বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
১৬ বৈশাখ ১৪৩৩

জঙ্গি হামলায় নিহত জাপানিদের নাম স্টেশনে থাকবে : প্রধানমন্ত্রী

মেট্রোরেলেরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বুধবার প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড
২৮ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৩:২২
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ২৮ ডিসেম্বর, ২০২২ ১২:৫৫

হোলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় নিহত জাপানি ৭ নাগরিকদের স্মরণে মেট্রোরেলের স্টেশনে তাদের নামফলক থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার উত্তরায় মেট্রোরেলের উদ্বোধীন অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা এ কথা জানান।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘মেট্রোরেল যখন শুরু করি তখন এসেছিল আঘাত। সাতজন জাপানি পরামর্শক মৃত্যুবরণ করেন। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।’

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আরেকটি অহংকারের পালক বাংলাদেশের মানুষের মুকুটে সংযোজন করলাম। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় আরেকটি পালক দিতে পারলাম, ঢাকাবাসীকে, আরেকটি পালক সংযোজিত করতে পারলাম। এর বাকি অংশ তাড়াতাড়ি শেষ হবে। প্রযুক্তিগত দিক থেকে মাইলফলক বাংলাদেশের জনগণকে স্পর্শ করলো। মেট্রোরেল একটি মাইলফলক। এই প্রথম বাংলাদেশ বৈদ্যুতিক ট্রেনের জগতে প্রবেশ করল। দূর নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে মেট্রোরেল চলবে। এই রেল পরিবেশবান্ধব। শব্দ ও কম্পনদূষণ মাত্রার নিচে থাকবে।’

সরকারপ্রধান বলেন, অনেক টাকা খরচ করে মেট্রোরেল করা হয়েছে। এই মেট্রোরেল সংরক্ষণ করা সবার দায়িত্ব। যাতে মেট্রোরেলের কোনো কিছু নষ্ট না হয়, সে জন্য তিনি সবাইকে তা ব্যবহারে যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, একটা অনুরোধ থাকবে, অনেক টাকা খরচ করে এই মেট্রোরেল করা হয়েছে। এটাকে সংরক্ষণ করা, এটার মান নিশ্চিত রাখা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা- এই সবকিছু কিন্তু যারা ব্যবহার করবেন তাদের দায়িত্ব।

‘এখানে অনেক আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়েছে, ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার হয়েছে। এই সমস্ত জিনিস যেন নষ্ট না হয়। ব্যবহারের ক্ষেত্রে সকলে যত্নবান হবেন। খেয়াল রাখবেন কেউ যেন আমাদের রেল স্টেশনগুলিতে আবর্জনা-ময়লা না ফেলে, অপরিচ্ছন্ন করতে না পারে- সবাইকে এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, সুন্দরভাবে, নিয়মতান্ত্রিকভাবে এটা ব্যবহার করার জন্য আমি সবাইকে আন্তরিক আবেদন জানাচ্ছি, অনুরোধ জানাচ্ছি। ধন্যবাদ জানাব, যদি আপনারা কথাগুলি মেনে চলেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জনগণ সেবা করার সুযোগ দিয়েছিল। সে জন্য সবার প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাজধানীর গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় নিহত হন জাপানি সমীক্ষক হিরোশি তানাকা (৮০), ২৯ বছরের তরুণী রুই শিমোদাইরা, কোইও ওগাসাওয়ারা (৫৭), নোবুহিরো কুরোসাকি (৪৯), হিদেকি হাশিমতো (৬৫), ওকামুরা মাকোতো (৩২) ও ইউকো সাকাই (৪২)।

যানজটের নগরী হিসেবে পরিচিত রাজধানী ঢাকাকে আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা থেকে নেয়া মেট্রোরেল প্রকল্পের একটি অংশ চালু হওয়ার মাধ্যমে গণপরিবহনব্যবস্থায় ভিন্ন মাত্রা ও গতি যোগ হচ্ছে। মেট্রোর একাংশ উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার উড়াল পথ বুধবার খুলে দেয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার থেকে নগরবাসীর জন্যও উন্মুক্ত হবে স্বপ্নের এই গণপরিবহনব্যবস্থা।


রাষ্ট্রপতির চেয়ারকে ধন্যবাদ দিচ্ছি, কিন্তু ব্যক্তি সাহাবুদ্দিনকে পারলাম না: সরকারদলীয় হুইপ

সরকারদলীয় হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সংসদ প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিজ জেলার শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। সংসদীয় অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি দেশের সর্বোচ্চ পদের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখলেও বর্তমান রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন। নিজান অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বলেন, "আমি তাদের মায়েদের কথা দিয়েছি—মহামান্য রাষ্ট্রপতির চেয়ারকে সম্মান করতে হবে। ওই চেয়ারকে ধন্যবাদ দিচ্ছি, কিন্তু মহামান্য রাষ্ট্রপতি ব্যক্তি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু সাহেবকে আমি ধন্যবাদ জানাতে পারলাম না বলে দুঃখিত।"

আজ বুধবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন নিজান।

গণ-অভ্যুত্থানকে স্মরণ করে এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, ‘সংসদ ভবনে লুকিয়ে আছে শুনে (তৎকালীন ক্ষমতাসীনরা) প্রতিটি রুম ভেঙে ফেলা হয়েছিল। কোটি কোটি টাকা এ সংসদ ভবনে পেয়েছিল। গণভবনের ইট নিয়ে গিয়েছিল। এটা বিএনপির লোকেরা নেয়নি, জামায়াতের লোকেরা নেয়নি, এটা জুলাই শহীদের মায়েরা নেয়নি, এটা বাংলাদেশের রিকশাওয়ালা, শ্রমিক-জনতা সকলের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ছিল।’

নবম জাতীয় সংসদের স্মৃতিচারণ করে নিজান বলেন, ‘আমার মায়ের (খালেদা জিয়া) সংসদে বসার মতো ভাষা সংসদে ব্যবহার হয়নি। সংসদ নেতা যিনি ছিলেন—ফ্যাসিস্ট হাসিনা; তিনি টোকেন দিতেন যুব মহিলা লীগের নেত্রীদের—কীভাবে মন্দ বলা যায়। কীভাবে দাঁড়ি, কমাসহ মন্দ বলা যায়। কীভাবে খালেদা জিয়াকে নিয়ে মন্দ বলা যায়। তারপরও আমরা সংসদে ছিলাম।’বিরোধী দলের প্রতি সেই সময়কার অগণতান্ত্রিক ও প্রতিহিংসামূলক আচরণের কথা স্মরণ করে তিনি বর্তমান সংসদীয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


বন্ধ বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বিভিন্ন জেলায় দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকা বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালু করার লক্ষে বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বন্ধ ও কম ব্যবহৃত বিমানবন্দরগুলোর বর্তমান অবস্থা এবং পুনরায় ফ্লাইট পরিচালনার উপযোগিতা যাচাই করতে ইতিমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কারিগরি সমীক্ষা পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত অভ্যন্তরীণ আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং আঞ্চলিক উন্নয়নে ভারসাম্য রক্ষা করাই সরকারের এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।

বর্তমানে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক, অভ্যন্তরীণ এবং সামরিক ঘাঁটিসহ মোট ১৭টি বিমানবন্দর অবকাঠামো রয়েছে। এর মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (ঢাকা), শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (চট্টগ্রাম) এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (সিলেট) দিয়ে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় ধরনের ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। এর বাইরে সৈয়দপুর, যশোর, বরিশাল, কক্সবাজার ও রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরগুলো নিয়মিত অভ্যন্তরীণ যাত্রীসেবা প্রদান করছে। তবে দেশের একটি বড় অংশের জেলা শহরগুলোতে বিমানবন্দর থাকলেও সেগুলো দীর্ঘকাল ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকায় সরকার সেগুলোর আধুনিকায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে।

মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নির্মিত ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, ঈশ্বরদী, শমশেরনগর, কুমিল্লা ও পটুয়াখালী—এই ছয়টি স্বল্প দূরত্বে উড্ডয়ন-অবতরণ (এসটিওএল) সুবিধাসম্পন্ন বিমানবন্দর বর্তমানে বন্ধ বা নামমাত্র ব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। যদিও কুমিল্লা বিমানবন্দরে কোনো বাণিজ্যিক ফ্লাইট বর্তমানে ওঠানামা করে না, তবে এটি বিদেশি উড়োজাহাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি ও নেভিগেশন সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। এছাড়া ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দরটি বর্তমানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেখান থেকে নিয়মিত যাত্রীসেবা প্রদান করা হয় না।

সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী, দেশের বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোকে ধাপে ধাপে আকাশপথে সংযুক্ত করে একটি কার্যকর জাতীয় নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্থানীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বন্ধ বিমানবন্দরগুলোর অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উপযোগিতা যাচাই করা হচ্ছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের বগুড়া বিমানবন্দর স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ইতিমধ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জনচাহিদা ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে এসব বন্দর সচল করার ক্ষেত্রে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। আকাশপথে দ্রুত যাতায়াতের সুযোগ সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে পর্যটন ও বাণিজ্যিক বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে, যা সামগ্রিক জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে প্রান্তিক জেলাগুলোর সাথে রাজধানীর সরাসরি ও দ্রুত সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং সময়ের অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।


জামায়াতকে রাজনীতি শিখতে বললেন সেতুমন্ত্রী

আপডেটেড ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬:৪৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, নির্বাচনের আগে যাদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাইতে হয়, তারা রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ। জনগণ বিভ্রান্ত হয়নি বলেই ২৬ এর নির্বাচনে বিএনপিকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়েছে। কর্মশালা করে বা সান্নিধ্য দিয়ে বিরোধী দলকে পরিপক্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর মনোযোগ আকর্ষণ করে সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা কোন বিধিতে কী বলতে হয় বা কোন ইস্যুতে সোচ্চার হতে হয়, তা অনেক সময় যথাযথভাবে করতে পারছেন না। বিরোধী দলের সদস্যদের আরও শাণিত ও পরিপক্ক করতে প্রধানমন্ত্রী যদি কর্মশালা বা তাদের সান্নিধ্য দেওয়ার উদ্যোগ নেন, তবে তা জাতির বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিন বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ পর্যায়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম অভিশেনে সভাপতিত্ব করেন।

সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, সংসদ নেতা আমাদের প্রতিনিয়ত শেখাচ্ছেন, দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। তার নেতৃত্বে আমরা পরিপক্ক হচ্ছি। কিন্তু তিনি যেহেতু সংসদ নেতা, তাই তিনি পুরো সংসদেরই নেতা। এটি শুধু সরকারি দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে পার্লামেন্ট মহিমান্বিত হবে না। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা কোন বিধিতে কী বলতে হয় বা কোন ইস্যুতে সোচ্চার হতে হয়, তা অনেক সময় যথাযথভাবে করতে পারছেন না। বিরোধী দলের সদস্যদের আরও শাণিত ও পরিপক্ক করতে প্রধানমন্ত্রী যদি কর্মশালা বা তাদের সান্নিধ্য দেওয়ার উদ্যোগ নেন, তবে তা জাতির বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করবে।

মন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান সশস্ত্র সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এছাড়া তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব এবং সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনে তার অবদানের কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দীর্ঘ ১৭ বছরের সংগ্রামের প্রশংসা করে রবিউল আলম বলেন, তার নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে একটি সফল গণঅভ্যুত্থান সম্পন্ন হয়েছে। আজকের এই পার্লামেন্ট কোনও গোষ্ঠী বা ব্যক্তির করুণার দান নয়, এটি জনগণের পার্লামেন্ট। ১৭ বছরে আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন, ১ হাজরা ৪০০ জন শহীদ হয়েছেন। আমরাও জীবন দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলাম।

মন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে আমি ১৯৩টি মামলার শিকার হয়েছি, ৯ বার জেলে গিয়েছি এবং ৯৭ দিন রিমান্ডে ছিলাম। তিন দিন গুমও ছিলাম। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে কাজ করেছি।

শেখ রবিউল আলম বলেন, ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দল, যাদের জনগণ কখনও ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসায়নি, তাদের যন্ত্রণা থাকতে পারে। নির্বাচনের আগে যাদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাইতে হয়, তারা রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ। জনগণ বিভ্রান্ত হয়নি বলেই ২৬ এর নির্বাচনে বিএনপিকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ৭১ শতাংশ মানুষ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দিয়েছে। এর মধ্যে ৫১ শতাংশ মানুষ চেয়েছে বিএনপি যেভাবে সনদটি বাস্তবায়ন করতে চায়, সেভাবে হোক। বাকি ২০ শতাংশের চেয়ে ৫১ শতাংশের জনসমর্থনই অধিক গ্রহণযোগ্য। আমি বলবো, রাজনীতি শিখুন, রাজনীতি করুন। মানুষকে বিভ্রান্ত করে লাভ নেই।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাবে এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সেতুমন্ত্রী।


বৃষ্টিতে ফসল হারানো কৃষকদের পাশে সরকার, বিশেষ সহায়তার ঘোষণা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রবল বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের টানা তিন মাস সরকারি সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিনে সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মানবিক ও জরুরি পদক্ষেপের কথা জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী জানান, এরইমধ্যে ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, তিন দিন আগের আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়ার পরপরই তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে আগাম সতর্কতা ও প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বৃষ্টির কারণে যেসব কৃষকের ফসল নষ্ট হয়েছে, তাদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে আগামী তিন মাস প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বুধবার সকালে সংসদ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রীর সঙ্গে এই সংকট মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে কথা বলেছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কোনো কৃষক যেন সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে সরকার কঠোর নজরদারি রাখছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহসহ তিনটি নির্দিষ্ট জেলার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করা হবে। প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে আগামী তিন মাস নিরবচ্ছিন্নভাবে এই সরকারি সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।


৫ জেলায় বন্যার আশঙ্কা, বিপৎসীমার ওপর ৪ নদীর পানি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশজুড়ে শুরু হওয়া ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণের ফলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাঁচ জেলায় বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনা জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা শুরু হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকায় সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলেও দ্রুত পানি বাড়ছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্যোগে রূপ নিতে পারে। আগামী ১ মে পর্যন্ত এই ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় কিশোরগঞ্জের নিকলীতে দেশের সর্বোচ্চ ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া ভোলা, ফেনী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম এবং পটুয়াখালীসহ দেশের অন্তত ৯টি জেলায় অতিভারি বর্ষণ হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, মৌসুমি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে এবং দেশের উত্তরাঞ্চলে গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা বা বজ্রমেঘ তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের বিশেষ ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে দেশের চারটি প্রধান নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে। নেত্রকোনার ভুগাই-কংশ নদী প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার ৮২ সেন্টিমিটার, সোমেশ্বরী ৫০ সেন্টিমিটার এবং মগরা নদী ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। এ ছাড়া মৌলভীবাজারের মনু নদী বিপৎসীমার ৭২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সতর্ক করেছে যে, উজানের ঢল ও স্থানীয় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নতুন নতুন জেলা প্লাবিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

নৌ-দুর্ঘটনা এড়াতে দেশের চার সমুদ্রবন্দরে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং মাছ ধরার নৌকাগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থাকতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে ঢাকা, সিলেট, কুমিল্লা ও খুলনাসহ দেশের ২০টি অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এসব এলাকায় ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, নেত্রকোনা ও মৌলভীবাজারের বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলগুলোতে কৃষি ও ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পানিবন্দি মানুষকে সহায়তা দিতে এবং জানমাল রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনকে সজাগ থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নদী তীরবর্তী ও পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


সংসদে অসুস্থ হওয়া বিরোধীদলীয় এমপির খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদে অধিবেশন চলাকালে অসুস্থ হয়ে পড়া সাতক্ষীরা-৩ আসনের বিরোধীদলীয় এমপি রবিউল বাশারের খোঁজ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেন তিনি।

জাতীয় সংসদে অধিবেশন চলাকালে অসুস্থ হয়ে পড়া বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যের খোঁজ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বুধবার জোহরের নামাজের বিরতির সময় প্রধানমন্ত্রী সংসদ লবিতে গিয়ে অসুস্থ বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যের খোঁজ-খবর নেন।

প্রধানমন্ত্রী অসুস্থ বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যের শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেওয়ার পাশাপশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তার বিষয়ে নির্দেশনা দেন। এ সময় জাতীয় সংসদের চিফ হুইপসহ অন্যান্য হুইপবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনের প্রথম পর্ব চলাকালে দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য রবিউল বাশার। তিনি সাতক্ষীরা-৩ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য।

অসুস্থ হয়ে পড়লে রবিউল বাশারকে অন্যান্য সংসদ সদস্য ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মীদের সহায়তায় তাকে অধিবেশন কক্ষ থেকে সংসদ লবিতে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকেরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।


নাগরিকত্ব পেতে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়া অনুমোদিত নয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত নয়।

বুধবার (২৯ এ‌প্রিল) ঢাকার মা‌র্কিন দূতাবাস ভিসা সংক্রান্ত এক বার্তায় এ তথ্য, জা‌নি‌য়ে‌ছে।

দূতাবা‌সের বার্তায় উ‌ল্লেখ করা হয়, শুধু সন্তানের যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য ভিসা ব্যবহার করা অনুমোদিত নয়।

কনস্যুলার কর্মকর্তা যদি মনে করেন, এটিই আপনার ভ্রমণের মূল উদ্দেশ্য, তাহলে তিনি আপনার ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করবেন।


৩৭৮১৪ পরিবারের ‘নারী প্রধানকে’ ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়েছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৪৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে এরইমধ্যে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারের ‘নারী প্রধানকে’ ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়ালের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার একটি নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও জলবায়ু সহিষ্ণু বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে নারী ও শিশুরা হবে টেকসই উন্নয়নের সমঅংশীদার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। নারী ও শিশুদের সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণ নিশ্চিতকল্পে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- গরিব অসচ্ছল, সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের সাধনের লক্ষ্যে ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কার্যক্রম; গর্ভবতী মায়ের গর্ভকালীন পুষ্টি এবং শিশুর পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি; মহিলাদের আত্ম-কর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি; নারী উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য বিপণনের লক্ষ্যে জয়িতা ফাউন্ডেশন পরিচালনা ইত্যাদি।

তিনি বলেন, নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে বিভিন্ন আইন এবং বিধিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ন্যাশনাল টোল ফ্রি হেল্প লাইন, ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি), ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেল, ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরী, ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার, মহিলা, শিশু ও কিশোরী হেফাজতীদের নিরাপদ আবাসন কেন্দ্র রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এ কর্মসূচিতে প্রাপ্ত আর্থিক সুবিধার পরিমাণ ও উপকারভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি, কর্মসূচিতে প্রসবপূর্ব এবং প্রসব পরবর্তী সেবা অন্তর্ভুক্ত করা, টিকা ও প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে মানসম্মত প্রশিক্ষণ, নগদ সহায়তার সঙ্গে জীবিকা সহায়তা যুক্ত করে, শহর ও গ্রামাঞ্চলের জন্য পৃথক গ্রাজুয়েশনভিত্তিক মডেল সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। অধিকসংখ্যক নারী উদ্যোক্তা তৈরি ও নারীদের জন্য বিপণন নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। এরইমধ্যে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে প্রাথমিক পর্যায়ে ১৩টি জেলা এবং ৩টি সিটি কর্পোরেশনে ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারের নারী প্রধানকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, শিশুরা দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ। শিশুর বিকাশ ও কল্যাণে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ; জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা আয়োজন; শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণ, দরিদ্র ও দুস্থ শিশুদের প্রাক্-প্রাথমিক ও শিশু বিকাশ কর্মসূচি; অটিজম বিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম; পরিবেশ সংরক্ষণসহ শিশু স্বার্থ সংরক্ষণে নানাবিধ দায়িত্ব পালন করে আসছে। পথশিশু পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় ২টি আবাসিক কেন্দ্রের মাধ্যমে বর্তমানে ১৫১ জন শিশুকে আবাসিক ব্যবস্থা, খাবার, শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। এছাড়াও এ কার্যক্রমের আওতায় ৯টি আউটরিচ স্কুল রয়েছে। কর্মজীবী মায়েদের ৬ মাস হতে ৬ বছর বয়সের শিশুদের দেখভালের জন্য মোট ৬৪টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, এসব দিবাযত্ন কেন্দ্রে সুষম খাবার প্রদান, প্রাক-স্কুল শিক্ষা প্রদান, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা করা হয় এবং ইনডোর খেলাধুলা ও চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। নারীদের কর্মস্থলে শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র (ডে-কেয়ার) স্থাপনের পাশাপাশি, গার্মেন্টসসহ সব শিল্প কারখানা, অফিস ও আদালতে কর্মরত মায়েদের জন্য ‘ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার’ স্থাপনের বিষয়ে নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, উপকূলীয় জনগোষ্ঠী, বিশেষত নারীদের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত লবণাক্ততার ঝুঁকি প্রশমন ও অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি করে সুপেয় পানির প্রাপ্যতা এবং জীবিকার মান উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘জেন্ডার রেসপন্সিভ ক্লাইমেট অ্যাডাপটেশন’ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় (খুলনা জেলার দাকোপ, কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলা এবং সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলা) বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে মোট ৪৩ হাজার নারীকে জীবিকা সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও কৃষি উপকরণ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া, ১৩ হাজার ৩০৮টি পরিবারভিত্তিক বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন হয়েছে এবং উপকারভোগীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ৩ হাজার লিটার বিশিষ্ট আরো ২ হাজার পরিবারভিত্তিক বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা সিস্টেম স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। এ অর্থবছরে আরো ১০ খানাবিশিষ্ট ৬৫৮টি কমিউনিটিভিত্তিক রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম স্থাপনের কাজও চলমান আছে।

সংসদ সদস্য আমির এজাজ খানের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপকূলীয় জেলা খুলনার দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলা ভয়াবহ নদী ভাঙনের ঝুঁকি সম্পর্কে সরকার অবগত। দাকোপ উপজেলায় ৬০-এর দশকে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। বেড়িবাঁধটি নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে সময়ে সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই, দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলাবাসীর জীবন ও সম্পদ রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং নদী ভাঙন রোধকল্পে সরকার ইতোমধ্যেই বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

খুলনা জেলায় দাকোপ উপজেলায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক নদী ভাঙন রোধে ‘ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট এনহেন্সমেন্ট প্রজেক্ট’- এর আওতায় বটবুনিয়া, খলিশা, গাইনবাড়ি এবং ঝালবুনিয়া নামক স্থানে স্থায়ী নদী তীর ও বাঁধের ঢাল সংরক্ষণ কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পটির মেয়াদ জুন, ২০২৭ এ শেষ হবে।

এছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলার ‘উপকূলীয় পোল্ডার নং ৩১ এর পুনর্বাসন’ প্রকল্পটির প্রকল্প দলিল বর্তমানে যাচাই বাছাই পর্যায়ে রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দাকোপ উপজেলাবাসী ভয়াবহ নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে। ভয়াবহ নদী ভাঙনের হাত থেকে দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলাবাসীর জীবন ও সম্পদ রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে এরইমধ্যে জরুরি আপদকালীন কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই দাকোপ এবং বটিয়াঘাটা উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধগুলো বাস্তবতার আলোকে সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও সম্পদ রক্ষায় সরকার সচেষ্ট রয়েছে। এ লক্ষ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ভাঙনপ্রবণ স্থানগুলো নিয়মিত তদারকি করা এবং জরুরি প্রয়োজনে দ্রুততার সঙ্গে সংস্কার কাজ পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।


ক্লিন সিটি গড়ে তুলতে নানা পদক্ষেপের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকাকে ক্লিন এবং গ্রীন সিটি রূপে গড়ে তুলতে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে সংসদে জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ (বুধবার) সকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তরে তিনি এসব পদক্ষেপের কথা বলেন। সংসদ স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনের সভাপতিত্ব করছেন।

কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম প্রশ্ন রাখেন রাজধানী ঢাকাকে ক্লিন এবং গ্রীন সিটি রূপে গড়ে তুলতে সরকার কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কি না?

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রাজধানী ঢাকাকে ক্লিন এবং গ্রীন সিটি রূপে গড়ে তুলতে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে নানাবিধ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

নাগরিক সচেতনতা ও সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের পাশাপাশি বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।

সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনসমূহ (বর্জ্য ফেলার স্থান) আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ল্যান্ডস্কেপিং, সবুজায়ন সচেতনতামূলক গ্রাফিতি কাজ অন্তর্ভুক্ত করে পরিবেশসম্মতভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার রোড মিডিয়ান, সড়ক দ্বীপ ও উন্মুক্ত স্থানসমূহ সবুজায়নের লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক কোরিয়া ভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে সমন্বিত সার্কুলার ইকোনমি ভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তর করার মাধ্যমে সকল বর্জ্যকে জিরো বর্জ্যতে রূপান্তর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরশনের আওতাভুক্ত বিভিন্ন এলাকায় নগর বনায়ন (মিয়াওয়াকি ফরেস্ট) উন্মুক্ত মিডিয়ান জিরো সয়েল/সবুজে আবৃত করা হচ্ছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন এলাকায় আগামী ৫ বছরে ০৫ লক্ষ বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া মেট্রোরেলের নিচের খালি অংশে (মিরপুর-১২ হতে মিরপুর ডিওএইচএস পর্যন্ত) এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (আব্দুল্লাহপুর হতে ফার্মগেট পর্যন্ত অংশের) নীচে খালি জায়গায় বৃক্ষরোপণ করা হবে।

রাজধানী ঢাকাকে ক্লিন এবং গ্রিন সিটি রূপে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক ঢাকা শহরের পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) সমন্বিতভাবে আধুনিক বাস সার্ভিস ও ২৫০টি ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় ঢাকার বায়ুদূষণের উল্লেখযোগ্য উৎসসমূহ চিহ্নিত করা হয়েছে। সে অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে। কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন, কনস্ট্রাকশন কার্যক্রম ও নির্মাণ সামগ্রী দ্বারা বায়ুদূষণের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা শহরের বায়ুদূষণ রোধে ঢাকার চারদিকে অবস্থিত অবৈধ দূষণকারী ইটভাটাসমূহ বন্ধে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। অধিকন্তু ঢাকা মহানগরীর বায়ুদূষণ হ্রাস করার লক্ষ্যে ঢাকার সাভার উপজেলাকে ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষণা করা হয়েছে এবং উক্ত এলাকায় ইটভাটার কার্যক্রম পরিচালনা, খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো ইত্যাদি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

‘ঢাকা ও আশেপাশের নদী, খাল ও জলাশয় দূষণরোধে তরল বর্জ্য নির্গমনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহে ইটিপি (Effluent Treatment Plant) স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অদ্যাবধি ২৪৮টি প্রতিষ্ঠানে ইটিপি স্থাপন করা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানসমূহের তরল বর্জ্য পরিশোধনের জন্য স্থাপিত ইটিপির রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণের জন্য আইপি ক্যামেরা স্থাপন চলমান রয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক ইতোমধ্যে বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু, তুরাগ নদীর দূষণের উৎস এবং প্রকৃতি নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে ঢাকা মহানগরে প্রবাহিত ১৯টি প্রধান খালের দূষণের উৎস এবং প্রকৃতি নির্ধারণ করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরকে সবুজে আচ্ছাদিত করা, পরিবেশ দূষণ কমানো এবং নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে বন অধিদপ্তর কর্তৃক ঢাকা উত্তর/দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে যৌথভাবে রাস্তার মিডিয়ান, ইউলুপ, পন্ডিং এরিয়া এবং খালের পাড়সমূহে বৃক্ষরোপণ এবং জিরো সয়েল কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন প্রজাতির ৪১ হাজার ৫শত ৬৫টি ফলদ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়েছে। এছাড়াও ঢাকা শহরের দূষণ কমানোর জন্য বিভিন্ন প্রজাতির লতা, গুল্ম ও ঘাস দ্বারা মাটি আবৃত করা হয়েছে। আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকাকে ক্লিন এবং গ্রীন সিটি রূপে গড়ে তুলতে বনায়নযোগ্য খালি জায়গায় বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। এ সকল কার্যক্রম ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা শহর গড়ে তোলা সম্ভব হবে।


পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বাংলাদেশ

* পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় ৩৩তম  * দুই ইউনিটে মিলবে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ  * নির্ভরতা কমবে তরল জ্বালানির ওপর * পূরণ হবে মোট চাহিদার ১২ শতাংশ
আপডেটেড ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০১:৩১
নিজস্ব প্রতিবেদক

নতুন ইতিহাস লিখলো রূপপুর। শুরু হলো দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক নম্বর ইউনিটে পরমাণু জ্বালানি ইউরেনিয়াম লোডিং কার্যক্রম। আর এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করলো বাংলাদেশ। বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসবে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বেলা ৩টার দিকে পদ্মার তীর ঘেঁষা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। এখন নানা ধাপ পেরিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার পর আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণাঙ্গ বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে পারে রূপপুরের প্রথম ইউনিট। এই ফুয়েল লোডিংয়ের মাধ্যমে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারীর আন্তর্জাতিক দেশের তালিকায় ৩৩তম দেশ হলো বাংলাদেশ।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। কারণ নিরাপত্তাই বাংলাদেশের প্রথম অগ্রাধিকার। এই পারমাণবিক কেন্দ্র ঢাকা ও মস্কোর মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেবে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, আজকের দিনটি বাংলাদেশের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে বাংলাদেশ আরও একধাপ এগিয়ে গেল।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকা রুশ পরমাণু শক্তি করপোরেশনের (রোসাটম) মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে বাংলাদেশকে যেভাবে সহযোগিতা করা হয়েছে, ভবিষ্যতেও সেভাবে পাশে থাকবে রোসাটম। বাংলাদেশের মানুষকে নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বস্ত করতে চাই। সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও সর্বোচ্চ মানদণ্ড বজায় রাখা হয়েছে। নিরাপদ পারমাণবিক কেন্দ্র থেকেই সরবরাহ করা হবে বিদ্যুৎ। এমনকি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ ভবিষ্যতের প্রয়োজনে সহযোগিতা থাকবে রোসাটমের।

অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি।

ফুয়েল লোডিংয়ের ঐতিহাসিক মুহূর্তে রোসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ বলেন, ‘আজ বাংলাদেশ সেই দেশগুলোর দলে যোগ দিল যারা টেকসই উন্নয়নের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করে। নিঃসন্দেহে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশটির জ্বালানি ব্যবস্থার একটি প্রধান উপাদানে পরিণত হবে। রোসাটমের জন্য এই প্রকল্পটি বৈশ্বিক পারমাণবিক শিল্পের উন্নয়ন এবং আমাদের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

অ্যালেক্সি লিখাচেভ আরো বলেন, আমরা আমাদের বাংলাদেশি বন্ধুদের সঙ্গে একটি আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে একসঙ্গে কাজ করতে পেরে আনন্দিত এবং ভবিষ্যতে আরও সহযোগিতার উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখছি। তবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে আসতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ বা আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এই গ্রিড সংযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে কেন্দ্রটি থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।

পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত এই প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের প্রথম কংক্রিট ঢালাই হয়েছিল ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর এবং দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালের ১৪ জুলাই। প্রকল্পটির দুটি ইউনিট পুরোপুরি সম্পন্ন হলে জাতীয় গ্রিডে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ যোগান দেবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এরপর প্রতি মাসে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হবে। আশা করা হচ্ছে, আগামী ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ প্রথম ইউনিটের সক্ষমতার পুরো ১,২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

এদিকে, ১,২০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিটের ফুয়েল লোডিং চলতি বছরের শেষের দিকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রটির অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছে ৬০ বছর, যা পরবর্তীতে আরও ২০ থেকে ৩০ বছর বাড়ানো সম্ভব।

উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্টে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের নিরাপত্তা মান ও পরিচালনা পদ্ধতি পরিদর্শন করে একটি প্রাক-অপারেশনাল সেফটি রিভিউ মিশন পরিচালনা করেছিল।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের এ সময়ে রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু হলে আমদানি করা ব্যয়বহুল তরল জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হবে।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কঠোর নজরদারি এবং নিরাপত্তার সব শর্ত পূরণ করায় ১৬ এপ্রিল রূপপুর কর্তৃপক্ষকে পরমাণু চুল্লিতে জ্বালানি প্রবেশের লাইসেন্স প্রদান করা হয়।

কোভিড মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে সরকারের দৃঢ়তায় এ মাইলফলক স্পর্শ করা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহেদুল হাসান বলেন, ৫৯ জন বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে অপারেটিং লাইসেন্স লাভ করেছেন। বর্তমানে প্রকল্পে পাঁচ হাজার রুশ ও ২০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছেন। তবে ধাপে ধাপে কেন্দ্রটি পরিচালনার পূর্ণ দায়িত্ব দেশি বিশেষজ্ঞদের হাতে হস্তান্তর করা হবে।

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ফিজিক্স বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক প্রীতম কুমার দাস বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য পরমাণু বিদ্যুৎ অপরিহার্য। তবে এটি স্পর্শকাতর প্রকল্প হওয়ায় আইএইএয়ের নির্ধারিত প্রটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে সময় কিছুটা বেশি লাগলেও তা ইতিবাচক।


ন্যায়বিচার নিশ্চিতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের অ্যাকসেস টু জাস্টিস বা ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। ন্যায়বিচার প্রাপ্তি মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সব নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের আশ্রয় লাভের অধিকারী, যা জাতিসংঘের ঘোষণাপত্রের সাত অনুচ্ছেদের প্রতিফলন। বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, অ্যাকসেস টু জাস্টিস প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার। রাষ্ট্রের কোনো নাগরিক অর্থের অভাবে আইনের আশ্রয় বা ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত থাকবে, এটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কাম্য নয়।

রাজধানীর শাহবাগে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে আমাকেও দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে হয়েছে। তখন কারাগারে অনেকে ছিলেন— যারা আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ার কারণে বছরের পর বছর বিনা বিচারে কারাগারে থাকতে বাধ্য হয়েছেন।

ন্যায়বিচার যেকোনো রাষ্ট্র ও সমাজের অগ্রগতি ও শান্তির ভিত্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সব যুগেই মানুষ বৈষম্যহীন সমাজ চেয়েছে, চেয়েছে সমমর্যাদা ও অধিকার নিয়ে বসবাস করার নিশ্চয়তা। পারস্পরিক আস্থা, সহমর্মিতা ও সমতা একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজের জন্য অপরিহার্য।

তারেক রহমান বলেন, ন্যায়বিচার শুধু আদালত বা আইনের বিষয় নয়, এটি একটি মানবিক ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্র ব্যবস্থার মূল শক্তি। আমরা বিশ্বাস করি যে, রাষ্ট্রে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার নেই, সেই দেশ কখনো মানবিক রাষ্ট্র হতে পারে না। দীর্ঘ দেড় দশক পর মানুষ পুনরায় গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে। এই যাত্রা সুসংহত করতে রাষ্ট্রে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই।

রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন মানুষও যেন অর্থের অভাবে অ্যাকসেস টু জাস্টিস থেকে বঞ্চিত না হয়, সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে সরকার লিগ্যাল এইড কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। একজন ভুক্তভোগী যেন কেবল টাকার অভাবে আইনজীবীর সহায়তা নিতে না পারায় বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়, সরকার সেই চেষ্টা করছে। ন্যায়বিচারের কথা শুধু আইনের বইয়ে নয়, প্রতিটি মানুষের জীবনে বাস্তব হয়ে উঠুক, এটি বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা।

বিচার কখনোই কেবল আদালত কেন্দ্রিক কোনো প্রক্রিয়া নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি একটি জীবন্ত মূল্যবোধ, যা রাষ্ট্রের প্রতিটি নীতি এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন। ন্যায়পরায়ণতা তখনই কার্যকর হয়ে ওঠে যখন আইন মানুষের ওপর প্রয়োগের হাতিয়ার না হয়ে বরং তাদের মর্যাদা ও অধিকার সংরক্ষণের নৈতিক রূপ নেয়।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্র গঠনের ইতিহাসে ন্যায়বোধ শক্তিশালী প্রণয়ন হিসেবে কাজ করেছে। যেহেতু ন্যায়বিচার প্রাপ্তি প্রতিটি মানুষের সাংবিধানিক অধিকার এবং সবাই যেন এর চর্চা করতে পারে, সেজন্য সরকার তাদের যথাযথ লিগ্যাল এইড দেবে এবং এ লক্ষ্যে সরকার সংশ্লিষ্ট বিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনেছে।

ন্যায়বিচারে বিলম্ব মানেই বিচার অস্বীকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বাস্তবতা মাথায় রেখে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে সরকার মামলা শুরুর আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করেছে। এই ব্যবস্থায় ইতোমধ্যেই কয়েক হাজার বিরোধ কম সময়ে ও স্বল্প টাকায় আদালতের বাইরে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কয়েক মাস বা বছরের পরিবর্তে স্বল্প সময়ে কয়েক বৈঠকে সমস্যার সমাধান হয়েছে, এতে আদালতের ওপর চাপ কমেছে এবং সরকারের খরচও হ্রাস পেয়েছে।

সরকারের প্রতি জনগণকে আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের মনে আস্থা থাকতে হবে যে, যেকোনো প্রয়োজনে রাষ্ট্র তাদের পাশে রয়েছে এবং লিগ্যাল এইড সেই বিশ্বাসের প্রতিফলন হয়ে উঠবে। আসুন সবাই মিলে একটি ন্যায়ভিত্তিক মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলি, যেখানে ন্যায়বিচার হবে শেষ কথা।

অনুষ্ঠানে সেরা প্যানেল আইনজীবী হিসেবে ঢাকার সায়েম খান ও রাজশাহীর নীলিমা বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ক্রেস্ট ও সম্মাননা গ্রহণ করেন।

এছাড়া, সারাদেশে লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘সমাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি সেল ব্র্যাককে মনোনীত করা হয়। ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মাননাপত্র ও ক্রেস্ট গ্রহণ করেন।

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মনজুরুল হাসান প্রমুখ বক্তব্য দেন। এসময় প্রধানমন্ত্রীর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান ছিলেন এ অনুষ্ঠানে।


রোজ গার্ডেন কেনায় রাষ্ট্রের ক্ষতি ৩৩২ কোটি টাকা 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগের জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত ‘রোজ গার্ডেন’ কেনায় রাষ্ট্রের ৩৩২ কোটি টাকা ক্ষতি সাধনের অভিযোগে বিভিন্ন নথিপত্র হাতে পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদক। শিগগিরই সংশ্লিষ্টদের তলব করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এদিকে, রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের কাস্টমস হাউসের গুদাম থেকে ৫৫ কেজি স্বর্ণ চুরির নথিপত্র সংগ্রহ করছে দুদকের অনুসন্ধানকারী দল। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর সেগুন বাগিচায় দুদক কার্যালয়ে সংস্থাটির উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম বিষয়গুলো নিশ্চিত করেন।

জানা যায়, ১৯৩০ সালের দিকে ঋষিকেশ দাস নামের এক ব্যবসায়ী পুরান ঢাকায় ২২ বিঘা জমির ওপর রোজ গার্ডেন নামের এ বাড়িটি নির্মাণ করেন। তবে এই ভবনটি আলোচনায় আসে ১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসাবে ৩৩২ কোটি টাকায় সরকারি সস্পদ হিসাবে ক্রয় করে।

এদিকে দুদকের কাছে অভিযোগ আসে যে এটি রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে প্রাথমিক সত্যতা মেলায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্তর থেকে নথিপত্র সংগ্রহ করেছে। এবার অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের কথা জানিয়েছে দুদক।

এ ছাড়াও , ২০২৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাস্টমস হাউসের গুদাম থেকে ৫৫ কেজির বেশি সোনা চুরির ঘটনায় অনুসন্ধান করছে দুদক। নথিপত্র পেতে বিভিন্ন দফতরে পাঠানো হয়েছে চিঠি বলেও জানান আকতারুল ইসলাম।

সংস্থাটি জানায়, সোনা গায়েব তাদের তফসিলভুক্ত অপরাধ হওয়ায় ২০২৫ সালে পিবিআই থেকে মামলাটি দুদকে পাঠানো হয়।


বিদ্যমান আইন ও সরকারের চাহিদা অনুযায়ী সেনাবাহিনী মাঠে আছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বিদ্যমান আইন অনুসারে সরকারের চাহিদা অনুযায়ী সেনাবাহিনী মাঠে আছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) কোস্টগার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেছেন। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের বিদ্যমান আইন অনুসারে সরকারের চাহিদা অনুযায়ী সেনাবাহিনী মাঠে আছে। তবে পর্যায়ক্রমে তা তুলে নেওয়া হবে।

দেশে জঙ্গিবাদ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই। তবে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার এটিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করত। একইসাথে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো চিঠির বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।

রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সময় দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয় বলে জানান মন্ত্রী।

এর আগে, সকালে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সদর দপ্তরে বাহিনীটির ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন শুরু হয়।

বাহিনীর মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল জিয়াউল হক গত এক বছর নদী পথে বাহিনীর সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে বাহিনীর ১৬ জন জীবন দিয়েছে উল্লেখ করে কোস্টগার্ডে জনবলের ঘাটতি রয়েছে বলে জানান মহাপরিচালক।

পরে বাহিনীর কর্মকর্তা, নাবিক ও অসামরিক সদস্যদের মধ্যে মোট ১৪ জনকে বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন পদকে ভূষিত করবেন। এর মধ্যে চারজন বাংলাদেশ কোস্টগার্ড পদক, চারজন কোস্টগার্ড (সেবা) পদক, তিনজন প্রেসিডেন্ট কোস্টগার্ড পদক ও তিনজনকে ‘প্রেসিডেন্ট কোস্টগার্ড (সেবা) পদক তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে কোস্টগার্ডের জনবল বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে সরকার বদ্ধ পরিকর বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


banner close