বিগত সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার সমালোচনা করে জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্ট সরকারের লোকদেখানো পদক্ষেপের কারণে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান আরও বিলম্বিত ও জটিল আকার ধারণ করেছে। বৃহস্পতিবার ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর টেবিলে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের টেকসই ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে সরকারের দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরে ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘সরকার দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক—সব পর্যায়ে দৃঢ় কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে এই সংকটের দ্রুত ও টেকসই সমাধানে কাজ করছে। এই সংকটের সৃষ্টি মিয়ানমারের এবং এর টেকসই সমাধানও নিহিত রয়েছে মিয়ানমারেই। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য—নিজ ভূমিতে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসন। এ লক্ষ্যে সকল পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করা হবে।’ মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটকে বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসতে আমরা জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক ফোরামে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরছি। বন্ধুরাষ্ট্র, দাতা দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।’ তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে রোহিঙ্গা বিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন কমিটি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলার জন্য পৃথক কমিটি কাজ করছে। পাশাপাশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত হতে যাওয়া একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আশা করছি, ওই ইভেন্টে প্রধানমন্ত্রী প্রধান বক্তা হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন। এর মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকট ও প্রত্যাবাসনের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন সুসংহত হবে।’
সীমান্তে পুশ ইন ইস্যুতে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নেওয়াজ হালিমা আরলীর প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান, ‘সীমান্তে যেকোনো ধরনের পুশ ইন বা পুশ ইনের প্রচেষ্টাকে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারত সরকারের কাছে বাংলাদেশের গভীর উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জোরালো প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আমাদের সরকার দৃঢ়তার সঙ্গে সীমান্তে পুশ ইন রোধে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করে যাচ্ছে।’ একই সময়ে সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আব্দুল খালেকের অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, সমমর্যাদার নীতির ওপর ভিত্তি করে ভারতের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা, সীমান্তবাসীর জানমালের নিরাপত্তা বিধান এবং বৈধ বাণিজ্য প্রসারে সরকার দ্বিপক্ষীয় তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।
সংসদীয় প্রশ্নোত্তর পর্বে কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, অতীতে মিশনগুলোর কার্যক্রমে শিথিলতা থাকলেও বর্তমান সরকার দূতাবাসগুলোকে কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় এনেছে। জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলকে তিনি অবহিত করেন, বর্তমানে বিশ্বের ৬৩টি রাষ্ট্রে বাংলাদেশের মোট ৮৬টি কূটনৈতিক মিশন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার বিষয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) জিডিপির ২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং সামগ্রিক বিনিয়োগ ৪০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে বিদেশি মিশনগুলো সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক রোডম্যাপ নিয়ে মাঠে নেমেছে।
এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দীনের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, রাশিয়ার কারিগরি সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কার্যক্রম চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে শুরু হতে পারে। একই সঙ্গে পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ প্রয়োগ ও ভবিষ্যৎ জ্বালানি সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্মল মডুলার রিঅ্যাক্টর (এসএমআর) প্রযুক্তি স্থাপনের সম্ভাব্যতা নিয়ে আগ্রহী দেশগুলোর সঙ্গে প্রাথমিক স্তরের যোগাযোগ চলছে, যা এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেনি।
আজ বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে সংসদ নেতার অনুমতিক্রমে তাঁর পক্ষে সরকারি দলের চিফ হুইপ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম মনি (বরগুনা-২) এই কমিটি পুনর্গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।
পুনর্গঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম মনিকে। দশ সদস্যের এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে স্থান পেয়েছেন শরিয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দীন আহমেদ অপু, দিনাজপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য মোসাম্মৎ তাহসিনা রুশদি, ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কায়সার আহমেদ, নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া, পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. নাজিবুর রহমান এবং ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামাল হোসেন।
সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ২৪০, ২৪৭ ও ২৪৮ বিধিতে উল্লিখিত বিধান অনুযায়ী কমিটির নিয়োগ, অভ্যন্তরীণ গঠনকাঠামো, কর্মপরিধি ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে উল্লিখিত আইনপ্রণেতাদের সমন্বয়ে এই স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন সম্পন্ন হয়।
জাতীয় সংসদ সদস্যদের মুঠোফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি হ্যাকিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাধ্যমে কণ্ঠস্বর নকল (ভয়েস ক্লোনিং) এবং স্বাক্ষর জাল করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই স্পর্শকাতর সাইবার অপরাধের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং এ ধরনের প্রতারণা প্রতিরোধে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেছে বলে সংসদকে আশ্বস্ত করেন।
আইনপ্রণেতাদের সতর্ক করে চিফ হুইপ জানান, সংসদ সদস্যদের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বর বেআইনিভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সহকর্মী অন্য সদস্যদের নিকট জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে ২৫ হাজার, ৩০ হাজার এমনকি ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থ দাবি করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, আধুনিক এআই প্রযুক্তির অপপ্রয়োগের মাধ্যমে কারও কারও কণ্ঠস্বর হুবহু নকল করা হচ্ছে এবং জাল স্বাক্ষরযুক্ত ভুয়া নথিপত্র তৈরি করে অর্থ আত্মসাতের অপচেষ্টা চলছে। সরকারি ও বিরোধী উভয় দলের একাধিক সংসদ সদস্য ইতিমধ্যে এই পরিকল্পিত সাইবার প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে তিনি অবহিত করেন।
আলোচনার একপর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল আইনপ্রণেতাদের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও প্রযুক্তিগত প্রতিরোধ জোরদারে নির্বাহী বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি সামনে আনেন। এর প্রেক্ষিতে চিফ হুইপ নিশ্চিত করেন যে, সংঘটিত জালিয়াতি প্রতিরোধ ও শনাক্তকরণে বিটিআরসি প্রয়োজনীয় আইনি ও কারিগরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
এ ছাড়া সংসদ ভবনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সুসংহত করার প্রসঙ্গে চিফ হুইপ উল্লেখ করেন, ভবনের প্রতিটি লবিতে অত্যাধুনিক ফেস রিডিং যন্ত্র স্থাপন করা সত্ত্বেও অনেক সদস্য তা ব্যবহার এড়িয়ে যাচ্ছেন। সংসদের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের স্বার্থে ভবনে প্রবেশের সময় তিনি সকল সংসদ সদস্যকে এই ফেস রিডিং ডিভাইস ব্যবহারের অনুরোধ জানান।
পাবনা-২ (সাঁথিয়া) আসনে সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেছেন, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিলের মূল কাঠামোতে কোথাও পরিবর্তন আনা হয়নি। এর প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহির ব্যবস্থা ঠিকমতো না রেখে শুধু ‘পুরোনো বোতলে নতুন মদ’ করলে উদ্দেশ্য পূরণ হবে না।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ এর ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, ২০১৪ সালের মে মাসে নারায়ণগঞ্জে যে ন্যক্কারজনক সাত খুনের ঘটনা ঘটলো, সে ঘটনার পরে র্যাব স্কোয়াডকে কিলিং স্কোয়াড আখ্যায়িত করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। সে সময় তিনি র্যাব বিলুপ্তির দাবি জানান। সংস্কার নয়, সরাসরি বাহিনীর বিলুপ্তির দাবি করেছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে দেশনেত্রী র্যাবকে ক্যানসার আখ্যায়িত করেছিলেন। তখনো তিনি র্যাব বিলুপ্তির দাবি করেন।
তিনি বলেন, এখানে আমরা কী দেখছি? র্যাবের জনবল, কার্যালয়, ক্ষমতা, নথিপত্র, সম্পদ, চুক্তি, দায়-দায়িত্ব সরাসরি এসআরবি নামের নতুন বাহিনীর কাছে চলে যাবে। অর্থাৎ শুধু সাইনবোর্ডটাই পরিবর্তন হচ্ছে। নতুন বোতলে পুরোনো মদ। র্যাবের নাম ছাড়া আর কোনো কিছুই পরিবর্তন হচ্ছে না, সব ঠিক থাকছে।
এ সংসদ সদস্য বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পুলিশ সংস্কার কমিশনের কাছে র্যাব বিলুপ্তির আনুষ্ঠানিক সুপারিশ করে বিএনপি। এই সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ র্যাব বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছিলেন। রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি জাতিসংঘ, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও গুম কমিশনও র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করেছিল।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ নামে নতুন একটি বিশেষায়িত এলিট ফোর্স গঠনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে বিল পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে কণ্ঠভোটে এই বিলটি গৃহীত হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা সংখ্যাগরিষ্ঠের কণ্ঠভোটে পাস হয়।
সংসদে বিলটির প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সময়ের চাহিদা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা কাঠামোর আধুনিকায়ন অপরিহার্য। তিনি বলেন, ‘একটি সংস্থা গঠনের সঙ্গে আরেকটি বিলুপ্তির সম্পর্ক নেই। নতুন বাহিনীটা আমরা এ কারণে করছি যে, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধীনে র্যাব গঠন করা হয়েছিল। সেই আইনটি পূর্ণাঙ্গ ছিল না। একটা সেকশনের অধীনে ইউনিটটি কাজ করছিল।’ তিনি আরও যুক্ত করেন, ‘সেজন্য আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন থেকে আমরা এটা বের করে নিয়ে এসে বিলুপ্ত করতে চাই। একইসঙ্গে এই আইনে ইংরেজিতে কিছু অস্পষ্টতা ছিল, সেই আইনটাও আমরা অনুবাদ করে নতুন আইন হিসেবে নিয়ে আসছি,’।
পাস হওয়া আইনের বিধান অনুযায়ী, নবগঠিত এসআরবি পুলিশ অধিদপ্তরের অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কাজ করবে। পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা এই ইউনিটের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশ কর্মকর্তা, শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং নির্ধারিত সশস্ত্র জনবলের সমন্বয়ে প্রেষণ ও সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে এটি পরিচালিত হবে। নিজস্ব প্রতীক, পোশাক ও পতাকাসমৃদ্ধ এই ইউনিটকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত, অভিযান পরিচালনা, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও আলামত জব্দের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি এই বাহিনীর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণাধীন হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র থাকবে। সাধারণ নাগরিক ও বাহিনীর অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিভিন্ন পক্ষের সমন্বয়ে একটি পৃথক অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি গঠিত হবে।
সংঘবদ্ধ অপরাধ ও সন্ত্রাস দমনের লক্ষ্যে ২০০১-০৬ মেয়াদে এলিট ফোর্স গঠনের উদ্যোগের পর ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে একই বছরের ২১ জুন থেকে র্যাব আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছিল। ২০০৩ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (সংশোধন) আইনের ওপর ভিত্তি করে এতদিন পরিচালিত হয়ে এলেও বিগত দুই দশকে নানা সময়ে বাহিনীটির বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। সমালোচক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো একে 'সরকারি ডেথ স্কোয়াড' হিসেবেও অভিহিত করতে থাকে। নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুন ও কক্সবাজারের পৌর কাউন্সিলর একরামুল হকের মৃত্যুর মতো ঘটনায় বাহিনীটির ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়। মানবাধিকার হরণের প্রেক্ষিতে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করা র্যাবের শীর্ষ ছয় কর্মকর্তার ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাহিনীটি সংস্কার বা বিলুপ্তির দাবি আরও জোরালো রূপ নেয়। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের গুম তদন্ত কমিশনের কাছে র্যাবের বিরুদ্ধেই দেশের অন্যান্য বাহিনীর তুলনায় সর্বোচ্চ ১৭২টি অভিযোগ জমা পড়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৩ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন। তিনি জানান, নতুন এই সংস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির যাচাই-বাছাই ও সংশোধিত সুপারিশ শেষে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ সংসদে পাস হলো। একই সঙ্গে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল-২০২৬ বিলটিও ইতোমধ্যে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-কে প্রভাব-প্রতিপত্তি বিবেচনা না করে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দুর্নীতিবাজ যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।’
আজ বঙ্গভবনে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ. কে. এম. আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম ব্রিফিংকালে বাসসকে এই তথ্য জানান।
সাক্ষাৎকালে দুদক চেয়ারম্যান কমিশনের সার্বিক কার্যক্রম, চলমান বিভিন্ন উদ্যোগ এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করার পাশাপাশি দুর্নীতি দমনে কমিশনের কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দীর্ঘদিনের অপশাসন, অনিয়ম ও জবাবদিহিতার অভাবে দুর্নীতি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন ও নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভর করছে জাতির অগ্রগতি ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। দুদককে সততা ও সাহসের সঙ্গে দুর্নীতি দমনে কাজ করে যেতে হবে।
রাষ্ট্রপতি দীর্ঘদিনের বিপুল সংখ্যক বিচারাধীন মামলাগুলো আইনগতভাবে দ্রুত নিষ্পত্তি ও দীর্ঘসূত্রিতা কমানোর জন্য দুদকের প্রতি আহ্বান জানান। এসময় তিনি গুরুতর দুর্নীতির ব্যাপারে দ্রুত অনুসন্ধান ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
তিনি দুর্নীতিবিরোধী মূল্যবোধ গড়ে তুলতে জনসচেতনতা ও প্রচারণামূলক কার্যক্রম আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং কমিশনকে তার সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন কমিশনার (তদন্ত) ড. জাহাঙ্গীর আলম খান, কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. মো.সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া এবং সচিব মো. সাইদুর রহমান খান। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাসস
প্রধানমন্ত্রী পদবির আগে সম্মানসূচক ‘মাননীয়’ শব্দ ব্যবহার না করার সরকারি সিদ্ধান্ত নিজের দপ্তর থেকেই বাস্তবায়ন শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি নিজেই দিচ্ছেন ডিজিটাল হাজিরা।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সব ধরনের নথি ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে তাঁর পদবির আগে ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সকালে সচিবালয়ে অফিস করেন। নিজের দপ্তরে প্রবেশের আগে তিনি ডিজিটাল হাজির দেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
গতকাল বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার করা যাবে না।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই নির্দেশনা কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রধানমন্ত্রী নিজের কার্যালয়েই তা বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। তাঁর কাছে উপস্থাপন করা ফাইল ও অন্যান্য সরকারি নথিতে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’ না লিখে শুধু ‘প্রধানমন্ত্রী’ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ধারাবাহিক ইতিবাচক উদ্যোগের অংশ। এর মাধ্যমে পদমর্যাদার আনুষ্ঠানিক বিশেষণের চেয়ে দায়িত্ব, জনসেবা এবং দেশ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাকে সামনে আনার বার্তা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।
একই সাথে দাপ্তরিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রেও ডিজিটাল হাজিরার প্রথা প্রবর্তন করে নজির তৈরির চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী। কার্যালয়ে প্রবেশের সময় অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো প্রধানমন্ত্রীও নিয়মিত ডিজিটাল হাজিরা দিচ্ছেন। দিনের কাজ শেষে কার্যালয় ছাড়ার সময়ও নির্ধারিত পদ্ধতিতে বের হওয়ার হাজিরা দিয়ে অফিস ত্যাগ করছেন।
সরকার প্রধান হয়ে দাপ্তরিক নিয়ম নিজের ক্ষেত্রে প্রয়োগের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ম মেনে চলার বার্তা দিতে দিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রশাসনে সময়ানুবর্তিতা, জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের অংশ। রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকা ব্যক্তিই যখন সাধারণ দাপ্তরিক নিয়ম মেনে চলেন, তখন প্রশাসনের অন্যদের কাছেও একই নিয়ম অনুসরণের প্রত্যাশা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন বাসসকে বলেন, সরকারি চিঠিপত্রের সম্বোধনের আগে রাষ্ট্রপতির নামের আগে মহামান্য এবং প্রধানমন্ত্রীর নামের আগে মাননীয় লেখা যাবে না মর্মে গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বিভাগ থেকে যে পরিপত্র জারি করা হয়েছে, ইতোমধ্যেই আমরা তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সবগুলো মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং ইউএনওদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। আজকে থেকেই এর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, আগামীতে সরকারি পত্রালাপ বা গুরুত্বপূর্ণ নথিতে এই পরিপত্রের ব্যত্যয় ঘটানো যাবেনা মর্মে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এই অতিরিক্ত সচিব আরও বলেন, আমরা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এই পরিপত্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সমস্ত প্রশাসনে জানিয়ে দিয়েছি। আশা করি, সকলেই যার যার অবস্থান থেকে পরিপত্র যথাযথ অনুসরণ করবেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও অপ্রয়োজনীয় আড়ম্বর কমাতেও ইতোমধ্যে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারি কার্যক্রম ও প্রচারণায় তাঁর ছবি ব্যবহার না করা, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকলে গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং তাঁর চলাচলের সময় সাধারণ মানুষের জন্য ট্রাফিক সিগন্যাল বন্ধ না রাখার মতো উদ্যোগ এরই মধ্যে নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী দেশে ও দেশের বাইরে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ছাড়া পতাকাবাহী গাড়ি ব্যবহার করছেন না। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এমন একটি বার্তা দিচ্ছে যে, রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তি বিশেষ সুবিধা বা বিশেষ সম্বোধনের পরিবর্তে নিয়ম ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ম্যাজিস্ট্রেসি অধিশাখার যুগ্ম সচিব তানভীর আহমেদ বাসসকে বলেন, সার্কুলারটি ইতোমধ্যে মাঠ প্রশাসনের সমস্ত জায়গায় পৌঁছে গেছে। আজ আমরা দুয়েকটি চিঠিপত্র পেয়েছি, সেখানে পরিপত্রের বাস্তবায়ন লক্ষ্য করা গেছে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির আগে মহামান্য এবং প্রধানমন্ত্রীর আগে মাননীয় শব্দটি পরিহার করার জন্য মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে যে পরিপত্র জারি করা হয়েছে, সেটি আজ বৃহস্পতিবার থেকেই পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। কোনো অফিস থেকে এর ব্যত্যয় লক্ষ্য করা গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র: বাসস
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশৃঙ্খলা থামিয়ে সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা করা এবং জনপরিসরে নৈতিক অবক্ষয়মূলক কনটেন্ট প্রতিরোধ করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান।
তিনি বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই মুক্তচিন্তা, সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা বা সাংবাদিকদের দমনের উদ্দেশে কোনো আইন করা হচ্ছে না।’
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টসহ বিভিন্ন আইনের মাধ্যমে সংবাদ মাধ্যমকে দমিয়ে রাখা হতো। গণমাধ্যমের ওপর অপব্যবহারের যে প্রবণতা ছিল, বর্তমান সরকার সে বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক। খসড়া আইনে যেন এমন কোনো দ্ব্যর্থবোধক (ডুয়াল মিনিং) শব্দ না থাকে, যা আগামীতে গণমাধ্যমের ওপর অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে, সে জন্য অত্যন্ত সতর্কতার সাথে খসড়া পরিমার্জন করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাকস্বাধীনতার নামে বিভিন্ন অনলাইন ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে যে অশালীন গালিগালাজ, সাইবার বুলিং ও কুরুচিপূর্ণ কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ ও নীতি-নৈতিকতাকে বিনষ্ট করছে। আমাদের প্রধান কাজ হলো এই সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা এবং সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা। এই দুটো বিষয়কে কোনো ধরনের সংঘাত ছাড়া কীভাবে সমন্বয় করা যায়, তা নিয়ে অংশীজনদের সাথে আলোচনা চলছে।’
আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, কেবল কঠিন আইন করে সব অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়। সাইবার স্পেসে সত্যতা যাচাই না করে যেকোনো মানহানিকর তথ্য বা পোস্ট শেয়ার দেওয়াও যে অপরাধের আওতায় পড়ে, সে বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
এর আগে সকালে কন্সালটেশন সভার সূচনা বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, সাইবার সুরক্ষা সংশোধন আইন চূড়ান্ত করার আগে তথ্য প্রকাশ, স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং মতামত প্রকাশের সুরক্ষার স্বার্থে গণমাধ্যমের সাথে সরাসরি সংলাপ ও মতামত নেওয়া অপরিহার্য। এজন্যই আমরা গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করছি।
তিনি বলেন, ‘আপনারাই সবচেয়ে ভালো জানেন একটি আইনের ভাষা মাঠপর্যায়ে কীভাবে কাজ করে এবং কোথায় অস্পষ্টতা তৈরি হতে পারে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সাইবার সুরক্ষা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা- এই দুটি লক্ষ্য পরস্পরবিরোধী নয়, বরং একে অপরের পরিপূরক হওয়া উচিত।’
গণমাধ্যম সম্পাদকদের আশ্বস্ত করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এই আইন সংশোধন করছি না। প্রিন্ট মিডিয়ার এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। আইনের কোথায় অস্পষ্টতা বা জটিলতা আছে, আপনারা মুক্তমনে পরামর্শ দিন। আমরা তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করব।’
কন্সালটেশন সভায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাইবার সিকিউরিটি আইনের সংশোধন প্রয়োজন। আইনটি যেন অপব্যবহার না হয় সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।
মন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী সাইবার অপরাধের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অনেক দেশে মোট অপরাধের ৪৪ শতাংশই এখন সাইবার স্পেসে সংঘটিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও অনলাইন জালিয়াতি, সেক্সটোরশন, নারীদের ব্ল্যাকমেইলিং এবং সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের মতো অপরাধ প্রতিরোধে একটি যুগোপযোগী আইনের বিকল্প নেই। তবে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন, অংশীজনদের সাথে মতবিনিময় করে যেন আইনটি পরিমার্জন করা হয়, যাতে এর কোনো অপব্যবহার বা বিতর্ক সৃষ্টি না হয়।’
সভায় অংশ নিয়ে আরও বক্তব্য রাখেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা।
কন্সালটেশন সভায় মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে প্রণীত নিপীড়নমূলক আইনের বিতর্কিত ধারাগুলো বাতিল ও সংশোধন করে বর্তমান সরকার যে সাইবার সুরক্ষা আইন করার উদ্যোগ নিয়েছে, তা একটি ইতিবাচক ও স্বস্তিদায়ক অগ্রগতি। মিথ্যা অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রাখা এবং জামিন অযোগ্য ধারাগুলো বাদ দেওয়া প্রশংসনীয়।
কাদের গনি চৌধুরী আরও বলেন, ‘বাকস্বাধীনতার নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসভ্যতা, ভুয়া আইডি দিয়ে নারী, শিশু এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অনলাইন হয়রানি কোনোভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হতে পারে না। এসব প্রশ্রয় দিলে সামাজিক নোংরামি বাড়বে এবং সভ্যতা কলঙ্কিত হবে। তবে আইনের পাশাপাশি সরকারের কোনো সংস্থা যদি নাগরিকদের সাইবার অধিকার লঙ্ঘন করে, তবে তাদের জবাবদিহিতার বিধানও আইনে স্পষ্টভাবে থাকা প্রয়োজন।’
মুক্ত আলোচনায় ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ কন্সালটেশন সভা আরও পর্যাপ্ত সময় দিয়ে আয়োজনের তাগিদ দেন।
তিনি প্রস্তাবিত সাইবার সিকিউরিটি আইনের প্রয়োগ এবং সাজা বাড়ানের চেয়ে অপব্যবহার রোধের কার্যকর মেকানিজম তৈরির প্রতি জোর দেন। একইসাথে, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সরাসরি শাস্তির এখতিয়ার দেওয়ার ক্ষেত্রে যেন আইনের অপপ্রয়োগ না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
এছাড়া কন্সালটেশন সভায় আরও অংশ নেন অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরীন, দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক ও ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের সদস্য মারুফ কামাল খান সোহেল, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, দৈনিক ওয়াদা সম্পাদক ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম, দৈনিক নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক ড. আবদুল হাই সিদ্দিক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের সদস্য সচিব জোবায়ের বাবু, বিএফইউজে’র সাবেক সভাপতি এম. আবদুল্লাহ, সাবেক মহাসচিব এম. এ. আজিজ, দৈনিক আমার দেশের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী ও জেষ্ঠ্য সাংবাদিক শাহীন চৌধুরীসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সম্পাদকবৃন্দ এবং শিক্ষাবিদেরা।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা।
সভায় সাইবার সুরক্ষা (সংশোধিত) আইন, ২০২৬-এর খসড়া প্রস্তাব উপস্থাপন করেন জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমান।
আগামী সপ্তাহে ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেছেন, যে প্রক্রিয়ায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তাতে সন্তুষ্ট নয় ঢাকা। তবে ভারতে সরকারপ্রধানের দ্বিপাক্ষিক সফর হতে পারে বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির।
আজ (বৃহস্পতিবার) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
হুমায়ুন কবির বলেন, কীভাবে যাবে? বাংলাদেশ সরকারের কাউকে কি আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে? প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকসে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
দিল্লি সফরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বহুপক্ষীয় ফোরামে অংশগ্রহণের চাইতে দ্বিপাক্ষিক সফরে জোর দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা দ্বিপাক্ষিক সফর ও আলোচনার ওপরই বেশি জোর দিচ্ছি। যখন পরিবেশ অনুকূল হবে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় থাকবে, তখন দ্বিপাক্ষিক সফর হবে। এখানে তাড়াহুড়ো করার কিছু নেই।
আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অংশগ্রহণের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তবে ওই আমন্ত্রণপত্রে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ না করে শুধুমাত্র বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়, যা ভালোভাবে নেয়নি ঢাকা।
গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়ন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের জাতীয় স্বার্থ যেখানেই জড়িত, সেখানেই আমরা গুরুত্ব ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করব। আনন্দবাজার পত্রিকা যাই বলুক না কেন, আমি আমার দেশের স্বার্থ ও আনন্দের কথা ভাবব।
বাণিজ্য ইস্যুতে আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাণিজ্য নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলাপ-আলোচনা চলছে। তবে এই মুহূর্তে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা নতুন আপডেট দেওয়ার মতো কিছু নেই।
রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান নিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, এই ধরনের জটিল বিষয়ে তো হুট করে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া যায় না। ধৈর্য ধরতে হবে, তবে কূটনৈতিক তৎপরতা দ্রুত গতিতে চালাতে হবে। আমরা আগামীকালই এটা সমাধান করে ফেলব—এমন দাবি হয়তো করা যাবে না, তবে আমরা আশাবাদী যে দ্রুতই একটি বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের দিকে আমরা এগিয়ে যেতে পারব।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ। বুধবার পদত্যাগপত্র দিয়েছেন তিনি। ওই পদত্যাগপত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থাটি।
জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে বাংলাদেশ ও ডব্লিউএইচওর তদন্তের মধ্যে থাকা অবস্থায় পদত্যাগ করলেন সায়মা ওয়াজেদ। তিনি গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে।
২০২৪ সালের শুরুতে পাঁচ বছরের মেয়াদে ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন সায়মা ওয়াজেদ। তবে গত বছরের শেষ দিকে তাঁকে বিনা বেতনে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায় সংস্থাটি। এর আগে ওই বছরের মার্চে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা করে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩ জুলাই ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে সায়মা ওয়াজেদের আইনজীবীরা জানান, ডব্লিউএইচও তাঁর বিরুদ্ধে চীন সফরের ক্ষেত্রে আর্থিক জালিয়াতি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ এনেছে। সায়মা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুসের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে সায়মা আরও জানান,বাংলাদেশে একটি জমির প্লট অবৈধভাবে অধিগ্রহণের অভিযোগ করেছে ডব্লিউএইচও। তাঁর দাবি, ডব্লিউএইচওতে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি ওই জমি অর্জন করেন এবং শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য আইনের আওতায় তিনি এর বৈধ মালিকানা পেয়েছেন।
পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর সেবা করার লক্ষ্যেই তিনি আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তাঁকে দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালনে ক্রমাগত বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, তাঁকে বিনা বেতনে ছুটিতে পাঠানোর কারণে প্রায় এক বছর ধরে কোনো পারিশ্রমিক পাননি। এতে তাঁর আর্থিক পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ডব্লিউএইচওর নেতৃত্বের প্রতি তাঁর আস্থা ও বিশ্বাসও নষ্ট হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে, এর আগে দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল, সায়মা ওয়াজেদকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ডব্লিউএইচও। সূত্রগুলো জানায়, আগামী ১২ অক্টোবর এ পদের জন্য মনোনয়ন আহ্বান করা হতে পারে। ডিসেম্বরে আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর ২০২৭ সালের ২৪ জানুয়ারি নির্বাচন হতে পারে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের অধীনে বাংলাদেশ ও ভারতসহ এ অঞ্চলের দেশগুলো রয়েছে। আঞ্চলিক পরিচালকরা বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব ও জরুরি পরিস্থিতিতে ডব্লিউএইচওর কার্যক্রম পরিচালনা এবং স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্থার নীতিমালা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
জুলাইয়ের চিঠিতে সায়মা তাঁর বিরুদ্ধে ভ্রমণ-সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগও অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, ৯০১ ডলারের একটি অর্থ ফেরত পাওয়ার আবেদন প্রক্রিয়ায় তাঁর এক সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণে বিষয়টি তৈরি হয়েছে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন এবং ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোসের কাছে এ যোগ্যতার বিষয়টি স্পষ্ট করেছিলেন।
সায়মা ওয়াজেদ এ বিষয়ে রয়টার্সকে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। মন্তব্যের অনুরোধে ডব্লিউএইচওও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া দেয়নি। গত মাসে সংস্থাটি জানিয়েছিল, সায়মা ছুটিতে রয়েছেন; তবে গোপনীয়তার কারণে তাঁর বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করবে না।
দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’সহ কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ অধিশাখা থেকে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকার, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁদের পদবির পূর্বে সম্মানসূচক শব্দ হিসেবে যথাক্রমে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ শব্দ লিখিতরূপে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং এর অধীন সব দপ্তরের দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ প্রেরণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ কিংবা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার করা যাবে না।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রে বিষয়টিকে ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, নির্দেশনাটি অনতিবিলম্বে কার্যকর হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত পরিপত্রটি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সব সিনিয়র সচিব ও সচিব, সব বিভাগীয় কমিশনার, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তা, সব জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
পরিপত্রে সংশ্লিষ্ট সিনিয়র সচিব ও সচিবদের তাঁদের নিয়ন্ত্রণাধীন সব দপ্তর ও সংস্থাকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
সরকারের দাপ্তরিক যোগাযোগ ও নথিপত্রে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদধারীদের সম্বোধনের ক্ষেত্রে অভিন্ন রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
একসময় হাম নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের সাফল্য ছিল আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত। নিয়মিত টিকাদান, জাতীয় পর্যায়ের একাধিক ক্যাম্পেইন এবং মাঠপর্যায়ে শক্তিশালী কর্মসূচির মাধ্যমে দেশটি হাম নির্মূলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। সেই বাংলাদেশেই এখন ফিরে এসেছে ভয়াবহ হাম। শুধু কয়েক হাজার নয়, আক্রান্তের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে; প্রায় ২০ হাজার রোগীর সংক্রমণ পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে এবং মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার পেরিয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশকে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাবের মুখে থাকা দেশ হিসেবে বর্ণনা করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বুধবার এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থাটি এ তথ্য জানিয়েছে।
রয়টার্স বলেছে, এটি নিছক একটি সংক্রামক রোগের বিস্তার নয়। এর পেছনে উঠে আসছে টিকাদানের ধারাবাহিক ঘাটতি, নিয়মিত কর্মসূচির দুর্বলতা, জাতীয় ক্যাম্পেইন পিছিয়ে যাওয়া, টিকা সংগ্রহের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এবং মাঠপর্যায়ে পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতার প্রশ্ন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসছে বড় প্রশ্ন—প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ কেন এমন পর্যায়ে গেল এবং বর্তমান সংকটের জন্য কার কতটা দায়?
বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে হামের উপসর্গে নতুন করে আরও ৩ জন মারা গেছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কেউ মারা যায়নি। এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে চলতি বছর এক হাজার ২ জন মারা গেছে। তাদের মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০০ জন ও হামের উপসর্গে ৯০২ জন মারা গেছে।
অধিদপ্তর জানায়, নতুন করে ৬৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১১৯ জন। এ নিয়ে চলতি বছর মোট ১৯ হাজার ৯০৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। আর হামের উপসর্গ দেখা গেছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫৮০ জনের।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, আক্রান্তদের বড় অংশই শিশু। প্রাদুর্ভাবের শুরুর দিকে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুরাই আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশ ছিল। নয় মাসের কম বয়সি শিশুরা সাধারণ নিয়মে হাম টিকার বয়সে পৌঁছায় না। ফলে তাদের সুরক্ষা অনেকাংশে নির্ভর করে আশপাশের মানুষের উচ্চ টিকাদান কভারেজের ওপর। কিন্তু সেই সুরক্ষার দেওয়ালেই বড় ফাঁক তৈরি হয়েছে।
হাম অত্যন্ত সংক্রামক হলেও প্রতিরোধের কার্যকর উপায় বহু বছর ধরেই পরীক্ষিত—টিকা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী, জনগোষ্ঠীর অন্তত ৯৫ শতাংশকে টিকার আওতায় রাখা গেলে ব্যাপক সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক কমে যায়। বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় এই মাত্রার কাছাকাছি কভারেজ ধরে রাখতে পেরেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই ধারাবাহিকতা ভেঙেছে।
২০২৪ ও ২০২৫ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটে। কিছু কর্মসূচি পিছিয়েছে, কিছু বাতিল হয়েছে। ফলে টিকার বাইরে থাকা শিশুদের একটি বড় জনগোষ্ঠী তৈরি হয়। মহামারি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এ ধরনের ‘ইমিউনিটি গ্যাপ’ তাৎক্ষণিকভাবে চোখে না পড়লেও কয়েক বছর পর তার ফল ভয়াবহ হতে পারে।
সাম্প্রতিক তথ্যেও দেখা যাচ্ছে, ২০২২ সালে নিশ্চিত হাম রোগী ছিল মাত্র ৩১১ জন, ২০২৩ সালে ২৮২, ২০২৪ সালে ২৪৭ এবং ২০২৫ সালে ১৩২ জন। অথচ ২০২৬ সালে সংখ্যা কয়েক হাজার পেরিয়ে প্রায় ২০ হাজারে পৌঁছেছে। এই উল্লম্ফন বাংলাদেশের টিকাদান ব্যবস্থার দুর্বলতা কতটা গভীরে গেছে, সেই প্রশ্নই সামনে আনে।
ইউনূস সরকারের সময়ে নীতির পরিবর্তন: সংকটের সবচেয়ে বিতর্কিত অধ্যায় টিকা সংগ্রহের পদ্ধতি পরিবর্তন।
রয়টার্স জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টিকা সংগ্রহের নীতিতে পরিবর্তন আনা হয়। আগে যে প্রক্রিয়ায় ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ করা হতো, সেটি পরিবর্তন করে উন্মুক্ত দরপত্রের দিকে যাওয়া হয়। এ পরিবর্তন নিয়ে ইউনিসেফ উদ্বেগ জানিয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। আশঙ্কা ছিল, নতুন প্রক্রিয়ায় সরবরাহ বিলম্বিত হতে পারে। এখানেই বর্তমান সরকারের নীতিগত দায়ের প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
কারণ, কোনো প্রতিরোধযোগ্য রোগের ক্ষেত্রে টিকা সরবরাহের ধারাবাহিকতা একটি মৌলিক বিষয়। সম্ভাব্য বিলম্বের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও কেন সংগ্রহ পদ্ধতি পরিবর্তন করা হলো, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরবরাহ ঝুঁকি কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছিল এবং সংকট দেখা দেওয়ার পর কেন দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হলো—এসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।
তবে পুরো বিপর্যয়ের দায় এককভাবে ইউনূস সরকারের ওপর চাপানোও বাস্তবতার পূর্ণ চিত্র হবে না। টিকাদানের দুর্বলতা এক দিনে তৈরি হয়নি। কোভিড-পরবর্তী সময়ে নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতি, প্রশাসনিক দুর্বলতা, মাঠপর্যায়ের নজরদারি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা—সব মিলিয়েই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের সময়ে নীতিগত পরিবর্তন ও সরবরাহ বিলম্ব যদি সংকটকে আরও বাড়িয়ে থাকে, তাহলে সেই সিদ্ধান্তের দায়ও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। আরেকটি বড় প্রশ্ন জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় পর্যায়ে কর্মসূচি হওয়ার কথা থাকলেও সেটি পিছিয়ে যায়। পরে ২০২৬ সালের এপ্রিলে জরুরি কর্মসূচি শুরু করতে হয়। অর্থাৎ সংক্রমণ যখন ইতোমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে, তখনো দেশজুড়ে প্রয়োজনীয় টিকাদান কার্যক্রম মাঠে নামেনি।
৫ এপ্রিল প্রথমে ৩০টি উচ্চঝুঁকির উপজেলায় জরুরি কর্মসূচি শুরু করা হয়। পরে তা দেশব্যাপী সম্প্রসারিত হয়। ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও গ্যাভির সহায়তায় পরিচালিত এ কর্মসূচিতে শেষ পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি শিশু টিকার আওতায় আসে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—এই উদ্যোগ যদি আরও আগে নেওয়া হতো, তাহলে কি সংক্রমণের বিস্তার এতটা ভয়াবহ হতো? আরেকটি অসঙ্গতি উঠে এসেছে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রায়।
জরুরি কর্মসূচিতে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সি প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে লক্ষ্য ধরা হয়েছিল। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ১ কোটি ৯৭ লাখের বেশি শিশু টিকা পেয়েছে। অথচ একই বয়সি শিশুদের নিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনে অন্তর্ভুক্তির সংখ্যা ছিল প্রায় ২ কোটি ২৬ লাখ। দুই কর্মসূচির হিসাবের পার্থক্য প্রায় ৪৬ লাখ।
এই ব্যবধানের ব্যাখ্যা জরুরি। একই বয়সি শিশুদের তালিকা যদি একটি জাতীয় কর্মসূচিতে এত বড় হয়, তাহলে হাম টিকাদানের সময় সেই শিশুদের একটি বড় অংশ কোথায় গেল—এ প্রশ্নের উত্তর ছাড়া টিকাদান কর্মসূচির প্রকৃত কভারেজ বোঝা কঠিন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেনের বক্তব্যে সংকটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে—মাইক্রো-প্ল্যানিং।
নিয়মিত ইপিআই কর্মসূচিতে প্রথমে টিকার উপযোগী শিশুদের তালিকা তৈরি করা হয়। এরপর তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ, টিকাদানের স্থান ও সময় নির্ধারণ এবং বাড়ি, স্কুল বা স্থানীয় কেন্দ্রে সেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। জরুরি কর্মসূচিতে দ্রুত মাঠে নামার কারণে এই প্রস্তুতি যথাযথভাবে করা সম্ভব হয়নি। ফলে কোথাও মানুষকে উপজেলা হাসপাতালে গিয়ে টিকা নিতে হয়েছে, আবার কোথাও বাড়ি বাড়ি যোগাযোগ বা মাইকিংয়ের মতো উদ্যোগ যথেষ্ট ছিল না। ফলে যারা নিজেরা কেন্দ্রে আসতে পারেনি, তাদের একটি অংশ বাদ পড়ে গেছে।
বিশেষ করে ভাসমান, ঠিকানাবিহীন ও পথশিশুদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা না থাকলে কাগজে কভারেজ বাড়লেও প্রকৃত জনগোষ্ঠী সুরক্ষিত হয় না। টিকাদানের ঘাটতির সঙ্গে চিকিৎসাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও সংকটকে তীব্র করেছে।
ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের রোগীদের জন্য ৬০টি শয্যা থাকলেও রোগীর চাপ সামলাতে অনেককে মেঝেতে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। ১ হাজার ৩৫০ রোগীর সক্ষমতার হাসপাতালটিতে রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৩৫০ ছাড়িয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডেঙ্গু। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪২ হাজার ছাড়িয়েছে। ফলে একই সময়ে দুই সংক্রামক রোগের চাপ সামলাতে গিয়ে স্বাস্থ্যব্যবস্থা অতিরিক্ত চাপে পড়েছে।
হামের রোগীদের ক্ষেত্রে শিশুদের অপুষ্টি, নিউমোনিয়া ও অন্যান্য জটিলতা মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায়। তাই শুধু টিকা নয়, উপজেলা ও জেলা পর্যায়েই পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন পরিবারের কথাও, যাদের সন্তান অসুস্থ হওয়ার পর এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরতে হয়েছে। এক শিশুর মা জানিয়েছেন, টিকা দেওয়ার সময় সন্তান অসুস্থ থাকায় টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে টিকাদান কেন্দ্রে গিয়ে টিকা না পাওয়ার অভিজ্ঞতাও হয়েছে।
এ ধরনের ঘটনা দেখায়, সমস্যাটি শুধু ‘মানুষ টিকা নেয়নি’—এত সরল নয়। কোথাও পরিবার টিকা দিতে পারেনি, কোথাও টিকা মেলেনি, কোথাও কর্মসূচির তথ্য পৌঁছেনি। অর্থাৎ চাহিদা ও সরবরাহ—দুই দিকেই ঘাটতি ছিল।
ডা. মুশতাক হোসেনের মতে, শুধু টিকা নিতে আসা শিশুদের টিকা দিলেই হবে না; যারা বাদ পড়েছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে। ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সি টিকাবঞ্চিত শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় আনার পাশাপাশি ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সি শিশুদের মধ্যেও টিকাদানের ঘাটতি চিহ্নিত করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে ভাসমান শিশুদের জন্য ভ্রাম্যমাণ টিকাদান ব্যবস্থা, উপজেলা পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ এবং গুরুতর রোগীদের স্থানীয় পর্যায়েই চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। জ্বরের ক্ষেত্রে হাম ও ডেঙ্গু—দুই সম্ভাবনাই বিবেচনায় রেখে পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ জরুরি।
বাংলাদেশে হামের এই বিপর্যয়কে শুধু একটি রোগের প্রাদুর্ভাব হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি রাষ্ট্রীয় টিকাদান ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের মান নিয়ে বড় পরীক্ষা।
দীর্ঘমেয়াদি ব্যর্থতার দায় যেমন আগের সময়গুলোর ওপর রয়েছে, তেমনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টিকা সংগ্রহের পদ্ধতি পরিবর্তন, সরবরাহ বিলম্ব এবং জাতীয় কর্মসূচি পিছিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তগুলোর দায়ও খতিয়ে দেখা দরকার।
বিশেষ করে ইউনিসেফের সতর্কতার পরও যদি সংগ্রহ পদ্ধতি পরিবর্তন করা হয়ে থাকে, তাহলে সিদ্ধান্তটি কে নিয়েছিলেন, কী ধরনের ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়েছিল এবং সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিকল্প ব্যবস্থা কেন আগে নেওয়া হয়নি—এসব প্রশ্নের উত্তর প্রকাশ্যে আসা প্রয়োজন। টিকা সংগ্রহের নথি, ক্রয় প্রক্রিয়া, সরবরাহের সময়সূচি, জাতীয় ক্যাম্পেইন পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং মাঠপর্যায়ের কভারেজ—সবকিছুর স্বাধীন পর্যালোচনা জরুরি।
কারণ হাম প্রতিরোধযোগ্য। শিশুর মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী ছিল না। বহু বছর যে রোগকে টিকার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছিল, সেটিই যদি আবার হাজার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে প্রশ্ন শুধু ভাইরাসের নয়—প্রশ্ন রাষ্ট্রের প্রস্তুতি, সিদ্ধান্ত ও জবাবদিহির।
বাংলাদেশের সামনে এখন দুটি কাজ—সংক্রমণ থামানো এবং কেন এই পরিস্থিতি তৈরি হলো, তার উত্তর খুঁজে বের করা। প্রথমটি জরুরি, দ্বিতীয়টি ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য।
উন্নয়ন প্রকল্প বারবার সংশোধন করে মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর প্রবণতা ঠেকাতে নজরদারি বাড়াচ্ছে সরকার। প্রকল্প অনুমোদনের আগেই সম্ভাব্যতা যাচাই শক্তিশালী করা, বাস্তবায়ন পর্যায়ে মাঠপর্যায়ের তদারকি বাড়ানো এবং অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খনন এবং নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির তদন্ত হচ্ছে, তদন্তের রিপোর্ট পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার গঠিত হওয়ার পর বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে কিছু অনিয়ম দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সেই প্রকল্পগুলোকে তদন্তের অধীনে নেওয়া হয়েছে এবং কয়েকটির ক্ষেত্রে মোটামুটিভাবে তদন্ত শেষ হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট সরকারের হাতে আসলে পরামর্শ মোতাবেক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে মেয়াদ বৃদ্ধি এবং ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণত একটিমাত্র কারণে হয় না, বরং অনেকগুলো কারণ থাকে। প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন, ভূমি অধিগ্রহণ, অর্থায়ন, ক্রয় প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনার একাধিক দুর্বলতা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই সমস্যা তৈরি হয়।’ প্রকল্প নির্ধারিত সময় ও বাজেটের মধ্যে শেষ না হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্বল প্রকল্প প্রণয়ন, সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় ঘাটতি, সঠিক ব্যয় নির্ধারণে সমস্যা, ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্ব, ক্রয় প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা এবং পর্যাপ্ত তদারকির অভাবের কারণে প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বেড়ে যায়। এসব সমস্যা ঠেকাতে অনুমোদনের আগেই সম্ভাব্যতা সমীক্ষা আরও নির্ভুল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুমোদনের পর বাস্তবায়ন শুরুর প্রস্তুতিও দ্রুত শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্প গ্রহণ, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধনের বিদ্যমান নির্দেশনা যুগোপযোগী করার কাজ চলছে।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৬-২০৩০ মেয়াদের জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ও ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। বায়ু, বর্জ্য, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎসহ অন্যান্য প্রযুক্তি থেকে আরও ৪৫০-৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন চালু, ঢাকা-কুমিল্লা কর্ডলাইন নির্মাণ এবং পুরো রেলপথ ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইলেকট্রিক ট্রেন চালানোর উদ্দেশ্যে ট্র্যাকশন স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও নকশার কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর প্রকল্পের সময়সূচি নির্ধারণ করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এটি চালু হলে ট্রেনের গতি বাড়বে এবং যাতায়াতের সময় কমবে।
তিনি বলেন, ‘ঢাকা-কুমিল্লা সরাসরি কর্ডলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের দূরত্ব কমার পাশাপাশি ট্রেনের গতি বাড়বে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ড্যাশবোর্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা যাচাই এবং নিয়মিত পর্যালোচনাও জোরদার করা হচ্ছে। ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হচ্ছে।’
যেসব প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ৩০ শতাংশের নিচে, সেগুলোর প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারিতা নতুন করে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। প্রয়োজনে এসব প্রকল্পের পরিধি পরিবর্তন, পুনর্বিন্যাস কিংবা চলমান রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ না হওয়ার কারণ ও অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয় যাচাই করে দায় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
জ্বালানিসংকট নিরসনে পাঁচ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন চলছে: শিল্প খাতে আকস্মিক গ্যাস সংকটের প্রভাব কমাতে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি অনুসন্ধান ও অবকাঠামো উন্নয়নে জোর দেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের পাশাপাশি ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সাইসমিক সার্ভে পরিচালনা করা হবে।
সমুদ্রাঞ্চলের ২৬টি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে আন্তর্জাতিক বিডিং রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। স্থলভাগে অনুসন্ধানে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ‘বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসি-২০২৬’ প্রণয়নের কাজও চলছে।
ভোলার গ্যাস পাইপলাইনে মূল ভূখণ্ডে নিতে লাগবে ৭ বছর: ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্যাস নেটওয়ার্কে যুক্ত করতে অন্তত সাত বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ কারণে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে ভোলার গ্যাস স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করে শিল্পকারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
ভোলায় গ্যাসভিত্তিক একটি সার কারখানা এবং ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে গ্যাসনির্ভর শিল্প গড়ে উঠলে কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
নতুন এলএনজি টার্মিনালসহ ১৫০ কূপ খননের পরিকল্পনা: বর্তমানে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে দৈনিক গড়ে প্রায় ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় মহেশখালীর কুতুবজোমে নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ীতে একটি ল্যান্ডবেইজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কার্যক্রম চলছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুতুবজোমের টার্মিনাল থেকে ২০২৮ সালে এবং মাতারবাড়ীর টার্মিনাল থেকে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর নাগাদ রি-গ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহের আশা করা হচ্ছে। পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা কিংবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলে আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতাও যাচাই করা হচ্ছে।
ভোলার গ্যাস এলএনজি আকারে মূল ভূখণ্ডে এনে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহের সম্ভাব্যতাও যাচাই করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইপিজেড ও বিসিকের মতো পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলের প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের এসব উদ্যোগের লক্ষ্য দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং শিল্প ও রপ্তানি খাতে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন নিশ্চিত করা।
এর আগে বাংলাদেশ সচিবালয়ে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক পর্যালোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী পলিথিন ও প্লাস্টিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে এ নিয়ে যথাযথ দায়িত্ব পালনের নির্দেশনাও দেন তিনি।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির এ কথা জানান।
সভায় পরিবেশবান্ধব ব্লক ইটের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বায়ু, পানি, মাটি ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক) ড. সাইমুম পারভেজসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।