেছেন ৬২ হাজার ৬৪৭ জন বাংলাদেশি কর্মী, যা গত বছরের একই সময়ের ৫৬ হাজার ৫৯১ জনের চেয়ে বেশি। সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মী পাঠানোর সংখ্যাও ১০ হাজার ১৪২ থেকে বেড়ে ২২ হাজার ৮৪৮ হয়েছে।
অন্যদিকে কাতারে কর্মী যাওয়ার সংখ্যা ৮৬ হাজার ১৭১ থেকে কমে ৫২ হাজার ৬০ এবং কুয়েতে ৩৪ হাজার ৯২৮ থেকে কমে ২৫ হাজার ৩৫ হয়েছে। এসব তথ্য দেখায়, শ্রমবাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশভিত্তিক ঝুঁকি মূল্যায়নও জরুরি।
এ পরিস্থিতিতে দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ, বিদেশি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, নতুন দেশের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কর্মী প্রস্তুত এবং অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের চাকরির নিরাপত্তা, বেতন ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের অবদান শুধু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি লাখো পরিবারের জীবিকা, ভোগব্যয় ও সঞ্চয়ের সঙ্গেও যুক্ত। তাই সৌদি আরবের শ্রমবাজারে বর্তমান সংকটকে কেবল সাময়িক কর্মী নিয়োগের পতন হিসেবে দেখলে চলবে না। বরং এটি বৈদেশিক কর্মসংস্থানে বহুমুখীকরণ, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং রেমিট্যান্সের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
সৌদি আরবে সম্প্রতি দুই বাংলাদেশি নাগরিকের শিরশ্ছেদের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার কর্মকর্তাদের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির তৃতীয় বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠকে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদের বিষয়টি উত্থাপন করা হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।
কমিটি সুপারিশ করেছে, তথ্য পাওয়ার পরপরই ঘটনার পূর্ণ বিবরণ সংসদীয় কমিটিকে জানাতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানাতে হবে। দায়িত্ব পালনে কোনো কনস্যুলার কর্মকর্তার গাফিলতি পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থার বিষয়েও কমিটিকে অবহিত করতে হবে।
বৈঠকে সৌদি আরবে বাংলাদেশের মিশনগুলোর কার্যক্রম, জনবল ও প্রবাসীদের সেবার মান নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস ও জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের শ্রমকল্যাণ সেবা, হজ কার্যক্রম, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স এবং সৌদি শ্রমবাজারের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে মন্ত্রণালয় কমিটির সামনে একটি উপস্থাপনা দেয়।
সৌদি আরবে বাংলাদেশের মিশনগুলোর সেবার মান বাড়াতে মন্ত্রণালয়ের বিস্তারিত আধুনিকায়ন পরিকল্পনা কমিটির সামনে উপস্থাপনেরও সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত নারী শ্রমিকদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে কমিটি।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, কমিটির সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন, এস কে আজিজুল বারী, সাঈদ আল নোমান, হুমাম কাদের চৌধুরী ও সানজিদা ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পররাষ্ট্র সচিবসহ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
সৌদি আরবে বিমানবন্দরগুলোতে চলমান হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা-দাম্মাম ও ঢাকা-রিয়াদ রুটে ফ্লাইট স্থগিতের মেয়াদ আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি। রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে বিমান জানায়, বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা থেকে দাম্মাম ও রিয়াদগামী সব ফ্লাইট স্থগিত থাকবে। এসব ফ্লাইটের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও সংশোধিত সময়সূচি যথাসময়ে জানানো হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরবে যাতায়াত করতে পারবেন। যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় ১৬ অক্টোবর থেকে ঢাকা-জেদ্দা রুটে প্রতিদিন দুটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। এ কার্যক্রমও আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে, ঢাকা-মদিনা রুটে নিয়মিতভাবে বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজ দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে।
টিকিট ও ভ্রমণ-সংক্রান্ত তথ্যের জন্য যাত্রীদের নিকটস্থ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বন্যার ধাক্কা সামলে বাংলাদেশে ফের ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু করেছে নেপাল। ভারতের সঞ্চালন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে গত শুক্রবার থেকে এই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, গত ২৬ আগস্ট কুশী নদীতে সৃষ্ট হঠাৎ বন্যায় ত্রিশূলী ও চিলিমে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি স্থগিত ছিল। এই দুটি কেন্দ্রই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য অনুমোদিত ছিল।
নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের (এনইএ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ জানান, ভারতের সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি নেপালের অন্যান্য জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহের অনুমতি দেওয়ার পর এই রপ্তানি পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় সোলা খোলা ও কাভেলি বি-১ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে এবং লোয়ার মোদি খোলা কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ হরিয়ানায় সরবরাহের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আগের ত্রিশূলী, চিলিমে ও দেবীঘাট কেন্দ্রের ঘাটতি পূরণ করা হয়েছে।
দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ বলেন, বন্যা ও সঞ্চালন কাঠামোর ক্ষতি সত্ত্বেও অন্যান্য প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ বিক্রি অব্যাহত রেখে বাংলাদেশে রপ্তানি শুরু করা নেপালের বিদ্যুৎ বাণিজ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর এনইএ ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে ঋতুভিত্তিক বিদ্যুৎ রপ্তানির জন্য পাঁচ বছরের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী নেপাল প্রতি বছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, গত ২৬ আগস্ট নেপালে ঘটে যাওয়া আকস্মিক বন্যায় ১৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এখনো নিখোঁজ ৫ হাজারেরও বেশি মানুষের।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে নতুন দায়িত্ব পাচ্ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। আগামী ১ থেকে ৪ নভেম্বর ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় অনুষ্ঠেয় কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠকে (সিএইচওজিএম-২০২৬) বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন তিনি। এ সফরে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন হুমায়ুন কবির। রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কমনওয়েলথের ৫৬টি সদস্য দেশের সরকারপ্রধান ও প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এবারের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার রাজধানী সেন্ট জনসে। দুই বছর পরপর আয়োজিত এ বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং অভিন্ন উন্নয়ন অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা হয়।
এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ‘সমৃদ্ধ কমনওয়েলথের জন্য অংশীদারত্ব ও বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করা’। বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জলবায়ু সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সমতা ও টেকসই উন্নয়ন সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে।
বহুপক্ষীয় কূটনীতিতে গুরুত্ব: হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে কমনওয়েলথের সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং বহুপক্ষীয় কূটনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে। সম্মেলনের আলোচনায় অংশ নিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, উন্নয়ন অর্থায়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মতো অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ থাকবে।
বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ ছাড়া উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক অগ্রগতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতাও কমনওয়েলথের বৃহত্তর উন্নয়ন আলোচনার অংশ।
কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠক শুধু আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্মেলন নয়; সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং অভিন্ন সমস্যা সমাধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। এবারের আয়োজনেও এসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে হুমায়ুন কবিরের দায়িত্ব পালন এবং প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়া বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ।
জাপানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে চার দিনের সরকারি সফরে রাতে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যেখানে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন আমজনতা দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন তিনি।
ক্যাপশনে তারেক রহমান লেখেন, ‘আজ জাপান যাচ্ছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে। ভালোবাসা সবাইকে।’ ওই পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দনরত অবস্থার হাস্যোজ্জ্বল একটি ছবি জুড়ে দিয়েছেন তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে অবস্থান করবেন। সফরকালে দুদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, মেট্রোরেলসহ চলমান অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে আলোচনা, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি আগামীকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন।
সূচি অনুসারে, সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন তারেক রহমান।
বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান সহযোগিতা পর্যালোচনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন তিনি এবং জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
সফরের কর্মসূচিতে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো), জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি) এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি এলএনজি টার্মিনাল, বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইউনিক্লোর সদরদপ্তর ও টয়োটার কারখানা পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে।
বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানো, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা সফরের অন্যতম আলোচ্য বিষয়।
একই সঙ্গে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সই হওয়া বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়নের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর টেক্সটাইল খাতের চাহিদা পূরণে দেশেই আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী তৈরি এবং বিদেশি বিশেষজ্ঞদের ওপর নির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।
এ সময় সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য ও বুটেক্সের অ্যালামনাই সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
রাষ্ট্রপতি টেক্সটাইলকে দেশের প্রধান অর্থনৈতিক খাত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন দেশে ও বিদেশে উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ পান, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। এতে একদিকে দেশের দক্ষ জনশক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের টেক্সটাইল শিল্পের কাঁচামালের চাহিদা পূরণে তুলার দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। এ জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করা, উৎপাদন ব্যয় কমানোর উপায় খুঁজে বের করা এবং কৃষি ও টেক্সটাইল খাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।
পাশাপাশি পাট, আনারসের পাতা, কলাগাছসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক উৎস থেকে তন্তু সংগ্রহ ও সিনথেটিক সুতা তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশে বুটেক্সের ভূমিকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
এ সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক গবেষণাগার স্থাপন, প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি, বিসিএস (টেক্সটাইল) নামে আলাদা ক্যাডার সৃষ্টি, বাজেট সম্প্রসারণ এবং ঢাকার পূর্বাচলে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার জন্য জমি বরাদ্দসহ বিভিন্ন বিষয়ে রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
রাষ্ট্রপতি তাঁদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং উত্থাপিত বিষয়গুলো সমাধানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এ সময় উপাচার্য আগামী বছরের মার্চ মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ‘রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর’-কে সভাপতিত্ব করার আমন্ত্রণ জানালে রাষ্ট্রপতি তা গ্রহণ করেন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।
প্রতিনিধিদলে অন্যদের মধ্যে বুটেক্সের ফ্যাকাল্টি অব টেক্সটাইল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস স্টাডিজের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবীব, ফ্যাকাল্টি অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন অধ্যাপক শিল্পী আক্তার, ফ্যাকাল্টি অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন অধ্যাপক ড. হাসিনা আখতার, ফ্যাকাল্টি অব টেক্সটাইল কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন অধ্যাপক ড. রাশেদা বেগম দিনা এবং ফ্যাকাল্টি অব ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক ড. লামইয়া জাহির উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশে কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তি, পলাতক অপরাধী বা গণহত্যাকারীকে কোনো ধরনের অপতৎপরতা চালানোর সুযোগ দেওয়া হবে না।
শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠানের বিষয়ে আজ দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে ফেরার গুঞ্জন আছে— এমন এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাকে (শেখ হাসিনা) ফেরত পাওয়ার জন্য এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী পার্শ্ববর্তী দেশকে একাধিকবার অনুরোধপত্র পাঠানো হয়েছে। আমাদের অবস্থান পরিস্কার।
দুর্গাপূজা সম্পর্কে তিনি বলেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ছিল।
মন্ত্রী বলেন, এবারে দুর্গাপূজায় ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। অতীতে বিগত ১৫-১৭ বছরে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনাশের ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার সেই সমস্ত অপসংস্কৃতি থেকে মুক্ত হতে পেরেছে এবং সকলের সহযোগিতায় সামনের দিনেও এ রকম পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, এবারে দেশব্যাপী সর্বোচ্চ সংখ্যক পূজামণ্ডপ হয়েছে। চলতি ২০২৬ সালে মোট ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপ হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার পূর্বে সর্বোচ্চ ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিতো। এবার যা বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। এছাড়া এবার পূজায় ৫ দিন ছুটি ছিল। পূজামণ্ডপেও চালের বরাদ্দ বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, বিগত ১৭ বছর সরকারিভাবে প্যাট্রোনাইজ করে দেশের পাড়ায় পাড়ায় মাদকের আখরা তৈরি করা হয়েছে। এটা কে নির্মূল করবে। দেশে পুলিশের সংখ্যা মাত্র ২ লাখ ১৫ হাজার। আমরা এই বছরে ২০ হাজার লোক নিয়োগ দেব।
কিন্তু আমাদের একসঙ্গে ২০ হাজার লোক প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো জায়গা নেই।
এখন নতুন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করতে হবে।
একটা দেশের উন্নয়নের জন্য কোনো শর্টকাট ভূমিকা নেই। আপনারা সবাই মিলে যদি সরকারকে সহযোগিতা না করেন, তাহলে দেশ আগাবে না।
দেশের শান্তি-সম্মৃদ্ধি উন্নয়নের জন্য, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সবাই মিলে কাজ করতে হবে।
রোববার দুপুরে বাগেরহাট পুলিশ লাইন্স মিলনায়তনে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রোবাদবিরোধী কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
সমাবেশে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রোবাদ প্রতিরোধে নানা নির্দেশনা দেন পুলিশ প্রধান মো. আলী হোসেন ফকির।
তিনি বলেন, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসিদের নিয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি জেলা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যন্ত থাকবে। আপনারা জানেন কার ছেলে কি করে। তাই আপনাদের তথ্যের মাধ্যমেই কিশোর গ্যাংয়ের দৌরত্ম্য কমবে। সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে দক্ষ সাইবার ইউনিট গঠন করা হয়েছে। যারা গুজব ও মব প্রতিরোধে কাজ করবে বলে জানান আইজিপি।
দেশে যুবকদের অপরাধে জড়ানোর কারণ হিসেবে বেকারত্বকে দায়ী করে আলী হোসেন ফকির বলেন, প্রতি বছর দেশে ২৭ লাখ বেকার যোগ হচ্ছে। এদের ভেতরে হতাশা এবং যে জীবনী শক্তি আছে তা আমরা ব্যবহার করতে পারছি। ব্যবসায়ীরাও বিনিয়োগ করছে না। তারা টাকা ব্যংকে রেখে দিচ্ছে। বিনিয়োগ না করলে কর্মসংস্থান তেরি হবে না।
মাদকের সঙ্গে জড়িত পুলিশের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, গত দুই মাসে আমি ২৭ জন পুলিশ সদস্যকে জেলে পাঠিয়েছি মাদকের কারণে। আগে ঘর পরিস্কার হোক, তারপরে আপনারা পরিস্কার হবেন। তবে মাদকের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান পুলিশ প্রধান।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে আইজিপি বলেন, গুজব, আপা আসবে, কে আসবে আর না আসবে, তা নিয়ে আমাদের প্রশাসনের, কমিউনিটি পুলিশের কোনো ভাবনা নেই।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিলুর ইসলামের সভাপতিত্বে সভায়, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, সরকারি পিসি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মিসেস পারভীন আক্তার, বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাইদ শুনু, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা প্রদীপ বসু শন্তুসহ জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রোবাদ প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উপস্থিত সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
পরিবেশগত সংকটাপন্ন দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে। তবে দ্বীপের নাজুক প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার তাগিদে দৈনিক গড়ে সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক সেখানে যাতায়াত করতে পারবেন। রবিবার এ সংক্রান্ত নীতিমালা ও দিকনির্দেশনা কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সেন্টমার্টিনের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে এসব শর্ত চূড়ান্ত করা হয়। অনুমোদিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকরা সেখানে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। তবে কোনো অবস্থাতেই দৈনিক পর্যটকের সংখ্যা গড়ে সাড়ে তিন হাজার অতিক্রম করতে পারবে না।
একই সঙ্গে দ্বীপে ভ্রমণকারী প্রত্যেক পর্যটকের কাছ থেকে জনপ্রতি ১০০ টাকা হারে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি আদায়ের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০১৬-এর বিধি-২৬ অনুযায়ী এই ফি সংগ্রহের যাবতীয় প্রক্রিয়া তদারকি করবে। এ ছাড়া নৌপরিবহন ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে; পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট পূর্বানুমতি ছাড়া নৌপরিবহন অধিদপ্তর কিংবা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সেন্টমার্টিন রুটে কোনো নৌযানের অনুমোদন দিতে পারবে না। পর্যটক পরিবহনে কেবল নির্ধারিত দুনিয়ারছড়া ঘাট থেকেই অনুমোদিত জাহাজগুলো চলাচল করতে পারবে।
পর্যটক নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশ সুরক্ষাসংক্রান্ত এসব শর্তাবলি যথাযথ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন এবং জেলা ও ট্যুরিস্ট পুলিশকে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়।
রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনুর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে হাসপাতালে গেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার সকালে তিনি সেখানে উপস্থিত হয়ে অসুস্থ মন্ত্রীর চিকিৎসার সার্বিক অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
হাসপাতাল পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতি দায়িত্বে থাকা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মন্ত্রীর চলমান চিকিৎসা পদ্ধতির খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি ভূমিমন্ত্রীর দ্রুত আরোগ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
শারীরিক অসুস্থতার কারণে গত ২১ অক্টোবর রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেলে চিকিৎসকদের পরামর্শে প্রথমে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে নিবিড় চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার স্বার্থে তাঁকে ঢাকায় এনে ভর্তি করা হয়।
মন্ত্রীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তাঁর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) নাজমুল হক জানান, নিয়মিত সেবন করা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলেই মন্ত্রীর শরীরে আকস্মিক রক্তস্বল্পতা দেখা দিয়েছিল। চিকিৎসকদের নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ বোধ করছেন।