দেশের গ্রাম ও শহরাঞ্চলে আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপন, অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান বৃদ্ধি, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম এবং ভোলার গ্যাসকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার মাধ্যমেই এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা হবে। আজ মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে উপদেষ্টা জানান যে, বর্তমান লোডশেডিংয়ের প্রধান কারণ হলো জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যান্ত্রিক সমস্যা এবং অর্থনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির ফলে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত চাহিদা। তবে এই সংকট নিরসনে সরকার একটি দীর্ঘমেয়াদী টেকসই পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান প্রশাসন লোডশেডিংয়ের ক্ষেত্রে শহর ও গ্রামের বৈষম্য নিরসন করেছে। এ প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আগে ঢাকাসহ বড় শহরগুলোকে নিরবচ্ছিন্ন রেখে গ্রামে অতিরিক্ত লোডশেডিং দেওয়ার যে বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা ছিল, আমরা সেখান থেকে সরে এসেছি। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে এখন সাময়িক কষ্টের বোঝা শহর ও গ্রামে সুষমভাবে বণ্টন করা হচ্ছে।’
ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বলেন, নতুন এফএসআরইউ স্থাপনে কিছু সময় লাগলেও ভোলার গ্যাস গ্রিডে আনতে ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প এবং বাপেক্সের দেড়শ কূপ খননের কাজ পুরোদমে চলছে। রূপপুর প্রকল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরীক্ষামূলক চালুকরণ প্রক্রিয়া শুরু হবে। আগামী বছর থেকে এটি পূর্ণ স্কেলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। এর ফলে আগামী দেড় থেকে দুই বছরে বিদ্যুৎ খাত আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য ও আনইন্টারাপ্টেড (নিরবচ্ছিন্ন) অবস্থায় পৌঁছাবে।’
শ্রম বাজার নিয়ে এক সুখবর দিয়ে উপদেষ্টা জানান যে, মালয়েশিয়া সরকার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ১০ হাজার নতুন কর্মী নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পূর্বের সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে এখন ৩১২টি সহযোগী সংস্থাকে কর্মী পাঠানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশে শিশু নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ নিরসনে তিনি তথ্য-উপাত্ত দিয়ে জানান যে, এটি কোনো নতুন সংকট নয় এবং পরিসংখ্যান আগের বছরগুলোর মতোই। নিখোঁজ হওয়া প্রত্যেকটি শিশুর উদ্ধারে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। সারের মজুত নিয়ে তিনি নিশ্চিত করেন যে, বর্তমানে ১২ লাখ ৮৬১ মেট্রিক টন সার মজুত রয়েছে, যা গত বছরের চেয়েও বেশি। ফলে সার নিয়ে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদকর্মীদের জীবন ও জীবিকার সুরক্ষা নিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দশম ওয়েজ বোর্ড গঠন এবং টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমকে একই আইনি কাঠামোর নিচে এনে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য নীতিমালা তৈরি এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানদের জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতার ব্যবস্থা করার কথা তিনি উল্লেখ করেন। চট্টগ্রাম বন্দরে ডেনমার্কের সহযোগিতায় নতুন টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি আনবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রই ফিরিয়ে আনেনি, সংসদীয় গণতন্ত্রও এ দলের হাত ধরে এসেছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা ও জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপ সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ কথা বলেন।
আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন আন্দা ফিলিপ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণ সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর দৃঢ় অঙ্গীকারের শক্তিশালী বার্তা বহন করে।
এ সময় তারেক রহমান বলেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। গণতন্ত্রের জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করেছি।
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের দলের অসংখ্য নেতা-কর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন এবং প্রায় ৪০ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। অবশেষে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা দেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে সুগম করতে পেরেছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রই ফিরিয়ে আনেনি, সংসদীয় গণতন্ত্রও এ দলের হাত ধরে এসেছে। আমাদের সামনে এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে আমরা আশাবাদী এবং গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গণতন্ত্র নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা অনেক।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, একটি কার্যকর ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই অগ্রগতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তাঁর সরকার প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।’
আইপিইউ সেক্রেটারি জানান, তিনি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার পড়েছেন। ইশতেহারে শিক্ষা খাতে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ এবং কমিউনিটিভিত্তিক কর্মসূচির প্রশংসা করেন তিনি।
বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রারও প্রশংসা করে আন্দা ফিলিপ বলেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে জনগণের মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
আন্দা ফিলিপ আরো বলেন, আইপিইউ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতা আরও জোরদার করতে আগ্রহী।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, তানজানিয়ায় অনুষ্ঠেয় আইপিইউর ১৫৩তম সম্মেলনে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার অংশ নিচ্ছেন। তাঁর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আইপিইউর সঙ্গে বাংলাদেশের সংসদের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন আইপিইউ সেক্রেটারি।
সাক্ষাতে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তরুণ ও নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আন্দা ফিলিপ বলেন, তাঁরা অত্যন্ত উদ্যমী ও আগ্রহী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন তাঁর সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। নারীদের জন্য অনার্স পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং নারী শিক্ষার্থীর জন্য উপবৃত্তি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো।
সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাসস
কোনো আন্তর্জাতিক চাপে নয় বরং দেশের অ্যাভিয়েশন খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতেই নতুন বিমান কেনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে আরও শক্তিশালী বিমান বহরের প্রয়োজন রয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা করে বলেন, ‘আমাদের গুরুত্বপূর্ণ গেটওয়ের ক্ষেত্রে, আরও রুটে পরিষেবা দেওয়া দরকার। এ জন্য আমাদের আরও বিমানের প্রয়োজন আছে। ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের ১৫০টির বেশি বিমান আছে। সেই জায়গায় আমাদের ডিমান্ড আছে ৭০-৮০টির মতো- আগামী ১০-১৫ বছরের মধ্যে। কিন্তু আমরা সেই অনুযায়ী অর্ডার করিনি, তবে অবশ্যই আমরা আরও বিমান কিনবো।’ তিনি আরও জানান যে, প্রয়োজন অনুযায়ী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে এয়ারবাসও যুক্ত করা হতে পারে এবং নীতিগত চুক্তি অনুসারে সেই ক্রয় প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।
ক্রয় সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো বিদেশি চাপ কাজ করছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ূন কবির স্পষ্ট করে বলেন, ‘কোনও প্রেশারে না, এটা আমাদের অ্যাভিয়েশনের ডিমান্ড অনুযায়ী। আমাদের পর্যাপ্ত বহর নেই, আমাদের বহরের ক্ষমতা বাড়ানো দরকার। অন্যথায় আমরা পরিষেবা দিতে পারছি না, আমরা নতুন রুট খুলতে পারি না, অর্থ হারাচ্ছি।’ তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, বিমান না কিনলে যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাপ সামলানো সম্ভব হবে না, যা প্রকারান্তরে দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। নতুন বিমান বহরে যুক্ত হলে দীর্ঘমেয়াদে অ্যাভিয়েশন খাতের টার্নওভার কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।
মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সম্প্রতি দেওয়া বোয়িং ক্রয় সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতির বিষয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের তো চুক্তি আছেই, আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত বিমান কিনবো।’ বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও বেইজিংয়ের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বিনিয়োগ প্রত্যাশা করেন। মূলত বাংলাদেশকে এশিয়ার একটি শক্তিশালী 'অ্যাভিয়েশন হাব' হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সারাহ আলড্রিচ মন্তব্য করেছেন যে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সফল পরিণতির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে একটি নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে উল্লেখ করে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র এই গণতান্ত্রিক সরকারের পাশে রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের সহযোগিতা প্রদানে প্রস্তুত।
ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে গত ২৮ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ওয়াশিংটন ডিসি’র বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস উইং থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে আলড্রিচ জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার অসামান্য আত্মত্যাগের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেন।
সারাহ আলড্রিচ তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নানা জটিলতা অতিক্রম করে অন্তর্বর্তী সরকার অল্প সময়ের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিয়েছে।" এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যকার রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক বন্ধন আরও দৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে কৃষি, অর্থনীতি ও রাজনীতিতে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান এবং বাংলাদেশের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, "বাংলাদেশের তরুণ জেন-জিরা গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে পরিবর্তনের সূচনা করেছেন, তা বিশ্বের বহু দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।" তাঁর মতে, এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।
স্মরণ সভার শুরুতে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়ে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের লক্ষ্যে যারা প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন, সেই শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর আন্দোলনে নারীদের অকুতোভয় অংশগ্রহণ ও ত্যাগের চিত্র নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘জুলাইকন্যা’ প্রদর্শন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক, মার্কিন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন।
সৌদি নেতৃত্বাধীন ‘মক্কা জোটে’ অংশগ্রহণের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার সার্বিক পরিস্থিতি গভীর পর্যবেক্ষণে রেখেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মহাসচিবের সঙ্গে একটি ফলপ্রসূ বৈঠকের পর গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি এসব তথ্য জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, যেকোনো আন্তর্জাতিক জোটে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশের জাতীয় স্বার্থকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বহুপক্ষীয় ফোরামে অংশ নেওয়ার আগে বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতি আমরা অনুসরণ করে থাকি। এখানে যুক্ত হলে বাংলাদেশের কি সুবিধা, জনগণের কি লাভ সেটা যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। জোটে সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে যোগদানের জন্য এখনও কোন আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ আসেনি। তবে এটা উন্মুক্ত আছে, দেখা যাক।’
এর আগে প্রতিমন্ত্রী আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেন। বৈঠকে বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে সাধুবাদ জানায় সংস্থাটি। এ বিষয়ে শামা ওবায়েদ ইসলাম মন্তব্য করেন, ‘বাংলাদেশে আবারও সংসদীয় গণতন্ত্র ফেরত এসেছে। আইপিইউ মহাসচিবের সফর গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে।’
বৈঠকে দেশের আইনসভায় তরুণ সংসদ সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণকেও ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেছে আইপিইউ প্রতিনিধি দল। এছাড়া মার্কিন কোম্পানি বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ ক্রয় সংক্রান্ত সার্জিও গোরের সাম্প্রতিক মন্তব্যের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি হয়তো আগের কোনো চুক্তির ধারাবাহিকতায় করা হয়ে থাকতে পারে। আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সংসদীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত সার্ভিস লেনটি আগামীকাল বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) থেকে সাধারণ যানবাহনের যাতায়াতের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে। এটি এই মেগা প্রকল্পের প্রথম কোনো অংশ, যা জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই সার্ভিস লেন চালু হওয়ার ফলে রাজধানীর উত্তরা থেকে আশুলিয়া অভিমুখে যাতায়াতকারী যানবহনগুলোর যাতায়াত উভয় দিক থেকেই অনেক সহজ হবে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রকল্পের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটিই প্রকল্পের আওতায় প্রথম অংশ, যার সুবিধা জনসাধারণ আগামীকাল থেকে ভোগ করতে পারবেন। সার্ভিস লেনটি আগামীকাল খুলে দেওয়া হচ্ছে।’
এর আগে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা শিকদার জানান যে, এই প্রকল্পের আওতায় ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত দুই লেনের দুটি পৃথক সার্ভিস সেতু সাধারণ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। প্রতিটি সেতুর দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার। আগামীকাল ২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় ধউর সেতুর ওপর সেতু দুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। উক্ত অনুষ্ঠানে সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সার্ভিস লেনটি উন্মুক্ত করবেন।
প্রকল্পের নথিপত্র অনুসারে, তুরাগ নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ যাতে কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সেই দিকটি বিবেচনায় নিয়ে সার্ভিস লেন ও এক্সপ্রেসওয়ের মূল লেন নির্মাণ করা হয়েছে। এই বিশেষ নকশার কারণেই স্থানীয় যানবাহনের সুবিধার্থে উড়ালপথে পৃথক দুটি সার্ভিস লেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রায় ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই অংশের নির্মাণকাজের পাশাপাশি পিচ ঢালাই ও রোড মার্কিংয়ের কাজ গত আগস্ট মাসেই সম্পন্ন হয়েছে।
দেশে চলমান বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লোডশেডিং অচিরেই উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সৃষ্ট এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির চাপ এখন থেকে শহর ও গ্রামাঞ্চলের গ্রাহকদের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণভাবে বণ্টন করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘লোডশেডিং নিয়ে একটি বিস্তারিত ডেটা আমরা আপনাদের দেওয়ার চেষ্টা করছি। জ্বালানি নিয়ে প্রচুর কথাবার্তা হয়েছে। আশা করছি, যে পরিমাণ লোডশেডিং আছে, সেটা খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে বেশ খানিকটা কমে আসবে।’
উপদেষ্টা উল্লেখ করেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ঢাকায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, অতীতে ঢাকাকে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে গ্রাম ও মফস্বল এলাকায় দীর্ঘ সময় লোডশেডিং দেওয়া হতো। তবে বর্তমান সরকার এই সংকটের বোঝা সবার মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁর মতে, বড় শহরগুলোতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশি থাকলেও কেবল প্রভাবশালীদের আবাস্থল হিসেবে তাদের বাড়তি সুবিধা দেওয়া হবে না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যেহেতু এ সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে, লোডশেডিংটা সবাই ভাগ করে নেবে। তাই ঢাকায় এখন আমরা লোডশেডিং দেখছি।’
আওয়ামী লীগ সরকার ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আশা করি আগামী সপ্তাহে আপনাদের সেই ডেটাটাও দেব। ওই ডেটা নিয়ে আমি কাজ করছি। ওই সময়ও কী পরিমাণ লোডশেডিং ছিল, কত মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে সেটা জানা যাবে।’ তিনি অভিযোগ করেন যে, আগের সময়গুলোতে লোডশেডিংয়ের বড় অংশই গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বর্তমান প্রশাসন সেই প্রথা থেকে বেরিয়ে এসেছে।
বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণ হিসেবে তিনি জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটি এবং রক্ষণাবেক্ষণ সমস্যার কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসায় মানুষের অর্থনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে, যার ফলে বিদ্যুতের চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বর্তমানে ঢাকা শহরের ডিপিডিসি ও ডেসকোর আওতাধীন এলাকায় পরিকল্পিত লোডশেডিং করে সেই বিদ্যুৎ গ্রামাঞ্চল ও শিল্প-কারখানায় সরবারহ করা হচ্ছে। এর ফলে ঢাকার বাইরের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
পরিশেষে জনগণের সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমরা একটা সংকটের মধ্যে আছি এবং এ সংকটের কষ্টটা আমাদের সবাইকে কমবেশি নিতে হবে। এ কষ্ট খুব দীর্ঘ সময় থাকবে, সেটাও আমরা মনে করি না। সে ব্যাপারে সরকারের যথেষ্ট উদ্যোগ আছে।’
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত শেষে তিনি এই বৃক্ষরোপণ সম্পন্ন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. মঈন খান, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমান।
এ সময় আরও অংশ নেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী সালাউদ্দীন টুকু, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম।
এছাড়াও জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার সকালে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত তাঁদের সমাধিতে পুস্পস্তবক অর্পণ ও জিয়ারতের মাধ্যমে এই শ্রদ্ধা জানানো হয়। এই সময় তাঁর সাথে দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকাল থেকেই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেন্দ্র করে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে শেরেবাংলা নগর এলাকায় সমবেত হন। সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি তারেক রহমান ফাতেহা পাঠ করেন এবং সেখানে মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তারেক রহমান দলের নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন যে, ‘গণতন্ত্র কিংবা সুশাসন প্রতিষ্ঠাই নয়, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায়ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে। দেশে যতবারই স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন হয়েছে, ততবারই গণতন্ত্রকামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মী, শুভার্থী ও সমর্থকরা অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন।’ দলের চেয়ারম্যান আরও উল্লেখ করেন যে, দেশে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশে জনগণ বারবার বিএনপিকেই বেছে নিয়েছে। তাঁর ভাষ্যমতে, ‘দেশে যতবারই জনগণ নির্ভয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, ততবারই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে সরকার পরিচালনার সময় দেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনর্প্রবর্তন, নারীশিক্ষার প্রসারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বিএনপি সরকারের আমলে নেওয়া হয়েছে।’
দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসানের পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ আবারও বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। দেশের জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই বিএনপি জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায়। সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি সরকার নিরলসভাবে কাজ করে চলছে।’
দলটির পক্ষ থেকে পাঁচ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। আজ সূর্যোদয়ের সাথে সাথে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশজুড়ে দলীয় কার্যালয়গুলোতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর বিকাল ৩টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর গুরুত্ব নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া বৃক্ষরোপণসহ দেশব্যাপী জেলা ও মহানগর পর্যায়ে নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। সোমবার (৩১ আগস্ট) নির্বাচন ভবনে ইসি সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।
তিনি আরও জানান, ৩১ জুলাই পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ হয়েছে, তাদের তালিকায় অন্তুভু©ক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ভোটার দাঁড়াচ্ছে ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ৬৬৫ এবং নারী ৬ কোটি ৩২ লাখ ৬৫ হাজার জন। ভোটার সংখ্যা বেড়েছে ৪ লাখ ৫৪ হাজার জন।
ভোটার তালিকা আইন ২০০৯ অনুযায়ী, খসড়া তালিকা প্রকাশের পর ফরম-৬ এর মাধ্যমে দাবি, ফরম-৭ এর মাধ্যমে আপত্তি এবং ফরম-৮ এর মাধ্যমে সংশোধনের আবেদন গ্রহণ করা হবে।
ইসির ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, ৯ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, ২৪ আগস্ট পর্যন্ত দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের আবেদন গ্রহণ করে তা ২৭ আগস্টের মধ্যে এসব আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আবেদনগুলোর ওপর গৃহীত সিদ্ধান্ত ২৮ আগস্টের মধ্যে তালিকায় সংযোজন করে আজ ৩১ আগস্ট হালনাগাদকৃত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন।
আগামী সেপ্টেম্বর তফসিল ঘোষণা করে নভেম্বর থেকে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন শুরু করতে চায় ইসি৷ এক্ষেত্রে ইউনিয়ন ও পৌরসভা ভোট আগে করার পরিকল্পনা নিয়েছে সংস্থাটি।
সেপ্টেম্বর মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বিদ্যমান মূল্যে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা বহাল থাকবে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের অপারেশন-১ শাখা থেকে জারি করা এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। ১ সেপ্টেম্বর থেকে এ মূল্য কার্যকর হচ্ছে।
এর আগে গত ৩১ মে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের এসব মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে সেপ্টেম্বর মাসের জন্যও নির্ধারিত ওই মূল্যহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সফরকালে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ)-এর সেক্রেটারি জেনারেল অ্যান্ডা ফিলিপ বলেছেন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, অন্তর্ভুক্তিমূলক সংসদীয় ব্যবস্থা এবং শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনে সংসদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনর্গঠনে আইপিইউ’র পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। সোমবার (৩১ আগস্ট) জাতীয় সংসদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নারী ও তরুণ সদস্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এবং চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বক্তব্য রাখেন।
নারীদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে আইপিইউ’র সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, নেতিবাচক সামাজিক রীতি, কুসংস্কার ও অনলাইন বিদ্বেষসহ নারীদের যেসব সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, তা মোকাবিলায় আইপিইউ কিছু কার্যকর উপায় তৈরি করেছে।
তিনি সংসদে নারীদের মধ্যে সংহতির ওপর গুরুত্বারোপ করে বাংলাদেশের নারী সংসদ সদস্যদের আইপিইউ’র নারী ফোরাম, জাতিসংঘবিষয়ক স্থায়ী কমিটি ও অন্যান্য কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরো বলেন, সংসদ এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক স্থান, যেখানে বিভিন্ন জাতিগত ও সামাজিক সম্প্রদায়ের কণ্ঠস্বর শোনা প্রয়োজন।
গণঅভ্যুত্থানের সময় তরুণদের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সত্য ও ন্যায়বিচারের পাশাপাশি পুনর্মিলন ও ঐক্যও গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে তিনি নেলসন ম্যান্ডেলার সংগ্রাম এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি নতুন ‘রেইনবো নেশন’ গড়ে তোলার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন।
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ৩০০টি সরাসরি নির্বাচিত আসন এবং নারীদের জন্য ৫০টি সংরক্ষিত আসন রয়েছে। তিনি জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রায় ৪০ জন নারী সংসদ সদস্য অংশগ্রহণ করেন এবং তাদের মধ্যে ছয়জন সরাসরি নির্বাচিত হয়েছেন।
স্পিকার বলেন, বাংলাদেশে পূর্ববর্তী শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে আইপিইউ’র সেক্রেটারি জেনারেল ও তার প্রতিনিধিদলকে সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো সরেজমিনে পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া হবে। তারা জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন এবং নির্যাতিত সংসদ সদস্য, তাদের পরিবার এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন।
তিনি বলেন, এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য না করে আইপিইউ’র সেক্রেটারি জেনারেল ও তার প্রতিনিধি দলকে ঘটনাগুলো সরাসরি দেখার এবং কূটনৈতিক সম্প্রদায়সহ অন্যান্য নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য জানার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। এরপর বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যেতে পারে।
স্পিকার পূর্ববর্তী সরকারের সময় জাতিসংঘের একটি তদন্ত প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করেন এবং আইপিইউ’র সেক্রেটারি জেনারেল ও তার প্রতিনিধি দলকে প্রতিবেদনটি পড়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, এটি জাতিসংঘ পরিচালিত একটি স্বাধীন প্রতিবেদন এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের এ প্রতিবেদন প্রণয়ন বা প্রকাশে কোনো ভূমিকা ছিল না।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, গণতন্ত্র পুনর্গঠনে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা প্রয়োজন। দেশের মানুষ অনেক কিছু হারিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষ হিসেবে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, তরুণদের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। গণতন্ত্রের জন্য দেশের মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে অনেক কষ্ট সহ্য করেছে এবং গণতন্ত্র পুনর্গঠনের লক্ষ্যে তরুণদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
চিফ হুইপ এ সময় আইপিইউ’র সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশ সফরের জন্য ধন্যবাদ জানান।
মতবিনিময় সভায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরী, সাঈদ আল নোমান, মোছা. তাহসিনা রুশদী, আখতার হোসেন, সানসিলা জেবরিন, মানসুরা আক্তার, মোছা. সানজিদা ইয়াসমিন, মাধবী মার্মা, মারদিয়া মমতাজ এবং মোছা. নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি ফ্যাসিস্ট আমলের নির্যাতনের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূইয়াসহ সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।
প্রায় ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন করেছে সরকার। বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬-এ গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে বাড়তি বেতন একসঙ্গে কার্যকর না করে তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন করা হয়। বৈঠক ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
নতুন বেতনস্কেলে ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ এ গ্রেডে মূল বেতন বাড়ছে প্রায় ১৪২ শতাংশ।
অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের নির্ধারিত মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে দ্বিগুণ করে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। ফলে সর্বোচ্চ গ্রেডে মূল বেতন বাড়ছে ১০০ শতাংশ।
গ্রেডভেদে কত হচ্ছে নতুন মূল বেতন: নতুন বেতন কাঠামোয় ১ম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। ২য় গ্রেডে ৬৬ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ ৩২ হাজার, ৩য় গ্রেডে ৫৬ হাজার ৫০০ থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার এবং ৪র্থ গ্রেডে ৫০ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ৫ম গ্রেডে ৪৩ হাজার থেকে বেড়ে ৮৬ হাজার, ৬ষ্ঠ গ্রেডে ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে ৭১ হাজার, ৭ম গ্রেডে ২৯ হাজার থেকে ৫৮ হাজার এবং ৮ম গ্রেডে ২৩ হাজার থেকে বেড়ে ৪৬ হাজার টাকা করা হয়েছে।
৯ম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২২ হাজার থেকে বেড়ে ৪৪ হাজার এবং ১০ম গ্রেডে ১৬ হাজার থেকে বেড়ে ৩২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১১তম গ্রেডে ১২ হাজার ৫০০ থেকে দ্বিগুণ হয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।
নিচের গ্রেডগুলোতেও উল্লেখযোগ্য হারে বেতন বাড়ানো হয়েছে। ১২তম গ্রেডে ১১ হাজার ৩০০ থেকে বেড়ে ২৪ হাজার ৩০০, ১৩তম গ্রেডে ১১ হাজার থেকে ২৪ হাজার এবং ১৪তম গ্রেডে ১০ হাজার ২০০ থেকে বেড়ে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
একইভাবে ১৫তম গ্রেডে ৯ হাজার ৭০০ থেকে বেড়ে ২২ হাজার ৮০০, ১৬তম গ্রেডে ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২১ হাজার ৯০০, ১৭তম গ্রেডে ৯ হাজার থেকে ২১ হাজার ৪০০ এবং ১৮তম গ্রেডে ৮ হাজার ৮০০ থেকে বেড়ে ২১ হাজার টাকা করা হয়েছে।
আর ১৯তম গ্রেডে ৮ হাজার ৫০০ থেকে বেড়ে ২০ হাজার ৫০০ এবং সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডে ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফলে নতুন বেতন কাঠামোয় সর্বনিম্ন গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন প্রায় ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ছে।
একসঙ্গে নয়, তিন ধাপে বাড়বে বেতন: নতুন বেতনস্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও পুরো বেতন বৃদ্ধি একবারে কার্যকর হচ্ছে না। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে মূল বেতন তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সরকারের ওপর একসঙ্গে বিপুল অর্থ ব্যয়ের চাপ কমানো এবং মূল্যস্ফীতির সম্ভাব্য প্রভাব সামাল দিতেই এই ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন। বিশেষ করে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে বিভিন্ন ধরনের ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একযোগে কার্যকর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
কম পেনশনে বাড়ছে বেশি—সর্বোচ্চ সুবিধা ১০০ শতাংশ: নতুন বেতনস্কেলের সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের জন্যও এসেছে বড় পরিবর্তন। কম নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন তুলনামূলক বেশি হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
নতুন স্ল্যাব অনুযায়ী—৯ হাজার টাকা বা কম নিট পেনশন হলে বাড়বে ১০০ শতাংশ, ৯,০০১ থেকে ২০ হাজার টাকা হলে বাড়বে ৭৫ শতাংশ, ২০,০০১ থেকে ৩০ হাজার টাকা হলে বাড়বে ৬৫ শতাংশ, ৩০,০০১ থেকে ৪০ হাজার টাকায় বাড়বে ৬০ শতাংশ এবং ৪০,০০১ টাকা বা বেশি হলে বাড়বে ৫৫ শতাংশ। অর্থাৎ যারা দীর্ঘদিন আগে অবসরে গেছেন এবং তুলনামূলক কম পেনশন পান, তারাই এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন।
তবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ বা ওয়ান র্যাংক ওয়ান পেনশন (ওআরওপি) এখনই পুরোপুরি চালু হচ্ছে না। তথ্যের ঘাটতি ও বিপুল আর্থিক ব্যয়ের কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ওআরওপি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা: নতুন বেতনস্কেলে প্রথমবারের মতো সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য মাসিক ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রতি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য একজন সরকারি কর্মচারী মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা পাবেন। অতিরিক্ত পরিচর্যা, চিকিৎসা ও পারিবারিক ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই সুবিধা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এটি নতুন বেতন কাঠামোর অন্যতম মানবিক সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
১ম থেকে ২০তম—সব গ্রেডেই মোবাইল ভাতা: ডিজিটাল সরকারি কার্যক্রম বাড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে মোবাইল ভাতার আওতাও ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী ১ম থেকে ২০তম—সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারী মোবাইল ভাতা পাবেন। আগে নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত কর্মচারীরা এই সুবিধা পেতেন।
ই-মেইল, অনলাইন সভা, ডিজিটাল ফাইল ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন অ্যাপভিত্তিক কাজের কারণে এখন প্রায় সব পর্যায়ের সরকারি কর্মচারীকেই মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হয়। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই এই সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের ফলে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী।
তবে এই সুবিধার বিপরীতে সরকারের ব্যয়ও বাড়বে উল্লেখযোগ্যভাবে। নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি।
অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত ২৩ সদস্যের কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি প্রতিবেদন জমা দেয়।
কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ ছিল।
পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির সুপারিশ, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত বেতন কাঠামো অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
এখন অপেক্ষা প্রজ্ঞাপনের: মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর এখন শুরু হবে নতুন বেতনস্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, প্রজ্ঞাপন জারি করতে এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
সব মিলিয়ে নতুন বেতনস্কেল সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটালেও এর বাস্তবায়ন হবে ধাপে ধাপে। বেতন বাড়ার স্বস্তির পাশাপাশি সরকারের সামনে থাকবে বাড়তি ব্যয় সামলানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিপুল সংখ্যক কর্মচারী ও পেনশনভোগীর জন্য নতুন কাঠামো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের বড় চ্যালেঞ্জ।