১০ টাকার পাউরুটি ১৫ টাকা। ১৫ টাকারটি ২০ টাকা। ২০ টাকার পাউরুটির দাম ঠেকেছে ২৫ টাকায়। শুধু পাউরুটি নয়, বিস্কুট, কেকসহ প্রায় সব ধরনের বেকারি পণ্যের দামই এখন বাড়তি। অথচ সংশ্লিষ্ট সমিতির ঘোষণা ছিল, দাম বাড়বে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ। বাস্তবে সেই ঘোষণার সীমা ছাড়িয়ে কোথাও ৩০, কোথাও ৪০, এমনকি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে বেকারি পণ্য। মূল্যস্ফীতির চাপে যখন সাধারণ মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন তুলনামূলক সাশ্রয়ী হিসেবে পরিচিত পাউরুটি, বিস্কুট ও কেকের বাজারেও শুরু হয়েছে নতুন চাপ। অনেক পরিবারের কাছে এখন পাউরুটি আর শুধু নাশতার খাবার নয়; এটি হয়ে উঠেছে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার অংশ। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়ার প্রভাবও সরাসরি পড়ছে সংসারের বাজেটে।
বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি চিনির দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে ১৫ টাকা। আটা-ময়দায় বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা, ভোজ্যতেলে ৫ টাকা এবং ডালডায় প্রতি কার্টনে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লাইন গ্যাসের সংকট।
গ্যাস না থাকায় অনেক বেকারিকে বাড়তি দামে এলপিজি কিনে উৎপাদন চালাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম বাড়ায় ওভেন, মিক্সারসহ বিভিন্ন যন্ত্র চালানোর খরচও বেড়েছে। এসব কারণ দেখিয়ে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে বেকারি পণ্যের দাম ২০ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সমিতি। কিন্তু বাজারে সেই ঘোষণার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বরং অনেক ক্ষেত্রেই ঘোষিত হারের চেয়ে বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান আবার দাম না বাড়িয়ে পণ্যের আকার বা ওজন কমিয়ে দিয়েছে। এতে একই দামে কম পণ্য পাচ্ছেন ক্রেতারা।
দাম বাড়ার পাশাপাশি নতুন করে দেখা দিয়েছে সরবরাহ সংকট। কয়েকটি বেকারি গত কয়েক দিন ধরে দোকানে পণ্য সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন খুচরা বিক্রেতারা।
পুরানা পল্টনের টং দোকানি রাইসুল মিয়া বলেন, ‘১০ টাকার ব্রেড ১৫ টাকা, ১৫ টাকারটা ২০ টাকা এবং ২০ টাকার ব্রেড এখন ২৫ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। গত পাঁচ দিন ধরে কোম্পানির সরবরাহ কমে যাওয়ায় দোকানে ব্র্যান্ডের পণ্যই বেশি রাখতে হচ্ছে।’
অর্থাৎ একদিকে দাম বাড়ছে, অন্যদিকে পছন্দের বা নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের পণ্যও সব সময় পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ক্রেতাদের বাড়তি দাম দিয়েই পণ্য কিনতে হচ্ছে।
বেকারি পণ্যের দাম বাড়ার সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি লাগছে দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবনে। তেজগাঁওয়ের রিকশাচালক তমিজউদ্দিন বলেন, ‘সারাদিন রিকশা চালিয়ে ভারী খাবারের বদলে রুটি-কলা খেয়েই দিন পার করি। আগে যা খরচ হতো, এখন দিনে তিনবার রুটি-কলা খেতেই বাড়তি ৩০ থেকে ৪০ টাকা চলে যাচ্ছে। আমাদের মতো মানুষের পেটে টান পড়ছে।’
বেসরকারি হাসপাতালের চাকরিজীবী জুয়েল রানার হিসাবও একই রকম। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন ব্রেড, বিস্কুট, কেক খেয়ে ৩০ টাকা করে বাড়তি খরচ হলে মাস শেষে তা প্রায় হাজার টাকায় গিয়ে দাঁড়ায়, যা আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বড় চাপ।’ ছোট ছোট বাড়তি খরচ মিলিয়েই যে মাসের বাজেটে বড় ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, তাদের কথায় সেটিই স্পষ্ট।
শুধু ভোক্তারাই চাপে নেই। উৎপাদন ব্যয় সামলাতে গিয়ে অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে ক্ষুদ্র বেকারি শিল্পও।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের বেকারি শিল্পের সিংহভাগই অসংগঠিত ও হস্তচালিত। সারাদেশে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৭ হাজার বেকারি কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকাতেই রয়েছে প্রায় ৭০০টি। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ খাতের সঙ্গে জড়িত লক্ষাধিক শ্রমিক ও কর্মী।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট এবং মাত্রাতিরিক্ত উৎপাদন ব্যয়ের কারণে ইতোমধ্যে ৫০০ থেকে ৬০০ ক্ষুদ্র বেকারি কারখানা বন্ধের ঝুঁকিতে রয়েছে।
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে, কারণ বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মতো তাদের উৎপাদন ব্যয় কমানোর সুযোগ সীমিত। ফলে কাঁচামাল থেকে জ্বালানি—প্রতিটি স্তরে ব্যয় বাড়লে তার চাপ গিয়ে পড়ে পণ্যের দামে।
তবে বাজারে ঘোষিত ২০ শতাংশের চেয়ে বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করছে না সংশ্লিষ্ট সংগঠন। বরং কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছে বলে স্বীকার করেছেন সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই সুযোগে বাড়তি মুনাফা নেওয়ার চেষ্টা করছে। আবার কিছু দোকানি আমাদের সমিতিকে বিব্রত করতে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। নির্ধারিত ২০ শতাংশের বেশি দাম যাতে কেউ না নিতে পারে, সেজন্য আমরা মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করছি।’
অর্থাৎ উৎপাদন খরচ বেড়েছে—এটি যেমন বাস্তবতা, তেমনি সেই সুযোগে অস্বাভাবিক মুনাফা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। আর এই দুইয়ের মাঝখানে পড়ে সবচেয়ে বেশি চাপ সামলাতে হচ্ছে ভোক্তাকেই।
বেকারি শিল্পের জন্য উদ্বেগের আরেকটি কারণ সামনে থাকা নতুন ব্যয়। সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন জানান, ময়দার মিল মালিকরা প্রতি বস্তায় আরও ১০০ টাকা দাম বাড়িয়েছেন। ফলে বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির রেশ কাটার আগেই নতুন করে দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এতে প্রশ্ন উঠেছে—২০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণাই যেখানে বাজারে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশের ধাক্কায় পরিণত হয়েছে, সেখানে কাঁচামালের নতুন মূল্যবৃদ্ধির চাপ শেষ পর্যন্ত গিয়ে কোথায় ঠেকবে?
বেকারি পণ্য এখন আর কেবল নাশতা বা বিলাসী খাবার নয়। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের বহু পরিবারের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এর জায়গা তৈরি হয়েছে। তাই এই বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি শুধু একটি শিল্পের উৎপাদন ব্যয়ের বিষয় নয়; এটি সরাসরি জড়িয়ে গেছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে।
ঘোষণায় ২০ শতাংশ, বাজারে ৫০ শতাংশ—এই ফারাক বন্ধে কার্যকর নজরদারি না হলে বেকারি পণ্যের বাড়তি দাম শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের খাবারের তালিকাকেই আরও ব্যয়বহুল করে তুলবে।
মাদ্রাসায় বলাৎকার ও যৌন নিপীড়নের ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সরকার কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।
শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আয়োজিত বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।
ধর্মমন্ত্রী জানান, দ্বীনি শিক্ষার পবিত্র অঙ্গনে যাতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও গর্হিত ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ইমামদের কার্যকর দিকনির্দেশনা প্রদানের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর আগে সারা দেশ থেকে সম্মেলনে যোগ দেওয়া ইমামদের উদ্দেশে তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো পক্ষ যাতে অসৎ উদ্দেশ্যে উসকানি ছড়িয়ে দেশের বিদ্যমান ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সমাজে ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা থাকায় জুমার খুতবায় মাদক, উগ্রবাদ ও সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে আলেম সমাজকে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
কাউন্সিল অধিবেশন চলাকালে জাতীয় ইমাম সমিতির নেতৃবৃন্দ তাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও পেশাগত বিভিন্ন সমস্যা নিরসনের দাবি তুলে ধরে মন্ত্রীর কাছে প্রতিকার প্রত্যাশা করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন টোকিও সফর দেশে নতুন জাপানি বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। একই সঙ্গে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন কপ-৩১ জলবায়ু সম্মেলনকে কেন্দ্র করে শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। দেশের ৩৩টি নাগরিক ও উন্নয়ন সংস্থার যৌথ উদ্যোগে প্রস্তুত করা জাতীয় অবস্থানপত্র প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিলের প্রসঙ্গ টেনে শামা ওবায়েদ উল্লেখ করেন, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ওপর নতুন করে ঋণের বোঝা না চাপিয়ে উন্নত বিশ্বকে প্রতিশ্রুত অর্থায়ন অনুদান হিসেবে ছাড় করতে হবে। বৈশ্বিক দরকষাকষির টেবিলে দেশের অধিকার আদায়ে অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের ওপর জোর দেন তিনি। একই সাথে জলবায়ুর ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি সুনির্দিষ্ট তহবিল গঠনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সীমিত সম্পদ নিয়েও বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে জলবায়ু অভিযোজনে সক্রিয় রয়েছে। কপ-৩১ সম্মেলনে টেকসই জ্বালানি রূপান্তরের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে পরিবেশবান্ধব পাটপণ্যের অপার সম্ভাবনা তুলে ধরা হবে। এছাড়া তহবিল বরাদ্দে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং অভিযোজন ও প্রশমন উভয় খাতে সমান বরাদ্দ নিশ্চিতে বাংলাদেশ জোর দাবি জানাবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি যৌথ ফোকাল টিম গঠন করা হয়েছে, যেখানে পরিবেশ নিয়ে কর্মরত যুবসমাজকে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি ও বৃহৎ পরিসরে জাপানি বিনিয়োগ নিশ্চিতের লক্ষ্য নিয়ে আগামী ২৬ অক্টোবর চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরের অংশ হিসেবে আগামী ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে শীর্ষ পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য সংশোধনে বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এখন পর্যন্ত জমা পড়া ৬৫ লাখ ৭০ হাজার ৮৪২টি সংশোধন আবেদনের মধ্যে ৬৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৩২টি নিষ্পত্তি করেছে সংস্থাটি।
তবে বিপুলসংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তির পরও এখনো অপেক্ষমাণ রয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ১০টি আবেদন।
অন্যদিকে, বিভিন্ন কারণে বাতিল হয়েছে ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৭টি আবেদন।
ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এনআইডি সংশোধন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও আবেদন নিষ্পত্তি, অযৌক্তিক আবেদন বাছাই এবং জালিয়াতি প্রতিরোধ—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরে এখন বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন। আবেদন নিষ্পত্তিতে সময়সীমা নির্ধারণ, মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রম আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২৪ সাল পর্যন্ত জমা পড়া এনআইডি সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
২০২৫ সালের আবেদনগুলোর নিষ্পত্তিও প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে প্রতি মাসে গড়ে ৮০ থেকে ৯০ হাজার নতুন আবেদন জমা পড়ায় কিছু আবেদন অপেক্ষমাণ থাকছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে সংশোধনের অযোগ্য আবেদন এবং একই বিষয়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুনরায় আবেদন করার প্রবণতা।
‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে অপেক্ষমাণ প্রায় ৭০ হাজার আবেদন
ইসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে ৬৮ হাজার ২৬৯টি আবেদন। এছাড়া ২০২৫ সালের একই ক্যাটাগরিতে অপেক্ষমাণ আবেদন রয়েছে ৯৮৩টি। সব মিলিয়ে ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা আবেদনের সংখ্যা ৬৯ হাজার ২৫২টি।
অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে ঢাকা অঞ্চলে ১০ হাজার ৬১৫টি, ফরিদপুরে ৫ হাজার ১৪০টি, খুলনায় ৫ হাজার ৮৭১টি, ময়মনসিংহে ৮ হাজার ৩৩২টি এবং রংপুরে ৪ হাজার ৪৭৭টি আবেদন অপেক্ষমাণ রয়েছে।
এছাড়া সিলেটে ৬ হাজার ৪৬৯টি, রাজশাহীতে ৬ হাজার ৮৭৫টি, বরিশালে ৪ হাজার ২২৬টি, চট্টগ্রামে ৬ হাজার ৬৮৮টি এবং কুমিল্লায় ১০ হাজার ৫৫৯টি আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
এই পরিসংখ্যান বলছে, অপেক্ষমাণ আবেদনের চাপ অঞ্চলভেদে ভিন্ন। ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চলে অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। ফলে দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে অঞ্চলভিত্তিক তদারকি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আবেদন নিষ্পত্তিতে সময়সীমা, কমানো হয়েছে প্রশাসনিক ধাপ
এনআইডি সংশোধন কার্যক্রমে গতি আনতে আবেদন নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ইসি।
পাশাপাশি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে নিষ্পত্তির সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট পরিচালকেরা নিয়মিতভাবে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বাসসকে বলেন, আবেদন নিষ্পত্তির মূল লক্ষ্য হচ্ছে নির্ভুলভাবে কাজ করা। এমনভাবে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে, যাতে পরবর্তী সময়ে সংশোধনের প্রয়োজন না পড়ে।
তিনি বলেন, অতীতে অযৌক্তিক আবেদনগুলো সব ক্ষেত্রে যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। এখন যুক্তিসংগত নয়—এমন আবেদন বাতিল করা হচ্ছে এবং প্রতিটি আবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত বছর বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ইসি সচিবের ভাষ্য, সংশোধন আবেদনের মধ্যে এমন অনেক আবেদন রয়েছে, যেগুলোর ক্ষেত্রে সংশোধনের প্রয়োজন আর নেই। আবার বিদেশে অবস্থানরত ভোটারদের কিছু আবেদনেও স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে দেওয়া তথ্যের অসংগতি পাওয়া যায়। এসব বিষয় যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
জন্মতারিখ সংশোধনে নতুন নজরদারি
এনআইডিতে জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে অনলাইনে যাচাইযোগ্য শিক্ষাসনদকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন করে তদারকি জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন।
সম্প্রতি এ বিষয়ে সব আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছে ইসি। গত ১৩ আগস্ট জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, অনলাইনে যাচাইযোগ্য জেএসসি, মাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাসনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন ‘ক’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন কর্মকর্তা নিষ্পত্তি করতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ প্রযোজ্য নয়।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা অধীনস্থ কর্মকর্তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন। পাশাপাশি দৈবচয়নের ভিত্তিতে প্রতি মাসে প্রত্যেক নিষ্পত্তিকারী কর্মকর্তার অন্তত তিনটি আবেদন যাচাই করে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে।
গত ১৩ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের প্রতিবেদন ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে প্রতি মাসের প্রতিবেদন পরের মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে জন্মতারিখ সংশোধনে সিদ্ধান্তের যথার্থতা ও কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায় কমিশন।
অযোগ্য আবেদন বাতিল, বয়সের অসংগতিতে কঠোর যাচাই
এনআইডি সংশোধনের অপেক্ষমাণ আবেদন ও বাতিলের কারণ ব্যাখ্যা করে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. সাইফুল ইসলাম বাসসকে বলেন, অনেক আবেদন রয়েছে যেগুলো সংশোধনযোগ্য নয়। বয়স সংশোধনের ক্ষেত্রে কখনো দেখা যায়, বাবা ও সন্তানের বয়সের ব্যবধান মাত্র ১০ বছর। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংশোধনের পর দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভোটার হওয়ার সময় বয়স ১৮ বছরের কম ছিল। এ ধরনের অসংগতি থাকলে আবেদন বাতিল করা হয় বলে জানান তিনি।
সাইফুল ইসলাম বলেন, কোনো আবেদন একটি ক্যাটাগরিতে বাতিল হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অন্য ক্যাটাগরিতে আবার আবেদন করেন। এতে একই ধরনের আবেদনের পুনরাবৃত্তি ঘটে এবং অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা বেশি বলে মনে হতে পারে।
তিনি আরও জানান, অপেক্ষমাণ আবেদনগুলো নিষ্পত্তির জন্য নিয়মিত বৈঠক করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সেবার মানসিকতা ও দায়িত্ববোধের পাশাপাশি নিয়মিত তদারকিও নিষ্পত্তির অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখেছে।
জালিয়াতি রোধে কঠোর অবস্থান, আসছে প্রযুক্তিগত উদ্যোগ
এনআইডি-সংক্রান্ত জালিয়াতি প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে সোপর্দ করা হচ্ছে। কমিশনের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী জড়িত থাকলে তভদের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি বলেন, জালিয়াতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে। তবে শুধু অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে জালিয়াতির ঘটনা ঘটার আগেই তা প্রতিরোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ লক্ষ্যে একটি প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনাও যাচাই করা হচ্ছে।
ইসি সচিবের আশা, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করা গেলে এনআইডি-সংক্রান্ত জালিয়াতির ঘটনা আরও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
এদিকে, সাধারণ মানুষকে প্রতারক চক্রের প্রলোভনে পা না দিতে সতর্ক করছে এনআইডি বিভাগ। এ বিষয়ে হেল্পডেস্ক থেকেও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম।
নির্ভুল নিবন্ধনই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান
প্রতি মাসে ৮০ থেকে ৯০ হাজার নতুন আবেদন জমা পড়ার বাস্তবতায় কেবল নিষ্পত্তির গতি বাড়িয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নিবন্ধনের সময় তথ্য যাচাই জোরদার করা, আবেদনকারীদের সঠিক তথ্য দেওয়ার বিষয়ে সচেতন করা এবং সংশোধনের প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
তারা মনে করেন, ৬৪ লাখের বেশি আবেদন নিষ্পত্তির সাফল্যের পর এখন নির্বাচন কমিশনের সামনে বড় পরীক্ষা—অবশিষ্ট আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি ভবিষ্যতে সংশোধনের প্রয়োজন কমিয়ে নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। সূত্র: বাসস
ডিজিটাল অর্থনীতি ও অনলাইন সেবার বিস্তারের সঙ্গে বাড়ছে সাইবার অপরাধের ঝুঁকি। ওয়েবসাইটে অনুপ্রবেশ, আর্থিক তথ্য চুরি, অনলাইন প্রতারণা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে কণ্ঠস্বর ও ভিডিও নকল করে জালিয়াতির ঘটনা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। সম্প্রতি বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপির একাধিক নিরাপত্তা ত্রুটি প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে সতর্কতা জোরদার হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশেও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন, স্বতন্ত্র সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠন, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এসব উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। লক্ষ্য হলো অপরাধ শনাক্তকরণ, ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ এবং নাগরিকের তথ্য ও আর্থিক নিরাপত্তা সুরক্ষায় সমন্বিত সক্ষমতা গড়ে তোলা।
সাইবার অপরাধ তদন্তে কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, সার্ভার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে পাওয়া তথ্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। এসব তথ্য বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করা গেলে অপরাধের ধরন শনাক্ত এবং তদন্তের কার্যকারিতা বাড়ানো সম্ভব।
এ লক্ষ্যেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডিজিটাল ফরেনসিক সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গত ১৪ অক্টোবর চট্টগ্রামে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার কার্যালয় ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব উদ্বোধন করা হয়। পাশাপাশি আটটি বিভাগীয় শহরে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিভাগীয় পর্যায়ে ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণের সুযোগ বাড়বে। ফলে তদন্তে সময় সাশ্রয়, প্রযুক্তিগত সহায়তা সহজলভ্য করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধ মোকাবিলার সক্ষমতা উন্নয়নের সম্ভাবনা তৈরি হবে। চট্টগ্রামের ল্যাব ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতাও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় সরকারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ স্বতন্ত্র সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠন। গত ১ অক্টোবর ইউনিটটির কার্যক্রম শুরু হয়। এতে পুলিশ সদস্য ও অন্যান্য কর্মী মিলিয়ে ৪ হাজার ৫৯২ জনের জনবল রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শকের নেতৃত্বে পরিচালিত এ ইউনিটের মাধ্যমে সাইবার অপরাধ তদন্ত ও প্রতিরোধে বিশেষায়িত কার্যক্রম সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনলাইন আর্থিক প্রতারণা, পরিচয় চুরি, ফিশিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংঘটিত অপরাধ এবং ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণের মতো বিষয় এ কার্যক্রমে গুরুত্ব পাচ্ছে। পাশাপাশি বিভাগ, জেলা ও থানা পর্যায়ে সাইবার অপরাধের অভিযোগ গ্রহণ, প্রাথমিক অনুসন্ধান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষায়িত সহায়তা দেওয়ার সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে শুধু জনবল ও সাংগঠনিক কাঠামো গঠনই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, দক্ষ প্রযুক্তিবিদ, নিরাপদ তথ্য সংরক্ষণব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করাও জরুরি।
সাইবার অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় তদন্তকারীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি মিরপুরের পুলিশ স্টাফ কলেজে সাইবার অপরাধের মামলা তদন্তবিষয়ক ১০ দিনব্যাপী ‘ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স’ (টিওটি) কোর্স পরিচালনা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ৩৩২ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পরবর্তী সময়ে মাঠপর্যায়ের তদন্তকারীদের প্রশিক্ষণ দেবেন।
এ ছাড়া সাইবার ট্রেনিং সেন্টার, ফরেনসিক ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ও ডিটেকটিভ ট্রেনিং স্কুলের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে নতুন মডিউল যুক্ত করার উদ্যোগ রয়েছে। ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ, তথ্য বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের দক্ষতা বাড়ানোই এর লক্ষ্য।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময় এবং উন্নত সাইবার ল্যাব পরিদর্শনের বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। কারণ, সাইবার অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, অর্থ লেনদেনের মাধ্যম ও ডিজিটাল প্রমাণ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকতে পারে। তাই তথ্য বিনিময় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া এসব অপরাধ মোকাবিলা কঠিন।
বাংলাদেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। ওয়েবসাইট তৈরি ও পরিচালনায় বহুল ব্যবহৃত পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার একাধিক নিরাপত্তা ত্রুটি প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট নির্মাতারা সংশোধনী প্রকাশ করেছেন। ব্যবহারকারীদের সফটওয়্যার হালনাগাদ এবং নিজেদের ব্যবস্থার নিরাপত্তা যাচাইয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ারের প্রধান নির্বাহী ম্যাথু প্রিন্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ত্রুটিগুলোর বিস্তারিত প্রকাশের পর সেগুলো কাজে লাগানোর প্রচেষ্টা দ্রুত বেড়েছে। তবে হামলার চেষ্টা শনাক্ত হওয়া আর কোনো ব্যবস্থা সফলভাবে আক্রান্ত হওয়া এক বিষয় নয়।
এ ঘটনা দেখিয়েছে, বহুল ব্যবহৃত একটি প্রযুক্তির দুর্বলতা একাধিক দেশ ও খাতের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সরকারি ওয়েবসাইট, ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন সেবায় নিয়মিত সফটওয়্যার হালনাগাদ, দুর্বলতা পরীক্ষা এবং জরুরি প্রতিক্রিয়ার ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন।
প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের অন্যতম উপায়। অপরাধীরা ভুয়া লিংক, নকল ওয়েবসাইট, পরিচয় জালিয়াতি এবং সহজে অর্থ উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে পরিচিত ব্যক্তির কণ্ঠস্বর বা ভিডিও নকল করে অর্থ চাওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাইবার অপরাধসংক্রান্ত ১৯১টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে জিআর মামলা ৩২টি এবং সিআর মামলা ১৫৯টি। একই সময়ে এসব ঘটনায় ১০১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অপরিচিত লিংকে প্রবেশ না করা, পিন ও ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) গোপন রাখা, প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে আলাদা ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার এবং দুই ধাপের নিরাপত্তা চালু রাখা জরুরি। পরিচিত কারও পরিচয়ে জরুরি অর্থ চাওয়া হলে অন্য মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন, বিশেষায়িত সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠন, প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা কাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে এসব উদ্যোগের কার্যকর বাস্তবায়ন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় এবং নাগরিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপরই নির্ভর করবে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য।
সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের একের পর এক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দাম্মাম বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে চালানো এসব হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে; যার মধ্যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন। বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে এবং সৌদি সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে। একই সঙ্গে, বাংলাদেশ সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার এবং কূটনীতির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রিয়াদ-মদিনাসহ সৌদির চার অঞ্চলে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করে হুতি বিদ্রোহীরা। তবে ১১টি ড্রোন ও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। ।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, ইয়েমেনে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এ তথ্য জানায়। এর একদিন আগে সৌদির পূর্বাঞ্চলে হামলায় চারজন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছিল দেশটির কর্তৃপক্ষ।
সৌদি জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া বিবৃতিতে বলেন, রিয়াদ, মদিনা, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ ও সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের আকাশে ড্রোনগুলো আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়। অন্যদিকে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় নাজরানের দিকে ছুটে আসা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিহত করা হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দেয়া সর্বশেষ বিবৃতিতে জোটটি জানায়, দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া আরও দুটি ড্রোন প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে। এর আগে রিয়াদ ও মদিনার আকাশে চারটি ড্রোন, শুধু রিয়াদের আকাশে একটি এবং পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের আকাশে চারটি ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছিল জোটটি।
তবে ড্রোনগুলো কোথা থেকে ছোড়া হয়েছিল কিংবা সেগুলো প্রতিহত করার ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সেই বিষয়ে বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
সৌদি কর্তৃপক্ষ দেশটির পূর্বাঞ্চলে হামলায় চারজন নিহত হওয়ার খবর দেয়ার এক দিন পর এসব ঘোষণা এল। এর আগে সৌদি আরামকোর একটি তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার চেষ্টা আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে নস্যাৎ করা হলেও ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুজন নিহত হন। এ ছাড়া দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে চালানো হামলায় আরও দুজন নিহত হন।
আনাদোলু বলছে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বুধবারও সাতটি ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছিল। এর মধ্যে একটি ড্রোন দক্ষিণাঞ্চলের দিকে যাচ্ছিল। বাকি ছয়টি মদিনা ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের আকাশে প্রতিহত করা হয়।
চলতি বছরের জুলাই থেকে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকার পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে হুতিদের নতুন করে লড়াই শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই সর্বশেষ এসব ঘটনা ঘটল।
২০১৫ সালের মার্চ থেকে ইয়েমেনের সরকারকে সমর্থন দিয়ে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এর আগে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং দেশটির আরও কয়েকটি এলাকা দখল করে নেয় ইরান সমর্থিত এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে একাধিক বড় বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা দেশের রপ্তানি আয়ের ওপর চাপ তৈরি করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে পোশাক রপ্তানি আয় কমেছে ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও জানুয়ারি-জুলাই সময়ে রপ্তানি কমেছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। পাশাপাশি জার্মানি, ফ্রান্স, ভারত ও রাশিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারেও রপ্তানি আয়ে পতন দেখা গেছে। এতে দেশের প্রধান রপ্তানি খাতের বাজার ধরে রাখা, বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার বিষয়গুলো নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে সব বাজারের পরিস্থিতি এক নয়। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ দিকে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। আবার চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে সামগ্রিক রপ্তানি বেড়েছে। ফলে বিভিন্ন সময়ের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে বাজারভিত্তিক পরিস্থিতি বোঝা জরুরি।
ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে ইইউর বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় কমে ১ হাজার ১৯২ কোটি ইউরো হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ১ হাজার ৩৫০ কোটি ইউরো। অর্থাৎ, আয় কমেছে প্রায় ১৫৮ কোটি ইউরো বা ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এ সময়ে ইইউর সামগ্রিক পোশাক আমদানি কমেছে ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি কমার হার ইউরোপের সামগ্রিক বাজার সংকোচনের চেয়ে অনেক বেশি।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মধ্যে জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জার্মানিতে রপ্তানি কমেছে ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ, ফ্রান্সে ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং ইতালিতে ৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে স্পেন ও নেদারল্যান্ডসে রপ্তানি বেড়েছে। এতে বোঝা যায়, ইউরোপের সব বাজারে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
বাংলাদেশের একক দেশভিত্তিক বৃহত্তম পোশাক রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বাণিজ্য বিভাগের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুলাই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আয় কমে ৪৬৬ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে আয় ছিল ৪৯৮ কোটি ডলার। অর্থাৎ, কমেছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানিও কমেছে ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ। চীন ও ভারতের মতো প্রতিযোগী দেশগুলোর রপ্তানি আরও বেশি কমেছে। তবে বাংলাদেশের রপ্তানিও কমে যাওয়ায় বাজারটির চাহিদা ও ক্রেতাদের ক্রয় সিদ্ধান্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের অপ্রচলিত পোশাক রপ্তানি বাজারগুলোর মধ্যে ভারত ও রাশিয়ায় উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১১ দশমিক ৪০ শতাংশ, আয় হয়েছে ৫৭ কোটি ৭ লাখ ডলার। রাশিয়ায় রপ্তানি কমেছে ২৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ, আয় দাঁড়িয়েছে ২২ কোটি ৮৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার।
একই অর্থবছরে অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক, দক্ষিণ কোরিয়া ও মেক্সিকোর বাজারেও রপ্তানি কমেছে। এসব বাজার বাংলাদেশের রপ্তানি বৈচিত্র্য বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলেও সাম্প্রতিক পতন সেখানে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৭০ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কম। মোট পণ্য রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি আসে এই খাত থেকে। ফলে পোশাক রপ্তানিতে দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা দেখা দিলে তা দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয় ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে ইতিবাচক দিকও রয়েছে। ওই অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ, কানাডায় ৩ দশমিক ২০ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যে শূন্য দশমিক ৯১ শতাংশ। অন্যদিকে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়ে ৪৯০ কোটি ডলার হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেশি। একই সময়ে স্পেন ও নেদারল্যান্ডসের বাজারেও প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
বাংলাদেশের পোশাক খাতের রপ্তানি আয় কমলে উৎপাদন, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহে চাপ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় বাজারে চাহিদা দুর্বল হলে নতুন ক্রয়াদেশ, পণ্যের দাম এবং কারখানার উৎপাদন পরিকল্পনায় প্রভাব পড়তে পারে। তবে রপ্তানি কমার তথ্য থেকেই কর্মসংস্থান বা উৎপাদন কতটা কমেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না; এ জন্য আলাদা শিল্পতথ্য প্রয়োজন।
রপ্তানি আয় বাড়াতে বাজার বৈচিত্র্য, উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদন, কৃত্রিম তন্তুভিত্তিক পণ্যের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত পণ্য সরবরাহের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে বন্দর ও পরিবহনব্যবস্থার দক্ষতা, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং ব্যবসার ব্যয় কমানো প্রতিযোগিতায় সহায়ক হতে পারে।
বাংলাদেশের পোশাক খাতের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ শুধু রপ্তানির পরিমাণ বাড়ানো নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা এবং ক্রেতাদের কাছে নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে অবস্থান শক্তিশালী করা। বড় বাজারগুলোর পতন মোকাবিলার পাশাপাশি যেসব দেশে রপ্তানি বাড়ছে, সেসব বাজারে সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে দেশের রপ্তানি আয় ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখা সহজ হবে।
কৃষি, মৎস্য, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন ও অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা বাড়াতে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর চার দিনের এ সরকারি সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে চারটির বেশি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অর্জন ও ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার তুলে ধরে যৌথ বিবৃতি প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে এ সফর অনুষ্ঠিত হবে। সফর সামনে রেখে প্রায় আটটি সহযোগিতা দলিল চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি চলছে। তবে আলোচনা শেষে কতটি দলিল সই হবে, তা নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকগুলোতে কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নের বিষয় রয়েছে।
২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক রহমান। পরে তার সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন এবং দেশটির ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা করবেন।
এ ছাড়া জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লীগের প্রতিনিধি, দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির চেয়ারম্যান এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গেও বৈঠক হতে পারে।
চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি সই হওয়া অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়ন, জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ জোরদারও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।
জাপানের সহযোগিতায় বাংলাদেশে মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী অবকাঠামো উন্নয়নসহ বড় প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। তবে ঢাকার এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের ব্যয় ৮৩ শতাংশ এবং এমআরটি লাইন-৫ প্রকল্পের ব্যয় ১১৩ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও অর্থায়নের শর্ত আলোচনায় আসতে পারে।
পররাষ্ট্র সচিব সিয়াম জানান, বাংলাদেশ অবকাঠামো উন্নয়নে অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা চেয়েছে। দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে এসব বিষয় আলোচনায় আসবে। বাংলাদেশ সব দেশ থেকেই কম সুদে ঋণ পেতে চায় বলেও জানান তিনি।
২০১৪ সালে চালু হওয়া ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা ‘বিগ-বি’ উদ্যোগ অবকাঠামো, শিল্প ও আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার মধ্যে সংযোগ স্থাপনে কাজ করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বলেন, জাপানের শিল্প-অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তির সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সমন্বয় উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ বাড়াতে পারে। কৃষি ও মৎস্য খাতে উৎপাদনশীলতা, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণে সহযোগিতা এবং ভাষা শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
জাপানি বিনিয়োগে দেশীয় সরবরাহকারী ও ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা এবং সফর শেষে দায়িত্ব, সময়সীমা ও অগ্রগতি পর্যালোচনাসহ বাস্তবায়ন পরিকল্পনা তৈরিরও পরামর্শ দেন অধ্যাপক চৌধুরী।
সফরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হবে। প্রস্তাবিত কর্মসূচিতে চিবা অঞ্চলের একটি এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং নাগোয়ার একটি টয়োটা কারখানা পরিদর্শনও রয়েছে।
দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান নিয়ে আলোচনা হবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মন্ত্রী, উপদেষ্টা, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও অন্য প্রতিনিধিরা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে জাপান যাবেন।
সমঝোতা স্মারক সইয়ের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও কর্মসংস্থানে বাস্তব অগ্রগতি অর্জনই এ সফরের মূল প্রত্যাশা।
দেশজুড়ে পুলিশের টহল, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ও অপরাধ দমনের সক্ষমতা বাড়াতে ৫ হাজার ৮৩০টি যানবাহন কেনার উদ্যোগ নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ জন্য দুটি প্রকল্পের আওতায় ৬ হাজার ৬০৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। রোববার (২৪ অক্টোবর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্প দুটি উপস্থাপনের কথা রয়েছে। অনুমোদন পেলে ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে এসব যানবাহন সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত দুটি প্রকল্পের মধ্যে ৪ হাজার ৮২৯টি সাধারণ ও কার্যক্রম পরিচালনার উপযোগী যানবাহন কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা। অন্যদিকে, ১ হাজার ১টি বিশেষায়িত যানবাহন কেনার জন্য বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ২ হাজার ২৮০ কোটি ১৪ লাখ টাকা।
২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর সম্পূর্ণ অর্থায়ন করবে সরকার।
প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, পুলিশের বিদ্যমান যানবাহনের সংখ্যা ও কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে। এ ঘাটতি পূরণে নতুন যানবাহন সংগ্রহ করা হলে মাঠপর্যায়ে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো এবং দ্রুত সেবা দেওয়া সহজ হবে।
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬৩৯টি প্রশাসনিক পুলিশ স্টেশনের অধীনে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় সেবা দিতে বর্তমানে পুলিশের যানবাহন রয়েছে ১ হাজার ২৩৭টি। অর্থাৎ, প্রতিটি স্টেশনের জন্য গড়ে দুটি করে যানবাহনও নেই। এ ছাড়া বিদ্যমান যানবাহনের প্রায় ৬৪ শতাংশের বয়স ১০ বছরের বেশি। পুরোনো যানবাহনের ওপর নির্ভরতা এবং সীমিত সংখ্যক গাড়ির কারণে নিয়মিত টহল, জরুরি ঘটনায় দ্রুত পৌঁছানো ও প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
নতুন যানবাহন যুক্ত হলে এসব সীমাবদ্ধতা কমানোর পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিরাপত্তাঝুঁকিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের গাড়ি, দুর্গম এলাকায় চলাচলের উপযোগী যানবাহন, ভ্রাম্যমাণ কমান্ড সেন্টার এবং অপরাধস্থল পরিদর্শনের জন্য বিশেষায়িত ভ্যান কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব যানবাহনের মাধ্যমে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, দুর্গম এলাকায় অভিযান পরিচালনা, মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় এবং অপরাধ তদন্তে আলামত সংগ্রহের কাজ আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে।
দেশের বিস্তৃত নদীপথে পুলিশি কার্যক্রম বাড়াতে স্পিডবোট ও দেশীয় নৌকা কেনার বিষয়টিও পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব জলযান নৌপথে টহল, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং জরুরি উদ্ধারকাজে সহায়তা করবে।
যানবাহন সংগ্রহের পাশাপাশি সেগুলো পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সাধারণ যানবাহন প্রকল্পের আওতায় ৬৫০ জনকে হালকা যানবাহন চালনা ও মেকানিক্স, ৩০০ জনকে ভারী যানবাহন চালনা ও মেকানিক্স এবং ৫০ জনকে যানবাহন মেরামতের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পে ৯১০ জনকে ড্রাইভিং ও মেকানিক্স এবং আরও ৫০ জনকে মেকানিক্স প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ যানবাহন প্রকল্পে রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের সরঞ্জাম কেনার জন্য দেড় কোটি টাকা রাখা হয়েছে।
প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, যানবাহন পরিচালনায় দক্ষ জনবল তৈরি এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে নতুন বহরের কার্যকারিতা ও স্থায়িত্ব বাড়বে।
প্রস্তাবিত প্রকল্প দুটির সম্মিলিত ব্যয় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২ হাজার ৮০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ২ হাজার ৮৬৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ১ হাজার ৬৬০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
প্রকল্প দুটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় ব্যয়-সুবিধা অনুপাত ১ দশমিক ০৫ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, সমীক্ষায় ব্যবহৃত অনুমানের ভিত্তিতে প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুবিধা ব্যয়ের তুলনায় সামান্য বেশি বলে হিসাব করা হয়েছে।
সাধারণ যানবাহন প্রকল্পের সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভায় পর্যালোচনা করা হয়। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, বিদেশি প্রশিক্ষণের প্রস্তাব বাদ দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অর্থ বিভাগের বিধিবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রকল্পটি সংশোধন করা হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গেও প্রকল্পটি সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের পর্যালোচনার পর একনেকের বিবেচনার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। তবে প্রকল্প দুটির কোনোটিই এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। একনেকের সিদ্ধান্তের ওপরই এর বাস্তবায়ন নির্ভর করছে।
প্রকল্প দুটি অনুমোদিত হলে পুলিশের যানবাহন ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। তবে বিনিয়োগের সুফল পেতে স্বচ্ছ ক্রয়প্রক্রিয়া, প্রয়োজন অনুযায়ী যানবাহন বণ্টন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং দ্রুত পুলিশি সেবা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
আরাফাত রহমান কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা-২০২৬ উদ্বোধন করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তিনি জাতীয় স্টেডিয়ামে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদকাসক্তি, মোবাইল আসক্তি ও হতাশা থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। খেলাধুলা তরুণদের শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস শেখায়। তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে সুস্থ জাতি গঠনে মাঠ ও খেলাধুলার প্রসার জরুরি।
তিনি আরও বলেন, অ্যাথলেটিক্সকে ক্রীড়ার জননী বলা হয়। এখানে ক্রীড়াবিদের গতি, শক্তি, ক্ষিপ্রতা, শৃঙ্খলা ও সহনশীলতার প্রকৃত পরীক্ষা হয়। এটির ভিত্তি মজবুত হলে অন্যান্য খেলায়ও দেশের সক্ষমতা বাড়বে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, খেলাধুলা জাতীয় গৌরব ও ঐক্যের প্রতীক। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পতাকা উড়ানো এবং বিজয়মঞ্চে জাতীয় সংগীত বাজানো- পুরো জাতির জন্য গর্বের বিষয়। তখন আমাদের একটাই পরিচয়- আমরা বাংলাদেশি।
তিনি বলেন, নিজেদের খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের দলকে সাফল্য এনে দিতে হবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল পর্যায় থেকে সব ধরনের খেলাধুলাকে এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, খেলাধুলার প্রসার, সুস্থ জাতি গঠন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে স্পোর্টস কার্ড, স্পোর্টস অ্যালাউন্স, তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি এবং জেলা পর্যায়ে আধুনিক স্পোর্টস ভিলেজ গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন এবং ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।
এ সময় তিনি অবৈধভাবে দখল করা মাঠ দখলমুক্ত করে সংরক্ষণ এবং নতুন মাঠ চিহ্নিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নারী অ্যাথলেটদেরও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং আর্থিক কারণে যেন কোনো প্রতিভা ঝরে না পড়ে, সে জন্য স্কুল, কলেজ এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজনের আহ্বান জানান।
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তঃস্কুল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চালুর উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরিতে সরকারের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘমেয়াদি পৃষ্ঠপোষক হিসেবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
এই প্রতিযোগিতা থেকে ভবিষ্যতে অনেক প্রতিভাবান অ্যাথলেট উঠে আসবে, যারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে আরও গৌরবান্বিত করবে বলে রাষ্ট্রপতি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রতিযোগিতাটিকে দেশের বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে আরাফাত রহমান কোকো ১৮তম জাতীয় অ্যাথলেটিক প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ জাবেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন।
এর আগে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ৫৭ টি দলের মার্চ পাস্ট অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রতিযোগিতার থিম সং পরিবেশন করা হয়।
সাবেক অ্যাথলেট মহিউদ্দিন আহমেদ এবং সুমিতা রানী দাস গেমসের মশাল প্রজ্জ্বলন করেন।
উদ্বোধন শেষে রাষ্ট্রপতি ১০০ মিটার স্প্রিন্ট প্রতিযোগিতা (পুরুষ ও নারী) উপভোগ করেন এবং বিজয়ীদের মেডেল প্রদান করেন।
এর আগে বিকেল ৪টার দিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় স্টেডিয়ামে পৌঁছলে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ জাবের, বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন তাকে স্বাগত জানান।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত প্রধান শহরগুলোর তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাজধানী লাহোর। সকাল ৮টার দিকে শহরটির বায়ুমান সূচক (একিউআই) ৩৪৪ রেকর্ড করা হয়। একই দিনে অস্বাস্থ্যকর বায়ুমান নিয়ে এই তালিকায় ঢাকার অবস্থান ছিল ১২তম। বিপজ্জনক এই বায়ুদূষণ থেকে নিজেদের রক্ষায় শহরটির বাসিন্দাদের মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ১৫৩ একিউআই স্কোর নিয়ে দূষিত শহরের তালিকায় ১২তম অবস্থানে ছিল ঢাকা, যার বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। এর আগে বৃহস্পতিবার সকালেও ১৬৫ একিউআই নিয়ে সপ্তম স্থানে ছিল ঢাকা। অন্যদিকে, ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি বিশ্বের দ্বিতীয় দূষিত শহরের তালিকায় রয়েছে, যার বায়ুমান সূচক ২৪৪। তালিকায় থাকা অন্যান্য শহরের মধ্যে সেনেগালের ডাকার ১৮৪, ভারতের মুম্বাই ১৭৯ এবং কলকাতা ১৭২ স্কোর রেকর্ড করেছে। এই শহরগুলোর বাতাসও অস্বাস্থ্যকর হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।
সুইস বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট আইকিউএয়ার জানায়, লাহোরের বাতাসে প্রধান দূষণকারী উপাদান হলো ক্যান্সার সৃষ্টিকারী বস্তুকণা পিএম২.৫, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বার্ষিক নির্দেশিকার চেয়ে ৫৭ গুণ বেশি। এই অতি ক্ষুদ্র কণাগুলো রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করতে পারে, যার ফলে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ফুসফুসের ক্যানসার এবং দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে। লাহোরের বিভিন্ন এলাকায় দূষণের মাত্রা ভিন্ন। এর মধ্যে শহরটির ইকবাল টাউনে সর্বোচ্চ ৫৩৫ একিউআই রেকর্ড করা হয়েছে।
এছাড়া বেদিয়ান রোডের এয়ারওয়াশে ৪৯৭, কানহায় ৪৪৬ এবং ডিফেন্স ফেজ ৫-এ ৩৬০ রেকর্ড করা হয়।
শীতের ঠাণ্ডা বাতাস দূষণকারী কণাগুলোকে ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি আটকে রাখে। ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো ধোঁয়া, যানবাহনের নির্গমন, কারখানার ধোঁয়া এবং নির্মাণকাজের ধুলার সংমিশ্রণে এটি একটি মারাত্মক রূপ ধারণ করে। ইউনিসেফ সতর্ক করেছে, দূষিত বাতাস শিশুদের তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলে।
এছাড়া ২০২৩ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশে বায়ুদূষণ মানুষের গড় আয়ু পাঁচ বছরেরও বেশি কমিয়ে দিতে পারে। ধোঁয়াশার কারণে স্কুল বন্ধ, যান চলাচল ব্যাহত এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় চাপ বাড়ায় এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা নিয়মিতভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে হাইড্রোকার্বন খাতে সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের ফলে জ্বালানি আমদানি ও যৌথ অবকাঠামো উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজিয়ার্সে আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ আত্তাফের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরে সন্তোষ প্রকাশ করে হুমায়ুন কবির বলেন, এর আওতায় সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ব্যবস্থায় আলজেরিয়া থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এ সমঝোতার ফলে যৌথভাবে তেল শোধনাগার ও এলএনজি অবকাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি বাংলাদেশে কয়লা ও গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানেরও সুযোগ সৃষ্টি হবে।
আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ আত্তাফ বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকে অগ্রাধিকার দিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট তাকে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের কারিগরি সক্ষমতা বাড়াতে দেশটির পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও কারিগরি কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মসূচি আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বৈঠকে দুই মন্ত্রী পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এতে জ্বালানি, সার, কৃষি, বস্ত্র, বাণিজ্য, শিক্ষা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
উভয় দেশের পারস্পরিক কল্যাণে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর উপায় নিয়েও তারা আলোচনা করেন। বাংলাদেশের সার আমদানির চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে আত্তাফ এ খাতে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এ ছাড়া, আলজেরিয়ার বস্ত্রশিল্প পুনরুজ্জীবনে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগানোর পাশাপাশি ওষুধ, চামড়া ও বস্ত্র খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের আগ্রহও প্রকাশ করেন।
দুই পক্ষ নিয়মিত পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। পরবর্তী বৈঠক শিগগিরই ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ের প্রয়োজনীয়তার ওপরও তারা জোর দেন।
মর্যাদাপূর্ণ এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হকিতে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে ভারতের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছে বাংলাদেশ জাতীয় দল। শুক্রবার সকালে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে দেশ ছাড়েন খেলোয়াড় ও দলের অন্যান্য সদস্যরা।
মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের এই আসরকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন যাবৎ নিবিড় অনুশীলন শিবিরে ঘাম ঝরিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। প্রস্তুতি পর্বে খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত দক্ষতার ওপর সর্বোচ্চ নজর দিয়েছেন কোচিং স্টাফরা। অভিজ্ঞ ও তরুণ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে সাজানো এ দল মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা প্রদর্শন করতে পারবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
দেশ ছাড়ার প্রাক্কালে দলের প্রত্যয় তুলে ধরে বাংলাদেশ হকি দলের অধিনায়ক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এই টুর্নামেন্টের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছি। এশিয়ার সেরা দলগুলোর বিপক্ষে খেলাটা সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং, তবে আমাদের লক্ষ্য থাকবে প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেওয়া এবং দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনা।’
ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের জলন্ধর ও মোহালিতে আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত এ মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা মাঠে গড়াবে।
টুর্নামেন্টের লিগ পর্বে বাংলাদেশ দল মোট পাঁচটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নেবে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী, আগামী ২৭ অক্টোবর উদ্বোধনী দিনে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শক্তিশালী স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখি হয়ে নিজেদের মিশন শুরু করবে বাংলাদেশ। পরবর্তীতে ২৯ অক্টোবর বিকেল সোয়া ৫টায় জাপান, ৩০ অক্টোবর বিকেল ৩টায় মালয়েশিয়া, ১ নভেম্বর বিকেল ৩টায় দক্ষিণ কোরিয়া এবং ২ নভেম্বর একই সময়ে চীনের বিপক্ষে মাঠে নামবে দল। লিগ পর্বের খেলা শেষে আগামী ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে সেমিফাইনাল ও স্থান নির্ধারণী লড়াই এবং ৫ নভেম্বর ফাইনালের মধ্য দিয়ে আসরের সমাপ্তি ঘটবে।
ইউরোপের তিন দেশ ইতালি, গ্রিস ও সাইপ্রাস থেকে অনিয়মিত অবস্থায় থাকা ৩৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে তাঁরা রাজধানী ঢাকায় অবতরণ করেন।
প্রত্যাবাসন করা নাগরিকদের মধ্যে ইতালি থেকে এসেছেন সর্বোচ্চ ১৯ জন, গ্রিস থেকে পাঠানো হয়েছে ১০ জনকে এবং বাকি ছয়জন এসেছেন সাইপ্রাস থেকে।
ঢাকাস্থ ইতালি দূতাবাসের এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় জানানো হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংস্থা ‘ফ্রন্টেক্স’-এর সার্বিক সমন্বয়ে এই বিশেষ প্রত্যাবাসন ফ্লাইটটি পরিচালনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট তিন দেশের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে সংস্থাটির সহায়তায় এসব বাংলাদেশি নাগরিককে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।