মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ট্রাম্পের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হচ্ছে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৫৬

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে অনুষ্ঠিতব্য বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ববৈঠকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ূন কবির। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার কোনও সম্ভাবনা নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কোনো দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, “এই সফরে ইউএনের অধিবেশনে যুক্ত হওয়ার জন্যই প্রধানমন্ত্রী এসেছেন।”

এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা ত্যাগ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর সঙ্গে সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও রয়েছেন। বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্তির পর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রীকে সফরকালীন আবাসস্থল ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ৮টার দিকে প্রধানমন্ত্রী হোটেলে এসে পৌঁছান। এ সময় প্রিয় নেতার আগমন উপলক্ষে বিমানবন্দর ও হোটেলের বাইরে উপস্থিত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি স্লোগানের মাধ্যমে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক ডজনেরও বেশি বহুপাক্ষিক ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কর্মসূচি রয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় আগামী বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মূল অধিবেশনে তিনি দেশের পক্ষে জাতীয় ভাষণ দেবেন।


নির্বাচিত

প্রতি কিলোমিটারে বাস ভাড়া বাড়ল ১৭ পয়সা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মহানগর ও দূরপাল্লার রুটে চলাচলকারী বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এর আগে তেলের দাম বাড়ার পর পরিবহন ব্যয় সমন্বয়ের লক্ষ্যে দূরপাল্লার বাসে কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা এবং ঢাকাসহ অন্যান্য মহানগর এলাকার সিটি সার্ভিসে ১৮ পয়সা বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। মন্ত্রণালয় সেই প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে শেষ পর্যন্ত দূরপাল্লা ও নগর পরিবহন উভয় ক্ষেত্রেই কিলোমিটারপ্রতি ১৭ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি চূড়ান্ত করে।

উল্লেখ্য, গত রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। নতুন এই মূল্যের ফলে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে ১৫৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্রতি লিটার অকটেনের দাম ১৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ১৪০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।


নির্বাচিত

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে আইএমএফের কোনো শর্ত নেই: তথ্য উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তের পেছনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সরাসরি কোনো শর্ত নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি ও সমসাময়িক প্রেক্ষাপট নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে ঋণদাতা সংস্থাটির কোনো বাধ্যবাধকতা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তথ্য উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে, আইএমএফের ঢালাও নীতি হলো কোনো সরকার যেন অতিরিক্ত ভর্তুকি না দেয়। তবে তাদের সব নির্দেশনা বাংলাদেশ সরকার হুবহু মেনে চলে এমন নয়। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে সংস্থাটির সব সময় পূর্ণ স্বস্তি না থাকলেও জনগণের স্বার্থেই সরকার তা বজায় রাখছে। তাই আন্তর্জাতিক সংস্থার শর্তের সাথে তেলের মূল্য সমন্বয়ের সরাসরি কোনো যোগসূত্র নেই।

জ্বালানি খাতের অর্থনৈতিক চাপ তুলে ধরে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, তরল জ্বালানির পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতের সার্বিক ভর্তুকি যোগ করলে রাষ্ট্রের ওপর এক বিপুল আর্থিক বোঝা তৈরি হয়। অর্থনীতির সাধারণ নিয়মেই এই ভর্তুকির চাপ কমিয়ে আনা অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। সরকার এখন কোন খাতে কতটা ভর্তুকি সাশ্রয় করবে, সেই বাস্তবমুখী সিদ্ধান্তই গ্রহণ করছে।

তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, তেলের মূল্যবৃদ্ধির পদক্ষেপটি কোনো বিদেশি সংস্থার শর্তের বাস্তবায়ন নয়, বরং গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারি ব্যয়ের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার অভ্যন্তরীণ নীতিগত উদ্যোগেরই অংশ।


নির্বাচিত

যুক্তরাজ্যের এভিয়েশন সিকিউরিটি অডিটে দেশের দুই বিমানবন্দরের স্কোরে বড় উন্নতি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের পরিবহন বিভাগের (ডিএফটি) সাম্প্রতিক এভিয়েশন সিকিউরিটি অডিটে বাংলাদেশের দুটি প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা মানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়েছে। অত্যন্ত কড়াকড়ির এই আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৪ শতাংশ এবং সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৮ শতাংশ নম্বর অর্জন করেছে। রবিবার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, পূর্ববর্তী ২০২৫ সালের নিরীক্ষার তুলনায় এবার উভয় বিমানবন্দরের সক্ষমতায় দৃশ্যমান উন্নতি ঘটেছে। গত বছর শাহজালাল বিমানবন্দরের অর্জিত স্কোর ছিল ৯৩ শতাংশ এবং ওসমানী বিমানবন্দরের স্কোর ছিল ৯৪ শতাংশ। যুক্তরাজ্যগামী বিভিন্ন ফ্লাইটের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি যাত্রীসেবা, পণ্য পরিবহন ও আকাশপথে ডাক চলাচলের মান নিবিড়ভাবে তদারকির পর এই ফলাফল নির্ধারণ করেছে ডিএফটি। এছাড়া আকাশপথে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে 'অ্যাডিশনাল মেজারস অ্যাসেসমেন্ট'-এ বাংলাদেশ শতভাগ কমপ্লায়েন্স বা শতভাগ মান অর্জনে সফল হয়েছে।

বেবিচকের মতে, নিরাপত্তা সূচকের এই ধারাবাহিক অগ্রগতি আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা, যাত্রী এবং বৈশ্বিক ব্যবসায়ী মহলে বাংলাদেশের এভিয়েশন ব্যবস্থার ওপর আস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। বিশেষ করে ২০১৭ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) কর্তৃক আরোপিত 'হাই রিস্ক কার্গো অ্যান্ড মেইল' সংক্রান্ত বিধিনিষেধ পুরোপুরি প্রত্যাহারে এই ইতিবাচক ফল সহায়ক ভূমিকা রাখবে। ইইউমুখী কার্গো ও ডাক পরিবহনে বিদ্যমান অতিরিক্ত বিধিনিষেধ উঠে গেলে দেশের রপ্তানিকারকদের উল্লেখযোগ্য সময় ও ব্যয় সাশ্রয় হবে, যা নিয়ে ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

এর পাশাপাশি আসন্ন আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) সর্বজনীন নিরাপত্তা অডিট কর্মসূচি ‘ইউএসএপি-সিএমএ’র প্রস্তুতিতেও এই নিরীক্ষা বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে। চলতি বছরের ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত আইসিএও-এর অডিট দলটি বেবিচক সদর দপ্তরসহ শাহজালাল ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা মান সরেজমিনে যাচাই করবে। এ প্রসঙ্গে বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমোডোর মো. আসিফ ইকবাল জানান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সার্বক্ষণিক নজরদারি, বেবিচক নেতৃত্বের সময়োপযোগী দিকনির্দেশনা এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও এভিয়েশন সিকিউরিটি বিভাগের সমন্বিত কর্মতৎপরতার ফলেই দেশের বিমানবন্দরগুলো এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।


নির্বাচিত

দূরপাল্লায় ৮, সিটিতে ১০ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব যাত্রী কল্যাণ সমিতির

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্বালানি তেলের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে গণপরিবহনের ভাড়া সমন্বয়ের ক্ষেত্রে দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারে সর্বোচ্চ ৮ পয়সা এবং নগর পরিবহনে (সিটি সার্ভিস) ১০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। একই সঙ্গে নৌপথে চলাচলকারী লঞ্চের ভাড়া প্রতি নটিক্যাল মাইলে সর্বোচ্চ ৫ পয়সা বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে সংগঠনটি। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক জরুরি বিবৃতিতে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই প্রস্তাব তুলে ধরেন।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের পর বাস ও নৌযানের ভাড়া কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক হলেও তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার চরম অভাব দেখা যাচ্ছে। সাধারণ যাত্রীসাধারণের কোনো প্রতিনিধিকে সম্পৃক্ত না করে পরিবহন মালিকদের সঙ্গে নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি মন্ত্রণালয় ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলো দফায় দফায় রুদ্ধদ্বার বৈঠক করছে। তেলের দাম বাড়ার ফলে যানবাহনের প্রকৃত পরিচালন ব্যয় কতটা বেড়েছে এবং তার বিপরীতে কত পয়সা ভাড়া বাড়ানো যৌক্তিক—সে সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট ও বস্তুনিষ্ঠ কোনো হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করা হচ্ছে না।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি অভিযোগ করেছে, অতীতের ধারাবাহিকতায় এবারও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে পরিবহন মালিকদের একচেটিয়া মুনাফার সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। দেশের গণপরিবহন খাতের প্রধান অংশীজন হওয়া সত্ত্বেও ভাড়া নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় যাত্রীদের মতামত সম্পূর্ণ উপেক্ষা করার কারণে সাধারণ মানুষ বারবার অন্যায্য আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে।


নির্বাচিত

বিশ্বমঞ্চে গণমানুষের অধিকার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বার্তা দেবেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বার্তা তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।

তিনি বলেন, ‘দেশপ্রেম, আবেগ, অনুভূতি এবং আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দেশের ভবিষ্যৎ রূপকল্প কী হওয়া উচিত, কীভাবে বাংলাদেশের স্বার্থকে সুরক্ষিত রাখতে হবে এবং কীভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা যাবে, সেগুলো বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর সোমবার স্থানীয় সময় রাত ৯টায় ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউ ইয়র্ক’ হোটেলের লবিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি ঐতিহাসিক সফরে নিউইয়র্কে এসেছেন। দীর্ঘদিন পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি প্রতিনিধিত্বমূলক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি আমন্ত্রিত হয়ে এসেছেন, যা একটি ইতিহাসের অংশ।


ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পক্ষে নিজেদের অবস্থান, ভিশন ও পরিকল্পনা তুলে ধরেছিলেন।

ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় আজকে তাদের সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঠিক একইভাবে বাবা-মায়ের মতো দেশপ্রেমকে ধারণ করে বাংলাদেশের স্বার্থ ও অধিকারের কথা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন।’

আগামী বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণ উপস্থাপন করবেন বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফর অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত উল্লেখ করে মুখপাত্র বলেন, অতীতের ধারা থেকে সম্পূর্ণ বেরিয়ে এসে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য তিনি এই সফরে এসেছেন। যাতায়াতের দুই দিন বাদে মাঝখানে মাত্র চার কর্মদিবস তিনি নিউইয়র্কে অবস্থান করবেন এবং বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন।

সফরের বহর সম্পর্কে মাহ্দী আমিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সনাতনী ধারা সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়ে খুব সংক্ষিপ্ত এই সফরে ছোট্ট একটি বহর নিয়ে এসেছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে এখানে মাত্র ৩৫ জন রয়েছেন। এর পাশাপাশি শুধু অত্যাবশ্যকীয় মিডিয়া, নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত স্টাফ রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও এসেছেন।’

মঙ্গলবার থেকে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক সফর শুরু হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সকাল ৯টায় তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তরে উদ্বোধনী অধিবেশনে অংশ নেবেন, যেখানে সব দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা উপস্থিত থাকবেন।

এর আগে সকালে জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণে একটি ‘ওয়েলকাম ব্রেকফাস্ট রিসেপশনে’ যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

সফরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলাদা কোনো বৈঠকের সুযোগ আছে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরের মূল উদ্দেশ্য জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদান। তাই আলাদা করে এ ধরনের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার তেমন সুযোগ হবে না।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি ওয়াহিদুজ্জামান। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ)-এর ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্ক পৌঁছেছেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ)-এর ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন।

ইস্তাম্বুলে সংক্ষিপ্ত যাত্রা বিরতির পর প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে বহনকারী টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট স্থানীয় সময় সোমবার বিকেল ৬টা ২০ মিনিটে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি বাসস’কে এ কথা জানিয়েছেন।

বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে মোটরশোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রীকে ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বিএনপি নেতা-কর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলের সামনে ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন হাতে মিছিল এবং স্লোগান দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীও হাসিমুখে হাত নেড়ে নেতা-কর্মীদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।

নিউইয়র্ক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলেই অবস্থান করবেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ছাড়াও সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ ইসলাম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

এদিকে, ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, মিশিগান, জর্জিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশ থেকে আসা নেতাকর্মীসহ নিউইয়র্কস্থ বিএনপি নেতা-কর্মীরা দুপুর থেকেই তাদের প্রিয় নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আশপাশের এলাকায় ভিড় জমাতে থাকেন।

এ সময় তারা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন হাতে নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। মাঝেমধ্যে স্লোগান ধরেন-‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’।

নেতাকর্মীরা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শুধু একটি প্রটোকলভিত্তিক সমাবেশ নয়, বরং বৈশ্বিক নীতিনির্ধারক ও মার্কিন মহলের সামনে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরার এক উন্মুক্ত মঞ্চ।

আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। তাঁর ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট এবং বহুমুখী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংস্কার প্রাধান্য পাবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি:

২২ সেপ্টেম্বর:

এদিন সকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদর দফতরে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে স্বাগত প্রাতরাশে যোগ দেবেন। এরপর তিনি অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে এবারের অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এদিন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গ এবং হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ার ফিলস-আইমে’র সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।

এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক এবং মেটা প্ল্যাটফর্মসের প্রধান বৈশ্বিক বিষয়াবলি কর্মকর্তা জোয়েল কাপলানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ হবে।

সন্ধ্যায় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাঁদের সহধর্মিণীদের সম্মানে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

২৩ সেপ্টেম্বর:

প্রধানমন্ত্রী এদিন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধির সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে মতবিনিময় করবেন। তিনি রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়া ‘জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন।

তিনি এদিন ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। বোয়িং গ্লোবাল-এর প্রেসিডেন্ট ড. ব্রেন্ডন নেলসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

২৪ সেপ্টেম্বর:

প্রধানমন্ত্রী এদিন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হুমকি বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় প্রারম্ভিক বক্তব্য প্রদান করবেন। এরপর তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। এছাড়া মাতৃ ও নবজাতকের প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু রোধ সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে প্রারম্ভিক বক্তব্য দেবেন। তিনি এদিন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের সাথেও বৈঠক করবেন।
নিউইয়র্ক সময় বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে (সময় পরিবর্তন হতে পারে)। তাঁর জন্য বরাদ্দকৃত সময় ১৫ মিনিট।

এরপর রাতে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে নৈশভোজে অংশগ্রহণ করবেন।

২৫ সেপ্টেম্বর:

জেপিমরগান হেডকোয়ার্টার্সে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সাথে প্রাতরাশ বৈঠকে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এদিন কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহ’র সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।

তিনি ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট প্রিন্স জাইদ আল হুসেইনের সাথে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন। পরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতাদের সাথে মতবিনিময় করবেন।

রাত ১১ টায় (নিউইয়র্ক সময়) এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে প্রধানমন্ত্রী আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বাবা-মায়ের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ অনন্য নজির স্থাপন করেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনীতিতে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

দাম বাড়লেও থাকছে বড় ভর্তুকি

* পাচার রোধে সহায়ক হবে নতুন মূল্য * বড় প্রকল্পও এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ *পরিবহন খাতেও নিয়ন্ত্রিত সমন্বয়ের উদ্যোগ * মূল্য সমন্বয় ছাড়া বিকল্প ছিল না: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী 
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক    

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় দেশের জ্বালানি খাতে আর্থিক চাপ সামাল দিতে মূল্য সমন্বয় করেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্তে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য—বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসান কমানো, জ্বালানি আমদানির অর্থায়ন নিশ্চিত করা, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমানো এবং দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা।

নতুন দরে ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও আমদানি ব্যয় বাড়লেও দীর্ঘ সময় দেশে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত ছিল। এতে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিপিসির প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। প্রতি মাসে গড়ে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা।

এক বছরে আমদানি ব্যয় বেড়েছে ১০৭ শতাংশ: দেশের জ্বালানি খাতে আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ কতটা বেড়েছে, তা আমদানি ব্যয়ের পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। গত অর্থবছরে বিপিসি রেকর্ড ১০ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি তেল আমদানি করেছে। আগের অর্থবছরে এই ব্যয় ছিল ৫ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে আমদানি ব্যয় বেড়েছে ১০৭ শতাংশ।

বর্তমানে দেশের মোট পণ্য আমদানি ব্যয়ের ১৪ শতাংশের বেশি জ্বালানি খাতে ব্যয় হচ্ছে। শুধু আগস্ট মাসেই শুল্ক, কর ও পরিচালন ব্যয় বাদ দিয়ে বিপিসির জ্বালানি আমদানি ব্যয় হয়েছে ৭ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা। এক বছর আগে একই সময়ে এ ব্যয় ছিল ২ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের হিসাবে, মূল্য সমন্বয় না করলে শুধু ডিজেলেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত লোকসান বা ভর্তুকির প্রয়োজন হতে পারে। সব ধরনের জ্বালানি মিলিয়ে সম্ভাব্য চাপ প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

নতুন মূল্য সমন্বয়ের ফলে বছরে বিপিসির লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত কমানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।

দাম বাড়ার পরও বড় ভর্তুকি: জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম বেশি থাকায় মূল্য সমন্বয়ের পরও সরকারকে প্রতি লিটারে প্রায় ৭০ টাকা ভর্তুকি দিতে হবে। অর্থাৎ নতুন মূল্য নির্ধারণের পরও আন্তর্জাতিক বাজারের পুরো ব্যয় ভোক্তার ওপর চাপানো হয়নি।

প্রতিমন্ত্রীর মতে, মূল্য সমন্বয় ছাড়া বিপিসির ক্রমবর্ধমান লোকসান সামাল দেওয়ার বিকল্প ছিল না। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভর্তুকির চাপ কমিয়ে সেই অর্থ সামাজিক সুরক্ষা, সরকারি সেবা ও অন্যান্য অগ্রাধিকার খাতে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।

উন্নয়ন তহবিল থেকে নেওয়া হয়েছে ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা: বাড়তি আমদানি ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে মূল্য সমন্বয়ের পাশাপাশি সরকারি ভর্তুকি ও বিকল্প অর্থায়নের ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। জ্বালানি আমদানির অর্থ পরিশোধে বিপিসি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য সংরক্ষিত তহবিলের একটি অংশ ব্যবহার করেছে।

বিপিসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য রাখা তহবিল থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যবহার করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের জন্য সংরক্ষিত মোট তহবিল ছিল প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা। অর্থ ব্যবহারের পর প্রকল্পগুলোর হিসাবে অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ১ হাজার ৬৭৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

তবে কর্মকর্তারা বলছেন, জ্বালানি তেল বিক্রির আয় ও সরকারি ভর্তুকি পাওয়ার পর এসব তহবিল পুনর্গঠন করা সম্ভব হবে। ফলে জরুরি আমদানি সচল রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন অব্যাহত রাখার সুযোগ থাকবে।

পাচার রোধেও কাজে আসবে নতুন দাম: জ্বালানি বিভাগের আরেকটি যুক্তি হলো, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে দীর্ঘদিন জ্বালানি তেলের দাম কম থাকায় পাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। নতুন মূল্য সমন্বয়ের ফলে এ দামের ব্যবধান অনেকটাই কমেছে।

সরকারের দেওয়া হিসাবে, বাংলাদেশি মুদ্রায় কলকাতায় ডিজেলের দাম প্রায় ১৩৪ টাকা, মিয়ানমারে ১৬৫ টাকা, নেপালে ১৬১ টাকা এবং শ্রীলঙ্কায় প্রায় ১৭৯ টাকা। বাংলাদেশে নতুন দরে ডিজেল বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকায়।

ফলে সীমান্তবর্তী দেশগুলোর সঙ্গে দামের বড় ব্যবধান না থাকায় দেশের জ্বালানি দেশের বাজারেই ব্যবহারের সুযোগ বাড়বে এবং অবৈধ পাচারের ঝুঁকি কমতে পারে বলে আশা করছে সরকার।

জ্বালানি আমদানিতে নতুন ঋণ: বিপিসির হাতে বর্তমানে জ্বালানি আমদানির জন্য প্রায় ১২ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা রয়েছে। সেপ্টেম্বরের আমদানি ব্যয় পরিশোধের পর এ অর্থ আরও কমবে। এ অবস্থায় জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারি ভর্তুকি, নিজস্ব তহবিল ও বৈদেশিক অর্থায়নের সমন্বয়ে অর্থ জোগানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

আগামী অর্থবছরের জ্বালানি আমদানির অর্থায়নে ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইআইটিএফসি) থেকে ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ অর্থ পাওয়া গেলে জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানির অর্থায়নের চাপ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বড় প্রকল্পও চালু রাখার উদ্যোগ: জ্বালানি আমদানির পাশাপাশি বিপিসির উন্নয়ন প্রকল্পগুলোও চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এলপিজি ট্যাংক স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণে প্রায় ৫২৪ কোটি টাকা এবং সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) প্রকল্পের ঋণ পরিশোধে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ৬৯০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।

এ ছাড়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। নতুন অর্থায়ন ব্যবস্থা কার্যকর হলে এসব প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

পরিবহন ভাড়া সমন্বয়ের উদ্যোগ: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রভাব পরিবহন খাতেও পড়ছে। এ কারণে বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাস মালিকেরা কিলোমিটারপ্রতি ৪০ পয়সা বাড়ানোর দাবি করলেও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সিটি সার্ভিসে ১৮ পয়সা এবং দূরপাল্লার বাসে ২০ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।

সর্বনিম্ন ভাড়া বাসে ১০ টাকা এবং মিনিবাসে ৮ টাকা অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিআরটিএর সুপারিশ সরকারের কাছে যাবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।

রিজভীর বক্তব্যেও উঠে এসেছে বিশ্ববাজারের প্রসঙ্গ: জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও আন্তর্জাতিক বাজারের দামের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বিশ্ববাজারের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম এখনো কম। তার বক্তব্য অনুযায়ী, মূল্য সমন্বয়ের পরও সরকারকে প্রতি লিটারে প্রায় ৭০ টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।

তার বক্তব্যেও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সংগ্রহের বাড়তি ব্যয় এবং দেশে ভর্তুকি অব্যাহত রাখার বিষয়টি উঠে এসেছে।

সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে সরকার একদিকে মূল্য সমন্বয় করেছে, অন্যদিকে ভর্তুকি, নিজস্ব তহবিল ও বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে আমদানির অর্থায়ন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে উন্নয়ন তহবিল পুনর্গঠন, পাচার নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবহন ভাড়া সমন্বয়ের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে বিপিসির লোকসান ও আর্থিক চাপ কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রাখা এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহ নিরাপত্তা ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

একটি ‘গুরুতর মানবিক সংকট’ রোহিঙ্গা ইস্যু: ড. খলিলুর রহমান

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:৫১
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সংঘাত বা সহিংসতা দিয়ে কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; কেবল আলোচনা ও কূটনৈতিক পথেই এর স্থায়ী সমাধান মিলবে জানিয়ে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান রোহিঙ্গা সংকটকে একটি ‘গুরুতর মানবিক সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

​জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ ‘হাই-লেভেল উইক’ শুরুর প্রাক্কালে ‘জাতিসংঘ নিউজ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খলিলুর রহমান এসব কথা বলেন।

খলিলুর রহমান বলেন, সহিংসতা সমস্যাকে সমাধান করে না, বরং দীর্ঘায়িত ও আরও ভয়াবহ করে তোলে। রোহিঙ্গারা নিজ দেশে চরম নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তবে এত কষ্টের পরও তাদের টিকে থাকার ক্ষমতা এবং নিজ ভিটায় ফিরে যাওয়ার আকুতি প্রশংসনীয়।

খলিলুর রহমান জানান, সাধারণ পরিষদ বিশ্বনেতাদের একত্রিত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমাধান খোঁজার এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম। তার এক বছরের মেয়াদে প্রধান লক্ষ্য—জাতিসংঘের প্রতি বিশ্ববাসীর ‘আস্থা পুনরুদ্ধার করা’। একই সঙ্গে জাতিসংঘের প্রয়োজনীয় সংস্কার, আর্থিক স্থায়িত্ব এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সঠিক নিরাপত্তা নীতিমালা তৈরির ওপর জোর দেন তিনি।

খলিলুর রহমান জানান, তার সভাপতির মেয়াদ শেষে উত্তরসূরির হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার আগে তিনি তিনটি ক্ষেত্রে অগ্রগতি দেখতে চান—জাতিসংঘের প্রয়োজনীয় সংস্কারে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে একমত করা। সংস্থাকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও দ্রাব্যতা নিশ্চিত রাখা। স্থানীয় পর্যায়ে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়নে গতি আনা।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ নিয়ে ড. খলিলুর রহমান বলেন, এই প্রযুক্তি মানবজাতির অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করতে পারে, আবার মারাত্মক ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। ​তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমাদের উদ্ভাবনের গতি থামানো যাবে না, তবে প্রযুক্তির সুরক্ষায় অবশ্যই উপযুক্ত নীতিমালা ও ‘গার্ডরেইল’ তৈরি করতে হবে। সরকারগুলোর পাশাপাশি প্রযুক্তির বিকাশ ও ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত সকল অংশীদারকে এই নিরাপত্তামূলক নীতিমালা তৈরির আলোচনায় যুক্ত হতে হবে।

​এদিকে, বর্তমানে বাংলাদেশে ১৩ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশ আয়োজিত একটি বিশেষ ইভেন্টে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো সহযোগিতা আহ্বান করবেন বলে জানা গেছে।


নির্বাচিত

ইস্তাম্বুলের বিরতি শেষে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি শেষে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীদের বহনকারী তুর্কি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর ছাড়ে।

এর আগে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সকাল ৬টা ৫ মিনিটে ফ্লাইটটি ছেড়ে প্রায় ৮ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট পর তুরস্কের স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে দুই ঘণ্টা ৩৫ মিনিট যাত্রাবিরতি করেন প্রধানমন্ত্রী। নিউইয়র্ক সময় বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে ফ্লাইটটির জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে।

নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। পরে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে তাঁকে নিউইয়র্কের হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক হোটেলে নেওয়া হবে। সফরকালে তিনি সেখানেই অবস্থান করবেন।

নিউইয়র্কে পৌঁছে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে। সকালে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের স্বাগত প্রাতঃরাশে অংশ নেবেন তিনি। এরপর অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দেবেন। সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাঁদের সহধর্মিণীদের সম্মানে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

২৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠকে মতবিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেনের আয়োজনে বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলাবিষয়ক সভায় বক্তব্য দেবেন। একই দিন জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও অংশ নেবেন।

সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ২৪ সেপ্টেম্বর। ওই দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দেবেন। এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয় গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কার নিয়েও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন তিনি।

২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলায় আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, লস অ্যান্ড ড্যামেজ ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয়ে দেশের অবস্থান তুলে ধরবে।

জাতিসংঘ অধিবেশনের পাশাপাশি বাংলাদেশের আয়োজনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাইড ইভেন্টে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক সাইড ইভেন্টে তিনি রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাইবেন। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদারের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।

২৪ সেপ্টেম্বর মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক আরেকটি সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। সেখানে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরার পাশাপাশি দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ধাত্রীসেবার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে।

ইউএনজিএ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি দেশের শীর্ষ নেতার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। কর্মসূচির মধ্যে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক রয়েছে।

এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থী ও মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের কর্মসূচিও রয়েছে।

সফরে অর্থনৈতিক কূটনীতিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ওয়াল স্ট্রিট, মেটা এবং আরও কয়েকটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

এসব আলোচনায় বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, উৎপাদন, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনা, দক্ষতা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং তরুণদের জন্য মানসম্পন্ন কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ২৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নিউইয়র্ক সফর করছে। ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ১১টায় নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটসের ফ্লাইটে তাঁর ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম অংশগ্রহণ হওয়ায় বাংলাদেশের জন্য সফরটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।


নির্বাচিত

অপদার্থকে বিদ্যুৎমন্ত্রী বানানো হয়েছে: জামায়াত আমির

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংকট চলছে দাবি করে সরকারের সমালোচনা করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিদ্যুৎ সংকট নেই—বিদ্যুৎমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘একজন অপদার্থ মানুষকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী বানিয়ে রাখা হয়েছে।’

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড়ে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের অংশ হিসেবে আয়োজিত পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

বিদ্যুৎ সংকটের প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, বগুড়ার পাশের জেলা সিরাজগঞ্জ এবং বিদ্যুৎমন্ত্রীর বাড়ি সেখানে। তাঁর দাবি, মন্ত্রী দেশে লোডশেডিং বা বিদ্যুতের ঘাটতি নেই বলে মন্তব্য করেছেন। গ্রামে বিদ্যুতের তার দীর্ঘ হওয়ায় ঠিকমতো বিদ্যুৎ পৌঁছায় না—মন্ত্রী এমন ব্যাখ্যাও দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

শফিকুর রহমান এ বক্তব্যের সমালোচনা করে এটিকে ‘অবাস্তব’ ও ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংকট থাকার পরও তা অস্বীকার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।

বর্তমান সরকারের কাছে জনগণের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, বিরোধী দলগুলো নতুন কোনো দাবি নিয়ে রাজপথে নামেনি। অতীতে বিএনপির নেতারাও ‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে’ স্লোগান দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শফিকুর রহমানের দাবি, সরকার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যর্থ হওয়ায় ১১ দলীয় ঐক্যকে লংমার্চে নামতে হয়েছে। ‘জনগণের সঙ্গে প্রতারণা না করলে আমাদের লংমার্চের জন্য রাস্তায় নামার প্রয়োজন হতো না’—বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সরকারের দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, সরকার গঠনের সাত মাস পার হলেও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হয়নি।

তাঁর অভিযোগ, দুর্নীতি দমন এবং এক কোটি তরুণের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বরং তাঁর দাবি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বেড়েছে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো পৃথক পরিসংখ্যান বা নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেননি; বক্তব্যগুলো তাঁর রাজনৈতিক সমালোচনা ও দাবি হিসেবে এসেছে।

কৃষকদের দুর্ভোগের কথাও তুলে ধরেন শফিকুর রহমান। তাঁর দাবি, কৃষকেরা সময়মতো সার পাচ্ছেন না এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘একদিকে বিদ্যুৎ মেলে না, অন্যদিকে ডাবল-ট্রিপল বিল এনে সাধারণ মানুষের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’ বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সারের সংকটকে তিনি পরস্পর সম্পর্কিত সমস্যা হিসেবে তুলে ধরেন।

বগুড়ার পথসভায় অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায়ের দাবিতে রাজপথে নেমেছে। তাঁর দাবি, লংমার্চের কারণে সরকারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস-সার সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি-দখলদারি বন্ধ এবং প্রশাসনে দলীয়করণ বন্ধ—এসব দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য কর্মসূচি পালন করছে।

এর আগে একই লংমার্চের বিভিন্ন পথসভায় শফিকুর রহমান সতর্ক করে বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের আট দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে তা যেকোনো সময় এক দফার আন্দোলনে পরিণত হতে পারে।

বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড়ের পথসভায় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বড় উপস্থিতি ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। লংমার্চটি ঢাকা থেকে রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে এবং পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে সিরাজগঞ্জ অতিক্রমের সময় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ‘এক দফা’ স্লোগান শোনার কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য, ওই স্লোগান দেশের মানুষের আন্দোলনের প্রতি সমর্থনের প্রতিফলন। তবে এটি তাঁর নিজস্ব বর্ণনা; এর মাধ্যমে বৃহত্তর জনমতের প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণ করা যায় না।


নির্বাচিত

দেশের প্রতি ১০০ শিক্ষিত তরুণের ৩৬ জনই বেকার: আইএমএফ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ৩৬ শতাংশ। অর্থাৎ, চাকরির বাজারে প্রবেশ করা প্রতি ১০০ জন উচ্চশিক্ষিত তরুণের মধ্যে প্রায় ৩৬ জনই বেকার থাকছেন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

আইএমএফের হিসাবে, দেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের হার সামগ্রিক যুব বেকারত্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সি তরুণদের নিয়ে করা বিশ্লেষণে সামগ্রিক যুব বেকারত্বের হার প্রায় ১০ শতাংশ।

আইএমএফের ‘ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ সাময়িকীর সেপ্টেম্বর সংখ্যায় এ গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এশিয়ায় যুব বেকারত্ব নিয়ে করা গবেষণায় সংস্থাটি বলেছে, পুরো এশিয়াজুড়েই তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশি। তবে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে এ হার সবচেয়ে বেশি।

দক্ষিণ এশিয়ার তিন দেশের মধ্যে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি শ্রীলঙ্কায়—প্রায় ৪৩ শতাংশ। এরপর ভারতে প্রায় ৪২ শতাংশ এবং বাংলাদেশে প্রায় ৩৬ শতাংশ। তুলনামূলকভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশিরভাগ দেশে এ হার এ তিন দেশের চেয়ে কম।

ভারতে সামগ্রিক যুব বেকারত্বের হার ১৮ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় প্রায় ২২ শতাংশ। অর্থাৎ, এ দুই দেশেও সামগ্রিক যুব বেকারত্বের তুলনায় উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের হার বেশি।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের হার ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ১৮ শতাংশ, ভিয়েতনামে ১৬ শতাংশ, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে ১৩ শতাংশ এবং ফিলিপাইনে ১২ শতাংশ। সিঙ্গাপুরে এ হার তুলনামূলকভাবে কম, প্রায় ৮ শতাংশ।

আইএমএফ এ পরিস্থিতিকে ‘গ্র্যাজুয়েট গ্লাট’ বা উচ্চশিক্ষিত গ্র্যাজুয়েটের আধিক্য হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন বলেন, উচ্চশিক্ষিত তরুণেরা তাদের যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চাকরি খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছেন।

আইএমএফ আরও বলেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির দ্রুত ব্যবহার এমন অনেক প্রাথমিক পর্যায়ের প্রযুক্তিনির্ভর পদকে প্রতিস্থাপন করছে, যেসব পদ এতদিন নতুন গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করত। এর মধ্যে জুনিয়র প্রকৌশলী, অ্যানিমেটর ও প্রশাসনিক কর্মীদের মতো পদ রয়েছে।


নির্বাচিত

লিটারে ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়ল তরল দুধের দাম

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটার পর এবার দেশের বেসরকারি ডেইরি কোম্পানিগুলোও প্যাকেটজাত তরল দুধের দাম লিটারে সর্বোচ্চ ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কোম্পানিভেদে বর্তমানে প্রতি লিটার প্যাকেটজাত তরল দুধ ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর আধা লিটারের দুধের প্যাকেটের জন্য ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত।

এর আগে গত আগস্ট মাসের শুরুর দিকে পাস্তুরিত তরল দুধের দাম লিটারে ১০ টাকা বাড়িয়েছিল মিল্কভিটা। সে সময় খুচরা পর্যায়ে প্রতি লিটার মিল্কভিটা দুধের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১১০ টাকা। পাশাপাশি ব্র্যান্ডটির ৫০০ মিলিলিটারের (আধা লিটার) স্ট্যান্ডার্ড লো-ফ্যাট দুধের দাম পাঁচ টাকা বাড়িয়ে ৬০ টাকা এবং আধা লিটার টোন্ড মিল্কের দাম পাঁচ টাকা বাড়িয়ে ৫৫ টাকা করা হয়। মিল্কভিটার মূল্যবৃদ্ধির প্রায় দেড় মাসের মাথায় বাজারে সক্রিয় আড়ং, প্রাণ এবং ফার্মফ্রেশসহ (আকিজ ডেইরি) অন্যান্য বেসরকারি ডেইরি কোম্পানিগুলোও তাদের উৎপাদিত তরল দুধের দাম বাড়িয়ে প্রতি লিটার ১১০ থেকে ১১৫ টাকা এবং আধা লিটার ৫৫ টাকা নির্ধারণ করেছে।

দুধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় তারা এই মূল্য সমন্বয়ে বাধ্য হয়েছে। খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহের খরচ, সংগ্রাহকদের মজুরি, পরিবহন ব্যয়, প্যাকেজিং উপকরণের দাম, গোখাদ্যের উচ্চমূল্য এবং গ্যাস ও বিদ্যুতের বাড়তি ব্যয়ের কারণে প্রতি লিটার তরল দুধে সামগ্রিক খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে মিল্কভিটা কর্তৃপক্ষ দাম বাড়ানোর সময় জানিয়েছিল, বিভিন্ন খাতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তাদের প্রতি লিটার দুধ উৎপাদনে আগের চেয়ে প্রায় ১১ থেকে সাড়ে ১১ টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে।

এদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে দীর্ঘদিন ধরে চলা মূল্যস্ফীতির মাঝে দুধের এই নতুন দাম সাধারণ ক্রেতাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। চলতি মাসের শুরুতেই কোম্পানিগুলো বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে পাঁচ টাকা বাড়িয়েছিল। এর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি প্রায় ২০০ টাকা এবং ফার্মের মুরগির ডিমের দাম প্রতি ডজন ১৫০ টাকার কাছাকাছি অবস্থান করায় সংসারের দৈনন্দিন খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ভোক্তাদের।


নির্বাচিত

banner close