বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে দেড় শ টাকার খাবারের দাওয়াত দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমি তো একা খাব না। আমি তো ১৮ কোটি মানুষ নিয়ে খেতে চাই। আমি সবাইকে নিয়ে খেতে চাই। তারপরও ধন্যবাদ প্রস্তাবটি দেওয়ার জন্য।’
আজ সোমবার জাতীয় সংসদে ৬৮ বিধির সাধারণ আলোচনার একপর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতা প্রধানমন্ত্রীর দেড় শ টাকার মধ্যাহ্নভোজের প্রশংসা করলে তিনি আমন্ত্রণ জানান।
‘তীব্র জ্বালানি ও গ্যাস-সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে বেকারত্ব সৃষ্টি এবং দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে মারাত্মক বিপর্যয় রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ’ বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা তাঁর উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন ৬৮ বিধির আলোচনার একপর্যায়ে বলেন, ‘আমরা উৎসাহিত হই, যখন দেখি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর লাঞ্চের খরচ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। আমার ভালো লাগে। এত কম টাকায় আমিও খাইতে পারি না।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী হাত দিয়ে ইশারা করেন, ‘আসুন খাওয়াব।’ একই সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও মাইক ছাড়াই মুখে বলেন, ‘আপনাকে খাওয়ানো হবে।’ তিনি এ সময় প্রধানমন্ত্রীর দিকে ইশারা করেন।
জবাবে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী সাদামাটা জীবন যাপন করেন, সুন্দর। একেবারে পশ, স্যুটে-বুটে নয়। প্লেন পথে চলেন। এটা উৎসাহিত হওয়ার মতো বিষয়। কিন্তু তাঁর এই জীবনযাপন নিয়ে যাঁদের প্রশংসা করতে দেখি, তাঁরা আবার উল্টাপাল্টা চলেন।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যদি এসব মানুষের আইকন হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁকে তো অনুসরণ করা উচিত। সব ক্ষেত্রেই তাঁকে অনুসরণ করা উচিত। এটা তো আমরা দেখি না। আমরা ঠিক তার বিপরীতটা দেখি। আমরা আশা করি, এখন থেকে আইকন বলার আগে সাবধান হয়ে বলবেন। আর আইকন বললে তাঁকে ফলো করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রীও মানুষ—মন্তব্য করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তিনি ভুলের ঊর্ধ্বে নন। তাঁর সবকিছুতে ‘হ্যাঁ’ বলা যাবে না। হ্যাঁ বলা যাবে কেবল শিশুদের দাবিতে। তারা যা বলবে, তাতে হ্যাঁ বলা যাবে।
দেশের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির হার টানা দ্বিতীয় মাসের মতো কিছুটা কমেছে। আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি নেমে এসেছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে, যা জুলাইয়ে ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতিও কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ০২ শতাংশে। পরিসংখ্যানের হিসাবে এটি স্বস্তির খবর হলেও সাধারণ মানুষের জীবনে সেই স্বস্তির প্রতিফলন কতটা পড়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কারণ মূল্যস্ফীতির হার কমার অর্থ বাজারে পণ্যের দাম কমে যাওয়া নয়। এর অর্থ হলো আগের বছরের তুলনায় পণ্য ও সেবার দাম বাড়ার গতি কিছুটা কমেছে। ফলে যে পণ্যটি এক বছর আগে ১০০ টাকা ছিল, সেটি ১০৮ বা ১১০ টাকা হওয়ার বদলে হয়তো কিছুটা কম হারে বেড়েছে; কিন্তু আগের বাড়তি দামটি বাজারে থেকেই গেছে। সোমবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ প্রকাশিত ভোক্তা মূল্য সূচক ও মূল্যস্ফীতির হিসাব থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
বিবিএসের হিসাবে, ২০২৫ সালের আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। চলতি বছরের আগস্টে তা সামান্য কমে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ হয়েছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতিও এক বছরের ব্যবধানে ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ থেকে কমে ৭ দশমিক ০২ শতাংশে নেমেছে।
তবে মাসভিত্তিক হিসাবে পরিস্থিতি ভিন্ন। আগস্টে সামগ্রিক ভোক্তা মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ২ দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়েছে। খাদ্যপণ্যের মূল্যসূচক বেড়েছে ৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতির বার্ষিক হার কমলেও এক মাসের ব্যবধানে খাদ্যপণ্যের দাম সামগ্রিকভাবে কমেনি, বরং বেড়েছে।
এ কারণেই সরকারি হিসাবে মূল্যস্ফীতি কমার খবর থাকলেও বাজারে গিয়ে স্বস্তি পাচ্ছেন না ভোক্তারা।
নিত্যপণ্যের দাম কমেনি, বেড়েছে সংসারের ব্যয়; চাল, ডাল, তেল, চিনি, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, কাঁচামরিচ, সবজি, মাছ, মাংস ও ডিম—প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় এসব পণ্যের বাজার এখনো সাধারণ মানুষের জন্য ব্যয়বহুল। ঢাকার খুচরা বাজারের সরকারি দরের হিসাবে মোটা চাল প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৫২ টাকা, মাঝারি চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং সরু চালের বিভিন্ন ধরনের দাম ৬৫ থেকে ৯৫ টাকা পর্যন্ত রয়েছে।
খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে ৪৬ থেকে ৫০ টাকা কেজি। মসুর ডাল ৯০ থেকে ১০০ টাকা, মুগ ডাল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা এবং ছোলা ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৮৫ থেকে ১৮৯ টাকা এবং বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৯ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত রয়েছে। চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১২ টাকা কেজি। দেশি পেঁয়াজের দাম ৪৫ থেকে ৬০ টাকা।
সবজির বাজারেও স্বস্তি সীমিত। আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ১২০ টাকা এবং লাউ ৩০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি রসুন ৮০ থেকে ১১০ টাকা, চায়না রসুন ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা এবং আমদানি করা আদা ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি। কাঁচামরিচের দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত।
মাছ, মাংস ও ডিমের বাজারও নিম্ন ও মধ্যবিত্তের খাদ্য বাজেটে বড় চাপ তৈরি করছে। রুই মাছ ৩৪০ থেকে ৫০০ টাকা, কাতল ৩২০ থেকে ৪৮০ টাকা, পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের ডিমের দাম প্রতিটি ১১ টাকা ২৫ পয়সা থেকে ১২ টাকা ৫০ পয়সা।
ফলে কোনো একটি পণ্যের দাম সাময়িকভাবে কমলেও পরিবারের মোট বাজার খরচে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরছে না। বরং এক পণ্যের দাম কমার সঙ্গে অন্য পণ্যের দাম বাড়ায় মাসিক ব্যয়ের চাপ থেকেই যাচ্ছে।
মজুরি বৃদ্ধির গতি কম, প্রকৃত আয় আরও চাপে: মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি মানুষের আয় বা মজুরি বৃদ্ধির চিত্রও উদ্বেগ তৈরি করছে। বিবিএসের হিসাবে, আগস্টে জাতীয় পর্যায়ে মজুরি হার সূচকের পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। জুলাইয়ে এ হার ছিল ৮ দশমিক ২২ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে মজুরি বৃদ্ধির হার কমেছে শূন্য দশমিক ১৭ শতাংশীয় পয়েন্ট।
গত বছরের আগস্টে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানেও মজুরি বৃদ্ধির গতি কমেছে। আর এখানেই তৈরি হয়েছে বড় বৈপরীত্য। আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি যেখানে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ, সেখানে মজুরি বেড়েছে ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। অর্থাৎ মানুষের আয় বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে শূন্য দশমিক ২১ শতাংশীয় পয়েন্ট কম।
সহজ হিসাবে, একজন শ্রমজীবী মানুষের আয় nominal বা নামমাত্র হিসাবে বাড়লেও সেই বাড়তি আয় দিয়ে আগের তুলনায় বেশি পণ্য কেনা সম্ভব হচ্ছে না। বরং পণ্য ও সেবার দাম বাড়ার হার আয় বৃদ্ধির চেয়ে বেশি হওয়ায় প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা চাপে পড়ছে।
খাতভিত্তিক হিসাবেও একই চিত্র। আগস্টে কৃষি খাতে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ০৭ শতাংশ, শিল্প খাতে ৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ। তিনটি খাতের কোনোটিতেই মজুরি বৃদ্ধির হার সার্বিক মূল্যস্ফীতিকে ছাড়াতে পারেনি। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারে। যাদের আয়ের বড় অংশ খাবার, বাসাভাড়া, যাতায়াত ও অন্যান্য মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় হয়, তাদের হাতে সঞ্চয়ের সুযোগ কমে যায়। অনেক পরিবারকে জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে খাদ্যতালিকা ছোট করা, কম দামের পণ্য বেছে নেওয়া কিংবা অন্যান্য ব্যয় কমানোর মতো সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
খাদ্য কমলেও খাদ্যবহির্ভূত ব্যয় বাড়ছে: মূল্যস্ফীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো খাদ্যবহির্ভূত খাত। আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমলেও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। জুলাইয়ের ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ থেকে আগস্টে এ হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশে। গত বছরের আগস্টে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ। অর্থাৎ মানুষের ওপর চাপ শুধু বাজারের খাদ্যপণ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বাসস্থান, পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি, পরিবহন, পোশাক, জুতা, রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন সেবার ব্যয়ও বাড়ছে।
আগস্টে রেস্তোরাঁ ও হোটেল খাতে মূল্যস্ফীতি ছিল ১২ দশমিক ৪৯ শতাংশ। পোশাক ও জুতায় ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ, বাসস্থান, পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানিতে ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং পরিবহন খাতে ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছে।
গ্রাম ও শহরের চিত্রেও একই ধরনের চাপ রয়েছে। আগস্টে গ্রামীণ এলাকায় সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ, জুলাইয়ে যা ছিল ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ০১ শতাংশে নামলেও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
শহরাঞ্চলে আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২০ শতাংশ, জুলাইয়ে ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। শহরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ০৪ শতাংশ হলেও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ। অর্থাৎ গ্রাম বা শহর—কোথাও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ পুরোপুরি কমেনি।
সামনে বড় চ্যালেঞ্জ প্রকৃত আয় ও বাজারের স্থিতিশীলতা: বিবিএসের তথ্য বলছে, মূল্যস্ফীতি কমার প্রবণতা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। তবে মানুষের জীবনে এর প্রকৃত সুফল পেতে হলে শুধু মূল্যস্ফীতির হার কমানো যথেষ্ট নয়। একই সঙ্গে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে হবে এবং মজুরি বৃদ্ধির হারকে মূল্যস্ফীতির ওপরে নিতে হবে।
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে মানুষের প্রকৃত আয়। নামমাত্র মজুরি বাড়লেও যদি একই সময়ে খাদ্য, বাসস্থান, পরিবহন, বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার ব্যয় আরও বেশি হারে বাড়ে, তাহলে মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি আসে না।
দীর্ঘ সময় ধরে এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে পরিবারের সঞ্চয় কমতে পারে, ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে এবং ভোগক্ষমতা কমে যেতে পারে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বেন স্থির বা কম আয়ের শ্রমজীবী মানুষ।
তাই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বাজারে সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো, উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যকার অপ্রয়োজনীয় মধ্যস্বত্বভোগীর চাপ কমানো এবং পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
আগস্টের পরিসংখ্যান তাই অর্থনীতিকে একটি দ্বৈত বার্তা দিচ্ছে। একদিকে মূল্যস্ফীতি কমেছে—যা ইতিবাচক। অন্যদিকে মজুরি বৃদ্ধির হারও কমেছে এবং তা মূল্যস্ফীতির নিচে রয়েছে—যা মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতার জন্য সতর্কবার্তা।
শেষ পর্যন্ত মানুষের কাছে অর্থনীতির সাফল্যের মাপকাঠি শুধু মূল্যস্ফীতির সংখ্যা নয়। মাস শেষে আয় দিয়ে কতটা স্বস্তিতে সংসার চালানো যাচ্ছে, সন্তানদের প্রয়োজন মেটানো যাচ্ছে এবং সামান্য হলেও সঞ্চয় করা যাচ্ছে কি না—সেই হিসাবই তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারি পরিসংখ্যানে মূল্যস্ফীতি কমেছে। কিন্তু বাজারে স্বস্তি ফেরাতে হলে এখন সবচেয়ে বড় কাজ হলো মানুষের আয়কে মূল্যস্ফীতির চেয়ে দ্রুত বাড়ানো এবং নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা। সেই জায়গায় পৌঁছানোই হবে আগামী দিনের বড় অর্থনৈতিক পরীক্ষা।
শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক তাদের গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে আবেদন নেওয়া শুরু করছে। গত মঙ্গলবার থেকে আবেদন শুরুর পর রোববার পর্যন্ত ব্যাংকটির বিভিন্ন শাখায় জমা টাকা তোলার আবেদন জমা পড়েছে ৭৪ হাজার ২২১টি। সেই হিসাবে মাত্র চার কার্যদিবসে জমা পড়া এসব আবেদনের বিপরীতে মোট টাকার চাহিদা রয়েছে ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা। যাচাই-বাছাই শেষে সোমবার থেকে আমানতকারীদের টাকা পরিশোধ শুরু করার কথা রয়েছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
ব্যাংকটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত দুই শ্রেণির আমানতকারীরা টাকা তোলার আবেদন করেছেন। যাদের চিকিৎসাসহ খুব জরুরি প্রয়োজন আর যারা ব্যাংকটিতে আস্থা রাখতে পারছেন না। কেবল তারাই মুনাফা ছাড়া মূল টাকা তোলার আবেদন করেছেন। আর সবচেয়ে বড় অংশের লোকজন ব্যাংক থেকে টাকা তুলছেন না। তারা ব্যাংকটিতে আস্থা রাখতে চাচ্ছেন। এটিই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মূল আস্থার জায়গা।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দিনে গত মঙ্গলবার আবেদন জমা পড়েছে ১৮ হাজার ৪৬টি, যার বিপরীতে অর্থের চাহিদা দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা। দ্বিতীয় দিনে (বুধবার) আবেদন জমা পড়েছে ১৯ হাজার ৬১৩টি, যার বিপরীতে অর্থের চাহিদার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১৬ কোটি টাকা। তৃতীয় দিনে (বৃহস্পতিবার) আবেদন জমা পড়েছে ২১ হাজার ৮৬টি, এর বিপরীতে অর্থের পরিমাণ ছিল ৯২৩ কোটি টাকা। আর আজ শেষ দিনে আবেদন জমা পড়ে মাত্র ১৫ হাজার ৪৭৬টি, যার বিপরীতে অর্থের চাহিদা রয়েছে ৬৫৭ কোটি টাকা।
তথ্য অনুযায়ী, সব মিলিয়ে চার কার্যদিবসে ব্যাংকটিতে মোট ৭৪ হাজার ২২১টি আবেদন জমা পড়েছে; যার বিপরীতে অর্থের চাহিদা রয়েছে ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তি আমানতকারীরা তাদের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা ও মেয়াদি আমানতের মূল টাকা উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। তবে এই সুবিধার আওতায় আমানতের বিপরীতে অর্জিত বা প্রাপ্য মুনাফা পাওয়া যাবে না। কোনো গ্রাহক মূল টাকা তুলে নিলে সংশ্লিষ্ট আমানতের ক্ষেত্রে সেটিকে পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, যেসব গ্রাহক এখনই আমানত তুলবেন না, তারা হিসাব চালু রাখলে চুক্তি অনুযায়ী প্রযোজ্য হারে মুনাফা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
সামগ্রিক বিষয়ে আজ সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবেদুর রহমান সিকদার এক লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘৮৪ লাখ গ্রাহকের মধ্যে মাত্র ৭৪ হাজার ২২১ জন অর্থ উত্তোলনের আবেদন করেছেন। যারা একবারে পুরো আসল টাকা তুলে নেওয়ার আবেদন করেছেন। এই সংখ্যা মোট আমানতকারীর তুলনায় খুবই কম। তাতে বোঝা যাচ্ছে, এখনো মানুষের যথেষ্ট আস্থা আছে আমাদের ওপর।’
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিগত অন্তর্বর্তী সরকার ‘সংকটাপন্ন’ উল্লেখ করে পাঁচ ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করে। মালিকানা নেওয়া হয় সরকারের হাতে। ৩৫ হাজার কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধন নিয়ে যাত্রা করা নতুন এ ব্যাংকে সরকার ইতিমধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন সহায়তা দিয়েছে।
জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী নতুন ১০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন এবং একটি কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম এই কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা পরবর্তীতে কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়। এই নতুন বিন্যাসে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ জয়নুল আবদিন ফারুক।
নৌপরিবহন স্থায়ী কমিটিতে জয়নুল আবদিন ফারুকের নেতৃত্বে আরও বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পদাধিকারবলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী এই কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—মোহাম্মদ রাজিব হাসান (বরিশাল-৪), মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান (বগুড়া-২), মোহাম্মদ মাহমুদুল হক রুবেল (শেরপুর-৩), আনিসুর রহমান (মাদারীপুর-৩), সাঈদ আহমেদ (শরীয়তপুর-১), সাজিদা ইয়াসমিন (সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩১), মোহাম্মদ নাজমুল হুদা (মেহেরপুর-২) এবং আব্দুল হান্নান মাসউদ (নোয়াখালী-৬)।
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা জয়নুল আবদিন ফারুকের দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য সংসদীয় ক্যারিয়ার রয়েছে। তিনি মোট ৬ বার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন এবং নবম জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের চিফ হুইপ হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর এই অভিজ্ঞ নেতৃত্ব নৌপরিবহন খাতের উন্নয়ন ও তদারকিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত প্রায় ৪ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিকের ভিসা বাতিলের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে সরকার উচ্চপর্যায়ে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করেছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এই সংকট নিরসনে কাজ করে যাচ্ছে।
ফেসবুক পোস্টে প্রতিমন্ত্রী নুর উল্লেখ করেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিসা বাতিল হওয়া চার হাজার বাংলাদেশির বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ আমরা অবগত। কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।’ সরকারের পক্ষ থেকে প্রবাসীদের আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, তাদের অধিকার রক্ষায় সম্ভাব্য সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, হঠাৎ করে ভিসা বাতিলের ফলে বিপাকে পড়া প্রবাসীরা সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। ছুটিতে দেশে এসে আটকা পড়া এসব কর্মীরা জানান, কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই তাদের ভিসা বাতিল হওয়ায় তারা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন, আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং প্রয়োজনে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাসহ মোট ৫ দফা দাবি পেশ করেন। ভুক্তভোগীরা আশা করছেন, সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপে তাঁরা তাঁদের কর্মস্থলে ফিরে যেতে সক্ষম হবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।
তিনি বলেন, নিজ দেশে ফিরে গেলে রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তারেক রহমান আরো বলেন, প্রত্যাবাসনের পর মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতেও বাংলাদেশ প্রস্তুত।
মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন (জাতীয় সমঝোতা) বিষয়ক জাপান সরকারের বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।
আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান।
বৈঠকের শুরুতে বিশেষ দূত সময় দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন।
সাসাকাওয়া বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য নিরসনে কাজ করছেন। মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন বিষয়ে জাপান সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে তাঁর ভূমিকার কথাও তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে জাপানের বিশেষ দূত বলেন, এ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি অবগত। রোহিঙ্গাদের সহায়তায় জাপান সরকারের বিভিন্ন অনুদান ও মানবিক সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাসাকাওয়াকে বাংলাদেশ সফরের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং তাঁর দীর্ঘদিনের মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট। এ সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য তিনি জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ এমনিতেই একটি জনবহুল দেশ। দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নিজের অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার জন্য জাপানের বিশেষ দূতের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
বিশেষ দূত বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে তাঁর সঙ্গে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের আলোচনা হয়েছে। মিয়ানমার সরকার এই সংকটের সমাধানে আন্তরিক বলে তিনি মনে করেন।
তবে তিনি উল্লেখ করেন, রাখাইন প্রদেশের বর্তমান জটিল পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন অগ্রগতিতে সময় লাগছে।
বিশেষ দূত প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে বলেন, তাঁর অবস্থান থেকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তিনি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে শুধু দ্বিপক্ষীয় প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর না করে বহুপক্ষীয় উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বিশেষ দূতকে বাংলাদেশে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদনকেন্দ্র তৈরিতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। বিশেষ দূত বিষয়টি নিয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার কথা বলেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশ জাপানের বিনিয়োগ পেতে আগ্রহী এবং দেশে একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ দূতকে জানান।
একই সঙ্গে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও উন্নত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আগ্রহের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
এ সময় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাসস
দীর্ঘদিন ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং জাতীয় ব্যবস্থাপনার ওপর যে অসহনীয় চাপ তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে জাপানের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাপান সরকারের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত এবং নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ একটি অধিক জনবহুল রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও মানবিক কারণে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর ভার বহন করতে গিয়ে দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো এবং সামাজিক শৃঙ্খলার ওপর ব্যাপক বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি রোহিঙ্গাদের তাঁদের নিজ ভূমি মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক এবং সসম্মানে দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাপানের বিশেষ দূতকে তাঁর প্রভাব কাজে লাগানোর অনুরোধ জানান। প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সম্ভাব্য সকল কারিগরি ও মানবিক সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত।
জাপানের বিশেষ দূত ইয়োহেই সাসাকাওয়া রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেন এবং এই সংকটের কারণে সৃষ্ট বহুমুখী চাপের বিষয়ে সমবেদনা প্রকাশ করেন। তিনি জানান যে, রোহিঙ্গাদের জন্য জাপান সরকারের মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে। মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক আলোচনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিয়ানমার এই সংকট সমাধানে নীতিগতভাবে রাজি থাকলেও রাখাইন রাজ্যের অস্থিতিশীল ও জটিল পরিস্থিতির কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর প্রতিশ্রুতি দেন।
দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে শুধু দুই দেশের চেষ্টার ওপর নির্ভর না করে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক বহুপক্ষীয় উদ্যোগ জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে একটি আধুনিক ভ্যাকসিন উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন এবং মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করেছে সরকার। সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বর্তমানে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন নতুন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া চলায় এই বদলি কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বদলি প্রক্রিয়াটি সুশৃঙ্খল এবং স্বচ্ছ করতে সরকার এটি পর্যালোচনা করছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, “১৪ হাজারের বেশি যে নিয়োগ হবে, তার জন্য সব বদলি এখন স্থগিত। ১৪ হাজারের ফিক্সড হয়ে গেলে নতুন করে আবার চালু হবে। তখন এটা নেওয়া যাবে।” নতুন শিক্ষকদের পদায়ন সম্পন্ন হওয়ার পর শিক্ষক বদলির বর্তমান নীতিমালায় কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, তা নিয়েও পরে আলোচনা করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ জানান, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি কার্যক্রমকে আরও বেশি ‘ফাইন্যান্সিয়াল নিড বেজড’ বা আর্থিক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া ফিডব্যাক অনুযায়ী, প্রকৃত অভাবী শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে উপবৃত্তির অর্থ ও সংখ্যা বাড়ানোর প্রচেষ্টা চালানো হবে। একই সাথে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনরায় শিক্ষার মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করার ওপর জোর দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে বাস্তবে রূপ দেওয়া। এ লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি প্রান্তে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের জন্য উন্নত শিক্ষার সুযোগ তৈরি করাই তাঁর মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এবার এলাকাভিত্তিক বিভাজনের পরিবর্তে উপজেলাভিত্তিক নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, একটি নির্দিষ্ট উপজেলার অধীনে থাকা সকল ইউনিয়ন পরিষদে একই দিনে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইসি সচিব জানান, সারাদেশের কয়েক হাজার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে তা একাধিক ধাপে আয়োজন করা হবে। তবে মোট কতটি ধাপে এই ভোট হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। উপজেলাভিত্তিক নির্বাচনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি উপজেলার কিছু ইউনিয়নে এক ধাপে এবং বাকিগুলোতে অন্য ধাপে ভোট হলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। তাই প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুবিধার্থেই একই উপজেলার সব ইউনিয়নে একযোগে ভোট নেওয়া হবে। তবে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তফসিল কমিশন আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করবে বলে তিনি জানান।
নির্বাচনী আচরণবিধিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার আনার ইঙ্গিত দিয়ে সচিব আরও বলেন, পরিবেশ সুরক্ষায় নির্বাচনী প্রচারণায় কাগুজে পোস্টার ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনী বিধিমালায় আরও কিছু সংশোধন আনা হয়েছে, যা পর্যালোচনার পর বিস্তারিত জানানো হবে।
এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন জানিয়েছিলেন যে, আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ তফসিল ঘোষণা করে নভেম্বর মাস থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশব্যাপী স্থানীয় নির্বাচনের যাত্রা শুরু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা এবং জেলা পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের।
বাংলাদেশ ও ইতালির দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। আজ সোমবার সচিবালয়ে তাঁর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই আহ্বান জানান। বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী বলেন, দুই দেশের এই নিবিড় মৈত্রীকে আরও ফলপ্রসূ করতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্রগুলো খুঁজে বের করা জরুরি। বিশেষ করে ইতালিতে দক্ষ বাংলাদেশি জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ বাড়াতে ইতালীয় ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম প্রসারে তিনি রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা কামনা করেন। বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষক তৈরি এবং বিদেশ যেতে আগ্রহী কর্মীদের ভাষাগত দক্ষতা অর্জনে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। ইতালির রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতা বৃদ্ধির আশ্বাস দেন।
বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের জানান, বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশি ইতালিতে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। বৈধ পথে জনশক্তি রপ্তানি বাড়াতে ভাষা শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা এবং মানবপাচার রোধে সচেতনতামূলক প্রচারণা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, খুলনার সাথে ইতালির মিলান শহরের খাদ্য নিরাপত্তা ও খাদ্য অপচয় রোধে একটি যৌথ কার্যক্রম চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের স্থপতিদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ বিনিময় এবং দুই দেশের বাণিজ্য ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের নির্বাহী পরিষদের সদস্যগণ এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।
ঠাকুরগাঁওয়ে রাষ্ট্রপতির বাসভবনে আজ সকালে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম গণতন্ত্র, সুশাসন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য।
তিনি মফস্বলভিত্তিক সাংবাদিকদের তৃণমূল ও প্রান্তিক মানুষের কথা নিষ্ঠার সঙ্গে যথাযথভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
ঠাকুরগাঁওয়ের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ দেশের মফস্বল সাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন। ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের ভবন সম্প্রসারণ, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় ঠাকুরগাঁওয়ের স্থানীয় নির্যাতিত সাংবাদিকদের জন্য সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দসহ সংবাদিকদের ওয়েজবোর্ড গঠনের ব্যাপারেও রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
রাষ্ট্রপতি সাংবাদিকদের সমস্যা ও দাবি-দাওয়া পূরণে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
একইসঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সরওয়ার আলম, ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের সভাপতি লুৎফর রহমান মিঠু ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান তানু, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের নির্বাহী পরিষদের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি দু’দিনের সফরে গতকাল ঠাকুরগাঁও পৌঁছান।
সূত্র: বাসস
নতুন উদ্যোক্তা গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশজুড়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে কর্মসংস্থান ব্যাংক আয়োজিত ‘ক্ষুদ্র ব্যবসা, ক্ষুদ্রঋণ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগ তহবিল’ প্রকল্পের উদ্বোধন ও ঋণ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে এটি ৫০ কোটি টাকার একটি পরীক্ষামূলক বা পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হয়েছে। যারা প্রথাগত ব্যাংক ঋণের জটিলতায় পড়তে ভয় পান, তাঁদের সরাসরি অর্থায়নের মাধ্যমে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “যারা ব্যাংকে যেতে ভয় পায় তাদের ঋণ দিয়ে কর্মসংস্থানে নিয়ে উদ্যোক্তা তৈরির জন্যই কর্মসংস্থান ব্যাংকের যাত্রা শুরু হয়।”
সরকারের অর্থনৈতিক ভাবনার নতুন দিক তুলে ধরে মন্ত্রী ‘ক্রিয়েটিভ’ বা ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’র ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ের সৃজনশীল মানুষদের কেবল ঋণ দেওয়াই যথেষ্ট নয়, তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পণ্যের উপযুক্ত ব্র্যান্ডিং নিশ্চিত করে বিপণন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। সংগীতসহ বিভিন্ন সৃজনশীল পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতির মূল স্রোতে নিয়ে আসার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। অর্থমন্ত্রীর মতে, সৃজনশীলতাকে পণ্য বা সেবা হিসেবে বাজারজাত (মনিটাইজ) করা গেলে জাতীয় অর্থনীতিতে এর বড় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
কর্মসংস্থান ব্যাংকের কার্যক্রমের প্রশংসা করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার (NPL) ৪ শতাংশ থেকে ১ বা ২ শতাংশে নামিয়ে আনার পরামর্শ দেন। বর্তমানে ব্যাংকটি মুনাফায় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি নতুন এই প্রকল্পের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষের জন্য কর্মসংস্থান তৈরির আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দেশের মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে সরকার।
এর আওতায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মাসিক সম্মানী, উৎসব ভাতা ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রোববার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের জন্য সম্মানী ও কল্যাণ সহায়তা প্রদান নীতিমালা ২০২৬’ শীর্ষক প্রজ্ঞাপন জারি করে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার, সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জাসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের কর্মরত ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।
তাদের এ অবদান বিবেচনায় নিয়ে আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে নতুন এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।
নীতিমালার আওতায় মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদের সম্মানী দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে উৎসব ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর মাধ্যমে উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের নিয়মিত আয় ও আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তা করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
শুধু আর্থিক সহায়তার মধ্যেই এ উদ্যোগ সীমাবদ্ধ থাকছে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথাও নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন দক্ষতা বৃদ্ধি ও বিকল্পভাবে আয় করার সুযোগ তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের পেশাগত দক্ষতাও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, সরকারের ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।
দেশের সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের কল্যাণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও সেবকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রেখে আসছেন।
নতুন নীতিমালার মাধ্যমে তাদের অবদানকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের আর্থিক অনিশ্চয়তা কমবে এবং তাদের সামাজিক নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সূত্র: বাসস